Archives

ভ্রমণ পরিকল্পনা (Tour Plan)

23 Feb 2019

দর্শন ও ভোজন দুইয়ের সমসত্ব মিশ্রণকেই বোধহয় এক পরিপূর্ণ ভ্রমণের আখ্যা দেয়া যেতে পারে। তাই ‘সাধ্যের মধ্যে সবটুকু সুখ’ – এর মত ‘সাধ্যের মধ্যে এক পরিপূর্ণ ভ্রমণ’- এর জায়গা খুঁজতে গিয়ে মনে হল সৈয়দপুরের চেয়ে আদর্শ জায়গা আর হবে না। কারণ খাওয়ার জন্য যেমন বিখ্যাত তাজির উদ্দিন গ্রান্ড হোটেল আছে তেমনি ঘোরার জন্য বেশ কিছু জায়গা রয়েছে যার মধ্যে অন্যতম হল চিনি মসজিদ।
.
বাস থেকে যখন নামলাম তখন জুম্মার নামাযের আর পৌণে একঘণ্টা বাকি। আমাদের প্লান ছিল নামায পরে তারপর খেয়েদেয়ে ঘুরবো। তাহলে এই পৌণে এক ঘণ্টা সময় কি করা যায়, ভাবতে ভাবতে হাবিবুর বলে উঠলো, “চল, বড়বাজার যাই। ওখানে হাঁটাহাঁটি করবো।”
আমরা রাজি হলাম।
এবার এক অটোভ্যানকে থামিয়ে বলা হলো সে বড়বাজারে যাবে কি না।
চালক মনে হলো কিছুটা বিস্মিত হয়েই বললো,”সেটা আবার কোথায়!”
হাবিবুর আমাদের সরিয়ে নিয়ে এসে বললো,”ওই শালা মনে হয় এলাকায় নতুন, সেই জন্য চিনতেছে না।”
পরে আমরা পাঁচমাথা এলাকায় তাজির হোটেলের কাছাকাছি এসে নামলাম। নেমে দেখি হাবিবুর কেমন যেন উসখুস করছে। একটা সময় যা জানতে পারলাম তাতে আমাদেরই আক্কেলগুড়ুম হয়ে গেল। সে নাকি এই পাঁচমাথা নামটাই ভুল করে বড়বাজার বলে ফেলেছিল।
.
যাই হোক, প্রথমেই আসি তাজিরের বিরিয়ানিতে। অর্ডার দেয়ার পর যখন বিরিয়ানি আসলো তখন আসলে কেন জানি পরিমাণটা দেখে চোখ ভরলো না। তবে সত্যি কথা বলতে খাওয়া শেষে মনে হয়েছে, চোখ ভরলো কি ভরলো না তাতে কোনো ক্ষতি নেই- পেট কিন্তু ভালোমতোই ভরেছে। আর স্বাদের কথা বললে বলতেই হবে,’বেশ ভালো ‘।
.
খাওয়াদাওয়া শেষে ভ্যান নিয়ে চিনি মসজিদের উদ্দেশ্যে চললাম। আগে ইন্টারনেটে মসজিদটির ছবি দেখতেছিলাম। সুন্দর দেখতে। কিন্তু যখন বাস্তবে মসজিদটি দেখতে পেলাম তখন বুঝতে পারলাম, মসজিদটি শুধু সুন্দর নয়, অসাধারণ সুন্দর। চমৎকার এক স্থাপত্যশৈলির এক অনন্য নিদর্শন এই মসজিদটি। আসলেই ভার্চুয়াল জগৎ ও বাস্তবের মধ্যে বিস্তর ব্যবধান। মসজিদটি তৈরি করা হয় ১৮৬৩ সালে। চিনামাটির কাপ, প্লেত বা তৈজসপত্রের ভাঙা অংশ সিমেন্টের সাথে মিশিয়ে দেয়ালের গায়ে এর প্রলেপ দিয়ে এটি তৈরি করা হয়েছে। এই পদ্ধতিকে বলে চিনি করা। এখান থেকে মসজিদটির নাম চিনি মসজিদ। অনেকে চিনা মসজিদও বলে থাকে। ভিতরের অংশ পাশাপাশি তিনটি ঘরে বিভক্ত। মাঝেরটি বানানো হয়েছে ব্রিটিশ আমলে, বামপাশেরটি পাকিস্তান আমলে আর ডানদিকেরটি বাংলাদেশ আমলে বানানো হয়েছে। কারুকাজ দিয়ে ভরপুর আর ৩২টি মিনার ও ৫টি গম্বুজ বিশিষ্ট এই মসজিদটি সকলকে নিশ্চিতভাবে মুগ্ধ করবেই।

source: Mostain Rishad‎ <Travelers of Bangladesh (ToB)

23 Feb 2019

তাঁতশিল্পের জন্য বিশ্বের দরবারে পরিচিত হওয়া উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার সিরাজগঞ্জ জেলায় অবস্থিত এই চায়না বাঁধ। যমুনা নদীর বুকে তৈরি করা এই বাঁধটি এখানকার ও দূরের ভ্রমণ পিয়াসী মানুষের কাছে দর্শনীয় স্থানে পরিণত হয়েছে। সিরাজগঞ্জ জেলা শহর থেকে মাত্র ১ কিলোমিটার দূরে যমুনা নদীর তীরে গড়ে তোলা হয় এই বাঁধটি। বাঁধের মূল প্রকট থেকে নদীর ২ কিলোমিটার গভীর পর্যন্ত নির্মাণ করা হয় এই বাঁধ। নদীর গভীর পর্যন্ত চলে যাওয়ায় এর দু পাড়ের মনোরম প্রাকৃতিক দৃশ্য একে সকলের মাঝে জনপ্রিয় করে তুলেছে। দু পাশ দিগন্ত জোড়া নদীর পানি আর উপরে আকাশ, মাঝখানে বাঁধে বসে এইরূপ দৃশ্য উপভোগ করতে পারবেন এখানে। নদীর বুক জুড়ে বহমান প্রশান্ত হাওয়ায় এখানে পর্যটকদেরও ছুঁয়ে যায়। এ যেন প্রকৃতির এক অপরূপ খেলা। চাইলে নৌকায় করে ঘুরতেও পারবেন যমুনার বুকে। বাঁধের উপর নির্মাণ করা হয়েছে পিচ ঢালা রাস্তা। এমন রাস্তা থাকায় যেকোনো যানবাহনে করেই একদম বাঁধের শেষ প্রান্ত পর্যন্ত চলে আসতে পারেন। চারদিকে জল আর নি শূন্য জনপদ, ঝিরঝির হাওয়া আর কোলাহল হীন শান্ত পরিবেশ মুগ্ধ করে সবাইকে। তাই সকাল বিকেল এখানে পর্যটকদের ভিড়ও লেগে থাকে অবিচল। সিরজগঞ্জের এই চায়না বাঁধ ক্রসবার ৩ নামেও পরিচিত। কিভাবে যাবেন: ঢাকা লাইন পরিবহণ, অভি ক্লাসিক, স্টার লিট পরিবহনের বাস রয়েছে সিরাজগঞ্জে যাবার। এসি বাস ভাড়া ৩৫০ টাকা এবং নন এসি বাস ভাড়া ২৫০ টাকা। মিরপুর ২, ট্যাকনিকাল, সাভার, মালিবাগ, আব্দুল্লাহপুর বিভিন্ন জায়গাতেই এসব বাসের কাউন্টার রয়েছে। সিরাজগঞ্জ শহরে নেমে অটোরিকশায় করে ১০ মিনিটের মধ্যেই চায়না বাঁধ চলে যেতে পারবেন খুব সহজেই। এছাড়া যেতে পারেন ট্রেনে করেও। ট্রেনে করে কাড্ডার মোড়ে নেমে সেখান থেকে সিএনজি তে করে বাজার ষ্টেশন। সেখান থেকে আবার ৫-৭ মিনিটে রিকশায় পৌঁছে যাবেন চায়না বাঁধ।

20 Feb 2019

অনেকের ধারণা বিদেশ ভ্রমণে অনেক অর্থের প্রয়োজন।কিন্তু বাস্তবতা এটাই যে হাতে হাতে ৮-১০০০০ টাকা থাকলে ভারতবর্ষের অনেক জায়গা দেখে আসা সম্ভব।গত ০১-০২-২০১৯ ইং তারিখে আমার দ্বিতীয় বারের মত ভারত ভ্রমণে সেই অভিজ্ঞতাটাই পাকাপোক্ত হল।
দিল্লী ভ্রমণের জন্য আপনার পাসপোর্ট ভিসা যদি রেডি থাকে তাহলে বেড়িয়ে পড়ুন যশোর বেনাপোল বর্ডারের উদ্দেশ্যে।বর্ডারে পৌঁছার সাথে সাথে দালালরা ছেকে ধরবে আপনাকে।টাকার বিনিময়ে ইমিগ্রেশন পার করে দিতে চাইবে।মনে রাখবেন এরা চরম লেভেলের বাটপার।এদের কথায় কান না দিয়ে সবকিছু নিজেই করার চেষ্টা করুন,দেখবেন খুব সুন্দর ভাবে ইমিগ্রেশন শেষ হয়ে যাবে।এক্ষেত্রে আপনার শুধুমাত্র ৫৪০ টাকা ট্রাভেল ট্যাক্স দিতে হবে।ট্রাভেল ট্যাক্স দেয়ার বুথ ইমিগ্রেশন অফিসের মধ্যেই পাবেন।

ইমিগ্রেশন শেষ করে সেখান থেকেই টাকা ভাঙিয়ে রুপী করে নিন।এরপর সেখান থেকে বের হয়েই পেয়ে যাবেন বনগাঁ যাওয়ার অটো।৩০ রূপিতে বনগাঁ যেয়ে সেখান থেকে ট্রেনে ২০ রূপিতে চলে যান শিয়ালদাহ।এর পরের কাজ হবে দিল্লী যাওয়ার টিকিট নিশ্চিত করা।টিকিট কাটার জন্য বাসে চলে যান ডালহৌসি ফেরলি প্লেসে।ফেয়ারলি প্লেস হল ইস্টার্ণ রেলওয়ের হেডঅফিস এবং ফরেনারদের জন্য ট্রেনের টিকিট বুক করার জায়গা।দিল্লী যাওয়ার নন এসি স্লিপার টিকিটের দাম ৮৮৫ রূপি।ফেয়ারলি প্লেসে পরেরদিন বিকালে দিল্লী যাওয়ার টিকিট বুক করে চলে যান বড়বাজার যাকারিয়া স্ট্রীট।যাকারিয়া স্ট্রীটে ৬০০-৮০০ টাকার মধ্যে ডাবল বেডের রুম পেয়ে যাবেন।ইচ্ছা করলে নিউমার্কেট এলাকাতেও যেতে পারবেন।তবে সেখানে রুমের রেট অনেক বেশি।১৫০০-২০০০ এর নিচে কোন রুম পাবেন না।বড়বাজার ফেয়ারলি প্লেসের কাছেই।হেটেই চলে যেতে পারবেন।রুম ঠিক করার পর এবার সিম কেনার পালা।দেখে শুনে পছন্দ মত একটি সীম কিনে সেদিনের মত রেস্ট করুন।

পরদিন সকালবেলা নাস্তা করে বেড়িয়ে পড়ুন কলকাতা শহর দেখার জন্য।কলকাতা শহর একদিনে পুরোটা দেখা সম্ভব না।তাই বেছে বেছে কিছু জায়গা দেখতে পারেন।কলকাতা ময়দানের আশে পাশে বেশকিছু জায়গা আছে দেখার মত।যা দেখতেই পুরো একদিন লেগে যাবে।এরমধ্যে আছে টিপু সুুলতান মসজিদ,সেন্ট পলস ক্যাথেড্রাল,ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল হল,ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল মিউজিয়াম সহ বেশকিছু জায়গা।গুগল ম্যাপের সাহায্য নিয়ে জায়গা গুলো দেখে ফেলতে পারেন।যাকরিয়া স্ট্রীটের পাশে মহাত্মা গান্ধী মেট্রো বা সেন্ট্রাল মেট্রো স্টেশন থেকে মাত্র ৫ রূপি টিকিটে খুব সহজেই আন্ডার গ্রাউন্ড মেট্রো রেলে চলে যেতে পারবেন ময়দান।তবে ময়দান স্টেশনে না নেমে এসপ্লানেড স্টেশনে নামলে আপনার স্পট গুলো সিরিয়ালি দেখতে সুবিধা হবে।

