Archives

যাতায়াত পরিকল্পনা (Route Plan)

20 Feb 2019

অনেকের ধারণা বিদেশ ভ্রমণে অনেক অর্থের প্রয়োজন।কিন্তু বাস্তবতা এটাই যে হাতে হাতে ৮-১০০০০ টাকা থাকলে ভারতবর্ষের অনেক জায়গা দেখে আসা সম্ভব।গত ০১-০২-২০১৯ ইং তারিখে আমার দ্বিতীয় বারের মত ভারত ভ্রমণে সেই অভিজ্ঞতাটাই পাকাপোক্ত হল।
দিল্লী ভ্রমণের জন্য আপনার পাসপোর্ট ভিসা যদি রেডি থাকে তাহলে বেড়িয়ে পড়ুন যশোর বেনাপোল বর্ডারের উদ্দেশ্যে।বর্ডারে পৌঁছার সাথে সাথে দালালরা ছেকে ধরবে আপনাকে।টাকার বিনিময়ে ইমিগ্রেশন পার করে দিতে চাইবে।মনে রাখবেন এরা চরম লেভেলের বাটপার।এদের কথায় কান না দিয়ে সবকিছু নিজেই করার চেষ্টা করুন,দেখবেন খুব সুন্দর ভাবে ইমিগ্রেশন শেষ হয়ে যাবে।এক্ষেত্রে আপনার শুধুমাত্র ৫৪০ টাকা ট্রাভেল ট্যাক্স দিতে হবে।ট্রাভেল ট্যাক্স দেয়ার বুথ ইমিগ্রেশন অফিসের মধ্যেই পাবেন।

ইমিগ্রেশন শেষ করে সেখান থেকেই টাকা ভাঙিয়ে রুপী করে নিন।এরপর সেখান থেকে বের হয়েই পেয়ে যাবেন বনগাঁ যাওয়ার অটো।৩০ রূপিতে বনগাঁ যেয়ে সেখান থেকে ট্রেনে ২০ রূপিতে চলে যান শিয়ালদাহ।এর পরের কাজ হবে দিল্লী যাওয়ার টিকিট নিশ্চিত করা।টিকিট কাটার জন্য বাসে চলে যান ডালহৌসি ফেরলি প্লেসে।ফেয়ারলি প্লেস হল ইস্টার্ণ রেলওয়ের হেডঅফিস এবং ফরেনারদের জন্য ট্রেনের টিকিট বুক করার জায়গা।দিল্লী যাওয়ার নন এসি স্লিপার টিকিটের দাম ৮৮৫ রূপি।ফেয়ারলি প্লেসে পরেরদিন বিকালে দিল্লী যাওয়ার টিকিট বুক করে চলে যান বড়বাজার যাকারিয়া স্ট্রীট।যাকারিয়া স্ট্রীটে ৬০০-৮০০ টাকার মধ্যে ডাবল বেডের রুম পেয়ে যাবেন।ইচ্ছা করলে নিউমার্কেট এলাকাতেও যেতে পারবেন।তবে সেখানে রুমের রেট অনেক বেশি।১৫০০-২০০০ এর নিচে কোন রুম পাবেন না।বড়বাজার ফেয়ারলি প্লেসের কাছেই।হেটেই চলে যেতে পারবেন।রুম ঠিক করার পর এবার সিম কেনার পালা।দেখে শুনে পছন্দ মত একটি সীম কিনে সেদিনের মত রেস্ট করুন।

পরদিন সকালবেলা নাস্তা করে বেড়িয়ে পড়ুন কলকাতা শহর দেখার জন্য।কলকাতা শহর একদিনে পুরোটা দেখা সম্ভব না।তাই বেছে বেছে কিছু জায়গা দেখতে পারেন।কলকাতা ময়দানের আশে পাশে বেশকিছু জায়গা আছে দেখার মত।যা দেখতেই পুরো একদিন লেগে যাবে।এরমধ্যে আছে টিপু সুুলতান মসজিদ,সেন্ট পলস ক্যাথেড্রাল,ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল হল,ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল মিউজিয়াম সহ বেশকিছু জায়গা।গুগল ম্যাপের সাহায্য নিয়ে জায়গা গুলো দেখে ফেলতে পারেন।যাকরিয়া স্ট্রীটের পাশে মহাত্মা গান্ধী মেট্রো বা সেন্ট্রাল মেট্রো স্টেশন থেকে মাত্র ৫ রূপি টিকিটে খুব সহজেই আন্ডার গ্রাউন্ড মেট্রো রেলে চলে যেতে পারবেন ময়দান।তবে ময়দান স্টেশনে না নেমে এসপ্লানেড স্টেশনে নামলে আপনার স্পট গুলো সিরিয়ালি দেখতে সুবিধা হবে।

আপনার ট্রেন যদি হাওড়া থেকে হয় তবে সারাদিন কলকাতা শহর ঘুড়ে ট্রেনের সময়ের ১ ঘন্টা আগেই চলে আসুন হওড়া স্টেশনে।স্টেশনের পাশেই ঐতিহাসিক হওড়া ব্রিজ।ব্রিজের নিচে কিছুক্ষণ হুগলি নদীর চমৎকার আবহাওয়া উপভোগ করে রওনা দিন দিল্লীর উদ্দেশ্যে।
দিল্লীতে নেমে হোটেলের জন্য চলে যান পাহাড়গঞ্জ।এখানে পেয়ে যাবেন ৬০০-আনলিমিটেড রেটের মধ্যে হোটেল।হোটেল নেয়ার সময় অবশ্যই দরদাম করে নিবেন।শুধু হোটেলে না, দিল্লীতে রিকশা থেকে শুরু করে প্রতিটা ক্ষেত্রেই দরাদরি আবশ্যক।আপনি বাইরে থেকে এসেছেন এটা যেই বুঝবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে সেই আপনাকে ঠকাতে চাইবে।সুতরাং এদিকটা খেয়াল রাখবেন।ইচ্ছা করলে চাদনি চক এলাকাতেও হোটেল নিতে পারেন।এটা মুসলিম প্রধান এলাকা এবং হোটেল ভাড়াও অনেক কম।ও আরাকটি বিষয় হল নিউদিল্লী স্টেশনে ফরেন কোটার টিকিট পাওয়া যায়।সুতরাং এখান থেকে রিটার্ণ টিকিট নিতে ভুলবেন না।

দিল্লী এতবড় শহর যা আসলে এক সপ্তাহেও দেখে শেষ করা সম্ভব নয়।তবে একটু টেকনিক করে ঘুড়লে ৩ দিনে অনেকটাই দেখা সম্ভব।দিল্লীর মূল স্পট গুলোর মধ্যে রয়েছে জামা মসজিদ,লাল কেল্লা,পুরানা কেল্লা,কুতুব মিনার,হুমায়ুনস টোম্ব,চাদনি চক,ইন্ডিয়া গেট,আকসার ধাম,বিড়লা মন্দির,লোটাস টেম্পল,জন্তর-মন্তর,লোদি গার্ডেন,নিজামুদ্দিন আউলিয়ার দরগাহ,রাষ্ট্রপতি ভবন,রাজঘাট,সফদারজঙ্গ টোম্ব ইত্যাদি।আমার সফরে অবশ্য আবহাওয়া খারাপ থাকায় আমি জন্তর-মন্তর,আকসার ধাম ও সফদরজঙ্গ টোম্বে যেতে পারি নি।এসব জায়গায় যাওয়ার জন্য আপনি জায়গা গুলোকে তিনভাগে ভাগ করবেন।অর্থাৎ কাছাকাছি স্পটগুলো কে এক করে তিনটি গ্রুপ করবেন তাহলে তিন দিনে তিনটি গ্রুপ দেখে শেষ করতে পারবেন।এক্ষেত্রে গুগল ম্যাপের সাহায্য নিতে পারেন।স্পটগুলোর মধ্যে রাষ্ট্রপতি ভবনে অবশ্যই সন্ধ্যার সময় যাবেন।রাষ্ট্রপতি ভবনে রাতের লাইটিং দেখে আপনি মুগ্ধ না হয়ে পারবেন না।

দিল্লী শেষে এবার আগ্রার পালা।আগ্রাতে অনেক ভাবেই যাওয়া যায়।আপনি চাইলে ট্রেনে বা বাসে আগ্রা যেতে পারবেন।অথবা দিল্লী থেকে ট্যুরিস্ট এজেন্সির মাধ্যমে যেতে পারবেন।এরা সকালে রওনা হয়ে সারাদিন আগ্রা ঘুড়ে আবার দিল্লীতে পৌঁছে দেবে আপনাকে।আমি এদের সাথেই গিয়েছিলাম।তবে আমি আপনাকে এদের মাধ্যমে যেতে নিষেধ করব।কারণ এদের সাথে গেলে আপনি মনমত দেখতে পারবেন না।পুরো আগ্রা দেখার জন্য একরাত আগ্রাতে থাকা আবশ্যক।আমি তো মনে করি তাজমহল এমন এক জায়গা যা সারাদিন বসে থেকে দেখলেও মন ভরবে না।যাই হোক আগ্রার মূল জায়গা গুলো হল আগ্রা ফোর্ট,তাজমহল এবং ফতেহপুর সিক্রি এবং সিকান্দ্রার আকবরের টোম্ব।তবে এর বাইরেও আরও কিছু স্পট রয়েছে।দিল্লী থেকে এজেন্টদের সাথে গেলে ওরা ফতেহপুর সিক্রী ও সিকান্দ্রা দেখাবে না।তাই এদের সাথে না যাওয়াই ভাল।
আগ্রা ভ্রমণ শেষে আবারও চলে আসুন দিল্লী অথবা সোজা আগ্রা থেকেও সরাসরি ট্রেনে চলে যেতে পারেন কলকাতা।

এখানে একটি বিষয় বলে রাখা ভালো আমার ট্যুর প্লান ছিল মূলত গোল্ডেন ট্রায়াঙ্গেল দেখা।অর্থাৎ দিল্লী-আগ্রা-জয়পুর দেখা।কিন্তু ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় জয়পুর যাওয়া সম্ভব হয় নি।আপনি চাইলে জয়পুরকে আপনার ট্যুরে যোগ করে নিতে পারেন।সেক্ষেত্রে আগ্রা থেকে দিল্লী বা কলকাতা না যেয়ে জয়পুর হয়ে দিল্লী বা কলকাতা যেতে পারেন।

source:  রিয়াদ মোর্শেদ‎ <Travelers of Bangladesh (ToB)

