Archives

সাধারণ প্রশ্ন উত্তর (FAQ)

22 Aug 2019

কোন জায়গায় ঘুরতে যাওয়া হচ্ছিল না। তাই বন্ধু যখন বলল চল আমরা রামগতি থেকে ঘুরে আসি। একবার চিন্তা করেই রাজি হয়ে গেলাম। ৭-৮ জন যাওয়ার কথা থাকলেও শেষমেশ আমরা হলাম ৬ জন। সকাল ৮.৩০ লক্ষ্মীপুর থেকে রওনা দিলাম লেগুনায় করে গন্তব্য আলেকজান্ডার মেঘনা বিচ। আপনি চাইলে বাসেও যেতে পারেন। বাস আর লেগুনার ভাড়া সেম ৫০ টাকা। বাসে যেতে সময় লাগে পৌনে ২ ঘন্টা আর লেগুনায় দেড় ঘন্টা এই যা। আলেকজান্ডার নেমে হালকা নাস্তা করে চলে গেলাম মেঘনার পাড়ে। আলেকজান্ডার এই অঞ্চলের মানুষের জন্য একটি জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র। বাঁধের উপরে উঠলেই প্রথমে আপনাকে স্বাগতম জানাবে দমকা হাওয়া তার সাথে গুড়িগুড়ি বৃষ্টি হলে তো আর কথাই নেই। ব্লকের উপর বসে নদীর সৌন্দর্য উপভোগ করে ঘন্টার পর ঘন্টা সময় কাটিয়ে দিতে পারবেন। সরকার এই স্থানের সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে কাজ করছে। বাঁধের পাড়ে ঝাউগাছ লাগানো হয়েছে, বসার জন্য তৈরি করা হয়েছে শেড আর সাথে আছে সোলার লাইট। আগে যেখানে সন্ধ্যার পর ছিনতাইকারীর ভয়ে থাকা যেত না এখন অনায়াসে বসে চাঁদের আলো উপভোগ করা যায়। এনেক বক বক করি ফালাইলাম..

এবার দুপুর ১২ টায় রওনা হলাম রামগতির জন্য, অটো ভাড়া জনপ্রতি ৪৫ টাকা, যদিও আসার সময় ৫০ টাকা দিতে হইছিল। আপনি সিএনজি বা লেগুনায় ও যেতে পারেন লেগুনা ভাড়া ৪০ টাকা। যেতে সময় লাগবে পৌনে এক ঘন্টার মত।

রামগতি গিয়ে আগে পেটপূজা সারলাম ইলিশ দিয়ে, প্রতি পিচ ৭০ টাকা সাথে ভাত দুই প্লেট ২০ টাকা। রামগতি বাজারে এখন গেলে দেখবেন শুধু ইলিশে বাজার সয়লাব আমি চিন্তায় পড়ে গেছিলাম এত মাছ যায় কোথায়। আর নদীর পাড়ে দেখবেন জেলেরা ট্রলার থেকে মাছ নামাচ্ছে। নদীর পাড়ে ব্লকের দিকে না গিয়ে চলে যাবেন জেলে গ্রামের দিকে নদীর পাড় ধরে। রামগতি আলেকজান্ডারের চেয়ে সুন্দর জায়গা, এখানে মানুষের আগমন ও কম। বেড়ি ধরে হাটতে হাটতে ডেড ইন্ডে একটা চায়ের দোকান পাবেন। চা খাবেন আর ফিল নিবেন… কিছু দিন পর দোকানটা আর নাও পেতে পারেন। কারন আস্তে আস্তে নদী এগিয়ে আসছে জনবসতির দিকে আর গ্রাস করছে সবকিছু। ও ওখানে নদীতে গোসল টা সেরে ফেলতে পারেন।

এরপর বেশি দেরি না করে আবার চলে আসবেন রামগতি বাজারে। ওখান থেকে অটো করে চলে যাবেন ট্যাংকির চর। জনপ্রতি ভাড়া ৩৫ টাকা। ঐ জায়গাটাও অনেক সুন্দর যদিও আমরা যেতে পারি নাই। সূর্যাস্তটা ওখনে উপভোগ করেই তাড়াতাড়ি রওনা হয়ে যাবেন। বেশি দেরি করলে পরে গাড়ি পাবেন না। ফিরতি পথে আবার একই ভাবে ফিরে আসবেন।

খরচ-

লক্ষ্মীপুর – আলেকজান্ডার ৫০+৫০= ১০০ টাকা

আলেকজান্ডার – রামগতি ৫০+৫০=১০০ টাকা

রামগতি – ট্যাংকির চর ৩৫+৩৫ =৭০টাকা

খাওয়া খরচ =১০০ টাকা

Source: Asiful Habib‎ <Travelers of Bangladesh (ToB)

21 Aug 2019

নীল সমুদ্রের বুকে মাথা উঁচু করে আছে বেশ কিছু সবুজ দ্বীপ। প্লেনের জানালা দিয়ে শুধু আকাশ আর মেঘ দেখতে দেখতে যখন একঘেঁয়ে লাগছিলো, তখনই দৃষ্টিসীমা ফুঁড়ে হঠাৎ উদয় হলো সমুদ্রের বুকে ছোট ছোট সবুজাভ নীল কয়েকটা বিন্দু। বেশ লাগছিলো দেখতে। সমুদ্র প্রায় ছুঁয়েই ল্যান্ড করলো প্লেন। এয়ারপোর্টে নেমেই প্রথম চোখে পড়লো দুদিকে সবুজ পাহাড়। ছোট্ট একটা এয়ারপোর্ট। বের হয়েই গরমের প্রথম ধাক্কাটা টের পেলাম। গাঁ জ্বালা করা প্রচন্ড গরম। প্রত্যেকবার কেমন করে জানি গরমের দেশেই আসা হয় আমাদের। এবার এসেছি সেইন্ট থমাস… ইউ এস ভার্জিন আইল্যান্ডসের অন্যতম প্রবেশদ্বার। ক্যারিবীয়ান সাগরগামী ক্রুইজগুলোর অন্যতম গন্তব্য। ইনফ্যাক্ট ক্যারিবীয়ানের ব্যস্ততম ক্রুইজ পোর্ট। পুয়ের্টোরিকোর ঠিক পাশেই।

নিরক্ষীয় অঞ্চলের অপূর্ব সুন্দর সব দ্বীপগুলোর অন্যতম ভার্জিন আইল্যান্ডস। ভার্জিন আইল্যান্ডস কোন একক দ্বীপ না, গ্ৰুপ অব আইল্যান্ডস। ক্যারিবীয়ান সাগরের মধ্যবর্তী তিনটি প্রধান দ্বীপ ও ছোট ছোট আরো কিছু দ্বীপ নিয়ে ইউ এস ভার্জিন আইল্যান্ডস, যুক্তরাষ্ট্রের দূর সমুদ্র মধ্যবর্তী শাসন অঞ্চল।

এই তিনটি দ্বীপেরই একটি হলো, সেইন্ট থমাস। বাকি দু’টি সেইন্ট জন ও সেইন্ট ক্রোয়িক্স। আমাদের বাৎসরিক অবকাশের জন্য এবার বেছে নিয়েছি এই ভার্জিন আইল্যান্ডস। এখানে আমাদের ইমিগ্রেশন হবেনা। টেকনিক্যালি আমেরিকার ভিতরেই আমরা আছি। তবে এখান থেকে ফেরত যাবার সময় ইমিগ্রেশন হবে। কারণ সেন্ট থমাস এর পোর্ট হলো ফ্রি পোর্ট। আশেপাশের ক্যারিবীয়ান দ্বীপগুলো থেকে সহজেই এখানে আসা যায়। যাই হোক, আমরা এয়ারপোর্ট থেকে বের হয়ে শাটলের জন্য অপেক্ষা করতে লাগলাম। আমীরার গাল এর মাঝেই লাল হয়ে গিয়েছে। হিট র‍্যাশ। বুঝলাম, মেয়েটা আগামী কয়টা দিন একটু কষ্ট পোহাবে। আমীরা হল আমার দেড় বছর বয়সী অসম্ভব রকমের চঞ্চল আর দুরন্ত কন্যা।

শাটল এলে কার রেন্টালে গিয়ে আমরা আমাদের গাড়ি বুঝে নিলাম। লাল রঙের ছোট্ট একটা সেডান। প্রত্যাশার চেয়ে বেশ ছোট গাড়িটা। তবু সাতপাঁচ ভেবে আপগ্রেড না করার সিদ্ধান্ত বহাল রাখলাম আমরা। গাড়ি নিয়ে বের হয়ে রওনা হলাম আমাদের আগামী কয়েকদিনের নিবাসের উদ্দেশ্যে। আগে থেকেই জানতাম, এখানে গাড়ির ড্রাইভিং সিট বামদিকে হলেও ড্রাইভ করতে হয় রাস্তার বামদিক দিয়ে। সাধারণত যে কোন দেশে ড্রাইভিং সিট যে পাশে থাকে, ড্রাইভ করতে হয় রাস্তার অপর পাশ দিয়ে। যাই হোক, এটা নিয়ে একটু চিন্তিত ছিলাম, পাভেলো পারবে কিনা। আল্লাহর রহমতে ও ভালোভাবেই উৎরে গেলো। নাহ, ড্রাইভার হিসেবে আমার জন খুব একটা মন্দ না। মোটামুটি পক্ক ও অভিজ্ঞ। কোথাও গেলে বেচারা সবসময় ড্রাইভ করে, আর আমাকে আশেপাশের সৌন্দর্য পুরোমাত্রায় উপভোগের সুযোগ করে দেয়। আমি আবার সিরিয়াস ড্রাইভার। ড্রাইভ করতে বসলে কিছুই দেখতে পারিনা। ডানে বামে ঘাড় ফিরাতেও কষ্ট হয়ে যায়।

