Archives

যাতায়াত পরিকল্পনা (Route Plan)

24 Jun 2019

বাংলাদেশের একমাত্র পাহাড়ি দ্বীপ মহেশখালী কক্সবাজার থেকে মাত্র ১২ কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত। জনশ্রুতি আছে,১৫৫৯ সালের প্রচন্ড ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের ফলে মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে এই দ্বীপের সৃষ্টি হয়।পান,মাছ,শুটকি,চিংড়ি,লবণ ও মুক্তা উৎপাদনে এই উপজেলার সুনাম রয়েছে। মহেশখালী উপজেলায় সোনাদিয়া,ধলঘাটা ও মাতারবাড়ি নামে তিনটি ছোট দ্বীপ রয়েছে।

সোনাদিয়া এদের মধ্যে সবচেয়ে সুন্দর। এই দ্বীপটির আয়তন প্রায় ৯ বর্গ কিমি। তিন দিকে সমুদ্র সৈকত, সাগর লতায় ঢাকা বালিয়াড়ি, কেয়া- নিশিন্দার ঝোপ, ছোট-বড় খাল বিশিষ্ট প্যারাবন এবং বিচিত্র প্রজাতির জলাচর পাখি দ্বীপটিকে করেছে অনন্য বৈশিষ্ট্যমন্ডিত।দ্বীপের মূল আকর্ষণ সম্ভবত স্বচ্ছ নীল পানি আর সমগ্র সৈকত জূড়ে ছোটাছুটি করা অসংখ্য লাল কাকড়া। সোনাদিয়া দ্বীপের মানব বসতির ইতিহাস মাত্র ১০০-১২৫ বছরের।দ্বীপটি ২টি পাড়ায় বিভক্ত। পূর্ব ও পশ্চিম পাড়া। দ্বীপের মোট জনবসতি প্রায় ২০০০ জন। এই দ্বীপে ২টি মসজিদ, ১টি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ১টি সাইক্লোন সেন্টার, আনুমানিক ১২টি গভীর নলকূপ রয়েছে। পূর্ব পাড়ায় তুলনামূলকভাবে জনবসতি বেশী।

ক্যাম্পিং করার জন্য আদর্শ একটা জায়গা এই সোনাদিয়া, বন্ধুরা মিলে তাবু নিয়ে দুইদিনের জন্য ছুটে যেতে পারেন নির্জন এই দুটি দ্বীপে। বিশেষ করে চাঁদনী রাতে সোনাদিয়ার সৈকতে একটা রাত ক্যাম্পিং আর বার বি কিউ পার্টি করে দেখতে পারেন, দেখুন দুনিয়াটা কত সুন্দর।গত বছর ১৯ জনের দল নিয়ে আমারো সুযোগ হয়েছিলো এই অপার্থিব সৌন্দর্য উপভোগ করার। সেই সুবাদে এই ভ্রমণ বৃত্তান্ত রচনা!

টিওবির নিয়মানুযায়ী এখানে ৫টার বেশি ছবি দেয়া সম্ভব হলো না।তবে এই স্থানের প্রকৃত সৌন্দর্য বোঝার জন্য আপনার নিচের এলবামটা দেখা উচিতঃ

কীভাবে যাবেন?
মহেশখালী-সোনাদিয়া যাওয়ার জন্য আপনাকে আগে চট্টগ্রাম আসতে হবে। চট্টগ্রাম থেকে আপনি দুই ভাবে যেতে পারেন।নৌপথে আর সড়ক পথে।

নৌপথঃ
চট্টগ্রাম থেকে আপনাকে সরাসরি যেতে হবে কক্সবাজার।দামপারা আর নতুন ব্রিজ থেকে অনেক বাস আছে।ভাড়া ২৫০ টাকা জনপ্রতি।আনুমানিক ৪ ঘণ্টায় আপনি পৌঁছে যাবেন।কক্সবাজারের ডলফিন মোড়ে নেমে রিকশা/সিএনজি/টমটম নিয়ে আপনাকে যেতে হবে ৬ নং ঘাট।এক্ষেত্রে টমটম/সিএঞ্জি ১০০ টাকা আর রিকশা ৫০ টাকা ভাড়া নিবে।সেখানে মহেশখালী যাওয়ার জন্যে স্পীড বোট পাবেন। ভাড়া প্রতিজন ৭৫ টাকা। মহেশখালী ঘাটে পৌঁছতে সময় লাগবে ১২-১৫ মিনিট। স্পীড বোটে চড়তে ভয় লাগলে গাছের বোটে চড়ে আসতে পারেন। ভাড়া ৩০ টাকা। সময় লাগবে ৪৫-৫০ মিনিট। মহেশখালী ঘাটে নেমে রিক্সা নিয়ে চলে আসবেন গোরকঘাটা বাজার। ভাড়া ২০ টাকা। এরপর আপনাকে যেতে হবে ঘটিভাঙ্গায়।মহেশখালীর গোরকঘাটা থেকে ঘটিভাঙার দূরত্ব ২৪ কিলোমিটার। ৩-৪ জন হলে একটা সিএনজি নিয়ে যেতে পারেন ঘটিভাঙ্গা। ভাড়া ১৫০-১৭০ টাকা।ঘটিভাঙা নেমে খেয়া নৌকায় সোনাদিয়া চ্যানেল পার হলেই সোনাদিয়া। ভাটার সময় খালে খুব বেশি পানি থাকেনা। সোনাদিয়া যাওয়ার দুটো উপায় আছে। হেঁটে যাওয়া অথবা জোয়ার এলে নৌকা। প্রতিদিন জোয়ারের সময় পশ্চিম সোনাদিয়া থেকে ঘটিভাঙা পর্যন্ত মাত্র একবার একটি ট্রলার ছেড়ে আসে। এই ট্রলারটিই কিছুক্ষণের মধ্যে যাত্রীদের তুলে নিয়ে আবার ফিরতি যাত্রা করে। ভাড়া প্রতিজন ২৫ টাকা।

সড়কপথঃ
চট্টগ্রামের নতুন ব্রিজ থেকে চকরিয়া বা কক্সবাজারগামী যেকোনো বাসে উঠে যেতে হবে।নামতে হবে চকরিয়া বাস টার্মিনালে।সময় লাগবে প্রায় ৩ ঘন্টা। জনপ্রতি ভাড়া ১৭০ টাকা।সেখান থেকে চাঁদের গাড়ী বা জিপ নিয়ে আপনাকে যেতে হবে বদরখালী।এখানে জনপ্রতি ভাড়া ৫০ টাকা করে আর পুরো গাড়ী রিজার্ভ করলে ৭০০ টাকা।গাড়িতে ১৩/১৪ জন বসা যায়।চকরিয়া-বদরখালী রাস্তাটা খুবই সুন্দর।বদরখালী পৌঁছাতে প্রায় ৪০ মিনিট লাগবে।সেখান থেকে আবার সিএনজি করে আপনাকে যেতে হবে মহেশখালীর ঘটিভাঙ্গা।এটা প্রায় ১.৫ ঘন্টা সময় নিবে।পুরো সিএঞ্জি ভাড়া নিবে প্রায় ৪০০ টাকা করে।এরপর আগের পদ্ধতিতে আপনি সোনাদিয়া যেতে পারেন।

আমার পথঃ
এবার আসি আমি কোন পথ অবলম্বন করেছি সে কথায়।যাওয়ার সময় আমি নৌপথে গিয়েছি।তবে এক্ষেত্রে আমি কক্সবাজারের ৬ নং ঘাট থেকে ২ দিনের জন্য একটা ট্রলার রিজার্ভ করে নেই এবং মহেশখালী না গিয়ে সরাসরি সোনাদিয়া চলে যাই। এক্ষেত্রে সুবিধা হচ্ছে,আমরা নিজেদের ইচ্ছা মতন নৌকা নিয়ে আসে পাশের আরো অনেক চড় ঘুরে দেখার সুযোগ পেয়েছি।পরদিন একই নৌকা আমাদেরকে মহেশখালী নামিয়ে দেয়। ফেরার সময় আমরা সড়ক পথে ফিরে যাই।এতে করে সড়ক ও নৌপথ,২টার মজাই পাওয়া যাবে।আমাদের কাছে ২ দিনের ট্রলার ভাড়া নিয়েছিলো ৪০০০ টাকা।এতে প্রায় ২৫ জন বসা যাবে।

কোথায় ঘুরবেন?

মহেশখালীঃ মহেশখালীতে ঘুরার জন্য টমটম সবচেয়ে ভালো।আমরা সারাদিন ঘুরার জন্য টমটম রিজার্ভ করে নেই।একটা টমট্মে ৮ জন বসতে পারে।আমাদের কাছে পুরো দিনের জন্য ভাড়া নিয়েছে ৮০০ টাকা।মহেশখালীর নিচের স্থানগুলো ঘুরা আবশ্যক।
১।আদিনাথ মন্দির
২।বৌদ্ধ মন্দির
৩।স্বর্ণ মন্দির
৪।মহেশখালী ঘাট
৫।পানের বরজ
৬।রাখাইন পাড়া
৭।সমুদ্র সৈকত
৮।শুটকি বাজার

সোনাদিয়াঃ সোনাদিয়া মূলত ২টি পাড়ায় বিভক্ত।পূর্ব পাড়া আর পশ্চিম পাড়া।মূল বসতি ও ক্যাম্পসাইট হলো পশ্চিম পাড়ায়। পূর্ব পাড়াটা নৌকা দিয়ে যাওয়ার সময়ই ঘুরে ফেলতে হবে।নৌকা আধা ঘণ্টার জন্য ভিড়ীয়ে ঘুরে ফেলে আবার পশ্চিম পাড়া চলে গেলে ভালো হয়। কারণ পায়ে হেটে পূর্ব পাড়া হতে পশ্চিম পাড়া যাওয়াটা বেশ কষ্টসাধ্য।
পশ্চিম পাড়া সৈকতেই মূলত আপনাকে টেন্ট সেট করতে হবে।যদিও এখানে টেন্ট ভাড়া পাওয়া যায়,তবে আমরা সাথে করে নিয়ে গিয়েছিলাম।পশ্চিম পাড়ায় আছে কাছিম প্রজনন কেন্দ্র।সিজনে আসলে আপনি এখানে কাছিম দেখতে পাবেন।এছাড়াও আছে শুটকিপল্লী যা দেশের সর্ববৃহৎ শুটকি উৎপাদন কেন্দ্র।এখানে আপনি সরাসরি মাঠে রোদ থেকে নিজের পছন্দ মত শুটকি বাছাই করে কিনে নিতে পারবেন।আবার এর পেছনের দিকে সামান্য সোয়াম্প ফরেস্টও আছে।

কোথায় খাবেন?
মহেশখালিতে তো আপনি অনেক হোটেল পাবেন খাওয়ার জন্য,কিন্তু সোনাদিয়া তে হোটেল তো দূরে থাক,কোন টং দোকানও পাবেন না।তাই এক্ষেত্রে আপনাকে স্থানীয় কোন বাড়িতে খাবারের ব্যাবস্থা করতে হবে।আমরা সৈকতের কাছেই সাইফুল ভাই এর বাড়িতে খাবারের আয়োজন করেছি।খাবারের পাশাপাশি তাদের বাথরুম ব্যবহার করেছি আমরা।এছাড়া ওই বাড়ির দুইজন সিকিউরিটি গার্ড হিসেবে সারা রাত আমাদের তাঁবু পাহাড়ায় ছিলো।এগুলোর সাথে আমাদের ১৯ জনের ৩ বেলা খাবার বাবদ তাকে মোট ৮০০০ টাকা দিতে হয়েছে।খাবারের মেনু ছিলো কোড়াল মাছ,শুটকি ভর্তা,আলু ভর্তা,ডাল।কারো লাগলে সাইফুল ভাই এর সাথে যোগাযোগ করতে পারেন- ০১৮৫০৩৯৩৪৬৩। তিনিই আমাদেরকে ট্রলার ঠিক করে দিয়েছিলেন।

