You can add html or text here

Archives

ভ্রমণ পরিকল্পনা (Tour Plan)

11 Dec 2018

বিশ্বের সবচাইতে বড় সমুদ্রসৈকত এটি। সড়কপথে ঢাকা থেকে প্রায় সাড়ে চারশ কিলোমিটার এবং চট্টগ্রাম থেকে প্রায় দেড়শ কিলোমিটার দূরে রয়েছে নয়নাভিরাম এ সমুদ্র সৈকত। এখানকার সমুদ্রের পানিতে বড় বড় ঢেউয়ের মাঝে গোসল, সূর্যাস্তের মনোহারা দৃশ্য সকল পযটকের মূল আকর্ষণ। কক্সবাজার সৈকত ভ্রমণের শুরুটা হতে পারে লাবনী পয়েন্ট থেকে। সকাল বেলা বের হলে এ সৌন্দর্যের সাথে বাড়তি পাওনা হবে নানান বয়সী জেলেদের মাছ ধরার দৃশ্য। শুধু সমুদ্র সৈকতই নয়, কক্সবাজার শহরের বৌদ্ধ মন্দির, বার্মিজ মার্কেট, হিলটপ রেস্টহাউস ইত্যাদি কক্সবাজার ভ্রমণের অন্যতম দ্রষ্টব্য স্থান। কক্সবাজারে থাকার জন্য এখন অনেক আধুনিক হোটেল মোটেল রয়েছে। ৪ স্টার হোটেল থেকে শুরু করে কম দামি বিভিন্ন মোটেলও রয়েছে। ২০,০০০টাকার হোটেল যেমন রয়েছে, তেমনি একটু পিছন দিকে মাত্র ৫০০টাকার হোটেলে থাকার ব্যবস্থা রয়েছে।
সৈকতের মেরিনড্রাইভ একটি অসাধারণ রাস্তা। এই রাস্তা ধরে যত দূরে যাবেন পুরো জায়গাই আপনাকে মুগ্ধ করবে। একপাশে পাহাড় আর একপাশে সমুদ্র দেখে হবেন বিমোহিত।

হিমছড়িঃ

কক্সবাজার-Cox’s Bazar

কক্সবাজার শহর থেকে মাত্র ১২ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই হিমছড়ি। কক্সবাজার থেকে সেখানে ৩ ভাবে যাওয়া যায়। খোলা জীপ, রিকশা কিংবা ব্যাটারী চালিত রিকশাতে করে সেখানে যাওয়া যাবে। খোলা জীপে গেলে জনপ্রতি ভাড়া ৫০-৭০ টাকা পড়বে। রিজার্ভ নিলে এটি পড়বে ১২০০ -১৫০০টাকা।রিকশা করে যেতে হলে ভাড়া লাগবে ১৫০-২৫০ টাকা। আর ব্যাটারি চালিত রিকশায় গেলে আসা যাওয়ার ভাড়া পড়বে ৪০০-৬০০টাকা। এখানে যাওয়ার পথে উপভোগ করতে পারবেন সৈকত লাগোয়া আকাশ ছোঁয়া পাহাড় । হিমছড়ি রয়েছে পাহাড়ের হিম শীতল ঝরণা।

ইনানী সমুদ্র সৈকতঃ

কক্সবাজার থেকে হিমছড়ি পাড় হয়ে আরও ৮কি.মি পূবে রয়েছে আরেক আকর্ষণ সৈকত ইনানী, যাকে বলা হয়, মিনি সেন্টমার্টিন। এখানে রয়েছে বিস্তীর্ণ পাথুরে সৈকত। সমুদ্র থেকে ভেসে এসে এখানকার ভেলাভূমিতে জমা হয়েছে প্রচুর প্রবাল। কক্সবাজার থেকে এখানে পৌছতে রিজার্ভ জীপ নিলে লাগবে ১৮০০-২৫০০ টাকা। ব্যাটারি চালিত রিকশা নিয়েও সারাদিনের জন্য ঘুরলে ভাড়া পড়বে ৮০০-১০০০টাকা।

মহেশখালী দ্বীপঃ

বাংলাদেশের একমাত্র পাহাড়ি দ্বীপ মহেশখালী। এখানে দেখার মূল আকর্ষণ বিখ্যাত আদিনাথ মন্দির । এছাড়াও এখানে রয়েছে খুবই মনোরম একটি বৌদ্ধ মন্দির। আঁকাবাঁকা সিঁড়ি ভেঙ্গে আদিনাথ পাহাড়ের চূড়ায় উঠলেই পাওয়া যাবে বিখ্যাত আদিনাথ মন্দির। এ দ্বীপের দক্ষিণে রয়েছে বিস্তীর্ণ সাগর আর পশ্চিমে বিশাল বিশাল পাহাড়। এখানে থাকার ব্যবস্থা নাই। কক্সবাজার থেকে সকালে গিয়ে এ দ্বীপটি ভালো করে দেখে আবার বিকেলের মধ্যেই ফেরা সম্ভব। কক্সবাজার ট্রলার ঘাট থেকে মহেশখালী যেতে পারেন স্পিড বোটে, সময় লাগবে মাত্র ১৫ মিনিট, সেক্ষেত্রে ভাড়া পড়বে ১৫০ টাকা অথবা ইঞ্জিন বোটে, যেতে লাগবে ১ ঘন্টা, এ ক্ষেত্রে ভাড়া লাগবে ৩০টাকা।

সোনাদিয়া দ্বীপঃ

কক্সবাজারে আরেকটি আকর্ষণীয় দ্বীপের নাম সোনাদিয়া। শীতে প্রচুর অতিথি পাখির দেখা মেলে এখানে। প্রায় ৪৬৩ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের এ দ্বীপটিতে কক্সবাজার থেকে ইঞ্জিন বোটে গিয়ে আবার সন্ধ্যার আগেই ফিরে আসা সম্ভব।

কুতুবদিয়াঃ

কক্সবাজার জেলার আরেকটি দর্শনীয় স্থান কুতুবদিয়া দ্বীপ, যার আয়তন প্রায় ২১৬ বর্গ কিলোমিটার। এ দ্বীপের দর্শনীয় স্থান হলো বিখ্যাত প্রাচীন বাতিঘর, কালারমা মসজিদ এবং কুতুব আউলিয়ার মাজার। কক্সবাজারের কস্তুরী ঘাট থেকে কুতুবদিয়া স্পিডবোটে মাত্র ৪৫ মিনিটে যাওয়া যায়, যার ভাড়া ১৫০-২০০টাকা কিংবা খরচ বাচাতে যেতে পারেন ইঞ্জিন বোটে। এক্ষেত্রে সময় লাগে ২ ঘন্টার মতো আর ভাড়া ৫০-৭০ টাকা।

টেকনাফঃ

বাংলাদেশের সর্বদক্ষিণের ভূমি টেকনাফ, কক্সবাজার থেকে যার দূরত্ব প্রায় ৮৫ কি.মি.। টেকনাফ হচ্ছে পাহাড়, নদী আর সমুদ্রের অনণ্য এক মিলনস্থল। চারিদিকে পাহাড় তার পাশদিয়ে বয়ে যাওয়া নাফ নদী। যেকারও ভাল লাগতে বাধ্য। এখানকার সৈকতকে বলা হয়, বাংলাদেশের সবচেয়ে পরিচ্ছন্ন সৈকত। এখানকার দর্শণীয় স্থানের মধ্যে রয়েছে, ঐতিহাসিক মাথিনের কূপ,শাহ পরীর দ্বীপ, কুদুম গুহা, টেকনাফ নেচার পার্ক । কক্সবাজার থেকে বাসে করে টেকনাফে যেতে ভাড়া লাগে ৮০-১২০টাকা অথবা মাইক্রোবাসে করে যেতে ভাড়া লাগে ১০০-১৫০ টাকা।

সেন্টমার্টিন দ্বীপঃ

সেন্ট মার্টিন দ্বীপ বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরের উত্তর-পূর্বাংশে অবস্থিত একটি প্রবাল দ্বীপ। এটি কক্সবাজার জেলার টেকনাফ থেকে প্রায় ৯ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং মিয়ানমারের উপকূল হতে ৮ কিলোমিটার পশ্চিমে নাফ নদীর মোহনায় অবস্থিত। প্রচুর নারিকেল পাওয়া যায়। বলে স্থানীয়ভাবে একে নারিকেল জিঞ্জিরাও বলা হয়ে থাকে। এ দ্বীপের আয়তন প্রায় ৮ বর্গকিলোমিটার। দ্বীপে প্রায় ৬৬ প্রজাতির প্রবাল ১৮৭ প্রজাতির শামুক-ঝিনুক, ১৫৩ প্রজাতির সামুদ্রিক শৈবাল, ১৫৭ প্রজাতির গুপ্তজীবী উদ্ভিদ ২৪০ প্রজাতির সামুদ্রিক মাছ, চার প্রজাতির উভচর ও ১২০ প্রজাতির পাখি পাওয়া যায়। মাছের মধ্যে রয়েছে পরী মাছ, প্রজাপতি মাছ, বোল কোরাল, রাঙ্গা কই, সুঁই মাছ, লাল মাছ, উড়ক্কু মাছ ইত্যাদি। কোনো কোনো পর্যটক ধারণা করেন,সেন্ট মার্টিন বিশ্বের সেরা দ্বীপের একটি। টেকনাফ থেকে জাহাজে করে ২.৫০ ঘন্টা ভ্রমন করে যেতে হয় সেন্টমার্টিনে। জাহাজের আসা-যাওয়ার ভাড়া পড়বে ৯০০-১৫০০টাকা। সেন্টমার্টিনে হোটেল ভাড়া পড়বে ৫০০ – ২০০০টাকা। এখানে গেলে রাত্রিযাপন না করলে আসল মজা পাওয়া যাবেনা। এখানে গিয়ে পযটকরা প্রচুর মাছ এবং ডাব খেয়ে থাকে।

কক্সবাজারে থাকার ব্যবস্থাঃ

বর্তমানে কক্সবাজারে থাকার জন্য ফাইভস্টার ক্যাটাগরির অনেক হোটেল হয়েছে। ফোরস্টার ও থ্রিস্টার বা সমমানের হোটেল ও রিসোর্টের সংখ্যাও কম নয়। সৈকতের নিকটের বেশিরভাগ হোটেলই ভাল মানের। হোটেল ও রিসোর্ট কলাতলী ও লাবনী পয়েন্টে অবস্থিত। ইনানির নিকটবর্তী এলাকাতেও থাকার জন্য বেশকিছু হোটেল গড়ে উঠেছে। এ ছাড়া এর বাইরে আছে ইকো রিসোর্ট। মৌসুম ভেদে অর্থাৎ পিক ও অফ-পিক অনুযায়ি রুমের ভাড়ার মধ্যে তারতম্য হয়। বছরের সেপ্টেম্বর থেকে এপ্রিল পিক এবং মে থেকে আগস্ট অফ-পিক টাইম হিসাবে গণ্য হয়ে থাকে। অফ-পিক টাইমে হোটেল ও ক্লাস ভেদে রুম ভাড়া ২৫-৫০% পর্যন্ত ডিসকাউন্ট পাওয়া যায়। সৈকত থেকে একটু দূরত্বে সাধারণ মানের অনেক হোটেল রয়েছে।

সীগাল হোটেল লিমিটেড (০১৭৬৬৬৬৬৫৩০, ০৩৪১-৬২৪৮০-৯০),

হোটেল দ্য কক্স টুডে (০১৭৫৫৫৯৮৪৫০, ০৩৪১-৫২৪১০-২২),

হোয়াইট অর্কিড (০১৮২৫৯২৩৯৮৯),

হোটেল সী ওয়ার্ল্ড (০৩৪১-৫২২২৬, ০৩৪১-৫১৬২৫),

সায়মন বিচ রিসোর্ট ( ০৩৪১-৫১৩৫০, ০১৭৫৫৬৯১৯১৭),

ওশান প্যারাডাইস হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট (০১৯৩৮৮৪৬৭৬৩-৭, ০৩৪১-৫২৩৭০-৯),

লং বিচ হোটেল (০১৭৫৫৬৬০০৫১, ০৩৪১-৫১৮৪৩-৬),

হোটেল সী ক্রাউন (০১৮১৭০৮৯৪২০, ০৩৪১-৬৪৭৯৫),

এ্যালবাট্রস রিসোর্ট (০১৮১৮৫৪০১৭৭, ০১৮১৬০৩৩৪৪৫, ০১৮১৮৫৯৬১৭৩, ০৩৪১-৬৪৬৮৪),

হোটেল রয়াল রিগ্যাল পেলেস (০১৯৭৭৯৩৬৬২৩),

হোটেল প্রাইম পার্ক (০১৭৭৫৬০৯৯১৫, ০১৮৪২৬০৯৯১৫, ০৩৪১-৬২৩১১),

হোটেল ইউনি রিসোর্ট (০১৭১৩১৬০১৬৭),

হোটেল মিডিয়া ইন্টারন্যাশনাল (০১৭১১৩৪১১৬৪)।

পর্যটনের রয়েছে হোটেল শৈবাল (০৩৪১-৬৩২৭৪),

মোটেল প্রবাল (০৩৪১-৬৩২১১),

হোটেল লাবনী (০১৯১৩৯৩২০৮২)।

ইনানির আশেপাশের উল্লেখযোগ্য হল,

লা বেলা রিসোর্ট (০১৮২৫৯২৩৯৮৯)।

রয়াল টিউলিপ সী পার্ল বিচ রিসোর্ট (৮০০৩৫৮০৮৪৬, ০৩৪১-৫২৬৬৬-৮০),

ইনানি রয়াল রিসোর্ট (০১৭৭৭৭৯০১৭০)।

আর ইকো রিসোর্ট এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য- মারমেইড ইকো রিসোর্ট (প্যাচার দ্বীপ, ০১৮৪১৪৬৪৬৪-৯,) সাম্পান ইকো রিসোর্ট (০১৯৭৪৭২৬৭২৬)।

এখানে এক রাত্রি যাপনের জন্য রয়েছে এক হাজার থেকে সর্বোচ্চ ৬০ হাজার টাকা দামের কক্ষ।

যারা থাকার জন্য এত খরচ করতে চাচ্ছেননা, তাদের জন্য কমমূল্যে থাকার হোটেলও রয়েছে। হোটের সীগালের পিছনে রোডে অর্থাৎ কলাতলি রোডের হোটেলগুলোতে মাত্র ৫০০ টাকাতেও থাকা যায়।

কক্সবাজারে যাতায়াত সম্পর্কিত তথ্য:

আমরা যারা ঢাকা থেকে কক্সবাজার যাওয়ার পরিকল্পনা করব তাদের জন্য বাসের পাশাপাশি রয়েছে বিমানের সুবিধা। তা ছাড়া ট্রেনে করে চট্টগ্রাম গিয়ে সেখান থেকে বাসে করে কক্সবাজার যাওয়া যায়। ঢাকা থেকে কক্সবাজার বাসে যেতে সময় লাগে প্রায় দশ থেকে বার ঘণ্টা, বিমানে ৫০ মিনিট। এসি/ননএসি দুই ধরনের বাস আছে। বাস ভেদে এসি/ননএসি ভাড়া ৮০০-১৫০০ টাকা। ঢাকা থেকে প্রতিদিনই অনেক বাস পাওয়া যায়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, সেন্টমার্টিন পরিবহন (০১৭১১৩২১১৪৩, ০১৭১১৬৬৬১০৯),