20 Feb 2019

গত ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে আমরা ১৮ জন গিয়েছিলাম সান্দাকফু ফালুট ট্রেকিংয়ে। আমাদের জন প্রতি খরচ হয়েছিল ১৪৪০০ করে। মোট ৬ দিনের ট্রিপ ছিল।
আমরা নভেম্বরের ৩০ তারিখে টুমলিং থেকে ট্রেকিং শুরু করেছিলাম এবং ডিসেম্বরের ৫ তারিখে শ্রীখোলা এসে আমাদের ট্রেকিং শেষ করি। আমরা মোট ৬৩ কিলোমিটার পথ হেটেছিলাম।

প্রথম দিন আমরা চেংড়াবান্ধা থেকে জিপে করে মানেভাঞ্জন চলে যাই। পথে শিলিগুড়িতে লেট লাঞ্চ ছিল। আমরা সকাল এগারোটার দিকে যাত্রা শুরু করে শিলিগুড়ি লাঞ্চ ব্রেকসহ মানেভাঞ্জনে গিয়ে পৌছাই সন্ধ্যা সাতটার দিকে। তখন তাপমাত্রা ছিল ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশে পাশে। চেংড়াবন্ধা থেকে আমাদের মানেভাঞ্জন পর্যন্ত ৮ সিটের টাটা সুমো জীপের ভাড়া নিয়েছিল ২৫০০ রুপি। আর মানে ভাঞ্জনের হোটেল ভাড়া ছিল জন প্রতি ৩০০/৪০০ রুপি।

পথে শিলিগুড়িতে আমরা লাঞ্চ করেছিলাম জনপ্রতি ২৫০ রুপ করে।
মানে ভাঞ্জনে দোকানপাট সবই আছে। ফার্মেসী, প্রসাধনী, চকলেট থেকে শুরু করে আপনি শীতের ভারী কাপড় চোপর সবই পাবেন এবং দাম রিজেনেবল। তবে রাত আটটার পর সব বন্ধ হয়ে যায়। মানেভাঞ্জন থেকেই আপনাকে সিংগালিলা ন্যাশনাল পার্ক অর্থাৎ সান্দাকফু ফালুট যাওয়ার পারমিশান নিতে হবে। পারমিশান নিতে অবশ্যই আপনাকে মূল পাসপোর্ট এবং সাথে করে একটি ফটোকপি নিয়ে যেতে হবে। সময় লাগবে দুই থেকে তিনমিনিট। কোনো টাকা পয়সা লাগবে না। তবে পরবর্তীতে ২০০ রুপি এন্ট্রি ফি লাগবে রেঞ্জের ভিতরে প্রবেশের সময়। ক্যামেরার জন্য লাগবে ১০০ রুপি।

মানেভাঞ্জনে একরাত থেকে আমরা পরদিন সকালে অন্য একটা ল্যান্ডরোভার জীপ নিয়ে টুমলিং পর্যন্ত যাই। ভাড়া পড়ে জীপ প্রতি ১২০০ রুপি। বসতে পারবেন ৮ জন।
টুমলিং থেকে আমাদের ট্রেকিং শুরু হয়। তবে টুমলিং যেতে পথেই ওয়েদার ভালো থাকলে আপনি কাঞ্চনজংঘা রেঞ্জ দেখতে পাবেন পরিস্কার।
বলে রাখা ভালো যে, সিংগালিলা ন্যাশনাল পার্কের রেঞ্জে ঢুকতে হলে আপনাকে অবশ্যই গাইড নিতে হবে। না হলে পারমিশানই পাবেন না। গাইড খরচ একদিনের জন্য একজন গাইডকে দিতে হবে ১২০০ রুপি।

আমরা টুমলিং থেকে ট্রেকিং করে কালাপোখারি গিয়ে পৌছি সন্ধ্যা ছয়টা নাগাদ। শুরু করেছিলাম সকাল এগারোটার দিকে। পথ ছিল মোট ১৪ কিলোমিটার। কালাপোখারিতে রাতে তাপমাত্রা ছিল ৬/৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

রাতে কালাপোখারি যে হোটেলে ছিলাম সেখানে মূলত একরুমে ছয় থেকে আটজন থাকা যায়। মাথা পিছু ২০০/২৫০ রুপি পড়বে পার নাইট। খাবার ওদেরই কান্টিনে খেতে হবে। দাম পড়বে ১৫০ থেকে ২৫০ রুপি। খাবারের মান ভালো।

পরদিন আমরা ট্রেকিং শুরু করেছিলাম সকাল সাড়ে নয়টার দিকে। কালাপোখারি থেকে সান্দাকফু। পথ ছিল সাড়ে ছয় কিলোমিটারের মত। গিয়ে পৌছাই দুপুর একটা নাগাদ। পথে হালকা পাতলা চা নাস্তা করার অপশন আছে। ভারি কিছু খেতে চাইলে গাইডকে দিয়ে আগে থেকে ফোন করে রাখতে বললে সে ব্যবস্থা করে রাখে।
সান্দাকফু কালাপোখারি থেকে উন্নত। মূলত এটাই হচ্ছে পশ্চিম বঙ্গের সব থেকে উচু পর্বত। যার উচ্চতা ১১৯৪১ ফিট। ওয়েদার ভালো থাকলে এখান থেকে আপনি পুরো এভারেস্ট, কাঞ্চনজংঘা, থ্রি সিস্টার্সসহ বেশ কিছু পর্বত শ্রেণীর রেঞ্জ একসাথে ৩৬০ ডিগ্রির প্যানারোমিক ভিউতে দেখতে পারবেন। স্লিপিং বুদ্ধার অস্তিত্ব আপনি এখান থেকেই বুঝতে পারবেন।

সান্দাকফু ভালো মানের হোটেল রেস্টুরেন্ট রয়েছে। এখানে থাকার জন্য জন প্রতি ২৫০/৫০০ রুপি খরচ পড়বে। খাওয়ার জন্য পড়বে ২০০/২৫০ রুপি। রাতে সান্দাকফুর তাপমাত্রা ছিল ৪/২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

পরদিন আমরা সান্দাকফু থেকে ফালুটের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করি সকাল আটটার দিকে। মোট ২১ কিলোমিটারের ট্রেকিং। ফালুট গিয়ে পৌছাই সন্ধ্যা সাতটা নাগাদ। তাপমাত্র ছিল মাইনাস ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ওয়েদার খারাপ থাকার কারণে আমরা ফালুটে পরদিন সকালে কিছুই দেখতে পাইনি। অথচ কাঞ্চনজংঘা রেঞ্জ দেখার জন্য এটাই হচ্ছে আদর্শ জায়গা। মাত্র ১১ কিলোমিটার দূরেই যার অবস্থান।

তবে সান্দাকফু থেকে ফালুটের ২১ কিলোমিটার পথ ট্রেকিং করে যাবার সময় আপনার মন ভরে যাবে পাহাড়ী সব ভ্যালীর দৃশ্য দেখে দেখে। অসাধারণ সেই দৃশ্য।
ফালুটে মাত্র দুইটি কটেজ রয়েছে থাকার জন্য। একটি সরকারী এবং একটি বেসরকারী। যেখানে আগে থেকে বুকিং করে যাওয়াই ভালো। কোনো কারণে যদি সিট না পান তবে রাতে থাকা নিয়ে বিশাল ঝামেলায় পড়তে হবে। থাকা বাবদ জন প্রতি 250/300 রুপি ধরে রাখতে পারেন। আর খাওয়া বাবদ 200/250 রুপি।
পরদিন আমরা ফালুট থেকে চলে যাই গোরখে। ১৫ কিলোমিটার ট্রেকিং ছিল এবং সম্পূর্ণটাই ছিল কেবল পাহাড়ী খাড়া বেয়ে নিচে নামা। পাহাড়ে ওঠার চেয়ে যে নামা কঠিন তা আপনি এইসময় বুঝতে পারবেন।

এই পুরো ট্রেকিংয়ে আপনার সব থেকে ভালো লাগার জায়গা হতে পারে এই গোর্খে ভ্যালী।। একদম ছবির মত সুন্দর। চারদিকে উচু সবুজ পর্বতে ঘেরা এই গোর্খে ভ্যালীকে দেখে মনে হবে আপনি যে ফার্মারস ল্যান্ডের ভিডিও গেম খেলেছিলেন এটা যেন এখান থেকেই থিম নিয়ে বানানো।
এখানে রাতে থাকতে পারেন। আমরা বিকাল নাগাদ এখানে পৌছে একটা সুদৃশ্য কটেজে উঠেছিলাম। রুমে ৪ জন করে ছিলাম। ভাড়া জনপ্রতি ৪০০ রুপির মত পড়েছিল। খাবারের জন্য দিয়েছিলাম প্রতি বেলা জন প্রতি ২০০/২৫০ রুপি।

এখান থেকে পরদিন আমরা চলে যাই শ্রীখোলা। ট্রেকিং ছিল ১৪ কিলোমিটার। শ্রীখোলা পৌছি আমরা বিকাল নাগাদ। ওখানে আমাদের আগে থেকে ২০০০ রুপি করে ঠিক করে রাখা টয়োটা সুমো জীপে করে চলে যাই ডিরেক্ট মানেভাঞ্জন। পথে এক জায়গায় লেট লাঞ্চ করে নিলাম। মূল্য জন প্রতি ২৫০ রুপি।
ভানেভাঞ্জনে আমরা ওই রাত আগের সেই হোটেলেই থেকে পরদিন সকালে রওনা হয়ে দুপুর নাগাদ বর্ডার পার হই। এরপর কিছু সময় বিশ্রাম করে বিকালের গাড়িতে ঢাকা ব্যাক করি।

এই ছিল আমাদের সান্দাকফু ফালুট ট্রেকিংয়ের পুরো প্ল্যান।
এই ট্রিপে আমাদের ভিতর থেকে একজন ইমার্জেন্সি কাজ পড়ে যাওয়ায় সান্দাকফু থেকে একাই ঢাকা ব্যাক করেছিল। এবং একজন উচ্চতাজনিত কারণে কিছুটা অসুস্থ হয়ে পড়েছিল। একজন সান্দাকফু পৌছে রাতে বমি করেছিল। এছাড়া সবাই ফিট ছিল।
…………………….
সতর্কতাঃ সান্দাকফু থেকে ফালুট পুরো রাস্তাই আপনি গাড়িতে যেতে পারবেন। রাস্তা প্রচন্ড খারাপ হবে। বড় বড় পাথর বিছানো রাস্তা দিয়ে ল্যান্ড রোভার পুরনো ধাচের গাড়িগুলো যেতে আপনার কোমড়সহ সাড়া শরীর ব্যাথা হয়ে যেতে পারে। আর যদি ট্রেকিং করে যেতে চান, তবে আপনার শারিরিক ফিটনেসের উপর অবশ্যই আপনার কনফিডেন্ট থাকতে হবে শতভাগ। মানসিকভাবে দূর্বল হয়ে পড়লে এই ট্রেকিং আপনার জন্য বিভিষিকাময় হয়ে উঠতে পারে। প্রয়োজনীয় শীতের কাপড় অবশ্যই নিতে হবে যদি শীতকালে যান। তবে এখানে বর্ষাকালে না যাওয়াই উত্তম। তখন প্রচুর বৃষ্টিপাথের কারণে সব ক্যানসেল করা লাগতে পারে।
প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র অবশ্যই সাথে নিতে হবে। সেই সাথে নিতে হবে প্রচুর এনার্জেটিক শুকনা খাবার।

source:  Rajib Ferdous <Travelers of Bangladesh (ToB)

