Archives

স্থানের তথ্য (Place Information)

24 Aug 2019

অন্ধকারের ঘোর কাটিয়ে নাতিশীতোষ্ণ আবহাওয়ায় শিলং পৌঁছে আমাদের ভ্রামণিকদল পুলকিত। চারদিকের দৃশ্যে যেমন নয়ন জুড়ায়, তেমনি জলহাওয়ার শীতলতা অনুভূতিকে প্রশান্ত করে দেয়। কবি নজরুল বলেছেন ‘ আমার নয়নে নয়ন রাখিয়া প্রাণ করিতে চাও কোন অমিয়’…আমরা যেন প্রকৃতির এক অমিয়সুধা পান করছি। এ-ই পরিভ্রমণরত মেঘদলে ঢেঁকে যাচ্ছে অদূরের পাহাড়, তো পরক্ষণেই রোদের ঝিলিক। সৃষ্টির এই অবারিত বৈভব দেখে অজান্তে এর স্থপতির প্রতি মাথা নুয়ে আসে। সেই মাথাকে আরও নত করে দিতে আমাদের অন্যতম ভ্রমণগাইড খাসি ভাষার কবি ও কলেজশিক্ষক বাখিয়ামুন রিনজার এর গাইডেন্সে গাড়ি ছুটে চলে লাবান এলাকায়। সেখানে শিলংয়ের নতুন বিস্ময় গ্রান্ড মদীনা মসজিদ- বা গ্লাস মসজিদ। ভারতের একমাত্র গ্লাস এবং উত্তরপূর্ব ভারতের বৃহত্তম মসজিদ।

ব্লগ ও ভ্রমণ গাইডে শিলংয়ের প্রচুর দর্শনীয় স্থানের মধ্যে গ্লাস মসজিদের উল্লেখ পাওয়া যায় না বললেই চলে। আগ্রহ আকুল পর্যটকই কেবল পাহাড়ি সরু রাস্তা পেরিয়ে লাবানে ছূটে যায় মসজিদ পরিদর্শনে। আমাদের ভ্রমণলিস্টের ওপরের দিকেই রয়েছে গ্রান্ড মদীনা মসজিদ। সেই আগ্রহের কারণও বাখিয়ামুন। কারণ ‘ভ্রমণগদ্যশিলংট্রিপ’ গ্রুপে সে-ই একটা ভিডিও পোস্ট করেছিল, যা দেখার পর ভ্রমণসূচীতে সেটি না রেখে পারিনি। মনে হলো শিলং ভ্রমণটি নামাজের মধ্য দিয়ে শুরু হলে খুব খারাপ হবে না। ভ্রামণিক দলের সবাই উৎফুল্ল। খাসি গোস্টগণ আমাদের মসজিদ দেখাতে পেরে, আমরা দেখতে পেরে। তাঁরা খ্রীষ্ট ধর্মাবলম্বী হলেও অন্যধর্মের তুলনায় ইসলাম ও মুসলমিদের সঙ্গে সাজুয্য বোধ করে বলে আগেই জানিয়েছে। বাখিয়ামুন বললো, ‘আই থিঙ্ক দ্য মস্ক অফার টু প্রেয়ার সার্ভিসেস এভরি ডে, মর্নিং এ্যান্ড ইভেনিং টাইম। ইউ উইল গেট ইভেনিং প্রেয়ার’।

বললাম, ওহ নো, দেয়ার আর প্রেয়ারস ফর ফাইভ টাইমস এ্যা ডে’।

পাহাড়ি আঁকাবাঁকা পথ পেরিয়ে গাড়ি লাবান এলাকা পৌঁছল। একটি সরুগলি দিয়ে নিচে নামতেই ডানদিকে তিনতলা ভবন। ভবনের নিচ দিয়ে ভিতরে ঢোকার রাস্তা। সামনে ঘাসে ছাওয়া প্রশস্ত প্রাঙ্গণ। প্রাঙ্গণে ঢুকলে চোখ জুড়ানো বহুবর্ণিল ফোয়ারা আগন্তুককে স্বাগত জানায়। সামনে তাকিয়ে দেখি, অপূর্ব স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত বহুতলবিশিষ্ট গ্রান্ড মসজিদ চোখের সামনে চকচক করছে। মসজিদের একটি গম্বুজ, চারটি মিনার। পুরো মসজিদ সবুজাভ কাঁচে মোড়ানো বলে এর আরেক নাম গ্লাস মসজিদ। পূর্বপ্রান্তের চত্ত্বর দিয়ে ঢুকে মসজিদের ডানদিক বা উত্তরে মেয়েদের ওজু ঘর। ভেতরে ডানদিকে ঘেরা জায়গায় তাদের নামাজের ব্যবস্থা। মসজিদ ও সংলগ্ন ঈদগাহ মিলে আটহাজার মানুষ নামাজ পড়তে পারে। মসজিদের ধারণক্ষমতা দু্ই হাজার। উইকি তথ্য দিচ্ছে, শিলং শহরে মুসলমানের সংখ্যা প্রায় ৫ শতাংশ বা সাতহাজারের মতো।

বামদিকে পুরুষ ওজখানা। ভ্রমণদলের দু’দল দু’দিকে ওজুর জন্য ছুটলাম। ওজুখানায় বসার জায়গা থাকলেও বুঝতে পারলাম এ্রখানে সবাই দাঁড়িয়ে ওজু করে। আমি তুসু ও কবি কামরুল হাসান ওজু করে নিলাম। ওজুখানার প্রবেশপথের বামদিকে একটি ব্লাকবোর্ডে চক দিয়ে ৩১ মে জুম্মা কালেকশনের পরিমাণ লেখা। মনে হলো, গোটা মাসে জুম্মা নামাজের সময় মসজিদ তহবিলে যে অর্থ আদায় হয়, তার পরিমাণ লেখা হয় বোর্ডটিতে। ৩১ মে পর্যন্ত জুম্মা কালেকশনের পরিমাণ ১০হাজার ১১০ টাকা। ভাবলাম, গ্লাস মসজিদের স্থাপত্যশৈলীর স্বচ্ছতার মতোই স্বচ্ছ এর হিসাব-নিকাশও।

ওজুখানা থেকে দক্ষিণ দিকের দরজা দিয়ে মসজিদে প্রবেশ করে প্রাণ জুড়িয়ে গেল। দিনমানের ভ্রমণক্লান্তি নিমেষে উধাও। একটি পবিত্রতার আবেষ্টনীর মধ্যে ঢুকে গেলাম। ধর্মনিরপেক্ষ ভারতের মেঘালয় রাজ্য গারো ও খাসি প্রধান। এদের প্রাচীন ধর্ম অনেকটাই লুপ্ত। বেশিরভাগ এখন খ্রীষ্ট ধর্মদীক্ষিত। এমন একটি রাজ্যের রাজধানীর প্রধান মসজিদে নামাজ আদায় করতে পারায় ভিন্ন অনুভূতিতে তৃপ্ত হচ্ছে মন।

ঘড়িতে ছয়টার কিছু বেশি বাজে। আজান হয়ে গেছে। নামাজ শুরু হতে যাচ্ছে। দ্বন্দ্বে পড়ে গেলাম কোন নামাজের নিয়ত করবো? আকাশ তখনও পরিস্কার। ভারতের সময় আধাঘন্টা এগিয়ে। মাথার মধ্যে তখন মাগরিবের সময়টা আসেনি। মনে হলো, তাড়াতাড়ি মাগরিব? নামাজে দাঁড়ানোর পর দেখি, ইমাম সাহেব উচ্চস্বরে পড়া শুরু করেছেন-‘আলহামদু লিল্লাহি রাব্বিল আলামিন, আররাহমানির রাহিম’….