গ্রীন লাইন পরিবহন (০১৭৩০০৬০০০৪, ০১৭৩০০৬০০৭১),

সোহাগ পরিবহন (০২-৯৩১১১৭৭),

শ্যামলী (০২-৯০০৩৩১, ০২-৮০৩৪২৭৫, ০১৭১৬-৯৪২১৫৪),

এস আলম (০১৮১৩-৩২৯৩৯৪, ০২-৯৩৩১৮৬৮),

হানিফ (০১৭১৩৪০২৬৭১, ০১৭১৩৪০২৬৭০),

সৌদিয়া (০১৯১৯৬৫৪৯৩৫, ০১৯১৯৬৫৪৮৫৮),

টিআর ট্রাভেলস (০১৯১১৮৬৩৬৭৩, ০১৯১০-৭৬০০০৪।

ঢকা কমলাপুর থেকে চিটাগাং মেইল, তুর্ণানিশিথা, সুবর্ণ এক্সপ্রেস, মহানগর গোধূলীসহ একাধিক ট্রেন চট্টগ্রামের উদ্দেশে ছেড়ে যায়।

বিমান সংস্থাগুলোর যোগাযোগ হলো বাংলাদেশ বিমান (০২-৮৯০১৬০০, ০২-৮৯০১৭৩০-৪৪),

নভোএয়ার (১৩৬০৩, ০২-৯৮৭১৮৯১-২, ০১৭৫৫৬৫৬৬৬০-১),

ইউএস বাংলা (০১৭৭৭৭৭৭৭৮৮, ০১৭৭৭৭৭৭৮৯৯, ০১৭৭৭৭৭৭৯০০),

রিজেন্ট এয়ার ওয়েজ (০২-৮৯৫৩০০৩),

ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ (০৯৬০৬৪৪৫৫৬৬, এক্সট-৫৪২-৪৮, ০২-৮৯৩২৩৩৮, ০২-৮৯৩১৭১২)।

ক্লাস ভেদে ঢাক-কক্সবাজার-ঢাক রিটার্ন টিকিট দশ থেকে সাড়ে এগার হাজার টাকা তবে ইদানীং বিভিন্ন বিমান সংস্থার প্রায় সারা বছরই ডিসকাউন্ট অফার থেকে থাকে। সেক্ষেত্রে ভাড়া অনেক কম হয়ে থাকে।

খাওয়া-দাওয়া ঃ

আমরা জানি প্রতিটি হোটেলেই নিজস্ব রেস্টুরেন্ট থাকে, যেখানে বরাবরই খাবারের দাম তুলনামূলক বেশি। অধিকাংশ হোটেলে সকালের নাস্তা রুমের ভাড়ার সাথে যুক্ত অর্থাৎ কমপ্লিমেন্টারি হিসেবে থাকে। সেক্ষেত্রে লাঞ্চ ও ডিনার বাইরে কোথাও করতে চাইলে কোনো চিন্তা নেই কারণ এখানে রয়েছে পর্যাপ্ত সংখ্যক রেস্টুরেন্টে। কলাতলী রোডে অবস্থিত রেস্টরেন্টের সংখ্যা বেশি। ঝাউবন, লাইভ ফিস, কয়লা, পৌশী, স্টোন ফরেস্ট, তারাঙ্গা, কাঁশবন, পানকৌড়ী, নিরিবিলি অর্কিড ক্লাব অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট, মারমেইড ক্যাফে এবং ডিভাইন সি স্টোন ক্যাফে অন্যতম। উল্লেখিত খাবার জায়গাগুলিতে ভাতের সাথে বিভিন্ন সামুদ্রিক মাছ, মাংস, ভর্তা-ভাজি, শুটকি মাছ থেকে শুরু করে সব ধরনের খাবার পাওয়া যায়। খাবার অর্ডার দেওয়ার আগে দাম জেনে নেওয়া জরুরি। খাবার পাশাপাশি সমুদ্রের সৌন্দর্য ও বিকেলের সূর্যাস্ত উপভোগ করতে কলাতলী বিচে সমুদ্রের একেবারে সাথে বেশকিছু রেস্তোরাঁ আছে।

বিশেষ দ্রষ্টব্য ঃ

=প্রথমত কক্সবাজার যাওয়ার আগে আবহাওয়ার পূর্বাভাস জেনে যাওয়া।

=দ্বিতীয়ত, প্রতি বছর সমুদ্রের পানিতে গোসল করতে গিয়ে প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে। এসব ঘটে মূলত সতর্কতা ও সচেতনতার অভাবে।

=লাবনী পয়েন্ট থেকে কলাতলী সৈকত পর্যন্ত বেশকিছু গুপ্ত খাল রয়েছে। অসাবধানতার কারণে বেশীর ভাগ পর্যটক ভাটার সময় নেমে এই খালে পরে প্রাণ হারায়।

=সুতরাং, ভাটার সময় সৈকতে গোসল করা থেকে বিরত থাকা উচিৎ। সেক্ষেত্রে নিরাপত্তা চৌকির সংকেত অনুসরণ করে সৈকতে গোসলে নামলে বিপদ থেকে দূরে থাকা যায়। চৌকি থেকে ভাটা ও জোয়ারের সময় অনুযায়ি লাল ও সবুজ পতাকা উত্তোলন করা হয়। সবুজ পতাকার সময় গোসল করা নিরাপদ। প্রয়োজনে সাথে লাইফ জ্যাকেট রাখা যেতে পারে।

=প্রবাল সাধারণত ধারাল হয়ে থাকে। সুতরাং, ইনানি ও সেন্টমার্টিনের সৈকতে প্রবালের ওপর হাঁটার সময় সাবধানে হাটতে হবে। সৈকতের পরিবেশ পরিষ্কার রাখতে এবং জীববৈচিত্র্যকে নিরাপদ রাখার খাতিরে কোনো প্রকার আবর্জনা এবং অপচনশীল দ্রব্য যেমন, পলিথিন, প্লাস্টিকের বোতল ইত্যাদি ফেলা থেকে বিরত থাকা প্রত্যেকের দায়িত্ব।

11 Dec 2018

ঘুরে_আসলাম_সান্ডাকফুপশ্চিমবঙ্গের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ হল সান্দাকফু l উচ্চতা প্রায় ৩৬০০ মিটার l দার্জিলিং জেলার তথা পশ্চিমবঙ্গের ভ্রমন পিপাসুদের জীবনে অন্তত একবার যাওয়া উচিত সে-রকম একটি জায়গা হল সান্দাকফু l সিঙ্গালীলা জাতীয় উদ্যানের মধ্যে অবস্থিত রডোডেনড্রন, পাইন, ফার গাছে মোড়া সান্দাকফুর ফুলের বাহার দেখতে গেলে মার্চ-এপ্রিল আদর্শ সময় l তবে বর্ষাকাল ছাড়া বছরের যে কোন সময়ই সান্দাকফুতে যাওয়া যায় l আমরা গেছিলাম 3:12:2018 তে সৌভাগ্যের ক্রমে এই বছরের প্রথম বরফ বৃষ্টির ও দেখা মিলেছিল তবে পরিমান অনেক কম । সান্দাকফু থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘার উপর সূর্যোদয় ও সূর্যাস্থ দেখা সারা জীবনের প্রাপ্তি হয়ে থাকবে l সাধারণত সান্ডাকফু তে পর্বতরাহী রা ট্রেক করেই যায় । ট্রেক করার উপযুক্ত রাস্তা তবে আমাদের হাতে সময় কম থাকার জন্য মানেভঞ্জন থেকে ওখান কার লোকাল গাড়ি ল্যান্ড রোভার বুক করে নিয়েছেন ।ওই ভয়ঙ্কর ও রোমাঞ্চকর রাস্তায় এই গাড়ি ই চলে তা ছাড়া কিছু jeep ও মাহিন্দ্রা বুলেরো এর দেখা পাওয়া যায় l একটা ল্যান্ড রোভার এ 6 জনের বেশি ব্যাক্তি নেন না ড্রাইভার রা passenger সুরক্ষার জন্য আমরা আট জন ছিলাম তাই 2 টো গাড়ি নিতে হয়েছিল 5000 করে ভাড়া এক রাত থেকে আবার পরের দিন মানে ভঞ্জন এ ফিরিয়ে নিয়ে আসার জন্য তাই একটু আরামের সাথে গেছিলাম 4 জন করে এক একটি গাড়িতে । ল্যান্ড রোভারে যাওয়া যায় বোল্ডার বিছানো রাস্তায় সে রাস্তা ছিল বড়ই কষ্টকর ও ভয়ঙ্কর l বর্তমানে সান্দাকফু যাওয়ার বেশিরভাগ রাস্তাই কংক্রিট এর হয়ে গেছে , তাই ল্যান্ড রোভারে পরিবার নিয়ে সহজেই যাওয়া যায় সান্দাকফু lতবে শেষ 10 km রাস্তা খুব ই ভয়ঙ্কর আর পুরো পাহাড়ের খাড়া ঢাল বয়ে উপরে চড়ে । দুই ধারে বিশাল খাড়া খাঁদ যা দেখে শরীর শিউরে ওঠে ।প্রকৃত বিশ্বাস আর ভরসা কি সেটা ওই রাস্তার ড্রাইভার এর সাথে সফর না করলে বোঝা যাবে না ।

আমরা সকল 10 টাই মানেভঞ্জন থেকে সান্ডাকফু এর উদ্দেশে রওনা হয়েছিলাম 4 জায়গায় হল্ট করতে করতে প্রায় 3 তে নাগাদ পৌঁছে ছিলাম সান্ডাকফু তে তখন তাপমাত্রা ছিল 10 ডিগ্রি থেকে 12 ডিগ্রীর মধ্যে সঙ্গে মেঘ ভেসে বেড়াচ্ছে ও শীতল ঠান্ডা । আবহাওয়া পরিষ্কার ছিল না তাই একটু ভয় ও ছিল যে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখতে পাবো কিনা । তবে সকাল 5 টাই উঠে পড়েছিলাম সূর্যোদয় দেখার জন্য । হোটেল রুম গুলো কাঠ দিয়ে সজ্জিত ছিল বলে ঠান্ডা টের পাইনি তবে 5 টার সময় হোটেল এর ছাদে পৌঁছে বুঝতে পেরেছিলাম ঠান্ডা কাকে বলে তখন তাপমাত্রা ছিল – 2 ডিগ্রি তাই ট্যাংক এর জল জমে বরফে পরিণত হয়েছিল ।

সান্দাকফু যেতে গেলে আপনাকে মানেভঞ্জন-এ রাত্রিবাস করে পরদিন সকালে ল্যান্ডরোভারে করে সান্দাকফু পৌঁছতে হবে l দুরত্ব ৩১ কিলোমিটার এবং সময় লাগে তিন থেকে চার ঘন্টা l মানেভঞ্জনকে সান্দাকফুর গেটওয়ে বলা যেতে পারে l নেপালি ভাষায় মানেভঞ্জন শব্দের অর্থ দুই গিরিশিরার মিলনস্থান l উত্তরে টংলু পাহাড় আর দক্ষিনে জোড়পোখরী পাহাড়ের মাঝখানে বাটির মত এই মানেভঞ্জন উপত্যকা l দোকান, হোটেল স্থানীয় মানুষদের বাড়িঘর নিয়ে ছোট শহর মানেভঞ্জন l দিনে দিনে সান্দাকফু ঘুরে মানেভঞ্জন ফিরে না এসে এক বা দু-রাত্রি কাটানো উচিত সন্দাকাফুতে l আর যাওয়া ও আসার দিনে, মেঘমা, টংলু, তুমলিং, গৌরীবাস, কালিপোখরি জায়গাগুলি সময় নিয়ে ঘুরে দেখে নিন l এই সমস্থ জায়গাগুলি ট্রেকারদের নাইট হল্ট করার জায়গা , ফলে প্রতি জায়গাতেই আছে বেশ কিছু হোম-স্টে বা হোটেল l এর যে কোনো জায়গায় ব্রেকফাস্ট বা লাঞ্চ করাও বেশ তৃপ্তিদায়ক l প্রকৃতির মাঝে বসে গরম থুপকা, মোমো বা আলু পরোটা বেশ সুস্বাদু l টেস্ট করতে ভুলবেন না l

Source: Emdadul Kabir <Travelers of Bangladesh (ToB) – ভ্রমন গাইড বাংলাদেশ

 

11 Dec 2018

টাইগার হিলে গিয়ে সূর্যদয়কে দেখা সেই সাথে কাঞ্চনজঙ্ঘাকে আরো কাছ থেকে দেখাদেখিপুরো শরীর এখন ক্লান্ত সেই সাথে প্রচন্ড ঘুম আসছে দু চোখ ভরে তাই চৌরাস্তায় কিছুটা সময় কাটিয়ে দু জনে হাটতে হাটতে হোটেলের দিকে যাচ্ছি। হোটেলে গিয়ে কিছুক্ষন পরেই শটাং ঘুমে আচ্ছান্ন হয়ে পড়ি। এমনিতে চোখে প্রচন্ড ঘুম, কাল আবার খুব ভোর বেলা ঘুম থেকে উঠতে হবে কারণ কাল সেই হিলে যাবো সূর্যদয় দেখার জন্য।

ওর ঘুম ভাংলো ভোর ৩ টার পর পর কারণ আমরা রাত ৪ টার দিকে রওনা দিবো। গতকাল আগে থেকেই প্রাইভেট কার ঠিক করে রেখেছি আর ড্রাইভার ভাইও ঠিক রাত ৩ টা ৩০ মিনিটের সময় ফোন দিলো আর বললো দ্রুত রেডি হতে কারণ উনি ঠিক ৪ টায় আমাদের হোটেলের নিচে চলে আসবে। একটু ভোরে না গেলে প্রচন্ড জ্যামে পড়তে হবে তাই আগে থেকেই রওনা দিতে হবে।#দার্জিলিং এর সূর্যদয় দেখার জন্য প্রচন্ড ভীর থাকে তাছাড়া হোটেল গুলোতে হাজার হাজার ট্যুরিস্ট ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। তাই আগে গেলে ঠিক যায়গা দাঁড়িয়ে সূর্যদয় দেখতে পাবো নতুবা ঠেলাঠেলি করে সামনে দাড়ানোর জন্য যায়গা করতে হবে।

আমরা ফ্রেশ হয়ে ঠিক ৪ টার সময় নিচে নামবো আর তখনি ড্রাইভার ভাইকে ফোন দিলাম আর বললাম যে আমরা নিচে নামছি। আমরা নিচে নেমেই দেখি উনি অপেক্ষা করছে আমাদের জন্য। উনাকে একটু হাই-হ্যালো দিয়ে কারে উঠে পড়ি আর আমাদের গন্তব্যের দিকে যেতে থাকি। এভাবে আকা বাকা রাস্তা পার হতে লাগলাম আর সামনে যেতে থাকি তবে কিছু সময় চলার পর বুঝলাম যে, প্রচুর ভীড় হবে কারণ অনেক কার চলছে আশে পাশে দিয়ে তাই বোঝাই যাচ্ছে যে আমাদের আগেও অনেকে বের হয়েছে সূর্যদয় দেখার জন্য।

কার চলতে চলতে একটা সময় আমরা স্টেশন অতিক্রম করে সামনের দিকে যেতে থাকি আর কিছু সময় পর হঠাৎ করে ড্রাইভার ভাই কার থামিয়ে দিলো আর দেখি একজন কারে উঠে পড়লো তাই একটু ভয় পেয়ে গেলাম কিন্তু কিছু সময় পর তাদের কথোপকথন শুনার পর বুঝলাম যে উনি পরিচিত কেউ হবে। তবে কিছু সময় পর বুঝতে পারি যে, জিনি উঠেছিলেন তিনি একজন মহিলা পুলিশ। উনি টাইগার হিলে ডিউটি করার জন্য বের হয়েছেন সেজন্য দ্রুত যেতে আমাদের কারে উঠে পড়লেন আর যেহেতু পুলিশ তাই যেখান সেখান থেকে উঠাটা সাভাবিক।

