You can add html or text here

Archives

স্থানের তথ্য (Place Information)

10 Dec 2018

৩ বন্ধু হঠাৎ প্লান করে ফেললাম যে ৪ তারিখ রাতে সীতাকুণ্ড থেকে ঘুড়ে আসবো যে কথা সে কাজ, ৪ তারিখ রাতে আমরা ৪৮০ টাকা দিয়ে ইউনিক বাস দিয়ে চলে গেলাম সীতাকুণ্ডে, রাত ৩ টা বাজে আমরা পৌছে গেলাম সীতাকুণ্ডের পৌর সদর,পুলিশ সেটশনে সেখান থেকে ১ মিনিট হাটলেই হোটেল পাওয়া যাবে। বাকী রাত পার করার জন্য আমরা একটা হোটেলে নিলাম ডাবল বেট ৫০০ টাকা দিয়ে, তারপর সকালের নাস্তা সেড়ে রওনা হলাম চন্দ্রনাথ পাহাড়ের উদ্দেশ্য, হোটেল থেকে পাহাড়ের যাওয়ার ভাড়া ২০ টাকা করে,কিন্তু আমরা ৩ জন সিএনজি রিজার্ভ করে নিলাম ৮০ টাকা দিয়ে,পরে ১০ টাকা করে ৩ টা বাশ কিনে নিলাম, ১ঘনটা ২০ মিনিটে পাহাড়ে উঠে গেলাম, সব মিলিয়ে ৩ থেকে সাড়ে ৩ ঘন্টায় পাহাড়ে উঠা,নামা ছবি তুলে সব শেষ করলাম,তারপর সাড়ে ১২ টায় হোটেলে পৌছে রেস্ট নিয়ে দুপুর ২ঃ৩০ এ গুলিয়াখালির উদেশ্য রওনা হলাম,সিএনজি রিজার্ভ করে নিলাম ১৩০ টাকা দিয়ে সেখানে ছবি তুলে কিছু সময় ঘুরে ৫ টা বাজে সীতাকুণ্ডে এসে ঢাকার বাসে টিকিট কিটে নিলাম ৬ টার বাসে বাসার উদদশ্যে রওনা হলাম |

সবশেষে একটাই কথা সীতাকুণ্ডের হোটেল গুলো খুব নিম্নমানের, আমরা সাইমুন হোটেল এ ছিলাম তাদের হোটেল দেখতে মোটামোটি ভালো কিনতু এতে বাজে গন্ধ আসলো যে মনে হলো আগামী ৬ মাস তাদের হোটেলে কোন পর্যটক আসে নাই, আমাদের প্লান ছিলো ২ দিন থাকার কিন্ত এতো বাজে হোটেল দেখে আমরা ১ দিন ঘুড়ে ই চলে আসলাম,আপনারা যদি যান তাহলে নতুন একটা হোটেল হয়েছে সৌদিয়া সেটা থেকে ঘুড়ে আসতে পারেন|

আমাদের সব মিলিয়ে পাহাড় আর গুলিয়াখালি এই ২ জায়গায় ঘুড়ে ১,৫০০ টাকা খরচ হয়েছে|
আপনারা যদি বাশবাড়িয়া ও যেতে চান তাহলে পাহাড় থেকে নেমে যতো তারাতারি পারেন রেস্ট নিয়ে দুপুর ২ টা বাজে বাশবাড়িয়া যেতে পারেন| সেখানে আধা ঘন্টা সময় কাটালে ই যথেষ্ট সেখানে থেকে সাড়ে ৩ টা বাজে গুলিয়াখালি চলে যাবেন, বাশবাড়িয়া থেকে গুলিয়াখালির ভাড়াটা সঠিক যানি না|

পরিশেষে একটাই কথা বলবো কোথাও আমরা যাতে পরিবেশ নস্ট না করি|
Source:Shafiqul Islam Sajal<‎Travelers of Bangladesh (ToB) - ভ্রমন গাইড বাংলাদেশ

8 Dec 2018

অপরূপ সৌন্দর্যের লীলাভূমি সাগর কন্যা কুয়াকটা যা পটুয়াখালী জেলায় অবস্থিত। কুয়াকাটা দক্ষিণ এশিয়ায় একটি মাত্র সমুদ্র সৈকত যেখানে দাঁড়িয়ে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত অবলোকন করা যায়। সমুদ্রের পেট চিরে সূর্য উদয় হওয়া এবং সমুদ্রের বক্ষে সূর্যকে হারিয়া যাওয়ার দৃশ্য অবলোকন করা নিঃসন্দেহে দারুন ব্যপার।

কুয়াকাটা বেরী বাঁধ পেরিয়ে সমুদ্র সৈকতের দিকে যেতেই বাম দিকে ব্যক্তিগত উদ্দ্যোগে মিউজিয়াম স্থাপন করা হয়েছে। এরপরই কয়েক গজ দক্ষিণে “ফার্মস এন্ড ফার্মস” এর রয়েছে বিশাল নারিকেল বাগানসহ ফল ও ফুলের বাগান। এ বাগানের মধ্যে স্থাপন করা হয়েছে বেশ কয়েকটি পিকনিক স্পট, এ পিকনিক স্পট পরিদর্শনের পরেই রয়েছে কাংখিত ১৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের বিশাল সমুদ্র সৈকত। এ সৈকতের পূর্ব দিকে এগুলোই প্রথমে দেখা যাবে নারিকেল বাগান, সুন্দর আকৃতির ঝাউ বাগান। বন বিভাগের উদ্দ্যোগে বিভিন্ন প্রজাতির ঝাউগাছ লাগিয়ে সমুদ্র সৈকতের শোভা বর্ধন করা হয়েছে। এ নারিকেল ও ঝাউবাগানের মধ্যেও রয়েছে পিকনিক স্পট যেখানে পর্যটকরা দল বেঁধে বনভোজনের অনাবিল আনন্দে নিজেদের একাকার করে তোলে। তার থেকে একটুই পূর্ব দিকে আগালেই চর-গঙ্গামতির লেক, সেখান থেকে একটু ভিতরে দিকে এগুলেই সৎসঙ্গের শ্রী শ্রী অনুকূল ঠাকুরের আশ্রম ও মিশ্রীপাড়া বিশাল বৌদ্ধ বিহার। সমুদ্র সৈকতের পশ্চিম দিকে লেম্বুপাড়ায় প্রতি বছর আশ্বিন থেকে চৈত্র মাস পর্যন্ত জেলেরা প্রাকৃতির উপায়ে গড়ে তুলে শুটকী পল্লী। এ শুটকী পল্লীতে সাগরের বিভিন্ন প্রজাতির মাছ প্রাকৃতিক উপায়ে শুটকীতে রূপান্তরিত করে সারা দেশে সরবরাহ করে।

কুয়াকাটায় সূর্যোদয় দেখার জন্য ঝাউবনে যাওয়াই ভালো। সেখান থেকেই সূর্যাস্ত ভালো দেখা যায়, সমুদ্রের পেট চিড়ে কিভাবে সূর্য উঠে তা দেখার জন্য আপনার মতো আরও অনেক লোকই আপনার আগে চলে যাবে সেখানে সন্দেহ নেই। সকাল বেলা হেটে হেটে ঝাউবনে যেতে সময় লাগবে ২০ মিনিট। আর ভ্যানে গেলে লাগবে ১০ মিনিট। সেখানে সারি সারি গাছ ভালো লাগবে। এই বনটি সরকার বনায়ন পরিকল্পনার অধীনে তৈরী করেছে। কারো কারো কাছে সূর্যোদয়ের চেয়ে সূর্যাস্তের দৃশ্যটা বোধহয় বেশি চমৎকার লাগে। সুর্যটা সমুদ্রে ডুবে যাওয়ার সময় রংয়ের পরিবর্তনটা আপনি স্পষ্টই দেখতে পাবেন।

সমুদ্রের গর্জন দিনের বেলা সাধারণত আশে পাশের শব্দের কারনে শোনা যায় না। সমুদ্রের যে একটা ভয়ংকর রূপ আছে তা বোঝা যায় রাতে। যদি রাতে সমুদ্রের গর্জন শুনতে চান তবে অবশ্যই যেতে পারেন সেখানে। নিরাপত্তা জনিত কোন ভয় নেই সেখানে। তবে সাবধানে থাকাই ভালো। সত্যি কথা বললে রাতের সমুদ্রের গর্জন সত্যিই ভয়ংকর। সৈকতের কাছাকাছি কোন হোটেলে থাকলে গর্জন হোটেল থেকেও শোনা যেতে পারে।

দর্শণার্থী ও ভ্রমণ পিপাসুদের জন্য এই সৈকতে আছে ভাড়ায় চালিত মটর সাইকেল ও ঘোড়া। ভাড়া সাধারণত দূরত্ব ও সময় অনুযায়ী হয়। কুয়াকাটার আশে পাশের বেশ কয়েকটি চর আছে। সেগুলি দেখতে আপনি যেতে পারেন স্পিডবোট ও ট্রলার কিংবা ইঞ্জিন চালিত বড় নৌকায় করে। কুয়াকাটায় সমুদ্র সৈকতের আশেপাশে বেশ কয়েকটি পিকনিক স্পট রয়েছে। সেগুলিতে রান্না করার সকল ব্যবস্থা আছে। চুলা, খড়ি, হাড়ি, পাতিল থেকে বাবুর্চি পর্যন্ত।

সমুদ্র উপকূলে পর্যটকদের ভ্রমণের জন্য রয়েছে- সমুদ্র ভ্রমণকারী জাহাজ ও ট্রলার এবং স্পিড বোট। এসব জাহাজ ও ট্রলারে উঠে পর্যটকরা সুন্দরবনের অংশ বিশেষ ফাতরার চর, সোনার চর, কটকা, হাঁসার চর, গঙ্গামতির লেক ও সুন্দরবন সহ গভীর সমুদ্রে বিচরণ করে অফুরস্ত আত্মতৃপ্তিতে নিজেদের ভরে তোলে। সমুদ্র ভ্রমণকারী জাহাযে থাকা খাওয়ার সু-ব্যবস্থা রয়েছে।

কুয়াকাটায় সীমিত সংখ্যক দোকান আছে আপনি আপনার প্রয়োজনীয় ও সৌখিন জিনিসপত্র ক্রয় করতে পারবেন সেসব দোকান থেকে। দাম অপেক্ষাকৃত একটু বেশি হলেও অনেক নতুন নতুন আইটেম পাবেন। কুয়াকাটায় দেখার আরেক আকর্ষণ শুঁটকিপল্লি। কুয়াটায় শুটকি পল্লী থাকায় এখানে অনেক কম দামে বিভিন্ন সামুদ্রিক মাছের শুটকি পাবেন। ইলিশ, রূপচাঁদা, হাঙর, লইট্যা, শাপলাপাতাসহ অসংখ্য প্রজাতির মাছ রোদে শুকিয়ে শুঁটকি বানিয়ে বিদেশে রপ্তানি করা হয়। বিশাল এলাকায় চ্যাঙ বানিয়ে শুঁটকি তৈরির পদ্ধতি দেখা আরেক মজার অভিজ্ঞতা।

রাখাইন পল্লী:
কলাপাড়া উপজেলার পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটা সৈকতের মনোরম দৃশ্য উপভোগের সাথে পর্যাটকদের জন্য রয়েছে বারতি আকর্ষন আদিবাসী রাখাইনদের স্থাপথ্য নিদর্শন। রাখাইন সম্প্রদায়ের প্রায় দুইশত বছরের পুরানো ঐতিহ্য রয়েছে। “গৌতম বুদ্ধের” বিশাল আকৃতির মূর্তি দেখতে পারেন। দেশের সবচেয়ে বড় বৌদ্ধ মন্দিরটির অবস্থান কুয়াকাটা থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে রাখাইন পল্লীতে। গৌতম বুদ্ধের এই ধ্যানমগ্ন মূর্তিটি ৩৬ ফুট উঁচু এবং এর ওজনসাড়ে ৩৭ মন। কুয়াকাটা থেকে সেখানে যাওয়ার জন্য মটর সাইকেল প্রধান বাহন। জানা গেছে, মন্দিরের নির্মান সৌন্দর্য চীনের স্থাপত্য অনুসরন করা হয়েছে।দেখে মনে হবে থাইল্যন্ড বা মিয়ানমার

কিভাবে যাবেন কুয়াকাটাঃ
ঢাকা থেকে সড়কপথে এর দূরত্ব ৩৮০ কিলোমিটার, বরিশাল থেকে ১০৮ কিলোমিটার। ঢাকা থেকে বেশ কয়েকটি বাস এখন সরাসরি কুয়াকাটা যায়। ঢাকা থেকে সরাসরি দ্রুতি পরিবহন, সাকুরা পরিবহনসহ একাধিক পরিবহনের গাড়ীতে গাবতলী কিংবা সায়েদাবাদ বাসস্ট্যান্ড থেকে কুয়াকাটায় আসতে পারবেন। আপনি এসব বাসে গেলে আপনাকে কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত থেকে ২০০ মিটার দূরে নামিয়ে দিবে। ভাড়া ৫০০-৫৫০। ঢাকা থেকে কুয়াকাটা বাসে যেতে মোট সময় লাগে প্রায় ১২/১৩ ঘন্টা। খুলনা থেকে কুয়াকাটার উদ্দেশ্যে সকাল ৭ টায় একটি বিআরটিসি বাস ছাড়ে। খুলনা থেকে যেতে সময় লাগে প্রায় ৭/৮ ঘন্টা।

