Archives

যাতায়াত পরিকল্পনা (Route Plan)

17 Apr 2019

অনেকের ভ্রমণ গল্প পড়েই গ্যাংটক গিয়েছিলাম, হটাৎ করে নতুন একটা জাইগা বাংলাদেশীদের জন্য খুলে দেয়াই ট্রাভেল গ্রুপ গুলতেও যেন রাশি রাশি পোস্ট আসছিলো গ্যাংটক, লাচুং, লাচেন, চাঙ্গু লেক।

আমরা রউনা দিয়েছিলাম কলকাতা থেকে।

১। কলকাতা থেকে রউনা দিলে বিমানে অথবা ট্রেনে অথবা বাসে আগে শিলিগুড়ি যেতে হবে, এর পড়ে সেখানে থেকে গ্যাংটক এর জিপ পাওয়া যাই

২। কলকাতা থেকে শিলিগুড়ি বিমানের টিকেট ২৫০০-৩২০০ টাকা পড়ে যাবার সময় কিন্তু ফেরত আসার সময় টিকেট এর দাম ৫০০০ হাজার এর মতো পড়ে যাই।

৩। সম্ভব হলে ট্রেনের টিকেট আগে কেটে নিতে পারেন, ফেরত আসার দিনের । কারণ যেদিন যাবেন সে দিনের যে ট্রেন ভাড়া সেটা দিয়ে আপনি বিমানেই যেতে পারবেন। তবে বিমানের টাইম মিলিয়ে নিবেন আপনার ট্যুর প্ল্যান এর সাথে কারণ বিকেলের দিকের বিমান হলে আপনাকে শিলিগুড়ি ১ রাত থাকা লাগতে পারে। এইখানে হোটেল খরচ বেশি না

৪। ভুল করেও কেউ গ্যাংটক এর প্যাকেজ শিলিগুড়ি থেকে নিবেন না। ট্রাভেল করলে অভিজ্ঞতা বাড়ে আর এই বার অভিজ্ঞতার ঝুড়ি নিয়ে আসছি, পুরোটাই খারাপ অভিজ্ঞতা।

প্যাকেজ ছাড়া আপনারা ঘুরতে পারবেন না, গ্যাংটক থেকে অনেক গুলো এজেন্সির সাথে কথা বলে সব বুঝে শুনে এর পড়ে প্যাকেজ নিবেন

৫। বাংলাদেশিদের জন্য গ্যাংটক এ যাবার যে পারমিশন লাগে এইটা চাইলে শিলিগুড়ি SNT থেকে নিতে পারেন অথবা Rangpo চেক পোস্ট থেকে নিতে পারেন। Rangpo থেকে নেয়াই ভালো, ৫-১৫ মিনিটের মধ্যেই কাজ শেষ হয়ে যাই

৬। গ্রুপ ভাবে গ্যাংটক গিয়ে যদি একেক জন একেক দিনে ব্যাক করেন তবে অবশ্যই সেই পারমিশন এর কপি সবার কাছে রাখবেন

৭। কেউ যদি মনে করেন গ্যাংটক থেকে দারজেলিং আসবেন তাইলে আসতে পারেন- ২৫০ টাকা শেয়ার জিপ এর ভাড়া, ১০ সিটের গাড়ী থেকে, বেশ চাপাচাপি করে বসা লাগে। ঠিক শেয়ারে শিলিগুড়িও যাবে ভাড়া ২৫০ টাকাই

৮। দারজেলিং যেতে চাইলে আগে ভাগেই দারজেলিং যাবেন কারণ গ্যাংটক সিকিম ঘুরে গিয়ে, দারজেলিং তেমন ভালো লাগে নি আমাদের

৯। গ্যাংটক এ MG Marg এ অনেক ট্রাভেল এজেন্সি আছে যাদের থেকে প্যাকেজ নিতে পারবেন। ১০-১৫ কপি ছবি + পাসপোর্ট + ভিসার ফটোকপি নিবেন

১০। হালাল খারাপ পাওয়া একটু কষ্ট, চেষ্টা করবেন খুঁজে দেখার। যখন গ্যাংটক থেকে লাচুং এর জন্য যাবেন ভালো ভাবে বুঝে প্যাকেজ এ কথা বলে নিবেন যে আপনারা হোটেল এ রুম হিটার নিবেন কারণ তাপমাত্রা মাইনাস এ থাকে এইখানে

১১। লাচুং এর সব স্পটে আবার হোটেল এ শীতের পোশাক ভাড়া পাওয়া যাই- ১৫০ রুপি প্রতি পিস এর মনে হয়

১২। প্লাস্টিকের পানির বোতেল সাথে নিতে দিবে না লাচুং এ

১৩। চেষ্টা করবেন গাড়ির ড্রাইভার যেন ভালো হয় নাইলে ট্যুর মাটি হবার জন্য আর কাউকে লাগবে না

সর্বশেষ এ যেখানেই থাকবেন সেখানের মানুষদের সম্মান করবেন, আর পরিবেশ নষ্ট হয় এমন কিছু করবেন না।

source:

15 Apr 2019

প্রথমে বলে নিচ্ছি গ্রুপে কোন এক ভাই পোস্ট দিয়েছিল রুট প্লান ..উনার কাছ থেকে ইন্সপায়ার হইয়া প্লান করছি…এছাড়া ও আমার ভিসা করা আছে ডাউকি পোর্ট দিয়ে ….আম রা তিন আছি …ঈদের ২য় দিন রাতে রউনা হব ইনশাআল্লাহ্‌ ..এর আগে অবশ্য আমরা মেঘালয় ঘুরে আসছি..যাই হউক আমাদের রুট প্লান বিস্তারিত :

1. ঈদের ২য় দিন রাত 10 টায় ইউনিক পরিবহন এ সিলেট কদমতলী ..ভোর 5 টায় পৌছাব ইন শা আল্লাহ
2.৩য় দিন সকালে ডাইরেট বাস এ তামাবিল বর্ডার ..30 মিনিট এর ইমিগ্রাশন শেষে ডাউকি বাজার ..এর পর লোকাল জিপ অথবা রিজার্ব টেক্সি নিয়া শিলং আঞ্জলী বাস স্টান্ড ….বাস স্টান্ড থেকে স্লিপার ভলভো তে শিলিগুড়ি ( 567 কি .মি)
3.৪র্থ দিন শিলি গুড়ি থেকে নাস্তা করে বাস বা কার করে রাংপো পারমিট অফিস হয়ে দেওরালী স্টান্ড .. তারপর অই খান হতে কার এ করে গ্যাংটক (116 কি.মি)
এরপর হোটেল এ রাত্রী যাপন
4. ৫ম দিন গ্যাংটক থেকে সাং গু এর পর সাইট সিন গ্যাংটক
5.৬ষ্ট দিন গ্যাং টক টু লাচুং ইয়ামতাং এর গাড়ি হোটেল ফুড প্যাকেজ এজেন্সির মাধ্যমে ( রাত্রীযাপন)
6. ৭ম দিন শিলিগুড়ি এবং শিলি গুড়ি টু শিলং .. ( রাত্রীযাপন)
7. ঈদের ৮ম দিন শিলং টু ডাউকি টু সিলেট টু ঢাকা
8. ঈদের ৯ম দিন ঢাকা
বি.দ্র. বাজেট পার পারসন 15 হাজার (বেশি হবে না এর থেকে আর ও কম হবে ..যত মানুষ তত কম)