আপনার ট্রেন যদি হাওড়া থেকে হয় তবে সারাদিন কলকাতা শহর ঘুড়ে ট্রেনের সময়ের ১ ঘন্টা আগেই চলে আসুন হওড়া স্টেশনে।স্টেশনের পাশেই ঐতিহাসিক হওড়া ব্রিজ।ব্রিজের নিচে কিছুক্ষণ হুগলি নদীর চমৎকার আবহাওয়া উপভোগ করে রওনা দিন দিল্লীর উদ্দেশ্যে।
দিল্লীতে নেমে হোটেলের জন্য চলে যান পাহাড়গঞ্জ।এখানে পেয়ে যাবেন ৬০০-আনলিমিটেড রেটের মধ্যে হোটেল।হোটেল নেয়ার সময় অবশ্যই দরদাম করে নিবেন।শুধু হোটেলে না, দিল্লীতে রিকশা থেকে শুরু করে প্রতিটা ক্ষেত্রেই দরাদরি আবশ্যক।আপনি বাইরে থেকে এসেছেন এটা যেই বুঝবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে সেই আপনাকে ঠকাতে চাইবে।সুতরাং এদিকটা খেয়াল রাখবেন।ইচ্ছা করলে চাদনি চক এলাকাতেও হোটেল নিতে পারেন।এটা মুসলিম প্রধান এলাকা এবং হোটেল ভাড়াও অনেক কম।ও আরাকটি বিষয় হল নিউদিল্লী স্টেশনে ফরেন কোটার টিকিট পাওয়া যায়।সুতরাং এখান থেকে রিটার্ণ টিকিট নিতে ভুলবেন না।

দিল্লী এতবড় শহর যা আসলে এক সপ্তাহেও দেখে শেষ করা সম্ভব নয়।তবে একটু টেকনিক করে ঘুড়লে ৩ দিনে অনেকটাই দেখা সম্ভব।দিল্লীর মূল স্পট গুলোর মধ্যে রয়েছে জামা মসজিদ,লাল কেল্লা,পুরানা কেল্লা,কুতুব মিনার,হুমায়ুনস টোম্ব,চাদনি চক,ইন্ডিয়া গেট,আকসার ধাম,বিড়লা মন্দির,লোটাস টেম্পল,জন্তর-মন্তর,লোদি গার্ডেন,নিজামুদ্দিন আউলিয়ার দরগাহ,রাষ্ট্রপতি ভবন,রাজঘাট,সফদারজঙ্গ টোম্ব ইত্যাদি।আমার সফরে অবশ্য আবহাওয়া খারাপ থাকায় আমি জন্তর-মন্তর,আকসার ধাম ও সফদরজঙ্গ টোম্বে যেতে পারি নি।এসব জায়গায় যাওয়ার জন্য আপনি জায়গা গুলোকে তিনভাগে ভাগ করবেন।অর্থাৎ কাছাকাছি স্পটগুলো কে এক করে তিনটি গ্রুপ করবেন তাহলে তিন দিনে তিনটি গ্রুপ দেখে শেষ করতে পারবেন।এক্ষেত্রে গুগল ম্যাপের সাহায্য নিতে পারেন।স্পটগুলোর মধ্যে রাষ্ট্রপতি ভবনে অবশ্যই সন্ধ্যার সময় যাবেন।রাষ্ট্রপতি ভবনে রাতের লাইটিং দেখে আপনি মুগ্ধ না হয়ে পারবেন না।

দিল্লী শেষে এবার আগ্রার পালা।আগ্রাতে অনেক ভাবেই যাওয়া যায়।আপনি চাইলে ট্রেনে বা বাসে আগ্রা যেতে পারবেন।অথবা দিল্লী থেকে ট্যুরিস্ট এজেন্সির মাধ্যমে যেতে পারবেন।এরা সকালে রওনা হয়ে সারাদিন আগ্রা ঘুড়ে আবার দিল্লীতে পৌঁছে দেবে আপনাকে।আমি এদের সাথেই গিয়েছিলাম।তবে আমি আপনাকে এদের মাধ্যমে যেতে নিষেধ করব।কারণ এদের সাথে গেলে আপনি মনমত দেখতে পারবেন না।পুরো আগ্রা দেখার জন্য একরাত আগ্রাতে থাকা আবশ্যক।আমি তো মনে করি তাজমহল এমন এক জায়গা যা সারাদিন বসে থেকে দেখলেও মন ভরবে না।যাই হোক আগ্রার মূল জায়গা গুলো হল আগ্রা ফোর্ট,তাজমহল এবং ফতেহপুর সিক্রি এবং সিকান্দ্রার আকবরের টোম্ব।তবে এর বাইরেও আরও কিছু স্পট রয়েছে।দিল্লী থেকে এজেন্টদের সাথে গেলে ওরা ফতেহপুর সিক্রী ও সিকান্দ্রা দেখাবে না।তাই এদের সাথে না যাওয়াই ভাল।
আগ্রা ভ্রমণ শেষে আবারও চলে আসুন দিল্লী অথবা সোজা আগ্রা থেকেও সরাসরি ট্রেনে চলে যেতে পারেন কলকাতা।

এখানে একটি বিষয় বলে রাখা ভালো আমার ট্যুর প্লান ছিল মূলত গোল্ডেন ট্রায়াঙ্গেল দেখা।অর্থাৎ দিল্লী-আগ্রা-জয়পুর দেখা।কিন্তু ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় জয়পুর যাওয়া সম্ভব হয় নি।আপনি চাইলে জয়পুরকে আপনার ট্যুরে যোগ করে নিতে পারেন।সেক্ষেত্রে আগ্রা থেকে দিল্লী বা কলকাতা না যেয়ে জয়পুর হয়ে দিল্লী বা কলকাতা যেতে পারেন।

source:  রিয়াদ মোর্শেদ‎ <Travelers of Bangladesh (ToB)

20 Feb 2019

গতবছর কাশ্মীর ভ্রমণের পর এবার যখন ইন্ডিয়া ট্যুরের প্ল্যান হচ্ছিলো তখন মনে হলো নতুন কোথাও যাওয়া যাক। ভ্রমণ সঙ্গীরা সকলেই রাজস্থানের রাজধানী জয়পুরের ব্যাপারে একমত হলাম কারণ এর আগে যারা জয়পুর ঘুরে এসেছে তাঁদের কাছে গল্প শুনে শুনে সত্যিই জয়পুরের ব্যাপারে অন্যরকম একটা মোহ তৈরি হয়েছিলো। আর এখন জয়পুর ঘুরে এসে মনে হচ্ছে এতদিন যতটুকু শুনেছি আসলে অনেক কমই শুনেছি। জয়পুর ভ্রমণের জন্য কি যে অসাধারণ একটা স্থান আর ঘুরে দেখার মতো এতো কিছু যে আছে যারা কখনও যায়নি তাঁরা সেটা কল্পনাও করতে পারবেনা। তাই বুকে হাত দিয়ে বলতে পারি যে, তাজমহল না দেখলে যেমন ইন্ডিয়া ট্যুর ষোল আনাই মিছে তেমনি একটিবার পিংক সিটি-জয়পুর না ঘুরে আসলে ভারত ভ্রমণ অনেকটাই অসম্পূর্ণ!!!

যাই হোক, আমাদের ৪ জনের গ্রুপের ট্যুরটা ছিল কোলকাতা, দিল্লি, জয়পুর, আগ্রা মিলিয়ে মোট ১০ দিনের যার মধ্যে জয়পুরের জন্য বরাদ্দ ছিল ৩ দিন। এখানে শুধু জয়পুরের কথাই বলছি। ঢাকা থেকে ১৩ জানুয়ারি কোলকাতা পৌঁছে সেখানে ২ দিন থেকে ১৫ জানুয়ারি সকালের ফ্লাইটে দিল্লি চলে আসি। আগে থেকেই বুকিং করে রাখা গাড়ি ইন্দিরা গান্ধী এয়ারপোর্ট থেকে আমাদের পিক করে সকাল ১১ টায়। গাড়ি নিয়ে ইন্ডিয়া গেট, রাষ্ট্রপতি ভবন, দিল্লি জামে মসজিদ, লাল কেল্লা ইত্যাদি জায়গা ঘুরে বিকেল ৫টার দিকে আমরা রওয়ানা হই জয়পুরের উদ্দেশ্যে। রাত ১১টায় Booking.com এর মাধ্যমে বুকিং দেয়া জয়পুরের হোটেল Vaishnavi তে চেক-ইন করি। হোটেলটা সিটি সেন্টার থেকে ২.৮ কিমি দূরে অবস্থিত। হোটেলে আসার পথেই আমরা হাইওয়ে রেস্টুরেন্টে খেয়ে নিয়েছিলাম।

দর্শনীয় স্থানঃ জয়পুর সিটির মধ্যে দর্শনীয় স্থান হচ্ছে পিংক সিটি, সিটি প্যালেস, হাওয়া মহল, যন্তর-মন্তর, আলবার্ট হল মিউজিয়াম। আর সিটির বাইরে দর্শনীয় স্থান হচ্ছে জলমহল এবং বিখ্যাত তিনটি ফোর্ট বা দুর্গ যেগুলো হচ্ছে জয়গড় ফোর্ট, নাহারগড় ফোর্ট এবং আমের বা অ্যাম্বার ফোর্ট। এগুলোর মধ্যে আবার সবচেয়ে বিখ্যাত হচ্ছে আমের ফোর্ট। এছাড়াও জয়পুর গিয়ে আজমির শরিফ দর্শন না করে আসলে ট্যুরটা কিন্তু অসম্পূর্ণই থেকে যাবে। আমরা প্রথম দিন আলবার্ট হল মিউজিয়াম, জয়গড় ফোর্ট, নাহারগড় ফোর্ট আর হাওয়া মহল; ২য় দিন আজমির শরিফ এবং ৩য় দিন সিটি প্যালেস, যন্তর-মন্তর, জলমহল এবং আমের ফোর্ট গিয়েছি। আর পিংক সিটি যেহেতু শহরের মধ্যেই সেকারনে প্রতিদিনই যাতায়াতের সময় পিংক সিটি অতিক্রম করেছি। এবার জায়গাগুলোর কিছুটা বর্ণনা দেয়া যাক-

