Archives

স্থানের তথ্য (Place Information)

18 Jan 2020

১. বিখ্যাত যশোর রোড

২.যশোর জেলার গদখালি,ঝিকরগাছা “দেশের সর্ববৃহৎ ফুল বাগান ও মার্কেট”

৩. “ঝাঁপা বাঁওড়ের উপর ভাসমান সেতু”

৪. মধুসূদন দত্তের বাড়ি

৫. কপোতাক্ষ নদ

৬. যশোর শহর

# বোনাস হিসেবে

১. ২১-২৮ জানুয়ারি বিশাল মধু মেলা
২. ফ্রেশ খেজুরের রশ

#যেভাবে_যাবেন :

১. ঢাকা থেকে রাতের বাসে বা ট্রেনে বেনাপোল। ভাড়া ৪৮০-১২০০ টাকা।

২. বেনাপোল থেকে যশোরের বাসে যশোর রোডের সৌন্দর্য দেখতে দেখতে কখন যে গদখালী এসে পরবেন তা টের ই পাবেন না। ভাড়া ২০ টাকা।

৩. বাস থেকে নেমেই দেখবেন ভ্যান আছে। ওরাই আপনাকে বলবে ফুল বাগান যাবেন কিনা। ভাড়া ১০ টাকা।

ফুল বাগান ঘোরাঘুরি শেষে ভ্যানে করে আবার গদখালি চলে আসুন।

৪. এবার বাসে করে পোলেরহাট নামুন। ভাড়া ২০টাকা।
পোলেরহাট থেকে বাসে করে রাজগঞ্জ নামবেন।বাসের কন্টাক্টরকে বলে রাখবেন আপনি ভাসমান সেতু দেখতে আসছেন তাহলে আপনাকে ঠিক গন্তব্যস্থানেই নামিয়ে দেবে। ভাড়া ৩৫টাকা।

অথবা, ইজি বাইকে ১০ টাকা দিয়ে ঝিকড়গাছা। সেখান থেকে ৫০ টাকা দিয়ে বাইকে রাজগঞ্জ ভাসমান সেতু।

সেতুতে উঠার আগেই ৫টাকা দিয়ে টিকেট নিতে হবে। টিকেট টা আপনার কাছেই রেখে দিন।এবার যতক্ষণ খুশি এখানে ঘুরুন। ঝাঁপা বাঁওড়ের পানি এতই স্বচ্ছ যে মাছের চলাচল দেখা যায়। চাইলে নৌকা দিয়ে বাওড় ও ঘুরতে পারেন।

৫. এরপর বাইকে করে মাইকেল মধুসূদনের বাড়ি ১০০ টাকা দিয়ে।

মাইকেলের বাড়ি, মেলা আর কপোতাক্ষ নদের পাড়ে সময় কাটিয়ে চলে আসুন রাজগঞ্জ।

৬.রাজগঞ্জ থেকে বাসে করে চাঁচড়া নামুন।ভাড়া ৩৫ টাকা। চাঁচড়া থেকে শহর/ জংশন ভাড়া ১০ টাকা।

৭. যশোর শহর ঘুরে রাতের বাসে বা ট্রেনে ঢাকা।

#খাওয়া_দাওয়া

১. জামতলার মিষ্টি
২. গদখালীর ছানা
৩. রাজগঞ্জ যাওয়ার পথে খেজুরের রশ

খরচ সর্বমোট: ২০+১০+৬০+০৫+২০০+৩৫+১০=৩৪০ টাকা

আপনার অবস্থান থেকে যশোর আপডাউন খরচ ও খাবারের খরচ ৩৪০ এর সাথে যোগ করে নিবেন।

(খাবারের প্যাকেট যত্রতত্র না ফেলা এবং স্থানীয় গাছগাছড়া ও পাখির ক্ষতি যাতে না হয় সেদিকে খেয়াল রাখার অনুরোধ রইলো। বিশেষ করে গ্রামের মানুষের তৈরি ব্রিজের যেন ক্ষতি না হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখবেন।)

Source: Tanjil Tuhin‎>Travellers Of Bangladesh

15 Jan 2020

বিশাল এলাকা জুড়ে এই বনে আছে বন মোরগ,হরিণ,ভাল্লুক,বিভিন্ন প্রজাতির সাপ,বানর সহ আরো কয়েক প্রজাতির পশুপাখি।প্রকৃতিপ্রেমি আর ফটোগ্রাফার দের জন্য আদর্শ একটি যায়গা।সাথে দক্ষিন এশিয়ার সর্ববৃহৎ সুরমা চা বাগান দেখা। বনে ঘুরার জন্য ৩ টি ট্রেইল রয়েছে।
আধ ঘন্টার ট্রেইলঃ- আধা ঘন্টার এই ট্রেইলে বনের ভিতর অবস্থিত গ্রাম টিপড়া পাড়া তে যাওয়া যায়।
এক ঘন্টার ট্রেইলঃ- ১ ঘন্টার এই ট্রেইলে কয়েক প্রজাতির পশু-পাখি দেখা যায়।
তিন ঘন্টার ট্রেইলঃ- আগরের বন আর বিভিন্ন রকম উদ্ভিদ-পশুপাখির দেখার জন্য এই ট্রেইল আদর্শ।

আমরা এক ঘন্টার ট্রেইলে গিয়েছিলাম।পরে দেখি হাতে অনেক সময় ই ছিলো!কারণ ৩০-৪০ মিনিটেই ট্রেইল শেষ।তাই আফসোস করেছিলাম তিন ঘন্টার ট্রেইলে না যেয়ে। আমরা অবশ্য একটি সাপ,বন মুরগী,বানর আর পাখি দেখতে পেয়েছিলাম।তবে আমাদের কয়েকজনের পূর্বে ট্রেকিং এর অভিজ্ঞতা থাকায় ভালোই লেগেছে।খুব ভোরে আর সন্ধ্যায় নাকি হরিণের দেখা মিলে।এক ঘন্টার ট্রেইল মনে করি তিন ঘন্টার ট্রেইল টি অনেক এডভেঞ্চারাস হবে।সাতছড়ি উদ্যানে ঢুকতেই একটি ওয়াচ টাওয়ার আছে!অবশ্য ভুলে সেটাতেই উঠা হয়নি।প্রকৃতিপ্রেমিদের জন্য অসাধারণ একটা জায়গা।উদ্যান প্রবেশ গেটের উল্টো পাশেই রয়েছে গত বছর চালু হওয়া ট্রি এক্টিভিটি। জন প্রতি ১০০ টাকায় এই ট্রি এক্টিভিটি করতে পারবেন।মোট ৫ টি স্টেপ আছে!আমরা ছিলাম ৬ জন।একজন বাদে আমরা সবাই সবগুলোই কম্পলিট করেছিলাম।এটার অভিজ্ঞতা টা অসাধারণ মূলত যাওয়ার উদ্দেশ্যেই ছিলো ট্রি এক্টিভিটি।

এরপর উদ্যান থেকে বের হয়ে ১-২ মিনিট দূরেই একটি দোকান।দারুন একটা ডিমমুড়ি বানায়।আর ৫-৭ মিনিট দূরেই আছে দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে বড় সুরমা চা বাগান।সেটাও ঘুরে দেখবেন। নোয়াপাড়ায় লাঞ্চ করার পরেও দেখি ট্রেন আসতে ২ ঘন্টা বাকি ঠিক তখনি ৪ঃ২০ এ সিলেটের উদ্দেশ্য যাবে জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস স্টেশনে হাজির।আমাদের টিকেট শায়েস্তাগঞ্জ পর্যন্ত করাই ছিলো ব্যাস উঠে গেলাম শায়েস্তাগঞ্জ পর্যন্ত আধ ঘন্টার আরেকটা ট্রেন জার্নি। ৫ঃ৫০ এর ট্রেন ২০ মিনিট লেট এ ৬ঃ১০ এ আসে শায়েস্তাগঞ্জ সেখান থেকেই উঠে চলে আসি বিমানবন্দর স্টেশন।

সতর্কতা

➤ গাইডের ভাষ্যমতে ৩ ঘন্টার ট্রেইলে উনি নিজেও মাঝেমধ্যে রাস্তা ভুলে যায়।কারণ কিছুদূর যাওয়ার পর রাস্তা ভাগ হয়ে যায়।গাইডে সাথে আমাদের একজন একটু বেশি এগিয়ে যাওয়ায় আমরাও কোনদিকে যাবো সেটা ধরতে পারছিলাম না।আর বনে সাপ সহ বেশ কিছু হিংস্র প্রানী থাকায় গাইড নেওয়াই উত্তম।

➤ এবার শীতে নাকি ২-৩ জন ছেলে মেয়ে রাস্তা ভুল করে সারারাত বনেই কাটাইছে পরেরদিন খুজতে খুজতে একরাস্তা দিয়ে বের হতে পারছিলো।

➤ আর বনের ভিতর কোনো গাছে হাত দেওয়ার আগে ভালো করে দেখবেন কারণ আমাদের একজন ট্যুর মেট ছবি তুলতে গাছের সামনে দাড়াইছিলো হটাৎ দেখি লাফ দিছে আর একটা সবুজ লম্বা সাপ দ্রুত আরেক গাছে গেলো!এমন ভাবে ছিলো বুঝার উপায় নাই এখানে একটা সাপ আছে!গাছের পাতার রঙয়ের সাথে মিশে যায়।গাইড সাপের নামটা বলছিলো খেয়াল নাই।খুব বিষাক্ত নাকি আর সেখানে ভ্যাক্সিন এর ব্যবস্থাও নাই কামড়ালে সিলেট নেওয়ার আগেই নাকি মারা যাবে।তাই সতর্ক থাকা প্রয়োজন।

➤ ট্রি এক্টিভিটির ১ম ২ টা ধাপ ই কঠিন।বাকি গুলো পার করা সহজ ই তুলনামূলক।তবে ভয় পেলে পারবেন না।আমাদের ৬ জনের মধ্যে একজন ২য় ধাপেই পড়ে গেছিলো।২য় ধাপ টাই সবচেয়ে কঠিন ওজন বেশি হওয়ায় কাঠের সিড়ি গুলো অনেক নাড়াচাড়া করছিলো!এক পর্যায়ে বেশি ভয় পেতে হাত ছেড়ে দেয়।শরীরের বেল্ট ক্যাবলের সাথে বাধা থাকে বিধায় যদি পড়েও যান তাও ক্যাবলের সাথে ঝুলবেন নিচে পড়বেন না। পড়ে মই দিয়ে ওরে নামানো হইছিলো।তাই উঠার আগে যদি মনে হয় পারবেন তাহলেই করবেন।তবে যার করেছেন আশা করি ভালোই এডভেঞ্চারাস ফিল পাইছেন।অসাধারণ একটি এক্টিভিটি।

➤ সিএনজি/অটো যাই ভাড়া করেন না কেনো অনেক দামাদামি করে নিবেন।ট্যুরিস্ট দেখলেই এরা অনেক ভাড়া চায়।আর কোথায় কোথায় ঘুরবেন সবকিছু আগেই বলে রাখবেন।

➤ ট্রেনের জানালা বন্ধ রাখবেন সিলেট থেকে ঢাকাগামী ট্রেনে চুরি হওয়া আর পাথর মারা এটা নিত্যদিনের ব্যাপার।আমাদের বগিতেও একজন মহিলার ব্যাগ ছাদের থেকে টান দিয়ে নিয়ে গেছে।আর জানালা গ্লাসে পাথর মারা তো আছেই।যেকোনো দূর্ঘটনাই ঘটতে পারে।তাই সাবধান থাকা দরকার।

➤ যাওয়ার আগে গ্রুপে কিছু পোস্টে দেখলাম অনেক গাইড আছে দামাদামি করে নিবেন! আসার সময় গাড়ি পাওয়া যায় না তাই রিজার্ভ সিএনজি/অটো নেওয়া ভালো।

কিন্তু প্রকৃতপক্ষে গাইড একজন ই আর তার দোকান আছে সেখানে তাকে ডেকে আনতে হয় কারো গাইডের দরকার পড়লে।কারণ সেখানে কোনো সিমের নেটওয়ার্ক নাই যে কল দিবে।আর ট্রি এক্টিভিটি টাও ওই গাইডের নিজের করা।গাইড না লাগলেও ট্রি এক্টিভিটির জন্য উনাইকেই আনতে হবে।আর এখন গাড়ি ও এভেইলেবল।

➤ সাতছড়িতে কোনো সিমের ই নেটওয়ার্ক পাওয়া যায় না।মাঝমধ্যে কিছু যায়গায় পাওয়া যায়।
➤ পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি সাথে নিবেন বনের ভিতর কোথাও পানি পাবেন না
➤ এর আশেপাশে চাইলে চুনারুঘাট এর গ্রীনল্যান্ড পার্কে যেতে পারেন! তবে আগে গ্রীনল্যান্ড পার্ক যেয়ে পড়ে সাতছড়ি ঘুরলে ভাড়া কম পড়বে।নাহলে খরচ ও দুইটাই যাবে।আমরা অবশ্য যাইনি।গাইড বললো এতো ভাড়া দিয়ে যাওয়ার মতো সুন্দর না। নোয়াপাড়া থেকে ড্রীমল্যান্ড পার্ক সিএনজি ভাড়া ১০০০-১২০০ টাকা চায় আমাদের ড্রাইভার মামা বললো।

যেভাবে যাবেনঃ

ঢাকা বিমানবন্দর স্টেশন থেকে সকাল ৭ঃ১০ এ পারাবত এক্সপ্রেস (কমলাপুর থেকে ৬ঃ৩৫) সিলেটের উদ্দেশ্য ছেড়ে যায়।সাতছড়ি যেতে হলে নামতে হবে নোয়াপাড়া স্টেশন।সকাল ১০ টার মধ্যেই পৌঁছে যাবেন।স্টেশনে নেমে প্লাটফর্মে বিপরীত পাশেই নোয়াপাড়া বাজার সেখান থেকে সিএনজি/অটোতে সরাসরি সাতছড়ি যেতে পারবেন।চাইলে শায়েস্তাগঞ্জ স্টেশনেও নামতে পারেন সেখান থেকে চুনারুঘাট সিএনজি/অটোতে সেখান থেকে বাসে সাতছড়ি।আমরা নোয়াপাড়া স্টেশনেই নেমেছিলাম। আসার সময় একি ভাবে সিএনজি /অটোতে নোয়াপাড়া বাজার স্টেশন।সেখান থেকে বিকাল ৫ঃ৫০ এ শায়েস্তাগঞ্জ অথবা ৬ঃ২০ এ নোয়াপাড়া থেকে পারাবত এক্সপ্রেস ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসে।৯ঃ৩০ এর মধ্যেই এয়ারপোর্টে পৌঁছে যায়।