সতর্কতাঃ
১।কক্সবাজারের মত মহেশখালী/সোনাদিয়ার সৈকতে ডেইঞ্জার পয়েন্ট চিহ্নিত করা নেই।নেই কোন রেসকিউ টিম।তাই সাগরে নামার সময় সাবধানে থাকুন।
২।সোনাদিয়ার পুরো দ্বীপে কোন দোকানপাট বা বাজার পাবেন না।তাই প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র আগে থেকেই নিয়ে আসুন।
৩।সোনাদিয়ায় বিদ্যুত নাই।তাই পাওয়ার ব্যাংক আবশ্যক।
৪।স্থানীয় মানুষজন খুবই অতিথিপরায়ণ।তবু এদের সাথে কোন তর্কাতর্কিতে না যাওয়াই ভালো।
৫।চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষায় দক্ষতা না থাকলে যোগাযোগে আপনার বেশ ঝামেলা পোহাতে হতে পারে।
৬।জোয়ার-ভাটার ব্যাপারে বিশেষ জ্ঞান রাখা লাগবে।
Source:  Saadman Ishraque‎ <Travelers of Bangladesh (ToB)

24 Jun 2019

সেকশন বি আনসেন্সরড গ্রুপটা ট্যুরে যাইনা অনেক দিন। ভাবলাম, ভার্সিটি জীবন শেষ বলে কি আমরা আর ট্যুর দিবনা! একসাথে গান, আড্ডা, ঘুরাঘুরি, রাতযাপন হয়না অনেকদিন। তাই আমরা কয়েকটা পাগল মিলে ঠিক করলাম সব যে দিকে যায় যাক, ট্যুরে আমরা যাবই। খুঁজে পেতে আমরা সাতজন হলাম। প্ল্যানিং করতে করতে ঠিক করলাম কক্সবাজার যাব😁(একাধিকবার এখানে যাওয়া হয়েছে, তবুও)। গত ২০জুন দিবাগত রাত ১১টায় সায়দাবাদ থেকে বাসের টিকেট কেটে রওনা দিয়ে দিলাম কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে। কিন্তু আপনার টিম যখন একটু পাগলা কিছিমের হবে এবং ট্যুরের আগে ৭/৮টা জায়গার প্ল্যান করে করে আবার যাওয়া জায়গায়ই ট্যুর দেওয়ার চিন্তা করবে, তাদের দ্বারা যেকোন কিছুই হতে পারে😀।

আমরা যখন চকোরিয়ার কাছাকাছি, তখনই হুট করে ম্যানেজার বন্ধু সিদ্ধান্ত নিল যে চকোরিয়া নেমে যাবে। সেখান থেকে কুতুবদিয়া যাবে। যেই ভাবা সেই কাজ, গেলাম নেমে। চকোরিয়াতে দুইটা স্ট্যান্ড আছে যেখান থেকে সিএনজি আর লেগুনা যায় মগনামা ঘাটে৷ বলে রাখা ভাল, কুতুবদিয়া যেতে হলে প্রথমে চকোরিয়া নেমে মগনামা ঘাটে যেতে হবে। প্রথম স্ট্যান্ড থেকে লেগুনা যায় জনপ্রতি ৪০ টাকা করে। তবে আমরা চকোরিয়া বাস স্ট্যান্ড থেকে সিএনজি রিজার্ভ করে যাই, প্রতি সিএনজি ৩০০ টাকা করে দুইটা সিএনজি নিই। মগনামা ঘাটে পৌঁছে আপনাকে ঘাট ভাড়া দিতে হবে জনপ্রতি ৩ টাকা করে। তারপর কুতুবদিয়া যেতে হলে আপনাকে কুতুবদিয়া নদী পার হতে হবে। ট্রলারে গেলে ৪০মিনিটের মত লাগবে, যেখানে জনপ্রতি ভাড়া ২০ টাকা করে, আর যদি স্পিডবোটে যান তবে জনপ্রতি ভাড়া ৭০টাকা করে।

আপনি চাইলে স্পিডবোট রিজার্ভ করে নিতে পারবেন, সেক্ষেত্রে আপনাকে ৭০০ টাকা দিতে হবে, আর লোক উঠতে পারবেন সর্বোচ্চ ১০ জন। আরেকটা ব্যাপার হচ্ছে মগনামা ঘাট থেকে কুতুবদিয়ার বড়ঘোপঘাটে যাওয়ার জন্য শুধু একটা স্পিডবোটই আছে (কুতুবদিয়ার আরেকটা ঘাট আছে যেখানে লাইঠাউজ আছে একটা, সেই ঘাটের নাম জানা নেই, সেখানের জন্যও বোট আছে)। যাই হউক, বোটে করে রওনা হয়ে ১০/১২ মিনিটের মধ্যেই পৌঁছে গেলাম বড়ঘোপঘাট। ঐ ঘাটে পৌঁছে আবার জনপ্রতি ৩টাকা করে ঘাট ভাড়া দিতে হবে। সেখান থেকে থেকে ব্যাটারিচালিত অটো করে গেলাম বড়ঘোপঘাট বাজারে। সেখানে সমুদ্রবিলাশ নামে একটা বোর্ডিং আছে, যেটা মূলত প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

আমরা সেটাতেই উঠলাম। একটু বলে কয়ে ৭জন একটা রুমেই উঠলাম। এক দিনের ভাড়া ১৫০০। দুপুরে খাবার সমুদ্রবিলাস হোটেলেই সারলাম। হোটেল থেকে ভিউ এক কথায় মাইন্ড ব্লোয়িং এবং ওদের খাবারের মানও যথেষ্ট ভাল। গরুর মাংসটা সবচে ভাল ছিল। খাওয়াদাওয়া শেষ করে দ্বীপ ঘুরতে বের হলাম। হোটেল থেকে দক্ষিণ দিকে হাঁটা ধরলাম। হাঁটতে হাঁটতে কতক্ষণ যে হাঁটলাম ঠিক খেয়াল নেই। তা প্রায় ২ঘন্টার কাছাকাছি হবে। হাঁটতে হাঁটতে পেয়ে গেলাম বায়ু বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র। তবে এই দ্বীপের বিদ্যুতের প্রধান উৎস হচ্ছে সৌরবিদ্যুৎ। নির্দিষ্ট সময় সময় কারেন্ট অফ-অন থাকে। সন্ধ্যায় রুমে ফিরলাম লেগুনা নিয়ে। এই দ্বীপটা মনুষ্যবসতির দ্বীপ, এখানের মানুষের জীবিকার প্রধান উৎস হচ্ছে মাছ ধরা।

স্কুল, কলেজ, থানা সবকিছুই আছে। রয়েছে কুতুবপীরের মাজার, যার নামে নামকরণ হয়েছে এই দ্বীপের। দ্বীপটা পর্যটন এলাকা হয়ে উঠেনি এখনও, যারা একটু অপ্রচলিত ট্যুর দিতে চান তাদের জন্য এটা সেরার মধ্যে একটা অপশন। সমস্যা হচ্ছে স্থানীয়রা সৈকত নোংরা করে রাখে সবধরনের ময়লা ফেলে। আর আপনি সৈকতের আশে পাশে যেখানে সেখানে মনুষ্য বর্জ্য দেখতে পাবেন। এগুলো থেকে সাবধান। মূলত এটা তাদের বসতি এলাকা বলেই এমনটা হয়ে থাকে, পরিষ্কার রাখার বালাই নেই তেমন। তবে এই দ্বীপের যা প্রাকৃতিক দৃশ্য পাবেন আপনি, মনে হবে স্বর্গ। স্থানীয়রা প্রতি শুক্রবার সৈকতের পাশে পশুর হাট বসায়। দ্বীপের আয়তন ২২৫ বর্গকিলোমিটার যেটা সেন্টমার্টিনের তুলনায় প্রায় ২৮গুন বড়।

যাই হউক, পরের দিন রওনা দেয়ার পালা। চকোরিয়া থেকে যেভাবে গিয়েছি, ঠিক সেভাবেই আবার চকোরিয়া পর্যন্ত ব্যাক করলাম। তবে আমাদের এক বন্ধুর অফিস থাকার কারণে সে সেখান থেকে ঢাকায় ব্যাক করে, আর আমরা চলে যাই কক্সবাজার। চকোরিয়া থেকে কক্সবাজারের ভাড়া ৫০টাকা করে। আপনাকে চলতি কোন গাড়িতে উঠে যেতে হবে। কক্সবাজার গিয়ে আমরা ৬ জনে একটা রুম নেই ৮০০ টাকা দিয়ে, দুই দিনের জন্য। তারপর সেখানে ঘুরাঘুরি করে ২৩ তারিখ দিবাগত রাতে ঢাকার বাসে উঠে যাই(কক্সবাজার খুব পরিচিত জায়গা সবার, তাই এখানের ঘুরাঘুরির বর্ণনা আর দিলামনা)। প্রতিটা ট্যুর থেকে ফেরার সময়ই নস্টালজিক হয়ে যাই। ট্যুর শেষ করতে মন চায়না, তবুও করতে হয়। যাই হউক, সবমিলিয়ে আমাদের জনপ্রতি খরচ হয়েছে সাড়ে তিন হাজার টাকা ( ঢাকা থেকে যাওয়া আসার ভাড়া+তিন রাতের হোটেল খরচ+ঘুরাঘুরি+খাওয়া)।

বিঃদ্রঃ কুতুবদিয়া হতে পারে আমাদের পর্যটন শিল্প ও অর্থনীতির বিশাল আধার। আর আমরা যেখানেই যাইনা কেন, ভ্রমণের জায়গা পরিষ্কার রাখব, যেখানে সেখানে ময়লা ফেলবনা। দেশটা আমাদের, পরিষ্কার রাখার দায়িত্বও আমাদের। হ্যাপি ট্রাভেলিং।

Source: Mohammad Jahangir Alam‎ <Travelers of Bangladesh (ToB)

