Archives

ভ্রমণ পরিকল্পনা (Tour Plan)

15 Sep 2019

-প্রথমে নেশা ছিলো ঐতিহাসিক স্থান বা পর্যটন স্থানগুলোর দেখার। সেই নেশা হালকা হয়ে গেছে। এখন নেশা শুধু ভ্রমণের। বাংলাদেশ দেখার।
কোনো জায়গা অদ্ভুত সুন্দর হোক আর না হোক, বাংলাদেশের পথে যানবাহনে বসে দুচোখ ভরে দেখতে থাকলেই কেন যেন মনটা ভরে যায়।

বাংলাদেশ দেখবো দেখবো করে ৬০ টা জেলায় পায়ের ছাপ রেখেছি। কোথাও গেলে অনেকেই বলে, ‘এখানে দেখার মতো কিছু নেই। অযথাই…’।
যার নেশা ধরে গেছে গ্রাম দেখার, সবুজ দেখার, বাংলাদেশ দেখার, তাদেরকে এসব বলে আসলে কোনো লাভ নেই।

আবারও গিয়েছিলাম টাঙ্গাইল। বেশকিছু জায়গা দেখলাম। এক পোস্টে ৫ টার বেশি ছবি দেয়া যাবে না বলে সবগুলো জায়গার আলাদা আলাদা পোস্ট দেবো।
আজ ধনবাড়ী নবাববাড়ি প্যালেস ও মসজিদের কথা বলি।

আমরা ঢাকা থেকে ময়মনসিংহ গিয়েছিলাম ঘুরতে। পরদিন সেখান থেকে সকাল ১১ টায় সারাদিনের জন্য মাহেন্দ্র ভাড়া করি ৩৮০০ টাকায়। মাহেন্দ্রতে ১৩ জন পর্যন্ত বসা যায়। আমরা ছিলাম ৯ জন।

ধনবাড়ী গিয়ে যে কারো কাছে জিজ্ঞেস করলেই এই জমিদার বাড়িটির রুট দেখিয়ে দেবে।
সাধারণ কিন্তু দেখতে সুন্দর, ছিমছাম নিরিবিলি লেগেছে জায়গাটা।

ইন্টারনেট থেকে সংগৃহীত তথ্য যোগ করলাম:

“নদীঘেরা নির্মল প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য্যে জেলা টাঙ্গাইল। ঢাকার খুব কাছে হওয়ায় ভ্রমণপিপাসুদের কাছে এ জেলা পেয়েছে অন্যতম গ্রহণযোগ্যতা। ইতিহাস, ঐতিহ্য ও টাঙ্গাইলের কৃতি সন্তানদের তালিকা বেশ বড়। তবে জেলার অন্যতম আকর্ষণ হলো এখানকার জমিদার বাড়িগুলো।
ইতিহাস থেকে জানা যায়, এ জেলায় বেশ কয়েকজন জমিদার বসবাস করতেন। সময় বদলে গেছে, কিন্তু কালের সাক্ষী হয়ে আজও রয়ে গেছে জমিদারদের রেখে যাওয়া সেই বাড়িগুলো।

টাঙ্গাইলের আকর্ষণীয় জমিদার বাড়িগুলোর মধ্যে ধনবাড়ীর নবাব প্যালেস অন্যতম।
বৈরান ও বংশী নদীর মাঝখানে ১২০ বিঘা জমির ওপর স্থাপিত সাধারণ অথচ অপূর্ব এই নবাববাড়ি। নবাব বাড়িতে রয়েছে নবাব প্যালেস, আবাস ভবন এবং কাছারি ভবনসহ আরো কয়েকটি ভবন। রয়েছে কনফারেন্স হল, কনভেনশন হল, ডাইনিং হল, নবাব মিউজিয়াম ও পাঠাগার।

নবাব বাড়ির পাশেই রয়েছে নবাব বাড়ি মসজিদ। বাংলাদেশের প্রাচীন মসজিদগুলোর মধ্যে এই মসজিদটি অন্যতম। ষোড়শ শতাব্দীতে সেলজুক তুর্কি বংশের ইসপিঞ্জার খাঁ ও মনোয়ার খাঁ দুই ভাই এ মসজিদটির প্রথম খন্ড (এক কক্ষ বিশিষ্ট মসজিদ) নির্মাণ করেন। মোঘল সম্রাট আকবরের সময় এ দুই ভাই ধনবাড়ির অত্যাচারী জমিদারকে যখন পরাজিত করে এ অঞ্চলের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন তখন এ মসজিদটি নির্মাণ হয়।”

যেখানেই যাবেন, খেয়াল রাখবেন আপনার বা আপনাদের দ্বারা যেন পরিবেশের দূষণ ও ক্ষতি না হয়।

Source: Nasir Khan‎< Travelers of Bangladesh (ToB)

15 Sep 2019

প্রকৃতি কন্যা সিলেট পরিচিত তার অপরুপ রুপের জাফলং, বিছানাকান্দি, পান্থুমাই, রাতারগুল দ্বারা। রাতারগুল দেশের প্রথম সোয়াম্প ফরেস্ট হলেও তারচেয়ে তিনগুণ বড় মিঠাপানির আরেক বন হলো মায়াবন। সিলেট হতে তামাবিল সড়ক পেরিয়ে ৩৭ কি.মি গেলে সারি ঘাট বাজার। এই বাজারে বামপাশের রাস্তা ধরে ছায়া সুনিবিড় গ্রামীণ জীবনযাত্রা দেখতে দেখতে পাওয়া যাবে বেখড়া খাল! সেখান থেকে পানসি দিয়ে যেতে হবে মায়া বনে! প্রায় ১১শ একরের বিশাল এ বনে মায়াবী সৌন্দর্যের যেনো শেষ নেই! নিরব বনের স্বচ্ছ জলাভূমির মধ্যে কোমড় ডুবিয়ে দাঁড়িয়ে আছে বিভিন্ন প্রজাতির বৃক্ষ। এরই মাঝে জানা অজানা পাখির গুঞ্জন কানে মধুবর্ষণ করে। পানির আবছায়ায় মাছেদের সরে যাওয়া অন্যরকম তৃপ্তি দেবে যেন কারোর চোখের মণিকোঠায়। বর্ষা মৌসুমে পূর্ন যৌবণপ্রাপ্ত হয় মায়াবন। তবে সারাবছর প্রায় জলের মধ্যে ডুবে থাকে এ বন! রাতারগুলের চেয়ে প্রায় তিনগুন বড় ও জীববৈচিত্র্যে ভরপুর এ মায়াবন হতে পারে দেশের অন্যতম আরেক পর্যটন কেন্দ্র। সম্প্রতি গতকাল এই মায়াবন দেখতে সিলেট থেকে চারজন বন্ধু সিলেট থেকে রওনা দেয়। মায়াবনটা এতো পরিচিত নাম না হওয়ার কারণে এখানে খুব কম মানুষ দেখতে আসে। যার দরুন আমাদের নৌকা পেতে বেগ হয়। অনেকক্ষণ অপেক্ষার পর একজন স্থানীয় মানুষের সহায়তায় মাছ ধরার নৌকা নিয়ে বেখড়া খালের অবগাহণে মিনিট ৬ পর পৌঁছে যাই এই মায়া বনে। পাখির গুঞ্জন আর নিস্তব্ধ পরিবেশের কারণে জায়গাটা আমার কাছে সেরাদের সেরা লেগেছে।

যেভাবে যাইঃ প্রথমে সিলেটের বন্দর বাজার থেকে লেগুনায় সারিঘাট। ভাড়া জনপ্রতি ৩০টাকা। সারিঘাট বাজার থেকে পশ্চিম দিকে গোয়াইনঘাট যাবার রাস্তা হতে সিএনজিতে বেখড়া খালের ব্রীজ পর্যন্ত জনপ্রতি ২০ টাকা। নৌকা ভাড়া চারজনের জন্য ২০০ টাকা।

** যেখানেই যাই না কেনো আমাদের প্রকৃতির প্রধান শত্রু আমরাই। প্রকৃতির ক্ষতি হয়ে এমন কিছু করা থেকে নিজেকে বিরত রাখি। সচেতনতা শুরু হোক নিজ থেকে।

Source: Kowsar Ahmed Kaif‎<Travelers of Bangladesh (ToB)

14 Sep 2019

সময় সুযোগ পেলেই ঘুরতে যাওয়ার চেষ্টা করি আমি। সেই অনুযায়ী গত জুলাই মাসে জেনেছিলাম যে, অগাস্টের শেষদিকে সপ্তাহ দু’য়েকের জন্য দেশের বাইরে কোথাও ঘুরতে যাওয়ার সুযোগ আছে।
সেই সময় থেকে শুরু করলাম প্রয়োজনীয় তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ। এখানে বলে রাখা যেতে পারে যে, অনেক আগে থেকেই আমি একটা তুলনা মূলক ছক করে রেখেছি । ভবিষ্যতে যেখানে যেতে চাই, এমন ৬/৭ টি দেশে ভ্রমণের জন্য আনুমানিক খরচের একটা তালিকা করা আছে। যেমনঃ – সেই দেশে এয়ার ফেয়ার কত, ভিসার খরচ কত, ভিসা নিতে কত দিন সময় দরকার হয়, সেই দেশে দেখার মতো অংশ কয়টা এবং কি কি ইত্যাদি। এতে করে আমি টার্গেট করা দেশেগুলোর মধ্যে একটা যাচাই-বাছাই ধরনের তুলনা করে সিধান্ত নিতে পারি।
যাই হোক, আমার সেই তালিকার মধ্যে যেহেতু ফিলিপাইনও ছিল এবং এয়ার ফেয়ার খুঁজতে গিয়ে দেখলাম সিংগাপুর এয়ারলাইনসের ডিস্কাউন্ট চলছে তাই জুলাই এর ২৪ তারিখে টিকেট কিনে নিলাম।