প্রচন্ড ভীড় ছিল কারণ কয়েক হাজার ট্যুরিস্ট আজ সূর্যদয় দেখার জন্য বের হয়েছে তাই সমস্ত কার এখন রাস্তায়। আমরা জ্যাম ঠেলে ধিরে ধিরে এগিয়ে গেলাম আর ড্রাইভার ভাই বললো যে আমরা গন্তব্যে এসে গেছি কার থেকে নামলাম।

অহ নো, এতো দেখছি প্রচন্ড কন কনে ঠান্ডা আর মৃদু বাতাসে শরীর কেপে উঠছে। এতোক্ষন বুঝতে পারি নাই কারণ কারের মধ্যে জানালা দেওয়া ছিল। তো ড্রাইভার ভাই বললো যে, আমি এখানে পার্কিং করে রাখছি আর এখানেই থাকবো আপনারা একটু হেটে হেটে উপরের দিকে যেতে থাকেন কারণ কার আর সামনে যাওয়ার মত অবস্থা নেই। আমরাও তাকিয়ে দেখি রাস্তা জুড়ে কার আর কার। শত শত মানুষ হাটছে তাই আমরাও তাদের পিছ পিছ হাটছি আর উপরের দিকে যেতে থাকছি কারণ যেখান থেকে সূর্যদয় দেখবো আর কাঞ্চনজঙ্ঘাকে দেখবো সেটি অনেক উপরের দিকে অবস্থিত তাই উপরের দিকে কিছু সময় ধরে হাটছি।

একটা সময় আমি আর ঠান্ডা সহ্য করতে পারছিলাম না সেই সাথে ওরও একই অবস্থা। আমরা বুঝতে পারিনাই যে, এতো ঠান্ডা হবে আর তাছাড়া কেবল তো নভেম্বর মাসের শুরু। আমি জামার পরে একটি জ্যাকেট পরেছিলাম কিন্তু পায়ে প্রচন্ড ঠান্ডা বাতাস লাগছে আর সেই সাথে হাত, মুখে আর গলাতে তো আছেই। হাত জ্যাকেটের পকেটে ঢুকিয়ে দিলে আর বের করতে ইচ্ছা করছে না বাতাসের জন্য। একটা সময় হেটে হেটে উপরে আসলাম তারপর দেখি শীতের পোশাক বিক্রি করছে যেখানে বহু ফুটফাতের মতো দোকান সাজিয়ে বসে আছে। এদের দেখে ভাবছি যে, এরা এই খানে কত আগে আসছে। জীবিকার তাগিদে কতই না ত্যাগ শীকার করে থাকে।আমি যখন ওখানে পৌঁছায় তখন ভোর ৪ টা ৫০ বাজে। আর ঔদিন সূর্যদয়ের সময় ছিল ভোর ৫ টা ৪২ মিনিট সময়ে।

একটা দোকান থেকে দ্রুত দামদর করে ১০০ রুপি দাম দিয়ে ২ জোড়া হাত মোজা কিনলাম আর দ্রুত হাতে পরে নিলাম দুজনে, এবার কিছুটা হাতকে রক্ষা করতে পারছি। কিন্তু আশে পাশে যাকেই দেখছি প্রায় সবাই হাত মোজা, পা মোজা আর জুতা পরে আসছে আর আমরাই মনে হয় এসব বাদে আসছি। আমার জানা ছিল না তবে মাথায় শীতের টুপি পরে আসছি তাই কিছুটা মাথাকে রক্ষা করতে পারছি। তবে ডিসেম্বর/জানুয়ারি/ফেব্রুয়ারি মাস থেকে প্রচন্ড ঠান্ডা থাকে তাই যারা আসবেন অবশ্যই এসবের প্রস্তুতি নিয়ে আসবেন অথবা এখানে এসে কিনে নিবেন।

আমরা সবাই সূর্যদয়ের জন্য অপেক্ষা করছি আর সোনালি রঙের #কাঞ্চনজঙ্ঘা কে দেখার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি। কারণ যখন সূর্য উঠে আর তার আলো গিয়ে কাঞ্চনজঙ্ঘার উপর পতিত হয় আর তখনই সোনালি রঙের মতো দেখা যায়। কিছু সময় পর কাঞ্চনজঙ্ঘাকে দেখা গেলো একটু অস্পস্ট আকারব যেহেতু এখনো অন্ধকার আছে আর যার যেমন ক্যামেরা আছে সে তেমন স্টাইলে ছবি তুলছে আবার কেউ ভিডিও করছে সে অন্য অন্য রকম অনুভূতি। তবে যত সময় গড়াচ্ছে ততই মানুষের প্রচন্ড ঢল নেমেছে একটু খানি সূর্যদয় দেখার জন্য।

টাইগার হিলে আসছি মূলত সূর্যদয়কে দেখার জন্য। সূর্য তার নিজস্ব ভংগিতে কিভাবে উঠে থাকে আর তার চারপাশ টা কেমন হয়ে থাকে সেটাই মূলত দেখার জন্য এতো মানুষের ঢল নেমেছে। এখানে একটা বিল্ডিং এর কাজ চলছে মানে সূর্যদয়কে আরো উপরে উঠে দেখার জন্য কিন্তু এখনো কাজ শেষ হয়নি তাই আমরা দুজনে বিল্ডিং এর শিড়ি দিয়ে উঠে আর একটু উপরের দিকে গেলাম আর পূর্ব দিকের আকাশে তাকিয়ে আছি কখন সূর্য উঠবে, ঘড়িতে এখন ভোর ৫ টা বেজে ৩০ মিনিট আর ঠিক তখনই সবার চোখ মুখ আর মন ম্লান হওয়ার পথে কারণ যেখান দিয়ে সূর্যমামা উঠবে ঠিক সেই যায়গাতে প্রচুর মেঘ জমা হলো আর কেমন যেন কুয়াশার পরিমান বেড়ে যাচ্ছে তাই সূর্য উঠা দেখা হবে কিনা সেটা নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে আছি। এদিকে হাজার হাজার মানুষের নিরাশার একটা প্রতিদ্ধনি শোনা যাচ্ছে। তবে হটাৎ করে ৫ টা ৪০ মিনিটের সময় মেঘ সরে যেতে থাকে আর সূর্যদয় হওয়ার সময় তার আশে পাশে অন্য রকম এক লাল আভা দেখতে পাওয়া যেতে থাকে। আর হাজার হাজার মানুষের করতালি দিতে থাকে, কেউ কেউ শিশ দিতে থাকে, কেউ ওয়াউউউউ বলে সম্মোধন করতে থাকে।

আমিও আমার মোবাইলের ক্যামেরা অন করে কিছু ছবি তুলে নিচ্ছি। ঠিক ৫ টা ৪৩ মিনিটের সময় সূর্যের এক কোন ভেদ করে উঠতে শুরু করলো আর এভাবে ধিরে ধিরে উঠছে। অহ সে যে কি ভালো লাগছে তা বোঝাতে পারবোনা। আল্লাহর সৃষ্টি কে পাহাড় থেকে দেখার জন্য কেউ শত শত কি.মি. আবার কেউবা হাজার হাজার কি.মি. দূর থেকে ছুটে এসেছে যেমন আমি এসেছি বাংলাদেশর নড়াইল জেলা থেকে আর দূরত্ব প্রায় ১০০০ কি.মি। তাই হয়তো কাউকে নিরাশ করে নাই কিন্তু মাঝে মাঝে নিরাশ করে বৈরি আবহাওয়ার কারণে।

চমৎকারভাবে একটু একটু করে উঠছে আর আমরা সবাই ছবি তুলছি আর চিল্লাপাল্লা করছি সূর্য উঠা দেখে তবে যখন সূর্য উঠছিল তখন #কাঞ্চনজঙ্ঘার উপর সূর্যের আলো পড়ে তাকে আরো বেশি স্পস্ট দেখাচ্ছে এবং একদম সোনালি রঙ আর কিছুক্ষন পর সাদা বরফের বিশাল এক পাহাড় দেখা যাচ্ছে। প্রচন্ড ঠান্ডা থাকলেও তখন আর এসব অনুভূতি কাজ করছে না কারণ অন্য রকম এক ভালো লাগার ভিতর দিয়ে যাচ্ছি।

একটা সময় ধিরে ধিরে সূর্য উঠতে উঠতে পুরোটা জুড়ে উদয় হলো আর সবাই দেখলাম যে পাহাড় ভেদ করে উঠলে কেমন লাগে কারণ এর আগে দেখেছি সমুদ্রের ভিতর হারিয়ে যেতে। আমরা প্রায় ৭ টা পর্যন্ত ওখানে থাকলাম তারপর একে একে সবাই বের হতে লাগলো সেই সাথে আমরাও হেটে নিচে নামতে থাকি আর দেখি শত শত প্রাইভেট কারের জ্যাম লেগে আছে। আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি আর আমাদের প্রাইভেট কার খুজছি তবে কারের নাম্বার প্লেটটা মনে রেখেছিলাম আর রাস্তার পা পাশে ছিল তাই বা দিক দিয়ে খুজতে খুজতে যাচ্ছি আর কিছু সময় পর কার পেয়ে গেলাম আর ড্রাইভার ভাই জ্যাম ঠেলে কার চালানো শুরু করে দিলো।

আমরা #টাইগার হিল দেখে #ঘুম মনাস্ট্রির কাছে এসে নামলাম আর ড্রাইভার ভাই একটু সিরিয়াল করে এক পাশে সময় কাটাতে লাগলো। আমরা ভিতরে প্রবেশ করে সিড়ি দিয়ে নিচে নেমে পড়ি আর #বৌদ্ধদের অনেক পুরাতন ও বিখ্যাত মনাস্ট্রি দেখলাম। তবে এই মনাস্ট্রির ফাকা স্থানে খাওয়া দাওয়ার ব্যবস্থা আছে মানে তারা পরাটা/লুচি এবং ডাল ভাজি বিক্রি করে। আমি আর ও দুজনে মিলে ২ পিচ কিনে খেলাম, সত্যি বলছি দারুন সাদ লাগলো তবে কেন লাগলো তা বুঝতে পারলাম না। যাইহোক #মনাস্ট্রির ভিতরে প্রবেশ করলাম জুতা খুলে আর একটু ঘুরে দেখলাম তাদের ধর্মীয় আচার-আচারণ তবে কলিম্পং যা দেখেছিলাম এখানেও সেই একই রকম রীতি।

#ঘুম মনাস্ট্রি দেখে বের হয়ে আমরা চলে গেলাম সেই #বাতাসিয়া লুপ যেখান থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা কে আরো বেশি সুন্দরভাবে দেখা যাচ্ছে আর অনেক সুন্দর একটি স্থান। জায়গাটি গোলাকার আকৃতির আর চারপাশে ফুল গাছে সমৃদ্ধ আর প্রচুর শীতের পোশাক বিক্রির জন্য রাস্তার পাশে ছোট ছোট ফুটপাত দোকান আছে তবে এই #বাতাসিয়া লুপ হয়ে একদম #ঘুম পর্যন্ত ট্রেন যাতায়াত আছে আর প্রায় ৭৪০০ ফুট উচু স্থানে অবস্থিত। আমরা ওখান থেকে চারপাশ টা আরো সুন্দরভাবে দেখছি আর অবাক হচ্ছি পৃথিবী এতো সুন্দর কেন। ওখানে কিছু সময় কাটিয়ে আর সকালের শীতের রোদে দাঁড়িয়ে কিছু পিক তুলছি বিভিন্ন স্টাইলে।

ঘড়িতে প্রায় ৮ টা+ বেজে গেছে তখন আমরা ব্যাক করার জন্য আবারো কারে উঠি আর হোটেলে পৌঁছে যাই। ড্রাইভার ভাই দেড় ঘন্টার জন্য আমাদের কে ছুটি দিলো ব্রেকফাস্ট ও রেস্ট নেওয়ার জন্য। আমরা ব্রেকফাস্ট করে নিজেদের রুমে গিয়ে একটু ফ্রেশ হয়ে আবারো রেডি হলাম আর ঠিক ১০ টার সময় ড্রাইভার ভাইকে হোটেলের নিচে চলে আসলো আর আমরাও ততক্ষনে নিচে নামলাম। আমরা এবার #Darjeeling Zoo তে যাবো যা একদম চৌরাস্তার পাশেই মানে আমাদের হোটেল থেকে মাত্র ২ কি.মি. দূরে অবস্থিত। এটি চৌরাস্তা/হোটেল থেকে হেতে যেতে চাইলে মাত্র ২০/২৫ মিনিট সময় লাগে। চিড়িয়াখানার ওখানে পৌঁছানোর পর কার থেকে নেমে দেখলাম অল্প মানুষের ভিড়। আমরা এন্ট্রি টিকিট নেওয়ার জন্য লাইনে দাড়ালাম আর এন্ট্রি টিকিট এর দাম প্রতিজন ১০০ রুপি করে তবে চিড়িয়াখানার সাথে অবস্থিত মানে এক সাথে ২ টি জিনিস দেখার সুযোগ আছে।

লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট নিয়ে ভিতরে প্রবেশ করলাম আর ঠুকেই খুব ভালো লাগছে কারণ অন্য রকম চিড়িয়াখানা আর পাহাড়ের উপর ব্যতিক্রম ভাবে তৈরি করা হয়েছে যা আগে কখনো এরকম সিস্টেমের চিড়িয়াখানা দেখিনি। প্রতিটি প্রানীদের বনে থাকার মতো পরিবেশ তৈরি করেই করা হয়েছে তাই ভালো লাগছে। আমরা প্রথমে গেট দিয়ে ঢুকে একটু এগিয়ে ডান দিকে একটি রাস্তা উপরের দিকে চলে গেছে সে রাস্তা বরাবর এগিয়ে যেতে থাকে আর একটু এগিয়ে দেখি রঙের পান্ডা। এই পান্ডা টিভিতে অনেক দেখেছি কিন্তু বাস্তবে আজ দেখলাম। এরা খুব বিনয়ী আর ভদ্র সভাবের মনে হচ্ছে। এই পান্ডার আবাসস্থলে গাছ গাছালি, বন, থাকার মতো ২ টা গাছের উপর খুপরি সব ই আছে তাই হয়তো পান্ডারও সময় কেটে যায়। এই লাল পান্ডা ওজনে ৩ থেকে ৫ কেজি আর লম্বায় ২ ফুটের বেশি হয়না। আর একটু সামনে গিয়ে দেখি বিভিন্ন প্রজাতির সাপের কারখানা। আমি এমনিতেই সাপকে প্রচন্ড ভয় পেয়ে থাকি তারপরও এক নজর দেখে নিলাম ভয়ংকর প্রজাতির কিছু সাপ।

তারপর হনুমান এর আবাসস্থল দেখলাম কিন্তু ওরা নিজেরা নিজেদের কাজে খুব ব্যস্ত যেমন মা তার সন্তানের উকুন কেড়ে দিচ্ছে আবার কেউ দুধ খাওয়াচ্ছে তাই আর তাদের সাথে মজা করতে পারি নাই। তারপর দেখলাম বিড়াল যা দেখতে বিশাল আকৃতির আর রাগীও বটে। আমাদের দেখে সে একটু বিনোদন দেওয়ার চেস্টা করলো যেমন একবার গাছে উঠে আবার নামে আবার চারদিকে ঘুরছে তো ঘুরছেই এইসব কান্ড দেখলাম কিছু সময়। আমরা সবাই কম বেশি তার আচারণে বেশ মজা পাচ্ছিলাম। এছাড়া আরো অনেক কিছু দেখে আবার ব্যাক করছি ওই রাস্তা বরাবর মানে একটু নিচের দিকে নামছি। তারপর আর এক রাস্তা দিয়ে উপরের দিকে যেতে থাকি আর প্রথমেই দেখলাম অন্য এক প্রজাতির হরিণ, ভিন্ন প্রজাতির ষাড়, চিতা বাঘ।