24 Jun 2019

ঢাকা কমলাপুর থেকে রাত ১১টায় পদ্মা এক্সপ্রেসে করে আমরা ৩ জন রাজশাহীর উদ্দেশ্যে রওনা দেই..একজন ব্রাক্ষ্মবাড়িয়া থেকে আর একজন নড়াইল থেকে যোগ দেয় আর আমি ঢাকা থেকেই…যাই হোক ঈদের পরেরদিন রাতে গিয়ে ট্রেনের সিটবিহীন টিকিট কাটলাম ৩৪৫ টাকা দিয়ে প্রত্যেকে..ট্রেনের গেইটের সামনে আড্ডা দিতে দিতে সকাল ৫:৩০ এ রাজশাহী পৌঁছালাম..আর ট্রেনেই এক ভাইয়ের সাথে পরিচয় হলো উনার বাড়িও চাঁপাইনবাবগঞ্জ.. রাজশাহী নেমে আমরা ঐ ভাইয়ের সাথেই চাঁপাইনবাবগঞ্জ যাওয়ার টিকিট কাটলাম…টিকিটের টাকা ঐ ভাই দিল..বললো এত দূর থেকে ঘুরতে আসছেন আর এইটুকু করতে পারবো না..বাসে উঠে চলে গেলাম চাঁপাইনবাবগঞ্জ বিশ্বরোড মোড়ে…সেখানে গিয়ে চা খেলাম তারপর ঐ ভাই আমাদের শিবগঞ্জ যাওয়ার একটা সিএনজি ভাড়া করে দিল…ঐ ভাইকে বিদায় করে চলে গেলাম শিবগঞ্জ..শিবগঞ্জ গিয়ে নাস্তা সেরে নিলাম তারপর আদি চমচম খেলাম…তারপর শিবগঞ্জ থেকে অটোতে করে চলে গেলাম কানসাট বাজারে..সেখানে গিয়ে কানসাট বড় আমের বাজার ঘুরলাম তারপর ভ্যানে করে চলে গেলাম কানসাট জমিদারবাড়ি.. বাড়িটি দূর থেকেই দেখতে হলো কারণ বাড়িটি ঝুঁকিপূর্ণ ছিল তাই…তারপর সেখান থেকে একটা অটো ভ্যান ভাড়া করলাম রিজার্ভ উনি আমাদের ছোট সোনা মসজিদ নিয়ে গেল…খুব সুন্দর মসজিদের কারুকার্য.. সেখান থেকে নিয়ে গেল তাহখানা আর পাশেই ছিল তিনগম্বুজ মসজিদ..এইসব কিছু ঘুরে চলে গেলাম সোনা মসজিদ জিরো পয়েন্ট সেখান থেকে ইন্ডিয়া শুরু ও শেষ আর বাংলাদেশ শুরু ও শেষ..যাক সেখান থেকে ঘুরে চলে গেলাম আরেকটি প্রত্নতত্ত্ব মসজিদ খনিয়াদীঘি মসজিদ..স্থানীয়রা চামচিকা মসজিদ নামে চিনে…সেখান থেকে ঘুরে ঐ ভ্যানওয়ালাকে বিদাই দেই..তারপর অটো রিজার্ভ করে চলে যাই ভোলাহাট উপজেলায়…সেখানে আমার এক ফ্রেন্ড থাকে আমরা মূলত ওরর বাসায় থাকবো রাতে…ঐখানে গিয়ে দুপুরের খাবার খাই..তারপর ওদের গ্রাম ঘুরে আমাদের নিয়ে যায় মহানন্দা নদীর ধারে..খুব ভালো লাগল বিকাপ বেলাটা ঐখানে কাটাতে…ঐ নদীর পাড় থেকে ইন্ডিয়ার মালদা দেখা যায় খুবই কাছে…নদীতে নৌকায় কিছুক্ষণ ঘুরে বাসায় ফিরে আসি…তারপর আবার বের হয়ে ঐখানকার আমের আড়ত ঘুরাঘুরি করি…এইখান থেকে ট্রাকে ট্রাকে আম বিভিন্ন জেলায় যায়..তারপর ঘুরা শেষ করে বাসায় এসে খাওয়া দাওয়া করে ঘুম দেওয়ার প্রস্তুতি নেই…আমি ঘুমেছিলাম মাটির ঘরে.. আহ কি শান্তির ঘুম…সকালে উঠতে হবে যেতে হবে দ্বিতীয় গন্তব্যে রাজশাহী জেলা…
১ম দিনের খরচ(৭.৬.২০১৯):
সব মিলিয়ে আমাদের ৩ জনের খরচ হয়েছিল ২৬৪০÷৩=৮৮০

Source:  Robiiul Islam Noor < Travelers of Bangladesh (ToB)

23 Jun 2019

ঈসা খাঁর রাজধানী সহ নারায়নগঞ্জের প্রত্যেকটি উপজেলায় রয়েছে অসংখ্য ঐতিহাসিক নিদর্শনসহ জানা অজানা অনেক সৌন্দর্যময় স্থান।
নিজের বাড়ি নারায়নগঞ্জের রূপগঞ্জে হওয়ার সুবাদে ২২২ টি গ্রাম ঘুরা না হলেও এর ১৫০+ গ্রাম কখনো না কখনো ঘুরা হয়েছে। সময় পেলে এখনো কোথায় না কোথায় ঘুরে আসি।

রূপগঞ্জ নামকরণের সঠিক ইতিহাস এখনো কারো কাছ থেকে জানতে পারিনি তবে কঠিত আছে রুপবানু নামে একজন প্রভাবশালী জমিদার ছিলেন যার নামানুসারে রূপগঞ্জ নামকরণ।
রূপগঞ্জ নামটা যেমন সুন্দর এর প্রতিটি গ্রাম ও কোন অংশে কম সুন্দর না।
এই উপজেলার প্রধান ও মধ্যবর্তী স্থান দিয়ে প্রবাহিত শীতলক্ষ্যা নদী এছাড়া দক্ষিণ পশ্চিমাংশে বালুনদী ও দক্ষিণ পূর্বাংশে ব্রহ্মপুত্র নদ রূপগঞ্জ উপজেলাকে বিভাজিত করেছে।

রূপগঞ্জ উপজেলার ঐতিহাসিক নিদর্শন ও সৌন্দর্যময় স্থান সমূহ:-

#সরকারি_মুড়াপাড়া_কলেজ #জমিদার_বাড়ি:-

মুড়াপাড়া রাজবাড়িটি ৬২ বিঘা জমির ওপর অবস্থিত। এই জমিদার বাড়িটি তৈরি করেন বাবু রাম রতন ব্যানার্জী যিনি এ অঞ্চলে মুড়াপাড়া জমিদারি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। এরপর তার কয়েকজন বংশধর কর্তৃক প্রাসাদটি সংস্কার ও সম্প্রসারণ করা হয়। ১৮৮৯ খ্রিস্টাব্দে জমিদার প্রতাপচন্দ্র ব্যানার্জী এই ভবনের পিছনের অংশ সম্প্রসারণ করেন ও পরিবার নিয়ে এখানেই বসাবাস শুরু করেন।

তার পুত্র বিজয় চন্দ্র ব্যানার্জী ১৮৯৯ খ্রিস্টাব্দে প্রাসাদের সামনের অংশে একটি ভবন নির্মাণ ও ২টি পুকুর খনন করেন। ১৯০৯ খ্রিস্টাব্দে তার দুই পুত্র জগদীশ চন্দ্র ব্যানার্জী ও আশুতোষ চন্দ্র ব্যানার্জী কর্তৃক প্রাসাদের দোতলার কাজ সম্পন্ন হয়।

১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দে ভারত উপমহাদেশ বিভক্ত হওয়ার পর জগদীশ চন্দ্র তার পরিবার নিয়ে কলকাতা গমন করেন। এরপর থেকে বাড়িটি পরিত্যক্ত অবস্থায় ছিল। ১৯৪৮ খ্রিস্টাব্দে তৎকালীন পাকিস্তান সরকার বাড়িটি দখল নেয় এবং এখানে হাসপাতাল ও কিশোরী সংশোধন কেন্দ্রের কার্যক্রম শুরু করে। ১৯৬৬ খ্রিস্টাব্দে এখানে স্কুল ও কলেজের কার্যক্রম পরিচালনা করা হত। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৮৬ খ্রিস্টাব্দে বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর বাড়িটির দায়িত্ব গ্রহণ করে সেটিকে প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনা হিসেবে তালিকাভুক্ত করে। বর্তমানে এটি সরকারি মুড়াপাড়া কলেজ নামে পরিচিত।

#জামদানি_শাড়ি:-

জামদানি কার্পাস তুলা দিয়ে প্রস্তুত একধরনের পরিধেয় বস্ত্র যার বয়ন পদ্ধতি অনন্য। জামদানী বুননকালে তৃতীয় একটি সূতা দিয়ে নকশা ফুটিয়ে তোলা হয়। মসলিন বয়নে যেমন ন্যূনপক্ষে ৩০০ কাউন্টের সূতা ব্যবহার করা হয়, জামদানি বয়নে সাধারণত ৭০-৮০ কাউন্টের সূতা ব্যবহৃত হয়। হালে জামদানী নানা স্থানে তৈরী করা হয় বটে কিন্তু ঢাকাকেই জামদানির আদি জন্মস্থান বলে গণ্য করা হয়। জামদানী বয়নের অতুলনীয় পদ্ধতি ইউনেস্কো কর্তৃক একটি অনন্যসাধারণ ইনট্যানজিবল কালচারাল হেরিটেইজ হিসেবে স্বীকৃত হয়েছে।

প্রাচীনকালের মিহি মসলিন কাপড়ের উত্তরাধিকারী হিসেবে জামদানি শাড়ি বাঙ্গালী নারীদের অতি পরিচিত। মসলিনের উপর নকশা করে জামদানি কাপড় তৈরি করা হয়। জামদানি বলতে সাধারণত‍ঃ শাড়িকেই বোঝান হয়। তবে জামদানি দিয়ে নকশী ওড়না, কুর্তা, পাগড়ি, রুমাল, পর্দা প্রভৃতিও তৈরি করা হত। ১৭০০ শতাব্দীতে জামদানি দিয়ে নকশাওয়ালা শেরওয়ানির প্রচলন ছিল। এছাড়া, মুঘল নেপালের আঞ্চলিক পোশাক রাঙ্গার জন্যও জামদানি কাপড় ব্যবহৃত হত।
রূপগঞ্জের অধিকাংশ গ্রামে বিশেষ করে তারাব পৌরসভায় জামদানি তৈরি হয়। এছাড়াও জামদানি তৈরির জন্য বিসিক শিল্প নগরী গড়ে উঠেছে এই পৌরসভার নোয়াপাড়া এলাকায়

#৪০০_বছরের_পুরনো_বটগাছ

কালীগঞ্জের মল্লিকপুরের এশিয়ার বৃহত্তম প্রাচীন বটগাছের পর হয়তো দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে রূপগঞ্জের হিরনালের এই বটগাছ। বটগাছটি এক একর জমি জুড়ে বিদ্যমান। গাছটির বয়স কারও মতে ৪০০ বছর, কারও কারও মতে ৫০০ বছরের উপড়ে। কুলাদি মৌজায় অবস্থিত এ গাছটি হিরনাল বাগবাড়ি বটগাছ নামে বিশেষভাবে পরিচিত।

স্থানীয়দের মতে, গাছটি ৪০০ বছরের পুরনো। রাস্তার ধারে ডাল-পাতায় পরিপূর্ণ গাছটি জনবিরল স্থানে পথিকের বিশ্রামের আশ্রয়স্থল। বটগাছটি একের পর এক ঝুরি নামিয়ে বিরাট আকার ধারণ করেছে। এ স্থানটির মালিক ৩৬০ আউলিয়াদের একজন আল-হাদী (র.)। তিনি ছিলেন মিরপুরের শাহ আলী (র.) বড় ভাই। জনশ্রুতি রয়েছে, প্রায় ৫০০ বছর আগে আল-হাদী (র.) এ এলাকায় বসবাস করেছিলেন। তিনি মারা যাওয়ার পর এটা খাস হয়ে যায়। পূর্বে তিথি অনুযায়ী এখানে পাঁঠাবলি হতো। এ গাছের নিচে একটি স্থায়ী কালীপূজার আসন স্থাপিত হয়েছে। এখনও মানুষ এখানে মানত করে। তবে এখনও পর্যন্ত কারও নজরে আসেনি। কথিত আছে, তৎকালীন জমিদার রামরতন ব্যানার্জি হাতির শূর দিয়ে বটগাছটি টেনে নেয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু পারেনি। বটগাছটির নিয়ে কথা হয় জসিম সরকারের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘বাপ-দাদাগো মুখে হুনতাম এই বটগাছের কথা’। তার মতে, গাছটির বয়স ৫০০ বছরের ওপরে। তবে গায়ের সবচেয়ে বয়োবৃদ্ধ পঁচানব্বই বছর বয়সের নাসির ফকিরের মতে, গাছটির বয়স সাড়ে ৩০০ বছরের ওপরে। তিনি বলেন, ‘আমার বাবা মজিবুর রহমান ওরফে ঠান্ডু ফকিরই বেঁচে গেছেন ১০০ বছর। আমার বাবায় কই তো দাদাও এই গাছটা এমন দেখছে। হিরনাল বাগবাড়ি এলাকার পঞ্চাশোর্ধ রাবিয়া বেগম বলেন, ‘বাজান আমরা ছোটবেলা থেইক্যা এই বটগাছটা দেইহ্যা আইতাছি। অনেক মানুষ এহানে আয়ে। মানত করে। একবার গাছটার মধ্যে আগুন লাগছিল। অনেকখানি পুইড়াও যায়। পরে গ্রামের লোহে আগুন নিভায়।’

তবে বটগাছটির কোন সচেতন পরিচর্যা হয় না। এই বিস্তৃত বটগাছের দৃষ্টিনন্দন প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, পাখির কল-কাকলি মুখরিত শীতল পরিবেশ বিমুগ্ধ চিত্তকে বিস্ময় ও আনন্দে অভিভূত করে।