এখানে দুটি উল্লেখযোগ্য দিক হচ্ছে–
১. আমার সেই ছকে দেশ দেখার উৎকৃষ্ঠ সময় তালিকাভুক্ত ছিল না।
২. এয়ারলাইনসের ডিস্কাউন্টের নিয়ম মতো আমি তাদের কিছু নির্দিষ্ট তারিখের টিকেটেই মূল্যছাড় পেতে পারি!
এক্ষেত্রে আমার হাতে ১৫ দিনের ছুটি ছিল কিন্তু আমি অফারের তারিখ মিলিয়ে টিকেট কাটার কারণে ৯ দিন সময় পেলাম ফিলিপাইন ঘুরে দেখার জন্য।
সবচেয়ে কষ্ট সাধ্য পর্ব শুরু করলাম টিকেট কাটার পর থেকেই। মাথায় সারাক্ষণ একটাই চিন্তা, এতো বড় এবং সুন্দর একটা দেশের কোন অংশ দেখবো আর কি বাদ দিবো!? কেউ হয়তো আমার পরিকল্পনাকে ভুল বলতে পারেন আবার আমার মতোই যারা প্রতিটা মূহুর্তে বেঁচে থাকার আনন্দ খুঁজে বেড়ানোর শক্তি রাখেন তাদের জন্য এটাকেই যথোপযুক্ত মনে হবে।
এই কথা কেন বলছি তা হয়তো এখনো সবার কাছে পরিস্কার না। তাই আমি জানিয়ে রাখতে চাই যে, পুরো ভ্রমণ পরিকল্পনায় আমি এক রাতের বেশী কোথাও থাকিনি। সেই কারণে হয়তো খরচটা যেমন বেশী পরেছে আবার ঘুরাঘুরিও বেশী হয়েছে। এর পেছনে মূল কারণ হচ্ছে ফিলিপাইনে এটাই আমার প্রথম ভ্রমণ ছিল। তাই চেয়েছিলাম এক ঝলকে যতটা সম্ভব দেশটাকে দেখে নেয়া যায়। ফলে, পরবর্তীবার যেতে চাইলে কোন জায়গায় কতদিন দিনের জন্য যাবো সেটাও বুঝতে সুবিধা হবে।
জানিয়ে রাখার মতো আরও একটি বিষয় হলো, আমি কোন হোটেলে কোন রাতে থাকবো, সেই বুকিংগুলোও গুগলম্যাপ দেখে কনফার্ম করেই গিয়েছিলাম। অর্থাৎ যা কিছু দেখতে চাই এর আশেপাশেই থাকার চেষ্টা করেছি।
আমি আমার প্রতিদিনের ঘুরার একটা বিবরণ মোটামুটি ভাবে এখানে দিচ্ছিঃ

১ম দিনঃ
ফিলিপাইনে Davao শহরে প্রথম পা রেখেই যথারীতি দুটো কাজ করলাম- ১) ডলার এক্সচেঞ্জ করলাম, ২) মোবাইলের সিম নিলাম। এরপর গ্রাব এপ্স দিয়ে ট্যাক্সি ডেকে নিয়ে হোটেলে পৌছালাম। ছিমছাম সেই ডর্মের ভাড়ার নিয়মটা খুব ভালো লাগলো। ৫ ঘণ্টা অর্থাৎ শুধু রাতের জন্য কম খরচে থাকার সুযোগটাও আছে আবার ৮ ঘন্টা, ১২ ঘণ্টা অথাবা ২৪ ঘন্টা থাকলে সময় অনুযায়ী খরচ বাড়তে থাকবে। যদিও আমি Agoda থেকে বুকিং করেছি বলে এই কম খরচে থাকার এক রাত থাকার কথা জানতেই পারিনি।
সন্ধ্যায় শহরে নেমে রাতের মার্কেট দেখতে প্রথম গেলাম বিখ্যাত Abreeza Mall এবং তারপর Roxas Avenue Night Market, যেখানে পুরোটাই খাবারের বাজার। বিশাল সম্ভারের বৈচিত্রময় মুখরোচক খাবারের অভিজ্ঞতা নিয়ে রুমে ফিরে ঘুম দিলাম।

২য় দিনঃ
হোটেল থেকে পায়ে হাঁটার দুরুত্বে Lon Wa Temple দেখার মধ্য দিয়ে দিন শুরু করলাম। এরপর জীপনীতে অর্থাৎ আমাদের দেশের টেম্পু বা জীপ জাতীয় লোকাল গাড়িতে করে গেলাম People’s Park.
সেখান থেকে আবার জিপনীতে করে গেলাম Ramon Magsaysay Park। আমি কল্পনাই করি নাই একটা দেশ এত্তো সুন্দর ভাবে তাদের আদিবাসিদের জীবনযাপন পদ্ধতির সাথে দুনিয়ার পরিচয় করায়ে দেয়ার জন্য এতটাই পরিপূর্ণ ভাবে আয়োজন করা থাকতে পারে। ফিলিপাইনের বিলুপ্তপ্রায় আদিবাসিরাও এখানে তাদের নিজস্ব রীতিতে ঘর তৈরি করে সেখানে খাবার, পোশাক, গহনা, বাদ্যযন্ত্র, অস্ত্র ইত্যাদির প্রদর্শনী করছে! সবচে’ আশ্চর্যজনক ছিল কোন এক গোষ্ঠীর পরিবেশন করা কর্ণ কফি! আমার জীবনের অন্যতম এক অসাধারণ কফির স্বাদ পেলাম এখানে!
সেখান থেকে আরও কিছু বাজার, সমুদ্র সৈকত দেখে রুমে ফিরে ব্যাগ নিয়ে বিকালে আবার রওনা হলাম এয়ারপোর্টের দিকে, গন্তব্য ম্যানিলা।
ম্যানিলা পৌঁছে রাতের বাসে রওনা দিলাম Banaue Rice Terraces, Mountain Province, Ifugao- San Fernando এর দিকে।

৩য় দিনঃ
প্রায় ১০ ঘণ্টা রাতে বাস ভ্রমণের পর সকালের আলোতে মুগ্ধ হয়ে মেঘের ভেলায় নিজেকে পাহাড়ের ভাঁজে ভাঁজে হারাতে দেখলাম। আগে শুধু ছবি দেখেছিলাম এই অঞ্চলের, কিন্তু বাস্তবে সেটা আন্দাজ করতে পারিনি। Banaue Rice Terraces এ পাহাড়ের গায়ে চাষাবাদের কারুকাজ এরা কিভাবে করেছে তা দেখেই সারটাদিন পার করলাম।
প্রচণ্ড বৃষ্টি হচ্ছিলো ওইদিন, দুপুরে কিছু খাওয়া হয়নি। বিকেলের দিকে খাবার খাবো ভেবে 7th Heaven’s Cafe তে কিছুক্ষণ বলসাম। বসে মনে হয়েছিল, মেঘের মধ্যে ভাসমান এই হোটেলের যথার্থই নাম দিয়েছে এরা। বাকীটা সময় এখানে বসে এরপর সন্ধ্যার বাসে ম্যানিলার দিকে যাত্রা করলাম।

৪র্থ দিনঃ
সকালে ম্যানিলা পোঁছে আবার বাসে চেপে বসলাম San Pablo City ‘র দিকে যাওয়ার জন্য, উদ্দেশ্য Villa Escudero তে পানির উপর ভাসমান রেস্তরায় বসে খাবার খাবো। জীবনে ছোট ছোট অনেক ইচ্ছা আমার, কিছু তো পূরণ করা যেতেই পারে।
১৮৮০ সালের ২০০০ একরের এলাকা জুড়ে এক রাজবাড়ীকে কেন্দ্র করে গড়া এই রিসোর্টর চারিদিকে ১ কিমি নারিকেল বাগানে ঘেরা। রেস্তরায় বসে খাবার আগে Escuderos পরিবারের একটা ছোট্ট জাদুঘর দেখে এলাম। আমি হতবাক হয়ে গেলাম শুধু তাদের সংরক্ষণ দেখেই! দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আগের ইতিহাস থেকে শুরু করে বর্তমান পর্যন্ত কি নেই তাদের? প্রতিটি শাসনামলের মুদ্রা, পোশাক, আসবাব, অস্ত্র এমনকি ওই রাজবাড়ীর প্রতিটি প্রাণীর শরীর সংরক্ষণ করেছে তারা। প্রজাপতি বা পোঁকামাকড়টাও বাদ পরেনি!
খেয়ে, বাঁশের নৌকা বেয়ে, ঘুরে ম্যানিলা ফিরে শুরু হলো আসল রোমাঞ্চকর ঝামেলা। রাস্তায় জ্যামের সাথে যুদ্ধ করে ফেরীঘাটে এলাম Coron Island যাবো বলে। ফেরীর টিকেট কাটা ছিল অনলাইনে। অথচ টাইফূনের কারণে তারা সব ফেরী বাতিল করেছে ওইদিন।
রাতে আমি ম্যানিলায় থাকতে চাই না। পরের দিনের জন্য রুম বুকিং তো দেয়াই ছিল এর উপর, ঐখানে গিয়ে যা কিছু দেখতে যাবো সেটাও মিস হয়ে যাবে।
অবস্থা বেগতিক দেখে এয়ারপোর্টে গেলাম। ম্যানিলা থেকে কোরন ফ্লাইটের অনেক দাম। তাই খুঁজে বেছে কম খরচের ভোর রাতের টিকেট কাটলাম, তবে তা ম্যানিলা থেকে না, ক্লার্ক শহর থেকে। যেখানে যাতায়াত করতে ম্যানিলা থেকে তিন ঘণ্টার মতো সময় বাসে জার্নি করতে হয়। আমার জন্য ভালোই হলো, রাতটা পার করা দরকার ছিল। তার উপর ক্লার্ক যাওয়ার জন্য এয়ারপোর্টের শ্যাটল বাস আছে দেখেই এই পথটা বেছে নিয়েছিলাম।
মধ্য রাতে ক্লার্ক এয়ারপোর্টে পৌঁছে ভোরের দিকে উড়াল দিলাম স্বপ্নের Coron Island এর পথে।

৫ম দিনঃ
শুরু হলো মাথা নষ্টের পালা। ভাষায় আমি কিছুই বলতে পারবো না। যাদের ধারণা নাই, তারা যে যার মতো গুগল সার্চ দিয়ে Coron কি জায়গার নাম তা দেখে নিতে পারেন।
আমি তো এতটাই হা হয়ে ছিলাম যে ঠিক মতো ছবিও তুলি নাই। কলিজা এই রকমই ঠাণ্ডা হয়েছে যে প্রেমে পরার পর মানুষের যেমন হয়…
সারাদিনের জন্য bangka বোটে করে Kayangan Lake, Barracuda Lake, Twin Lagoon, Siete Pecados, beach 91, Smith Beach, Coral Garden, Skeleton Wreck সবই দেখা হলো প্যাকেজের মধ্যে। এরা সীফুড লাঞ্চও রাখে তাদের প্যাকেজে এবং নৌকায় যেতে যেতে টাটকা সামুদ্রিক মাছসহ সব খাবার রান্না করতে থাকে।
এখানে মজাটা ছিল এমন যে, সারদিনের জন্য বিভিন্ন দেশের অজানা কিছু মানুষের সাথে খুব সুন্দর কিছু জায়গা দেখে বেড়াচ্ছি। ঢেউয়ের সাথে আমাদের রোমাঞ্চ বাড়ে আর জোড়ে বাতাস হলে আশঙ্কা। অচেনা এই মানুষগুলোর সাথে বাঁচা মরা কিছুক্ষণের জন্য একত্র হয়ে গেলো। সারাদিনের দুর্দান্ত ভ্রমণের পর রাতে একটা শান্তির ঘুম দিলাম।

