Archives

যাতায়াত পরিকল্পনা (Route Plan)

21 Nov 2019

সুনির্দিষ্ট প্লান এবং গুগল ম্যাপের সঠিক ব্যবহার জানলে সময় এবং খরচ দুটোই সেভ করা সম্ভব।
পতেঙ্গা সী বিচ আগেই ঘুরেছি তাই আমি পুরাতন মন্দির,মসজিদ,নগরে দাঁড়িয়ে থাকা পাহাড়,শহীদ মিনার এসব স্থানে গিয়েছিলাম।
১।কৈবল্যধাম রাম ঠাকুর আশ্রম:
এটি পাহাড়তলিতে অবস্থিত অনেক পুরাতন একটি আশ্রম।পাহাড়ের উপরে অবস্থিত এই আশ্রমের সৌন্দর্য যে কাউকে অবাক করবে।
এ.কে খান মোড় থেকে জিইসির দিকে ৮০০ মিটার গেলে হাতের বামে একটি রাস্তা।প্রায় দশ মিনিট হাঁটলে একটি রেলক্রসিং।রেলক্রসিং পার হলেই কৈবল্যধাম আশ্রম।
২।ওয়ার সিমেট্রি:আশ্রম থেকে বেড়িয়ে প্রধান সড়কে এসে লেগুনায় করে জিইসি আসি।তারপর হেঁটে হেঁটে লালখান বাজার হয়ে চট্টগ্রাম শিল্পকলা একাডেমীর রাস্তায়।এই রাস্তা ধরে সামনে গেলেই বাদশা মিয়া রোড,রোডের মাথা হতে ভেতরে ৫০ মিটার গেলেই ওয়ার সিমেট্রি।
জিইসি থেকে প্রায় ১৫/২০ মিনিট হাঁটা পথ।
রিকশায় ২৫/৩০ টাকা নিবে ওয়ার সিমেট্রি।
২য় বিশ্ব যুদ্ধে নিহত বেশ কিছু সৈন্যদের সমাধি রয়েছে এখানে।
___[খোলা থাকে: সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা এবং দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত]
৩।ফাইন আর্ট ইন্সটিটিউট,চট্টগ্রাম­­ বিশ্ববিদ্যালয়:
ওয়ার সিমেট্রি থেকে বেড় হয়ে সামনের দিকে ১ মিনিট হাঁটলেই “ফাইন আর্ট ইন্সটিটিউট”।অবশ্যই ইন্সটিটিউটের ভেতর হৈচৈ করা হতে বিরত থাকবেন এবং অনুমতি ক্রমে সব ডিপার্টমেন্ট ঘুরে দেখুন।___[আমি ক্লাস রুমে থাকা ভাইয়া আপুদের কাছ থেকে অনুমিত ক্রমে সব ঘুরেছিলাম।Sculpture Department এ সব থেকে বেশি সময় দিয়েছিলাম।জোস]
৪।বিমান এয়ারলাইন্স:
ফাইন আর্ট থেকে বেড়িয়ে রিকশায় ৩০ টাকা।আমি অবশ্য এখানে এসেছিলাম ‘আড়ং’ থেকে শপিং এর জন্য।
___[আপনারা এই সময়ে হযরত বাইজিদ বোস্তামি রহঃ এর মাজারে যেতে পারেন]
৫।চকবাজার:
বিমান এয়ারলাইন্স থেকে বেড়িয়ে একটু সামনে আসলে টেম্পো স্ট্যান্ড।পাঁচ টাকা থেকে দশ টাকা নিবে চকবাজার।
__যেখানে নামিয়ে দিবে তার পাশেই অলি খা মসজিদ।৬ গম্বুজ বিশিষ্ট একটি পুরাতন মসজিদ।
৬।মসজিদে সিরাজউদ্দৌলা:
অনেকে এই মসজিদ কে চন্দনপুরা মসজিদ বলে থাকলেও এর নাম মসজিদে সিরাজউদ্দৌলা।তবে রিকশাচালক কে চন্দনপুরা বললে সহজে চিনবে।অলি খা মসজিদ থেকে রিকশায় ২৫ থেকে ৩০ টাকা নিবে এই মসজিদ পর্যন্ত।এটি সিরাজউদ্দৌলার শাসনকালে তৈরী মসজিদ,যার সৌন্দর্য এবং কারুকাজ কারিগরদের নৈপুন্যতার কথা মনে করিয়ে দিবে।
৭।চেরাগি পাহাড়:
মসজিদে সিরাজউদ্দৌলা থেকে চেরাগি পাহাড় রিকশায় ২৫ টাকা।পাহাড়ে ঢোকার পূর্ব রাস্তায় সুন্দর একটি টাওয়ার দেখতে পাবেন।আর সেই সাথে অনেক ফুলের দোকান।
পাহাড়ের উপরে আড্ডা দেওয়ার মত প্লেস,বসে বিশ্রাম নিতে পারেন।চা,ফুচকা পাবেন এখানে।
___[মসজিদে সিরাজউদ্দৌলা থেকে বেড় হবার সময় ঘরিতে সময় ছিলো দুপুর ২টা।তাই সেখানেই দুপুরের খাবার সেরে ফেলেছিলাম।মসজিদ থেকে একটু সামনে ABC Restaurant।খাবার ভালো ছিলো]
৮।বৌদ্ধ বিহার:
চেরাগি পাহাড়ের সাথেই রাস্তার পাশে বৌদ্ধ বিহার।বৌদ্ধ ধর্মীয় অনেক কিছুই রয়েছে দেখা ও জানার জন্য।
৯।চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার:
বৌদ্ধ মন্দির থেকে বামে প্রায় দশ মিনিট হাঁটলে চট্টগ্রাম শহীদ মিনার।অনেক সুন্দর একটি স্থান।আর ভালো বিষয় হলো শহীদ মিনারটি পাহাড়ের উপরে[যদিও শহীদ মিনারটিকে স্মৃতি স্তম্ভ বলাই ভালো]
১০।বাটালি পাহাড়:
শহীদ মিনার থেকে রিকশায় দশ টাকা পথ নিউমার্কেট।নিউমার্কে­­ট থেকে লেগুনায় করে সরাসরি বাটালি পাহাড়ের মুখে যেতে পারবেন।বাসে গেলে আপনাকে টাইগারপাস নামতে হবে এবং একটি রিকশায় দশ টাকা দিয়ে বাটালি পাহাড়।
ভাড়া:নিউ মার্কেট থেকে লেগুনায় দশ টাকা/বাসে পাঁচ টাকা।
___[এই পাহাড় থেকে আপনি চট্টগ্রাম শহরের একাংশ দেখতে পাবেন।অনেক সিড়ি বেয়ে পাহাড়ে উঠতে হয় তাই অবশ্যই সাবধানতা অবলম্বন করুন।পাহাড়ের উপরে বসার মত দৃষ্টিনন্দন জায়গা রয়েছে।পাশেই চট্টগ্রাম ডিআইজির বাংলো।]
নিচে নামার সময় সিড়ির বদলে রাস্তা ব্যবহার করুন।রাস্তা খুবই প্যাঁচানো,পুরোপুরি দার্জিলিং স্টাইল।
মোট খরচ-
খাবার:২১০ টাকা
বাস-রিকশা-লেগুনা:২০০­(প্রায়)
যেখানে সেখানে ময়লা আবর্জনা ফেলবেন না।
ধর্মীয় স্থানে আপত্তিকর আচারণ হতে বিরতি থাকি।ধর্মীয় স্থান ও শহীদ মিনারে জুতা পায়ে উঠার বিষয়ে সতর্ক থাকি(অর্থাৎ যেখানে নিষেধ সেখানে জুতা পায়ে উঠবো না)

source: Jabir Ibn Haiyan>Travelers of Bangladesh (ToB)

21 Nov 2019

আমাদের যাত্রা ছিল বান্দরবান জেলার থানচি উপজেলার রেমাক্রি ইউনিয়নের নাফাখুম এবং দুর্গম নাক্ষিয়ং এর দেবতাপাহাড় >আমিয়াখুম>ভেলাখুম>সাতভাইখুম।
১ম দিন- কুমিল্লা থেকে রাত ১২.৪৫ টায় সৌদিয়া বাসে (টিকিট ৬২০) যাত্রা শুরু করে সকাল ৬.০০ টায় বান্দরবান শহরে পৌছয়ে যাই। বাস থেকে নেমে নাস্তা শেষ করে চান্দের গাড়ি রির্জাভ (৫৫০০৳) করে থানচির উদ্দেশ্য রওনা দেয়। যেতে যেতে পথে চঁাদ উঠেছিল না মেঘের সমুদ্র দেখা মিলছিল.এই সমুদ্রের বর্ননা হয়ত লিখে বা ক্যামেরা বন্দী করে বুঝানো যাবে না স্বয়ং নিজ চোখে না দেখিলে।

বেলা ১১ টার দিকে আমরা থানচি পৌছে যাই, থানচি থেকে ১০-১২কি.মি আগে বিজিবি চেকপোস্ট পরে, সেখানে আমাদের সবার আইডি কার্ডের ফটোকপি জমা দিয়ে নাম ঠিকানা লিখে এন্ট্রি করতে হয় NID, Varsity ID, Birth certificate যেকোন একটা দিলেই হয়। বিজিবি এর একটা ক্যাফে আছে ওখানে স্থানীয় বাগানের একদম ফ্রেস পেপে, কমলার জ্যুস পাওয়া যায়, চায়লে ট্রাই করে দেখতে পারেন।কয়েকদিন আগে থেকেই ১৩০০০টাকা দিয়ে লোকাল গাইড + নৌকা(আপ ডাউন) ৩ দিনের জন্য গাইড ঠিক করে রেখেছিলাম। আমাদের গাইড ছিলেন রাফায়েল দাদা। আমিয়াখুম,ভেলাখুম,সাতভাইখুম,দেবতা পাহাড় যাওয়ার ২ টা পথ আছে, একটা হল পদ্দঝিরি হয়ে ৭-৮ ঘন্টা ট্রেকিং করে থুইশাপাড়া দিয়ে, আর একটা হল রেমাক্রি হয়ে নাফাখুম দিয়ে জিন্নাপাড়া-থুইশা পাড়া হয়ে, দুই পথের মজা নেওয়ার জন্য আমরা রেমাক্রি হয়ে যায় ফেরার সময় পদ্মঝিরি হয়ে ব্যাক করি , তো গাইড ওইভাবেই সব ঠিক করে রেখেছিল। থানচি পৌছানোর পর রাফায়েল দাদার মাধ্যমে থানা,বিজিবি থেকে সব ধরনের ফর্মালিটিস পূরন করে আগামী ৩/৪ দিনের জন্য বাসায় শেষ বারে মত কথা বলি।কারন সাঙু নদীতে একটু এগিয়ে গিলে আপনি নেটওয়ার্কে বাইরে চলে যাবেন, বেলা ১ টার দিকে লাইফ জ্যাকেট, পানি, স্যালাইন,গ্লুকোজ, শুকনো খাবার কিনে নৌকায় উঠে পরলাম সাংঙু নদী দিয়ে রেমাক্রি যাওয়ার জন্য। কেননা পরে আর তেমন কোন খাবার কিনতে পাওয়া যাবে না।।সাংগু নদী আর বড় পাথরের অপরূপ দৃশ্য দেখতে দেখতে ২/৩ ঘন্টা অতিক্রম করার পরেই আমরা পৌঁছে গেলাম রেমাক্রি, গাইড আমাদের থাকার জন্য রেমাক্রিতে একটা কটেজ ঠিক করে রেখেছিল, খাওয়ার ব্যবস্থাও ওখানেই। রেমাক্রি পৌছে সাঙু নদীতে রেমাক্রি ঝিরিতে কিছুক্ষণ ঝাপাঝাপি করে সেদিনের মত বিশ্রাম। রাতে রেমাক্রি বাজারে কিছুক্ষন ঘুরে কটেজে আসলাম, এরপর আকাশের তারা গুনতে গুনতে আর দূর থেকে আসা রেমাক্রি ঝিরির মৃদু গর্জন শুনতে শুনতে ঘুমিয়ে পরলাম। মনে হলো জীবন এত সুন্দর কেন!

২য় দিন- আমরা রেমাক্রি থেকে নাফাখুমের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করব। যাই হোক সকালে রেমাক্রি বাজার থেকে পরোটা ডিম ভাজি দিয়ে নাস্তা করলাম। এরপর কটেজের আনুষঙ্গিক খরচ শেষ করে ব্যাগসহ সকাল ৮ টাই নাফাখুমের উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম। পাহাড়ের পাদদেশ ঘেষে বড় ছোট ঝিরিপথ দিয়ে হাটতে হাটতে হঠাৎ দেখামিল আরাকান আর্মির। দৃষ্টির অগচোরে আরাকান আর্মির নাম শুধু বইয়ের পাতা বা খবরে কাগজেই শুধু পড়সিলাম কিন্তু হঠাৎ সামনে আসাতেই অস্ত্রধারী বাহিনী দেখে যেমন আনন্দে আত্মাহারা হয়লাম তেমনই অনিশ্চিত ঝুকিতে বুকের ভিতর দুরুদুরু করে কাপছিল।হয়ত তখনই থেমে যেতে জীবন প্রদ্বীপটা কিন্তু সৌভাগ্য আমাদের তারা যথেষ্ট শান্তকামী এবং তাদের বিষয় ধারনাটা ভূল তার হিংস্র নয়। প্রায় আড়াই ঘন্টা পর নাফাখুমের অপার সৌন্দর্য দেখে কোথায় যেন সব ক্লান্তি উড়ে গেল। বাংলার নায়াগ্রার ঠান্ডা হিমশীতল পানিতে গোসল করে রোদ পোহানো হল কিছুক্ষন এরপর শুকনো কিছু খাবার খেয়ে রওনা দিলাম জিনাপাড়ার উদ্দেশ্যে। সূর্য ততক্ষণে মধ্যগগনে ঘড়িতে বাজে ১.৪৫, এমনিতেই টানা হাটার পর গোসল তারপর আবার হাটা, শরীর যেন চলতেই চায় না কষ্ট হলেও হেলেদুলে হাটতে হাটতে বিকাল ৫ টায় জিনাপাড়াতে পৌছালাম। চারদিকে পাহাড় আর নেটওয়ার্ক এর চিহ্ন মাত্র নেই শুধু এরপর সন্ধ্যায় চায়ের দোকানে বসে সারাদিনের ক্লান্তি ভুলে গান, আড্ডা আর রাতে ঝিঝি পোকার আওয়াজ কি যে অসম্ভব সুন্দর অনুভূতি যা লিখতে গেলে হাজার রাত পার হয়ে যাবে।

৩য় দিন- ভোর ৬ টায় নাস্তা করে কটেজ বিল মিটিয়ে থুইসাপড়ার উদ্দেশ্য রওনা, ৩০ মিনিট পর থুইসাপাড়া পৌছায় কটেজে ব্যাগ রেখে আমাদের মূল সফর শুরু (গাইড আগে থেকে কটেজ ঠিক করে রেখেসিল থুইসা পাড়ায়) গাইড আগের রাতে জানিয়ে দিয়েছিলেন আজকে তিনটি পাহাড় পার হতে হবে এর মধ্যে একটি দেবতা পাহাড় যার নাম শুনলেই মেরুদন্ড দিয়ে ছোটখাট শীতল স্রোত বয়ে যায়। জেনে রাখা ভালো আমরা যেগুলোকে পাহাড় বলি স্থানীয়রা সেটাকে টিলা বলে। থুইসাপাড়া থেকে সকাল ৮.০৪ টাই আমরা আমিয়াখুমের উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম। আগেরদিন টানা হাটার কারণে দেবতা পাহাড় পৌছানোর পূর্বেই আমাদের দলের একজন প্রকৃতির কাছে হার মেনে ফেরত চলে গেল। বাকি সদস্য নিয়ে দেবতা পাহাড় যখন পৌছালাম তখন আমাদের আনন্দ দেখে কে! এরপর শুরু হল প্রতি পদে পদে বিপদ আর রোমাঞ্চ, একবার পা হড়কে গেলে কি হবে তা আর ভাবতে চাই না। দেবতা পাহাড় থেকে আমিয়াখুম এর সেই গর্জন নতুন করে উদ্দীপনা তৈরি করল আমাদের মাঝে তারপর সম্পূর্ণ খাড়া একটি পাহাড়ের খাজে খাজে মাটির রাস্তা ধরে নামতে আমাদের মোটামুটি ১.৩০ ঘন্টার মত সময় লাগলো। এরপর হাতের ডান দিকে কিছুক্ষন হেটে ভেলাখুমের দিকে যাওয়া শুরু করলাম। উচু নিচু পাথরের মাঝ দিয়ে পাথুরে রাস্তা দিয়ে সতর্কতার সাথে হেটে সবুজ স্বচ্ছ শান্ত জলধারার এক পাড়ে এসে দাড়ালাম এখান থেকে আমাদের ভেলায় করে যাত্রা শুরু হবে। রাফায়েল দাদা আগেই ভেলা ঠিক করে রেখেছিলেন। ভেলাখুমের জলরাশি আর দুপুরের কড়া রোদ মিলেমিশে এক অন্যরকম অনুভূতি। ভেলাখুম দেখা শেষে যে পথে এসেছি ওই পথেই ১৫ মিনিট হাটলেই দেখা মিলবে আমিয়াখুম, আমিয়াখুম এর সামনে প্রবল জলরাশির কাছে গিয়ে সব কষ্ট সার্থক মনে হলো। একটু আগালেই দেখা মিলবে সাতভাইখুম, এরপর কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিয়ে এরপর বেশ বড় কিছু পাথরের উপর দিয়ে হক্ষ্যংমুখে গোসল করে আমরা দেবতা পাহাড়ের দিকে যাত্রা শুরু করলাম,এখন উঠার শরীরে বিন্দুমাত্র শক্তি নেই কিভাবে উঠেছি নিজেও জানি না, সময় লাগলো প্রায় ৪০ মিনিট। বিকালে পরিশ্রান্ত অবস্থায় থুইসাপাড়া আসার পথে পাহাড়ের মাঝে সূর্যাস্ত দেখতে দেখতে আসার যে অনুভুতি বেঁচে থাকলে আবার আসার সংকল্প করলাম