খরচঃ

ঢাকা থেকে ট্রেনে নোয়াপাড়া /শায়েস্তাগঞ্জ ২১৫ টাকা টিকেট।তবে সিট পেতে হলে সিলেটের টিকেট ই কাটতে হবে নইলে কাউন্টার থেকে বলে সিট নাই!আর যাওয়ার দিন সকালে টিকেট কিনতে গেলে বিশাল লাইন পাবেন!!!টিকেট পেতে দূর্ভোগ পোহাতে হবে।

ট্রেনে নোয়াপাড়া / শায়েস্তাগঞ্জ – ২১৫ টাকা।
নোয়াপাড়া থেকে সিএনজি ৩৫০ টাকা (মূল ভাড়া ২৫০ + ১০০ টাকা অপেক্ষার জন্য অতিরিক্ত দিয়েছিলাম)
ট্রি এক্টিভিটি – জনপ্রতি ১০০ টাকা
গাইড খরচ – ৩০০ টাকা (১ ঘন্টার ট্রেইল)( ৩ ঘন্টার টা ৭০০ টাকা)
সাতছড়ি তে এন্ট্রি টিকেট স্টুডেন্ট কার্ড থাকলে ১৫ টাকা (এমনিতে ২৫ টাকা)
আসার সময় অটোতে ৩০০ টাকা (সুরমা চা বাগান ঘুরে স্টেশন পর্যন্ত) চা বাগানে না গেলে আরো কমে পাবেন।
আসার সময় টিকেট স্পনসর পাওয়াতে আর নিজেদের পকেট খরচা হয় নি।
দুপুরের লাঞ্চ এছাড়া খাবার খরচ যার যার খরচের উপর নির্ভর করে তাই সেটি দিলাম না।
আমাদের জনপ্রতি ৬৮০ টাকার মতো পড়েছে খাবার খরচ সহ

Source: https://chutitravelgroup.com/blog-details/satchari-national-park?

14 Jan 2020
স্বল্প খরচে যারা ইন্ডিয়া ঘুরা এবং কেনাকাটা করতে চান তাদের জন্য আগরতলা হতে পারে বেস্ট ডেস্টিনেশন।
থাকা খাওয়া এবং খরচপত্র পোস্টের প্রাসঙ্গিক অংশে আলোচনা করা হয়েছে।
ঢাকা থেকে ভারতের সবচেয়ে কাছের রাজ্য ত্রিপুরা। ত্রিপুরার রাজধানী শহর আগরতলা।
আগরতলা থেকে ডোমেস্টিক ফ্লাইটে ভারতের প্রায় সব গন্তব্যে কম খরচে ভ্রমণ করা যায়। (আগরতলা থেকে ১৮০০* রুপিতে মাত্র ৫০ মিনিটে বিমানে কলকাতা যাওয়া যায়) যেখানে ঢাকা থেকে ভাল মানের বাসে কলকাতা গেলে সারারাত এবং দিনের অর্ধেক সময় নষ্ট হয় এবং ভাড়া ১৬০০/১৮০০ টাকা লাগে।
যাই হউক, এটা নিয়ে (কেউ জানতে চাইলে) অন্যকোন দিন অন্য কোন পোস্টে কথা হবে।
যাত্রাঃ
=====
ঢাকা থেকে মহানগর প্রভাতি ট্রেনে(৭.৪৫) যাত্রা শুরু করলে সকাল ১১টার মধ্যে আখাউড়া রেলওয়ে জংশনে নামিয়ে দিবে। ভাড়া ১৬০ টাকা।
সেখানে সকালের নাস্তা সেরে নিয়ে অটোরিকশা অথবা সিএনজিতে করে চেকপোস্ট চলে যাবেন। ভাড়া নিবে সিএনজি জনপ্রতি ২৫/৩০ টাকা। রিক্সা ৫০/৬০ টাকা।
চেকপোস্টে ট্রাভেল ট্যাক্স দিয়ে ইমিগ্রেশন অফিসের কাজ শেষ করে ঢুকে পরুন ভারতীয় সীমান্তে। সেখানেও সব কাজ শেষ করে ভারতে প্রবেশ করুন।
বিঃদ্রঃ দুই ইমিগ্রেশনের কোন প্রান্তেই কাউকে কোন এক্সট্রা মানি/স্পিড মানি দিবেন না।
গেটে থেকে দুই মিনিট পথ এগুলেই মানি এক্সেঞ্জার পাবেন কিন্তু এখানে রেট অনেক কম দেয়। বেটার শহরে গিয়ে রুপি এক্সচেঞ্জ করা।
গেট থেকে বের হলেই আটোরিক্সা এবং রিক্সা পেয়ে যাবেন। দরদাম ঠিক করে উঠে পরুন।
কোথায় থাকবেনঃ
==============
রিক্সা নিয়ে চলে যান “হরি গঙ্গা বাসক রোড” অথবা “ফায়ার বিগ্রেড চৌমুনি” অথবা “পোস্ট অফিস চৌমুনি“। ভাড়া নিবে ৪০/৫০ রুপি।
বিগ বাজার থেকে শুরু করে সব শপিং মলসহ থাকা এবং খাওয়ার সব হোটেল এর আসেপাশেই পাবেন।
এই রোডে Hotel Somraj Regency, Hotel Sonar Tori সহ আরো অনেক হোটেল পাবেন। ৮০০ থেকে ১৫০০ রুপির মধ্যে এসি/ননএসি রুম পেয়ে যাবেন। সেখানে পছন্দ না হলে আসে পাশে আরো কয়েকটা হোটেল দেখে নিতে পারেন।
কি কি দেখবেন!
============
হেরিটেজ পার্কঃ
============
হোটেল থেকে নেমে একটা আটো নিয়ে হেরিটেজ পার্কে চলে যান। ভাড়া নিবে ৮০/১০০ রুপি। পার্ক এন্ট্রি ফি ২০ রুপি।
অনেক দেশি বিদেশি গাছপালা এবং ত্রিপুরার বিখ্যাত সব যায়গা সমুহের মিনিয়েচার দিয়ে এই পার্কটি তৈরী করা হয়েছে।
প্রাকৃতিক পরিবেশ এবং ত্রিপুরার সব ঐতিহ্য একনজরে দেখে ভাল লাগবে আশা করি।
হেরিটেজ পার্ক সকাল ১০টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত খোলা থাকে।
উজায়ন্ত প্যালেসঃ
============
এটি মুলত একটি মিউজিয়াম। তবে এটা আমদের ঢাকা মিউজিয়ামের মত এত বেশি সমৃদ্ধ না।
এই মিউজিয়ামের একটা অংশে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ, সেসময়ের প্রকাশিত পত্রিকা এবং মুক্তিযুদ্ধের অনেক ছবি আছে যেটি দেখলে আপনার অনেক ভাল লাগবে।
উজায়ান্ত প্যালেস এর ভিতর থেকে বাহিরের অংশ বেশি সুন্দর। এর নির্মান শৈলী, খোলা মাঠ, প্রশস্থ বাগান, পানির ফোয়ারা সব কিছু আপনার নয়ন কেরে নিবে।

উজায়ন্ত প্যালেসে সকাল ১০টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত খোলা থাকে।

উজায়ন্ত প্যালেসে প্রবেশ ফি স্থানীয়দের জন্য ২০ রুপি আর ফরেনারদের জন্য ১০০ রুপি।
টিপসঃ টিকেট কাটার সময় যদি দুই এক লাইন হিন্দি বলতে পারেন তাহলে ২০ রুপিতেই টিকেট নিতে পারবেন। 😉
আত্মবিশ্বাসের সাথে বলবেন “দু টিকিট দি জিয়ে
মানে দুটি টিকিট দিন! 😁
তবে আত্মবিশ্বাসের সাথে বাংলায় বললেও হবে কিন্তু বাংলাদেশি বুঝতে পারলে আর ২০ টাকায় দিবে না 😏
দ্বিতীয় দিন
========
দ্বিতীয় দিন হোটেল থেকে চেক অউট করে আগরতলা থেকে দূরের গন্তব্যগুলো (সিপাহিজলা অভয়ারণ্য, উদয়পুর এবং নীরমহল) দেখে আসতে পারেন।
স্থানীয় বাসে যেতে পারেন অথবা ডিরেক্ট গাড়ি রিজার্ভ করেও নীরমহল যেতে পারেন। রাজবাড়ির(উজায়ান্ত প্যালেস) সামনে অথবা মটর স্ট্যান্ড থেকে গাড়ি রিজার্ভ করতে পারবেন। সারাদিনের জন্য ১৫০০ থেকে ২০০০ টাকা নিবে।
গাড়ি রিজার্ভ করে গেলে ড্রাইভার কে বলে রাখবেন বিকেল ৫টার আগে যেন চেকপোস্টে নামিয়ে দেয় (যদি সেদিন দেশে ফেরত আসেন)
সন্ধ্যা ৭টায় আখাউরা থেকে মহানগর গোধূলি ট্রেনে ঢাকা ফেরত আসতে পারবেন।
সিপাহিজলা অভয়ারণ্যঃ
===================
আগরতলা থেকে মাত্র ২৫ কিমি দূরে সিপাহিজলা অভয়ারণ্য, অনেকটা মৌলভীবাজারের লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের মতো। আগরতলা থেকে সিপাহিজলা যাবার পথটি বেশ রোমাঞ্চকর।
উদয়পুরঃ
=======
আগরতলা থেকে দূরত্ব ৫৫ কিলোমিটার। অমরসাগর, জগন্নাথ দিঘি, মহাদেব দিঘি ইত্যাদি সুদৃশ্য জলাশয়ের জন্য উদয়পুর বিখ্যাত। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের জন্য যায়গাটি প্রায় তীর্থস্থানের মত।
নীরমহলঃ
========
আগরতলা শহর থেকে ৫০ কিলোমিটার দুরে অবস্থিত নীরমহল। যেতে সময় লাগবে ১.৩০ ঘন্টা।
রুদ্রসাগরের বিশাল জলরাশীর মাঝখানে মুসলিম স্তাপত্য রিতীতে তৈরি করা এই মহলটি দেখতে অনেক বেশি সুন্দর। ৩০ রুপির টিকেট কেটে ট্রলারে করে মহলে যেতে হয়।
কোথায় কেনাকাটা করবেনঃ
====================
আগরতলায় Addidas, Skechers, UCB, Woodland, Fastrack সহ প্রায় সব নামকরা ব্র‍্যান্ডের শোরোম আছে।
কাপড় চোপড় কেনার জন্য
১. কলকাতা বাজার
২. বিগ বাজার
৩. মেট্রো শপিং কমপ্লেক্স সহ আরো অনেক দোকান আছে।
কসমেটিকস এবং অলংকার কেনার জন্য ওভারসিজ মার্কেট। (গায়ের দাম থেকে ৫ থেকে ৭% কম রাখবে।)
চকলেট, বিস্কিট, বাদাম পাইকারি দরে কেনার জন্য গুলবাজার(নেতাজি চৌমুনি)।
স্টিল, তামা কাসার তৈজসপত্রের জন্য কাসারি পট্টি
মোবাইল ও ইলেকট্রনিকস কেনার জন্য মেলার মাঠ
🙏 ময়লা আবর্জনা যেখানে সেখানে না ফেলে সেগুলো নিজের কাছে সংরক্ষণ করবেন। পরে নির্ধারিত যায়গায় সেগুলো ফেলে দিবেন। প্রকৃতিকে ভালোবাসুন। প্রকৃতি রক্ষায় এগিয়ে আসুন।
13 Jan 2020

হেডলাইন পড়েই হয়তো ভাবছেন ভূল করে কুড়িগ্রামের স্থানে কুষ্টিয়া লিখেছি। চিলমারী বলতে সবাই কুড়িগ্রামের চিলমারীকেই বুঝে। আমি আপনাদেরকে চিলমারীর কথাই বলছি তবে সেটা কুড়িগ্রামের নয়, কুষ্টিয়ার চিলমারী।

কুষ্টিয়া জেলার দৌলতপুর উপজেলার ভারতীয় সীমান্তে পদ্মার বুকে অবস্থিত এই চর। এই চরে গেলে আপনি প্রাচীন বাংলাদেশের অস্তিত্ব প্রতিটি মুহুর্তে অনুভব করবেন। স্থানীয়দের সহজ সরল জীবন ব্যাবস্থা, রাস্তাঘাট, বাড়ী সবখানেই আপনি প্রাচীন বাংলার অস্তিত্ব পাবেন। ফিরে যাবেন প্রাচীন বাংলার এক জনপদে।

দৌলতপুর উপজেলার ১৪ টা ইউনিয়ন এর একটা ইউনিয়ন হচ্ছে চিলমারী যার সম্পুর্ন টা পদ্মার বুকে অর্থাৎ পদ্মা নদীর বুকে জেগে উঠা একটা ভূখন্ড। চিলমারী গ্রাম প্রতিষ্ঠা পায় ১৮৫০ সালের দিকে। তারপর সময়ের সাথে সাথে চর বাড়তে থাকে, বাড়তে থাকে গ্রাম। পরে সেটা একটা পূর্নাঙ্গ ইউনিয়নে রূপ নেয়।

আমার দাদুর বাড়ী দৌলতপুর উপজেলাতে হওয়ায় আমি দৌলতপুর থেকে সরাসরি বাইক নিয়ে গিয়েছিলাম। তবুও যারা দুরে থেকে যেতে চান তাদের নিয়ম টা বলে দিচ্ছি।

ঢাকা থেকে বাসে সরাসরি কুষ্টিয়ার প্রাগপুর যাবেন। সকাল এবং রাতে ২-৩ টা অপারেটর এর বাস যায়। এসি ও নন এসি বাস পাবেন। সার্ভিস খুব খারাপ না হলেও সরাসরি প্রাগপুরের উদ্দেশ্যে বাস সংখ্যা খুবই কম পাবেন। প্রাগপুর থেকে সরাসরি অটোতে করে মহিশকুন্ডি যাবেন।