• পিংক সিটি হচ্ছে শহরের মধ্যেই কয়েক বর্গ কিলোমিটার জুড়ে একটা জায়গা যেখানকার ঘরবাড়ি, অফিস-আদালত, দোকানপাট সবকিছুই পিংক বা গোলাপি রঙের। নিজের চোখে না দেখলে বিশ্বাসই করা যাবেনা যে জায়গাটা কত সুন্দর।
• আলবার্ট হল মিউজিয়ামের বড় আকর্ষণ হচ্ছে এখানে মিশর থেকে উপহার পাওয়া একটা মমি আছে, এছাড়াও আছে রাজস্থানের ঐতিহ্যবাহী বিভিন্ন নিদর্শন। আর মিউজিয়ামের বাইরে অসংখ্য কবুতর খেলা করছে যা নিজের চোখে না দেখলে বিশ্বাস করা কষ্ট।
এন্ট্রি ফিঃ ইন্ডিয়ান-৫০ রুপি, নন ইন্ডিয়ান-২০০ রুপি।
• সিটি প্যালেস জয়পুরের বর্তমান মহারাজার শহরের প্রাসাদ। বিশাল জায়গা জুড়ে প্রাসাদটা অবস্থিত যেখানে দরবার হল, যুদ্ধাস্ত্র মিউজিয়াম এবং আরও কিছু ঐতিহাসিক নিদর্শন রয়েছে।এন্ট্রি ফিঃ ইন্ডিয়ান-২০০ রুপি, নন ইন্ডিয়ান-৫০০ রুপি।
• হাওয়া মহল অসংখ্য জানালা দিয়ে তৈরি ৬/৭ তলা উঁচু একটি মহল। এটা তৈরি করা হয়েছিল রাজপুত রমণীরা যেন এই জানালা দিয়ে বাইরের দৃশ্য দেখতে পান কারণ তাঁদের বাইরে যাবার অনুমতি ছিলোনা। হাওয়া মহলের নির্মাণশৈলী অসাধারণ।
এন্ট্রি ফিঃ ইন্ডিয়ান-৫০ রুপি, নন ইন্ডিয়ান-২০০ রুপি।
• যন্তর-মন্তর হচ্ছে গ্রহ-নক্ষত্রের অবস্থান, জটিল গানিতিক সমস্যা সমাধান আর মহাকাশ গবেষণার উপযোগী বিভিন্ন উপকরন দিয়ে তৈরি অষ্টাদশ শতকের একটি অসাধারণ স্থাপনা।
এন্ট্রি ফিঃ ইন্ডিয়ান-৫০ রুপি, নন ইন্ডিয়ান-২০০ রুপি।
• জলমহল শহরের একটু বাইরে বিশাল লেকের মধ্যে অবস্থিত একটা মহল বা প্রাসাদ, এখানে মহারাজারা অবকাশ যাপন করতেন। জলমহলের সামনেই রাজস্থানের ঐতিহ্যবাহী পোশাক ভাড়ায় পাওয়া যায় যেগুলো পড়ে সবাই ছবি তুলে থাকে।
• আজমির শরিফ নিয়ে নতুন করে কিছু বলার নেই। এটি জয়পুর থেকে ১৪০ কিমি দূরে অবস্থিত। যেতে আসতে মোটামুটি ৭/৮ ঘণ্টা লেগে যায়। দরগাহ শরীফের বাইরে নানা রকম ঐতিহ্যবাহী মিষ্টান্ন ও স্যুভেনির কিনতে পাওয়া যায়।
• জয়গড় ফোর্ট শহর থেকে ১২-১৪ কিমি দূরে অবস্থিত। এই দুর্গে উটের পিঠে চড়ে ঘোরার সুযোগ রয়েছে। এখানে আছে ভারতীয় উপমহাদেশের সবচেয়ে বড় কামান। দুর্গটা অনেকটাই ধ্বংসপ্রাপ্ত।
এন্ট্রি ফিঃ ইন্ডিয়ান-৭০ রুপি, নন ইন্ডিয়ান-৩০০ রুপি।
• নাহারগড় ফোর্ট জয়গড় ফোর্ট থেকে ৫/৬ কিমি দূরে অবস্থিত। খাড়া পাহাড়ি রাস্তা বেয়ে গাড়ি নিয়ে এখানে উঠতে হয়। এটি ছিল মহারাজাদের অবকাশযাপনকালীন প্রাসাদ। এখানে রয়েছে বিখ্যাত শীশমহল যেখানে নাচগানের আসর বসতো। এই ফোর্টে বিশাল একটি জলাধার আছে যেখানে “রং দে বাসান্তি” সহ আর অনেক হিন্দি মুভির শুটিং হয়েছে। নাহারগড় ফোর্টের শেষ মাথায় রয়েছে অসাধারণ সানসেট পয়েন্ট যার সৌন্দর্য বলে বোঝানো যাবেনা। এই ফোর্ট থেকে জয়পুর শহরের খুব ভালো ভিউ পাওয়া যায়।
এন্ট্রি ফিঃ ইন্ডিয়ান-৫০ রুপি, নন ইন্ডিয়ান-২০০ রুপি।
• জয়পুরের সবচেয়ে বিখ্যাত এবং সুবিশাল ফোর্ট হচ্ছে আমের বা অ্যাম্বার ফোর্ট। খাড়া পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত এই বিশাল ফোর্টে যেতে হলে হেঁটে হেঁটে খাড়া ঢাল বেয়ে প্রায় ৩০০ মিটার উঁচুতে উঠতে হবে। পাহাড়ের চূড়ায় কীভাবে যে এরকম বিশাল দুর্গ সেই আমলে বানানো হয়েছিলো সেটা চিন্তা করলেই দম আটকে আসে। ২ দিন ধরে টানা ঘুরলেও এই ফোর্ট পুরোপুরি দেখা সম্ভব হবেনা। ভিতরে আছে সম্পূর্ণ শ্বেতপাথরে তৈরি দিওয়ান-ই-আম, দিওয়ান-ই-খাস, শীশমহল, চমৎকার বাগান, ফোয়ারা, মহারাজা মানসিংসহ অন্যান্য রাজা-মহারাজাদের আলাদা আলাদা প্রাসাদ। এছাড়া পুরো দুর্গ ঘিরে রাখা বিশাল প্রতিরক্ষা দেয়াল। বিশাল দুর্গটাকে মনে হয় একটা গোলকধাঁধার মতন, বারবার পথ হারিয়ে ফেলার উপক্রম হয়। ভালো কথা, পুরো দুর্গটা হাতির পিঠে চড়েও ঘোরা যায়, তবে খরচ হবে ২০০০ রুপি। এই দুর্গটা দেখার পরেই আমি একটু কনফিউজড হয়ে গিয়েছিলাম যে, এটা কি আমার দেখা তাজমহলের চেয়েও অসাধারণ স্থাপনা কিনা!!!
এন্ট্রি ফিঃ ইন্ডিয়ান-১০০ রুপি, নন ইন্ডিয়ান-৫০০ রুপি।

শপিং: শপিং এর জন্য জয়পুরের সবচেয়ে বিখ্যাত মার্কেট হচ্ছে বাপু বাজার যেখানে জামা-কাপড় থেকে শুরু করে প্রায় সবকিছু খুব কম দামে পাওয়া যায়। আর উটের চামড়ার ব্যাগ, পার্স এবং জয়পুরের বিখ্যাত “রাজাই (পাতলা কাঁথা)” কিনতে পাওয়া যাবে হাওয়া মহলের অপজিটে যে মার্কেটটা আছে সেখানে। তবে একটা জিনিস মনে রাখতে হবে, ওখানে বাংলাদেশের মতই প্রচুর দামাদামি করে জিনিস কিনতে হবে নাহলে ঠকার সমূহ সম্ভাবনা। যা দাম চাইবে তার অর্ধেক দাম বলবেন।

খরচঃ প্লেনে ঢাকা থেকে কোলকাতা এবং কোলকাতা থেকে দিল্লি আসা যাওয়ায় আমাদের খরচ হয়েছিলো প্রতিজন ১৯০০০ টাকা। তবে আপনি যদি সড়কপথে ঢাকা থেকে কোলকাতা এবং কোলকাতা থেকে জয়পুর ট্রেনে যান তাহলে যাওয়া আসা মিলিয়ে (ট্রাভেল ট্যাক্সসহ) ট্রেনের শ্রেণিভেদে আপনার খরচ হবে ৫৩০০-৮০০০ টাকা। চাইলে আপনি দিল্লি হয়েও ট্রেন বা প্লেনে জয়পুর যেতে পারেন। জয়পুরে ৫০০-৮০০০ রুপির মধ্যে হোটেল ডাবল বেড রুম পাওয়া যায় তবে আগে থেকে বুকিং দিয়ে যাওয়া ভালো। আমি যে হোটেলে ছিলাম সেখানে ৪ রাতের জন্য ২টা ডাবল বেড রুমের ভাড়া পড়েছিল ৫৪৬৫ রুপি। যাবার আগেই আমি Booking.com এ বুকিং দিয়েছিলাম। হোটেলে ফ্রি ওয়াইফাই, গিজারসহ সব সুবিধা ছিল তবে রুমটা নন-এসি ছিল। জয়পুরে সব খাবারই পাওয়া যায় তবে ওদের কাবাবটা অসাধারণ, বিরয়ানী খুব একটা ভালো লাগেনি আমার কাছে, কেমন যেন গন্ধ। ৪০০-৫০০ রুপিতেই একেকজনের ৩ বেলা খুব ভালো খাওয়াদাওয়া হয়ে যাবে। জয়পুরে ট্যাক্সি available। শহরে সারাদিনের জন্য ভাড়া করলে ট্যাক্সির মানভেদে ১০০০-১৫০০ রুপি পড়বে। তবে আজমির শরিফে যেতে হলে ৩০০০-৪৫০০ রুপি ভাড়া পড়বে।

আরেকটা খুব গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হচ্ছে, যদি আপনি টুকটাক হিন্দি জানেন তাহলে কিন্তু ইন্ডিয়ান রেটেই টিকেট কাটতে পারবেন নাহলে এন্ট্রি ফি দিতে দিতেই ফতুর হয়ে যেতে হবে। কাজ চালানোর মতো সামান্য হিন্দি বলতে পারাটা বিশাল উপকারে আসবে। আমাদের মধ্যে একজন খুব ভালো হিন্দি জানায় কোন জায়গাতেই আমাদের নন ইন্ডিয়ান এন্ট্রি টিকেট কাটতে হয়নি। ভালো কথা, অবশ্যই কোলকাতা থেকে মোবাইল সিম কিনবেন কারণ সেখানে পাসপোর্টের কপি বা ছবি ছাড়াই সিম কেনা যায়, খরচও কম। দিল্লি বা জয়পুর থেকে সিম কিনলে পাসপোর্ট আর ছবিতো লাগবেই, দাম পড়বে ৭০০-৮০০ রুপি এবং সিমও কিন্তু সাথে সাথে একটিভ হবেনা।

source: Rezwanul Alam Rony‎ <Travelers of Bangladesh (ToB)

20 Feb 2019

গত ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে আমরা ১৮ জন গিয়েছিলাম সান্দাকফু ফালুট ট্রেকিংয়ে। আমাদের জন প্রতি খরচ হয়েছিল ১৪৪০০ করে। মোট ৬ দিনের ট্রিপ ছিল।
আমরা নভেম্বরের ৩০ তারিখে টুমলিং থেকে ট্রেকিং শুরু করেছিলাম এবং ডিসেম্বরের ৫ তারিখে শ্রীখোলা এসে আমাদের ট্রেকিং শেষ করি। আমরা মোট ৬৩ কিলোমিটার পথ হেটেছিলাম।

প্রথম দিন আমরা চেংড়াবান্ধা থেকে জিপে করে মানেভাঞ্জন চলে যাই। পথে শিলিগুড়িতে লেট লাঞ্চ ছিল। আমরা সকাল এগারোটার দিকে যাত্রা শুরু করে শিলিগুড়ি লাঞ্চ ব্রেকসহ মানেভাঞ্জনে গিয়ে পৌছাই সন্ধ্যা সাতটার দিকে। তখন তাপমাত্রা ছিল ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশে পাশে। চেংড়াবন্ধা থেকে আমাদের মানেভাঞ্জন পর্যন্ত ৮ সিটের টাটা সুমো জীপের ভাড়া নিয়েছিল ২৫০০ রুপি। আর মানে ভাঞ্জনের হোটেল ভাড়া ছিল জন প্রতি ৩০০/৪০০ রুপি।

পথে শিলিগুড়িতে আমরা লাঞ্চ করেছিলাম জনপ্রতি ২৫০ রুপ করে।
মানে ভাঞ্জনে দোকানপাট সবই আছে। ফার্মেসী, প্রসাধনী, চকলেট থেকে শুরু করে আপনি শীতের ভারী কাপড় চোপর সবই পাবেন এবং দাম রিজেনেবল। তবে রাত আটটার পর সব বন্ধ হয়ে যায়। মানেভাঞ্জন থেকেই আপনাকে সিংগালিলা ন্যাশনাল পার্ক অর্থাৎ সান্দাকফু ফালুট যাওয়ার পারমিশান নিতে হবে। পারমিশান নিতে অবশ্যই আপনাকে মূল পাসপোর্ট এবং সাথে করে একটি ফটোকপি নিয়ে যেতে হবে। সময় লাগবে দুই থেকে তিনমিনিট। কোনো টাকা পয়সা লাগবে না। তবে পরবর্তীতে ২০০ রুপি এন্ট্রি ফি লাগবে রেঞ্জের ভিতরে প্রবেশের সময়। ক্যামেরার জন্য লাগবে ১০০ রুপি।