Source: Tutul Ahmed Ajhor‎ <ToB Helpline

13 Apr 2019

অনেক দিন থেকেই আম্মুকে নিয়ে কোথাও যাবো চিন্তা করছিলাম। প্রায় ২ মাস চিন্তা ভাবনা করেছি, বিভিন্ন ব্লগ পরেছি, টিওবি তে সিমলা মানালি নিয়ে লিখা গুলো পরেছি। অনেক চিন্তা ভাবনার পর ঢাকা- দিল্লির প্লেন টিকেট করে ফেল্লাম। কোথাও যাওয়ার ১ মাস আগে টিকেট করে ফেললে দাম আসলেই অনেক কম পরে। যদিও ভিসা হবে নাকি এইটা নিয়ে ১ টা টেনশন থেকে যায়। যাই হোক, বেশি কথা না বারিয়ে আসল কথায় চলে আসি। যেহেতু ২১-২৩ তারিখ পর্যন্ত ইন্ডিয়া তে হলি উৎসব চলে, আমি সেই সময়টুকু এড়িয়ে যেতে চেয়েছিলাম, কারন ঐ সময় সব কিছু বন্ধ থাকে। কোনও যাত্রা শুরুর আগে আপনার কিছু জিনিষ দেশ থেকে শেষ করে যাওয়া উচিত।

১। প্লেন টিকেট, ভিসা।
২। যে হোটেল এ থাকবেন সেটা বুক করে নিবেন আগে থেকে, তাহলে ঝামেলা কম হবে। আমি যেহেতু আম্মু আর ভাই নিয়ে গিয়েছিলাম, এইসব আগে থেকেই করে নিয়েছি।
৩। এক প্রদেশ থেকে অন্য প্রদেশ এ গেলে বাস এর টিকেট পারলে বাংলাদেশ থেকে বুক করে যাবেন। (আমি ‘ঘুরে আসি” নামক ১ টি গ্রুপ থেকে টিকেট নেই)।
৪। ছোট ১ টা ব্যাগ রাখবেন ময়লা রাখার জন্য, আমি যেকোনো জায়গায় গেলেই সেটা কাছে রাখি। ব্যাগ এর ১ টা কর্নারে রেখে দিবেন। খুব কষ্টের কিছুনা। ময়লা গুলা সেখানে রেখে পরে কোন ডাস্টবিনে ফেলে দিবেন।

দিল্লি যাত্রা ঃ
দিল্লির উল্লেখযোগ্য জায়গা গুলো দেখার জন্য ২দিন হাতে রাখতে পারেন। আপনার ২দিন এইভাবে ভাগ করে নিতে পারেন, ১। পুরানো দিল্লি ২। নতুন দিল্লি।
আমি প্রথমদিন পুরানো দিল্লিতে ছিলাম। কোলকাতা থেকে ফ্লাইট এ দিল্লিতে পৌছাতে সময় লাগে ২ ঘণ্টা। দিল্লিতে পৌছাতে আমাদের রাত ১২ঃ৩০ বেজে যায়। আমরা হোটেল থেকে পিকআপ নিয়েছিলাম। কারন, এত রাত এ ঝামেলা করতে চাইনি। হোটেল এ পৌছাতে আমাদের ২ টার মত বেজে যায়। হোটেল এ পৌঁছে কিছু খেয়ে আমরা ঘুমিয়ে যাই। সকাল এ উঠে আমরা ৯টার মধ্যে বের হয়ে যাই। সকাল এ বের হয়ে থমকে যাই। মনে হল পুরান ঢাকা চলে আসছি। পাহারগঞ্জ এর রাস্তা গুলোতে অনেক কোলাহল। চিপা রাস্তা, দোকানপাট, রাস্তার দোকান, অটো, সব মিলিয়ে আজব অবস্থা। পুরান দিল্লিতেই আপনি অনেক বিদেশি দেখতে পারবেন। আমরা যেই দৃশ্য দেখে অভ্যস্ত, তারা সেটাই সময় নিয়ে দেখতে আসে পুরান দিল্লি তে। যাই হোক, আমার মা সকাল সকাল আঙ্গুর কিনে নেয় অনেক গুলা। সেই আঙ্গুর নিয়ে আমরা ১ টা অটো ভাড়া করলাম। ১ টা কথা বলে নেই, দিল্লি তে কখনই ১টা গাড়ি ভাড়া করে ঘুরবেন না, এইটা বোকামি। অনেক বেশি ভাড়া পরবে, আর অনেক কিছুই আপনি দেখতে পারবেন না। আর ফোন এ OLA, UBER অ্যাপ থাকলে ভাড়া টা চেক করে নিতে পারবেন।

যাই হোক, চলে গেলাম “ দিল্লি জামা মসজিদ “ এ। অসাধারণ ১টা জায়গা। যত সকাল এ যাবেন, মানুষ তত কম থাকবে। আমার আম্মু জামা মসজিদ এ নামাজ পরে নিল, কারন আম্মুর অনেক ইচ্ছা ছিল আগে থেকেই। জামে মসজিদ এ আপনি ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাটাতে পারবেন, কারণ জায়গাটা এতই শান্তিপূর্ণ। ৫০ রুপী দিয়ে আপনি ছাদে উঠতে পারবেন, আর আরও ১০ রূপি দিয়ে মিনারএ। উঠতে কিছুটা সময় লাগে, কিন্তু মিনার এ উঠলে আপনি পুরো দিল্লির ১টা সুন্দর ভিউ পেয়ে যাবেন। আমাদের জামে মসজিদ এই অনেক সময় কেটে যায়, কারন আমরা তারাহুরা করতে চাইনি।মিনার থেকেই দেখলাম যে নিচে অনেক ভিড় হয়ে আছে, সুনলাম সেটাই “মিনা বাজার”। তাই বের হয়েই গেলাম বিখ্যাত “ মিনা বাজার/ চোর বাজার” দেখতে।এটাকে “Sunday market” বলে। রবিবার এ মিনা বাজার এ আলাদা রকম ভিড় দেখা যায়। যদিও আহামরি কিছুই নাই। সব ই সেকেন্ড হ্যান্ড জিনিষ। আমরা মিনা বাজার দেখে “লাল কিলা” দেখতে গেলাম। কিন্তু বাইরে লাইন দেখে বের হয়ে এলাম। এসব জায়গায় আসলে সকাল সকাল যেতে হয়। বের হয়ে এসে কিছুক্ষণ ঘুরলাম “চাঁদনি চক” এ।

মার্কেটটি মূলত বিয়ের শপিং এর জন্য বেস্ট। অনেক কম দাম এ অনেক ভাল কিছু পারবেন। চাঁদনি চক দেখে আমাদের অনেক দেরি হয়ে গেল, লাল কিলা পাশে থাকায় আমরা লাল কিলা দেখতে গেলাম, কিন্তু বিশাল লাইন দেখে বের হয়ে আসলাম। লাল কিলা এবং মিনা বাজার এর আশে পাশে অনেক খাবার দোকান আছে, ছোট ছোট ভ্যান আছে যারা ফল (আনারস,পেপে, পেয়ারা) নিয়ে দাড়িয়ে থাকে। সেগুলো খেয়ে দেখতে পারেন। এরপর অটো ভাড়া করলাম কুতুব মিনার এর জন্য। কুতুব মিনার এ যেয়ে দেখি একই অবস্থা। বিশাল লাইন… তাই আর না দাড়িয়ে থেকে চলে গেলাম বিখ্যাত সারোজিনি মার্কেট এ । মার্কেট টা দেখার মত। মেয়েদের জন্য আমি বলবো বেস্ট। অনেক কম দাম এ অনেক কিছু কিনা যায় (জুতা, জিন্‌স, টপ, কানের দুল, গলার মালা, ব্যাগ আরও হাবিজাবি)। যাই হোক, রাত এ আমাদের সিমলার জন্য বাস থাকায় আমরা তাড়াতাড়ি হোটেল এ চলে যাই।

