Archives

যাতায়াত পরিকল্পনা (Route Plan)

22 Aug 2019

কোন জায়গায় ঘুরতে যাওয়া হচ্ছিল না। তাই বন্ধু যখন বলল চল আমরা রামগতি থেকে ঘুরে আসি। একবার চিন্তা করেই রাজি হয়ে গেলাম। ৭-৮ জন যাওয়ার কথা থাকলেও শেষমেশ আমরা হলাম ৬ জন। সকাল ৮.৩০ লক্ষ্মীপুর থেকে রওনা দিলাম লেগুনায় করে গন্তব্য আলেকজান্ডার মেঘনা বিচ। আপনি চাইলে বাসেও যেতে পারেন। বাস আর লেগুনার ভাড়া সেম ৫০ টাকা। বাসে যেতে সময় লাগে পৌনে ২ ঘন্টা আর লেগুনায় দেড় ঘন্টা এই যা। আলেকজান্ডার নেমে হালকা নাস্তা করে চলে গেলাম মেঘনার পাড়ে। আলেকজান্ডার এই অঞ্চলের মানুষের জন্য একটি জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র। বাঁধের উপরে উঠলেই প্রথমে আপনাকে স্বাগতম জানাবে দমকা হাওয়া তার সাথে গুড়িগুড়ি বৃষ্টি হলে তো আর কথাই নেই। ব্লকের উপর বসে নদীর সৌন্দর্য উপভোগ করে ঘন্টার পর ঘন্টা সময় কাটিয়ে দিতে পারবেন। সরকার এই স্থানের সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে কাজ করছে। বাঁধের পাড়ে ঝাউগাছ লাগানো হয়েছে, বসার জন্য তৈরি করা হয়েছে শেড আর সাথে আছে সোলার লাইট। আগে যেখানে সন্ধ্যার পর ছিনতাইকারীর ভয়ে থাকা যেত না এখন অনায়াসে বসে চাঁদের আলো উপভোগ করা যায়। এনেক বক বক করি ফালাইলাম..

এবার দুপুর ১২ টায় রওনা হলাম রামগতির জন্য, অটো ভাড়া জনপ্রতি ৪৫ টাকা, যদিও আসার সময় ৫০ টাকা দিতে হইছিল। আপনি সিএনজি বা লেগুনায় ও যেতে পারেন লেগুনা ভাড়া ৪০ টাকা। যেতে সময় লাগবে পৌনে এক ঘন্টার মত।

রামগতি গিয়ে আগে পেটপূজা সারলাম ইলিশ দিয়ে, প্রতি পিচ ৭০ টাকা সাথে ভাত দুই প্লেট ২০ টাকা। রামগতি বাজারে এখন গেলে দেখবেন শুধু ইলিশে বাজার সয়লাব আমি চিন্তায় পড়ে গেছিলাম এত মাছ যায় কোথায়। আর নদীর পাড়ে দেখবেন জেলেরা ট্রলার থেকে মাছ নামাচ্ছে। নদীর পাড়ে ব্লকের দিকে না গিয়ে চলে যাবেন জেলে গ্রামের দিকে নদীর পাড় ধরে। রামগতি আলেকজান্ডারের চেয়ে সুন্দর জায়গা, এখানে মানুষের আগমন ও কম। বেড়ি ধরে হাটতে হাটতে ডেড ইন্ডে একটা চায়ের দোকান পাবেন। চা খাবেন আর ফিল নিবেন… কিছু দিন পর দোকানটা আর নাও পেতে পারেন। কারন আস্তে আস্তে নদী এগিয়ে আসছে জনবসতির দিকে আর গ্রাস করছে সবকিছু। ও ওখানে নদীতে গোসল টা সেরে ফেলতে পারেন।

এরপর বেশি দেরি না করে আবার চলে আসবেন রামগতি বাজারে। ওখান থেকে অটো করে চলে যাবেন ট্যাংকির চর। জনপ্রতি ভাড়া ৩৫ টাকা। ঐ জায়গাটাও অনেক সুন্দর যদিও আমরা যেতে পারি নাই। সূর্যাস্তটা ওখনে উপভোগ করেই তাড়াতাড়ি রওনা হয়ে যাবেন। বেশি দেরি করলে পরে গাড়ি পাবেন না। ফিরতি পথে আবার একই ভাবে ফিরে আসবেন।

খরচ-

লক্ষ্মীপুর – আলেকজান্ডার ৫০+৫০= ১০০ টাকা

আলেকজান্ডার – রামগতি ৫০+৫০=১০০ টাকা

রামগতি – ট্যাংকির চর ৩৫+৩৫ =৭০টাকা

খাওয়া খরচ =১০০ টাকা

Source: Asiful Habib‎ <Travelers of Bangladesh (ToB)

22 Aug 2019

রুটঃ
ঢাকা(সায়েদাবাদ)>সুনামগঞ্জ>তাহিরপুর>সুনামগঞ্জ>ঢাকা(সায়েদাবাদ)

👉ট্যুরমেটঃ ৯ জন।

👉সময়কালঃ ২ রাত ২ দিন।

👉খরচাপাতিঃ
ঢাকা ( সায়েদাবাদ) থেকে সুনামগঞ্জগামী সেমিলোকাল চেয়ারকোচ = ৩০০ টাকা/হেড

সুনামগঞ্জ টু তাহিরপুর রিজার্ভ সিএনজি ( সিএনজি প্রতি ৫ জন) = ১০০ টাকা/হেড

নৌকা ভাড়া( রিজার্ভ) সকাল থেকে পরদিন সকাল পর্যন্ত ৩২০০ টাকা = ৩৫০/হেড

এখানে কিছু কথা বলা দরকার,নৌকায় চুক্তি হয়েছিল হাওরে সারাদিন ঘুরে রাতে নৌকায়ই স্টে করবো এবং সকালে ৭ টার মধ্যে আবার তাহিরপুর পৌঁছে দিবে।কারন ১০ টায় সুনামগঞ্জ থেকে ঢাকাগামী গাড়ির টিকেট কাটা ছিল।আমাদের নৌকাটি মোটামুটি মানের ছিল,এই নৌকায় ১৫ জন অনায়াসে থাকা যায়।যদিও আমরা সারারাত নৌকার ছাদেই কাটিয়ে দিয়েছিলাম, চাঁদনি রাত আমাদের জন্য ছিল বারতি পাওনা।

খাবার-দাবারঃ
দুপুর+রাত নৌকায় রান্না হয়েছিল,বাজার আমরাই করে নৌকায় উঠেছিলাম।নৌকার মামারাই রান্না করে দেয়।টোটাল খাবার খরচ ৩২০০ টাকা,(সকাল+দুপুর+রাত+পরদিন সকাল) = ৩৫০/হেড।

বাইক রিজার্ভঃ
(নীলাদ্রি লেক+বারিকটিলা+জাদুকাটা নদী+শিমুলবাগান+লাকমাছড়া) ২০০ টাকা/বাইক,২ জন করে। =১০০ টাকা/হেড।

আনুষঙ্গিক খরচঃ
লাইফ জ্যাকেট ৩০ টাকা/হেড।

সুনামগঞ্জ টু তাহিরপুর রিজার্ভ সিএনজি ( সিএনজি প্রতি ৫ জন) = ১০০ টাকা/হেড

হাসনরাজার আস্তানা দর্শনঃ (আসা-যাওয়া + এন্ট্রি ফি)= ৫০ টাকা/হেড

সুনামগঞ্জ টু ঢাকাঃ হানিফ পরিবহন = ৫৫০ টাকা/হেড

টোটাল খরচ = ২০০০ টাকা/হেড

পাহাড় আর হাওর মিলে এক নৈসর্গিক প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের আধার টাংগুয়ার হাওর,বছরের ৬ মাস এখানে পানিতে ডুবে থাকে বাকি সময় চাষাবাদ হয়।
সময় পেলে পরিবারসহ ঘুরে আসুন,দারুন সময় কাটবে আশা করি।