মানেভাঞ্জনে একরাত থেকে আমরা পরদিন সকালে অন্য একটা ল্যান্ডরোভার জীপ নিয়ে টুমলিং পর্যন্ত যাই। ভাড়া পড়ে জীপ প্রতি ১২০০ রুপি। বসতে পারবেন ৮ জন।
টুমলিং থেকে আমাদের ট্রেকিং শুরু হয়। তবে টুমলিং যেতে পথেই ওয়েদার ভালো থাকলে আপনি কাঞ্চনজংঘা রেঞ্জ দেখতে পাবেন পরিস্কার।
বলে রাখা ভালো যে, সিংগালিলা ন্যাশনাল পার্কের রেঞ্জে ঢুকতে হলে আপনাকে অবশ্যই গাইড নিতে হবে। না হলে পারমিশানই পাবেন না। গাইড খরচ একদিনের জন্য একজন গাইডকে দিতে হবে ১২০০ রুপি।

আমরা টুমলিং থেকে ট্রেকিং করে কালাপোখারি গিয়ে পৌছি সন্ধ্যা ছয়টা নাগাদ। শুরু করেছিলাম সকাল এগারোটার দিকে। পথ ছিল মোট ১৪ কিলোমিটার। কালাপোখারিতে রাতে তাপমাত্রা ছিল ৬/৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

রাতে কালাপোখারি যে হোটেলে ছিলাম সেখানে মূলত একরুমে ছয় থেকে আটজন থাকা যায়। মাথা পিছু ২০০/২৫০ রুপি পড়বে পার নাইট। খাবার ওদেরই কান্টিনে খেতে হবে। দাম পড়বে ১৫০ থেকে ২৫০ রুপি। খাবারের মান ভালো।

পরদিন আমরা ট্রেকিং শুরু করেছিলাম সকাল সাড়ে নয়টার দিকে। কালাপোখারি থেকে সান্দাকফু। পথ ছিল সাড়ে ছয় কিলোমিটারের মত। গিয়ে পৌছাই দুপুর একটা নাগাদ। পথে হালকা পাতলা চা নাস্তা করার অপশন আছে। ভারি কিছু খেতে চাইলে গাইডকে দিয়ে আগে থেকে ফোন করে রাখতে বললে সে ব্যবস্থা করে রাখে।
সান্দাকফু কালাপোখারি থেকে উন্নত। মূলত এটাই হচ্ছে পশ্চিম বঙ্গের সব থেকে উচু পর্বত। যার উচ্চতা ১১৯৪১ ফিট। ওয়েদার ভালো থাকলে এখান থেকে আপনি পুরো এভারেস্ট, কাঞ্চনজংঘা, থ্রি সিস্টার্সসহ বেশ কিছু পর্বত শ্রেণীর রেঞ্জ একসাথে ৩৬০ ডিগ্রির প্যানারোমিক ভিউতে দেখতে পারবেন। স্লিপিং বুদ্ধার অস্তিত্ব আপনি এখান থেকেই বুঝতে পারবেন।

সান্দাকফু ভালো মানের হোটেল রেস্টুরেন্ট রয়েছে। এখানে থাকার জন্য জন প্রতি ২৫০/৫০০ রুপি খরচ পড়বে। খাওয়ার জন্য পড়বে ২০০/২৫০ রুপি। রাতে সান্দাকফুর তাপমাত্রা ছিল ৪/২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

পরদিন আমরা সান্দাকফু থেকে ফালুটের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করি সকাল আটটার দিকে। মোট ২১ কিলোমিটারের ট্রেকিং। ফালুট গিয়ে পৌছাই সন্ধ্যা সাতটা নাগাদ। তাপমাত্র ছিল মাইনাস ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ওয়েদার খারাপ থাকার কারণে আমরা ফালুটে পরদিন সকালে কিছুই দেখতে পাইনি। অথচ কাঞ্চনজংঘা রেঞ্জ দেখার জন্য এটাই হচ্ছে আদর্শ জায়গা। মাত্র ১১ কিলোমিটার দূরেই যার অবস্থান।

তবে সান্দাকফু থেকে ফালুটের ২১ কিলোমিটার পথ ট্রেকিং করে যাবার সময় আপনার মন ভরে যাবে পাহাড়ী সব ভ্যালীর দৃশ্য দেখে দেখে। অসাধারণ সেই দৃশ্য।
ফালুটে মাত্র দুইটি কটেজ রয়েছে থাকার জন্য। একটি সরকারী এবং একটি বেসরকারী। যেখানে আগে থেকে বুকিং করে যাওয়াই ভালো। কোনো কারণে যদি সিট না পান তবে রাতে থাকা নিয়ে বিশাল ঝামেলায় পড়তে হবে। থাকা বাবদ জন প্রতি 250/300 রুপি ধরে রাখতে পারেন। আর খাওয়া বাবদ 200/250 রুপি।
পরদিন আমরা ফালুট থেকে চলে যাই গোরখে। ১৫ কিলোমিটার ট্রেকিং ছিল এবং সম্পূর্ণটাই ছিল কেবল পাহাড়ী খাড়া বেয়ে নিচে নামা। পাহাড়ে ওঠার চেয়ে যে নামা কঠিন তা আপনি এইসময় বুঝতে পারবেন।

এই পুরো ট্রেকিংয়ে আপনার সব থেকে ভালো লাগার জায়গা হতে পারে এই গোর্খে ভ্যালী।। একদম ছবির মত সুন্দর। চারদিকে উচু সবুজ পর্বতে ঘেরা এই গোর্খে ভ্যালীকে দেখে মনে হবে আপনি যে ফার্মারস ল্যান্ডের ভিডিও গেম খেলেছিলেন এটা যেন এখান থেকেই থিম নিয়ে বানানো।
এখানে রাতে থাকতে পারেন। আমরা বিকাল নাগাদ এখানে পৌছে একটা সুদৃশ্য কটেজে উঠেছিলাম। রুমে ৪ জন করে ছিলাম। ভাড়া জনপ্রতি ৪০০ রুপির মত পড়েছিল। খাবারের জন্য দিয়েছিলাম প্রতি বেলা জন প্রতি ২০০/২৫০ রুপি।

এখান থেকে পরদিন আমরা চলে যাই শ্রীখোলা। ট্রেকিং ছিল ১৪ কিলোমিটার। শ্রীখোলা পৌছি আমরা বিকাল নাগাদ। ওখানে আমাদের আগে থেকে ২০০০ রুপি করে ঠিক করে রাখা টয়োটা সুমো জীপে করে চলে যাই ডিরেক্ট মানেভাঞ্জন। পথে এক জায়গায় লেট লাঞ্চ করে নিলাম। মূল্য জন প্রতি ২৫০ রুপি।
ভানেভাঞ্জনে আমরা ওই রাত আগের সেই হোটেলেই থেকে পরদিন সকালে রওনা হয়ে দুপুর নাগাদ বর্ডার পার হই। এরপর কিছু সময় বিশ্রাম করে বিকালের গাড়িতে ঢাকা ব্যাক করি।

এই ছিল আমাদের সান্দাকফু ফালুট ট্রেকিংয়ের পুরো প্ল্যান।
এই ট্রিপে আমাদের ভিতর থেকে একজন ইমার্জেন্সি কাজ পড়ে যাওয়ায় সান্দাকফু থেকে একাই ঢাকা ব্যাক করেছিল। এবং একজন উচ্চতাজনিত কারণে কিছুটা অসুস্থ হয়ে পড়েছিল। একজন সান্দাকফু পৌছে রাতে বমি করেছিল। এছাড়া সবাই ফিট ছিল।
…………………….
সতর্কতাঃ সান্দাকফু থেকে ফালুট পুরো রাস্তাই আপনি গাড়িতে যেতে পারবেন। রাস্তা প্রচন্ড খারাপ হবে। বড় বড় পাথর বিছানো রাস্তা দিয়ে ল্যান্ড রোভার পুরনো ধাচের গাড়িগুলো যেতে আপনার কোমড়সহ সাড়া শরীর ব্যাথা হয়ে যেতে পারে। আর যদি ট্রেকিং করে যেতে চান, তবে আপনার শারিরিক ফিটনেসের উপর অবশ্যই আপনার কনফিডেন্ট থাকতে হবে শতভাগ। মানসিকভাবে দূর্বল হয়ে পড়লে এই ট্রেকিং আপনার জন্য বিভিষিকাময় হয়ে উঠতে পারে। প্রয়োজনীয় শীতের কাপড় অবশ্যই নিতে হবে যদি শীতকালে যান। তবে এখানে বর্ষাকালে না যাওয়াই উত্তম। তখন প্রচুর বৃষ্টিপাথের কারণে সব ক্যানসেল করা লাগতে পারে।
প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র অবশ্যই সাথে নিতে হবে। সেই সাথে নিতে হবে প্রচুর এনার্জেটিক শুকনা খাবার।

source:  Rajib Ferdous <Travelers of Bangladesh (ToB)

18 Feb 2019

রাতের ট্রেনে ৪ বন্ধু ২৬০ টাকা ভাড়ায় ঢাকা টু সিলেট যাই সকাল ৫ টায়। নেমে প্রতিজন ২০ টাকা ভাড়ায় সিনজি যোগে চলে যাই পাচ ভাই রেস্তরায়। ৫৫ টাকায় ভর পেট খিচুরি খেয়ে বাস ভাড়া ৪০ টাকা সারিঘাট হয়ে অটোযোগে ১৫ টাকায় লালাখাল পৌছাই সকাল ৯ টায়।
ঘন্টা প্রতি ৩০০ টাকা ট্রলার ভাড়া করে বের হয়ে যাই লালাখাল এর সৌন্দর্য উপভোগ করতে। ( ওরা অনেক ভারা চায় বারগেটিং করতে হবে, চাইলে ২০০ তেও করতে পারবেন। আমদের একজন ভুলে ২ ঘন্টা ৬০০ বলে ফেলায় আর কিছু করার ছিলনা। ট্রলার গুলোতে ১০ জন বসতে পারবেন )
লালাখাল এর পানিতে গোসল করতে পারবেন। কিন্তু ওদের দেখানো যায়গায় নামবেন। কারন লালাখালে অনেক চোরাবালি আছে।
লালাখাল ঘুরাঘুরি করে ১২ টার একটু পরে বের হয়ে যাই খাদিমনগর ফরেস্ট অফিস এর উদ্দেশ্যে। সারিঘাট থেকে জনপ্রতি ৩০ টাকা বাস ভাড়ায় আসতে হবে শাহপরান।

শাহপরান থেকে ২০০(৪ জন) টাকা ভাড়ায় সিএনজি তে ১ ঘন্টার পথ খাদিমনগর ফরেস্ট অফিস পর্যন্ত। পাহাড় কাটা মাটির পথ ধরে যেতে যেতেই মাঝপথে সিএনজি নষ্ট হয়ে গেলো। প্রায় আধা ঘন্টা ট্রাই করেও সিএনজি ঠিক করা গেলোনা। রাস্তা ধরে হেটে গেলে তখনো ৭ মাইল। স্থানীয়রা এই পথকে বাগান পথ বলে। সন্ধ্যা হয়ে আসছে। এদিকে রাস্তায় একটাও মানুষের নাম গন্ধ নেই। একটু আগেও জঙলে কাজ করা কিছু মানুষ যাচ্ছিলো সামনে দিয়ে। নেটওয়ার্ক নেই, কোথায় যাবো কি করব ভাবতে ভাবতেই ২ জন কে পেলাম। উনারা আমাদের জঙলের পথ দেখিয়ে বলে এদিক দিয়ে গেলে তারাতারি হবে। আর কোন পথ না দেখে বিনা অনুমতিতে প্রবেশ নিষেধ এর সাইনবোর্ড টপকেই জঙল দিয়ে হাটা শুরু করলাম। অন্ধকার নেমে আসছে। কিন্তু এই ঘন জঙলে যেন আরো তারাতারি অন্ধকার নেমে এসেছে। অচেনা সব পাখির ডাক আর শুখনো পাতার উপর হাটার শব্দে ভালই লাগছিল হাটতে।কিন্তু প্রায় ১ ঘন্টা হাটার পরো মানুষের দেখা না পেয়ে চিন্তায় পরে যাই। প্রায়ই ভাবছিলাম ১৬৭৭ একর এর জঙলে পথ হারালামনাতো? এদিকে মাঝে মাঝেই জঙল এর ভিতর কিছু একটা দৌড় দিচ্ছে। কিছু না ভেবেই ক্লান্ত শরীর নিয়ে হেটেই চলেছি। মাঝ পথে ভাঙা সাকু দেখলেও যেন শান্তি পাচ্ছিলাম। এইতো লোকালয়ে এসে পরেছি মনে হয়। হঠাৎ ই মাথার উপর বাশ গাছ গুলোতে বানর এর লাফালাফি দেখে একটু থেমে গেলাম। আমাদের থেমে যাওয়াটা যেন তারা বুঝতে পেরেছে। তারাও চুপ করে বসে আছে। সেখানেই কিছুখন বসে আবার হাটা শুরু করলাম। তার ২০ মিনিট পরই খুজে পাই ফরেস্ট অফিস। সে এক অসাধারন মুহুর্ত।
কিন্তু তখনো জানতামনা কি শুনতে চলেছি আমরা।