নিয়ত করলাম মাগরিবের। মাগরিবে উচ্চস্বরে সুরা পড়া হয়।

নামাজ শেষ করে দেখি, প্রশস্থ মসজিদের পেছনের একটি সারিতে কবি কামরুল হাসান নামাজে দাঁড়িয়েছেন। জামাতে ফরজ শেষ করে সুন্নত পড়ছেন। জানামতে, ব্যবস্থাপনার এই প্রফেসরকে ধর্মচর্চার ক্ষেত্রে আগ্রহাকুল দেখেছি বলে মনে পড়ে না। বরং ধর্ম-বিশ্বাস এসব নিয়ে আলাপচারিতায় তিনি বিজ্ঞানের প্রসঙ্গ তোলেন। সেই এখানকার ভাবগাম্ভীর্যময় পরিবেশ ও পবিত্রতার বেষ্টনি সেই মানুষকেও নামাজিদের কাতারে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। ব্যতিক্রমী মসজিদটি থেকে শুধু দেখার স্মৃতি নিয়েই তিনি ফিরতে চান না, নামাজের মধ্য দিয়ে নিজেকে সঙ্গে সংযুক্ত করার স্মৃতিটিও রেখে যেতে চান।

নামাজ শেষে বাইরে বেরিয়ে দেখি সামনের চত্ত্বরের ফোয়ারাটি ইতোমধ্যে বিদ্যুতের বহুবর্ণিল আলোয় ঝলমল করছে। গম্বুজ ও চারমিনার ও মুল মসজিদ থেকে সবুভ আলো ঠিকরে বের হচ্ছে। চত্ত্বরে দাঁড়িয়ে আমরা নানা কৌণিকে মসজিদকে পেছনের রেখে ছবি তুলে যাচ্ছি। নামাজে শামিল হওয়া ত্রিশ জনের মতো মুসল্লি তখন চত্ত্বর দিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছে। কবি কামরুল হাসান আলাপী মানুষ, নিরন্তর নেটওয়ার্কিংয়ের বিশ্বাসী, দেখি একজনের সঙ্গে পরিচিত হচ্ছেন। শিক্ষিত, মার্জিত শ্রুশ্মমন্ডিত যুবক। আমিও যোগ দিই। জানা গেল, তাঁর নাম ডা. জামাল সিদ্দিক। ডেন্টাল বিশেষজ্ঞ। মসজিদের নিয়মিত মুসল্লি। বললেন, বিভিন্ন ওয়াক্তের নামাজে মুসল্লি খুব বেশি হোক বা না হোক, শুক্রবার জুম্মার নামাজে পাঁচ শতাধিক মুসল্লির জমায়েত হয়। এই আলাপের সময় ইমাম সাহেব বের হয়ে যাচ্ছিলেন, ইতোমধ্যে যাঁর নামাজ পড়তে গিয়ে আমরা সুললিত কন্ঠে ক্বেরাত শুনে আমার প্রতীতি হয়েছে যে তিনি একজন ক্বারী-যারা ক্বোরআন শরীফ শুদ্ধ করে পড়তে পারেন। দেখি, ভদ্রলোক কমবয়স্ক মাওলানা। জিজ্ঞেস করে জানা গেল, তিনি বিহার থেকে এখানে এসেছেন। নাম সাদ্দাম হোসেন।

বেরিয়ে আসার সময় মনে হলো, এ অঞ্চলের ঝর্ণা, জাদুঘর, মন্দির, রামকৃষ্ণ মিশনসহ বহু দর্শণীয় স্থানের কথা ভ্রামণিকদের লেখালেখিতে এন্তার পাওয়া যাচ্ছে। নয়ানাভিরাম মসজিদটি রয়েছে এখনও অনাবিস্কৃত। এ রচনার ভ্রমণপিপাসুদের দৃষ্টিতে পড়লে গ্রান্ড মদীনা মসজিদ হয়ে উঠতে পারে ধর্মীয় পর্যটনের অন্যতম আকর্ষণীয় কেন্দ্র।

ভ্রমণের সময় অবশ্যই পরিবেশ সম্পর্কে সচেতন থাকতে হবে। মনে রাখবো, ফেলে আসবো স্মৃতিময় পদচিহ্ন, নিয়ে আসবো ব্যবহার্য আবর্জনা।

Source: Mahmud Hafiz‎<Travelers of Bangladesh (ToB)

24 Aug 2019

বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত ঘেঁষে বৃক্ষ আচ্ছাদিত সুন্দর একটি প্রাকৃতিক পরিবেশে অবস্থিত এই আলতাদীঘি। বাংলাদেশের অনেকেরই এই স্পট সম্পর্কে জানা নেই। গত মাসের মাঝামাঝি সময়ে সেখানে গিয়েছিলাম।

চারিদিকে শালবনের মাঝে বিশাল এক দীঘি। সেখানে নানা প্রজাতির পাখি ও হাঁসের ঝাঁক দেখে মন ভরে যাবে। দীঘির চারপাশে পাকা সরু পথ ধরে হেঁটে হেঁটে ঘুরে দেখতে পারেন। প্রায় ৪ কিমি এর মতো সেই পথ। জঙ্গলের মাঝে অনেক পুরোনো উঁচু উইপোকার ঢিবি রয়েছে, যা হয়ত আপনি কখনোই দেখেননি।

আলতাদীঘির পাশেই রয়েছে ভারতের সীমান্ত। এছাড়া বোনাস হিসেবে আরো যা দেখতে পাবেন, তা হলো স্পটের পাশেই আদিবাসীদের ছোট গ্রাম। ইচ্ছে হলে ওদের জীবনযাত্রা দেখতে ঢুঁ মারতে পারেন সেখানেও। তবে জঙ্গলময় পরিবেশ হওয়ায় সন্ধ্যার আগেই সেখান থেকে ফিরে আসা ভালো।

যেভাবে যাবেন :
বাংলাদেশের যে কোন জায়গা থেকে আপনাকে বাসে যেতে হবে নওগাঁ অথবা জয়পুরহাট। সেখান থেকে স্থানীয় পরিবহণে ধামুইরহাট। অথবা ট্রেনে রাজশাহী গিয়ে সেখানের রেলগেট মোড় থেকে নওগাঁর ধামুইরহাটের বাস ধরতে পারবেন। তারপর সেখান থেকে অটোতে করে আলতাদীঘিতে পৌঁছে যাবেন। ধামুইরহাট থেকে আলতাদীঘির পথ সরু হলেও পাকা রাস্তা থাকায় যেতে অসুবিধা হয় না। বনের ভেতর দিয়ে ৪ কিমি এর মতো অল্প সেই পথ দিয়ে যাওয়াটা একটা এডভেঞ্চারের মতো লাগবে। মাইক্রোবাস বা প্রাইভেট কার নিয়েও সরাসরি যেতে পারবেন আলতাদীঘি জাতীয় উদ্যানে ।

বি দ্র : অনেকেই চিপসের প্যাকেট বা পানির খালি বোতল ফেলে আসেন বনের ভেতর বা দীঘির পানিতে, যা কোনভাবেই কাম্য নয়। বন ও দীঘির পানিতে আবর্জনা ফেলে পরিবেশ নষ্ট করবেন না।

Source: Sarifur Rahman Hilton <Travelers of Bangladesh (ToB)

24 Aug 2019

এবারের ঈদের ছুটিতে কোথাও যাওয়া হয়নি। গতবার গিয়েছিলাম নেপাল।ভেবে দেখলাম যে, একদিনে ঢাকার আশেপাশে কোথায় ঘুরে দেখা যায়? পরে মনে হল যে,কুমিল্লাতো কাছেই আর যেহেতু ঈদের ছুটি কাজেই জ্যাম পাবো কম। কয়েকটা গ্রুপে বেশ আগে কুমিল্লাতে ডে ট্যুরের পোস্ট পড়েছিলাম। যেমন চিন্তা তেমন কাজ।

ঈদের চতুর্থদিন রওনা দিলাম কুমিল্লার উদ্দেশ্যে আমার দুই কাজিনকে নিয়ে। একটু চিন্তিত ছিলাম সেফটি নিয়ে কিন্ত তেমন কোনো সমস্যা হয়নি আলহামদুলিল্লাহ। কমলাপুর বাসস্ট্যান্ড যেয়ে রয়াল কোচ এসি বাসের টিকিট নিলাম ২৫০ টাকা দিয়ে। পাশেই ছিল এশিয়া এয়ারকন নামের আরেকটি এসি বাসের বুথ। টিকেট প্রাইস সেইম। এরপর মনোরম সুন্দর দৃশ্য দেখতে দেখতে চলে গেলাম কুমিল্লা। সময় লেগেছিল মাত্র ১ঘন্টা ২০ মিনিটের মতো। আমি নেমেছিলাম কোটবাড়ি কারন কোটবাড়ি থেকে শালবনবিহার, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়, ময়নামতি জাদুঘর সব কাছাকাছি।