ডাঙা হোক কিংবা হাওর,সবটাই আমাদের পরিবেশের অংশ। পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখি,এটা আমাদের দায়িত্ব।

Source: Md NazRul Islam‎ <Travellers Of Bangladesh

21 Aug 2019

৪ তারিখ ফকিরাপুল থেকে রাত ১১.৩০ টার হানিফ বাসে জনপ্রতি ৮৫০ টাকা ভাড়ায় রওনা হই আলিকদম এর উদ্দেশ্যে। সকাল ৮ টায় পৌছাই আলিকদম। বাস স্ট্যান্ড এ নেমেই সকালের নাস্তা সেরে জনপ্রতি ২০ টাকা ভাড়ায় অটো নিয়ে রওনা হই আলিরগুহার উদ্দেশ্যে। অটো নামাবে আলিরগুহার সামনে নদীর এপারে। টমটম এ ব্যাগ রেখে প্রয়োজনীয় জিনিস এবং টর্চ লাইট নিয়ে নদী পার হতে জনপ্রতি ২০ টাকায় যাওয়া আসার জন্য নৌকা ঠিক করি। তারপর ৩-৪ মিনিট পাহাড় এর দিকে উঠে সোজা হেটে গেলেই পরবে প্রথম গুহা আর বাম দিকে গেলে পরবে আরেকটি গুহা। আমরা কোন গাইড নেইনি। আমাদের সাথে থাকা ২ অটো মামার একজন আমাদের সাথে এসেছিল নিজ থেকে। আর একজন ব্যাগ দেখার জন্য ছিল। আলিরগুহায় ঢুকতেই প্রথমে যা খেয়াল করবেন তা হল আবহাওয়া। মনে হবে ৯-১০ ডিগ্রি টেম্পারেচার কমে গেছে। ১০-১৫ মিনিট হাটার পর শুরু হয় মেইন এডভেঞ্চার। সিড়ি বেয়ে উঠেই টর্চ এর আলোয় চলতে হবে। ২ টা গুহা দেখা শেষ করে টমটম নিয়ে যাই আবাসিক। গুহা থেকে আবাসিক নিবে ৩০-৪০ টাকা। আবাসিক গিয়ে পুকুরে গোসল করে নেই। দুপুরের খাবার খেয়ে বিশ্রাম নিয়ে রাতের এর বাজার করে রওনা হই মারায়নতং এর উদ্দেশ্যে। মারায়নতং এর নিচে রাস্তার সামনে নেমে তারপর হাটা শুরু। আমরা এখানেও কোন গাইড নেইনি। মারায়নতং কে সহজ ভাবে নিলেও আমরা কেওই জানতামনা মারায়নতং আমাদের দিকে কত বড় চেলেঞ্জ ছুরে দিতে যাচ্ছে। সব পাহাড় এ উচু নিচু সমতল রাস্তা থাকলেও মারায়নতং শুধু খাড়া উপরের দিকে উঠতে হয়। ১০-১৫ মিনিট হাটার পরই শুরু হলো ঝুম বৃষ্টি। কোনভাবে এক গাছের নিচে ব্যাগ গুলো রেখে ভিজতে থাকি আমরা। হাল্কা বৃষ্টি থাকতেই উঠা শুরু করি আবার। বৃষ্টি থাকায় কিছুটা স্লো হাটি আমরা। প্রায় ১.৩০ ঘন্টা পর মুরং পাড়া পার করে একটা বড় গাছ এর নিচে এসে বসি। তারপর আবার হাটতে থাকি। একটু উপরে উঠতেই মেঘ এর খেলা দেখতে পাই। বৃষ্টির কারনে মেঘ এর খেলা যেন আরো ভালভাবে শুরু হয়েছিল। কিছুক্ষন পরই পৌছে যাই আমাদের গন্তব্য মারায়নতং চূড়ায়। চূরায় উঠেই আমরা মেঘে ঢেকে গেলাম। সবার মুখ দিয়ে একটাই কথা বের হচ্ছিল “সুবানআল্লাহ”।

তাবু পিচ করতে করতেই আবার শুরু হয় ঝুম বৃষ্টি। কিন্তু এবার বৃষ্টি চলে প্রায় ২ ঘন্টা। এর মধ্যেই চারদিকে ঘুটঘুটে অন্ধকার নেমে যায়। এদিকে তাবুতে পানি ভরে গেছে সাথে ২ টা তাবু পিচ করার আগেই পানিতে একাকার।

এদিকে স্থানীয় ছোট্ট ছেলে ইকবাল এসেছে আমাদের সাথে থাকবে বলে। পরে তখনই ঠিক করি। চূরায় থাকা যাবেনা। প্রয়জনীয় জিনিস খাবার নিয়ে টর্চ এর আলোয় রাতের আধারে নামতে শুরু করি মাঠ এর নিচের ঝুম ঘরের দিকে। ব্যাপার টা রিস্কি হলেও এছাড়া আর উপায় ছিলনা। ঝুম এই রাতের খাবার তৈরী করে খেয়ে ঘুম দেয় কয়েকজন। ঠিক করি ভোর ৪ টার দিকে উঠে চূরায় উঠে যাবো। তাবু গুলো প্যাক করা লাগবে আবার। ৪ টায় উঠিয়ে দিলাম সবাইকে। ঝুম ঠিক যেমন ছিল আমারা আসার আগে ঠিক ঐভাবে পরিষ্কার করে ঠান্ডায় অন্ধকারে টর্চ এর আলোয় চূড়ায় উঠলাম। চূড়ায় উঠে সব প্যাক করে ভোর দেখেই নামা শুরু করলাম ৬ টার দিকে। চূড়া থেকে নামতে খুব বেশি সময় লাগেনি। নেমেই বাস স্ট্যান্ড এ গিয়ে নাস্তা সেরে ঢাকার বাস এর টিকেট কেটে বাস এই ব্যাগ রেখে যাওয়া আসা ৮০০ টাকায় বাইক নিয়ে রওনা হই ১৭ কিলোর উদ্দেশ্যে। প্রতিটি বাইক এ ২ জন করে বসতে পারবেন। আলিকদম থেকে ১৭ কিলোর এই রাস্তাকে বাংলাদেশ এর সর্বচ্চ রাস্তা বলে। ১০ কিলো আর্মি ক্যাম্প এ জাতীয় নিবন্ধন এর ফটোকপি জমা দিয়ে চলে গেলাম ১৭ কিলো। ছোট্ট একটা দোকান পাবেন দোকান থেকে চা খেয়ে ১০০০ টাকায় গাইড ঠিক করে রওনা হলাম দামতুয়ার উদ্দেশ্যে। প্রথমে পরবে আদু পাড়া তারপর মেম্বার পাড়া- তামতই পাড়া- নামসাক পাড়া – কাখইপাড়া হয়ে দামতুয়া ঝর্না। এ পথে আরো ২ টি ঝর্না আছে। ওয়াংপা ও তংপ্রা। যাওয়া আসা সব মিলিয়ে সময় লেগেছে ৬ ঘন্টার মত। জামা কাপড় চেঞ্জ করে খাবার খেয়ে ৭.৩০ টার বাস এ ঢাকার উদ্দেশ্যে উঠে পরি।