18 Feb 2019

রাতের ট্রেনে ৪ বন্ধু ২৬০ টাকা ভাড়ায় ঢাকা টু সিলেট যাই সকাল ৫ টায়। নেমে প্রতিজন ২০ টাকা ভাড়ায় সিনজি যোগে চলে যাই পাচ ভাই রেস্তরায়। ৫৫ টাকায় ভর পেট খিচুরি খেয়ে বাস ভাড়া ৪০ টাকা সারিঘাট হয়ে অটোযোগে ১৫ টাকায় লালাখাল পৌছাই সকাল ৯ টায়।
ঘন্টা প্রতি ৩০০ টাকা ট্রলার ভাড়া করে বের হয়ে যাই লালাখাল এর সৌন্দর্য উপভোগ করতে। ( ওরা অনেক ভারা চায় বারগেটিং করতে হবে, চাইলে ২০০ তেও করতে পারবেন। আমদের একজন ভুলে ২ ঘন্টা ৬০০ বলে ফেলায় আর কিছু করার ছিলনা। ট্রলার গুলোতে ১০ জন বসতে পারবেন )
লালাখাল এর পানিতে গোসল করতে পারবেন। কিন্তু ওদের দেখানো যায়গায় নামবেন। কারন লালাখালে অনেক চোরাবালি আছে।
লালাখাল ঘুরাঘুরি করে ১২ টার একটু পরে বের হয়ে যাই খাদিমনগর ফরেস্ট অফিস এর উদ্দেশ্যে। সারিঘাট থেকে জনপ্রতি ৩০ টাকা বাস ভাড়ায় আসতে হবে শাহপরান।

শাহপরান থেকে ২০০(৪ জন) টাকা ভাড়ায় সিএনজি তে ১ ঘন্টার পথ খাদিমনগর ফরেস্ট অফিস পর্যন্ত। পাহাড় কাটা মাটির পথ ধরে যেতে যেতেই মাঝপথে সিএনজি নষ্ট হয়ে গেলো। প্রায় আধা ঘন্টা ট্রাই করেও সিএনজি ঠিক করা গেলোনা। রাস্তা ধরে হেটে গেলে তখনো ৭ মাইল। স্থানীয়রা এই পথকে বাগান পথ বলে। সন্ধ্যা হয়ে আসছে। এদিকে রাস্তায় একটাও মানুষের নাম গন্ধ নেই। একটু আগেও জঙলে কাজ করা কিছু মানুষ যাচ্ছিলো সামনে দিয়ে। নেটওয়ার্ক নেই, কোথায় যাবো কি করব ভাবতে ভাবতেই ২ জন কে পেলাম। উনারা আমাদের জঙলের পথ দেখিয়ে বলে এদিক দিয়ে গেলে তারাতারি হবে। আর কোন পথ না দেখে বিনা অনুমতিতে প্রবেশ নিষেধ এর সাইনবোর্ড টপকেই জঙল দিয়ে হাটা শুরু করলাম। অন্ধকার নেমে আসছে। কিন্তু এই ঘন জঙলে যেন আরো তারাতারি অন্ধকার নেমে এসেছে। অচেনা সব পাখির ডাক আর শুখনো পাতার উপর হাটার শব্দে ভালই লাগছিল হাটতে।কিন্তু প্রায় ১ ঘন্টা হাটার পরো মানুষের দেখা না পেয়ে চিন্তায় পরে যাই। প্রায়ই ভাবছিলাম ১৬৭৭ একর এর জঙলে পথ হারালামনাতো? এদিকে মাঝে মাঝেই জঙল এর ভিতর কিছু একটা দৌড় দিচ্ছে। কিছু না ভেবেই ক্লান্ত শরীর নিয়ে হেটেই চলেছি। মাঝ পথে ভাঙা সাকু দেখলেও যেন শান্তি পাচ্ছিলাম। এইতো লোকালয়ে এসে পরেছি মনে হয়। হঠাৎ ই মাথার উপর বাশ গাছ গুলোতে বানর এর লাফালাফি দেখে একটু থেমে গেলাম। আমাদের থেমে যাওয়াটা যেন তারা বুঝতে পেরেছে। তারাও চুপ করে বসে আছে। সেখানেই কিছুখন বসে আবার হাটা শুরু করলাম। তার ২০ মিনিট পরই খুজে পাই ফরেস্ট অফিস। সে এক অসাধারন মুহুর্ত।
কিন্তু তখনো জানতামনা কি শুনতে চলেছি আমরা।

জঙলের গল্প শুনতে ভালোই লাগছিল স্থানীয় থেকে। ৮৩ প্রাজাতির প্রাণী আর ২১৭ প্রজাতির গাছ আছে এ ফরেস্টে। ভালোই লাগছিল যতক্ষন না পর্যন্ত শুনলাম চার পাঁচ মাস আগে গাছ চুরি করা রোধ করতে জঙলে ৩৭ টি বাঘ ছাড়া হয়েছে।
এরপর থেকে রাত টা তাবুতে একটু ভয়েই ছিলাম।

টেন্ট ফরেস্ট অফিসেই ভাড়া দেয়। প্রতি টেন্ট ৫০০ করে ২ জন থাকা যায়। বর্ষায় ৩০০।
রাতের আর দুপুরের খাবার খাদিমনগর এই খেয়েছি।
দুপুর/রাত খাবার প্রতি ১২০ টাকা করে( ভাত,ভুনা ডাল,ভর্তা,মুরগি)
আমাদের ট্রেকিং টা না চাইতে হলেও আপনি চাইলে জঙলে ট্রেকিং করতে পারবেন। গাইড ঘন্টা প্রতি ১০০ করে।
থাকা খাবার জন্য আগে থেকেই বুক দিতে পারেন। (কাদের ভাই 01737853713) আছে সবকিছুর দায়িত্বে।

জঙ্গলে রাত টা খুব সুন্দর কেটেছে। আমরা ৪ বন্ধু আর সাথে ছিল বানর, পেঁচা, শেয়াল, আর অগনিত ঝি ঝি পোকার ডাক।

source:  Rbh Shornab‎ <Travelers of Bangladesh (ToB)

16 Feb 2019

এশিয়াটিক সোসাইটি ঐতিহ্য জাদুঘর, নিমতলী,ঢাকা -১০০০
**ঘুরে আসতে পারেন এশিয়াটিক সোসাইটি ঐতিহ্য জাদুঘর থেকে। এই জাদুঘর টি ৫, পরাতন সচিবালয় সড়ক সড়ক,নিমতলী,ঢাকা – ১০০০ তে অবস্থিত।

এই জাদুঘর এ দেখতে পারবেন :
-ঢাকা ১৭১৬ সাল সুবা বাংলার রাজধানী ছিল। ১৭১৭ সাল থেকে ঢাকায় নায়েব – নাজিমদের শাসন শুরু ও ১৮৪৩ সালে শেষ। ১৭০০ থেকে ১৯০০ সাল সময়ের ঢাকার ইতিহাস,ঐতিহ্য,সংস্কৃতি,সামাজিক অবস্থার তথ্য, আলোকচিএ, নিদর্শন যা ডিজিটাল পদ্ধতির মাধ্যমে উপস্থাপন করা হয়েছে। 
এই জাদুঘর এর রয়েছে ৫ টি গ্যালারি।
১ম গ্যালারিতে দেখতে পাবেন এশিয়াটিক সোসাইটি প্রতিষ্ঠা।
২য় গ্যালারিতে দেখতে পাবেন দেউরি ভবন সংরক্ষণ ও পুনরুদ্ধার।
৩য় গ্যালারিতে দেখতে পাবেন সুবা বাংলার নায়েব -নাজিমদের ঐতিহাসিক পটভূমি।
৪র্থ গ্যালারিতে দেখতে পাবেন নায়েব -নাজিমূের ইতিহাস।
৫ম গ্যালারিতে দেখতে পাবেন ঢাকার জীবন ও শিল্পকর্ম

**জাদুঘর পরিদর্শন এর সময় সূচী :
শনিবার ও শুএবার ১০:৩০ থেকে ৪:৩০ মিনিট।
(শুএবার দুপুর ১ টা থেকে ২ টা নামাজ এর বিরতি)

**প্রবেশ মূল্য : ২০ টাকা
তবে ছাএ -ছাএীদের প্রবেশ মূল্য ১০ টাকা।
(অবশ্যই আইডি কার্ড দেখাতে হবে)

**যেভাবে যাবেন :
ঢাকার যে কোন স্থান থেকে গুলিস্তান এর গোলাপ শাহ মাজার এসে ওখান থেকে রিকশায় ২০-৩০ টাকায় যেতে পারবেন এই জাদুঘর এ।

source:  Khairul Islam Rana‎ <Travelers of Bangladesh (ToB)

13 Feb 2019

কেউ কেউ বিচিত্র অভিজ্ঞতা অর্জনে ঘুরে বেড়ান পৃথিবীর নানা প্রান্ত। আরেক দল মানুষ নাগরিক ব্যস্ততার একঘেয়েমি দূর করতে বেরিয়ে পড়েন দেশের কোনো পর্যটন কেন্দ্রের উদ্দেশে। আর সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার লোভাছড়া এমন একটি স্থান।

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের পাশাপাশি জীবনসংগ্রামের করুণ চিত্র দেখে আসতে পারেন উত্তর-পূর্ব সীমান্তবর্তী উপজেলার পশ্চাৎপদ এই অঞ্চলে।

যা দেখবেন:

ওপারে ভারতের খাসিয়া-জৈয়ন্তিয়া পাহাড় থেকে নেমে এসেছে পাথর আর বালুময় একটি ছোট নদী। নাম লোভাছড়া। প্রতিবছর বর্ষার ঢলে এই ছড়াটি নিয়ে আসে হাজার হাজার টন পাথর আর বালু। তলদেশ থেকে শুরু করে একেবারে আনাচে-কানাচে পাথর আর পাথর। শুকনো মৌসুমের শুরুতেই সেখানে শুরু হয় বিশাল কর্মযজ্ঞ। তোলা হয় টনকে টন পাথর। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ছুটে আসে অভাবী কিন্তু সাহসী শ্রমিকের দল। নেমে পড়েন পাথর তোলার কাজে। কখনো নিষিদ্ধ ঘোষিত বোমা মেশিন আর কখনো কখনো সনাতন পদ্ধতিতে পাথর তুলতে শুরু করেন তাঁরা।

মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ এই কাজটি করতে গিয়ে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। বড় বড় গর্তের পাড় ধসে মাটিচাপা পড়ে লাশ হতে হয় হতভাগ্য শ্রমিকদের। কিন্তু তবু কর্মযজ্ঞ থামে না। মহাজনের দেওয়া মোটা অঙ্কের পারিশ্রমিকের লোভে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলে কাজ। গর্তের গভীরে নেমে কেউ তোলেন পাথর, আর কেউ সেটি পরিবহনের কাজ করেন। তাঁদের নাওয়া-খাওয়া, বিশ্রাম বা ঘুমানো—সবই কোয়ারিতে। বালুর ওপর ছোট ছোট খুপড়ি ঘর তৈরি করে সেখানেই থাকা-খাওয়া।

ছড়ার তলদেশ থেকে পাথর তোলা আইনত দণ্ডনীয়। অথচ নৌকা দিয়ে প্রচুর শ্রমিক পাথর তোলেন। এক ধরনের মেশিন চালিয়ে পানি সরানো হয়, তারপর মাছ ধরার মতো করে বিশেষ ধরনের জাল দিয়ে পাথর তোলেন। এ ছাড়া মেঘালয় পাহাড়ের সৌন্দর্য দর্শনের পাশাপাশি ঘুরতে পারেন লোভাছড়া চা বাগান। নদীর ওপর ছোট ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকো পেরিয়ে ওপারে গেলে গেলে হজরত শাহজালালের (রহ.) অন্যতম সহচর হজরত মীরাপিং শাহর মাজার, স্থানীয়ভাবে যা মোকামটিলা হিসাবে বিখ্যাত। গোটা এলাকায় চরম দরিদ্র মানুষের বাস, দেখলেই তা পরিষ্কার বোঝা যায়।

আর বর্ষায় রীতিমতো মোহনীয় পরিবেশ। লোভাছড়া লেক, চা-বাগানের সবুজ ও বন বিভাগের বনায়ন মিলে অপরূপ রূপ মুগ্ধ করে পর্যটকদের। তা ছাড়া চা বাগানে তখন বনমোরগ, হরিণ, খরগোশ ও দেখা যায়। যেকোনো টিলায় দাঁড়িয়ে উপভোগ করা যায় খাসিয়া-জৈয়ন্তিয়া পাহাড়ের সৌন্দর্যও।

যেভাবে যাবেন:

ঢাকার কমলাপুর ও ক্যান্টনমেন্ট রেলস্টেশন থেকে প্রতিদিন তিনটি ট্রেন ছাড়ে সিলেটের উদ্দেশে। ৩০০ থেকে ৭০০ টাকায় পৌঁছে যাবেন দক্ষিণ সুরমার কদমতলী বাসস্ট্যান্ডে। এ ছাড়া বাসে খরচ পড়বে ৩০০ থেকে ৮০০ টাকা। কদমতলী থেকে বন্দরবাজার সিএনজি অটোরিকশা রিজার্ভ যাওয়া যাবে একশ টাকার মধ্যে।

সেখান থেকে রিজার্ভ সিএনজি অটোরিকশা নিয়ে কানাইঘাট উপজেলা সদরে যেতে খরচ পড়বে পাঁচশ থেকে ছয়শ টাকা। যাওয়া যায় সিরিয়ালের অটোরিকশায়। খরচ জনপ্রতি ১০০ টাকা। তা ছাড়া ১০ টাকা রিকশা ভাড়া দিয়ে নগরীর সুবহানীঘাট বাসস্ট্যান্ডে গেলে কানাইঘাটগামী বাস পাচ্ছেন।

খরচ জনপ্রতি ৭০ থেকে ৮০ টাকা। কানাইঘাট উপজেলা সদর থেকে লোভাছড়ার দূরত্ব প্রায় ৯ কিলোমিটার। কাঁচা রাস্তায় যেতে সিএনজি অটোরিকশা নিয়ে গেলে খরচ পড়বে পাঁচশ থেকে ছয়শ টাকা। রিজার্ভ ছাড়া জনপ্রতি খরচ পড়বে ১০০ টাকা। যাওয়া যায় জলপথে, নৌকায়। জনপ্রতি খরচ ৪০ থেকে ৬০ টাকা। আর রিজার্ভ নৌকা নিলে খরচ পড়বে ৯০০ থেকে হাজার টাকা।

যেখানে থাকবেন:

সিলেট মহানগরীর জিন্দাবাজার, বন্দরবাজার, মিরাবাজার দরগাহ গেট, আম্বরখানা এলাকায় বিভিন্ন মানের আবাসিক হোটেল আছে। এসব হোটেলে থাকতে জনপ্রতি খরচ পড়বে ২০০ থেকে ৬০০ টাকা। এ ছাড়া সিলেটে বেশ কিছু অভিজাত আবাসিক হোটেলও আছে।

13 Feb 2019

দেশের সেনাবাহিনী দ্বারা নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলো খুব সাজানো গোছানো ও পরিপাটি হয়ে থাকে। তবে বেশিরভাগ সেনানিবাসেই নিরাপত্তার খাতিরে সাধারণ মানুষের প্রবেশ নিষেধ থাকে। তবে এদিক থেকে একদম ভিন্ন হলো ভাটিয়ারী ইউনিয়ন।

মূল সেনানিবাসে সাধারণ মানুষ ঢুকতে না পারলেও এর আশেপাশের অনেক সুন্দর স্থান সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকে। তাই একদিনের ট্যুর প্ল্যানের জন্য ভাটিয়ারী একদম আদর্শ স্থান। গত সপ্তাহেই দলবল নিয়ে হানা দিয়েছিলাম চট্টগ্রামের অন্যতম ট্যুরিস্ট স্পট এই ভাটিয়ারীতে। আজ থাকছে ভাটিয়ারী ভ্রমণের আদ্যোপান্ত।

ভাটিয়ারী ইউনিয়ন:
চট্টগ্রাম শহর থেকে মাত্র ১৫ কি.মি. দূরত্বে সীতাকুণ্ড উপজেলার দক্ষিণাংশে ভাটিয়ারী ইউনিয়ন অবস্থিত। সবুজ পাহাড়, স্ফটিকের মতো স্বচ্ছ লেকের পানি, সেনাবাহিনী নিয়ন্ত্রিত গলফ কোর্স, সানসেট পয়েন্ট- এসব কিছু মিলিয়ে অসাধারণ প্রাকৃতিক রূপবৈচিত্র‍্যে ভরপুর ভাটিয়ারী। সম্পূর্ণ অঞ্চলটি সেনাবাহিনী নিয়ন্ত্রিত হওয়ায় নিরাপত্তা ব্যবস্থাও খুব উন্নত। তাই যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা একদমই কম।

যেভাবে যাবেন:
ঢাকা থেকে যেতে হলে রাতের বাসে কিংবা ট্রেনে যাওয়াটাই সবচেয়ে ভালো। এতে সকাল সকাল ভাটিয়ারী পৌঁছে সারাদিন সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারবেন। ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে ইউনিক, শ্যামলী, সৌদিয়া, এস এ পরিবহনসহ আরও অনেক বাস ছেড়ে যায়। ভাড়া ৪৮০ টাকা। সুপারভাইজারকে বলে রাখবেন যেন ভাটিয়ারী নামিয়ে দেয়।

চট্টগ্রাম শহর থেকে সরাসরি ভাটিয়ারী সিএনজি অটোরিক্সা ভাড়া করে যাওয়া যায়। ভাড়া দেড়শো থেকে দুইশো টাকা। অথবা চট্টগ্রামের নিউমার্কেট মোড় থেকে ৪ নম্বর বাসে করে ভাটিয়ারী যেতে পারেন। লোকাল বাস বিধায় বাসে খানিকটা অস্বস্তি লাগতে পারে। তবে অভ্যাস থাকলে একদমই সমস্যা নেই।

চট্টগ্রামের হাটহাজারি কিংবা ওই দিকের ভ্রমণপিপাসু মানুষদের জন্য বড় দিঘীর পাড় হয়ে ভাটিয়ারী আসাটা সুবিধাজনক। বড় দিঘীর পাড় থেকে লোকাল সিএনজি ও বড় পিকাপের মতো যাত্রীবাহী গাড়ি পাওয়া যায়। সিএনজিতে ভাড়া জনপ্রতি ৩০ টাকা। পিকাপে ২০ টাকা।

চাইলে সিএনজি রিজার্ভ নিয়ে নিতে পারেন। তবে আমার মনে হয় রিজার্ভ না নিয়ে লোকালভাবে চলাচল করাই ভালো। এতে টাকাও খরচ কম হবে, সাথে সব স্পট নিজের ইচ্ছামতো সময় নিয়ে দেখতে পারবেন।

যা যা দেখবেন:
পাহাড়ী আঁকাবাঁকা ও উঁচুনিচু ভাটিয়ারীর সুসজ্জিত রাস্তাটা আপনার মনেপ্রাণে ভীষণ সুখকর অনুভূতি জাগাবে। রাস্তার পাশেই স্বচ্ছ পানির ভাটিয়ারী লেক। লেকে নৌকা ভ্রমণের ব্যবস্থা চোখে পড়েনি। তবে লেকের চারপাশে সবুজের অভয়ারণ্য সত্যিই খুব চমৎকার। প্রকৃতি দেবী যেন নিজ হাতে সুনিপুণভাবে সাজিয়েছেন এলাকাটি। এতটা সুন্দর চারদিক।

সিএনজি নিয়ে প্রথমেই চলে যাবেন ক্যাফে টুয়েন্টি ফোর নামক পার্কে। সেনাবাহিনী দ্বারা নিয়ন্ত্রিত এই পার্কে পরিবারের সবাইকে নিয়ে সুস্থ পরিবেশে ঘুরতে পারবেন। প্রবেশমূল্য ৫০ টাকা। চট্টগ্রামের অন্যান্য পার্ক থেকে একদমই আলাদা এই পার্কে আছে কৃত্রিম ঝর্ণা, লেক, লেকে ঘোরার জন্য বিভিন্ন রাইড। এছাড়াও সবুজ প্রকৃতিতে বসে আড্ডা দেয়ার জন্য এই পার্কের তুলনা হয় না।

এডভেঞ্চারপ্রেমীদের জন্য এখানে গাছের উপরে এডভেঞ্চার ট্রেইল তৈরি করা হয়েছে। মাত্র ১০০ টাকার বিনিময়ে এই এডভেঞ্চারের স্বাদ নিতে পারেন। এখানকার রেস্টুরেন্টও বেশ সুন্দর, চাইলে সেখানে দুপুরের খাবার খেতে পারেন। ট্যুরিস্ট স্পট হিসেবে দাম কিছুটা বেশি।