৪র্থ দিন- অফিসিয়ালি ট্যুর শেষ, কিন্তু পদ্মঝিরি আমাদের ডাকছে। দীর্ঘসময় থুইসাপাড়া থাকায় হঠাৎ কেমন যেন মায়া পড়ে গেছে, স্মার্টফোন আর ইন্টারনেট এর যুগে নেটওয়ার্কবিহীন এলাকায় নিয়ম করে সন্ধ্যায় সবাই চা খেতে খেতে আড্ডা দেয়া আর হবে না। কিন্তু সকল মায়া ত্যাগ করে আমাদের রওনা দিতে হবে। থুইসাপাড়া থেকে পদ্মমুখ পর্যন্ত হাটার গতির তারতম্যের বিচারে আসতে সময় লাগে ৬-৮ ঘন্টা। সকাল ৭টাই থুইসাপাড়া থেকে বিদায় নিয়ে পদ্মঝিরির দিকে হাটা শুরু হলো আমাদের। পাঁচটা পাহাড় আর দুই-তিনটা টিলা পার হয়ে হরিশ্চন্দ্রপাড়া পৌছাতে বেলা ১ টা বেজে গেলো। এর মাঝে আমাদের গাইড রাফায়েল দাদা দূর থেকে আমাদের তাজিংডং আর সাকা হাফং পাহাড় দেখিয়ে দিলেন। অফিসিয়ালি তাজিংডং বাংলাদেশের সবচেয়ে উচু পাহাড় কিন্তু পাহাড়িদের মতে তাজিংডং সাকা হাফং এর অর্ধেকও না।হরিশ্চন্দ্র পাড়ার জুমঘরে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিয়ে এখান থেকেই পদ্মঝিরিতে নেমে গেলাম আমরা। আলোআধারি পরিবেশ আর দুইপাহাড়ের মাঝ দিয়ে বয়ে চলা ছোট বড় ঝিরি দিয়ে তৈরি চমৎকার এক পথের নাম পদ্মঝিরি সেই ঝিরির উপর দিয়ে হাটতে হাটতে বিকাল ৫ টায় আমরা পদ্মমুখে পৌছে বোটে উঠে থানচিতে চলে আসলাম। অতঃপর চান্দেরগাড়ি রির্জাভ করে আলীকদম হয়ে চকরিয়া এসে উদ্দেশ্যবিহীন ভাবে শহরের এখানে সেখানে ঘুরে রাতের বাসে কুমিল্লা চলে আসলাম।

পুরো ট্যুরে আমাদের জনপ্রতি খরচ ৪৬০০টাকা।আমরা ছিলা ১২ জন
খরচ সমূহ
কুমিল্লা-বান্দরবান ৬২০(সৌদিয়া)
বান্দরবান-থানচি চান্দের গাড়ি ৫৫০০
রেমাক্রি এবং থুইসাপাড়া থাকা জনপ্রতি ১৫০টাকা আর খাওয়া ১২০-১৫০ টাকা
থানচি থেকে চকরিয়া চান্দের গাড়ি ২৫০০ টাকা
গাইড নৌকা খরচ ১৩০০০ টাকা

ট্যুর উপযোগী যে জিনিস গুলি নিতে হবেঃ
NID,Varsity Id Or B.Certificate ৫ কপি photocopy
ব্যান্ডেজ
প্রচুর স্যালাইন
এংলেট
ট্রেকিং শু(থানচি বাজারে পাওয়া যায়, দাম ১৫০টাকা)
প্যারাসিটামল এবং গ্যাস্ট্রিক জাতীয় ঔষধ
খেজুর,বাদাম,চকলেট,নুডুলস
বিঃদ্র- আপনার দ্বারা পরিবেশের যেন ক্ষতি না হয় সেটা অবশ্যই খেয়াল রাখবেন।প্লাস্টিকের বোতল চিপস এর প্যাকেট এগুলো ফেলে আসবেন না। যেকোন একটি পলিথিনে আপনাদের অব্যবহার্য প্লাস্টিক এবং পলিথিন রেখে থানচিতে নিয়ে এসে ফেলবেন।

Source: MehEdy HasSn NoyOn‎<Travelers of Bangladesh (ToB)

19 Nov 2019

ভোলাগঞ্জ মুগ্ধ করেছে আমাকে, আমি শিওর মুগ্ধ করবে আপনাকে ও। কোলাহল মুক্ত নিরিবিলি পরিবেশে যদি প্রকৃতি উপভোগ করতে চান, তাহলে ভোলাগঞ্জ সাদাপাথর এর তুলনা কেবল এটি নিজেই। হাওরের পরিস্কার স্বচ্ছ পানি আপনার মন ভুলাতে বাধ্য করবে। আর মেঘলয় এর বিশাল বিশাল পাহাড়ের সাথে মেঘের ছন্দপতন খেলা উপভোগ করতে গিয়ে কখন যে সময় পেরিয়ে যাবে আপনি টের পাবেন না আমি নিশ্চিত। বাকিটা নিজের চোখে গিয়ে দেখে আসাই ভালো।

#ভ্রমন_বৃত্তান্ত: বহুদিনের শখ ছিলো সিলেট যাব। কিন্তু দিনটি যে এভাবে হুট করে চলে আসবে সেটি ভাবিনি। যাবার আগের দিন রাতে সিদ্ধান্ত নিলাম, দ্যান সকালে অনলাইনে ট্রেনের টিকেট কাটতে গিয়ে দেখি টিকেট শেষ। স্টেশন এর কাছাকাছি থাকে এক বন্ধুকে কল দিয়ে বললাম টিকেট আছে কিনা গিয়ে দেখার জন্য। ভাগ্য ভালো, টিকেট পেলাম।

বন্ধুর কাছ থেকে টিকেট বুঝে নিয়ে আমরা দুজন আল্লাহর নাম নিয়ে উঠে পরলাম ৯.৫০ এর ট্রেনে। ভাগ্য টা এত ভালো, আল্লাহর অশেষ কৃপায় এ যাত্রায় রক্ষা পেয়ে গিয়েছিলাম কারন আমাদের পরের রাত ১২.০০ এর ট্রেন টাই এক্সিডেন্ট করে :'(

যাহোক, সকাল সকাল স্টেশন এ নেমে হাত মুখ ধুয়ে নাস্তা সেরে রিক্সা নিয়ে চলে গেলাম আম্বখানা পয়েন্টে। সকালের নীরব শহর মুদ্ধ করবে আপনাকে। এবার BRTC এর জন্য ওয়েট করার পালা। সাড়ে সাতটায় ও আসার নাম নেই। ততক্ষনে দেখি কিছু গ্রুপ হাজির হয়ে গেছে। তারপরে হুট করে এক লোক এসে বলল টিকেট কাটুন, প্রথম বাস ছাড়বে সাড়ে আট্টায়। হুড়মুড় করে টিকেট কেটে উঠে পরলাম দোতলায়।

একেবারে ঠিক সাড়ে আট্টায় বাস ছেড়ে দিলো। কিছুদূর না যেতেই দুইপাশে চলে আসলো উঁচুনিচু পাহাড়ি চা বাগান। রাতের জার্নির ক্লান্তি নিমিষে দূর হয়ে গেলো। বাগান পেরি দু ধারে বিস্তৃর্ন খোলা মাঠ। মাঠ পেরিয়ে এবার মেঘালয় এর উচু পাহার দূর থেকে একটু একটু উকি দিতে শুরু করল। বাস যতই সামনে এগুচ্ছে মনে হচ্ছে এইতো পাহাড় ছুয়ে ফেললাম।

বাস নামিয়ে দিলো একদম সাড়ে নয়টায় জিরো পয়েন্ট নৌকাঘাট। কড়া রোদ পরবে সেটা জেনেই ছাতা নিয়ে এসেছিলাম বলে রক্ষা। যাহোক, ওখানে যেতেই একটা গ্রুপ আমাদের বলল সাদাপাথর যাব কিনা। তখন তাদেএ সাথে মিল হয়ে উঠে পরলাম নৌকায়। পরিস্কার পানি দেখছি, ওরা গান ধরছে, সামনে বিশাল বিশাল পাহাড়। মনে হচ্ছিলো সারাটা জীবন যদি এভাবে পার করতে পারতাম। যাহোক, ২০ মিনিটেই পৌছেগেলাম সাদাপাথরে। নেমে পানি দেখে আর আনন্দ ধরে রাখা যাচ্ছিলোনা। এ যেনো সাজানো গোছানো সুইমিং পুল। আর রোদ ও ছিলো কড়া। গোছল সেরে নিলাম।

পাহাড়ের সাথে মেঘের বন্ধুত্ব দেখছি আনমনে। কি একটা যোগসূত্র যেনো আছে তাদের। 😌 দেখতে দেখে সময় পেরিয়ে গেলো। পুরো যায়গাটা ঘুরে দেখলাম। অসাধারণ সুন্দর। ছোট একটা মাচায় দেখলাম আবার ভাত রান্না করছে। রুই মাছ দিয়ে খেয়ে নিলাম ওখানেই। এবারে ফেরার পালা।

ফিরার পথে চা বাগান নেমে যেতাম। কিন্তু পাশের জনের আপত্তি তে আর নামা হলোনা। আম্বখানা গিয়ে রিক্সা নিয়ে চলে গেলাম মাজারে। ওখানে কিছুক্ষন কাটিয়ে চলে সিএনজি করে চলে গেলাম শাহ পরানের মাজারে। মাজার ঘুরে সাতরঙ এর চা খেয়ে লোকাল সিএনজি করে সোজা বাসস্টপ। এক্সিডেন্ট এর পরে ট্রেনে যাবার সাহস হয়নি আর। ওখানে খেয়ে দেয়ে উঠে পরলাম রাতের বাসে। দুই রাত একদিন কিভাবে গেলো কিছুই টের পেলাম না। 😌

যাতায়াত :
1) → ট্রেন/বাস নামাই দিবে সিলেটের কদমতলী(এনা/হানিফ/ইউনিক: ভাড়া ৪৮০) ট্রেনে ভাড়া:(শোভন চেয়ার ৩২০, শোভন: ২৬০)।
টিপস: ট্রেনে আসুন। খরচ কম এবং আরামদায়ক। দুইদিন আগেই টিকেট করে রাখুন। রাত সাড়ে দশটার ট্রেনে চলে আসুন কদমতলী।

২) → কদমতলী থেকে রিক্সা/লোকাল সিএনজি/রিজার্ভ সিএনজি সব কিছু পাবেন। রিক্সা নিয়ে চলে আসুন আম্বরখানা সিএনজি স্টেশন। (ভাড়া ৫০ টাকা)

৩) → সিএনজি পাবেন ভোলোগঞ্জ এর। জনপ্রতি ১৫০ করে। নামবেন ভোলাগঞ্জ জিরো পয়েন্ট/সাদাপাথর নৌকাঘাট।

টিপস: সিএনজি তে উঠার কোনো দরকার নাই। স্টেশন থেকে ৩০ সেকেন্ড সামনে হাটলে BRTC কাউন্টার পাবেন। ৬০ টাকা জন প্রতি টিকেট কেটে দোতলায় উঠে পরুন। চা বাগান দেখতে দেখতে আপনাকে মাত্র ১ ঘন্টার ভিতরেই ভোলাগঞ্জ নৌকাঘাট নামায়া দিবে। BRTC সকাল ৭ টায় ছাড়ার কথা থাকলে ও আমাদের সময় ছেড়েছিলো সকাল ৮.৩০ এ। তারপরে আর থামাথামি নাই 😌

৪) → ঘাট থেকে নৌকা পাবেন। ভাড়া ফিক্সড। সাদাপাথর আসা যাওয়া ৮০০ টাকা। সময় দিবে দুইঘন্টা। এক নৌকায় আটজন বসা যাবে।

টিপস: আমরা গিয়েছিলাম দুইজন। পরে আরো সাত জনের একটা গ্রুপের সাথে কানেক্ট হয়ে তারপর নৌকা ঠিক করি।।

৫) → যেভাবে গেছেন, ফিরবেন ও সেভাবে। অবশ্যই ফিরার টাইমে বিমানবন্দর রোড চা বাগানে নেমে যাবেন। চা বাগান দেখে আম্বরখানা চলে আসবেন। শাহজালাল মাজার কাছেই। টু মেরে আসতে পারেন। শাহজালাল মাজার থেকে ৩০ টাকা করে লোকাল সিএনজি যায় শাহপরান মাজারে। মাজারের সাথেই পাবেন সাতরং এ চা। মাঝার ঘুরে লোকাল সিএনজি পাবেন বাসস্ট্যান্ড/ট্রেন স্টপেজ এর। ভাড়া জনপ্রতি ৪০ টাকা।

খরচ: আমরা দুইজন গিয়েছিলাম। জনপ্রতি হিসেব দিচ্ছি এখানে।
ঢাকা-সিলেট ট্রেন: ৩২০
সকালের নাস্তা: ৫০
রিক্সাভাড়া: ৫০
BRTC: 60+60(আসা যাওয়া)
নৌকাভাড়া: ১০০
দুপুরের খাবার: ১০০
আম্বখানা-শাহজালাল: ২৫
শাহজাল-শাহপরান: ৩০
শাহপরান – বাসস্ট্যান্ড: ৪০
রাতের খাবার: ১৫০
বাসের টিকেট: ৪৮০
চা,পানির বোতল, অন্যান্য: ১৫০
টুটাল: 1620 টাকা(per person)

বিঃদ্রঃ পরিচ্ছন্ন একটা যায়গা ভোলাগঞ্জ সাদাপাথর। দয়া করে এখানে সেখানে ময়লা চিপস এর প্যাকেট ফেলে পরিবেশ নোংরা করবেন না। দেশ আমার, পরিচ্ছন্ন রাখার দ্বায়িত্ব ও আমার। ধন্যবাদ সবাইকে। হ্যাপি ট্রাভেলিং..!