বটগাছটি দেখতে হলে কুড়িল বিশ্বরোড থেকে বাসে কাঞ্চন ব্রিজ যেতে হবে। সেখান থেকে বাসে কিংবা সিএনজি যোগে জিন্দা পার্কের আগে কালনি রোড দিয়ে হিরনালের নয়নাভিরাম এই বটগাছ দেখা যাবে।

#জিন্দা_পার্ক:-

জিন্দা পার্ক বাংলাদেশের একটি বিখ্যাত বিনোদন ও অবকাশ যাপন কেন্দ্র। সাধারণ মানুষের উদ্যোগে এই পার্কটি তৈরী করা হয়েছে। প্রতিদিন প্রচুর পর্যটক এখানে ভ্রমণ করতে আসেন।
প্রায় ৫০০০ সদস্যবিশিষ্ট “অগ্রপথিক পল্লী সমিতি” ১৯৮০ সালে যাত্রা শুরু করে। মূলত এই সংগঠনের অকৃত্রিম প্রচেষ্টার ফলে পার্কটি প্রতিষ্ঠিত হয়।

জিন্দা পার্ক প্রায় ১৫০ একর জায়গাজুড়ে বিস্তত। এখানে রয়েছে প্রায় ২৫০ প্রজাতির ১০,০০০ এর বেশী গাছ। সুদৃশ্য ভবনগুলো জিন্দা পার্কের সৌন্দর্য্য বৃদ্ধি করেছে। এতে রয়েছে ৫টি বিশালাকার জলাধার। যেখানে পর্যটকরা নৌকায় ঘুরতে পারেন। প্রায় ৪০০০ লোকের আয়ের উৎস এই পার্ক। অপস ক্যাবিনেট, অপস সংসদ এবং অপস কমিশন নামে পার্কটিতে ৩টি পরিচালনা পর্ষদ রয়েছে। তবে রাজউক কর্তৃপক্ষ পার্কের উন্নয়নে সহায়তা প্রদান করার ঘোষণা দিয়েছিলো। পার্কটি প্রতিদিন সকাল ৯টার সময় পর্যটকদের জন্য খুলে দেওয়া হয়।

#আন্তর্জাতিক_বানিজ্য_মেলার_প্যাভিলিয়ন:-
বর্তমানে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা রাজধানীর আগারগাঁওয়ে হলেও জায়গা সংকট ও যানযটের কারণে তা ছড়িয়ে রূপগঞ্জ পূর্বাচলে করার ঘোষণা দেওয়া হয়। ২০১৯ সালে বানিজ্য মেলা পূর্বাচলে হওয়ার ঘোষণা দেওয়া হলেও কাজ অসমাপ্ত ও বিদ্যুৎ না পৌছানোর কারণে তা পিছিয়ে ২০২২ সালে করার সম্ভাব সাল নির্ধারিত হয়।

#পদ্ম_ও_লাল_শাপলার_বিল:-

রূপগঞ্জের অধিকাংশ গ্রামে বর্ষা ও এর পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন পুকুর ও বিলে শাপলা দেখা গেলেও একমাত্র দাউদপুরের গ্রামগুলোতে (জিন্দা পার্ক সংলগ্ন) পদ্ম ও লাল শাপলা দেখা যায়। বিস্তৃত বিলজুড়ে পদ্ম ও শাপলা দেখা গেলেও আস্তে আস্তে তা বালির নিচে চাপা পড়ে যাচ্ছে। এলাকার অধিকাংশ মানুষ শাপলা সবজি হিসেবে খায়।

#শীতের_সরিষাক্ষেত:-
প্রাচীন কাল থেকেই এই এলাকার অধিকাংশ মানুষ সরিষা চাষ করে আসছে। বর্তমানে সরষা চাষ লাভজনক না হওয়ায় কৃষকরা ধীরে ধীরে সরিষা চাষ থেকে সরে আসছে

#সংরক্ষিত_বনাঞ্চল:-

বর্তমানে পূর্বাচলের অধিকাংশ এলাকাই একসময় ছিল ছোট ছোট টিলা ও গহিন অরণ্য। এছাড়া বানর, বাঘডাস, শিয়াল সহ অসংখ্য প্রাণীর বাস। পূর্বাচলের আদলে গাছপালা কেটে টিলা সমতল করে এবং বিলে বালি ভরাট করে গড়ে তোলা হচ্ছে আধুনিক শহর পূর্বাচল। বর্তমানে ৩০০ একর বনভূমির জন্য সংরক্ষিত রাখা হলেও অধিকাংশই ধ্বংস করে ফেলা হয়েছে।

#খেজুরের_রস:-
যেহেতু রূপগঞ্জ উপজেলা প্রত্যেকটি গ্রামেই অনেক গাছপালা রয়েছে সেই তুলনায় খেজুর গাছের পরিমাণ অতি নগন্য হলেও শীতকালে অনেক মানুষের সমাগম দেখা যায় শুধুমাত্র খেজুরের রস খাওয়ার জন্য

#শরতের_কাশফুল:-
রূপগঞ্জ থানার পশ্চিমাংশ থেকে প্রায় পূর্বাচল ৩০০ ফিট বিস্তৃত এলাকা জুড়ে অবস্থিত জলসিড়ি আবাসন প্রকল্প। শরত কালে এই আবাসনের পুরোটাই কাশফুলে ভরে উঠে। যতদূর চোখ যাবে শুধু কাশফুলই দেখা যাবে।

ইচ্ছে হলে সারাদিন ঘুরে শীতলক্ষা নদীতে ঝাঁপাঝাঁপি করে একটু প্রশান্তি নিয়ে যেতে পারেন।

এছাড়াও সড়ক পথে যানযট নিরসনের জন্য উপজেলার ভূলতায় নির্মিত হয়েছে ফ্লাইওভার ও শীতলক্ষা সেতুর উপর নির্মিত উদ্ধোধনের অপেক্ষায় নতুন সেতু।

ঢাকার পার্শ্ববর্তী হলেও সমগ্র রূপগঞ্জ উপজেলা ২/১ দিনে ঘুরা সম্ভব না। থাকার জন্য তেমন কোন ব্যবস্থা না থাকায় আপনাকে ঢাকা থেকেই ভোরে রওনা হয়েছি সারাদিন ঘুরে আবার রাতের মধ্যে বাসায় ফিরতে হবে।

যেভাবে যাবেন:- রাজধানী ঢাকা থেকে সড়কপথে দুইভাবে যাওয়া যায়।
১. কুড়িল থেকে বি আর টি সি বাসে
২. কলাবাগান/গুলিস্তান থেকে মেঘলা/গ্লোরি পরিবহনে
এছাড়া নৌপথে ও যেতে হলে খিলগাঁওয়ের ত্রিমোহনী থেকে ট্রলারে করে কায়েতপাড়া ।
ঢাকা থেকে পুরো রূপগঞ্জ উপজেলা ঘুরতে হলে ২/৩ দিনে সর্বোচ্চ ১৫০০-২০০০ টাকার মতো খরচ হবে।

Source: Shohel Pervez‎ <Travelers of Bangladesh (ToB)

22 Jun 2019

৩ রাত ৪ দিনের ট্যুরে সাত জনের জন প্রতি মোট খরচ ১০০০০ টাকা। একটু হিসেব করে চললে ৮০০০/৯০০০ টাকার এর মধ্যে হয়ে যাবে।

ভিসা লাগবে ডাউকি বর্ডার দিয়ে। বর্ডারে ডলার চেক করে। সাথে করে ডলার নিয়ে যাবেন দেশ থেকেই। ট্রাভেল ট্যাক্স দেশেই দিয়ে যাবেন। তাইলে বর্ডার দ্রুত পার হতে পারবেন। ট্রাভেল ট্যাক্স জমা দিতে হয় সোনালী ব্যাংকে। চট্টগ্রামের ধলিয়ানপাড়া, দেওয়ানহাট শাখায় জমা দিতে হয়। ঢাকার ব্যাপারে জানি না।

ট্যুর প্ল্যানঃ
১ম দিন
সকালে তামাবিল বর্ডার পার হয়ে ওপারে গিয়ে জিপে। বাংলা টাকা ডাউকি বাজারে ভাঙ্গাতে পারেন। স্টেট ব্যাংক এ নিচে এক মুদির দোকান থেকে ভাঙ্গাতে পারবেন। ৮০ টাকা করে পেয়েছিলাম তাও দরদাম করে। ডলার শিলং এ ভাঙ্গাতে পারেন। শিলং এ রেট ভাল ডাউকি বাজারের তুলনায়।
-বরহিল ফলস,(Borhill Falls)
-উমক্রেম ফলস,(Umkrem falls)
-লিভিং রুট ব্রিজ, (Living root bridge)
-মাওলিনং ভিলেজ (Mawlinnong village) ঘুরে একেবারে চেরাপুঞ্জি যাবো,পৌঁছাতে পৌঁছাতে সন্ধ্যা হয়ে যাবে। রাতে চেরাপুঞ্জি থাকব।।
খাবারঃ আশে পাশে হোটেল আছে। আটটায় সব বন্ধ হয়ে যায়।তার আগে খেয়ে নিবেন অথবা ফয়েল পেপার দিয়ে মুড়িয়ে হোটেলে নিয়ে যেতে পারেন। ডাউকি থেকে চেরাপুঞ্জি যাওয়ার পথে অনেক দোকান পড়ে। গাড়ি থামিয়ে খেয়ে নিতে পারেন গরম গরম মম আর নুডলস।

চেরাপুঞ্জি হোটেল ডিটেইলস
সাত জনের জন্য এই হোটেলটা ছিল জোশ। ২ টা ডাবল বেড ও ২টা সিঙ্গেল বেড ছিল। যদিও দুজন আমরা নিচে বেড পেতে শুয়েছিলাম। এতে অসুবিধা হয় নি কোন।
হোটেল ভাড়া-৬০০০রুপি
Laiaiker Inn
Mawpun kyrtiang sohra, 793108
East khasi Hills District Meghalaya
+917005196810
+919863063705
Email: [email protected]

২য় দিন
-রামকৃষ্ণ মিশন (Ramkrishna Mission)
-নোহকালিকাই ফলস,(Nohkalikai Falls)
-মৌসুমি কেইভ, (Mawsamai Falls)
-সেভেন সিস্টার ফলস (Seven sister Falls),
-ওয়াকাবা ফলস
-এলিফেন্ট ফলস / ডাইন্হেলেন ফলস (Elephent Falls/ Dianthelen Falls) দেখে শিলং শহরে আসব। ডলার ভাঙ্গানো যাবে সেন্টাল পয়েন্ট, পুলিশ বাজার। কোন দোকানদার কে জিজ্ঞেস করলে দেখিয়ে দিবে।
খাবারঃ স্ট্রিট ফুড ট্রাই করতে পারেন। এছাড়াও সেন্টাল পয়েন্টেত পাশে মসজিদ গলিতে পাবেন ডমিনোজ এর পিজ্জা। সব দোকান ৮ঃ০০ /৮ঃ৩০ এ বন্ধ হয়ে যায়। এর আগে খেয়ে নিবেন অথবা ফয়েল পেপার দিয়ে মুড়িয়ে হোটেলে নিয়ে যাবেন। এখান থেকে যা পারেন শপিং করে নিয়েন। কারণ আর মার্কেটের দেখা পাবেন না।

শিলং হোটেল ডিটেইলস
হোটেলের মান যথেষ্ট ভাল। রুমে ব্যালকনি ছিল। তা দিয়ে রাতের শিলং শহরের আলোগুলো খুব সুন্দর দেখা যায়।
Daina guest house
New kench’s Trace,bishnupur, Near stat sang Temple,Shilong-793002,Meghalaya
Mobile: 9862131877
হোটেল ভাড়া -৪৫০০রুপি