খরচ সমূহঃ
ঢাকা – আলিকদম বাসঃ ৮৫০
বাস স্ট্যান্ড -আলিরগুহাঃ ২০
নৌকাঃ ২০
আলিরগুহা – আবাসিকঃ ৪০
আবাসিক -মারায়নতংঃ(২৫+২৫)=৫০
বাইক(যাওয়া আসা)=৪০০
দামতুয়া গাইডঃ(১০০০÷৯)=১১১
আলিকদম – ঢাকাঃ ৮৫০
( খাবার খরচ আপনাদের মত )
আমাদের জনপ্রতি ৩০০০/- করে খরচ হয়েছে। ট্যুরমেট বেশি হলে আরো কমে ট্যুর দেয়া সম্ভব।
Source: Rbh Shornab‎ <Travelers of Bangladesh (ToB)

21 Aug 2019

টাঙ্গুয়ার হাওর-
বাংলাদেশের বৃহত্তর সিলেটের সুনামগঞ্জ জেলায় অবস্থিত একটি হাওর। এ হাওর বাংলাদেশর দ্বিতীয় বৃহত্তম মিঠা পানির জলাভূমি ।স্থানীয় লোকজনের কাছে হাওরটি নয়কুড়ি কান্দার ছয়কুড়ি বিল নামেও পরিচিত। হাওরের সৌন্দর্য উপভোগের সবচেয়ে উপযুক্ত সময় বর্ষাকাল, হাওরের রাতের আকাশে পূর্ণিমার আলো আর তারার মেলায় আপনি হারিয়ে যাবেন কোনো এক অজানায়, আর এই পূর্ণিমা রাতটি হবে আপনার জীবনের সবচেয়ে সুন্দর রাতগুলির মধ্যে একটি…..

শহিদ সিরাজী লেক-
সবুজ ঘাসের পাটি বিছানো ছোট ছোট টিলায় বসে উপভোগ করতে পারেন এই লেক। তাছাড়া লেকের ধারে বেঞ্চ বসানো রয়েছে। সেখানে বসে পাহাড়ের সাথে লেকের সৌন্দর্য দেখে বিমোহিত হতে পারেন।

বারিক্কা টিলা-
পাহাড়ের উপর মেঘেদের দল বেধে ছুটে বেড়ানো দেখতে হলে অবশ্যই বারিক্কা টিলায় আপনাকে গমন করতে হবে। তাছাড়া পাহাড়ের গাঁ বেয়ে নেমে আসা ঝর্নাও দেখবেন দূর থেকে। দুঃখজনক হলেও বলছি, ঝর্না এরিয়া ভারতে হওয়াতে আমাদের সেখানে যাওয়া নিষেধ।

যাদুকাটা নদী-
বারিক্কা টিলা থেকেই নদীর সৌন্দয্য উপভোগ করা যায়। এখানেও ট্রলারে করে নদী পার হতে পারবেন ও ঘুরাঘুরি করতে পারবেন।

লাকমাছড়া-
পাহাড়ের বুক চিরে নেমে আসা পানিতে জেলেদের মাছ ধরার অভিনব পন্থা দেখতে পাবেন সেখানে।

রাজাই ঝর্ণা
সাময়িক সমস্যার কারনে রাজাই ঝর্নার খুব নিকট থেকে শুধু ঝর্নার কলকল ধ্বনি শুনে চলে আসতে হল আমাদের।ঝর্না দেখার সৌভাগ্য হয়ে উঠনি।

পাহাড়, হাওর, বন, ঝর্ণা, টিলা, বাগান এবং নদী সব যে জায়গায় মিশে একাকার তার নাম সুনামগঞ্জ, সুনামগঞ্জ হচ্ছে সিলেট বিভাগ এর সবচেয়ে আকর্ষণীয় জায়গা।দিন দিন সেখানে পর্যটকের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

যেভাবে যাবেন:
ঢাকা থেকে বাস-এ করে সুনামগঞ্জ ।
সকালে সিনজি রিজার্ভ করে তাহিরপুর, চাইলে লেগুনা বা মোটর সাইকেলে করেও আসা যায়, তাহিরপুর যাওয়ার মাঝপথে শাপলা বিল আছে, চাইলে কিছু ক্লিক করে নিতে পারেন একদম ফ্রিতে, তাহিরপুর এসে ট্রলার ভাড়া করে নিতে হবে (অবশ্যই দামাদামি করে নিবেন), ছুটির দিনগুলোতে ভাড়া একটু বেশি থাকে, এরপর পুলিশ স্টেশন গিয়ে নাম ঠিকানা এন্ট্রি করে নিবেন আর অবশ্যই ইনচার্জ এর মোবাইল নম্বর নিয়ে আসবেন, বিপদে কাজে লাগতে পারে।

ট্রলারে উঠে এক ঘন্টা হাওর এর সৌন্দর্য উপভোগ করতে করতে পৌঁছে যাবেন ওয়াচটাওয়ার। ওয়াচটাওয়ার থেকে ছোট ছোট বাচ্চাদের নৌকায় চারপাশ ঘুরে দেখবেন আর অবাক হবেন সাথে গান শুনবেন ফ্রি, সাঁতার জানলে নীলাভ এই পানিতে গোসল করার লোভ সামলাতে পারবেন না, সাঁতার না জানলে ৫০ টাকা ভাড়ায় লাইফ জ্যাকেট নিয়ে পানিতে নেমে পড়ুন ….

সেখান থেকে চলে আসুন ট্যাকেরহাট। সেখানেই ট্রলারে রাত্রি যাপন করবেন আর রাতে হাওরের নযনাভিরাম দৃশ্য দেখবেন। ট্যাকেরঘাট থেকে মোটরসাইকেল অথবা অটোরিক্সা (অবশ্যই দামাদামি করে নিবেন) করে ঘুরে আসবেন নীলাদ্রি লেক, বারিক্কা টিলা, যাদুকাটা নদী,রাজাই ঝর্ণা, লাকমা ছড়া এবং শিমুল বাগান (বাগানে এখন ফুল নাই)। একেকটা জায়গার সোন্দর্য একেকরকম যা কোনো ভাবেই ভাষায় প্রকাশ করার মতো না।

খরচ: (জনপ্রতি)
ঢাকা-সুনামগঞ্জ -৫৫০/-
সুনামগঞ্জ থেকে তাহিরপুর সিএনজি – ১০০ ট্রলার ভাড়া -১০,০০০/- (ঈদের সময় বলে একটু বেশি নিছে)
মোটরসাইকেল – ২০০ টাকা
তাহিরপুর থেকে সুনামগঞ্জ-১০০/-
সুনামগঞ্জ থেকে ঢাকা – ৫৫০/-
[[খাওয়াদাওয়া যার যেমন]]
আমাদের ১০ জনের টীম এ জনপ্রতি খরচ হয়েছে ২৭০০ টাকার মতো ।

বি: দ্র: এ দেশটা আমার আপনার সবার, এই দেশের সৌন্দর্য রক্ষা করার দায়িত্বও আমাদের। দয়া করে পানির বোতল, বিস্কুট, কেক এর প্যাকেট এবং অন্যান্য আবর্জনা দিয়ে হাওরের পানি নষ্ট করবেন না ।

Source:  BM Shakil <Travelers of Bangladesh (ToB)

 