আর উত্তরবঙ্গ থেকে আসতে চাইলে সৈয়দপুর থেকে খুলনা পর্যন্ত রূপসা অথবা সীমান্ত আন্তঃনগর ট্রেনে করে আসতে পারবেন। রাত্রের টেনে আসলে সকাল ৭ টার বিআরটিসি বাসে করে কুয়াকাটা যেতে পারবেন।

তবে বরিশালের পর সড়ক যোগে কুয়াকাটায় পৌঁছাতে আপনাকে লেবুখালী ফেরী পারাপার হতে হবে।

তবে যে সকল পর্যটকরা ঢাকা থেকে নৌ পথে কুয়াকাটায় আসতে চান, তারা ঢাকা সদরঘাট থেকে বিলাস বহুল ডাবল ডেকার এম.ভি পারাবত, এম.ভি সৈকত, এম.ভি সুন্দরবন, এম.ভি সম্পদ, এম.ভি প্রিন্স অব বরিশাল, এম.ভি পাতারহাট, এম.ভি উপকূল লঞ্চের কেবীনে উঠে সকালের মধ্যে পটুয়াখালী কিংবা কলাপাড়া নেমে রেন্ট-এ-কার যোগে এবং পটুয়াখালী-কুয়াকাটা রুটের বাসে চড়ে পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটা পৌঁছাতে পারেন।

ঢাকা থেকে উল্লেখিত রুট সমূহের লঞ্চ গুলো বিকাল ৫ থেকে সন্ধ্যা ৭ টার মধ্যে লঞ্চ ঘাট ত্যাগ করে থাকে।

লঞ্চে সিঙ্গেল কেবিন ভাড়া ৯০০ টাকা।

Source: T A Sumaiya Akhi‎ <Travelers of Bangladesh (ToB) – ভ্রমন গাইড বাংলাদেশ

 

5 Dec 2018

বর্তমানে চন্দ্রনাথ পাহাড় হচ্ছে আলোচিত বিষয় এর শীর্ষে।
সবাই একদিনের টুর হিসেবে চন্দ্রনাথ+গুলিয়াখালি+মহামায়া এ কায়াকিং এর দিকেই যাচ্ছে
আমার আগে কায়াকিং করা হয়েছে…তাই এবার আমি মহামায়া নাহ গিয়ে টুর প্লেন করলাম একটু অন্য ভাবে

চন্দ্রনাথ পাহাড়+সুপ্তধারা ঝর্না+গুলিয়াখালি
বলে রাখি, একদিনের জন্য এটা কষ্টের…একটু সময় বিবেচনা করলেই করা যায়।

তাহলে শুর করা যাক … …
মেইল ট্রেন ই আমাদের ভরশা,  চিটাগং মেইল, ভারা ১১০ করে …৭ টায় সীতাকুণ্ড বাজার। হালাকা নাস্তা সেরে … অতিরিক্ত পানি নিয়ে চলে যান পাহারের উদ্দেশে। বাজার থেকে সিনজি, জন প্রতি ২০ টাকা। নিচ থেকে বাশ কিনে নিন, ১০ টাকা। বাশ এর উপকারিতা উঠার সময়ই বুঝবেন। পাহাড়ের চলা শুরু করার পর কিছু দূর যেতেই একটা ঝর্না পাবেন। এখান থেকেই আপনার যাত্রা শুরু। এখানে ২টা রাস্তা বাম এবং ডান। বাম দিকের টা উঠার জন্য আর ডান এর টা নামার জন্য ভাল (কষ্ট কম হবে আর কি)। আমরা ৩জন ছিলাম (তাল পাতার সেপাই) ১ ঘণ্টা ১০/১৫ মিনিটের মধ্যে মন্দিরে। এত কষ্টের পর শীর্ষে যাবার পর যা দেখবেন তা এক কথায় অসাধারন। এখানে আপনার মন মত সময় কাটিয়ে নেমে আসুন। সিনজি করে চলে আসুন সীতাকুণ্ড বাজারে।

ভারি খারাব খেয়ে নিন।

এবার গন্তব্য ঝর্না। বাজার থেকে বাস জন প্রতি ১০ টাকা সীতাকুণ্ড ইকো পার্ক। মেইন রোড থেকে হাটা দিন। ১০ মিনিট এর মধ্যে মেইন গেট। ইকো পার্ক এর এন্ট্রি ২০ টাকা জন। একটাই পিচ ঢালা রাস্তা, হাটা দিন। গেইট থেকে ঝর্নার দুরুত্ত ১.১ কিলো। প্রকিতির সুন্দরজ দেখতে দেখতে চলে আসবেন, (রাস্তা বাম দিকে বাক নিয়েছে) একটি দোকানের কাছে। এখান থেকে ডান দিকে সিঁড়ি পাহাড়ের নিচে যাবার সিঁড়ি। নামুন (অনেক খাড়া সিঁড়ি, সতর্ক ভাবে নামুন)। সিঁড়ি শেষে ঝিরি পথ। পথের বাম পাশ দিয়ে চলুন। কান পাতুন, গর্জন শুনতে পাচ্ছেন। কিছু দূর যাবার পরি দেখা মিলবে অপরূপ সুন্দরযের সুপ্তধারা ঝর্নার। এটি জেগে উঠে বর্ষায়। এতো কষ্টের ফল বিফলে যায় নি। টাণ্ডা পানিতে সব ধুয়ে গেছে।
মেইন রোড থেকে বাসে করে চলে আসুন বাজারে। নাস্তা করে নিন।

এবার আসা যাক গুলিয়াখালি নিয়ে কিছু কথা বলা। এখানে বিকালে যাওয়াটাই ভাল। বিকাল ভাঁটা এর সময়। জোয়ারে এ গেলে দেখবেন সুন্দর গাছ গুলো পানির তলে।

তাই বিকালে বাজার থেকে সিনজি করে চলে আসুন বিচের দিকে। জন প্রতি ৩০ টাকা। এখান থেকে আবারো হাটা দিন। সমুদ্রের শীতল বাতাসে হাটতে কষ্ট হবে না বলাই বাহুল্য। আর গুলিয়াখালি সী বিচ নিয়ে নতুন কিছু বলার নাই। ইতি মধ্যে সবাই জানে এর সুন্দরয এর কথা। বাজারে চলে আসুন বিচে একটু দাপাদাপি করে।

সকল ঘুরাঘুরি শেষ। এবার নীড়ে ফিরার পালা।

সময় বিবেচনাঃ
১২টা পর্যন্ত থাকুন পাহারে। ৪টা পর্যন্ত ঝর্নার সাথে সময় কাটান। ৬টা পর্যন্ত বিচে।
৫-৬ জনের গুরুপ করে গেলে সিনজি নিতে ভাল হবে। আমাদের বার বার রিজার্ভ করতে হয়েছিল।

খরচঃ
(মেইল) কমলাপুর থেকে ট্রেন ১১০
সীতাকুণ্ড বাজার থেকে পাহাড় ২০
পাহাড় থেকে বাজার ২০
বাজার থেকে ইকো পার্ক মেইন রোড ১০
পার্কে এন্ট্রি ২০
পার্ক থেকে বাজার ১০
বাজার থেকে গুলিয়াখালি ৩০
গুলিয়াখালি থেকে বাজার ৩০
বাজার থেকে বাসে চিটাগং ৩০
(মেইল) চিটাগং থেকে ট্রেন কমলাপুর ১২৫
(জনপ্রতি ভাড়া) মোট ৪০৫
খাওয়া দাওয়া আপনার উপর। এখানে শুধু যাতায়েত খরচ।

*****ঢাকা আসার সময় এক্সপ্রেস ট্রেন অথবা বাস এ করে চলে আসলে ভাল হবে। মেইল এ মেলা কষ্ট।

সর্বশেষঃ আসছেন আপনি প্রকিতি দেখতে, নষ্ট করতে নাহ। পাহারে উঠার সময় পানির বতল গুলে সিঁড়ি এর আশে পাশে ফেলবেন নাহ। আকা আকি করবেন নাহ। মন্দিরে উঠে চিল্লা পাল্লা করবেন নাহ। যেখানেই যান পরিবেশ পরিষ্কার রাখবেন।

Source:TanVir Tonu‎>Travelers of Bangladesh (ToB)

5 Dec 2018

পদ্মঝিরি-দেবতাপাহাড়-অমিয়াখুম-সাতভাইখুম-ভেলাখুম-নাইক্ষ্যং লেক-নাফাখুম-রেমাক্রি-তিন্দু-বড়পাথর-সাংগু

বিশ্ব ভ্রমণের চিন্তাভাবনা যারা করে রেখেছেন, তারা একটু এদিকে আসেন, অর্থাৎ বান্দরবানের দিকে আগে ঘুরে আসেন।
বিশেষ করে যারা পাহাড়-নদী-ঝর্ণার প্রেমে আগে থেকেই নিমগ্ন, তাদের জন্য বান্দরবান পারফেক্ট জায়গা। বাংলাদেশের অনেক জায়গা ভ্রমণ করলেও এই জায়গায় যাওয়ার অতৃপ্তি নিয়ে অনেকদিন বসে ছিলাম, অবশেষে সেই অপেক্ষার প্রহর শেষ হল।
আবার বলা যায় ভ্রমণপিপাসু হিসেবে একটা স্বপ্নপূরণ হয়েছে, সেই ভ্রমণের বর্ণনাই আজকে দিচ্ছি…

২১ নভেম্বর,২০১৮
চট্টগ্রাম থেকে বান্দরবানগামী পূরবী পরিবহণের ভোর ৬ টা ১০ এর ফার্স্ট ট্রিপে আমাদের ১২ জনের টিমের অফিসিয়ালি যাত্রা শুরু হয়(আনঅফিসিয়ালি ভোর সাড়ে ৪ টা  বাস প্রায় ৯ টা নাগাদ আমাদেরকে বান্দরবান নামিয়ে দেয়। আগে থেকে ঠিক করা চাঁন্দের গাড়ি বাস স্ট্যান্ডে এসে আমাদের জন্য অপেক্ষা করছিল। সেটায় উঠে হোটেলে গিয়ে নাস্তা শেষ করে আমরা থানচির উদ্দেশ্যে রওনা করি।
উল্লেখ্য, বান্দরবানে আমাদের সাথে চট্টগ্রাম থেকে আসা ৫ জনের একটা গ্রুপ এড হয়, অর্থাৎ আমরা হয়ে যাই ১৭ জনের এক বিশাল টিম। যাইহোক, থানচি যাবার পথে দুবার বিজিবি ক্যাম্পে আইডি কার্ড জমা দেয়া এবং সাইন করা লাগে, কয়েকটা জায়গায় চেকিং বা ওয়াশরুমের জন্যও দাড়ানো লেগেছে। তার উপর ছুটির দিন হওয়ায় প্রত্যেকটা পয়েন্টে ওইদিন প্রচন্ড ভীড় ছিল। তবু আমাদের ড্রাইভার মামা তার ল্যান্ডক্রুজার নিয়ে ঝড়ের বেগে টানায় ((২)) টার মধ্যেই আমরা থানচি পৌঁছে গিয়েছিলাম।

এখানেও আমাদের গাইড “উখিরাম” দা আগে থেকে স্ট্যান্ডে অপেক্ষারত ছিল। তো থানচি নেমে “হোটেলে ভাত খাওয়া, টুকটাক জুতা এবং খাবার জিনিসপত্র কেনা, পুলিশ ক্যাম্পে আইডি কার্ড জমা দেয়া এবং গ্রুপ ছবি তোলা, বিজিবি ক্যাম্পে নিজের পরিচয় লেখা, প্রত্যেকের জন্য লাইফজ্যাকেট ভাড়া নেয়া, ট্রেকিংয়ের জন্য ড্রেসাপ চেঞ্জ করে রেডি হওয়া এবং ৩ দিনের জন্য নেটওয়ার্কের বাইরে যাবার আগে পরিবারের সাথে একবার কথা বলে নেয়া” এই কাজগুলো করতে করতে প্রায় ৩ টার উপর বেজে যায় আমাদের। তারপর নৌকায় উঠে প্রায় ৩০ মিনিট পরে আমরা পদ্মমুখ এসে পৌঁছাই এবং এখান থেকেই পদ্মঝিরি ধরে ঠিক ৪ টা ১০ মিনিটে আমাদের সুবিশাল ট্রেকিং পথ শুরু হয়।