ছোট্ট ডাউনটাউনের মাঝ দিয়ে মেরিনার পাশ ঘেঁষে চলে গেছে ওয়াটারপার্ক ফ্রি ওয়ে। যেদিকেই তাকাই চোখে পড়ছে ছোট বড়ো পাহাড়। দেখতে দেখতে হঠাৎ আমরাও পাহাড়ের উপর উঠতে শুরু করলাম। বুঝলাম এই পুরো দ্বীপটাই আসলে পাহাড়ি। এর সব স্থাপনাও পাহাড়ের কোলে কোলে। যেখানেই যাই না কেন, এক দুইটা পাহাড় ডিঙিয়েই যেতে হবে। তেমনি এক পাহাড়ের উপরই আমাদের রিসোর্ট। রিসোর্টে আমাদের ভিলাতে ঢোকার মুখেই একটা কৃষ্ণচূড়া গাছ লালে লালে রক্তিম হয়ে চেয়ে আছে আমাদের দিকে, ছেয়ে আছে ফুলে ফুলে। অপূর্ব লাগছিলো দেখতে। এক ফ্লোর নিচে মেরিনা ভিউ ছোট্ট একটা স্যুট আমাদের। বেলকনি থেকে পাওয়া যাচ্ছে অপূর্ব মেরিনা ভিউ। রোদে গরমে এর মাঝেই অনেক ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলাম। তাই না খেয়েই শুয়ে পড়লাম। উঠতে উঠতে প্রায় বিকেল। এরপর ফ্রেশ হয়ে বের হলাম ডাউন টাউন ভ্রমণে। আজকের পরিকল্পনা হলো এখানকার ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো দেখা। কয়েকশো বছর দীর্ঘ ডেনিশ ঔপনিবেশিক ইতিহাস রয়েছে এই দ্বীপের। ইউ এস ভার্জিন আইল্যান্ডসের দ্বীপগুলো ১৯১৭ সালে আমেরিকা ডেনমার্কের কাছ থেকে কিনে নেয়। এই বছর এই তিনটি দ্বীপের আমেরিকা অন্তর্ভুক্তির শত বছর পূর্তি হলো। পাহাড় থেকে নেমেই প্রথমে পেট পূজার ব্যবস্থা করা জরুরি হয়ে পড়লো। স্থানীয় একটা চাইনিজ ক্যারিবিয়ান ফিউশন রেস্টুরেন্টে গেলাম। কোথাও গেলে হারাম হালালের চক্করে আমাদের খাওয়াটা কখনোই খুব বেশি উপভোগ্য হয়না। সবসময় ভেগান কিংবা সি ফুড নিতে হয়। সি ফুডই অর্ডার করলাম। খেয়ে বের হয়ে দেখি প্রায় অন্ধকার। তখন বাজে সাতটা। পরে চেক করে বুঝলাম, এখানে সন্ধ্যা তাড়াতাড়ি হয়। অথচ আটলান্টায় তখন সূর্যাস্ত হয় রাত নয়টায়। এই ব্যাপারটা খেয়াল করিনি আগে। ধরেই নিয়েছিলাম লোকাল টাইম যেহেতু এক, সূর্যাস্তের সময়ও কাছাকাছিই হবে। আমাদের আর ইতিহাস খোঁজ করতে যাওয়া হলোনা সেদিন। মেয়ের খাবার দাবার সহ কিছু প্রয়োজনীয় শপিং সেরে নিলাম। রিসোর্টে ফিরে আসার পথে পাহাড়ের উপর একটা লুক আউট পয়েন্ট ড্রেকস সিটে গেলাম। ততক্ষণে গাঢ় অন্ধকার ওখানে। সূর্যাস্তের পর পাহাড়ে খুব তাড়াতাড়ি অন্ধকার নেমে আসে। ওখান থেকে ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডসের আলোকিত রাতের রূপ দেখা যায় দূর থেকে। মনে হয় যেন, দূর পাহাড়ের বুকে ধিকি ধিকি জ্বলছে অসংখ্য প্রদীপ। সিম্পলি অসাধারণ!

ভার্জিন আইল্যান্ডসের এই দ্বীপগুলো আসলে না আমেরিকা, না ইউ কে। কিন্তু তাদের দ্বারা শাসিত। এগুলোকে ইন্সুলার এরিয়া বলে। এরকম আরো অনেক দ্বীপ বা দ্বীপপুঞ্জ আছে আটলান্টিক মহাসাগরীয় এলাকায় যেগুলো ফ্রান্স, নেদারল্যান্ড, ইউকে সহ আরো অনেক দেশ দ্বারা দূর দূরান্ত থেকে শাসিত। মূলতঃ এই অঞ্চলে আধিপত্য বিস্তার তথা আধিপত্য ধরে রাখার জন্যই পশ্চিমা ক্ষমতাশালী দেশগুলো এই দ্বীপগুলোর শাসনের অধিকার ধরে রেখেছে। এই দ্বীপগুলোর অধিবাসীরা নাগরিকত্ব, পাসপোর্ট পেলেও ভোটাধিকার পায়না। এদেরকে সিটিজেন না বলে ন্যাশনাল বলে। শর্তসাপেক্ষে এরাও পূর্ণ নাগরিকত্ব পেতে পারে। তবে সেজন্য যুক্তরাষ্ট্রের মেইনল্যান্ডের অধিবাসী হতে হবে। মানে মাইগ্রেট করতে হবে। সত্যি বলতে কি ব্যাপারটা আমার নিজের কাছেও পরিস্কার না।

পরদিন সকাল ৭টায় ঘুম ভাঙলো আমার। অনেক স্নিগ্ধ একটা সকাল। সকালের মেরিনা ভিউ অনেক বেশি অপূর্ব, আরো অনেক রিফ্রেশিং। বেলকনির চেয়ারে গা এলিয়ে দিয়ে অনেক আয়েশ করে সকালের কফি খেলাম। এরপর টুকটাক ব্রেকফাস্ট রেডি করলাম। কিচেন থাকার এই এক সুবিধা। বাইরের খাবার মুখে না রুচলে অন্তত কিছু একটা করে খাওয়া যায়। ব্রেকফাস্ট করে রেডি হয়ে বের হয়ে পড়লাম আগের দিনের অসম্পূর্ণ ঐতিহাসিক ভ্রমণ সম্পূর্ণ করতে। খুব বেশি চমকপ্রদ কোন স্থাপত্য নয়। তবে অনেক পুরোনো কিছু স্থাপনা। হয়তো ঐ যুগে এরকম সমুদ্র মধ্যবর্তী কোন দ্বীপে এই অনেক বেশি ছিল। তবে বেশি ভাগই পাহাড়ের উপর। একটা লাল দূর্গ আছে। আর ৯৯টা সিঁড়ি পার হয়ে একটা স্থাপনা আছে ব্ল্যাকবিয়ার্ড ক্যাসল। আমরা যেদিন গিয়েছিলাম, সেদিন বন্ধ ছিল ব্ল্যাকবিয়ার্ড ক্যাসল। মিঃ ব্ল্যাকবিয়ার্ড ছিলেন একজন নামকরা স্প্যানিশ জলদস্যু। বিখ্যাত না কুখ্যাত সেটা বুঝতে পারলাম না। তিনি এটা তৈরী করেন নি। তার স্মরণে ডেনিশ উপনিবেশ যুগে নির্মিত হয় এটা। ডেনিশ উপনিবেশ পূর্ববর্তী যুগে এই দ্বীপগুলো ছিল স্প্যানিশ জলদস্যুদের রমরমা আখড়া। কল্পকাহিনীর জলদস্যু না, একবারে সত্যিকারের দুধর্ষ জলদস্যু! অবশ্য অনেক কল্পকাহিনীও প্রচলিত আছে এদের নিয়ে। ব্লু বিয়ার্ডের কাহিনী তার মাঝে অন্যতম। সে কাহিনী আপাতত এখানে আর পাড়লাম না।

ইতিহাস খুঁজতে খুঁজতে দুপুর হয়ে গেলো। সেইন্ট থমাসের সব বড় বড় অফিসিয়াল ও প্রশাসনিক লোকজনের বাস এখানেই। বেশির ভাগ ঐতিহাসিক ভবনগুলোকে সংরক্ষণ করে তাদের বাসস্থান বানানো হয়েছে। যেহেতু স্থাপনাগুলো সব পাহাড়ের গাঁয়ে, তাই সেখান থেকে অপূর্ব সব মেরিনাভিউ পাওয়া যায়। অনেকক্ষণ সময় নিয়ে শহর আর পাহাড়ে হেঁটে হেঁটে, বাচ্চার স্ট্রলার ঠেলে ঠেলে সব ঘুরে ফিরে দেখলাম। এরপর খাঁড়ির পাশ ঘেঁষে চলে যাওয়া একটা পায়ে হাঁটা পাকা রাস্তা দিয়ে কিছুক্ষণ হাঁটলাম। খাঁড়ির পাশ ঘেঁষেই খোলা মতন একটা জায়গায় এসে খাওয়া দাওয়া সেরে নিলাম। এরপর রিসোর্টে ফিরে বিশ্রাম করে আবার বের হলাম। পাহাড়ের উপর বারবার উঠতে নামতে গিয়ে খেয়াল করলাম এই দ্বীপে কৃষ্ণচূড়ার আধিক্য। যেদিকেই যাও, পাহাড়ের বাঁকে বাঁকে যেখানে সেখানে এই কৃষ্ণচূড়া। আমি তো ঘোষণাই করে দিলাম, সেন্ট থমাসের জাতীয় ফুল কৃষ্ণচূড়া! দ্বিতীয় হল বাগানবিলাস। এরপর নাম না জানা আরো অসংখ্য ফুল। অযত্নে অবহেলায় বেড়ে ওঠা। প্রথম গেলাম একটা ছোট্ট পাহাড়ি বোটানিক্যাল গার্ডেনে। খুব বেশি মুগ্ধকর কিছু নয়। তবে পাহাড়ি বন জঙ্গলে একা কিছুটা সময় কাটানোর জন্য উপযুক্ত স্থান। গার্ডেনে একটা ইকো সিস্টেম মেনটেইন করা হয়েছে। তাই ওখানে প্রচুর গিরগিটি ও ব্যাঙ আছে। এদের কারণে এখানে কোন মশা নেই। আসলেই তাই। আটলান্টায় আমাদের বাগানেও কয়েকটা ব্যাঙ আর গিরগিটি পোষার চিন্তা এলো তৎক্ষণাৎ। মশার যন্ত্রণায় আমাদের বাগানে নামা কষ্ট হয়ে যায় মাঝেমাঝে।