৩য় দিন
লাইটলুম গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন, (Lytlam Grand canion)(এটা মাস্ট রাখিয়েন। অসম্ভব রকমের সুন্দর।বিশাল সবুজের চত্বর আর মেঘ পাহাড়ের খেলা দেখতে পাবেন এখানে গেলে।)
★ক্রাংসুরি ফলস,( Krang suri Falls) দেখে সোনাংপেডাং এ চলে আসব

সোনাংপেডাং হোটেল ডিটেইলস
এই পেইজ থেকে ওদের হোটেল বুক করতে পারবেন। এই ছাড়াও ওদের বললে ওরা শিলং,চেরাপুঞ্জি সব হোটেল বুক করে রাখে। তবে এরকম হলে দরদাম করবেন।
নাম্বারঃ 9612089521
হোটেল ভাড়া-৪৫০০রুপি
খাবারঃ পাশেই বিটলনাট রেস্টুরেন্ট এ খেতে পারেন।কয়েকধরনের বিরিয়ানি অর্ডার করছিলাম।২৫০ রুপিতে পরিমাণ ভালই।খুব বেশী খাদক না হলে শেষ করতে কষ্ট হয়ে যাবে । এটাও সাড়ে আটটার দিকে বন্ধ হয়ে যায়। এছাড়া হোটেলের আশে পাশে ছোট খাট দোকান আছে। ওখান থেকেও খেতে পারেন।

৪র্থ দিন
সকাল বেলা দেখতে পারেন সাসপেনশান ব্রীজ। একদম হোটেলের পাশেই। এরপর উমংগট নদীতে বোটিং করে এদিক সেদিক ঘুরে ডাউকি এসে বর্ডার পার হবেন।

জীপ ড্রাইভার
09378184554 (প্রদীপ)। মোটামুটি বাংলা বুঝে হালকা পাতলা।
বর্ডার থেকে নিয়ে যাওয়া থেকে বর্ডার অব্দি পোঁছে দেওয়া মোট খরচ ১৫০০০ রুপি দিয়েছি। কোন থাকা খাওয়া খরচ দিতে হবে না।

বর্ষাকালে মেঘালয়ের যাওয়ার উপযুক্ত স্থান হলেও এই সময় চেরাপুঞ্জিতে ঝর্নার দেখা পাওয়া কিছুটা ভাগ্যের উপর নির্ভর করে। মেঘের কারণে আমাদের সেভেন সিস্টার ফলস দেখতে পারেনি অনেকক্ষন অপেক্ষা করার পরেও। নোহকালিকাই ফলস দেখেছিলাম তাও ৩/৪ মিনিটের জন্য। ভাগ্য কতটা ভাল হলে ক্রাংসুরি ফলসের পানি পেয়েছিলাম একদম ক্রিস্টাল ক্রিয়ার। আর যাওয়ার দিন উমগট নদীর পানি চায়ের কালার থাকলেও যেদিন বোটিং করেছিলাম সেদিন পানি ছিল পুরা সবুজ।

ঈদের সময় গেলে বর্ডারে প্রচুর জ্যাম থাকে। অনেকের নির্দিষ্ট দিনের প্ল্যান নিয়ে যায়। বর্ডারে জ্যামের কারণে প্রথম দিনের প্ল্যান বাদ যায়।আমাদের ও এমনটাই হয়েছিল। কিন্তু বুদ্ধি করে প্রথম দিনের পুরা প্ল্যান শেষ দিন এড করে দিয়েছি।খেয়াল করলে দেখবেন শেষ দিন তেমন দেখার কিছু নাই। আর ১ম দিনের সব প্ল্যান ডাউকি বাজারের কাছেই। তাই কোন কারণে ১ম দিনের প্ল্যান ভেস্তে গেলেও মন খারাপ না করে প্ল্যান বদলে ফেলুন যদি আপনাদের নির্দিষ্ট দিনে ফেরার তাড়া থাকে তো। ড্রাইভারের সাথে কথা বলে ঠিক করে নিন। আমাদের ১ম দিনের প্ল্যান শেষ দিন এড করার কারণে এক্সট্রা ৪০০০ রুপি দিতে হয়েছিল ড্রাইভারকে(সব মিলিয়ে ১৫০০০রুপি। আমাদের ১ম দিনের প্ল্যান ফেল না মারলে তাহলে ১২/১৩ হাজার রুপিতে হয়ে যাবে।দরদাম ওইভাবে করবেন)। তবে খুশির ব্যাপার এই যে প্ল্যান মত সব হয়েছিল। যেখানে যাবেন সেটা সম্পর্কে যতটুকু সম্ভব ধারণা নিয়ে যাবেন। এতে করে অনাকাঙ্ক্ষিত ঝামেলা থেকে মুক্তি পাবেন। যেকোন সময় প্ল্যান আপনার মত করে বদলাতে পারবেন।

Source: Priash Chowdhury‎ <Travelers of Bangladesh (ToB)

19 Jun 2019

নীল রঙে রূপায়িত ”নীলাদ্রি” । এ যেন নীলের রাজ্যে হারিয়ে যাওয়া । হ্যা নীলাদ্রির কথা বলছি, ভাবছেন এটা আবার কি? এই স্বর্গীয় সৌন্দর্যে ভরা জায়গাটা কাশ্মীর নয় আমাদের দেশেই ! কি অবাক হচ্ছেন ? ছবি দেখে কাশ্মীর ভেবে ভুল করবেন না, একে নীলাদ্রি নামেই চেনে সবাই। এর অবস্থান টেকেরঘাট, সুনামগঞ্জে। এর অপরূপ সৌন্দর্য্যে ডুব দিতে নিশ্চিন্ত মনে ঘুরে আসুন সুনামগঞ্জ থেকে ।

অনেকেই সুনামগঞ্জের টাংগুয়ার হাওর দেখতে যান। কিন্তুু এর আশেপাশেই অনেক সুন্দর সুন্দর নয়নাভিরাম জায়গা আছে যা যেকোন পর্যটকের মনকে মুহূর্তেই দোলা দিয়ে যেতে পারে ! এমনই একটি যায়গা টেকেরঘাট চুনাপাথরের পরিত্যাক্ত খনির লাইমস্টোন লেক। স্থানীয় লোকজন একে নীলাদ্রি লেক বলেই জানে । এর নামটা যেমন সুন্দর এর রূপটাও তেমনি মোহনীয় । নিজ চোখে না দেখলে হয় বিশ্বাসই করতে পারবেননা পানির রঙ এতটা নীল আর প্রকৃতির এক মায়াবী রুপ। মাঝের টিলা গুলা আর ওপাড়ের পাহাড়ের নিচের অংশটুকু বাংলাদেশ এর শেষ সিমানা। বড় উচু পাহাড়টিতেই সীমানা কাটা তারের বেড়া দেওয়া আছে। এই লেকটি এক সময় চুনা পাথরের কারখানার কাচামাল চুনা পাথরের সাপ্লাই ভান্ডার ছিল যা এখন বিলীন।

কিভাবে নীলাদ্রি দর্শণে যাবেন ?

রুট-১:

ঢাকা থেকে শ্যামলী/মামুন/এনা এবং আরো কিছু বাস যায় সুনামগঞ্জে, যেকোন একটাতে উঠে পড়ুন, ভাড়া পড়বে জনপ্রতি ৫৫০ টাকা । সুনামগঞ্জ থেকে নতুন ব্রীজ পার হয়ে মোটর সাইকেল নিয়ে যেতে হবে। চাইলে টেকেরঘাট পর্যন্ত সরাসরি মোটর সাইকেল রিজার্ভ নিতে পারেন। এক্ষেত্রে ভাড়া ৩০০-৫০০ টাকা নিতে পারে আর মাঝপথে যাদুকাটা নদী পার হতে জনপ্রতি ভাড়া ৫ টাকা আর মোটর সাইকেল এর ভাড়া ২০ টাকা করে পড়বে ।

এছাড়া আপনি সুনামগঞ্জ থেকে লাউড়ের গড় পযন্ত মোটর সাইকেলে করে যেতে পারেন ভাড়া ২০০ টাকা । তারপর যাদুকাটা নদী পাড় হয়ে বারিক্কা টিলা থেকে ১২০ টাকা ভাড়ায় টেকেরঘাট যেতে পারবেন। এখানে উল্লেখিত মোটর সাইকেল এর ভাড়া যেটা উল্লেখ আছে সেটা পুরা বাইকের ভাড়া মানে একটা বাইকে ২ জন যেতে পারবেন। তবে মোটর সাইকেলের ভাড়া আগে দামাদামি করে নিবেন তাহলে ঠকবেন না, এরা দাম কিছুটা বাড়িয়ে বলে অপরিচিত মুখ দেখলে।

রুট-২:
ঢাকা থেকে নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ ইন্টারসিটি ট্রেন নাম হাওর এক্সপ্রেস। ঢাকা থেকে ছাড়ার সময় রাত ১১:০০, ভাড়া ২০০ টাকার মধ্যে, সকালে মোহনগঞ্জ পৌছায়। সেখান থেকে ১ ঘন্টার রাস্তা মধ্যনগর, পিচ ঢালা রাস্তা। সেখান থেকে বর্ষাকালে নৌকা, ট্রলার বা স্পিডবোট দিয়ে খুব সহজে যাওয়া যায় গন্তব্যে। আর নেত্রকোনা থেকেও সরাসরি নৌকা/ট্রলার যোগে যাওয়া যায়। শীত কালে মোটরসাইকেল যোগে খুব সহজে নেত্রকোনা থেকে যাওয়া যায়।
সবথেকে কম খরচে, আরামে, কম সময়ে খুব সহজে পৌছানো যায়।
কেউ যদি নিজস্ব গাড়ি নিয়া যেতে চায় মধ্যনগর (পিপরা কান্দা ঘাট) পযর্ন্ত নিজের গাড়ি নিয়ে যেতে পারে, মাইক্রোবাস বা কার বা জীপ। রাস্তা খুব সুন্দর।
সর্টকাট রাস্তা ঢাকা থেকে নেত্রকোনা হয়ে বারহাট্টা বা মোহনগঞ্জ দিয়ে টেকেরঘাট।
ভাবছেন থাকবেন কোথায় ?

বেশকিছু রেস্ট হাউজ এবং গেস্ট হাউজ আছে বড়ছড়া বাজারে । সেখানে আপনি ২০০-৪০০ টাকায় এক রাত থাকতে পারবেন। বারিক্কা টিলা পাড় হয়েই বড়ছড়া বাজারটা চোখে পড়বে । চাইলে টেকেরঘাট থেকে হেঁটেও আসতে পারবেন বড়ছড়া বাজারে, মেঠো পথ ধরে হাঁটতে ভালোই লাগবে । এছাড়াও লেকের পাশে বন্ধ হয়ে যাওয়া একটি চুনা পাথরের কারখানা আছে তার গেস্ট হাউজে থাকতে পারবেন যদি খালি থাকে।

খাবার-দাবার :
বারিক্কা টিলাতে খাবারের হোটেল আছে, এছাড়াও বড়ছড়া বাজারে খেতে পারেন অথবা লেকের পাশেই টেকেরঘাট একটা ছোট বাজার আছে একটা মাত্র হোতেল আছে খাবারের। অবশ্যই আগে দাম জেনে খাবেন।

কিছু পরামর্শ :

এখান থেকে খুব পরিমানে চুনা পাথর উঠানো হতো যার ফলে লেক অত্যাধিক গভীর। লেকের পানিতে সাতার না জানলে না নামাই ভালো। নামলেও বেশি দূরে যাবেন না। যেহেতু সীমান্ত এলাকা তাই সাবধানে থাকুন। সীমানার খুব কাছাকাছি না যাওয়াই ভালো ।

19 Jun 2019

এর সর্ব দক্ষিনের বৈচিত্রতা মুগ্ধ করে দিবে আপনাকে।। এখানে প্রকৃতি যেমন সুুন্দর, জীবন ধারণ ও তেমন কঠিন।।