জঙলের গল্প শুনতে ভালোই লাগছিল স্থানীয় থেকে। ৮৩ প্রাজাতির প্রাণী আর ২১৭ প্রজাতির গাছ আছে এ ফরেস্টে। ভালোই লাগছিল যতক্ষন না পর্যন্ত শুনলাম চার পাঁচ মাস আগে গাছ চুরি করা রোধ করতে জঙলে ৩৭ টি বাঘ ছাড়া হয়েছে।
এরপর থেকে রাত টা তাবুতে একটু ভয়েই ছিলাম।

টেন্ট ফরেস্ট অফিসেই ভাড়া দেয়। প্রতি টেন্ট ৫০০ করে ২ জন থাকা যায়। বর্ষায় ৩০০।
রাতের আর দুপুরের খাবার খাদিমনগর এই খেয়েছি।
দুপুর/রাত খাবার প্রতি ১২০ টাকা করে( ভাত,ভুনা ডাল,ভর্তা,মুরগি)
আমাদের ট্রেকিং টা না চাইতে হলেও আপনি চাইলে জঙলে ট্রেকিং করতে পারবেন। গাইড ঘন্টা প্রতি ১০০ করে।
থাকা খাবার জন্য আগে থেকেই বুক দিতে পারেন। (কাদের ভাই 01737853713) আছে সবকিছুর দায়িত্বে।

জঙ্গলে রাত টা খুব সুন্দর কেটেছে। আমরা ৪ বন্ধু আর সাথে ছিল বানর, পেঁচা, শেয়াল, আর অগনিত ঝি ঝি পোকার ডাক।

source:  Rbh Shornab‎ <Travelers of Bangladesh (ToB)

16 Feb 2019

১৮ জানুয়ারি রাত ১১ টায় ম্যানিলা থেকে Cebu Pacific এয়ারলাইনসে রওনা দিয়ে যখন আমি সাড়ে তিন ঘন্টা প্লেন জার্নি করে ভিয়েতনামের রাজধানী হ্যানয় পৌঁছাই তখন অলরেডি রাত ২ টা বেজে গেছে। ট্রাবেল পার্মিট ডকুমেন্ট ইতিমধ্যেই ছিলো কিন্তু নিয়ম হলো ওখানে ফরম পূরন করে আপনার পাসপোর্ট জমা দিয়ে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে স্টাম্প ভিসাটা নিতে হয়।ভিসা ফি ২৫ USD বাংলাদেশীদের জন্য।ইমিগ্রেশন পার হয়ে যখন ডলার ভাঙ্গাতে গেলাম তখন একটু গুলিয়ে গেলাম, যদিও জানা ছিলো ব্যাপারটা আমার আগের থেকেই!১০০ ইউ এস ডি ভাঙ্গিয়ে আমায় দিলো ২৩০২০০০ ভিয়েতনামিজ ঢং! পরবর্তীতে ট্যাক্সি নিয়ে হোটেলে পৌঁছে দেখি মিটারে বিল আসছে চার লাখের কাছাকাছি বুঝতে আর বাকি রইলো না যে এখানে থাকাকালীন সময়টা গাণিতিকভাবে আবার নতুন করে নিজেকে যোগ বিয়োগ আর গুণ ভাগে সম্ভৃদ্ধ করে তোলা যাবে!আর ভাবতে লাগলাম পৃথিবীর বাজার অর্থনীতির মূদ্রা কেন্দ্রীক কিছু সমীকরণকে!

রাত সাড়ে চারটায় একটু ঘুমানোর চেষ্টা করলাম।হাতে সময় মাত্র দুইদিন হ্যানয়ে। ৩/৩.৫ ঘন্টা বেডে গড়াগড়ি করেই সকাল ১০টার দিকে পৌঁছালাম তাদের জাতীয় নেতা হো চি মিন এর মিজোলিয়ামের(সংরক্ষিত মৃত দেহের মমির সমাধিস্থল)।জায়গাটা মস্তোর ক্রেমলিনে যেখানে লেনিনকে মমি করে রাখা হয়েছে তার থেকে ৫/৬ গুন বড় হবে।দুঃখজনকভাবে দেরি হয়ে যাওয়ায় ভিতরে যেতে পারলাম না, তাই সরাসরি নিজ চোখে না দেখার আক্ষেপটা থেকে গেলো বৈকি! এটা দেখতে এলে আপনাকে একদম ৭/৮ টার ভিতরই চলে আসতে হবে। এরপর হাঁটতে হাঁটতে চলে গেলাম টেম্পল অফ লিটারেচারে ( Temple of Literature)।টেম্পল অব লিটারেচারের একটা লম্বা হিস্ট্রি আছে যেটা কিনা এটাকে নিয়ে দেওয়া আমার ফেসবুকে এটাকে নিয়ে সিঙ্গল পোস্টিংটি থেকে জানতে পারবেন। তবে এটার একটা নূন্যতম প্রবেশমূল্য রয়েছে যেটা কিন্তু আবার হো চি মিনের সমাধির ক্ষেত্রে নাই। হো চি মিন এর সমাধি থেকে হেঁটে যেতে যেতে দেখলাম এক অদ্ভুত কিন্তু সাউথ ইস্ট এশিয়ার চিরাচরিত দৃশ্যপট; হাজার হাজার বললে আসলেই ভুল হবে, লক্ষ লক্ষ মটর সাইকেল যেনো পুরো হ্যানয় শহরটিকে সাঁই সাঁই শব্দে মাতিয়ে রেখেছে।এরা প্রাইভেট কার মনে হয় চালাতেই পছন্দ করে না!এমন চিত্রটি আরো পরিলক্ষিত হয়েছে কম্বোডিয়া, থাইল্যান্ড আর ইন্দোনেশিয়ার বালি দ্বীপে। আর এরা রাস্তার ডান দিক দিয়ে চলাচল করে, ঠিক আমাদের উল্টোটা, তাই প্রায়ই সমস্যায় পড়তে হয়েছে বেশ কয়েকবার।ফিলিপিনেও দেখে এলাম এমনটি। এটা আসলে যাতায়াত ব্যাস্থার উপর কলোনিয়ালিজম( উপনিবেশবাদে) এর প্রভাবমাত্র।ওরা যেমনটি করে রেখে গিয়েছে আমরা তেমনটিই অনুসরণ করি মাত্র। রাস্তাঘাট আমাদের দেশের তুলনায় অনেক অনেক পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন। ম্যানিলার রাস্তাগুলোও অনেক পরিপাটি আর গোছানো ছিলো।তবে হো চি মিন এর রাস্তাগুলো হ্যানয় থেকে বেশী পরিচ্ছন্ন মনে হয়েছে আমার কাছে। হ্যানয় আসলে ওল্ড আর পুরানোর সমন্বয়ে গঠিত রাজধানী। তবে ট্যুরিস্টরা সাধারণত পুরানো সিটিকেই বেছে নেয় যেমনটি নিয়েছিলাম আমিও। ওখানেই আসলে প্রকৃত ভিয়েতনামের পরিচয় খুঁজে পেতে সাহায্যে হয়। ছোট ছোট রাস্তা, অনধিক ২/৩ তলা বিল্ডিং, মধ্যবিত্ত আর উচ্চ মধ্যবিত্ত আর নিম্ন মধ্যবিত্তের আনাগোনা, এদের প্রাত্যহিক খাদ্যাভাস, পুরানো হেরিটেজ, ঐতিহ্যবাহী হোটেল আর খাবারের সমারহ। ছোটো ছোটো রাস্তায় বয়স্কা মহিলারা এক ধরনের ভ্যানে করে বিভিন্ন ধরনের পোশাক নিয়ে ফেরি করে বেড়াচ্ছে আর সব থেকে ভালো লেগেছে তাদের রাস্তার পরতে পরতে ফ্রেস সব ফলের দোকানগুলো। ফরমালিনমুক্ত এসব সহজপ্রাপ্য আর সুলভমূল্যের ফলগুলো সবাই খেয়েই চলেছে, বিশেষ করে ইউরোপ আমেরিকার ট্যুরিস্টরা এগুলোর দাম শুনে তো মহা খুশীতে আটখান! সব কিছু মিলিয়ে ভিয়েতনামের চিরন্তন জীবন ব্যাবস্থার প্রতিবিম্ব হলো এই ওল্ড হ্যানয়।

এরপর আমরা গুগলের জিপিএস ধরে হাঁটতে হাঁটতে চলে গেলাম হ্যানয় ওয়্যার জাদুকরে। যদিও হো চি মিনের ওয়্যার জাদুঘরের থেকে এটা সাধারণ তবুও এখানে অনেক কিছুই দেখার আছে। প্রবেশ মূল্য হবে বাংলাদেশী টাকার ৫০০ এর মতো।১ ঘন্টার মতো দেখে আমরা অ্যালেক্সের সাজেশনে( পরিচয় টেম্পল অফ লিটারেচরে যে কিনা আমেরিকার ক্যালিফোর্নিয়া থেকে এসেছে) গেলাম ভিয়েতনামের একটা ট্রেডিশনাল রেস্টুরেন্টে। অদ্ভুত সব আইটেমের খাবারগুলো খেতে কেমন যেনো করছিলো। তারপর ভাবলাম অ্যালেক্স পারলে আমি কেনো নয়? বাট কনফার্ম হয়েছিলাম এই লিস্টে কোনো কুকুরের মাংস অন্তত ছিলো না!এখানকার খাবারের ছবিগুলো আমার ফেসবুক ওয়ালে পাবেন।এরপর ওরই রেফারেন্সে গেলাম লেকের পাড়ের একটা কফি শপে কফি খেতে। কফি খেতে খেতে সন্ধ্যা নেমে এলো আর আমরা লেকের পাড় দিয়ে ঘুরে ঘুরে বিভিন্ন ট্যুরিস্টিক এক্টিভিটিজগুলো( Touristic activities)দেখতে লাগলাম!একটা পর্য়ায়ে হ্যানয়ের বিখ্যাত পাপেট শো তে ঢুকে পড়লাম রাত ৬.৩০ এর দিকে। এখানে আসলে ৮০% ই ফরেন ট্যুরিস্টই পেয়েছি ভিতরে এবং এই শোর মূল উপজীব্যতা হলো পুতুলের মাধ্যমে পুরো ভিয়েতনামের প্রাগৌতিহাসিক সমাজ ব্যাবস্থা থেকে বর্তমান সমাজ ব্যাবস্থাকে ধারাবাহিকভাবে চিত্রাঙ্কৃত করা। এনিওয়ে এই জায়গা গুলো কিন্তু সবই পুরোনো হ্যানয়তেই অবস্থিত এবং হেঁটে হেঁটে দেখা সম্ভব যদি আপনার ডেইলি ৬/৭ ঘন্টা হাঁটার মানসিকতা থাকে! এরপর আমরা চলতি পথে পরিচিত ভিন্ন ভিন্ন দেশের ৪/৫ জন একসংঙ্গে ডিনার করে যে যার হোটেলের দিকে রওনা দিলাম।

