Archives

সাধারণ প্রশ্ন উত্তর (FAQ)

19 Jun 2019

পাথাড়িয়া পাহাড়ের এই মায়াময় টিলা দেখে আমাদের চোখে লাগে অতি বিষ্ময়কর সৌন্দর্য্য। মায়ময় পবিত্র সুন্দর।

সিলেটের মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা থেকে আমরা মটর সাইকেলে চেপে রওয়ানা করেছি। সঙ্গী জুলফিকার তাজুল, আশফাক অনিক, কামরান এবং আমি। পিছ ডালা পথে মটরসাইকেল এগিয়ে চলেছে। দক্ষিণভাগ পৌছার পর আমরা বামের পথ ধরি। কলাজুরা পৌছার পর মিলে দুই রাস্তার মোড়। একটি গেছে পূর্ব দিকে অন্যটি ডানে। আমরা ডানে চলি। আকাবাকা মসৃণ রাস্তা। কলাজুরা স্কুল থেকে কিছুটা এগোলেই দু দিকেই সবুজের মহামিলন। সারিবদ্ধ আগর বৃক্ষ দেখে সহজেই প্রাণ জুড়িয়ে যায়। সাইক্লিস্ট এবং মটর বাইকারদের জন্য এ যেন স্বর্গ- সড়ক।

আমাদের বাইক- ইয়াত্রা কিন্তু থেমে নেই। চলছিতো চলছি আর অবাক হয়ে দেখছি সবুজ বৃক্ষ পত্রের আনন্দ সম্মিলন।
বড় ভালো লাগে আমাদের। চলতে চলতে একটি ভালো জায়গা পেয়ে যাই। পূর্ব দিকে পাথারিয়া পাহাড়, আর পাহাড়ের ডানে নান্দনিক টিলাবাড়ি, বাড়ি গুলা সবুজ বৃক্ষে মাখামাখি। আমাদের মন ভালো হয়ে যায়। হাসি আনন্দে ছবি তুলে কিছুটা সময় কাটাই। জুলফিকর তাজুল তার পকেট থেকে বের করে আমসত্ত ।
প্রকৃতির এই নিস্বর্গ নিকেতন দেখে বন্ধুদের মুখ থেকে বের হয়ে আসে ওয়াও, বড়ই সৌন্দর্য্য, সুবহানাল্লাহ।

এবার মেলে জামকান্দি বস্তি বাজার। তার পর দুরগাপুর বাজার। রাস্ত একটি গেছে পূর্ব দিকে অন্যটি সোজা দক্ষিণে। পূর্বের রাস্তা ধরলে পাবেন পেট্রোবাংলা গ্যাস ক্ষেত্র। আমরা দক্ষিণে চলি। কিছুটা এগোলে দৃষ্টি নন্দন একটি বাড়ি। এটা কুটু বলাই মিয়ার বাড়ি। বাড়ি ছেড়ে সামনের পথ এগোলে আমরা ফের একটুখানি জিরিয়ে নিই। এই জায়গাটা কাশ্মিরের আরু ভেলির মতো মনকাড়া হাসিন সুন্দর। আপনি সুনামগঞ্জের তাহিরপুর বা নওগার পত্নিতলা, ঢাকার জিগাতলা কিংবা চট্রগ্রামের সাতকানিয়া থেকে আসেন। তবে লিখে রাখুন এই পর্যন্ত দেখলে আপনার ট্যুর উসুল হয়ে যাবে। আর যদি ফটোগ্রাফার হোন তবে জেনে রাখুন বন্ধদের চমকে দেওয়ার মতো কিছু ছবি পাবেন।

ভালো আলাপ জমে স্থানীয় কিছু বন্ধুদের সঙ্গে। তারা পাহাড়ের অনেক গল্প শুনালেন। এদের একজন দুবাই প্রবাসি। কুটু বলাই সাহেবের ছেলে। তিনি মেহমান নওয়াজি, একটুখানি আটা আদর করবার জন্য জোর জবরদস্তি করলেন। সময় সল্পতার কথা বলে, থ্যাংকস গিভিং জানিয়ে, শেইক হ্যান্ড করে বিধায় নিলাম। এই অঞ্চলের মানুষ বড় দিলদার। নরম-সরম খোশ ব্যবহার। যার সঙ্গে আলাপ করেছি, তিনি তার বাড়িতে যেতে নিমন্ত্রন জানিয়েছেন। আর প্রতিটি বাড়ি নানান মৌসুমি ফলগাছে ভরপুর। কাঠাল আর কলা সব বাড়িতে পাবেন। এখন শুধু পূর্ব দিকে দেখছি। কারণ পাথারিয়া পাহাড় সবুজ শাড়ির আছল বিছিয়ে রেখেছে, চোখ ফেরানো দায়। তার পর এভাবে দেখতে দেখতে দেখা পেয়ে যাই-মহামায়া টিলা। এর সৌন্দর্য্য সব হিসাব পাল্টে দেয়।
আমরা মটর সাইকেল থেকে নামি। খোলামেলা টেরাসের মতো জায়গা। একটা ছোট পাহাড়ি প্রবাহমান ছড়া পাড়ি দিই। এর নাম শুকনা ছড়া। এর পর ওয়াও ওয়াও শব্দ করে শুধু দৌড় আর দৌড়। টিলার উপরে উটে দেখি মনোহরণ বিষ্ময়কর রূলপ। আহা কি ভাবে যে এর বর্ণনা দিই।

টিলাকে স্থানীয়রা গরছা টিলা নামে ডাকেন। টিলা জুড়ে সবুজ গাসের ইরানি গালিচা। পূর্বে সেগুন বাগান, তারপর গহিন বন। শুধুই হারি রং -সবুজ সুন্দর। পশ্চিমে, উত্তরে ধানি জমি,।তারপর দুরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে টিলা বাড়ি। দক্ষিণে শিলুয়া চা-বাগান, তাও ঘন সবুজ। উপরে নীল আকাশ। সীমাহীন অপার মুগ্ধতায় আমরা তব্দা মেরে বসে পড়ি। সবুজ ঘাসে শুয়ে শুয়ে গড়াগড়ি খাই। তার পর খুশিতে দুই হাত, দুই পা তুলে আকাশ পানে ফাল দিই। অনেকক্ষণ পাথারিয়া পাহাড়ের- মাহামায়া টিলায় আনন্দ সময় কাটিয়ে রওয়ানা দিই কচুরগুলের উদ্দেশে।

এখানে প্রচুর কমলার আবাদ হয়। তার পর লাঠি টিলা, যেখানে এখন ও দেখা যায় বন মোরগ, কিং কোবরা সাপ আরো অনেক ওয়াইল্ড লাইফ। সন্ধ্যা হয়ে এসেছে, আকাশ থেকে নেমেছে ঝুম বৃষ্টি। আমরা বৃষ্টি স্নানে জুড়িতে আসি। এখানে আছে সুভাষ বাবুর মিষ্টির দোকান। রসগোল্লা বুন্দিয়া গরম পরটা খেয়ে কামিনি গঞ্জ বাজারে যাই সিরাজের দোকানের বিখ্যাত চা খেতে। তার পর বড়লেখার উদ্দেশে ফেরা।

##যে ভাবে যাবেন:
সিলেট ঢাকা চট্রগ্রাম যে কোন জায়গা থেকে বড়লেখা আসুন। ঢাকা থেকে শ্যামলি এবং এনা বাস পাবেন। ভাড়া পাচঁশত টাকা। ট্রেন ও পাবেন উপবন, জয়ন্তিকা, পারাবত। বড়লেখা এসে সিএনজি রিজার্ভ করে সোজা চলে আসুন নাসিরাবাদ বাজার, যে কাউকে বললে দেখিয়ে দিবে শুকনা ছড়ার রাস্তা।

Source: Shahin Ahmed‎ <Travelers of Bangladesh (ToB)

19 Jun 2019

আমাদের উড়িষ্যা ভ্রমণের সবশেষ গন্তব্য ছিলো কটক। কটক ভুবনেশ্বর কিংবা পুরীর মতন তেমন পপুলার কোন ট্র্যাভেল ডেস্টিনেশন না কিন্তু উড়িষ্যার প্রাচীন রাজধানী কটকের নাম এত বেশি বার শুনেছি যে যাবার লোভ সামলাতে পারি নি। পুরী থেকে ১৮০০ রুপিতে ট্যাক্সি ভাড়া করে কটকের পথে রওনা দেই সকাল থাকতেই। পুরী থেকে কটক ৮২ কিমি। দুই ঘন্টার মত সময়েই পৌঁছে যাই।

কটকে আগে থেকে হোটেল বুক করা ছিলো না। গাড়ির ড্রাইভারই হোটেল অশোক নামে একটা হোটেলে নিয়ে যায়। তিনজনের জন্য ব্রেকফাস্টসহ এসি রুম ১৮০০ রুপিতে ঠিক করি। রুম বেশ বড় এবং ভালো ছিলো।

ব্রেকফাস্ট করে সকাল এগারোটার দিকে কটক ঘুরতে বের হই। একটা ট্যাক্সি হোটেল থেকেই ভাড়া করি। ১৫০০ টাকায় সারাদিন কটকের সব প্লেস ঘুরিয়ে আনবে। আগেও বলেছি, কটকে সেরকম কিছু দেখার নেই, তারপরেও নতুন একটা শহর এক্সপ্লোর করতে কারই না ভালো লাগে!

প্রথম গন্তব্য ছিলো ধবলেশ্বর। মহানদী নামক নদীর তীর ঘেঁষে ধবলেশ্বরের পথে ট্যাক্সি ছুটে চললো। শহর থেকে প্রায় ২০ কিমি দূরে অবস্থিত এই মন্দির একটি দ্বীপের ভেতর অবস্থিত। ঝুলন্ত একটি সেতু পার করে ধবলেশ্বর মন্দিরে যেতে হয়। যাবার রাস্তার ভিউ সত্যিই অসাধারণ ছিলো। একদম নদীর মাঝখান দিয়ে বিশাল এক সেতু পার হয়ে যাওয়া। তার দুইপাশে পাহাড়। ধবলেশ্বর শিবমন্দির ঘুরতে ঘুরতে দুপুর পার হয়ে গেলো। তারপরে কটক শহরে ফিরে আসা।

শহরে আসার পথে ডিয়ার পার্ক, জোবরা ব্যারেজ ও উড়িষ্যা স্টেট ম্যারিটাইম মিউজিয়াম দেখার পালা। ডিয়ার পার্ক তেমন আকর্ষণীয় না, তবে বাকি দুটো জায়গা বেশ সুন্দর।

এরপরে শহরের প্রাণকেন্দ্র বারাবতী ফোর্ট এলাকায় যাওয়া। সবচেয়ে বড় ধোকা বোধহয় এই জায়গাটাতেই খেয়েছি। ফোর্টের সুন্দর গেট পার হয়ে যতই ভেতরে যাচ্ছি, কিন্তু ফোর্ট আর দেখা যায় না! একের পর এক মানুষের বাড়ি, কটক ক্লাব, রাস্তাঘাট সবই আছে কিন্তু ফোর্ট আর নাই! পরে জানলাম, কালের গর্ভে সবই হারিয়ে গিয়েছে। খুবই হতাশ হয়ে গেটের সামনে ছবি তুলেই ফেরত আসি।

ফোর্টের পাশেই ছিলো কটক স্টেডিয়াম। বেশ কিছু ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট ম্যাচও হয়েছে এই স্টেডিয়ামে। তারপর ঢাকায় যেমন ঢাকেশ্বরী, ঠিক তেমনি কটকের অধিষ্ঠাত্রী দেবী কটকচন্ডী মন্দির ঘুরতে গেলাম। মন্দির থেকে শেষ গন্তব্য নেতাজী পার্ক। নেতাজী সুভাষচন্দ্রবসুর জন্মস্থান এই কটকেই। বর্তমানে বাড়িটিকে একটি মিউজিয়ামে রূপ দেয়া হয়েছে। কটকের সবচেয়ে বিখ্যাত বোধহয় এই স্থানটিই। নেতাজীর স্মৃতিসংবলিত এই বাড়ি তথা মিউজিয়াম ঘুরতে ঘুরতে বিকেল পেরিয়ে গেলো।

সবশেষে শপিং আর খাওয়া। মিলেনিয়াম সিটি এবং সিলভার সিটি খ্যাত কটক ব্যবসায়িক দিক দিয়ে বেশ সমৃদ্ধ। তাই শপিং মল আর বড় বড় ব্র্যান্ডের দোকানের অভাব নেই। আর কটকের বিখ্যাত আরেকটি জিনিস আছে। সেটি হলো সিল্ক, কটকের বিখ্যাত কটকী সিল্ক।

রাতে কটকের রাস্তাঘাট, রেলওয়ে স্টেশন, পুরো শহর একবার চক্কর দিয়ে আসি। আমাদের হোটেলের ঠিক পাশেই সুন্দর কিছু বুকশপ ছিলো, পিজ্জাহাট ও ডমিনোসের আউটলেট ছিলো। রাতে সেখানথেকেই খাওয়া-দাওয়া করি।

শেষ দিনঃ

পরবর্তী দিন সকালে ভুবনেশ্বরে ফেরা। কটক থেকে ভুবনেশ্বরের দূরত্ব মাত্র ২৮ কিমি। সরাসরি এয়ারপোর্টে গিয়ে ১২:৫৫ মিনিটে এয়ার এশিয়ার ফ্লাইটে কোলকাতা চলে আসি এবং সেই সাথে উড়িষ্যা ট্যুরেরও সমাপ্তি ঘটে।

টিপস-
১. উড়িষ্যাতে মন্দির বা প্রাচীন স্থাপত্য বেশি হলেও উড়িষ্যায় বন-জঙ্গল, জলপ্রপাতেরও অভাব নেই। সাতকোশিয়া ওয়াইল্ডলাইফ স্যাংচুয়ারি কিংবা ভারতের দ্বিতীয় কাশ্মির খ্যাত দাড়িংবাড়ি উড়িষ্যাতেই অবস্থিত। সময় সুযোগ হলে আমি নিজেও সেসব জায়গায় যাবার ইচ্ছা রাখি।

২. উড়িষ্যার হস্তশিল্প অসম্ভব সুন্দর। স্যান্ড আর্ট, স্টোনআর্ট, অ্যাপ্লিক, পটচিত্র সবরকমের আর্ট-ক্রাফটসের জিনিস উড়িষ্যায় পাবেন।

৩. উড়িষ্যার ভেজ কুইজিন খুবই টেস্টি। উড়িষ্যা ভ্রমণে আপনাদের বিশেষ পাওয়া হবে উড়িষ্যার খাবার।

৪. ১০০০০ রুপি বাজেটেই কোলকাতা থেকে ট্রেনে সুন্দরমতন ৫দিন ভুবনেশ্বর, পুরী এবং কটক ঘুরে আসতে পারবেন।

Source: Sushanto Saha‎ <Travelers of Bangladesh (ToB)

13 Jun 2019

প্রথমেই বলে নিচ্ছি আমি কথা গোছালো ভাবে লিখতে পারি না।
তাই যতটুকু পারি,চেস্টা করছি শেয়ার করার।

অনেক দিন ধরেই প্ল্যান করছিলাম সিংগাপুর, মালেশিয়া যাওয়ার জন্য। একদম ব্যাকপ্যাকিং স্টাইলে,খুব কম খরচে এবং প্রধান উদ্দেশ্য পাসপোর্ট এ স্টাম্প নেয়া। বলে রাখা ভালো আমার এর আগে বিদেশ বলতে শুধু মাত্র ইন্ডিয়া আর নেপাল যাওয়া পর্যন্তই এর বেশী কখনো সাহস করতে পারি নি।

তো ভিসা করতে দিলাম একটি এজেন্সীর কাছে,ডকুমেন্ট যা চাইলো সবই দিলাম।
এরপরই এয়ার ফেয়ার নিয়ে ঘাটাঘাটি শুরু করলাম কিভাবে কমে পাওয়া যায় টিকেট।অনেক খোজাখুজির পর কোন ভাবেই কমে পাচ্ছিলাম না।পরে কিছুটা ঘাটাঘাটি,সময় এইদিক ও দিক করে দেখি অনেক কম এ এয়ার ফেয়ার হয়ে যায়। তবে আমি যদি কলকাতা হয়ে যাই, তাহলে যে টাকা বাচবে তাতে আমার ইন্ডিয়া সফরও হয়ে যায়।আর এমনিতেও কিছু দিন পর আমার সারনাথ ও কুশিনগর যাওয়ার ( বৌদ্ধ ধর্মালম্বীদের জন্য তীর্থস্থান)। বাজেট কিছুটা বাড়িয়ে তাই এইটুকুও এড করে নিলাম।

ভারত পার্ট :

প্রথমে ঢাকা থেকে সফর শুরু করে গেলাম কলকাতায়। সেখানে লোকাল স্পট ( পার্ক এবং মাদাম তুসো জাদুঘর) দুটি ঘুরে পরের দিন গেলাম বারানসীর সারনাথে। সেখানে লোকাল স্পট বিভিন্ন ঘুরে তার পরের দিন চলে যাই কুশীনগর। বলে রাখা ভালো স্পট গুলো ছিলো গৌতম বুদ্ধের স্মৃতিবিজিরত জায়গাসমূহ এবং দুইটি জায়গাই খুবই গরমের।
সেখান থেকে এর পরদিন বারানসী ঘুরে চলে আসি কলকাতায়। সেই রাতেই কলকাতা থেকে চেপে বসি সিংগাপুরের উদ্দেশ্যে।