শীতকাল একটা কারণ এবং পাহাড়ে খুব তাড়াতাড়ি সন্ধ্যা হয় এটা আরেকটা কারণ, যার ফলে ১ ঘন্টা পরই আমাদের সবার টর্চ লাইট অন করতে হয়। অর্থাৎ পুরো ট্রেকিংটাই আমাদের রাতে করতে হয়েছে। যাবার পথে আমরা তিনটি পাড়া পেয়েছিলাম যার মধ্যে হরিশচন্দ্র পাড়ায় একটা নাস্তার ব্রেক নিই এবং অন্য সময় বিভিন্ন পয়েন্টে দাঁড়িয়ে রেস্ট নিই। অন্ধকারে পিচ্ছিল পাথরের ঝিরিপথ দিয়ে হাটা, কনকনে ঠান্ডা পানিতে পা দিয়ে খাল পার হওয়া, উঁচুনিচু অগণিত ভায়াগ্রা পাহাড় পার হওয়া এবং শেষের দিকে গয়ালের(বন্যগরু টাইপের) মুখোমুখি হওয়া সবকিছুই ছিল এই ট্রেকিংয়ের ভয়ংকর অভিজ্ঞতা। যাবার পথে কতবার যে পায়ের রগে টান খেয়ে দুই পা অচল হয়ে পড়ছিল আর লাইফজ্যাকেট+ব্যাগের ভারে কাঁধ যে কতটা ব্যাথা করছিল তার হিসেব না করলেই ভাল হয়। আমাদের থাকার জায়গা জিনাপাড়ায় যখন পৌঁছাই তখন ঘড়িতে বাজে রাত প্রায় ১০ টা ১৫ মিনিট। থাকার জায়গা আগে থেকেই ঠিক করে রেখেছিল উখি দা। সবার শরীর তখন অসাড়, কেউ কেউ তো ফ্রেশ হওয়া-খাওয়া বাদ দিয়ে মাটিতে লুটিয়ে ঘুম দিয়ে দিল। উল্লেখ্য, ট্রেকিংয়ের সময় আমাদের সামনে থাকা প্রায় ৩-৪ টা গ্রুপকে পেছনে ফেলা স্বত্ত্বেও আমাদের ৬ ঘন্টা লেগে গিয়েছিল।

সত্যিকথা বলতে, ১ম দিনের এই ৬ ঘন্টার ট্রেকিং যে আমাদের জন্য এত কষ্টের এবং কঠিন হবে তা আমরা কল্পনায়ও ভাবিনি। ১৭ জনের মধ্যে আমাদের ৪ জনের কেওক্রাডং রুটে ৪৮ কি.মি. ট্রেকিংয়ের অভিজ্ঞতা ছিল, কিন্তু এই ৪ জনের অবস্থাও বেগতিক হয়ে গিয়েছিল।

২২ নভেম্বর,২০১৮
১ম দিনের ট্রমা থেকে উঠতে সবার ই একটু সময় লেগেছে, কারণ অনেকেই বিভিন্ন ওষুধ খেয়ে ঘুম দিয়েছিল। তাই আমাদের একটু দেরী হয়ে যায়। যাদের ঘরে থাকছি, অর্থাৎ সাদু দা এবং দিদি’র বানানো সুস্বাদু ডিম খিচুড়ি খেয়ে সকাল ১০ টায় আমরা অমিয়াখুমের উদ্দেশ্যে রওনা করি। প্রথমেই আমাদের বিশাল এক ভায়াগ্রা পাহাড় পার হতে হয়, এরা আসলে দেবতা পাহাড়ের ছোট ভাই, শুধু উপরের দিকে উঠতেই থাকে তো প্রায় ৪৫ মিনিট ট্রেকিংয়ের পর বিখ্যাত দেবতাপাহাড়ের চূড়ায় এসে পৌঁছাই আমরা, এবার নামার পালা। এই পাহাড় ডিঙানোর বড় সমস্যা হল একেতো ৮০° খাড়া, তার উপর সরু আঁকাবাঁকা পথ, ক্ষণে ক্ষণে বিশাল বিশাল পাথর এবং গাছের গুড়ি পড়ে আছে। নামতে তাই অসম্ভব রকমের সাবধানতা অবলম্বন করতে হয় সাথে বোনাস হিসেবে হাঁটুর জয়েন্টের ব্যাথা তো আছেই! যাইহোক দুপুর ১২ টা নাগাদ আমরা পাহাড়ের নিচে এসে পৌঁছাই। পাহাড় থেকে নামার পর ডানে ভেলাখুম এবং বামে অমিয়াখুম-সাতভাইখুম। যেকোনো খুমে যেতেই ১০ মিনিটের মত পাথরের উপর উঠানামা করা লাগবে। তো আমরা প্রথমে অমিয়াখুমের দিকে যাই।
অমিয়াখুমের সবচেয়ে বড় সৌন্দর্য্য হল এর স্বচ্ছ সবুজ পানি এবং চারপাশে ঘিরে থাকা বিশাল বিশাল পাহাড়। ক্যাম্পিং করে পূর্ণিমা কাটানোর জন্য অন্যতম সেরা একটা জায়গা বটে। পানি অসম্ভব ঠান্ডা হওয়ায় কয়েকজন ছাড়া বাকীরা গোসল করতে নামেনি। দেবতাপাহাড় আমাদের পেটে লাড়াচাড়া দিয়ে ফেলেছিল। তাই এই লাড়াচাড়া বন্ধ করতে উখি দা এবং আকুরণ দা(ইনি আজকের দিনের জন্য সহকারী গাইড ছিল) চটপট ব্যাগে করে আনা ম্যাগি নুডলস নামিয়ে রান্না করে দেয়। নুডলস খেয়ে ছবি তোলা শেষ করে আমরা ভেলাখুমের দিকে যাই।

ব্যক্তিগতভাবে বললে, ভেলাখুম অতটা আকর্ষণীয় লাগেনি যতটা আমরা ছবিতে দেখেছি। দুরত্ব মাত্র ৫-৭ মিনিটের আসা-যাওয়া, সাথে মানুষের তুলনায় ভেলার সংখ্যাও কম, ভেলায় করে ওই পাশে গিয়ে আবার হেঁটে পাওয়া যায় নাইক্ষ্যং লেক। তবে দুই পাহাড়ের মাঝখান দিয়ে স্বচ্ছ পানির উপরে বাঁশের ভেলা চড়া কিংবা নিজে চালানো একটু ভিন্ন অভিজ্ঞতার যোগান দেয়। ভেলা চড়া শেষ যখন, তখন সাড়ে ৪ টার উপরে বাজে, অথচ অন্ধকার হবার আগে যেকোনোভাবে আমাদের দেবতাপাহাড়ের চূড়ায় পৌঁছাতে হবে। তাই এক মুহুর্তও দেরী না করে আমরা জিনাপাড়ার উদ্দেশ্যে রওনা করি। নামতে ছিল ঝুঁকি, এবার উঠতে গিয়ে শুরু হাপানী। তবু নামার তুলনায় আমরা খুব তাড়াতাড়ি এবং কম কষ্ট পেয়ে উঠেছি বলা যায়। সূর্য যখন ডুবে যাচ্ছে, তখন আমরা দেবতাপাহাড়ের চূড়ায়। কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিয়ে গ্লুকোজ গুলিয়ে খেয়ে এই পাহাড়কে লাল সালাম দিয়ে আমরা গন্তব্যে হাঁটা দেই। যাবার পথে একজনের ডাক শুনে পিছনে তাকিয়ে দেখি পূর্ণিমার চাঁদ আমাদের দিকে তার অপরূপ সৌন্দর্য নিয়ে মায়াবী দৃষ্টিতে তাঁকিয়ে আছে, দেখে সত্যিই মনটা ভরে যায় পুরো দিনের ক্লান্তিটা যেন এখানেই শেষ। রাত প্রায় সাড়ে ৬ টা নাগাদ আমরা জিনাপাড়ায় পৌঁছাই। সেখানে চা-নাস্তা খেয়ে, আড্ডার আসর বসিয়ে, বিভিন্ন হিসাব-নিকাশ শেষ করে সকালে নিজেদের জবাই করে দিয়ে যাওয়া পাহাড়ী মুরগী দিয়ে আমরা রাতের খাবার শেষ করি, খাবার টা যা সুস্বাদু ছিল! ২য় দিন এত কষ্ট হলেও কেন যেন আগের দিনের মত ক্লান্তি ছিলনা, হয়তো আমরা ঝর্ণা আর পাহাড়ের সৌন্দর্য্যের কাছে হার মেনে গেছি!

২৩ নভেম্বর, ২০১৮
আজকে আমরা নাফাখুম ঘুরে রেমাক্রি গিয়ে থাকব, তাই অত তাড়া ছিলনা। আগের দিনের মত সকাল ১০টায় রওনা করি। জিনাপাড়াকে বিদায় জানানোর আগে এই পাড়া সম্পর্কে কিছু কথা বলতে হয়। পাড়াটা যথেষ্ট বড়, একটা পাহাড়ের চূড়া বলা যায়, পাড়ার মানুষগুলো অসম্ভব ভাল এবং সুন্দরও বটে  উনাদের রান্না ছিল অতুলনীয়, যখনই খেয়েছি ২-৩ প্লেট করে নিয়েছি।
জিনাপাড়া থেকে নাফাখুম যাবার পথ টা অস্বাভাবিক রকমের সুন্দর, রেমাক্রি খালের পাড় ধরে বালু এবং পাথরের উপর দিয়ে হাঁটতে হয়, কখনো খাল পার হতে হয় আর একটা খালের পানি এতটা পরিষ্কার হতে পারে সেটা খালি চোখে না দেখলে কখনো বিশ্বাস হত না, সুবহানআল্লাহ বলতে হয়। আড়াই ঘন্টা মজা করে হাটার পর আমরা নাফাখুম এসে পৌঁছাই। আসার সময় দূর থেকে ঝিরির আওয়াজ শোনা যাচ্ছিল, আর এসে সবাই কিছুক্ষণ হাঁ করে এই রূপসী মায়াবতীর দিকে তাকিয়ে ছিলাম। দেরী না করে এক এক করে সবাই পানিতে ঝাঁপিয়ে পড়ি, কেউ লাইফজ্যাকেটসহ কিংবা কেউ ছাড়া। এখানে একটা ভয়ানক ঘটনা ঘটেছিল, সেটা শেষের দিকে বলছি, এখন আমার কিংবা আপনাদের কারো মুড নষ্ট করতে চাচ্ছিনা।

তো.. কেমন লেগেছে নাফাখুম?? এই প্রশ্নের এক কথায় উত্তর-“এই ট্যুরের সবচেয়ে সেরা প্রাপ্তি আমাদের প্রত্যেকের জন্যই, শুধু আমার না!” সরাসরি না দেখলে ছবি কিংবা ভিডিও দিয়ে কখনোই কাউকে বলে বোঝানো যাবেনা যে কতটা ভয়ংকর রকমের সুন্দর আল্লাহর এই অপরূপ সৃষ্টি। আয়নার মত স্বচ্ছ পানি, সেই পানি পড়ার আওয়াজ, পানিতে থাকা বিশাল মাছ, চারপাশের সৌন্দর্য আর পানিতে নামার পর পাওয়া সেই স্বর্গীয় অনুভূতি, প্রত্যেকটা জিনিসই আজীবনের জন্য আমাদের মনে গেঁথে গেছে।

অমিয়াখুমে আমরা ঠান্ডার জন্য নামতে পারিনি, অথচ এখানে ঠান্ডাই লাগেনি, লাগলেও সেটা ভুলে গেছি।

তো গোসল, লাফালাফি, ছবি তোলা শেষ করে ঠিক পাশেই থাকা নাফাখুম পাড়ায় গিয়ে আমরা ফ্রেশ হয়ে দুপুরের খাবার সেড়ে নেই। এখানেও আইটেম ছিল পাহাড়ি মুরগী এবং রান্না ছিল অতুলনীয়। কবির ভাষায়, “যেতে নাহি চাহে মন তবু চলে যেতে হয়” এর মতন করে রূপবতী নাফাখুমকে টাটা জানিয়ে আমরা রেমাক্রির উদ্দেশ্যে রওনা করি।ততক্ষণে ঘড়ির কাঁটায় সময় ৪টা ১০ মিনিট। নাফাখুম থেকে রেমাক্রি আসার পথের যদি বর্ণনা করি তবে বলতে হবে ভয়ংকর। প্রায় ৫-৬ বার রেমাক্রি খাল পেরোতে হয়। নাফাখুমের আগে যেমন স্রোত এবং পানি কম ছিল, নাফাখুমের পরে তার উলটো। প্রচন্ড স্রোত, হাঁটু/কোমড় পানি, পানির নিচে পিচ্ছিল পাথর, তার উপর অক্টোবরে একটা ছেলে মারা যাওয়ার জায়গাটাও দেখিয়েছিল আমাদেরকে উখিদা। আমরা হাটু পানি পেয়েছিলাম সেখানে, কিন্তু বর্ষায় প্রচুর স্রোত এবং গলাপানি থাকে, দড়ি দিয়ে পেরোতে হয় তখন। যাইহোক, অন্ধকারে টুকটাক ভয়কে সঙ্গী করে অবশেষে সাড়ে ৬ টা বাজে আমরা রেমাক্রি এসে পৌঁছাই। এখানেও আবার সাঙ্গু নদী পেরোনো লাগে | অর্থাৎ আমাদের সাথে হেঁটে এসে রেমাক্রি খাল এখানে সাঙ্গু নদীর সাথে মিশেছে। কিন্তু জায়গাটার সৌন্দর্য দেখে কখন যে সবাই সবার হাত ধরে নদী পার হয়ে গেছি টেরও পাইনি!
তারপর সিড়ি দিয়ে উপরে উঠে শিরবীলী কটেজ নামক একমাত্র থাকার জায়গায় ব্যাগ নামক বস্তা রেখে ফ্রেশ হয়ে আমরা চটপট নিচে নেমে যাই নাস্তা খেতে।