Source: Abdullah Imran<Travelers of Bangladesh (ToB)

19 Nov 2019

যাওয়া:ঢাকা থেকে রাত ১০:৩০ মিনিটে চট্টগ্রাম মেইল ট্রেন ছেড়ে যায়(ভাড়া ১২০টাকা)তবে লোকান ট্রেনের মতই আগে ট্রেনে উঠে সিট নিতে হবে তা নাহলে দাঁড়িয়ে যেতে হবে।উঠার আগে রাতের খাবার খেয়ে নিন ৫০টাকার মধ্যে আর সাথে ২০ টাকার মত হাল্কা খাবার নিয়ে নিন।ট্রেন পৌছাবে সকাল ৬:৩০ মিনিটে সীতাকুণ্ড। নেমে ভাই ভাই হোটেল থেকে ২৫টাকায় সকালের নাস্তা খেয়ে নিন।তারপর ১০টাকা জনপ্রতি ভারায় অটোরিক্সা বা সিএনজি করে চলে যান চন্দ্রনাথ পাহাড়ে।পাহাড়ে উঠার আগে সাথে কিছু খাবার আর অবশ্যই খাবার স্যালাইন নিয়ে নিন প্রায় দের লিটারের মত।তারপর হাতে ১০টাকা ভাড়ায় ছোট বাঁশ নিয়ে নিন আর উঠে পড়ুন।

সামনে গিয়ে দুইটা রাস্তা পাবেন।সবাই বলে ডান দিক দিয়ে উঠতে তবে আমি বলবো বাম দিকের রাস্তা দিয়ে উঠার।ডান দিকের রাস্তা দিয়ে উঠলে আপনি সহজে উপরে যাবেন সিঁড়ি বেয়ে আর তেমন কিছু দেখতে পাবেন না।কিন্তু বাপ দিকের রাস্তা দিয়ে উঠলে সারা রাস্তা #ব্যয়ার_গ্রীলস এর মত মজা নিতে নিতে উঠতে পারবেন আর সাথে অনেক ভিউ পাবেন।একটু ভয়ংকর তবেন অনেক রোমাঞ্চকর। উঠতে গিয়ে মাঝ পথে আরো ২টা রাস্তা পাবেন।একটা ছোট মন্দিরে গেছে আর একটা অন্য রাস্তা।

সেখান থেকে আপনারা অন্য রাস্তাটাই ব্যবহার করবেন।২০-২৫ মিনিট উঠার পর বিশ্রাম এর জায়গা পাবেন।সেখানে একটু রেস্ট নিয়ে নিন।তারপর আর একটু উঠলেই আপনি পাহাড়ের উপরে।নামার সময় দ্বিতীয় রাস্তা তথা সিঁড়ি বেয়ে নেমে পড়ুন।নামার সময় বুঝবেন যে আমি কেন এই রাস্তা দিয়ে উঠতে নিষেধ করেছিলাম।তারপর আবার একই ভাড়ায় চলে আসুন সীতাকুণ্ড বাজার।সেখান থেকে ৮ নাম্বার বাস ছাড়ে ১৫ টাকা জনপ্রতি ভাড়ায় উঠে পড়ুন বাশবাড়িয়ার উদ্দেশ্যে।বাস আপনাকে বাশবাড়িয়া হাইওয়েতে নামিয়ে দিবা।

এবার রাস্তা পার হয়ে সিএনজি নিয়ে চলে যান বিচে(২০টাকা জনপ্রতি)।সেখানে দুপুর কাটান চিল করেন।এবার ৪০টাকায় দুপুরের লাঞ্চ করে নিন।লাঞ্চ করে আবার চলে আসুন হাইওয়েতে। আবার রাস্তা পার হয়ে ৮নাম্বার বাসে উঠে চলে যান অলংকার (২৫ টাকা ভাড়া)।সেখানে নেমে ১১ বা ১২ নাম্বার বাসে উঠে ফ্রি পোর নেমে যান(১৫টাকা ভাড়া)।সেখান থেকে অটোরিক্সায় করে পতেঙ্গা চলে যান(২০ টাকায়)।

সেখান থেকে ঘুড়ে চলে।আসুন নেভাল।বা আগে নেভাল এসে পরে পতেঙ্গা যান।নেভাল যাওয়ার ভারা পতেঙ্গা থেকে ১০ টাকা।তারপর সন্ধার মধ্যে ৬ নম্বর বাসে চলে আসেন চট্টগ্রাম স্টেশন(ভাড়া ৩০টাকা)।সেখান থেকে আগে রাত্রের খাবার খেয়ে নিন ৩০ থেকে ৪০ টাকায়।তারপর ২০টাকার কিছু হালকা খাবার কিনে নিন।তারপর ১২৫টাকায় ঢাকা মেইল ট্রেন এরর টিকেট কিনে ফেলুন।চেষ্টা করবেন ৯টার মধ্যে প্লাটফর্মে থাকার।এখন ট্রেনে উঠে চলে আসুন।

সবাই গুলিয়া খালি যাওয়ার কথা বলে তবে আমাদের কাছে জায়গাটা ভালো লাগে নি।সে জন্য আমরা সেখানে সময় নষ্ট না করে বেড়িবাঁধ ধরেই পায়ে হেঁটে বাশবাড়িয়া চলে আসছি।

Source: TJ Ahmed Rohan‎<Travelers of Bangladesh (ToB)

16 Nov 2019

বিরিশিরি নেত্রকোনা জেলার দূর্গাপুর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী একটি গ্রাম। বিরিশিরির আকর্ষণীয় স্থান হচ্ছে চীনামাটির পাহাড় এবং স্বচ্ছ হ্রদের নীল জল। সারাদিন ভ্রমণ করে এসে সবুজ ঘাসের উপর বসলে আপনার ক্লান্তি নিমিষেই দূর হবে। স্বচ্ছ এই হ্রদের পানির উৎস গারো পাহাড় থেকে নেমে আসা সোমেশ্বরী নদী!

যেভাবে যাবেনঃ
ঢাকার মহাখালী থেকে জিন্নাত এবং সরকার নামের দুটি বাস আছে। ঢাকা থেকে বিরিশিরি আসার ভাড়া পড়বে ২৫০-৩৫০ টাকা। সময় লাগবে ৫ঃ০০-৫ঃ৩০ ঘন্টা। মহাখালী থেকে রাত ১১ঃ৩০ পর্যন্ত বাস পাবেন। সকালে ভোরে এসে পৌছাবেন বিরিশিরি।

যেখানে থাকবেনঃ
থাকার জন্য দূর্গাপুরে বেশ কয়েকটি রেস্ট হাউজ রয়েছে। সোমেশ্বরী ইন্টারন্যাশনাল, জেলা পরিষদ ডাকবাংলো তে থাকাটা যৌক্তিক। এই দুইটার সেবা এবং সিকিউরিটি বেশ ভালো।

খাওয়া দাওয়াঃ
দূর্গাপুর বা বিরিশিরিতে খাওয়া দাওয়ার জন্য ভালো মানের হোটেল নেই। স্থানীয় যেসব মাঝারি মানের হোটেল আছে সেগুলোতেই খেতে হবে। তবে হোটেল নিরালার খাবার তুলনামূলক ভাবে ভালো।

যেভাবে ঘুরবেনঃ
সকালবেলা বাসস্ট্যান্ডে নেমে সরাসরি চলে যান রেস্ট হাউজ বা ডাকবাংলো তে। কিছুক্ষণ রেস্ট নিয়ে বেরিয়ে পড়ুন। রিক্সা করে চলে যান বিরিশিরি কালচারাল একাডেমি। কিছুক্ষণ সেখানে ঘুরে অল্প দূরেই সোমেশ্বরী নদীর পাড়ে বসতে পারেন। এখান থেকে নদী অনেকটা দেখা যায়। তারপর রিক্সা করে চলে যান তেরী বাজার। নৌকা দিয়ে নদী পার হয়ে শিবগঞ্জ। শিবগঞ্জ থেকে রিক্সা নিয়ে বিজয়পুর বিজিবি ক্যাম্প। ক্যাম্পের সামনে দিয়ে সোমেশ্বরী নদীর পাড়ের দিকে চলে যান। পাড়ে ছোটো ছোটো নৌকা পাওয়া যায়। নৌকা দিয়ে ঘুরে আসুন জিরো পয়েন্ট, রানীর গুহা। স্বচ্ছ নীল পানির উপর ভেসে ভেসে গারো পাহাড় দেখতে থাকুন। এ এক অপার্থিব দৃশ্য। মন ভরে যায়। সোমেশ্বরী নদী সম্পদের আধার। স্বচ্ছ নীল পানির নিচ দিয়ে ছোটো বড় অসংখ্য মাছ, গারো পাহাড় থেকে ভেসে আসা কয়লা, পাথুরে বালি সবই দেখা যায়।

নদী ঘুরা শেষ হলে কমলা পাহাড়ে যেতে পারেন। বিজিবি ক্যাম্পের পাশেই!

তারপর সেখান থেকে চলে যাবেন শাদা মাটি। বিরিশিরির ছবি বলতে আমরা যা দেখি ঐটাই মুলত শাদামাটি বা চীনামাটি পাহাড়ের দৃশ্য। অসম্ভব সুন্দর জায়গা। নীল পানির হ্রদ যার গভীরতা ১২০-১৫০ ফুট। পাহাড়ের উচুতে উঠার জন্য বেশ কয়েকটি পথ আছে। একদম পশ্চিমের পাহাড় থেকে পাহাড়ে উঠা শুরু করুন। তারপর একেকটা ঘুরতে থাকুন।
এখান থেকে গারো বাজারটাও ঘুরে আসতে পারেন। দূরত্ব দেড় কিলোমিটার।

খরচঃ
১. দূর্গাপুর-কালচারাল একাডেমি -২০/-
২.একাডেমি–তেরীবাজার–৩০/-
৩.তেরীবাজার–শিবগঞ্জ–১০/-
৪. শিবগঞ্জ–বিজিবি ক্যাম্প–৬০/-
৫.বিজিবি ক্যাম্প-জিরোপয়েন্ট-রানীরগুহা-২০০-২৫০/-(নৌকা)
৬.বিজিবি ক্যাম্প–শাদামাটি–৭০/-
৭.শাদামাটি–গারোবাজার-৫০/-(বাইক)
৮.গারোবাজার-শিবগঞ্জ–৮০-১০০/-
৯. শিবগঞ্জ–তেরীবাজার–১০/-

এছাড়াও ঘুরতে পারেনঃ
কলমাকান্দার সাত শহীদের মাজার, চন্দ্রডিঙা পাহাড়, সেন্ট জোসেফের গীর্জা, রানীখং গীর্জা।

সতর্কতাঃ হ্রদের পানিতে নামা বিপজ্জনক। কারণ এর গভীরতা ১২০-১৫০ ফুট।
ভ্রমণের স্থানে সিগারেটের ফিল্টার, চিপসের প্যাকেট, ডাবের খোসা, পানির বোতল ফেলে পরিবেশ নষ্ট করবেন না। সর্বোপরি পাহাড়ের উদ্ভিদ এবং প্রানীর ক্ষতি হয় এরকম কার্যকলাপ থেকে বিরত থাকুন।

Source:

16 Nov 2019

পাশাপাশি অবস্থিত ময়মনসিংহ এবং টাঙ্গাইলের এই দুটি উপজেলার ৩ টি স্পট সহজেই একদিনেই ঘুরে আসা যায়।
ক্লাস টেস্টের মাঝেই শুক্রবার দেখে আজ ৫ বন্ধু মিলে সকাল ৭ঃ৩০ এ বের হলাম। আমাদের বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে ২০ টাকার জনপ্রতি অটো ভাড়াতে চলে এলাম টাউনহল মোড়৷

#খরচ_জনপ্রতি_হিসেবে_উল্লেখিত
সেখান থেকে ৬০ টাকা সিএনজি ভাড়ায় চলে এলাম কালীবাড়ি বাজার(মুক্তাগাছা পার হয়ে)। এই বাজার থেকে ১৫ টাকায় ভ্যানে করে গেলাম ছালড়া বাজার।

#স্পট_১
#ছালড়া_শালবন
খুবই নিরিবিলি একটা এলাকা। ছালড়া বাজার থেকে ১০ মিনিট হাটলেই পড়বে এই বন। ঘন শালবনের বুক চিড়ে চলে গেছে গ্রামের সরু পাকা রাস্তা। রাস্তা থেকে নেমে বনের ভেতরে একটু হাটলেই দেখা পড়বে সুবিশাল দিঘী। সে এক মায়াময় পরিবেশ 😊৷ জীবনের ব্যস্ততা ঝেড়ে ফেলে নিস্তবদ্ধতা উপভোগ করবার মত দারুণ একটা জায়গা। দিঘীর চারপাশ দিয়েই হাটা যায়। মাঝে বসার জন্য মাচাং করে দেয়া আছে। গ্রামের মানুষ লাকড়ি কুড়িয়ে নিয়ে যাচ্ছে বন থেকে, দারুণ পরিবেশ।😍

বনের মাঝেই রাস্তা থেকে ভ্যান পেয়ে গেলাম৷ সেই ভ্যানে চড়ে ৩৫ টাকায় চলে এলাম রসুলপুর।

#স্পট_২
#মধুপুর_গড়
মধুপুর জাতীয় উদ্যানের অংশবিশেষ। এখানে আসলেই আপনাকে স্বাগত জানাবে অতিউৎসাহী কিছু বানরের দল 😃৷ একটা ওয়াচ-টাওয়ার আছে বটে কিন্তু অজানা কারণে সেটি তালামারা😑। এখানেই বনবিভাগের অনুমতি নিয়ে গ্রুপ সহ পিকনিক করতে পারবেন অনায়াসে, দেখবেন যেন বানর আপনার প্লেটের খাবার নিয়ে দৌড় না দেয় 😉। বানরের সাথে বেশি খেলতে গিয়ে কামড় খেয়ে বসবেন না 😪। পিকনিক স্পট পেরিয়ে একটু সামনে গেলেই পড়বে ধানক্ষেত। শালবনের মাঝে মাঝে ধানের চাষ হয় সেখানে। ক্ষেত পেরিয়ে বনে ঢুকলাম আবার। বনে ঢুকে ১০ মিনিট হাটতেই চলে এলাম আনরস এর ক্ষেতে, দেখানে কলাও চাষ হয় সমন্বিত পদ্ধতিতে৷ কোন কোলাহল নেই৷ এরকম জায়গায় এলে মন ভালো হতে বাধ্য, পাশাপাশি জায়গায় ভিন্নরকম সৌন্দর্যের কারণে।

রসুলপুর থেকে এবার ভ্যান নিয়ে ৩০ টাকায় চলে এলাম চাপড়াবাজার। রুট ছিল রসুলপুর-২৫ মাইল- ঘুঘুরবাজার-চাপড়াবাজার।

#স্পট_৩
#চানপুর_রাবারবাগান
চাপড়াবাজার থেকে ২০ মিনিট মত হাটলে পেয়ে যাবেন এই রাবারবাগান৷ আমাদের পীরগাছা রাবারবাগানে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু লোকেশন ঠিক ভাবে না জানায় ভ্যান ওয়ালাকে নিয়ে এডভেঞ্চার ফিলিংস নিয়ে সম্পূর্ণ আনকোরা এই বাগানটি আমরা আবিষ্কার করি। এজন্য আমাদের ভ্যানে ঘুরতে হয়েছে অনেক বেশি এবং মধুপুরের বেশ কয়েকটি সুন্দর গ্রাম দেখার ভাগ্যও হয়ে গিয়েছে। বাগানটি এক কথায় অতীব সুন্দর♥। এত সুন্দর করে জ্যামিতিক ভাবে সমান্তরালে গাছ লাগিয়েছে দেখলেই চোখ জুড়িয়ে যায়৷ গাছ থেকে অনবরত গড়িয়ে পড়ছে রাবার তৈরির সাদা রেজিন।
রাবারবাগানে সূর্যের আলো তির্যকভাবে পড়ে আলো আধারির এক চমৎকার আবেশ তৈরি করেছে🤩। এই জায়গায় এলে মন আপনা আপনি শান্ত হয়ে যাবে। গ্রামের এত ভিতরে এমন একটা দারুণ জায়গা আমাদের সবাইকে বিমোহিত এবং অবাক করে দিয়েছিল৷ দেখলাম ঘোড়ারগাড়িতে করে দূর থেকে কাঠ নিয়ে আসছে একজন। বাগানের আশেপাশে শুধু কলার আর আনারসের ক্ষেত। সাথে পেপের চাষ হয় ব্যাপক। সুন্দর ও নিরিবিলি😍এই রাবারবাগান দেখে আমরা আমাদের ক্যাম্পাসের পথ ধরি৷

এবার চাপড়াবাজার থেকে অটো করে ২৫ মাইল বাজার এ রওনা দিই। ২৫ মাইল পাওয়ার আগেই জলছত্র বাজারে নেমে খেয়ে নিলাম বাংলাদেশ বিখ্যাত মধুপুরের মিষ্টি আনারস৷ অটো ভাড়া পড়লো ৩০ টাকা৷
এখান থেকে ৫০ টাকা সিএনজি ভাড়ায় চলে এলাম মুক্তাগাছা বাস স্ট্যান্ড ।সেখানে কালামিয়া রেস্টুরেন্টে ১৪০ টাকার খাসির বিরিয়ানি দিয়ে উদরপূর্তি করে ৫ টাকায় ভ্যান নিয়ে চলে এলাম মুক্তাগাছার বিখ্যাত গোপাল এর মন্ডা খেতে৷২৫ টাকার মন্ডা খেয়ে পুনরায় ৫ টাকার ভাড়ায় চলে এলাম মুক্তাগাছা বাসস্ট্যান্ড৷ তার আগে বড় মসজিদে মাগরিবের সালাত আদায় করলাম। আলহামদুলিল্লাহ খুবই সুন্দর একটা মসজিদ ♥😍। মসজিদ টি অনেক বড় এবং এর নির্মাণশৈলী এবং কারুকার্য দেখার মতন 🤩। কেউ মুক্তাগাছা এলে অবশ্যই মসজিদ টি দেখে যাবেন। মুক্তাগাছা বাসস্ট্যান্ড থেকে ৪০ টাকা ভাড়ায় সিএনজি চলে এলাম ময়মনসিংহ টাউনহল মোড়। ওখান থেকে ২০ টাকা অটো ভাড়ায় চলে আসি প্রাণের ক্যাম্পাসে৷
ধন্যবাদ লেখাটি ধৈর্য্য নিয়ে পড়ার জন্য।

#খরচ
২০+৬০+১৫+৩৫+৩০+৩০+৫০+১৪০+৫+২৫+৫+৪০+২০ = ৪৭৫ টাকা ( জনপ্রতি)
#ঢাকা থেকে কেউ আসতে চাইলে ময়মনসিংহ গামী যেকোন বাসে করে ময়মনসিংহ তারপর সেখান থেকে টাউনহল দিয়ে মুক্তাগাছা, মধুপুর৷ এছাড়া মুক্তাগাছার বাসেও সরাসরি আসতে পারেন। জামালপুর এর বাসেও আসতে পারেন, সেক্ষেত্রে মুক্তাগাছায় নেমে যাবেন। ভাড়া পড়বে জনপ্রতি ১২০-২২০ টাকা৷

#অবশ্যই সব কটি জায়গা বিকালের মধ্যেই দেখতে হবে৷সন্ধ্যায় যানবাহন পেতে সমস্যা হতে পারে। নিরাপত্তার কথা অবশ্যই মাথায় রাখেবেন এক্ষেত্রে৷

#স্থানীয় বাঙালী অথবা আদিবাসীদের সাথে সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণ করুন। তারা গ্রামের মানষ, অনেক সহজ সরল এবং ভালো৷ যাত্রাপথে তাদের সহযোগিতা আপনার লাগবেই,সেটা মাথায় রাখবেন৷

#যেখানেই যাবেন কেউ দয়া করে অপচনশীল দ্রব্য ফেলবেননা। পরিবেশ সুন্দর রাখুন। কারণ দেশটা আমাদের সবার৷

Source: Mamun Sazid‎<Travelers of Bangladesh (ToB)

13 Nov 2019

মনপুরা দ্বীপ হচ্ছে বাংলাদেশের বঙ্গোপসাগর এলাকার উত্তরদিকে মেঘনা নদীর মোহনায় অবস্থিত একটি দ্বীপ। এটি ভোলা জেলার মনপুরা উপজেলায় কিছুটা অংশ জুড়ে অবস্থিত। সাম্প্রতিককালে এই দ্বীপে জলদস্যুদের দ্বারা আক্রমণ হয়েছে। এই দ্বীপের আয়তন ৩৭৩ বর্গ কিলোমিটার। এই দ্বীপের উপকূলীয় অন্যান্য দ্বীপের মধ্যে ভোলা (যা বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় দ্বীপ) এবং হাতিয়া দ্বীপ উল্লেখযোগ্য। প্রতিটি দ্বীপগুলোই ঘনবসতিপূর্ণ।

মোটামুটি পুরো বাংলাদেশেই ঘুরেছি। মিশেছি হাজারো রকমের মানুষের সাথে। হাজারো চরিত্রের সাথে এই ট্যুরে ট্যুরে। কিন্তু এ দ্বীপের মত মাটির মানুষ দেশের আর কোথাও দেখা পাইনি। এত আন্তরিক মানুষ হতে পারে এটা আমার মত শহুরে মানুষের কল্পনাতীত ভালো। এত ভালো কিভাবে হয় !