সিংগাপুর পার্ট :
সিংগাপুর দেশটুকু ছোট হলে কি হবে, সম্পূর্নরুপে সাজানো গোছানো। ওদের এয়ারপোর্টই বলা যায় একটি ট্যুরিস্ট স্পট!যদি ঠিকমতো এয়ার্পোট ঘুরেন,শপিং মল গুলোয় ঢু মারেন তাহলেই বলা যায় ১ দিন চলে যাবে। ডিজিটালাইজড পুরোপুরি। ইমিগ্রেশন এ তেমন একটা ঝামেলা হয় নি। কিছু বেসিক প্রশ্ন করে সিল দিয়ে স্বাগতম জানালেন তাদের দেশে।এয়ারপোর্টেই একটি ইন্টারনেট সিম নিয়ে নিলাম ৩২ সিংগাপোরিয়ান ডলারে যেটা আমাকে মালেশিয়া,সিংগাপুর,ইন্দোনেশিয়া ও থাইল্যান্ডে কানেক্টেড রাখবে ১৫দিনের জন্য।
দুপুরের মধ্যে ডিকশন রোডের একটি হোটেল এ পোছে আগে থেকে ঠিক করে রাখা হোটেল এ চেক ইন করে বের হয়ে পড়ি আসপাশে খাবার এবং কম খরচে বাকিদিনের জন্য হোটেল খুজতে। বের হতেই মোটামুটি বুঝতে পারলাম ইন্ডিয়া,পাকিস্তানি,বাংলাদেশী ভরা একটি এলাকায় উঠেছি। একটু হাটাহাটি করতেই ইন্ডিয়ান মালিকানাধীন একটি হোস্টেল পেয়ে গেলাম খুবই কম দামে।
পরের দুই দিন এর জন্য বুক করে মতিঝিলের সুনামধন্য হীরাঝিলের সিংগাপুর শাখায় খাবার সেরে নিলাম।
খেয়ে চলে গেলাম ” Garden by the bay ” নামক স্পটে।সেখানে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের ফুল ও উদ্ভিদের সমাহার যা আপনাকে মুগ্ধ করবে। সেখানে ঘোরাফেরা করে রাতে ফিরলাম রুমে। পরের দিনের প্ল্যান করলাম রিসোর্ট সানটোসা ঘোরার। সেখানে ইউনিভার্সাল স্টুডিও ও সি ওয়ার্ল্ডে ঘুরতেই দিন শেষ হয়ে গেলো।
পরের দিন জুরান বার্ড পার্ক এ পাখিদের সমাহার দেখার পর গেলাম মার্লিন বে তে। সন্ধ্যার মনোমুগ্ধকর লাইটের খেলায় এই দিন সমাপ্ত হয়।
রুমে গিয়েই গুছগাছ করে পরের দিন ইন্ডোনেশিয়া যাওয়ার প্রস্তুতি নিলাম।

ইন্ডোনেশিয়া পার্ট :
ইন্ডোনেশিয়ার বিন্টান নামের একটি আইল্যান্ড আছে যেটা কিনা সিংগাপুরের একদমই কাছে! ফেরীতে মাত্র ১ ঘন্টা লাগে। তাই প্ল্যানে একটা রাত থেকে পাসপোর্ট এ স্টাম্প নেয়াই ছিও মূলত উদ্দেশ্য। তবে দ্বীপটি এত্ত বেশী সুন্দর হবে ভাবি নি।বিন্টান এ ৩ টি ফেরীঘাট রয়েছে তার মধ্যে ১টি শুধুমাত্র রিসোর্টে আসা ট্যুরিস্টদের জন্য বানানো।প্রতিটি রিসোর্টেরই কমপ্লিমেন্টারি ফেরী ঘাট থেকে আপ – ডাউন এর ব্যাবস্থা আছে।এমনকি দ্বীপটির একপাশে শুধুমাত্র রিসোর্ট রয়েছে,পুরো এলাকাটি মূল শহর থেকে আলাদা করে গড়া ও সিকিউরিটির ব্যাবস্থা করা।
আমি ছিলাম নির্ভানা গার্ডেন রিসোর্ট হোটেল এ। রির্সোটের মধ্যেই ৪ ক্যাটাগরিতে থাকার ব্যাবস্থা।
বাজেট অনুযায়ী যেখানে ইচ্ছা থাকতে পারেন।
যাওয়ার আগেই হিচ হাকিং এর ভিডিও দেখতে দেখতে ইচ্ছা ছিলো করার কিন্তু সাহস হচ্ছিলো না তাই মনে মনে ঠিক করেছিলাম হোটেল থেকে লোকাল স্পট ঘোরার জন্য অবশ্যই হিচ হাকিং এর চেস্টা করবো। ফেরীতেই এক ফিলিপাইনি কাপলের সাথে কথা হচ্ছিলো,আমার ইচ্ছার কথাও বললাম। ভাগ্যক্রমে একি হোটেলে থাকা হচ্ছিলো উনারা আমার কথা শুনে আগেই বলে বস্লেন নতুন করে খোজার দরকার নাই ওনাদের সাথেই ঘুরতে পারবো ফ্রি তে।
হোটেলে গিয়ে আর্লি চেক – ইন করে ফ্রেশ হয়ে শহরে ঘুরতে পারি।
শহরের বিভিন্ন স্পট ঘুরে,লোকাল ফুড টেস্ট করে রাতে চলে আসি। পরের দিন সকালে বীচ সাইড এবং রির্সোট ঘুরে দুপুরের ফেরি নিয়ে চলে আসি সিংগাপুরে। সেদিন আর কোথাও না থেকে কিছু শপিং করে চলে যাই সরাসরি এয়ারপোর্টে।
যেহেতু সকাল সকাল ফ্লাইট ছিলো লাংকাওয়ের উদ্দেশ্যে। বলে রাখা ভালো,১০০ ডলারের উপরে হলে অবশ্যই ভ্যাট রিফান্ড এর জন্য স্টোরে বলবেন।প্রায় ৬.৫/৭% ( ভুলে গিয়েছি) ভ্যাট্রিফান্ড পাবেন এয়ারপোর্টে।

মালেশিয়া পার্ট :
সিংগাপুর থেকে চলে আসি লাংকাওয়েতে। যেটি মালেশিয়ার অনেকগুলো দ্বীপের মধ্যে একটি।মজার ব্যাপার হচ্ছে পুরো দ্বীপটিই ডিউটি ফ্রি। তাই যদি শপিং এর ইচ্ছে থাকে,তাহলে এখান থেকেই করে নেয়া শ্রেয়।
যাইহোক,প্রথম দিনটি আমি রেস্ট হিসেবে রেখেছিলাম,নেমে বুঝলাম সিদ্ধান্তটি ভালোই ছিও কারন বৃষ্টি ছিলো প্রচন্ড।
রাতে বীচ ওয়াক আর স্ট্রীট ফুডের উপর দিয়েই কাটাটাম।
২য় দিন গেলাম ম্যাংগ্রোভ ফরেস্ট ও স্কাই ব্রিজে।স্কাই ব্রিজটি ছিলো আমার বাকেট লিস্টে আগে থেকেই!
সেখান থেকে ফিরে ফ্রেশ হয়ে সন্ধ্যায় গেলাম ঈগল পার্কে।
পরের দিন গেলাম হোপিং আইল্যান্ডে এবং ফিরে সন্ধ্যায় শপিং করে গুছিয়ে পরের দিন কুয়ালামাপুরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিতে।

কুয়ালাম্পুর :
সত্যি কথা বলতে আমার কুয়ালালামপুর চ্যাপ্টারটি ছিলো পুরোওউরি লস প্রজেক্ট। সময়ে অসময়ে বৃষ্টি একদম ধরা খাইয়ে দিয়েছে।
সাধারনত আমি সকাল সকাল ফ্লাইট নিয়েছিলাম যাতে করে সারাটা দিন পাই নতুন জায়গায়। কিন্তু এখানে এসে বিধিবাম। পেলাম না আর্লি চেকইন বুকিত বিন্টান এর ফুরামা হোটেলে। রুমে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে শুতেই সন্ধ্যা হয়ে গেলো
তাই বের হয়েই আগে খুজলাম কমের মধ্যে রুম।একটু হাটাহাটি করতেই পেলাম দেশী ভাইদের দেখা।
দেশী হোটেলে ভরপেট খেয়ে জানলাম দেশী হোটেল আছে। সেখানেই বাকি দুদিনের রুম ঠিক করে টাইম স্কয়ার ঘুরলাম।
পরের দিন জুতে গেলাম, কিন্তু গিয়ে দেখলাম এটি আসলে বার্ড জু।যেহেতু আমি সিংগাপুরের বার্ড পার্কে গিয়েছি তাই আর না গিয়ে পাশের অর্কিড গার্ডেনে ঘুরলাম। পরে গেলাম মন্দিরে। আবারো বিধিবাম,স্কাই টাওয়ারে যেতে যেতে বৃষ্টি। গিয়ে দেখলাম স্কাই ভিউ দেখা যাবে না ঝড়ের জন্য্য,অগত্যা অবজারভেশন ভিউতেই সন্তুষ্ট থাকতে হলো।
পথে টুইন টাওয়ারও দেখে আসলাম।

পরের দিন পুরোটা কাটালাম genting highland এ।
তারপরের দিন সকালে শপিং করে বিকালের ফ্লাইটে দেশে এসে সফর এর সমাপ্তি ঘটে।

যেভাবে যাবেন :
আমি গিয়েছিলাম সম্পূর্ন ফ্লাইটে।শুধুমাত্র সিংগাপুর – ইন্দোনেশিয়া – সিংগাপুর ছিলো ফেরী তে।

রুটটি ছিলো –
ঢাকা -কলকাতা – বারানসী – কলকাতা – ব্যাংকক হয়ে চাংগী ( সিংগাপুর) – বিন্টান ( ইন্দোনেশিয়া) – চাংগী – লাংকাওয়ে (মালেশিয়া) – কুয়ালালামপুর – ঢাকা।
ঢাকা – কলকাতা ছিলো ইউ এস বাংলা।
কলকাতা – বারানসী – কলকাতা ছিলো ইন্ডিগো।
কলকাতা- ব্যাংকক – চাংগী – থাই এয়ার ওয়েজ।
চাংগী – লাংকাওয়ে – এয়ার এশিয়া।
লাংকাওয়ে – কুয়ালামপুর – ঢাকা – মালিন্দো।
উল্লেখ্য যে, চাংগী – লাংকাওয়ে যদি সস্তায় ফ্লাইট চান,তবে আপনি কোন চেক ইন লাগেজ পাবেন না।

যেখানেই যাবেন, অবশ্যই পরিষ্কার – পরিচ্ছন্ন রাখবেন স্পটটি।

বাজেট : সব মিলিয়ে আমার পড়েছে ৮৫,৫০০ এর মতো।
তার মধ্যে শপিং ও ভিসা প্রসেসিং অন্তর্ভুক্ত নয়।

বি দ্র :

১.আমার রুটটি যদি আপনিও নিতে চান,তবে অবশ্যই সিংগাপুরে ডাবল এন্ট্রি ভিসা নিবেন।
বাসের র‍্যাপিড পাস নিয়ে নিবেন তাহলে অনেক টাকা সেভ হবে। আর যদি ক্যাব নিতেই হয় তবে গ্রাভ নিবেন। ওখানে উবার নেই।
২.যারা স্মোকার,সিংগাপুরে চাইলেই আপনি সিগারেট নিতে পারবেন না। ১ প্যাকেট নিতে পারেন তবে সেটিও ইন্ট্যাক হওয়া যাবে না।যেখানে সেখানে করতে পারবেন না করতে হবে ফাকা খোলা জায়গায়।
৩.ভারতে উবার ও ওলাতে চড়েছি, বাকি দেশে গ্রাভ নিয়েছিলাম তবে সিংগাপুরে বাসেই উঠবেন একা হলে নাহলে চড়া মূল্য দিতে হয়।
৪.লাংকাওয়ে ডিউটি ফ্রি হওয়ায়,চকলেট,জুতা ও পারফিউমের দাম অনেক অনেক কম।
এত কম আমি কুয়ালালামপুর বা এয়ারপোর্টেও পাই নি।
৫.সিম যখন নিবেন তখন অবশ্যই লোকাল কল দেয়া যায় এমনই নিবেন শুধু মাত্র ইন্টারনেট সিম না।আমার মতো কয়েকটি দেশ হলে জিজ্ঞেস করে নিবেন সেসব দেশে চলবে কিনা।
৬.মানি এক্সচেঞ্জের ব্যাপারে ইন্ডিয়ার কথা কিছু বলছি না সবাই কম বেশী জানেন।
তবে সিংগাপুরে ক্যাব থেকে শুরু করে সব খানেই কার্ড নেয় তাই চেস্টা করবেন কার্ডে পে করতে, আর কিছু ডলার ভাংগাতে পারেন। এয়ারপোর্টে কিছু কম পাবেন, আমি মোস্তফা মার্টে ভালো রেট পেয়েছিলাম।

Source:  Rejoy Chakma‎ <Travelers of Bangladesh (ToB)

2 Jun 2019

বৈশাখ মানেই গরম। চৈত্রের শেষ থেকেই ধেয়ে আসছে গরম। দিল্লিতেও ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে তাপপ্রবাহ। সামনেই গ্রীষ্মকালীন ছুটি। এ ছুটিতে ঘুরে আসতে পারেন পাশের দেশ ভারতের দিল্লি থেকে। সেখানে দেখতে পারবেন পাহাড়ি গ্রাম। জেনে নিন জায়গাগুলো সম্পর্কে-

ল্যান্ডসডাউন: ভারতের উত্তরাখণ্ডের কাছে ল্যান্ডসডাউন। এখানে পাবেন ওক আর পাইন গাছ। বৃক্ষ ঘেরা এ পাহাড়ি বন সবার কাছে খুব জনপ্রিয়। তাই ছুটি পেলেই সবাই ভিড় জমান এখানে। দেশ-বিদেশের যে কেউ ঘুরে আসতে পারেন। সে জন্য ভ্রমণ ভিসা সম্পর্কে খোঁজ-খবর নিতে পারেন।

ধনৌলটি: ২ হাজার ২৮৬ মিটার উচ্চতার এই পাহাড়ি জনপদ ট্যুরিস্টদের কাছে খুবই জনপ্রিয়। স্থানীয় যারা শহরে থাকেন; তারা দুদিনের মুক্তির স্বাদ পেতে বারে বারে যান এখানে। বাংলাদেশ থেকেও ঘুরে আসতে পারেন। সে ক্ষেত্রে ভিসা সংক্রান্ত যাবতীয় কার্যাবলী সম্পন্ন করতে হবে।

কসৌলি: শান্ত এ পাহাড়ি জনপদ লেখকদের কাছে খুবই জনপ্রিয়। একমনে নিজের কাজ করতে অনেকেই চলে আসেন এখানে। এখানকার মাঙ্কি পয়েন্ট ও গুরুদ্বার খুবই জনপ্রিয়। বিভিন্ন কাজে যারা গ্রীষ্মকালে ভারত যান, তারা অবশ্যই সুযোগ করে ঘুরে আসবেন এখান থেকে।

আলমোরা: লক্ষ্মৌ থেকে মাত্র ৫০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত আলমোরা। প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্যের জন্য গরমের ছুটির অন্যতম ডেস্টিনেশন। পার্শ্ববর্তী দেশ হিসেবে বাংলাদেশ থেকেও বহু মানুষ ঘুরতে যায় সেখানে।

চাক্রাতা: বরফঢাকা পাহাড় চূড়া দেখতে দেখতে সকালের নাস্তা করতে চান? তাহলে ঘুরে আসুন এখান থেকে। এ গরমেরও পুলওভার চাপিয়ে ঠান্ডার আমেজ নিতে পারবেন। বাংলাদেশের কেউ চাইলেও ঘুরে আসতে পারেন এখান থাকে।

 

5 May 2019

এটাই প্রথম আন্তর্জাতিক ট্যুর ছিলো। গিয়েছিলাম ৫ জন, এর আগে কেও শিলং যাইনি তাই ট্যুর নিয়ে অনেক স্টাডির ব্যাপার ছিলো। অনেকগুলো ট্যুরিজম এজেন্সির শিলং ট্যুরের ইভেন্ট নিয়ে স্টাডি করতে হয়েছে। কিছু ব্যাপার শেয়ার করি, হয়তো নতুন ট্রাভেলারদের কাজে লাগবে।

১. চেষ্টা করতে হবে তামাবিল বর্ডারে যত সকালে সম্ভব পৌছাতে। আমরা সকাল ৯ টার দিকে পৌছায়ে দেখি অনেক বড় লাইন। সকাল ৮ টা সোয়া ৮ টার ভেতরে সেখানে পৌছাতে পারলে ভালো।

২. শিলং ট্যুরে প্রত্যেকের কাছে ছাতা থাকা মাস্ট। রেইনকোট থাকল আরো ভালো হয়
৩. সকালের নাস্তা অবশ্যই ইন্ডিয়াতে ঢোকার আগে (তামাবিলে) করে নিয়েন। ডাউকি বাজারে পরটার দাম ২০ রুপি করে(আমরা বলে কয়ে ১৫ রুপি করে দিছি)।

৪. সাথে পর্যাপ্ত বাংলাদেশি টাকা অথবা রুপি রাখবেন। ডলার যেটা থাকবে সেটা না ভাঙানোই ভালো।

৫. যে জায়গাগুলো exceptionally beautiful মনে হয়েছে সেগুলো হলো বুড়হিল ঝর্না(বাংলাদেশে পান্থুমাই নামে যেটা পরিচিত), লিভিং রুট ব্রিজ। চেরাপুঞ্জিতে সব জায়গাই সুন্দর, তারপরো ইকো পার্ক আর সেভেন সিস্টার ফলসের কথা আলাদা ভাবে বলতেই হবে।