এবার কোটবাড়ি থেকে রিসার্ভ সিএনজি নিয়ে গিয়েছিলাম নব শালবন বিহার।এখানে এন্ট্রির জন্য টিকেট নিয়েছিলাম ২০ টাকা দিয়ে । এটি একটি বৌদ্ধ আশ্রম এবং উপাসনালয়।দেশের বাইরে অনেক মোনাস্ট্রি দেখেছি আমি। সেই মোনাস্ট্রিগুলোর সাথে তুলনা করবোনা।কিন্তু বেশ শান্ত নিরিবিলি জায়গা।

কুমিল্লার নব শালবন বিহার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম বিহার বা শান্তি প্যাগোডা। নব শালবন বিহারের প্রবেশ দ্বার হতেই বা দিকে রয়েছে সোনালী রঙ এর ৬ টন ওজনের ৩০ ফুট উচ্চতার বিশাল প্রার্থনারত বৌদ্ধের মূর্তি। মূর্তির পাশে রাজকীয় ভাবে নিরাপত্তা দেয়ার ভঙ্গিতে স্থাপিত আছে গর্জন রত একই রঙের দুটি সিংহ। এছাড়া চারপাশে দাড়িয়ে আছে ৩ টি বড় ও ১ টি ছোট্ট সোনালী মোটক। পুরো মন্দিরটাই নানা রকম শৈল্পিক কারুকার্যখচিত।
ধাতব পদার্থের এই মূর্তিটি থাইল্যান্ডের একটি বৌদ্ধ ধর্মীয় ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে নব শালবন বিহারকে উপহার হিসেবে দেয়া হয়। ২০১৪ সালের ১৫ আগস্ট স্থাপন করা চমৎকার এই মূর্তিটি যা অনেক দূর থেকেই পরিলক্ষিত হয়।

কিছু সময় এখানে থেকে আমরা চলে গিয়েছি শালবন বিহারে। নব্ শালবন বিহার থেকে হেঁটে যেতে সময় লাগে ৫ মিনিট। আমার কাছে এই জায়গায়টি খুবই ভালো লেগেছে কিন্তু ভিড় একটু বেশি ছিল। পাশেই ছিল ময়নামতি জাদুঘর আর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়। ওখানে যাওয়া হয়নি সময় সল্পতার কারনে।

এরপর চলে গেলাম বার্ড এ। কুমিল্লা আসবেন অথচ বার্ড দেখবেন না তা কি করে হয়! তাই কুমিল্লা বেড়াতে আসলে অবশ্যই ঘুরে যাবেন বার্ড থেকে।ভিতরে আছে হরেকরকমের গাছপালা,বোটানিকাল গার্ডেন আর কি সুন্দর নিরিবিলি পরিবেশ। বেশ খানিকটা ঘুরে এবার বার্ড থেকে বের হয়ে অটোরিকশা নিয়ে গেলাম কোটবাড়ি মেইন রোড আর ক্যান্টনমেন্ট যাওয়ার জন্য মাইক্রোবাসে গেলাম প্রতিজন ২০ টাকা করে।
ক্যান্টনমেন্ট এ বেশকিছু হোটেল রিসোর্ট আছে। সুবিধামত জায়গায় খেয়ে নেয়া বেটার। সবচেয়ে ভালো অপশন হচ্ছে ভাত, ডাল, মাংস। আমরা খেয়েছিলাম মনিহার নামের একটি হোটেলে। দেশি মুরগী,ভাত আর ডাল নিলে ম্যাক্সিমাম ১৫০ টাকা বিল আসবে।তবে দাম আগেই জেনে নিবেন নয়তো বিল চাইবে উল্টাপাল্টা।

এরপর আবার অটোরিক্সা নিয়ে চলে গেলাম ময়নামতি ওয়ার সিমেট্রি, লোকাল মানুষজন যদিও বলে বিদেশিদের বা খ্রিস্টানদের কবরস্থান।এটি একটি কমনওয়েলথ যুদ্ধ সমাধি।বার্মায় সংঘটিত দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে যে ৪৫০০০ কমনওয়েলথ সৈনিক নিহত হন, তাদের স্মৃতি রক্ষার্থে বার্মা, আসাম এবং বাংলাদেশের ৯টি রণ সমাধিক্ষেত্র তৈরি করা হয়েছে।
এখানে বেশ খানিকটা সময় কাটিয়ে আবার ক্যান্টনমেন্ট যেয়ে এশিয়া ট্রান্সপোর্ট নামের নন এসি বাসের টিকিট নিলাম ২৫০টাকা দিয়ে কারন কোনো এসিবাসের টিকিট ছিলো না। সব থেকে ভালো হতো যদি কুমিল্লা যেয়েই আগে ঢাকায় আসার টিকেট নিয়ে নিতাম অথবা কুমিল্লার শাসনগাছা যেয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দিতাম। কিন্ত নন এসি বাস খারাপ ছিলো না শুধু সমস্যা একটাই ছিলো, ড্রাইভারের কাছে জীবনের থেকে সময়ের মূল্য বেশি। তাই পাগলের মত ওভারটেক করছিল। সকালে রওনা দিয়েছিলাম ৮ টায় আর বাসায় ফিরেছি রাত ৮ টায়। সময় না থাকায় রানীর কুঠি আর ধর্মসাগর দিঘি যাওয়া হয়নি। ওখানে ক্যান্টনমেন্ট থেকে যেতে সিএনজি ভাড়া লাগবে ৩০০ টাকার মত যেহেতু এই জায়গাগুলো শহরের দিকে।
আরো যেই জায়গাগুলো ঘুরে দেখতে পারেন তা হলো:
ইটাখোলা মূড়া
রূপবান মূড়া
চারপত্র মূড়া
কোটিলা মূড়া
আনন্দ বিহার
ভোজ বিহার

ঘুরতে গেলে সাথে অবশ্যই সানক্রিম,ছাতা,পানি আর স্ন্যাক্স জাতীয় খাবার নিবেন। আর যেকোনো জায়গার পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা আমাদের সকলের কর্তব্য তাইনা??
সামনে আছে পূজার ছুটি। কাজেই ঘুরে আসুন কুমিল্লা থেকে। একদিনের ঘুরাঘুরির জন্য বেশ ভালো জায়গা।
হ্যাপি ট্রাভেলিং

Source: Sonia Zarin <Travelers of Bangladesh (ToB)

 