21 Aug 2019

আমাদের মত ছোটখাটো চাকরিজীবীদের জন্য আসলে দুই ঈদের ছুটি ছাড়া বড় কোন ছুটি আমারা আশা করতে পারি না। রোজার ঈদে ইচ্ছা ছিলো কিন্তু কিছু সমস্যার কারনে হয়ে উঠে নাই। তাই কোরবানীর ঈদটাকেই বেঁছে নিয়েছিলাম আন্দামান ভ্রমনের জন্য। যদিও এই সময়টা আন্দামান ভ্রমনের জন্য সঠিক সময় না অনেকেই বলেছিলো, তবুও দিলাম। এই সময় গুলোতে আসলে বৃষ্টি-পাত হতে থাকে কোন কারন ছাড়া। মুভ করা একটু কষ্টকর হয় অনেক সময়। যেহেতু সিঙ্গেল মানুষ তাই খুব একটা গায়ে মাখি নাই কয়েকটা জিনিষ মাথায় রেখে আসলে অফ সিজনে এই ট্রিপটা লাগালাম।
১। ট্যুরিস্ট কম হবে।
২। কম খরচায় এদিক ওদিক ঘুরাঘুরি করা যাবে।
৩। ডিস্কাউন্টে মন মত হোটেল পাওয়া যাবে।
যেহেতু এটা একটা সোলো ট্যুর ছিলো তাই হয়ত মনে হতে পারে খরচ মনে হয় একটু বেশী। কিন্তু হেডস বেশী হলে অনেক কিছুই কমে যাবে শুধু এয়ার টিকেট ছাড়া।
আমার সর্বসাকুল্যে খরচ হয়েছিলো ৪ দিন/ ৪ রাতের জন্য ১৪,০০০ হাজার টাকার মত (এয়ার খরচ ও শপিং ছাড়া)
এয়ারে টিকেট কেটেছিলাম ১৮,৫০০ টাকায় (ঢাকা টু কোলকাতা টু পোর্ট ব্লেয়ার আসা-যাওয়া। আরো কমেও সম্ভব)
যে জায়গা গুলোতে আমি গিয়েছিলাম~
~চিরিয়াটাপু বিচ
~ওয়ান্দুর বিচ
~কর্বিন কোভ বিচ
~সেলুলার জেল
~ভাইপার আইল্যান্ড
~নর্থ বে আইল্যান্ড
~রস আইল্যান্ড

প্রথম দিনঃ
ঢাকা থেকে কোলকাতা পৌছালাম রাত ৮.৩০ এর দিকে। খুব একটা ঝামেলা হয় না ইমিগ্রেশনে। একপর ৯ ঘন্টার এর বিরতি। একটা টেক্সি নিয়ে একটু কোলকাতা শহর চক্কর দিলাম। খাওয়া দাওয়া করলাম সিটি সেন্টারে জাস্ট সময় পার করার জন্য।

দ্বিতীয় দিনঃ
সকাল ৭.৩৫ এর ফ্লাইট কোলকাতা থেকে পোর্ট ব্লেয়ারে। ৯.৩৫ এর পৌছে গেলাম। বলা বাহুল্য ইন্ডিগো এয়ারে কিন্তু ফ্রি খাবার দেয় না। খাবারের দাম একটু বেশী। তাও বেটার আপনি খেয়ে নিয়ে অথবা নামার পরও খেয়ে নিতে পারেন। নেমেই টেক্সি নিয়ে গেলাম পরের দিনের হ্যাভলক আর নীল আইল্যান্ডের টিকেট কাটার জন্য। কিন্তু দুঃখজনক গিয়ে টিকেট পেলাম না। গিয়ে দেখি জাহাজ অনেক গুলা বন্ধ যেহেতু অফ সিজন। তাই টিকেট স্বল্পতা ছিলো। যাওয়ার টিকেট পেলেও ফিরে আসার টিকেট ম্যানেজ করতে পারিনি। তাই রিস্ক আর নেই নাই, যেহেতু আমার ফেরার টিকেট কাটা ছিলো। মিস হয়ে গেলে সর্বনাস। সাধারনত এসব আইল্যান্ড গুলাতে যাওয়ার টিকেট ৩-১০ দিন আগে কেটে নেয়া ভালো যদি পিক সিজন হয়। অফ পিকে অবশ্য এরকম হাওয়ার কথা ছিলো না। কিন্তু জাহাজের মেইন্টেনেন্সের কাজের কারনে অলমোস্ট সব গুলা জাহাজই বন্ধ। তাই জাহাজে যাত্রীদের চাপ বেশী ছিলো। যাই হোক কিছু করার নাই। কয়েকটা হোটেল দেখে আবেরদিন বাজারে মোটামুটি খুব ভালো একটা হোটেল পেয়ে গেলাম মাত্র ২২৫০ রুপিতে। বলা বাহুল্য পোর্ট ব্লেয়ারে সবাই কম বেশি এই বাজারেই উঠে। এইখানে আসলে সব কিছুই একটু হাতের নাগালে। তাই সুবিধা। চেক-ইন করে দুপুরের খাবার ওর্ডার করে দিলাম। খেয়ে হাল্কা ভাত ঘুম দিলাম। সন্ধায় আর তেমন কোথাও যাই নাই। পাসেই একটা বিচ আছে নাম করবিন কোভ বিচ। সেখানে গেলাম, তারপর একটা ভিউ পয়েন্ট আছে। তারপর হাল্কা সিটি টা দেখে ডিনার সেরে ঘুমিয়ে পরলাম। ৮.৩০-৯.০০টার পর আসলে এখানে করার মত কিছু থাকে না।

তৃতীয় দিনঃ
খুব সকালে ঘুম থেকে উঠেই চলে গেলাম জংলিঘাটে। সেখান থেকে দুইটা আইল্যান্ডে যাব আজকে। একটা ভাইপার আইল্যান্ড এবং আরেকটা নর্থ বে। ৭৫০ রুপি নিল যাওয়া আসার জন্য। সময় লাগলো সব মিলিয়ে ৪.৩০ ঘন্টার মত। নর্থ বে ১.৫০ এর মত স্টে করেছিলো। এখানে যারা সি-ওয়াকিং(৩৫০০ রুপি) কিংবা স্নোরক্লিং(৭০০ রুপি) করতে চায় করতে পারে। আমি এগুলা আগে করেছিলাম তাই ইচ্ছা ছিলো না। ১.৩০ এর দিকে চলে এসেছিলাম। আসার সময় প্রচন্ড বৃষ্টি ছিলো। কিছুটা বিলম্ব হয়েছিলো আমাদের। তারপর একটা অটো ধরে আবার হোটেল। এসে খাওয়া দাওয়া করলাম। সন্ধ্যায় একটু বের হয়ে ঘুরাঘুরি করে অইদিনের এক্টিভিটিস শেষ করলাম।

চতুর্থ দিনঃ
অনেক বৃষ্টি থাকার কারনে সকালে বের হতে পারি নাই। দুপুরের দিকে সেলুলার জেল টা ঘুরে এসেছিলাম। ভালোই লেগেছে। ইন্ডিয়ানদের জন্য ৩০ রুপি আর ফরেইনারদের জন্য ১০০ রুপি। বিকালে লাইট শো আছে। আমার খুব একটা ইচ্ছা জাগে নাই। তাই আর দেখি নাই। সেলুলার জেলের বিস্তারিত ইতিহাস জানতে ~ https://cutt.ly/qwdkH8P