এমনকি স্নো এরিয়াতে (বরফ এরিয়াতে) যে LeoPard বসবাস করে থাকে তাদেরকেও এক নজর দেখে নিলাম। হাটতে হাটতে আমরা আরো উপরের দিকে যাচ্ছি আর মাঝে মাঝে হাপিয়ে যাচ্ছি কিন্তু তবুও ঘুরে দেখার ইচ্ছা থাকার কারণে যেতে থাকি আর রয়েল বেংগল টাইগার কে দেখার চেস্টা করি কিন্তু তিনি খুব রাগ করাতে আর দেখতে পাইনি।

আমরা হেটে হেটে রাস্তার বা পাশের একটা আইস্ক্রিমের দোকানে ঢুকে পড়ি আর ২ টা আইসক্রিম কিনে খাচ্ছি আর আশে পাশে আরো অনেকে বসে জিড়িয়ে নিচ্ছে আবার কেউ অন্য কিছুও খাচ্ছে। আমরা আইসক্রিম খেতে খেতে আবারো হাটা শুরু করলাম আর #HMI (Himalayan Mountain Institute) এর গেটের কাছে এসে পৌঁছালাম। HMI হচ্ছে মূলত হিমালয়ের ট্রেকিং করার প্রশিক্ষণ কেন্দ্র যা ভারতের দার্জিলিং শহরে অবস্থিত। এই প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকে শত শত ট্রেকাররা প্রশিক্ষন নিয়ে মাউন্ট এভারেস্ট জয় করার জন্য চেস্টা করে। গেট দিয়ে প্রবেশ করে সোজা গেলেই একটা রুম দেখতে পেলাম যা ওয়াশ রুমের পাশেই আর সেখানে ৫০ রুপির টিকিট কিনে বাস্তবে মাউন্ট এভারেস্টে কিভাবে উঠতে হয় সেটা ঝালিয়ে নিচ্ছে অনেকে শখের বসে। অনেক ছাত্র ছাত্রী প্রশিক্ষণ নিয়ে বাস্তবে প্রশিক্ষণ নিতে মাউন্ট এভারেস্টে চলে যায় আর চেস্টা করে থাকে জয় করার জন্য। এটা সত্যি এক দারুন ব্যাপার আর এখানে না আসলে অনেক কিছুই অজানা থাকতো কারণ একজন ব্যক্তির মাউন্ট এভারেস্টে চড়তে কি কি দরকার হয় আর কিভাবে উঠে থাকে তার সমস্ত কিছুর খুটিনাটি দেখলাম আর জানলাম।

এরপর আমরা আরো উপরের দিকে উঠে বাংলার সংস্কৃতির বিল্ডিং এ প্রবেশ করি আর ভিতরে প্রবেশ করেই চোখ কপালে উঠার মতো অবস্থা হলো কারণ এখানে মাউন্ট এভারেস্টে যে সব পশু-পাখি বসবাস করে বা পাওয়া যায় তাদের এক বিশাল সংগ্রহশালা।

এখানে বহু প্রজাতির Real পাখি, পশু, পোকামাকড় সংগ্রহ করে রাখা হয়েছে যদিও সব মৃত কিন্তু মেডিসিন দিয়ে তা সংরক্ষিত করা আছে যুগের পর যুগের তবুও তাদের জীবিতদের মতো মনে হচ্ছে। একটি বিশাল আকৃতির ঈগল পাখি দেখলাম যা ১৯৬১ সালে ১৮০০০ ফুট উপরে অসুস্থ অবস্থায় পেয়েছিল যা পরে মারা গিয়েছিল। একটি Leo Pard দেখলাম যা বরফের মধ্যে বসবাস করা অবস্থায় মারা গিয়েছিল আর এটি পেয়েছিল ১৯৬৮ সালে। এছাড়াও বিভিন্ন প্রজাতির সাপ দেখলাম যারা মাউন্ট এভারেস্ট এরিয়াতে বসবাস করে থাকে। তবে সব চেয়ে বেশি অবাক হয়েছি শত শত প্রকারের সংগ্রহ দেখে কারণ এই দীর্ঘ জীবনে এতো রকম প্রজাপতি আগে দেখিনি।

কিছু বিশাক্ত পোকাও দেখলাম যা বিশাল আকৃতির এমনকি অনেক বড় প্রকৃতির মাকড়শাও দেখলাম যা হয়তো আগে কখনো দেখিনি। এই বিল্ডিং এ প্রবেশ করে অনেক কিছুই দেখলাম তারপর বের হয়ে আমরা নিচের দিকে নেমে যেতে থাকি আর বের হওয়ার জন্য মেইন গেটের কাছে যেতে থাকি। আর গেটের পাশেই ভাল্লুকআর হরিণের আবাসস্থল আছে কিন্তু প্রথমে তাদের দেখা পাইনি কিন্তু এখন হঠাৎ করে কালো বিশাল আকৃতির এক ভাল্লুক উদয় হলো আর তাকে দেখলাম কিছু সময়। একটা সময় পর আমরা বের হলাম এখান থেকে তারপর ড্রাইভার ভাইকে নিয়ে তেনজিং রক নামে পরিচিত আর এই তেনজিং সাহেবই প্রথম যিনি মাউন্ট এভারেস্টের চুড়ায় প্রথম উঠে জয় করেছিলেন তাই তার নামানুসারে তেনজিং রক গার্ডেন নামকরণ করা হয়েছে। এছাড়াও এখানে পাথরের ছোট্ট একটি পাহাড় বা স্তুপ আছে যেখান থেকে #তেনজিং সাহেব প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন এভারেস্ট জয় করার জন্য। আমরা কিছু সময় ওখানে ব্যয় করলাম। এখানে ১০০ রুপি করে দিলে মাউন্ট এভারেস্টে কিভাবে চড়তে হয় সেটা ঝালাই করে নেওয়া যাবে। যদিওবা একজন হেল্প করছে কিন্তু সাহস পেলাম না, তাই আর মাউন্ট এভারেস্ট জয় করলাম না। আমরা কিছু সময় পর টি-গার্ডেনের দিকে যেতে থাকি আর এখানে প্রায় ১৪/১৫ টি চায়ের দোকান দেখলাম যা সিরিয়াল অনুযায়ী সেট করা যেমন ১/২/৩/৪ এরকম সিরিয়াল করা থাকে। আমরা একটু চায়ের বাগানে প্রবেস করলাম আর ফটোশেসন করছি দুজন মিলে আর কিছু পিকও নিলাম নিজেদের ইচ্ছামত। চায়ের বাগানটি মূলত পিক তোলার জন্যই বেশি ব্যবহার করা হয়ে থাকে। এই বাগানে ঢুকে অনেকেই ছবি তুলছে আর চারিপাশ টা দেখতেও বেশ লাগছে যা লিখে বোঝানো যাচ্ছে না। আমরা এখানে ১৫/২০ মিনিট সময় ব্যয় করে বের হলাম তারপর ১২ নাম্বার ঘরে ঢুকে চা খেলাম সেই সাথে অল্প দামে ১ কেজি চাও কিনলাম বাড়ি নিয়ে যাওয়ার জন্য।

এখান থেকে বের হতে হতে প্রায় ৪ টা বেজে গেল তারপর আমরা মনাস্ট্রি যাওয়ার জন্য কারে উঠছি আর কারও ছুটে চললো পাহাড়ি রাস্তা ধরে। পাহাড়ির সৌন্দর্য দেখতে দেখতে একটা সময় চলে আসলাম টেম্পলের ধারে। আমি টেম্পল দেখে অবাক হচ্ছি কারণ পাহাড়ের অনেক উচুতে এই টেম্পল অবস্থিত আর দেখতেও বেশ লাগছে। আমরা দুজন সিড়ি বেয়ে উপরে উঠছি আর প্রথম যে বিল্ডিং টা দেখছি সেটার ভিতর প্রবেশ করলাম জুতা খুলে আর সিড়ি বেয়ে দোতলাতে উঠছি। এখানে বৌদ্ধদের রীতি অনুযায়ী ঢোলের মত কয়েকজন বাজাচ্ছে আর আমাদেরকে ইশারা করলো ওখানে বসে ওদের সাথে সামিল হতে কিন্তু আমরা ওখানে না বসে আবার নিচের দিকে নেমে এলাম। আমরা বাইরে বের হয়ে একটু সামনের দিকে হাটছি আর #জাপানিজ টেম্পল এর মূল আকর্ষণ দেখলাম দুচোখ ভরে আর সিড়ি বেয়ে উপরে উঠে আসেপাশে দেখলাম আর কারুকাজ দেখে ভালোই লাগছে। ছবি তোলার জন্য বিভিন্ন পোজ দিচ্ছি আর চারিদিকে পাহাড় আর পাহাড় দেখে আরো উৎফুল্ল হয়ে পড়ছি।

এখন ঘড়িতে বিকেল প্রায় ৫ টা বেজে গেছে তাই সিড়ি বেয়ে আবারো নিচে নামছি কারণ আমরা এখন হোটেলের দিকে রওনা দিবো। আকাবাকা পথ অতিক্রম করে চলছি আবারো তারপর ২০/২৫ মিনিট পর আমরা হোটেলের কাছে নামলাম আর একটু ওয়াশ রুম থেকে রিফ্রেশমেন্ট হয়ে দুজনে হাটতে হাটতে সোনার বাংলা হোটেল এ্যান্ড রেস্টুরেন্টে যাচ্ছি কারণ প্রচন্ড ক্ষুদা লাগছে তাই কিছু খাওয়ার জন্য প্রবেশ করলাম।সাদা ভাত, মাছ ও ডাল নিলাম আর পেট ভরে খেয়ে হোটেলের দিকে গেলাম। আজ চৌরাস্তার দিকে গিয়ে কিছু সময় কাটিয়ে আবারো হোটেলের দিকে ব্যাক করছি কারণ কাল আমাদের দিকে রওনা দিতে হবে। কারণ বাগডোগড়া এয়ারপোর্ট থেকে এয়ার টাইম দুপুর ১২ টার দিকে।

আমরা হোটেলে পৌছে ম্যানেজারের সাথে কথা বলে আমাদের কিছু ডিউ বিল ছিল যা পরিশোধ করলাম কারণ রাতে একদিন খেয়েছিলাম সেটার বিল বাকি ছিল যা তারা চেক আউটের সময় নিয়ে থাকে আর সকাল ৭ টায় চেক আউট করবো সেটাও বলে রাখি কিন্তু মজার ব্যাপার হলো ম্যানেজার বলছে যে, আমাদের #ব্রেকফাস্ট প্যাকেট রেডি করে রাখবে যদি আমরা নিতে চাই কারণ হোটেল থেকে পরের দিন যাওয়ার সময় সকাল ৭ টায়।

রুমে গিয়ে ব্যাগ গুছিয়ে রাখলাম কারণ পরের দিন সকালে রওনা দিতে হবে। একটা সময় প্রচন্ড ক্লান্ত শরীরে ঘুমে আচ্ছান্ন হয়ে পড়ি। খুব ভোর বেলা ঘুম ভাংলো আর ফ্রেশ হয়ে সকাল ৭ টার সময় হোটেল থেকে চেক আউট করি আর কার হোটেলের সামনে অলরেডি এসে গেছে তাই আমরাও নিচে নেমে যাচ্ছি। হোটেল ম্যানেজার ও স্টাফদের থেকে বিদায় নিয়ে আমরা রওনা দিলাম।

দার্জিলিং শহরের আকাবাকা পথ চড়ে এগিয়ে চলছি আর কিছুটা হলেও খারাপ লাগছে কারণ ৪ দিন থেকে বিভিন্ন স্থান ঘুরে খুবই ভালো লেগেছে হয়তোবা আরো কিছুদিন থাকতে পারলে #লাভা তে ঘুরে আসতে পারতাম। আমরা একটা সময় ঘুম স্টেশন ক্রসিং করে সামনে এগিয়ে গেলাম আর পাহাড়ের সৌন্দর্য আরো বেশি দেখতে পাচ্ছি কারণ ঘর-বাড়ি কমে গিয়ে শুধুই রাস্তা আর পাহাড় সেই সাথে আকাশ দেখা যাচ্ছে। অসাধারণ রাস্তা আর পাহাড়ের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করছি। সত্যি বলছি যতই দেখছি ততোই মুগ্ধ হচ্ছি আর ভাবছি #আল্লাহ এই এরিয়াকে যদি এতো সৌন্দর্য দিয়ে থাকে তাহলে আরো বহ স্থান আছে যেখানে হয়তো যাওয়ার সৌভাগ্য হবে কিনা জানিনা তবে অসাধারণ হবে সেই সব স্থান।

উনার আবার চা খাওয়ার একটু নেশা আছে তাই যেতে যেতে রাস্তার ডান পাশে একটা হোটেলের পাশে কার থামিয়ে নামলাম আর চা, বিস্কুট খেতে থাকি আর এমন সময় সেই #টয় ট্রেনের শব্দে তাকিয়ে দেখি আস্তে আস্তে ট্রেন চলে যাচ্ছে ঘুম স্টেশনের দিকে। চা খাওয়া শেষ হলে আবারো কার নিয়ে ছুটে চলছি আর প্রাণভরে পাহাড়ের মৃদু শীতল বাতাস খাচ্ছি। এভাবে যেতে যেতে হঠাৎ মোবাইলে একটা মেসেস আসে আর তাতে লেখা আমাদের ফ্লাইটের সময় চেঞ্জ করে বিকেল ৫ টা ৩০ মিনিটে করা হয়েছে, এটা দেখে মেজাজ একটু খারাপ হয়ে যাচ্ছে কারণ এই মেসেসটি সকাল ৭ টার আগে দিলে সেক্ষেত্রে হোটেলে ১২ টা পর্যন্ত রেস্ট নিয়ে তারপর বের হতাম কারণ আমরা এয়ারপোর্ট পৌঁছাবো সকাল ১০ টার মধ্যে তাই বাকি সময় এয়ারপোর্টে বোরিং সময় কাটাতে হবে। মূলত কারে করে গেলে দার্জিলিং শহর থেকে বাগডোগড়া এয়ারপোর্ট যেতে প্রায় ৩ ঘণ্টার মতো সময় লাগে।

একটা সময় শিলিগুড়ির #বাগডোগড়া এয়ারপোর্ট এসে নামলাম আর ড্রাইভার ভাইকে ধন্যবাদ দিয়ে বিদায় জানালাম। আমরা ব্যাগ নিয়ে সিকিউরিটি অফিসারকে জিজ্ঞেস করলাম যে আমাদের স্পাইজ এয়ারটাইম বিকেল ৫ টা ৩০ মিনিট করা হয়েছে কিনা মানে আরো সিউর হয়ে নিলাম। অফিসার আমাদের এয়ার টাইম নিশ্চিত করলো তারপর আমরা ব্যাগ নিয়ে ভিতরে প্রবেশ করি এয়ার মোবাইল থেকে #ই-টিকিট দেখিয়ে। আমরা ভিতরে প্রবেশ করে ব্যাগ গুলি বোর্ডিং এ দেওয়ার চিন্তাভাবনা করছি কারণ এতো সময় ধরে ব্যাগ নিয়ে টানাটানি বিরক্তি লাগবে তাই স্পাইজ জেট কাউন্টারের লেডি অফিসারকে জিজ্ঞেস করলাম কোথায় দিবো কারণ এই এয়ারপোর্ট খুবই ছোট আর চেকিং সিস্টেম সব এয়ার কোম্পানির জন্য ২ টা তাই স্পেসিফিক ভাবে লেখা নেই যে স্পাইজ জেট/এয়ার ইন্ডিয়া/ইন্ডিগো এয়ার ইত্যাদি।