হোটেলে দুপুরে খেয়ে ব্যাগ হোটেল এর লবিতে রেখে আবার বের হলাম। হটাত মনে হল, এই অল্প সময়ে কোথায় কোথায় জাউয়া যায়। তারপর মাথায় আসলো “নিজামুদ্দিন দারগাহ”, অটো ভাড়া করে চলে গেলাম দরগাহর রাস্তার সামনে। রাস্তাটাতে অনেক বেশি ভিড়। রাস্তার আসে পাশে দোকানে ভরা, সবাই বার বার বলছে জুতা খুলে হেটে জেতে। সামনে নাকি আর জুতা রাখার জায়গা নেই। আর বলল ফুল অথবা চাদর (যেটা মাজার এর উপর দেয়) কিনে নিতে। যাই হোক, আমি বলে দিয়েছি কিছুই কিনব না।মানুষ গুলা খুবই বিরক্তিকর। আমরা জুতা রেখে হাটা শুরু করি (এইটা রাখাতে টাকা নেয় নি)। তারপর প্রায় আধা ঘণ্টা এই খালি পায়ে হাটতে হয়েছে, খুব বেশি বিরক্ত লাগছিল যখন দেখি মাজার এর একদম সামনে ই জুতা রাখার জায়গা আছে। যাই হোক, মাজারে ঢুকে আমার চোখের সামনে আমির খান এর মুভি “PK” র সিন গুলা ভেসে আসছিল। যেই ফুল আর চাদর গুলা মানুষ ওইখানে দিচ্ছে, সেগুলা নিয়ে আবার দোকানে বিক্রি করছে। মানুষ টাকার জন্য এইদিকে ওইদিকে চেয়ে বেড়াচ্ছে। যাই হোক, বেশি সময় ওইখানে থাকি নাই। বের হয়ে আবার অটো নিয়ে “ ইন্ডিয়া গেট” দেখতে গেলাম। ছুটির দিন হউয়াতে অনেক মানুষ ছিল। কিন্তু খারাপ লাগবে না। পাশে ১ টা মিউজিয়াম আছে, ওইটাও দেখতে পারেন। তারপর আবার হোটেলে চলে আসলাম। সন্ধ্যায় পাহারগঞ্জ এর রাস্তায় ১ টা কাবাব খাই। এখন ও আমার মুখে স্বাদ লেগে আছে (নাম ভুলে গিয়েছি)। তারপর অপেক্ষার পালা বাস এর জন্য… রাত ১০ টায় মঞ্জু কি টিলা থেকে আমাদের বাস ছাড়ে…
*** মানালি থেকে ফিরে ও আমরা দিল্লি তে ২দিন থাকি, সেটার বর্ণনা একদম শেষে আবার দিব।।।।
প্লেন ফেয়ারঃ ঢাকা-কলকাতা- দিল্লি ( ১৬০০০ টাকা- রিটার্ন টিকেট)
দিল্লি এয়ারপোর্ট – পাহারগঞ্জঃ ৬০০ রূপী।
হোটেলঃ ১ রাত ১৫০০ রুপী।
বাস (দিল্লি-সিমলা)ঃ ৩৭৫০ টাকা (৩জন)

Source: Al Fariha Arpa <Travelers of Bangladesh (ToB)

13 Apr 2019

কল্যানপুর পাবনা জেলার অন্তর্ভুক্ত ৫০ বছরের আগে জেগে ওঠা চরের একটি গ্রাম। যেই গ্রামে কিছুটা হলেও আপনি পূর্বের বাংলাদেশ এর একটা আচ পাবেন। মানুষের জীবনযাত্রা আচরণ সবকিছুই।

প্রথমেই এ গ্রামে যেতে ঢাকার উত্তরা থেকে সকাল ৭ টায় জনপ্রতি ২৫ টাকা ভাড়ায় যাই নবিনগর। নবিনগর বাস স্টান্ড থেকে জনপ্রতি ৫০ টাকা ভাড়ায় যাই আরিচাঘাট। সময় লাগবে ১.৫ থেকে ২ ঘন্টা। মনে রাখবেন ১২ টার মধ্যেই আড়িচাঘাট পৌছাতে হবে। কারন ঘাট থেকে কল্যানপুর এর উদ্দেশ্যে একটি নৌকাই ছেড়ে যায় ১২ টায়। আরিচাঘাট থেকে কল্যানপুর নদী পথে সময় লাগবে ২ ঘন্টা। গুনতে হবে জনপ্রতি ৫০ টাকা করে। আমরা প্রায় ২.৩০ টার মধ্যেই কল্যানপুর পৌছে যাই। সবাই মিলে গান গাইতে গাইতে আর নদীর মাঝের দৃশ্য দেখতে দেখতে যে কখন পৌছে যাই খেয়াল করিনি।

কল্যানপুর নামতেই প্রথমে যা নজর কারবে তা হলো ঘোড়ার গাড়ি। এই চরে যান বলতে আছে শুধু ঘোড়ার গাড়ি আর নৌকা। চরে নেমেই দেখা হয় ঢাকা থেকেই কথা বলে যাওয়া সাইফুল ভাইয়ের সাথে। ভাই আমাদের তার বাসায় নিয়ে যায়। তার আপ্যায়ন করা খাবার খেয়ে যাই বাজারের দিকে। বাজারে ঢুকতেই মানুষ আমাদের ঘিরে ধরে। কারন এর আগে এই চরে কোন টুরিষ্ট আসেনি। গ্রামের প্রধানও আমাদের সাথে কথা বলে যায় এবং আপ্যায়ন করে। আমাদের হাল্কা গ্রামে ঘুরানোর পর চলে যাই বাজার করতে। কারন চরে কোন ভাত খাবার হোটেল নেই।

বাজার করেই সাইফুল ভাইয়ের জোরাজোরি তে ঠিক হয় উনার বাসায় রান্না হবে। বাজার থেকে একদল চলে যাই রান্নার কাটাকাটির জন্য আর একদল চলে আসি ক্যাম্প সাইড ঠিক করে তাবু পিচ করতে। সব শেষ করে শেষ বিকালে সবাই মিলে নদীতে গোসল করে রান্না না পারা দল থেকে যাই ক্যাম্প সাইডে আর বাকিরা চলে যায় রান্না করতে। প্রায় রাত ৯ টায় সবাই খেতে চলে যাই। টর্চ এর হাল্কা আলোয় উঠানে বসে রাতের খাবার খাই। কারন ওই গ্রামে এখনো বিদ্যুৎ এর ছোয়া পরেনি। অনুভূতি ছিল অসাধারন। তারপর শুরু হয় রাতের আড্ডা গান।

গ্রামবাসি আমাদের খুব ভালো ভাবেই আপ্যায়ন করেছিল। কিছুক্ষন পর পরই কেও না কেও এসে দেখে যাচ্ছিলো। এছাড়াও ঝড় আসতে পারে এই ভয়ে গ্রামের প্রতিটি বাড়ি ছিলো আমাদের জন্য খোলা। রাতে নিয়ন আলোয় নদীতে মাছ ধরাও যে আপনার মন কারবে তা বলে দিতে পারি। ঘুমাতে ঘুমাতে প্রায় ২.৩০ টা বেজে যায়। পরের দিন সকালে ঘুম ভাঙে প্রচুর ঠান্ডায়। ৩ টা থেকেই ঠান্ডা অনুভব করতে পারছিলাম। ভোরে তাবু থেকে বের হয়েই দেখি চারদিক কুয়াশায় ভরা। এপ্রিলে এই দৃশ্য যে কাওকেই অবাক করবে। একটু হাটাহাটি করেই ক্যাম্প সাইডে এসে সব গুছিয়ে নেই। কারন কল্যানপুর থেকে আরিচাঘাট এর নৌকা ছাড়ে ৯.৩০ টায়। আমরাও বিদায় দিয়ে দেই চর টাকে। বাকি অনুভূতি গিয়েই না হয় বুঝলেন।