পঞ্চম দিনঃ
খুব সকালে উঠে চলে গেলাম মেরিনা বে তে। ওইখান থেকে বোটে ৩৫০ রুপিতে (আসাযাওয়া) চলে গেলাম রস আইল্যান্ডে। যদিও এর নাম পরিবর্তন হয়ে এখন হয়েছে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু দ্বীপ। দ্বীপের ভিতরে প্রবেশ করতে আরো লাগবে ৩০ রুপি। চমৎকার একটা দ্বিপ। অনেক ইতিহাস ধারন করে এই দ্বিপ। বিস্তারিত ~ https://cutt.ly/0wdkVqH দুপুরের দিকে ফিরে হাল্কা রেস্ট নিয়ে ৩৫ কিলোমিটার দূরে দুইটা বিচ আছে। একটার নাম চিরিয়াটাপু আর আরেকটা ওয়ান্দুর বিচ। ২০০০ রুপির বিনিময়ে ঘুরে এলাম। ভালোই কাটলো সন্ধ্যাটা। হোটেলে ফিরে ব্যাগ গুছালাম কারন পরেরদিন সকাল ১০.৩০ এ ফ্লাইট।

ষষ্ঠ দিনঃ
কাছেই এয়ারপোর্ট। ১০.৩০ এর ফ্লাইট ধরে কোলকাতা। ৪ ঘন্টার ট্রানজিটে হাল্কা পাতলা কেনাকাটা করলাম পাসের বিগবাজার আর সিটি সেন্টার থেকে। তারপর বিকাল ৪.৫০ এর ফ্লাইট ধরে বাংলাদেশ।
পুরো ট্রিপে আমার সাথে ছিলো একজন ট্যাক্সি ড্রাইভার আর একজন অটো ড্রাইভার। এরাই মূলত আমাকে সব জায়গায় নিয়ে গিয়েছিলো। সিটির কাছাকাছি জেগুলা সেইগুলার জন্য অটো বেটার। দূর পাল্লার জন্য টেক্সি। ভবিষ্যতে কোন ধরনের বুকিং টুকিং এর জন্য এদের সহযোগিতা নেয়া যেতে পারে যদি কেও চান ~
টেক্সি ড্রাইভার এরান্না- +৯১৯৯৩৩২৯৭৭০৮
অটো ড্রাইভার পিন্টু- +৯১৯৯৩৩২২৭৩৯১
লাঞ্চ-ডিনারে আমার এভারেজ ২৫০-৪০০ টাকা খরচ হয়েছিলো।
হোটেল- গুরু ইন্টারন্যাশনাল +৯১৯৯৩৩২০৮৪৮৯

আরো বিস্তারিত জানার থাকলে জিজ্ঞাসা করে জেনে নিতে পারেন।

বি:দ্রঃ
~ যেখানে সেখানে ময়লা ফেলা টাইপ এর মানুষ হলে এই জায়গাগুলো এভয়েড করুন।
~ জন সম্মুখে থুথু ফেলা থেকে বিরত থাকুন।
~ খোলা জায়গায় ধূমপান করা থেকে বিরত থাকুন।

Source: Duke Anam <Travelers of Bangladesh (ToB)

18 Aug 2019

* ‌ভিসাঃ অনু‌মো‌দিত এ‌জে‌ন্সি মারফত ৪ হাজার টাকায় ৭ কর্ম দিব‌সে প্র‌য়োজনীয় সব ডকু‌মেন্ট দি‌য়ে ভিসা করাই।

‌* টি‌কিটঃ টিও‌বি‌তে পুর্ব প‌রি‌চিত এক ভাই‌য়ের মারফত ভ্রম‌নের ৩ দিন আ‌গে ১৫,৫০০ টাকায় এয়ার টি‌কিট কা‌টি।

* ই‌মি‌গেশনঃ সিঙ্গাপুর ই‌মি‌গেশ‌নের লাই‌নে দাড়া‌লে ই‌মি‌গেশ‌নের এক অ‌ফিসার আমা‌কে ডে‌কে নেয়। আ‌মি পাস‌পোর্ট তার কা‌ছে দি‌লে আমা‌কে জিঞ্জাসা কর‌লেন দে‌শে কি ক‌রি,তখন আমার এনও‌সি দেখালাম,‌হো‌টেল বু‌কিংও দেখালাম। তারপর বল‌লেন কত‌দিন থাকব তখন রিটার্ন টি‌কিটটা তার হা‌তে দিলাম। উ‌নি দে‌খে বল‌লেন মালয়‌শিয়া কি বা‌সে যা‌বেন? আ‌মি বললাম হ্যা। আর আপ‌নি কি একা এ‌সে‌ছেন? এটা কি আপনার ফাষ্ট টাইম সিঙ্গাপু‌রে আসা? ততক্ষ‌নে পাস‌পো‌র্টে সিল মে‌রে ফিঙ্গার প্রিন্ট নি‌য়ে পাস‌পোর্ট হা‌তে ধ‌রি‌য়ে দি‌লেন। কোন রকম ঝা‌মেলাই মনে হই‌নি। সব প্রশ্ন গু‌লো ছিল অত্যন্ত মা‌র্জিত।

‌* হো‌টেল চেক ইনঃ আ‌মি এয়ার পোর্ট হ‌তে বের হ‌য়ে টে‌ক্সির ভাড়া আনুমা‌নিক ২৫ ডলার হ‌তে পা‌রে বিধায় T1 হ‌তে ফ্রি বা‌সে T2 তে চ‌লে গেলাম। MRT ডি‌রেকশন দে‌খে ক‌ম্পিউটা‌রে টি‌কিট কে‌টে Bugis ষ্টেশ‌নে নে‌মে বা‌কিটা পা‌য়ে হে‌টে হো‌টে‌লে চ‌লে গেলাম। আমার হো‌টেল ছিল শাহী সুলতান মস‌জি‌দের পা‌শে। পৌছা‌য়ে ওখা‌নে হালাল খাবা‌রের দোকান হ‌তে নাস্তা করলাম। হো‌টে‌লের নাম ছিল Breeze in. ভাড়া‌ ছিল ৩ রা‌তের জন্য ১০১ ডলার।

* যাতায়াতঃ আ‌মি সব জায়গায় MRT ক‌রে গি‌য়ে‌ছি। MRT এর এপস ডাউন লোড করে নি‌য়ে‌ছিলাম। ১২ ডলার দি‌য়ে কার্ড ক‌রে নেই এবং প‌রে ১০ ডলার রিচার্জ ক‌রি। মোট ২২ ডলার রিচার্জ ক‌রি। অর্থ্যাৎ ১,৩১৭ টাকায় পু‌রো সিঙ্গাপুর ভ্রমন কম‌প্লিট।

* খাওয়া দাওয়াঃ আ‌মি বে‌শির ভাগ সম‌য়ে মোস্তফা সেন্টা‌রের পা‌শে বাঙ্গালী হো‌টেল হ‌তে খে‌য়ে‌ছি। প্র‌তি বেলায় ১০ ডলা‌রে খাওয়া সম্ভব।