ব্যাগ চেকিং ও স্ক্যানিং শুরু হয়ে গেল কিছু সময় পর তারপর আমরা আমাদের সব লাগেজ স্ক্যানিং করে টিকিট কাউন্টার থেকে টিকিট নিচ্ছি সেই সাথে লাগেজগুলো দিয়ে দিলাম শুধু হ্যান্ড/ঘারে বাধানো ব্যাগ সাথে রাখলাম। মূলত ১৫ কেজি পর্যন্ত লাগেজে ছাড় পাবেন আর ৭ কেজি পর্যন্ত হ্যান্ড/ঘাড়ে বাধানো ব্যাগে ছাড় পাবেন। তারপর আমরা আমাদের টিকিট নিয়ে উপরে গিয়ে অপেক্ষা করতে থাকি দীর্ঘ সময় ধরে। যখন বিকেল ৪ টা বাজে তখন মূল সিকিউরিটি চেক ইন করে এয়ারের ওয়েটিং রুমে অপেক্ষা করি আর একটা সময় এয়ারে চড়ার সময় চলে আসে তবে এই স্পাইজেট খুব ই ছোট যেমন ৮০/৮৫ জন যাত্রী ধরে তবে ২ বাই ২ করে সিট সিস্টেম। যখন এয়ার ছাড়ে তখন প্রায় সন্ধ্যা হয়ে গেছে।

সব কিছু ঠিক ঠাক হওয়ার পর সঠিক সময়ে প্লেন চালু হয়ে গেছে আর জানালা দিয়ে আকাশের তারা দেখার চেস্টা করছি আর ভাবছি ইশ যদি চাঁদে বা তারার ভিতর যদি ঢুকে যেতে পারতাম। তবে দার্জিলিং আবার আসতে হবে কারণ #লাভা ও #সিকিম দেখা বাদ আছে এখনো আর ভাবছি পরেরবার আর কোথায় ঘুরতে যাবো সেই প্লান মাথার ভিতর ঘুরপাক খাচ্ছে ——————

বিঃদ্রঃ কোথাও ঘুরতে গিয়ে যেখানে সেখানে চিপসের প্যাকেট, ঠোংগা বা অন্য কিছু ফেলবেন না। পরিবেশ রক্ষা করুন।

Source: Shaikh Abdur Rahman‎ <Travelers of Bangladesh (ToB) – ভ্রমন গাইড বাংলাদেশ

10 Dec 2018

৩ বন্ধু হঠাৎ প্লান করে ফেললাম যে ৪ তারিখ রাতে সীতাকুণ্ড থেকে ঘুড়ে আসবো যে কথা সে কাজ, ৪ তারিখ রাতে আমরা ৪৮০ টাকা দিয়ে ইউনিক বাস দিয়ে চলে গেলাম সীতাকুণ্ডে, রাত ৩ টা বাজে আমরা পৌছে গেলাম সীতাকুণ্ডের পৌর সদর,পুলিশ সেটশনে সেখান থেকে ১ মিনিট হাটলেই হোটেল পাওয়া যাবে। বাকী রাত পার করার জন্য আমরা একটা হোটেলে নিলাম ডাবল বেট ৫০০ টাকা দিয়ে, তারপর সকালের নাস্তা সেড়ে রওনা হলাম চন্দ্রনাথ পাহাড়ের উদ্দেশ্য, হোটেল থেকে পাহাড়ের যাওয়ার ভাড়া ২০ টাকা করে,কিন্তু আমরা ৩ জন সিএনজি রিজার্ভ করে নিলাম ৮০ টাকা দিয়ে,পরে ১০ টাকা করে ৩ টা বাশ কিনে নিলাম, ১ঘনটা ২০ মিনিটে পাহাড়ে উঠে গেলাম, সব মিলিয়ে ৩ থেকে সাড়ে ৩ ঘন্টায় পাহাড়ে উঠা,নামা ছবি তুলে সব শেষ করলাম,তারপর সাড়ে ১২ টায় হোটেলে পৌছে রেস্ট নিয়ে দুপুর ২ঃ৩০ এ গুলিয়াখালির উদেশ্য রওনা হলাম,সিএনজি রিজার্ভ করে নিলাম ১৩০ টাকা দিয়ে সেখানে ছবি তুলে কিছু সময় ঘুরে ৫ টা বাজে সীতাকুণ্ডে এসে ঢাকার বাসে টিকিট কিটে নিলাম ৬ টার বাসে বাসার উদদশ্যে রওনা হলাম |

সবশেষে একটাই কথা সীতাকুণ্ডের হোটেল গুলো খুব নিম্নমানের, আমরা সাইমুন হোটেল এ ছিলাম তাদের হোটেল দেখতে মোটামোটি ভালো কিনতু এতে বাজে গন্ধ আসলো যে মনে হলো আগামী ৬ মাস তাদের হোটেলে কোন পর্যটক আসে নাই, আমাদের প্লান ছিলো ২ দিন থাকার কিন্ত এতো বাজে হোটেল দেখে আমরা ১ দিন ঘুড়ে ই চলে আসলাম,আপনারা যদি যান তাহলে নতুন একটা হোটেল হয়েছে সৌদিয়া সেটা থেকে ঘুড়ে আসতে পারেন|

আমাদের সব মিলিয়ে পাহাড় আর গুলিয়াখালি এই ২ জায়গায় ঘুড়ে ১,৫০০ টাকা খরচ হয়েছে|
আপনারা যদি বাশবাড়িয়া ও যেতে চান তাহলে পাহাড় থেকে নেমে যতো তারাতারি পারেন রেস্ট নিয়ে দুপুর ২ টা বাজে বাশবাড়িয়া যেতে পারেন| সেখানে আধা ঘন্টা সময় কাটালে ই যথেষ্ট সেখানে থেকে সাড়ে ৩ টা বাজে গুলিয়াখালি চলে যাবেন, বাশবাড়িয়া থেকে গুলিয়াখালির ভাড়াটা সঠিক যানি না|

পরিশেষে একটাই কথা বলবো কোথাও আমরা যাতে পরিবেশ নস্ট না করি|
Source:Shafiqul Islam Sajal<‎Travelers of Bangladesh (ToB) - ভ্রমন গাইড বাংলাদেশ

9 Dec 2018

মহান বিজয় দিবসে কেওক্রাডং এর চূড়ায় পতাকা উড়াব।
৪ রাত ৩ দিনের ট্যুর এ যাচ্ছি বগালেক+ কেওক্রাডং।
সম্ভব হলে সাথে স্বর্নমন্দির/নীলগিরি যাব।
প্লান হচ্ছে ১৩ তারিখ রাতে ঢাকা থেকে রওনা দিব।
পর দিন সকালে বান্দারবান নেমে নাস্তা সেরে রুমা যাব।
রুমা থেকে গাইড নিয়ে চলে যাব কমলা বাজার।
সেখান থেকে হেটে বগালেক যাব।রাত টা সেখানেই আদী বাসীদের কটেজে থাকব।
পর দিন ঘুম থেকে উঠে সকালে সকাল চলে যাব কেওক্রাডং এর উদ্দ্যেশ্যে।
সেখানে দিন কাটিয়ে রাত।
রাতে সবাই মিলে আড্ডা-গান হবে।
পরের দিন ১৬ ডিসেম্বর।
সকালে কেওক্রাডং এর চুড়ায় মেঘ দেখে আবার রুমা,বান্দারবান ফিরব।
সময় থাকলে আসার সময় নীল গিরি দেখে আসব।
আর বিকালে যদি পার ত স্বর্ন মন্দির যাব অটো করে।
রাতে খাবার শেষে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দিন।
১৭ তারিখ সকালে আল্লাহ চাহেতু ঢাকা থাকব।

 

9 Dec 2018

গন্তব্য : সিলেট রাতার কুল লালা খাল আগুন পহাড় জাফলং
যাত্রা :০১ ডিসেম্বর রাত ১১ টা (সায়দাবাদ হতে।)
ফিরবো :০৩ ডিসেম্বর সকাল ৬ টা আমরা ঢাকায় থাকবো।

** ভ্রমণের খরচঃ
* ২০০০/- টাকা প্রতি জন –
*৪০০০/- কাপেল দের জন্য

❑ ভ্রমনের সম্ভাব্য বর্ননাঃ

-০১ ডিসেম্বর রাত ১১ টায় সায়দাবাদ বাস টার্মিনাল হতে সিলেটর উদ্দেশ্যে রওনা হব।

০২ ডিসেম্বর আমরা সিলেট থাকবো সকালের নাস্তা খেতে শুরু
করবো

**

– নভেম্বর ভোরে ঢাকা পৌঁছাবো।

❑ ভ্রমণের স্থান সমুহঃ

*জাফলং জিরো পয়েন্ট
*লালা খাল
*রাতার কুল
*আগুন পাহাড়
*বড় ঝরনা

**আসন সংখ্যাঃ ১৫ জন

❑ কনফার্ম করার ডেড লাইনঃ ৩০’ই নভেম্বর পর্যন্ত (যদি ডেড লাইন পর্যন্ত আসন ফাঁকা থাকে)। কনফার্ম মানেই বুকিং মানি ডিপোজিট করে আসন নিশ্চিত করা। মৌখিক কনফার্মেশন গ্রহণযোগ্য নয়।

** কনফার্ম করার জন্য উক্ত তারিখের মধ্যে ১০০০ টাকা কনফার্মেশন মানি জমা দিতে হবে।

❑ ভ্রমণ প‌্যাকেজে যা যা থাকছে :

– ঢাকা-সিলেট-ঢাকা নন-এসি চেয়ার কোচ বাস টিকিট।
– টুইন বেসিস এ থাকা (এক কেবিনে আলাদা সিঙ্গেল বেডে দু’জন থাকবেন। কেবল কাপল ক্যাবিনে একটি কাপল বেড থাকবে। )

-খাবার :০১ ডিসেম্বর সকালের ব্রেকফাষ্ট থেকে শুরু করে ০৩ ডিসেম্বর বিকেল পর্যন্ত সব ধরনের ব্রেকফাষ্ট, লাঞ্চ/ডিনার/স্ন্যাক্স।
(০১ এবং ০৩ ডিসেম্বর যাত্রা পথের ডিনার অন্তভুক্ত

❑ খাবার মেন্যুতে যা থাকছে :
খাবার
দিন -০১
সকালের নাস্তা: খিচুড়ী, ডিম ভুনা, বেগুন ভাজা, চা।

দুপুরের খাবার: সাদা ভাত, সবজি, সি ফিস , ডাল, সালাদ।

বিকালের নাস্তা : সবজি পাকোড়া ও চা ।

রাতের খাবার : খাবার: সাদা ভাত, সবজি, সি ফিস , ডাল, ৷৷ সালাদ চিকেন রোস্ট

❑ কনফার্ম করার আগে যে ব্যাপার গুলো অবশ্যই বিবেচনা করতে হব।

** যা সাথে নেওয়া উচিতঃ
– ন্যাশনাল আইডি কার্ড। না থাকলে স্টুডেন্ট আইডি কার্ডের ফটোকপি ।

০১*বুকিং মানি জমা দেয়ার পদ্ধতি
০১৭১৪০৯৭৪১৩ বিকাশ
২. বিকাশ ও ডাচ বাংলা ব্যাংকের রকেট করা যাবে।
৩. ব্যাংক ডিপোজিট করে বুকিং করা যাবে।

**যোগাযোগ ও বুকিং
০১৭১৪০৯৭৪১৩
০১৬৩২২৫৮০৩৩.
Source: Fariha Islam Tahmeed‎ <Travelers of Bangladesh (ToB) – ভ্রমন গাইড বাংলাদেশ

 

8 Dec 2018

অপরূপ সৌন্দর্যের লীলাভূমি সাগর কন্যা কুয়াকটা যা পটুয়াখালী জেলায় অবস্থিত। কুয়াকাটা দক্ষিণ এশিয়ায় একটি মাত্র সমুদ্র সৈকত যেখানে দাঁড়িয়ে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত অবলোকন করা যায়। সমুদ্রের পেট চিরে সূর্য উদয় হওয়া এবং সমুদ্রের বক্ষে সূর্যকে হারিয়া যাওয়ার দৃশ্য অবলোকন করা নিঃসন্দেহে দারুন ব্যপার।

কুয়াকাটা বেরী বাঁধ পেরিয়ে সমুদ্র সৈকতের দিকে যেতেই বাম দিকে ব্যক্তিগত উদ্দ্যোগে মিউজিয়াম স্থাপন করা হয়েছে। এরপরই কয়েক গজ দক্ষিণে “ফার্মস এন্ড ফার্মস” এর রয়েছে বিশাল নারিকেল বাগানসহ ফল ও ফুলের বাগান। এ বাগানের মধ্যে স্থাপন করা হয়েছে বেশ কয়েকটি পিকনিক স্পট, এ পিকনিক স্পট পরিদর্শনের পরেই রয়েছে কাংখিত ১৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের বিশাল সমুদ্র সৈকত। এ সৈকতের পূর্ব দিকে এগুলোই প্রথমে দেখা যাবে নারিকেল বাগান, সুন্দর আকৃতির ঝাউ বাগান। বন বিভাগের উদ্দ্যোগে বিভিন্ন প্রজাতির ঝাউগাছ লাগিয়ে সমুদ্র সৈকতের শোভা বর্ধন করা হয়েছে। এ নারিকেল ও ঝাউবাগানের মধ্যেও রয়েছে পিকনিক স্পট যেখানে পর্যটকরা দল বেঁধে বনভোজনের অনাবিল আনন্দে নিজেদের একাকার করে তোলে। তার থেকে একটুই পূর্ব দিকে আগালেই চর-গঙ্গামতির লেক, সেখান থেকে একটু ভিতরে দিকে এগুলেই সৎসঙ্গের শ্রী শ্রী অনুকূল ঠাকুরের আশ্রম ও মিশ্রীপাড়া বিশাল বৌদ্ধ বিহার। সমুদ্র সৈকতের পশ্চিম দিকে লেম্বুপাড়ায় প্রতি বছর আশ্বিন থেকে চৈত্র মাস পর্যন্ত জেলেরা প্রাকৃতির উপায়ে গড়ে তুলে শুটকী পল্লী। এ শুটকী পল্লীতে সাগরের বিভিন্ন প্রজাতির মাছ প্রাকৃতিক উপায়ে শুটকীতে রূপান্তরিত করে সারা দেশে সরবরাহ করে।

কুয়াকাটায় সূর্যোদয় দেখার জন্য ঝাউবনে যাওয়াই ভালো। সেখান থেকেই সূর্যাস্ত ভালো দেখা যায়, সমুদ্রের পেট চিড়ে কিভাবে সূর্য উঠে তা দেখার জন্য আপনার মতো আরও অনেক লোকই আপনার আগে চলে যাবে সেখানে সন্দেহ নেই। সকাল বেলা হেটে হেটে ঝাউবনে যেতে সময় লাগবে ২০ মিনিট। আর ভ্যানে গেলে লাগবে ১০ মিনিট। সেখানে সারি সারি গাছ ভালো লাগবে। এই বনটি সরকার বনায়ন পরিকল্পনার অধীনে তৈরী করেছে। কারো কারো কাছে সূর্যোদয়ের চেয়ে সূর্যাস্তের দৃশ্যটা বোধহয় বেশি চমৎকার লাগে। সুর্যটা সমুদ্রে ডুবে যাওয়ার সময় রংয়ের পরিবর্তনটা আপনি স্পষ্টই দেখতে পাবেন।