৬ষ্ঠ দিনঃ
হাতে অল্প সময় অথচ দেখার এতো কিছু ভাবতেও কেমন যেন পিছুটান হচ্ছিল আমার। ১১ টার দিকের এয়ার টিকেট কাটা আছে El Nido যাবার জন্য। তারপরও ভোরে হোটেল থেকে বের হয়ে গেলাম Lualhati Park এবং সেখান থেকে Mt. Tapyas।
পাহাড়ের উপর থেকে দ্বীপ দেখার অভিজ্ঞতা যাদের আছে তারা হয়তো বুঝবে এটার সৌন্দর্য। কোন ছবি বা লেখার ভাষায় সেটা বুঝানো সম্ভব না। তারপরও কিছু ছবি আর বর্ণনা আমার ওয়ালের এই লিঙ্কে আছেঃ চাইলে কেউ দেখে নিতে পারেন https://www.facebook.com/shaima.siddika/media_set…
বেশী সৌন্দর্য দেখতে দেখতে যা হলো El Nido যাবার ফ্লাইটটাই ছুটে গেলো। এয়ারপোর্টে যাওয়ার পর জানলাম এয়ার সুইফটের এই ছোট বাহনটি এক ঘণ্টা আগেই দরজা বন্ধ করে। ডোমেস্টিক ফ্লাইটের এই ব্যবস্থা আমি এর আগে কোথাও দেখি নাই।
যাই হোক এরপর আবার গেলাম ফেরী ঘাটে। শীপের টিকেট কাটলাম El Nido এর জন্য। চার ঘন্টার পানি পথ। আসলে ওই যে একটা ফেরীর যাত্রা বাদ পরেছিল, তাই মনে খানিকটা আফসুস ছিল যে, এই দেশের ফেরীর অভিজ্ঞতা থাকবে না এটা কেমন কথা হলো? তাই হয়তো উপর থেকে বিশেষ ব্যবস্থা হয়ে এসেছে।
আরও মজা হলো যখন, ফেরী ঘাটে এসে ফেরীর অপেক্ষায় বসে ছিলাম, এমন সময় দেখি গতকালের চার জন ভ্রমণ সঙ্গীও এই ফেরীতে যাচ্ছে। সবাইকে আবার সবাই দেখতে পেয়ে খুব খুশী হলাম। এক জন আবার তথ্য দিলো আমি যেই ফ্লাইট মিস করেছি সেটায় করে একজন El Nido যাচ্ছে। মিনিট দশেক পর সেই যাত্রীও দেখি ঘাটে এসে দাঁড়ালো। এইবার আমাদের হাসি আর থামে না। দুইজনেরই প্লেন মিস হয়ে যাওয়াটা বড় বেশী কাকতালীয় ছিল, কিন্তু আমরা মনে হচ্ছিলো প্লান করেই সব করেছি।
বিকালে ফেরী থেকে ঘাটে নেমে গুগলে নিজের হোটেলের রাস্তাটা খুঁজতে গিয়ে মন অনেক বেশী ভালো হয়ে গেলো! পাঁচ মিনিটের পায়ে হাঁটা পথ। হোটেলের পিছে আর পাশেই বড় বড় পাহাড় আর সামনের দিকে সমুদ্র। হোটেলের বারান্দায় দোলনায় বসে ভাবছিলাম আর কোথাও না গেলেও চলবে আমার।
তারপরও গেলাম বাইরে, এখানে পাশের দ্বীপ Lio Beach এ বেড়াতে যাওয়ার জন্য ফ্রী শ্যাটল বাস আছে। রাতে লাইভ গানের সাথে খাওয়া বা পার্টি করার জন্য যে কেউ যেতে পারে সেখানে। আমিও গেলাম, অবাক হয়ে দেখালাম। খানিকটা ঘুরে, পরের দিনের ট্যুর প্লান করে ফিরে এলাম রুমে।

৭ম দিনঃ
সকালে বারান্দায় বসে মেঘলা আকাশ দেখতে দেখতেই ট্যুর এজেন্ট ফোনে জানালো ঝড়ের জন্য ওইদিনের সব দ্বীপে যাবার অনুমতি বাতিল করা হয়েছে। দিনের সব পরিকল্পনা ভেস্তে যাওয়ায় সামান্য একটু মন খারাপ হলো তবে আমি বাস্তবতার সাথে মানিয়ে নিতে সব সময় প্রস্তুত থাকি এবং কিভাবে সেই সময়কে কাজে লাগানো যায় তা ভাবতেও খুব বেশী সময় নেই না।
সাথেসাথেই বাইরে গিয়ে সারাদিনের চুক্তিতে বাইক ভাড়া করে নিয়ে চলে গেলাম জিপলাইনে পাহাড় থেকে পাহাড়ে ঘুরার জন্য। সেখান থেকে গেলাম Nacpan Beach, Duli Beach, Las Cabanas Beach, Corong Corong Beach সহ যতটুকু একদিনে দেখা যায় ঘুরে দেখার জন্য।
তারপর কোনমতে দৌড়ে গেলাম Puerto Princesa এর রাতের বাস ধরার জন্য।

৮ম দিনঃ
৫/৬ ঘণ্টার পথ শেষে কাক ডাকা সকালে বাস থেকে নামলাম। শহর ঘুরে দেখতে শুরু করলাম জিপনীতে বসেই। মাঝে দু’এক বার পছন্দ মতো জায়গায় নামলাম। দুপুরে আমার শেষ গন্তব্য তে যাওয়ার এয়ার টিকেট কাটা আছে, তাই খুব দূরে কোথাও গেলাম না।
প্রসঙ্গক্রমে এটাও বলতে চাই যে, জীবনে ঘুরতে গিয়ে যে কয়টা ভুল করেছি এই বারের যাত্রায় “এয়ার এশিয়া”র টিকেট কাটা তার মধ্যে ছিল একটা। আগেও ভারত এবং মালয়শিয়ায় গিয়ে ভুক্তভোগী হয়ে দেখেছি কিভাবে এদের পাবলিক বাসের মতো ফ্লাইটের সময় বদলায়। কিন্তু এয়ারটিকেট কাটার সময় সেই অভিজ্ঞতাটা কেন যেন মাথা থেকে উধাও হয়ে গিয়েছিল। এইবারের চরম ভোগান্তির পর এ জীবনে আর কোনদিন আমি এই ফ্লাইটের পথে যাবো না এটা নিশ্চিত।
দুপুর ২টার যাত্রা তারা শেষ করলো রাতে। Bohol Island এর রিসোর্টে আমার রাতের জন্য রুম বুকিং দেয়া ছিল। Cebu থেকে Bohol Island যাবার শেষ ফেরী ছেড়ে যায় সন্ধ্যা ৬ঃ৩০ তে অথচ প্লেন Cebu তে নামলো রাত ৮ঃ১০। রাতে Cebuতেই থেকে গেলাম।

৯ম দিনঃ
সকালে ঘুম থেকে উঠে ফেরী ধরলাম Cebu থেকে Bohol যাবার জন্য। যেহেতু আগের রাতে না গিয়ে পরদিন সকালে যাচ্ছি তাই কিছু গন্তব্য বাদ দিয়ে কিছুটা যেন দেখে আসতে পারি সেই চেষ্টাই করলাম। শেষ বারের মতো পানির রঙে মাথা নষ্ট করতে গেলাম Panglao Island এর Alona Beachএ তারপর Balicasag Island, Bantayan Island আর Virgin Island এ।
আমি এতোটাই মুগ্ধ ছিলাম আর খুব বেশীক্ষণ না থেকেই ফিরে যেতে হবে এইসব ভেবে তেমন কোন ছবিই তুলতে পারলাম না! এবং মনকে বললাম, এই বার ছবি তুললে হয়তো আর কখনোই এখানে আসা হবে না। তাই ছবি তুলার জন্য হলেও আমার আবার এখানে আসতে হবে…
দেখার মতো অনেক কিছুই দেখে ফিরতে পারিনি, তারপরও মনের শান্তি নিয়ে ফিরেছি আমার শেষ দিনের যাত্রায়।

ফেরার দিনঃ
দিনের শুরুতে অল্প কয়েক ঘন্টায় সামান্য কিছু উপহার কিনে ফিরে এলাম রুমে। পাঁচ মিনিটের দুরুত্বে এয়ারপোর্ট তাই ঘন্টা খানেক আগেই চেক আউট করে এসে পরলাম। কোন মতে, তল্পিতল্পা নিয়ে সমেত ফিরে এলাম নিজের দেশে।
এবার একটা খরচের ধারণা দেই, যেটা অধিকাংশ মানুষের কাছে প্রাধাণ জ্ঞাতব্য বিষয় —
এবার একটা খরচের ধারণা দেই, যেটা অধিকাংশ মানুষের কাছে আকর্ষণীয় জ্ঞাতব্য বিষয়। তবে কিছু খরচ এখানে আনুমানিক, কারণ ফিলিপাইনের মুদ্রাকে টাকার হিসাবে দেখানো হচ্ছে —

যাতায়াতের প্রধান খরচঃ
ঢাকা ফিলিপাইন (সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন) যাওয়া-আসাঃ ৩২,৬৪৮/-
Davao — Manila (এয়ার এশিয়া) ৩৮৫০/-
Manila — Banaue যাওয়া-আসা (লোকাল বাস) ১৬০০/-
Manila — San Pablo City যাওয়া-আসা (লোকাল বাস) ১০০০/-
Manila — Clark (এয়ারপোর্টের শ্যাটল বাস) ১০০০/-
Clark — Coron (ফিলিপাইন এয়ার লাইন) ৩৫০০/-
Coron — El Nido (ফেরী) ২২০০/-
El Nido — Puerto Princesa (লোকাল বাস) ৯০০/-
Palawan — Cebu (এয়ার এশিয়া) ২৫৫০/-
Cebu — Bohol Island যাওয়া-আসা (ফেরী) ২৫০০/-
জিপনীতে যেকোন জায়গায় যেতে প্রতি বার (প্রায়) ১৫/- অর্থাৎ মোট খরচ প্রায় ৫০০/-
অন্যান্য খরচঃ
Villa Escudero সারাদিনের ট্যুর প্যাকেজ ২৭০০/-
Coron এ সারাদিনের ট্যুর প্যাকেজ ২৮০০/-
El Nido তে সারাদিনের জন্য বাইক ১৩০০/-
Bohol Island এ ঘুরার জন্য নৌকা ভাড়া ২৫০০/-
আনুসাঙ্গিক যাতায়ত খরচ ৩০০০/-
খাওয়াঃ প্রতিদিন গড়ে ৪০০/- অর্থাৎ প্রায় ৩,৫০০/-
হোটেল খরচঃ
Davao City (Napsule Suites) ৭৫০/-
(https://www.agoda.com/napsule-suit…/…/all/davao-city-ph.html)
Coron (Happiness Hostel) ৮০০/-
https://www.agoda.com/sea-horse-guest-hou…/…/palawan-ph.html
El Nido (Happiness Hostel) ১২৪০/-
https://www.agoda.com/happiness-hostel/hotel/palawan-ph.html
Cebu (Jiji’s Hostel) ১৭২০/-
https://www.agoda.com/jiji-s-hostel/hotel/cebu-ph.html
সর্বমোটঃ প্রায় ৭৩,০০০/- টাকা