৬. সব ট্যুরিজম ইভেন্টগুলোতে শেষদিনটা থাকে সিটি ট্যুর। এইদিন সবাই ক্যাথেড্রিল চার্চ, মদিনা মসজিদ, লেডি হায়দার পার্ক, ওয়ার্ডস লেক ইত্যাদি জায়গা ঘোরে। কিন্তু আমাদের কাছে আসলে চেরাপুঞ্জি ঘোরার পরেরদিন এই জায়গা গুলো খুব সাধারণ কিছু মনে হয়েছে। হয়তো চেরাপুঞ্জি ঘোরার আগেরদিন এই জায়গাগুলো দেখলে বেশি ভালো লাগতো। আমরা ২ রাত তিনদিন ছিলাম শিলংয়ে। প্রথম দিন ডাউকি সাইট, দ্বিতীয়দিন চেরাপুঞ্জি আর তৃতীয়দিন সিটি ঘুরেছি। সবার কাছেই মনে হয়েছে সিটি না ঘুরে ওইদিন ভোরে আমরা সোনেংপেডাং চলে যেতে পারতাম। সুতরাং হাতে সময় কম থাকলে সিটি অংশটা বাদ দিতে পারেন। its nothing exceptional(in my opinion)

৭. শিলং পিক আমরা দেখতে পারিনি। ওখানে নাকি ফরেনার এলাউড না। আমরা বলে দিয়েছিলাম আমরা বাংলাদেশী, তাই ঢুকতে পারিনি। সাধারণত এটা ড্রাইভার তার আইডি কার্ড দেখিয়ে গাড়ি এন্ট্রি করে তার প্যাসেঞ্জারকে নিয়ে যায়। আমাদের ড্রাইভার বা আমরা কেও সেটা জানতাম না।

৮. হোটেল কস্ট ডিপেন্ড করে। আমরা একটু পিক টাইমে গিয়েছিলাম, জনপ্রতি ৮০০ রুপি করে খরচ হয়েছে পার নাইট। ডাবল বেড ছিলো ১৫০০ রুপি পার নাইট আর ট্রিপল বেড ছিলো ২৫০০ রুপি পার নাইট।

৯. আমরা ৭ সিটের গাড়ি নিয়েছিলাম। চেরাপুঞ্জিতে ঘোরার দিন আমাদের খরচ হয়েছে ২৫০০ রুপি। আর ৩-৪ সিটের গাড়িতে খরচটা হবে ১৫০০ থেকে ২০০০ রুপি।

১০. ডাউকি বর্ডার থেকে শিলংয়ে যাওয়ার পথে আমরা মাওলিলং ভিলেজ, লিভিং রুট ব্রীজ, উমক্রেম, বুড়হিল ঝর্না দেখে শিলং গিয়েছি। ৭ সিটের গাড়ি ছিলো। ওইদিন নিয়েছে ৩৬০০ রুপি।

১১. পাওয়ার ব্যাংক থাকা মাস্ট কারণ কেন জানি হোটেলে আমাদের মোবাইলের চার্জার দিয়ে চার্জ হচ্ছিলো না।

১২. কম খরচে বাংলাদেশি খাবার খাওয়ার জন্যে সুরুচী হোটেল বেস্ট। এটা শিলং সেন্টার পয়েন্টের ডান পাশের রাস্তা দিয়ে একটু হেঁটে গেলেই হাতের ডানপাশে পাবেন।

১৩. কেনাকাটার জন্যে “বিশাল বাজার” বেস্ট। এটা সুরুচী হোটেল থেকে একটু আগায়ে গেলে হাতের বামপাশে পাবেন।

আর কোন কিছু মাথায় আসছে না। কারোর কোন প্রশ্ন থাকলে করতে পারেন। নিজের স্বল্পজ্ঞানে উত্তর দেয়ার চেষ্টা করবো।

আর ড্রাইভার আপনারা বাংলাদেশ থেকেই ঠিক করে যেতে পারবেন। +917641022862 এই নাম্বারে whats app এ যোগাযোগ করে যেতে পারেন। তার নাম ভিরু সিং, খুবই স্মার্ট লোক, বাংলা, হিন্দি, ইংরেজি সব ভাষা জানে সে। whats app এ আগে থেকে যোগাযোগ করলেই সে ডাউকি বর্ডারে গাড়ি নিয়ে চলে যাবে সময় মতো।

source: Md. Ebrahim Hossain‎  <Travellers Of Bangladesh

4 May 2019

রেমা কালেঙ্গা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য অভিযান শেষ করে এবার আমাদের গন্তব্যস্থল এশিয়ার বৃহত্তম গ্রাম বানিয়াচং। বানিয়াচং উপজেলা হবিগঞ্জ জেলার অন্তর্গত একটি প্রশাসনিক এলাকা। এর আয়তন ৪৮২.৪৬ বর্গ কিলোমিটার। এর উত্তরে রয়েছে শাল্লা উপজেলা এবং দিরাই উপজেলা, দক্ষিণে হবিগঞ্জ সদর উপজেলা ও লাখাই উপজেলা, পূর্বে নবীগঞ্জ উপজেলা ও হবিগঞ্জ সদর উপজেলাএবং পশ্চিমে রয়েছে আজমিরীগঞ্জ উপজেলা, মিটামইন উপজেলা এবং অষ্টগ্রাম উপজেলা।
নৈসর্গিক রূপ আর ইতিহাস ঐতিহ্যের লালনভূমি বানিয়াচং উপজেলা। ভূ-গঠনিক অবনমন ভূমির হাওর-বাঁওড়ে সুশোভিত। অসংখ্য নদ-নদী বিধৌত ও বিল-ঝিল, খাল-নালা অধ্যুষিত এক নয়নাভিরাম সুবর্ণভূমির জনপদ। বর্ষায় হাওরে থৈ থৈ জলরাশির উচ্ছ্বলতা। নৌকা বাইচে সারি গানের তালে তালে প্রাণের উচ্ছ্বাসে উদ্ভাসিত এই জল ঢেউ’র দেশ। হেমন্তে দিগন্তজুড়া ফসলের মাঠ। অঘ্রানে আমন ধানের মৌ মৌ গন্ধ আর নবান্নের কলতানে ভাস্বর বাংলার চিরায়ত রূপ। বোরো মৌসুমে চারিদিকে সবুজের সমারোহ। লিলুয়া বাতাসে ধানগাছের কচি ডগার খেলানো ঢেউয়ে দোলে উঠে প্রাণ। বৈশাখে সোনালী রঙের রঙিন ধানসিঁড়ি মাঠ জুড়িয়ে দেয় হৃদয়। ফসল কাটার আনন্দ পরিণত হয় মহাউৎসবে। ‘‘গোলায় ধান, জলায় মাছ ও গলায় গান’’ এ নিয়েই হাওর পাড়ের নিরন্তর জীবনযাত্রা। সংগ্রামী জীবনের বৈশিষ্ট্য এবং বৈচিত্তে রসবোধের মহিমা ও উৎকর্ষতা।

প্রাচীণ জনপদ বঙ্গ রাজ্যের অন্তর্ভূক্ত ‘পূর্ব বাঙালার’ এই হাওর বা ভাটি এলাকা নিয়ে ক্ষুদ্র রাজ্য গড়ে উঠেছিল। রাজধানী ছিল বানিয়াচং। রাজা, জমিদার ও জায়গীরদের শাসনকাল ও বীরত্বগাঁথা ইতিহাসের পাতায় বিধৃত। অনেক প্রাচীন নিদর্শণ ও পুরাকীর্তি এখনও বিদ্যমান। চারশ থেকে পাঁচশ বছরের প্রাচীন মসজিদ, মন্দির, রাজবাড়ীর ধংসাবশেষ, বৈষ্ণব ধর্মাবলম্বীর আখড়াগুলো কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম ‘সাগর দিঘী’তে দর্শনার্থীদের ভীড় ও একে ঘিরে রাণী কমলাবতীর আত্মবিসর্জনের উপাখ্যাণ এখনো মানুষের মুখে মুখে ফিরে। পল্লীরাজ বা মহাগ্রাম নামে ভূষিত পৃথিবীর বৃহত্তম গ্রাম বানিয়াচং পর্যটকদের হাতছানি দেয়। সারি সারি বৃক্ষরাজি ও প্রাচীন বসতির নিদর্শন মাটির ঢিবি ও টিলায় ঝোঁপ-ঝাড় ও জঙ্গল যেন অতীতের কথা কয়। গ্রামের অভ্যন্তরে একেবেকে বয়ে গেছে অসংখ্য বিল ও গড়ের খাল। বর্ষায় জলে টইটম্বুর হয়ে গ্রামের শ্রী ছবির মতো ভেসে উঠে। অসংখ্য খাল ও দিঘীগুলোর পাড় ধরে মহল ও পাড়ার নান্দনিক অবস্থান আগন্তুকদের দারুনভাবে আকর্ষন করে। জানার আগ্রহে আরো কাছে টেনে নেয় গ্রামীণ ঐতিহ্য। কালজয়ী উপাখ্যান আলাল-দুলাল, রাণী ভবানী, আমেনা সুন্দরী, আফজাল খান ও আরজু বানুর স্মৃতি বিজড়িত এবং বিখ্যাত কিংবদন্তীশিল্পী সুবীর নন্দীর জন্মস্থান এই বানিয়াচং। প্রাচীন জনপদ, হাওর বাঁওড়, পাখ-পাখালী আর ফলফসলে ভরপুর প্রকৃতির এই লীলাভূমি গর্বিত বাংলার প্রতিচ্ছবি। পর্যটক ও দর্শনার্থীদের মোহিত করার মতো বৈচিত্রময় লৌকিক সম্ভার এখানে বিদ্যমান।

প্রথমদিনে আমাদের বিথঙ্গল আশ্রম, রাজবাড়ী আর সাগরদিঘি ঘুরার প্ল্যান থাকলেও বানিয়াচং পৌঁছাতে দেরী হয়ে যাওয়ায় বিথঙ্গল আশ্রমে যাওয়া হয়নি। তাই হোটেলে হালকা ফ্রেশ হয়ে টমটম রিজার্ভ করে বেরিয়ে পড়লাম রাজবাড়ী দেখতে। পুরানো রাজবাড়ির ধ্বংসাবশেষ ছাড়া তেমন আর কিছুই নেই, কিছু সারি সারি সুপারি বাগান, পাশে আছে একটা পুকুর ঘাট আর রাজবাড়ির সামনে রয়েছে সুন্দর কারুকার্যখচিত একটি মসজিদ। এরপর আমরা চলে গেলাম সাগরদিঘি। গোধূলি বেলাটা সাগরদিঘি ঘুরে সন্ধ্যায় চলে গেলাম একটি পুরানো কালীমন্দিরে। সেখানে আধা ঘন্টার মতো সময় কাটিয়ে হোটেলে ফিরে আসলাম। রাতে খেলাম বড়বাজার পোষ্ট অফিস গলির হিমেল হোটেলে। এখানে এই হোটেলের খাবারটাই ভাল লাগলো, বিশেষ করে টাকি মাছের ভর্তাটা।
পরদিন সকাল ৬ টায় বেরিয়ে পড়লাম লক্ষীবাওর জলারবন দেখতে, যা স্থানীয়ভাবে হরতির জঙ্গল নামেই পরিচিত। অসম্ভব সুন্দর একটা যায়গা, যেখানে গেলে আপনার মন ভালো হয়ে যাবে। এরকম গ্রামীণ পরিবেশে খাল বিলের মাঝখানে এরকম জঙ্গল বোধয় বাংলাদেশে আর কোথাও নেই। আমরা সেখানে ঘন্টা দুয়েকের মত ঘুরে হোটেল এসে ফেরার প্রস্তুতি নিলাম। আসলে এইসব যায়গায় আসলে একটু সময় নিয়ে আসতে হয়, তাহলে আরো অনেক যায়গা ঘুরা যায়। ট্রেনের তাড়া থাকায় তাড়াতাড়ি ব্যাকপ্যাক গুছিয়ে হোটেল থেকে বের হয়ে বানিয়াচং থেকে প্রথমে হবিগঞ্জ আসলাম তারপর চলে গেলাম শায়েস্তাগঞ্জ। দুপুরের খাবার খেয়ে কিছুক্ষন জিরিয়ে নিয়ে স্টেশনে চলে এলাম। ট্রেন সময়মতো আসলো। অনেক স্মৃতি নিয়ে এভাবেই আমাদের রেমা কালেঙ্গা আর বানিয়াচং গ্রাম ভ্রমণ শেষ হলো।
বানিয়াচং ঘুরতে আসলে আপনারা এই দর্শনীয় স্থান গুলো দেখে যাবেনঃ

*বিথঙ্গলের আখড়া:
বানিয়াচং উপজেলা সদর থেকে প্রায় ১২ কিঃ মিঃ দক্ষিণ পশ্চিমে হাওড় পাড়ে বিথঙ্গল গ্রামে আখড়াটি অবস্থিত । যা বৈষ্ণব ধর্মাবলম্বীদের জন্য অন্যতম তীর্থস্থান। এ আখড়াটি ঘিরে কার্তিক মাসের শেষ দিন ভোলা সংক্রানি- উপলক্ষে কীর্ত্তণ হয়। ফাল্গুন মাসের পুর্ণিমা তিথিতে দোল পূর্ণিমার পাঁচ দিন পর পঞ্চম দোল উৎসব উদযাপিত হয়। চৈত্র মাসের অষ্টমী তিথিতে ভেড়া মোহনা নদীর ঘাটে ভক্তগণ পূজার্চনা করেন এবং ঘাটে বারুনী মেলা বসে। এ ছাড়া আষাঢ় মাসের ২য় সপ্তাহে রথযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। আখড়ার প্রতিটি উৎসবে ৫ থেকে ১০ হাজার ভক্তের সমাগম ঘটেএ আখড়ায় দর্শনীয় বস্তুর মধ্যে রয়েছে ২৫মন ওজনের শ্বেত পাথরের চৌকি (খাট), পিতলের তৈরী সিংহাসন, প্রাচীন কারুকার্য সমৃদ্ধ রথ এবং রৌপ্য পাখি ও সোনার মুকুট।

যেভাবেযাওয়া যায়: শুকনো মৌসুমে হবিগঞ্জ কামড়াপুর ব্রীজ হতে জীপযোগে সুজাতপুর হয়ে নৌকোযোগে অথবা পায়ে হেটে বর্ষা মৌসুমে হবিগঞ্জ কালার ডুবা থেকে নৌকা অথবা বানিয়াচং আদর্শবাজার হতে নৌকাযোগে।

*রাজবাড়ীর ধ্বংসাবশেষঃ
গোবিন্দ সিংহ বানিয়াচং রাজ্যের অধিপতি হওয়ার পর পদ্মনাভ বা কর্ণখাঁর দিঘীর পশ্চিম পাড়ে রাজবাড়ী গড়ে তোলেন। বর্তমানে ঐ রাজবাড়ীর কিয়দংশ বিদ্যমান আছে। পাশে ধর্মান-রিত গোবিন্দ সিংহ তথা হবীব খাঁ’র (প্রাচীন ইটে মোড়ানো) সমাধি রয়েছে। রাজবাড়ীর বাকি প্রাচীর সরিয়ে প্রায় একশ বছর পূর্বে লোকনাথ রমন বিহারী উচ্চ বিদ্যালয় স্থাপন করা হয়। ধ্বংসাবশেষের মধ্যে পাথরের দালানের ৪টি পিলার দন্ডায়মান রয়েছে এবং এর চার পাশে বেলে ও মার্বেল পাথরের খন্ড বিখন্ড পড়ে আছে। ঐগুলোকে ‘হব্যা’ ও ‘ঘোমা’ দাড়া গুটি বলা হয়ে থাকে। কল্প কাহিনীতে ‘হব্যা’ ও ‘ঘোমা’ দুই ভাই পালোয়ান ছিলেন। তারা দিঘীর পাড়ে এ পাথরের খন্ড নিয়ে দাড়াগুটি খেলতো বলে জনশ্রুতি রয়েছে। আসলে ‘হব্যা’ ও ‘ঘোমা’ একই নাম। হবীব থেকে ‘হব্যা’ এবং গোবিন্দ থেকে ‘ঘোমা’ নামে অপভ্রংশে প্রচার পায়। প্রায় সপ্তদশ শতাব্দিতে দেওয়ান আবেদ রাজা ঐ রাজবাড়ী বানিয়াচং কসবার উত্তরাংশে স্থানান্তর করেন। ঐ এলাকা দেওয়ান বাগ হিসেবে পরিচিত। বর্তমানে ঐ রাজবাড়ীর জরাজীর্ণ প্রাচীন দালান ও প্রাচীন বিদ্যমান এবং সম্পূর্ণ মোঘল স্থাপত্যে তৈরী একটি দর্শনীয় স্থান।
#যেভাবে যাওয়া যায়: বানিয়াচং উপজেলা পরিষদ থেকে পায়ে অথবা রিক্সাযোগে।

*সাগরদীঘি:
প্রায় দ্বাদশ শতাব্দিতে রাজা পদ্মনাভ প্রজাদের জলকষ্ট নিবারণের জন্য গ্রামের মধ্য ভাগে ঐ দিঘীটি খনন করেন। এ দিঘী খননের পর পানি না উঠায় স্বপ্নে আদিষ্ট হয়ে রাজা পদ্মনাভের স্ত্রী রাণী কমলাবতী আত্ম বিসর্জণ দেন বলে একটি উপাখ্যান এ অঞ্চলে প্রচলিত আছে। এ জন্য এ দিঘীকে কমলা রাণীর দিঘীও বলা হয়ে থাকে। এ দিঘী নিয়ে বাংলা সিনেমাসহ রেডিও মঞ্চ নাটক রচিত হয়েছে। এর পাড়ে বসে পল্লী কবি জসিম উদ্দিন ‘রাণী কমলাবতীর দিঘী’ নামে একটি কবিতা রচনা করেছিলেন। সে কবিতাটি তাঁর ‘সূচয়নী’ কাব্যগ্রন্থে অন-র্ভূক্ত রয়েছে। এ দিঘীটি বাংলা দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বলে খ্যাতি রয়েছে। বর্তমানে ৬৬.০০ একর জায়গা নিয়ে দিঘীটি বিস্তৃত। তম্মধ্যে জল সীমানা রয়েছে ৪০.০০ একর এবং চার পাড় মিলে রয়েছে ২৬.০০ একর। ঐ চার পাড়ে দিনাজপুরের রাম সাগরের আদলে পর্যটন পার্ক তৈরী করা হলে আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে বলে অনেক পর্যটকই মতামত রেখে থাকেন। বর্তমানে এ দিঘীটি সরকার মৎস্য চাষের আওতায় এনে লীজ নিয়ে বছরে উল্লেখ যোগ্য পরিমাণ রাজস্ব আয় করছে।
#যেভাবে যাওয়া যায়: বানিয়াচং উপজেলা পরিষদ থেকে পায়ে হেটে অথবা রিক্সাযোগে।