নির্জন, কোলাহল বিহীন ও মায়াবী দ্বীপ, শাহ পরীর দ্বীপ।। এখানে নেই কোন পর্যটকের আনাগোনা।। এ দ্বীপের জেটি থেকে দেখা যাবে দক্ষিণে বাংলাদেশের শেষ সীমানা।। রাতে থাকার জন্য কোন হোটেল নেই।। তাবু করে থাকা ও তেমন নিরাপদ নয়।। তাই চলে আসা লাগে।। আমি হলফ করে বলতে পারি দ্বীপ যদি পুরোটা ঘুরে দেখেন এ দ্বীপের মায়া কাটাতে আপনার লেগে যাবে অনেকদিন।।

টেকনাফ জেটিও নির্জন।। এখানে দেখা মিলবে ম্যানগ্রোভ ফরেষ্টের।। আরও দেখবেন বরশি ও জাল দিয়ে মাছ ধরার দৃশ্য।।

টেকনাফ বীচ, কক্সবাজারেরর মতই কিন্তু মানুষ তেমন নেই।।।

শামলাপুর বীচ, কর্ম-ব্যস্তময় এক বীচ।। সারি সারি সাম্পান পাড়ে সাজানো থাকে।। কেও সাগরে নামা প্রস্তুতি নিচ্ছে, কেও জাল সাজাচ্ছে, কেউ নৌকা ঠিক করছে, কেওবা পাড়ে টেউয়ের তালে মাছ ঝরছে।। খুব ইচ্ছা ছিল তাবু করে থাকব।। কিন্তু বৃষ্টির জন্য হল না।। ইনশাআল্লাহ আবার যাওয়া হবে।।

ভ্রমনের বর্ণনা:

চট্টগ্রাম থেকে রাত ১ টার গাড়িতে উঠি ও সকাল ৬.৩০ এ নেকনাফ নামি।। নেমে নাস্তা শেষ করে টমটম ভাড়া করি।।প্ল্যান ছিল টমটম নিয়ে সব গুলো জায়গা কভার করব।। যেহেতু আমরা ১৫ জন ছিলাম তাই দুটো টমটম ঠিক করলাম।। আপনারা CNG ও নিতে পারেন।।। দরদাম করে নিবেন।। ড্রাইভার কে বললাম প্রথমে জেটিতে যাব ওখান থেকে টেকনাফ বীচ, তারপর শাহ্‌ পরীর দ্বীপ হয়ে আবার টেকনাফ বাজারে নামিয়ে দিতে হবে।। সবঠিক করে চলে গেলাম টেকনাফ জেটিতে।। ওখানে ৩০/৪০ মিনিট মত ঘুরে রওনা হলাম বীচের দিকে।। বীচে ও ৩০/৪০ মিনিট কাটিয়ে, শাহ পরীর দ্বীপের দিকে যাত্রা শুরু করলাম।। ১২ কি.মি পর্যন্ত গাড়ি নিয়ে যেতে পারসি।।। এরপর থেকে রাস্তা ভাঙ্গা।। টমটম এখানে অপেক্ষা করবে আমরা ফিরে না আসা পর্যন্ত।। এখান থেকে ১ কি.মি হেটে আমাদের নৌকায় উঠতে হলো।। স্পিডবোট ও আছে।। আমরা ১৫ জন ছিলাম তাই একটা নৌকা রিজার্ভ নিয়েছিলাম।। নৌকা করে ১৫ মিনিটে পৌঁছে গেলাম শাহ পরীর দ্বীপে।। নৌকা যেখানে নামিয়ে দিবে সেখান থেকে কিছুদূর গিলে পেয়ে গেলাম দ্বীপের জেটি।।জেটি অনেক সুন্দর খুব বেশি বৃষ্টি হচ্ছিল তাই কোন ছবি নিতে পারি নাই।।। বীচ ঘুরে দেখতে লাগলাম।। জেটি থেকে ডানপাশ বরাবর হাটতে লাগলাম দেখা মিলল আরেক সুন্দর বীচের।। দেখতে পেলাম সারি বেঁধে নৌকা, আটকে পড়া লঞ্চ।। কক্সবাজার এর চাইতে এই বীচ টা আরও সুন্দর।। রাস্তার কাজ চলতেসে শেষ হয়ে গেলে মেরিন ড্রাইভ দিয়ে সরাসরি আসা যাবে।। আমরা ১ ঘন্টা মত ছিলাম।। তারপর আবার নেকনাফ বাজারের দিকে রওনা হলাম।। বাজারে নেমে টমটম বিদায় করে দিলাম।। তারপর লাঞ্চ করে নিলাম।। গোল চত্বর থেকে জেটির দিকে ১ মিনিট হাটলে (ঢাকা রেস্তোরা) নামে এক হোটেল আছে।। খাওয়া মান, দাম সব মিলে ভাল।। সকালের নাস্তা ও এখানে করেছিলাম।।

খাওয়া শেষ করে আবার টম টম দেখতে লাগলাম শামলাপুর যাওয়ার জন্য।। দরদাম করে উঠে গেলাম।। ১ ঘন্টার মধ্যে পৌঁছে গেলাম শামলাপুর বীচে।। ইচ্ছা ছিল রাতে তাবু করে থাকব শামলাপুর কিন্তু বৃষ্টির কারনে সেটা সম্ভব হলান।। তাই কিছু সময় শামলাপুরে কাটিয়ে কক্সবাজারেরর জন্য CNG দেখতে লাগলাম।। CNG ভাড়া বেশি চাওয়াতে মিনি পিকআপ বাড়া করে সবাই উঠে পরলাম।। এমনিতে CNG জনপ্রতি ১৩০/১৪০ করে নে শামলাপুর টু কক্সবাজার।। অবশেষে রাত ৯ টায় কক্সবাজার পৌঁছালাম।। চাইলে তখনি চট্টগ্রামের গাড়ি ধরতে পারবেন।। আমাদের ১৫ জনের মধ্যে ২ জন চট্টগ্রাম চলে আসল আর আমরা রাতে কক্সবাজার থেকে পরাদিন সন্ধ্যায় গাড়িতে উঠলাম।।

খরচ জনপ্রতি:

★চট্টগ্রাম টু টেকনাফ= ৪০০/-
★সকালের নাস্তা =৫০/-
★ ২ টি টম টমের ভাড়া, (জেটি+ নেকনাফ বীচ+ শাহপরীর দ্বীপ হয়ে আবার টেকনাফ বাজার সব মিলে)(১১০০*২=২২০০): (২২০০/১৫)=১৪৭
★নৌকা ভাড়া (যাওয়া-আসা): (৭৫০/১৫)= ৫০/-
★লাঞ্চ= ১৮০/-
★ টেকনাফ টু শামলাপুর ২ টি টম টম ভাড়া (৮০০/১৫)= ৫৪/-
★ শামলাপুর টু কক্সবাজার মিনি পিকআপ ভাড়া (১৮০০/১৫)= ১২০/-
★ কক্সবাজার টু চট্টগ্রাম = ২৫০/-
★অন্যান্য= ১৫০/-

মোট খরচ জনপ্রতি ১৪০১/- টাকা।।

যত্রতত্র ময়লা না ফেলে, পরিবেশ রক্ষায় অবদান রাখি।।

Source: Mohammad Ataher Ishraq RafiTravelers of Bangladesh (ToB)

19 Jun 2019

ভুটান নিয়ে অনেক কিছু পড়েছি TOB এর অনেক পোস্ট এ, আর একটু বেশি এ পড়েছি কারন অনেক দিন থেকে মন ভুটান যাব ভুটান যাব করছিল।একবার বাইরোড যাবার চেষ্টা ও করেছিলাম কিন্তু ভিসা পাই নাই,তাই এবার সময় সুযোগ হতেই এয়ার এর টিকিট কেটে নিলাম।
সোনারতরি টাওয়ার এর ছয়তলায় Druk Air এর অফিস , এটার ও সন্ধান পেয়েছিলাম TOB এর একটা পোষ্ট থেকে। যাবার পনের দিন আগেই টিকিট করে নিয়েছিলাম ২৪,৫০০টাকা দিয়ে । আমার টিকিটছিল 24-5-2019 এর বিকাল ৩ টার, সকালের টিকিট ছিল না,Druk air office থেকে মাসের শেষের দিকের টিকিট গুলো বিকালে কিন্তু আমি এখনি যাব তাই 24-5-2019 এ Friday হবার পর ও টিকিট কাটলাম (Saturday; Sunday.. এ দুদিন Thimpu permission office বন্ধ থাকে) । ফেরার টিকিট ছিল 29-5-2019 এ। আমার ইচ্ছা ছিল Phobjikha যাবার, আার 26 তারিখের(Monday) আগে Punakha Phobjikha যাবার পারমিশন পাব না, তাই সময়টা একটু অল্প হয়েগেল।

প্রথমদিন…..
24 তারিখে ১২ টায় পৌঁছে গেলাম এয়ারপোর্টে , ইমিগ্রেশন শেষ করে অপেক্ষা করতে লাগলাম বিমানে ওঠার । ২.৪৫মিঃ এ বিমানে উঠলাম, ৩ টায় বিমান ছাড়ল, আর আমার অনেকদিনের ইচ্ছে পুরো হচ্ছিল।৪.১০ মিঃ ঐ ভুটানে পৌঁছে গেলাম , ইমিগ্রেশন শেষ করে বাইরে বেরতে ৪.৩০ মিঃ। বাইরে বেরিয়ে ভাবলাম যেহেতু ২৭ তারিখের আগে পারমিশন পাওয়া যাবেনা তাই Paro থেকে Paro ভলো করে ঘুরে দেখি, এয়ারপোর্টে এর বাইরে ট্যাক্সির ভারা বেশী , তাই একটু হেটে গেটের বাইরে শেয়ার ট্যাক্সি পেয়ে গেলাম paro city যাবার জন্য জনপ্রতি ৪০ রুপি করে। Taxi stand এ নেমে হোটেল খুঁজেপেতে অনেকটা বেগ পেতে হলো কারন ওদের ওখানে সিজন চলছে, টুরিস্ট অনেক বেশি । অমার ২৪, ২৫ দুদিনের জন্য রুম দরকার ছিল কিন্তু পলামনা, ২৪ তারিখের একটা রুম পেয়ে উেঠপরলাম ভারা ১৫০০ রুপি। তখন ৫.৪৫ বেজে গেছে । হোটেল কিছুক্ষন রেস্ট নিয়ে সন্ধ্যায় বেরিয়ে পরলাম। চারিদিকে একটু হাটাহাটি করলাম আর সাথে ২৫ তারিখের জন্য অন্য হোটেলে একটি রুম ও পেয়েগেলাম, এরপর টেনশনফ্রি হয়ে হাটাহাটি আর খাওয়াদাওয়া শেষ করে হোটেলে ফেরার সময় ট্যাক্সির খোঁজখবর নিয়ে , ২৫ তারিখে paro ঘুরে দেখার জন্য ট্যাক্সি ঠিক করে হোটেলে ফিরে গলাম।