ভ্রমণের ক্ষেত্রে কিছু টাকার গচ্ছা যাওয়া অস্বাভাবিক ঘটনা না, আমার ক্ষেত্রেও তাই হয়েছে। আমি যেই হিসেবটা এখানে দেইনি। তবে ঐযে শুরুতে বলেছিলাম আমার ছকে যেকোন দেশ দেখার উৎকৃষ্ট সময়ের উল্লেখ নেই তাই গচ্ছাটা তুলনামূলক ভাবে বেশীই হয়েছে। যেটা সঠিক সময়ে ওই দেশে গেলে আরও কম হতে পারতো। আর ইচ্ছা করলে আমি এই দেশে ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকার মধ্যেই এই ৯ টা দিন ঘুরে ফিরে নিতে পারতাম। কিন্তু এই পাগলামিটা করে যেই শান্তি পেয়েছি সেটা আর পেতাম না।
সবশেষে এটুকুই বলবো, আমি যেহেতু খুব বেশী ছবি তুলি নাই, তাই আমার বিশদ বর্ণনার পর যদি এই জায়গায় কেউ যেতে চায়, তাহলে যাবার আগে বাস্তব চিত্র দেখতে গুগল করে আসলেই এই জায়গাগুলো কতটা সুন্দর দেখে নিতে পারেন।

Source:  Shaima Siddika‎< Travelers of Bangladesh (ToB)

12 Sep 2019

এই মাসেই ঘুরে আসলাম এশিয়ার ইউরোপ বলে পরিচিত মালায়শিয়া
আমি ৫ দিন ছিলাম।২ দিন লাংকাউই ৩ দিন কুয়ালালামপুর।
৩ তারিখ রাত ৩ টার মালায়শিয়া এয়ারলাইন্স এ রওনা হই কুয়ালালামপুর। লোকাল টাইম ৮ টায় ল্যান্ড করি।
ইমিগ্রেশন এ তেমন কিছুই জিজ্ঞেস করে নাই।শুধু রিটার্ন এয়ার টিকেট আর হোটেল বুকিং দেখছে।
ইমিগ্রেশন মাত্র ২ মিনিটে শেষ।
আমার লাংকাউই ফ্লাইট ছিলো দুপুর ১২ টায়।এয়ারপোর্টে এই ফ্রেস হয়ে নেই।
কুয়ালালামপুর থেকে লাংকাউই ৫০ মিনিট এর ফ্লাইট।
লাংকাউই…. ৩/৯/১২…আমি ৩ তারিখ দুপুর ১ টায় লাংকাউই পৌছে যাই।খুব সুন্দর আর সাজানো একটা এয়ারপোর্ট।
এয়ারপোর্টে থেকে গ্রাব নিয়ে ফেমাস Pantai Cenang beach এরিয়া তে চলে যাই।।ভাড়া আসে ১২ রিংগিত।
আগে থেকে বুক করা হোটেলে উঠে ফ্রেশ হয়ে চলে যাই লাংকাউই স্কাই ব্রিজ আর ক্যবল কার।জায়গার টার নাম ওরিএন্টাল ভিলেজ।ওই খান থেকে ৫৫ রিংিত দিয়ে cable car,sky rex,3D টিকেট করে নেই।।

লাংকাউই cable car সত্যি অসাধারণ। cable car এর শেষ মাথায় World Famous লাংকাউই স্কাই ব্রিজ।
অদ্ভুত সুন্দর।।।স্কাই ব্রিজ থেকে দুরের আন্দামান সাগর সত্যি অসাধারণ। ২০০০ ফিট ওপরে এই স্কাই ব্রিজ।।।
স্কাই ব্রিজ থেকে ঘুরে স্কাই রেক্স আর 3D মিউজিয়াম ঘুরে cenang beach এসে দুপুরের লাঞ্চ করে বিকাল টা cenag beach এ কাটিয়ে দেই।।
৪/৯/১২….পর দিন খুব ভোরে উঠে আইল্যান্ড হপিং এ বের হই।।যার প্যাকেজ আগের দিন ঠিক করি।।
এই প্যাকেজে ওরা ৩ টা জায়গা ঘুরায় দেখাবে।
প্রেগন্যান্ট লেক,ইগল ফিডিং,বেরাস বাসাহ সি বিচ
৩ টি জায়গা খুব সুন্দর।।আমার সব থেকে বেশি ভালো লাগছে বেরাস বাসাহ সি বিচ
৪ ঘন্টায় সিব গুলা স্পট ঘুরে cenang ফিরে আসি।
ওই দিন বিকালে ইগল স্কয়ার ঘুরে আসি।।লাংকাউই এসে ইগল স্কয়ার না গেলে কেমন হয়🤔🤔🤔
বিকেলের পরে cenang beach er আসে পাশে ঘুরে বেরাই।এর মদ্ধে underwater world ঘুরে আসি।টিকিট এর দাম আমার কাছে বেশি মনে হইছে।। তবে জায়গাটা খারাপ না।।
৪ তারিখ রাতেই আমার ফ্লাইট ছিল কুয়ালালামপুর এর রাত ১০ টায়।।।
৫/৯/১২….কুয়ালালামপুরে আমার হোটেল ছিল বুকিত বিনতাং এরিয়া তে।।
সকালে নাস্তা করে চলে যাই বাতু কেভ।বুকিত বিনতাং থেকে ৫ মিনিট এর হাটা পথ দূরে মনরেল স্টেশন। সেখান থেকে চলে যাই KL sentral। KL sentral থেকে বাতু কেভ এর মেট্র আছে।।যে কেও কে বললেই দেখায় দিবে।।দুপুরের মদ্ধে বাতু কেভ ঘুরে চলে যাই পুত্রাজায়া।KL Sentral থেকে মেট্র তে পুত্রাজায়া স্টেশন।।সেখান থেকে খুব সহজেই বাসে করে ঘুরে আসা যাবে পুত্রাজায়া।মালায়শিয়ার প্রাশাসনিক রাজধানী।। পুত্রাজায়ায় মসজিদ আর প্রধানমন্ত্রির অফিস এক কথায় অসাধারণ।
৬/৯/১২…এই দিন খুব সকালে নাস্তা করে চলে যাই গেন্টিং হাইলান্ড।।KL sentral থেকে বাসে ১ ঘন্টা।
বাস যেখানে নামায় দিবে সেখান থেকে cable car e সহজেই জাওয়া যায় গেন্টিং হাইলান্ড।।।
অস্থির একটা জায়গা।সব ধরনের বিনোদন এখানে আছে।।ঘুরে ঘুরে অনেক কিছুই আছে দেখার।।
গেন্টিং হাইলান্ড থেকে ঘুরে বিকালে চলে যাই কুয়ালালামপুর এর প্রধান আকর্ষণ Petronas Twin Towers।।। বুকিত বিন্তাং থেকে ২০ মিনিট হেটেই যাওয়া যাবে।।
৭/৯/১২…এই দিন একে একে KL tower,জামে মসজিদ, ইন্ডিয়া মসজিদ, চায়না টাউন ঘুরে ঘুরে দেখি।

খরচ:
ঢাকা কুয়ালালামপুর ঢাকা রিটার্ন টিকিট ২২০০০
কুয়ালালামপুর লাংকাউই কুয়ালালামপুর টিকেট ৩৮০০
লাংকাউই এয়ারপোর্টে টু cenang beach 12 RM
Cable car যাওয়া আসা +টিকেট ৪৪+৫৫=৯৯Rm
ইগল স্কয়ার যাওয়া আসা ৫৪ RM
আইল্যান্ড হপিং ৩০RM
লাংকাউই তে ২ দিন খাওয়া ৪০RM
Cenang beach to এয়ারপোর্ট ১১RM
Genting Highlnag টোটাল ৩০RM
বাতু কেভ যাওয়া আসা ৬RM
পুত্রাজায়া ১২RM
কুয়ালালামপুর এ ৩ দিনে খাওয়া খরচ ৬০RM
ঘুরার জন্য মালায়শিয়া আমার কাছে বেস্ট মনে হউছে।কিন্তু শপিং এর জন্য মালায়শিয়া একটু বেশি এক্সপেন্সিভ।।।
জেখানেই যেখানেই ঘুরতে যাই আমরা পরিবেশ এর ক্ষতি হয় এমন কিছু করবো না। সেদিকে খেয়াল রাখব।।।

Source: RA K IB<Travelers of Bangladesh (ToB) 

12 Sep 2019

দূরের পাহাড় যখন হাতছানি দিয়ে ডাকে তখন তার ডাক উপেক্ষা করা সত্যি ই খুব কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষ করে যারা ভবঘুরের মতো ঘুরতে ভালোবাসেন।

এ যেন এক অমোঘ টান, বার বার ছুটে যেতে মন চায়। কিসের নেশায়, কিসের আশায়? শুধুই প্রকৃতিকে এক পলক দেখার আশায়, তার নির্জনতা কে আলিঙ্গন করার লোভে, তার সৌন্দর্যের কাছে নিজেকে সমর্পণ করে দেবার আকুতিতে।

যদি সেটা হয় শুধু এপাড় আর উপার, ঠিক যেন পাশের বাড়ির মিষ্টি মেয়ের হাতছানি 😃

বলছিলাম, মেঘালয়ের মেঘদূত কুমারী গ্রাম স্নোনেংপেডাং এর কথা। যেখানে একবার গেলে দ্বিতীয়বার না যেয়ে থাকার উপায় নেই, আশ্বস্ত করতে পারি।

খুব কম খরচেই আর কম সময়েই ঘুরে আসতে পারেন সৌন্দর্যের খনি, অপরুপ মায়ায় ঘেরা ছিমছাম এই গ্রাম টিতে। আমরা ফ্যামিলি গিয়েছিলাম, কেউ চাইলে, দল বেধে কিংবা কাপল বা ফ্যামিলি হিসেবেও যেতে পারেন।

সব কিছুই ডিপেন্ড করবে আপনাদের চাওয়া, পাওয়া আর সামর্থ্যের উপর। কেউ চাইলে একি জায়গায় গাড়ি ভাড়া করে যেতে পারেন আবার কেউ চাইলে বাসে সো খরচ একটু কম বেশী হতেই পারে। আমি সবার কথা মাথায় রেখেই একটা রাফ হিসেব দিয়ে দিচ্ছি আপনাদের জন্য, আশা করি হেল্পফুল হবে।

সবার আগে পাসপোর্ট করে ভিসা করিয়ে ফেলুন ৬০০ টাকায়। ট্রাভেল ট্যাক্স জমা দিন সোনালী ব্যাংকে, জনপ্রতি ৫০০।