আমাদের ঢাকা টু ঢাকা জনপ্রতি খরচ হয়েছে ৬৪৪ করে।

খরচ:
উত্তরা – নবীনগর- ২৫+২৫= ৫০
নবীনগর- আরিচাঘাট- ৫০+৫০= ১০০
আরিচাঘাট – কল্যানপুর- ৫০+৫০=১০০
খাবার খরচ আপনার উপর।

সতর্কতা:
*চরে বিদ্যুৎ নেই তাই অবশ্যই পাওয়ার ব্যাংক এবং লাইট নিয়ে যাবেন।
*চরের প্রধান এর সাথে কথা বলে নিবেন।
* নদী থেকে নিরাপদ দূরত্তে তাবু পিচ করবেন।
* খুব বেশি হইচই করবেন না।
*অপরিচিত চর তাই পারলে চরের কাওকে সাথে থাকার জন্য রাজি করবেন।
* টয়লেটের জন্য চর এর মানুষের সাহায্য নিন। আগেই বলে রাখি সবার টয়লেটই কাচা।

* খুবই সুন্দর আর পরিষ্কার এই চর। যেখানে সেখানে ময়লা ফেলবেন না। আমরা একটা পলিথিনো ফেলে আসিনি। সব নিয়ে এসেছি।
Source: Rbh Shornab‎ <Travelers of Bangladesh (ToB)

8 Apr 2019

বন্ধুরা মিলে অনেকদিন ধরেই প্ল্যান করতেছিলাম কোলাহলমুক্ত কোন জায়গায় যাওয়ার।অনেক খুঁজে আর মানুষের রিভিও দেখে সোনাদিয়া দ্বীপটাকেই বেছে নিলাম।আমরা চট্টগ্রাম থেকে গিয়েছিলাম এবং সংখ্যায় ছিলাম ৬জন।পরে অবশ্য ওখানে ৬ জনের অন্য একটা গ্রুপ এর সাথে দেখা হয়েছিলো।।ওরা ময়মনসিংহ থেকে এসেছে।।ওদের সাথে পেয়ে ট্যুর টা আরো জমে গেছে।।

যাই হোক এবার ট্যুরের বর্ননা শুরু করি,
আমরা চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও এনিম্যাল সাইন্সেস বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যাত্রা শুরু করি।আমাদের এখান থেকে দামপাড়া বাস স্টেশন খুব কাছেই।জনপ্রতি ৫টাকা ভাড়া লাগে।তবে আমাদের বাস ছিলো রাত ২ টায়। তাই আমরা সিএনজি রিসার্ভ করে নিয়েছিলাম।। ভাড়া লেগেছে ১০০ টাকা।তারপর ওখান থেকে বাসে কক্সবাজার কলাতলী বীচ পয়েন্টে (ভাড়া জনপ্রতি ২৫০টাকা)।আমরা কলাতলী থেকে সুগন্ধা বীচ পর্যন্ত হেটে যাই(তবে অটোতে গেলে জনপ্রতি ১০ টাকা লাগে)।ওখানে সকালের নাস্তা শেষ করি(খরচ জনপ্রতি ৪০টাকা পড়েছিলো)।তারপর সুগন্ধা বীচ থেকে অটোরিকশা নিয়ে চলে গেলাম ৬নং ঘাটে(অটো রিজার্ভ নিয়েছিলাম,ভাড়া পড়েছে১০০ টাকা)।৬ নং ঘাট থেকে স্পীডবোটে করে গেলাম মহেশখালী ঘাটে(ভাড়া জনপ্রতি ৭৫ টাকা।তবে ট্রলারে গেলে ৩০ টাকা পড়ে)।যেহেতু সমুদ্র দিয়ে যেতে হয় সেহেতু সবাই লাইফ জ্যাকেট পরে নিবেন আর সমুদ্রের ঢেউ উপভোগ করতে করতে ঘাটে চলে যাবেন।ঘাটের জায়গার নাম ঘোরকাটা।।এখান থেকে অটোরিকশা নিয়ে চলে যাবেন ঘোটাডাঙ্গা(ভাড়া জনপ্রতি ৪০টাকা)।ঘোটাডাঙ্গা ঘাট থেকে সোনাদিয়া পশ্চিম পাড়ার উদ্দেশ্যে প্রায় ১১ টার দিকে একটা ট্রলার ছেড়ে যায়(ভাড়া জনপ্রতি ৩০টাকা)।বলে রাখা ভাল সোনাদিয়া ২ টি পাড়ায় বিভক্ত। একটি পশ্চিম পাড়া আর আরেকটি হচ্ছে পূর্বপাড়া।।সবাই পশ্চিম পাড়াতেই যায়।যাক ১১টার দিকে ট্রলারে উঠে পড়লাম।সমুদ্রের বুক ছিঁড়ে আমাদের ট্রলার ছুটে চললো সোনাদিয়ার উদ্দেশ্যে।চারদিকে ম্যানগ্রোভ বন আর মাঝখানে আমাদের ট্রলার।না গেলে এর সৌন্দর্য টা বোঝানে যাবেনা।।যাই হোক,ঘন্টাখানে ট্রলারে চড়ার পর প্রায় ১২ টার দিকে আমারা আমাদের গন্তব্যস্থান সোনাদিয়া পৌঁছাই।ওখানে যাওয়ার আগেই ওখানকার একজনের সাথে যোগাযোগ করে যাই।উনার নাম গিয়াস।যদিও উনি ঢাকায় চাকরী করেন।উনাকে বললে উনি সব ম্যানেজ করে দেন।সোনাদিয়ায় উনার বাসায়ই আমরা খাওয়াদাওয়া করি।এরকম ভাল আপ্যায়ন আমরা কোথাও পাইনি।।ফ্যামিলির প্রত্যেকটা মানুষ খুব ভাল।।

থাকা খাওয়া:
গিয়াস ভাইকে বলে আমরা ৩ টা তাবু ভাড়া করেছিলাম।প্রত্যেকটার ভাড়া ৩৫০টাকা এবং প্রতিটায় ২ জন থাকা যায়।আর ওখানকার জায়গা ঘুরে দেখানো আর রাতে পাহারা দেয়ার জন্য উনি গাইড ঠিক করে দেন যাকে ৫০০টাকা দিতে হয়।।তবে উনার আচার আচরনে আমরা খুশি হয়ে উনাকে ৬০০টাকা দেই।।আর খাওয়ার ব্যবস্থা গিয়াস ভাইয়ের ঘরেই হয়েছিলো।আমরা ৩ বেলা খাওয়ার জন্য জনপ্রতি ৫০০টাকা করে দিয়েছিলাম।খাবার আনলিমিটেড দিয়েছে আমাদের।আর ভাবীর রান্না মাশাল্লাহ অনেক ভাল।।উনাদের পাড়ায় ৪ টা দোকান পেয়েছি।।ওখানে নাস্তা করা যায়।তবে যাওয়ার সময় রুটি কলা বা বিস্কুট নিয়ে যাওয়াই ভাল।।দ্বীপে খাওয়ার পানির জন্য টিউবয়েলের ব্যবস্থা আছে।