ঢাকা থেকে যারা আরামে যেতে চান সরাসরি ভেড়ামারা যাবেন। এবং ভেড়ামারার উদ্দেশ্যে বাস প্রতিঘন্টায় কল্যানপুর ও গাবতলি থেকে ছেড়ে যায়। এসি ও নন এসি উভয় বাস পাবেন। বাসের মধ্যে রয়েছে এসবি সুপার ডিলাক্স, হানিফ, শ্যামলী, জে আর, সুপার সনি, বিআরটিসি উল্লেখযোগ্য। ভাড়া গাড়িভেদে ৪০০-১২০০ পর্যন্ত। সবচেয়ে ভালো এসবি।

অথবা ট্রেনে করে বেনাপোল এক্সপ্রেস, সুন্দরবন এক্সপ্রেস, ও চিত্রা এক্সপ্রেস এ সরাসরি ভেড়ামারা নামবেন।

ভেড়ামারা থেকে বাসে মহিষকুন্ডী যাবেন, ভাড়া ৩০ টাকা। মহিষকুন্ডী বাজারে নেমে মহিষকুন্ডি বিজিবি ক্যাম্পে ইনফরমেশন দিয়ে যাবেন। যেহেতু বর্ডার এলাকা, এবং পর্যটন এলাকা না হওয়াতে আপনাকে সন্দেহভাজন হিসেবে বিবেচিত করতে পারে।

তারপর মহিষকুন্ডি থেকে অটোতে করে মুন্সিগঞ্জ ঘাট, ভাড়া ১৫-২০ টাকা। সেখান থেকে নৌকাতে করে মূল চর।

শীত মৌসুমে গেলে মুন্সিগঞ্জ ঘাট থেকে বাশের সাকোতে (ফরাস) করে চিলমারী চরে যেতে পারবেন।

চিলমারী চর একটা ইউনিয়ন। চিলমারী চরে পুরোটাই মাটির রাস্তা। সুতরাং চরের মধ্যে যোগাযোগ ব্যাবস্থা কি হবে বা কিভাবে ঘুরবেব সেটা একটা প্রশ্ন। মুন্সিগঞ্জ ঘাটে বাইক পাবেন। তাদের সাথে দিন চুক্তি বা ঘন্টা চুক্তিতে বাইক ভাড়া করে নিবেন অথবা ঘাট পার হয়ে বাইকে করে চরের বাংলাবাজার কিংবা চিলমারী গ্রামে যাবেন। ভাড়া নেবে ৮০-১০০৳। দরদাম করে নিবেন। বাংলাবাজার বা চিলমারী নেমে ভ্যান ও ঘোড়ার গাড়ি পাবেন। যারা ধীরে সুস্থে চরটা দেখতে চান তাদের জন্য বেস্ট অপশন পরের টা।

এবার আসি চরের বর্ননায়। দেখার মত স্পেসিফিক কোন উল্লেখযোগ্য যায়গা নেই। কিন্ত এখানকার পরিবেশ, জীবনব্যাবস্থা, এতই সহজসরল এবং সাদামাটা যা আপনাকে মুগ্ধ করবে এবং নিশ্চিত আপনায় মায়ার বাধনে বেধে ফেলবে।

শুরুতে চরে প্রবেশপথে আমরা পেয়েছিলাম হলুদ শুভেচ্ছা। চরে নামতেই যতদুর চোখ যায় শুধু সরিষার ক্ষেত। সরিষার ক্ষেতের মধ্য দিয়ে চলে গেছে রাস্তা (ভিডিও)। সরিষা ক্ষেতের মধ্যে দিয়ে কিছুদুর যাবার পর রামকৃষ্ণপুর বিজিবি ক্যাম্প পাবেন। যেহেতু চরে থাকার জন্য কোন হোটেল নেই। সেহেতু থাকার জন্য তাবু করে থাকতে হবে। সেক্ষেত্রে বিজিবি ক্যাম্পে অনুমতি নিয়ে তাবু করতে পারবেন। আমরা তাবু করিনি, আমাদের এক পরিচিতার বাসায় ছিলাম।

বিজিবি ক্যম্প থেকে বের হয়ে কিছুদুর গেলেই ইন্ডিয়া বাংলাদেশ সীমান্ত যা পদ্মানদী দ্বারা বিভক্ত উভয় দেশ। সেখানে সুন্দর একটা মুহুর্ত কাটিয়ে দিতে পারবেন। নদীর ওপারে ভারতীয় মানুষ দেখতে পারবেন, তাদের রাস্তা দিয়ে চলাচল করা যানবাহন স্পষ্ট দেখতে পারবেন৷

তারপর আমরা গেলাম বগমারি বাজার। ছোট্ট বাজার। স্কয়ার সাইজের বাজার। গোটা বিশেক দোকান চারিদিক দিয়ে ঘিরে একটা স্কয়ার শেপ করেছে। ওখানে আমরা চা খেলাম। আমাদের কথাবার্তা এবং চালচলন দেখে বাজারের স্থানীয় রা যখন বুঝলো যে আমরা বহিরাগত তখন তাদের কত কৌতূহল ও আন্দরিকতা সেটা লিখে প্রকাশ করতে পারার ক্ষমতা আমার নাই। কারন শুধু ভ্রমনের জন্য কেউ এতদূর থেকে এখানে এসেছে এটা তাদের চোখে অবিশ্বাস্য। একজন মাঝবয়েসী মুরুব্বি সাথে বেশ খাতির হয়ে গেলো, উনি কিছুতেই আমাদের চায়ের বিল দিতে দিলেন না।

চিলমারী চরের মধ্যে বাংলাবাজারে আপনি পাবেন ভারতীয় পন্যের সমাহার। মোবাইল থেকে শুরু করে বিভিন্ন ইলেকট্রনিকস যন্ত্র এবং থালাবাসন, শাড়ি, কসমেটিক পন্য সহ অনেক কিছুই পাবেন। দামও খুব সস্তা কারন পন্যগুলো সব চোরাইপথে আসা। তবে এখান থেকে পন্য না কেনাই ভালো কেননা চোরাপথ অবৈধ, তাই চোরাপন্য সহ আপনায় পেলে তারা আপনাকে চোরাকারবারি হিসবে বিবেচিত করবে।

এখানে খাবার হোটেল পাবেন। খুব উন্নতমানের খাবার আশা করা বোকামি। তবে যা যা খেতে চান বলে যাবেন ওরা রান্না করে দেবে। এইসব হোটেলে বল্লে ওরা স্থানীয়দের বাসায় থাকার ব্যাবস্থা করে দেন অনেকসময়।

সন্ধ্যার একটু আগে বাংলাবাজার থেকে সামান্য দুরেই বালুর নদীর পাশে বালুর চরে দারুন সময় কাটালাম। চারিদিকে শুধু বালু আর বালু। শ্বেতশুভ্র বালু। মনে হবে আপনি মরুভূমি চলে এসেছেন।

পরে একে একে চিলমারী, নতুন চিলমারী, চর ভবনান্দ দিয়ার, চল্লিশপাড়া, বাংলাবাজার, বাজুবাজার, পূর্ব ও পশ্চিম আমদানি ঘাট ঘুরে আসতেই সন্ধ্যা লেগে গিয়েছিলো। যেহেতু আমরা দুপুরে গিয়েছিলাম, এবং খুব ভালো লেগেছিলো বিধায় পরিচিত একজনের বাসায় থাকার সিদ্ধান্ত নিয়ে নিলাম।

চর ভবানন্দপুরে আমরা রাত্রি যাপন করি। সবচেয়ে ভালো মুহুর্ত টা রাতের জন্য অপেক্ষা করছিলো। সন্ধ্যা হয়ে গেলে সমগ্র বাংলাদেশ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এই চর ও চরে হাজার পচিশেক মানুষ। টাইম মেশিনে পিছিয়ে যাবে ৩০-৪০ বছর পূর্বে। আমরা রাতের খাবার খেয়ে পদ্মার পারে যাই। যানবাহনহীন এবং বিদ্যুৎহীন এক জনপদে নেই কোন শব্দ, নেই আলোর ঝলকানি বা চাকচিক্য। কিন্ত চাদের আলো, ফ্রেশ আকাশে অসংখ্য উজ্জল তারা, পদ্মার পানির ঢেউয়ের গর্জন আর সেই সাথে নদীর পার বেয়ে সরিষা ফুলের মৌ মৌ গন্ধ আপনাকে বিমোহিত করবে বারবার। সে এক স্বর্গীয় অনুভূতি। শুধু এই মুহূর্তটার জন্য বারবার এখানে আসতে মন চাইবে আপনার।

খুব সকালে ঘুম থেকে উঠে আমরা হাটতে বের হয়েছিলাম। ঠান্ডা ও হিমেল হাওয়ায় শরীরে কাপুনি দিলেও মন ভালো করে দিচ্ছিলো বক, কুয়াশা, পিপরার মত মানুষের মাঠে কাজে যাওয়ার মত দৃশ্য। চরের মাঝে ছোট বড় অনেক ক্যানাল চলে গেছে। বিধায় প্রচুর সাকো ও ডিঙ্গি নৌকা পাবেন। ডিঙ্গি নৌকাগুলোতে শুধুমাত্র একজনের ক্যাপাসিটি রয়েছে। আমি সাতার জানিনা বলে চড়িনি। কিন্ত আমার এক সাথী সে একটু চালিয়েছিলো ক্যানালে। চাইলে আপনিও চালিয়ে দেখতে পারেন স্থানীয় নৌকার মালিকের সাথে কথা বলে। সেক্ষেত্রে লাইফ জ্যাকেট থাকলে ভালো। কারন পদ্মার ঢেউ আর বিশালতা আপনার মনে ভয় ধরিয়ে দেবে মুহূর্তে মুহূর্তে। পরের দিনের ছবি উঠাতে পারিনাই। কেননা মোবাইলে চার্জ ছিলোনা।

আর এখানে আসলে অবশ্যই পদ্মার পানিতে গোসল করবেন। আমরা করিনি কিন্ত আগেরদিন দুপুরে পানি দেখে মনে হলো ইশ যদি গোসল করতে পারতাম।

আমরা যেখানেই গিয়েছি মানুষের সাথে দেখা হলে তারা আমাদের আন্তরিকতা দিয়ে সাহায্য করেছে, জানতে চেয়েছে, কথা বলেছে। ওদের আন্তরিকতার জন্য খুব ভালো লেগেছিলো এই চর।

আমরা সকালেই ওখান থেকে চলে এসেছিলাম। এমন সহজ সরল মানুষ, চরের ২৫-২৭ হাজার মানুষের যাদের সাথেই দেখা হয়েছে তারাই আন্তরিকতার সাথে ডেকেছে, প্রায় প্রতিটি বাসার উঠোন আমাদের সবার জন্য উন্মুক্ত, উন্মুক্ত ছিলো তাদের ভালোবাসা। সেই জনপদ ছেড়ে আসতে সারাক্ষণ সারাদিন মন ছিলো বিষন্ন। এই চরের মানুষের কথা মনে হচ্ছিলো বারবার। আর স্থানীয়দের ভালবাসার কথা নাইবা বল্লাম।

কিছু তথ্যঃ
কেউ হয়তো শুধুমাত্র এই চর দেখার জন্য সুদূর ঢাকা বা ঢাকার বাইরে থেকে আসবেন না। কিন্ত অনেকেই লালন মেলা বা শিলাইদহ দেখার জন্য কুষ্টিয়া আসেন। তারা চাইলে বাড়তি একটা দিন এখানে কাটাতে পারেন। তাদের জন্য পরামর্শ কুষ্টিয়া টার্মিনাল থেকে সরাসরি মহিষকুন্ডী বাস পাওয়া যায়। তারপর মহিষকুন্ডী থেকে যাবার বাকি নিয়ম আগের মতন। আমার বিশ্বাস কুষ্টিয়া জেলা ভ্রমনে গেলে এই চিলমারীর চর ভ্রমন হতে পারে আপনার কুষ্টিয়া জেলার মধ্যে অন্যতম সেরা মুহুর্ত।

ফেব্রুয়ারীর শেষ থেকে মার্চ পর্যন্ত যারা যাবেন তাদের জন্য সুখবর দিচ্ছি। এই চরের প্রচুর তামাক চাষ হচ্ছে। মার্চ মাসে তামাক পোড়ানো শুরু হয়। তামাক কিভাবে পোড়ানো হয় সেটা এখানে এলেই দেখতে পাবেন। আমরা এখানে এসে তামাকের ঘর তৈরী করা দেখছিলান। তামাক পোড়ানোর জন্য তামাক ঘরে টানা ৩-৪ দিন জ্বাল দেওয়া লাগে। এখানে উচু বিল্ডিং নেই, তাই মার্চ মাসের দিকে এলে রাতের বেলা চরের যেদিকেই তাকাবেন শুধু তামাক ঘরের চুলা দেখতে পাবেন। অভূতপূর্ব দৃশ্য। যদিও চরে এই দৃশ্য আমি দেখিনাই কিন্ত আমার দাদুর বাড়ী গ্রামে এই দৃশ্য দেখেছি। সেই অভিজ্ঞতা থেকে বলছি দারুন হবে।

চরে প্রচুর মহিষ আছে। যারা মহিষের দুধ খেতে চান তারা স্থানীয় বাথান এর মালিক কে বল্লেই তারা বিনামূল্যে খেতে দেবে আপনায়।

সতর্কতাঃ
এখানে বিদ্যুৎ ব্যাবস্থা নেই একেবারে। সৌর বিদ্যুৎ একমাত্র ভরসা। এবং প্রায় বাড়িতেই সৌর বিদ্যুৎ এর ব্যাবস্থা রয়েছে। যবার সময় পাওয়ার ব্যাংক থাকলে মোবাইলে চার্জ দিতে সুবিধা।

যেহেতু ওটা একদম বর্ডার এলাকা সুতরাং ঐ এলাকা খুবই সন্দেহজনক এলাকা। চলাফেরায় অসঙ্গতি পেলে সন্দেহভাজন হিসেবে আপনাকে বিজিবি আটকে দিতে পারে। তবে নিরাপদ ও নির্বিঘ্নে সেখানে থাকার জন্য আগেই মহিষকুন্ডি বিজিবি ক্যাম্পকে অবশ্যই ইনফো করবেন। তারা জানিয়ে দিবে মুন্সিগন্জ ক্যাম্প, বগমারি ক্যাম্পকে। যদি ইনফো করে না যান তাহলে যেকোন সময় ব্লাকার বা মাদক ব্যাবসায়ী বলে সন্দেহভাজন হতে পারেন। তবে বিজিবিকে ইনফো করলে কোন ইন্ডিয়ার পন্য আনতে পারবেন না। যদিও তল্লাশি করবে না তবুও নিরাপত্তার জন্য এগুলো না করাই ভালো।