এইদিন ছিল পূর্ণিমার রাত, চাঁদটা এমনভাবে দেখা যাচ্ছিল, মনে হচ্ছিল “দুই কুয়াশাঘেরা পাহাড়ের নিচ থেকে সগর্বে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে চাঁদমামা তার অপরূপ মহিমায় আরেকটা ছোট্ট পাহাড়ের উপর সৌন্দর্য্যের ফুলঝুরি ছড়াচ্ছে”। আমি মনে হয় কাউকে বুঝাতে পারিনি সৌন্দর্যরূপটা। আসলে আরো কয়েকটা পূর্ণিমারাত কাটাতে হবে সেখানে, সেই শপথ ইতিমধ্যে করে এসেছি।

এইরাতে আমাদের ক্লান্তি ছিলনা বললেই চলে, গত ২ দিনের তুলনায় ট্রেকিংয়ে কষ্ট ছিল কম, সৌন্দর্য ছিল বেশী, সবশেষে রেমাক্রি ফলস এবং সাঙ্গু নদীর তীরে ক্যাম্প ফায়ার করে পূর্ণিমা উপভোগের স্মৃতিটা আজীবন অমলিন হয়ে থাকবে।

রাতে আমাদের খাবারের বাজে অভিজ্ঞতা হয়েছিল, বলা যায় এই ট্যুরের একমাত্র। শিরবীলী কটেজে থাকা নিয়ে কোনো অভিযোগ না থাকলেও কটেজের অধীনে থাকা হোটেলের খাবার ছিল তীব্র রকমের জঘন্য, এখানকার জামাল নামক বাবুর্চি আলুভর্তা কে বানিয়ে রেখেছিল মরিচভর্তা, ডালকে বানিয়েছিল “তরকারির লবণ ছাড়া ঝোল”, ভাগ্য ভাল যে আমরা মুরগী অর্ডার না করে ডিমভাজি অর্ডার করেছিলাম। উনাকে ইচ্ছেমত বাঁশ দিয়ে আসছি বটে, কিন্তু পেটকে এখনো শান্ত করতে পারিনি। তাই সবাইকে সাজেস্ট করব নিচের বেড়ার হোটেলগুলোতে খেতে। আমরা নিচেই সকালের নাস্তা করেছিলাম। তো রাতের খাবারের কারণে আমাদের কারোই ভাল ঘুম হয়নি, তবে এখানে আগের ২ রাতের চেয়ে ঠান্ডা ছিল কম, হয়তো নদীর তীর হওয়ায়।

২৪ অক্টোবর, ২০১৮
ভোরে উঠে কুয়াশাঘেরা অন্যরকম এক রেমাক্রিকে দেখতে পেলাম। এইদিন আমাদের তাড়া ছিল, কারণ বান্দরবান থেকে চট্টগ্রামের শেষ বাস সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টা। তাই সকাল ১০ টার মধ্যে রেমাক্রি ফলসে টুকটাক ফটোশুট করে এবং নাস্তা করে নৌকায় উঠে আমরা থানচির উদ্দেশ্যে রওনা করি। এইদিককার নৌকা ভ্রমণ কিন্তু পুরোপুরি ভিন্ন। সরু লম্বা নৌকা, এক পাশে টারবাইন, দুই পাশে বৈঠা হাতে দুই মাঝি, দুইপাশে পাহাড় এবং ছোট-বড় পাথরের উপর কিংবা পাশ দিয়ে নৌকা প্রায় উল্টাবে উল্টাবে এমন অবস্থায় ঝড়ের গতিতে নৌকা চলতে থাকে। বড়পাথরের আগে একটা জায়গায় আমাদের সবাইকে নামতে হয়েছিল, কারণ এখানে স্রোত একটু বেশী, ৬ জনকে নিয়ে নৌকা উল্টে যেতে পারে। তারপর আবার নৌকায় উঠে কিছুক্ষণ পর পৌঁছে যাই “বড়পাথর” নামক জায়গায়। বড় বলতে বিশাল বিশাল সাদাপাথর নদীর উপর রাজার মত দাঁড়িয়ে আছে, সেগুলোকে পাশ কেটে এঁকেবেকে আমাদের নৌকা ছুটে চলেছে। এখানে আপনি এক মুহুর্তের জন্যেও নৌকা দাঁড় করাতে পারবেন না, স্রোত নিয়ে পাথরে বাড়ি খাওয়াবে, আমাদের এক মাঝির বৈঠা পরে গিয়েছিল স্রোতে, পরে অনেক কষ্টে উদ্ধার করেছিলাম। এই জায়গায় আমাদের একটা একশন সেল্ফি আছে, সেটা দেখলে আপনারা আইডিয়া পাবেন যে জায়গাটা কত সুন্দর এবং পানি কতটা পরিষ্কার। নদীপথের এই রোমাঞ্চকর দুই ঘন্টার ভ্রমণ ছিল আমাদের ট্যুরের শেষ এডভেঞ্চার। প্রায় ১২ টা নাগাদ আমরা থানচি এসে পৌঁছাই। তারপর আবার লাইফজ্যাকেট ফেরত, পরিবারের সাথে কথা এবং বিভিন্ন কাজ শেষে চান্দের গাড়িতে উঠি। দুপুর ১টায় গাড়ি চলা শুরু করলেও বান্দরবান পৌঁছাতে বিকেল ৫টা বেজে যায়, কারণ পথে রাস্তার কাজ চলতেছিল বিধায় এক জায়গায় অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছিল। বান্দরবান নেমে ভাত খেয়ে পূর্বাণী পরিবহণের ৬ টার বাসে উঠে রাত ৯টায় এসে চট্টগ্রাম পৌঁছালে এখানেই আমাদের যাত্রার অফিসিয়াল সমাপ্তি ঘটে।

কেওক্রাডং-বগালেক-কক্সবাজার-সেন্টমার্টিন এই জায়গাগুলোও কিন্তু সুন্দর, তবে খুমের রাজ্য অন্যরকম। বলা যায় “ভয়ংকর সুন্দর”। এই পাহাড়, পাহাড়ের মানুষ,তাদের মন সব কিছুই বিশাল। তার সাথে যদি আয়নার মত স্বচ্ছ পানির নদী, ছড়া ও ঝিরিপথ এবং দেশের সবচেয়ে সুন্দর ঝর্ণাগুলো একত্রিত হয় তখন এই জায়গার আর কোন তুলনা কখনো হয় না। তাই যারা টুকটাক ট্রেকিং করে অভ্যস্ত এবং ভ্রমণপিপাসু তাদের জীবনে অন্তত একবার হলেও এখানে আসা উচিত।

সতর্কতা::
নাফাখুম আসার পর অসাবধানতাবসত আমাদের এক ভাই কাঁধে থাকা ব্যাগ নিয়ে পাথরে পিছল খেয়ে পানিতে পড়ে গিয়েছিল, উনি সাতার জানতেন না, ভাগ্য ভাল যে আগে থেকে কিছু পর্যটক সেখানে গোসল করছিল, উনারা এসে ভাইকে বাঁচিয়েছিল।
দেবতাপাহাড় থেকে নামার সময় আমাদের এক ফ্রেন্ড একপ্রকার উল্টিয়ে পড়ে যেতে লাগছিল, হাল্কা ব্যাথা পেয়েছে।
অমিয়াখুম থেকে আসার পথে পানি পার হবার সময় আমি পিছল খেয়ে পড়ে গিয়েছিলাম, আলহামদুলিল্লাহ্‌ কিছু হয়নি, পানির নিচে পাথরগুলো অত্যন্ত পিছল।
এক ফ্রেন্ড তো পুরো ট্যুরে অন্তত ৪-৫ বার পায়ে ব্যাথা পেয়েছে, একপ্রকার লেংড়াতে লেংড়াতে ট্রেকিং করেছে।
তাই সবাই খুব সাবধানতা অবলম্বন করবেন…
✓ পিচ্ছিল যেকোনো জায়গা পার হবার সময় একজন আরেকজনের হাত ধরে পার হবেন।
✓ ট্রেকিংয়ের শুরুতেই গাইড মামাকে বলে হাতে বাঁশ নিয়ে নিবেন।
✓রাতের জন্য টর্চ লাইট, রোদের জন্য গামছা এবং সানগ্লাস সাথে রাখবেন।
✓ ট্রেকিংয়ের জন্য ভাল গ্রিপওয়ালা জুতা, বিশেষ করে থানচিতে ১২০ টাকার যে জুতাগুলো পাওয়া যায় সেগুলো সেরা। কনভার্স টাইপ জুতা যারাই নিয়েছে, মহাবিপদে পড়েছে।
✓ কাঁধের ব্যাগ যতটা হাল্কা রাখা যায় তত ভাল।
✓ জাতীয় পরিচয়পত্রের ৩টি ফটোকপি সাথে নিবেন ,২টি থানচি যাওয়ার পথে আর ১টি থানচিতে জমা দিতে হবে।
✓ পানি পান করার জন্য ঝিরির পানিই একমাত্র উৎস।
✓ থানচির পর আর বিদ্যুৎ নেই, তাই সাথে পাওয়ারব্যাংক এবং ক্যামেরা-মোবাইল ফুলচার্জ দিয়ে নিবেন।
✓ শুধুমাত্র থুইসাপাড়ায় বাঁশের সামনে মোবাইল রেখে অভিনব পদ্ধতিতে কোনোরকম কথা বলা যায়, এছাড়া আর কোথাও কোনোপ্রকার নেটওয়ার্ক নেই।
✓ সাথে ফার্স্টএইড বক্স+প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র রাখবেন।
✓ সবসময় একসাথে থাকার চেষ্টা করবেন এবং গাইডকে ফলো করবেন।
✓এই ধরণের ট্যুরে সময় মেনে চলা খুবই খুবই গুরুত্বপূর্ণ, ব্যাপারটা মাথায় রাখবেন।

✓যাবার উপযুক্ত সময়::
সেপ্টেম্বর-ডিসেম্বর [পানিও থাকবে, ট্রেকিংও কম কষ্টের হবে]
জানু-মার্চ[পানি কম থাকবে, তবে ট্রেকিং তুলনামূলক সহজ হবে]
বর্ষায় গেলে প্রচুর স্রোত থাকবে, ট্রেকিং খুবই কষ্ট এবং ভয়ংকর হবে, তবে পানি সবচেয়ে বেশী থাকবে।

✓আমাদের গাইড উখিরাম দার নাম্বারঃ 01535035686
খরচ:
চট্টগ্রাম-বান্দরবান-চট্টগ্রাম বাসঃ ১১০+১১০ জনপ্রতি
বান্দরবান-থানচি-বান্দরবান চান্দের গাড়িঃ ১২৫০০/-
বোটঃ ৪০০০/- (আসা-যাওয়া, এক বোটে ৬ জন)
গাইডঃ ৫০০০/- (থাকা খাওয়া আমাদের)
জিনাপাড়ায় থাকাঃ ১৫০/- জনপ্রতি (পার নাইট)
খাওয়াঃ ডিম খিচুরি/ভাত ১২০/-, মুরগী ভাত ১৫০/-, সাথে ডাল, সবজী, আলুভর্তা থাকে।
জনপ্রতি আমাদের ৪০০০ টাকার মত খরচ হয়েছিল।
আমাদের ভ্রমণ ছিল ৩ রাত ৪ দিনের।

বিঃদ্রঃ দয়া করে নদী বা খালের পানিতে কিংবা ঝিরিপথে পলিথিন জাতীয় কিছু ফেলবেন না। এই সৌন্দর্য আমরা যাবার আগে যেমন ছিল, আমরা সেখান থেকে আসার পরে যেন তেমন ই থাকে সেদিকে লক্ষ্য রাখবেন। আর অবশ্যই পাহাড়ের মানুষদের সাথে খারাপ ব্যবহার করবেন না।

Source:Motiour Rahman Shawon‎<Travelers of Bangladesh (ToB)

4 Dec 2018

দিন-০(১০-০৯-১৮)
আমাদের দল ছিল ১০জনের।
পান্থপথ সিগনাল থেকে রাত ১০.৩০ মিনিটে আমাদের বান্দরবান এর উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু হয়।মজা মাস্তিতে সারারাতের জার্ণি শেষ হয় সকাল ৭টার দিকে।

দিন-০১(১১-০৯-১৮)