ঘুরাঘুরি :
গিয়ে খাওয়াদাওয়া করে আমরা দ্বীপ ঘুরতে বের হয়ে গেলাম।সাইক্লোন সেন্টারের কাছেই ঝাউবন।।ওখানে গিয়ে বালির উপর শুকনা পাতা বিছিয়ে কতক্ষণ শুয়ে ছিলাম।বাইরে তখন প্রচন্ড রোদ ছিল।অনেকবেশী টায়ার্ড থাকার কারনে ঝাউবনেই ঘুমিয়ে পড়েছিলাম।ঘুম থেকে উঠেই গেলাম বীচের দিকে।ওখানে দেখি লাল কাকড়া ছড়াছড়ি।। সংখ্যায় এরা অনেক আর বেশি সুন্দর।বীচ আর সমুদ্রের পানিগুলা এত পরিষ্কার দেখে লোভ সামলাইতে পারিনি।।বীচে অনেক্ষন ঝাপাঝাপি করে সন্ধ্যার আগে উনাদের বাসায় ফিরে এলাম।।গোসল আরর নাস্তা করে তাবু টানানোর জন্য চলে গেলাম।।রাতে খাওয়াদাওয়া করে তাবুতে গেলাম।।এখন আমরা ১২ জন(ওই গ্রুপটা সহ)।রাতে আগুন জ্বালালাম,সবাই মিলে আড্ডা আর গানে মেতে উঠেছিলো।।পাশে সমুদ্রের আওয়াজ আর এদিকে ১২ জন মানুষ গল্পগুজব করছে।।ব্যাপারটা ওখানে না থাকলে অনুভব করতে পারবেননা।

ফেরার পালা:
পরদিন সকালে নাস্তা সেরে একই ট্রলারে ঘোটাডাঙ্গা র উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিলাম।।বাকী পথ আগের মতই ফিরলাম।।

খরচাপাতি :আসা+যাওয়া(জনপ্রতি)
হল থেলে বাসস্ট্যান্ড:২২
বাস ভাড়া:২৫০+২৫০=৫০০
সুগন্ধা থেকে ৬ নং ঘাট:৩৫
স্পীডবোট:১৫০
অটোরিকশা :৮০
ট্রলার:৬০
তাবু:১৭৫
গাইড:১০০
খাওয়া:৫০০

Source: Zahirul Islam Sajeeb‎ <Travellers Of Bangladesh

 

4 Apr 2019

দার্জিলিং থেকে আপনি চাইলেই মাত্র ১০-১২ হাজার টাকায় ঘুরে আসতে পারেন। কি অবাক হচ্ছেন? চলুন তাহলে দেখে নেওয়া যাক খরচের পরিমানটা।

ঢাকা থেকে চ্যাংড়াবান্ধা সীমান্তে এসি বাসে ভাড়া সর্বোচ্চ ১০০০ টাকা নিবে। আর যদি সরাসরি শিলিগুড়ি যেতে চান তাহলে ১৮০০ টাকা নিবে। তবে শিলিগুড়ি সরাসরি না যাওয়াই ভাল। কারন চ্যাংড়াবান্ধা পোর্ট থেকে শিলিগুড়ি যেতে বাসে মূলত লাগে মাত্র ৭০-৮০ টাকা। রিজার্ভ গাড়িতে গেলে ৩০০ টাকার মত লাগে। তাই অহেতুক ৫০০-৬০০ টাকা বাড়তি খরচের কোন মানেই হয় না। আর হ্যা বর্ডারে ট্যাক>্সবাবদ বাড়তি ১৭০০ টাকার মত নেয়। এটাই সবাইকে দিতে হয়। শিলিগুড়ি পর্যন্ত খরচ পরবে সর্বোচ্চ ৩৫০০ টাকা।

এরপর শিলিগুড়ি প্রধান বাস স্টপেজ তেনজিং নোরগে বাস টার্মিনালে থেকে অনেক জিপ গাড়ি দেখবেন দার্জিলিং যাবার জন্য ডাকাডাকি করছে। সেখান থেকে জনপ্রতি ১৫০ টাকা ভাড়া দিয়ে ৩ ঘন্টা যেতে লাগবে দার্জিলিং এ।

এরপর দার্জিলিং এ গিয়ে আপনি ১০০০-১২০০ টাকার মধ্যে অনেক হাইফাই হোটেলই পাবেন। যেখানে একেক রুমে ৩ জন অনায়াসে থাকতে পারবেন। দার্জিলিং পুরো ঘুড়তে আপনার সর্বোচ্চ ৩ রাত ৪ দিনের মতো লাগবে।

এবার আসেন ঘুরতে যাওয়া। যদি একা বা ২-১ জন যান তাহলে আমি অবশ্যই বলবো শেয়ারে দর্শনীয় স্থান গুলিতে যান। দার্জিলিং এ ৩ টি প্রধান স্পট আছ, একটা হলো টাইগারহিল+বাতাসিলুপ, ২য় টা সেভেন পয়েন্ট(যেখানে ৭ টা দর্শনীয় স্থান আছে) বাকিটা হচ্ছে রক গার্ডেন। যদি শেয়ারে যান তাহলে প্রত্যেক স্থানে গেলে ২০০ টাকা করে পড়বে জনপ্রতি। অর্থ্যাৎ ৩ টা স্থান সহ পুরো দার্জিলিং মাত্র ৬০০ টাকা দিয়েই আপনি ঘুরে আসতে পারবেন। শেয়ারে গাড়ি যদি খুজে না পান তাহলে একটা হোটেলের নাম বলছি, সেটা ‘সোনার বাংলা’ নামের একটা হোটেল আছে দার্জিলিং বড় মসজিদের সামনে। বড় মসজিদের ওখানে গিয়ে যে কারো কাছে জিজ্ঞাস করলে দেখিয়ে দিবে। পরে হোটেলের লোকজন আপনাকে সময় বলে দিবে কখন কয়টার সময় গাড়ি যাবে। আপনি শুধু কনফার্ম করে আসবেন। আর গ্রুপভিত্তিক রিজার্ভ গাড়ি নিয়ে গেলে অন্য হিসাব। কয়জন যাবেন তার উপর নির্ভর করবে কার কত ভাড়া পড়লো। রিজার্ভে প্রত্যেক স্থানে গেলে গড়ে ১৫০০ টাকার মত লাগবে। ৬-৭ জন গেলে মাথাপিছু প্রত্যেক স্থানে ২০০-২৫০ মতই লাগে।

এবার আসি খাওয়ার খরচের কথা। খাবার দাবারের দাম এখানে খুব সস্তা। আপনি দার্জিলিং বড় মসজিদের ওইখানে কয়েকটা হালাল/ মুসলিম হোটেল আছে (ওই সোনার বাংলা হোটেলের পাশেই) ওখান থেকে খেতে পারবেন বা অন্য কোথা থেকেও খাওয়া দাওয়া করতে পারবেন। ৪ দিন থাকলে আপনার খাবার খরচ সর্বোচ্চ ২০০০ টাকার মত পড়বে।

৩ রাত ৪ দিন থাকার পর আপনি বাংলাদেশের উদ্দেশ্য রওনা দিবেন দার্জিলিং বাসস্ট্যান্ড থেকে জিপ গাড়িতে ১৫০ টাকা করে শিলিগুড়ি আসবেন। সেখান থেকে আবার ৭০-৮০ দিয়ে চ্যাংড়াবান্ধা বর্ডারে চলে আসলেন। এখন আর বর্ডারে বাড়তি কোন খরচ দিতে হবে না। ১০০০ টাকা র টিকেট করে রাতের ট্রিপে সকালে ঢাকা চলে আসলেন।