21 Aug 2019

৪ তারিখ ফকিরাপুল থেকে রাত ১১.৩০ টার হানিফ বাসে জনপ্রতি ৮৫০ টাকা ভাড়ায় রওনা হই আলিকদম এর উদ্দেশ্যে। সকাল ৮ টায় পৌছাই আলিকদম। বাস স্ট্যান্ড এ নেমেই সকালের নাস্তা সেরে জনপ্রতি ২০ টাকা ভাড়ায় অটো নিয়ে রওনা হই আলিরগুহার উদ্দেশ্যে। অটো নামাবে আলিরগুহার সামনে নদীর এপারে। টমটম এ ব্যাগ রেখে প্রয়োজনীয় জিনিস এবং টর্চ লাইট নিয়ে নদী পার হতে জনপ্রতি ২০ টাকায় যাওয়া আসার জন্য নৌকা ঠিক করি। তারপর ৩-৪ মিনিট পাহাড় এর দিকে উঠে সোজা হেটে গেলেই পরবে প্রথম গুহা আর বাম দিকে গেলে পরবে আরেকটি গুহা। আমরা কোন গাইড নেইনি। আমাদের সাথে থাকা ২ অটো মামার একজন আমাদের সাথে এসেছিল নিজ থেকে। আর একজন ব্যাগ দেখার জন্য ছিল। আলিরগুহায় ঢুকতেই প্রথমে যা খেয়াল করবেন তা হল আবহাওয়া। মনে হবে ৯-১০ ডিগ্রি টেম্পারেচার কমে গেছে। ১০-১৫ মিনিট হাটার পর শুরু হয় মেইন এডভেঞ্চার। সিড়ি বেয়ে উঠেই টর্চ এর আলোয় চলতে হবে। ২ টা গুহা দেখা শেষ করে টমটম নিয়ে যাই আবাসিক। গুহা থেকে আবাসিক নিবে ৩০-৪০ টাকা। আবাসিক গিয়ে পুকুরে গোসল করে নেই। দুপুরের খাবার খেয়ে বিশ্রাম নিয়ে রাতের এর বাজার করে রওনা হই মারায়নতং এর উদ্দেশ্যে। মারায়নতং এর নিচে রাস্তার সামনে নেমে তারপর হাটা শুরু। আমরা এখানেও কোন গাইড নেইনি। মারায়নতং কে সহজ ভাবে নিলেও আমরা কেওই জানতামনা মারায়নতং আমাদের দিকে কত বড় চেলেঞ্জ ছুরে দিতে যাচ্ছে। সব পাহাড় এ উচু নিচু সমতল রাস্তা থাকলেও মারায়নতং শুধু খাড়া উপরের দিকে উঠতে হয়। ১০-১৫ মিনিট হাটার পরই শুরু হলো ঝুম বৃষ্টি। কোনভাবে এক গাছের নিচে ব্যাগ গুলো রেখে ভিজতে থাকি আমরা। হাল্কা বৃষ্টি থাকতেই উঠা শুরু করি আবার। বৃষ্টি থাকায় কিছুটা স্লো হাটি আমরা। প্রায় ১.৩০ ঘন্টা পর মুরং পাড়া পার করে একটা বড় গাছ এর নিচে এসে বসি। তারপর আবার হাটতে থাকি। একটু উপরে উঠতেই মেঘ এর খেলা দেখতে পাই। বৃষ্টির কারনে মেঘ এর খেলা যেন আরো ভালভাবে শুরু হয়েছিল। কিছুক্ষন পরই পৌছে যাই আমাদের গন্তব্য মারায়নতং চূড়ায়। চূরায় উঠেই আমরা মেঘে ঢেকে গেলাম। সবার মুখ দিয়ে একটাই কথা বের হচ্ছিল “সুবানআল্লাহ”।

তাবু পিচ করতে করতেই আবার শুরু হয় ঝুম বৃষ্টি। কিন্তু এবার বৃষ্টি চলে প্রায় ২ ঘন্টা। এর মধ্যেই চারদিকে ঘুটঘুটে অন্ধকার নেমে যায়। এদিকে তাবুতে পানি ভরে গেছে সাথে ২ টা তাবু পিচ করার আগেই পানিতে একাকার।

এদিকে স্থানীয় ছোট্ট ছেলে ইকবাল এসেছে আমাদের সাথে থাকবে বলে। পরে তখনই ঠিক করি। চূরায় থাকা যাবেনা। প্রয়জনীয় জিনিস খাবার নিয়ে টর্চ এর আলোয় রাতের আধারে নামতে শুরু করি মাঠ এর নিচের ঝুম ঘরের দিকে। ব্যাপার টা রিস্কি হলেও এছাড়া আর উপায় ছিলনা। ঝুম এই রাতের খাবার তৈরী করে খেয়ে ঘুম দেয় কয়েকজন। ঠিক করি ভোর ৪ টার দিকে উঠে চূরায় উঠে যাবো। তাবু গুলো প্যাক করা লাগবে আবার। ৪ টায় উঠিয়ে দিলাম সবাইকে। ঝুম ঠিক যেমন ছিল আমারা আসার আগে ঠিক ঐভাবে পরিষ্কার করে ঠান্ডায় অন্ধকারে টর্চ এর আলোয় চূড়ায় উঠলাম। চূড়ায় উঠে সব প্যাক করে ভোর দেখেই নামা শুরু করলাম ৬ টার দিকে। চূড়া থেকে নামতে খুব বেশি সময় লাগেনি। নেমেই বাস স্ট্যান্ড এ গিয়ে নাস্তা সেরে ঢাকার বাস এর টিকেট কেটে বাস এই ব্যাগ রেখে যাওয়া আসা ৮০০ টাকায় বাইক নিয়ে রওনা হই ১৭ কিলোর উদ্দেশ্যে। প্রতিটি বাইক এ ২ জন করে বসতে পারবেন। আলিকদম থেকে ১৭ কিলোর এই রাস্তাকে বাংলাদেশ এর সর্বচ্চ রাস্তা বলে। ১০ কিলো আর্মি ক্যাম্প এ জাতীয় নিবন্ধন এর ফটোকপি জমা দিয়ে চলে গেলাম ১৭ কিলো। ছোট্ট একটা দোকান পাবেন দোকান থেকে চা খেয়ে ১০০০ টাকায় গাইড ঠিক করে রওনা হলাম দামতুয়ার উদ্দেশ্যে। প্রথমে পরবে আদু পাড়া তারপর মেম্বার পাড়া- তামতই পাড়া- নামসাক পাড়া – কাখইপাড়া হয়ে দামতুয়া ঝর্না। এ পথে আরো ২ টি ঝর্না আছে। ওয়াংপা ও তংপ্রা। যাওয়া আসা সব মিলিয়ে সময় লেগেছে ৬ ঘন্টার মত। জামা কাপড় চেঞ্জ করে খাবার খেয়ে ৭.৩০ টার বাস এ ঢাকার উদ্দেশ্যে উঠে পরি।

খরচ সমূহঃ
ঢাকা – আলিকদম বাসঃ ৮৫০
বাস স্ট্যান্ড -আলিরগুহাঃ ২০
নৌকাঃ ২০
আলিরগুহা – আবাসিকঃ ৪০
আবাসিক -মারায়নতংঃ(২৫+২৫)=৫০
বাইক(যাওয়া আসা)=৪০০
দামতুয়া গাইডঃ(১০০০÷৯)=১১১
আলিকদম – ঢাকাঃ ৮৫০
( খাবার খরচ আপনাদের মত )
আমাদের জনপ্রতি ৩০০০/- করে খরচ হয়েছে। ট্যুরমেট বেশি হলে আরো কমে ট্যুর দেয়া সম্ভব।
Source: Rbh Shornab‎ <Travelers of Bangladesh (ToB)

21 Aug 2019

টাঙ্গুয়ার হাওর-
বাংলাদেশের বৃহত্তর সিলেটের সুনামগঞ্জ জেলায় অবস্থিত একটি হাওর। এ হাওর বাংলাদেশর দ্বিতীয় বৃহত্তম মিঠা পানির জলাভূমি ।স্থানীয় লোকজনের কাছে হাওরটি নয়কুড়ি কান্দার ছয়কুড়ি বিল নামেও পরিচিত। হাওরের সৌন্দর্য উপভোগের সবচেয়ে উপযুক্ত সময় বর্ষাকাল, হাওরের রাতের আকাশে পূর্ণিমার আলো আর তারার মেলায় আপনি হারিয়ে যাবেন কোনো এক অজানায়, আর এই পূর্ণিমা রাতটি হবে আপনার জীবনের সবচেয়ে সুন্দর রাতগুলির মধ্যে একটি…..

শহিদ সিরাজী লেক-
সবুজ ঘাসের পাটি বিছানো ছোট ছোট টিলায় বসে উপভোগ করতে পারেন এই লেক। তাছাড়া লেকের ধারে বেঞ্চ বসানো রয়েছে। সেখানে বসে পাহাড়ের সাথে লেকের সৌন্দর্য দেখে বিমোহিত হতে পারেন।

বারিক্কা টিলা-
পাহাড়ের উপর মেঘেদের দল বেধে ছুটে বেড়ানো দেখতে হলে অবশ্যই বারিক্কা টিলায় আপনাকে গমন করতে হবে। তাছাড়া পাহাড়ের গাঁ বেয়ে নেমে আসা ঝর্নাও দেখবেন দূর থেকে। দুঃখজনক হলেও বলছি, ঝর্না এরিয়া ভারতে হওয়াতে আমাদের সেখানে যাওয়া নিষেধ।

যাদুকাটা নদী-
বারিক্কা টিলা থেকেই নদীর সৌন্দয্য উপভোগ করা যায়। এখানেও ট্রলারে করে নদী পার হতে পারবেন ও ঘুরাঘুরি করতে পারবেন।

লাকমাছড়া-
পাহাড়ের বুক চিরে নেমে আসা পানিতে জেলেদের মাছ ধরার অভিনব পন্থা দেখতে পাবেন সেখানে।