এরা কি সত্যিই এদেশের মানুষ। কি আছে এ মায়াদ্বীপে? এত ভালো তারা কিভাবে হয়! কি করেনি তারা আমাদের জন্য!
ছবিতে যে নৌকা দেখতে পাচ্ছেন তার ভেতর আমরা তিনদিন ছিলাম। ঝড়-বৃষ্টিতে আমরা এখানেই ছিলাম, তারা সম্পূর্ণ ফ্রি তে আমাদের এখানে থাকতে দিয়েছেন যাতে আমরা ঝড়ের কবলে বিপদে না পড়ি। আমাদের তাঁবু আসলেও ঝড়ের মোকাবেলা করতে পারত না যদি তারা আমাদের এখানে আশ্রয় না দিত। যেহেতু ক্যাম্পিং করতে গিয়েছিলাম, তারা বাসা থেকে রান্নার পাতিল,চামচ, বালতি,প্লেট এমনকি চুলা পর্যন্ত বানিয়ে দিয়েছে। ঘর থেকে অফুরন্ত লাকড়ি আর কাঠ এনে দিয়েছে যা দিয়ে আমরা তিনদিন রান্না করেছি এবং রাতে ক্যাম্প-ফায়ার করেছি। কোন বিনিময় ছাড়াই এগুলো আমাদের দিয়েছেন।

মনপুরা দ্বীপ

এই দ্বীপের মানুষগুলো প্রকৃতির মত সুন্দর। মনে হয় যেন তারা প্রকৃতিরই অংশ। প্রায় ৪০ কিলোমিটার হবে দ্বীপটা। অনেক হরিণ আছে এখানে। বিকাল বেলা হরিণের দেখা মিলে। রাতের বেলা এখানের বাজার জমজমাট হয়। সকাল বিকাল দুইবেলা পাওয়া যায় তরতাজা মাছ। আর এত অল্প দামে কোথাও মাছ পাওয়া যায় কিনা আমার জানা নেই। মাছ কিনতে গিয়ে আমরা বিপদেই পরে ছিলাম, ৫০০ টাকার সমপরিমাণ মাছ মাত্র ৫০ টাকায় বিক্রি করতেছে। মাছ কেনার পর ভাবতে ছিলাম এত মাছ নিয়ে কি করব! অর্ধেক ফেরত দেয়ার পরিকল্পনাও ছিল। ইলিশ মাছ থেকে শুরু করে সব ধরনের মাছ টাটকা পাওয়া যায়। এবং নিজেরা বাজার করে হোটেলে রান্না করে দিতে বললেও দেয়। যদিও আমরা দ্বীপে রান্না করে খেয়েছি। রাতের বেলা অন্ধকার হওয়াতে তারা কুপিবাতি আর সোলারের লাইট এনে দিয়েছিল। রাতের বেলা সব কিছু চার্জ দিয়েছিলামও বিনামূল্যে। মানুষের দুর্বলতা নিয়ে ব্যবসা করতে তারা জানে না। তারা জানে কিভাবে তাদের সাহায্য করতে হয়। “রাজিব” নামের পিচ্চি একটা ছেলে ছিল সারাদিন আমাদের সাথে… সে অনেক হেল্প করেছে আমাদের।

বিদায় বেলায় তার চোখের অশ্রু আমাদের অনেক ব্যথা দিয়েছে। তার ভাষা ছিল ” আজকে কি সত্যিই চইলা যাবেন? আর থাকবেন না? শুটিং শ্যাষ আপ্নেগো?”

(“পিচ্চিটা আমাদের সাথে আনাড়ি রান্না করা খাবার খেয়েছে এবং যখন হোটেলে খেয়েছি তখন তাকেও সঙ্গে করে নিয়ে গেছি”)

হয়তো এ অভিশপ্ত নগরী থেকে দূরে থাকে বলেই তারা এত অমায়িক। তাদের দ্বীপ তাদের মতই সুন্দর। সারারাত নৌকার ছাদেই ঘুমিয়েছি আমরা কিন্তু কখনো মনে হয়নি নিচে পরে থাকা “ক্যামেরা/ মোবাইল” এগুলো চুরি হয়ে যাবে। হয়তো চুরি কি জিনিস তারা তা জানেই না। নৌকায় সব ফেলে আমরা সারাদিন ঘুরে বেড়াতাম নির্ভয়ে। হারাবার ভয় ছিল না। সিকিউরিটি নিয়ে কোন প্রশ্ন হয় না। যেন দ্বীপের সবাই আপনার হেফাজতেই ব্যস্ত।

যেভাবে যাবেন :

ঢাকা, সদরঘাট থেকে লঞ্চে মনপুরা দ্বীপ।(লঞ্চের নাম: “ফারহান ৩/৪ এবং এম ভি তসরিফ-২)
ভাড়া ১৫০ টাকা (কেবিন নিলে ভাড়া রুম অনুযায়ী) লঞ্চ বিকাল ৫:৩০ এ ছাড়ে আর পরের দিন সকালে ভোরে পৌঁছে। ফেরার সময় লঞ্চ দুপুর ২ টায় ছাড়ে। লঞ্চঘাট থেকে মোটর সাইকেল বা টেম্পোতে যেতে পারবেন সদরে। বাইকের ভাড়াও কম। প্রতি বাইক ১০০ টাকা। সদরে নেমে যে কোন যায়গায় যেতে পারবেন। এবং সদরে থাকার হোটেলও আছে। দ্বীপের এই হোটেলগুলো ডেকেরমত, ভাড়া অনেক কম। ৩০০/৪০০ করে রুম। সাদাসিধা হোটেল। এখানে ডাবের দাম অনেক কম, ২০/৩০ টা পিস। আমরা পাইকারি ১০ টাকা পিস কিনে ছিলাম গতবার। “দ্বীপটি মূলত ভোলা জেলায় অবস্থিত”।

 

13 Nov 2019

বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ। নদীপথে যাতায়াতের অন্যতম প্রধান বাহন লঞ্চ। দেশের দক্ষিণাঞ্চলের সাথে যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম লঞ্চ সার্ভিস। ঢাকার সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল থেকে সাধারণত সকাল ৬টা থেকে শুরু করে রাত ১২টা পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন এলাকার উদ্দেশ্যে লঞ্চগুলো ছেড়ে যায়।

সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৪৫টি রুটে চলাচল করে অসংখ্য লঞ্চ। যেসকল রুটে চলাচল করে লঞ্চ: ঢাকা থেকে বরিশাল, পটুয়াখালী, ভোলা, বরগুনা,  ঝালকাঠী, মাদারীপুর, চাঁদপুর, খুলনা, কাউখালী, চরখালী, বড় মাছুয়া, হাতিয়া, মোড়েল গঞ্জ, লালমোহন, হুলারহাট, ভান্ডারীয়া, ইচলী, দৌলতখাঁ, বোরহান উদ্দিন এবং সুরেশ্বররে উদ্দেশ্যে বিভিন্ন লঞ্চ ছেড়ে যায়।

লঞ্চের ধারণ ক্ষমতা

১৮০০ বর্গফুট থেকে ৩০০০ বর্গফুট আয়তনের লঞ্চগুলো ২৫০ থেকে ১৫০০ যাত্রী বহন করতে পারে। লঞ্চগুলোতে ভিআইপি কেবিন, ডাবল কেবিন, সিঙ্গেল কেবিন, সাইড বেঞ্চ, ফ্লোর এবং ডেকে যাত্রীদের বহনের ব্যবস্থা থাকে। এছাড়া প্রত্যেক লঞ্চেই নামাজ পড়ার আলাদা ব্যবস্থা বা জায়গা রয়েছে। এই জায়গায় এক সাথে ১৫ থেকে ৩০ জন একসাথে নামাজ পড়তে পারে।

লঞ্চের আকৃতি

ঢাকা সদরঘাট থেকে বিভাগীয় শহর বরিশালের যাত্রীবাহী লঞ্চগুলো আকার আকৃতিতে বেশ বড় ও আধুনিক সুযোগ সুবিধা সম্বলিত পটুয়াখালী, ঝালকাঠী, পিরোজপুর, ভোলা ও বরগুনার লঞ্চগুলো বরিশালের লঞ্চগুলোর তুলনায় বেশ ছোট। এসকল দূরযাত্রার লঞ্চগুলোর অনেকগুলোই আন্তর্জাতিক মান সম্পন্ন। বরিশালগামী বড় লঞ্চগুলো প্রায় ১,৫০০ (দেড় হাজার) যাত্রী ধারণক্ষমতা সম্পন্ন। এই লঞ্চগুলোতে রয়েছে অত্যাধুনিক আর আরামদায়ক সব ব্যবস্থা। যেমন:

  • ডুপ্লেক্স ভিআইপি কেবিন, ফ্যান ও এয়ার কন্ডিশনার
  • মেডিকেল সেন্টার
  • সেলুন
  • রেস্টুরেন্ট
  • ফ্ল্যাট টিভি
  • আধুনিক অগ্নি নির্বাপন ব্যবস্থা

তবে ঢাকা থেকে স্বল্প দূরত্বের লঞ্চগুলো তুলনামূলকভাবে বেশ ছোট। লঞ্চের দুরপাল্লা ও স্বল্প দূরত্বের যাত্রীবাহী লঞ্চ সমূহকে আকৃতির দিক দিয়ে প্রধানত তিন ভাগে ভাগ করা যায়।

আকৃতিবর্ণনাগন্তব্য
বড়(৩ থেকে ৪ তলা পর্যন্ত)৯০০ থেকে প্রায় ১৫০০ যাত্রী ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন। আধুনিক সুযোগ সুবিধা বিদ্যমান।বরিশাল, পিরোজপুর, পটুয়াখালী ও ভোলা।
মাঝারী(দুই থেকে আড়াই তলা)৫০০ থেকে ৮৫০ যাত্রী ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন। আধুনিক বড় আকৃতির লঞ্চগুলোর তুলনায় কিছু সুযোগসুবিধা কিছুটা কম।পটুয়াখালী, ভোলা, লালপুর, বরগুনা, ভান্ডারিয়া, ও দক্ষিণাঞ্চলের সকল জায়গায় এই লঞ্চগুলো যাতায়াত করে।
ছোট(দেড় থেকে দুই তলা বিশিষ্টসুযোগ-সুবিধা সীমিত)১৫০ থেকে ৪০০ যাত্রী বহন করতে সক্ষম এ সব লঞ্চ বড় নদীতে চলার সময় অনেক সাবধানতা অবলম্বন করতে হত।চাঁদপুর, মুন্সিগঞ্জ, দোহার, পাটুরিয়াসহ ঢাকার কাছাকাছি দূরত্বে যাতায়াত করে।

আসন ব্যবস্থাপনা দুরপাল্লার যাত্রীবাহী ছোট বড় লঞ্চ সমূহে ৫ (পাঁচ) ধরনের আসন ব্যবস্থা দেখা যায়। নিচে আস্নের নাম ও ভাড়ার তালিকা দেওয়া হলঃ-

আসন ও ভাড়াসুবিধা
ডুপ্লেক্স ও ভিআইপি কেবিন (বরিশাল বিভাগে চলাচলকারী লঞ্চসমূহ)ভাড়া ২৭০০ টাকা থেকে ৬০০০ টাকা।
  • দুটো বেড, এসি অথবা ফ্যান সুবিধা।
  • বেডের পাশাপাশি টেবিল চেয়ারের ব্যবস্থা আছে।
  • অনেক ক্ষেত্রে রেফ্রিজারেটর সুবিধা
  • টিভি (দুই চ্যানেল বিশিষ্ট)
  • ডাইনিং সুবিধা
  • আলমারী অথবা তাক সুবিধা
  • বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ
  • কেবিনে বসে খাবার ব্যবস্থা
  • কেবিন বয়
ডাবল কেবিন (বরিশাল বিভাগে চলাচলকারী লঞ্চসমূহ)ভাড়া ১৭০০ টাকা থেকে ২২০০ টাকা
  • দুই বেড এবং দুটি ফ্যান
  • টিভি (দুই চ্যানেল বিশিষ্ট)
  • আলমারী, তাক ও বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করা হয়
  • কেবিনে বসে খাবার ব্যবস্থা
  • কেবিন বয়
ডাবল কেবিন (কাছাকাছি দূরত্বে চলাচলকারী লঞ্চসমূহ)ভাড়া ৬০০ টাকা থেকে ১,০০০ টাকা
  • দুই বেড এবং দুটি ফ্যান
  • চেয়ার, টেবিলের ব্যবস্থা
  • কেবিনে বসে খাবার ব্যবস্থা
  • কেবিন বয়
সিঙ্গেল ক্যাবিন (বরিশাল বিভাগে চলাচলকারী লঞ্চসমূহ)ভাড়া ১০০০  টাকা থেকে ১২০০ টাকা
  • এক বেড ও একটি ফ্যান
  • টিভি (দুই চ্যানেল বিশিষ্ট)
  • কেবিনে বসে খাবার ব্যবস্থা
  • কেবিন বয়
  • আলমারি, তাক ও বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা আছে।
সিঙ্গেল কেবিন (কাছাকাছি দূরত্বে চলাচলকারী লঞ্চসমূহ)ভাড়া ৩০০ টাকা থেকে ৬০০ টাকা
  • এক বেড এবং একটি ফ্যান
  • চেয়ার, টেবিলের ব্যবস্থা
  • কেবিনে বসে খাবার ব্যবস্থা
  • কেবিন বয়
সোফা-কাম-বেডভাড়া ৫০০ টাকা থেকে ৭০০ টাকাতিনজন বসার মত একটি সোফা, তবে তা একজনের জন্য নির্ধারিত। কারণ এ সোফায় রাতে ঘুমানো যায়। কম্বলের ব্যবস্থাও আছে। টিভি দেখার ব্যবস্থা রয়েছে।
ডেকভাড়া ১৫০ টাকা থেকে ২৫০ টাকাডেক মানে লঞ্চের খোলা স্থান। বড় অনেক লঞ্চে কার্পেট দেয়া আছে। তবে চাদর বালিস নিজ দায়িত্বে নিয়ে আসতে হয়। টিভির ব্যবস্থা আছে।

টিকিট সংগ্রহ:

০১. লঞ্চের কেবিনে ভ্রমনের চাহিদা বাড়ার ফলে। এখন ৩ থেকে ৪ দিন আগে কেবিন বুকিং না দিলে পাওয়া দুস্কর।

০২. শুধুমাত্র কেবিন ও সোফার ক্ষেত্রে কেবিন বুকিং দেয়া যায়। ডেকের জন্য অগ্রীম টিকিটের কোন ব্যবস্থা নেই।

০৩. ফোনে ৫০% অগ্রীম দিয়ে লঞ্চের কেবিন বুকিং দেয়া যায়। অনেক লঞ্চের ক্ষেত্রে পুরোটাই অগ্রীম দিতে হয়।

০৪. কোন কারণে যাত্রা বিরতি করতে চাইলে লঞ্চ কর্তৃপক্ষকে লঞ্চ ছাড়ার কমপক্ষে দু’ঘন্টা আগে জানাতে হবে।

চলাচলের সময়সূচী ও পন্টুন নং

ঢাকার সদরঘাট থেকে লঞ্চগুলো সাধারণত সকাল ৬ টা থেকে শুরু করে রাত ১২ টা পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন এলাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। সদরঘাটের ১৩ টি পন্টুন দিয়ে যাত্রী লঞ্চে উঠানামা করে।