এরপর বাসস্ট্যান্ডে (পাবলিক টয়লেটে/কাউন্টারের টয়লেটে) ফ্রেশ হয়ে সকালের নাস্তা সেরে রুমা যাওয়ার বাসস্ট্যান্ডে পৌছে ৮.১৫মিনিট এর বাসে উঠি।আমরা ৪জন ছাদে উঠেছিলাম এক্সট্রিম লেভেল এর এডভেঞ্চার প্রেমি হলে এই ছাদে যাওয়ার চান্স টা হাত ছাড়া করবেন না।ওভার এক্সসাইটেড না হয়ে একটু সাবধানে উপরের ডাল পালা খেয়াল রাখলে আশা করি আর কোনো রিস্ক থাকবেনা।তাহলে দেখবেন এই ৩ঘন্টার বাস জার্নি হয়ত আপনার লাইফের সেরা একটা জার্নি হয়ে থাকবে।চলার পথে বান্দরবান -রুমা রাস্তা এবং আসে পাশের সৌন্দর্য অবর্ণনিয়।সারে ১১টার মধ্যে আমরা রুমা বাজার পৌছাই। এরপর আগে থেকে ঠিক করা গাইড আমাদের কে রিসিভ করে এবং সকল কাগজ পত্র ঠিক করে রুমা আর্মী ক্যাম্ফে সাইন করে চান্দের গাড়িতে রওনা হই কমলাবাজারের উদ্দ্যেশ্যে।আর চলার পথে রুমা-কমলাবাজার পথের সৌন্দর্য উপভোগ করতে থাকি।ইহা এক কথায় ভয়ানক সুন্দর।এরপর দুপুর একটার মধ্যে কমলাবাজার পৌছে লাঠি কিনে বগালেক এর উদ্যেশে পাহাড়ে উঠতে শুরু করি।এই ৩০মিনিটের যাত্রা টা একটু কষ্টকর হবে।এতে হতাস হবেন না।পরবর্তীতে এত খারা পথ নাই বললেই চলে।আর সবসময় খেয়াল রাখবেন সামনে আপনার জন্য চমক অপেক্ষা করছে।যেকোনো যাত্রা পথে এই জিনিস টা খেয়াল রাখলে আপনার মনোবল দৃড় হবে।দুপুর দেরটার মধ্যে বগালেক পৌছে বগালেক আর্মী ক্যাম্ফে সই করে আমরা আমাদের কটেজে উঠি।এরপর বগালেকে গোসল করে ফ্রেশ হয়ে দুপুরের খাবার খেয়ে কিছু সময় রেস্ট নিয়ে বগালেক এর আশ পাশ ঘুরে দেখি।এরপর ৯টার মধ্যে রাতের খাবার খেয়ে রাত১১টার দিকে বার-বি-কিউ পার্টি করি।(এক্ষেত্রে আপনাকে রুমা বাজারেই গাইডকে বলতে হবে এবং রুমা বাজার থকেই প্রয়োজনীয় কেনা কাটা করে নিয়ে আসতে হবে যার সবই গাইড করবে আপনাদের একজন সাথে থাকলেই চলবে)।এটা ছিল আমাদের লাইফের সেরা বার-বি-কিউ(আমাদের গাইড দাদা জাস্ট রকস)। একদম শেষে ওনার নাম্বার দিয়ে দিয়েছি কেউ গেলে আমাদের জার্ণী ডেট আর আমাদের ১০জনের টিমের কথা বলবেন।এক্সট্রা এডভান্টেজ পেলেও পেতে পারেন।

দিন-০২(১২-০৯-১৮)

সকালে উঠে প্রস্তুতি নিয়ে নাস্তা সেরে রওনা হই কেওক্রাডং এর উদ্দ্যেশ্যে। কেওক্রাডং উঠার পথে সেরা কিছু ভিউ পাবেন।আর চিংড়ি ঝর্ণার সৌন্দর্য… আহা আর নাই বলি।মাঝে চলার পথে কলা,পেপে,পেয়ারা,ভুট্রা অনেক কিছুই পাবেন এবং খাবেন পাহাড়ি নির্ভেজাল ফলের স্বাদই আলাদা,সো মিস করলেই মিস।সকাল ১০টার মধ্যে আমরা দার্জিলিং পাড়ায় পৌছাই।এখানে এক দিদির দোকানে ডিম,চা,পেয়ারা ইত্যাদি খাই আড্ডবাজি করি প্রায় দের ঘন্টা।এই দের ঘন্টা অসাধারণ একটা সময় ছিল যা ভুলবার নহে।দার্জেলিং পাড়া খুবিই পরিস্কার পরিচ্ছন্ন অসাধারণ সুন্দর একটি পাড়া।এখানে আমরা বৃষ্টির কবলে পরি।বৃষ্টির মধ্যেই আমরা আবার রওনা হই কেওক্রাডং এর উদ্দ্যেশ্যে। ৩০-৪০ মিনিটের মধ্যে পৌছে যাই বহু প্রতিক্ষিত সেই কেওক্রাডং এর চুড়ায়।পৌছে আমরা একদম উপরের কটেজে উঠি।এরপর দুপুরের খাওয়া খেয়ে হাল্কা রেস্ট নিয়ে কেউক্রাডং এবং এর আসে পাশে ঘুরে দেখি।রাতে বন মুরগী দিয়ে খাওয়া শেষে প্রায় সারারাত আড্ডাবাজি চলে।

দিন-৩(১৩-০৯-১৮)
সকাল ৬টার মধ্যে উঠে রওনা হই বগালেকের উদ্যেশ্যে। নামার পথে দার্জীলিং পাড়ায় ঔ একই দিদির দোকানে চা,নাস্তা সেরে নেই।এরপর আবার শুরু করি যাত্রা।১০টার মধ্যে বগালেক পৌছে যাই।একটু রেস্ট নিয়ে কটেজ মালিকের ঘরে রেখে যাওয়া সবার বড় ব্যাগ নিয়ে রওনা হই কমলা বাজারের উদ্দেশ্যে। ওখানে আমাদের চান্দের গাড়ি অপেক্ষা করছিল।আমাদের লক্ষ ছিল রুমা থেকে বান্দরবানগামী প্রথম বাস টি ধরা।কিন্তু দুর্ভাগ্যবসত আমাদের চান্দের গাড়ি মাঝ পথে নষ্ট হয়ে যাওয়ায় কোনো রকম ৩টার বাস ধরতে পারি।আপনাদের জেনে রাখা ভালো ৩.১৫মিনিটে রুমা থেকে বান্দরবানগামী সর্বশেষ বাস টি ছেড়ে যায়।তাই প্রত্যেক ক্ষেত্রে সময় হিসেব করে চলবেন।এরপর বিকাল সারে ৬টার দিকে আমরা বান্দরবান পৌছে বাস স্ট্যান্ড গিয়ে আগে হোটেলে খাবার খেয়ে নেই।বলতে পারেন ডিনার/লাঞ্চ একসাথে।লাঞ্চ করার সময় ছিলনা এদিকে ৮.৩০ মিনিটে আমাদের ফিরতি টিকেট কাটা ছিল। এই এক চান্দের গাড়ি খারাপ হয়েই আমাদের প্ল্যানিং এ অনেক পরিবর্তন আসে।যাই হোক এভাবেই আমাদের বান্দরবান ট্যুরের সমাপ্তি ঘটে।

দিন-৪(১৪-০৯-১৮)
সকালে ঢাকা পৌছাই।

এবার আসি হিসেব নিকেশে….

আমাদের টিম মেম্বার ছিল ১০জন সেই হিসেবে ১০জনের হিসেব দেয়া হলো..

ঢাকা -বান্দরবান ~৬২০ (পার হেড)

দিন-১

বান্দরবান বাস স্ট্যান্ড -রুমা যাবার বাস স্ট্যান্ড (অটো)~১৫টাকা (পার হেড)

বান্দরবান -রুমা বাজার ~১২০টাকা (পার হেড)

ফর্ম +ফটোকপি~৯০(১০জনের)

রুমা-কমলাবাজার(চান্দের গাড়ি)-২৫০০/-
কিন্তু আমাদের লেগেছিল ১৭৩০/-(১১)জন(৪জনের একটা গ্রুপ পেয়েছিলাম)
লাঠি-১০/- টাকা(একটা)
দুপুরের খাবার-১২০/- (ডাল,ভাত,ডিম ভাজি,মিস্টি কুমড়া ভাজি) পার হেড।
রাতের খাবার-১২০/- (ডাল,ভাত,ডিম ভাজি খেলে ভাজি,আর রান্না খেলে রান্না,আলু ভত্তা)

কটেজ~১৫০/- (পার হেড)

দিন-২
সকালে চা বিস্কুট -২০/- (পার হেড)
উঠার পথে কলা-৬০/-(১১জন)
দারর্জিলীং পাড়ায় ডিম,কলা,চা,পেয়াড়া ইত্যাদি খাওয়া- ৪৮০/- (১১জন)
কেউক্রাডং এ দুপুরে খাওয়া-১৩০(ভাত,ডাল,ডিম,সবজি)
রাতে খাওয়া -২০০/-(ভাত,মুরগি,আলু ভত্তা,ডাল) আলু ভত্তা খেলে আগে থেকে বলতে।
কটেজ-৩০০/- পার হেড (আমরা সবথেকে উপরের কটেজে থেকেছিলাম আমার জানামতে এটার ভাড়া সবথেকে বেশি,যতসম্ভব ১৫০-২০০ টাকা সর্বনিম্ন কটেজ ভাড়া)

দিন-৩
দার্জিলীং পাড়ায় সকালের নাস্তা-৪৬০/- (১১জন) এখানে আমরা ডিম সিদ্ধ,কলা,চা,পেয়ারা,বিস্কুট এইগুলা খাই।
কমলাবাজার-রুমা বাজার (চান্দের গাড়ি)-২৫০০/-কিন্তু আমাদের লেগেছিল
১৮৭০/- (১১জন) আমরা ৪জনের আরেকটা গ্রুপ পেয়েছিলাম
গাইড-৬০০টাকা (পার ডে)
রুমাবাজার-বান্দরবান-১২০/- (পার হেড)
বান্দরবান বাস স্ট্যান্ড -১৫/-(পার হেড)
আগেই বলেছি আমরা দুপুরে খাওয়ার সুযোগ পাইনি বিকালে খেয়েছি একদম বান্দরবান গিয়ে
-১৮২০/-(১০জন) শেষ খাওয়া আর সারাদিন ভাড়ি খাবার খাওয়া হয়নি তাই এই খাবার টা একটু বেশিই খাওয়া হইছে।

***আমরা বার-বি-কিউ করেছিলাম এর জন্য প্রায় ১১০০টাকা খরচ হয়েছিলো আর এই বার-বি-কিউ এর জন্য গাইডকে এক্সট্রা ২০০আর আমরা খুশি হয়ে বোনাস দিয়েছিলাম ২০০টাকা।

*গাইডের থাকা খাওয়া আপনাদের।

~অভিজ্ঞতা থেকে কিছু কথা~

°সময় হিসেব করে চলবেন।

°যার যার কাছে শুকনো খাবার রাখাবেন অবশ্যই।

°পাহাড়ে উঠা নামার পথে প্রচুর পরিমাণ পানি,স্যলাইন,গ্লুকোজ খাবেন

°পাহাড়ে প্রত্যেকটা সময় সতর্কতার সাথে পা ফেলবেন।

°অতি উৎসাহিত হয়ে নিজের বিপদ নিজেই ডেকে আনবেন না।

°অনেকবার আর্মী ক্যাম্ফে সাইন করতে হবে।এই কাজটা বিরক্ত লাগতেই পারে।এজন্য আর্মীদের সামনে হা হুতাস করার কিছু নেই।তাদের সাথে ভালো ব্যাবহারের ফলও অবশ্যই ভালো হবে।

°প্রথম দিন একটু বেশিই কষ্ট হবে,বিশেষ করে কমলাবাজার থেকে বগালেক উঠতে।এতে হতাশ হবেন না।ধৈর্য্য ধরবেন।ধৈর্য্যের ফল সবসময় মিষ্ট হয়।কষ্ট করার পরে যে ভিউ গুলো পাবেন তা প্রাণ জুরায় দেবে।
°একটু ভালো গ্রিপের জুতা ব্যবাহার করবেন।ব্যাগ হালকা রাখার চেস্টা করবেন।

~লেখাটা অনেক বড় হয়ে গেলো, ভুল ত্রুটি থাকলে ধরিয়ে দিবেন।
ধন্যবাদ, হ্যাপি ট্রাভেলিং

****সর্বশেষ এবং সবচেয়ে গুরুত্বপুর্ণ কথা হচ্ছে যেখানে যাবেন সেখানকার ন্যাচার নষ্ট হয় এমন কিছু করা থেকে বিরত থাকবেন।আপনার বহন করা ময়লা আবর্জনা যথা স্থানে ফেলুন বা নিজ ব্যাগে রেখে পরে যথাস্থানে ফেলে দিন এতে আপনার আমার প্রকৃতির সবার উপকার।****

গাইড-০১৮-৪৩২২৯৫৪৭(সাফুল বড়ুয়া)দাদা।
Source:Rahat Ahmed‎>Travelers of Bangladesh (ToB)

4 Dec 2018

একদিনে একটা ছোট ট্যুর দিয়ে আসতে চাইলে মাওয়া ঘুরে আসতে পারেন। মাওয়া গেলে ৪ টি স্পট এর কথা মাথায় রাখবেন।
১। মাওয়া ঘাট
২। পদ্মা রিসোর্ট
৩। মৃধা বাড়ি
৪। শামুর বাড়ি

প্রথম ভিডিওতে সব গুলো স্পট কাভার করা হয়েছে। চাইলে পুরো জার্নি একবারেই এই ভিডিও থেকে দেখে নিতে পারেন। চাইলে ইউটিউবে গিয়ে সম্পূর্ণ ভিডিওটা দেখতে পারেন। আর যদি খরচের কথা বলি, আমাদের সবমিলিয়ে খরচ হয়েছিলো জনপ্রতি ৪০০ টাকার মতন।

Youtube Link : https://youtu.be/9uyIPBTBjO4
(Please turn on HD mode while watching video in facebook / youtube)

বিস্তারিত:

ঢাকা থেকে যেতে চাইলে আপনি গুলিস্তান থেকে বাসে যেতে পারেন। Non AC বাস জনপ্রতি ৭০ টাকা আর AC ১০০ টাকা। অথবা চাইলে ৮/৯ জন কিংবা ১০/১২ জনের গ্রুপ হলে একটা নোয়া গাড়ি কিংবা মাইক্রো ভাড়া করেও চলে যেতে পারেন। ঢাকা থেকে মাওয়া প্রায় ৪০ কিলোমিটার। আমরা ৮ জন ছিলাম। একটা নোয়া নিয়ে গিয়েছিলাম। সকাল-সকাল ৮ টার দিকে রওনা দিলে ২ ঘণ্টার কম লাগবে পৌঁছাতে। তবে একটা কথা বলে রাখি, রাস্তার এবং ব্রিজের কাজ চলায়, রাস্তার অবস্থা খুব একটা ভালো না এখন। যাওয়ার চেয়ে ঢাকায় ফেরার পথের অবস্থা বেশি খারাপ।

আমরা প্রায় ১১ টার দিকে মাওয়া ঘাট পৌঁছে যাই। এরপর সেখানে দেরি না করে চলে যাই পদ্মা রিসোর্ট। গাড়ি থাকলে তো ডাইরেক্ট চলে গেলেন আর নাইলে ঘাট থেকে অটো ভাড়া করেও যেতে পারেন। জনপ্রতি ৩০ টাকা। মাওয়া ঘাট থেকে পদ্মা রিসোর্ট ৬ কিলোমিটার। এরপর ওইখানে যাবার পর ইঞ্জিন চালিত নৌকা দিয়ে নদী পার হয়ে রিসোর্টে যেতে হয়। নদী পার হতে ৫ মিনিট ও লাগে না। পদ্মা রিসোর্টের নিজস্ব নৌকা রয়েছে যেখানে অনায়াসে ১৫/২০ জন বসতে পারে। নৌকার মাঝি কে আপনার ৫০ টাকা দেয়া লাগবে যেটা কিনা নৌকা পারাপারের ভাড়া আর রিসোর্টে ঢুকার এন্ট্রি ফী। ফেরার সময় নৌকায় আর টাকা দিতে হবে না। অর্থাৎ নৌকা দিয়া যাওয়া + আসা + রিসোর্ট এন্ট্রি = জনপ্রতি ৫০ টাকা।

রিসোর্টে যাবার পর আপনি দেখতে পাবেন ছোট ছোট অনেক কটেজ রয়েছে। খুব সুন্দর ডিজাইন এবং রঙ একেকটা কটেজের। এরপর আপনি চাইলে এখানে ২ ঘন্টার মতন সময় কাটাতে পারেন। এরপর আমরা ১:৩০ টার দিকে আবার মাওয়া ঘাটে যাই। সেখানে গিয়ে দুপুরের খাবার খাই আমরা। অনেক হোটেল রয়েছে সেখানে, রয়েছে হরেক রকমের খাবার। ভিডিওতে আইটেমগুলোর একটা ওভারভিউ দেয়া হয়েছে, দেখে নিবেন। যদি অনেকজন থাকেন, তাহলে গোটা ইলিশ কিনতে পারেন। ৭/৮ পিস হয়। পুরো ইলিশ ভাজা + লেজের ভর্তা সহ আমাদের নিয়েছিলো ৬০০ টাকা। আমাদের খাবারের খরচটা বলি।

গোটা ইলিশ (৮ পিস) + মাথা + লেজের ভর্তা = ৬০০ টাকা
ভাত = ১৫ টাকা, আলু ভর্তা = ১০ টাকা, বেগুন ভাজি = ১৫ টাকা, টাকি মাছের ভর্তা = ২০ টাকা।

এরপর দুপুরের খাবার শেষে আমরা রওনা দেই মৃধা বাড়ির উদ্দেশ্যে। ফেরি ঘাট থেকে মৃধা বাড়ি প্রায় ১১ কিলোমিটার। মৃধা বাড়িটি ৩ তলা একটি টিনের বাড়ি যা দেখতে খুবই সুন্দর এবং এর চারপাশে রয়েছে বাগান। (ভিডিও তে মৃধা বাড়ি দেখতে পাবেন) এরপর আমরা চলে যাই শামুর বাড়ি। শামুর বাড়ি প্রায় ২ কিলোমিটার হবে মৃধা বাড়ি থেকে। যদি আপনি মৃধা বাড়িতে আসেন তাহলে শামুর বাড়ি যাবার জন্য অবশ্যই রিজার্ভ করে আসবেন নাহলে সেখানে আর অটো পাবেন না। মৃধা বাড়ি ঘুরতে আপনার সর্বোচ্চ ৩০ মিনিট লাগবে। তাই আধা ঘণ্টার মতন ঘুরে, এরপর আমরা চলে যাই শামুর বাড়ি।

শামুর বাড়ি তে গেলে আপনি সবচেয়ে বেশি উপভোগ করবেন। এই ভিডিওর শেষ অংশ জুড়ে পুরোটাই শামুর বাড়ি। এখান থেকেই দেখতে পাবেন নদীর অপরূপ সৌন্দর্য। খুব অনায়াসেই আপনি ২ ঘণ্টা কাটিয়ে দিতে পারবেন। সবচেয়ে বেশি উপভোগ করবেন যখন সূর্যের তেজ কমে আসবে এবং সূর্যের আভা পানিকে স্পর্শ করবে। খুবই অপরূপ সেই সৌন্দর্য। সময় থাকলে আপনি নদীতে নৌকা দিয়েও ঘুরতে পারেন। আমাদের সময় না থাকায় আমরা সেখান থেকে বিকাল ৫ টায় ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেই। পদ্মা রিসোর্ট ঘুরতে গেলে, আমি বলবো অবশ্যই শামুর বাড়ি ঘুরে আসবেন। খুবই সুন্দর জায়গাটা।

এইবার সংক্ষিপ্ত আকারে যদি বলি-
ঢাকা থেকে মাওয়া ৪০ কিলো
মাওয়া ঘাট থেকে পদ্মা রিসোর্ট ৬ কিলো
পদ্মা রিসোর্ট থেকে মৃধা বাড়ি ৫ কিলো
মৃধা বাড়ি থেকে শামুর বাড়ি ২ কিলো

বি.দ্র. প্রকৃতিকে সুন্দর রাখার দায়িত্ব কিন্তু আমার, আপনার সবার। তাই যেখানেই যাবেন পরিবেশকে পরিষ্কার ও সুন্দর রাখার চেষ্টা করবেন এবং যথাযথ জায়গায় ময়লা ফেলবেন। মনে রাখবেন দেশ আমার, দায়িত্বও আমার।

Source: Zawad Alam Jarif‎ <Travelers of Bangladesh (ToB)

26 Dec 2017

মরা আটজন গিয়েছিলাম এই মনোরম স্বর্গীয় সুন্দর উপভোগ করতে।ভাবছেন কোথায় এটি?
বন্দরনগরী চট্টগ্রাম এর নগরের শেষপ্রান্তে কর্নফুলী নদীর কোল ঘেষে ‘চিটাগাং বোটক্লাব’,যা বাংলাদেশ নেভি দ্বারা পরিচালিত ও বেশ এলিট জায়গা।এই বোটক্লাব ই আয়োজন করে থাকে এই অনিন্দ্যসুন্দর সি ক্রুস!!!😍😍😍
কর্নফুলি নদী দিয়ে শুরু করে যাত্রা শুরু করে Bay of Bengal এ নিয়ে যাবে।ঘুরে আসতে পারবেন তেলবাহী, মাছবাহী জাহাজগুলির পাশ দিয়ে।কিছু অংশ কর্নফুলি তে ঘুরে তার পর ঢোকে সাগরে।
সাগরের ঢেউএর দোল খেতে খেতে শিপ হতেই দেখতে পারবেন একদিকের দুরের পতেংগা বিচ,ওয়েস্টপয়েন্ট নেভাল বিচ, আরেকদিকের কমলা সূর্য সাগরে ডুবে যাচ্ছে!সাগরের বাতাস,মিউজিক, ম্যাজিক শো আপনাকে ভুলিয়ে দিবে কোন দেশে আছেন,অবশেষে ফুরফুরে মেজাজ নিয়ে যাত্রা শেষ হবে….
ফেরার সময় বেশ খারাপ লাগবে যে আরেকটু থাকি ইশ!….
যাবেন কিভাবে-
যেখানেই থাকেন আগে চিটাগাং শহরে যেতে হবে।চিটাগাং শহরে পতেংগার কাছে বোটক্লাব এ যাবেন।সেখানে নেভি অফিস এ এই ক্রুস টিকেট পাওয়া যায়।১০০০ টাকা প্রতিজন।তবে টিকেট পেতে একটু নেভাল অথবা ভি আই পি কাওকে বলে রাখলে ভালো।সিট সংখা লিমিটেড হওয়াতে গেলেই টিকেট পাবেন এ আশা করা ভুল😂.টিকেট কালেক্ট করতে হয় ৩.৩০ এর পর থেকে।যতই বুক থাকুক।
সময়-২. ৩০ঘন্টা।প্রতিদিন একটা শিপ যায়।বিকেল ৪ টা-৬টা. নিয়ে যাবে আবার বোট ক্লাবেই নামাবে।
কিছু হাল্কাপাতলা স্ন্যাক্স ওরাই দিবে।তাছাড়াও কফি ও অনেক কিছু কিনতে পাওয়া যায়।
খেয়াল রাখবেন সেল্ফি তুলতে গিয়ে সাগরে যাতে না পড়েন!!😲
খাদ্যদ্রব্য যা খাবেন তার প্যাকেট খোসা বোতল সাগরে বা শিপ এ ফেলবেন না!! প্রচুর বাস্কেট আছে,সেখানে ফেলবেন।
নাবিকরা বেশ কো অপারেটিভ! দেখে ঘুরে ছবি তুলতে পারেন কন্ট্রোল রুম থেকে।প্রশ্ন থাকলে করতেও পারেন!
শীতকাল বেস্ট সময়!আশা করি ঘুরে আসবেন

Post Copied From:Sirajum Munera Anindita>Travelers of Bangladesh (ToB)

26 Dec 2017

ঊনবিংশ শতাব্দীর শুরুতে ইংরেজদের কাছ থেকে ক্রয় সূত্রে মালিক হয়ে রামকৃষ্ণ সাহা মন্ডল পাকুটিয়ায় জমিদারী শুরু করেন। তাঁর ছিল দুই ছেলে বৃন্দাবন ও রাধা গোবিন্দ। রাধা গোবিন্দ ছিলেন নিঃসন্তান এবং বৃন্দাবন চন্দ্রের ছিল তিন ছেলে। এরা হলেন- ব্রজেন্দ্র মোহন, উপেন্দ্র মোহন ও যোগেন্দ্র মোহন। বৃন্দাবনের মেজছেলে উপেন্দ্রকে তাঁর কাকা নিঃসন্তান রাধা গোবিন্দ দত্তক নেন। ফলে উপেন্দ্র মোহন দত্তক সন্তান হিসাবে কাকার জমিদারীর পুরো সম্পদের অংশটুকু লাভ করেন। ১৯১৫ সালের ১৫ই এপ্রিল প্রায় ১৫ একর এলাকা জুড়ে তিন ভাইয়ের নামে উদ্ভোদন করা হয় একই নকশার পর পর তিনটি প্যালেস বা অট্টালিকা। পাকুটিয়া জমিদার বাড়িটি তিন মহলা বা তিন তরফ নামে পরিচিত ছিল। প্রতিটি মহলের রয়েছে নিজস্ব সৌন্দর্য, লতাপাতার চমৎকার কারুকাজ গুলো মুগ্ধ করার মতো। প্রতিটি জমিদার বাড়ীর মাঝ বরাবর মুকুট হিসাবে লতা ও ফুলের অলংকরণে কারুকার্য মন্ডিত পূর্ণাঙ্গ দুই সুন্দরী নারী মূর্ত্তি এবং সাথে এক মূয়ূর সম্ভাষণ জানাচ্ছে অথিতিকে। এছাড়া দ্বিতীয় তলার রেলিং টপ বা কার্নিশের উপর রয়েছে পাঁচ ফুট পর পর বিভিন্ন ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে থাকা অসংখ্য সুন্দর সুন্দর ছোট আকৃতির নারী মূর্ত্তি।