পরের দিন ২০ জানুয়ারী আবার ভোরে চোখ মুছতে মুছতে দৌড় দিলাম হা লং বের উদ্দেশ্য। ট্যুর অপারেটরদের বাস ছেড়ে দিলো সকাল ৭.৪০ এ এবং ১৬৫ কিলোমিটার পাড়ি দেওয়ার পর আমরা পৌঁছালাম হা লং বে তে।এটি ভিয়েতনামের রাজধানী হ্যানয় থেকে ১৬৫ কিলোমিটার নর্থসাউথ এ চায়না বর্ডারের পাশেই অবস্থিত। এটিকে ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ হিসাবে ঘোষনা করেছে। এর সামগ্রিক আয়তন ১৫০০ স্কয়ার কিলোমিটার এবং এখানকার মোট ছোটোখাটো আইল্যান্ড/ লাইমস্টোন এর সংখ্যা ১৬০০০ হাজারের উপর। এখানে ভ্রমণের বেস্ট টাইম হলো ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিল মাসের ভিতর আর আমি যে সময়টাতে এখানে ভ্রমণ করেছি তখন কুয়াশাচ্ছন্নতা এর অপার সৌন্দর্যকে কিছুটা ঢেকে রেখেছে। যাইহোক এখানকার বিভিন্ন আইল্যান্ডে রয়েছে অসংখ্য গুহা এবং একটা থেকে অন্যটায় যেতে কখনও এক ঘন্টা কিংবা এর কম বেশী সময় লেগে যায়। যাতায়াতের জন্য রয়েছে অসংখ্য ছোট বড় জাহাজ কিংবা কাঠের নৌযান যেগুলো আপনার ট্যুর অপারেটররা আগের থেকেই বুকিং নিয়ে রাখে এবং এরা ভোর বেলাতেই আপনার হোটের সামনে থেকে আপনাকে তাদের বাসে করে উঠিয়ে নিয়ে আসে। সাধারণত ৪ ঘন্টা/ ৬ ঘন্টা বে তে থাকার উপর নির্ভর করে এই ট্যুরের মূল্য নির্ধারন হয়ে থাকে ৩৫/ ৪০ USD ডলার।অাপনি অবশ্যই একদিন আগের থেকেই এটা কনফার্ম করে রাখবেন। যাই হোক আমরা বাস থেকে ১২ঃ৩০ মিনিটে ছোট আকৃতির জাহাজে উঠলাম এবং বিভিন্ন ধরনের সামুদ্রিক মাছের একটি লান্স করে নিলাম যেটা এই প্যাকেজের সংঙ্গেই ছিলো। এর পর আমরা মোট তিনটা আইল্যান্ডে ঘুরলাম, নৌকায় ভ্রমণ করলাম লাইফ জ্যাকেট নিয়ে এবং সন্ধ্যার হওয়া সংঙ্গে সংঙ্গে আবার বাসে ফিরে বাসে হ্যানয়ের উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম।মনোমুগ্ধকর এই স্হানটি ছাড়তেই ইচ্ছা হচ্ছিল না একদমই! আবার ৪ ঘন্টার বাস জার্নি করে রাত ৯.৩০ এর দিকে ফিরে এলাম হ্যানয়তে এবং হালকা ডিনার শেষে হোটেলে ফিরে এলাম। গোসল না করেই আবার একটু বেরিয়ে পড়লাম রাতের ওল্ড হ্যানয়ের নাইট স্ট্রিট মার্কেট এর উদ্দেশ্যে। হ্যানয়তে এলে আমি অবশ্যই আপনাদের সাজেস্ট করবো ওখানে একটা ঢুঁ মারার জন্য কারন এখানে আপনি সুলভ মূল্যের সব ধরনের ভিয়েতনামিজ পণ্য সামগ্রি দেখতে বা কিনতে পারবেন। যাইহোক মধ্যরাতের ঠিক আগে আগেই হোটেল ফিরে আগামীকাল সকালের ফ্লাইট হো চি মিন সিটিতে যাওয়ার প্রিপারেশন নিয়ে ঘুমানো চেষ্ঠা করলাম।

পরের দিন ২১শে জানুয়ারী সকাল ভোর ৬ টায় রওনা দিলাম হ্যানয় এয়ারপোর্টে এবং ভিয়েত জেটের প্লেনটি ১ ঘন্টার মতো ফ্লাইট ডিলে করে ২ ঘন্টার জার্নিতে দুপুর ১ টার দিকে ভিয়েতনামের সব থেকে বৃহত্তম এবং বানিজ্যিক শহর হো চি মিন সিটিতে পৌঁছালাম।এয়ারপোর্ট থেকে সিটিতে আসতে সময় লাগে ২৫/৩০ মিনিটের মতো এবং ১৫০০০০ থেকে ২০০০০০ ঢং এর মতো। এটা সহজেই অনুমেয় যে এটি তাদের জাতীয় নেতার নামে নামকরণ করা হয়েছে এবং এটি দেশটির দক্ষিণে অবস্থান করছে।এটি মেট্রো ম্যানিলার মতো অসংখ্য ডিস্ট্রিকে বিন্যস্ত এবং এশিয়ার অন্যতম বৃহত্তর মহানগরীর একটি। এটাকে অত্যন্ত সাজানো গোছানো আর প্রি প্লান আধুনিক শহর মনে হয়েছে আমার কাছে। পাশ্চাত্য ধাঁচের এই মহানগরীতে রয়েছে পর্যাপ্ত সংখ্যক গাছ পালা আর অসংখ্য সবুজাভ পার্ক, ওয়েল অরগানাইজড্ ট্রাফিকিং সিস্টেম, হাইজিনিক খাদ্যাভাসের অসংখ্য লোকাল আর কন্টিনেন্টাল রেস্টুরেন্টস এবং বিভিন্ন ক্যাটাগেরির আবাসন ব্যাবস্থা। নিরাপত্তার কথা না বললেই নয়।পৃথিবীর হাতে গোনা কিছু কমিউনিস্ট দেশগুলোর একটি এই ভিয়েতনামের সামাজিক নিরাপত্তা আমার কাছে এশিয়ার অন্যতম শ্রষ্ঠ মনে হয়েছে।সত্য বলতে আমার চার দিনের কোথাও আমি একটি পুলিশও দেখি নাই। ক্ষেত্রবিশেষ যেমন বিশেষ বিশেষ জাতীয় অবস্থানে কিছু নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের দেখেছি যারা রুটিন মাফিক তাদের ডিউটি করছে মাত্র। যাইহোক এখানকার রাস্তায়ও মটর সাইকেলের আধিপত্য হ্যানয়ের মতোই প্রকট। হাজারে হাজারে লাখে লাখে মটর সাইকেল। কিন্তু সবাই সিগনাল মেনে চলছে। আসলে কমিউনিজম এমন একটা রাস্ট্রীয় ব্যাবস্থা যেখানে প্রকাশ্যে ধর্ম চর্চা নিষিদ্ধ থাকে যেমন চীন, ভিয়েতনাম, কিউবা কিংবা নর্থ কোরিয়া, অন্যদিকে রাস্ট্র ব্যাবস্থায় ডিসিপ্লিনকে ধর্মের পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া হয়। এটার বিরুদ্ধে গেলেই চলে আসে নির্মম শাস্তি। তাই সমাজে ল এন্ড অর্ডার এর সামগ্রিক অবস্থা সমান স্ট্যান্ডারের অন্য যেকোনো পূজিবাদী দেশগুলোর থেকে অনেক ভালো থাকে। অন্যদিকে দেশটি দ্রুতই ইন্ডাস্ট্রিয়ালাইজড্ দেশের খাতায় নাম লেখাচ্ছে। আপনি হো চি মিন সিটির নদীর পাশে গেলেই দেখতে পারবেন এর দুপার দিয়ে গড়ে উঠছে শত শত স্কাই স্কেপারস( সুউচ্চ অট্টালিকা) এবং এখানকার একটা প্রোজেক্টে কানাডার একটি কোম্পানিই ইনভেস্ট করছে ৫.৬ বিলিয়ন ইউ এস ডলার।আপনারা খুব দ্রুতই দেখতে পাবেন যে দেশটি এশিয়া একটি অর্থনৈতিক পরাশক্তি হয়ে উঠছে।

এবার ট্রাভেল জার্নিতে ফিরে আসা যাক।আমি দুপুর ১টার দিকে ল্যান্ড করে ট্যাক্সি করে ২ টার ভিতর হোটেল চলে এলাম। আমার হোটেলটা ছিলো ডিস্ট্রিক্ট ১ এর ভিতর এবং এখান থেকে সবগুলো গুরুত্বপূর্ণ ট্যুরিস্ট স্পট গুলো পায়ে হেঁটে চলে যাওয়া যায় ২০/৩০ মিনিটের ভিতর। গোসল না দিয়েই ব্যাগটা হোটেলে ফেলেই হাঁটা শুরু করলাম আমরা দুইজন। উল্লেখ্য এই সিটি পর্যন্ত আমার সাথে ছিলো আমারই কাছের এক ছোটভাই যে কিনা আমার একজন বিজিনেজ অ্যাসোসিয়েটস আর ওর নাম হলো সাইফ্।অত্যন্ত ফ্লেক্সিবল্( Flexible) প্রকৃতির ছেলে; আমি রিয়েলি লাকী যে ওর মতো একজন ট্রাবেল পার্টনার পেয়েছিলাম।এনিওয়ে গুগল ম্যাপ ধরে ধরে আমরা ২০/২৫ মিনিটের ভিতরই পৌঁছে গেলাম Notre Dam Cathedral এর সামনে। ঠিক এর সাথেই রয়েছে বিশালাকৃতির সেন্ট্রাল পোস্ট অফিসটি যেটা এদের শত বছরের ঐতিহ্য ধারণ করে রয়েছে। কিছুক্ষন ধরে ওখানকার হিস্ট্রি পড়লাম এবং পরবর্তীতে হাঁটতে হাঁটতে চলে এলাম ভিয়েতনামের সুউচ্চ টাওয়ার( বিল্ডিং) Bitexlo Saigon Skydeck এর কাছে। এর পাশ দিয়েই বয়ে গেছে Saigon River নদীটি।সুন্দর করে বাঁধানো নদীর পাশের পেভমেন্টগুলো এবং মাইলের পর মাইল ধরে চলে গেছে ছোট পার্ক আকৃতির অবকাঠামোটি।শীতল বাতাস আর মনোমুগ্ধকর লাইটিং পুরো এলাকাটিকে অদ্ভুত এক রোমান্টিকতায় আচ্ছন্ন করে রেখেছে।মানুষের সন্ধ্যাকালীন ব্যায়ামে সদাই কর্মচঞ্চল এ স্হানটি বড়ই উপভোগ্য ছিলো। রাত হয়ে গেলো, হাঁটতে হাঁটতে হোটেলের পাশে এসে ইন্ডিয়ান রেস্টুরেন্টে পেট ভরে নান রুটি, মুরগীর ভুনা, পালক পনির আর মিক্সড্ ভেজিটেবল দিয়ে ডিনারটা সেরে রাত ১টায় ৬ ঘন্টার একটা বড় ঘুম দিলাম। একটা ব্যাপার শেয়ার করতে চাই সেটা হলো পৃথিবীর যেখানেই যাবেন ইন্ডিয়ার খাবার খুবই এক্সপেনসিভ্!