বিভিন্ন লঞ্চঘাট থেকে লঞ্চের রুট ও সময়সূচী

লঞ্চ রুটঢাকা থেকে গন্তব্যে ছাড়ার সময়লঞ্চ রুটগন্তব্য থেকে ঢাকায় ফেরার সময়
ঢাকা থেকে বরিশালভোর- ৬.১৫ মিনিটরাত- ৭.৩০ মিনিটবরিশাল থেকে সদরঘাট, ঢাকাসকাল- ৯.১৫ মিনিট, রাত- ৯.১৫ মিনিট
ঢাকা থেকে চাঁদপুরসকাল- ৯.৫৫ মিনিটসকাল- ১০.১৫ মিনিটসন্ধ্যা- ৭.৩০ মিনিট

রাত- ৮.৩০ মিনিট

রাত- ৯ টা

রাত- ১১.২০ মিনিট

রাত- ১২ টা

রাত- ১২.৩০ মিনিট

চাঁদপুর থেকে সদরঘাট, ঢাকাদুপুর- ২ টারাত- ২.৩০ মিনিটরাত- ৩টা

রাত- ৩.৩০ মিনিট

রাত- ৩.৫৫ মিনিট, সকাল-১১ টা,

সকাল-১১.১৫ মিনিট, সকাল-১১.৩৫ মিনিট, সকাল-১১.৪০ মিনিট, রাত- ১২ টা

দুপুর- ১২.২০ মিনিট, রাত- ১২.৩০ মিনিট দুপুর- ১২.৪০ মিনিট, দুপুর- ১২.৪৫ মিনিট, দুপুর- ১০.৪৫ মিনিট, রাত- ১১ টা,

রাত- ১১.১৫ মিনিট, রাত- ১১.৪০ মিনিট, রাত- ১১.৫০ মিনিট

ঢাকা থেকে চাঁদপুরসন্ধ্যা- ৬.৫০ মিনিটসন্ধ্যা- ৬ টাসন্ধ্যা- ৭.৩০ মিনিট

রাত- ৮.৩০ মিনিট

চাঁদপুর থেকে সদরঘাট, ঢাকারাত- ১২.৩০ মিনিটরাত- ৩.১৫ মিনিটরাত- ১১.৩০মিনিট

দুপুর- ১২.৩০ মিনিট

ঢাকা থেকে চাঁদপুরসকাল- ১০.৫০ মিনিটসকাল- ১০.২৫ মিনিটরাত- ৮.০৫ মিনিট

রাত- ৮.৪৫ মিনিট

বিকাল- ৬.১৫ মিনিট

বিকাল- ৫.৩০ মিনিট

চাঁদপুর থেকে সদরঘাট, ঢাকারাত- ১০.৪০ মিনিটরাত- ১০ টারাত-১১.৩০ মিনিট

রাত- ১০.৫০ মিনিট

রাত- ৩.৩০ মিনিট

রাত- ১.৩০ মিনিট

দুপুর- ১২.২০ মিনিট

রাত- ১.২০ মিনিট

রাত- ১.৪৫ মিনিট

রাত- ১২.১৫ মিনিট

ঢাকা থেকে চাঁদপুরসন্ধ্যা- ৬ টাবিকাল- ৫ টাবিকাল- ৬.১৫ মিনিট

রাত- ৭.৫০ মিনিট

রাত- ১ টা

বিকাল- ৪.৩০ মিনিট

দুপুর- ১২ টা

দুপুর- ১২.৪৫ মিনিট

রাত- ১১.৩০ মিনিট

রাত- ১.৩০ মিনিট

চাঁদপুর থেকে সদরঘাট, ঢাকাভোর- ৪ টারাত- ৩.৩০ মিনিটরাত- ৩০৫ মিনিট

রাত-১১.৩০মিনিট

রাত- ১ টা

রাত- ১.৩০ মিনিট

রাত- ১ টা

সকাল- ১০.৩০

দুপুর- ১২.৪০ মিনিট দুপুর- ১২.১০ মিনিট

রাত- ১১.২৫ মিনিট সকাল- ১১ টা

ঢাকা থেকে চাঁদপুররাত- ১.৩০ মিনিটভোর- ৪.২০ মিনিটরাত- ১২ টা

রাত- ৮.১৫ মিনিট

সকাল- ৮.০৫ মিনিট

দুপুর- ২ টা

সন্ধ্যা- ৭ টা

রাত- ৭.৪৫ মিনিট

সন্ধ্যা- ৬ টা

চাঁদপুর থেকে সদরঘাট, ঢাকারাত- ১২.০৫ মিনিট, সকাল- ১১ টাবিকাল- ৩.৪৫ মিনিট বিকাল- ৩.০৫ মিনিট দুপুর- ২ টারাত- ৩.১৫ মিনিট

রাত- ১২.৩০ মিনিট

রাত- ১১.৪৫ মিনিট

রাত- ১১ টা

রাত- ১১.৩০মিনিট

রাত- ১০৩০ মিনিট

রাত-  ২.৩০ মিনিট

ঢাকা থেকে চাঁদপুরসন্ধ্যা- ৬ টারাত- ৯.৪৫ মিনিটসন্ধ্যা- ৭.৩০ মিনিট

সন্ধ্যা- ৬ টা

রাত- ৯.১৫ মিনিট

বিকাল- ৪ টা

সন্ধ্যা- ৬ টা

বিকাল- ৫.৩০ মিনিট,

রাত- ৮ টা

বিকাল- ৬.৩০ মিনিট

চাঁদপুর থেকে সদরঘাট, ঢাকারাত- ১১.৩০ মিনিটরাত- ১১.১৫ মিনিটদুপুর- ২.৩০ মিনিট

দুপুর- ১২.৪৫ মিনিট

রাত- ১ টা

রাত-  ২.৪৫ মিনিট

রাত-  ১.৩০ মিনিট

ঢাকা থেকে বাগের হাটরাত- ৯.৪৫ মিনিটবাগেরহাট থেকে সদরঘাট, ঢাকাসন্ধ্যা- ৬.৪৫ মিনিট
ঢাকা থেকে চুরিরচর রাস্তার মাথাসকাল- ৮.৩৫ মিনিটসকাল- ১০ টারাত- ৯.৩০ মিনিটচুরিরচর রাস্তার মাথা থেকে সদরঘাট,ঢাকাসকাল- ৯.৪০ মিনিটরাত- ৯.২০ মিনিটরাত- ৯.৪৫ মিনিট
ঢাকা থেকে চরমালিয়াবিকাল- ৫.৩০ মিনিট সন্ধ্যা- ৬ টাবিকাল- ৬.১৫ মিনিটসন্ধ্যা- ৭ টা

রাত- ৭.৩০ মিনিট

চরমালিয়া থেকে সদরঘাট, ঢাকাবিকাল- ৪ টাসন্ধ্যা- ৬.৫০ মিনিটসন্ধ্যা- ৭.১০ মিনিট

রাত- ৮.১০ মিনিট

ঢাকা থেকে চরমনিয়াবিকাল- ৫.৩০ মিনিট, বিকাল- ৬.১৫ মিনিটরাত- ৭.৪৫ মিনিটরাত- ৯.৪৫ মিনিটচরমনিয়া থেকে সদরঘাট, ঢাকাদুপুর- ১২.৪৫ মিনিটবিকাল- ৪ টারাত- ৭.৪৫ মিনিট

রাত- ৭ টা ৫৫ মিনিট

রাত- ৯.৩৫ মিনিট

ঢাকা থেকে চর দূর্গাপুররাত- ৯.১৫ মিনিটরাত- ৯.৪৫ মিনিটচর দূর্গাপুর থেকে সদরঘাট, ঢাকাসন্ধ্যা- ৭.২৫ মিনিটরাত- ৮.১৫ মিনিট
ঢাকা থেকে চর কাশেমসকাল- ৮.৩৫ মিনিটসকাল- ১০ টাসকাল- ১০.২৫ মিনিট

রাত- ৯.৩০ মিনিট

রাত- ১০.৩০ মিনিট

চর কাশেম থেকে সদরঘাট, ঢাকারাত- ১২.৩০ মিনিটদুপুর- ১২.৪৫ মিনিটরাত- ২.২৫ মিনিট

সকাল- ১০.১৫ মিনিট

দুপুর- ১.৪৫ মিনিট

সকাল- ১১.৪০ মিনিট

ঢাকা থেকে বাহের চররাত- ৮টাবাহের চর থেকে সদরঘাট, ঢাকাসকাল- ৯ টা
ঢাকা থেকে বন্যাতলীরাত- ৮টাবন্যাতলী থেকে সদরঘাট, ঢাকাদুপুর- ১.২০ মিনিট
ঢাকা থেকে বৈশার হাটসকাল- ৯.৩৫ মিনিট সকাল- ৯.৫৫ মিনিট সকাল- ১০.১৫ মিনিট রাত- ১১.২০ মিনিটরাত- ১২ টাদুপুর- ১২.৩০ মিনিটবৈশার হাট থেকে সদরঘাট, ঢাকাসকাল- ১০.৫০ মিনিটসকাল-১১ টারাত- ৯.৫০ মিনিট

রাত- ১০.১৫ মিনিট রাত- ১০.৪০ মিনিট

ঢাকা থেকে বাংলাবাজারসকাল- ৯.৩৫ মিনিট সকাল- ৯.৫৫ মিনিটসকাল- ১০.১৫ মিনিটরাত- ১১.২০ মিনিট

রাত- ১২ টা

দুপুর- ১২.৩০ মিনিট

বাংলাবাজার থেকে সদরঘাট, ঢাকাসকাল- ৯.৫৫ মিনিট, সকাল- ১০.৩০, রাত- ৯.৩০ মিনিট, রাত- ১০.২০ মিনিট, দুপুর- ১০.৪৫ মিনিট
ঢাকা থেকে বানরী পাড়াবিকাল- ৬ টাবানরী পাড়া থেকে সদরঘাট, ঢাকারাত- ৭.৩০ মিনিট
ঢাকা থেকে বকশিরহাটসন্ধ্যা- ৬.৩০ মিনিটরাত- ৭.৩০ মিনিটবকশিরহাট থেকে সদরঘাট, ঢাকাদুপুর- ১২ টাদুপুর- ১ টা
ঢাকা থেকে চৌমোহনীবিকাল- ৬.১৫ মিনিটচৌমোহনী থেকে সদরঘাট, ঢাকাবিকাল- ৩.২৫ মিনিট
ঢাকা থেকে চন্দনপুররাত- ১১.৩০ মিনিটরাত- ১২ টাচন্দনপুর থেকে সদরঘাট, ঢাকারাত- ১২.২৫ মিনিট, রাত- ১.২৫ মিনিট, রাত- ১.৪৫ মিনিট
ঢাকা থেকে চরদোয়ানীবিকাল- ৬ টাচরদোয়ানী থেকে সদরঘাট, ঢাকাসকাল- ৯.৪৫ মিনিট
ঢাকা থেকে চর বোরহানরাত- ৮ টাচর বোরহান থেকে সদরঘাট, ঢাকাবিকাল- ৩.০৫ মিনিট
ঢাকা থেকে চর কাজলরাত- ৮ টাচর কাজল থেকে সদরঘাট, ঢাকাদুপর- ১.১৫ মিনিট
ঢাকা থেকে চর বিশ্বাসবিকাল- ৬.৩০ মিনিটচর বিশ্বাস থেকে সদরঘাট, ঢাকাসকাল- ১০ টা
ঢাকা থেকে চর মন্তাজবিকাল- ৬.৩০ মিনিটচর মন্তাজ থেকে সদরঘাট, ঢাকারাত- ৮.৩০ মিনিট
ঢাকা থেকে চৌধুরী হাটভোর- ৬ টাচৌধুরী হাট থেকে সদরঘাট, ঢাকাসন্ধ্যা- ৭.১৫ মিনিট
ঢাকা থেকে চর কলমীসন্ধ্যা- ৬.৩০ মিনিটসন্ধ্যা- ৬.৫০ মিনিটচর কলমী থেকে সদরঘাট, ঢাকাদুপুর- ২.১০ মিনিট, দুপুর- ২.১৫ মিনিট
ঢাকা থেকে চর বোরহানসন্ধ্যা- ৭ টাচর বোরহান থেকে সদরঘাট, ঢাকাদুপুর- ২.০৫ মিনিট
ঢাকা থেকে চাঁন্দপুরদুপুর- ২ টাচাঁন্দপুর থেকে সদরঘাট, ঢাকাসকাল- ৮ টা
ঢাকা থেকে চর কলমীরাত- ৭.৩০ মিনিটচর কলমী থেকে সদরঘাট, ঢাকারাত- ১২.৩০ মিনিট
ঢাকা থেকে চর খালীবিকাল- ৬ টাচর খালী থেকে সদরঘাট, ঢাকাবিকাল- ৪.৪৫ মিনিট
ঢাকা থেকে চৌখালীবিকাল- ৬ টাচৌখালী থেকে সদরঘাট, ঢাকাবিকাল- ৫.৪৫ মিনিট
ঢাকা থেকে চাঁদ খালীবিকাল- ৪ টাচাঁদ খালী থেকে সদরঘাট, ঢাকাবিকাল- ৪.৫৫ মিনিট
ঢাকা থেকে চর কলমীসন্ধ্যা- ৬.৩০ মিনিটসন্ধ্যা- ৭.৩০ মিনিটরাত- ৭.৫০ মিনিটচর কলমী থেকে সদরঘাট, ঢাকাসকাল- ১১.৩০ মিনিট, রাত- ১২.৩০ মিনিট বিকাল- ৩.১৫ মিনিট
ঢাকা থেকে চর ভৈরবীসকাল-  ৯.৩৫ মিনিটসকাল- ৯.৫৫ মিনিটসকাল- ১০.১৫ মিনিট

রাত- ১১.২০ মিনিট

রাত- ১২ টা

দুপুর- ১২.৩০ মিনিট

চর ভৈরবী থেকে সদরঘাট, ঢাকাসকাল- ৮.৫০ মিনিটসকাল- ৯.১০ মিনিট সকাল- ৯.৩০ মিনিটরাত- ৮ টা

রাত- ৮.২০ মিনিট

রাত- ৮.৫০ মিনিট

ঢাকা থেকে চর বোরহানসন্ধ্যা- ৭ টারাত- ৯.৩০ মিনিটচর বোরহান থেকে সদরঘাট, ঢাকারাত- ২.০৫ মিনিট, বিকাল- ৩.০৫ মিনিট
ঢাকা থেকে বাবুগঞ্জবিকাল- ৬.১৫ মিনিটরাত- ৮.৩০ মিনিটরাত- ৯ টাবাবুগঞ্জ থেকে সদরঘাট, ঢাকাবিকাল- ৫.৩৫ মিনিটরাত- ১০ টাদুপুর- ১০.৪৫ মিনিট
ঢাকা থেকে বাহের চর বাজারদুপুর- ২টাবিকাল- ৫.৩০ মিনিটসন্ধ্যা- ৬টা

সন্ধ্যা- ৭টা

রাত- ৯.৩০ মিনিট

বাহের চর বাজার থেকে সদরঘাট, ঢাকাসকাল- ৮টাসকাল- ৯ টাসন্ধ্যা- ৭.৩০ মিনিট

রাত- ৯.৪৫ মিনিট

রাত- ১০.১৫ মিনিট

ঢাকা থেকে আবুপুরসকাল- ৮.০৫ মিনিটবিকাল- ৫.৩০ মিনিটরাত- ৮.০৫ মিনিট

রাত- ৮.৪৫ মিনিট

রাত- ৯.১৫ মিনিট

রাত- ৯.৪৫ মিনিট

আবুপুর থেকে সদরঘাট, ঢাকাসকাল- ৯.৩০ মিনিটরাত- ৮.৪৫ মিনিটরাত- ৯.৪৫ মিনিট

রাত- ১০ টা

রাত- ১০৩০ মিনিট

রাত- ১১.৩০ মিনিট

ঢাকা থেকে বাঙ্গির চরবিকাল- ৫.৩০ মিনিট সন্ধ্যা- ৭.৩০ মিনিটরাত- ৮.৩০ মিনিটবাঙ্গির চর থেকে সদরঘাট, ঢাকাসন্ধ্যা- ৭ টারাত- ৭.৪৫ মিনিটরাত- ৮ টা
ঢাকা থেকে বন্যাতলীসন্ধ্যা- ৭ টাবন্যাতলী থেকে সদরঘাট, ঢাকারাত- ১২.২০ মিনিট
ঢাকা থেকে বড় বাশদিয়াসন্ধ্যা- ৭ টারাত- ৯.৩০ মিনিটবড় বাশদিয়া থেকে সদরঘাট, ঢাকাসকাল- ১০ টারাত- ১২.২০ মিনিট দুপুর- ১.২০ মিনিট
ঢাকা থেকে বাংলাবাজারবিকাল- ৬ টাবাংলাবাজার থেকে সদরঘাট, ঢাকাবিকাল- ৬.১৫ মিনিট
ঢাকা থেকে বানরী পাড়াবিকাল- ৬ টাবানরী পাড়া থেকে সদরঘাট, ঢাকাবিকাল- ৬.০৫ মিনিট
ঢাকা থেকে বাকুটিয়াবিকাল- ৬ টাবাকুটিয়া থেকে সদরঘাট, ঢাকাবিকাল- ৪ টা
ঢাকা থেকে বাদশা নগরদুপুর- ২.৩০ মিনিটবাদশা নগর থেকে সদরঘাট, ঢাকাসন্ধ্যা- ৬.৪০ মিনিট
ঢাকা থেকে বকশিরহাটরাত- ৭.৩০ মিনিটবকশিরহাট থেকে সদরঘাট, ঢাকাদুপুর- ১ টা
ঢাকা থেকে বাশ বাড়িয়াসন্ধ্যা- ৬.৩০ মিনিটসন্ধ্যা- ৭টাসন্ধ্যা- ৭.৩০ মিনিট