হিসাব করে দেখুন ১০ হাজার টাকার ১ টাকাও বেশি পড়বে না। তবুও আমি বাড়িতি ২০০০ টাকা বেশি নিতে বলেছি। তবে ৫-৭ জনের গ্রুপে গেলে আরও খরচ কম।
আর বাড়তি কেও যদি কেনাকাটা, শপিং বা পরিবারের জন্য কিছু নিতে চান তাহলে সেটার হিসেব আলাদা।

উপরে যা বলেছিলো আমি ব্যাক্তিগত ভাবে গত বছরের সেপ্টেম্বরে যখন দার্জিলিং গিয়েছিলাম ঠিক এমনটাই করেছিলাম।

Source: Shahriar Alam Pias < Travelers Of Bangladesh (TOB)

1 Apr 2019

রাজস্থানের রাজধানী জয়পুর পুরো ঘুরতে হলে কমপক্ষে ০৩ দিন সময় নিয়ে যেতে হবে। আপনি বিমানে অথবা ট্রেনে সরাসরি কলকাতা থেকে জয়পুরে আসতে পারেন।

#থাকাঃ জয়পুরে বিদেশিদের থাকার ব্যাপারে কিছু ইস্যু আছে। তাই booking.com থেকে বুকিং দিয়ে যাওয়া ভালো। আমার মতে সিন্ধি ক্যাম্প এর আসেপাশে থাকা সবচেয়ে উত্তম। #hotel_arco_place কে আমি রেকমেন্ড করি কারন এটি জয়পুরের প্রধান বাস টারমিনালের পাশেই অবস্থিত। ৩ স্টার মানের হোটেল। ডাবল বেড ১২০০ রুপি সাথে প্রতিদিন বুফে ব্রেকফাস্ট ফ্রি। ডিনার মাত্র ২০০ রুপিতে বুফে।

#ঘোরাঘুরিঃ জয়পুরে ঘোরাঘুরি করার অনেক জায়গা আছে। আমি নীচে পর্যায়ক্রমে ০৩ দিনের প্ল্যান দিচ্ছি। চাইলে কেউ পরিবর্তন ও পরিমার্জন করে নিতে পারেন।

#দিন_০১ঃ যদি সিন্ধি ক্যাম্পের আসেপাশে থাকেন তো একটা অটো নিয়ে চলে যান #আলবার্ট_হল। সপ্তাহিক বন্ধ মঙ্গলবার। ভাড়া নেবে ৫০ রুপি। আলবার্ট হল ঘুরে আবার অটো নিয়ে চলে আসুন #হাওয়া_মহল, ভাড়া ৬০-৮০ রুপি। এখানে টিকিট নেবে ৫০ রুপি। এরপর আবার অটো নিয়ে চলে যান #সিটি_প্যালেস। ভাড়া ৫০ রুপি। এখানে টিকিট নেবে ২০০ রুপি জনপ্রতি। ঘুরে চলে আসুন রাস্তার অপজিটে #যন্তরমন্তর। টিকিট ৩০ রুপি। এরপর আবার অটো নিয়ে চলে যান জলমহাল। মাঝে আপনার সুবিধাজনক স্থানে দুপুরের খাবার খেয়ে নিন। আপনি চাইলে এসি ট্যাক্সি নিতে পারেন,সেক্ষেত্র আপনার গুনতে হবে কমপক্ষে ১২০০ রুপি।

#দিন_০২ঃ সিন্ধি ক্যাম্পে যে কাউকে অথবা হোটেলে বললেই সরকারি বাস টার্মিনাল দেখিয়ে দেবে, ০২ মিনিটের হাঁটা পথ। সেখান থেকে ১৪৫ রুপিতে চলে যান ১৩৪ কিঃমিঃ দূরের #আজমির_শরীফে। দরগা পরিদর্শন করে চলে যান অটো নিয়ে #আনা_সাগর। ঘুরে আবার চলে আসুন বাস টার্মিনাল। আবার ভাড়া ১৩৪ রুপি। যেতে আসতে সময় লাগবে ৫ ঘন্টা। সন্ধ্যায় চলে আসুন #বাপু_বাজার। যা অনেকটা কলকাতার নিউমার্কেট এর মত। সুলভে অনেক কেনাকাটা করতে পারবেন।

#দিন_০৩ঃ এদিন আপনি সারাদিনের জন্য একটি সিএনজি ভাড়া করুন যে আপনাকে #নাহারগড়_ফোর্ট, #জয়গড়_ফোর্ট, #আম্বার_ফোর্ট সব ঘুরিয়ে আবার সিন্ধি ক্যাম্প এ নামিয়ে দেবে। ভাড়া নেবে ৭০০ – ৮০০ রুপি।

খাওয়াঃ জয়পুরে মাছ মাংস কম খাওয়াই ভালো। সবজি থালি আনেক কম দাম। ৭০-১০০ রুপিতেই হয়ে যাবে।

Source: Abu Ahmed Shorif Manik‎ <Travelers of Bangladesh (ToB)

31 Mar 2019

শিলিগুড়ির জীপ গাড়ির চালকেরা প্যাকেজ নেবার জন্য অনেক বেশি চাপাচাপি করে, প্যাকেজ না নিলে প্রায় যাইতেই চায় না বা বেশি টাকা চায়। সেক্ষেত্রে বাসে যাওয়া খুবই ভাল অপশন। ভাড়া কম, বাস জীপের চাইতে বেশি আরামদায়ক এবং যাবার সময় চারদিকের ভিউটাও বাস থেকে বেশি উপভোগ করা যায়। এক্ষেত্রে শিলিগুড়ি এসএনটি থেকে পারমিশন ফর্ম পূরন করে নিতে হবে যেন র‍্যাংপোতে ১০ মিনিটেই পাসপোর্টে সীল দিয়ে নিতে পারেন। বাসের হেল্পারকে বলে রাখলেই র‍্যাংপোতে যথেষ্ট সময় দেয়, কোন অতিরিক্ত ভাড়া লাগে না। সরকারি বেসরকারি দুইরকম বাসই আছে, ভাড়া নন এসি ১৮০ টাকা, এসি ২৫০ টাকা। বাসে জীপের চাইতে খুব বেশি সময় লাগে না।

# এমজি মার্গে স্বাভাবিকভাবেই হোটেলের ভাড়া কিছুটা বেশি, তাই এমজি মার্গে না থেকে ফায়ার সার্ভিসের দিকে হোটেল নিতে পারেন। হেটে কয়েক মিনিটেই এমজি মার্গ আসা যায় ঐখান থেকে।

# নর্থ বা ইষ্ট কোনখানেই এখন ঠান্ডা খুব বেশি না, তাই নিজের যদি একটু ভাল জুতা আর জ্যাকেট থাকে তাহলে আর আলাদা করে জুতা বা জ্যাকেট ভাড়া নেবার দরকার নাই। জুতা যদি কাপড়ের হয়, সেক্ষেত্রে লম্বা স্নো বুট ভাড়া নিতে পারেন, তবে এগুলি শুধু প্ল্যাষ্টিকের বলে, অনেক মোটা মোজা না পড়লে ঠান্ডা লাগে, হাটাও কষ্ট।

# অনেকেই বলেন কাটাও মোটেও সুন্দর না! কিন্তু আমার মনে হয় সবারই কাটাও ঘুরে আসা উচিৎ। আমরা যেটা করেছি তা হল, প্রথমে কাটাও গিয়েছি, এরপর ইয়ামথাং ভ্যালি আর সবশেষে ছ্যাংগু লেক। এতে আমরা ক্রমান্বয়ে কম থেকে বেশি সুন্দর জায়গায় গিয়েছি, তাই কোনটা দেখেই মনে হয়নি সেখানে যাওয়াটা বৃথা ছিল।