ঢাকা থেকে সিলেটের বাস, জনপ্রতি ৪৮০ টাকা। সেখানে শহরে নেমে পাঁচভাই অথবা পানসী হোটেলে ভরপেট নাস্তা সারুন নিজের মতো করে, সর্বোচ্চ ১০০ টাকা। (নোট- এগুলা নিজের ইচ্ছার উপর নির্ভর করে সো কম বেশী হবে)

সেখান থেকে বাস যায় তামাবিল বর্ডার পর্যন্ত, বাসভাড়া টা সম্ভবত ১০০ এর একটু কম বেশি, যেহেতু আমরা গাড়ি রিজার্ভ করে গিয়েছিলাম, সিলেট থেকে বর্ডার ২৩০০ টাকা। তাই ভালো হবে একটু বাসভাড়া টা জেনে নিবেন।

সেখানে ২ থেকে আড়াই ঘন্টাতেই পৌঁছে যাবেন রাস্তায় জ্যাম না থাকলে। সেখানে নেমে দুই কাস্টোমসের আনুষ্ঠানিকতা সারূন। ভীড় না থাকলে ঘন্টা এক – দুয়েকের মধ্যেই শেষ হয়ে যায় বাট কপাল খারাপ হলে অনেক দেরীও হয়ে যায় তবে সেটা ভারতের কাস্টোমসে।

যাই হোক, এগুলা শেষ করে ভারতের অফিসের বাইরেই দেখবেন অনেক ট্যাক্সি দাঁড়ানো আছে। যদ শেয়ারে যান তবে ১০০ – ২০০ রুপিতেই পসিবল আর রিজার্ভ গেলে ৪০০-৫০০ তেই। ওরা অনেক চাইবে, বেটার হবে বারগেইনিং করে নিবেন।

সেখানে রাতে থাকার দুইরকম ব্যবস্থা আছে, যদি কারো শিলং যাওয়ার প্ল্যান না থাকে তবে। ফ্যামিল বা কাপল দের জন্য হোম স্টে গুলা পারফেক্ট। আর দলবেধে এডভেঞ্চার প্রিয় মানুষ গুলা চাইলে নদী র পাশেই ক্যাম্প করে থাকতে পারে।

এখান থেকে কন্টাক্ট করে যেতে পারেন আবার চাইলে সেখানে যেয়েও করতে পারেন।

ক্যাম্পে থাকলে ৪০০-৫০০ রুপি আর হোম স্টে গুলাতে ১০০০-১৫০০ রুপি, জায়গা ভেদে।
রাতের খাবার আপনি চাইলে ওরাই প্রোভাইড করবে আবার আপনি চাইলে বাইরে থেকেও খেয়ে আসতে পারেন।

চেষ্টা করবেন মাছ ভাজা, ডাল আর সালাদ দিয়ে ভোজন সারতে, দাম ও কম আর খেতেও বেশ সুস্বাদু। আমরা অনেক কিছু নিয়েছিলাম খাবারে, দাম এসেছিলো ৫০০-৬০০ রুপির মতো সো কম খেলে ২০০ রুপিতেই পসিবল।

ওখানে গ্রাম থেকে বেরিয়ে একটা নতুন রেষ্টুরেন্ট খুলেছে, নাম বিটেলনাট। দেখতে যেমন সুন্দর জায়গাটা, খেতে তেমন মজা আর অনেক আইটেম রয়েছে তাই চুজ করতেও সুবিধা। আর দাম ও একদম হাতের নাগালে।

এবার আসি এক্টিভিটিস এ। সেখানে যাবেন আর কিছু ডেয়ার করবেন না তা কেমনে হয়। বোটিং, কায়াকিং, ক্লিফ জাম্পিং, ট্রেকিং, জিপ লাইনিং, স্নোরকেলিং, স্কুভা ডাইভিং সব ই আছে ৪০০ থেকে ৫০০ রুপির মধ্যে। এরমধ্যে জিপ লাইনিং টা শুধু ২০০ রুপির, যেটা আমার ৫ বছরের বেবী ও করেছে আলহামদুলিল্লাহ, ভিডিও ইনক্লুড করে দিলাম।

অনেকেই এখান থেকে ক্রানসুরি ওয়াটার ফলসে যায় ঘুড়তে যেটা আসলেই খুব সুন্দর। যেতে ঘন্টাখানেক লাগে, গাড়ি ভাড়া ৪০০-৫০০ নিবে। আমাদের হাতে সময় ছিলোনা তাই যেতে পারিনি এবার।

আরেক টা বিষয়, রুপি এখান থেকে নিয়ে যাওয়াই বেটার, যদিও এটা একটু বে আইনি বাট এটাই বেষ্ট ওয়ে। ডলার ভাংগানো যায় ডাউকি বাজার থেকে। আর আমরা ট্রাভেল কার্ড নিয়েছিলাম যেটাও খুব কাজে দেয়। ডাউকি তেই পাবেন স্টেট ব্যাংক অফ ইন্ডিয়ার বুথ।

এবং লাষ্ট কথা না বললেই নয়, প্লিজ প্লিজ যেখানেই যান, নিজের পরিবেশ, নিজের আশপাশ পরিস্কার রাখুন। এখানে সেখানে ময়লা, খালি বোতল, চিপসের প্যাকেট না ফেলে, নির্দিষ্ট স্থানে ফেলুন।

এই গ্রামের মূল বৈশিষ্ট্য হচ্ছে একটু পর পর ই বিন দেয়া আছে ময়লা ফেলার জন্য, যা আমাদের কে ভাবতে শিখায় আমরা কি আসলেই পালন করছি আমাদের দায়িত্ব গুলো?

আশা করি, অনেক তথ্যই পেয়ে গেছেন, এর বাইরে কিছু জানার থাকলে প্লিয ফিল ফ্রী টু আস্ক।

Source: Farhana Asha<Travelers of Bangladesh (ToB)

12 Sep 2019

কার্তিকপুরের ইতিহাস ঘেটে যা পেলাম, মোগলদের বিরুদ্ধে বিপ্লবী কেদার রায়ের চতুর্থ ও শেষ যুদ্ধের নবম দিবসে কেদার রায় আহত অবস্থায় মোগলদের কাছে বন্দী হন, পরবর্তীতে মৃত্যুবরণ করেন। বিক্রমপুরের স্বাধীনতা অক্ষুণ্ণ রাখতে কেদার রায়ের স্ত্রী মহারাণীর নেতৃত্বে যুদ্ধ অব্যাহত রাখেন রঘুনন্দন রায়, শেখ কালু, কালিদাস ঢালীর বাহিনী।
একসময় মানসিংহ মোগল আনুগত্যের শর্ত দিয়ে চুক্তিপত্রের প্রস্তাব দিলে মহারানী তা গ্রহণ করে নেন। যতদিন কেদার মহিশী বেঁচেছিলেন তিনিই সমগ্র বিক্রমপুরের জমিদারি দেখভাল করতেন। তার মৃত্যুর পরে কেদার বাহিনীর সেনাপতিদের মাঝে বিক্রমপুর অঞ্চল ভাগ করে দেয়া হয়। বিক্রমপুরের জমিদারি দেয়া হয় রঘুনন্দন রায় চৌধুরীকে, কমলশরন ও শেখ কালুকে দেয়া হয় কার্তিকপুরের জমিদারি, দেওভোগ ও মুলপাড়ার জমিদারি দেয়া হয় কালিদাস ঢালী ও রামরাজা সর্দারকে এবং পরবর্তীতে ইদিলপুরের জমিদারি দেয়া হয় রঘুনন্দন গুহ চৌধুরীকে।

মোঘলদের অন্যতম সেনাপতি ফতেহ্ মুহাম্মদ নামে এক বীর সেনানী কেদার রায়ের প্রধান সেনাপতি শেখ কালুর একমাত্র কন্যাকে বিবাহ করে কার্তিকপুরেই থেকে যান। আর ফতে মোহাম্মদ-এর পরবর্তী বংশধররাই হচ্ছেন কার্তিকপুরের জমিদার পরিবার। এই জমিদার পরিবারের সাথে পরবর্তীতে আত্মীয়তার সম্পর্ক হয় বোয়ালমারী উপজেলার জাহাপুরের হযরত শাহ বন্দে আলী (র.), ঢাকার নবাব খাজা আহসান উল্লাহ ও নবাব খাজা সলিমুল্লাহ, করটিয়ার জমিদার ওয়াজেদ আলী খাঁন পন্নী, বগুড়ার নবাব আলতাব আলী ও ফরায়েজী আন্দোলনের নেতা হাজী শরীয়াতুল্লাহ্’র পরবর্তী বংশধরদের সাথে। সেই সূত্রে দানবীর নবাব স্যার সলিমুল্লাহ্ আমাদের শরীয়তপুরের মেয়ের জামাই, যার সবচেয়ে বড় সহায়তা ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমি দান।

কার্তিকপুর নামকরণের ইতিহাস পড়তে গিয়ে
জান যায় এই অঞ্চলের প্রাচীন নাম ছিল ভাটিতা, ভাটি এলাকা হতে ভাটিতা নামের উৎপত্তি। পঞ্চম শতক পর্যন্ত এই এলাকার নাম ছিল ভাটিতা। পরবর্তীতে লক্ষণ সেনের পৌত্র কার্তিক সেনের নামানুসারে এটি কার্তিকপুর নামে নামায়িত হয়।
ইখতিয়ার উদ্দিন বখতিয়ার খিলজির বঙ্গ বিজয়ের পর কার্তিক সেন এখানে আশ্রয় নিয়েছিলেন। প্রবাদ আছে রাম ও ভদ্র নামে কার্তিক সেনের দুই ছেলে ছিল। তাদের নামানুসারে এলাকাটির গুরুত্বপূর্ণ অংশের নাম রামভদ্রপুর রাখা হয় যা বর্তমানে রামভদ্রপুর ইউনিয়ন হিসেবে ভেদরগঞ্জ উপজেলার আওতাধীন রয়েছে, আর কার্তিকপুর গ্রামের কিয়দংশ এই চৌধুরী বাড়ি রয়েছে ডিঙ্গামানিক ইউনিয়নের আওতায় নড়িয়া উপজেলায়। শ্রীযোগেন্দ্রনাথ গুপ্ত ‘বিক্রমপুরের ইতিহাস’ বইতে উল্লেখ করেছেন ষোড়শ শতকে বিপ্লবী কেদার রায়ের গুরু গোসাজ্ঞী ভট্টাচার্যের পুত্র রামভদ্রের নামানুসারে একটি অঞ্চলের নাম রামভদ্রপুর নামায়িত হয়। এটি সেই অঞ্চলও হয়ে থাকতে পারে।
এরপরে আমরা আবার ছুটলাম আমাদের মূল গন্তব্যের দিকে। কার্তিকপুর উচ্চবিদ্যালয় স্থাপন করা হয়েছে জমিদারবাড়ির ঘাটায়। এরপেছনেই জমিদারবাড়ি, মূল সড়ক থেকে জমিদারবাড়ির মূল ফটকের দূরত্ব হবে ৮০মিটার কিন্তু সেখানে যাওয়ার মতো সুন্দর রাস্তা এখন আর নেই, উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠ টপকেই যেতে হয়। এখানের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ১৮৯৯সালের প্রতিষ্ঠিত।