রাত- ৯.৩০ মিনিট

বাশ বাড়িয়া থেকে সদরঘাট, ঢাকাদুপুর- ২.৪০ মিনিট, বিকাল- ৩.৩০ মিনিট, বিকাল- ৩.৪০ মিনিট, বিকাল- ৪.৩০ মিনিট
ঢাকা থেকে আমখোলাবিকাল- ৫.৩০ মিনিট, বিকাল- ৬ টাআমখোলা থেকে সদরঘাট, ঢাকারাত- ১২.৫৫ মিনিট, বিকাল- ৬ টা
ঢাকা থেকে আওলিয়াপুরসন্ধ্যা- ৭ টারাত- ৮ টারাত- ৯.৩০ মিনিটআওলিয়াপুর থেকে সদরঘাট, ঢাকাদুপুর- ২.১৫ মিনিট, বিকাল- ৩.১৫ মিনিট
ঢাকা থেকে আমুয়াবিকাল- ৫ টাবিকাল- ৬ টাআমুয়া থেকে সদরঘাট, ঢাকাদুপুর- ২.৩০ মিনিট
ঢাকা থেকে আনন্দ বাজাররাত- ১২ টারাত- ১১.৩০ মিনিটআনন্দ বাজার থেকে সদরঘাট, ঢাকাসকাল- ৯.২৫ মিনিট
ঢাকা থেকে আলিমাবাদসন্ধ্যা- ৭ টাআলিমাবাদ থেকে সদরঘাট, ঢাকাবিকাল- ৫.৫৫ মিনিট, সন্ধ্যা- ৬.৪০ মিনিট
ঢাকা থেকে আমতলীদুপুর- ২.৩০ মিনিটবিকাল- ৪টাআমতলী থেকে সদরঘাট,ঢাকাদুপুর- ২টা বিকাল- ৪.৩০ মিনিট
ঢাকা থেকে আন্ডার চরসন্ধ্যা- ৬টারাত-৭.৩০ মিনিটআন্ডার চর থেকে সদরঘাট,ঢাকাবিকাল- ৫.৪০ মিনিট, বিকাল- ৫.৪৫ মিনিট
ঢাকা থেকে বগাদুপুর- ২.৩০ মিনিটবিকাল- ৩টাসন্ধ্যা- ৬টা

সন্ধ্যা- ৬.৩০ মিনিট

সন্ধ্যা- ৭.০৫ মিনিট

বগা থেকে সদরঘাট,ঢাকাবিকাল- ৪.১০ মিনিট, সন্ধ্যা- ৬টা সন্ধ্যা- ৭.১৫ মিনিট, রাত- ৭.৩০ মিনিট
ঢাকা থেকে বাগদাবিকাল- ৬.১৫ মিনিটবাগদা থেকে সদরঘাট,ঢাকাদুপুর-২.১৫ মিনিট
ঢাকা থেকে বেতাগীবিকাল- ৫টাবিকাল- ৬টাবেতাগী থেকে সদরঘাট,ঢাকাবিকাল- ৩.৩০ মিনিট, সন্ধ্যা- ৭ টা
ঢাকা থেকে বামনাবিকাল- ৫টাবিকাল- ৬টাবামনা থেকে সদরঘাট,ঢাকাদুপুর- ২টা বিকাল- ৬টা
ঢাকা থেকে বদরপুররাত-৮.০৫ মিনিটরাত-৮.৪৫ মিনিটবদরপুর থেকে সদরঘাট,ঢাকারাত- ১০.৫৫ মিনিট
ঢাকা থেকে বালিয়াতলীদুপুর- ২.৩০ মিনিট রাত- ৭.৩০ মিনিটবালিয়াতলী থেকে সদরঘাট,ঢাকাদুপুর- ২.২৫ মিনিট, বিকাল- ৫টা
ঢাকা থেকে বাগমারারাত- ৭.৩০ মিনিটবাগমারা থেকে সদরঘাট,ঢাকাবিকাল- ৪.৪৫ মিনিট
ঢাকা থেকে রোরহান উদ্দিনরাত- ৭.৩০ মিনিটরোরহান উদ্দিন থেকে সদরঘাট,ঢাকাদুপুর- ২.৪৫ মিনিট
ঢাকা থেকে বিশ্বাসের হাটদুপুর- ২টাবিকাল- ৪টাবিকাল- ৬.১৫ মিনিটবিশ্বাসের হাট থেকে সদরঘাট,ঢাকাবিকাল- ৫.৩০ মিনিট, সন্ধ্যা- ৬টা সন্ধ্যা- ৬.৪৫ মিনিট
ঢাকা থেকে বোয়ালিয়াবিকাল- ৫.৩০ মিনিট,বিকাল- ৬টাবোয়ালিয়া থেকে সদরঘাট,ঢাকাসন্ধ্যা- ৭টা রাত- ৮.৫৫ মিনিট
ঢাকা থেকে বন্দারহাটবিকাল- ৬টাবন্দারহাট থেকে সদরঘাট,ঢাকাবিকাল- ৬টা
ঢাকা থেকে বাশবাড়িসন্ধ্যা- ৬টাসন্ধ্যা- ৬.৩০ মিনিটসন্ধ্যা- ৭.৩০ মিনিট

রাত- ৮টা

বাশবাড়ি থেকে সদরঘাট,ঢাকাবিকাল- ৩.৩০ মিনিট, বিকাল- ৩.৪০ মিনিট, বিকাল- ৪.৩০ মিনিটবিকাল- ৫টা
ঢাকা থেকে বাদলপাড়ারাত- ৮.১৫ মিনিটবাদলপাড়া থেকে সদরঘাট,ঢাকারাত-৮.১০ মিনিট
ঢাকা থেকে বাঞ্চারামপুররাত- ১০.৩০ মিনিটবাঞ্চারামপুর থেকে সদরঘাট,ঢাকাসকাল- ১০.১০ মিনিট
ঢাকা থেকে বাঞ্চারামপুররাত- ১০.৩০ মিনিটবাঞ্চারামপুর থেকে সদরঘাট,ঢাকাসকাল- ৯.১০ মিনিট
ঢাকা থেকে বাহের চর বাজাররাত- ৮টারাত- ৯.৩০ মিনিটরাত- ১০.৩০ মিনিটবাহের চর বাজার থেকে সদরঘাট,ঢাকাদুপুর- ১২টা সকাল- ৯.৩০ মিনিট, রাত- ১টারাত- ১১ টা
ঢাকা থেকে বোদার বাজাররাত- ১০৩০ মিনিটরাত-১১.৩০মিনিটরাত-১২ টাবোদার বাজার থেকে সদরঘাট,ঢাকাদুপুর- ১.০৫ মিনিট, রাত- ১.২৫ মিনিট, দুপুর-২.০৫ মিনিট
ঢাকা থেকে বাঙ্গির চররাত- ৭.৩০ মিনিটবাঙ্গির চর থেকে সদরঘাট,ঢাকাসন্ধ্যা- ৭ টা

সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালের ৫ ও ৮ নং গেট দিয়ে মালসহ গাড়ি সরাসরি লঞ্চ পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া যায়। ভ্যান গাড়ির ভাড়া ১০ টাকা। মালামালের ভাড়া

  • একজন যাত্রী সর্বোচ্চ ২০ কেজি পর্যন্ত মালামাল বহন করতে পারে যা টিকেটের অন্তর্ভূক্ত। অতিরিক্ত মালামালের জন্য অতিরিক্ত চার্জ প্রদান করতে হয়।

লঞ্চে অতিরিক্ত মালামাল ও সদরঘাটের কুলির মজুরি

ক্রমিক নংবিবরণমালামালের পরিমাণমজুরী হার টাকায়
বিভিন্ন ধরনের লাগেজ / ব্যাগেজরাস্তা থেকে লঞ্চস্টিমার পর্যন্তঅথবা লঞ্চ/স্টিমার থেকে রাস্তা পর্যন্ত পিঠে/মাথায়/হাতে বহযোগ্য।

(একজনা কুলির ক্ষেত্রে)

অনাধিক ১০ কেজি (১টি ব্যাগ)১০/-
অনাধিক ২০ কেজি (১টি ব্যাগ)২০/-
অনাধিক ৩০ কেজি (২টি ব্যাগ)৩০/-
অনাধিক ৪০ কেজি (১টি ব্যাগ)৩০/-
অনাধিক ৪০ কেজি (২টি ব্যাগ)৪০/-
অনাধিক ৬০ কেজি (১টি ব্যাগ)৪০/-
অনাধিক ৪০ কেজি (২টি ব্যাগ)৫০-
স্টীল/কাঠের আলমারী(একাধিক শ্রমিকের ক্ষেত্রে)প্রতিটি (সর্বোচ্চ ওজন ১০০ কে,জি পর্যন্ত)১০০/-
কাপড়ের গাইট(একাধিক শ্রমিকের ক্ষেত্রে)(ভ্যান বা মাথায়)প্রতিটি (৫০ কে.জি পর্যন্ত)৫০/-
৫০ কেজির ঊধ্বে প্রতি ২০ কেজির জন্য১০/-
কাঠের/স্টীলের খাট সাকুল্যেপ্রতিটি১০০/-
কাঠের /স্টীলের/বেতের টেবিল/চেয়ারপ্রতিটি২০/-
ফ্রিজ (সকল আয়তনের)প্রতিটি৫০/-
টেলিভিশন (সকল ধরনের)প্রতিটি২০/-
হার্ডওয়্যার মালামাল/ অন্যান্য মালামাল(কার্টুন/প্যাকেট/ঝুড়ি ইত্যাদি)৫০ কে.জি পর্যন্ত প্রতিটি৪০/-
মোটর সাইকেলপ্রতিটি২৫/-
১০বাইসাইকেলপ্রতিটি২০/-
১১সিলিং ফ্যান/টেবিল ফ্যান/ অন্যান্য তৈজস পত্রদরকার পড়ে না
ক্যান্টিন

প্রায় প্রতিটি লঞ্চেই একটি ক্যান্টিন রয়েছে। এস ক্যান্টিনে দাম স্বাভাবিক মূল্যে ১০% থেকে ২৫% পর্যন্ত বেশি রাখা হয়।

খাবারের নামমূল্য (টাকা)
চা (প্রতি কাপ)৮-১০
কফি (প্রতি কাপ)২০-৫০
বিস্কুট (প্রতি পিস)৪-৫
ভাত (প্রতি প্লেট)১৫-২০
ডাল ভুনা১২-২০
ইলিশ মাছ (প্রতি পিস)১০০-১৫০
রুই মাছ (প্রতি পিস)১০০-১৫০
মুরগীর মাংস১৬০
মিনারেল ওয়াটার (১ লিটার)৩০
কোমল পানীয় (১ লিটার)৭০
চিপস৮-২০

নামাজের স্থান

সাধারনত লঞ্চের উপরের তলায় ছাদ নামাজের জন্য সংরক্ষিত থাকে যেখানে একসাথে ২০ থেকে ৫০ জন মুসল্লী নামাজ আদায় করতে পারেন।

নিরাপত্তা ও দুর্যোগ মোকাবেলা

লঞ্চে আরোহিত যাত্রীদের সার্বিক নিরাপত্তার স্বার্থে নিজস্ব নিরাপত্তা কর্মী নিয়োজিত রয়েছে। যেকোন দুর্যোগে যাত্রীদের জীবন রক্ষার জন্য ৮০ টি বয়া ও ১০ টি টায়ার ও অগ্নি নিরাপত্তায় ৪ টি ফায়ার বাকেট রয়েছে। এগুলো প্রতি ফ্লোরের দুই দিকে ছাদের অংশে এবং কেবিনের পাশে সারিবদ্ধভাবে সংরক্ষিত থাকে। প্রতিটি বয়া ৪ জন যাত্রী বহন করতে পারে।

জরুরী প্রয়োজনে যাত্রীদের প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদানের জন্য ফার্স্ট এইড ব্যবস্থা রয়েছে। সাধারণত ২ নম্বর সংকেত পর্যন্ত চলাচল করতে পারে। ৩ নম্বর সংকেত দেখা দিলে আর চলাচল করে না।

টয়লেট

  • ভি.আই.পি শ্রেণীর যাত্রীদের জন্য ১০ থেকে ২০টি কেবিনের জন্য ১ টি করে টয়লেট রয়েছে।
  • ২য় শ্রেণীর যাত্রীদের জন্য মহিলা ও পুরুষ পৃথক ২ টি করে ৪ টি করে টয়লেট সাধারণত থাকে।
  • ৩য় শ্রেণীর যাত্রীদের জন্য লঞ্চের নিচতলার শেষ প্রান্তে পুরুষ ও মহিলাদের জন্য পৃথক ৩ টি করে ৬ টি টয়লেট রয়েছে।

সাবধানতা

০১. বাংলাদেশে প্রতিবছর লঞ্চ দুর্ঘটনায় শত শত মানুষ মারা যায়। সুতরাং অতিরিক্ত যাত্রী হয়ে কখনও লঞ্চে উঠা ঠিক না।

০২. নিজের ব্যাগ লাগেজ ও মালামাল নিজ দ্বায়িত্বে রাখবেন।

০৩. অপরিচিত কারও দেয়া খাবার খাবেন না।

০৪. নগদ বেশি টাকা থাকলে তা লঞ্চের মাস্টারের কাছে জমা রাখতে পারেন।

০৫. বৈধ লাইসেন্সকৃত অস্ত্র  থাকলে তা লঞ্চের মাস্টারকে অবহিত করে আনসার সদস্যদের কাছে জমা রাখুন।

০৬. যাত্রা পথে লঞ্চ বয়লা (যা দ্বারা পানিতে ভেসে থাকা যায়) আছে কিনা তা লক্ষ করুন।

০৭. প্রয়োজন বোধে একটা লাইফ জ্যাকেট সঙ্গে রাখতে পারেন।

০৮. চাঁদপুর মোহনা অর্থাৎ পদ্মা ও মেঘনা নদীর সংগম স্থান এখানেই বেশিরভাগ লঞ্চ দুর্ঘটনা ঘটেছে। সুতরাং চাঁদপুর এলে একটু সজাগ থাকার চেষ্টা করুন।

সরকারী স্টীমার সার্ভিস

সরকারী উদ্যোগে বেশিরভাগ স্টীমার সার্ভিস পরিচালিত হয়। ১৩ নং পন্টুন থেকে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের উদ্দেশ্যে স্টীমারগুলো ছেড়ে যায়। স্টীমার সার্ভিসের রুট ও ভাড়ার হার নিম্নরূপ:

দুরত্বপ্রথম শ্রেণীর ভাড়াদ্বিতীয় শ্রেণীর ভাড়াসুলভ শ্রেণীর ভাড়া
ঢাকা থেকে চাঁদপুর২৩৫/= টাকা১৪০/= টাকা৫০/= টাকা
ঢাকা থেকে বরিশাল৫৬৫/= টাকা৩৫৫/= টাকা৯৫/= টাকা
ঢাকা থেকে ঝালকাঠি৬৫৫/= টাকা৩৯০/= টাকা১০০/= টাকা
ঢাকা থেকে কাউখালী৭১৫/= টাকা৪৪০/= টাকা১০৫/= টাকা
ঢাকা থেকে হুলার হাট৭৪৫/= টাকা৪৫০/= টাকা১২০/= টাকা
ঢাকা থেকে চরখালী৭৭৫/= টাকা৪৫০/= টাকা১২৫/= টাকা
ঢাকা থেকে বড় মাছুয়া৮৮০/= টাকা৫৩০/= টাকা১৩৫/= টাকা
ঢাকা থেকে সন্যাসী৮৮৫/= টাকা৫৪৫/= টাকা১৪০/= টাকা
ঢাকা থেকে মোড়েল গঞ্জ৮৮৫/= টাকা৫৪৫/= টাকা১৪০/= টাকা
ঢাকা থেকে মংলা বন্দর১২৩০/= টাকা৬২৫/= টাকা১৬০/= টাকা

লঞ্চের স্টফ

প্রত্যেক লঞ্চে ইনচার্জ মাস্টার অফিসার, ইনচার্জ মাস্টার, ড্রাইভার, হুইল সুগানী, টালী সুগানী, কেরানী, বয়, বাবুর্চী, গিরিজার, ভান্ডারী, সুইপার এবং খালাসী কর্মরত থাকে।

তাৎক্ষণিক সাহায্য

যেকোন সমস্যায় যাত্রীগণ তাৎক্ষণিক সাহায্যের জন্য টার্মিনাল কর্তৃপক্ষের শরণাপন্ন হতে পারে। এজন্য ফোন / মোবাইল নম্বরের মাধ্যমে যোগাযাগ করতে হবে। নম্বরগুলো হলো ০২-৭১১৩৩৭২, ০১৫৫৩২০৭৬২৬ এবং ০৪৭১১১২৮০৪৫।