আসলে বিগত কয়দিন আমি ৩/৩.৫ ঘন্টার বেশী ঘুমানোর সময়ই পাই নাই। সকালে উঠে হোটেল থেকে ব্রেক ফার্স্ট টা সেরে রওনা দিলাম আমার বহু প্রতীক্ষিত ওয়্যার রেমনেন্ট মিউজিয়ামে।৪০০০০ ভিয়েতনামিজ ঢং দিয়ে টিকিট কেটে ঢুকে পড়লাম। মিউজিয়ামের এতো সুন্দর গ্রাফিক প্রেজেন্টেশন আমি পৃথিবীর খুব কম দেশেই দেখেছি। ভয়াবহ ভিয়েতনামিজ যুদ্ধের পুংখানু পুংখানুতা এখানে তুলে ধরা হয়েছে। এগুলো দেখলে কেউই আবেগে হতবিহ্বল না হয়ে থাকতে পারবে না। আমার বার বার মনে হচ্ছিলো আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধে পাকিস্তানি বর্বর সৈন্যদের নির্লজ্জ নিমর্ম অত্যাচার আর নির্যাতনের কথা। এর সামগ্রিক বর্ননা আমি আমার ফেসবুকের পোস্টিটিং এ ইতিমধ্যে দিয়েছি। কিছু ভিডিও চিত্র আর স্থির চিত্র নিয়ে চললাম ওদের ইন্ডিপেন্ডেন্ট প্যালেস বা প্যালেস অফ রিইউনিফিকেশন এর দিকে এবং ৬৫০০০ ঢং দিয়ে টিকিট কেটে ঢুকলাম বিশাল আকৃতির এই প্যালেসে।এটা তাদের যুদ্ধকালীন দক্ষিণের প্রসিডেন্টের বাসভবন ছিলো এবং আরো পূর্বে এটা ফ্রান্সের গভর্নরের বাসভবন ছিলো এবং পরবর্তীতে ১৯৭৫ সালে হো চি মিনের উত্তরের রেভ্যুলেশনারী ফোর্স এখানে ঢুকে পড়ে এবং তাদের কাছে দক্ষিনের প্রসিডেন্টের নিঃ শর্ত আত্নসমর্পণের মাধ্যমে আমেরিকার পরাজয় নিশ্চিত হয়( যদিও আমেরেকা ১৯৭৩ সালে সৈন্য উঠিয়ে নেয়) এবং উত্তর আর দক্ষিণের মিলনের মাধ্যমে স্বাধীন ভিয়েতনামের আবির্ভাব ঘটে। এটা দেখা শেষে কর্মক্লান্ত দেহে হোটেলে এসে গোসল দিয়ে ৩০ মিনিটের একটা রেস্ট নিয়ে আবার সিটি সেন্টারের দিকে রওনা দিলাম; উদ্দেশ্য ছিলো ওখানকার নাইট স্ট্রিট মার্কেটের সাথে হ্যানয়ের মার্কেটটির একটা তুলনামূলক চিত্র বের করা। কিন্তু দুরত্বের কারণে না যেয়ে ওখানকার ট্যুরিস্ট স্ট্রিটগুলোতে ঘুরে বাইরে হালকা ডিনার সেরে হোটেলে ফিরে এলাম।পরের দিন ২৩ জানুয়ারি সকাল ৯ টায় আবার ফ্লাইট; গন্তব্য এবার সিঙ্গাপুর!

source:  Proshun Ray‎ <Travelers of Bangladesh (ToB)

16 Feb 2019

এই লেকের পাড়ে বসে যতোদূর চোখ যায় নীল নীল স্বাদু পানির নয়নাভিরাম দৃশ্য দেখে এরপর যখন বাড়ি ফিরি,কেবলি মনে হয়,আর কিছুর কি দরকার ছিলো জীবনে।কিসের টাকা, কিসের দম্ভ,কিসের ক্ষমতা,এ প্রকৃতি নীরবে গ্রাস করবে সবই।

স্লোভেনিয়া ভ্রমন:

স্লোভেনিয়া মধ্য ইউরোপের ছোট একটি দেশ।। স্লোভেনিয়া কে ইউরোপের পূর্ব ও পশ্চিমের সেতু হিসাবে বিবেচনা করা হয়, এর পাশাপাশি স্লোভেনিয়া কে ইউরোপের হার্ট বলা হয়। স্লোভেনিয়া প্রজাতন্ত্র সুন্দর একটি দেশ এবং সুশৃঙ্খল, এর ফলে এখানে প্রতি বছর প্রচুর পর্যটক ভীর জমায়।

স্লোভেনিয়ার গাইড বই মানেই মলাটে একটা অপূর্ব সুন্দর পাহাড়ি হ্রদের ছবি থাকবে, দেখা যাবে দিগন্তে তুষার ছাওয়া আল্পস, চারিদিকে পান্নাসবুজ বন, নীলার মত স্বচ্ছ নীলাভ সেই হ্রদের জল, যার মাঝখানে আছে রূপকথার এক দ্বীপ! সেই দেশের একমাত্র প্রাকৃতিক দ্বীপ। সেখানে হীরের ফুল, মুক্তোর ফল নেই বটে কিন্তু মাথা উচিয়ে আছে এক স্থাপত্য যা ঘিরে আছে উঁচু উঁচু স্বর্গীয় গাছ। কোথায় এই হ্রদ?

সাধারণত কোন দেশের গাইড বইয়ের মলাটে ঘুরে ফিরে সেই দেশের রাজধানীর কোন এক সুপরিচিত আকর্ষণের কথা স্থান পায়, কিন্তু স্লোভেনিয়ার ব্যাপার আলাদা, এখানে রাজধানী লুবলিয়িনা নয়, সবসময় এই ক্ষেত্রে জয়ের মুকুট শোভা পায় এই পাহাড়ি হ্রদ, শহরের সাথেই নাম মিলিয়ে যার নাম লেক ব্লেড, এবং নৈসর্গিক দৃশ্যের সাথে সাথে মাঝে মানব সৃষ্ট স্থাপত্য মিলে তৈরি করেছে এক নিখুঁত দ্যোতনা, যার কারণে বিশ্বের রোমান্টিকতম হ্রদ হিসেবে লেক ব্লেডকে অভিহিত করা হয়

লুবলিয়ানা যেয়ে বাসে চেপে ৫৫ কিলোমিটার দূরের ব্লেড শহরের অবস্থান , বিখ্যাত সেই হ্রদের তীরেই অবস্থিত একই নামের পার্বত্য শহরটি। লু্বলিয়ালা এয়ারপোর্ট থেকে মাইক্রোবাসে করে সরাসরি ব্লেড যাওয়া যায়, ফলে সময়, পরিশ্রম, অর্থ সবকিছুর অযাচিত সাশ্রয় হবে সেই সাথে মিলবে পাহাড়ি রাস্তায় সিঁদুররঙা সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসতে দেখার অপূর্ব অভিজ্ঞতা।

ব্লেড এমন কোন আহামরি বড় শহর নয়, বরং হ্রদটির কারণেই লাখ লাখ পর্যটক আসে সেখানে প্রতি বছর, তাদের উপর ভরসা করেই গড়ে উঠেছে পর্যটন, বলা চলে বাসভবনের চেয়ে হোটেলের সংখ্যা কোনমতেই কম না সেখানে।

সারি সারি স্পেশাল ব্লেড নৌকা যেন অপেক্ষায় থাকবে স্বপ্নালোকে যাত্রা শুরুর জন্য,হ্রদের একাধিক জায়গা থেকে এমন কাঠের তৈরি নৌকায় ওঠা যায়, কিন্তু যেখান থেকে তা ছাড়বে সেখানেই আবার এনে নামিয়ে দেবে, অন্য গন্তব্যে নিয়ে যাবে না, সব মিলিয়ে ঘণ্টাখানেকের ভ্রমণ, আধা ঘণ্টা সবুজ স্নিগ্ধ জলে, বাকীটা সময় দ্বীপে।

ঢাকা থেকে লুবলিয়ানা প্লেন টিকেট প্রায় ৯০ হাজার টাকার মতো পরবে,নির্ভর করে কোন কোম্পানি এবং কোন সময় ভ্রমন করছেন থ্রি স্টার হোটেল পরবে প্রায় ৬ হাজার টাকা একদিনের জন্য (২ জন)যেখান সেখানে ময়লা ফেলবেন না ডাস্টবিনে ফেলবেন ।লেকের পানি খুব পরিষ্কার কিছু ফেললে জরিমানা গুনতে হতে পারে।আমি যেহেতু ইতালী থেকে গিয়েছি তাই কতো টাকা খরচ হতে পারে বাংলাদেশ থেকে গেলে এর বেশী তথ্য দিতে পারলাম না।

source: Sani Bhuiyan‎ <Travelers of Bangladesh (ToB)

14 Feb 2019

২০১৯ সালে আপনি যদি নিজের বিশ্ব ভ্রমণ লিস্টে ১৯টি জায়গাকে প্রাধান্য দেন তাহলে তার মধ্যে একটিকে কিরগিজিস্তানই ধরতে হবে।

১৯৯১ সালে স্বাধীনতা পাওয়ার আগ পর্যন্ত দেশটি সোভিয়েত ইউনিয়নের একটি অংশ ছিল। কিন্তু সহস্রেরও অধিক বছরের ইতিহাস নিজের মধ্যে ধারণ করে দেশটি এখন মধ্য এশিয়ার। অবস্থান করছে উজবেকিস্থান ও চীন দেশের মধ্যভাগে।

দেশটি আগে সিল্ক রোডের একটা অংশ ছিল। কিরগিজস্তানের মনোমুগ্ধকর অতুচ্চ্য প্রাকৃতিক ভূ-খণ্ড দেখলে মনে হয় মানব জীবনের যাযাবরবৃত্তির অর্ধেকটা স্বভাব ছড়িয়ে আছে এখনো, ঠিক প্রাচীনকালেও যেমন ছিল।

আপনি যদি মনে করেন শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে চলে আসা এই সংস্কৃতি যা কিনা এখনো রাজত্ব করছে স্বীয় শক্তিতে তা অনুসন্ধানে নেমে যাবেন কিরগিজিস্তানের ভূ-খণ্ডে তাহলে ‘একজন শিক্ষানবিশ হিসেবে কিরগিজিস্তানে ভ্রমণ’ অংশটি পড়ে নিতে পারেন এখান থেকে।

ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি:
প্রাচীনকালে কিরগিজরা মূলত একটি যাযাবর উপজাতি ছিল যাদের কাছে আতিথেয়তা হচ্ছে জীবন মরণের মতো একটি বিষয়। এই দিকটি দিয়ে এখনো তারা আগের মতোনই আছে, অতিথিসেবক তার সামর্থ্য অনুযায়ী সর্বোচ্চটা করে তার অতিথির জন্য। অধিকাংশ ভ্রমণকারীই কিরগিজস্তান থেকে ফিরে আসেন এক অন্যরকম আন্তরিকতা আর বদান্যতা নিয়ে যা তারা সেখান থেকে পেয়ে এসেছে।

এই দেশের লোকেদের কাছে দেশের অভ্যন্তরীণ পরিবহনের জন্য ঘোড়া হচ্ছে উৎকৃষ্ট বাহন। গরমকালে দেখবেন, এখানের লোকজনেরা তাদের ঘোড়া নিয়ে নেমে গেছে জাতীয় খেলা ‘কক বরো’ (নীল নেকড়ে) খেলার জন্য। তাদের ভাষ্যমতে, প্রাচীনকালে তাদের আদিম উপজাতির লোকেরা নিজেদের মেষপালকে নেকড়ের থাবা থেকে বাঁচানোর জন্য ঘোড়ায় চড়ে যুদ্ধ করতো নেকড়েদের সাথে। তাই তাদের কাছে ঘোড়ার রক্ষক বা মালিক হওয়া বরং গৌরবের।

খাদ্য এবং পানীয়:
ভেড়া আর ঘোড়ার পাল ঝাঁক বেঁধে চলে এই কিরগিজিস্তানে। তাই শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে এদের মাংসই সবচেয়ে পছন্দের তালিকায় আছে এখানে। নুডুলস এবং পেঁয়াজের সসের সাথে ভাপে সেদ্ধ করা ভেড়া কিংবা ঘোড়ার মাংস হচ্ছে এখানের সবচেয়ে জনপ্রিয় খাবার। ঐতিহ্যগতভাবে এটি হাত দিয়েই খাওয়া হয় তাই নামটাও তেমন, ‘বেশবারমাক’ (পাঁচ আঙ্গুল)।

মাংসের তুলনায় শাকসবজিতে খুব কম আগ্রহ এই দেশের লোকেদের। যদিও কিরগিজিস্তানের সেরা শহরগুলোতে আধুনিক রন্ধন প্রণালীসহ নানা ধরনের খাবার যেমন ইটালিয়ান, থাই এবং ফাস্ট ফুডের ঢের সুযোগ-সুবিধা রয়েছে।

চিরাচরিত প্রতিটা খাবারের সাথেই আপনি পাবেন গোলাকার একটি নান রুটি যেটি সমগ্র মধ্য এশিয়াতেই দেখা যায়। যতক্ষণ না পর্যন্ত আপনার আয়েশ মিটবে ছোট এক কাপ করে সবুজ বা রং চা পাবেন আপনি অনবরত।

আরেকটি অভিনব খাদ্য হচ্ছে কুমিস (দুধের ছানার তৈরি) যেটি আপনাকে ভিন্ন একটা স্বাদ দিতে সক্ষম। রাশিয়াতে এই পানীয়টি বেশ পুষ্টিকর খাদ্য হিসেবে বিবেচিত। এখানে আপনি লাচ্ছি, টক দই, গম, মিলেট, ভদকার মতো আরো নানারকমের আকর্ষণীয় পানীয় খুঁজে পাবেন যেগুলো সাধারণত কোনো অনুষ্ঠান উপলক্ষে বিতরণ করা হয়।