*শ্যাম বাউল গোস্বামীর আখড়া:
শ্রী শ্রী শ্যাম বাউল গোস্বামী ছিলেন ইষ্ট সাধনায় সিদ্ধি লাভে সমর্থ, অলৌকিক শক্তি লাভের অধিকারী, যুগসিদ্ধ এক মহা পুরুষ। শ্রী শ্রী রাম কৃষ্ণ গোস্বামীর নিকট দীক্ষা লাভ করে বৈষ্ণব ধর্ম প্রচারের জন্য তিনি বানিয়াচং আসেন। অনেক বাধাবিঘ্ন অতিক্রম করে অবশেষে যাত্রাপাশা মহল্লায় তিনি আখড়া প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি অসহায় ব্যাধিগ্রস্ত জীবের পরিত্রাণকারী হিসেবে মানুষের অন্তরে স্থান করে নিয়েছিলেন। শ্যাম বাউলের বাংলাদেশের উত্তর পূর্বাঞ্চলে ও ভারতে অনেক ভক্ত ও শিষ্য রয়েছে। প্রতি বছর আখড়ার সন্নিকটে তাঁর স্মরণে চৈত্র মাসে অষ্টমী স্নান মেলা অনুষ্ঠিত হয়।
#যেভাবে যাওয়া যায়: উপজেলা পরিষদ হতে নতুন বাজার হয়ে রিক্সা বা সিএনজিযোগে যাওয়া যায়।

*লক্ষীবাওর জলাবন:
হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলার লক্ষ্মী বাওর সোয়াম্প ফরেষ্ট (জলাবন) হতে পারে আকষর্ণীয় একটি পর্যটন স্পট। বানিয়াচং উপজেলার প্রান্ত সীমানায় খড়তি নদীর দক্ষিণ দিকে বিরাট হাওরের মধ্যে অবস্থিত এই জলাবন এলাকাবাসীর নিকট খড়তির জঙ্গল নামেও পরিচিত। কখন এই জঙ্গল সৃস্টি হয় তা প্রবীণরাও বলতে পারেন না। এখানে প্রকৃতির এই বিচিত্র রূপ সত্যিই বিস্ময়কর।বর্ষাকালে চারদিকে হাওরের পানি আর জঙ্গলের অসংখ্য গাছপালার সবুজ অরণ্য পরিবেশকে এক নান্দনিক রূপ দিয়েছে। হাওরে দূর থেকে জঙ্গলটিকে দেখে মনে হবে যেন পানির উপর ভাসছে। হিজল, কড়চ, বরুণ, কাকুরা, বউল্লা, খাগড়া, চাইল্লা, নল ইত্যাদি অসংখ্য গাছ ও গুল্মে পরিপূর্ণ এই জলাবন বলতে গেলে এতদিন অনাবিস্কৃতই ছিল। ইদানিং সিলেট জেলার গোয়াইনঘাট উপজেলার“রাতারগুল” নামক সোয়াম্প ফরেষ্ট বা জলাবন সম্পর্কে পত্রপত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হলে বানিয়াচং এর লক্ষ্মী বাউর জলাবনেরসাথে এর সামঞ্জস্য খুজে পাওয়া যায়। রাতারগুল সোয়াম্প ফরেস্টকে কেউ কেউ দেশের একমাত্র সোয়াম্প ফরেষ্ট হিসাবে উল্লেখকরলেও ওয়াকেবহাল মহলের মতে বানিয়াচংয়ের লক্ষ্মী বাউর সোয়াম্প ফরেষ্ট একই শ্রেণীভুক্ত এবং অনেক বড়। বর্ষাকালে কয়েকমাস বনের গাছপালা পানিতে নিমজ্জিত থাকে।বনের ভিতরে কয়েকটি খাল ও বিল রয়েছে। এগুলোর স্বচ্ছ পানিতে জঙ্গলের প্রতিচ্ছবি দেখা যায়।শরৎকালে পানি শুকিয়ে গেলেও বনের ভিতরে থাকা অনেকগুলো বিলে পানি জমে থাকে। বিলগুলোতে প্রচুরমাছ পাওয়া যায়।এই জলাবনে রয়েছে বিভিন্ন প্রজাতির পাখি, সরীসৃপ ও স্তন্যপায়ী জীবজন্তু। এগুলোর মধ্যে রয়েছে মেছোবাঘ,শিয়াল, গুই সাপ, কেউটে, লাড্ডুকা, দারাইশ সহ বিষধর সাপ।বর্তমানে বিভিন্ন জাতের বক, পানকৌড়ী, বালিহাঁস দেখা গেলেও শীতকালে ঝাঁকে ঝাঁকে অতিথি পাখির কলকাকলিতে মুখরিত হয় নির্জন এই জলাবন।এছাড়া বনটিকে দেশী ও অতিথি পাখিরঅভয়ারন্য ঘোষণা করা হয়েছে।কেউ পাখি শিকার করলে ৫হাজার টাকা জরিমানা আদায় সহ শিকারীকে পুলিশের নিকট সোপর্দকরার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
#যেভাবে যাওয়া যায়: হবিগঞ্জ থেকে ১২ মাইল দূরবর্তী বানিয়াচং উপজেলা সদরের আদর্শ বাজার নৌকাঘাট থেকে ৫ কিলোমিটার উত্তরে হাওরের মাঝে এ জলাবন দেখতে বর্ষাকালে নৌকা, শরৎকালে মোটর সাইকেল, ট্রলিসহ হালকা যানবাহনে ও পায়ে হেটে যেতে হয়।

*নাগুরা ফার্ম:
জেলা সদরের কাছে বানিয়াচং উপজেলাধীন নাগুরা নামক স্থানে উপমহাদেশের প্রথম গভীর পানিতে চাষ উপযোগী ধান উদ্ভাবনকারী এই গবেষণা প্রতিষ্টানটির অবস্থান। দাপ্তরিকভাবে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনষ্টিটিউট, নাগুরা নামে অভিহিত হলেও সর্বসাধারণের কাছে এটি নাগুরা ফার্ম নামে সমধিক পরিচিত। ১৯৩৪সালে প্রতিষ্টিত এই গবেষণা প্রতিষ্টান কর্তৃক উদ্ভাবিত ধান বর্ষার পানির সাথে পাল্লা দিয়ে বেড়ে উঠে। ফলে এ ধানের চাড়া কখনো তালিয়ে যায় না। এই ফার্মে উদ্ভাবিত হাইব্রিড জাতের ধানের মধ্যে রয়েছে ব্রি-৫১, ব্রি-৫২, ব্রি-২৯, ব্রিআর-১৯ প্রভৃতি। নতুন প্রজাতির ধান উদ্ভাবনের পাশাপাশি এখানে ধানের পরীক্ষামূলক চাষ করা হয় এবং প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা হয়। বাংলাদেশ লোকপ্রশাসক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রসহ দেশ বিদেশের বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের সরকারি ও বেসরকারি কর্মকর্তাগণ তাদের প্রশিক্ষনের অংশ হিসেবে এই প্রতিষ্টানটি পরিদর্শন করতে আসেন। উল্লেখ্য এই গবেষণাগারের সবুজ ক্যাম্পাসে নানা প্রজাতির হাজারো পাখির অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। পাকির কলকাকলি আর মেধাবী বিজ্ঞানীদের সৃষ্টিশীলতায় এই ক্যাম্পাসে ইতোমধ্যে একটি দর্শনীয় স্থান হিসেবে পর্যটকদের দৃষ্টি আকৃষ্ট করেছে।
#যেভাবে যাওয়া যায়: বানিয়াচং উপজেলা পরিষদ সিএনজি/বাসযোগে হবিগঞ্জ সদর হয়ে অথবা হবিগঞ্জ সদর থেকে সিএনজি/বাসযোগে।

*মাকালকান্দি স্মৃতিসৌধ:
১৮ আগস্ট ১৯৭১ সাল। বানিয়াচঙ্গ উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল কাগাপাশা ইউনিয়নের হিন্দু অধ্যুষিত গ্রামটির নাম মাকালকান্দি। সকাল বেলা গ্রামের চন্ডি মন্দিরে মনসা পূজার প্রস্তুতি নিচ্ছিলো হিন্দু অধ্যুষিত গ্রামের বাসিন্দারা। এ সময় ৪০-৫০টি নৌকাযোগে পাকবাহিনী রাজাকারদের সহতায়তা এসে হামলা চালায়। পূজারত নারী-পুরুষকে চন্ডি মন্দিরের সামনে দাঁড় করিয়ে ব্রাশ ফায়ারে একই পরিবারের ১১ জনসহ অসংখ্য গ্রামাবাসীকে হত্যা করে। ১৪১ জন নিরপরাধ হিন্দুকে নির্বিচারে গুলিবর্ষণ ও বেয়নট দিয়ে খুচিয়ে হত্যা করে পাকহানাদার বাহিনী। ঘাতকরা এতেই ক্ষ্যান্ত হয়নি বর্বরোচিত হত্যাকান্ডের পর নারীদের সম্ভ্রমহানী ঘটায়। পরে গ্রামবাসীর মালামাল লুট করে নিয়ে যায় এবং বাড়িঘরে আগুন ধরিয়ে দেয়। সেই ভয়াল দিনের স্মৃতি বুকে নিয়ে আজও নীরবে-নিভৃতে চোখের অশ্রু ফেলছেন স্বজনরা। স্বাধীনতার দীর্ঘ ৩৬ বছর পর ২০০৭ সালে এলাকাবাসীর সহযোগিতায় তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী অফিসার জনাব মোহাম্মদ নুরে আলম সিদ্দিকীর প্রচেষ্টায় থোক বরাদ্দের অনুদানে সেখানে একটি স্মৃতি সৌধ নির্মাণ করা হয়। পরবর্তীতে উক্ত স্থানে মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে শহীদ ব্যক্তিদের নামর তালিকাসহ একটি স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করা হয়। বর্তমানে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সরকারী ব্যবস্থাপনায় প্রতিবছর ১৮ আগষ্ট মাকালকান্দি গণহত্যা দিবস পালন করা হয়।
#যেভাবে যাওয়া যায়: বানিয়াচং উপজেলা সদরের আদর্শ বাজার বর্ষাকালে নৌকা, শরৎকালে মোটর সাইকেল, ট্রলিসহ হালকা যানবাহনে ও পায়ে হেটে যেতে হয়।

খরচপাতি:
শায়েস্তাগঞ্জ – হবিগঞ্জ -> ২৫ টাকা(সিএনজি)
হবিগঞ্জ – বানিয়াচং বড়বাজার> ৪০ টাকা(সিএনজি)
বানিয়াচং বড়বাজার থেকে টমটম রিজার্ভ নিয়ে রাজবাড়ী ও সাগরদীঘি ঘুরতে হলে ১৫০-২০০ টাকা নিবে।
লক্ষীবাওর যেতে হলে বড়বাজার থেকে টমটম রিজার্ভ নিয়ে যেতে হবে, সেক্ষেত্রে ৩০০ টাকা দিয়ে মাইদ্দ্যার ঘাট পর্যন্ত যেতে পারবেন, সেখান থেকে আরো একটি টমটম রিজার্ভ করে নদী পাড় হয়ে ৫০০ -৭০০ টাকা দিয়ে হরতির জঙ্গল ঘুরতে পারবেন।
বিথংল আশ্রম যেতে হলে টমটম রিজার্ভ ভাড়া নিবে ৪০০-৫০০ টাকা।

হোটেল ভাড়াঃ
হোটেল আল আমান আবাসিক(বড়বাজার) – ২০০ টাকা (জনপ্রতি)
ফোন নংঃ 01776115779
গ্রুপে ফিমেল পারসন থাকলে হোটেলে আগে বলে রাখবেন।

*খাবারের জন্য “হোটেল হিমেল” ভাল। ফোন নংঃ 01715509853

*বানিয়াচঙ্গে ঘুরার জন্য গাইডের প্রয়োজন নাই।

*ভ্রমণে গিয়ে আপনার আশেপাশের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখুন, যেখানে সেখানে ময়লা ফেলবেননা। এমন কোন আচরণ করবেননা যাতে আশেপাশের মানুষজনের ক্ষতি হয়।

Source:  Dring Drang Wangdu‎ <Travelers of Bangladesh (ToB)

9 Apr 2019

কলমাকান্দা উপজেলার রংছাতি ইউনিয়নের পাহাড়ঘেষা গ্রামটিই পাতলাবন। নামেই বৈচিত্র্য নামেই ভিন্নতা। ভারতের মেঘালয় পাহাড়ের কোলঘেষে প্রাকৃতিক নিসর্গে গড়ে উঠা পাতলাবন নামের এই গ্রামটি।

পাহাড়, নদী, বালুচর মিলে এক প্রকৃতির নৈসর্গিক রূপের মিশ্রন পাতলাবন। যাতায়াত দূরাবস্থা আর সম্প্রচার মাধ্যমে দৃষ্টিগোচর হয়নি বলে এখনো অনাবিস্কৃত এ পাতলাবনে এই জায়গাটি।
প্রতিটি বিকেল এখানে সবুজ মাঠ অার বালুচরে ভ্রমণ পিপাসীরা ভিড় করে।

বিছানাকান্দির নাম শুনেছি, তার সৌন্দর্যে পাগল হয়ে ছুটে গিয়েছি কিন্তু জন্মভূমি কলমাকান্দার পাতলাবনের অাবেদন এখনো সকল জায়গার চেয়ে বেশি।

মেঘালয় পাহাড় থেকে বয়ে অাসা নদী মহাদেও এর কূলবর্তী যে অবারিত সবুজ মাঠ, বালুচর, সবুজ ধানক্ষেত মিলে পাতলাবন এই গ্রামটি। সীমান্তে বাংলাদেশ অংশের কিছু কিছু টিলা এতে ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে।

পাশেই আদিবাসী গারোদের বাস। সন্ধ্যা হলেই অাদিবাসীদের সংস্কৃতি, রীতি নীতি, ডোলের মাদল অাপনাকে ভিন্ন একটি জাতিসত্তার সাথে পরিচয় ঘটাবে। টিলার উপরে বিলুপ্ত প্রায় মাচাঙ ঘরে তাদের বাস। পাহাড় থেকে নদীতে বয়ে অাসা বড় বড় পাথর অার মাচাঙ ঘর এই তাদের ঐতিহ্য।

গারোদের অকৃত্রিম সরলতা, পাহাড়ের নিরবতা, নদীর বহতা, বালুচরের জোছনা আর দুই পাশের গ্রামীণ জনপদ অাপনাকে নিটোল চিত্রের সাথে আলাপ করিয়ে দিবে।

সময় অার ঋতুর সাথে পাতলাবনের রুপ বদলায়। বর্ষায় পাহাড়ি ঢল মহাদেও দুকূল ছাপিয়ে দেয় জলে। অার বৈশাখ মাসে সেখানে হাটু জলে নদী ছড়ায় পরিণত হয়। পাহাড়ি ঝর্নাধারা থেকে বয়ে অাসা সেই স্বচ্ছ জলে অবগাহনে অানন্দ মিলে। যেখানের স্বচ্ছ জলে ছোট ছোট মাছেরা খেলা করে। ছুটে চলা সে মাছ ধরার মজাই আলাদা। পড়ন্ত বিকেলে ছোট ডিঙায় করে ঘুরে বেড়ানোর সুযোগও রয়েছে।

আধুনিক নাগরিক সুবিধা তথা বিজলির আলো পর্যন্ত পৌঁছায়নি এলাকাটিতে। অজপাড়া গাঁ বলতে যা বুঝায়। কিন্তু অভাব নেই প্রাকৃতিক মুক্ত আলো বাতাস আর নৈসর্গিকতর। তবে আধুনিক শিক্ষার আলোয় আলোকিত পাতলাবন।

প্রায় ২০-৫০ জন মেধাবী সন্তান পাতলাবনের কোল থেকে উঠে এসে ঢাকা ইউনিভার্সিটি সহ বিভিন্ন ইউনিভার্সিটিতে পড়ালেখা করে দেশের উচ্চ পদে থেকে দেশের সেবায় নিয়োজিত।

এছাড়াও প্রতি বছর এখান থেকে ২-৫ জন শিক্ষার্থী বিভিন্ন ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হয়। বলা হয়ে থাকে প্রাকৃতিক অপার এ সৌন্দর্যই এখানকার সবচেয়ে বড় বিদ্যাপীঠ আলোর আধার।

আশেপাশে আরো কিছু দেখার মত জায়গা রয়েছে। যেগুলোর মধ্যে ভুবনের টিলা, জাইগিরপাড়া, চাঁদ সওদাগরের চন্দ্রডিঙা, পাহাড়ের পাশদিয়ে সীমান্ত সড়কে মোটর বাইক রাইড সব মিলিয়ে ভালো লাগার মন মাতানো পাতলাবন আপনার ভালো না লেগে পারেই না। তাই পাতলাবনের সৌন্দর্য উপভোগ করতে আর দেরী কেন, চলে আসুন যেকোন সময়।