এরপর রয়েছে বাংলাদেশের ২য় বৃহত্তম গলফ এন্ড কান্ট্রি ক্লাব। এটি চট্টগ্রামের অন্যতম পর্যটন আকর্ষণ স্থান যা প্রাকৃতিক লেক এবং পাহাড় দিয়ে আবৃত। পাহাড়ের পাদদেশে গড়ে ওঠা ভাটিয়ারী গলফ ক্লাবের গলফ কোর্সের দৈর্ঘ্য প্রায় ৬,৫০০ গজ। গলফ কোর্সটির চারপাশের প্রকৃতি একে বাংলাদেশের অন্যতম সুন্দর কোর্সের মর্যাদা এনে দিয়েছে। এখানে সারা বছর ধরে নানা দেশী এবং আর্ন্তজাতিক গলফ টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হয়।

গলফ ক্লাবে জনসাধারণের প্রবেশ নিষেধ। তবে অনুমতি নিয়ে প্রবেশ করতে পারবেন। প্রবেশ করতে পারলেও সেখানে ক্যামেরা এবং রেকর্ডিং ডিভাইস নিয়ে প্রবেশ করা যায় না। কারণ ছবি ও ভিডিও করা সম্পূর্ণ রূপে নিষেধ। এছাড়াও গলফ ক্লাবে গলফ গোল্ডেন নামক ভালো মানের একটি রেস্টুরেন্ট রয়েছে।

গলফ ক্লাব থেকে সোজা চলে যাবেন সানসেট পয়েন্টে। ব্যক্তিগতভাবে ভাটিয়ারীর এই জায়গাটিই আমার কাছে সবচেয়ে প্রিয়। বিকেলের স্নিগ্ধ আলোতে পাহাড়, সমুদ্র এবং লেক সব মিলিয়ে এক অপরূপ দৃশ্যের সৃষ্টি হয় এখানে। সানসেট পয়েন্টে বসার জন্য অনেক বেঞ্চ রাখা হয়েছে। এখানে বসে প্রকৃতিকে সম্পূর্ণরূপে উপভোগ করতে পারবেন।

নাম থেকেই বোঝা যাচ্ছে এখানে সবাই সূর্যাস্ত দেখতে আসে। দূরে সমুদ্রের বুকে সূর্যাস্ত দেখার দৃশ্যটি সত্যিই অসাধারণ। সানসেট পয়েন্ট এলাকাটি বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমী (বিএমএ) দ্বারা নিয়ন্ত্রিত এলাকা। এখান থেকে মিলিটারি একাডেমীর সম্পূর্ণ ভিউ দেখতে পাওয়া যায়। সূর্যাস্ত দেখার সময় এখানকার ক্যান্টিনের কফি কিছুতেই মিস করবেন না।

সূর্যাস্ত দেখে দ্রুত রওনা দিন। কারণ নিরাপত্তাজনিত কারণে ভাটিয়ারী-হাটহাজারি কানেক্টিং রোডে সন্ধ্যা ৭টার পরে যান চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়। তাই সানসেট পয়েন্ট থেকে বের হয়ে সিএনজি নিয়ে দ্রুত চলে আসুন। নইলে পরে হেঁটেই রওনা দিতে হতে পারে।

পরিশেষে কিছু সতর্কবার্তা দিতে চাই। কোনো ধরনের পচনশীল ও অপচনশীল ময়লা আবর্জনা ভাটিয়ারী লেকে কিংবা আশেপাশের এলাকায় ফেলবেন না। এখানকার প্রায় সব জায়গাতেই প্রচুর সংখ্যক আবর্জনা ফেলার নির্দিষ্ট স্থান রয়েছে। আর হ্যাঁ, বেশ শান্ত পরিবেশের এই এলাকাটিতে হই-হুল্লোড় থেকে একদম বিরত থাকুন। সর্বোপরি প্রকৃতিকে সম্মান করুন, ভালোবাসুন তার উদারতাকে। হ্যাপী ট্রাভেলিং।

source: http://neotravel.co/ভাটিয়ারীর-পথে-প্রান্তরে/

12 Feb 2019

নেত্রকোনার দুর্গাপূরের চিনা মাটির পাহাড়ে আমরা অনেকেই গিয়েছি কিন্তু সেখান থেকে মাত্র ৩০ কিমি দূরেই অবস্থিত লেঙ্গুরা। এই যায়গাটার কথা আমরা অনেকেই হয়ত যানিনা। বাংলাদেশ আর ভারতের বর্ডারে এই যায়গা দেখে মুগ্ধ না হয়ে পারবেননা। ছোট ছোট পাহাড় সবুজ জলের সান্ত নদী সব কিছু মিলিয়ে এক কথায় অসাধারন একটা যায়গা।

যাওয়ার উপায়: ঢাকা থেকে বাসে অথবা ট্রেনে যেতে পারবেন। কমলাপুর থেকে নেত্রকোনায় হাওড় এক্সপ্রেস ছাড়ে রাত ১১:৫০ মিনিটে ভাড়া ১৬৫ টাকা (শোভন সাধারন) ভোর ৪:৩০/৫:৩০ মিনিটে ট্রেন পৌছে যাবে শ্যামগঞ্জ স্টেশনে। ট্রেন থেকে নেমে সিএনজি নিয়ে যেতে হবে দুর্গাপুর বাজার ভাড়া ২০০ টাকা একটু মুলামুলি করলে ১৫০ টাকায় যাওয়া যায় সময় লাগবে ২/২:৩০ ঘন্টা। দুর্গাপুর বাজার থেকে মাহিন্দ্রা, অটো রিকশা, সিএনজি, নিয়ে সোজা লেঙ্গুরা ভাড়া ৫০ টাকা সময় লাগবে ২ ঘন্টার মত। দূর্গাপুর বাজার থেকে মোটর সাইকেল নিয়েও যাওয়া যায় সেক্ষেত্রে খরচ বেশি হবে।
আর যদি ঢাকা থেকে বাসে যেতে চান, মহাখালি বাস স্ট্যান্ড থেকে সন্ধার পরে কয়েকটা বাস যায় দুর্গাপুর আর কলমাকান্দা তে ভাড়া ৩৫০ টাকা(নেত্র পরিবহন, হজরত সাহাজালাল র: পরিবহন নন এসি আরো কিছু বাস আছে)।
লেঙ্গুরা বাজারে খাওয়ার তেমন কোন ভালো হোটেল নাই। সকালের নাস্তা দুর্গাপূর বাজার থেকে করে যেতে হবে আবার দুপুরের খাবারও দুর্গাপুর বাজারে এসেই করতে হবে। দুপুরের খাবার খেয়ে সময় থাকলে বাইক নিয়ে ঘুরে আসতে পারেন বিরিসিরির চিনামাটির পাহাড়। বাইক ভাড়া ৩০০/৪০০ টাকা নিবে। অথবা একটা বিকাল সোমেশ্বরী নদীর পাড়ে বসে কাটিয়ে দিতে পারেন।
আর যদি দুইদিনের প্লান করেন তা হলে দ্বিতীয় দিন বাইক বা অটো রিকশা নিয়ে দুর্গাপুরের বিজয়পুর চিনামাটির পাহাড়, লেক, বিজয় নগর বিজিবি ক্যাম্প, গারো পাহাড়, কমলা বাগান, রানীখং মন্দির, ওয়াচ টাওয়ার, সোমেশ্বরী নদী, কালচারাল ক্লাব এই সব যায়গা গুলোও ঘুরে দেখতে পারবেন। বাইক নিলেই ভালো হবে। বাইকের খরচ ৫০০/৬০০ টাকা(মুলামুলি করতে হবে)। বিরিসিরি বাজারে কয়েকটা থাকার মোটামুটি মানের হোটেল আছে। দুর্গাপুর বাজার থেকে বিরিসিরি বাজারের দূরত্ব ১:৬ কিমি। আটো/সিএনজি ভাড়া ১০ টাকা।
দুর্গাপুর থেকে রাত ১০:৩০ মিনিটে ঢাকার বাস ছাড়ে।

অবশেষে যেখানেই ঘুরতে যান ময়লা আবর্জনা (বিশেষ করে অপচনশীল দ্রব্য) যত্রযত্রতত্র ফেলে পরিবেশ নস্ট করবেননা।

source:  Sajjad <Travelers of Bangladesh (ToB)

11 Feb 2019

স্বল্প খরচে ভ্রমন পিয়াসীদের সবারই সিকিমে ভ্রমন করার সুপ্ত বাসনা রয়েছে। আমি আজ থেকে কিছু দিন আগে থেকেই সিকিম যাওয়ার স্বপ্ন দেখে আসছিলাম, কিন্তু সিকিমে আইনগত ভাবে প্রবেশের ক্ষেত্রে নানা জটিলতা থাকায় তা সম্ভব হয়নি। বিগত ২১ শে নভেম্বর, ২০১৮ তারিখে ভারত সরকার সিকিম ভ্রমনে বাংলাদেশীদের উপর নিষেধাজ্ঞা তুলে দিলে অনেক ভ্রমন পিয়াসী মানুষই ভীড় জমায় যমুনা ফিউচার পার্কের ইন্ডিয়ান হাই কমিশনে। কিন্তু ইন্ডিয়ান হাই কমিশনের ওয়েব-সাইটে পর্যাপ্ত তথ্য ও সুস্পষ্ট নির্দেশনা না থাকায় অনেকেই ভুক্তভোগী হয়েছেন আমাদের মতো। কেউ অনুমুতি পান নি, কারো পাসপোর্ট ডেলিভারি পেতে লম্বা সময় লেগেছে। কেউ জানতেন না ভারতীয় ভিসা আবেদনের সাথেই পার্মিশনের ফরম জমা দিতে হয় নাকি পরে দিতে হয়, ইত্যাকার নানা সমস্যার পড়ে সিকিম যাওয়ার বিষয়টি জটিল হয়ে গিয়েছে। আমরাও এমন ভুক্তভোগী হয়ে বেশ কিছু বিষয়ে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি, যা আপনাদের সাথে শেয়ার করছি যেন আপনাদের কোন প্রকার ভোগান্তিতে পড়তে না হয়।

প্রথম পরামর্শঃ যদি ভিসা নিয়ে না থাকেন তবে নতুন ভিসা নেওয়ার ক্ষেত্রে চ্যাংরাবান্ধা বা ফুলবাড়িয়া যে কোন একটি অথবা দুটো পোর্টই উল্লেখ করতে পারেন। তবে বলে রাখি চ্যাংরাবান্ধা থেকে ফুলবাড়িয়া দিয়ে শিলিগুড়ি যেতে প্রায় তিন ভাগের এক ভাগ সময় লাগে এবং খরচ ও হয় কম। তাই ফুলবাড়িয়াই প্রেফারেবল।