# বরফে গড়াগড়ি করা ইচ্ছা থাকলে (না থাকলেও যাবার পরে হবেই!) অবশ্যই সাথে রেইন কোট নিয়ে যাবেন। সাধারণ কাপড় বরফে একবার স্লাইড করলেই ভিজে যাবে, তখন ভেজা কাপড়েই সারাদিন ঘুরতে হবে যেটা খুবই অস্বস্তিকর। রেইন কোটের ট্রাউজার আর কোট পড়া থাকলে আর সমস্যা হবে না।

# সানগ্লাস এবং সানস্ক্রিন অবশ্যই সাথে রাখবেন, বরফে রিফ্লেকশনের কারনে আমার ৫ মিনিটের মাঝে চোখ ব্যাথা শুরু হইছিল সানগ্লাস গাড়িতে ফেলে যাবার কারনে। আর আমার মত কাল চামড়ার মানুষেরও সান বার্ন হয় বাজে অবস্থা।

# ইয়ামথাং ভ্যালিতে গাড়ি হয়ত রাস্তা বন্ধের কথা বলে ভ্যালি শুরুর গেটেই নামিয়ে দিবে, তবে কয়েকজন একসাথে হয়ে রাস্তা দিয়ে হেটে যতটা পারেন যাবেন, এটা জীবনের অন্যতম একটা ওয়াকিং এক্সপিরিয়েন্স হবে। আমরা চারজন হেটে প্রায় ৭/৮ কিমি গিয়েছিলাম, যেখানে আসলেই রাস্তা বন্ধ ছিল এভালান্সের কারনে, ইন্ডিয়ান আর্মি ক্রেন দিয়ে রাস্তা পরিষ্কার করার কাজ করতেছিল। আমরা ভেবেছিলাম ঝাড়ি দিবে কিন্তু বাংলাদেশ থেকে গিয়েছি শুনে বেশ ভাল ওয়েলকামই করেছে!

# নর্থ সিকিমের ইকোনমি প্যাকেজে যেসব হোটেল থাকে এগুলি খুবই সাধারন মানের হোম স্টে এর মত। তাই অতিরিক্ত প্রত্যাশা করবেন না, আর পান থেকে চুন খসলেই অভিযোগ করে ওনাদের মাথা খারাপ করবেন না। বরং একটু আন্তরিক ব্যবহার করলে দেখবেন উনারা ১ দিনেই কেমন আপন হয়ে যায়। আমরা যেখানে ছিলাম সেখানে আগের দিনই অন্য কোন গ্রুপ উল্টাপাল্টা ব্যবহার করে আসছে, ওরা দুঃখ করে বলতেছিল। নিতান্তই ভাল হোটেল চাইলে ট্যুর অপারেটরকে বলে বেশি টাকার প্যাকেজ নিন, লাচুং এ অনেক ভাল হোটেল আছে, হয়ত প্রত্যাশিত সার্ভিস পেয়ে যাবেন।

# গ্যাংটকের এমজি মার্গে রসুই নামের পিওর ভেজিটেরিয়ান রেস্টুরেন্ট আছে, ঐখানের খিচুড়িটাই একমাত্র আমার দেশি খাবারের খুব কাছাকাছি মনে হইছে।

# গ্যাংটকে সব জিনিসের দাম বেশি, তাই নিতান্তই শপিং করার ইচ্ছা থাকলে শিলিগুড়িতে একদিন থেকে শপিং করতে পারেন। বিগ বাজার, বাজার কোলকাতা, এফবিবি, শ্রী লেদারস, বিধান মার্কেট, হংকং মার্কেট শপিং এর জন্য ভাল। শিলিগুড়িতে থাকলে ভজ হরি মান্নাতে অন্তত একবেলা খেয়ে দেখতে পারেন। কিছুটা এক্সপেন্সিভ কিন্তু দারুন বাংগালী রান্না।

খুবই কষ্ট হয় যখন দেখি ফ্রোজেন লেকের মাঝেও লোকে চীপস বা বিস্কিটের প্যাকেট ফেলে রাখে, ড্রিংকসের বোতল ফেলে আসে। ঘুরতে গিয়ে যেখানে সেখানে ময়লা না ফেলার ব্যাপারে নিজে সচেতন হোন আর নিজের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে এখন থেকেই সচেতন করুন। অন্যদের বদলে যাবার অপেক্ষা না করে নিজের পরিবার থেকে বদলে দেওয়া শুরু করুন।

source: Badhon Jain‎ <Travelers of Bangladesh (ToB)

31 Mar 2019

সিলেট বিভাগের অসাধারণ সুন্দর এই জেলায় ঘুরতে যাওয়ার এখন মৌসুম না।

একেতো হাওরে পানি কম। বেশিরভাগ অংশ শুকিয়ে দিগন্ত বিস্তৃত মাঠ হয়ে আছে। যেদিকে তাকাবেন ধান ক্ষেত আর খোলা মাঠ।

অন্যদিকে শিমুল বাগানে ফুল তুলা কিছুই নেই।

সুনামগঞ্জে বাস থেকে নেমে কমপক্ষে হলেও ১৫০-২০০ কি.মি. বাইকে রাউন্ড ট্রিপ দিতে হবে।বাইক ছাড়া এখন চলাচলের আর উপায় নেই।

প্রথম দিনে আমরা তাহেরপুরের শিমুল বাগানে চলে যাই। এই সিজনে ফুল না থাকলেও রাজকীয় গাছগুলো আপনার বিশেষ নজর কাড়বে।

বারিক্কা টিলা বা বারিক টিলাতে যাই। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এই অঞ্চলটির এতটাই চমৎকার যা টাইপ করে বোঝানোর ক্ষমতা হয়ত কারই নেই।

এর পর চলে যাই নিলাদ্রীতে। যদিও আলোর স্বল্পতার কারণে ছবি-ভিডিও নিতে পারিনি আমরা।

এর পর বাধাঘাট ইউনিয়নের একটি খালের সামনে ভেড়ানো নৌকায় বসে জোৎসনা বিলাশ করি সবাই।

দ্বিতীয় দিনে টাঙ্গুয়ার হাওরের দিকে চলে যাই। বাইকে বসে প্রায় দুই ঘণ্টার পথ পাড়ি দিতে হয়েছে। কম পানি থাকলেও দূর থেকে হাজারো বক উড়ে যেতে দেখিছি আমরা।

নোট

ঢাকা-সুনামগঞ্জ শ্যামলি নন এসি সাড়ে ৫০০ টাকা।

বাইক ভাড়া মৌসুমের উপর নির্ভর করে।

বর্ষায় হাওরের মজা নিতে পারবরন।

জানুয়ারি ফ্রেবুয়ারিতে শিমুল বাগানের আসল সময়টা উপভোগ করতে পারবেন।৷

#বিঃদ্রঃ এই দেশ ও পরিবেশ আমাদের, তাই এই অপরূপ স্থানগুলোর সৌন্দর্য্য ধরে রাখার দায়িত্ব আমাদেরই। তাই দয়া করে, পরিবেশ নষ্ট হয় এমন কোনো কাজ করবেন না।
তাই ঘুরতে গিয়ে যেখানে সেখানে পানির বোতল, পলিথিন ফেলবেন না। নিজে সচেতন হোন এবং প্রয়োজনে অন্যকে সচেতন করুন।

source:

30 Mar 2019

১৬ তারিখ রাতে ঢাকা থেকে বান্দরবানের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করি। সকালে বান্দরবান পৌঁছে প্রথমে নাস্তা সেরে রুমা বাজার বাসস্ট্যান্ড এ যায়। ৯টার বাসে চড়ি। এরপর শুরু হয় পাহাড়ের গা ঘেঁষে যাত্রা, উচু নিচু পাহাড়ি রাস্তা, একদিকে ভয়ংকর খাদ। কিন্তু পাহাড়ের যা রুপ দেখবেন তাতে সব ভয় ভুলে যাবেন। Yজাংশন পৌঁছানোর পর ১০-১৫ মিনিটের ব্রেক। এরপর রুমা আর্মি চেকপোস্টে নাম এন্ট্রি করতে হবে। খাবার ও পানি এখান থেকে নিতে পারেন কমে পাবেন। তিন ঘণ্টা পর রুমা বাজারে পৌছালাম। এখানে গিয়ে গাইড নিতে হবে। টিওবিতে অনেক গাইড এর নাম্বার আছে আগে থেকে যোগাযোগ করে যেতে পারেন। গাইডকে নিয়ে রুমা বাজার আর্মি ক্যাম্পে গেলাম।

ওখানে বললো আজকে গিয়ে আজকেই ফেরত আসতে হবে কাল ১২টার পর থেকে আর বাস চলবে না কারণ পরশু উপজেলা নির্বাচন। আমাদের মাথার উপর আকাশ ভেঙে পড়ল। এখানে একটা রাত না থেকে কিভাবে যাব। অনেক বার অনুরোধ করলাম কিন্তু কাজ হলো না। প্রায় একঘন্টা বসে চিন্তা করলাম কি করব। তারপর সিদ্ধান্ত নিলাম যাব। আমরা ২জন ছিলাম দুপুর ১টার সময় মোটরবাইকে বগালেকের দিকে রওনা দিলাম। ১ঘন্টা পর বগালেকে পৌছাই।চিন্তা করলাম আজকেই কেওক্রাডং এ উঠে যাব। গিয়েই আর্মি ক্যাম্পে যাই বলি কেওক্রাডং এ যাব। তারাও একই কথা বলল। আমরা বললাম আজকে কেওক্রাডং গিয়ে রাতটা থেকে কালকে ১২টার মধ্যে চলে আসব।

অনেক অনুরোধ করলাম। তারা বলল বগালেকে থাকতে কারণ ৬টার পর কেওক্রাডং এ এন্ট্রি হয় না। তখন ২:৩০ বাজে। আমরা বললাম সমস্যা নাই ৬টার আগেই পৌছাব। তারপর হয়ত আমাদের দেখে আর্মির মায়া হলো, বলল তাড়াতাড়ি রওনা দিতে। আমরা আসলে বিশ্বাস করতে পারছিলাম না অনুমতি পেয়েছি। ডিম ও কলা খেয়ে ৩:০০ রওনা দিলাম। ভারী খাবার খেলাম না তাহলে উঠতে সময় লাগত বেশি। পথ চলছি আর চিন্তা করছি পারবো তো?তারপর আবার কড়া রোদ। এদিকে সময় আছে ৩ঘন্টা।যত তাড়াতাড়ি পারি চললাম। মাঝে মাঝে রেস্ট নিলাম। প্রথম ১ঘন্টা বেশি উচুনিচু, কষ্টও হয় বেশি। এরপর ১/২ ঘন্টা পর দার্জিলিং পাড়ার বাড়ি দেখতে পেলাম। এখানে রেস্ট নিলাম ২০ মিনিট এবং তেতুলের জ্যুসটা অবশ্যই খাবেন পুরাই অমৃত। এরপর আবার যাত্রা শুরু।

সূর্য যখন দিগন্তে তখন কেওক্রাডং এর চূড়া দেখতে পেলাম। সব ক্লান্তি, কষ্ট দূর হয়ে গেল। আমরা যখন এন্ট্রি করতে যাই ঘড়িতে ৫:৩০ বাজে। আলহামদুলিল্লাহ আড়াই ঘন্টার মধ্যেই আমরা চূড়াই উঠতে পেরেছি। উঠেই আগে এক বালতি পানি কিনে গোসল করি ও সূর্যাস্ত দেখি। প্রচুর খুদা লাগছিল কিন্তু ৯টার আগে খাবার হবে না পর্যটক অনেক। কি আর করা চূড়াই উঠে চাদঁ খাইতে থাকলাম। দূরে দেখতে পাবেন সংসং পাড়ার আলো। পরদিন খুব সকালে আবার বগালেকের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করলাম। পথে চিংড়ি ঝর্ণায় একটু সময় কাটালাম। বগালেকে গোসল করে দুপুরের খাবার খেয়ে রুমা চলে আসি। এইখান থেকে বান্দরবান। তারপর বিকালে ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করি।

খরচপাতি(একজন)–
*ঢাকা >বান্দরবান – ১২৪০/=(যাওয়া ও আসা)
*বান্দরবান >রুমা বাসস্ট্যান্ড – ১৫*২=৩০/=(অটো)
*রুমা বাস ভাড়া – ১১০*২=২২০/=
*রুমা>বগালেক – ২০০*২=৪০০/=
*দুপুরে হালকা খাবার – ৬০/=
*কেওক্রাডং রুম-২০০/=
*রাতের খাবার – ২০০/=
*সকালের খাবার – ৪০/=
*দুপুরের খাবার – ১৫০/=

গাইডের_খরচ-
*প্রতিদিন – ৬০০/=
*থাকা,খাওয়া ও যাতায়াত খরচ আপনাকে বহন করতে হবে।
*এজন্য বেশি মানুষ হলে ভাল তবে ১জন গাইড ১৫জন ট্যুরিস্ট এর জন্যে।

কিছু_প্রয়োজনীয়_তথ্য-
১.বান্দরবান থেকে রুমার উদ্দেশ্যে সর্বশেষ বাস বিকাল ৪টা ও রুমা থেকে বান্দরবানের দিক সর্বশেষ বাস বিকাল ৩:৩০।
২. রুমা আর্মি চেকপোস্টে বিকাল ৪টা সর্বশেষ এন্ট্রি।
৩. জাতীয় পরিচয়পত্র এর ফটোকপি অবশ্যই নিয়ে যাবেন।
৪. বগালেকে সাঁতার কাটবেন না। গোসল করা যদিও নিষেধ তবে পাড়ে করলে কিছু বলে না।
৫. পর্যাপ্ত খাবার পানি ও স্যালাইন রাখুন পাহাড়ে উঠার সময়।
৬. বর্ষাকালে অবশ্যই ভালো গ্রীপের স্যান্ডেল নিয়ে যাবেন।
৭. পাহাড়িদের সাথে খারাপ ব্যবহার করবেন না। অনুমতি ছাড়া ছবি তুলবেন না।
৮. কেওক্রাডং এ সর্বশেষ এন্ট্রি বিকাল ৬টা তবে ঋতুভেদে পরিবর্তন হতে পারে।
৯. কেওক্রাডং এ ভালো ভিউ এ থাকতে প্রতিরাত ৩০০/=
১০. বগালেকে থাকা ২০০/=
১১. বাঙালি গাইড না নেওয়ার চেষ্টা করবেন।
১২.শীতকালে অথবা বর্ষাকালে যাবেন। গ্রীষ্মকালে প্রকৃতি রুক্ষ পাবেন।
১৩. কেওক্রাডং এ থাকার জন্য যোগাযোগ করুন-০১৮৬০৪৩৬৯৭৩(লালা বম)
১৪. কেওক্রাডং পর্যন্ত জীপে যাওয়া যাবে।

Source: Zahid Jony‎ <Travelers of Bangladesh (ToB)