রাজাই ঝর্ণা
সাময়িক সমস্যার কারনে রাজাই ঝর্নার খুব নিকট থেকে শুধু ঝর্নার কলকল ধ্বনি শুনে চলে আসতে হল আমাদের।ঝর্না দেখার সৌভাগ্য হয়ে উঠনি।

পাহাড়, হাওর, বন, ঝর্ণা, টিলা, বাগান এবং নদী সব যে জায়গায় মিশে একাকার তার নাম সুনামগঞ্জ, সুনামগঞ্জ হচ্ছে সিলেট বিভাগ এর সবচেয়ে আকর্ষণীয় জায়গা।দিন দিন সেখানে পর্যটকের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

যেভাবে যাবেন:
ঢাকা থেকে বাস-এ করে সুনামগঞ্জ ।
সকালে সিনজি রিজার্ভ করে তাহিরপুর, চাইলে লেগুনা বা মোটর সাইকেলে করেও আসা যায়, তাহিরপুর যাওয়ার মাঝপথে শাপলা বিল আছে, চাইলে কিছু ক্লিক করে নিতে পারেন একদম ফ্রিতে, তাহিরপুর এসে ট্রলার ভাড়া করে নিতে হবে (অবশ্যই দামাদামি করে নিবেন), ছুটির দিনগুলোতে ভাড়া একটু বেশি থাকে, এরপর পুলিশ স্টেশন গিয়ে নাম ঠিকানা এন্ট্রি করে নিবেন আর অবশ্যই ইনচার্জ এর মোবাইল নম্বর নিয়ে আসবেন, বিপদে কাজে লাগতে পারে।

ট্রলারে উঠে এক ঘন্টা হাওর এর সৌন্দর্য উপভোগ করতে করতে পৌঁছে যাবেন ওয়াচটাওয়ার। ওয়াচটাওয়ার থেকে ছোট ছোট বাচ্চাদের নৌকায় চারপাশ ঘুরে দেখবেন আর অবাক হবেন সাথে গান শুনবেন ফ্রি, সাঁতার জানলে নীলাভ এই পানিতে গোসল করার লোভ সামলাতে পারবেন না, সাঁতার না জানলে ৫০ টাকা ভাড়ায় লাইফ জ্যাকেট নিয়ে পানিতে নেমে পড়ুন ….

সেখান থেকে চলে আসুন ট্যাকেরহাট। সেখানেই ট্রলারে রাত্রি যাপন করবেন আর রাতে হাওরের নযনাভিরাম দৃশ্য দেখবেন। ট্যাকেরঘাট থেকে মোটরসাইকেল অথবা অটোরিক্সা (অবশ্যই দামাদামি করে নিবেন) করে ঘুরে আসবেন নীলাদ্রি লেক, বারিক্কা টিলা, যাদুকাটা নদী,রাজাই ঝর্ণা, লাকমা ছড়া এবং শিমুল বাগান (বাগানে এখন ফুল নাই)। একেকটা জায়গার সোন্দর্য একেকরকম যা কোনো ভাবেই ভাষায় প্রকাশ করার মতো না।

খরচ: (জনপ্রতি)
ঢাকা-সুনামগঞ্জ -৫৫০/-
সুনামগঞ্জ থেকে তাহিরপুর সিএনজি – ১০০ ট্রলার ভাড়া -১০,০০০/- (ঈদের সময় বলে একটু বেশি নিছে)
মোটরসাইকেল – ২০০ টাকা
তাহিরপুর থেকে সুনামগঞ্জ-১০০/-
সুনামগঞ্জ থেকে ঢাকা – ৫৫০/-
[[খাওয়াদাওয়া যার যেমন]]
আমাদের ১০ জনের টীম এ জনপ্রতি খরচ হয়েছে ২৭০০ টাকার মতো ।

বি: দ্র: এ দেশটা আমার আপনার সবার, এই দেশের সৌন্দর্য রক্ষা করার দায়িত্বও আমাদের। দয়া করে পানির বোতল, বিস্কুট, কেক এর প্যাকেট এবং অন্যান্য আবর্জনা দিয়ে হাওরের পানি নষ্ট করবেন না ।

Source:  BM Shakil <Travelers of Bangladesh (ToB)

 

21 Aug 2019

আমাদের মত ছোটখাটো চাকরিজীবীদের জন্য আসলে দুই ঈদের ছুটি ছাড়া বড় কোন ছুটি আমারা আশা করতে পারি না। রোজার ঈদে ইচ্ছা ছিলো কিন্তু কিছু সমস্যার কারনে হয়ে উঠে নাই। তাই কোরবানীর ঈদটাকেই বেঁছে নিয়েছিলাম আন্দামান ভ্রমনের জন্য। যদিও এই সময়টা আন্দামান ভ্রমনের জন্য সঠিক সময় না অনেকেই বলেছিলো, তবুও দিলাম। এই সময় গুলোতে আসলে বৃষ্টি-পাত হতে থাকে কোন কারন ছাড়া। মুভ করা একটু কষ্টকর হয় অনেক সময়। যেহেতু সিঙ্গেল মানুষ তাই খুব একটা গায়ে মাখি নাই কয়েকটা জিনিষ মাথায় রেখে আসলে অফ সিজনে এই ট্রিপটা লাগালাম।
১। ট্যুরিস্ট কম হবে।
২। কম খরচায় এদিক ওদিক ঘুরাঘুরি করা যাবে।
৩। ডিস্কাউন্টে মন মত হোটেল পাওয়া যাবে।
যেহেতু এটা একটা সোলো ট্যুর ছিলো তাই হয়ত মনে হতে পারে খরচ মনে হয় একটু বেশী। কিন্তু হেডস বেশী হলে অনেক কিছুই কমে যাবে শুধু এয়ার টিকেট ছাড়া।
আমার সর্বসাকুল্যে খরচ হয়েছিলো ৪ দিন/ ৪ রাতের জন্য ১৪,০০০ হাজার টাকার মত (এয়ার খরচ ও শপিং ছাড়া)
এয়ারে টিকেট কেটেছিলাম ১৮,৫০০ টাকায় (ঢাকা টু কোলকাতা টু পোর্ট ব্লেয়ার আসা-যাওয়া। আরো কমেও সম্ভব)
যে জায়গা গুলোতে আমি গিয়েছিলাম~
~চিরিয়াটাপু বিচ
~ওয়ান্দুর বিচ
~কর্বিন কোভ বিচ
~সেলুলার জেল
~ভাইপার আইল্যান্ড
~নর্থ বে আইল্যান্ড
~রস আইল্যান্ড

প্রথম দিনঃ
ঢাকা থেকে কোলকাতা পৌছালাম রাত ৮.৩০ এর দিকে। খুব একটা ঝামেলা হয় না ইমিগ্রেশনে। একপর ৯ ঘন্টার এর বিরতি। একটা টেক্সি নিয়ে একটু কোলকাতা শহর চক্কর দিলাম। খাওয়া দাওয়া করলাম সিটি সেন্টারে জাস্ট সময় পার করার জন্য।