দ্বিতীয় পরামর্শঃ যমুনা ফিউচার পার্কের ইন্ডিয়ান হাই কমিশনের থেকে সিকিম যাওয়ার পার্মিশন নেয়ার কোন প্রয়োজন নেই। কারন এতে আপনার টাকা (৩০০ টাকা) ও অনেক সময় নষ্ট হবে। আপনি চাইলে সরাসরি Silliguri ,Sikkim Nationalised Transport বা ঢুকবার পথে Rangpo চেকপোষ্টে ইনার লাইন পারমিট নিতে পারবেন। এজন্য আপনার বাড়তি কোন টাকা বা সময় নষ্ট হবে না। কেবল পার্মিশনের জন্য প্রয়োজন হবে ২ কপি ছবি, পাসপোর্ট ও ভিসার ২ টি করে ফটোকপি। ২০ মিনিটের মধ্যে আপনি ইনার লাইন পার্মিট পেয়ে যাবেন। যেটি খুব যত্ন সহকারে আপনাকে পুরো ভ্রমন সময়ে সাথে সাথে রাখতে হবে। আর ফিরে আসার সময় অবশ্যই Rangpo চেকপোষ্টে অবহিত করে আসবেন যে আপনি সিকিম ত্যাগ করছেন। না হলে তাদের রেকর্ডে আপনি ব্লাক লিষ্টেড হয়ে থাকতে পারেন, এবং আপনি অন্যান্য বাংলাদেশী ট্যুরিষ্ট দের সম্পর্কে একটি খারাপ অভিব্যাক্তি রেখে আসতে পারেন।
Rangpo ফরেনার ইনফরমেশন সেন্টারের ফোন নম্বর হলোঃ
+৯১ ৩৫৯২ ২০৯ ০৯০
এটি খোলা থাকে সকাল ৮ টা থেকে রাত ৮ টা পর্যন্ত। তবে সন্ধ্যা ৭ টার ভেতরে পৌঁছে যাওয়াটা রিস্ক-ফ্রি।

তৃতীয় পরামর্শঃ ভ্রমন কারীর কিছু ডকুমেন্ট কমপক্ষে ১০ কপি করে রাখুনঃ এগুলো হলো পাসপোর্ট সাইজের ছবি ১০ কপি, পাসপোর্ট ও ভিসার ১০ টি করে ফটোকপি। এগূলো বাংলাদেশ থেকে নিয়ে যাবেন, নতুবা সিকিমে প্রতি কপির জন্য আপনাকে প্রায় তিন গুন পয়সা গুনতে হবে। কেবল মাত্র ইনার লাইন পার্মিট গ্যাংটকে গিয়ে ১০ কপি করিয়ে নিবেন।
একটি জরুরী বিষয় বলে রাখি, সেটি হলোঃ ইনার লাইন পার্মিট শুধুমাত্র গ্যাংটকে প্রবেশের পার্মিশন, কিন্তু আপনি যদি গ্যাংটকের বাইরের অন্যান্য ট্যুরিষ্ট স্পট গুলো তে যেতে চান তাহলে আপনাকে প্রতিটি জায়গায় যাওয়ার জন্য প্রতিটি ডকূমেন্ট এর কমপক্ষে ২ টি সেট ট্যুরিষ্ট অফিসে জমা দিতে হবে। এবং এ কাজটি আপনি একা করতে পারবেন না। এজন্য আপনাকে অবশ্যই সিকিম সরকার অনুমোদিত কোন ট্যুর অপারেটর এর সাহায্য নিতে হবে এবং অবশ্যই একজন গাইড নিতে হবে। আর প্রতিটি স্পটে পার্মিশনের জন্য আপনাকে আগের দিন ট্যুরিষ্ট অফিসে ডকুমেন্ট গুলো ট্যুর অপারেটরের মাধ্যমে জমা দিতে হবে। আগের দিন জমা দিলে আপনি পরের দিন পার্মিশন পাবেন। আর পার্মিশন পাওয়ার জন্য আপনি যে গাড়িতে করে যাচ্ছেন সেই গাড়ির নম্বর ও ড্রাইভারের বৃত্যান্ত থাকতে হবে, যে কাজটি আপনার ট্যুর অপারেটর করে দেবে।

চতুর্থ পরামর্শঃ সিকিম ট্যুরের ক্ষেত্রে একটি গ্রুপে যাওয়াটা ভালো, এতে করে আপনার গাড়ি ভাড়া ও অন্যান্য খরচ কম পড়বে। গ্রুপের সাইজ ৪ থেকে সর্বোচ্চ ৮ জন হলে ভালো হয়। ৪ জন হলে টাটা ইনোভা টাইপ ছোট গাড়িতে ভ্রমন করতে পারবেন আর ৮ জন হলে টাটা সুমো বা বলেরো এসইউভি তে ভ্রমন করতে পারবেন। এতে করে খরচ কম হবে। তবে যেহেতু পাহাড়ি পথ, তাই ছোট গাড়ি অপেক্ষা টাটা সুমো বা বলেরো এসইউভি তে ভ্রমন করা অনেক নিরাপদ।

পঞ্চম পরামর্শঃ আমরা হোটেল বুকিং এর ক্ষেত্রে আজকাল বিভিন্ন অনলাইন সাইটে গিয়ে বুকিং দিয়ে থাকি। যেগুলোতে আসলে অনেক বেশি খরচ পড়ে যায়। এই সাইট গুলো কৃত্রিম সংকট তৈরী করে হোটেল প্রাইস বাড়িয়ে আপনাকে পানিকড করে তুলবে। তাঁর থেকে জায়গায় পৌঁছে একটু সময় নিয়ে নিজে দামাদামি করে হোটেল নিজ চোখে দেখে নিয়ে নেয়াটাই ভালো। আমরা প্রথমে অনলাইনে বুকিং দিয়ে সেটি ক্যানসেল করে গ্যাংটকে পৌঁছে হোটেল ঠিক করি। এতে করে আমাদের হোটেন ভাড়া প্রায় অর্ধেক এ হয়ে গিয়েছিলো।

ট্যুর অপারেটরঃ আপনারা যে হোটেল এ থাকবেন সে হোটেল থেকেই আপনাদের কাছে ট্যুর প্যাকেজ এর অফার করবে। অথবা আপনি চাইলে বাইরের ট্যুর অপারেটরের থেকেও ট্যুর এরেঞ্জ করিয়ে নিতে পারেন। আমরা প্রথমে আমাদের হোটেল থেকে একটি ট্যুর প্লান নিয়েছিলাম যেটি বেশ ব্যায়বহুল ছিল। আমরা যে কোন একটি কারনে সেটি আর নেইনি।

source: Shuvo Islam <TOB helpline

11 Feb 2019

স্মৃতির শহর সিলেট। আমার কর্মজীবনের শুরু এই শহরে। উচ্ছ্বল তারুণ্যের দুটি বছর কাটিয়েছি এখানে। ছুটির দিনে টইটই করে ঘুরেছি চা বাগান, ঝরণা আর টিলায়। শহর ছেড়ে একটু দূরেই সুনামগঞ্জ। কিন্তু কেনো জানি সুনামগঞ্জ আমায় কাছে ডাকেনি! শহর সিলেট ছেড়ে আসার ৮ বছর পরে সুনামগঞ্জ যাওয়ার সুযোগ হলো। মূলত রাতারগুল, বিছনাকান্দি, লালাখাল, জাফলং ঘুরে টাংগুয়ার হাওড় হয়ে টেকেরঘাট পর্যন্ত ট্যুর প্ল্যান সাজানো হয়েছে। ১০ জনের দল। দলনেতা আমাদের মেন্টর আসাদ স্যার। সংগী সহপাঠী-বন্ধু আবেদিন, আমিন, শাফায়াত, জাকি     র সহ নিয়মিত ভ্রমণসঙ্গীরা তো আছেই । সিলেট মেট্রোর জয়েন্ট সেশন জজ সুহৃদ সহকর্মী ইয়াসির আরাফাত লজেস্টিক সাপোর্ট দিচ্ছে। প্রথম দিনে জাফলং, লালখাল ঘুরে রাতে সুনামগঞ্জ পৌঁছে সার্কিট হাউজে উঠলাম।সুনামগঞ্জ সার্কিট হাউজ বেশ সুন্দর। রাতে সাদা ভাতের সাথে পাবদা মাছের ঝোল খেলাম কুটুমবাড়িতে। চা খেলাম খোলা চত্তরে দাঁড়িয়ে। কিছুটা পথ হেটে হাসন রাজার শহর দেখলাম। স্বভাবে বোহেমিয়ান এই সামন্ত রাজার বর্ণিল জীবন আর জোছনা বিলাসের গল্প শুনেছি। তাঁর প্রপৌত্র কবি মমিনুল মুউজদ্দিন সুনামগঞ্জ পৌর মেয়র ছিলেন। নন্দিত এই নেতা পূর্ণিমা রাতে শহরের স্ট্রিট লাইট নিভিয়ে দিতেন। পূর্ণিমাতে শহরের রাস্তাগুলো হয়তো রূপালী নদী হয়ে যেতো! বছরকয়েক আগে এক সড়ক দূর্ঘটনায় এই রোমান্টিক মানুষটি প্রাণ হারান। তিনি নেই, তাঁর সাজানো শহর রয়ে গেছে। জোছনাপিয়াসী মানুষ তাঁকে এখনো স্মরণ করেন। স্বাপ্নিক চলে গেলেও স্বপ্নেরা কখনো হারায় না! চন্দ্রভূক অমাবস্যার মাঝেও তাই কিছুক্ষণ চন্দ্রবন্দনা হলো। গল্পে-আড্ডায় ঘুম কি আসে!