এরপর গেলাম মাউন্টেন টপে। মাউন্টেন টপ এখানকার টপরেটেড ট্যুরিস্ট স্পট। সেন্ট থমাসের সবচেয়ে উঁচু পাহাড় এই মাউন্টেন টপ। আর এখান থেকে দেখা দৃশ্য নাকি ক্যারিবীয়ান অঞ্চলের অন্যতম সুন্দর দৃশ্য! আসলেই তাই। প্রথম যখন দেখলাম, মনে হলো এই দৃশ্য কি সত্যি নাকি সিনেমাতে দেখছি! প্রায় ১৫০০ ফুট উপর থেকে দেখা যায় ইউ আকৃতির অপূর্ব নীল এক সমুদ্র সৈকত। দূরে হালকা নীল আকাশ আর ধূসর মেঘের আড়াল থেকে উঁকি দিচ্ছে নীলচে সবুজাভ কিছু দ্বীপ। সবমিলিয়ে কি এক অদ্ভুত সুন্দর দৃশ্য! আমি শব্দের কারিগর নই। তাই ভাষায় সেই সৌন্দর্যের কিছুই প্রকাশ করতে পারছিনা। উত্তর দিকের সব পাহাড়ের চূড়া থেকে এই সৈকতের খুব অসাধারণ কিছু ভিউ পাওয়া যায়। শুধু তাকিয়েই থাকতে ইচ্ছা হয়। দূরের দ্বীপগুলো ছিল ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডস ও অন্যান্য ইউএস ভার্জিন আইল্যান্ডস।

বানানা ডাইকুরি নামের একটা বার কাম স্যুভেনির শপ এই স্পটের হোস্ট। বানানা ডাইকুরি হলো কলা মিশ্রিত এক প্রকার রাম যা এখানকার খুব জনপ্রিয় আইটেম। স্যুভেনির শপটা বেশ বড়। টুকটাক কেনাকাটা করে একরাশ মুগ্ধতা নিয়ে সেখান থেকে বের হয়ে আসলাম। এরপরের গন্তব্য ছিল উপর থেকে দেখা সেই অপূর্ব নীল সৈকত মেগান্স বে!

মেগান্স বে, ক্যারিবীয়ান অঞ্চলের টপ রেটেড ও জনপ্রিয় সৈকতগুলোর মধ্যে অন্যতম। সেইন্ট থমাসের উত্তর উপকূলে দুইটা পাহাড়ের মাঝে এক মাইল দীর্ঘ ছোট্ট একটা সৈকত। ক্রুইজ শিপ যেদিন আসে, সেদিন লোকে লোকারণ্য হয়ে যায় এই সৈকত। ভাগ্যিস আমরা যেদিন গিয়েছিলাম, সেদিন কোন ক্রুইজ শিপ আসেনি। তাই খুব আয়েশ করে উপভোগ করতে পেরেছি এর নির্মল সৌন্দর্য। কোন উত্তাল ঢেউ নেই। কোন ভীড় নেই। শান্ত ঢেউ আর অগভীর পরিষ্কার নীল জল। পা ভিজিয়ে হেঁটেছি বেশ কিছুক্ষণ। বালুকাবেলায় বসে নিরিবিলি কাটিয়েছি আরো কিছুটা সময়।

এর মধ্যেই আমার ছোট্ট মেয়েটা একটু অসুস্থ হয়ে পড়ে প্রচন্ড গরমে। এতো ভালোলাগার মধ্যে সমস্যা শুধু এটাই। তা হলো এই গরম। তাই সেদিনের পাততাড়ি গুটিয়ে আমরা রিসোর্টে ফিরে গেলাম। এমনিতেই আজ তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পড়তে হবে। পরের দিন পার্শ্ববর্তী দ্বীপ সেইন্ট জনে যাবো আমরা ডে ট্রিপে। সকাল সকাল এই দ্বীপের অপর প্রান্তে গিয়ে ধরতে হবে ফেরি।

চলবে…

বিঃদ্রঃ ভ্রমণ সংক্রান্ত খরচাপাতি আমি সেভাবে হিসাব করিনা। আর বাজেট ট্রিপ না বলে তেমন স্বস্তিও বোধ করিনা পাইপাই হিসাব দিতে। নিছক আমার দেখা ও অভিজ্ঞতা শেয়ারের জন্যই এই লেখা। তাও প্রায় দুই বছর আগে লিখেছিলাম। এখানে যা কিছু লেখা, সব দুই বছর আগের ঘটনা।

চাহিদা ও বাজেট মতো ফ্লাইট, হোটেল, রিজোর্ট সব আজকাল অনলাইনেই বুক করা সম্ভব। কারো তবু কিছু জানার থাকলে আমাকে ইনবক্স করতে পারেন। শুধু এটুকু বলবো, ভার্জিন আইল্যান্ডস ভ্রমণের জন্য বেশ ব্যয়বহুল একটা গন্তব্য। আমার ভ্রমণ রুট ছিল Atlanta, USA থেকে Saint Thomas, USVI (United States Virgin Islands)। আশেপাশের ক্যারিবীয়ান দ্বীপগুলো থেকেও সহজে আসা যায় এখানে। আরো রুট থাকতে পারে আপনার অবস্থানের উপর ভিত্তি করে। তবে US ভিসা লাগবে।

শুধু ঘুরতে গিয়েই নয়, আশা করি যে যেখানে আছেন, তার আশেপাশের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করবেন। অন্তত নিজে কোনোভাবেই নোংরা করবেননা। হোক তা জল কিংবা স্থল।

Source:  Sofia Nishi‎ <Travelers of Bangladesh (ToB)