যেভাবে যাবেনঃ
নেত্রকোনা জেলা শহর থেকে ৪০ কিমি উত্তরে ভারত সীমান্তবর্তী কলমাকান্দা উপজেলার রংছাতি ইউনিয়নের পাহাড়ঘেষা এই গ্রামটিই পাতলাবন।

ঢাকা থেকে বাসে বা ট্রেনে করে নেত্রকোনা এরপর সিএনজি বা বাসে করে কলমাকান্দা। এমনকি সরাসরি বরুয়াকোনা বাজার কিংবা সরাসরি পাতলাবন যাওয়া যায়।

যদিও স্থানীয়ভাবে পর্যটন ব্যবস্থা গড়ে উঠেনি বলে থাকতে হবে উপজেলা শহর কলমাকান্দায়। গড়ে উঠলে হয়ত মহাদেও নদীর চরে তাবু টানিয়ে জোছনা রাতে জোছনাবিলাস আর বার-বি-কিউ এর সাথে আদিবাসী নৃত্য ভিন্ন মাত্রা যোগ করবে নিঃসন্দেহে। তবে আমার গৃহে সবসময় আপনাকে সাদর নিমন্ত্রণ।

সতর্কতাঃ
সীমান্তবর্তী হওয়ায় বিজিবি এবং বিএসএফ এর কড়া পাহাড়া চলে সার্বক্ষণিক। তাই ভুলেও সীমানা অতিক্রম করবেন না। প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করুন আইন মেনে। আদিবাসী ছেলেমেয়েরা সাধারণত অপরিচিতদের প্রথমে সহজে আপন ভাবেনা তবে দূরের পর্যটক শুনলে আতিথেয়তায় মুগ্ধ হবেন। তাই একটু সামলে চলুন। আনন্দভ্রমণ আনন্দময় হোক।

Source: Bappy Faysal‎ <Travelers Of Bangladesh (TOB)

13 Mar 2019

যেকোনো দেশে যাওয়ার আগে ইন্টারনেট ঘেটে খুঁটিনাটি জানার চেষ্টা করি, আর এবারও থাইল্যান্ড যাওয়ার প্ল্যান করার আগে দর্শনীয় স্থানগুলো ইন্টারনেট ঘেটে দেখার চেষ্টা করি এবং দেখি অনেক সুন্দর সুন্দর স্পট রয়েছে এবং বুঝতে পারলাম তিন-চার দিনের জন্য গেলে তেমন কিছুই দেখতে পাবো না, তাই এবারও বালি ভ্রমণের মতো ৯-১০ দিনের জন্য প্ল্যান করি, আমরা তিনজন(আমি, আমার অর্ধাঙ্গী এবং আমাদের সাড়ে চার বছরের ছেলে)

হোটেল বুকিং:
আমি বাংলাদেশ থেকেই হোটেল বুক করে গিয়েছি,থেকে, বুকিং দিলে আপনার আগেই পেমেন্ট দিতে হয় না। হোটেল উঠার ২-৩ দিন আগে তারা চার্জ কেটে নিবে, তবে চার্জ কাটার নির্দিষ্ট তারিখের দিনে কার্ড এ ব্যালান্স থাকতে হবে। আমি আমার পেওনিয়ার মাস্টারকার্ড কার্ড দিয়ে হোটেল বুক দিয়েছিলাম। ২৫০০-৩০০০ টাকায় ভালো হোটেল পাওয়া যায় ব্রেকফাস্ট সহ। আমি টোটাল ৮ রাতের জন্য ৫ হোটেল বুক দেই। প্রথম দুই রাত ব্যাংকক প্রাতুনাম, দুই রাত ক্রাবি, একরাত ফি ফি আইল্যান্ড, একরাত ফুকেট আর বাকী দুই রাত ছিলাম পাতায়া।

থাইল্যান্ডের ভিসা পাওয়া একটু কঠিন, জানিনা কি কারনে তারা প্রায়ই ভিসা রিজেক্ট করে থাকে। আমিও প্রথমবার যখন ভিসার জন্য আবেদন করি তখন আমাকে রিজেক্ট করে ছিল, এইবার পুনরায় আবার আমি যখন আবেদন করলাম তখন আমাকে তিনবার ফোন করেছিল এবং ইন্টারভিউতে ডেকেছিল। আমার সাথে কথা বলে তারা সন্তুষ্ট এবং পরদিনই জানতে পেলাম যে আমার ভিসা হয়ে গেছে। থাইল্যান্ডের ভিসা পাওয়ার ক্ষেত্রে একটি বিষয় খুবই জরুরী, আপনার মোবাইল ফোন সব সময় চালো রাখতে হবে। তারা যে প্রশ্ন করবে তার উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করবেন এবং এর বাইরে আগ বাড়িয়ে কিছু না বলাটাই ভালো। আর যদি ইন্টারভিউতে ডাকে তাহলে নিজেকে সুন্দরভাবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করবেন তাদের কাছে।

প্লেনের টিকিট:
ভিসা কনফার্ম হয়ে যাওয়ার পর খুব শীঘ্রই এয়ার টিকেট কনফার্ম করে ফেলি এবং ইন্টারনেট ঘেটে দেখলাম থাইল্যান্ড যাওয়ার জন্য থাই এয়ারলাইনস আমার কাছে সবচেয়ে ভাল মনে হয়েছে তাই আর বেশি না ভেবে থাই এয়ারলাইনস এর টিকেট কনফার্ম করে ফেলি এবং থাইল্যান্ডে ডমেস্টিক ফ্লাইট এর জন্য এয়ার এশিয়ার টিকেট কনফার্ম করে ফেলি।

আমাদের ফ্লাইট ছিল দুপুর 1 টা 40 মিনিটে, সকালের নাস্তা খেয়ে দশটার মধ্যে বাসা থেকে বের হয়ে যায় এয়ারপোর্টের উদ্দেশ্যে এবং এক ঘণ্টার মধ্যেই এয়ারপোর্টে পৌঁছে যায়, কারণ সেদিন একুশে ফেব্রুয়ারি ছুটি ছিল তাই রাস্তাঘাট তেমন একটা যানজট ছিল না। পৌঁছেই বোডিং পাসের জন্য লাইনে দাঁড়ায়, সকাল ১১ টা বাজার কিছুক্ষণ পরে বোডিং পাস দেওয়া শুরু হয়। বোর্ডিং শেষে ইমিগ্র্যাশন ফর্ম নিয়ে তা পূরণ করে ইমিগ্র্যাশন লাইনে দাঁড়ায়। কোন ঝামেলা ছাড়াই একে একে আমাদের ইমিগ্রেশন শেষ হল। সবকিছু শেষ এইবার ফ্লাইটের জন্য রেডি কিন্তু এখনো প্রায় ২ ঘন্টার উপর সময় আছে, কি করা যাই ভেবে EBL স্কাই লাউঞ্জে গিয়ে বসি এবং সময়ও ভালো কাটলো। EBL লাউন্স থেকে বেরিয়ে এবার ফ্লাইট এর জন্য রেডি। একে একে বিমানে উঠে বসলাম। থাই এয়ারলাইন্স খুবই বিশালাকৃতির এবং ভিতরের পরিবেশটা খুবই খোলামেলা।

আমাদের ছেলে সিটে বসেই সিটবেল্ট বেঁধে সে রেডি অথচ গত বালি ভ্রমণে তাকে অনেক বুঝিয়ে সুঝিয়ে সিটবেল্ট বাঁধতে হয়েছিল। যাই হোক সিটে বসে আমরা গল্প করছিলাম, এই ফাঁকে একজন এয়ারহোস্টেজ এসে আমার ছেলের সাথে মজা করতে ছিল এবং তার নাম জিজ্ঞেস করছিলো এবং তাকে বলল তুমি যদি তোমার নাম বলো তাহলে আমি তোমাকে একটা জিনিস উপহার দিব। তো আমার ছেলে লজ্জা পেয়ে আর কোন কথা বলছে না। এয়ারহোস্টেজ আবার বললো যদি তুমি আমার সাথে কথা বল তাহলে আমি তোমাকে এই বইটি উপহার দিব। আর যদি কথা না বলো তাহলে এটা তুমি পাবে না, অন্য একজনকে দিয়ে দেবো। দেখি আমার ছেলের মন খারাপ, এয়ারহোস্টেজ আবার একটু ঘুরে আসলো এবং এইবার সে তার নাম বলছে আর এয়ারহোস্টেজ খুশি হয়ে তার হাতের স্টিকার বইটি আমার ছেলেকে দিলো। আমার ছেলে এবার খুশি হয়ে থাকে ধন্যবাদ জানালো এবং বইটি খুলে স্টিকার গুলো দেখতে লাগল।

যাই হোক অবশেষে বিমান উড্ডয়নের জন্য প্রস্তুত এবং এর কিছুক্ষণের মধ্যেই উড্ডয়ন করল আর কিছুক্ষণের মধ্যে আমাদের মাঝে খাবার দিলো, খাবারের মান খুবই ভালো ছিল। এরই ফাঁকে আমাদের মাঝে ইমিগ্রেশন ফরম দিয়ে গেল এবং তা পূরণ করে নিলাম। 2 ঘন্টা 40 মিনিট পর থাইল্যান্ডের সুবর্ণভূমি এয়ারপোর্ট এ আমাদের বিমানটি অবতরণ করলো এবং আমরা থাই ইমিগ্রেশন এর কাজ সম্পন্ন করার জন্য নির্দিষ্ট স্থানে খুব দ্রুতপৌঁছে গেলাম। সুবর্ণভূমি এয়ারপোর্ট এর অভ্যন্তরীণ সিস্টেমটা আমার কাছে খুব ভালো লেগেছে, আপনি যদি ডান বাম একটু তাকিয়ে দেখেন এবং চোখ কান খোলা রাখেন তাহলে কারো সাহায্য ছাড়াই আপনি আপনার গন্তব্যে খুব সহজেই যেতে পারবেন। ইমিগ্রেশন অফিসার এরাইভাল সিল মেরে আমাদের হাতে পাসপোর্ট দিয়ে দিল এবং ইমিগ্রেশন ফর্ম এর একটি অংশ আমাদের পাসপোর্টে রয়ে গেছে যা খুবই গুরুত্বপূর্ণ, যখন আপনি থাইল্যান্ড থেকে ফিরবেন সেই অংশটি আপনাকে আবার পরে এয়ারপোর্টে ইমিগ্রেশন এ জমা দিতে হবে। তাছাড়া এই অংশটি আপনার বুক করা প্রতিটি হোটেলে দেখাতে হবে। অতএব এটি যত্ন করে রাখবেন, হারাবেন না।

ইমিগ্রেশন শেষ করে এখন এয়ারপোর্ট থেকে বের হওয়ার পথে 299 বাদ দিয়ে একটি সিম কার্ড কিনে নিলাম যাতে ৮ দিনের ইন্টারনেট প্যাকেজ রয়েছে, ৭জিবি। আর থাইল্যান্ডে ইন্টারনেটের স্পিড সব জায়গায় মোটামুটি ভালই পেয়েছি।এয়ারপোর্ট থেকে বের হয়ে, এয়ারপোর্টের নির্দিষ্ট স্থান থেকে মিটারে ট্যাক্সি ঠিক করে নিলাম এবং হোটেলে পৌঁছে গেলাম। ব্যাংককে আমাদের হোটেলটি ছিল প্রাতুনামে, এই এলাকাটি শপিংয়ের জন্য খুবই পরিচিত। হোটেলে চেক ইন করে কিছুটা বিশ্রাম নিয়ে সন্ধ্যার দিকে বের হয়ে পরলাম টুকটাক শপিংয়ের জন্য এবং ব্যাংকক শহরটাও একটু ঘুরে দেখলাম। তার মধ্যে Indra Market ও তার আশেপাশের স্ট্রীটমার্কেট গুলো ভাল। টুকটাক কিছুটা শপিং করে রাতের খাবার খেয়ে হোটেলে ফিরে আসলাম এবং ঘুমিয়ে পড়লাম।

ব্যাংককে দ্বিতীয় দিন:
সকালে ব্রেকফাস্ট সেরে আমাদের প্ল্যান অনুযায়ী আজ গ্র্যান্ড প্যালেস, গোল্ডেন মাউন্টেন এবং ব্যাংকক শহরের আশেপাশে ঘুরে দেখব। হোটেল থেকে পাঁচ মিনিট হাঁটা দূরত্বে পৌঁছে গেলাম প্রাতুনাম বোট স্টেশনে, শহরের মধ্য দিয়ে একটি লেক আছে এবং এই লেক দিয়ে নৌকা চলাচল করে যা সহজে আপনি এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যেতে পারবেন। লেকের পানি কিছুটা ময়লা এবং গন্ধ যুক্ত হলেও আপনি আরামসে ব্যাংককের যানজটে এড়িয়ে খুব সহজে আপনার গন্তব্যে যেতে পারবেন। প্রাতুনাম বোট স্টেশন থেকে শেষ স্টেশনে এসে নামলাম এবং আমরা গোল্ডেন মাউন্টেন টেম্পলে ২ মিনিট হাঁটা দূরত্বে পৌঁছে গেলাম। টিকিটের প্রবেশ মূল্য ২00 বাথ, গোল্ডেন মাউন্টেন টেম্পল এর উপর থেকে ব্যাংকক শহরকে খুব ভালোভাবে দেখা যায় অনেকটা আমাদের ঢাকা শহরের গুলশান/বনানীর মতোই পার্থক্য বলতে বিল্ডিংগুলোর নকশা এবং তাদের নিয়োজন।

গোল্ডেন মাউন্টেন পরিদর্শন শেষে চলে গেলাম গ্র্যান্ড প্যালেস দেখতে, এটি থাইল্যান্ডের সবচেয়ে জনপ্রিয় পর্যটন গন্তব্যস্থানগুলোর মধ্যে একটি। এটির স্থাপত্য এবং মূল্যবান সংস্কৃতির জন্য ব্যাংককে সবচেয়ে জাঁকজমক কাঠামোর মধ্যে একটি। টিকিটের প্রবেশ মূল্য 500 বাথ। পরিদর্শন শেষে টুকটুক যোগে ব্যাংকক শহরটা দেখতে দেখতে চলে আসলাম আমাদের হোটেলের কাছাকাছি এবং দুপুরের লাঞ্চ সেরে হোটেলে গিয়ে কিছুটা বিশ্রাম নিলাম। সন্ধ্যার পর বের হয়ে গেলাম ব্যাংককের নাইট মার্কেট দেখার জন্য, যা খুবই জনপ্রিয়। নাইট মার্কেট বলতে এখানে শপিংমলে যে জিনিস গুলো বিক্রি করে সন্ধ্যার পরে সেই জিনিস গুলোই ব্যাংককের ফুটপাত থেকে আপনি সুলভ মূল্যে কিনতে পারবেন। আমরাও পছন্দমতো টুকটাক কিছু জিনিস কিনে নিলাম। শপিং শেষে ডিনারের জন্য চলে গেলাম এক ইন্ডিয়ান রেস্টুরেন্টে খাবার অর্ডার করে আমরা কথা বলছিলাম হঠাৎ আমার বউ বলল আরে আমি যে কাথ ব্যাগটা কিনেছিলাম সেটা কোথায়? যাইহোক সে ভুলে আনেনি, আমি দোকানে গিয়ে ঘটনাটি বললাম এবং দোকানদার আমায় চিনতে পেরে বললো হা নেয়নি আর ব্যাগটা আমায় দিলো। পরদিন খুব ভোরে আমাদের ক্রাবি যাওয়ার ফ্লাইট, তাই ডিনার সেরে হোটেলে গিয়ে ঘুমিয়ে পরলাম।

তৃতীয় দিন এবং ক্রাবি ভ্রমণ :
ভোর চারটায় ঘড়ির এলাম অনুযায়ী নিজে ঘুম থেকে উঠে পড়লাম এবং রেডি হয়ে হোটেল রিসিপশনে চলে আসলাম চেক আউটের জন্য। এসে দেখি আমাদের ট্যাক্সিও হাজির, যা আগেরদিনই ঠিক করে রেখেছিলাম। আমাদের হোটেল থেকে 30 মিনিটের দূরত্বে পৌঁছে গেলাম ডন মুয়াং এয়ারপোর্টে। ডন মুয়াং ব্যাংককের খেট ডন মুয়াং নামক জায়গায় অবস্থিত প্রধান আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর। দুটি টার্মিনাল নিয়ে বিমানবন্দরটি স্থাপিত। আমরা ডোমেস্টিক পোর্ট দিয়ে এয়ার এশিয়ার বোর্ডিং পাস এর জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে গেলাম। অল্প কিছুক্ষণের মধ্যেই বোডিং পাস পেয়ে ফ্লাইট এর জন্য রেডি, আমাদের ফ্লাইট এর সময় ছিল সকাল ছয়টা 40 মিনিট। নির্ধারিত গেটে এসে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করার পর বিমানে চেক ইনের জন্য রেডি। একে একে আমরা বিমানে উঠে বসলাম এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই প্লেনটি ফ্লাই করল স্বপ্নময় ক্রাবির উদ্দেশ্যে। এক ঘন্টা বিশ মিনিট পরে এয়ার এশিয়ার প্লেনটি অবতরণ করলো ক্রাবি ইন্টারন্যাশনাল বিমানবন্দরে। এরপর এয়ারপোর্ট থেকে বের হয়ে চলে আসলাম আমাদের পূর্ব নির্ধারিত বুক করা হোটেলে। এয়ারপোর্ট থেকে হোটেলের দূরত্ব ছিল ট্যাক্সি যোগে প্রায় ২5 মিনিটের মত।