এই চরের ৯৯% বাড়ি ঘর টিনের। অল্প কিছু মসজিদ ও বিদ্যালয়ের ইটের দালান রয়েছে। তাই শীতকালে একটু ঠান্ডা লেগেছিলো আমাদের ঘুমাতে।

যেহেতু চরের পুরোটাই মাটির রাস্তা সেহেতু ধুলাবালি প্রচুর তাই মাস্ক ব্যাবহার করতে পারেন। খুব কম রাস্তাতে ধুলাবালি আছে। এবং বর্ষাকালে না যাওয়া উত্তম, কেননা কাদা হয় খুব।

কোন সমস্যার মুখোমুখি হলে বিজিবি ক্যাম্প যোগাযোগ করতে পারেন।

খুব বেশি হইচই করবেন না। নদী থেকে নিরাপদ দুরত্বে তাবু করবেন। এবং যেহেতু এখানে সেইভাবে পর্যটকদের আনাগোনা কম ও রাতে থাকেনা তাই আপনি/আপনারা তাবু করার সময় স্থানীয় কাউকে রাখার চেষ্টা করবেন।

টয়লেট করার জন্য স্থানীয় মানুষের হেল্প নিন।

আর বাইরে থেকে খাবার নিয়ে গেলে যত্রতত্র ফেলবেন না। চিপস এর প্যাকেট, পানির বোতল যেখানে সেখানে ফেলে চরের পরিবেশ বিনষ্ট করবেন না। স্থানীয়দের সাথে ভালো ব্যবহার করবেন ও চরের স্থানীয় জনপদের আচারবিধি মেনে চলবেন। যদিও তারা খুবই সহজসরল।

Source: Rasel Ahmed<Travelers of Bangladesh (ToB)

13 Jan 2020

অনেক দিনের ইচ্ছা ছিল নেপাল ঘুরতে যাবো,কিন্তু আমি গরীব ট্রাভেলার,তাই বিমানে যাওয়ার সামর্থ্য নেই। অনেক ঘাটাঘাটি করেও বাই রোডে যাওয়ার তেমন কোন পোষ্ট/সাহায্য পেলাম না।ফেসবুকে কয়েকবার পোষ্ট করেও তেমন কোন সারা-শব্দ পাইনি।অনেকে বলেছে এখন বাই রোডে যাওয়া যায়না/ভিসা দেয়না।
সব কিছু মাথাই নিয়েই ডিসেম্বরের ৮ তারিখ নেপালের ভিসার জন্য ৬ জন পাসপোর্ট জমা দিলাম।যথারীতি পরের দিন সবাই ভিসা সহ পাসপোর্ট ফেরত পেলাম।
এরপর ১০ তারিখে ভারতের ট্রানজিট ভিসার জন্য পাসপোর্ট জমা দিলাম ৬জন। ১৯ তারিখ ডেলিভারি ডেট থাকলেও আমরা ২৩তারিখের বাসের টিকিট দেওয়ার কারনে ২২ তারিখ পাসপোর্ট ডেলিভারি দেয়।দূর্ভাগ্যবসত ১ জনের ভিসা দেয়নি। পরবর্তীতে উনি বিমানে যাই,আবার ২জন কাঠমুন্ডু থেকে এড হয়,পরে আলাদা হয়ে যায়।তাই এখানে সব খরচ একজনের হিসেবে দিয়ে দিলাম।

২৩ তারিখ রাত ৭ঃ৩০ টার হানিফ বাসে আমরা যাত্রা শুরু করি।বাস ভাড়া ৬৫০টাকা,রাতের খাবার ১৫০ টাকা। মোট খরচঃ৮০০ টাকা।

১ম দিনঃ সকালে বুড়িমারী পৌঁছাতে ১০টা বেজে যায়। তারাতারি নাস্তা করি ৩৫টাকা,বন্দর উন্নয়ন ফি ৫০ টাকা দিয়ে,প্রায় ১ ঘন্টায় ইমিগ্রেশনের কাজ শেষ করে ভারত চলে যাই।ভারতীয় ইমিগ্রেশনেও প্রায় ৩০ মিনিট সময় লাগে।এরপর টাকা ভাংগিয়ে রানিগঞ্জের জন্য গাড়ি রিজার্ভ করি ১৭০০ রুপি ৫জন,পার হেড ৪২৫রুপি।প্রায় ৩ ঘন্টা পর আমরা রানিগঞ্জ বর্ডারে পৌছায়।
রানিগঞ্জ নেমে ২০ মিনিটে ইমিগ্রেশনের কাজ শেষ করে সোজা চলে যাই নেপালের কাঁকরভিটা ইমিগ্রেশনে। কাকারভিটা ইমিগ্রেশনে ১৫ মিনিটে কাজ শেষ করে কাঠমুন্ডু যাওয়ার বাসের খোঁজ শুরু করি,কপালগুনে লাস্ট বাসটি পেয়ে যায়।বাসের সিট কনফার্ম করি ৭০০রুপি, দুপুর+রাতের খাবার খেয়ে নিই ১৫০রুপি দিয়ে। সন্ধা ৭ টায় কাঠমুন্ডুর উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিই। পথে বেশ কয়েকবার যাত্রা বিরতি দেয়,পথে নাস্তা ৬০রুপি।

১ম দিনের খরচঃ৩৫+৪২৫+৭০০+১৫০+৬০=১৩৭০ রুপি/১৬৭১টাকা।

২য় দিনঃ চারিদিকে পাহাড় দেখে ঘুম ভাংলো,কিছুদূর পর সকালের নাস্তার বিরতি দিল,নাস্তা করলাম ২৫০রুপি।এরপর আবার গাড়ি চলা শুরু করলো,পথ যেন ফুরায় না!! অবশেষে ১১টাই কাঠমুন্ডু পৌছালাম। অনেক খুজে থামেলে হোটেল নিলাম ২৫০০ রুপি,৫জন।ফ্রেশ হয়ে খাবারের খোজে বেরিয়ে পরলাম,পেয়েও গেলাম নেপালি থালি খাবার ৩৩০রুপি।আগেই শুনেছিলাম নেপালে খাবারের দাম একটু বেশি।
খাবার খেয়ে গুগল ম্যাপ ধরে হেটে দরবার স্কয়ার চলে গেলাম।সন্ধা পর্যন্ত দরবার স্কায়ারে থেকে রাতের থামেল দেখতে দেখতে হোটেলে ফিরে গেলাম।ফ্রেশ হয়ে হালাল খাবারের খোজে বেরিয়ে পরি,গুগলের সাহায্যে পেয়েও যাই আল-মদিনা হালাল ফুডস,মহিষের মাংস দিয়ে রাতের খাবার খেয়ে নিই ৩০০রুপি,চা-২০রুপি।
২য় দিনের খরচঃ ২৫০+৫০০+৩৩০+৩০০+২০=১৪০০ নেপালি রুপি/১০৫০টাকা।

৩য় দিনঃ গরীব ট্রাভেলার বলে আগের রাতেই পার হেড ৩০০রুপিতে ঠিক করে রাখা হোস্টেলে উঠে পরি। সকালে উঠে ১২০রুপি দিয়ে আলু পরটা+চা খেয়ে কাঠমুন্ডু সাইড সীনের জন্য ৪৫০০ রুপি দিয়ে গাড়ি ভাড়া করি(পশুপথিনাথ টেম্পল,ওয়াল্ড হেরিটেজ বুদ্ধনাথ স্তুপা,বুড়া নীলকন্ঠ,চন্দ্রগিড়ি,স্বয়ম্ভুনাথ টেম্পল,কাঠমুন্ডু দরবার স্কয়ার)।
নাস্তার জন্য বিস্কুট,কমলা নিয়ে নিই ৪৫রুপি।দুপুরে চন্দ্রগিড়িতে ৩৩০ রুপিতে নেপালী ভেজ খাই।রাতে আল-মদিনা হোটেলে ২৭৫ রুপিতে বিরিয়ানি খাই।কাল সকালে পোখারা যাওয়ার বাসের টিকিট কেটে রাখি ৭০০রুপি দিয়ে।
৩য় দিনের খরচঃ ৩০০+১২০+৭৫০+৪৫+৩৩০+২৭৫+৭০০=২৫২০রুপি/১৮৯০টাকা।

৪র্থ দিনঃ সকালে ঘুম থেকে উঠে চা,বিস্কুট ৫০রুপি দিয়ে খেয়ে ৭ঃ০০ টায় পোখারার বাসে উঠি।বাসে নাস্তার জন্য বিস্কুট,কমলা নিয়ে নিই ৫০রুপি দিয়ে।পোখারা পৌছাতে ২টা বেজে যায়।বাস থেকে নেমে গুগল ম্যাপ ধরে হাঁটতে হাঁটতে লেক সাইডে চলে যাই।কয়েকটা হোটেল দেখে ৩০০রুপি পার হেড একটি হোটেল নিয়ে নিই।ফ্রেশ হয়ে হালাল খাবারের খোজ শুরু করি,গুগল ম্যাপের সাহায্যে পেয়ে যায় পোখারা হালাল ফুড নামের রেস্টুরেন্ট।৩০০রুপি দিয়ে মহিষের মাংস দিয়ে দুপুর+রাতের খাবার খেয়ে নিই। খাবার খেয়ে ফেওয়া লেকের পাড়ে ঘুরতে যাই।রাতে হোটেলে আসার সময় বিস্কুট,চা ৫০রুপি দিয়ে খেয়ে নিই।হোটেল ম্যানেজারের সাথে কথা বলে পরের দিন সাইড সীনের জন্য গাড়ি রিজার্ভ করি ৭০০০রুপি দিয়ে ৭জন।
খুব ভালো সময় ছিলো,প্রতিদিন সন্ধায় পোখারার রাস্তায় বিভিন্ন ফেস্টিভ্যাল চলছিলো।
৪র্থ দিনের খরচঃ ৫০+৫০+৩০০+৩০০+৫০+১০০০=
১৭৫০রুপি/১৩১৩টাকা।

৫ম দিনঃ সকাল ৫ঃ৩০টায় ঘুম থেকে উঠে রিজার্ভ করা গাড়িতে চলে যাই সারাংকোট,প্রবেশ ফি পার হেড ৬০রুপি।সকালের সূর্যোদয়+অন্মপুর্না উপভোগ করে নিচে নেমে যাই। তারপর ব্যাট কেভে ৮০রুপি টিকিট কেটে ঘুরে আসি।গেটের বাইরেই সকালের নাস্তা করি ১৫০রুপি দিয়ে।তারপর মাহেন্দ্র কেইভ,বিন্দবাসিনী মন্দির,ওয়াল্ড পিস প্যাগোডা,ডেভিস ফলস,শতী রিভার,গুপ্তেশ্বর মহাদেব কেইভ ঘুরে বিকেলে হোটেলে ফিরে আসি।সন্ধায় ফেওয়া লেকের পাড়ে ঘুরতে যাই,চা ৩০রুপি। রাতে পোখারা হালাল রেস্টুরেন্টে ৩০০রুপি দিয়ে রাতের খাবার খেয়ে নিই।হোটেল ভাড়া ৩০০রুপি।রাতে পোখারার ফেস্টিভাল গুলো খুব উপভোগ্য ছিলো।
৫ম দিনের খরচঃ ৬০+৮০+৮০+১৫০+৩০০+৩০+৩০০=১০০০রুপি/৭৫০টাকা।

৬ষ্ঠ দিনঃ এই দিনটা ফেওয়া লেকে ঘোরাঘুরি জন্য রেখেছিলাম।সকালে ঘুম থেকে উঠে ১৫০রুপি দিয়ে নাস্তা করে ফেওয়া লেকে চলে যাই। ৫জন ১১৬০ রুপি দিয়ে ২ঘন্টার জন্য একটা বোট ভাড়া করি।২ঘন্টা লেকে ঘুরে হোটেলে ফিরে ফ্রেশ হয়ে হালাল রেস্টুরেন্টে ৩০০রুপি দিয়ে দুপুরের খাবার খেয়ে নিই। তারপর ১৫০রুপি ঘন্টা হিসেবে সাইকেল ভাড়া করে ১ঘন্টা ঘুরে হোটেলে ফিরে আসি।রাতে আবার সেই হালাল রেস্টুরেন্টে ৩০০রুপি দিয়ে রাতের খাবার খেয়ে নিই। হোটেলে এসে ম্যানেজারের সাথে কথা বলে পরের দিন বিকেলের কাঁকরভিটার বাসের টিকিট কেটে রাখি পার হেড ১৩০০রুপি দিয়ে।হোটেল ভাড়া ৩০০রুপি।
৬ষ্ঠ দিনের খরচঃ ১৫০+২৩২+৩০০+১৫০+৩০০+১৩০০+৩০০=২৭৩২রুপি/২০৪৯ টাকা।

৭ম দিনঃ সকালে ঘুম থেকে উঠে ৮০রুপি দিয়ে নাস্তা করে নিই।আগের দিন সাইকেল চালিয়ে মন ভরেনি+বিকেল পর্যন্ত সময় আছে,তাই ২জন ২টা সাইকেল ভাড়া নিই ১৫০রুপি।সাইকেল চালিয়ে প্যারাগ্লাইডিং ল্যান্ড মাঠে চলে গেলাম।গরীব ট্রাভেলার বলে প্যারাগ্লাইডিং করতে পারলাম না,কারন নতুন বছরকে সামনে রেখে সবকিছুর দাম বেড়ে গিয়েছে। যাইহোক পাগলের সুখ মনে মনে ভেবে নিলাম।দুপুরে হোটেলে এসে ফ্রেশ হয়ে ২২০রুপি দিয়ে ভেজ থালি খেয়ে নিই।তারপর গুগল ম্যাপ ধরে হাঁটতে হাঁটতে বাস স্টান্ডে রওনা হলাম,১.৫কিলো হেটে অবশ্য লোকাল বাসে উঠেছিলাম ১৫রুপি।বিকেল ৩ঃ৩০ টায় কাকারভিটার উদ্দেশ্যে বাস রওনা হই।বাসের মধ্যে নাস্তার জন্য মুড়ি+চানাচুর,কমলা ১০০রুপি কিনে নিই।বাস রাতে কয়েকবার বিরতি দেয়,রাতে চাওমিন+ডিম ১৪০রুপি দিয়ে খাই।
৭ম দিনের খরচঃ ৮০+১৫০+২২০+১৫+১০০+১৪০=৭০৫রুপি/৫২৯ টাকা।