29 Jul 2019
এই একটা যায়গা, যে যায়গার কথা মনে পড়লে, যে যায়গার কথা ভাবলে, যে যায়গার ছবি দেখলে আমার আর মন খারাপ হয়না, থাকেনা। যেখানে মন খারাপেরা কিছুতেই কাউকে আঁকড়ে ধরতে পারেনা। এখানে মন খারাপেরা বাতাসের সাথে উড়ে উড়ে, মেঘেদের সাথে ভেসে ভেসে, সুখের বৃষ্টি হয়ে ঝরে পরে।
যেখানে মন খারাপেরা পাহাড়ের গায়ে গায়ে ছড়িয়ে গিয়ে আদরের কুয়াসা হয়ে জড়িয়ে ধরে, যেখানে মন খারাপেরা পাইনের গভীর অরণ্যে হারিয়ে গিয়ে, একমুঠো রোমাঞ্চ হয়ে শিহরণ তুলে যায়, যেখানে মন খারাপেরা পাথরে পাথরে বাড়ি খেয়ে, উচ্ছ্বাসের ঝর্ণাধারা হয়ে নদীর অনন্ত আলিঙ্গনে নিজেকে সপে দেয়। যেখানে মন খারাপেরা পাহাড়ি নদীর পাগল করা স্রোতের সাথে ভেসে ভেসে চলে যায় দূর অজানায়, দেশ থেকে দেশান্তরে। আর এই একটা যায়গা, যে যায়গা নিয়ে আমার লেখার কোন শেষ নেই যেন!
কিভাবে শেষ হবে লেখা? আর কিভাবেই বা হবে মন খারাপ? তার যে কোন উপায়ই সে রাখেনি। তার সবকিছুই যে আমাদের সাধারনের কাছে অমোঘ, অপার্থিব আর অসহ্য সুখের।
এখানে যখন মেঘ করে, মেঘেরা যেন তখন সবচেয়ে আপন কেউ। ছুঁয়ে ছুঁয়ে যায়, ভিজিয়ে দেয়, জানালার ধারে এসে আভিমান করে থাকে, জানালা খুলে দিলেই নিজের অভিমান ভেঙে আপনাকে আলিঙ্গনে বেঁধে ফেলে মন খারাপ দূর করে দেয়, মুখে এক চিলতে হাসি ফুটিয়ে তুলতে বাধ্য করে। মেঘেরা এখানে মন ভালো করে দেয়, এক মুহূর্তেই।
এখানে যখন বৃষ্টি নামে, অবিরত ঝরতে থাকে। বৃষ্টির ছন্দেরা তখন, অবিরাম গুণগুনিয়ে গান শুনিয়ে যায়। সবুজ পাহাড় তখন রুপালী রঙে সেজে ওঠে, জানালার কাঁচে তখন কতরকমের আকুবুকি করতে ইচ্ছে হয়। রঙিন ফুলেরা, সবুজ ঘাস গুলো, ঝুলে থাকা গাছের লতারা, সবাই যেন সুখের নাচন শুরু করে। ভিজে ভিজে সবুজ আরও সবুজ হয়ে ওঠে। রঙিন ফুল গুলো আরও বেশী রঙের হয়ে ওঠে।
এখানে যখন কুয়াসা পড়ে, চারদিক একটু আদুরে চাদরে ঢাকা পরে যায়। পাহাড়, পাইনের বন, নদী, ঝর্ণা, আকাশ। সব যায়গায় কেমন একটা ধোঁয়া ধোঁয়া অবাক করা প্রকৃতি তৈরি হয়। অন্যরূপে পৃথিবীকে চেনায়। এখানের সবকিছুই তখন একটা অন্য জগতে রূপ নেয়। ইচ্ছে হয় অচেনা পাইনের বনে হেটে হেটে হারিয়ে যাই ধোঁয়া ধোঁয়া সেই অপরূপ অরণ্যে। ইচ্ছে হয়ে কোন এক পাহাড়ের গায়ে হেলান দিয়ে নিজেকে জড়িয়ে ফেলি, ধোঁয়া ধোঁয়া এই কুয়াসার চাদরে, ইচ্ছে হয় ধোঁয়া ওঠা নদীর স্রোতের সাথে ভেসে যাই কোন দূর অজানাতে।
এখানে যখন সূর্য হাসে, একই সাথে যেন সবকিছুই ঝলমল করে হেসে ওঠে। পাহাড়, বন, নদী, ঝর্ণা, গাছ, ঘাস, লতাপাতা আর মাঠ। সবাই যেন সূর্যের আলোতে আলোকিত হয়ে ওঠে মুহূর্তেই। নিজেদেরকে সাজিয়ে তোলে যার যার খেয়ালে। কেউ রুপালী, কেউ সোনালী, কেউ নীল আর কেউ কেউ নানা রঙের স্যাডোতে। তখন চোখের দৃষ্টিরা ভীষণ অসহায় হয়ে পড়ে। চোখ দুটো ভীষণ অসহায় হয়ে মনকে জানায় চোখ কেন দুটোই হল? কেন আরও দুটি চোখ নেই মানুষের? দুই চোখে আর কতটাই দেখা যাবে সূর্যের হাসিতে ঝরে পরা শত রকমের রূপের?
একদিকে পাহাড় সবুজ পাহাড়ের নীল হয়ে যাওয়া, অন্যদিকে সেই সবুজ পাহাড়ের উপরেই বরফ মোড়ানো পাহাড় চূড়াদের নানা রঙে সেজে ওঠা। একদিনে গভীর পাইনের বনে হলুদ আনন্দ তো অন্যদিকে ঝরে পরা ঝর্ণা ধারায় রঙধনু রঙের খেলা। আর বয়ে চলা রুপালী নদীর ঝলমলে হাসিতে পাগল করে তোলা। এই পাহাড়, অরণ্য, নদী, ঝর্ণা এদের এতো এতো রূপের ঝলকানি কি শুধু দুই চোখ দিয়ে প্রান ভরে উপভোগ করা যায়? যায়না।
হয়তো কোন এক সূর্য রাঙা সকালে, ভীষণ অলস দুপুরে বা বৃষ্টি শেষের বিলাসী বিকেলে যদি ইচ্ছে হয় রাজা হতে, তবে তো আর কথাই নেই। নিজের হোটেল বা কটেজ মালিকের পালিত ঘোড়াতে চেপে বেড়িয়ে পরা যায় রাজার বেশে। টগবগ করে ছুটে চলা যায়, অচেনা পাহাড়ে, অজানা অরণ্যে, হারিয়ে যাওয়া যায় দূর থেকে দূরে। যেখানে আর যতদূর ইচ্ছে করে। কখনো ইচ্ছে হলে ঘোড়ায় চড়েই পারি দেয়া যাবে অবাধ্য নদী, উচ্ছ্বাসের ঝর্ণাধারা আর হাজারো পাথর বিছানো বন্ধুর পথ অনায়াসে।
কোন এক পাহাড় চূড়ায় উঠে গিয়ে ঘোড়াটাকে বেঁধে রেখে নিজেকে সপে দেব সেই পাহাড়ের কাছে, অপলক তাকিয়ে থাকবো নীল আকাশের দিকে, অলস সময় কাটাবো হেটে, বসে বা গড়িয়ে। শেষ বিকেলে যখন দিনের আলোরা ছুটি চাইবে আমার কাছে, ঘোড়ায় চড়ে বসবো। রোদ, মেঘ, বৃষ্টি আর কুয়াসাদের লুকোচুরিদের সাথী করে ফিরে আসবো নিজের আবাসে।
ক্লান্ত শরীরটাকে এলিয়ে দেব সবুজ ঘাসের গালিচায়। হয়তো একটু ঝিরঝিরে বাতাস, নতুবা এক পশলা বৃষ্টি অথবা একটুখানি কুয়াসায় আলিঙ্গনে সিক্ত হতে হতে জীবনের নতুন কোন মানে খুঁজে পাবো, বেঁচে থাকার স্বাদ কি সেটা অনুভব করবো, বিধাতার সীমাহীন উপহারের কাছে নিজেকে ভীষণ ভাগ্যবান ভেবে কৃতজ্ঞতায় নুইয়ে পড়বো।
ইস একটা জীবনে এমন যায়গায় যেতে পারার আনন্দে আনন্দে নিজেকে হারিয়েই ফেলবো ভাবনার, কল্পনার আর স্বপ্নের এক অন্য জগতে।
এটা আর কোন যায়গা নয়। আমার ভীষণ, ভীষণ আর ভীষণই প্রিয় যায়গা। আমার গোপন অভিসারের, নিজেকে নিশ্চিন্তে সপে দেয়ার, ২১ বছর বয়সী টাইটানিকের যেন সেই রোজ, সেই কেটউইন্সলেট এর মত!
Source: Sajol Zahid‎ <Travelers of Bangladesh (ToB)

20 Jul 2019

অাপনি যদি, সাগর, পাহাড় অার অাধুনিতার সংমিশ্রণে অসাধারণ কোন স্থান পরিদর্শণ করতে চান, তাহলে অবশ্যই অবশ্যই অাপনি বেচে নিতে পারেন ভিশাখাপত্তমকে। কেন? তাহলে জেনে নিতে পারেন অতি চমৎকার এই স্থান সম্পর্কেঃ

ভিশাখাপত্তনম, যার ডাক নাম ভাইজ্যাগ। যাকে অাবার ‘সিটি অফ ডেসটিনি’ বলা হয়। পুরান অনুসারে কার্তিক ঠাকুরের অস্ত্রের নাম অনুসারে নাকি এই শহরের নামকরণ। অার তেলেগু শব্দ পত্তনম-এর অর্থ হচ্ছে শহর (সূত্রঃঅামাদের টেক্সি ড্রাইভার)। পাহাড় ও সমুদ্রের মেলবন্ধনে তৈরি অন্ধ্রপ্রদেশের এই সাজানো শহরকে দক্ষিনের ‘নৈস্বর্গ’ বললেও হয়ত ভুল হবে না। এই শহরের অন্যতম আকর্ষণ হলো এটির একদিকে আছে পাহাড় আর অন্য দিকে সমুদ্র। অর্থাৎ উত্তরে পূর্বঘাট পর্বতমালা আর দক্ষিনে বঙ্গোপসাগর বন্ধু হয়েছে এখানে।অন্ধ্রপ্রদেশের এই বহু পুরনো বন্দর শহরটি পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতার দিক থেকে অামার দেখা ভারতের অন্যান্য শহরের তুলনায় অনেকটাই এগিয়ে। পাহাড়-সমুদ্র একাকার হয়ে এক অবিশ্বাস্য মধুর কম্বিনেশন দিয়ে সাজিয়ে তুলেছে ভিশাখাপত্তনমকে৷ সেখানে না গেলে অার এর সৌন্দর্য উপভোগ না করলে হয়তো কেউ জানতেই পারবেন না কেন একে ‘সিটি অফ ডেসটিনি’ও বলা হয়।

ভিশাখাপত্তনমে প্রধান অাকর্ষণ গুলো ২ ভাগে বিভক্ত। এক দিকে হচ্ছে পাহাড়ী এখাকার দর্শণীয় স্থান। অার অপর দিকে হচ্ছে সমুদ্রের তীরবর্তী দর্শণীয় স্থান। সমুদ্রের তীরবর্তী দর্শণীয় স্থানের মধ্যে অন্যতম এখানকার অসাধারণ সুন্দর সৈকত সমুহ এবং পার্শবর্তী কিছু নজরকাড়া পর্যটনকেন্দ্র। এখানে সমুদ্রের দুটি রুপের সঙ্গে পরিচয় ঘটে পর্যটকদের। এর একটা হচ্ছে লাগাম ছাড়া, দুরন্ত, খ্যাপা। যার উত্তাল গর্জণে সরব থাকে গোটা উপকুল ও তার অাশপাশের এলাকা। অার অন্যটি স্নিগ্ধ, শান্ত অার অসীম নীল। অকুল সমুদ্রের যে দিকেই চোখ পড়বে, শুধুই নীল অার নীল৷ মনে হবে কেউ যেন চোখে স্বপ্নের রং লাগিয়ে দিয়ে গেছে৷
এখানকার সাগর পাড়ে বসে পরিস্কার নীল জলের মস্ত বড় বড় ঢেউয়ের পাথরের উপর আছড়ে পড়ার দৃশ্য, সমুদ্রের অবিরাম গর্জণ অার পাগল করে দেয়া সৌন্দর্য নিমিষেই যে কারো মনেই এনে দেবে গভীর প্রশান্তি।