ট্যাক্সি করে যাচ্ছি আর ক্রাবির পরিবেশ দেখে মনে হচ্ছে ব্যাংককের কোলাহলপূর্ণ পরিবেশ থেকে চলে আসলাম এক অপরূপ সৌন্দর্যের মায়াবী পরিবেশে। হোটেলে আগেই বলাছিল আমরা সকালে চেক ইন করব, যদি রুম খালি থাকে। প্রত্যাশামতো সকালের মধ্যেই রুম পেয়ে গেলাম। হোটেলটা আমার কাছে অনেকটা ডুপ্লেক্স বাড়ির মতোই মনে হলো, খুবই শান্ত পরিবেশ এবং এই হোটেল পরিচালনা করছে তিনজন নারী কর্মী। যাদের ব্যবহারে আমরা অত্যন্ত মুগ্ধ। মনে হল নিজের বাড়িতেই ছিলাম, আর রুমের ডেকোরেশনটাও ছিল খুবই নান্দনিক।

তাছাড়া আজ আট বছরে পদাপর্ণ করে আমাদের বিবাহ বার্ষিকী। দিনটি ছিল ২০১২’এর ২৩শে ফেব্রুয়ারি। তার এবং আমার জীবনের সবচেয়ে স্মরণীয় দিন। আজ থেকে সাত বছর আগে ঠিক এই দিনটিতে আমরা একে অন্যের হাত ধরেছিলাম। হোটেলটির নাম কিস হোমটেল আর এটি নপ্পরত থারা (Nopparattara Beach) থেকে ৫-৭ মিনিটের হাটা দুরুত্ব।

হোটেলে পৌঁছে চা কফি খেয়ে চলে আসলাম Nopparattara Beach। খুবই সুন্দর যতদূর চোখ যায় যেন সাগরের বুকে ছোট ছোট পাহাড়ি টিলা আর চারিদিকে সাগর খুবই নান্দনিক পরিবেশ, দিগন্ত বিস্তৃত নীল সাগরের সাথে যেন পাহাড় আর মেঘের মিতালি। আমার ছেলে খুবই আনন্দিত সে এখন সুইমিং করবে, এখানকার সাগরের বুকে বড় বড় ঢেউ নেই খুবই শান্ত। ছেলের জন্য আগেই লাইফ জ্যাকেট কিনে রেখেছিলাম এবং সেটা পরিধান করে সে খুবই পুলকিত, কখন সুইমিং করবে, সাগরের জলে নেমে আর উঠতে চায় না, আমরা তিনজনে মিলে প্রায় দুই ঘন্টার মতো জলে ছিলাম। ছেলে তাতেও তৃপ্ত নয়, সে আরো কিছুক্ষন থাকবে অনেকটা জোর করে উঠালাম, যার উল্টো ঘটনা ঘটেছিল আমাদের বালি ট্যুরে তাকে জোর করেও সমুদ্রে নামানো যায় নি, হা হা হা।

হোটেলে ফিরে লাঞ্চ সেরে নিলাম, লাঞ্চ সেরে কিছুটা ঘুমিয়ে নিলাম এবং সন্ধ্যার পূর্বে চলে আসলাম আও নাং বিচ। সূর্যাস্ত দেখে বিচ এরিয়া কিছুক্ষণ ঘুরলাম আর ছবি তুললাম খুবই শান্ত পরিবেশ, এটি এতটা কোলাহলপূর্ণ নয়। হঠাৎ দোলনা দেখতে পেয়ে আমার ছেলে বায়না ধরল দোলনাতে উঠবে এবং দোলনাতে গিয়ে বসলো, কিছুক্ষণ পর একটি ছোট বাচ্চা মেয়েও তার সাথে গিয়ে বসলো। পাশেই তার মা ছিল এবং তারা অস্ট্রেলিয়া থেকে এসেছে শুধু ক্রাবিতে পাঁচ দিন থাকার জন্য। যাইহোক বিচ এর উল্টো দিকে কিছু শপিং মল রয়েছে, আমার বউ ঘুরে ঘুরে দেখল এবং টুকটাক কিছু কিনতে চাইল কিন্তু দাম শুনে সে কিছুটা হতবাক হয়ে গেল, খুবই এক্সপেন্সিভ। কাজেই এখানে শপিং করা মোটেই বুদ্ধিমানের কাজ হবেনা। কিছুটা ক্ষুধা অনুভব করলাম, ছেলেকে বললাম কি খাবে, বলে বার্গার। আর কিছুক্ষণ সময় কাটিয়ে এবং বার্গার কিং থেকে বার্গার খেয়ে হোটেলে ফিরে আসলাম। হোটেলে ফিরে ফোর আইল্যান্ড টুরের টিকিট কেটে ফেললাম, যারা ক্র্যাবিতে যাবেন তারা অবশ্যই এই টুরটি নিতে ভুলবেন না। থাইল্যান্ড একটা জিনিস লক্ষ্য করলাম আপনি তাদের কাছ থেকে যে কোন প্যাকেজ নিতে চান না কেন সব জায়গায় একই দাম। আমার যেটা মনে হলো তাদের সবার মধ্যে একটা চুক্তি হয়েছে যার ফলে আপনি কোথাও এর কমে পাবেন না, এজন্য সব জায়গায় একই দাম।

চতুর্থ দিন:
পরদিন সকাল সাড়ে আটটার মধ্যে পিক আপ ভ্যান এসে হাজির এবং আমরাও ফোর আইল্যান্ড টুরের জন্য রেডি। আপনার হোটেল বা ভিলা থেকে একটি পিকআপ ভ্যান আপনাকে নিবে, আপনি যদি ক্রবি টাউন বা ক্লং মুয়াংতে থাকেন তবে ড্রাইভার এবং গাইড প্রায় সকাল ৮:00 টার মধ্যে হোটেলে আসবে। আপনার হোটেল যদি Ao Nang হয়, তাহলে ৮:৩০ এর কাছাকাছি পিকআপ ভ্যান আসবে। পিকআপ ভ্যান গুলি প্রায় ৩০ মিনিট সময় নেয়, এর পর আমরা নপ্পরত থারা পৌঁছালাম। এখানে আমরা ছোট নৌকায় প্রায় ৯.০০ টার দিকে যাত্রা করি এবং মোট চারটি দ্বীপে গেলাম আমরা। প্রথমে আমরা প্রাণাং আইল্যান্ড যাই, খুবই পরিষ্কার জল। এই দ্বীপে কিছুক্ষণ সময় কাটিয়ে তারপর আমাদেরকে কোহ ল্যাডিংয়ে নিয়ে যায়, যা আলস প্যারাডাইজ দ্বীপ নামেও পরিচিত। এখানে আপনি সাঁতার কাটুন বা ভাল snorkeling জন্য বিখ্যাত। যারা সাঁতার জানে তারা একে একে snorkeling এর জন্য জলে নেমে গেল তাদের সাথে আমিও নামলাম এবং খুবই এনজয় করলাম যা অনেকদিন মনে থাকবে।

তারপর আমরা গেলাম Poda Island, এখানে নেমে বুফে লাঞ্চ উপভোগ করি (নিরামিষ খাবার +চিকেন) এবং কিছুক্ষণের জন্য আবার সাগরে জলে নামি। ছেলে আমার মহা খুশি আবার জলে নেমে, তাকে আমি সাঁতার শিখাচ্ছি আর সে তার মাকে ডাক দিয়ে বলে মা এইদিকে আসো আমি তোমাকে সাঁতার শিখিয়ে দেয়, হা হা হা।

এরপর বোট আমাদের নিয়ে যায় চিকেন আইল্যান্ড, দ্বীপটি দেখতে অনেকটা চিকেনের মত হওয়ায় এর নাম চিকেন আইল্যান্ড। এখানে আমরা বোট থেকে নামিনি, তবে স্কুবা ডাইভিং এর ব্যবস্থা ছিল। সবশেষে যাই টাব আইল্যান্ডে, এক দ্বীপ থেকে সাগরের মাঝ দিয়ে আরেক দ্বীপে যাওয়ার অভিজ্ঞতাটা সত্যিই অসাধারন। টাব আইল্যান্ডে নেমে তার সৌন্দর্য দেখে যে তার বর্ণনা করবো এমন ভাষা আমার জানা নেই! সত্যিই তা কেবল নিজের চোখে দেখা ছাড়া বর্ণনা করা কঠিন।

টাব আইল্যান্ডে কিছুক্ষন সময় কাটিয়ে প্রায় বিকাল ৩ টার দিকে আমরা আও নাং সমুদ্র সৈকতে ফিরে আসার জন্য আবার নৌকাতে যাই। প্রায় 4 টার দিকে বোট এসে আও নাং বিচ থামল এবং কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে সেই ভ্যানযোগে আবার আমরা হোটেলে ফিরে আসলাম। সত্যি-ই অসাধারন এক অভিজ্ঞতা এবং এখানে এসে মনে হলো জীবন আসলেই উপভোগ্যময়! পরদিন সকাল ৯ টায় ফি ফির উদ্দেশ্যে যাত্রা আর এখানেই আমাদের ক্র্যাবি ভ্রমনের সমাপ্তি। এখানে ক্রাবি সম্পর্কে কিছু কথা না বললেই নয়। স্থানটি থাইল্যান্ড এর বর্ডার এলাকায়, মালয়েশিয়ার লাংকাওইর খুব কাছে বলেই এলাকাটি মুসলিম অধ্যুষিত এবং প্রায় ৫০ ভাগ মুসলিম।

পঞ্চম দিন এবং ফি ফি আইল্যান্ড ভ্রমণ:
ক্র্যাবিকে বিদায় জানিয়ে এবার আমাদের গন্তব্য ফি ফি আইল্যান্ড। ফেরি ঘাটে এসে তাদের ফেরিঘাট দেখে আমি কিছুটা অবাক এ যেন একটা মিনি এয়ারপোর্ট, খুবই ভালো সুযোগ-সুবিধা। 9 টা বাজার কিছুক্ষণের মধ্যেই ফেরি ছেড়ে দিল আর তরতর করে সামনে এগিয়ে যাচ্ছে, যেন নীল সাগরের বুক চিরে এগিয়ে চলল আমাদের ফেরি।

ফেরির ছাদ থেকে এই নয়নাভিরাম দৃশ্য অবলোকন সত্যিই কখনো ভুলার নয়, এ যেন কল্পনায় ছোটবেলায় টিভিতে দেখা সিন্দাবাদের সওদা করতে যাওয়ার দৃশ্য। দেখতে দেখতে প্রায় দুই ঘন্টা পর ফেরি এসে ভিড়ল ফি ফির ঘাটে। ফেরি থেকে নেমে সামনে এগিয়ে যাচ্ছি এবং দেখি সবাই যার যার হোটেলের ব্যানার নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। একটু সামনে যেতেই আমাদের বুক করা হোটেলের ব্যানার টি পেয়ে গেলাম, ফি ফিতে আমাদের হোটেলের নাম ছিল “The Cobble Beach Hotel” হোটেল কর্তৃপক্ষের লোক আমাদের ব্যাগ গুলো নিয়ে একটি নির্দিষ্ট জায়গায় কিছুক্ষণ অপেক্ষা করার জন্য বলে কারণ এই ফেরিতে তাদের হোটেলের আরো লোকজন ছিল। সবাই একসাথে জড়ো হওয়ার পর সে হাত চালিত একটি দুই চাকার ভ্যানে আমাদের সবার ব্যাগ গুলো নিয়ে তার পিছন পিছন যেতে বলল। সবাই এগিয়ে যাচ্ছে আর আমরা কিছুটা পিছিয়ে পড়ে গিয়েছিলাম আমাদের ছেলের কারণে, এই অবস্থা দেখে হোটেলের লোকটি আমার ছেলেকে ভ্যানের উপর বসিয়ে দিল এবং যেতে লাগলো। প্রায় 15 মিনিট হেঁটে অবশেষে হোটেলে চেক ইন করলাম। হোটেলে চেক ইন করে ক্রাবি থেকে নিয়ে আসা পাউরুটি, আম খেয়ে নিলাম আমরা তিনজন মিলে।

কিছুক্ষন বিশ্রাম নিয়ে নেমে পড়লাম সাগরের বুকে, এমন স্বচ্ছ জল আমি এর আগে কোথাও কোনো সৈকতে দেখিনি। কোমর সমান জলে দাঁড়িয়েও স্পষ্ট সাগরের তলদেশ দেখা যাচ্ছিলো। রুমে ফিরে ফ্রেশ হয়ে দুপুরের খাবার খেয়ে একটু ঘুমিয়ে নিলাম। সন্ধ্যায় বের হলাম দ্বীপ প্রদক্ষিনে, পাহাড়ে ঘেরা আর নয়নাভিরাম সৌন্দর্য্যে ঘেরা ছোট্ট একটি দ্বীপ ফি ফি। আপনি পায়ে হেঁটেই দ্বীপটি প্রদক্ষিণ করতে পারবেন, সর্বোচ্চ ত্রিশ থেকে চল্লিশ মিনিট লাগতে পারে । এখানে কোন যানবহন নেই, তাই আপনার পা দুটিই একমাত্র ভরসা। দুপুরে যে রেস্টুরেন্টে খেয়েছিলাম সেই রেস্টুরেন্টেই ডিনার সেরে হোটেল রুমে ফিরে আসলাম। পরদিন সকাল 9 টায় আমাদের ফুকেট যাত্রা কিন্তু ফি ফির সৌন্দর্য দেখে ঠিক করলাম সকাল এর পরিবর্তে দুপুরের ফেরিতে যাব। একই কোম্পানির ফেরি টিকিটে আপনি যেকোনো টাইমে যেতে পারবেন, আমি আমি যে ফেরির টিকেট কেটেছিলাম তাদের টাইম ছিল সকাল 9 টা, ১১ টা আর দুপুর 2 টা।

ষষ্ঠ দিন এবং ফুকেট ভ্রমণ:
সকালে ঘুম থেকে উঠে ফি ফির সৌন্দর্য উপভোগের জন্য সৈকতের বালুচরে হেঁটে বেড়ালাম আর অনেক ছবি তুললাম। আমাদের এই হোটেলের সুইমিং পুল এবং রেস্টুরেন্ট এর স্থানটি ছিল এক কথায় অসাধারণ। ব্রেকফাস্ট সময় বা সুইমিংপুল থেকে ফি ফির প্রকৃতির সৌন্দর্য অবলোকন করার মুহূর্তটি সারা জীবন মনে থাকবে। সত্যিই পুরো দ্বীপটি বিধাতা যেন ছবির মত করে সাজিয়েছে। কেউ যদি আমাকে কখনো জিজ্ঞেস করে আপনার থাইল্যান্ড ট্যুরের সবচেয়ে স্মরনীয় মুহুর্ত কোনটি, আমি বলব ফি ফিতে কাটানো একটি রাত, যা কখনো ভুলার নয়। দুপুর নাগাদ ফি ফি কে বিদায় জানিয়ে ফেরিতে উঠে বসলাম, এবার গন্তব্য ফুকেট। আবার প্রায় দুই ঘন্টা পর ফেরি ফুকেটের তীরে এসে পৌঁছলো। মনে হচ্ছে আবার যেন কোলাহলপূর্ন নগরীতে ফিরে এলাম। ফেরিতে থাকা অবস্থায়ই হোটেলে যাওয়ার টিকেট করে নিলাম। ফুকেটে আমাদের হোটেলটি পেতং বিচের কাছেই ছিল। বিকেলের মধ্যে হোটেলে ফিরে ফ্রেশ হয়ে গেছে চলে আসলাম পেতং বিচে সূর্যাস্ত দেখব বলে, সূর্যাস্ত দেখে কিছুটা সময় কাটিয়ে পেতং শহরটা একটু ঘুরে দেখলাম। আগেই প্ল্যান ছিল ফুকেটে একদিন থাকবো, পরদিন সকালে আবার ব্যাংককের ফ্লাইট। এই কয় দিনে সাগর, পাহা্ড়, দ্বীপ যথেষ্ট দেখেছি, তাই আবার আমার ছেলের জন্য ঘুরে বেড়াবো।

সপ্তম দিন এবং পাতায়া ভ্রমণ:
সকালে ঘুম থেকে উঠেই ট্যাক্সি যোগে চলে গেলাম ফুকেট এয়ারপোর্টে। সেখান থেকে এয়ার এশিয়ার ফ্লাইটে পৌঁছে গেলাম ডন মুয়াং। এরপর এয়ারপোর্ট থেকে আবার ট্যাক্সি যোগে সরাসরি আসলাম ব্যাংকক সাফারিপার্কে। ড্রাইভার ট্যাক্সি থেকে নামার পর জিজ্ঞেস করলো, আপনারা সাফারি পার্ক দেখার পরে কোথায় যাবেন, আমি বললাম এইখানে সাফারি পার্ক এবং সাফারি ওয়ার্ল্ড দেখতে যতক্ষণ লাগে তারপর এখান থেকে আমরা সরাসরি যাব পাতায়া। তার কথা বুঝতে কিছুটা সমস্যা হচ্ছিল তারপর সে একজন ইংরেজি জানা লোকের সাথে কথা বলিয়ে দিল। কথা বলে আমি বুঝতে পারলাম সে আমাদের পাতায়া নিয়ে যেতে রাজি কিন্তু সে দুই হাজার বাথ ভাড়া দাবি করে। অবশেষে দামাদামি করে ডন মুয়াং এয়ারপোর্ট থেকে সাফারি পার্ক আসা + পাতায়া পর্যন্ত সে পনেরশো বাথে রাজি হলো। উল্লেখ্য ব্যাংকক শহর থেকে পাতায়ার দূরত্ব ১৬০+ কিঃমিঃ।