৮ম দিনঃসকালে কাঁকরভিটা নেমে ১২০রুপি দিয়ে নাস্তা করি।তারপর নেপাল ইমিগ্রেশন+রানিগঞ্জ ইমিগ্রেশনের কাজ শেষ করে লোকাল বাসে ৩০রুপি দিয়ে শিলিগুড়ি চলে আসি।৩জন পার হেড ৩০০ রুপি দিয়ে একটা রুম নিয়ে নিই। হোটেলে ফ্রেশ হয়ে ভেনাস মোড়ে “পাকিজা” মুসলিম রেস্টুরেন্টে যেয়ে ১৪৫ রুপি দিয়ে গরুর মাংস দিয়ে দুপুরের খাবার খেয়ে নিই।তারপর টুকটাক কেনাকাটা করে রাতে পাকিজা রেস্টুরেন্টে বিরিয়ানি খাই ১০০টাকা দিয়ে।রাতে হোটেলে ফিরে জম্পেশ ঘুম দিই।
৮ম দিনের খরচঃ ১২০+৩০+৩০০+১৪৫+১০০=৬৯৫রুপি/৮৪৮ টাকা।

৯ম দিনঃসকালে ঘুম থেকে উঠে ৭০ রুপি দিয়ে গরুর কলিজা+রুটি খাই।তারপর অটো ভাড়া করে শিলিগুড়ি বাসস্ট্যান্ডে যায় ৩০রুপি দিয়ে।বাসে ৭০রুপি দিয়ে চেংরাবান্দার উদ্দেশ্যে রওনা হই।বাস থেকে নেমে ৩০রুপি অটো ভাড়া দিয়ে বর্ডারে চলে আসি। দুইপাশের ইমিগ্রেশনের কাজ শেষ করে বিকেলে দুপুরের খাবার খেয়ে নিই মাত্র ৭০টাকা দিয়ে।তারপর বিকেল ৫টার বাসে ৬৫০টাকা দিয়ে টিকিট কেটে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হই। রাতে হাইওয়ে হোটেলে ৫০টাকা দিয়ে রুটি-সবজি খেয়ে নিই।
৯ম দিনের খরচঃ ৭০+৩০+৭০+৬৫০+৫০=৯০৮ টাকা।

টোটাল খরচঃ৮০০+১৬৭১+১০৫০+১৮৯০+১৩১৩+৭৫০+২০৪৯+৫২৯+৮৪৮+৯০৮=১১৮০৮ টাকা।
এর বাইরে এক্সট্রা খরচঃ বিডি বর্ডার ১০০+ ভারতের বর্ডার ১২০+রানিগঞ্জ বর্ডার ২৪০+কাঁকরভিটা বর্ডার ১৫০,,আসার সময় ভারত বর্ডার ১২০+বিডি বর্ডার ১০০=৮৩০ টাকা
ভারতের ভিসা খরচঃ ৮৪০ টাকা।
ট্রাভেল ট্যাক্সঃ ৫০০ টাকা।
সবশেষে জনপ্রতি মোট খরচঃ১১৮০৮+৮৩০+৮৪০+৫০০=১৩৯৭৮ টাকা (ভিসা+ট্রাভেল ট্যাক্স সহ) ***অবশ্যই কিছু কম-বেশি হতে পারে।)
(হিসেবের যেখানে রুপির থেকে টাকার মান বেশি,সেটা নেপালী রুপি,আর যেখানে রুপির থেকে টাকার মান কম,সেটা ভারতীয় রুপির হিসাব)

>>নেপাল ভিসার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্রঃ
*পাসপোর্ট (অবশ্যই নুন্যতম ৬মাস মেয়াদ থাকতে হবে)
*পাসপোর্টের ফটোকপি।
*পাসপোর্ট সাইজ ছবি ১কপি।
*জাতীয় পরিচয় পত্রের ফটোকপি।
*পেশাগত প্রমানপত্রের কপি(ছাত্র হলে স্টুডেন্ট আইডি কার্ডের ফটোকপি,চাকুরীজীবি হলে ছুটির প্রমানপত্র)।
*নেপালে হোটেল বুকিংয়ের কপি।
*বাই রোডে গেলে ঢাকা-বুড়িমারি যাওয়া আসার টিকিটের ফটোকপি।
*ভিসা আবেদন ফরম অনলাইন থেকে ডাউনলোড করে হাতে পুরন করতে পারেন,অথবা অ্যাম্বাসী গেট থেকে নিয়েও পুরন করে জমা দিতে পারেন।
*বছরের ১ম বার নেপালের ভিসা করতে কোন টাকা লাগে না।একই বছরে ২য় বার গেলে টাকা লাগে।

>>ভারতের ট্রানজিট ভিসার কাগজপত্রঃ
*অনলাইনে পুরন করা আবেদন ফরম ২×২ ছবিসহ।
*পাসপোর্টের ফটোকপি।
*পেশাগত প্রমানপত্র।
*ব্যাংক স্টেটমেন্ট/ডলার এন্ডোজমেন্ট।
*বাসস্থানের যে কোন বিলের কপি।
*নেপালের হোটেল বুকিং এর কপি।
*ঢাকা-বুড়িমারি যাওয়া আসার টিকিটের ফটোকপি।
*নেপালের ভিসার ফটোকপি।।

সতর্কতাঃ
**ঢাকা থেকে কাঠমুন্ডু পৌছাতে প্রায় ৩৬ ঘন্টা,কাঠমুন্ডু থেকে পোখারা যেতে ৭ ঘন্টা সময় লাগে,পর্যাপ্ত মনোবল+এনার্জি না থাকলে সড়কপথে না যাওয়াটা ভালো।
**কাঠমুন্ডু আমার তেমন ভালো লাগেনি, ঢাকার মতই হই-চই,কিন্তু পোখারা একদম নিরব,সাজানো-গোছানো,পরিষ্কার শহর।

***দয়া করে ঘুরতে যেয়ে পরিবেশের ক্ষতি হয় এমন কিছু করবেন না।মনে রাখবেন পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ঈমানের অঙ্গ।
***দয়া করে ঘুরতে যেয়ে মদ,জুয়া,নেশা করবেন না।
***সফরকালে নামাজ আদায় করতে ভুলবেন না,দিনে সফরে থাকলে রাতে সারাদিনের নামাজ একসাথে কসর পরুন,তবুও নামাজ ছাড়বেন না।পারলে সেখানকার মসজিদে কিছু দান করে আসবেন।
গ্রুপে এটাই আমার ১ম পোস্ট,তাই ভুল-ত্রুটি হলে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখার অনুরোধ করছি।

Source:  Awal Khan‎<Travelers of Bangladesh (ToB)

9 Jan 2020

বর্তমানে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী অঞ্চলে অবস্থিত গৌড় নগর ভারতীয় উপমহাদেশের মধ্যযুগীয় অন্যতম বৃহৎ নগরী। এটি বাংলার প্রাচীন রাজধানী। আনুমানিক ১৪৫০ খ্রিস্টাব্দ থেকে ১৫৬৫ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত এটি বাংলার রাজধানী ছিল। প্রাচীন এই গৌড় নগর লক্ষণাবতী নামেও পরিচিত।
প্রাচীন এই দুর্গনগরীর অধিকাংশ পড়েছে বর্তমান ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের মালদা জেলায় এবং এর কিছু অংশ পড়েছে বাংলাদেশের চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায়। শহরটির অবস্থান ছিল গঙ্গানদীর পূর্ব পাড়ে, রাজমহল থেকে ৪০ কিলোমিটার ভাটিতে এবং মালদার ১২ কিলোমিটার দক্ষিণে।

গৌড় নগরের সাথে জড়িয়ে আছে প্রাচীন বহু ইতিহাস। তবে এর বেশিরভাগ অংশই ভারতে। আর বাংলাদেশের চাঁপাইনবাবগঞ্জ অঞ্চলে যে অংশটুকু পড়ে আছে এই নগরীর ,তার পুরোটাই প্রকৃতপক্ষে ধ্বংসাবশেষ। নকশার ভিত্তিতে বর্ণিত চতুর্দশ শতকের কোতোয়ালী ফটক ব্যতীত ১৩-১৪ শতকে নির্মিত স্থাপত্য শিল্পের অন্য কোনো নিদর্শন বর্তমানে নেই।
তবে জায়গাটি ঘিরে আছে পর্যটকদের আগ্রহ। ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা ধ্বংসাবশেষ দেখতেও অনেকে ছুটে যায় জায়গাটিতে। তাছাড়া বেশ কিছু পুরনো নিদর্শন ও দর্শনীয় স্থান রয়েছে, যা ঘুরে ঘুরে দেখতে পারেন প্রাচীন এই নগরী ভ্রমণকালে।

ফুলওয়ারি দুর্গ:
ফুলওয়ারি দুর্গ বর্তমান গৌড় দুর্গের ধ্বংসাবশেষের দুই মাইল উত্তরে অবস্থিত। কারো কারো মতে, এটি একটি হিন্দু দুর্গ ছিল। যদিও কিছু কালো কষ্টি পাথরের প্রস্তর খণ্ড ছাড়া সে স্থানে অন্য কোনো মুসলিম আমলের নিদর্শন পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, দুর্গটি শাহ সুজা কর্তৃক ব্যবহৃত হতো।
চকচকে ইট, কাদা মাটির তৈরী পাইপের ভাঙা অংশ, খোদিত চীনামাটির বাসনের টুকরো এবং অমসৃণ মৃৎপাত্র সহ বেশ কিছু প্রাচীন সামগ্রী দেওয়ালবেষ্টিত দুর্গের ভেতরে পাওয়া গিয়েছিল। ধারণা করা হয়, দুর্গটি পনেরো ও ষোল শতকের দিকে ব্যবহৃত হতো।

বড় সোনা মসজিদ:
সুলতানি বাংলার রাজধানী গৌড়ের সর্ববৃহৎ মসজিদ এটি এবং এটি বাংলায় মুসলিম স্থাপত্যের চরম উৎকর্ষের নিদর্শন। মসজিদটি সাধারণত ‘বারোদুয়ারী’ বা বারো দরজা বিশিষ্ট মসজিদ হিসেবে পরিচিত। মসজিদটি ইটের গাঁথুনির উপর পাথরের আস্তরণে নির্মিত। সামনের ভাগে রয়েছে উত্তর-দক্ষিণ বরাবর বিস্তৃত বারান্দা, ১১টি প্রবেশপথ এবং উত্তর ও দক্ষিণ দিকে ১টি করে প্রবেশপথ।
উত্তর ও দক্ষিণ দিকে অতিরিক্ত তিনটি করে প্রবেশপথ সহ মসজিদটি তিন আইল বিশিষ্ট। আয়তাকার পুরু স্তম্ভের উপর বসানো আছে মোট ৪৪টি গম্বুজ। বর্তমানে শুধু বারান্দার উপরের গম্বুজগুলো এবং মসজিদের পার্শ্বদেয়াল টিকে আছে।

ছোট সোনা মসজিদ:
সুলতানি স্থাপত্যের রত্ন বলা হয় এই ছোট সোনা মসজিদকে। বিশাল এক দিঘির দক্ষিণ পাড়ের পশ্চিম প্রান্ত জুড়ে এই মসজিদটির অবস্থান। মসজিদের কিছুদূর পশ্চিমে বাংলাদেশ সরকারের প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর কর্তৃক কয়েক বছর আগে নির্মিত হয়েছে একটি আধুনিক দ্বিতল গেস্ট হাউস।
বাংলাদেশ সরকারের প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর কর্তৃক সংরক্ষিত সুলতানি আমলের সৌধগুলোর মধ্যে ছোট সোনা মসজিদ সর্বোত্তম সংরক্ষিত নিদর্শন। যদিও মসজিদটির পুরনো ও প্রকৃত সৌন্দর্য আর অবশিষ্ট নেই। তবে সংরক্ষিত এই নিদর্শন দেখে পুরনো চিত্র অনেকটা আন্দাজ করে দেখে নেয়া যায়।

তাহখানা কমপ্লেক্স:
গৌড় নগরীর ফিরুজপুর এলাকায় একটি বড় পুকুরের পশ্চিম পাড়ে অবস্থিত ভবন কাঠামোটি ঐতিহ্যগতভাবে ‘তাহখানা’ নামে পরিচিত। ভবনটির উত্তরপশ্চিমে আরও দুটি কাঠামো রয়েছে। একটি তিন গম্বুজ বিশিষ্ট মসজিদ এবং কিছুটা উত্তরে অবস্থিত অপরটি ভল্টেড বারান্দা ঘেরা একটি গম্বুজ সমাধি।
যেহেতু ভবনগুলো একই সময় এক বিশেষ উদ্দেশ্যেই নির্মিত হয়েছিল, সেহেতু সবগুলো ভবনকে একত্রে একটি একক ইউনিট বা একটি কমপ্লেক্স হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে বর্তমানে সব কিছুই ধ্বংসপ্রাপ্ত। তাহখানা কমপ্লেক্সটি সুলতানি যুগের নগরে মুগল রীতির স্থাপনা হিসেবেই শুধু গুরুত্বপূর্ণ নয় বরং এটি তার স্থাপত্যিক গুণের জন্যই গুরুত্ববহ। এ ধরনের স্থাপত্যিক বৈশিষ্ট্য বাংলায় প্রথম।

লুকোচুরি দরওয়াজা:
গৌড় নগর দুর্গের গুমতি গেট থেকে কিছুটা উত্তর দিকে অবস্থিত একটি মুগল স্থাপত্য এই ‘লুকোচুরি দরওয়াজা’। কেন্দ্রীয় প্রবেশ পথটি চার কোণা কেন্দ্রিক খিলানযুক্ত ঈওয়ান রীতি অনুযায়ী নির্মিত। এর দুইটি পাশেই রয়েছে একই রকম খিলান প্রবেশপথ। প্রবেশপথটি ইট দ্বারা নির্মিত এবং আয়তাকার।
এটি উচ্চতায় তিন তলা বিশিষ্ট। দ্বিতীয় তলায় নিচের তলার মত একই রকম প্রবেশপথ রয়েছে। উপরে সমান ছাদ, যা নক্করখানা হিসেবে ব্যবহার করা হতো। এখানকার ছাদ থেকে নগর দুর্গে গভর্নরের প্রবেশ ও প্রস্থানের ঘোষণা দেওয়া হতো।