আমরা এগুলাম সামনে…
মূল ফটকটি আজও কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে, তবে কোন লেখা আর বুঝার উপায় নেই। এরপরে প্রাসাদ পর্যন্ত যেতে সড়কের দুপাশে ৮ থেকে ১০ফিটের উঁচু বেশকিছু কারুকাজ করা মিনার ছিল যার বেশিরভাগ এখন ধ্বংসপ্রায়।
৪০০বছরের পুরনো দুইতলার বাড়িটি দেখেই যে কারও প্রাণ জুড়াবে। অসম্ভব সুন্দর কারুকাজ করা বাড়ির নকশা যেন আধুনিক বাড়িগুলোর বৈচিত্রকেও ছাড়িয়ে যায়।

খুব অবহেলা আর অযত্নে পড়ে আছে বাড়িটি, তবে মূল বাড়িটির প্রধান দরজায় শরীয়তউল্লাহ্’র নামে একটি সংগঠনের সাইনবোর্ড দেখা গেলো। সম্ভবত বাচ্চাদের পড়ানো হয়। বাহির থেকে ছাঁদে ওঠার সিঁড়ি তালা দেয়া নোটিশ সেটে দেয়া আছে “অপরিচিতদের ছাঁদে ওঠা নিষেধ”। প্রাসাদের ডানদিকে একটি খালি ভিটে আছে পাকা করা ভিটেটি দেখলেই বুঝা যায় এখানে কিছু একটা করার পরিকল্পনা ছিল সম্ভবত আর করা হয়নি। প্রাসাদের বাম পাশের সম্মুখে কিছু পুরনো কবরস্থানে দেখলাম নিয়মিত দোয়া দুরুদ হয়। পাশের পুরনো জরাজীর্ণ ভবনে সম্ভবত কিছু অস্থায়ী লোক বসবাস করেন।

প্রাসাদের পেছনের অংশে দেখা গেলো ছাঁদের অতিরিক্ত সিলিঙে ঝুলছে অসংখ্য কবুতরের বাসা, কবুতরের গান বাজছে, খড়কুটো ছড়িয়ে আছে মাটিতে।
ভবনটি ধ্বসে পড়ার আশংকায় লোহার পাত দিয়ে সাপোর্ট দেয়া হয়েছে।
আমাদের অযত্ন অবহেলায় চিরঅপরাধী করে না জানি কবে ধ্বসে যায় এই প্রাসাদ।
ইতিহাস ঐতিহ্যের এই পথ, প্রাসাদ, প্রাঙ্গণ আমার বেশ চেনা, বেশ পরিচিত মনে হলো।
এছাড়াও এখানে জমিদারদের নির্মিত আরও বেশকিছু পুরাতন স্থাপনা আছে যার অনুসন্ধান হবে অন্য কোনদিন। বেঁচে থাকুক প্রিয় প্রাচীনেরা।

#যেভাবে_আসবেন: স্থানটিতে শরীয়তপুর সদর থেকে বাসে এলে ভেদরগঞ্জ বাজারে এসে অটোরিকশা নিতে হবে। ঢাকা থেকে মাওয়া, মাঝির ঘাট হয়ে আসা খুবই সহজ, লঞ্চে মাঝির ঘাট নেমে নড়িয়া ভেদরগঞ্জের বাসে উঠে বসলেই হলো কার্তিকপুর জমিদারবাড়ির পাশ দিয়েই বাস যায় আপনাকে জায়গামতো নামিয়ে দেবে। আরও সহজ পদ্ধতি রয়েছে যারা সদরঘাট থেকে লঞ্চে আসতে চান, সকালবেলা উঠে যাবেন সুরেশ্বরগামী লঞ্চে, দুপুর ১টার দিকে লঞ্চ পৌঁছে যাবে সুরেশ্বর ঘাটে, সেখান থেকে অটোরিকশা নেবেন ভাড়া পড়বে ২০০টাকার মতো।

#বিদ্রঃ পুরো ভ্রমণে কোনোখানেই অপচনশীল দ্রব্য এদিক-সেদিক ফেলে পরিবেশ দূষিত করবেন না। আপনি একটা জায়গা ঘুরে আসার পথে দরকার হলে জায়গাটা পরবর্তী প্রজন্মের জন্য পরিষ্কার করে দিয়ে অাসুন, কোনোভাবেই নোংরা করবেন না।
Source: Nahedi Mannan Hamidi‎<Travelers of Bangladesh (ToB)

 

12 Sep 2019

আগের দিন ব্রাহ্মণবাড়িয়া এক্সপ্লোর করে রাতে ভৈরব থেকে বাসে কটিয়াদী চলে আসি। কটিয়াদী বাস স্টপ সংলগ্ন একটি হোটেলে রাতে থেকে ভোরেই বের হয়ে গেলাম কিশোরগঞ্জ এক্সপ্লোরের উদ্দেশ্যে। বরাবরের মতোই এবারও ট্যুরমেট নাদিম।কটিয়াদি বাস স্টেশন থেকে রিজার্ভ নিয়ে নিলাম মোটর চালিত রিকশা। ১৫ মিনিটেই পৌঁছে গেলাম গোপীনাথ মন্দিরে।সকাল সকাল মন্দির দর্শন শেষে একই রিকশায় করে চলে গেলাম সুকুমার রায়ের বাড়ি অর্থাৎ অস্কারজয়ী চলচ্চিত্রকার সত্যজিৎ রায়ের পৈতৃক নিবাস দেখতে।জরাজীর্ণ এই বাড়ি দেখা শেষ হলে একই রিকশায় চলে যাই মশুয়া বাজার।সব মিলিয়ে ভাড়া দিলাম ১৩০ টাকা।মশুয়া বাজার থেকে লোকাল সিএনজি করে জনপ্রতি ৩০ টাকা ভাড়ায় চলে এলাম গঞ্জের হাট।সেখানে চিতই পিঠা আর গরম চায়ে ১৫ টাকায় সেরে নিলাম সকালের নাস্তা।উল্লেখ্য,এগারসিন্দুর গ্রামেরই আরেক নাম গঞ্জের হাট।জনশ্রুতি রয়েছে, ১১টি নদীর মোহনায় ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে উঁচু শক্ত এঁটেল লাল মাটির এলাকা ব্যবসা বাণিজ্য ও বসবাসের স্থান হিসেবে উৎকৃষ্ট বিবেচিত হওয়ায় গঞ্জের হাট নামে এটি প্রসিদ্ধ ছিল।

হাটটি ১১টি নদীর সংগমস্থলে হওয়ায় স্থানীয়রা ১১টি নদীকে সিন্দু আখ্যায়িত করে গঞ্জের হাট থেকে স্থানটির নামকরণ করেন এগারসিন্দুর।নাস্তা সেরে আবার রিজার্ভ নিয়ে নিয়ে নিলাম একটি মোটর রিকশা।ঐতিহাসিক এই গ্রামে দেখে নিলাম প্রায় ৪০০ বছরের প্রাচীন ৪ টি স্থাপনা।প্রথমেই গেলাম অপরূপ কারুকার্য খচিত প্রাচীন মসজিদ শেখ সাদী মসজিদ ও মাহমুদ শাহ মসজিদে।এরপর ঐতিহাসিক এগারসিন্দুর দুর্গস্থলটি (ধ্বংসপ্রাপ্ত) দেখে একই রিকশায় চলে এলাম ১৫৯৮ খ্রিস্টাব্দে খননকৃত বেবুদ রাজার দীঘিতে।সুবিশাল দীঘির পাড়ে খানিকক্ষন বিশ্রাম শেষে চলে গেলাম থানার ঘাট বাস স্টপে।রিকশাওয়ালাকে ভাড়া দিলাম ১৫০ টাকা।সেখান থেকে জনপ্রতি ৮০ টাকা ভাড়ায় বাসে করে গিয়ে নামলাম কিশোরগঞ্জ সদরের পুরাতন জেল বাস স্টপে।ইজি বাইকে ৩ মিনিটে চলে গেলাম বেলি ব্রীজ।সেখান থেকে গাঙ্গাটিয়া জমিদার বাড়ি যাওয়ার উদ্দেশ্যে ইজি বাইকে উঠলাম।ভাঙ্গা রাস্তা ধরে গাঙ্গাটিয়া বাজারের দিকে যাচ্ছিলাম।১৫ মিনিট পর ড্রাইভার বললেন,জমিদার বাড়ি ডানে কিন্তু উনি সোজা যাবেন তাই এখানে নেমে যেতে হবে।

জনপ্রতি ১৫ টাকা করে ভাড়া চুকিয়ে অগত্যা নেমে পড়লাম।সেখান থেকে রিকশা নিয়ে ১ কিমি. দূরের জমিদার বাড়িতে পৌঁছে গেলাম অল্প সময়েই।অদ্ভূত সুন্দর জমিদার বাড়িটি দেখে ফিরেও আসলাম একই রিকশায়,ভাড়া ৪০ টাকা।যেখানে ইজিবাইক নামিয়ে দিয়েছিলো,সেখান থেকেই পেয়ে গেলাম ইজিবাইক।এবার সরাসরি চলে গেলাম নরসুন্দা নদীর তীরে অবস্থিত ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদে।ভাড়া আগের মতই জনপ্রতি ১৫ টাকা।তিনগম্বুজ বিশিষ্ট নান্দনিক মসজিদ দেখে হালকা নাস্তা সেরে নিলাম।এরপর ঘুরে দেখলাম গুরুদয়াল কলেজ,ওয়াচ টাওয়ার(শুক্রবার দুপুরে গেট বন্ধ থাকায় টাওয়ারের উপরে ওঠা হয় নি) ও ঐতিহাসিক শহীদি মসজিদ।এদিকে ঘুরতে ঘুরতে জুমা’র নামাজের সময় হয়ে এলো।দ্রুতই রিকশা নিয়ে ২০ টাকা ভাড়ায় চলে গেলাম দেশের বৃহত্তম ঈদগাহ শোলাকিয়া ঈদগাহ মাঠে।ঈদগাহ মসজিদে জুমা’র নামাজ আদায়ের ইচ্ছা থাকলেও সেখানে গিয়ে দেখি ঈদগাহ মসজিদে জুমা’ পড়ানো হয় না।পরে পাশের আরেকটি জুমা’ আদায় করি।এরপর সোলাকিয়া মাঠের সামনে থেকে রিকশা নিয়ে চলে গেলাম বৌলাই জমিদার বাড়িতে (স্থানীয় ভাবে এটি সাহেব বাড়ি নামে পরিচিত)।জেনে রাখা ভালো,মহাকাব্য শাহানামা’র বাংলা অনুবাদক মনিরুদ্দিন ইউসুফের বাড়ি এটি।নান্দনিক এই জমিদার বাড়ির পাশেই রয়েছে কারুকার্য খচিত প্রাচীন মসজিদ।রিকশা ভাড়া ৪০ টাকা পরিশোধ করে দুপুরের খাবার পর্ব সেরে নিলাম।