টাংগুয়ার হাওড়:
২৯.১০.২০১৬ খ্রি. ভোরে রওয়ানা হলাম। গন্তব্য তাহিরপুর হয়ে টাংগুয়া- টেকেরঘাট- বারিক টিলা। যাত্রাপথেই সকালের নাস্তা করলাম কুটুমবাড়িতে। এই শহরে আমাদের কোন কুটুম ছিলো না ! হোটেলের নাম কুটুমবাড়ি। সেখান থেকেই তাহিরপুরের রাস্তা ধরলাম। বর্ষায় সাহেববাজার ঘাট থেকে ইঞ্জিনচালিত নৌকা ভাড়ায় পাওয়া যায়। ভাড়ায় চালিত মোটর সাইকেলেও যাদুকাটা নদীর পাড় ধরে টেকেরঘাট যাওয়া যায়। প্রায় দেড় ঘণ্টা মাইক্রোতে চড়ে তাহিরপুর থানায় পৌঁছলাম। আমরা সুনামগঞ্জ থেকে ৩০ কিমি. দূরে আছি। তাহিরপুর সুনামগঞ্জের উত্তরের থানা। তাহিরপুরের উত্তরে মেঘালয়ের খাসিয়া থানা। তাহিরপুরের ওসি সাহেবের সহায়তায় আগে থেকেই নৌকা রিজার্ভ ছিলো। সামিয়ানা টাংগানো রঙিন বজরা! হাওড়ে বরযাত্রার মতো ভাব। সামিয়ানার নিচে চেয়ার দেয়া হয়েছে। হাওড়ে ভ্রমণ শুরু হলো, ক্যামেরার ব্যস্ততাও বাড়লো। দেশের অনেক জেলার চেয়ে আয়তনে বড় সুনামগঞ্জ ও কিশোরগঞ্জের হাওড়। ঘাট থেকে নৌকা নিয়ে কিনশি ও বাউলাই নদী ধরে এগুচ্ছি। চারপাশে অপরূপ প্রকৃতি আর দু’পাড়ের গ্রামীণ সরল জীবন। স্বচ্ছ জল। কোথাও গভীর, কোথাও অগভীর। জলজ গুল্মগুলো ভাসছে জলে। জলের মাঝে হিজল, করচের সারি। মাথা উঁচু করে অস্তিত্ব জানান দিচ্ছে। ছোট নৌকাগুলো চলছে। বর্ষায় হাওড়ের মানুষের একমাত্র বাহন। বাচ্চারা স্কুলে যাচ্ছে, ডিংগিতে চড়ে। বাবা এগিয়ে দিচ্ছে তাদের, স্কুলে। দেখতে পেলাম ছোট্ট এক কিশোর ডিঙা বাইছে, সহযাত্রী তার মা। বীরপুরুষের ভাবখানা যেনো, মাকে নিয়ে যাচ্ছি অনেক দূরে! হাওড়ের বুকে চুনাপাথর ও কয়লা নিয়ে বড় বড় বোট আসা যাওয়া করছে। শীতের শুরুতেই হাওড়ে পানি কমে যায়, সাবমারসিবল রাস্তা ভেসে উঠে। দুপাশে সোনালী ফসলের মাঠ, আর মাঝে ধূলোমাখা পথ মিশে যায় দিগন্তে! শীতের টাংগুয়া অতিথি পাখির কলকাকলিতে মুখর হয়ে ওঠে। দেশের দ্বিতীয় রামসার সাইট টাংগুয়ার হাওড়ে ঝাঁকে ঝাঁকে অতিথি পাখি উড়ে বেড়ায়। শীতের শুরুতে নেপাল, চীন, মঙ্গোলিয়া, সাইবেরিয়াসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে হাজার হাজার মাইল পথ অতিক্রম করে টাংগুয়ায় আসে লেনজা, মৌলভী, বালিহাঁস, সরালি, কালিম, মানিক-জোড় সহ শতাধিক প্রজাতির অতিথিরা। টাংগুয়ার রাজা কুড়া ঈগল বাসা বাঁধে উঁচু হিজল-তমাল কিংবা করচের ডালে। বর্ষায় টাংগুয়া যেনো এক মহাসমুদ্র! হাওড়ের বুকে ছোট ছোট গ্রাম গুলো দ্বীপের মতো ভেসে থাকে! বর্ষা মৌসুমে গোটা টাংগুয়ার পরিণত হয় ২০-২৫ ফুট জলের এক স্বচ্ছ অ্যাকুরিয়ামে। আকাশের নীল নেমে আসে হাওড়ে। অথৈ পানিতে ভাসে ছোট ছোট গ্রাম। বাউরি বাতাসে আফাল(ঢেউ) উঠে। আফালের তালে ভাসমান হিজল তমাল দোলে! বর্ষায় ভাটির বউয়েরা নাইওর যায় বাপের বাড়িতে। ভাটির পুরুষের কাজ থাকে না। সামর্থবানেরা তখন বজরা ভাসায়। পূর্ণিমা রাতে ঘেটু গান চলে। ভাটির পুরুষের আদিম বিনোদন! ভাটির পুরুষের কথা মনে হলেই ভেসে ওঠে বাউল সম্রাট শাহ আব্দুল করিমের মুখ। তিনি জন্মেছিলেন ১৫ ফেব্রুয়ারি ১৯১৬ সালে, সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার উজানঢল গ্রামে। কালনী নদীর তীরে বাঁশি বাজিয়ে তাঁর বাউলিয়ানা শুরু। নিভৃতচারী এই বাউল সাধক আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন ২০০৯ সালের ১২ সেপ্টেম্বর। সেলফোনে তাঁর গান শুনলাম, ক্যানো পিরিতি বাড়াইলারে বন্ধু ছাইড়া যাইবা যদি! বুকের ভেতরটা ক্যামন যেনো করে তাঁর গান শুনলে! মাঝি ডাক দিলো, ঐ টাংগুয়া ওয়াচ টাওয়ার দেখা যাচ্ছে। ওয়াচ টাওয়ার ঘেষে বজরা থামলো। আমরা ওয়াচ টাওয়ারে উঠলাম। চারপাশের সৌন্দর্য বর্ণনা করা সম্ভব নয় ভাষা হারিয়ে মৌনতা আবেশ ছড়ায়! কিছুক্ষণ টাওয়ারে কাটালাম। তারপর বজরা ছাড়লো, গন্তব্য টেকেরঘাট।

টেকেরঘাট:
দুপুর ১২-৩০ টায় আমরা টেকেরঘাটে নামলাম। ঘাটে শ্রমিকরা কয়লার বস্তা বোটে তুলছে। প্রাকৃতিক কয়লা। চুনাপাথরও উঠছে কিছু বোটে। একসময় এ ঘাট চুনাপাথরের জন্য জমজমাট ছিলো। ফাঁড়ি ইন চার্জ এ এস আই তপন আমাদের অভ্যর্থনা জানালেন। আমাদের যাতায়াতের জন্য মোটর বাইক ঠিক করে তিনি দুপুরের খাবার আয়োজনে চলে গেলেন। স্থানীয় মাঝি জানালেন, টেকেরঘাট একসময় ব্যস্ত বাজার ছিলো। রেললাইন চালু ছিলো চুনাপাথর ও কয়লা আহরণের জন্য। আজ শুধু স্মৃতি! মানুষের কাজ নেই। ব্যস্ততা নেই। খদ্দের না থাকায় খাবারের ভালো কোন হোটেলও নেই। পাশে বড়ছড়া বাজার, ভারতের। সেখানে প্রবেশাধিকার নেই। বড়ছড়া চারাগাঁও কয়লা শুল্ক স্টেশন। এখান থেকে কয়লা ও চুনা পাথর আমদানী হয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে চলে যায়। তবে এখন অনেকটাই স্থবিরতা চলছে। গল্পে কথায় সময় চলে যায়, তাই ফটো সেশন শেষে ইঞ্জিন স্টার্ট দিতে হলো।

বারিকটিলা ও জাদুকাটা নদী:
পাঁচটি বাইকে রওয়ানা হলাম বারিকটিলার উদ্দেশ্যে। প্রতিটিতে দু’জন করে উঠলাম। রাইডারই আমাদের গাইড। ডানে টেকেরঘাট হাওড়, বামে মেঘালয়ের উঁচু পাহাড়। মাঝে সরু পিচঢালা পথ। আমাদের রাইডার সুমন এলাকার সুখদু:খের গল্প বলছে। জানালো, ‘ভারতের লোক এ গ্রামে আসে অনায়াসে। বিএসএফ কিছু বলে না। কিন্তু তারা যেতে পারে না ওপাড়ে। জিজ্ঞেস করলাম, একেবারেই কি যাও না? সুমন হেসে জবাব দিলো, বিনি পাসপোর্টে সীমানা পারের আগে ইন্ডিয়ান স্টাইলে চুল কেটে যায়! বি এস এফ তখন বুঝতে পারে না! বুঝতে পারলাম, দু দেশের চুলকাটায় পার্থক্য আছে। রাস্তার পাশেই বিস্তীর্ণ সোনারঙা ধানক্ষেত চোখে পড়লো, অদূরেই ইন্ডিয়ার পাহাড়। ঠিক যেনো মাঠের পরে দূরের দেশ! বাইক থামিয়ে ছবি তুললাম। পাহাড়গুলো কয়লা, বালি বা চুনাপাথরের। প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর। বর্ষার জলে কিছু কয়লা ও চুনাপাথর বড়ছড়া দিয়ে গড়িয়ে আসে। গরিবেরা কুড়িয়ে নেয়। আর কিছুই ফ্রি নেই, আমদানি করতে হয়। বাণিজ্যে বসত লক্ষ্মী হলেও স্থানীয় জনগণ লক্ষ্মীর সন্ধান পায়নি মনে হলো। পথে গীর্জা দেখলাম। পাহাড়ের উপর ভারতের পতাকা উড়ছে। বিএসএফ ক্যাম্প। ভিনদেশের সবুজ পাহাড়ের পাদদেশ দিয়ে কুড়ি মিনিট পার হলাম। দেখতে অনেকটা উইন্ডোজ ৯৮ এর নাপাভ্যালির ল্যান্ডস্কেপ। হঠাৎ রাস্তা চড়াই হয়ে গেলো। তিনজন নিয়ে বাইক আর চলছে না। রাইডার জানালো বারিক টিলায় এসে গেছি। খাড়া রাস্তা, হাইওয়ে টু হ্যাভেন! জংগলের ভেতর দিয়ে হাঁটা পথে এগিয়ে বাইক দাঁড়ালো উঁচু পাহাড়ের কিনারায়। বারিকটিলা। ভয়ংকর সুন্দর! টিলার পাশ খাড়া নেমে গেছে, প্রায় ৮০০ ফিট নিচে জাদুকাটা নদী। ভয় কাটিয়ে যা দেখলাম, অবিশ্বাস্য! সুবহানাল্লাহ!