‌* ঘোরা‌ফেরাঃ ১ম দিন Marina bay,Marlion Park,Marina Garden,Flayer এগু‌লো হে‌টে হে‌টে সব দে‌খি। সা‌থে রা‌তের সৌন্দর্য্যও উপ‌ভোগ ক‌রি। এগু‌লোই মুলত সিঙ্গাপু‌রের মুল আকর্ষন। বর্ননা ক‌রে ভাষায় বোঝা‌নো সম্ভব না।
২য় দিন Santosa যাই। সান‌তোসার সব জায়গা ঘু‌রে বি‌চে গোসল ক‌রি। ৩য় দিন লিটল ই‌ন্ডিয়া,চায়না টাউন,‌মোস্তফা সেন্টার এবং Changi এয়ার‌পো‌র্টের নতুন যে টা‌র্মিনাল হ‌য়ে‌ছে T5 সেটা দেখার জন্য যাই। বিকাল থেকে রাত অব‌ধি ওখা‌নেই ছিলাম। প্র‌তি‌দিন হাজার হাজার মানুষ এটা দেখার জন্য আ‌সে। এটার সৌন্দর্য্য ব‌লে বোঝা‌নোর মত নয়। গত মার্চ মাস হ‌তে এটা উ‌দ্বোধন করা হ‌য়ে‌ছে। যারা সিঙ্গাপুর যা‌বেন এটা মিস না করার অনু‌রোধ রইল। এ রকম সৌন্দর্য্য পুর্ন এয়ার‌পোর্ট বি‌শ্বে আ‌ছে ব‌লে আমার জানা নেই।
‌সিঙ্গাপুর ভ্রমন শেষ ক‌রে মালয়‌শিয়া চ‌লে যাই।

* খরচাপা‌তিঃ সিঙ্গাপুর ভ্রম‌নে টি‌কিট ও ভিসা বা‌দে হো‌টেল ভাড়াসহ মোট ১৩ হাজা‌রের মত খরচ হ‌য়ে‌ছিল।

‌সিঙ্গাপুর নি‌য়ে আরেকটা প‌র্বে প্র‌তিটা স্প‌টে কম খর‌চে সহ‌জে কিভা‌বে যাওয়া যা‌বে সেটা নি‌য়ে লিখব। আর প্র‌য়োজনীয় অন্য যে‌কোন তথ্যও জানা‌নোর চেষ্টা করব।

* ‌বিঃদ্রঃ সিঙ্গাপুর বি‌শ্বের ম‌ধ্যে এক নম্বর প‌রিচ্ছন্ন শহর। এখা‌নে নিয়ম কানুন অত্যন্ত কড়া। যেখা‌নে সেখা‌নে ময়লা ফেলা বা সিগা‌রেট খাওয়া দন্ডনীয় অপরাধ। সুতরাং আমরা ময়লা ফেল‌তে ডাষ্ট‌বিন ব্যবহার করব।

Source: SM Faruqe Hosain <Travelers of Bangladesh (ToB)

 

18 Aug 2019

প্রথমে সদরঘাট থেকে কাকচিরার লঞ্চে উঠবেন ভাড়া কেবিন নিলে ১৫০০টাকা, কেবিন নিলে কয়েকজন মিলে গেলে ভাড়াটা কম পড়বে। কেবিন ছাড়াও যাওয়া যায়। লঞ্চ ছাড়ে বিকাল ৪ টা থেকে, তাই বিকালেই রওনা করতে হবে। পৌছাবে পরেরদিন খুব সকালে ৪/৫ টার দিকে।

কাকচিরা ঘাট থেকে অটো করে চলে যাবেন পাথরঘাটা, ভাড়া নিবে ৪০/৫০টাকা।
সেখানে গিয়ে সকালের নাশতা টা সেরে ফেলতে পারবেন, ২০/৩০ টাকায়। সেখানে হোটেল আছে চাইলে ফ্রেশ হতে পারবেন।
তারপর হরিনঘাটার উদ্দেশ্যে রওনা দিবেন, আটো রিক্সা ভাড়া নিবে ১০০টাকা, সময় লাগবে ৩০/৪০ মিনিট। সেখানে পাবেন কাঠের ব্রিজ এবং ব্রিজটা সোজা সমুদ্রে চলে যায়। ভাগ্য ভালো থাকলে হরিন দেখতে পাবেন।
আমরা ট্রলার দিয়ে সমুদ্রে গিয়েছি কারন ব্রিজ দিয়ে গেলে বেশি সময় লাগতো + ব্রিজটার কিছু জায়গায় ভাঙা চিল। ট্রলার টা বেশ বড় চিল, ভাড়া ৪০০ ছিল (যাওয়া +আসার) সেখানে available ট্রলার পাবেন।
১০.৩০/১১ টার মধ্যে ঘুরাঘুরি শেষ করে বালেশ্বর নদীর উদ্দেশ্য রওনা দিবেন সেখানে ভাড়া লাগবে ১৫০টাকা
সেখানে ঘুরাঘুরি শেষ করে আবার পাথরঘাটা বাজারে চলে আসবেন। দুপুরের খাবার এখানের কোনো হোটেলে সেরে নিতে হবে।
তারপর চলে আসবেন কালমেঘা বাজার এ অটো ভাড়া ৩০/৪০ টাকা।
বিকালে নদীর পাড়টা অনেক বেশি সুন্দর হয়ে যায়। চাইলে নৌকাতে ও উঠতে পারবেন। কালমেঘা নদীর পাড়ে বিকেলে এবং সন্ধ্যায় সবচেয়ে সুন্দর দৃশ্য দেখতে পাবেন! আর এই নদীর নাম বিষখালী নদী। তারপর আবার চলে আসবেন কাকচিরা লঞ্চঘাটে।
লঞ্চ ছাড়ার সময় বিকাল ৪.৩০ মিন থেকে শুরু হয়।

বিঃ দ্রঃ পরিবেশের ক্ষতি হয় এমন কোন কিছু করবেন না, স্থানীয় মানুষদের সম্মান দিন, তাদের সাথে মিশুন, এলাকার ইতিহাস জানুন। আর যত্রতত্র ময়লা ফেলে আসবেন না। ঘুরেন দায়িত্ববোধের সাথে।

Source: Lamia Hasan‎ <Travelers of Bangladesh (ToB)

5 Aug 2019

আমি ময়মনসিংহ থেকে গিয়েছিলাম।
ময়মনসিংহ থেকে কিশোরগঞ্জ গাইটাল বাসস্ট্যান্ড, বাস ভাড়া ৮০/-১২০/- ক্ষেত্রবিশেষে।

বাসস্ট্যান্ড থেকে বটতলা,
রিকশা/অটোতে করে, ভাড়া ২০/-

বটতলা থেকে একটু এগোলেই ওয়াচ টাওয়ার, ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদ, গুরুদয়াল কলেজ দেখা যাবে। আমরা দাঁড়াইনি। দেখতে দেখতে রাজবাড়ী চলে গেছি। গাঙ্গাটিয়া মানববাবুর জমিদার বাড়ি।
রিকশা/অটোতে যাবেন, ৩০০/-
তবে এই জমিদার বাড়িটুকু চাইলে স্কীপ করতে পারেন। আমার কাছে ভালো লাগে নি। আবার সময় নষ্টও মনে হয়েছে। এই সময়ে শহর ঘুরলেও ভালো লাগতো।

কিশোরগঞ্জ শহরটা খুউবি সুন্দর। গোছানো শহর, রাস্তাঘাটও এত ভালো, এত ভালো, মুগ্ধ হয়ে যাবার মত। ভি আই পি এলাকা বলেই হয়তো।

যাই হোক, জমিদার বাড়ি থেকে আবার রিকশায় করে সোজা চলে আসবেন একরামপুর। একরামপুর ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দান।
৩০/- থেকে ৫০/- নিবে।

এখান থেকে সিএনজি স্ট্যান্ড যাবেন ২০/- টাকায়। সেখান থেকে চামড়া বন্দর। চামড়া বন্দর থেকে নৌকা/ট্রলার নিয়েছিলাম ৮০/- থেকে ১০০/- টাকায়।
বালিখোলা যাই। এখানেই বালিখোলা হাইওয়েটা পাবেন, যেটা হাওড়ের মাঝ দিয়ে চলে গেসে।