ছোট সাগর দীঘি:
নামে সাগর ও দীঘি দুইটি শব্দ থাকলেও প্রকৃতপক্ষে এটি কোনো সাগর কিংবা দীঘি নয়। এটি মূলত একটি বড় পুকুর যা ‘ছোট সাগর দীঘি’ নামে পরিচিত। গৌড় নগরের দক্ষিণ দেওয়ালের পেছনে বেলবারি মাদ্রাসার পূর্ব দিকে ‘ছোট সাগর দিঘি’ নামে এই বড় পুকুরটির অবস্থান। এই বড় পুকুরটি নগরের বিভিন্ন এলাকার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে অাঁকাবাঁকা খালের সঙ্গে সংযুক্ত ছিল। যে কেউ এখনো গঙ্গার দিকে দুইটি খালের সমান্তরাল প্রবাহ দেখতে পাবেন।

গুণমন্ত মসজিদ:
ভাগীরথী (পুরনো গঙ্গা) নদীর তীরে মাহদিপুর গ্রামে অবস্থিত গুণমন্ত মসজিদ। গৌড় নগর দুর্গ থেকে ঠিক ১ কিলোমিটার দক্ষিণে মসজিদটির অবস্থান। গুণমন্ত মসজিদের নির্মাণকাল নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। তবে মাহদিপুরে একটি অস্থায়ী মসজিদের বাইরে বর্তমানে ফতেহ শাহর আমলের একটি লম্বা শিলা লিপির ফলক পড়ে রয়েছে, যেটিতে ৮৮৯ হিজরির উল্লেখ আছে।
বলা হয়, গ্রামটির দক্ষিণের একটি ধ্বংসপ্রাপ্ত মসজিদ থেকে একজন হিন্দু ওই শিলা লিপিটি এনেছিলেন। যেহেতু লিপিটির প্রাপ্তিস্থান গুণমন্ত মসজিদ থেকে দূরে নয়, তাই অনেকে এটিকে গুণমন্ত মসজিদের লিপিফলক বলে মনে করেন।

8 Jan 2020

আমাদের এবারের ট্যুরে আমরা চলে আসলাম মুন্সীগঞ্জ। মুন্সীগঞ্জে দেখার মত অনেক কিছু থাকলেও আমরা আমাদের একদিনের এই ট্যুরে অল্প কিছু জায়গা দেখলাম।

♣️ নাটেশ্বরে হারিয়ে যাওয়া উন্নত নগর সভ্যতার নিদর্শন।

** প্রথমেই আমরা চলে আসি নাটেশ্বর প্রত্নতাত্তিক খননকৃত বৌদ্ধ মন্দির ও স্তুপ দেখতে। টংগিবাড়ী উপজেলার সোনারং টংগিবাড়ী ইউনিয়নের নাটেশ্বর গ্রামে ২০১৩ এবং ২০১৪ সালের প্রত্নতাত্তিক খননে আবিস্কৃত হয় মন্দির এবং স্তুপ স্থাপত্যের অংশবিশেষ।

আবিষ্কৃত হয়েছে – অসাধারণ বৌদ্ধ মন্দির, তিনটি অষ্টোকোণাকৃতির স্তুপ, পিরামিড আকৃতির বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ স্তুপ, কেন্দ্রীয় মন্দির, হাজার বছর আগের রাস্তা, নালা প্রভৃতি ।মুন্সীগঞ্জের অগ্রসর বিক্রমপুর ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে জাহাঙ্গীরনগর ও কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা প্রত্নখনন কাজ করেন।

♣️ বিক্রমপুর বৌদ্ধ বিহার, রঘুরামপুর

** আমরা নাটেশ্বর ঘুরে চলে আসলাম রঘুরামপুরে অবস্থিত বিক্রমপুর বৌদ্ধ বিহার দেখতে। বিক্রমপুর বিহার হলো বাংলাদেশের মুন্সিগঞ্জ জেলার, বিক্রমপুরের অন্তর্গত রঘুরামপুর গ্রামে অবস্থিত একটি প্রাচীন বৌদ্ধ বিহার।

এটি মহারাজ ধর্মপালের শাসনামলে নির্মিত ৩০টি উল্লেখযোগ্য বিহারের মধ্যে অন্যতম। ধর্মপাল ছিলেন পাল সম্রাজ্যের দ্বিতীয় সম্রাট। ঐতিহাসিকভাবে এই মঠটি, অতীশ দীপঙ্করের সাথে সম্পর্কিত, যিনি তিব্বতী বৌদ্ধধর্মের ইতিহাসে একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব। অতীশ দীপঙ্করের জীবদ্দশায়, এই অঞ্চলটি ছিল বৌদ্ধ ধর্ম শিক্ষার কেন্দ্রবিন্দু এবং চীন, তিব্বত, নেপাল ও থাইল্যান্ডের মত দূরবর্তী অঞ্চল থেকেও প্রায় ৮০০০ অধ্যয়নকারী ও অধ্যাপক এখানে অধ্যাপনা করতে আসতেন। অগ্রসর বিক্রমপুর ফাউন্ডেশন কর্তৃক চালানো দীর্ঘ ৪ বছরব্যাপী এক প্রত্নতাত্ত্বিক অনুসন্ধানের পর ২০১৩ সালের ২৩শে মার্চ তারিখে, অগ্রসর বিক্রমপুর ফাউন্ডেশন ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ যৌথভাবে এই নিদর্শনটি আবিষ্কারের ঘোষণা দেয়। বাংলাদেশ সরকারের সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় এই প্রত্নতাত্ত্বিক খননের জন্য অর্থের যোগান দেয়।

♣️ মুক্তারপুর সেতু

আমরা রঘুরামপুরের বৌদ্ধ বিহার ঘুরে চলে আসি মুক্তারপুর সেতুতে, এটি ঘুরে দেখার জন্য এবং কিছু সময় কাটানোর জন্য।

ষষ্ঠ বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতু মুন্সিগঞ্জ জেলার জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ন সেতু। এটি ৬ষ্ঠ মুক্তারপুর সেতু নামেও পরিচিত। মুন্সীগঞ্জ জেলা সদর থেকে প্রায় চার কিমি দূরে মুক্তারপুর নামক স্থানে ধলেশ্বরী নদীর উপর দিয়ে নির্মিত এ ব্রীজটি ঢাকা, নারায়নগঞ্জ এবং মুন্সীগঞ্জ এর যোগাযোগ ব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ন মাইলফলক।

♣️ ইদ্রাকপুর কেল্লা

মুন্সীগঞ্জ শহরে অবস্থিত একটি মোঘল স্থাপত্য। বাংলার সুবাদার ও সেনাপতি মীর জুমলা ১৬৬০ খ্রীস্টাব্দে বর্তমানে মুন্সীগঞ্জ জেলা সদরে ইদ্রাকপুর নামক স্থানে এই দুর্গটি নির্মাণ করেন। দুর্গটি নারায়নগন্জের হাজীগঞ্জ ও সোনাকান্দা দুর্গের চেয়ে আয়তনে কিছুটা ছোট। এই দুর্গটি তৎকালীন মগ জলদস্যু ও পর্তুগিজ আক্রমণের হাত থেকে ঢাকা ও নারায়নগঞ্জসহ সমগ্র এলাকাকে রক্ষা করার জন্য নির্মিত হয়।

সুরঙ্গপথে ঢাকার লালবাগ দুর্গের সাথে এই দুর্গের যোগাযোগ ছিল বলে একটি জনশ্রুতি প্রচলিত আছে। সুউচ্চ প্রাচীরবিশিষ্ট এই দুর্গের প্রত্যেক কোনায় রয়েছে একটি বৃত্তাকার বেষ্টনী।

দুর্গের ভেতর থেকে শত্রুর প্রতি গোলা নিক্ষেপের জন্য প্রাচীরের মধ্যে অসংখ্য চতুষ্কোনাকার ফোঁকর রয়েছে একমাত্র খিলানাকার দরজাটির অবস্থান উত্তর দিকে। মূল প্রাচীরের পূর্ব দেয়ালের মাঝামাঝি অংশে একটি গোলাকার উঁচু মঞ্চ রয়েছে। দূর থেকে শত্রুর চলাচল পর্যবেক্ষণের জন্য প্রায় প্রতি দুর্গে এই ব্যবস্থা ছিল। এই মঞ্চকে ঘিরে আর একটি অতিরিক্ত প্রাচীর মূল দেয়ালের সাথে মিলিত হয়েছে। দুর্গের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সূদৃঢ় করার জন্য এটি নির্মিত হয়েছিল। কেল্লাটির তিন কিলোমিটারের মধ্যেই ইছামতী, ধলেশ্বরী, মেঘনা এবং শীতলক্ষা নদীর অবস্থান। মোঘল স্থাপত্যের একটি অনন্য কীর্তি হিসেবে ইদ্রাকপুর দুর্গটি ১৯০৯ সালে সংরক্ষিত পুরাকীর্তি হিসেবে ঘোষিত হয়।

♣️ অতীশ দীপঙ্করের বাস্তুভিটা

অতীশ দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান হলেন একজন প্রখ্যাত পণ্ডিত যিনি পাল সাম্রাজ্যের আমলে একজন বৌদ্ধ ভিক্ষু এবং বৌদ্ধধর্মপ্রচারক ছিলেন। তিনি ৯৮২ খ্রিস্টাব্দে বিক্রমপুর পরগনার বজ্রযোগিনী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। এটি বর্তমানে বাংলাদেশের মুন্সিগঞ্জ জেলার অন্তর্ভুক্ত। তার জন্মস্থানের বাস্তুভিটাকে এখনো স্থানীয় জনগণ ‘পণ্ডিতের ভিটা’ বলে অভিহিত করে।

♣️ আমরা আমাদের মুন্সীগঞ্জ ভ্রমণে এই কয়টি জায়গা ঘুরে দেখলাম। যদিও মুন্সীগঞ্জে দেখার মত আরো অনেক জায়গা আছে, কিন্তু আমরা একদিনে সব না দেখে পরবর্তীতে সে দেখার জন্য কিছু রেখে গেলাম। এগুলো ঘুরে দেখে আমরা চলে আসি মাওয়া ঘাটে। কিছুক্ষণ এখানের সৌন্দর্য উপভোগ করে আমরা ঘাটের পাড়ের হোটেল থেকে ইলিশ ভাজা দিয়ে দুপুরের খাবার শেষ করি, যদিও ততক্ষণে বিকেল হয়ে গেছে।

♣️ মুন্সীগঞ্জ আসতে চাইলে ঢাকার গুলিস্থান থেকে বাসে করে সরাসরি মুন্সীগঞ্জ সদর আসা যায়। এরপর অটো নিয়ে সব গুলো জায়গা ঘুরে দেখা যাবে। মুন্সীগঞ্জ সদরেই রয়েছে ইন্দ্রাকপুর কেল্লা, তাই এটি আগে দেখে নেয়া ভালো।

♣️ বিঃ দ্রঃ যেখানেই যান সেখানকার পরিবেশ যেন নষ্ট না হয় সেদিকে খেয়াল রাখবেন।। ময়লা নির্ধারিত স্থানে ফেলুন। আর অনেক বিদেশী পর্যটকদের আকর্ষণ করে এই জায়গা গুলো, তাই এখানকার পরিবেশ রক্ষায় সচেতন থাকবেন সবাই।

Source: Rafi Hassan‎<Bangladesh Travel Group (BTG)

6 Jan 2020

উমগট নদী! যেখানে হাওয়ায় নৌকা ভাসে!
এই নদীর পানি এতটাই স্বচ্ছ, যে কেউ দেখলে মুগ্ধ হতে বাধ্য। এজন্যই এই নদীটি ক্রিস্টাল ক্লিয়ার ওয়াটার, লাইভ একুরিয়াম নামে পরিচিত। উমগট নদীকে ভারতের অন্যতম স্বচ্ছ ও সুন্দর নদীও বলা হয়।

কিভাবে যাবেন: আমরা প্রথমেই সিলেটের তামাবিল বর্ডারে ইমিগ্রেশন শেষ করে ১৫ মিনিট পায়ে হেটে ডাউকি ব্রিজের কাছে চলে যাই। জাফলং থেকে মেঘালয়ের এই ব্রিজটিই দেখা যায়। সেখানে কিছুক্ষণ সময় কাটিয়ে ডাউকি বাজার এসে একটি ট্যাক্সি ভাড়া করে সোনাংপেডাং চলে যাই। সোনাংপেডাং এর সাসপেনশন ব্রিজ, নদীর চারপাশে ঘুরাঘুরি করে উমগট নদীতে বোটিং করি, এখানে গেলে সবাই বোটিং টা অবশ্যই করবেন। রাতে টেন্টে ক্যাম্পিং করি,ক্যাম্প-ফায়ার করি যেটা ছিল একটি অসাধারণ অভিজ্ঞতা। পরেরদিনও খুবই রিলাক্সে সোনাংপেডাং এর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করি। এরপর সোনাংপেডাং থেকে বর্ডার পর্যন্ত ৮ কিলো পথ আমরা ইচ্ছে করেই পায়ে হেটে সৌন্দর্য উপভোগ করতে করতে যাই এবং বর্ডার ক্রস করি।

খরচের হিসাব:
ট্রাভেল ট্যাক্স:৫০০
ঢাকা-সিলেট বাস:৪৭০
সিলেট-তামাবিল:১০০
সকালের নাস্তা:৩৫
বর্ডার টিপস: কোনো টাকা চায়নি আমাদের কাছে
ডাউকি বাজারে লাঞ্চ: ৯০ রুপি
ডাউকি-সোনাংপেডাং ট্যাক্সি ভাড়া: ২০০রুপি/৪=৫০রুপি
এন্ট্রি:৪০ রুপি/৪=১০ রুপি
বোটিং: ৫৫০ রুপি/৩=১৮৫ রুপি
ডিনার: ৬০ রুপি( হালকা খাবার খেয়েছি। এমনিতে চিকেন থালি ১৫০রুপি,ভেজ থালি১২০ রুপি)