দ্বিতীয় দিন(25-5-2019)……..
সকালে ৯টার আগেই নাস্তা সেরে তৈরি হয়ে গেলাম। ড্রাইভার ও কথামতো ঠিক সময়ে চলেআসল।ব্যাগ নিয়ে হোটেল চেকআউট করে প্রথম গেলাম চেলেলাপাস। পারো টু চেলেলা পাস আঁকাবাকা পাহাড়ি রাস্তা, পাহাড়ের গায়ে ঘেঁষে এই রাস্তার সৌন্দর্য উপভোগ করতে করতে আপনারা পৌঁছে যাবেন চেলেলাপস, কেউ নিরাশ হবেননা।ঐই 3988 Mtrs উচ্চতায় পৌঁছে, মে মাসে ও প্রচন্ডরকম কাঁপুনি ধরে গেছিলো , ভ্যাগিস জেকেটটা হালকাঠান্ড লাগায় হোটেল থেকে সাথে নিয়ে বেরিয়ে ছিলাম। আর এই চেলেলাপাস এর চারিদিকের সৌন্দর্য নিয়ে TOB এর অনেক লেখায় আপনারা পড়েছেন , তাই সেদিকে আর গেলাম না।চেলেলা থেকে পারো সিটিতে ফিরে দুপুরের খাবারের জন্য ড্রাইভারকে কিছুটা বিরতি দিয়ে, আগেরদিন ঠিককরা নতুন হোটেল (১৫০০রুপি)এ উঠে বেগরেখে তারপর গেলাম টাইগার নেস্ট এর বেইস এ। যেহেতু আমি উপরে উঠবো না তাই নিচের চারপাশটা ঘুরেটুরে দেখলাম । আার আপনারা যদি উপরে উঠতেচান ৫০ রুপি দিয়ে একটি লাঠি ভারা করে নিয়ে ১০,২৪০ফিট উপরের Taksang Lakhang মন্দিরটি ঘুরে আসতে পারেন।৫০০ রুপি দিয়ে টিকিট কাটতে হবে মন্দিরে এন্ট্রি এর জন্য। এরপরে গেলাম জঙ দেখতে, সেখানে ৩০০রুপি এন্ট্রি ফি। সবশেষে পারো সিটিতে ফিরে পরদিন Thimpu এর জন্য টেক্সিওয়ালাকে ঠিক করলাম আর আজকের ভাড়া ২৫০০ রুপি দিয়েদিলাম। পারো শহরটা ছোট কিন্তু শান্ত আর সুন্দর সাজানো-গোছানো, হেঁটে হেঁটেই দেখলাম, কিছুক্ষণ নদীর ধরে হেঁটে হোটেলে ফিরে হোটেলের রেষ্টুরেন্টেই সাদাভাত, ডিম আর মুরগী দিয়ে রাতের খাবার সেরে নিলাম ।।

তৃতীয় দিন (26-5-2019)…….
সকাল ১০ টার দিকে হোটেল থেকে নাস্তা সেরে হোটেল ছেড়ে দিয়ে পারো থেকে থিম্পু এর জন্য বেরিয়ে পরলাম, আগের দিনের সেই ড্রাইভার । তার ৯.৩০ মিঃ এ আসার কথা ছিল , কিন্তু তার একবন্ধুর বউ ও থিম্পু যাবে , তাই তাকে সামনের সিটে নিতে চায়, আর এর জন্য ভারা ২৫০ রুপি কম দিতে বা আমি চাইলে সে Buddha point ঘুরিয়ে দেখাবে তাতে ১০০০রুপি তাকে দিতে হবে।রাজি হয়েগেলাম। থিম্পু পৌঁছে ক্লকটাওয়ার এর কাছেই হোটেল নিলাম(২০০০ রুপি) , রুমটা পছন্দ হলো কারন জানালা দিয়ে ক্লক টাওয়ার দেখা যায়। এরপর ড্রাইভার নিয়ে গেল Buddha point. সেখানে অনেকটা সময় কাটিয়ে ড্রাইভারকে বল্লম Thimpu Local market এ নামিয়ে দিতে । ড্রাইভার Local market এ নামিয়ে দিলে তাকে সেদিনের ভাড়ার ১০০০ রুপি শোধ করে দিলাম আর পরদিন Phobjikha এর জন্য ৯ টার মধ্যে আসতে বললাম।এরপর Local market টা ঘুরে হালকা নাস্তা করে নিলাম। Thimpu শহরটা হেঁটে হেটে ঘুরতে ঘুরতে ক্লকটাওয়ার এর সামনের সিরিতে কিছুক্ষন বসে থাকলাম তারপর সন্ধ্যায় হোটেলে ফিরে হোটেলের রেষ্টুরেন্টে খাবার খেয়ে রুমে।

চতুর্থ দিন ( 27-5-2019)…..
সকাল ৯ টার আগেই নাস্তা সেরে তৈরি হয়ে নিলাম , ৯টায় ড্রাইভার আসলে হোটেল চেকআউট করে গেলাম পারমিশন অফিস Punakha & Phobjikha এর পারমিশন এর জন্য। পারমিশন পেতে পেতে ১১টাবেজে গেল। পারমিশন নিয়ে সোজা চললাম Phobjikha , যাবার পথে কোথাও দেরি করিলাম না কারন Phobjikha টা ভাল করে ঘুরে দেখব। Thimpu থেকে Phobjikha যাবার পথের সৌন্দর্য মন ভরিয়ে দেবে।আমার কখনো মনে হয়েছে আমি পাহাড়ের চুড়ায় পৌঁছে গেছি আবার একটা বাঁক ঘুরলে মনেহয় অন্য পাহাড়ের পেটের কাছে পৌঁছে গেছি ।দুপুর ৩টায় Phobjikha পৌঁছে গেলাম , হোটেল আগে থেকেই ঠিক করা ছিল সেই হোটেলেই উঠলাম (১৮০০রুপি)। সাদাভাত, ডিম আর ডাল দিয়ে দুপুরের খাবার খেলাম, রান্না খুবই ভালো লগলো এরপর একটা হট চকলেট খেলাম সেটিও খুব ভালো লাগলো। রুমের দু’দিকের জানালা দিয়ে পাহাড় আর ভ্যালি দেখাযাওয়ায় রুমটা আমার খুব পছন্দমতো হয়েছিল । কিছুক্ষণ রেষ্ট নিয়ে বেরহলাম Valley ঘুরে দেখতে। Valley এর আঁকাবাকা পথ, পাহাড়ের মাঝ দিয়ে মেঘের উড়ে যাওয়া , নানান রকমের পাহাড়ি ফুলর থাকা, পাহাড়ের গায়ে থাকা বড়বড় গাছের সারি সেই সাথে শরীর হিম করা ঠান্ডা বাতাস এক নিমিষে মন ভরিয়ে দিল। এই সৌন্দর্য ছবিতে ধরে রাখা সম্ভব নয়, তবু্ও মাঝে মাঝেই সে চেষ্টা করলাম। খুবই অল্পসময়ে আমি এই Valley এর প্রেমে পড়ে গেলাম । রাস্তা ধরে উদ্দেশ্য হীন ভাবে চারিদিকে দেখে হাঁটছিলাম, ঠিক তখনই শুরু হলো ঝিরিঝিরি বৃষ্টি । এই বৃষ্টি ঠান্ডার সাথে সাথে চারিদিকের সৌন্দর্যকে কয়েকগুণ বাড়িয়ে তুললো আর আমিও মনেমনে বলে বসলাম আমি এখানে আবারও আসবো বরফের সময় , এখন যে এটটা সুন্দর তখনকার সে সৌন্দর্যতো অকল্পনীয় আর সেটি আমাকে দেখতেই হবে। ঝিরিঝিরি বৃষ্টিতে হাঁটতে ভাল লাগছিলো , সন্ধ্যা হতে হোটেলের দিকে ফরতে শুরু করলাম, খুব ঠান্ডা লাগছিল তাই হোটেলে ফিরে কফি আর ফ্রান্স ফ্রাই খেলাম। ৭টার ভিতর রাতেরখাবার রুমে দিয়ে গেল, লেট নাইট খাব বলায় খাবারটা বিশেষ কায়দায় দিয়ে গেল যাতে গরম থাকে। রুম হিটার আন করে খাওয়া দাওয়া করে আারামে ঘুম।

পঞ্চম দিন (25-5-2019)………
সকালের নাস্তা সেরে ৯.৩০মিঃ এ Phobjikha থেকে paro যাবার জন্য বেরিয়ে পরলাম। পথে Punakha শহর এ গেলাম । পুনাখা জঙ, (এন্ট্রি ফি ৩০০টাকা),নদী দেখে ফেরার পথে দোচালা পাস দেখে বিকাল ৫ টায় Paro পৌছালাম। আগের সেই City Hotel এ উঠলাম যেটা আগে থেকেই ২৮ তারিখের জন্য বুকিং দিয়ে রেখেছিলাম ।ড্রাইভারকে ২৭আর২৮ এইদুদিন (Thimpu -Phobjikha -Punakha -Paro) এর জন্যভারা ৬,০০০রুপি পরিশোধ করলাম । রাতের খাবার জলদি খেয়ে ঘুমিয়ে পড়লাম কারন পরদিন ফেরার ফ্লাইট।

ষষ্ঠ দিন (29-5-2019)…..
সকাল ৮.৪৫ মিঃএর মধ্যে নাস্তা সেরে হোটেলে(১৫০০রুপি) চেকআউট করে এয়ারপোর্টে এর উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পরলাম ।হোটেল থেকে এয়ারপোর্টে ভারা ৩০০ রুপি দিলাম। ১০.৩০মিঃএ ফ্লাইট , ইমিগ্রেশন শেষ করে বসে থাকলাম , সময়ের ১০ মিঃ আগেই বিমানে উঠে পরলাম আর ১ ঘন্টা ১০ মিঃ এর মধ্যে বাংলাদেশ পৌঁছে গেলাম সেই সাথে শেষ হল আমার স্বপ্নের ভুটান টুর।।
***খাবারের খরচ লিখলাম না কারন ওটা যার যার মত হয়।
***ভুটান ভ্রমন এ সবসময় সাথে জেকেট রাখবেন
***ভুটানের লোকজন খুব বন্ধুবৎসল, তাই তাদের সাথে ভালো ব্যবহার করবেন ।
***বেড়াতেগিয়ে ময়লা আবর্জনা নির্দিষ্ট যায়গায় ফেলবেন। পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখবেন

Source:  Rakhi Saha‎ <Travelers Of Bangladesh (TOB)

16 Jun 2019

একদিনের জন্য এটা বেস্ট ট্যুর। কারণ একদিনেই আপনি পাহাড়,ঝরণা ও সমুদ্র এই তিনটার সাথেই আলিঙ্গন করতে পারবেন।

#চন্দ্রনাথ পাহাড়
হাজার কদম হাটার পর যখন চূড়ায় উঠে চারপাশে চোখ বুলাবেন দেখবেন আপনার ঝরে যাওয়া ঘামগুলো এতেই স্বার্থক।

#ইকোপার্ক
ঝরনার কলকল ধ্বনি বরাবরই ভেতরে এক তরঙ্গ সৃষ্টি করে দেয়। ইকোপার্কের ভেতরে হাটার পথে এবং ঝরনা আমাদের মনে সেই তরঙ্গই সৃষ্টি করেছিল।

#গুলিয়াখালী বীচ
এ বীচ অন্য সব বীচ থেকে আলাদা। অন্য বীচ বালুতে মাখানো থাকলেও এ বীচ দূর্বাঘাস আর বাহারি আকৃতির গাছ বীচকে সৌন্দর্য্যের এক মহিয়ানতা দিয়েছে।

যাতায়াতঃ
মেইল ট্রেনে রাত ১০:৩০ এ উঠে পড়ুন। সকাল ৭ টায় সীতাকুণ্ড বাজার। হালাকা নাস্তা সেরে … অতিরিক্ত পানি নিয়ে চলে যান পাহারের উদ্দেশে। বাজার থেকে সিনজি, জন প্রতি ২০ টাকা। নিচ থেকে বাশ কিনে নিন, ১০ টাকা। বাশ এর উপকারিতা উঠার সময়ই বুঝবেন। পাহাড়ের চলা শুরু করার পর কিছু দূর যেতেই একটা ঝর্না পাবেন। এখান থেকেই আপনার যাত্রা শুরু।

এখানে ২টা রাস্তা বাম এবং ডান। বাম দিকের টা উঠার জন্য আর ডান এর টা নামার জন্য ভাল (কষ্ট কম হবে আর কি)। ১ ঘণ্টা ১০/১৫ মিনিটে পৌছে যাবেন শীর্ষে। এখানে আপনার মন মত সময় কাটিয়ে নেমে আসুন।(তবে দুপুর হবার আগেই নেমে পড়লে ভালো।সূর্যের প্রখর তাপটা আর সহ্য করতে হবেনা) সিনজি করে চলে আসুন সীতাকুণ্ড বাজারে।ভারি খারাব খেয়ে নিন।