সমুদ্রের গর্জন দিনের বেলা সাধারণত আশে পাশের শব্দের কারনে শোনা যায় না। সমুদ্রের যে একটা ভয়ংকর রূপ আছে তা বোঝা যায় রাতে। যদি রাতে সমুদ্রের গর্জন শুনতে চান তবে অবশ্যই যেতে পারেন সেখানে। নিরাপত্তা জনিত কোন ভয় নেই সেখানে। তবে সাবধানে থাকাই ভালো। সত্যি কথা বললে রাতের সমুদ্রের গর্জন সত্যিই ভয়ংকর। সৈকতের কাছাকাছি কোন হোটেলে থাকলে গর্জন হোটেল থেকেও শোনা যেতে পারে।

দর্শণার্থী ও ভ্রমণ পিপাসুদের জন্য এই সৈকতে আছে ভাড়ায় চালিত মটর সাইকেল ও ঘোড়া। ভাড়া সাধারণত দূরত্ব ও সময় অনুযায়ী হয়। কুয়াকাটার আশে পাশের বেশ কয়েকটি চর আছে। সেগুলি দেখতে আপনি যেতে পারেন স্পিডবোট ও ট্রলার কিংবা ইঞ্জিন চালিত বড় নৌকায় করে। কুয়াকাটায় সমুদ্র সৈকতের আশেপাশে বেশ কয়েকটি পিকনিক স্পট রয়েছে। সেগুলিতে রান্না করার সকল ব্যবস্থা আছে। চুলা, খড়ি, হাড়ি, পাতিল থেকে বাবুর্চি পর্যন্ত।

সমুদ্র উপকূলে পর্যটকদের ভ্রমণের জন্য রয়েছে- সমুদ্র ভ্রমণকারী জাহাজ ও ট্রলার এবং স্পিড বোট। এসব জাহাজ ও ট্রলারে উঠে পর্যটকরা সুন্দরবনের অংশ বিশেষ ফাতরার চর, সোনার চর, কটকা, হাঁসার চর, গঙ্গামতির লেক ও সুন্দরবন সহ গভীর সমুদ্রে বিচরণ করে অফুরস্ত আত্মতৃপ্তিতে নিজেদের ভরে তোলে। সমুদ্র ভ্রমণকারী জাহাযে থাকা খাওয়ার সু-ব্যবস্থা রয়েছে।

কুয়াকাটায় সীমিত সংখ্যক দোকান আছে আপনি আপনার প্রয়োজনীয় ও সৌখিন জিনিসপত্র ক্রয় করতে পারবেন সেসব দোকান থেকে। দাম অপেক্ষাকৃত একটু বেশি হলেও অনেক নতুন নতুন আইটেম পাবেন। কুয়াকাটায় দেখার আরেক আকর্ষণ শুঁটকিপল্লি। কুয়াটায় শুটকি পল্লী থাকায় এখানে অনেক কম দামে বিভিন্ন সামুদ্রিক মাছের শুটকি পাবেন। ইলিশ, রূপচাঁদা, হাঙর, লইট্যা, শাপলাপাতাসহ অসংখ্য প্রজাতির মাছ রোদে শুকিয়ে শুঁটকি বানিয়ে বিদেশে রপ্তানি করা হয়। বিশাল এলাকায় চ্যাঙ বানিয়ে শুঁটকি তৈরির পদ্ধতি দেখা আরেক মজার অভিজ্ঞতা।

রাখাইন পল্লী:
কলাপাড়া উপজেলার পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটা সৈকতের মনোরম দৃশ্য উপভোগের সাথে পর্যাটকদের জন্য রয়েছে বারতি আকর্ষন আদিবাসী রাখাইনদের স্থাপথ্য নিদর্শন। রাখাইন সম্প্রদায়ের প্রায় দুইশত বছরের পুরানো ঐতিহ্য রয়েছে। “গৌতম বুদ্ধের” বিশাল আকৃতির মূর্তি দেখতে পারেন। দেশের সবচেয়ে বড় বৌদ্ধ মন্দিরটির অবস্থান কুয়াকাটা থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে রাখাইন পল্লীতে। গৌতম বুদ্ধের এই ধ্যানমগ্ন মূর্তিটি ৩৬ ফুট উঁচু এবং এর ওজনসাড়ে ৩৭ মন। কুয়াকাটা থেকে সেখানে যাওয়ার জন্য মটর সাইকেল প্রধান বাহন। জানা গেছে, মন্দিরের নির্মান সৌন্দর্য চীনের স্থাপত্য অনুসরন করা হয়েছে।দেখে মনে হবে থাইল্যন্ড বা মিয়ানমার

কিভাবে যাবেন কুয়াকাটাঃ
ঢাকা থেকে সড়কপথে এর দূরত্ব ৩৮০ কিলোমিটার, বরিশাল থেকে ১০৮ কিলোমিটার। ঢাকা থেকে বেশ কয়েকটি বাস এখন সরাসরি কুয়াকাটা যায়। ঢাকা থেকে সরাসরি দ্রুতি পরিবহন, সাকুরা পরিবহনসহ একাধিক পরিবহনের গাড়ীতে গাবতলী কিংবা সায়েদাবাদ বাসস্ট্যান্ড থেকে কুয়াকাটায় আসতে পারবেন। আপনি এসব বাসে গেলে আপনাকে কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত থেকে ২০০ মিটার দূরে নামিয়ে দিবে। ভাড়া ৫০০-৫৫০। ঢাকা থেকে কুয়াকাটা বাসে যেতে মোট সময় লাগে প্রায় ১২/১৩ ঘন্টা। খুলনা থেকে কুয়াকাটার উদ্দেশ্যে সকাল ৭ টায় একটি বিআরটিসি বাস ছাড়ে। খুলনা থেকে যেতে সময় লাগে প্রায় ৭/৮ ঘন্টা।

আর উত্তরবঙ্গ থেকে আসতে চাইলে সৈয়দপুর থেকে খুলনা পর্যন্ত রূপসা অথবা সীমান্ত আন্তঃনগর ট্রেনে করে আসতে পারবেন। রাত্রের টেনে আসলে সকাল ৭ টার বিআরটিসি বাসে করে কুয়াকাটা যেতে পারবেন।

তবে বরিশালের পর সড়ক যোগে কুয়াকাটায় পৌঁছাতে আপনাকে লেবুখালী ফেরী পারাপার হতে হবে।

তবে যে সকল পর্যটকরা ঢাকা থেকে নৌ পথে কুয়াকাটায় আসতে চান, তারা ঢাকা সদরঘাট থেকে বিলাস বহুল ডাবল ডেকার এম.ভি পারাবত, এম.ভি সৈকত, এম.ভি সুন্দরবন, এম.ভি সম্পদ, এম.ভি প্রিন্স অব বরিশাল, এম.ভি পাতারহাট, এম.ভি উপকূল লঞ্চের কেবীনে উঠে সকালের মধ্যে পটুয়াখালী কিংবা কলাপাড়া নেমে রেন্ট-এ-কার যোগে এবং পটুয়াখালী-কুয়াকাটা রুটের বাসে চড়ে পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটা পৌঁছাতে পারেন।

ঢাকা থেকে উল্লেখিত রুট সমূহের লঞ্চ গুলো বিকাল ৫ থেকে সন্ধ্যা ৭ টার মধ্যে লঞ্চ ঘাট ত্যাগ করে থাকে।

লঞ্চে সিঙ্গেল কেবিন ভাড়া ৯০০ টাকা।

Source: T A Sumaiya Akhi‎ <Travelers of Bangladesh (ToB) – ভ্রমন গাইড বাংলাদেশ

 

5 Dec 2018

বর্তমানে চন্দ্রনাথ পাহাড় হচ্ছে আলোচিত বিষয় এর শীর্ষে।
সবাই একদিনের টুর হিসেবে চন্দ্রনাথ+গুলিয়াখালি+মহামায়া এ কায়াকিং এর দিকেই যাচ্ছে
আমার আগে কায়াকিং করা হয়েছে…তাই এবার আমি মহামায়া নাহ গিয়ে টুর প্লেন করলাম একটু অন্য ভাবে

চন্দ্রনাথ পাহাড়+সুপ্তধারা ঝর্না+গুলিয়াখালি
বলে রাখি, একদিনের জন্য এটা কষ্টের…একটু সময় বিবেচনা করলেই করা যায়।

তাহলে শুর করা যাক … …
মেইল ট্রেন ই আমাদের ভরশা,  চিটাগং মেইল, ভারা ১১০ করে …৭ টায় সীতাকুণ্ড বাজার। হালাকা নাস্তা সেরে … অতিরিক্ত পানি নিয়ে চলে যান পাহারের উদ্দেশে। বাজার থেকে সিনজি, জন প্রতি ২০ টাকা। নিচ থেকে বাশ কিনে নিন, ১০ টাকা। বাশ এর উপকারিতা উঠার সময়ই বুঝবেন। পাহাড়ের চলা শুরু করার পর কিছু দূর যেতেই একটা ঝর্না পাবেন। এখান থেকেই আপনার যাত্রা শুরু। এখানে ২টা রাস্তা বাম এবং ডান। বাম দিকের টা উঠার জন্য আর ডান এর টা নামার জন্য ভাল (কষ্ট কম হবে আর কি)। আমরা ৩জন ছিলাম (তাল পাতার সেপাই) ১ ঘণ্টা ১০/১৫ মিনিটের মধ্যে মন্দিরে। এত কষ্টের পর শীর্ষে যাবার পর যা দেখবেন তা এক কথায় অসাধারন। এখানে আপনার মন মত সময় কাটিয়ে নেমে আসুন। সিনজি করে চলে আসুন সীতাকুণ্ড বাজারে।

ভারি খারাব খেয়ে নিন।

এবার গন্তব্য ঝর্না। বাজার থেকে বাস জন প্রতি ১০ টাকা সীতাকুণ্ড ইকো পার্ক। মেইন রোড থেকে হাটা দিন। ১০ মিনিট এর মধ্যে মেইন গেট। ইকো পার্ক এর এন্ট্রি ২০ টাকা জন। একটাই পিচ ঢালা রাস্তা, হাটা দিন। গেইট থেকে ঝর্নার দুরুত্ত ১.১ কিলো। প্রকিতির সুন্দরজ দেখতে দেখতে চলে আসবেন, (রাস্তা বাম দিকে বাক নিয়েছে) একটি দোকানের কাছে। এখান থেকে ডান দিকে সিঁড়ি পাহাড়ের নিচে যাবার সিঁড়ি। নামুন (অনেক খাড়া সিঁড়ি, সতর্ক ভাবে নামুন)। সিঁড়ি শেষে ঝিরি পথ। পথের বাম পাশ দিয়ে চলুন। কান পাতুন, গর্জন শুনতে পাচ্ছেন। কিছু দূর যাবার পরি দেখা মিলবে অপরূপ সুন্দরযের সুপ্তধারা ঝর্নার। এটি জেগে উঠে বর্ষায়। এতো কষ্টের ফল বিফলে যায় নি। টাণ্ডা পানিতে সব ধুয়ে গেছে।
মেইন রোড থেকে বাসে করে চলে আসুন বাজারে। নাস্তা করে নিন।

এবার আসা যাক গুলিয়াখালি নিয়ে কিছু কথা বলা। এখানে বিকালে যাওয়াটাই ভাল। বিকাল ভাঁটা এর সময়। জোয়ারে এ গেলে দেখবেন সুন্দর গাছ গুলো পানির তলে।

তাই বিকালে বাজার থেকে সিনজি করে চলে আসুন বিচের দিকে। জন প্রতি ৩০ টাকা। এখান থেকে আবারো হাটা দিন। সমুদ্রের শীতল বাতাসে হাটতে কষ্ট হবে না বলাই বাহুল্য। আর গুলিয়াখালি সী বিচ নিয়ে নতুন কিছু বলার নাই। ইতি মধ্যে সবাই জানে এর সুন্দরয এর কথা। বাজারে চলে আসুন বিচে একটু দাপাদাপি করে।

সকল ঘুরাঘুরি শেষ। এবার নীড়ে ফিরার পালা।

সময় বিবেচনাঃ
১২টা পর্যন্ত থাকুন পাহারে। ৪টা পর্যন্ত ঝর্নার সাথে সময় কাটান। ৬টা পর্যন্ত বিচে।
৫-৬ জনের গুরুপ করে গেলে সিনজি নিতে ভাল হবে। আমাদের বার বার রিজার্ভ করতে হয়েছিল।

খরচঃ
(মেইল) কমলাপুর থেকে ট্রেন ১১০
সীতাকুণ্ড বাজার থেকে পাহাড় ২০
পাহাড় থেকে বাজার ২০
বাজার থেকে ইকো পার্ক মেইন রোড ১০
পার্কে এন্ট্রি ২০
পার্ক থেকে বাজার ১০
বাজার থেকে গুলিয়াখালি ৩০
গুলিয়াখালি থেকে বাজার ৩০
বাজার থেকে বাসে চিটাগং ৩০
(মেইল) চিটাগং থেকে ট্রেন কমলাপুর ১২৫
(জনপ্রতি ভাড়া) মোট ৪০৫
খাওয়া দাওয়া আপনার উপর। এখানে শুধু যাতায়েত খরচ।

*****ঢাকা আসার সময় এক্সপ্রেস ট্রেন অথবা বাস এ করে চলে আসলে ভাল হবে। মেইল এ মেলা কষ্ট।

সর্বশেষঃ আসছেন আপনি প্রকিতি দেখতে, নষ্ট করতে নাহ। পাহারে উঠার সময় পানির বতল গুলে সিঁড়ি এর আশে পাশে ফেলবেন নাহ। আকা আকি করবেন নাহ। মন্দিরে উঠে চিল্লা পাল্লা করবেন নাহ। যেখানেই যান পরিবেশ পরিষ্কার রাখবেন।

Source:TanVir Tonu‎>Travelers of Bangladesh (ToB)

5 Dec 2018

পদ্মঝিরি-দেবতাপাহাড়-অমিয়াখুম-সাতভাইখুম-ভেলাখুম-নাইক্ষ্যং লেক-নাফাখুম-রেমাক্রি-তিন্দু-বড়পাথর-সাংগু

বিশ্ব ভ্রমণের চিন্তাভাবনা যারা করে রেখেছেন, তারা একটু এদিকে আসেন, অর্থাৎ বান্দরবানের দিকে আগে ঘুরে আসেন।
বিশেষ করে যারা পাহাড়-নদী-ঝর্ণার প্রেমে আগে থেকেই নিমগ্ন, তাদের জন্য বান্দরবান পারফেক্ট জায়গা। বাংলাদেশের অনেক জায়গা ভ্রমণ করলেও এই জায়গায় যাওয়ার অতৃপ্তি নিয়ে অনেকদিন বসে ছিলাম, অবশেষে সেই অপেক্ষার প্রহর শেষ হল।
আবার বলা যায় ভ্রমণপিপাসু হিসেবে একটা স্বপ্নপূরণ হয়েছে, সেই ভ্রমণের বর্ণনাই আজকে দিচ্ছি…