দ্বিতীয় দিনঃ
সকাল ৭.৩৫ এর ফ্লাইট কোলকাতা থেকে পোর্ট ব্লেয়ারে। ৯.৩৫ এর পৌছে গেলাম। বলা বাহুল্য ইন্ডিগো এয়ারে কিন্তু ফ্রি খাবার দেয় না। খাবারের দাম একটু বেশী। তাও বেটার আপনি খেয়ে নিয়ে অথবা নামার পরও খেয়ে নিতে পারেন। নেমেই টেক্সি নিয়ে গেলাম পরের দিনের হ্যাভলক আর নীল আইল্যান্ডের টিকেট কাটার জন্য। কিন্তু দুঃখজনক গিয়ে টিকেট পেলাম না। গিয়ে দেখি জাহাজ অনেক গুলা বন্ধ যেহেতু অফ সিজন। তাই টিকেট স্বল্পতা ছিলো। যাওয়ার টিকেট পেলেও ফিরে আসার টিকেট ম্যানেজ করতে পারিনি। তাই রিস্ক আর নেই নাই, যেহেতু আমার ফেরার টিকেট কাটা ছিলো। মিস হয়ে গেলে সর্বনাস। সাধারনত এসব আইল্যান্ড গুলাতে যাওয়ার টিকেট ৩-১০ দিন আগে কেটে নেয়া ভালো যদি পিক সিজন হয়। অফ পিকে অবশ্য এরকম হাওয়ার কথা ছিলো না। কিন্তু জাহাজের মেইন্টেনেন্সের কাজের কারনে অলমোস্ট সব গুলা জাহাজই বন্ধ। তাই জাহাজে যাত্রীদের চাপ বেশী ছিলো। যাই হোক কিছু করার নাই। কয়েকটা হোটেল দেখে আবেরদিন বাজারে মোটামুটি খুব ভালো একটা হোটেল পেয়ে গেলাম মাত্র ২২৫০ রুপিতে। বলা বাহুল্য পোর্ট ব্লেয়ারে সবাই কম বেশি এই বাজারেই উঠে। এইখানে আসলে সব কিছুই একটু হাতের নাগালে। তাই সুবিধা। চেক-ইন করে দুপুরের খাবার ওর্ডার করে দিলাম। খেয়ে হাল্কা ভাত ঘুম দিলাম। সন্ধায় আর তেমন কোথাও যাই নাই। পাসেই একটা বিচ আছে নাম করবিন কোভ বিচ। সেখানে গেলাম, তারপর একটা ভিউ পয়েন্ট আছে। তারপর হাল্কা সিটি টা দেখে ডিনার সেরে ঘুমিয়ে পরলাম। ৮.৩০-৯.০০টার পর আসলে এখানে করার মত কিছু থাকে না।

তৃতীয় দিনঃ
খুব সকালে ঘুম থেকে উঠেই চলে গেলাম জংলিঘাটে। সেখান থেকে দুইটা আইল্যান্ডে যাব আজকে। একটা ভাইপার আইল্যান্ড এবং আরেকটা নর্থ বে। ৭৫০ রুপি নিল যাওয়া আসার জন্য। সময় লাগলো সব মিলিয়ে ৪.৩০ ঘন্টার মত। নর্থ বে ১.৫০ এর মত স্টে করেছিলো। এখানে যারা সি-ওয়াকিং(৩৫০০ রুপি) কিংবা স্নোরক্লিং(৭০০ রুপি) করতে চায় করতে পারে। আমি এগুলা আগে করেছিলাম তাই ইচ্ছা ছিলো না। ১.৩০ এর দিকে চলে এসেছিলাম। আসার সময় প্রচন্ড বৃষ্টি ছিলো। কিছুটা বিলম্ব হয়েছিলো আমাদের। তারপর একটা অটো ধরে আবার হোটেল। এসে খাওয়া দাওয়া করলাম। সন্ধ্যায় একটু বের হয়ে ঘুরাঘুরি করে অইদিনের এক্টিভিটিস শেষ করলাম।

চতুর্থ দিনঃ
অনেক বৃষ্টি থাকার কারনে সকালে বের হতে পারি নাই। দুপুরের দিকে সেলুলার জেল টা ঘুরে এসেছিলাম। ভালোই লেগেছে। ইন্ডিয়ানদের জন্য ৩০ রুপি আর ফরেইনারদের জন্য ১০০ রুপি। বিকালে লাইট শো আছে। আমার খুব একটা ইচ্ছা জাগে নাই। তাই আর দেখি নাই। সেলুলার জেলের বিস্তারিত ইতিহাস জানতে ~ https://cutt.ly/qwdkH8P

পঞ্চম দিনঃ
খুব সকালে উঠে চলে গেলাম মেরিনা বে তে। ওইখান থেকে বোটে ৩৫০ রুপিতে (আসাযাওয়া) চলে গেলাম রস আইল্যান্ডে। যদিও এর নাম পরিবর্তন হয়ে এখন হয়েছে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু দ্বীপ। দ্বীপের ভিতরে প্রবেশ করতে আরো লাগবে ৩০ রুপি। চমৎকার একটা দ্বিপ। অনেক ইতিহাস ধারন করে এই দ্বিপ। বিস্তারিত ~ https://cutt.ly/0wdkVqH দুপুরের দিকে ফিরে হাল্কা রেস্ট নিয়ে ৩৫ কিলোমিটার দূরে দুইটা বিচ আছে। একটার নাম চিরিয়াটাপু আর আরেকটা ওয়ান্দুর বিচ। ২০০০ রুপির বিনিময়ে ঘুরে এলাম। ভালোই কাটলো সন্ধ্যাটা। হোটেলে ফিরে ব্যাগ গুছালাম কারন পরেরদিন সকাল ১০.৩০ এ ফ্লাইট।

ষষ্ঠ দিনঃ
কাছেই এয়ারপোর্ট। ১০.৩০ এর ফ্লাইট ধরে কোলকাতা। ৪ ঘন্টার ট্রানজিটে হাল্কা পাতলা কেনাকাটা করলাম পাসের বিগবাজার আর সিটি সেন্টার থেকে। তারপর বিকাল ৪.৫০ এর ফ্লাইট ধরে বাংলাদেশ।
পুরো ট্রিপে আমার সাথে ছিলো একজন ট্যাক্সি ড্রাইভার আর একজন অটো ড্রাইভার। এরাই মূলত আমাকে সব জায়গায় নিয়ে গিয়েছিলো। সিটির কাছাকাছি জেগুলা সেইগুলার জন্য অটো বেটার। দূর পাল্লার জন্য টেক্সি। ভবিষ্যতে কোন ধরনের বুকিং টুকিং এর জন্য এদের সহযোগিতা নেয়া যেতে পারে যদি কেও চান ~
টেক্সি ড্রাইভার এরান্না- +৯১৯৯৩৩২৯৭৭০৮
অটো ড্রাইভার পিন্টু- +৯১৯৯৩৩২২৭৩৯১
লাঞ্চ-ডিনারে আমার এভারেজ ২৫০-৪০০ টাকা খরচ হয়েছিলো।
হোটেল- গুরু ইন্টারন্যাশনাল +৯১৯৯৩৩২০৮৪৮৯

আরো বিস্তারিত জানার থাকলে জিজ্ঞাসা করে জেনে নিতে পারেন।

বি:দ্রঃ
~ যেখানে সেখানে ময়লা ফেলা টাইপ এর মানুষ হলে এই জায়গাগুলো এভয়েড করুন।
~ জন সম্মুখে থুথু ফেলা থেকে বিরত থাকুন।
~ খোলা জায়গায় ধূমপান করা থেকে বিরত থাকুন।

Source: Duke Anam <Travelers of Bangladesh (ToB)

18 Aug 2019

প্রথমে সদরঘাট থেকে কাকচিরার লঞ্চে উঠবেন ভাড়া কেবিন নিলে ১৫০০টাকা, কেবিন নিলে কয়েকজন মিলে গেলে ভাড়াটা কম পড়বে। কেবিন ছাড়াও যাওয়া যায়। লঞ্চ ছাড়ে বিকাল ৪ টা থেকে, তাই বিকালেই রওনা করতে হবে। পৌছাবে পরেরদিন খুব সকালে ৪/৫ টার দিকে।

কাকচিরা ঘাট থেকে অটো করে চলে যাবেন পাথরঘাটা, ভাড়া নিবে ৪০/৫০টাকা।
সেখানে গিয়ে সকালের নাশতা টা সেরে ফেলতে পারবেন, ২০/৩০ টাকায়। সেখানে হোটেল আছে চাইলে ফ্রেশ হতে পারবেন।
তারপর হরিনঘাটার উদ্দেশ্যে রওনা দিবেন, আটো রিক্সা ভাড়া নিবে ১০০টাকা, সময় লাগবে ৩০/৪০ মিনিট। সেখানে পাবেন কাঠের ব্রিজ এবং ব্রিজটা সোজা সমুদ্রে চলে যায়। ভাগ্য ভালো থাকলে হরিন দেখতে পাবেন।
আমরা ট্রলার দিয়ে সমুদ্রে গিয়েছি কারন ব্রিজ দিয়ে গেলে বেশি সময় লাগতো + ব্রিজটার কিছু জায়গায় ভাঙা চিল। ট্রলার টা বেশ বড় চিল, ভাড়া ৪০০ ছিল (যাওয়া +আসার) সেখানে available ট্রলার পাবেন।
১০.৩০/১১ টার মধ্যে ঘুরাঘুরি শেষ করে বালেশ্বর নদীর উদ্দেশ্য রওনা দিবেন সেখানে ভাড়া লাগবে ১৫০টাকা
সেখানে ঘুরাঘুরি শেষ করে আবার পাথরঘাটা বাজারে চলে আসবেন। দুপুরের খাবার এখানের কোনো হোটেলে সেরে নিতে হবে।
তারপর চলে আসবেন কালমেঘা বাজার এ অটো ভাড়া ৩০/৪০ টাকা।
বিকালে নদীর পাড়টা অনেক বেশি সুন্দর হয়ে যায়। চাইলে নৌকাতে ও উঠতে পারবেন। কালমেঘা নদীর পাড়ে বিকেলে এবং সন্ধ্যায় সবচেয়ে সুন্দর দৃশ্য দেখতে পাবেন! আর এই নদীর নাম বিষখালী নদী। তারপর আবার চলে আসবেন কাকচিরা লঞ্চঘাটে।
লঞ্চ ছাড়ার সময় বিকাল ৪.৩০ মিন থেকে শুরু হয়।