দ্বিতীয় দিন ব্রেকফার্স্ট : ৫০ রুপি
লাঞ্চ:১৫০ রুপি
টেন্ট ভাড়া: ২ টেন্ট ১০০০ রুপি/৪=২৫০ রুপি
সোনাংপেডাং- বর্ডার: পায়ে হেটে যাই আমরা। ট্যাক্সি রিজার্ভ করলে ২০০-৩০০ রুপি নিবে।
ভারতে টোটাল:৮৪৫ রুপি=১০৪৫ টাকা
তামাবিল-সিলেট:সিএনজি ভাড়া ৬০০টাকা/৪=১৫০টাকা
রাতের খাবার:৩০টাকা(হালকা খাবার)
সিলেট -ঢাকা বাস:৪৭০
#টোটাল_খরচ: ২৮০০ টাকা
বিঃ দ্রঃ যেখানে সেখানে ময়লা ফেলে পরিবেশ নষ্ট করবেন না,আর স্থানীয় লোকজনদের সাথে ভালো ব্যবহার করুন তাহলে তাদের নিকট থেকে অনেক সহযোগীতা পাবেন ।

Source: Khaled Amin‎< Travelers of Bangladesh (ToB)

 

6 Jan 2020

সিকিম ভারতের দ্বিতীয় ক্ষুদ্রতম রাজ্য। এর তিনদিকে নেপাল, চীন আর ভূটানের বর্ডার। কাঞ্চঞ্জঙ্ঘার কোলে নর্থ সিকিম যেমন বরফে ঢাকা থাকে, আবার সাউথ সিকিমে সবুজের সমারোহ। এখানে নেপালী, ভুটানের কালচার এর প্রভাব অনেক বেশি৷ অনেক পুরোনো বুদ্ধিস্ট মনেস্ট্রি, মন্দির সিকিমকে ঐতিহাসিক জায়গা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে, আবার অসাধারন সব দৃশ্য- পাহাড়, নদী, মেঘের মিলনমেলা এই সিকিম।।

১ম দিন, ২৮ ডিসেম্বর ২০১৯ (শনিবার):

ঢাকা কল্যানপুর থেকে শ্যামলী পরিবহনে ২০ জনের যাত্রা শুরু আমাদের বর্ডার ছিলো চ্যাংরাবান্ধা-বুড়িমারী। রাত ৭.৩০ এ যাএা শুরু করি কল্যাণপুর থেকে, এর মধ্যে রাত ১১.০০ টায় বগুড়ার “ফুড ভিলেজে ” যাত্রাবিরতি দেয়া হয় রাতের খাবার ও বগুড়ার দই taste করি।

২য় দিন, ২৯ ডিসেম্বর ২০১৯ (রবিবার):

‌সকাল ৬,০০ আমরা চ্যাংরাবান্ধা গিয়ে পৌছায়, তাড়াতাড়ি যাওয়ার কারণে শ্যামলীর রেস্ট রুমে ৮ টা পর্যন্ত বিশ্রাম নেই, মাঝে মধ্যে সামনের টং এর চা খেয়ে ঠান্ডা ধাওয়াই 😁 ৮টায় আমারা বুড়ীর হোটেল থেকে বছরের শেষ দেশের খাবার খেয়ে নেই, খাবার টা ছিলো অসাধারণ। আমরা বাংলাদেশের ইমিগ্রেশন এ যাই ও ৩০-৪০ মিনিট এর মধ্যে সব কাজ শেষ করে ইন্ডিয়ান ইমিগ্রেশন এ চলে যাই। জিরো পয়েন্ট এ ডলার, টাকা থেকে রুপি করে নেই, ইন্ডিয়ান ইমিগ্রেশন শেষ করে ১০.৩০ টায় শ্যামলীর মিনি বাসে এ উঠে পরি

ওয়েলকাম টু ইন্ডিয়া 😁 নতুন জায়গায় সামনে সিট এ বসে মজাই আলাদা, ড্রাইভার, হেল্পার এর সাথে কথা বলতে বলতে একের পরে এক ময়নাগুড়ী, জলপাইগুড়ি পার করে ১২.৪৫ এ শিলিগুড়িতে চলে আসি, সেখানে আমাদের সাথে আরো দুইজন যোগদান করে তাদের বর্ডার ছিলো বাংলাবান্ধা। তার পরে আমরা তিনজন সিকিমের পারমিশন ILP (INNER LINE PERMIT) এর জন্য চলে যাই, কিন্তু রবিবার এর কারণে শিলিগুড়ি অফিস বন্ধ ছিলো তাই শিলিগুড়িতে ফ্রেশ হয়ে ও চা-নাস্তা করে ২টার দিকে গ্যাংটক এর উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করি। যাত্রা পথে ৫.০০ টার দিকে দুপুরের খাবার খেয়ে নেই, আমাদের টার্গেট ছিলো ৭ টার আগে সিকিমের পারমিশন ILP(INNER LINE PERMIT) জন্য Rangpo Checkpoint চলে যাওয়া। Rangpo Checkpoint সবার পাসপোর্ট, ভিসার ফটোকপি ও ছবি নিয়ে ইমিগ্রেশনে যাই এবং অফিসার খুব সুন্দর ভাবে আমাকে বুঝিয়ে বলে কি করতে হবে, ১৫-২০ মিনিট এর মধ্যে সব পারমিশন ও পাসপোর্ট এ সিল মারা শেষ 😁 ওয়েলকাম টু সিকিম। অবশেষে রাত ৮ঃ০০ টায় থেকে ১২০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে ৫৪০০ ফুট উচ্চতায় গ্যাংটক শহরে প্রবেশ করলাম। আমাদের হোটেল ছিলো MG মার্কেট থেকে ১০ মিনিট এর গাড়ির রাস্তা, হোটেলে গিজার এবং ওয়াইফাই এর সুবিধা ছিলো।

হোটেল জানালা খুলতেই অবাক! মনে হচ্ছিলো আকাশের তারাগুলো সব মাটিতে নেমে এসেছে। ওপাশের পাহাড়ের ঘরবাড়ি থেকে ইলেকট্রিক লাইটের আলো এপাশ থেকে তারার মেলার মতোই মনে হচ্ছিলো, ততক্ষনে শীতে হাত-পা ঠান্ডা হওয়া শুরু করে দিয়েছে🥶। হোটেলের নিচেই রাতের খাবারের ব্যাবস্থা ছিলো আমাদের তাই রাতের খাবার শেষ করি, টানা ২৫ ঘন্টা জার্নি করে আসার পরে শরীর আর চলছে না কিন্তু নাছড়বান্ধা মন তাই রাস্তায় নেমে পরি হাটাহাটি করতে ২০ মিনিট হাটাহাটি করার পরে রুমে এসে একটা শীতের ঘুম ☺।

৩য় দিন, ৩০ডিসেম্বর (সোমবার):

সকালে ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে এইবার সকালের খাবার এর পালা, লুচি-আলুর ডাল ও ডিম সাথে চা দিয়ে সকালের নাস্তা করে, লাচুং যাওয়া জন্য ব্যাগ গুছিয়ে নিলাম (দরকারি কাপড় ও কাগজ) বাকি ব্যাগ হোটেলের একটা রুমে রেখে ট্যাক্সি নিয়ে জীপ স্টেশন এ চলে গেলাম। আমাদের আগে থেকেই সব বুকিং করাছিলো, ১১টার দিকে ৩টা জীপ নিয়ে ল্যাচুং এর উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু। পাহাড়ি আঁকাবাকা পথ দিয়ে আমরা লাচুং এর দিকে এগুতে থাকি। যাএাপথে আমরা প্যাকেজ এর lunch করি, এর মধ্যে আমরা Seven sister falls, Kanchanjangha view point, naga falls সহ আরও কয়েকটা স্পট ঘুরে সন্ধ্যা ৭ঃ০০ টায় প্রায় লাচুং পৌছায়। লাচুং এ প্রবেশের সাথে সাথে প্রচন্ড ঠান্ডা লাগা শুরু করে,তাপমাত্রা ছিলো -৬°C🥶 হোটেলে চেক-ইন করে আমরা কনকনে ঠান্ডার মধ্যে মল চা দিয়ে সন্ধ্যার নাস্তা সেরে নেই, এরপর হোটেলের আসেপাসে কিছুক্ষণ ঘুরাঘুরি করে ৮ঃ০০ প্যাকেজের খাবার মুরগী, ভাত, সবজি ও ডাল দিয়ে রাতের খাবার খেয়ে নেই, প্রচন্ড ঠান্ডা ছিলো কিন্তু বাঙ্গালীদের ঠান্ডায় দমাতে পারিনি আমাদের কয়েক জন মিলে রাস্তায় মজা করে, তারপরে রুমে কয়েকজন মিলে গানের আড্ডা দেই ১২.৩০ দিকে ঘুম😴।
(লাচুং এ ঢোকার আগে আমাদের সাথে যত ধরনের প্লাস্টিকের বোতল ছিলো সব ফেলে দিতে হয়েছে কারণ লাচুং এ প্লাস্টিক ব্যবহার নিষিদ্ধ,তাই আমারা পানির পট নিয়ে নেই)।

৪র্থ দিন, ৩১ ডিসেম্বর (মঙ্গলবার):

খুব সকালে ৬:০০ টায় আমরা জিরো পয়েন্ট এর উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিলাম, সাথে সকালের নাস্তা নিয়ে নিলাম। তখন থেকেই মনের মধ্যে একটা অন্যরকম excitement কাজ করতেছিলো। লাচুং থেকে আমরা জিরো পয়েন্টের দিকে উঠতে থাকি এবং উপরে উঠতে উঠতে বুঝতে পারলাম যে আমার হালকা breathing problem হচ্ছিল। ১০ঃ৩০ দিকে আমরা প্রায় ১৫৪০০ ফুট উচ্চতায় জিরো পয়েন্টে পৌছালাম। সৃষ্টিকর্তার সৃষ্টি যে কি হতে পারে তা না দেখলে বুঝা যায়না, আমার মনে হয় যদি আমরা জিরো পয়েন্ট যেতে না পারতাম তাইলে আমাদের ট্যুরটা স্বয়সম্পুর্ন হতোনা। জিরো পয়েন্ট যে কি জিনিস তা লিখে বুঝানো যাবেনা। এর পর আমরা জিরো পয়েন্টে বেশ কিছুক্ষণ ঘুরাঘুরি করে ম্যাগী খেয়ে শরীর গরম করে ইয়ামতাং ভ্যালীর দিকে রওনা দিলাম। ইয়ামতাং ভ্যালীতে কিছু সময় ঘুরাঘুরি করে ল্যাচুং হোটেল এর উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিলাম ১.৩০ এর মধ্যে হোটেল এ আসলাম ফ্রেশ হয়ে দুপুরের খাবার খেয়ে নিলাম। এবার গ্যাংটক ফেরার পালা, ফেরার পথে অমিতাভ বচ্চন ফলস দেখে ৯.৩০ টায় রুমে চলে আসলাম। রাতে সবাই মিলে 31st উৎজ্জাপন করলাম (লাইফের সেরা ৩১st ছিলো)।
(লাচুং থেকে জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত বেশ কয়েকটা সেনাবাহিনীর ক্যাম্প আছে এইগুলোর সীমানাতে ছবি তুলা নিষিদ্ধ)

৫ম দিন, ১ জানুয়ারি (বুধবার):

সকালের নাস্তা করে ৯ঃ৩০ দিকে গাড়ি নিয়ে আমরা ছাঙ্গু লেকের উদ্দেশ্য রওনা দিলাম। যাওয়ার পথে আমাদের বলা হলো আমারা যেন ১.৩০ আগে ফিরে আসি Snow fall হবে, শুনে আমরা তো অনেক খুশি। ১১ঃ৪০ আমরা ছাঙ্গু লেক পৌছায়, আমরা যখন ছাঙ্গু লেক পৌছায় তখন আকাশে মিষ্টি রোদ ছিল। কিছুক্ষণের মধ্যে আকাশের ওই ঝকঝকে রোদের বদলে চারিদিকে মেঘের আনাগোনা দেখতে শুরু করলাম। পুরো এলাকা মেঘে সাদা হয়ে গেলো, ছাঙ্গুর দুইরুপ আমরা বেশ খানিকটা সময় নিয়ে উপভোগ করলাম। এর পর ১.৪০ গ্যাংটক উদ্দেশ্য রওনা দিলাম, ৪.০০ টার মধ্যে হোটেল এ চলে আসলাম দুপুরে খাবার খেয়ে শপিং এর উদ্দেশ্যে চলে গেলাম (MG Market, Big Bazar) সাথে সিকিম এর streets food খেয়ে নিলাম। এতো পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন শহর আর দেখিনি, কোথাও এক টুকরো কাগজ বা পলিথিন পড়ে থাকতে দেখিনি, গ্যাংটক শহরে পাবলিক প্লেসে ধূমপান একদম নিষিদ্ধ। কেউ পাবলিক প্লেসে ধূমপান বা ময়লা ফেলতে ধরা পড়লে বেশ বড় অঙ্কের জরিমানা গুনতে হয়। আর সবাই খুব সুন্দরভাবেই আইন মেনে চলে। এমনকি পুরো সময়টায় গাড়ির হর্ণ কয়বার শুনেছি গুনে বলে দেয়া যাবে। আর ওখানের মানুষগুলোও খুবই সৎ আর হেল্পফুল, ৮.০০ টার মধ্যে রুমে গিয়ে রাতের খাবার রেষ্ট নিলাম।

৬ষ্ঠ দিন, ২ জানুয়ারি (বৃহস্পতিবার) :
আজকের দিন হলো আমাদের ট্যুর এর শেষ দিন।
খুব সকালে ঘুমে থেকে উঠে নাস্তা করে মিনি বাসে সব ব্যাগ গুলো সাজিয়ে ৭.৩০ এ চ্যাংরাবান্ধা উদ্দেশ্য রওনা দিলাম। টার্গেট রাস্তায় দুপুরের খাবার খেয়ে নিব (শিলিগুড়িতে), কিন্তু কপাল খারাপ থাকলে আর কি করার রাস্তায় ৫.৩০ ঘন্টার প্যারা মত জ্যামের সাথে ড্রাইভারের প্রকৃতির ডাকে সাড়া দেওয়ায় চ্যাংরাবান্ধা আসতে ৬.১০। মানুষের জীবনে ১০ মিনিট যে কতটা মূল্যবান এইদিন বুঝতে পারলাম😏😣৬.০০টায় বর্ডার বন্ধ হয়ে গেছে। আর কি করার বর্ডারের পাশে অথিতিশালায় রাতে থাকা ও পাশের হোটেল এ রান্নার ব্যাবস্থা করে রাতের খাবার খেয়ে ঘুম।