আমরা ট্রেক করতে গিয়ে অনেকবার চমৎকৃত হয়েছি সাংগুতে, বড়পাথরের বিশালতায়, নাফাখুমের ফেনিল গর্জনে,বগালেকের নীল পদ্মে, কেওক্রাডাং চূড়ায় হঠাৎ-বৃষ্টির রাতে কানফাটানো বজ্রঝড়ে, তাজিংডং এর চূড়ায় আকাশ ছুঁয়ে, পাসিং পাড়ায় ভোরে মেঘের ভেলায় হারিয়ে গিয়ে, তৈদু-সিজুক কিংবা খৈয়াছড়ার জলস্রোতে , পাবলাখালির গা ছমছমে নিস্তব্ধ অরণ্য অথবা কটকার ঘাসবনে, নিঝুম দ্বীপে বনকুকুরের পাশ কাটিয়ে হরিণের পিছু ছুটে। সবই আকাঙ্ক্ষিত ছিলো। কিন্তু বারিকটিলা থেকে জাদুকাটা নদী, হঠাৎ! ক্ষুদ্র জীবনে নিজ চোখে দেখা অন্যতম সুন্দরের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছি। সুনীলের পাহাড় চূড়ার কথা মনে পড়লো। যখন স্রষ্টার সামনে নিজেকে অতি তুচ্ছ মনে হয়! খাড়া পাহাড়ের নিচে জাদুকাটা বয়ে যাচ্ছে। মেঘালয়ের কোন ঝর্ণার বুকে জন্মানো জাদুকাটা বাংলাদেশে প্রায় ২৩ কিমি পাড়ি দিয়ে সুরমায় মিশেছে। বাংলাদেশের সুন্দরতম নদীগুলোর মাঝে একটি জাদুকাটা! বর্ষাকালে এটি অনেক প্রশস্ত হয়ে যায়। মাইল জুড়ে বিস্তৃত বেলাভূমি দেখে বর্ষাকালে পাহাড়ি নদীর উন্মত্ততা আঁচ করা যায়। এমনই দেখেছিলাম সুসং দুর্গাপুরের সোমেশ্বরী নদীতে। জাদুকাটার স্বচ্ছ নীলচে সবুজ জল এতটাই স্বচ্ছ যে নদী তীর থেকে তলদেশ দেখা যায়। এ নদী থেকে প্রায় প্রতিদিন ২০ হাজার শ্রমিক নুড়ি পাথর, বোল্ডার পাথর ও বালি তুলে জীবন চালায়। বারিকটিলার জিরো পয়েন্ট। সীমানা পিলার নম্বর ২০৩। এরপরে নো ম্যানস ল্যান্ড। বেশিক্ষণ দাঁড়াতে মানা। অদুরেই বি এস এফ’র এসল্ট রাইফেল প্রখর রোদে ঝলকায়! সময় দুপুর ১-১৫ টা। যখন পিলারে সবাই ছবি তুলছি বন্ধু আবেদীনকে খুঁজে পেলাম না। বারিকটিলা থেকে জাদুকাটায় পড়ে গেলে রক্ষা নাই! পরে তাকে খুঁজে পেলাম। পাহাড়ের ভিন্ন পাশে নৌকার ছবি তুলতে গিয়েছে। সেদিকে তাকিয়ে হতবাক হয়ে গেলাম! মনে হলো হলিউড মুভি ট্রয়ের কোন দৃশ্য। গ্রিসের রাজা আগামেনন যখন হাজার জাহাজ নিয়ে ইজিয়ান সাগর পাড়ি দিয়ে ট্রয় নগরীর সীমানায় এসেছিলেন, ট্রয়রাজ প্রায়াম হয়তো এমনি অবাক বিষ্ময়ে তাকিয়ে ছিলেন! জাদুকাটার প্রশস্ত বাঁকের ওপারে বিশাল বালুচরে হাজার হাজার পিঁপড়া যেন নড়ছে। আশ্চর্য! মানুষ! সব মানুষ! কাজ করছে। বালি খুঁড়ে পাথর তুলছে। চুনাপাথর, বড় পাথর। ডানে তাকালাম। মেশিনের শব্দ ভেসে আসে। হাজারো বোট নোঙর করা। পানির নিচে পাথর কাটছে। এত মানুষ কাজ করছে, এত বোট, ব্যস্ত সবাই! কল্পনা বিলাসী মন ভেবেছে একিলিস-হেক্টর যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে! দলনেতা আসাদ স্যারের তাড়ায় আর ছবি তোলা হলো না।

কোয়ারি লেক (নীলাদ্রি):
বাইকে ফিরছি টেকেরঘাটে। পথেই পরিত্যাক্ত লাইমস্টোনের খনি। চুনাপাথর তোলায় ১০০/১৫০ ফিট গভীর হয়ে লেকে রূপ নিয়েছে। এটাই কোয়ারি লেক। ডিজিটাল নাম নীলাদ্রি! নীল-অবনীল। চোখে না দেখলে বিশ্বাস হতো না হয়তো, পানির রঙ এতটা নীল হয়। প্রকৃতির মায়াবী রূপ! লেকের ওপাড়ের পাহাড়ের নিচের অংশটুকু বাংলাদেশ এর শেষ সীমানা। বড় উঁচু পাহাড়টিতে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া আছে। শুনেছি ২৫০ ফুট গভীর ছিলো লেকটি। বালি ও পাথর পড়ে গভীরতা হারিয়েছে। এখনও প্রায় ১৫০ ফুট গভীর। ১০ মিনিট সময় পেলাম গোসলের জন্য। নেমে পড়লাম শান্ত সলীলা হ্রদে। পাশে পড়ে আছে রেল লাইন। শ্রমিকদের ঘর। একদা ব্যস্ত অফিস এখন পরিত্যক্ত প্রায়। কোয়ারি নামের মাঝে শ্রমিকদের সুখদু:খ গাঁথা আছে। মিশরের পিরামিড তৈরি হয়েছিলো চুনাপাথর দিয়ে। সেখানেও আছে পাথর কোয়ারি। হাজারো শ্রমিকের রক্ত-ঘাম ঝরেছে ওখানে-এখানে। হালের নাম নীলাদ্রি হলেও স্থানীয়রা কোয়ারি নামেই স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে। লেকে
গোসল সেরে মাদার কেয়ার কিন্ডার গার্টেনে গেলাম। দুপুরের খাবারের আয়োজন সেখানে। সময় দুপুর ২-১৫ টা। শীতল জলে অবগাহন পেটে আগুন জ্বালিয়েছে! ডাল, আলুভর্তা, ছোট চিংড়ির ভুনা, বোয়াল! চমৎকার রান্না। স্বাদ যেন লেগে আছে জিহ্বায়! বিকেলে হাওড়ের একই পথে ফিরলাম তাহিরপুর। অবশ্য বারিকটিলা থেকে নেমে খেয়ানৌকায় নদী পার হয়ে মোটর বাইকে সরাসরি সুনামগঞ্জ / তাহিরপুর যাওয়া যায় বলে বাইক রাইডার জানিয়েছে। তাহিরপুর থানায় যখন পৌঁছি তখন সূর্য অস্তাচলে। দিগন্তজোড়া খোলা হাওড়ে সূর্যাস্ত অপরূপ! অনেকক্ষণ উপভোগ করলাম। রাত্রি নেমে এলো। পরবর্তী গন্তব্য সোয়াম্প ফরেস্ট-রাতারগুল।

source: Muntasir Russell‎ <Travelers of Bangladesh (ToB)

11 Feb 2019

বাংলাদেশের ইতিহাস নিয়ে একটু ঘাটাঘাটি করলেই খুব সহজেই জানতে পারা যায় যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মানে কেবল একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানই নয় বরং এটি পুরোটা মিলে যেন একটা ইতিহাস। এদেশের প্রতিটা ইতিহাসের সাথে কোথাও না কোথাও জড়িয়ে আছে এর ইতিহাসের গল্প। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কথা প্রথমেই আমাদের মনে আসলেই যেই ভবনের ছবি সবার চোখের সামনে ভেসে ওঠে এটি হচ্ছে কার্জন হল। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ন্যায় এই ভবনটিও আমাদের অনেক ইতিহাসের সাক্ষী।

কার্জন হল বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকাতে অবস্থিত একটি ঐতিহাসিক ভবন। যা পুরাকীর্তি হিসেবে বহুকাল ধরেই স্বীকৃত। যদিও এটি বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান ও জীব বিজ্ঞান অনুষদের কিছু শ্রেণীকক্ষ ও পরীক্ষার হল হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এর ইতিহাস থেকে জানা যায় ১৯০৪ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি ভারতের তৎকালীন ভাইসরয় ও গভর্নর জেনারেল জর্জ কার্জন এই ভবনটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। বঙ্গভঙ্গ ঘোষিত হওয়ার পর প্রাদেশিক রাজধানী হিসেবে ঢাকাকে গড়ে তোলার জন্য রমনা এলাকার যেসব ইমারতের গুরুত্ব বৃদ্ধি পায় কার্জন হল তাদের মধ্যে অন্যতম।

কার্জন হল নির্মাণের জন্য অর্থ প্রদান করেন

ভাওয়ালের রাজকুমার।

কার্জন হল অবশ্য প্রথম অবস্থায় নির্মিত হয়েছিল টাউন হল হিসেবে। তবে অনেকে বলে থাকে এটি প্রথম নির্মিত হয় ঢাকা কলেজের পাঠাগার হিসেবে। এই ভবনটি নির্মাণের জন্য অর্থ প্রদান করেন ভাওয়ালের রাজকুমার। ১৯১১ সালে বঙ্গভঙ্গ স্থগিত হয়ে গেলে ঢাকা কলেজের ক্লাস নেওয়া হতে থাকে কার্জন হলে। পরবর্তী সময়ে ১৯২১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপিত হলে কার্জন হল অন্তর্ভুক্ত হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগের জন্য। যা আজও ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

১৯০৪ সালে ভারতের ভাইসরয় লর্ড জর্জ নাথানিয়েল কার্জন, কার্জন হলের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন এবং তারই নামানুসারে এ ভবনের নাম হয় কার্জন হল। এ ভবনটিতে সংযোজিত হয়েছে ইউরোপ ও মুগল স্থাপত্য রীতির দৃষ্টিনন্দন সংমিশ্রণ, আংশিকভাবে মুসলিম স্থাপত্যরীতিও অনুসরণ করা হয়েছে। ভবনের বাইরের দিকে কালচে লাল রঙের ইট ব্যবহার করা হয়েছে। আধুনিক স্থাপত্য বিদ্যা এবং অসাধারণ মোগল কাঠামোর সমন্বয়ে তৈরি করা হয়েছে এর খিলান ও গম্বুজগুলো। ঐতিহাসিক স্থাপনা হিসেবে এটি চিরকালই প্রশংসা কুড়িয়ে যাবে।

ঐতিহাসিক কার্জন হল

যেভাবে যাবেন :

আপনি অন্য জেলায় বসবাস করলে প্রথমেই আপনাকে ঢাকায় আসতে হবে। তারপর ঢাকার যেকোনো প্রান্ত থেকে নিজস্ব পরিবহন অথবা যেকোনো লোকাল পরিবহনে করে হাইকোর্ট এলাকা, শাহবাগ এলাকা অথবা পুরান ঢাকা এলাকায় এসে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হলের কথা বললে যে কেউ আপনাকে দেখিয়ে দেবে। অসাধারণ এই স্থাপত্য আপনাকে অবশ্যই মুগ্ধ করবে।