বিঃ দ্রঃ পরিবেশের ক্ষতি হয় এমন কোন কিছু করবেন না, স্থানীয় মানুষদের সম্মান দিন, তাদের সাথে মিশুন, এলাকার ইতিহাস জানুন। আর যত্রতত্র ময়লা ফেলে আসবেন না। ঘুরেন দায়িত্ববোধের সাথে।

Source: Lamia Hasan‎ <Travelers of Bangladesh (ToB)

7 Aug 2019

মালদ্বীপ অনেক বছর ধরেই একটি জনপ্রিয় হানিমুন ডেস্টিনেশন হিসেবে পরিচিত। কারণ এই দেশের ট্যুরিজম এভাবেই ডেভেলপ করা হয়েছে। প্রথমে যখন মালদ্বীপ যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নেয়া শুরু করি তখন আগে যারা গিয়েছিলো এবং কয়েকটা ট্রাভেল এজেন্সির সাথে কথা বলি। একটা ব্যাপার খেয়াল করলাম যে সবাই মোটামুটি ৪-৫ টা আইল্যান্ডের কথাই বলছে ঘুরেফিরে। নিজে থেকে একটু ঘাঁটাঘাঁটি করে দেখলাম দেশটাতে আইল্যান্ড রিসোর্টের সংখ্যা ১০০০ এর উপরে। ওখানকার বেশিরভাগ আইল্যান্ডই ব্যাক্তি মালিকানাধিন এক একটা আইল্যান্ড রিসোর্ট। এর মধ্যে ফাইভ স্টার বা তার চেয়েও হাই রেটেড রিসোর্ট আছে প্রায় ৫০০ এর মত। যেটা বুঝলাম- আমাদের দেশের এজেন্সিগুলোর সাথে মালদ্বীপের কয়েকটা রিসোর্টের বিজনেস ডিল থাকার কারণেই ওই কয়েটা রিসোর্টের নাম বেশি জানে মানুষ। যেমন প্যারাডাইস আইল্যান্ড, সেনতারা রাসফুসি, সানল্যান্ড, ফানল্যান্ড এগুলো। আগেই বলে নেই এর প্রতিটা রিসোর্টে যারা গিয়েছে সবার অভিজ্ঞ্যতা খুবই ভালো। তাই আমি বলছিনা এগুলোতে গেলে কোনদিক দিয়ে কিছু কম হয়ে যাবে। তবে আমি আর আমার স্ত্রী চাচ্ছিলাম হানিমুনের গল্পটা আমাদের মত হোক। তাই যাওয়ার আগে বেশ কয়েকদিন ধরে অনেকগুলো রিসোর্ট নিয়ে গবেষনা করি। তাতে যতটুকু বুঝেছি তা হল-

সব রিসোর্ট অবকাঠামোগত দিক দিয়ে প্রায় একই ধরনের। রিসোর্টের একটা ভাগে থাকে সবচেয়ে জনপ্রিয় ওয়াটার ভিলা, তারপর আছে বীচ ভিলা এবং বাকিটা আইল্যান্ড ভিলা। হানিমুনের জন্য সবাই ওয়াটার ভিলাই বেছে নেয়। বেসিক কাঠামো সমান হলেও আর্কিটেকচারাললি প্রতিটা রিসোর্টের একটা নিজস্বতা থাকে।
প্রতিটা আইল্যান্ডেরও কিছু নিজস্বতা থাকে। মালদ্বীপে কতগুলো দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে এক একটা আতোল তৈরি হয়। আতোল বলতে আমাদের বিভাগের মত আর কি। এই প্রতিটা আতোলের আবার কিছু পরিবেশগত নিজস্বতা থাকে। যেমন বা আতোল ডাইভিং/স্নর্কেলিং এর জন্য বিখ্যাত, রা আতোল গ্লোইং বীচের জন্য পরিচিত।

আর সব রিসোর্টের বিভিন্ন ভিডিও তাদের নিজস্ব ওয়েবসাইট বা ইউটিউবে পাওয়া যায়। এসবকিছুর খোঁজখবর নিয়ে, ইউজার রিভিউ দেখে নিজেদের পছন্দমত একটা আইল্যান্ড রিসোর্ট বের করতে খুব একটা কষ্ট হবার কথা নয়।

আমরা গিয়েছিলাম রা আতোলের কুদাফুসি আইল্যান্ডে। এই আইল্যন্ডের ভিডিও দেখার সময় আমরা দুইজনই মুগ্ধ হই। তারপর বিভিন্ন ওয়েবসাইটে এদের রিভিউ দেখে সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলি নিজেদের মত করে সবকিছু আয়োজন করবো। মনে হচ্ছিলো এই আইল্যান্ডই আমাদের হানিমুনের নিজস্ব গল্প। যে গল্প এর আগে কেউ বলে নি।

এবারে বুকিং দেয়া নিয়ে কিছু কথা বলি। মালদ্বীপে যাওয়ার পিক টাইম হল নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারী পর্যন্ত। এই সময়ে সবকিছুর খরচ একটু বেশি পড়বে। মে থেকে শুরু হয় অফ সিজন। তাই বিভিন্ন ধরনের অফার পাওয়া যায় সব রিসোর্টে। অনলাইনে ওয়েদার ফোরকাস্ট দেখে তাপমাত্রা ও বৃষ্টির সম্ভাবনা দেখে ডেট ঠিক করলে খরচ অনেকাংশে কমানো সম্ভব।

আরেকটা সমস্যা হতে পারে নিজেরা বুকিং দিতে গেলে। এসব জায়গা থেকে বুকিং এর সমস্যা হল বাংলাদেশের বেশিরভাগ ক্রেডিট কার্ডে একবারে ৩০০ ডলারের বেশি ট্রাঞ্জেকশন করা যায় না। ব্র্যাক ব্যাংক, ইবিএল ব্যাংকগুলোতে আবার এই অসুবিধা হয় না। আমি যেমন আমার আমেরিকা প্রবাসী এক বন্ধুর মাধ্যমে বুকিং দিয়েছিলাম। রিসোর্টের নিজস্ব ওয়েবসাইটে বুকিং দিলেও এই সমস্যা এড়ানো সম্ভব। বুকিং ওয়েবসাইটগুলোতে আবার অনেক আকর্ষনিয় অফার থাকে যা রিসোর্টের ওয়েবসাইটে থাকে না। আর অবশ্যই তিনবেলা খাবার সহ বুকিং দেয়া ভালো। বুকিং ওয়েবসাইটগুলোতে যে দাম দেখাবে ফাইনাল করার আগে দেখে নিতে হবে তার মধ্যে কি কি ইনক্লুডেড আছে। সার্ভিস চার্জ, ট্যাক্স এবং গ্রীন ট্যাক্স এই তিনটা এক্সট্রা চার্জ সহ সবসময় দেখানো হয়ে না শুরুতে। তবে সব রিসোর্টে এই তিনটা এক্সট্রা চার্জ থাকবেই। তাই আপনার খরচ আসলে কত হচ্ছে সেটা বুঝে বুকিং দেয়াই ভালো। আরেকটা এক্সট্রা চার্জ লাগে আইল্যান্ড ট্রান্সপোর্টের জন্য। আইল্যান্ড ভেদে স্পীড বোট, সী প্লেন/লোকাল প্লেনে যেতে হয় যার খরচটা আলাদা দিতে হয়।