বালিখোলা থেকে ৮০/- টাকা ভাড়ায় আরেকটা ট্রলারে করে বুসাকান্দা যাই, বুসাকান্দা থেকে মরিচখালী। মরিচখালী নেমে মরিচখালী বাজার যাই রিকশায় ২০/- টাকায়। সেখান থেকে সিএনজিতে নিকলী উপজেলা পরিষদ। ২০০/- টাকা ভাড়া নেয়।
সেখান থেকে বেড়িবাঁধ বললেই নিয়ে যাবে।
একদম শেষ পর্যন্ত যাবেন।

আমরা দুইজন গিয়েছিলাম বলে একটু কম্প্রোমাইজ করে চলতে হয়েছে। এই যেমন, নিজেরা আলাদা ট্রলার ভাড়া করিনি। একটা যাত্রীবাহী ট্রলারে উঠে পড়েছিলাম। ওরা এই গ্রাম ওই গ্রাম, এই বাজার সেই বাজার ঘুরতে ঘুরতে গেসে, আমরাও সেসব দেখতে দেখতেই গেসি। তবে আমার কাছে ব্যক্তিগতভাবে ভালোই লেগেছে ব্যাপারটা। নদীর পাড়ের জীবনযাত্রা দেখবার সুযোগ হয়েছে। ছেলেবেলায় গল্প শুনতাম আগে নাকি বাড়িতে বাড়িতে একটা করে নৌকা থাকতো। নৌকায় করেই তারা সবসময় আসা-যাওয়া করতো। সেটা নিজ চোখে দেখলাম।
ভালোই লাগছিল পুরোটা সময়।

সারাদিন ট্রলারে ট্রলারে ঘুরেছি বলে বেড়িবাঁধে গিয়ে আর পানিতে নামিনি। চোখের দেখাই দেখে এসেছি।
ইচ্ছে আছে পরেরবার গেলে সেখানেও নামবো, আর ওইপাড়ে রাষ্ট্রপতির বাড়ি থেকেও ঘুরে আসবো।

আমার মত যাদের ঘুরবার সঙ্গী সাথী নাই, কোনোরকমে একজন দুইজন ম্যানেজ করেই বেরিয়ে পড়েন, এটা তাদের জন্য।
গ্রুপ করে গেলে এত ভেঙ্গে না গেলেও চলবে।
সেক্ষেত্রে কিশোরগঞ্জ শহরে নেমেই সিএনজি নিয়ে সোজা চলে যেতে পারেন নিকলী। (আমরা এভাবেই ফিরে আসছি।) সহজও হল, সময়ও বাঁচলো। আবার অনেক মানুষ থাকলে একটা ট্রলার নিয়ে নিলেন। ইচ্ছেমত ঘুরতে পারলেন।
এই আর কি! ☺

তবে ঘুরতে গিয়ে নিজেদের এবং সুন্দর পৃথিবীর কথা চিন্তা করে আমরা যেন যত্রতত্র ময়লা না ফেলি। বিশেষ করে প্লাস্টিক এবং বোতল। সুন্দরকে দেখতে গিয়ে সুন্দরকে যেন নষ্ট না করে ফেলি।
এ ব্যাপারে সবাই একটু খেয়াল রাখি।

সবার ভ্রমণ সুন্দর হোক।
ধন্যবাদ।

Source:  Sumaiya Tabassum‎<Travelers of Bangladesh (ToB)

5 Aug 2019

বিরুলিয়া জমিদার বাড়ীটিতে বাস করতেন রজনীকান্ত ঘোষ। তিনি ছিলেন বিরুলিয়ার বিখ্যাত জমিদার। সুরম্য বাড়ি তার। প্রতি বৈশাখী ও দুর্গাপূজায় দশমী মেলা বসাতেন নিজ বাড়ির আঙিনায়। তবে বাড়ির আঙিনায় না হলেও পাশেই মন্দিরে দূড়গাপূজা এখনো হয়। তবে শোনা যায় জমিদার নলিনী মোহন সাহার কাছ থেকে রজনীকান্ত ঘোষ ৮৯৬০ টাকা ৪ আনি দিয়ে বাড়িটি ক্রয় করেছিলেন।

তুরাগ নদীর সাথেই ছোট গ্রাম বিরুলীয়া৷ এখন সেখানে যেদিকেই তাকাবেন পানি আর পানি। ছোট ছোট নৌকা ভেসে বেড়াচ্ছে। আগে যখন বিরুলিয়া ব্রিজ ছিল না তখন নৌকা করে যেতে হত এই বিরুলিয়া গ্রামে। এখানে অনেক পুরনো একটি বট গাছ রয়েছে। পানির কারণে আমরা যেতে পারিনি। সামনে একটু এগুলেই পরবে গোলাপ বাগান। তবে এখন সেখানে গোলাপ পাবেন না। বর্ষা শেষে শীতে গেলে তখন দেখবেন চারিদিকে গোলাপ আর গোলাপ। তবে তুরাগ নদীর সৌন্দর্য আর বিরুলিয়া জমিদার বাড়ি অল্প খরচে আপনারা চাইলে কোন এক শুক্রবার ঘুরে আসতে পারেন।

কিভাবে যাবেন :
ঢাকার যেকোন প্রান্ত থেকে চলে আসুন মিরপুর ১। মিরপুর ১ এসে মাজারের সামনেই আলিফ বাস ছাড়ে। তাছাড়া লেগুনা করেও যেতে পারেন। ভাড়া পরবে ২০ টাকা। বিরুলিয়া ব্রিজের সামনে নেমে ব্রিজ পার হলেই দেখবেন বাম পাশে ছোট একটি গ্রাম। হেটে যেতে ১০/১৫ মিনিট লাগবে জমিদার বাড়ি পৌঁছাতে।

আপনারা যেখানেই ঘুরতে জান না কেন দয়া করে পরিবেশ নোংরা করবেন না। আমরা জমিদার বাড়িতে বেশ কিছু বিরানির পেকেট পেয়েছিলাম। ওগুলো নির্দিষ্ট স্থানে ফেলে দিয়ে আসছি। আপনারা বিষয়গুলো একটু খেয়াল করবেন। আর দেওয়ালে কিছু লেখা থেকে বিরত থাকুন।
Source: উইলিয়াম ক্লাইভ কুইয়া উইলি‎<Travelers of Bangladesh (ToB)

3 Aug 2019

শরতের এই বিকেলগুলো বিলে ঘুরতে যাওয়ার জন্য পারফেক্ট সময়, রোদ বৃষ্টি আর মেঘের খেলা দেখতে দেখতে কাটিয়ে দিতে পারেন চমৎকার একটা দিন।

সকাল ৯ টার দিকে (মিরপুর থেকে স্বাধীন, গুলিস্তান বা পোস্তগোলা থেকে গাংচিল/ভাগ্যকুল/আরাম) মাওয়াগামী যে কোন বাসে উঠে পরবেন। ১১:০০টার আগেই মাওয়াঘাটে পৌছে যাবেন।

মাওয়া ঘাট থেকে স্পিডবোটে করে পদ্মা নদী ঘুরে আসতে পারেন, পদ্মা সেতুর পাইলিং-এর কাজ চলছে সেগুলো ঘুরে আসা যায় মাত্র ২০+২০=৪০ মিনিটে। তবে স্পিডবোট নিয়ে চিন্তার কোন বিষয় নাই কারন স্পিডবোটে সবাইকেই লাইফ জ্যাকেট দেওয়া হবে, সাঁতার জানুন বা না জানুন অবশ্যই লাইফ জ্যাকেট পড়ে নিবেন। আপনি চাইলে আরো আগে বের হয়ে ডাইরেক্ট “পদ্মা রিসোর্টে”ও ঘুরে আসতে পারেন।।