কেনাকাটা :
কিরগিজিস্তানের রঙ বেরঙের দোকানগুলো আদিমতম যাযাবর জীবনের সাক্ষ্য যেমন বহন করে, তেমন নানান মালপত্রে ঠাসা। পশু-লোমজ কম্বল, উলের তৈরি লেপ থেকে শুরু করে লেদারের তৈরি বিভিন্ন জিনিস যেমন লাগাম, গদি বা জিন, চাবুক সবই পাওয়া যায় এখানে।

রুপার তৈরি নানা রকম অলংকারের জন্যও সমৃদ্ধ এই কিরগিজিস্তান। তাই মেয়েদের নানা রকম গহনা তৈরির জন্য পৃথিবীর নানা প্রান্ত থেকে স্যাকরারা ছুটে আসেন এখানে নিজের পরিবারের কথা চিন্তা করেই।

তাছাড়া ‘ওশ’ নামক মার্কেটে আপনি দেখা পাবেন বিভিন্ন রকম কারুশিল্পের। সোভিয়েতের ছোঁয়া লাগানো বিভিন্ন সামগ্রীও আছে এখানে। আছে শুকনো ফল, বাদাম, মধু, রুটির মতো নানা জাতের খাবার।

বিশকেকেও বহু জিনিস সংরক্ষকের মতোন পেয়ে যাবেন সাম সেন্টার যেখানের জিনিসপত্রগুলোতে এখনো প্রতিচ্ছবি ফুটে ওঠে সোভিয়েত যুগের, পাবেন বৈচিত্রপূর্ণ নানা স্মারকগ্রন্থ।

যেগুলো দেখা আবশ্যক:
সারি সারি গাছের ছায়া, জনবহুল বিশাল বিশাল পার্ক এবং সোভিয়েত ধাঁচে বানানো বড় বড় বিল্ডিংয়ে সমাদৃত শহর বিশকেক হচ্ছে কিরগিজস্তানের রাজধানী।

এখানে গেলে আপনি কোনোভাবেই যেন দারুণ শৈল্পিক ছোঁয়ায় নির্মিত স্টেট মিউজিয়াম এবং স্টেট হিস্টোরি মিউজিয়াম দেখার সুযোগ হাতছাড়া না করেন সেদিকে খেয়াল রাখবেন। মিউজিয়ামের বাইরে দাঁড়িয়ে আছে ভ্লাদিমির লেনিনের আলো বিচ্ছুরিত স্ট্যাচুটি। এটি আগে আলা-টু স্কয়ারে (পূর্বকালের লেনিন) অবস্থিত ছিল।

শহরটিতে যথেষ্ট পরিমাণে রেস্টুরেন্ট, ক্লাব বা বিনোদনমূলক নানা জায়গার দেখা পাবেন আপনি। বিশকেক থেকে সামান্য দূরেই পাবেন ২০০ বর্গমাইলের আলা আর্চা ন্যাশনাল পার্ক।

জলপ্রপাত, জঙ্গল দেখা, হাইকিংয়ের জন্য জায়গাটি বেশ মনোরম। এমনকি এখানের ৫,০০০ মিটার উচ্চতার চূড়াতেও হিমবাহ পৌঁছে যায়।

ঘোড়াতে চড়ার জন্য আর হাইকিংয়ের জন্য কিরগিজস্তানের অধিকাংশ শহরেই নানা জায়গা খুঁজে পাবেন আপনি। এখানের দারুণ নেটওয়ার্কের দরুণ খুব সহজেই যোগাযোগ রক্ষা করতে পারবেন বড় বড় ট্যুরিজম প্রজেক্ট কিংবা নিজের দেশের সাথে।

মাউন্টেইনের সীমানার ভেতরে সবচেয়ে সেরা ও আকর্ষণীয় হাইকিং স্পটটি হচ্ছে ‘টিয়ান শান’ (মেঘে আচ্ছাদিত) যেটি আলা আর্চারই একটি ছোট অংশ। এই ঐশ্বর্যশালী পর্বতটি নিজের সীমানা বিস্তৃত করেছে উজবেকিস্তান থেকে চীন পর্যন্ত বরাবর ৭,৫০০ মি. উচ্চতার জেঙ্গিস চকুশু (ভিক্টোরি পিক কিরগিজিস্তান পর্যন্ত।

বসন্তের সময়টাতে আপনি যেতে পারেন আল্টিন আরাশানে যেটি প্রায় ৪,০০০ মি. উচ্চতার আলা-কুলকে অতিক্রম করেছে। এই পথেরই কারাকুল পার হওয়ার সময় আপনি দেখতে পাবেন সারি বেঁধে যাওয়া বন্য ঘোড়ার পালকে।

সং কুল হচ্ছে আরেকটা অন্যতম সুন্দর স্থান যেটি মূলত বিচ্ছিন্ন একটি হ্রদ। যেকোনো বিশাল জনবসতির চেয়ে দূরত্বে অবস্থিত হ্রদটি প্রায় ৩,০১৬ মি. উচ্চতায় অবস্থিত। এর চারপাশে চারণভূমি থাকায় সারাবছরই আপনি পাবেন ঘোড়া, ভেড়া, গরু কিংবা চমরের পালের উপস্থিতি।

অবশেষে বলবো ভ্রমণপিয়াসী কারোরই কিরগিজিস্তানের ভূখণ্ডের কোনো এক অংশে বসে চ্যালাকাঠের আগুনে শরীর গরম করে রূপকথা কিংবা মানব জীবনের অতীতের রাখাল বৃত্তির স্বাদ গ্রহণ করার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হওয়া উচিত না।

source: https://tripzone.xyz/travel-in-kyrgyzstan/

14 Feb 2019

ফুল মানেই অপার সৌন্দর্যের এক নাম। প্রকৃতির সবচেয়ে সুন্দর সৃষ্টি হল ফুল। যেকোনো মানুষের মনকে প্রফুল্ল করতে ফুলের জুড়ি নেই। আর তাইতো ফুলের বাগানে প্রবেশ করতেই মন হয়ে উঠে উজ্জীবিত ও প্রফুল্ল। আর যদি বিশাল এলাকা নিয়ে দৃষ্টিজুড়ে শুধু বাহারি রঙের ফুল আর ফুল চোখে পড়ে তবে তো স্বর্গের অনুভূতি মর্তে পাওয়া হয়ে যায়। আর তেমনি দুটি স্বর্গীয় সৌন্দর্যের ফুলের বাগানের কথা জানাবো আজ। এই বাগানগুলো একেকটা ফুলের স্বর্গ রাজ্য। আসুন তাহলে শব্দের বাহনে চড়ে ঘুরে আসা যাক জাপানের কোয়াচি ফুজি গার্ডেন ও ফ্রান্সের মনেট গার্ডেন থেকে।

কোয়াচি ফুজি গার্ডেন:

ভাবুন তো, বাহারি রঙ্গের বিশাল ফুলের টানেলের মধ্য দিয়ে হেঁটে চলেছেন আপনি। ঠিক যেনো শিল্পীর রঙ্গিন ক্যানভাস আপনার চোখের সামনে। আর সেই ফুলের অপূর্ব সৌরভের ছড়াছড়ি চারদিকে। এই অসাধারণ অভিজ্ঞতা আপনি পেতে পারেন কোয়াচি ফুজি গার্ডেনে।

জাপানের ফুকুওকায় অবস্থিত কোয়াচি ফিজি গার্ডেন জাপানের অপরূপ সুন্দর জায়গাগুলোর মধ্যে অন্যতম। এই বাগানের মূল আকর্ষণ হল এই ফুলে আবৃত টানেল। এখানে মূলত দুটি টানেল রয়েছে যা উইস্টেরিয়া ফুলে আবৃত। এই দুটি টানেলের একটি ৮০ মিটার ও অপরটি ২২০ মিটার লম্বা। প্রায় বাইশ ধরণের উইস্টেরিয়া ফুল দিয়ে টানেলগুলোকে এমনভাবে সাজানো হয়েছে যার ভেতরে প্রবেশ করলে মনে হবে ফুলের রঙ্গিন ভুবনে চলে এসেছেন। টানেলের ভিতরে জায়গায় জায়গায় রাখা আছে বসার বেঞ্চ। উইস্টেরিয়া ফুলের এই রঙিন রাজ্যের সৌন্দর্য চিত্রশিল্পীর আঁকা কোনো ছবির চেয়ে কম নয়। উস্টেরিয়া ফুলের বিচিত্র রঙ আর মোহনীয় সৌরভ এখানে এই স্বর্গীয় সৌন্দর্যের সৃষ্টি করেছে।

এই বাগানটি মশাও মিজোগুচি নামের একজন ব্যক্তির সম্পূর্ণ একক প্রচেষ্টায় গড়ে উঠে। ১৯৭৭ সালে প্রথম এটি দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হয় এবং তার পরপরই এটি দ্রুত জাপানের অন্যতম আকর্ষণীয় টুরিস্ট স্পট হয়ে উঠে। হাজার হাজার পর্যটকদের পাদচারণায় মুখর থাকে এই অপরূপ সৌন্দর্যের বাগানটি।

কোয়াচি ফুজি গার্ডেন দেখতে যাবার মোক্ষম সময় হচ্ছে এপ্রিল থেকে মে মাসের মাঝে। মে মাসের শেষ সপ্তাহে এই বাগানের আসল সৌন্দর্য দেখতে পাবেন। কারণ এ সময়টাতে উইস্টেরিয়া ফুলগুলো তাদের আসল রঙ্গিন সৌন্দর্য নিয়ে হাজির হয়। এছাড়া এ সময় আসলে আপনি উইস্টেরিয়া ফেস্টিভালও উপভোগ করতে পারবেন।

মনেট গার্ডেন:

ফ্রান্সের মনেট গার্ডেন পৃথিবীর বিখ্যাত বাগানগুলোর একটি। চিত্র শিল্পী ক্লড মনেট তার শৈল্পিক মনের সকল রঙ দিয়ে গড়ে তুলেছেন এই বাগানটি। আর তাই এর সৌন্দর্যও অত্যন্ত নান্দনিক যা যে কাউকেই দারুণভাবে মোহিত করে।
পুরো বাগানটি দুটি অংশে বিভক্ত। একটি অংশ মনেট হাউজের পাশের খালি জায়গা নিয়ে তৈরি হওয়া ক্লস নরম্যান্ড স্থল উদ্ভিদের বাগান। আর অপর অংশটি জলজ বাগান বা ওয়াটার গার্ডেন যার চারপাশে জাপানি শিল্পকলার নানান সৃষ্টিশীল কারুকাজ রয়েছে।

প্রথম অংশের বাগানটি প্রায় এক হেক্টর জায়গায় নিয়ে বিস্তৃত। এখানে বিভিন্ন রঙ ও জাতের টিউলিপ, অরিয়েন্টাল পপি, আইরিশসহ আরো অনেক ফুলের অপূর্ব শোভা দেখতে পাবেন। আর জলজ বাগানের অংশে রয়েছে মনেটের বিখ্যাত একটি চিত্রকর্মের আদলে অপরূপ সৌন্দর্যের জাপানিজ ব্রিজের রেপ্লিকা। এই জলজ বাগানের মূল সৌন্দর্য হল ফুটে থাকা অপূর্ব সব শাপলা ফুল। এই সৌন্দর্য সত্যিই মনোমুগ্ধকর।

এই বাগানের পুকুরের চারপাশে চেরি, রডেন্ড্রনসহ আরো বিভিন্ন ফুলের গাছ লাগানো আছে যা এই বাগানের শোভা আরো বেশি বৃদ্ধি করেছে। বাগানের ভিতরের মনেট হাউজটি আরেকটি দেখার মত জিনিস। এর ভিতরের চিত্রকর্ম, স্টুডিও ও জাপানিজ চিত্রকর্ম দেখে আসতে ভুলবেন না।

প্রতি বছর পাঁচ লক্ষের মতো পর্যটক এই বাগানের রূপ বৈচিত্র্য দেখার জন্য এখানে হাজির হন। এই বাগানটি বছরের পহেলা এপ্রিল থেকে পহেলা নভেম্বর পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য খোলা থাকে।