এই তিনটি স্থাপনাই অপূর্ব শিল্প সুষমামণ্ডিত। পাশ্চত্তীয় শিল্প সংস্কৃতি সমৃদ্ধ মনের মাধুরী মিশিয়ে স্থাপত্য মূল্যের এক অনন্য সৃষ্টি তাদের এই অট্টালিকা গুলো। তিনটি বাড়ীর সামনেই রয়েছে তিনটি নাট মন্দির। বড় তরফের পূজা মন্ডপের শিল্পিত কারুকাজ শতবছর পর এখনও পর্যটককে মুগ্ধ করে। জমিদার বাড়ির সামনে বিশাল মাঠ আর মাঠের মাঝখানে রয়েছে দ্বিতল নাচঘর। প্রতিটি জমিদার বাড়ির রয়েছে নিজস্ব পাতকূয়া। জমিদার বাড়ির কাছাকাছি পশ্চিমে আছে উপেন্দ্র সরোবর নামে বিশাল একটি আট ঘাটলা পুকুর। এই তিন মহলার জমিদাররা প্রত্যেকেই ছিলেন প্রজানন্দিত। তাঁদের নিজেদের প্যালেস তৈরীর পর ১৯১৬ খ্রিঃ তাঁরা তাঁদের পিতা বৃন্দাবন এবং কাকা রাধা গোবিন্দের যৌথ নামে বৃন্দবন চন্দ্র রাধা গোবিন্দ উচ্চ বিদ্যালয় (বিসিআরজি) প্রতিষ্ঠা করেন। এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কৃতি ছাত্রদের মধ্যে রয়েছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্টাতা উপচার্য এবং সাবেক মন্ত্রী ডঃ এ,আর মল্লিক, সাবেক প্রধান মন্ত্রী আতাউর রহমান খান এবং ভবা পাগলার মতো বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ । দেশ বিভাগের পরে তৎকালীন সরকার কর্তৃক পুরো সম্পদ অধিগ্রহণের পর জমিদারদের প্রতি আনুগত্য প্রকাশের নিদর্শন স্বরূপ ১৯৬৭ সালে এই সম্পদের উপর গড়ে তোলা হয় বিসিআরজি ডিগ্রী কলেজ।

যেভাবে যাবেন- গাবতুলী থেকে বাসে এস বি লিংক/জনসেবা – পাকুটিয়া। ভাড়া ৫০-৬০ টাকা

Post Copied From:Likhon Ahmed‎>Travelers of Bangladesh (ToB)

26 Dec 2017

অমৃতসর যেতে হলে আপনাকে কলকাতা থেকে রাজধানী এক্সপ্রেস ট্রেনে দিল্লি যেতে হবে।ভাড়া জনপ্রতি ৩০০০ রুপি এসি থ্রী-টায়ার।কলকাতা থেকে দিল্লি ১৬ ঘন্টায় পৌঁছে যাবেন।দিল্লি থেকে অমৃতসর মেইল ট্রেনে অমৃতসর আসতে হবে।দিল্লি থেকে অমৃতসর পৌঁছাতে সময় লাগবে কমপক্ষে ৮ ঘন্টা। ভাড়া জনপ্রতি ১৩৫০ রুপি এসি থ্রী-টায়ার।এছাড়াও দিল্লি থেকে ভলভো বাসে অমৃতসর যাওয়া যায়।

আমার মতে জীবনে একবার হলেও পাঞ্জাব যাওয়া উচিত।পাঞ্জাবের খাবার আর পাঞ্জাবের মানুষের অমায়িক ব্যবহারের জন্য।যারা খেতে ভালোবাসেন তাদের জন্য পাঞ্জাব ভ্রমন অতি আবশ্যক।পাঞ্জাবের লাচ্ছি একবার খেলে আপনার অন্য কোন লাচ্ছি আর ভালো লাগবে না।শুধু পাঞ্জাবের খাবার খাওয়ার জন্য হলেও সবার একবার পাঞ্জাব যাওয়া উচিত।

ব্রাদারস অমৃতসরী ধাবা নামে একটা রেস্টুরেন্ট আছে গোল্ডেন টেম্পল এর পাশে।খুবই ভালো মানের রেস্টুরেন্ট আর দামও কম। ওখানে খেতে পারেন।সব মজাদার আইটেম পেয়ে যাবেন।

পাঞ্জাবে জিনিষপত্রের দাম অপেক্ষাকৃত কম। এখান থেকে শপিং করতে পারেন। গোল্ডেন টেম্পল এর চারপাশে ছোট ছোট অসংখ্য দোকান। অনেকটা ঢাকার চকবাজারের মতো। এই মার্কেটটার নাম গুরু বাজার। অমৃতসর থেকে এমব্রয়ডারী, কাঠের উপর সুক্ষ কাজ, উলেন পোশাক ও গহনা কিনতে পারেন।ঢাকার চেয়ে অনেক কম দামে কিনতে পারবেন।

অমৃতসরে যা যা দেখবেন:-

১) গোল্ডেন টেম্পল।

২) জালিয়ানওয়ালা বাগ।

৩) ওয়াগা বর্ডার।

৪) ইন্ডিয়া গেট/ ওয়ার মেমোরিয়াল।

৫) হাতি গেট।

৬) দুরজিয়ানা টেম্পল।

৭) গোবিন্দগড় ফোর্ট ।

৮) মহারাজা রনজিত সিং প্যানারোমা।

৯) মহারাজা রনজিত সিং মিউজিয়াম।

১০) রামবাগ গার্ডেন।

১১) ভাটিন্ডা ফোর্ট।

গোল্ডেন টেম্পল:-

অমৃতসরের প্রধান আকর্ষণ স্বর্ণমন্দির। ১৫০২ খ্রিস্টাব্দে লাহোর থেকে মাত্র ২৫ কিলোমিটার দূরে জি টি রোডের ধারে এক প্রকাণ্ড জলাশয়ের ধারে, শিখ ধর্মের প্রতিষ্ঠাতা গুরুনানক একটি মন্দির গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখেন। এই সময় তিনি এই জলাশয়ের নাম রাখেন অমৃত সায়র। তার থেকেই শহরের নাম হয় অমৃতসর। গুরু নানক জীবদ্দশায় তাঁর এই স্বপ্ন বাস্তবায়িত হয়নি। ১৫৮৮ খ্রিস্টাব্দে শিখ গুরু অর্জুন সিং অমৃত সায়র-এর ধারে স্বর্ণ মন্দিরের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন। ষষ্ঠ গুরু হরগোবিন্দ সিং-এর সময় ৪০০ কেজি সোনার পাতে মুড়ে ফেলা হয় মন্দিরের উপরিভাগ।

১৬০৪ খ্রিস্টাব্দে এই মন্দিরের শিখদের ধর্মগ্রন্থ গ্রন্থসাহেব স্থাপন করা হয়। মন্দিরের এই অংশের নাম হরবিন্দ সাহিব। হরমন্দির সাহিবে ঢোকার দরজা চারদিকে চারটি। জাতিধর্মবর্ণ নির্বিশেষে সকলের অবারিত দ্বার বোঝাবার জন্যেই নাকি এই চার দুয়ারের নির্মাণ। বর্তমান স্বর্ণমন্দিরটি মোট সাড়ে চার বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে। শিখধর্মাবলম্বী ছাড়াও সারা পৃথিবী থেকে পর্যটক এই স্বর্ণমন্দিরটি দেখতে আসেন। প্রতিদিন এখানে প্রায় ৯০ হাজার মানুষের খাবারের আয়োজন করা হয়। এই মন্দিরটি ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকে।

কথিত আছে এই মন্দিরে প্রণামী সংগ্রহ হয় প্রতি মাসে প্রায় ৮০ কোটি রুপি। শিখধর্মাবলম্বীর প্রত্যেক যুবককে রণবিদ্যা, আত্মরক্ষা কৌশলবিদ্যা ও যুদ্ধবিদ্যা রপ্ত করতে হয় প্রথা হিসেবে। আদি যুদ্ধের এই কলাকৌশল শিক্ষা দেয়ার জন্য রয়েছে একটি বিশাল মাঠ আছে। মূলত এখান থেকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত রণকৌশলীরা এই মন্দিরের নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত। এখনো নিরাপত্তা রক্ষীরা তীর, ধনু, কাতরা, বল্লম, খাজা, খঞ্জনী জাতীয় অস্ত্র ব্যবহার করে।

এই মন্দিরে প্রবেশের আগে নারী পুরুষ নির্বিশেষে মাথা আবৃত করতে হয়। ঢুকেই একটু গিয়ে অমৃত সরোবর, যার চারদিকে মার্বেলে মোড়া রাস্তা। অনেকেই সরোবরের জল পবিত্র মনে করে মাথায় স্পর্শ করান, অনেকে স্নানও করেন। প্রবেশপথ সরোবরের যেদিকে হরমন্দির সাহিব তার বিপরীতে। কাজেই একদিক থেকে যাত্রা শুরু করে হরমন্দির সাহিব দর্শন করে অপর দিক দিয়ে বেরোলে অমৃত সরোবরকে পরিক্রমা করা হয়ে যায়। সরোবরটি যথেষ্ট বড়ো এবং চত্বরটি বিশাল। হরমন্দির সাহিবের আশেপাশে সরোবরের ধার দিয়ে আরো গুরদ্বোয়ারা আছে, সেখানেও সব সময় গুরু গ্রন্থসাহিব পাঠ হয়।

অষ্টাদশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে আফগান আক্রমণের পর মন্দিরের কিছু অংশ ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়, যা ১৭৬৪ সালে পুর্নস্থাপিত হয়। ঊনবিংশ শতকের গোড়ার দিকে, মহারাজা রঞ্জিত সিং স্বর্ণের দ্বারা মন্দিরটিকে সজ্জিত এবং আবৃত করেছিলেন, যার থেকে মন্দিরটি “স্বর্ণ মন্দির” ডাক নামে পরিচিত।

সরোবরটিতে একটি দুঃখ ভঞ্জনি বেড়ি নামে অলৌকিক স্থান রয়েছে। পট্টি শহরের এক ধনী জমিদার দূনি চাঁদ খত্রী এই কিংবদন্তী বেড়ীর সঙ্গে সংযুক্ত ছিলেন, এঁনার পাঁচটি কন্যা ছিল। একদিন তিনি তাদেরকে জিজ্ঞাসা করলেন যে, তাদেরকে খাবার কে দেয়। তাদের মধ্যে বড় চার কন্যা উত্তর দিল, তাদের পিতাই তাদের অনুগ্রহকারী বা পৃষ্ঠপোষক এবং তাদের খাবার তিনিই দেন। কিন্তু রজনী নামের কনিষ্ঠতম কন্যাটি বলল ঈশ্বরই সমস্ত জীবকে বাঁচিয়ে রাখেন। দূনী চাঁদ এই কথা শুনে ক্রুদ্ধ হয়ে, সেই কন্যাকে একজন কুষ্ঠরোগীর সঙ্গে বিবাহ দেন। তিনি তাঁর স্বামীকে ভালোবাসতেন এবং তার যত্নও করতেন। সেই সময় গুরু রাম দাস জী অমৃতসরে একটি নতুন শহর নির্মাণ করছিলেন। রজনী তাঁর স্বামীকে অমৃতসরে নিয়ে আসেন। তিনি গুরুর ভক্তদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন, তাঁরা রজনীর অবস্থার প্রতি করুণা করে থাকার জন্য একটি কক্ষ প্রদান করেন। তাঁকে সর্বসাধারণ রান্নাঘরের মধ্যে খাবার রান্নার দায়িত্ব দেওয়া হয়। তিনি যখন তার কর্মে যোগ দিতে আসতেন তখন সঙ্গে করে তাঁর স্বামীকে নিয়ে আসতেন। স্বামীকে একটি গাছের ছায়ার নীচে বসিয়ে রান্নাঘরে ঢুকতেন। একদিন সে তার স্বামীকে একটি বেড় গাছের নীচে ছেড়ে যান। তাঁর স্বামী, লক্ষ্য করেন যে সেখানকর কিছু কাক পুকুরের জলে ডুব দিচ্ছে এবং তারা কালো থেকে সাদায় রূপান্তরিত হয়ে যাচ্ছে। তিনি তখন বুঝতে পারলেন যে এটি কোনও সাধারণ জল নয়। তিনি পুকুরটির সামনে গেলেন এবং জলের মধ্যে ডুব দিলেন। তিনি সুস্থ হয়ে উঠলেন এবং তিনি আর কুষ্ঠরোগী রইলেন না। তিনি পুনরায় সেই গাছের তলায় এসে বসে রইলেন। রজনী তাকে সনাক্ত করতে সক্ষম হচ্ছিলেন না। সেই যুবক তাঁকে বিশ্বস্ত করালেন এবং এই দম্পতি পুকুরটি সম্পর্কে গুরু রাম দাস জীকে বলে গেলেন। এটি শ্রবণের পর গুরু রাম দাস জী এই কথা মন্দিরের প্রধান পুরোহিত বাবা বুদ্ধ জী-কে বলেন। তিনি বলেন যে এই পুকুরটি এমন একটি স্থান যেটি গুরু অমর দাস জী-র পূর্ব প্রতীক্ষায় ছিল। বৃক্ষটি কষ্ট এবং যন্ত্রণার উপশম হিসাবে, এটি দুঃখ ভঞ্জনি বেড়ী হিসাবে পরিচিত ছিল।

মন্দিরটির সরলতার প্রতীকস্বরূপ, মন্দিরটিতে চারটি প্রবেশপথ আছে; যা জীবনের সমস্ত দিক ও পথ থেকে আসা মানুষকে স্বাগত জানায়। গোল্ডেন টেম্পল বা স্বর্ণ মন্দিরটি শিখদের জন্য একটি পবিত্র স্থান ও উপাসনার একটি জায়গা।

শিখ ধর্মে বিশ্বাস করা হয় যে দুনিয়ার সবাই সমান। ধনী, গরিব, শিক্ষিত, অশিক্ষিত, ধর্ম-কর্ম করা না করা লোক, সবাই-ই সমান। এইটাই মূলনীতি।