এবার গন্তব্য ঝর্না। বাজার থেকে বাস জন প্রতি ১০ টাকা সীতাকুণ্ড ইকো পার্ক। মেইন রোড থেকে হাটা দিন। ১০ মিনিট এর মধ্যে মেইন গেট।(আমরা বাজার থেকে অটো রিজার্ভ নিয়েছিলাম ৮০ টাকা)। ইকো পার্ক এর এন্ট্রি ৩০ টাকা জন। একটাই পিচ ঢালা রাস্তা, হাটা দিন। গেইট থেকে ঝর্নার দুরুত্ত ১.১ কিলো। প্রকৃতির সৌন্দর্য দেখতে দেখতে চলে আসবেন, কিছুক্ষন পর দেখবেন ডান দিকে সিঁড়ি পাহাড়ের নিচে যাবার। নামুন (অনেক খাড়া সিঁড়ি, সতর্ক ভাবে নামুন)। পথের বাম পাশ দিয়ে চলুন। কান পাতুন, ঝরনার শব্দ শুনতে পাবেন। কিছু দূর যাবার পরি দেখা মিলবে অপরূপ সৌন্দর্য্যের সুপ্তধারা ঝর্নার। এটি জেগে উঠে বর্ষায়।ঝর্না দেখা শেষে মেইন রোড থেকে বাসে করে চলে আসুন বাজারে।

এবার আসা যাক গুলিয়াখালি নিয়ে কিছু কথা বলা। এখানে বিকালে যাওয়াটাই ভাল। বিকাল ভাঁটা এর সময়। জোয়ারে এ গেলে দেখবেন সুন্দর গাছ গুলো পানির তলে।
তাই বিকালে বাজার থেকে সিনজি করে চলে আসুন বীচের দিকে। জন প্রতি ৩০ টাকা।

সময় বিবেচনাঃ
১২টা পর্যন্ত থাকুন পাহারে। ৪টা পর্যন্ত ঝর্নার সাথে সময় কাটান। ৬টা পর্যন্ত বিচে।
৫-৬ জনের গুরুপ করে গেলে সিনজি নিতে ভাল হবে। আমাদের বার বার রিজার্ভ করতে হয়েছিল।

ঢাকা আসার সময় এক্সপ্রেস ট্রেন অথবা বাস এ করে চলে আসলে ভাল হবে। বাজার থেকে ঢাকার বাস এভেইলএভল

সসতর্কীকরণঃ পাহারে উঠার সময় পানির বোতল গুলা সিঁড়ি এর আশে পাশে ফেলবেন নাহ।মন্দিরের দেয়ালে আকা আকি করবেন নাহ।বীচের পানিতে কোন প্রকার ময়লা ফেলবেন না। যেখানেই যান পরিবেশ পরিষ্কার রাখবেন।

Source: BM Shakil <Travelers Of Bangladesh (TOB)

16 Jun 2019

সকাল থেকে গুড়িগুড়ি বৃষ্টি ফোটা পড়ে যাচ্ছে অনবরত,
মধ্যাহ্নের দিকে বৃষ্টি থামল কিন্তু অভিমানী আকাশের মন ভরেনি যখন তখন আবার কেঁদে ফেলতে পারে আকাশ খুন মেঘাচ্ছন্ন, বেলা ২ টা বাসায় মন বসছে না গেলাম রেস্টুরেন্টে কফি খেতে খেতে আড্ডা জমালাম দুই বন্ধু আধা ঘন্টা!
নাহ তাও ভালো লাগছে না কি করি, কি করি।

বন্ধু বললো চল নরসিংদী যাই!আকাশপানে তাকিয়ে দেখি বড্ড অভিমান করে আছে, কখন যে অশ্র ঝড়ে পরে তার কোন ঠিক নেই এর ভিতরে নরসিংদী যাওয়া ঠিক হবে?
দূর অতো কিছু ভেবে কি হবে উত্তর দিলাম চল যাই।
সময় নাই মোটামুটি ঘন্টা দুইয়ের পথ অতিক্রম করতে হবে সো সময় নষ্ট করা যাবে না।

ওহ আমাদের গন্তব্য নরসিংদী! কিন্তু নরসিংদী কোথায় যাবো?

কোন কিছু ভেবে না ভেবেই বললাম লক্ষন সাহার জমিদার বাড়ি!
বন্ধুও বলল চল তো গিয়ে এক জায়গায় গেলেই হবে আগে তো বাসে উঠি পরে বাসে বসে প্ল্যান করিস সময় নাই এখন।
পরে ফাইনাল হলো লক্ষন সাহার জমিদার বাড়ি যাচ্ছি। তাহলে কুড়িল বিশ্বরোড থেকে বিআরটিসি বাসের টিকিট কেটে নিলাম কাঞ্চন ব্রিজ টা পার হয়েই মায়া বাড়ি চলে গেলাম ২:৪০ নাগাদ।

সেখান থেকে লোকাল অটো/ সিএনজি রয়েছে নরসিংদীর পলাশ উপজেলার ঢাংগা ইউনিয়ন,মায়া বাড়ি থেকে অটোতে উঠে গেলাম ২/৩ মিনিটের ভিতরে অটো ভরে গেল,
ডাংগায় পৌছতে আমাদের সময় লেগেছিল ৩০/৩৫ মিনিট।
সেখানে নেমে একটা রিক্সা নিলাম উকিল বাড়ি।
এই উকিল বাড়িটিই হলো লক্ষন সাহা জমিদার বাড়ি যা স্থানীয়দের কাছে উকিল বাড়ি/রাজবাড়ি হিসেবে পরিচিত।

রিক্সা নামিয়ে দিয়ে বললো একটু সামনে হেটে যান পেয়ে যাবেন ২/১ মিনিট লাগবে।

আমরা এবার পাকা রাস্তা ছেড়ে বৃষ্টির দিনে হালকা কাদামাখা রাস্তা ধরে দুই মিনিটের মত হেটে লক্ষন সাহা জমিদার বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে আছি☺️
এবার তাহলে এক নজরে জেনে নেই জমিদার বাড়ির পূর্ব ইতিহাস?

“নরসিংদীর পলাশ উপজেলার ডাঙ্গা ইউনিয়নের জয়নগর এলাকায় অবস্থিত মোগল আমলে নির্মিত লক্ষণ সাহার জমিদারবাড়িটি আজও কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। মোগল আমলে নিপুণ কারুকাজের এ বাড়িটি নির্মাণ করেন জমিদার লক্ষণ সাহা। পূর্ণাঙ্গ শৈল্পিক কর্মে নির্মিত ২৪ কক্ষবিশিষ্ট এ জমিদারবাড়ির পাশেই রয়েছে ছোট্ট আরেকটি কারুকার্যখচিত মন্দির, রয়েছে একটি অর্ধনির্মিত প্রাচীন বাড়ি। বাড়ির পেছনে রয়েছে গাছগাছালির বাগান। বাড়িসহ বাগানের চারদিক উঁচু প্রাচীরবেষ্টিত। রয়েছে সে সময় তৈরি করা জমিদারবাড়ির সুন্দর একটি পুকুর আর শানবাঁধানো ঘাট। পুকুরের পাশে পূজা করার জন্য রয়েছে একটি বড় আকারের বেদি। বিশাল এ জমিদারবাড়ির বর্তমান মালিকানা রয়েছে আহম্মদ আলী নামে এক উকিলের। ফলে বাড়িটি উকিলের বাড়ি হিসেবে পরিচিত হয়ে ওঠে। জানা যায়, স্বাধীনতার পর জমিদার লক্ষণ সাহার নাতি বৌদ্ধ নারায়ণ সাহা জমিদারের রেখে যাওয়া সব সম্পত্তি আহম্মদ আলীর কাছে বিক্রি করে নারায়ণগঞ্জ চলে যান। আহম্মদ আলী স্ত্রীর নাম অনুসারে বাড়িটির নামকরণ করেন জামিনা মহল। এখন মোহাম্মদ আলীও নারায়ণগঞ্জে বসবাস করেন। সিদ্দিকুর রহমান নামে স্থানীয় এক প্রবীণ জানান, জমিদার লক্ষণ সাহার নিকুঞ্জ সাহা, পেরিমোহন সাহা ও বঙ্কু সাহা নামে তিন ছেলে ছিল। জমিদার মারা যাওয়ার পর তারা এ সম্পত্তি দেখাশোনা করতেন। বঙ্কু সাহা ভারত ভাগের সময় ভারত চলে যান। পরে বাংলাদেশের অভ্যুদয় হওয়ার আগে নিকুঞ্জ সাহাও ভারত চলে যান। জমিদারের ছোট ছেলে পেরিমোহন সাহার বৌদ্ধ নারায়ণ সাহা নামে এক ছেলে ছিল। পেরিমোহন মারা যাওয়ার পর বৌদ্ধ নারায়ণ সম্পত্তিটি বিক্রি করেন। তবে বিক্রি করার পর এলাকার হিন্দু সম্প্রদায় ট্রাস্ট নামে একটি সংগঠন সম্পত্তিটি দেবোত্তর দাবি করে আদালতে মামলা করে। মামলাটি এখনও চলমান রয়েছে। ডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাবের উল হাই জানান, প্রাচীন এ জমিদারবাড়িটি এ ইউনিয়নের ঐতিহ্য। এটি সংরক্ষণ ও দর্শনীয় স্থান করার জন্য জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে→ (গুগুল থেকে নেওয়া)।

তার পাশেই রয়েছে সুদান সাহা জমিদার বাড়ি সেখানে মানুষের বসতি রয়েছে সো সুশৃঙ্খল পরিদর্শন করবেন। সেখানে কিছু সময় কাটিয়ে চলে গেলাম কুণ্ড সাহার জমিদার বাড়ি, যা এখন পরিত্যক্ত অবস্থায় পরে আছে।
বাড়িটির সামনে গেলে মনে হবে কোন ভূতের বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে আছেন।
ভিতরে জঙ্গল লতাপাতা আর স্যাঁতসেঁতে অবস্থা কিন্তু আয়তনে অন্য দু’টি বাড়ি থেকে এই বাড়িটি বড়।
ভিতরে প্রবেশ করলাম সত্যিই ভূতে বিশ্বাসী না হলেও এখানে দাঁড়িয়ে একটু সাউন্ড করে কথা বললে শব্দ প্রতিশব্দ হয়ে ভূতুরে হয়ে কানে ঢুকে।
কিছুক্ষন এসব নিয়ে দুষ্টামি এবং ঘুরে ঘুরে দেখলাম ছবি তুললাম।
এর মাঝেই সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসছে মেঘলা আকাশ বৃষ্টি নেমে গেলে সমস্যায় পরতে হবে।
এই ভেবে দ্রুত স্থান ত্যাগ করলাম ফিরতিও আগের মত সেইম, কুণ্ড সাহা জমিদার বাড়ি→ঢাংগা→মায়ার বাড়ি→কুড়িল বিশ্বরোড।
ঢাকায় ফিরতে ফিরতে আমাদের রাত ৮ টা অথবা ৮:৩০ এর মত লেগেছিল।
♦খরচাপাতিঃ
♦কুড়িল বিশ্বরোড টু মায়া বাড়ি ২৫/=
♦ মায়া বাড়ি টু ডাংগা ৪০/=
♦ ডাংগা টু উকিল বাড়ি ২০/=রিক্সা (২ জন)

♦রিটার্নসহ টোটাল খরচ ৯০+৯০=১৮০/= (জনপ্রতি)

বিঃদ্রঃ যেখানে সেখানে ঘুরতে গিয়ে ময়লা আবজর্না ফেলে পরিবেশ দূষন করবেন না।
এবং সদা ভালো ব্যবহার করুন,মনে রাখবেন ব্যবহারই বংশের পরিচয়।

Source:  Rkf Munna‎ <Travelers of Bangladesh (ToB)