ঘোরাঘুরিরর পর ১:০০/১:৩০টার দিকে সরাসরি খাবার হোটেলে চলে যাবেন, নিজেরাই ইলিশ পছন্দ করে ভাজতে দিয়ে হোটেলে বসে পড়ুন। একটু পরেই চলে আসবে গরম ভাত, লেজ+ডিম ভর্তা, বেগুন ভাজি, ইলিশ ভর্তা,আলুভর্তা আর সেই বিখ্যাত পদ্মার ইলিশ।।

খাবার পরিবেশনের পর এবার ট্যুরের সবচেয়ে আকর্ষণীয় স্থান “আরিয়াল বিল”-এর উদ্দেশ্যে ২:০০টার মধ্যেই রওনা হয়ে যান।

মাওয়া থেকে গাদিঘাট আপনি দুইটা ওয়েতে যেতে পারবেন। এক হচ্ছে, মাওয়া থেকে বাস/লেগুনা দিয়ে শ্রীনগর-বেজগাও নামার পর অটোরিকশা দিয়ে শ্রীনগর বাজার অথবা ডাইরেক্ট গাদিঘাটের জন্য অটো ঠিক করতে পারেন। আর দুই, মাওয়া থেকে সরাসরি একটা অটোরিকশা নিয়ে গাদিঘাট চলে যেতে পারেন। যেহেতু অটোরিকশা হাইওয়ে দিয়ে চলেনা,তাই গ্রামের ভেতর দিয়ে দিয়ে গাদিঘাট যাওয়াটাও একটা বোনাস এক্সপেরিয়েন্স হিসেবে যোগ হবে।।

ঢাকা থেকে আপনি চাইলে শুধু “আরিয়াল-বিল”-এর উদেশ্যে একটি বেলা কাটাতে চলে যেতে পারেন। সেক্ষেত্রে বাস থেকে বেজগাও নামবেন অথবা শ্রীনগর বাসস্ট্যান্ডে নেমে শ্রীনগর ভেজবাজার দিয়েও যেতে পারেন। তবে বেজগাঁও নামাই সুবিধাজনক কারন
বেজগাঁও নামলেই অটোরিকশা-রিকশা-লেগুনা দাঁড়িয়ে থাকতে দেখবেন।।

অটোরিকশায় গাদিঘাট যাওয়ার পথেই “শ্যামসিদ্ধির মঠ” পড়বে। অটো সাইড করে রেখে ১৫ মিনিটের জন্য ঘুরে নিতে পারেন মঠের আশপাশ। ঐতিহাসিক দিক থেকে অনেক সমৃদ্ধ এই মঠ, উপমহাদেশেরই সবচেয়ে উঁচু মঠ এটা, গুগুল করলে এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারবেন। তবে কালক্রমে মঠের যায়গা অনেক সংকির্ণ হয়ে পরেছে। লোকে মুখে জানলাম, হেলেকপ্টার দিয়ে নাকি এখান থেকে শক্তিশালী মহা মুল্যবান ম্যাগনেটটি নিয়ে গেছে।।

এখান থেকে অটোতে আরো প্রায় দশ-পনেরো মিনিট পর পৌঁছে যাবেন গাদিঘাটে, মেইনলি এখানেই বোট ভাড়া করতে হবে।।

ওখানে নেমে হালকা খাবার দাবার,পানি,কোল্ড ড্রিংকস কিনে নিবেন নৌকায় খাওয়ার জন্য।
একটা ট্রলার ভাড়া করতে পারেন ঘন্টা ৪০০ টাকা রেটে তিন ঘন্টার জন্য। অথবা ২/৩ জনের জন্য অনেক ছোট ছোট নৌকা পাওয়া যাবে।।

প্রথমে কিছুক্ষণ খুবই নরমালই মনে হইলেও একটু পরই বুঝবেন আড়িয়াল বিলেন আসল সৌন্দর্য, ঠান্ডা বাতাসের সাথে পরিষ্কার পানিতে পা ভিজিয়ে চলার আনন্দ অবর্ণনীয়। আপনারা আপনাদের ইচ্ছামত বোটের ইঞ্জিন থামিয়ে আপনাদের মতো করে উপভোগ করতে পারবেন। ওখানে একটা ছোটখাট চরের মতো আছে। পুরো চরটাই গাছের আড়ালে আবৃত।।

সবাই তো কম-বেশি আড়িয়াল বিলের মজার কথা শেয়ার করেছে। কিন্তু বৃষ্টির স্পর্শে বিলের পুরো সৌন্দর্য আপনাকে নতুন করে জলের প্রতি ভালবাসার জন্ম দিবে। সেই অনুভূতি বর্ণনাতীত। (নিচের ভিডিও ক্লিপে আমি তার সামান্য কিছু স্মৃতি ধারণ করার চেষ্টা করেছি মাত্র)।।

এবার আসি খরচের ব্যাপারে-
বাস ভাড়া:
১) মিরপুর ১০ থেকে বেজগাঁও- ৯০ টাকা
২) পোস্তগোলা থেকে বেজগাও- ৬০ টাকা
৩) গুলিস্তান থেকে মাওয়া- ৭০ টাকা
৪) মিরপুর থেকে মাওয়া- ১০০টাকা
** অটো রিজার্ভ (৬-৮জনের জন্য):
মাওয়া থেকে গাদিঘাট- (৩৫০-৪০০ টাকা)
বেজগাঁও থেকে গাদিঘাট- (১৫০-১৬০ টাকা)
বোটভাড়া: (ঘন্টায় ৩৫০-৫০০ টাকা)

খাবারের খরচ:
একটা মাঝারি সাইজের ইলিশ- ৫০০ টাকা
(নকল ইলিশ মাছ হইতে সাবধান)
আলু এবং বেগুন ভর্তা, লেজ+ডিম ভর্তা
(ওরা বানিয়ে দিবে)
ভাত নিবেন প্লেট হিসেবে,
গামলা/বোল হিসেবে দিতে চাইলে না করবেন।।
–সব মিলে মাওয়া ঘাটে খাওয়া দাওয়া-
পার পার্সন (১৫০-১৬০ টাকা)

এক্সটা কিছু খরচ যেমন নাস্তা+ড্রিংকস সহ
সর্বমোট- (৪৫০-৫৫০ টাকা/জন)
[গ্রুপ মেম্বারের উপর নির্ভরশীল]

বি.দ্র:
১) নৌকাতে খাওয়া দাওয়া শেষে চিপসের প্যাকেট,পলিথিন,প্লাস্টিকের বোতল সহ যাবতীয় জিনিস একটা বড় ব্যাগে রেখে ঘোরাঘুরি শেষে গাদিঘাটে এসে নির্দিষ্ট স্থানে ফেলে দিবেন।।
২) বিলের শাপলা ফুল অনেকেই তুলে নিয়ে যায় বা নষ্ট করে। তাই শাপলাফুলের পরিমাণ বেশ কম ছিল। তাই দয়া করে সবাই প্রাকৃতিক সৌন্দর্য রক্ষায় সচেষ্ট থাকবেন।।
৩) গোছল করার উদ্দেশ্য থাকুক বা নাই থাকুক একসেট জামা আর সাথে পলিথিন নিতে ভুলবেন না। রোদ/বৃষ্টির মধ্যে চাইলে ছাতাও সঙ্গে নিতে পারেন।।

Source: AB Tanvir‎ <Travelers of Bangladesh (ToB)