তাই তো সেই স্বাদ নিতে প্রতিদিন বিকেলেই এখানকার সৈকত গুলোতে হাজার হাজার সৌন্দর্য পিপাসুদের ঢল নামে। এখানে সমুদ্র সৈকত ও তার পাশ ঘেঁষে বয়ে চলা প্রশস্থ ও দৃষ্টিনন্দন রাস্তার দুই দিকে রয়েছে বেশ কিছু পার্ক ও মিউজিয়াম। যার মধ্যে রয়েছেঃ কয়লাস গিড়ি পাহাড়, ইন্দিরা গান্ধী জিওলজিক্যাল পার্ক, ঋষিকুন্ডা সৈকত, থোটলকুন্ডা সৈকত, ভিমলি সৈকত, ভিএমঅারডিএ পার্ক, এয়ারক্রাফ্ট মিউজিয়াম, সাবমেরিন মিউজিয়াম, রামকৃষ্ণ সৈকত, ইয়ারাদা সৈকত, ডলফিন নোজ লাইট হাউজ, সাগর দর্গা মন্দির, ভিউ পয়েন্ট ইত্যাদি। এর মধ্যে বেশ কয়েকটি সৈকত অবস্থান হচ্ছে শহরের প্রান্ত ঘেঁষে। অার কয়েকটির অবস্থান শহর থেকে পূর্ব-পশ্চিম দুই দিকে, বেশ দূরবর্তী স্থানে। অার দূরবর্তী সেই সৈকত গুলোতে যেতে চোখে পড়ে সারি সারি নারকেল অার তাল গাছ। ঋষিকুন্ডা সৈকত থেকে ভিমলি সৈকত অবধি সমুদ্রকে সঙ্গে করে ৩০ কি. মি. রাস্তা অামাদের শুধুই দেখতে দেখতে কেটে গেল। সৈকতটি যতনা ভালো লেগেছে তার চেয়ে অনেক বেশি উপভোগ্য ছিল যাবার পথটুকু। অার শহরের প্রান্ত থেকে ইয়াদা সৈকত পর্যন্ত ২০ কিলোমিটার রাস্তায়ও চোখে পড়বে অসংখ্য তাল গাছ ও নারিকেল গাছ। এমনকি এই পথে দুয়েকটি পাহাড়েও তাল অার নারিকেল গাছ ছাড়া অন্য কোন গাছ চোখেই পড়েনি। এত তাল অার নারিকেল গাছ কোথাও এর অাগে দেখিনি। সমুদ্রের সাথে নিবিড়তা বাড়ানোর আদর্শ জায়গা এই নারকেল গাছ ঘেরা ইয়ারাদা সৈকতটি অন্যান্য বীচের তুলনায় অনেক নির্জণ। একটি পার্ক লাগুয়া পরিচ্ছন্ন সৈকতটি সারাদিন অলস সময় কাটানোর অাদর্শ জায়গা। পার্ক ঘেঁষা শ্বেত বালির চর, নীল উত্তাল জলরাশি, পাহাড়, স্বচ্ছ আকাশ আর সু-উচ্চ তাল-নারকেল গাছের নানান ভঙ্গিমা, সব মিলিয়ে অাপনার চোখ ও মন ভরিয়ে দেবে, চিত্তকে প্রশান্ত করে দেবে।

সেখান থেকে ১ কিলোমিটার দূরত্বেই রয়েছে ডলফিন নোজ লাইট হাউজ। যেখানে অাপনি ওয়াচ টাওয়ারের উপড় থেকে সমুদ্র, সমতল অার পাহাড়ের অসাধারণ ত্রিমাত্রিক সৌন্দর্য উপভোগের চমৎকার সুযোগ পাবেন। ভিশাখাপত্তনমের আরেকটি দৃষ্টিনন্দন পর্যটন কেন্দ্র হল কৈলাশগিরি। সুন্দর সাজানো একটা পার্ক৷ সমুদ্র পাড়ে তার পৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৩৬০ ফুট উঁচু পাহাড়ে অবস্থিত এই পার্কের কেন্দ্রে শুভ্র শিব-পার্বতীর মূর্তি বিরাজমান রয়েছে৷ পাহাড়ের দেহ কাটা-ছেঁড়া করে গড়ে ওঠা এই পার্কের দক্ষিন দিকের রেলিং ধরে দাঁড়ালেই পায়ের নিচে অশান্ত বঙ্গোপসাগরের ঢেউ আর গর্জন উপভোগ করা যায় অনেক উপড় থেকে দাড়িয়ে। যার অনুভূতিটা সত্যি অসাধারণ। পার্কের অারেকটি অাকর্ষণ হচ্ছে নিচ থেকে চূড়া পর্যন্ত পৌছানোর জন্য কৈশালগিরির রোপ-ওয়ে! পাহাড়ের চূড়া থেকে সমুদ্রের কোলে নেমে এসছে এই রোপ-ওয়ে৷

রামকৃষ্ণ সৈকতে গিয়ে মুগ্ধ হয়েছি বিশাল সাবমেরিন মিউজিয়াম অার তার পাশের এয়ারক্রাফ্ট মিউজিয়াম দেখে। ডাঙ্গায় তোলা সমুদ্রের তলদেশের বাসিন্দা এই কারসুরা সাবমেরিনের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে তার সকল কিছু প্রত্যক্ষ করার সযোগ হয়েছে। জানা গেছে সাবমেরিনের ভিতরটা ঠিক কীরকম হয়, অার কীভাবে সেনারা সেখানে পানির নীচে দিনের পর দিন কাটান। এমন অভিজ্ঞতা অর্জন করার সুযোগ সচরাচর মেলে না। অার রাস্তার অপর প্রান্তেই বিশ্বের সর্বাধুনিক, সবচেয়ে সুকৌশলী, স্বয়ংসম্পূর্ণ ও ভারী এয়ারক্রাফ্ট টিইউ-১৪২ এর যুদ্ধ কৌশল, সকল অংশ ঘুরে দেখা এবং এর সম্পর্কে সকল তথ্য জানতে পেরেছি।
ভাইজ্যাগে নাকি পর্যটকদের অন্যতম গন্তব্য ফিশিং হারবার। যেখান থেকে জাহাজে করে মাছ ও সি-ফুড বিদেশে রপ্তানি করা হয়। বিশাখাপত্তনমের এই মৎস সংরক্ষণের বন্দরটি নাকি সমগ্র ভারতের অন্যতম বড় মৎস্য রপ্তানি কেন্দ্র। হারবারের দিকে এগোলেই দুপাশের শুকানো মাছের গন্ধের তীব্রতায় তা বেশ টের পাওয়া যায়। যে কারণে অামাদের অার সাহস হয়নি গাড়ি থেকে নামার!

ভিশাখাপত্তনমে অামাদের ভ্রমণের ২য় অংশ ছিল এখানকার পাহাড়ী এলাকার কয়েকটি দর্শণীয় স্থান পরিদর্শণ। যার ১মে ছিল অারাকু ভ্যালি। ভিশাখাপত্তনম থেকে অারাকু ভ্যালির দূরত্ব প্রায় ১২০ কিলোমিটার। শহর ছাড়িয়ে পুরো রাস্তাটাই পূর্বঘাট পর্বতমালার ঢেউ খেলানো উপত্যকার মধ্যে দিয়ে। সেই রাস্তার সৌন্দর্য অবর্ণনীয়। টেক্সিতে করে প্রায় ৩ ঘন্টা পর পৌছায় অারাকু ভ্যালি। অারাকু ভ্যালি মুলত উপজাতীয় এলাকা। অার এখানকার প্রধান অাকর্ষণ উপজাতীয় জাদুঘর, নাম ট্রাইবাল মিউজিয়াম। পার্কের মত দারুন সাজানো-গুছানো এই জাদুঘরের উপকরণ গুলো কয়েকটি অালাদা অালাদা ঘরে প্রদর্শিত অাছে। ইট, পাথথর অার সিমেন্ট দিয়ে তৈরী এই ঘর গুলো দেখতে অনেকটাই মাটির ঘরের মত। যা বাইরে থেকে দেখতে অনেকটা ট্রাইবালদের কুঁড়ে ঘরের মতোই। অার ভেতরে উপজাতীদের নানান ট্রাইবাল আর্ট দিয়ে সাজানো। এই জাদুঘরটি সত্যিই অসাধারণ। মডেল করে আদিবাসীদের জীবনযাত্রা উপস্থাপন করা হয়েছে এখানে। যা দেখে খুব সহজেই ধারণা পাওয়া যায় আদিবাসীদের শিল্প-সংস্কৃতি, জীবন-যাত্রা, সমাজ ব্যবস্থা, খাওয়া-দাওয়া, পোশাক-পরিচ্ছদ, অস্ত্রশস্ত্র, অলঙ্কার, বাদ্যযন্ত্র প্রভৃতি সমন্ধে। শতকের পর শতক ধরেও নাকি তাদের সংস্কৃতি খুব একটা বেশি পরিবর্তণ হয়নি! এই আরাকু ভ্যালিতে নাকি অনেক রকমের ট্রাইবাল জাতির বাস। সরকারি হিসেব মতেই কম কমপক্ষে ১৯ টি ট্রাইবাল জাতি বাস করে এখানে। অার এখান থেকেই কিনতে পাওয়া যায় আদিবাসীদের তৈরী হস্তশিল্প সামগ্রী ও বিভিন্ন ধরনের মশলা। মিউজিয়ামের এক পাশে রয়েছে ছোট ঝিলে বোটিং এর ব্যবস্থা। অারাকু ভ্যালিতে অারো রয়েছে দৃষ্টিনন্দন দুটি পার্ক এবং দুটি প্রাকৃতিক ঝর্ণা।

অারাকু ভ্যালি থেকে অারো ৩০ কিলোমিটারের পথ বোররা কেভ বা গুহা। পাহাড়ের পর পাহাড় ডিঙিয়ে যখন বোররা গুহায় পৌঁছালালাম তখন বুঝলাম এত পথ পাড়ি দিয়ে হাজার হাজার মানুষ এখানে কেন অাসেন। লক্ষাধিক বছরের পুরনো চুনা পাথরের এই গুহায় অদ্ভুত সব প্রাকৃতিক ভাস্কর্য! পাথুরে প্রাকৃতিক স্থাপত্যে এই গুহার যে কী অপরূপ সৌন্দর্য তা না দেখলে বিশ্বাস করা যাবে না। প্রায় ২০০ বছরের বেশি সময় অাগে ১৮০৭ সালে ব্রিটিশ জিওলজিস্ট উইলিয়াম কিং অাবিষ্কার করেছিলেন এই বোরা বা বোররা গুহা। প্রায় ১০০০ ফুট বিস্তৃত আর ২৭০ ফুট গভীর এই গুহায় কম করে ৪ শতাধিক সিঁড়ি আছে ঘুরে ফিরে দেখার জন্য। অার অন্ধকার এই গুহাটটি অবশ্য সুন্দর করে আলোকিত করা আছে টুরিস্টদের জন্য, যেন প্রাকৃতিক ভাবে সৃষ্ট নানান ভাস্কর্য ভালো ভাবে অবলোকন করা যায়।
এদিকে ভিশাখাপত্তনম শহর থেকে তুলনামুলক কাছে, তবে ভিন্ন পথে পাহাড়ী এলাকায় ২০ কিলোমিটার দূরবর্তী অারেকটি দৃষ্টিনন্দন পর্যটন কেন্দ্র হচ্ছে সিমলাচলম এলাকার সিমহাচলম মন্দির। কলিঙ্গ স্থাপত্যশৈলীতে মন্দিরটি নির্মিত হয়েছিল একাদশ শতাব্দীতে৷ ভিশাখাপত্তনম বা ভাইজ্যাগের অন্ততম প্রধান দর্শণীয় স্থান এটি৷ দক্ষিণ ভারতের প্রাচীন এই মন্দিরটি ব্যাপক জনপ্রিয় এর অসাধারণ কারুকার্যের জন্য৷ তবে দক্ষিন ভারতের অন্যান্য মন্দিরের মতই এর ভেতরেও ছবি তোলা নিষেধ!