টেম্পলে একটা লংগরখানা আছে, যেখানে দিন রাত ২৪ ঘন্টা সবাইকে ফ্রী খাওয়ানো হয়। যে কেউ, যখন তখন গিয়ে সেখানে খেতে পারবে। “রাব নে বানা দে জোড়ি” মুভির একটা গানের শ্যুটিং এখানে হয়েছিল।হারমিন্দার সাহিব/ গোল্ডেন টেম্পেল এরিয়ার ভিতরেই রয়েছে আকাল তাকত এবং তারা তারান সাহিব।

১) এটি প্রতিদিন প্রায় ১,০০,০০০ জন ব্যক্তি দ্বারা পরিদর্শিত হয়।

২) স্বর্ণ মন্দিরের চূড়াটি শুদ্ধ সোনা দ্বারা নির্মিত।

৩) মন্দিরটির যৌথ রন্ধনশালায় প্রায় ৭৫,০০০ জন উপাসক প্রতিদিন লঙ্গর (খাবার) গ্রহণ করে।

জালিয়ানওয়ালা বাগঃ-

১৯১৯ সালে বৈশাখী উৎসবের আগের দিন অনেক মানুষ সেখানে জড়ো হয়। তারা জানত না যে তখন মার্শাল ল চলছিল। সেখানে ব্রিটিশ সেনারা টানা দশ মিনিট এলোপাথারি গুলিবর্ষন করে। পরে একটা কুয়োর ভিতরে হাজারখানেক লাশ পাওয়া যায়। এরিয়াটা অনেক বড় এবং খুবই সুন্দর করে গুছিয়ে রেখেছে। এর পরে গেলাম লাঞ্চ করতে, খেলাম পাঞ্জাবী আর সাউথ ইন্ডিয়ান থালি। ফেরার পথে কুলফি আর লাচ্ছি খেলাম। কুলফিটা মনে হল পুরাই দুধের ক্ষীর! মাত্র ৩০টাকা দাম। আর লাচ্ছিটা ছিল ২৫টাকা কিন্তু একদম অরিজিনাল টক দই। আমার সুগার থাকা সত্বেও পরপর দুবার খেলাম! এখনো স্বাদ মুখে লেগে আছে।

ওয়াগা বর্ডারঃ

সাড়ে তিনটার মধ্যে ওয়াগা বর্ডারের উদ্দেশ্যে রওনা হতে হবে,তা না’হলে ভারতীয় ও পাকিস্তানী সীমান্তপ্রহরীদের যৌথভাবে পতাকা নামানো ও গার্ড বদলের জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠান মিস হয়ে যাবে।
ওয়াগা বর্ডার থেকে লাহোর মাত্র ২৩ কিমি দূর। আর অমৃতসর শহর থেকে ওয়াগা বর্ডার ২৫ কি.মি.।সেখানে প্রতিদিন বিকেলে ভারতীয় এবং পাকিস্তানি কিছু সেনা মিলে কুচকাওয়াজ করে। এটাকে ওরা ফ্রেন্ডলি এক্টিভিটি বলে। বছরের ৩৬৫ দিনই এটা চলে। এই বর্ডার দিয়েই লাহোর দিল্লী বাস যাতায়াত করে। কুচকাওয়াজ ঠিক ৪.৩০ মিনিটে শুরু হয়।৩০ মিনিট হয়।৫ টায় শেষ হয়।প্রচুর লোকের সমাগম হয়।ইন্ডিয়া এবং পাকিস্তান দুই দেশের লোকের মধ্যেই চরম উত্তেজনা বিরাজ করে।দুই দিক থেকেই স্লোগান চলে।

গোবিন্দগড় ফোর্ট (Gobindgarh Fort):-

The foundation of the Gobindgarh Fort was laid in the mid 18th century by the leader of the Bhangi misl (clan). The imposing brick and lime structure, though locally known as the Bhangian Da Kila, derives its formal name from Guru Gobind Singh. Historically, possession of the fort was considered akin to possessing power over Punjab’s religious and political centres. It fell into Maharaja Ranjit Singh’s hands in the early 19th century during his expansionist missions. He further strengthened the walls of the fort and built a moat around it, adding several strong bastions to the structure.

It is said to have housed the Maharaja’s treasury, including the famed Kohinoor diamond within its walls. Legend has it that Ranjit Singh was coveting the legendary cannon Zamzama (which finds mention in Rudyard Kipling’s Kim), reportedly fashioned for Ahmad Shah Abdali out of metal utensils looted from Lahore. It was appropriated by the Bhangis and housed within Gobindgarh fort. Following his annexation of Amritsar, the cannon was transported to Lahore by Maharaja Ranjit Singh for use in subsequent expeditions and today, it stands sentinel outside the Lahore Museum.

One of the most striking and historic edifices of Amritsar, this is the only surviving fort from the times of Maharaja Ranjit Singh. It has had a continuous historical narrative including events from the struggle for independence. This historical layering is also visible in the fort’s distinct military architectural style and layout. It comprises two concentric layers of fortified walls with bastions and is entered through two successive gateways. The inner enclosure includes numerous buildings which have an obvious colonial look and feel about them. Currently under renovation, it will soon be thrown open to public visits.

দুরজিয়ানা টেম্পেল (Durgiana Temple):-

দুরজিয়ানা টেম্পেল গোবিন্দগড় ফোর্ট থেকে হাটা দূরত্বে অবস্থিত। দুরজিয়ানা টেম্পেল ও গোবিন্দগড় ফোর্ট থেকে হাতি গেট কাছেই।

The 16th century Durgiana Temple draws Hindu sages and scholars from all over the country as it is a well known repository of Hindu scriptures. Dedicated to goddess Durga, the temple is modelled on the Golden Temple with its main shrine rising from the midst of a tank, its central dome covered with gold, and the rest of the structure clad in marble. Also known as the Lakshmi Narayan Temple, as a large section of it is dedicated to the Hindu deities Laxmi and Narayan, the intricate carvings of goddess Durga in her various incarnations, are particularly remarkable. The Durgiana temple was rebuilt in the 20th century, and its foundation stone was laid by the freedom fighter Pandit Madan Mohan Malviya, who was also an educationist and founded the Benaras Hindu University.

অমৃতসরে থাকার জায়গাঃ

গোল্ডেন টেম্পল এর আশেপাশে প্রচুর হোটেল আছে।ভাড়াও খুব কম।৫০০ থেকে ৮০০ রুপির মধ্যে ভালো হোটেল পেয়ে যাবেন।গোল্ডেন টেম্পল থেকে অমৃতসর রেলওয়ে জংশন এর দুরত্ব মাত্র ২০-৩০ মিনিটের (গাড়ীতে)।

অমৃতসরে খাওয়াঃ-

১) জালিয়ানওয়ালা বাগে কুলফি আর লাচ্ছি। কুলফিটা মনে হবে পুরাই দুধের ক্ষীর।

২) অমৃতসরি খুলচা (Amritsari Kulcha)

৩) লাচ্ছি chilled Punjabi Lassi (sweetened yogurt)

৪) আলু পরোটা।পান্জাবের আলু পরোটা অসাধারন খেতে।

৫) ফিন্নি।

৬) ভেজিটেবল বিরিয়ানী।অসাধারন খেতে।

৭) চানা মাশালা।

৮) সর্ষে কি শাক।

৯) মাখ্খি দি রুটি।

১০) মাশালা ডোসা।

১১) মেথি মালাই পনির।

১২) ডাল মাখানি।

১৩) কাজু কারি।

১৪) মালাই কোপ্তা।

১৫) রাজমা।

Post Copied FromDip Biswas>Travelers of Bangladesh (ToB)

26 Dec 2017

যেভাবে যাবেনঃ

আপনি মহাখালী/বনানী এরিয়া থেকে নরসিংদী আসতে চাইলে এসে পিপিএল বাসের টিকিট কেটে সরাসরি নরসিংদী চলে আসবেন। নতুন বাসস্টেন্ড থেকে রিক্সায় যাবেন সাটিরপাড়া রজনীগন্ধা চত্বর।ওখান থেকে অটোতে সুইচগেট। আর তার একটু সামনে আগালেই চাঁন্দের পাড়া গ্রাম।

আর যারা গুলিস্থান থেকে যারা আসবেন তারা সার্জেন্ট আহাদ পুলিশ বক্স সংলগ্ন মেঘালয় লাক্সারী বাসে সরাসরি নরসিংদী নতুন বাসস্টেন্ড ওখান থেকে অটোতে সুইচ গেইট। সুইচ গেইট বাজারে নেমে একটু আগালেই চাঁন্দের পাড়া গ্রাম।

যদি চাঁন্দের পাড়া সরিষা ফুলের সৌন্দর্য দেখে দিনের অর্ধেক সময় বেঁচে যায় তাহলে আপনি দুপুরের খাবারটা নরসিংদী শহরে খেতে পারেন। খাওয়া শেষে নরসিংদীর পুরান লঞ্চঘাট থেকে ট্রলার নিয়ে ঘুরে বেড়াতে পারেন মেঘনায়।

আর যদি হেরিটেজ ভালবাসেন তাহলে সুইচগেইট বাজার থেকে চাইলে রিজার্ভ চার্জের অটোরিক্সা নিয়ে শর্টকাট ওয়েতে ভিতরের রাস্তা দিয়ে আবদুল্লাহপুর হয়ে মাধবদীর বালাপুর নবীন শাহার জমিদার বাড়িতে যেতে পারেন। তবে অটোর ড্রাইভারকে বলে মাধবদী শহরে খেয়ে তারপর বালাপুর জমিদার বাড়িতে যাবেন। জমিদার বাড়ি দেখা শেষ হলে এক থেকে দেড় কিলো সামনেই মেঘনা বাজার। এই বাজারের ভিতর দিয়েই চলে গেছে রাস্তা। বাজার থেকে পাঁচ মিনিট হাটলেই পেয়ে যাবেন মেঘনা নদী। চাইলে ওখান থেকে নৌকা নিয়ে ঘুরতে পারবেন মেঘনা নদীতে। তারপর মেঘনা বাজার থেকে সিএনজিতে চলে আসতে পারেন মাধবদী। ওখান থেকে ১০ টাকা রিক্সা ভাড়া দিয়ে মাধবদী বাসস্টেন্ড। তারপর মেঘালয় লাক্সারী বাসে চলে আসতে পারেন গুলিস্থান নয়তো মনোহরদী/রয়েল পরিবহনে সায়েদাবাদ চলে আসতে পারেন।

অথবা রাস্তার অপজিট থেকে অটো/লোকাল বাসে চলে আসতে পারেন পাঁচদোনা মোড়। ওখানে পিপিএল, বাদশা, উত্তরা পরিবহনসহ আরও কিছু কাউন্টার সার্ভিস পাবেন যা উত্তরা, বনানী হয়ে মহাখালী আসে।

আর যারা ট্রেনে যাবেন তারা কমলাপুর থেকে প্রতিদিন সকাল ৭:১০ টায় (বুধবার সারাদিন বন্ধ) এগারসিন্ধুরে এবং মহানগর গোধুলি (রবিবার সারাদিন বন্ধ) দিয়ে সকাল ৯:০০ টার ট্রেনে নরসিংদী আসতে পারবেন।আর সারদিন ঘুরাঘুরি করে আবার ট্রেনে ঢাকায় ফিরতে চাইলে বিকাল ৫ টায় এগারসিন্ধুরে (শুক্রবার বিকালে বন্ধ) অথবা ৫:৩০ মিনিটে মহানগর ট্রেনে ফিরতে পারবেন।

আর যদি কেউ নিজস্ব গাড়ি/বাইক নিয়ে আসতে চান তাহলে কুড়িল বিশ্বরোড থেকে পূর্বাচল ৩০০ ফিট দিয়ে কাঞ্চন ব্রিজ পার হয়ে এক কিলোমিটার আসলেই চাঁন টেক্সটাইল মোড়। মোড়ে হাতের বামের রাস্তা ধরে সরাসরি চলে আসবেন ছনপাড়া বাসস্টেন্ড (ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক)। ছনপাড়া হাইওয়েতে হাতের বামে চলে যাবেন সরাসরি মাধবদী। মাধবদী বাসস্টেন্ড থেকে কাউকে জিগ্যেস করে মাধবদী ফায়ার সার্ভিসের রাস্তাটা জেনে নিবেন। ঐ রাস্তা ধরে আবদুল্লাপুর বাজার। কাউকে জিগ্যেস করলেই দেখিয়ে দিবে সুইচগেট যাওয়ার রাস্তাটা। সুইচগেট এর সাথেই চাঁন্দের পাড়া সরিষা ফুলের এরিয়া (এইটা লোকাল রাস্তা তবে সময় বাঁচবে)।

যাতায়াত ভাড়া: মহাখালী থেকে নরসিংদী পিপিএল বাসের ভাড়া জনপ্রতি ৯৫ টাকা অথবা গুলিস্থান থেকে নরসিংদী মেঘালয় বাসের ভাড়া জনপ্রতি ১০০ টাকা। শালিধা (নতুন বাসস্টেন্ড) থেকে অটোতে সাটিরপাড়া রজনীগন্ধা চত্বরের লোকাল ভাড়া ৫ টাকা আর রিক্সায় ২০-৩০ টাকা নিবে। রজনীগন্ধা চত্বর থেকে চাঁন্দের পাড়া অটোভাড়া জনপ্রতি ১৫ টাকা।

Post Copied From:Farhad Miah>Travelers of Bangladesh (ToB)