শৌচাগার

এই লঞ্চ টার্মিনালে একটি গণশৌচাগার রয়েছে। টার্মিনাল ভবনের একদম পূর্ব পাশে এটি অবস্থিত।  এই শৌচাগারে পুরুষ ও মহিলার জন্য আলাদা ব্যবস্থা রয়েছে। এখানে পুরুষদের জন্য ৪ টি টয়লেট, ৪টি প্রস্রাবখানা ও ২টি বেসিন রয়েছে। মহিলাদের জন্য ২টা টয়লেট, ২টা প্রস্রাবখানা ও ১টি বেসিন রয়েছে। এই শৌচাগার সম্পূর্ণ বিনা পয়সায় ব্যবহার করা যায়।

গাড়ি পার্কিং

এই টার্মিনালে ছোট বড় প্রায় ৫০ টির মতো গাড়ি পার্কিং করা যায়। এখানে প্রথম ২ ঘন্টায় পার্কিং করতে মোটর সাইকেল/ স্কুটার/ বেবী টেক্সী ৫ টাকা, কার/ জিপ ৮ টাকা, মাক্রোবাস ১০ টাকা, বাস/ ট্রাক- ১৫ টাকা চার্জ প্রদান করতে হয়।

২ ঘন্টার পর প্রতি ঘন্টায় উপরোক্ত হারে চার্জ প্রদান করতে হয়।

অন্যান্য সুবিধাঃ-

টার্মিনাল ভবনের দ্বিতীয় তলায় জনতা ব্যাংকের শাখা,  ৩ নং গেটের সামনে পুলিশ ফাঁড়ি এবং ২ নং গেটে অস্থায়ী আনসার ক্যাম্প রয়েছে। এছাড়া ৪ নং গেটের ডান পাশে মসজিদ রয়েছে। এখানে একসাথে ৬০ থেকে ৭০ জন ব্যক্তি নামাজ আদায় করতে পারে।

লঞ্চগুলোতে বিনোদনের তেমন কোন ব্যবস্থা নেই। তবে প্রত্যেক লঞ্চের নিচতলায় ক্যান্টিন, ফাষ্টফুড, ফাষ্ট এইড বক্স এবং সেলুন রয়েছে। ঈদের সময় লঞ্চগুলোতে ব্যাপক ভিড় হয়ে থাকে। সাধারণত ২ নম্বর বিপদ সংকেতে লঞ্চগুলো চলাচল করলেও ৩ নম্বর বিপদ সংকেতে এসব লঞ্চ চলাচল করে না।

12 Nov 2019

রাজা নীলকণ্ঠ রায় ছিলেন চাঁচড়া রাজবংশের নবম পুরুষ। চাঁচড়া জমিদারীর প্রতিষ্ঠাতা রাজা মনোহর রায় ছিলেন নীলকন্ঠ রায়ের পরদাদা। নীলকন্ঠ রায়ের মেয়ের নাম অভয়া৷ রাজা নীলকন্ঠ যশোরের এই নগরীটি মেয়েকে দিয়ে দেন অল্পবয়সে বিধবা হবার পর। আর এই নগরীর নাম নিজের মেয়ের নামে রাখেন অভয়নগর।

কারো কারো মতে, সে সময়ে হিন্দু ধর্মে দ্বিতীয় বিবাহের কোনো নিয়ম না থাকায় অভয়া বাকি জীবন পূজা-অর্চনা করে কাটাতে চায়। নীলকণ্ঠ মেয়ের অনুরোধে ১৭৪৫ সাল থেকে ১৭৬৪ সালের মধ্যে ১১টি শিব মন্দির স্থাপন করেন। সেটিই এগারো শিব মন্দির নামে পরিচিত।

কিন্তু যশোহর খুলনার ইতিহাস নামের বইটি পড়ে আমি জানতে পারি, রাজা নীলকণ্ঠের সময়ে ভাস্কর পন্ডিত নামের একজন দুর্দান্ত সেনাপ্রধানের নেতৃত্বে মারাঠারা বর্ধমান আক্রমণ করে। এই আক্রমণই বর্গীয় হাঙ্গামা নামে পরিচিত। বর্গীর উৎপাতে পুরো পশ্চিম বঙ্গের নাজেহাল অবস্থা। ফলে পশ্চিমবঙ্গের রাজস্যবর্গ পূর্বে এসে আশ্রয় খুঁজতে শুরু করে। একই সময় রাজা নীলকন্ঠও এদের জন্য আশ্রয় খুঁজছিলেন। রাজা তার দেওয়ান হরিরাম মিত্রকে ভৈরব নদীর তীরে পরিখাবেষ্টিত রাজবাড়ি বানাতে বলেন। হরিরামেরও কোনো পাকা বাড়ি ছিলো না। রাজা নিজ থেকেই হরিরামের জন্যও একটা বাড়ি বানাতে বলেন। হরিরামের বাড়ি ছিলো বাঘুটিয়ায়। তাই বাঘুটিয়ার কাছে অভয়নগরে হরিরামের নিজের বাড়ি এবং এখান থেকে খানিক দূরের ধূলগ্রামে রাজবাড়ি নির্মিত হলো। তখনকার সময়ে দেবমন্দিরই ছিলো রাজবাড়ির প্রধান সৌন্দর্য এবং মন্দিরের দেব-দেবীর বিগ্রহই ছিলো প্রধান সম্পদ। তাই রাজবাড়ির সৌন্দর্য বৃদ্ধি করার জন্য ধূলগ্রামের রাজবাড়ির কাছে ভৈরব নদীরতীরে বারোটি মন্দির তৈরি করা হয়। এবং অভয়নগরে নদী থেকে একটু দূরে তৈরি হয় এগারোটি শিব মন্দির। অভয়নগরের বাড়িটি দেওয়ানের বাড়ি বলে মন্দিরের সংখ্যা একটি কম। ধূলগ্রামের বাড়িটি পাকা ও দৃঢ প্রাচীরে বেষ্টিত ছিল। কিন্তু অভয়নগরের বাড়িটির গাঁথুনি ছিলো কাঁচা, এবং প্রাচীর তেমন দৃঢ় ছিল না। দুটি বাড়িই পরিখাবেষ্টিত; একপাশে ভৈরব নদ আর বাকি তিন পাশে গড়খাই। বাড়ি নির্মাণের শেষ দিকে পরিদর্শন করতে এসে রাজা নীলকন্ঠ বললেন, রাজাদের অস্থায়ী নিবাস খুব দৃঢ় হওয়ার প্রয়োজন নেই। হরিরাম স্থায়ীভাবে ধূলগ্রামের বাড়িতে থাকতে পারে। রাজাদের জন্য অভয়নগরের বাড়িই যথেষ্ট। এইজন্যই হয়তো অভয়নগরের রাজবাড়ির অস্তিত্ব এখন আর নেই৷ সেখানে এখন পানের বরজ করা হয়েছে।

ভৈরব নদ পেরিয়েই আমাদের রাজা নীলকণ্ঠের এগারো শিব মন্দির যেতে হবে। তারজন্য আগে যেতে হবে ভাটপাড়া ঘাটে৷ ভাটপাড়া ঘাটে গিয়ে দেখি এতো বড় আকৃতির নৌকা ভৈরবের তীরে শুয়ে আছে আমাদের পারাপারের জন্য। এটি আকারে এতোই বড় যে এতে করে মালবাহী গাড়িও পার হতে পারে।

ভৈরব পেরিয়ে আমরা ভ্যানে চড়লাম এগারো শিব মন্দির যাবার জন্য। মন্দিরে যাওয়ার পথটা এতো মায়াময়! গ্রাম্য রাস্তা, কিন্তু পিচঢালা। আমাদের ভ্যান মসৃণগতিতে নিয়ে যাচ্ছে গন্তব্যে। দুইপাশে গাঢ় সবুজে ছেয়ে থাকা গ্রাম। একধারে প্রাচীন বাড়ির ধ্বংসস্তূপ দেখতে পেলাম। এটিই সেই রাজবাড়ি কী না, কে জানে! ভ্যান মন্দির গুচ্ছের প্রবেশদ্বারের কাছে নামিয়ে দিয়ে চলে গেলো। আশেপাশে আর কোনো মানুষের সাড়াশব্দ নেই। কোনো বাড়িঘরও দেখা যাচ্ছে না। এগারো শিব মন্দিরের দক্ষিণ দিকে প্রবেশপথের দু’দিকে রয়েছে দুটি মন্দির। দুইপাশে দুটি অপ্রধান মন্দির রেখে মন্দির প্রাঙ্গনে প্রবেশ করলাম। আমার কাছে মনে হলো, যেনো অন্য এক জগতে প্রবেশ করেছি। কেমন গা ছমছমে অনুভূতি। মনে হচ্ছিলো দেড়শো বছর আগের প্রাচীন জগতে অনুপ্রবেশ ঘটেছে আমার।

ঠিক সামনেই মূল মন্দিরটি নিজের সমস্ত দর্প নিয়ে ঠায় দাঁড়িয়ে। পশ্চিম দিকে। পূর্ব ও পশ্চিম সারিতে চারটি করে মোট আটটি মন্দির। সব মিলিয়ে এগারোটি মন্দির। প্রত্যেকটি মন্দির মাঝখানের উঠোনের দিকে মুখ করে দাঁড়িয়ে আছে। প্রধান মন্দিরটিকে সংস্কার করায় তার পূর্বের দম্ভ ফিরে এলেও, বাকি মন্দিরগুলোর অবস্থা সঙ্গীন।

মূল মন্দিরটির দৈর্ঘ্য ২৪ ফুট ৪ ইঞ্চি আর প্রস্থ ২২ ফুট ৩ ইঞ্চি। দেয়ালের প্রস্থ ৩ ফুট ৪ ইঞ্চি। মন্দির নির্মাণে ব্রিটিশ আমলে অনুসৃত চুন সুরকি এবং ইটের ব্যবহার করা হয়েছে। ইটের আকৃতি পাতলা ও বর্গাকার। চুন-সুরকির প্রলেপ ধরে রেখেছে ইটগুলোকে।

প্রত্যেকটি মন্দিরে আগে একটি করে মোট বারোটি শিবলিঙ্গ ছিলো, এদের প্রত্যেকের নামে ১২০০ বিঘা জমি নিষ্কর দেওয়া হয়েছিলো। প্রতিদিন দেবসেবায় যেসব ভোজ্য দেওয়া হতো, পূজা সম্পন্ন হবার পর তা গ্রামের ব্রাহ্মণ পরিবারগুলোতে ভাগ বাটোয়ারা করে পাঠানো হতো। তা দিয়ে ৩০টি ব্রাহ্মণ পরিবারের সংসার চলতো। বারোটি শিবলিঙ্গের মধ্যে এখন শুধুমাত্র মূল মন্দিরেই একটি শিবলিঙ্গের অবশিষ্ট কিছু ভগ্নাংশ আছে। বড় মন্দিরে এখনো নিয়মিত পূজা হয়। পূজারীর দেখা না পেলেও প্রমাণ পেলাম আমরা। বড় মন্দিরের দেয়ালে কিছু ইট পাথর ঝোলানো দেখলাম। দেখেই মনে হলো কোনো ধরণের মানতের চিহ্ন এগুলো। দিবাকর দাদার কাছে ছবি দেখিয়ে এর মানে উদ্ধার করলাম। তিনি যা বললেন, তা সরাসরি তুলে দিচ্ছি।
‘পাপভার ঈশ্বরে সমর্পণ। ইট অথবা পাথরগুলো কর্মের প্রতীক। সেই কর্ম হতে মানুষকে উদ্ধার করেন মহাকাল। এটা সাধারণ মানত নয়। মুক্তির মানত।’

প্রতিটি মন্দিরে প্রবেশের জন্য আছে খিলানাকৃতির প্রবেশপথ ও উপপ্রবেশপথ, বাকানো ও কোণাকৃতির কার্ণিস। রয়েছে অনিন্দ্যসুন্দর কারুকার্য। তার মধ্যে রয়েছে পদ্মসহ আরো অনেক চিত্রের মোটিফ। মন্দিরের বিশেষত্ব হলো এটি স্থানীয় রীতিতে নির্মিত। সে সময়ে যে বাংলায় উন্নত মানের স্থাপত্যকলা ছিলো এই মন্দিরটিই তার প্রমাণ। ছাদগুলো নির্মিত হয়েছে উলম্ব ধরনের ডোমের সমন্বয়ে। অর্থাৎ দুই স্তরে নির্মিত ছাদের ভেতরে গোলাকার এবং বাইরে চার চালা রীতিতে নির্মিত। সবগুলো মন্দির নির্মাণে স্থানীয় উপকরণ, নির্মাণশৈলি এবং দক্ষতার ছাপ পাওয়া যায়।

মন্দিরের চারপাশে একসময় প্রাচীর বেষ্টিত ছিলো। এখনও তার চিহ্ন রয়েছে। সেই সময়কার প্রচুর ইটও পড়ে ছিলো সেখানে। সেসব ইট গ্রামবাসী কিনে নিয়ে নিজেদের বাড়ি নির্মাণের কাজে ব্যবহার করেছে। মন্দিরের উত্তর-পশ্চিম কোণে একটি পুকুর ছিলো।

মন্দিরগুলো জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে ছিলো অনেকগুলো বছর। ২০১৪ সালে বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর প্রথম ধাপের সংস্কার কাজ শুরু করে, যা শেষ হয় ২০১৭ সালে। ফলে দৃষ্টিনন্দন এই স্থাপনাগুলো ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে।

মন্দিরে অনেকক্ষণ ছিলাম আমরা। মানুষজন না থাকায় খুব উপভোগ করছিলাম প্রাচীনত্ব। হঠাৎ হঠাৎ মনে হচ্ছিল এই বুঝি প্রাচীন ডামাডোল বেজে উঠলো। শ’খানেক মানুষ নিয়ে প্রাচীন সময়কার সেই মন্দির পূজার জন্য প্রস্তুত। লোকের পদচারণে গমাগম করে উঠবে সব। কিন্তু না। প্রাচীন সেই নীরবতা ভেঙে দিয়ে কিছু দর্শক কিংবা ভ্রমণকারী এলো৷ তাদের দেখে মনে হলো, কোনো শর্টফিল্ম কিংবা গানের ভিডিও বানাতে এসেছে। আমরাও তাই আর বেশিক্ষণ থাকলাম না। প্রাচীন জগত ছেড়ে পা বাড়ালাম আধুনিকতায়।

ভাটপাড়া ঘাটে নৌকা আসতে দেরি হচ্ছিল। তাই আমরা ঘাটের পাশেই মিষ্টির দোকানে ঢুকলাম। দত্তের দই মিষ্টির দোকান। এক হাড়ি দই কিনলাম ৪০ টাকা দিয়ে।

কীভাবে যাবেন

ঢাকা থেকে সড়ক, রেল ও আকাশপথে যশোর (Jessore) যাওয়া যায়। ঢাকার গাবতলী, কল্যাণপুর, কলাবাগান থেকে গ্রিন লাইন পরিবহন, সোহাগ পরিবহন, ঈগল পরিবহন, শ্যামলী পরিবহনের এসি বাস যশোর যায়। ভাড়া ৮শ’ থেকে ১ হাজার টাকা। এ ছাড়া হানিফ, শ্যামলী, সোহাগ, ঈগল ইত্যাদি পরিবহনের নন-এসি বাসও যশোর যায়। ভাড়া ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকা।

ঢাকার কমলাপুর থেকে সপ্তাহের শনিবার ছাড়া প্রতিদিন সকাল ৬টা ২০ মিনিটে আন্তঃনগর ট্রেন সুন্দরবন এক্সপ্রেস এবং সোমবার ছাড়া প্রতিদিন সন্ধ্যা ৭টায় আন্তঃনগর ট্রেন চিত্রা এক্সপ্রেস যশোরের উদ্দেশে ছেড়ে যায়। ভাড়া শোভন ৩৫০ টাকা, শোভন চেয়ার ৪২০ টাকা। প্রথম শ্রেণি চেয়ার ৫৬০ টাকা। প্রথম শ্রেণি বার্থ ৮৪০ টাকা। স্নিগ্ধা শ্রেণি (এসি চেয়ার) ৭০০ টাকা। এসি বার্থ ১,২৬০ টাকা।

ঢাকা থেকে ইউনাইটেড এয়ারলাইন্স, রিজেন্ট এয়ারলাইন্স ও নভো এয়ারের বিমান নিয়মিত যশোরের পথে চলাচল করে।

ঢাকা থেকে যশোরগামী বাসে চড়ে মণিহার সিনেমা হলের সামনে নেমে সেখান থেকে রিক্সা করে চাচড়া শিব মন্দির যাওয়া যায়। এছাড়া ১০ নং চাঁচড়া ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ভ্যান/ইজিবাইক/বাস এ করেও যাওয়া যায়। মনিহার বাস স্ট্যান্ড থেকে চাঁচড়া ১৫ মিনিটের রিকশা বাহনের দূরত্ব। বাস যদি বেনাপোলের দিকে যায়, তাহলে শিব মন্দিরের ঠিক সামনেই নামতে পারবেন।

কোথায় থাকবেন

থাকার জন্য যশোর শহরকেই বেছে নিতে হবে। সেখানে থাকা এবং খাবারের জন্য হোটেল পেয়ে যাবেন। ভালো আবাসিক হোটেলের মধ্যে হোটেল আমিন এবং হোটেল মিডটাউন উল্লেখযোগ্য।