যারা কম খরচে ভিশাখাপত্তম ভ্রমণ করতে চান, তারা দুই ভাবে সেখানে যেতে পারেন। প্রথমত কোলকাতা বা অাগরতলা থেকে বিমানে। সেক্ষেত্রে অবশ্যই ৩০-৩৫ দিন অাগে টিকেট কেটে রাখলে খরচ প্রায় অর্ধেক হয়ে যাবে। অর্থাৎ কোলকাতা থেকে বিমান ভাড়া পরবে ২০০০-২৫০০ হাজার রুপি। অার দ্বিতীয়ত কোলকাতা থেকে ট্রেণে। সেক্ষেত্রে ক্লাস ভেদে ১০০০ রুপি থেকে হাজার থেকে শুরু। অার থাকার জন্য হোটেল ভাড়া ১০০০ রুপি থেকে শুরু। খাবার খরচ অামাদের দেশের মতই। কিন্তু সাদা ভাতের দাম একটু বেশি। তবে বিরিয়ানি সেখানে বেশ সস্তা। অার নাস্তাতে খেতে পারেন ঢুসা। তাতে কিছুটা ব্যতিক্রমতাও থাকল অার খেতেও সুস্বাদু। দাম পরবে ২০-৪০ রুপি। সেখানে ঘুরাফেরার জন্য খরচ কমনোর জন্য অাপনি বেচে নিতে পারেন অটো সি এন জি, খরচ পরবে ১০০০-১২০০ রুপি। অার টেক্সি নিলে সেক্ষেত্রে খরচ পরবে ১৮০০-২০০০ রুপি। তবে অারাকু ভ্যালি অার বোররা ক্যাভের দুরত্ব বেশি বলে ভাড়া ২৫০০-২৮০০ রুপি।
Source:Mohammad Al-amin‎ <Travellers Of Bangladesh

 

10 Jul 2019

মাত্র দুই দিনে যে কোলকাতা শহর পুরোটা ঘোরা সম্ভব না তা গিয়ে বুঝলাম। ভিসার মেয়াদ শেষের দিকে হওয়ায় কোন কিছু চিন্তা না করেই রওনা দিয়েছিলাম। ঢাকা থেকে শ্যামলী এনআর এ শুক্রবার রাত সোয়া দশটায়। কোলকাকায় পৌছালাম সকালে, শনিবার সকাল সোয়া দশ টায় (বাংলাদেশ সময়)। হ্যা, এক্সাক্ট ১২ ঘন্টায়।

হোটেলে উঠলাম। ফ্রেশ হয়ে নাস্তাটা সেরে নিলাম #কস্তুরি হোটেলে। এরপর একটা ট্যাক্সি নিয়ে বের হলাম ঘুরতে। বেশি বিস্তারিত লিখছি না। বিস্তারিত তো গিয়ে দেখবেন।

দিন ১। প্রথমে গেলাম #ইন্ডিয়ান_মিউজিয়ামে, #নিউমার্কেট হয়ে। ৫০০ রুপি করে টিকেট। এরপর গেলাম #ইডেন_গার্ডেন আর #হাওড়া_ব্রিজ দেখতে। হালকা বৃষ্টির সাথে বাতাসও ছিলো, ভালোই লাগলো হাওড়া ব্রিজের বাতাস। #হাওড়া_রেল_স্টেশনে একটা পলক ফেলে চলে এলাম বিখ্যাত #ভিক্টোরিয়া_মেমোরিয়ালে। সেন্ট্রাল ইওরোপ ঘোরার অভিজ্ঞতা থাকায় বুঝলাম, সম্পুর্ণ ইওরোপিয়ান ধাঁচে তৈরি এই স্থাপত্যটি। একদম অসাধারণ। সাদা মার্বেল পাথরের এই প্যালেস আপনার মনে থেকে যাবে আজীবন। সত্যিই সুন্দর। বাংলাদেশিদের জন্য টিকেট ১০০ রুপি করে, গার্ডেন+মিউজিয়াম। ভিক্টোরিয়া থেকে বেড়িয়ে একটু চা টা খেয়ে মার্কেটিং করলাম হালকা। দাম ভালোই সহনিয় সবকিছুর।

দিন ২। সকালের নাস্তাটা করলাম এক কাশ্মীরির হোটেলে (হোটেলের নাম মারিয়া) সদর স্ট্রিট, দি ভোজ কম্পানির পাশে। এবার রওনা হলাম টেক্সিতে করে রবী ঠাকুরের বাড়িতে। #জোড়াসাঁকোর_ঠাকুরবাড়ি, সাথে রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়। টিকেট কেটে ঢুকতে হবে আর ছবি তুলতে হলে আলাদা কুপন করে নিতে হবে। ঘুরে ঘুরে দেখলাম রবীর আলো কতো প্রখড়। এরপর খেয়ে নেয়ে গেলাম #সায়েন্স_সিটিতে, ১০৮ টাকার টিকেটে সিটিতে ঢুকলাম ক্যাবল কারে করে। পরিবার বা বন্ধুদের সাথে গেলে সায়েন্স সিটিতে একবার যাওয়া উচিৎ, খারাপ লাগবেনা।

দিন ৩ঃ সকাল ৬:০০ টার গাড়িতে রওনা দিয়েছি কোলকাতা থেকে (সৌহার্দ্য তে) এসে নামলাম রাত ৯:০০ টায়।

কোলকাতায় আরও যা দেখার ছিলোঃ
১। মিলেনিয়াম পার্ক
২। ইকো পার্ক
৩। নিক্কো পার্ক
৪। ওয়াক্স মিউজিয়াম
৫। আলিপুর চিড়িয়াখানা
৬। দক্ষিনেশ্বর মন্দির সহ আরও কিছু মন্দির
৬। বোটানিকাল গার্ডেন
৭। কফি হাউজ
৮। কলেজ স্ট্রিট
৯। নিজামস
১০। বিদ্যাসাগর সেতু
১১। বেলুর মঠ ইত্যাদি।
১২। বাড়লা প্লানেটেরিয়াম

সর্বপরি যেটা বলতে পারি, নিউমার্কেট থেকে কিছু কিনলে দামদর করে, ধরমতলার হোটেলগুলোতে থাকলে দু একটা হোটেল দেখে আর ট্যাক্সিতে চললে দামদর করে চলা উচিৎ। আর অবশ্যই যে কোন রকম দালাল হতে সাবধান! সে হোটেলেরই হোক আর মানি এক্সচেন্জেরই হোক।

আর অবশ্যই যেখানেই যান যেহেতু আমরা আমাদের দেশকে উপস্থাপন করি, আমাদের উচিৎ হবে সবার সাথে পর্যটকের মত আচরণ করা এবং টুরিস্ট স্পটকে পরিস্কার রাখা। কোলকাতার লোকজন খুব সহজেই বাংলাদেশের মানুষকে চিনে ফেলে তাই অযথা নিজের পরিচয় লুকিয়ে দেশকে ছোট না করা সম্মানের কাজ হবে।

সবাইকে ধন্যবাদ।

Source:  Sharon Reza >Travelers of Bangladesh (ToB)

7 Jul 2019

নক্ষত্রের মতই দ্যুতি ছড়ানো এক রিসোর্ট গাজীপুরের রাজেন্দ্রপুরে অবস্থিত নক্ষত্রবাড়ি রিসোর্ট। যেন প্রকৃতির নিপুণ ছোঁয়ায় তৈরি করা হয়েছে রিসোর্টটি। এখানে যেন প্রকৃতিকে আরো কাছ থেকে উপলব্ধি করা যায়। দেশের বিশিষ্ট অভিনেতা, চিত্র পরিচালক এবং স্থপতি তৌকির আহমেদ ও তার সহধর্মিণী জনপ্রিয় অভিনেত্রী, নাট্যশিল্পী এবং চিত্রকর বিপাশা হায়াত যেন তাদের স্বপ্নকে বাস্তব রুপ দিয়েছেন এই রিসোর্টটিতে।

যান্ত্রিক ঢাকা শহরের কোলাহল থেকে দূরে এই রিসোর্টটি রংহীন জীবনে দেবে প্রশান্তি ভরা ছোট্ট একটু বিরতি। ২০১১ সালের ১৬ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয় নক্ষত্রবাড়ি রিসোর্টের।

গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার রাজাবাড়ী বাজার থেকে একটু দূরে চিনাশুখানিয়া গ্রামে গড়ে উঠেছে নক্ষত্রবাড়ি রিসোর্টটি। রিসোর্টে ঢুকতেই রয়েছে নান্দনিক একটি হোটেল। এখানে প্রায় সব ধরনের খাবার পাওয়া যায়। রয়েছে নান্দনিক ডিজাইনে তৈরি তিনতলা একটি কনফারেন্স সেন্টার ও রেস্তোরাঁ; যার সামনেই রয়েছে আরেকটি সুইমিংপুল।

রিসোর্টটিতে আরো রয়েছে পুকুর। এসব পুকুরে হাঁস সাঁতরে বেড়ায়। হাঁস সাঁতরানো এসব পুকুরের এক পাশ ধরে সারি সারি ‘ওয়াটার কটেজ’ তৈরি করা হয়েছে। এগুলো দেখলে মনে হয় যেন পানিতেই ভেসে আছে। ছন, খেজুরপাতার পাটি আর কাঠের তৈরি এসব ঘরের ভেতর আধুনিক সব ধরণের সুযোগ-সুবিধা রয়েছে।