স্থানীয় একটা ঝুপড়ি টাইপ হোটেলে দুইজনে ভরপেট খেয়ে নিলাম মাত্র ১২০ টাকায়।এই টাকায় কিন্তু ২ কাপ চা ও রয়েছে।আবার রিকশা নিলাম,গন্তব্য ইশা খাঁ’র জঙ্গলবাড়ি দুর্গ ও জঙ্গলবাড়ি মসজিদ।২০ মিনিটে পৌছে গেলাম,ভাড়া ৪০ টাকা। ১৫৮৫ সালে রাজা লক্ষন হাজরা ও রাম হাজরাকে পরাজিত করে দুর্গটি দখল করেন ইশা খাঁ।পাশেই নির্মান করেন তিন গম্বুজ বিশিষ্ট মসজিদ ও খনন করেন সুবিশাল দীঘি।হেটেই চলে গেলাম দেওয়ানগঞ্জ বাজার।সেখান থেকে অটোরিক্সায় অটোরিক্সায় জনপ্রতি ২০ টাকা ভাড়া চলে গেলাম গুজাদিয়া বাজার।এখান থেকে ২০০ টাকায় অটোরিক্সা রিজার্ভ নিয়ে প্রথমে গেলাম বাংলা সাহিত্যের প্রথম মহিলা কবি চন্দ্রাবতীর বাড়ি ও মন্দির দর্শনে।পরিত্যক্ত এই বাড়িতে এখন বসবাস করেন কয়েকটি গরীব পরিবার।বাড়ির সামনেই সুবিশাল ৩ টি শিব মন্দির স্থাপিত। এখানে কিছুক্ষন সময় কাটিয়ে চলে গেলাম পাশের ইউনিয়ন তালজাঙ্গায় অবস্থিত তালজাঙ্গা জমিদার বাড়িতে।এই বাড়িটিও পরিত্যক্ত,কিন্তু ভবনগুলোর অসাধারণ নির্মাণশৈলী আপনাকে মুগ্ধ করবে।তালজাঙ্গায় ইজিবাইককে বিদায় জানিয়ে জানানোর সময় খেয়াল করলাম দিনের আলো কমতে শুরু করেছে।এখনো বাকি ১ টা লোকেশন।

দ্রুতই সিএনজিতে উঠে জনপ্রতি ১৫ টাকা ভাড়ায় চলে গেলাম তাড়াইল।তাড়াইল থেকে ১২০ টাকায় মোটর চালিত রিকশা রিজার্ভ নিয়ে রওনা দিলাম ধলা’র উদ্দেশ্যে।প্রায় আধা ঘন্টা লাগলো ধলা জমিদার বাড়ি পৌঁছাতে। শতবর্ষী বিশালাকার এই জমিদার বাড়িটিতে রয়েছে ৬টি কারুকার্য খচিত নান্দনিক ভবন।বাড়ির ভেতরের অংশের মাঠে কিছুক্ষন ফুটবল খেলা উপভোগ করে যখন একই রিকশায় তাড়াইল ফিরছিলাম তখন সন্ধ্যা নেমেছিলো।এই এলবামের সর্বশেষ ছবিটা সেই সময় তোলা।কিশোরগঞ্জের সন্ধ্যাটা আমার কাছে দুর্দান্ত লেগেছে।আকাশে মেঘের ঘনঘটা আর সেই সাথে মৃদু শীতল বাতাসে আমরা যখন এগিয়ে যাচ্ছিলাম তখন ক্লান্ত শরীরটা যেন পাচ্ছিলো অনাবিল প্রশান্তি। ভেবে ভালো লাগছিলো যে ইশা’খাঁর কিশোরগঞ্জের সম্ভাব্য সবগুলো ঐতিহাসিক স্থানে যেতে পেরেছি।তাড়াইল থেকে সিএনজি নিয়ে জনপ্রতি ৬০ টাকা ভাড়ায় চলে গেলাম কিশোরগঞ্জ শহরে।আগেই ‘রেল সেবা’ অ্যাপ দিয়ে টিকেট কেটে রেখেছিলাম।স্টেশনে গিয়ে ১৩০ টাকায় দুজনে খাওয়া-দাওয়া সেরে নিয়ে ট্রেনের অপেক্ষায় রইলাম। কিশোরগঞ্জ থেকে চট্টগ্রাম ভাড়া ২৬০ টাকা।মধ্যরাতে যখন ফেনী স্টেশনে নামছিলাম মাথায় তখনো কিশোরগঞ্জ ঘুরছিলো।

সারাদিনে প্রচুর জার্নি করতে হয়েছে আমাদের।এভাবে এক্সপ্লোর করার ক্ষেত্রে সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ হলো আপনার মানসিক দৃঢ়তা। দিনের পুরোটা সময় সঠিকভাবে কাজে লাগাতে হলে সূর্যোদয় থেকেই আপনার জার্নি শুরু করা জরুরী।কটিয়াদী থেকে শুরু করে ফেনী ফেরা পর্যন্ত দুজনের মোট খরচ ছিলো ২৩১০ টাকা অর্থাৎ জনপ্রতি খরচ ১১৫৫ টাকা।
Source: Mohammed Arman‎<Travelers of Bangladesh (ToB)

11 Sep 2019

বিছনাকান্দি এবং জাফলং এ বার দুয়েক একাকী ভ্রমণ করেছি। কিন্তু একাকী ভোলাগঞ্জ যাওয়ার সৌভাগ্য হয়ে উঠেনি। গত দুইবার রাস্তা খারাপ এবং বন্যার কারণে চেষ্টা করেও যেতে পারিনি সাদাপাথর (অবশ্য বর্তমানে রাস্তা অনেক ভাল) । এর মাঝে বন্ধুরাও ব্যস্ত থাকায় যেতে অনীহা দেখায়। সেদিন শুক্রবারে হঠাৎ করেই ঠিক করলাম একা একাই যাবো দেখতে সাদা পাথর। যেমন ভাবা তেমনি কাজ। পরিকল্পনা মাফিক সকাল ১০ টায় হবিগঞ্জ থেকে সিলেট রুটের স্পেশাল বাসে চড়ে ঘণ্টা দেড়েকে মাঝে চলে গেলাম সিলেট। তারপরে সিলেটের আম্বরখানা থেকে ১৩০ টাকায় সিএনজি অটোরিকশা করে সোজা একদম ভোলাগঞ্জ ১০ নাম্বার ঘাটে গেলাম। সেখানে যাওয়ার আগে চিন্তায় ছিলাম নৌকা পাবো কি না। আর যদিও পাই তাহলে অন্য কোনো দলের সাক্ষাৎ পাবো কি না। ভাগ্য ভাল ছিল বলে একটা দলের সন্ধান পেয়ে যাই। আর অন্য দলের সাথে মিলে গিয়েছি বলেই জনপ্রতি ১০০ টাকা করে লেগেছে ( সাদাপাথর এর নৌকা ভাড়া ৮০০ টাকা নির্দিষ্ট করা আর এক নৌকায় ৮ জন উঠতে পারবে)। মিনিট পনেরোর ভিতরে কাংখিত সাদা পাথরে পৌঁছে গেলাম আর উপভোগ করলাম সেই চিরাচরিত সৌন্দর্য। ঘণ্টা খানেক সেখানে অতিবাহিত করে আবার ফিরে গেলাম নিজ শহরে।

কয়েকটা সাধারণ টিপস –

* আপনার হাতে যদি পর্যাপ্ত সময় থাকে তাহলে সিএনজি অটোরিকশায় না গিয়ে বাসে চলে যাবেন। সময় লাগবে ১ ঘণ্টা ৪০ মিনিট। যেখানে সিএনজি ভাড়া জনপ্রতি ১৩০ টাকা সেখানে বাস ভাড়া মাত্র ৬০ টাকা। আম্বরখানা থেকে সামান্য একটু হাটলেই মজুমদারী বাস স্ট্যান্ড থেকে ভোলাগঞ্জ এর বাস পেয়ে যাবেন।

* ভোলাগঞ্জ সাদাপাথর এর আশেপাশে অনেক চিপস এর প্যাকেট, খালি বোতল এবং অন্যান্য ময়লা আবর্জনা ফেলে দেওয়া হয়েছে দেখলাম। এমনকি সাদা পাথরের মূল স্পটেও অনেকেই দুপুরের খাবার খেয়ে পানিতে ওয়ানটাইম গ্লাস, প্লেট এবং পানীয় বোতল ফেলে এসেছেন। যা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। পর্যটন কেন্দ্রগুলো সুন্দর এবং পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখা আমাদের কর্তব্য। তাই আমাদের দ্বারা যেন কোনো পর্যটন কেন্দ্র অপরিচ্ছন্ন না হয় সেটা খেয়াল রাখা দরকার।

*** আপনার চারপাশ পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখুন।

Source:  Rajib Gope<Travelers of Bangladesh (ToB)

 

11 Sep 2019

“স্বাদে চমক সাথে সাশ্রয়ী খরচ”
এ যেন একের মাঝে দুই লাভ-

আপনি প্রিয়জনের সাথে সময় কাটাতে চাইছেন?
চাইছেন ফ্রেন্ডদের বার্থডে ট্রিট দিবেন?
অথবা নিজেই নিজেকে ট্রিট দিবেন?