বরকতময় শেষ দিন (শুক্রবার):

সকালে সবার আগে ইমিগ্রেশন পার করে ১০.০০ টার মধ্যে বুড়ীর হোটেল এ আসে বুফে (হাস, খাসি, মুরগী, মাছ) দিয়ে সেরাম ভোজন।
১.৩০ এ বরকত (বাস) নিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্য যাত্রা, রাতে ১.০০ টায় গাবতলি চলে আসলাম, ট্যুর এর ইতির মধ্যে।
প্রায় ২২০০ কি.মি জার্নি শেষ।

Source: Sabbir Khan‎< Travelers of Bangladesh (ToB)

30 Dec 2019

ভারতের মেঘালয় ঘুরতে যেতে চান কিন্তু অফিস থেকে বড় ছুটি পাচ্ছেন না অথবা আকাশে লক্ষ তারার মেলা, গৃহত্যাগী জোস্নাময় শীতের রাতে পাহাড়ি নদীর ধারে তাবুবাস করতে চান সাথে ক্যাম্প ফায়ার, অথবা স্বচ্ছ জলের বহমান পাথুরে নদীতে ঝাপাঝাপি অথবা স্নোরকেলিং/ কায়াকিং/বোটিং করতে চান তবে এই ট্যুরটি আপনার জন্য। মাত্র দুই দিন সময় হাতে নিয়েই ঘুরে আসতে পারেন মেঘালয়ের স্বচ্ছ জলের গ্রাম “সোনাংপেডেং”।

সোনাংপেডেং ভারতের মেঘালয় রাজ্যের জৈন্তা হিলস জেলার অন্তর্গত একটি পাহাড়ি অপরুপ গ্রাম। গ্রামটি বাংলাদেশের তামাবিল বর্ডার থেকে মাত্র ৫ কিলোমিটার এবং মেঘালয়ের রাজধানী শিলং থেকে ৯৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। সোনাংপেডেং এর সৌন্দর্যের প্রধান আকর্ষন এই গ্রামের ভিতর দিয়ে বয়ে চলা স্বচ্ছ, সবুজ জলের পাথুরে নদী “উমংগট”। এই নদীটিই জাফলং সীমান্ত দিয়ে গোয়াইন নদী নামে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। উল্লেখ্য এই নদীর বাংলাদেশে প্রবেশ মুখেই সিলেটের বিখ্যাত পর্যটন কেন্দ্র জাফলং অবস্থিত।সোনাংপেডেং যেতে হলে ভিসায় পোর্ট “বাই রোড ডাউকি” থাকতে হবে। তো চলুন ঘুরে আসি স্বচ্ছ জলের গ্রাম “সোনাংপেডেং”।

সকাল ৫ টা, সিলেটের কদমতলী বাসস্ট্যান্ড। ঢাকাতে শীত না থাকলেও সিলেটে যে শীত বিদ্যমান তা ভালো ভাবেই বুঝতে পারছিলাম। বাস থেকে নেমে নাস্তা সেরে সকাল ৯ টার মধ্যে চলে আসি তামাবিল স্থলবন্দরে। পোর্ট এ কোন ভীড় নেই। কিন্তু এখানেই ঘটলো বিপত্তি। পোর্ট এ এখন আর ট্রাভেল ট্যাক্স দেয়া যায় না। ট্রাভেল ট্যাক্স জমা দিতে হবে জৈন্তাপুর এ। কি আর করার আবার বেক করে জৈন্তাপুর এসে ট্রাভেল ট্যাক্স জমা দিয়ে আবার পোর্ট এ আসতে আসতে ঘড়িতে সময় ১০.৩০ মিনিট।

ভীড় নেই, খুব অল্প সময়ের মধ্যে বাংলাদেশ সাইডের ইমিগ্রেশন শেষ করে প্রবেশ করলাম ভারত ভূখন্ডে এবং ভারতীয় ইমিগ্রেশন শেষ করে ইমিগ্রেশন ভবনের সামনে জীপ স্ট্যান্ড হতে চার আসনের গাড়ি রিজার্ভ করে ফেলি। আমাদের প্রথম গন্তব্য ক্রাংসুরি ফলস। গাড়ি আমাদের ডাউকি বাজার হয়ে ক্রাংসুরি ফলস ঘুরিয়ে সন্ধায় সোনাংপেডেং এ নামিয়ে দেবে। ভাড়া ২০০০ রুপি। ডাউকি বাজার থেকে আমরা সিম ও রুপি সংগ্রহ করে নেই। আমাদের মূল লক্ষ্য সোনাংপেডেং এ ক্যাম্পেইন হলেও ক্রাংসুরি ফলস দেখাটা ট্যুরের বাড়তি পাওনা।

প্রতিবার সিলেট ঘুরতে এসে মেঘালয় পাহাড় গুলো দেখে দেখে ছুতে না-পারার মন খারাপের গল্পগুলোর আজ বিপরীত দিক, গাড়ি ছুটে চলছে মেঘালয় পাহারের উপর দিয়ে। মাঝে মাঝে গাড়ির জানালা দিয়ে পাহাড়ের নিচে চোখে পরছে আমার প্রিয় বাংলাদেশ। ডাউকি টু ক্রাংসুরি ফলস যাওয়ার রাস্তার সৌন্দর্য দেখে বিমোহিত হয়ে রাস্তার প্রতিটি বাঁকে বাঁকে গাড়ি দাঁড় করিয়ে ছবি তোলার ইচ্ছাটা অনেক কষ্টে দমন করতে হচ্ছিলো৷ ঘন্টাখানেকের মধ্যে আমরা চলে আসি ক্রাংসুরি। গাড়ি থেকে নেমে প্রথমেই ঢুকে পরি রেষ্টুরেন্টে কারন এখনো দুপুরের খাবার খাওয়া হয়নি। প্রচুর ক্ষুধার্ত, তাই আগে চাই পেট পুজো।

পেট পুজো শেষে পাহাড়ের বুকে বানানো সিড়ি দিয়ে নিচে নামতে শুরু করলাম৷ অল্প কিছু সময় নামার পর দূরে দৃশ্য মান হলো ক্রাংসুরি ফলস। ফলসের উপরিভাগটা দেখতে অনেকটা নদী মতো। যার সামনে একটি বাঁধ দেওয়া আছে। আর সেই বাঁধ থেকেই পানি উপচে ফলস এ পরছে। প্রায় দশ পনেরো মিনিট নিচে নামতেই পেয়ে গেলাম ক্রাংসুরি ফলসের টিকেট কাউন্টার। এখান থেকে জন প্রতি ৫০ রুপি করে টিকেট সংগ্রহ করে প্রবেশ করি নীলপানি’র ঝর্ণাকুন্ড ক্রাংসুরি ফলস।

বর্ষায় ঝর্ণার যে যৌবন ফুটে উঠে এখন তা নেই। পানির পরিমান খুবি কম কিন্তু এখন এক অদ্ভুত সৌন্দর্য নিয়ে বসে আছে ক্রাংসুরি। কাচের মতো স্বচ্ছ পানি, উপর থেকে মনে হচ্ছিলো গারো নীল।৷ ঝর্ণার এমন স্বচ্ছ ও নীল রং এর আগে কখনো দেখিনি। ঝর্ণার সৌন্দর্য দেখে স্বচ্ছ জলে ঝাপ দেয়ার চিন্তাটা মাথাথেকে ঝেরে ফেলতে হলো জলে পা দেয়ার সাথে সাথে। ভয়ংকর রকমের ঠান্ডা পানি। এই পড়ন্ত দুপুরে এক মাত্র আকিব ভাইই আমাদের মধ্যে পানিতে নামার সাহস দেখান। যদিও পানি থেকে উঠার পর যা ঘটেছিলো তা ইতিহাস। এই জলে নামতে হলে ৩০ রুপি দিয়ে লাইফ জ্যাকেট ভাড়া করে নামতে হবে। লাইফ জ্যাকেট ছাড়া কাউকে পানিতে নামতে দেওয়া হয় না। আপনি চাইলে ঝর্ণার উপরিভাগে বাঁধের ওপাশে নীল জলে লাল রঙের বোটে বোটিং করতে পারেন। আমরা ঝর্ণায় সৌন্দর্য দেখে এতটাই বিমোহিত হয়েছিলাম যে ঐ দিকে যাওয়ার ইচ্ছেই হয় নি।

হিম হিম ঠান্ডা বাতাস৷ সন্ধা গড়িয়ে রাতের আধার গ্রাস করে নিয়েছে প্রকৃতিকে। এমন সময় আমরা পৌছলাম সোনাংপেডেং এ। সোনাংপেডেং এ ঢোকার সময় “সোনাংপেডেং ডিফেন্স পার্টির” কাছথেকে ৩০ রুপি দিয়ে গাড়ি প্রতি প্রবেশ টিকেট নিতে হলো।

এবার আমাদের ট্যুরের মূল আকর্ষন সোনাংপেডেং এর উমংগট নদীর তীরে তাবু বাসের পালা। দ্রুত তাবু ভাড়া করে ফেলি। তাবু আমাদের ফেলতে হয়নি, যাদের কাছ থেকে ভাড়া নিয়েছি তারাই ফেলে দিয়েছে। দুই জনের সাইজের তাবু ভাড়া ৭০০ রুপি এবং ৩ জনের সাইজের তাবু ১০০০ রুপি। আপনারা চাইলে কটেজেও থাকতে পারেন। তবে সোনাংপেডেং এ ক্যাম্পেইন কারাটাই আমার মতে বেষ্ট। ক্যাম্প সাইটের হোটেলে রাতের খবারের অর্ডার দিয়ে দেই। খাবার তাবুতে পাঠিয়ে দেবে। আপনারা চাইলে হোটেলে এসে খেতে পারেন।

নদীর পাশে বালুর উপর আমাদের তাবু ফেলা হয়েছে। প্রচন্ড ঠান্ডা বাতাস, তাবুর সামনে পাথড়ের উপর বসলাম, আকাশে অদ্ভুত চাঁদটি নেই কিন্তু লক্ষ লক্ষ তারা জ্বল জ্বল করছিলো। আর সামনে নদীর ওপারে বিশালাকার সুউচ্চ পাহাড় টা আধারে মনে হচ্ছিলো বড় পর্দার মতো। আমাদের তাবুর আসেপাশে অনেক গুলো তাবু। বেশ কিছু তাবুর সামনে ক্যাম্প ফায়ার জ্বল ছিলো। রাতের আধার নদীর জলের স্বচ্ছতাকে গ্রাস করে নিলেও ক্যাম্প ফায়ারের আলো আর পাথুরে নদীর জল-পাথরের অপূর্ব সংগীত দুই মিলে তৈরি করছিলো এক অদ্ভুত মাদকতা, এরই মাঝে আকিব ভাই নিজের গলায় ধরে ফেললেন “বেধেছে এমনো ঘর শূন্যের উপর পোস্তা করে….. ধন্য ধন্য ও বলি তারে…..।

যখন ঘুম ভাঙ্গলো তখন সময় সকাল ৭ টা। বাহিরে প্রচন্ড ঠান্ডা বাতাস। অলসতা ঝেরে ফেলে তাবু থেকে বের হয়ে গেলাম কারণ দিনের আলোয় এখনো সোনাংপেডেং দেখা হয়নি। ক্যাম্পেইন জোনের পাশেই রয়েছে পর্যটকদের জন্য বাথরুম ও ফ্রেশ হওয়ার স্থান। ফ্রেশ হয়ে, নাস্তা করে প্রথমেই চলে যাই সাসপেন্স ব্রীজে। ব্রীজের উপর থেকে নিচে নদীর স্বচ্ছ জল দেখতে গাড়ো নীল। পানির নিচে প্রতিটি পাথর দেখা যাচ্ছিলো। ক্যামেরার প্রতিটি ক্লিকে পানির রং এর ভিন্নতা ধরা পড়ছিলো। নৌকা গুলো দেখে মনে হচ্ছিলো যেন স্বচ্ছ কাচের উপর ভাসছে। সাসপেন্স ব্রীজই সোনাংপেডেং এর সৌন্দর্য উপভোগ করার বেষ্ট স্থান।

ভয়ংকর ঠান্ডা পানি। কিন্তু এই জলে ঝাপাঝাপি করার লোভ সামলানো সম্ভব নয়। তাই সূর্যে তাপ একটু বাড়ার অপেক্ষায়। মধ্য গগনে সূর্য। ৫০ রুপি দিয়ে লাইফ জ্যাকেট ভাড়া করে নেমে পরলাম হাড় কাপানো ঠান্ডা জলে (লাইফ জ্যাকেট নেয়া বাধ্যতামূলক)। কখন যে চলে গেছে ২ ঘন্টা বুঝতেই পারিনি। যদিও আমাদের আজ দেশে ফিরতে হবে। অবশ্য এটা কোন সমস্যা না কারন পোর্ট খোলা থাকে বিকেল ৫ টা পর্যন্ত (ইন্ডিয়ান সময়)। তাই ঠান্ডা কে জয় করে আরামছে ঝাপাঝাপি চলতে থাক।

দুপুর ৩ টা। সোনাংপেডেং কে বিদায় জানিয়ে গাড়ি রিজার্ভ করে চলে আসি ডাউকি বাজার (সোনাংপেডেং টু ডাউকি বাজার লোকাল গাড়িউ আছে)। আপনারা চাইলে সোনাংপেডেং থেকে সরাসরি পোর্ট এ চলে যেতে পারেন। আর যদি আমাদের মতো হাল্কা কেনাকাটা করতে চান তবে চলে আসুন ডাউকি বাজার। ডাউকি খুব ছোট একটি বাজার। খুব বেশি কিছু নেই। তাই টুকটাক কেনাকাটা করে মেঘালয় কে বিদায় জানিয়ে দেশের পথে।

নদী বা ঝর্নার পানিতে অপচনশীল কিছু ফেলবেন না। পরিবেশর ক্ষতি হয় এমন কার্যকলাপ থেকে বিরত থাকুন।

Source: Ariful Rajib‎<Travelers of Bangladesh (ToB)