রিসোর্টটির চারিদিকে শুধু সবুজ আর সবুজ। এখানে প্রতিটি জায়গা ব্যবহার করা হয়েছে নান্দনিকভাবে। একপাশে রয়েছে ছোট্ট একটি ঝরণা, যেখানে পদ্ম আর শাপলা ফুলের সখ্যতা গড়ে উঠেছে। এখানে চাইলেই পুকুর থেকে মাছ ধরা অথবা নৌকায় চড়েও সময় কাটানো যায়। এছাড়া জোড়া পুকুরের মাঝে কাঠের সাঁকোতে দাঁড়িয়ে উপভোগ করা যায় ঝিলের জলে ফোঁটা লাল শাপলার সৌন্দর্য।

খেলাধুলার জন্য রয়েছে ব্যাডমিন্টন, টেবিল টেনিস, বিলিয়ার্ড ইত্যাদির ব্যবস্থা। ক্রিকেট খেলার জন্য তৈরি হচ্ছে মাঠ। এছাড়া এখানে মাঝেমধ্যে বাউল গান, ম্যাজিক শো, চলচ্চিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়ে থাকে। ঢাকার শহরের খুব কাছাকাছি হওয়ায় নানান ধরণের করপোরেট মিটিং বা অনুষ্ঠানের জন্য এখানে অনেকেই আসেন। এখানে ২০০ জনের কনফারেন্স রুম যেমন রয়েছে, তেমনি রয়েছে ২০ জনের জন্যও।

থাকার জন্য না হলেও সারাদিন কাটানোর জন্যও ঘুরে আসা যায় এই নক্ষত্রবাড়ি রিসোর্ট অ্যান্ড কনফারেন্স সেন্টার থেকে।

নক্ষত্রবাড়ি রিসোর্ট খরচ

রিসোর্টের খরচটা নির্ভর করবে কতজন যাবেন এবং কিভাবে থাকবেন তার উপর। এখানে আছে তিন ধরনের আবাসন অতিথিদের জন্য – ১। হোটেল কমপ্লেক্স , ২। ওয়াটার বাংলা ও ৩। ফ্যামিলি বাংলা।

হোটেল কমপ্লেক্স : কাপল রেগুলার ভাড়া ৬৩২৫ টাকা / নাইট

সুবিধাঃ এক বেড দুই জন থাকার সুবিধা।

ডিলাক্স কাপল, ভাড়া ৮,২২২/ নাইট

সুবিধাঃ কিং সাইজ এক বেড ৩ জন থাকার সুবিধা।

টুইন রেগুলার ভাড়া ৬৯৫৭ টাকা/নাইট

সুবিধাঃ দুটি সিঙ্গেল বেড দুই জন থাকার সুবিধা।

ফ্যামিলি বাংলোঃ দুই বেড রুম ভাড়া ২৭,৮৩০ টাকা / নাইট

সুবিধাঃ দুই বেড ৫ জন থাকার সুবিধা।

ওয়াটার বাংলোঃ ডিলাক্স কটেজ ভাড়া ১০,৭৫২ টাকা / নাইট

প্রিমিয়াম সুইট কটেজ ভাড়া ২২,৭৭০ টাকা / নাইট

ফ্যামিলি সুইট কটেজ ভাড়া ২০,২৪০ টাকা / নাইট

কনফারেন্স হলের প্রতি শিফটের জন্য ভাড়া পরিশোধ করতে হবে ৩০,০০০ টাকা । সাধারণ দর্শনার্থীদের রিসোর্টে প্রবেশ মূল্য ধরা হয়েছে ৫০০ টাকা। ভাড়া এবং আনুসাঙ্গিক সর্বশেষ তথ্য পেতে চাইলে ভাল হবে তাদের ওয়েব সাইটের মূল্য তালিকা দেখা অথবা তাদের সাথে ফোনে কথা বলা।

Source: Nurul KarimHotels in Bangladesh

4 Jul 2019

এই জায়গাটি বেশ কিছুদিন ধরেই হাইপড! তাই ঘুরে এলাম।
ময়মনসিংহ জেলার মুক্তাগাছা উপজেলার দুল্লা ইউনিয়নের একটি গ্রাম ছালড়া। এই জায়গাটা নিয়ে আমার বেশকিছুদিন ধরে কৌতুহল রয়েছে কেননা শুনেছি অনেকটা সুন্দরবনের মত বেতগাছ ও বাশবনের ভিতরে জোয়াড়ের মত পানি জমে থাকে সাথে সাথে বেত এবং বাশের কচিকান্ড অনেকটা সুন্দরবনের শ্বাসমূলের মত দেখা যায় তার সাথে রয়েছে শালবন,বিশাল কয়েকটি দৃষ্টিনন্দন দিঘির সমন্বয়ে পুরো গ্রামটা চমৎকার একটা জায়গা পরিনত হয়েছে 😍

ছালড়া গ্রামটা আবহমান বাংলাদেশের চিত্রকে তুলে ধরে। গ্রামে ঢোকার পথে বিলের মাঝখান দিয়ে রাস্তা, গ্রামের মানুষের কর্মব্যস্ততা, শালবনের কাঠকুড়ানীদের কাঠ কুড়ানো, কৃষকের হাকডাক,বিলে জেলেদের মাছ ধরা, বিশাল বিশাল কয়েকটা দিঘি, বাশঁ ও বেতে বন( অনেকটা সুন্দরবনের মত দেখতে), সুন্দর একটা মসজিদ এবং কপাল ভালো থাকলে ঘোড়ার গাড়ি এবং দিঘিতে নৌকায় করে ঘুরে বেড়ানো যায়।

ময়মনসিংহ থেকে মুক্তাগাছা উপজেলার দূরত্ব ২০ কিলোমিটার এবং মুক্তাগাছা উপজেলা শহর থেকে ছালড়ার দূরত্ব ১৪ কিলোমিটার।

কিভাবে যাবেন ছালড়া-

ময়মনসিংহের টাঙ্গাইল বাসস্ট্যান্ড থেকে প্রান্তিক সুপার বাসে করে কালিবাড়ি বাজার (৩০টাকা)
অথবা প্রথমে সি এন জি ৩০ টাকাতে মুক্তাগাছা এরপর মুক্তাগাছা থেকে প্রান্তিক সুপার এর বাসে কালিবাড়ি বাজার(ভাড়া-১০ টাকা)…
আনন্দের সংবাদ হলো রিসেন্টলি ময়মনসিংহ থেকে মুক্তাগাছা বিআরটিসির দোতলা বাস সার্ভিস চালু হয়েছে যাতায়াত খরচ অনেক কম 😁

কালিবাড়ি বাজার চেচুয়া যাবেন.. বাজারের শুরুতেই ভ্যান পাবেন,ভ্যান ঠিক করেই কালিবাড়ি থেকে ছালড়া বাজার (১০/১৫ টাকা) যাবেন।
ছালড়া বাজারের রাস্তা দিয়ে ৪- ৫ মিনিট হাটতে শুরু করলেই আপনি পৌছে যাবেন.

খাওয়া দাওয়া-
ছালড়া বাজারে কনফেকশনারী দোকান, চায়ের দোকান এবং হোটেল রয়েছে,,হোটেলে ভাজাপুড়া ছাড়া কিছু পাওয়া যায়না,
কালিবাড়ি বাজারে ভাত সহ বিরিয়ানির হোটেল রয়েছে….

নিরাপত্তা- এখন পর্যন্ত নিরাপত্তা সংক্রান্ত কোন সমস্যা কেউ ফেস করেনি, তবুও যেহেতু বন এলাকা একটু সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত!!

((ঘুরতে গিয়ে টিস্যুপেপার,পানির বোতল,খাবারের প্যাকেট যেখানে সেখানে ফেলবেন না,,
একটি প্রাইভেট ফার্ম এটি,এখানে এমন কিছু করবেন না যেন আপনার জন্যে তারা এখানে অবাধ বিচরন বন্ধ করে দেয়))

Source: Al Mamun Khan‎<Travel Freak Bangladesh (TFB)

3 Jul 2019

গেইম অফ থ্রোন্স যারা দেখেছেন সবাই ড্যানির বহুল ব্যবহৃত এই ডায়লগটির সাথে সুপরিচিত। গতবছর গিয়েছিলাম কিংস ল্যান্ডিং দেখতে আর এইবছর গেলাম ড্যানির মেরিন সিটিতে।

এবার ক্রোয়েশিয়া যাওয়ার মূল উদ্দেশ্য ছিল শুধুমাত্র মেরিন সিটি দেখা। মেরিনের শুটিং স্পট Split সেন্টার থেকে প্রায় ১৬ কি.মি দূরে Klis Fortress এ। প্ল্যান অনুযায়ী তাই Split এর সিটি সেন্টারের ভিতরে AirBnB বুক করে ফেললাম। যেহেতু পৌঁছাতে প্রায় বিকেল হয়ে গিয়েছিল তাই পরেরদিন সকালে Klis এ যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলাম। রুমে ব্যাগ রেখে ফ্রেশ হয়ে বের হলাম Split সিটি দেখতে।