আপনার জন্য রয়েছে গ্রীণ ভিউ রিসোর্ট এন্ড কনভেনশন সেন্টার বারবিকিউ এর বিশেষ অফার-

উত্তরা আব্দুল্লাহপুর থেকে মাত্র ৪ কিলোমিটার ভিতরে অবস্থিত যেতে মাত্র ২০-২৫ মিনিটে সময় লাগবে। খুবই মনোরম পরিবেশ এবং প্রকৃতির ছোয়া রয়েছে। আব্দুল্লাহপুর থেকে আপনি রিকশা অথবা অটো তে করে পৌঁছে যেতে পারেন খুব সহজে।

এখানে রয়েছে বিভিন্ন ছোটো, বড় প্যাকেজ, বিয়ে, হলুদ, বার্থডে পার্টি, কর্পোরেট মিটিং, বারবিকিউ পার্টি, পিকনিক, কর্পোরেট প্রোগ্র্যাম, সোশ্যাল ইভেন্টস ইত্যাদি প্রোগ্রাম অর্গানাইজ করে থাকে।
বুকিং হট লাইনঃ 01762682715
প্যাকেজ মূল্য জন প্রতিঃ 885/- টাকা
Minimum Px = 10-20 Persons
সময়ঃ বিকাল 5 টা থেকে রাত 9 টা পর্যন্ত
প্যাকেজে থাকছেঃ
বারবিকিউ –
• খেলার জায়গা
• মিনি চিড়িয়াখানা
• এন্ট্রি ফী- 100/- জন প্রতি
• শিশুদের খেলার জায়গা
যোগাযোগ ঃ Uttara, Abdullahpur, Moinertek, Uttarkhan, Dhaka 1230, Bangladesh.
ফোন টু রিজার্ভেশনঃ
01762682715

Source:  Jeba JuliTob helpline ( Travelers of Bangladesh)

11 Sep 2019

গতমাসে ২৯ তারিখ সকালে বহদ্দারহাট বাস টার্মিনাল থেকে পাঁচবন্ধু মিলে বাশঁখালীগামী ছেড়ে যাওয়া সকাল ৭.১৫ টায় প্রথম বাসে গুনাগরি টিকেট কেটে উঠে পড়ি যদিও আমরা গুনাগরি আগে চাঁনপুরে নেমে পড়ব। বাস ভাড়া জনপ্রতি ৬০ টাকা। সাঙ্গু নদীর পার হয়ে বাশঁখালীর শুরুতে চাঁনপুরে সকাল ৮.৩০ মিনিটে পৌছে যাই। চাঁনপুর থেকে রিজার্ভ CNG তে ১৫০ টাকায় চা-বাগান। বিশাল জায়গা জুড়ে স্তরে স্তরে সাজানো উঁচু-নিচু পাহাড়ী টিলা এবং পাহাড়ঘেরা সমতলে এই চা-বাগান। পাহাড়ী টিলা গুলো দূর থেকে দেখলে অনেকটা ‘সবুজ টুপি’ মত দেখাচ্ছে । আর চা-বাগানটা দেখতে যেন সবুজ গালিচা। অনুমতি নিয়ে চা-পাতা প্রক্রিয়াজাত করণ করার দৃশ্যটিও দেখার সূযোগ হয়।

তারপর পাশ দিয়ে চলে যাওয়া রাস্তা দিয়ে এগুতেই পাহাড়ের টিলার উপর সমতুল ভূমিতে চা-বাগানের এত সৌন্দর্য চোখে বিশ্বাস করতে পারছিলাম না। এই চা-বাগান বাংলাদেশের অন্যসব চা-বাগান থেকে ভিন্ন তাৎপর্য বহন করে আর তা হল বন্যহাতি। দূর থেকে চা-বাগানে বাইরে হাতির আনাগোনা লক্ষ্য করলাম। শুধু হাতি নয় ভাগ্য সুপ্রসন্ন হলে হাতির পালের সাথেও দেখা হয়ে যেতে পারে।চা শ্রমিকরা মতে, প্রায় প্রতিদিন বিকালে-সন্ধ্যায়-রাতে হাতির দল হানা দেয় এই বাগান ও আশে পাশের এলাকাতে। কিন্তু বিশেষ কিছু স্থানে প্রায়ই হাতির আনাগোনা থাকে। আর হুট করে ভাগ্যগুনে যদি হাতির পালের দেখা হয়ে যাই সেক্ষেত্রে দুর্ঘটনা এড়াতে সাবধানতা অবলম্বন করা আবশ্যক।

চা-বাগানে ঘন্টা তিন-এক ঘুরার পর চা-বাগানের গেইট থেকে ১৫০ টাকা ভাড়ায় CNG নিয়ে চলে আসলাম পুনরায় চাঁনপুর বাজারে। যদিও ৩০ টাকা করে লোকাল সিএনজি ভাড়ায় যাওয়া-আসা যাই। চাঁনপুর থেকে CNG করে ২৫ টাকা জনপ্রতি ভাড়ায় গুনাগরি চলে আসি, ওখানে ক্যাফে রেড চিলিতে দুপুরে খাবারটা সেরে নিয় জনপ্রতি ১১৫ টাকা।
পরবর্তী গন্তব্য সমুদ্র সৈকত, এখানে বেশ কয়েকটা পয়েন্ট আছে। আমাদের কাথারিয়া, খানখানাবাদ ও কদমরসূল এই তিনটা পয়েন্ট দেখার প্ল্যান।
গুনাগরি থেকে ১০ টাকা CNG ভাড়ায় বৈলছড়ি বাজার। বৈলছড়িতে নেমে ঢুকে পড়লাম ঐতিহ্যবাহী উজির বাড়ি ( খান বাহাদুর বাড়ি)। এই বাড়ি নিমার্তা খান বাহাদুর বদি আহমদ বৃহত্তর চট্টগ্রাম ও কুমিল্লার ব্রিটিশ শাসনামলে বঙ্গ পরিষদের সদস্য ছিলেন।

খান বাহাদুর বাড়ি থেকে বের হয়ে রির্জাভ CNG তে ১৮০ টাকা ভাড়ায় চলে যাই কাথারিয়া পয়েন্টে। যদিও ৩৫ টাকায় লোকাল CNG যোগে যাওয়া যাই।তীড়ে ভিড়তে চোখে পড়ে বিশাল বিশাল দুইটি মাছের ঘের। মাছের ঘেরে মাঝখানে সরু রাস্তা দিয়ে হেঁটে অল্প খানি এগোতে যা কিছু দেখলাম, কল্পনাও করতে পারি নাই এত সুন্দর হবে। একদিকে সুশৃঙ্খল সারিবদ্ধ ঝাউগাছ অন্যদিকে ঘন প্যারাবন আর মাঝখানে সৈকত জুড়ে সবুজ প্রান্তরের মাঝখান দিয়ে সরু নালা। নালা দক্ষিন প্রাপ্তে প্যারাবনে পাশ দিয়ে হেঁটে দেখে মিলে সোয়াম্প ফরেস্ট ও ম্যানগ্রোভ বনের ন্যায় কেওড়া ও শ্বাসমূল। তারপর নালা উত্তর প্রান্তে বিশাল সবুজ প্রান্তর ও ঝাউবন ঘুরে। ঘন্টা খানিক কাটানোর পর পুনরায় পিছনে অল্প হেটে স্থানীয় ছোট একটা (চনুতি বাজার) বাজারে চলে আসি। এই বাজার থেকে CNG রিজার্ভ ২০০ টাকা ভাড়ায় খানখানাবাদ পয়েন্ট। ভেঙে ভেঙে লোকাল CNG যোগে যাওয়া যাই। চনুতি বাজার থেকে বশির উল্লাহ মিয়াজি বাজার ১৫ টাকা ভাড়া, বশির উল্লাহ থেকে মোশাররফ আলী হাটে ভাড়া ১০ টাকা। মোশাররফ আলী থেকে খানখানাবাদ পয়েন্টে ভাড়া ১৫ টাকা। খানখানাবাদ পয়েন্টে সুসজ্জিত বেড়িবাঁধ, সমুদ্রের উত্তাল গর্জন ও বিশাল বিশাল টেউ আচঁড়ে পড়লে বেড়িবাঁধে। আর সাগর ভেসে ভেড়াচ্ছে মাছ ধরার ছোট বড় অসংখ্য ট্রলার/নৌকা আর কিছু কিছু ট্রলার ও নৌকা থেকে সামুদ্রিক মাছ ও ইলিশ নিয়ে ছোট ছোট ট্রাক চট্টগ্রাম শহরে চলে আসতেছে। খানখানাবাদ পয়েন্ট থেকে ২০-২৫ মিনিট উত্তর দিকে হেঁটে এগোলে কদমরসূল পয়েন্ট। এই পয়েন্টের একদিকে সাঙ্গু নদীর মোহনা। এই পয়েন্ট নিয়ে নতুন করে বলার কিছু নাই, বিশেষকরে ঝাউগাছ দেখে আমাদের মুগ্ধতার সীমা ছাড়িয়ে গেছে। বিস্তীর্ণ বেলাভুমি জুড়ে লাল কাঁকড়া আর সূর্যাস্তের মনোমুগ্ধকর দৃশ্য ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে।
বাশঁখালী সমুদ্র সৈকতে #প্রেমাশিয়া_কদমরসূল_খানখানাবাদ_বাহারছড়া_রত্নপুর_কাথারিয়া_সরল_গন্ডামারা সহ সাত-আটটি পয়েন্ট সেজে আছে আপন আপন রূপ মাধুর্যে।

বাংলাদেশের বেশ কয়েকটা সমুদ্র সৈকত দেখার সূযোগ হয়ে হয়েছে। বাশঁখালী সমুদ্র সৈকতকে কক্সবাজার সাথে তুলনা করতে পারি, আর কুয়াকাটা তো অনেক পিছিয়ে থাকবে। প্রচার-প্রচারণা অভাবে এটা সবার চক্ষু অগোচেরে রয়ে গেছে।

সন্ধ্যার পর খানখানাবাদ থেকে CNG যোগে গুনাগরি চলে আসি ভাড়া জনপ্রতি ৩০ টাকা। গুনাগরি থেকে ৬০ টাকায় টিকেট কেটে বাসে বহদ্দারহাট বাস টামিনালে।

➤ ঢাকা ও অন্যান্য জায়গা থেকে যারা আসবেন তারা রাতের খাবারে চট্টগ্রামে ঐতিহ্যবাহী খাবার মেজবানের স্বাদ নিতে পারেন। এজন্য আপনাকে বহদ্দারহাট বাস টামিনাল থেকে ১নং মিনি বাসে করে ৬ টাকা ভাড়ায় চকবাজার আসতে হবে। রিজার্ভ CNG ও নিতে পারেন ভাড়া ৬০-৮০ টাকা। চকবাজারে পিপলস হাসপাতালের পাশে মেজ্জান হইয়লে আয়ুইন রেস্টুরেন্টে জনপ্রতি ২৫০ টাকা মেজবানের প্যাকেজ পাওয়া যাই। তারপর চকবাজার থেকে জিইসি মোড়ে গরীরউল্লাহ শাহ মাজার গেইট সামনে চলে আসবেন। ওখান থেকে দেশের সবকয়টা বাসের কাউন্টার আছে প্রতি মিনিট দশ-এক পরপর বাস ঢাকার উদ্দেশ্য ছেড়ে যাই। ভাড়া জনপ্রতি ৪৮০ টাকায় (নন-এসি)।

খরচঃ
[ঢাকা থেকে যারা আসবেন]
টোটাল খরচ পড়বে ১৬০০-১৮০০ টাকা
তাছাড়া ট্রেনে করে আসলে খরচ আরও কিছুটা কম পড়বে।
আর যারা বাজেট ট্রাভেলার সাড়ে ১০ টার মেইল ট্রেন ধরে আসলে টোটাল ১ হাজারের কম খরচ দিয়েও হয়ে যাবে।
Source: ÃráfàtTravelers of Bangladesh (ToB)