২১ নভেম্বর,২০১৮
চট্টগ্রাম থেকে বান্দরবানগামী পূরবী পরিবহণের ভোর ৬ টা ১০ এর ফার্স্ট ট্রিপে আমাদের ১২ জনের টিমের অফিসিয়ালি যাত্রা শুরু হয়(আনঅফিসিয়ালি ভোর সাড়ে ৪ টা  বাস প্রায় ৯ টা নাগাদ আমাদেরকে বান্দরবান নামিয়ে দেয়। আগে থেকে ঠিক করা চাঁন্দের গাড়ি বাস স্ট্যান্ডে এসে আমাদের জন্য অপেক্ষা করছিল। সেটায় উঠে হোটেলে গিয়ে নাস্তা শেষ করে আমরা থানচির উদ্দেশ্যে রওনা করি।
উল্লেখ্য, বান্দরবানে আমাদের সাথে চট্টগ্রাম থেকে আসা ৫ জনের একটা গ্রুপ এড হয়, অর্থাৎ আমরা হয়ে যাই ১৭ জনের এক বিশাল টিম। যাইহোক, থানচি যাবার পথে দুবার বিজিবি ক্যাম্পে আইডি কার্ড জমা দেয়া এবং সাইন করা লাগে, কয়েকটা জায়গায় চেকিং বা ওয়াশরুমের জন্যও দাড়ানো লেগেছে। তার উপর ছুটির দিন হওয়ায় প্রত্যেকটা পয়েন্টে ওইদিন প্রচন্ড ভীড় ছিল। তবু আমাদের ড্রাইভার মামা তার ল্যান্ডক্রুজার নিয়ে ঝড়ের বেগে টানায় ((২)) টার মধ্যেই আমরা থানচি পৌঁছে গিয়েছিলাম।

এখানেও আমাদের গাইড “উখিরাম” দা আগে থেকে স্ট্যান্ডে অপেক্ষারত ছিল। তো থানচি নেমে “হোটেলে ভাত খাওয়া, টুকটাক জুতা এবং খাবার জিনিসপত্র কেনা, পুলিশ ক্যাম্পে আইডি কার্ড জমা দেয়া এবং গ্রুপ ছবি তোলা, বিজিবি ক্যাম্পে নিজের পরিচয় লেখা, প্রত্যেকের জন্য লাইফজ্যাকেট ভাড়া নেয়া, ট্রেকিংয়ের জন্য ড্রেসাপ চেঞ্জ করে রেডি হওয়া এবং ৩ দিনের জন্য নেটওয়ার্কের বাইরে যাবার আগে পরিবারের সাথে একবার কথা বলে নেয়া” এই কাজগুলো করতে করতে প্রায় ৩ টার উপর বেজে যায় আমাদের। তারপর নৌকায় উঠে প্রায় ৩০ মিনিট পরে আমরা পদ্মমুখ এসে পৌঁছাই এবং এখান থেকেই পদ্মঝিরি ধরে ঠিক ৪ টা ১০ মিনিটে আমাদের সুবিশাল ট্রেকিং পথ শুরু হয়।

শীতকাল একটা কারণ এবং পাহাড়ে খুব তাড়াতাড়ি সন্ধ্যা হয় এটা আরেকটা কারণ, যার ফলে ১ ঘন্টা পরই আমাদের সবার টর্চ লাইট অন করতে হয়। অর্থাৎ পুরো ট্রেকিংটাই আমাদের রাতে করতে হয়েছে। যাবার পথে আমরা তিনটি পাড়া পেয়েছিলাম যার মধ্যে হরিশচন্দ্র পাড়ায় একটা নাস্তার ব্রেক নিই এবং অন্য সময় বিভিন্ন পয়েন্টে দাঁড়িয়ে রেস্ট নিই। অন্ধকারে পিচ্ছিল পাথরের ঝিরিপথ দিয়ে হাটা, কনকনে ঠান্ডা পানিতে পা দিয়ে খাল পার হওয়া, উঁচুনিচু অগণিত ভায়াগ্রা পাহাড় পার হওয়া এবং শেষের দিকে গয়ালের(বন্যগরু টাইপের) মুখোমুখি হওয়া সবকিছুই ছিল এই ট্রেকিংয়ের ভয়ংকর অভিজ্ঞতা। যাবার পথে কতবার যে পায়ের রগে টান খেয়ে দুই পা অচল হয়ে পড়ছিল আর লাইফজ্যাকেট+ব্যাগের ভারে কাঁধ যে কতটা ব্যাথা করছিল তার হিসেব না করলেই ভাল হয়। আমাদের থাকার জায়গা জিনাপাড়ায় যখন পৌঁছাই তখন ঘড়িতে বাজে রাত প্রায় ১০ টা ১৫ মিনিট। থাকার জায়গা আগে থেকেই ঠিক করে রেখেছিল উখি দা। সবার শরীর তখন অসাড়, কেউ কেউ তো ফ্রেশ হওয়া-খাওয়া বাদ দিয়ে মাটিতে লুটিয়ে ঘুম দিয়ে দিল। উল্লেখ্য, ট্রেকিংয়ের সময় আমাদের সামনে থাকা প্রায় ৩-৪ টা গ্রুপকে পেছনে ফেলা স্বত্ত্বেও আমাদের ৬ ঘন্টা লেগে গিয়েছিল।

সত্যিকথা বলতে, ১ম দিনের এই ৬ ঘন্টার ট্রেকিং যে আমাদের জন্য এত কষ্টের এবং কঠিন হবে তা আমরা কল্পনায়ও ভাবিনি। ১৭ জনের মধ্যে আমাদের ৪ জনের কেওক্রাডং রুটে ৪৮ কি.মি. ট্রেকিংয়ের অভিজ্ঞতা ছিল, কিন্তু এই ৪ জনের অবস্থাও বেগতিক হয়ে গিয়েছিল।

২২ নভেম্বর,২০১৮
১ম দিনের ট্রমা থেকে উঠতে সবার ই একটু সময় লেগেছে, কারণ অনেকেই বিভিন্ন ওষুধ খেয়ে ঘুম দিয়েছিল। তাই আমাদের একটু দেরী হয়ে যায়। যাদের ঘরে থাকছি, অর্থাৎ সাদু দা এবং দিদি’র বানানো সুস্বাদু ডিম খিচুড়ি খেয়ে সকাল ১০ টায় আমরা অমিয়াখুমের উদ্দেশ্যে রওনা করি। প্রথমেই আমাদের বিশাল এক ভায়াগ্রা পাহাড় পার হতে হয়, এরা আসলে দেবতা পাহাড়ের ছোট ভাই, শুধু উপরের দিকে উঠতেই থাকে তো প্রায় ৪৫ মিনিট ট্রেকিংয়ের পর বিখ্যাত দেবতাপাহাড়ের চূড়ায় এসে পৌঁছাই আমরা, এবার নামার পালা। এই পাহাড় ডিঙানোর বড় সমস্যা হল একেতো ৮০° খাড়া, তার উপর সরু আঁকাবাঁকা পথ, ক্ষণে ক্ষণে বিশাল বিশাল পাথর এবং গাছের গুড়ি পড়ে আছে। নামতে তাই অসম্ভব রকমের সাবধানতা অবলম্বন করতে হয় সাথে বোনাস হিসেবে হাঁটুর জয়েন্টের ব্যাথা তো আছেই! যাইহোক দুপুর ১২ টা নাগাদ আমরা পাহাড়ের নিচে এসে পৌঁছাই। পাহাড় থেকে নামার পর ডানে ভেলাখুম এবং বামে অমিয়াখুম-সাতভাইখুম। যেকোনো খুমে যেতেই ১০ মিনিটের মত পাথরের উপর উঠানামা করা লাগবে। তো আমরা প্রথমে অমিয়াখুমের দিকে যাই।
অমিয়াখুমের সবচেয়ে বড় সৌন্দর্য্য হল এর স্বচ্ছ সবুজ পানি এবং চারপাশে ঘিরে থাকা বিশাল বিশাল পাহাড়। ক্যাম্পিং করে পূর্ণিমা কাটানোর জন্য অন্যতম সেরা একটা জায়গা বটে। পানি অসম্ভব ঠান্ডা হওয়ায় কয়েকজন ছাড়া বাকীরা গোসল করতে নামেনি। দেবতাপাহাড় আমাদের পেটে লাড়াচাড়া দিয়ে ফেলেছিল। তাই এই লাড়াচাড়া বন্ধ করতে উখি দা এবং আকুরণ দা(ইনি আজকের দিনের জন্য সহকারী গাইড ছিল) চটপট ব্যাগে করে আনা ম্যাগি নুডলস নামিয়ে রান্না করে দেয়। নুডলস খেয়ে ছবি তোলা শেষ করে আমরা ভেলাখুমের দিকে যাই।

ব্যক্তিগতভাবে বললে, ভেলাখুম অতটা আকর্ষণীয় লাগেনি যতটা আমরা ছবিতে দেখেছি। দুরত্ব মাত্র ৫-৭ মিনিটের আসা-যাওয়া, সাথে মানুষের তুলনায় ভেলার সংখ্যাও কম, ভেলায় করে ওই পাশে গিয়ে আবার হেঁটে পাওয়া যায় নাইক্ষ্যং লেক। তবে দুই পাহাড়ের মাঝখান দিয়ে স্বচ্ছ পানির উপরে বাঁশের ভেলা চড়া কিংবা নিজে চালানো একটু ভিন্ন অভিজ্ঞতার যোগান দেয়। ভেলা চড়া শেষ যখন, তখন সাড়ে ৪ টার উপরে বাজে, অথচ অন্ধকার হবার আগে যেকোনোভাবে আমাদের দেবতাপাহাড়ের চূড়ায় পৌঁছাতে হবে। তাই এক মুহুর্তও দেরী না করে আমরা জিনাপাড়ার উদ্দেশ্যে রওনা করি। নামতে ছিল ঝুঁকি, এবার উঠতে গিয়ে শুরু হাপানী। তবু নামার তুলনায় আমরা খুব তাড়াতাড়ি এবং কম কষ্ট পেয়ে উঠেছি বলা যায়। সূর্য যখন ডুবে যাচ্ছে, তখন আমরা দেবতাপাহাড়ের চূড়ায়। কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিয়ে গ্লুকোজ গুলিয়ে খেয়ে এই পাহাড়কে লাল সালাম দিয়ে আমরা গন্তব্যে হাঁটা দেই। যাবার পথে একজনের ডাক শুনে পিছনে তাকিয়ে দেখি পূর্ণিমার চাঁদ আমাদের দিকে তার অপরূপ সৌন্দর্য নিয়ে মায়াবী দৃষ্টিতে তাঁকিয়ে আছে, দেখে সত্যিই মনটা ভরে যায় পুরো দিনের ক্লান্তিটা যেন এখানেই শেষ। রাত প্রায় সাড়ে ৬ টা নাগাদ আমরা জিনাপাড়ায় পৌঁছাই। সেখানে চা-নাস্তা খেয়ে, আড্ডার আসর বসিয়ে, বিভিন্ন হিসাব-নিকাশ শেষ করে সকালে নিজেদের জবাই করে দিয়ে যাওয়া পাহাড়ী মুরগী দিয়ে আমরা রাতের খাবার শেষ করি, খাবার টা যা সুস্বাদু ছিল! ২য় দিন এত কষ্ট হলেও কেন যেন আগের দিনের মত ক্লান্তি ছিলনা, হয়তো আমরা ঝর্ণা আর পাহাড়ের সৌন্দর্য্যের কাছে হার মেনে গেছি!

২৩ নভেম্বর, ২০১৮
আজকে আমরা নাফাখুম ঘুরে রেমাক্রি গিয়ে থাকব, তাই অত তাড়া ছিলনা। আগের দিনের মত সকাল ১০টায় রওনা করি। জিনাপাড়াকে বিদায় জানানোর আগে এই পাড়া সম্পর্কে কিছু কথা বলতে হয়। পাড়াটা যথেষ্ট বড়, একটা পাহাড়ের চূড়া বলা যায়, পাড়ার মানুষগুলো অসম্ভব ভাল এবং সুন্দরও বটে  উনাদের রান্না ছিল অতুলনীয়, যখনই খেয়েছি ২-৩ প্লেট করে নিয়েছি।
জিনাপাড়া থেকে নাফাখুম যাবার পথ টা অস্বাভাবিক রকমের সুন্দর, রেমাক্রি খালের পাড় ধরে বালু এবং পাথরের উপর দিয়ে হাঁটতে হয়, কখনো খাল পার হতে হয় আর একটা খালের পানি এতটা পরিষ্কার হতে পারে সেটা খালি চোখে না দেখলে কখনো বিশ্বাস হত না, সুবহানআল্লাহ বলতে হয়। আড়াই ঘন্টা মজা করে হাটার পর আমরা নাফাখুম এসে পৌঁছাই। আসার সময় দূর থেকে ঝিরির আওয়াজ শোনা যাচ্ছিল, আর এসে সবাই কিছুক্ষণ হাঁ করে এই রূপসী মায়াবতীর দিকে তাকিয়ে ছিলাম। দেরী না করে এক এক করে সবাই পানিতে ঝাঁপিয়ে পড়ি, কেউ লাইফজ্যাকেটসহ কিংবা কেউ ছাড়া। এখানে একটা ভয়ানক ঘটনা ঘটেছিল, সেটা শেষের দিকে বলছি, এখন আমার কিংবা আপনাদের কারো মুড নষ্ট করতে চাচ্ছিনা।

তো.. কেমন লেগেছে নাফাখুম?? এই প্রশ্নের এক কথায় উত্তর-“এই ট্যুরের সবচেয়ে সেরা প্রাপ্তি আমাদের প্রত্যেকের জন্যই, শুধু আমার না!” সরাসরি না দেখলে ছবি কিংবা ভিডিও দিয়ে কখনোই কাউকে বলে বোঝানো যাবেনা যে কতটা ভয়ংকর রকমের সুন্দর আল্লাহর এই অপরূপ সৃষ্টি। আয়নার মত স্বচ্ছ পানি, সেই পানি পড়ার আওয়াজ, পানিতে থাকা বিশাল মাছ, চারপাশের সৌন্দর্য আর পানিতে নামার পর পাওয়া সেই স্বর্গীয় অনুভূতি, প্রত্যেকটা জিনিসই আজীবনের জন্য আমাদের মনে গেঁথে গেছে।

অমিয়াখুমে আমরা ঠান্ডার জন্য নামতে পারিনি, অথচ এখানে ঠান্ডাই লাগেনি, লাগলেও সেটা ভুলে গেছি।

তো গোসল, লাফালাফি, ছবি তোলা শেষ করে ঠিক পাশেই থাকা নাফাখুম পাড়ায় গিয়ে আমরা ফ্রেশ হয়ে দুপুরের খাবার সেড়ে নেই। এখানেও আইটেম ছিল পাহাড়ি মুরগী এবং রান্না ছিল অতুলনীয়। কবির ভাষায়, “যেতে নাহি চাহে মন তবু চলে যেতে হয়” এর মতন করে রূপবতী নাফাখুমকে টাটা জানিয়ে আমরা রেমাক্রির উদ্দেশ্যে রওনা করি।ততক্ষণে ঘড়ির কাঁটায় সময় ৪টা ১০ মিনিট। নাফাখুম থেকে রেমাক্রি আসার পথের যদি বর্ণনা করি তবে বলতে হবে ভয়ংকর। প্রায় ৫-৬ বার রেমাক্রি খাল পেরোতে হয়। নাফাখুমের আগে যেমন স্রোত এবং পানি কম ছিল, নাফাখুমের পরে তার উলটো। প্রচন্ড স্রোত, হাঁটু/কোমড় পানি, পানির নিচে পিচ্ছিল পাথর, তার উপর অক্টোবরে একটা ছেলে মারা যাওয়ার জায়গাটাও দেখিয়েছিল আমাদেরকে উখিদা। আমরা হাটু পানি পেয়েছিলাম সেখানে, কিন্তু বর্ষায় প্রচুর স্রোত এবং গলাপানি থাকে, দড়ি দিয়ে পেরোতে হয় তখন। যাইহোক, অন্ধকারে টুকটাক ভয়কে সঙ্গী করে অবশেষে সাড়ে ৬ টা বাজে আমরা রেমাক্রি এসে পৌঁছাই। এখানেও আবার সাঙ্গু নদী পেরোনো লাগে | অর্থাৎ আমাদের সাথে হেঁটে এসে রেমাক্রি খাল এখানে সাঙ্গু নদীর সাথে মিশেছে। কিন্তু জায়গাটার সৌন্দর্য দেখে কখন যে সবাই সবার হাত ধরে নদী পার হয়ে গেছি টেরও পাইনি!
তারপর সিড়ি দিয়ে উপরে উঠে শিরবীলী কটেজ নামক একমাত্র থাকার জায়গায় ব্যাগ নামক বস্তা রেখে ফ্রেশ হয়ে আমরা চটপট নিচে নেমে যাই নাস্তা খেতে।