অবশেষে সাফারি পার্কে প্রবেশ করি, এখানে এক শো শেষ হলে দর্শক পায়ে হেটে চলছে আরেকটি গেম শো দেখতে। এভাবে চলে সী লায়ন শো, ডলফিন শো, কাউবয় শো, এ্যালিফেন্ট শো, বার্ড শো,স্পাই ওয়ার শো। আমার ছেলেতো মহাখুশি আর সবচেয়ে সে মজা পায় জিরাফকে কলা খাহিয়ে এবং সাফারি ওয়ার্ল্ডে উন্মুক্ত অবস্থায় পশুপাখিদের বিচরণ দেখে। যেখানে দেখা যায় সি লায়ন ও ডলফিনগুলো দর্শকদের ফুলের মালা দিয়ে বরণ করে নিচ্ছে। দেখাচ্ছে নানা শারীরিক কসরত, ডিগবাজি। পুলের এক প্রান্ত থেকে পিঠে মানুষ নিয়ে ছুটে চলেছে অন্য প্রান্তে। সুরের তালে তালে চলছে কখনো একক আবার কখনোবা দলীয় নৃত্য।

ঘুরতে ঘুরতে কিছুটা ক্লান্ত, লাঞ্চ সেরে বিকাল ৩ টা নাগাদ ট্যাক্সিতে উঠে বসলাম, গন্তব্য এবার পাতায়া। পাতায়া যাওয়ার রাস্তা দেখে আমি কিছুটা অবাক বাম দিকে চার লেন ডানদিকেও চার লেন। পুরো থাইল্যান্ডের ট্রাফিক ব্যবস্থা উন্নতমানের, রাস্তায় কোনো গাড়ির হর্নের শব্দ নেই, সবাই সয়ংক্রিয় সিগন্যাল মেনে গাড়ি চালাচ্ছে। পাতায়ার পথে আমাদের ট্যাক্সি ১১০-১২০ কিঃমিঃ গতিতে চলছে অনবরত। আর আমার ছেলে ট্যাক্সিতে উঠার কিছুক্ষনের মধ্যেই ঘুমে, সারাবেলা সাফারি পার্ক ঘুরে ক্লান্ত। আর তার কথা ভেবেই প্রায় সময় ট্যাক্সি নিতাম এবং প্রায়সময় গাড়িতেই সে একটা ঘুম দিতো, তার জন্য গাড়িতে সবসময় খাবার রাখতাম, তবে এবার বালি ট্যুরের চেয়েও সে খুব মানিয়ে নিয়েছে। ওভারঅল খুব উপভোগ করেছে।
প্রায় দুই ঘন্টার মধ্যে আমরা পাতায়া পৌঁছে গেলাম এবং হোটেলে চেক ইন করলাম। দেখি ছেলের কিছুটা মন খারাপ তার হোটেল রুম দেখে পছন্দ হয়নি, ক্রাবি এবং ফুকেটের হোটেল রুমটি তার খুবই পছন্দ হয়েছিল। আমার বৌয়েরও কিছুটা পছন্দ হয় নি, তাই রিসিপশনে আসলাম বললাম অন্য কোন রুম দেয়া যায় কিনা এই রুমের পরিবর্তে। তারা বলল দেয়া যাবে তবে কিছুটা বাড়তি পেমেন্ট করতে হবে আমি বললাম কত? বলল আপনারা এখানে থাকবেন দুই রাত তার জন্য আরও ৬০০ বাথ দিতে হবে। মনে মনে ভাবলাম এটাই আমাদের শেষ হোটেল তাই আর কিছু চিন্তা না করে বললাম ঠিক আছে, আর তারাও ডিলাক্স রুমে শিফট করে দিলো। এই রুম পেয়ে ছেলে খুশি, ছেলের মাও খুশি আর সেই খুশিতে আমিও খুশি হাহাহা।

ফ্রেশ হয়ে কিছুটা বিশ্রাম নিলাম, সন্ধ্যার একটু পর বের হলাম আজ প্রায় সারাদিন সাফারি পার্কে হেঁটে পা দুটো ব্যথা করছে, তাই বউ জামাই মিলে চলে এলাম ম্যাসেজ পার্লারে ফুট ম্যাসাজ নিতে। কিছুক্ষণ পাতায়া সিটি ঘুরে রাতের ডিনার সেরে হোটেলে এসে ঘুমিয়ে পড়লাম।

অষ্টম দিন:
হোটেল থেকে ব্রেকফাস্ট সেরে রেডি হয়ে গেলাম প্ল্যান অনুযায়ী আজকে পাতায়া শহর ও তার আশেপাশের কিছু দর্শনীয় স্থানগুলো ঘুরে দেখব।প্রথমেই পাতায়া বিচে কিছুক্ষণ সময় কাটিয়ে কিছু ছবি তুললাম, সেখান থেকে ভ্যানে করে চলে গেলাম আর্ট গ্যালারিতে এবং অনেকক্ষণ সময় কাটালাম আর অনেক ছবি তুললাম, খুবই এনজয় করেছে আমার ছেলে। সেখান থেকে ট্যাক্সি নিলাম আর যাচ্ছি মিনি সিয়ামের পথে, লেডি ট্যাক্সি ড্রাইভার, ট্যাক্সি করে যাচ্ছি আর সে আমাদের ভাঙ্গা ভাঙ্গা ইংরেজিতে জিজ্ঞেস করল আমরা আর কোথায় কোথায় যাব কয়দিন পাতায়াতে থাকব ইত্যাদি। বললাম আমরা আগামীকালই চলে যাচ্ছি। সুবর্ণভূমি এয়ারপোর্ট হয়ে ডিরেক্ট আমাদের ফ্লাইট ব্যাংকক সময় রাত 11 টা, সে বললো তুমি রাজি থাকলে আমার ট্যাক্সি ভাড়া করতে পারো, আমি যাব না আমার এক ছেলে বন্ধু তোমাদের নামিয়ে দিবে। তো দরদামের একপর্যায়ে সে ১০০০ বাথ চাইলো, আমার আগে একটা আইডিয়া ছিলো দাম নিয়ে আমি বললাম ৮০০ বাথ, শেষ পর্যন্ত ৯০০ বাথে রাজি হলো। ১০০ বাথ অগ্রিম নিয়ে সে আমাকে একটা স্লিপ দিয়ে দিল এবং যে ড্রাইভার আসবে তার নাম্বার দিয়ে বলল উনার সাথে যোগাযোগ করতে, আমি বললাম ঠিক আছে আমরা সন্ধ্যা ৬ টায় রওনা দিবো।
তার থেকে বিদায় নিয়ে আমরা মিনি সিয়ামে প্রবেশ করলাম, মিনি সিয়ামের পরিবেশটা খুবই চমৎকার এখানে এখানে বিভিন্ন দেশের জনপ্রিয় স্থাপনাগুলো নিয়ে এক একটি ছোট্ট দেশ গড়ে তোলা হয়েছে বেশির ভাগই ইউরোপীয় মহাদেশের। একটি গাছের ছায়া থেকে ছেলেকে কিছু স্থাপনা দেখাচ্ছিলাম হঠাৎ দেখি আমার মাথার উপর কি যেন পরলো, উপরে তাকিয়ে দেখি জাম গাছ আর আমার মাথায় একটি পাকা জাম পড়েছে। নিচেও তাকিয়ে দেখি অনেক পাকা জাম পড়ে আছে, লোভ সামলাতে না পেরে কয়েকটি কুড়িয়ে খেলাম, খুবিই টেস্ট আর বুঝলাম থাইল্যান্ডে এখন ভরপুর গ্রীষ্মকাল তাই এত গরম হা হা হা।

দুপুর পর্যন্ত আমি মিনি সিয়ামে সময় কাটিয়ে চলে আসলাম পাতায়া শহরে, সেখান থেকে লাঞ্চ সেরে হোটেল রুমে এসে বিশ্রাম নিলাম। ঘুরাঘুরি তো অনেক হল এবার শেষ পর্যায়ে কিছু শপিং করার পালা, সন্ধ্যার পর চলে গেলাম পাতায়া নাইট মার্কেটে। ঘুরে ঘুরে দেখলাম এবং কিছু প্রয়োজনীয় জিনিস কিনে নিলাম। ডিনার সেরে হোটেলে ফিরলাম।

৯ম দিন এবং আমাদের রিটার্ন ফ্লাইট:
সকালে ঘুম থেকে উঠে ব্রেকফাস্ট করতে গেলাম আর আমার ভার্সিটি লাইফের এক বন্ধুর সাথে দেখা হয়ে গেল। প্রায় 10 বছর পর বন্ধুর সাথে দেখা প্রথমে চিনতে পারিনি তারপর দূর থেকে তার নাম বলে ডাকলাম দেখি সে আমার ডাকে সারা দিচ্ছে। ব্রেকফাস্ট করতে করতে অনেকক্ষণ গল্প করলাম আর সময়টাও ভালোই কাটলো। ধীরেসুস্থে দুপুর 12 টার মধ্যে হোটেল থেকে চেক আউট করলাম, হোটেল লবিতে আমাদের লাগেজ গুলো রেখে চলে আবারও চললাম টুকটাক শপিং করতে। শপিং শেষে লাঞ্চ করতে গেলাম, পাতায়াতে যে দুই দিন ছিলাম এক ইন্ডিয়ান রেস্টুরেন্টে খেয়েছিলাম, রেস্টুরেন্টের মালিকও এক ইন্ডিয়ান। সে প্রায় 18 বছর ধরে থাইল্যান্ডে থাকে তার বাসা এবং রেস্টুরেন্ট একই বিল্ডিংয়ে। খাবারের মান ও দাম খুবই ভালো আর তাদের সাথে খাতিরও খুব ভালো জমে গিয়েছিল। ওরাও জানে আজকে আমাদের থাইল্যান্ডে শেষ দিন তাই আমাদের খুবই ভালো আপ্যায়ন করলো।
লাঞ্চ সেরে আবার হোটেলে ফিরে আসলাম এবং শপিং করা জিনিস গুলো গুছিয়ে নিলাম। পাতায়া বিচে এসে চেয়ার ভাড়া করে নিভৃতে তিনজন মিলে সময় কাটালাম বিকাল পর্যন্ত। বিকাল সাড়ে পাঁচটা নাগাদ আগেই ভাড়া করা ট্যাক্সি এসে হাজির। আমরাও উঠে রওনা হলাম সুবর্ণভূমি এয়ারপোর্ট এর উদ্দেশ্যে। রাত সাড়ে আটটার দিকে সুবর্ণভূমি এসে পৌছালাম এবং বোর্ডিং পাস নিয়ে নিলাম। বোডিং শেষে হাঁটতে হাঁটতে চলে গেলাম ইমিগ্রেশনে। একে একে হয়ে গেলো ইমিগ্রেশন। সবকিছু শেষ এইবার ফ্লাইটের জন্য রেডি কিন্তু এখনো প্রায় ২ ঘন্টার উপর সময় আছে, কি করা যায় ভেবে আমার স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক এর প্রায়োরিটি পাস কাজে লাগালাম, প্রায়োরিটি পাস দেখিয়ে Miracle First Class Lounge সময় কাটাই ফ্লাইটের আগ পর্যন্ত।

সবশেষে, সত্যি বলতে কি এই কয়দিনের ঘুরাফেরাই থাইল্যান্ডের প্রেমে পরে গিয়েছিলাম। থাইল্যান্ডের মানুষও আমাদের দেশের মতো অনেকটা অতিথি পরায়ন, থাইল্যান্ডে যত জায়গায় গিয়েছি এবং যত শপিংমলে গেলাম সবাই খুব ভালো ব্যবহার করেছে। মনে মনে ঠিক করলাম আবার যদি থাইল্যান্ড আসি তাহলে নেক্সট টাইম শুধু ফুকেট এবং ফি ফি আইল্যান্ড সময় কাটাবো, কারণ এবার ফুকেটে তেমন একটা ঘোরা হয়নি। আর ফি ফি আইল্যান্ড এর স্মৃতি আমার মনে চির অম্লান হয়ে থাকবে।

খরচাপাতি:
এই ৯ দিনে শপিংবাদে আমাদের তিনজনের প্রায় 2 লক্ষ ২0 হাজার টাকার মতো খরচ হয়েছে।
প্লেন ফেয়ার: ৬০ হাজার (ঢাকা-ব্যাংকক-ঢাকা, থাই এয়ারলাইন্স)
ইন্টারন্যাল প্লেন ফেয়ার: ২৫ হাজার টাকা, খাবার +ল্যাকেজ খরচসহ (ব্যাংকক-ক্রাবি এবং ফুকেট-ব্যাংকক, এয়ার এশিয়া)
হোটেল খরচ: প্রায় ৩৫ হাজার টাকা।
ফেরি ভাড়া: ৪ হাজার টাকা (ক্রাবি-ফি ফি-ফুকেট)
ইন্টারন্যাল রোড ট্রান্সপোর্ট: প্রায় ৩০ হাজার টাকা।
একটিভিটিস + টিকেট মূল্য: প্রায় ২৩ হাজার টাকা।
বাদবাকী খরচ: খাবার + অন্যান্য।

নোট:
দয়াকরে সব জায়গায় ভদ্রতা বজায় রাখুন আর প্লাস্টিক, পলিথিন ও অপচনশীল জিনিস এখানে সেখানে ফেলবেন না। প্রকৃতি পরিস্কার রাখার দায়িত্বও আপনার। মনে রাখবেন ধনী-গরীব যেই হোক না কেন প্রকৃতির কাছে সবাই সমান।
source:Suman Saha‎ <Travelers of Bangladesh (ToB)

13 Mar 2019

সকল জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে অামাদের দীর্ঘ এক মাসের পরিকল্পনা বাস্তবে পরিণত হয়েছে।অনেক বার সাগর বা পাহাড়ে যাওয়া হইছে তাই এবার অামাদের ইচ্ছা ছিল সমতল ভূমি ভ্রমণ করা। সকলে মিলে সিদ্ধান্ত নিলাম রাজশাহী বিভাগ ঘুরতে যাব সাথে খুলনা বিভাগের দুইটা জেলা।

দশদিনে মেহেরপুর> কুষ্টিয়া> পাবনা> নাটোর> রাজশাহী> নওগাঁ> বগুড়া ভ্রমণের আদ্যোপ্রান্ত নিন্মরুপঃ

আমরা তিনবন্ধু রওনা হই চট্রগ্রাম থেকে।
২২-০২-২০১৯ তারিখ রাত দশটার বাসে চট্রগ্রাম হতে ঢাকা পৌছি ভোর ৪টায়। বাস থেকে নেমে নাস্তা করে চলে যাই বন্ধুর বাসায়, ক্লান্ত শরীরে কিছুক্ষন ঘুমিয়ে নিজেকে সতেজ করে নিই কারণ সামনে অপেক্ষা করছে দীর্ঘ যাত্রার গ্লানি।

দুপুরের চলে যাই একুশে বইমেলায়। ওখানে কয়েকে ঘন্টা ঘুরে সন্ধায় রুমে এসে বন্ধুদের সাথে অাড্ডা দিতে দিতে রাতের খাবার সেরে নিই।
রাত ৮ টায় উবারে করে চলে যাই ঢাকার কল্যাণপুর বাস স্ট্যান্ড। শ্যামলীর ৯টার মেহেরপুরগামী বাসের টিকেট কেটে নিলাম ভাড়া=৪৫০ (জনপ্রতি)।
মেহেরপুরে বঙ্গবন্ধু সেতু ও পদ্মা নদী পারাপার হয়ে দুইভাবেই যাওয়া যায়।যারা ফেরী পারাপার হয়ে যাবেন তারা বাস পাবেন গাবতলী থেকে।

২য় দিন-
ভোর ৫টায় পৌঁছে গেলাম মেহেরপুর।বাস কাউন্টারে কিছুক্ষন বসে সকাল হওয়ার পর সকালের নাস্তা সেরে নিলাম।তারপর অটো করে চলে গেলাম মুজিবনগর ভাড়া জনপ্রতি ৪০।

মুজিবনগর (পূর্বনাম: বৈদ্যনাথতলা)
বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী সরকারের রাজধানী ছিল এখানে। এখানেই তৎকালীন বৈদ্যনাথতলা বর্তমান মুজিবনগরের আম্রকাননে ১৭ এপ্রিল সরকারের মন্ত্রী পরিষদ শপথ নিয়েছিল। বাংলাদেশের প্রথম রাজধানীর ঐতিহ্য ধরে রাখতে সুন্দর ভাবে গড়ে তোলা হয়েছে।মুজিবনগর হতে ভ্যান করে চলে যাই হৃদয়পুর বর্ডার। ঐখানে দেখার মত কিছু নাই। মুজিবনগর থেকে বাহির হয়ে অটোরিকশা করে চলে যাই অামঝুপি নীলকুঠি। ভাড়া ৫০।
বৃটিশ আমলে নীল চাষের উদ্দেশে ইংরেজরা ৭৪ একর জমির ওপর কালের স্বাক্ষী মেহেরপুরের ঐতিহাসিক আমঝুপি নীলকুঠি গড়ে তোলে।
নীল চাষ অত্যধিক লাভজনক হওয়ায় ১৭৯৬ সালে এখানে নীল চাষ শুরু হয়। ১৮১৮ থেকে ১৮২০ সালের মধ্যবর্তী সময়ে মেহেরপুরর বেশ কয়েকটি স্থানে নীলকুঠি স্থাপিত হয়। তন্মধ্যে আমঝুপি, গাংনীর ভাটপাড়া, বামন্দি নীলকুঠি অন্যতম।অামঝুপি নীলকুঠির পাশেই রয়েছে অপরূপ কাজলা নদী। কথিত আছে রবাট ক্লাইভ প্রায়ই সময় কাটানোর জন্য আমঝুপি নীলকুঠিতে আসতেন ।১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের সময় ইংরেজরা চলে যাবার সময় পূর্ব পাকিস্থানের (বাংলাদেশ) সরকারের কাছে কাছে হস্তান্তর করে যায়।