ইতিহাস অংশের তথ্যসূত্র : যশোহর খুলনার ইতিহাস by সতীশচন্দ্র মিত্র

প্রকৃতি সৃষ্টিকর্তার অপূর্ব উপহার। সেই সাথে আমাদের সম্পদ। আমাদের টুরিস্ট স্পটগুলো পরিষ্কার রাখার দায়িত্ব আমাদের নিজেদের। পাহাড়ে গেলে অপচনশীল আবর্জনা যেখানে সেখানে ফেলে এসে প্রকৃতিস্থ সৌন্দর্য নষ্ট করবেন না।
আসুন, ঘোরাঘুরির সাথে সাথে দর্শনীয় স্থানগুলো পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রেখে সুরুচির পরিচয় দিই।

Source: Madiha Mow

12 Nov 2019

১.চট্টগ্রামের বহদ্দারহাট বাস স্ট্যান্ড কিংবা নতুন ব্রিজের বাস স্ট্যান্ড থেকে চকরিয়ায়/কক্সবাজার গামী যে কোন বাসে করেই চকরিয়া যাওয়া যায়। তবে জে.বি. এক্সপ্রেস, এস আলম কিংবা সৌদিয়া ডাইরেক্ট বাসে যাওয়া ভালো। ১৫০-১৮০ টাকা বাস ভাড়ায় চকরিয়া যেতে সময় লাগবে প্রায় আড়াই থেকে প্রায় তিন ঘন্টার মত। চকরিয়া বাস স্ট্যান্ড থেকে লোকাল সিএনজি করে জনপ্রতি ৬০-৮০ টাকা ভাড়ায় (রিজার্ভ ২৮০-৩২০ টাকা) মগনামা ঘাটে যেতে হবে। সময় লাগবে আনুমানিক ৪০-৫০ মিনিট। মগনামা ঘাট থেকে ডেনিস বোটে করে বড়ঘোপ ঘাট ভাড়া ৪০ টাকা সর্বোচ্চ, স্পিড বোট এ বেশি ভাড়া।মেবি ৭০টাকা মনে হয়।

আরেক উপায়..
*২.চট্টগ্রাম রেল স্টেশন থেকে ২ নং বাস এ করে যাওয়া যায় বদ্দারহাট বাস টার্মিনাল এ!বাস টার্মিনাল থেকে বাসখালী সুপার ( অন্য আরও বাস আছে তবে এটা সবথেকে ভালো) বাসে করে মগনামা ঘাট,ভাড়া ১৫০ টাকা প্রায় ৪ ঘন্টা লাগে।মগনামা ঘাট থেকে ডেনিস বোটে করে বড়ঘোপ ঘাট ভাড়া ৪০ টাকা সর্বোচ্চ,

আরেক উপায়..
**৩চট্টগ্রামের ফিরিঙ্গা বাজার ব্রীজঘাট থেকে সকাল ৬ঃ৩০/৭টায় জনপ্রতি ১০০ টাকায় ইঞ্জিন কাঠ বোটে সরাসরি কুতুবদিয়া দ্বীপের বড়ঘোপ ঘাঠে যাওয়া যায়।

আরেক উপায়..
*৪.এছাড়া চট্টগ্রামের নতুন ব্রিজ থেকে সিএনজি দিয়ে জনপ্রতি ১৮০ টাকা ভাড়ায় ২-৩ ঘন্টা সময়ে যেতে পারবেন মগনামা ঘাট।মগনামা ঘাট থেকে ডেনিস বোটে করে বড়ঘোপ ঘাট ভাড়া ৪০ টাকা সর্বোচ্চ

তাই অনেকে বলে একে বাংলাদেশের ভার্জিন সী বীচ অথবা প্রাইভেট সী বীচ বলে।লাইট হাউস বিচ একদম পরিস্কার একটা বীচ এই বীচে আপনি বিন্দু পরিমান কাগজ অথবা প্লাস্টিকের কোন টুকরাও চোখে পড়বে না। বরং পড়বে দূরে ভাসমান নোঙ্গর করা বিশাল বিশাল জাহাজ, চোখে পড়বে লাল কাঁকড়াদের স্বাধীন ভাবে ছুটোছুটি, জেলেদের আনাগোনা এবং এক বিশাল জলরাশি। মনে হবে নিজের কেনা কোন এক ভূখণ্ড। যেখানে শুধুই আপনি

আসি কিভাবে ঘুরবেন:
১ম দিনঃ‌‌-
আমরা ব্রাক্ষণবাড়িয়া থেকে গিয়েছিলাম
ব্রাক্ষণবাড়িয়া থেকে রাতে ১১টার ট্রেনে মহানগর এক্সপ্রেস চট্রগ্রাম পৌঁছায় ভোর ৫টায় তারপর নাস্তা করি।ইস্টেশন সামনে থেকে কাওকে জিজ্ঞেস করলে বলে দিবে নতুন ব্রীজ মোড় যেতে হলে কোথায় থেকে সি,এন,জি পাওয়া যায় ইস্টেশন থেকে হাতের ডানে ৪/৫ মিনিট হাটলে পেয়ে যাবেন সি,এন,জি অনেক গুলা দাড়িয়ে আছে জনপ্রতি ১০টাকায় নতুন ব্রীজ মোড়ে যাই।নতুন ব্রীজ মোড় থেকে আবার সি এন জি করে জনপ্রতি ১৮০টাকা ২ঘন্টা ৩০মি.ভিতর চলে যাই মাগনামা ঘাট।মাগনামা ঘাট থেকে বোডে জনপ্রতি ৪০টাকা করে চলে যাই বড়ঘোপ ঘাট ৩০মি. মত লাগে(এই দ্বীপে ঘাট দুইটা একটা বড়ঘোপ ঘাট আর একটা দরবার ঘাট আপনি বোডে ওঠার সময় বলতে হবে বড়ঘোপ ঘাটে যাবো)
বড়ঘোপ ঘাট থেকে অটো অাছে জনপ্রতি ১৫ টাকা নিছে হোটেল সমুদ্র বিলাস পর্যন্ত।হোটেল সমুদ্র বিলাস পাশেই ডাক বাংলো তে থাকার ব্যবস্থা আছে ৪জন থাকার জন্য ৪০০/৫০০মত নিবে।এখানে ৪জনের রুম সব গুলা।

আমরা প্রথমে ডাক বাংলো তে গিয়েছিলাম ৪জনের জন্য চাইছে ৫০০ তারপর আর কিছু বলি নাই কারণ আমাদের ৪ জনের মধ্য কারো ই রুম দেখে তেমন ভালো লাগে নাই।দামাদামি করলে ৪০০ ভিতর দিয়ে দিত আমার যা মনে হয়ছে।যারা কমের মধ্য থাকতে চান এই দাম অনুযায়ী তেমন খারাপ না থাকতে পারেন।যখন যাবেন থাকার ইচ্ছা থাকলে রুম গুলা দেখতে পারেন।যাইহক,আমরা ছিলাম হোটেল সমুদ্র বিলাস।হোটেলের মেনেজার ভাড়া ১৫০০ টাকা চাইছে অনেক কথা বলে স্টুডেন্ট এই সেই বলে ১২০০ টাকা তে রাজি করাইছি অনেক কষ্টে(এক রুমে ২বেড ৪জন থাকা যাবে)হোটালে রুমে যখন যাই তখন ৯টা মত বাজে।অনেক ক্লান্ত তখন তারপর রুমে ব্যাগ রেখে গোসল দিতে চলে গেলাম সমুদ্র পাড় হোটেলের পাশে বিচ।গোসল দিয়ে রুমে এসে আবার বাথরুমে গোসল দিয়ে ফ্রেস হয়ে তারপর অনেক খিদা লাগছে দুপুর খাবার টা তখন খেয়ে নেয় তখন বাজে মেবি ১১টা।

তারপ ক্লান্ত শীরলে একটা ঘুম দেয়। ঘুম থেকে ওঠে বিকালে চলে গিয়েছিলাম বায়ু বিদ্যুৎ সী-বীচ।সমুদ্র বিলাস হোটেল টা ছিল বড়ঘোপ বাজারে বিচের পাশে।বড়ঘোপ বাজার থেকে ৩০-৪০ টাকা রিক্সা ভাড়ায় কিংবা ৫-১০ টাকা টেম্পু ভাড়ায় বায়ু বিদ্যুৎ যাওয়া যাবে।আমরা টেম্পু করে গিয়েছিলাম বায়ু বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সাথেই আছে বায়ু বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সী-বীচ। বিকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সময় কাটানোর সব চেয়ে সুন্দর বীচ মনে হয় এইটাই। তারপর সন্ধ্যা যখন হয়ে যাচ্ছে তখন বিচ ধরে হাটতে হাটতে চলে আসলাম হোটেলে তখন রাত হয়ে গেছে।রাতে খাবার খেয়ে তারপর হোটেলের সাদে বসে গান আড্ডা সাথে চাঁদের আলো সমুদ্র দেখা😍 সে এক অন্য রকম ভাল লাগা। রাত ২টা পর্যন্ত ছিলাম।

আর রাতে মন চাইলে হোটেল থেকে সামনে বিচ মানে বড়ঘোপ বীচে হাটতে পারেন( তবে কুকুর ভয় পাবেন না ঐখানে প্রচুর কুকুর তবে ওরা অনেক ফ্রেন্ডলি কিচ্ছু করবেনা আপনাকে) জাহাজের লাল হলুদ বাতি জ্বলতেছে দেখতে দেখতে হারিয়ে যাবেন তারা ভরা আকাশ আর সমুদ্রের এক অমায়িক সৌন্দর্যের মধুর😍
মনে রাখা ভাল কুতুবদিয়া রাত ১০/১১ টার পড় সকল দোকান বন্ধ হয়ে যায়। তাই এই টাইমে বেড় হইলে একা বেড় হবেন না। যদিও নিরাপত্তা কোন সমস্যা নাই,তবে সমস্যা কথা বলা যায় নাহ সাবধান থাকা ভাল।

2য় দিনঃ
প্লান ছিল ভোরে ঘুম থেকে উঠে হোটেল সাদ থেকে সূর্য উদয় দেখবো বাট দেখা হল নাহ ঘুমের কারনে😓।এই হোটেলের সাদ থেকে সমুদ্র দেখা যায়।হোটেল সাদ থেকে ভিউ টা জুস লাগে।পরে ঘুম থেকে ওঠে ফ্রেশ হয়ে নাস্তা করি এই হোটেল রেস্টুরেন্ট থেকে তারপর রেডি হয়ে যাই লাইট হাউস বিচ দেখতে হোটেলের ডান পাশ দিয়া বিচ ধরে হাটলে যাওয়া যায় লাইট হাউস বিচ। হোটেল থেকে নামার সময় এক লোক কে জিঙ্গাস করলাম লাইট হাউস বিচে যেতে কতখন লাগবে হেটে গেলে বললো ৩০মি. আমার বিশ্বাস হয় নাই আমার তথ্য মতে আরো বেশি সময় লাগবে পরে আরেক জনকে জিজ্ঞাস করলাম বলছে তারা তারি হাটলে ১ঘন্টা লাগবে তারপরে হাটা ধরলাম বিচের ডান পাশ দিয়ে ৪০মি.মত হাটার পর ঝাউ বনের দেখা পেলাম বাট লাইট হাউস বিচ দেখা পাই নাহ পরে ঝাউ বনের এখানে কিছু লোক কাজ করতেছিল তাদের জিঙ্গাস করলাম ঝাউবন থেকে কতখন লাগবে ওনারা বললো আর ১ঘন্টা লাগবে হেটে গেলে পরে আর যাওয়া হয় নাই।আমার মনে হয় সব মিলিয়ে হোটেল থেকে ২ঘন্টা মত সময় লাগবে যাইতে তারা তারি হাটলে।

এই দ্বীপ টা অনেক বড়।বাউবনে ছবি তুলে সময় কাটিয়ে রুমে ফিরে আসি তখন ১২টা বাজে।তারপর দুপুর খাবার টা ছেড়ে ফেলি এর কিছুক্ষন পর বৃষ্টি শুরু একদিকে অসুবিধা(অসুবিধা টা হলো এইদিন ফিরতে হবে বিকাল মধ্য) আরেকদিকে ভাল। এই প্রথম সমুদ্র দেখতে এসে বৃষ্টি মামা দেখা পেলাম তারপর হোটেল এর রেস্টুরেন্ট বড় বারেন্দা বসে বৃষ্টি উপভোগ😍….

সে এক অন্য রকম ভালো লাগা তারপর অনেকক্ষণ অপেক্ষা পর বৃষ্টি কমলো ৪টার দিকে বের হলাম আসার জন্য হোটেল পাশ থেকে জনপ্রতি ১৫টাকা অটো দিয়ে বড়ঘোপ ঘাটে আসি।তারপর ঘাট থেকে বোটে করে ৪০টাকা জনপ্রতি মাগনাম ঘাট যাই।তারপর মাগনামা ঘাট থেকে ২মিনিট হাটলেই সি,এন,জি বা বাস পাবেন বৃষ্টি দিন ছিল তারা তারি অন্ধকার হয়ে যাচ্ছিল তাই বাস দিয়ে ডাইরেক নতুন ব্রিজ মোড় আসি জনপ্রতি ১৫০টাকা করে বাস নাম (স্টার লাইন) ৩ঘন্টা লাগছে আসতে।সি এন জি দিয়া আসি নাই সন্ধা হয়ে গেছে সি এন জি দিয়া আসলে কোন সমস্যা হলে রাস্তায় অনেক দূর জার্নি।নতুন ব্রীজ থেকে ইস্টেশন যাই সি এন জি দিয়ে ১০টাকা।তারপর নাস্তা করলাম ইস্টেশন পাশে হোটেল থেকে।আমাদের ট্রেন ছিল রাত ১১টায় নিশিতা ট্রেন ছাড়তে অনেক সময় বাকি তাই আড্ডা দিয়ে সময় পার করলাম ট্রেনের ছাড়া সময় হলো ট্রেনে ওঠলাম ভোরে ব্রাক্ষণবাড়িয়া নিজের শহরে আইসা পৌঁছায়লাম😍

সমুদ্র বিলাসে হোটেলের কিছু সুবিধা
**হোটেলের রেস্টুরেন্ট খাবার মান অনেক ভাল এই দ্বীপে আর এইটার মত কোন (হোটেল+রেস্টুরেন্ট) নাই।পর্যটক কম বিদায় এইটার মত তেমন হোটেল গড়ে ওঠে নি আর কিছু হোটেল আছে যে গুলা এইটার মত মান ব্যবস্থা নাহ।তারপর আপনারা ঘুরে ঘুরে দেখবেন কোথায় কমের মধ্য ভাল খাবার পাওয়া যায়।এইটার আশেপাশেই আরো খাবার হোটেল আছে বিসমিল্লাহ হোটেল,নিউ আল মদিনা হোটেল কাওকে বললে দেখিয়ে দিবে..
**এই হোটেলের রেস্টুরেন্ট ফিন্নি টা ক্ষেতে ভুলবেন নাহ আমরা যতবেলা খাবার খেয়েছি খাবার পর ফিন্নি টা মিস করি নাই।ফিন্নি খাইসি আর বারেন্দা বসে সমুদ্র উপভোগ করছি
**এই হোটেল রেস্টুরেন্ট থেকে আপনি সমুদ্র দেখতে পারবেন খুব কাছ থেকে।এই রেস্টুরেন্টে দুইটা বারেন্দা মত অনেক বড় করে বসার জায়গা আছে বসে (আড্ডা+সমুদ্র) দেখা যায় যা ২/৩ ঘন্টা পার করে দেওয়া যাবে আনা আইসে।
আরো কিছু তথ্যঃ-
বড়ঘোপ বাজার থেকে ডান দিকে হেটে ১০ কি.মি পথ ২-৩ ঘন্টা হেটে যেতে পারেন লাইট হাউজে!

অথবা,..**ভেংগে ভেংগে গেলে..
বড়ঘোপ বাজার থেকে ধুরং বাজার জনপ্রতি ২০ টাকা তারপর আবার ধুরং থেকে লাইট হাউজ বা বাত্তিঘর ১০ টাকা জনপ্রতি! রিক্সা, সিএন জি থেকে নেমে যে কাওকে জিজ্ঞেস করলে লাইট হাউজ বীচটা দেখিয়ে দিবে!
আর ব্যাক করার সময় লাইট হাউজ থেকে বড়ঘোপ ৩/৪ জনের রিকশা তে ১২০টাকা নিতে পারে

খরচ…
খাবার খরচ টা দিলাম না কারন খাবার টা নিজের চাহিদা অনুযায়ী ডিপেন্ট করে আনুমানিক একটা খরচ দিলাম এই দামে খাবার হয়ে যাবে সুন্দর করে।
সকালের নাস্তাঃ-৪০/৫০
দুপুরের খাবারঃ-১২০/১৫০
রাতের খাবারঃ-১২০/১৩০
আমরা ৪জন ছিলাম আমাদের জনপ্রতি মোট খরচ হয়েছে ১৭৫০ টাকা।

বি.দ্র.ঃ ভ্রমণে গিয়ে কোথাও কোন ময়লা আবর্জনা ফেলে আসবেন না।ময়লা আবর্জনা নির্দিষ্ট স্থানে ফেলার অভ্যাস করুন।এছাড়া ভ্রমণে গিয়ে বিরানি খেয়ে বিরানীর প্যাকেট আর পানির বোতল ফেলে আসা থেকে বিরত থাকুন।

Source: শাহরিয়ার হোসাইন‎>Travelers of Bangladesh (ToB)