আশা করি আমার এই লেখা মালদ্বীপে ভ্রমণ নিয়ে কিছুটা নতুন করে ভাবতে সাহাজ্য করূবে উৎসাহীদের। নিজের ভ্রমনের গল্প নিজেরাই তৈরি করূন।

অবশ্যই ঘুরতে গেলে ওখানকার পরিবেশের প্রতি সম্মান দেখাবেন। যত্রতত্র ময়লা আবর্জনা ফেলবেন না, সমূদ্রের কোরাল নষ্ট করবেন না।
Source: Nazmus Sakib

5 Aug 2019

হালতির বিল/হালতি বিল/মিনি কক্সবাজার নাটোর সদর থেকে ১০ কিলোমিটার উত্তরে নলডাঙ্গা থানায় অবস্থিত। সাধারণত বর্ষার শুরুতে এই বিল এলাকায় পানি জমতে শুরু করে, যা ছয় মাসের মতো স্থায়ী হয়। চারিদিকে অবিরাম জলরাশি তার মাঝেই ছোট ছোট দ্বীপের মতো গ্রাম। নৌকায় চড়ার পর মনে হবে সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওড়ে চলে আসছি। মাঝিকে বললে গ্রামগুলোতে ১০/১৫ মিনিটের জন্য ঘুরতেও পারবেন।

আসার পথে নাটরের উত্তরা গণভবন এ নাটোর রাজবাড়ী ঘুরে দেখতে পারেন।

দুপুরের খাবারের জন্য একবার হলেও নাটরের ইসলামিয়া পচুর হোটেলের গরুর মাংস (১২০/=) ট্রাই করবেন। এরা গ্যটিসও দেয় বেশি।

আর সবশেষে সময় থাকলে নাটরের গ্রীনভ্যালী পার্ক থেকে ঘুরে আসতে পারেন, জায়গাটি নাটোর থেকে দূরে হওয়ায় পরদিন সময় নিয়ে যেতে পারেন।

যেভাবে যাবেন ও খরচঃ
নাটোর শহরের মাদ্রাসা মোড় থেকে পাটুলের সিএনজি বা অটো ভাড়া ৩০টাকা।
আর নৌকাতে ঘুরতে প্রায় ১ঘন্টা লেগেছিল, ২৫০ টাকায় ঠিক করেছিলাম। এলাকার মানুষ একটু বেশি দাম বলে, সুতরাং দরদাম করে নিবেন।

সতর্কতাঃ
সাঁতার না জানলে লাইফ জ্যাকেট সাথে আনবেন। গ্রামের মানুষ পছন্দ করে না বা বিরক্ত হয় এমন কোন কাজ থেকে বিরত থাকুন।

Source: Rakib Riyad‎ <Travelers Of Bangladesh (TOB)

5 Aug 2019

আমি ময়মনসিংহ থেকে গিয়েছিলাম।
ময়মনসিংহ থেকে কিশোরগঞ্জ গাইটাল বাসস্ট্যান্ড, বাস ভাড়া ৮০/-১২০/- ক্ষেত্রবিশেষে।

বাসস্ট্যান্ড থেকে বটতলা,
রিকশা/অটোতে করে, ভাড়া ২০/-

বটতলা থেকে একটু এগোলেই ওয়াচ টাওয়ার, ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদ, গুরুদয়াল কলেজ দেখা যাবে। আমরা দাঁড়াইনি। দেখতে দেখতে রাজবাড়ী চলে গেছি। গাঙ্গাটিয়া মানববাবুর জমিদার বাড়ি।
রিকশা/অটোতে যাবেন, ৩০০/-
তবে এই জমিদার বাড়িটুকু চাইলে স্কীপ করতে পারেন। আমার কাছে ভালো লাগে নি। আবার সময় নষ্টও মনে হয়েছে। এই সময়ে শহর ঘুরলেও ভালো লাগতো।

কিশোরগঞ্জ শহরটা খুউবি সুন্দর। গোছানো শহর, রাস্তাঘাটও এত ভালো, এত ভালো, মুগ্ধ হয়ে যাবার মত। ভি আই পি এলাকা বলেই হয়তো।

যাই হোক, জমিদার বাড়ি থেকে আবার রিকশায় করে সোজা চলে আসবেন একরামপুর। একরামপুর ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দান।
৩০/- থেকে ৫০/- নিবে।

এখান থেকে সিএনজি স্ট্যান্ড যাবেন ২০/- টাকায়। সেখান থেকে চামড়া বন্দর। চামড়া বন্দর থেকে নৌকা/ট্রলার নিয়েছিলাম ৮০/- থেকে ১০০/- টাকায়।
বালিখোলা যাই। এখানেই বালিখোলা হাইওয়েটা পাবেন, যেটা হাওড়ের মাঝ দিয়ে চলে গেসে।

বালিখোলা থেকে ৮০/- টাকা ভাড়ায় আরেকটা ট্রলারে করে বুসাকান্দা যাই, বুসাকান্দা থেকে মরিচখালী। মরিচখালী নেমে মরিচখালী বাজার যাই রিকশায় ২০/- টাকায়। সেখান থেকে সিএনজিতে নিকলী উপজেলা পরিষদ। ২০০/- টাকা ভাড়া নেয়।
সেখান থেকে বেড়িবাঁধ বললেই নিয়ে যাবে।
একদম শেষ পর্যন্ত যাবেন।

আমরা দুইজন গিয়েছিলাম বলে একটু কম্প্রোমাইজ করে চলতে হয়েছে। এই যেমন, নিজেরা আলাদা ট্রলার ভাড়া করিনি। একটা যাত্রীবাহী ট্রলারে উঠে পড়েছিলাম। ওরা এই গ্রাম ওই গ্রাম, এই বাজার সেই বাজার ঘুরতে ঘুরতে গেসে, আমরাও সেসব দেখতে দেখতেই গেসি। তবে আমার কাছে ব্যক্তিগতভাবে ভালোই লেগেছে ব্যাপারটা। নদীর পাড়ের জীবনযাত্রা দেখবার সুযোগ হয়েছে। ছেলেবেলায় গল্প শুনতাম আগে নাকি বাড়িতে বাড়িতে একটা করে নৌকা থাকতো। নৌকায় করেই তারা সবসময় আসা-যাওয়া করতো। সেটা নিজ চোখে দেখলাম।
ভালোই লাগছিল পুরোটা সময়।

সারাদিন ট্রলারে ট্রলারে ঘুরেছি বলে বেড়িবাঁধে গিয়ে আর পানিতে নামিনি। চোখের দেখাই দেখে এসেছি।
ইচ্ছে আছে পরেরবার গেলে সেখানেও নামবো, আর ওইপাড়ে রাষ্ট্রপতির বাড়ি থেকেও ঘুরে আসবো।

আমার মত যাদের ঘুরবার সঙ্গী সাথী নাই, কোনোরকমে একজন দুইজন ম্যানেজ করেই বেরিয়ে পড়েন, এটা তাদের জন্য।
গ্রুপ করে গেলে এত ভেঙ্গে না গেলেও চলবে।
সেক্ষেত্রে কিশোরগঞ্জ শহরে নেমেই সিএনজি নিয়ে সোজা চলে যেতে পারেন নিকলী। (আমরা এভাবেই ফিরে আসছি।) সহজও হল, সময়ও বাঁচলো। আবার অনেক মানুষ থাকলে একটা ট্রলার নিয়ে নিলেন। ইচ্ছেমত ঘুরতে পারলেন।
এই আর কি! ☺

তবে ঘুরতে গিয়ে নিজেদের এবং সুন্দর পৃথিবীর কথা চিন্তা করে আমরা যেন যত্রতত্র ময়লা না ফেলি। বিশেষ করে প্লাস্টিক এবং বোতল। সুন্দরকে দেখতে গিয়ে সুন্দরকে যেন নষ্ট না করে ফেলি।
এ ব্যাপারে সবাই একটু খেয়াল রাখি।

সবার ভ্রমণ সুন্দর হোক।
ধন্যবাদ।

Source:  Sumaiya Tabassum‎<Travelers of Bangladesh (ToB)