নীলকুঠি ঘুরে অটো করে চলে যাই মেহেরপুর সদর। ভাড়া ২০। বাজারে নেমে দুপুরের খাবার খেয়ে কুষ্টিয়াগামী উঠে যাই। ভাড়া ৯০।
২ঘন্টার মত লাগে মেহেরপুর থেকে কুষ্টিয়া আসতে।
মজমপুর নেমে অটো করে চলে যাই ছেউড়িয়াতে। এখানেই লালনের আখড়া।সন্ধা পর্যন্ত সময় কাটিয়ে
অটো করে চলে অাসি চৌড়হাস মোড়, ভাড়া ১৫।এবার অামাদের গন্তব্য কুষ্টিয়া বিশ্ববিদ্যালয়।
৩০ টাকা দিয়ে বাসের টিকিট কেটে ৪০ মিনিটে পৌঁছে যাই বিশ্ববিদ্যালয়।
তারপর ফ্রেশ হয়ে পুরো ক্যাম্পাটা ঘুরে দেখি।ক্যাম্পাটা আমাদের কাছে অনেক ভালো লেগেছে সবকিছু সাজানো গোছানো। রাতের খাবার খেয়ে তারপর শান্তির ঘুম।

৩য় দিনঃ
সকালে ঘুম থেকে ওঠে নাস্তা করে ক্যাম্পাসে অারো কিছুক্ষন সময় কাটিয়ে বাসে করে চলে অাসি চৌড়হাস মোড়। এবার যাব শিলাইদহ কুঠিবাড়ী। শিলাইদহ যেতে হলে চৌড়হাস মোড় থেকে প্রথমে সিএনজি করে যেতে হবে অালাউদ্দীন মোড়, ভাড়া ১৫।
ঐখান নেমে অাবার সিএনজি করে যেতে শিলাইদহ কুঠিবাড়ী, ভাড়া২০।
কুঠিবাড়ী ঘুরা শেষ হলে বাড়ি থেকে বের হয়ে ভ্যান পাবেন তিন জায়গা পদ্মার পাড়, রবিঠাকুরের কাচারি ঘর,পাঁচতলা কাঠের বাড়ি। ভাড়া ৩০ টাকা জনপ্রতি।
যেখান থেকে ভ্যানে উঠবেন তিন জায়গা ঘুরিয়ে অাবার সেই যায়গায় নামিয়ে দিবে।
কুঠিবাড়ী থেকে অালাউদ্দীন মোড় চলে অাসুন।এখানে দুপুরের খাবার খেয়ে নেন।
তারপর ভ্যান করে চলে যান বিশ্বের অন্যতম ট্রাজেডি গ্রন্থ ‘বিষাদসিন্ধুর’ রচয়িতা মীর মশাররফের জন্মভিটা ও স্মৃতি জাদুঘর, ভাড়া ১৫।এখানে ঘুরা শেষে ভ্যানে করে চলে যান কুষ্টিয়া শহরে, ভাড়া ১০।
শহর থেকে রেনউক বাধ চলে যান এটা কুষ্টিয়া শহরের খুব কাছে হেটে যাওয়া যায় অটোতে ৫ টাকা।
অাসার সময় কুষ্টিয়া পৌরসভা ঘুরে আসুন।
তারপর হোটেলে ফ্রেশ হয়ে বেরিয়ে যান রাতের কুষ্টিয়া শহর দেখার জন্য।
অামরা সরকারি কলেজ,পার্ক,রেলস্টেশন,মেডিকেল অাশপাশে ঘুরছিলাম।
অাজ অার ঘুরাঘুরি না করে রাতের খাবার খেয়ে নিই। এরপর শান্তির ঘুম।

একদিনও হোটেলে ছিলাম না তাই হোটেল ভাড়া সম্পর্কে বলতে পারলাম না।
তবে ৫০০-১০০০ টাকায় ডাবল বেডের রুম পেয়ে যাবেন।
খরচ একটু কমবেশি হতে পারে,খাবার প্রতি বেলা ৭০-৮০ টাকায় খেতে পারবেন।
লেখারকিছু তথ্য উইকিপিডিয়া থেকে নেওয়া হয়েছে।
ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।

source: Jisan Ahmed‎ <Travelers of Bangladesh (ToB)

14 Feb 2019

সি‌কিম ট্যুরটা আমার কা‌ছে অত্যা‌ধিক ভা‌লো লে‌গে‌ছে। বি‌শেষ ক‌রে কাছ থে‌কে বরফ ছু‌য়ে দেখার অনুভূ‌তিটা ব্যক্ত করা সম্ভব নয়। আ‌মার এক বন্ধুসহ দুজ‌নে বেনা‌পোল বর্ডার দি‌য়ে কোলকাতা হ‌তে শ্যামলী প‌রিবহন‌যো‌গে শি‌লিগু‌ড়ি আসি।

* ফুলবাড়ি/বাংলাবান্ধা পোর্ট হ‌তে শিলিগুরি জাংশনের দূরত্ব ১২ কিমি আর চ্যাংড়াবান্ধা/বু‌ড়িমারী থেকে শিলিগুরি জাংশনের দূরত্ব ৮৩ কিমি। তাই যা‌দের ভিসায় ফুলবাড়ী বর্ডার র‌য়ে‌ছে তা‌দের জন্য বেটার হ‌বে।

‌* পার‌মিশন সংক্রান্ত আ‌লোচনাঃ
—————————————–
শি‌লিগু‌ড়ি Sikkim Nationalized Transport( SNT) অ‌ফিস হ‌তে ইনার লাইন পার‌মিশন করাই। অ‌ফিস খো‌লে সকাল দশটায়। পাস‌পোর্ট,‌ভিসার ফ‌টোক‌পি ও ছ‌বি সহ নি‌র্দিষ্ট ফর্ম পূরন ক‌রে সাত‌ দি‌নের আ‌বেদন ক‌রেও এগার দি‌নের জন্য বিনা টাকায় সহ‌জে পার‌মিশন পে‌য়ে‌ছি। SNT থে‌কেই ১৫০ টাকা ভাড়ায় বা‌সের টি‌কিট কে‌টে গ্যাংট‌কের উ‌দ্দ্যেশে রওনা ক‌রি।

* রং‌পো চেক পোষ্ট এবং সিল সংক্রান্ত কিছু কথাঃ
——————————————————————
বাস/জীপ যেটাই হোক না কেন আ‌গে থে‌কেই ড্রাইভার‌কে চেক‌ পো‌ষ্টে থামা‌নোর কথা ব‌লে রাখ‌তে হ‌বে। অন্যথায় গাড়ী না থা‌মা‌নোর সম্ভাবনা থে‌কে যা‌বে। রং‌পো ফ‌রেনার রে‌জি‌ষ্ট্রেশন অ‌ফি‌সের দোতলা হ‌তে ইনার লাইন পার‌মিশনের পেপা‌রে এবং পাস‌পো‌র্টে সিল মে‌রে নি‌তে হ‌বে।

‌* ফেরার দিন পাস‌পো‌র্টে সিল মারা অং‌শে শুধু মাত্র তা‌রিখ দি‌য়ে ইনার লাইন পার‌মিশ‌নের মুল ক‌পি তারা রে‌খে দি‌বে। অর্থ্যাৎ পাস‌পো‌র্টে একটাই গোল সিল থাক‌বে কিন্তু তা‌রিখ হ‌বে দুইটা।

* যাদের ভারতীয় এম্বাসী/এসএন‌টি হ‌তে পার‌মিশন নেওয়া হই‌নি,তারা রং‌পো থে‌কেও সহ‌জে পার‌মিশন নি‌তে পার‌বেন। সকাল আটটা হ‌তে রাত আটটা পর্যন্ত অ‌ফিস খোলা থা‌কে।

* কোথায়‌ থাক‌বেনঃ
————————-
গ্যাংট‌কের MG Marg এ ভা‌লো মা‌নের অ‌নেক হো‌টেল র‌য়ে‌ছে। হো‌টেল ক‌য়েকটা দে‌খে দরাদাম ক‌রে নি‌তে হ‌বে। এম‌জি মা‌র্গের হো‌টেল গু‌লো ব্যয় বহুল।

* ট্যুর প্লান তৈরী সংক্রান্ত ধারনাঃ
——————————————
হো‌টে‌লে চেক ইন ক‌রে এম‌জি মার্গ বা তার আ‌শে পা‌শের কোন এ‌জে‌ন্সির সা‌থে কথা ব‌লে আগামী দি‌নের জন্য ভ্রম‌নের প্যা‌কেজ নি‌তে হ‌বে। নর্থ সি‌কিম অর্থ্যাৎ লাচুং,ইয়ামথাং ভ্যা‌লির পার‌মিশ‌নের জন্য পাস‌পোর্ট,‌ভিসা ক‌পি,ইনার লাই পার‌মিশ‌নের ক‌পি ও ছ‌বি এ‌জে‌ন্সির কা‌ছে জমা দি‌লে তারা প‌রের দিন সকাল আটটার ভেতর পার‌মিশন ক‌রি‌য়ে দি‌বে। সাঙ্গু লে‌কের জন্যও একই রকম প্র‌সেস।
‌নি‌জেরা পার‌মিশন করা‌তে চাই‌লে সেটা প্রায় অসম্ভব ব্যাপার। পার‌মিশনকৃত সকল স্প‌টে গাইড থাক‌বে যা প্যা‌কে‌জের অন্তর্ভূক্ত।

* এ‌জে‌ন্সির ব্যাপা‌রে ধারনাঃ
————————————
গ্যাংট‌কে এ‌জে‌ন্সি বাছাই করা একটা ফ্যাক্ট। এজন্য কোন দালা‌লের খপ্প‌রে না প‌ড়ে সরাস‌রি ক‌য়েকটা এ‌জে‌ন্সির সা‌থে কথা ব‌লে যাচাই বাছাই ক‌রে প্যা‌কেজ নি‌লে ভা‌লো হ‌বে। শি‌লিগু‌ড়ি‌তে অ‌নেক এ‌জে‌ন্সি এবং দালাল পা‌বেন যারা আপনা‌কে নানা রকম প্রলোভন দেখা‌বে। দয়া ক‌রে তা‌দের খপ্প‌রে পড়‌বেন না।

* ই‌তিপূ‌র্বে সোনম না‌মের যে ম্যা‌জিক ম্যানের কথা আমরা শুন‌ছি,‌অ‌ভিজ্ঞতায় বলব তার হ‌তে দূ‌রে থাকাই উত্তম। কেননা তার কথা কা‌জে য‌থেষ্ঠ অ‌মিল পে‌য়ে‌ছি। তার সা‌র্ভি‌সে গ্রু‌পের কেহ সন্তুষ্ট হয়‌নি। তাছাড়া তার কোন অ‌ফিসও নেই। আপনারা চাই‌লে তার সা‌থে আলাপ ক‌রে ধারনা নি‌তে পা‌রেন।

* কোথায় কোথায় ঘুর‌বেনঃ
———————————–
_ সাঙ্গু লে‌কের জন্য ১দি‌নের ট্যুর।
_ লাচুং,ইয়ামথাং ভ্যা‌লি,‌জি‌রো প‌য়েন্ট,কাটাও ২ দিনের ট্যুর।
_ গ্যাংটক লোকাল ১ দি‌নের ট্যুর।

নরমা‌লি ৪ দি‌নে বি‌শেষ গুরুত্বপূর্ন স্থান গু‌লো দেখা হ‌য়ে যা‌বে।
য‌দি লা‌চেন যে‌তে চান তাহ‌লে ১ দিন সময় বে‌শি লাগ‌বে,‌পে‌লিং গে‌লে ২ দিন,নাম‌চি গে‌লে ১ দিন সময় লাগ‌বে। তাছাড়া আবহ জ‌নিত কার‌নে সব স্প‌টের পার‌মিশন সবদিন দেয় না,‌সে‌ক্ষে‌ত্রে সময় আ‌রো বাড়া‌তে হ‌বে নতুবা ফেরত আস‌তে হ‌বে।

* বর‌ফের দেখা কোথায় পা‌বেনঃ
——————————————
অফ সিজ‌নে লাচুং‌য়ে পর্যাপ্ত বরফ দেখ‌তে পা‌বেন। আর এ সম‌য়ে ইয়ামথাং ভ্যা‌লি ও জি‌রো প‌য়েন্ট পর্যন্ত পৌছা‌নো প্রায় অসম্ভব। সে‌ক্ষে‌ত্রে বিকল্প হিসা‌বে কাটাও ঘু‌রে আস‌তে পা‌রেন। অসম্ভব সুন্দর একটা জায়গা যেখা‌নে অনায়া‌শে বর‌ফে গড়াগ‌ড়ি খে‌তে পার‌বেন। অফ সিজ‌নে সাঙ্গু লে‌কের দেখা পাওয়াটা খা‌নিকটা ভা‌গ্যেরও ব্যাপার। কেননা রো‌ডে অ‌তি‌রিক্ত বরফ জমা এবং‌ তাপমাত্রা (-)° থাকায় দি‌নের পর দিন পার‌মিশন না পে‌য়ে পর্যটকরা দুঃখ ভারাক্রান্ত ম‌নে ফি‌রে আস‌তে বাধ্য হন।

* বোনাস হিসা‌বে কি কি দেখ‌তে পার‌বেনঃ
——————————————————-
১: শি‌লিগু‌ড়ি টু গ্যাংটক রাস্তার পাশ দি‌য়ে ব‌য়ে চলা নীল র‌ঙ্গের পা‌নির দৃশ্যে আপনার চোখ‌ জু‌ড়ি‌য়ে যা‌বে।
২: রাস্তার পা‌শে অসংখ্য বানর দেখ‌তে পা‌বেন।
৩: গ্যাংট‌কে ৫ মি‌নি‌টের পথ হে‌ঁটে মাত্র ১১৭ রু‌পি‌তে রোপ ও‌য়ে‌তে চড়‌তে পার‌বেন।
৪: লাচুং যাওয়া আসার সময় কাঞ্চন জংখা এর দেখা পা‌বেন।
৫: তিস্তা ন‌দির উৎপ‌ত্তি স্থল দেখ‌তে পা‌বেন।

‌* কখন ভ্রমন কর‌বেনঃ
——————————
মার্চ,এপ্রিল,মে,সেপ্টেম্বর,অক্টোবর,নভেম্বর পিক সিজন।

* কয় জ‌নে ভ্রমন কর‌বেনঃ
———————————
বাংলা‌দে‌শি‌দের জন্য আলাদাভা‌বে ভ্রমন কর‌তে হয়। ‌কোন ই‌ন্ডিয়ান‌দের সা‌থে গ্রুপ শেয়ার গ্রহন‌যোগ্য না। এজন্য ৭ জ‌নের গ্রুপ হ‌লে গাড়ী‌তে সহ‌জে বসা যায়। আর খরচও কম হ‌বে। আর গ্রুপ ছোট হ‌লেও পুরা গাড়ীর ভাড়া গুন‌তে হবে। ভাগ্য ভা‌লো হ‌লে ওখা‌নে যে‌য়েও বাংলা‌দে‌শি কা‌রো সা‌থে এড হ‌তে পা‌রেন।

* খরচ পা‌তির সম্প‌র্কে ধারনাঃ
—————————————-
ট্যু‌রের সময়,ট্যুর মে‌টের সংখ্যা,‌সিজন বে‌সি‌সে খর‌চের তারতম্য হ‌বে। কেননা পিক সিজ‌নে হো‌টেল ভাড়া,গাড়ী ভাড়া অনেক বে‌শি থা‌কে।
_ সাঙ্গু লে‌কের জন্য ১দি‌নের ট্যুরের খরচ হ‌বে 3K-5.5K
_ লাচুং,ইয়ামথাং ভ্যা‌লির জন্য প্যা‌কেজ পড়‌বে 12K-20K
_ জি‌রো প‌য়েন্ট,কাটাও এর জন্য অ‌তি‌রিক্ত 3K ক‌রে দি‌তে হয়।
_ গ্যাংটক লোকাল ট্যুর এর খরচ স্পট ভি‌ত্তিক হয়।
১০টা প‌য়ে‌ন্টের জন্য ৪ সি‌টের গাড়ীর ভাড়া 2K
‌*হো‌টেল ভাড়াঃ আমরা ছিলাম MG MARG এ। অ‌নেক সুন্দর ছিল হো‌টেলটা। এক রু‌মে ৩ জন থাকা যায়। ভাড়া ছিল 1.2K

* পোষাক সংক্রান্ত বিষয়ঃ
——————————–
– শীত নিবারক জ্যাকেট,কানটুপি,হাতমোজা,উলের পামোজা।
-ঠান্ডা, কাশি, মাথা ব্যথা, বমির পর্যাপ্ত পরিমান ঔষুধ।
-পাওয়ার ব্যাংক,চার্জার,ক্যা‌মেরা।

* সিম কার্ড সংক্রান্ত বিষয়ঃ
————————————
-বর্ডার থেকে পাওয়ার দি‌য়ে ইন্ডিয়ান সিম কার্ড কিনে নেয়া উত্তম। গ্যাংট‌কের লো‌কেরা পাওয়ার দেওয়াটা জা‌নে না। সিম কেনাটাও টাফ ব্যাপার।

** ‌লেখা সং‌ক্ষিপ্ত করার জন্য কোন তথ্য বাদ পড়‌লে সেটা এড করা হ‌বে।
ক‌মে‌ন্ট বক্স কিছু প্র‌য়োজনী পিক দেওয়া হ‌লো।

গ্যাংটক অ‌নেক প‌রিচ্ছন্ন শহর। রাস্তায় কোন ময়লা না ফে‌লে নি‌র্দিষ্ট স্থা‌নে ফেলবেন। লাচুং এ পলিথিন, পানির বোতল নিষিদ্ধ। প্রকা‌শ্যে সিগা‌রেট নি‌ষিদ্ধ।

source: Faruk Hosain <Travelers of Bangladesh (ToB)