এইদিন ছিল পূর্ণিমার রাত, চাঁদটা এমনভাবে দেখা যাচ্ছিল, মনে হচ্ছিল “দুই কুয়াশাঘেরা পাহাড়ের নিচ থেকে সগর্বে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে চাঁদমামা তার অপরূপ মহিমায় আরেকটা ছোট্ট পাহাড়ের উপর সৌন্দর্য্যের ফুলঝুরি ছড়াচ্ছে”। আমি মনে হয় কাউকে বুঝাতে পারিনি সৌন্দর্যরূপটা। আসলে আরো কয়েকটা পূর্ণিমারাত কাটাতে হবে সেখানে, সেই শপথ ইতিমধ্যে করে এসেছি।

এইরাতে আমাদের ক্লান্তি ছিলনা বললেই চলে, গত ২ দিনের তুলনায় ট্রেকিংয়ে কষ্ট ছিল কম, সৌন্দর্য ছিল বেশী, সবশেষে রেমাক্রি ফলস এবং সাঙ্গু নদীর তীরে ক্যাম্প ফায়ার করে পূর্ণিমা উপভোগের স্মৃতিটা আজীবন অমলিন হয়ে থাকবে।

রাতে আমাদের খাবারের বাজে অভিজ্ঞতা হয়েছিল, বলা যায় এই ট্যুরের একমাত্র। শিরবীলী কটেজে থাকা নিয়ে কোনো অভিযোগ না থাকলেও কটেজের অধীনে থাকা হোটেলের খাবার ছিল তীব্র রকমের জঘন্য, এখানকার জামাল নামক বাবুর্চি আলুভর্তা কে বানিয়ে রেখেছিল মরিচভর্তা, ডালকে বানিয়েছিল “তরকারির লবণ ছাড়া ঝোল”, ভাগ্য ভাল যে আমরা মুরগী অর্ডার না করে ডিমভাজি অর্ডার করেছিলাম। উনাকে ইচ্ছেমত বাঁশ দিয়ে আসছি বটে, কিন্তু পেটকে এখনো শান্ত করতে পারিনি। তাই সবাইকে সাজেস্ট করব নিচের বেড়ার হোটেলগুলোতে খেতে। আমরা নিচেই সকালের নাস্তা করেছিলাম। তো রাতের খাবারের কারণে আমাদের কারোই ভাল ঘুম হয়নি, তবে এখানে আগের ২ রাতের চেয়ে ঠান্ডা ছিল কম, হয়তো নদীর তীর হওয়ায়।

২৪ অক্টোবর, ২০১৮
ভোরে উঠে কুয়াশাঘেরা অন্যরকম এক রেমাক্রিকে দেখতে পেলাম। এইদিন আমাদের তাড়া ছিল, কারণ বান্দরবান থেকে চট্টগ্রামের শেষ বাস সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টা। তাই সকাল ১০ টার মধ্যে রেমাক্রি ফলসে টুকটাক ফটোশুট করে এবং নাস্তা করে নৌকায় উঠে আমরা থানচির উদ্দেশ্যে রওনা করি। এইদিককার নৌকা ভ্রমণ কিন্তু পুরোপুরি ভিন্ন। সরু লম্বা নৌকা, এক পাশে টারবাইন, দুই পাশে বৈঠা হাতে দুই মাঝি, দুইপাশে পাহাড় এবং ছোট-বড় পাথরের উপর কিংবা পাশ দিয়ে নৌকা প্রায় উল্টাবে উল্টাবে এমন অবস্থায় ঝড়ের গতিতে নৌকা চলতে থাকে। বড়পাথরের আগে একটা জায়গায় আমাদের সবাইকে নামতে হয়েছিল, কারণ এখানে স্রোত একটু বেশী, ৬ জনকে নিয়ে নৌকা উল্টে যেতে পারে। তারপর আবার নৌকায় উঠে কিছুক্ষণ পর পৌঁছে যাই “বড়পাথর” নামক জায়গায়। বড় বলতে বিশাল বিশাল সাদাপাথর নদীর উপর রাজার মত দাঁড়িয়ে আছে, সেগুলোকে পাশ কেটে এঁকেবেকে আমাদের নৌকা ছুটে চলেছে। এখানে আপনি এক মুহুর্তের জন্যেও নৌকা দাঁড় করাতে পারবেন না, স্রোত নিয়ে পাথরে বাড়ি খাওয়াবে, আমাদের এক মাঝির বৈঠা পরে গিয়েছিল স্রোতে, পরে অনেক কষ্টে উদ্ধার করেছিলাম। এই জায়গায় আমাদের একটা একশন সেল্ফি আছে, সেটা দেখলে আপনারা আইডিয়া পাবেন যে জায়গাটা কত সুন্দর এবং পানি কতটা পরিষ্কার। নদীপথের এই রোমাঞ্চকর দুই ঘন্টার ভ্রমণ ছিল আমাদের ট্যুরের শেষ এডভেঞ্চার। প্রায় ১২ টা নাগাদ আমরা থানচি এসে পৌঁছাই। তারপর আবার লাইফজ্যাকেট ফেরত, পরিবারের সাথে কথা এবং বিভিন্ন কাজ শেষে চান্দের গাড়িতে উঠি। দুপুর ১টায় গাড়ি চলা শুরু করলেও বান্দরবান পৌঁছাতে বিকেল ৫টা বেজে যায়, কারণ পথে রাস্তার কাজ চলতেছিল বিধায় এক জায়গায় অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছিল। বান্দরবান নেমে ভাত খেয়ে পূর্বাণী পরিবহণের ৬ টার বাসে উঠে রাত ৯টায় এসে চট্টগ্রাম পৌঁছালে এখানেই আমাদের যাত্রার অফিসিয়াল সমাপ্তি ঘটে।

কেওক্রাডং-বগালেক-কক্সবাজার-সেন্টমার্টিন এই জায়গাগুলোও কিন্তু সুন্দর, তবে খুমের রাজ্য অন্যরকম। বলা যায় “ভয়ংকর সুন্দর”। এই পাহাড়, পাহাড়ের মানুষ,তাদের মন সব কিছুই বিশাল। তার সাথে যদি আয়নার মত স্বচ্ছ পানির নদী, ছড়া ও ঝিরিপথ এবং দেশের সবচেয়ে সুন্দর ঝর্ণাগুলো একত্রিত হয় তখন এই জায়গার আর কোন তুলনা কখনো হয় না। তাই যারা টুকটাক ট্রেকিং করে অভ্যস্ত এবং ভ্রমণপিপাসু তাদের জীবনে অন্তত একবার হলেও এখানে আসা উচিত।

সতর্কতা::
নাফাখুম আসার পর অসাবধানতাবসত আমাদের এক ভাই কাঁধে থাকা ব্যাগ নিয়ে পাথরে পিছল খেয়ে পানিতে পড়ে গিয়েছিল, উনি সাতার জানতেন না, ভাগ্য ভাল যে আগে থেকে কিছু পর্যটক সেখানে গোসল করছিল, উনারা এসে ভাইকে বাঁচিয়েছিল।
দেবতাপাহাড় থেকে নামার সময় আমাদের এক ফ্রেন্ড একপ্রকার উল্টিয়ে পড়ে যেতে লাগছিল, হাল্কা ব্যাথা পেয়েছে।
অমিয়াখুম থেকে আসার পথে পানি পার হবার সময় আমি পিছল খেয়ে পড়ে গিয়েছিলাম, আলহামদুলিল্লাহ্‌ কিছু হয়নি, পানির নিচে পাথরগুলো অত্যন্ত পিছল।
এক ফ্রেন্ড তো পুরো ট্যুরে অন্তত ৪-৫ বার পায়ে ব্যাথা পেয়েছে, একপ্রকার লেংড়াতে লেংড়াতে ট্রেকিং করেছে।
তাই সবাই খুব সাবধানতা অবলম্বন করবেন…
✓ পিচ্ছিল যেকোনো জায়গা পার হবার সময় একজন আরেকজনের হাত ধরে পার হবেন।
✓ ট্রেকিংয়ের শুরুতেই গাইড মামাকে বলে হাতে বাঁশ নিয়ে নিবেন।
✓রাতের জন্য টর্চ লাইট, রোদের জন্য গামছা এবং সানগ্লাস সাথে রাখবেন।
✓ ট্রেকিংয়ের জন্য ভাল গ্রিপওয়ালা জুতা, বিশেষ করে থানচিতে ১২০ টাকার যে জুতাগুলো পাওয়া যায় সেগুলো সেরা। কনভার্স টাইপ জুতা যারাই নিয়েছে, মহাবিপদে পড়েছে।
✓ কাঁধের ব্যাগ যতটা হাল্কা রাখা যায় তত ভাল।
✓ জাতীয় পরিচয়পত্রের ৩টি ফটোকপি সাথে নিবেন ,২টি থানচি যাওয়ার পথে আর ১টি থানচিতে জমা দিতে হবে।
✓ পানি পান করার জন্য ঝিরির পানিই একমাত্র উৎস।
✓ থানচির পর আর বিদ্যুৎ নেই, তাই সাথে পাওয়ারব্যাংক এবং ক্যামেরা-মোবাইল ফুলচার্জ দিয়ে নিবেন।
✓ শুধুমাত্র থুইসাপাড়ায় বাঁশের সামনে মোবাইল রেখে অভিনব পদ্ধতিতে কোনোরকম কথা বলা যায়, এছাড়া আর কোথাও কোনোপ্রকার নেটওয়ার্ক নেই।
✓ সাথে ফার্স্টএইড বক্স+প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র রাখবেন।
✓ সবসময় একসাথে থাকার চেষ্টা করবেন এবং গাইডকে ফলো করবেন।
✓এই ধরণের ট্যুরে সময় মেনে চলা খুবই খুবই গুরুত্বপূর্ণ, ব্যাপারটা মাথায় রাখবেন।

✓যাবার উপযুক্ত সময়::
সেপ্টেম্বর-ডিসেম্বর [পানিও থাকবে, ট্রেকিংও কম কষ্টের হবে]
জানু-মার্চ[পানি কম থাকবে, তবে ট্রেকিং তুলনামূলক সহজ হবে]
বর্ষায় গেলে প্রচুর স্রোত থাকবে, ট্রেকিং খুবই কষ্ট এবং ভয়ংকর হবে, তবে পানি সবচেয়ে বেশী থাকবে।

✓আমাদের গাইড উখিরাম দার নাম্বারঃ 01535035686
খরচ:
চট্টগ্রাম-বান্দরবান-চট্টগ্রাম বাসঃ ১১০+১১০ জনপ্রতি
বান্দরবান-থানচি-বান্দরবান চান্দের গাড়িঃ ১২৫০০/-
বোটঃ ৪০০০/- (আসা-যাওয়া, এক বোটে ৬ জন)
গাইডঃ ৫০০০/- (থাকা খাওয়া আমাদের)
জিনাপাড়ায় থাকাঃ ১৫০/- জনপ্রতি (পার নাইট)
খাওয়াঃ ডিম খিচুরি/ভাত ১২০/-, মুরগী ভাত ১৫০/-, সাথে ডাল, সবজী, আলুভর্তা থাকে।
জনপ্রতি আমাদের ৪০০০ টাকার মত খরচ হয়েছিল।
আমাদের ভ্রমণ ছিল ৩ রাত ৪ দিনের।

বিঃদ্রঃ দয়া করে নদী বা খালের পানিতে কিংবা ঝিরিপথে পলিথিন জাতীয় কিছু ফেলবেন না। এই সৌন্দর্য আমরা যাবার আগে যেমন ছিল, আমরা সেখান থেকে আসার পরে যেন তেমন ই থাকে সেদিকে লক্ষ্য রাখবেন। আর অবশ্যই পাহাড়ের মানুষদের সাথে খারাপ ব্যবহার করবেন না।

Source:Motiour Rahman Shawon‎<Travelers of Bangladesh (ToB)

5 Dec 2018

প্রথমে আমাদের নাফাখুম, আমিয়াখুম যাওয়ার প্ল্যান থাকলেও ওদিকে যেতে না দেয়ায় আমরা চলে আসি চকরিয়া। প্ল্যান করেছিলাম ১ দিনে দমতুয়া ঝর্ণা আর আলির গুহা ঘুরে দেখার। কিন্তু সকালে গাড়ির বিড়ম্বনার জন্য শেষে সময় হয়ে ওঠেনি আলির গুহা দেখার।
২১-১০-১৮ তারিখ সকালে ৭ টার দিকে আমরা চকরিয়া থেকে আলিকদমের জন্য লোকাল গাড়ির স্টেশন গিয়ে গাড়িতে (লোকাল জিপ) উঠে বসি।সকাল ৭ টায় উঠলেও সেই গাড়ি ছাড়ে সকাল ৯ টায় । আমরা মাত্র ৩ জন থাকায় চান্দের গাড়ি ভাড়া করতে পারিনি।
আলিকদম পৌঁছানোর পরে ওখান থেকে বাইক ভাড়া করে আমরা চলে যাই আদুপাড়া (১৭ কিঃমিঃ)। সেখানের আঁকাবাঁকা উঁচুনিচু রাস্তা আর দু’পাশের দৃশ্য আপনার মন জুড়িয়ে দিবে।

আদুপাড়া থেকে লোকাল গাইড সাথে নিয়ে বের হলাম দমতুয়া ঝর্ণার খোঁজে। আমাদের যেতে সময় লেগেছিল ২ঃ২০ ঘন্টা।দমতুয়া যাবার পথেই দেখা মিলবে ব্যাঙঝিরি ঝর্ণার।

দমতুয়া ঝর্ণা এক কথায় অসাধারণ, অতুলনীয়। বর্ষার টাইমে এই ঝর্ণা হয়ে উঠবে আর ভয়ংকর। ঝিরিপথ আমাদের কাছে তখন শান্ত মনে হলে বর্ষায় এমনটা থাকবে না।

ঝর্ণায় স্থানীয় মানুষ কে মাছ ধরতে দেখে ভালো লেগেছিল অনেক।
সর্বোপরি দমতুয়া ঝর্না ভ্রমনটা ছিল অসাধারণ।

যেভাবে যাবেনঃ দেশের যেকোন স্থান থেকে চকরিয়া; আলিকদম;
আদুপাড়া; দমতুয়া ঝর্ণা।

#বিঃদ্রঃ আমরা ফেরার পথে সাথে করে অনেক বোতল, চিপস,চকলেটের প্যাকেট কুড়িয়ে এনেছি।দয়া করে আপনার খাবারের প্যাকেট, বোতল ইত্যাদি যত্রতত্র ফেলবেন না।

Source:Md. Mehedi Hassan Tipu‎<Travelers of Bangladesh (ToB) – ভ্রমন গাইড বাংলাদেশ