Split, এড্রিয়াটিক সমুদ্রের ডালমাশিয়ান উপকূলে অবস্থিত বিচ এবং দূর্গে ঘেরা ক্রোয়েশিয়ান শহর। বরাবরের মতন হাটতে হাটতে গেলাম শহরের অন্যতম আকর্ষণ ওল্ড সিটিতে। সারি সারি পাম গাছে সাজানো গোছানো পরিপাটি। চতুর্থ শতাব্দীতে রোমান সম্রাজ্যের সময় Diocletian’s Palace তথা এই সিটি স্থাপিত হয়। সাদা পাথরে তৈরি এই শহরে প্রায় ২০০ এর মত ভবন রয়েছে যাতে আছে চার্চ, ক্যাফে, বার, হোটেল এবং ঘরবাড়ি। হাজার বছরের পুরোনো ক্ষয়ে যাওয়া পথে আমাদের মত অসংখ্য ট্যুরিস্টদের আনাগোনা। সে এক অদ্ভুত অনুভূতি! এত বছরের পুরোনো ঐতিহ্য এতটুকু নষ্ট না করে অবিকলভাবে সংরক্ষন করা হয়েছে, ভাবতেই অবাক লাগে। অথচ আমাদের ঐতিহ্যবাহী পুরান ঢাকা দিনদিন মাটি ফুঁড়ে ওঠা আধুনিক বিল্ডিং আর রাসায়নিক কেমিক্যালে পূর্ণ মৃত্যুকূপে পরিনত হচ্ছে! আমরা কেন পারিনা আমাদের ঐতিহ্য কে সংরক্ষন করতে!!?? যাইহোক, Split ওল্ড সিটির প্রতিটা আনাচ কানাচ অলিগলি ঘুরে দেখলাম। এই সৌন্দর্য ভাষায় প্রকাশ করার মত নয়! হাটার ফাঁকে কিছু স্যুভিনিয়র ও কিনে ফেললাম। ওল্ড সিটির ঠিক অপজিটে Split বন্দর। ক্রোয়েশিয়ার অন্যান্য শহরের তুলনায় Split বেশ এক্সপেন্সিভ মনে হল আমাদের। তবে মাঝ সমুদ্রে গিয়ে এক কাপ কফি কিংবা এক গ্লাস ওয়াইন সহযোগে সূর্যাস্ত দেখতে চাইলে খুব অল্প টাকায় বোট ভাড়া করা যায়। আবহাওয়া আমাদের অনুকূলে না থাকায় বোট চলাচল বন্ধ ছিল বিধায় ইচ্ছা থাকা সত্বেও সুযোগ পাই নি।

পরের দিন AirBnB থেকে চেক আউট করে গেলাম Klis Fortress Aka City of Meereen দেখতে। Split এর বাস স্টপেজে ব্যাগ রাখার বেশ ভাল ব্যবস্থা আছে, সারাদিনের জন্য মাত্র ৩৫০ টাকা। সো ব্যাগ রেখে নিশ্চিন্তে গেলাম Klis দেখতে। বাস থেকে নামতেই ঝুম বৃষ্টি, কপাল খারাপ থাকতে যা হয় আর কি! ভাগ্যিস, পাশেই ছিল একটা কফিশপ। কফিশপে ঢুকে কফি খেতে খেতে অপেক্ষা করছিলাম কখন বৃষ্টি কমবে। বৃষ্টির তেজ একটু কমলে আকাবাঁকা পাহাড়ি রাস্তা বেয়ে ধীরে সুস্থে Klis Fortress এ রওনা দিলাম। প্রায় ৩০ মিনিটের মত হেটে পৌছালাম আমাদের কাঙ্খিত গন্ত্যব্যে। Game of Thrones এর শুটিং স্পট হওয়ার কারনে Duvrobnik এর মত Klis Fortress মোটামুটি বিখ্যাত হয়ে গেছে, টিকেট কেটে তাই ঢুকতে হল। বৃষ্টির কারনে ট্যুরিস্টদের আনাগোনা যদিও বেশ কম ছিল। Klis Fortress গিয়ে কল্পনার সাগরে টুপ করে ডুব দিলাম। সিজন সিক্সে এই জায়গায় আনসালিদ রা দাঁড়িয়েছিল, ড্যানি এইখানে দাড়িয়ে দাসদের মুক্ত করেছিল আর মাস্টারদের ক্রুশবিদ্ধ করেছিল, ভ্যারিস আর টিরিয়ন ল্যানিস্টার ড্যানির স্মল কাউন্সিলে যোগ দিয়েছিল এইখানে এসে। এইরকম অনেক দৃশ্যপটে মাথার ভিতরে রীতিমত স্লাইড শো শুরু হয়ে গিয়েছিল।।। Klis Fortress এ একটা রুমে গেইম অফ থ্রোন্সের যে সকল শুটিং এই জায়গায় করা হয়েছে সেগুলির ছবি সাজানো ছিল এবং একজন গাইড বিষয়গুলি ট্যুরিস্টদের কাছে বর্ণনা করছিল। Klis থেকে দূরে একটা স্টেডিয়াম দেখা যায়, স্পেশাল ইফেক্ট দিয়ে সেই স্টেডিয়ামটাকেও ইরেজ করা হয়েছিল,সেটা বলতেও সে ভোলেনি। সারাদিন Klis Fortress এ কাটিয়ে সিটিতে ফিরে এলাম। ততক্ষণে প্রায় বিকেল হয়ে এসেছিল, সিটি সেন্টারে এসে হালকা কিছু খেয়ে ব্যাগ তুলে নিয়ে বাসে চড়ে Split কে বিদায় জানিয়ে যাত্রা শুরু করলাম নতুন দেশের পানে…।।।

পরিশিষ্ট ঃ দয়া করে পরিবেশ পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখুন। যেখানে সেখানে প্ল্যাস্টিক বোতল, পলিথিন ব্যাগ, টিস্যু ফেলবেন না। ধন্যবাদ

Source: Ayesha Siddiqua‎ <Travelers of Bangladesh (ToB)

19 Jun 2019

পাথাড়িয়া পাহাড়ের এই মায়াময় টিলা দেখে আমাদের চোখে লাগে অতি বিষ্ময়কর সৌন্দর্য্য। মায়ময় পবিত্র সুন্দর।

সিলেটের মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা থেকে আমরা মটর সাইকেলে চেপে রওয়ানা করেছি। সঙ্গী জুলফিকার তাজুল, আশফাক অনিক, কামরান এবং আমি। পিছ ডালা পথে মটরসাইকেল এগিয়ে চলেছে। দক্ষিণভাগ পৌছার পর আমরা বামের পথ ধরি। কলাজুরা পৌছার পর মিলে দুই রাস্তার মোড়। একটি গেছে পূর্ব দিকে অন্যটি ডানে। আমরা ডানে চলি। আকাবাকা মসৃণ রাস্তা। কলাজুরা স্কুল থেকে কিছুটা এগোলেই দু দিকেই সবুজের মহামিলন। সারিবদ্ধ আগর বৃক্ষ দেখে সহজেই প্রাণ জুড়িয়ে যায়। সাইক্লিস্ট এবং মটর বাইকারদের জন্য এ যেন স্বর্গ- সড়ক।

আমাদের বাইক- ইয়াত্রা কিন্তু থেমে নেই। চলছিতো চলছি আর অবাক হয়ে দেখছি সবুজ বৃক্ষ পত্রের আনন্দ সম্মিলন।
বড় ভালো লাগে আমাদের। চলতে চলতে একটি ভালো জায়গা পেয়ে যাই। পূর্ব দিকে পাথারিয়া পাহাড়, আর পাহাড়ের ডানে নান্দনিক টিলাবাড়ি, বাড়ি গুলা সবুজ বৃক্ষে মাখামাখি। আমাদের মন ভালো হয়ে যায়। হাসি আনন্দে ছবি তুলে কিছুটা সময় কাটাই। জুলফিকর তাজুল তার পকেট থেকে বের করে আমসত্ত ।
প্রকৃতির এই নিস্বর্গ নিকেতন দেখে বন্ধুদের মুখ থেকে বের হয়ে আসে ওয়াও, বড়ই সৌন্দর্য্য, সুবহানাল্লাহ।

এবার মেলে জামকান্দি বস্তি বাজার। তার পর দুরগাপুর বাজার। রাস্ত একটি গেছে পূর্ব দিকে অন্যটি সোজা দক্ষিণে। পূর্বের রাস্তা ধরলে পাবেন পেট্রোবাংলা গ্যাস ক্ষেত্র। আমরা দক্ষিণে চলি। কিছুটা এগোলে দৃষ্টি নন্দন একটি বাড়ি। এটা কুটু বলাই মিয়ার বাড়ি। বাড়ি ছেড়ে সামনের পথ এগোলে আমরা ফের একটুখানি জিরিয়ে নিই। এই জায়গাটা কাশ্মিরের আরু ভেলির মতো মনকাড়া হাসিন সুন্দর। আপনি সুনামগঞ্জের তাহিরপুর বা নওগার পত্নিতলা, ঢাকার জিগাতলা কিংবা চট্রগ্রামের সাতকানিয়া থেকে আসেন। তবে লিখে রাখুন এই পর্যন্ত দেখলে আপনার ট্যুর উসুল হয়ে যাবে। আর যদি ফটোগ্রাফার হোন তবে জেনে রাখুন বন্ধদের চমকে দেওয়ার মতো কিছু ছবি পাবেন।

ভালো আলাপ জমে স্থানীয় কিছু বন্ধুদের সঙ্গে। তারা পাহাড়ের অনেক গল্প শুনালেন। এদের একজন দুবাই প্রবাসি। কুটু বলাই সাহেবের ছেলে। তিনি মেহমান নওয়াজি, একটুখানি আটা আদর করবার জন্য জোর জবরদস্তি করলেন। সময় সল্পতার কথা বলে, থ্যাংকস গিভিং জানিয়ে, শেইক হ্যান্ড করে বিধায় নিলাম। এই অঞ্চলের মানুষ বড় দিলদার। নরম-সরম খোশ ব্যবহার। যার সঙ্গে আলাপ করেছি, তিনি তার বাড়িতে যেতে নিমন্ত্রন জানিয়েছেন। আর প্রতিটি বাড়ি নানান মৌসুমি ফলগাছে ভরপুর। কাঠাল আর কলা সব বাড়িতে পাবেন। এখন শুধু পূর্ব দিকে দেখছি। কারণ পাথারিয়া পাহাড় সবুজ শাড়ির আছল বিছিয়ে রেখেছে, চোখ ফেরানো দায়। তার পর এভাবে দেখতে দেখতে দেখা পেয়ে যাই-মহামায়া টিলা। এর সৌন্দর্য্য সব হিসাব পাল্টে দেয়।
আমরা মটর সাইকেল থেকে নামি। খোলামেলা টেরাসের মতো জায়গা। একটা ছোট পাহাড়ি প্রবাহমান ছড়া পাড়ি দিই। এর নাম শুকনা ছড়া। এর পর ওয়াও ওয়াও শব্দ করে শুধু দৌড় আর দৌড়। টিলার উপরে উটে দেখি মনোহরণ বিষ্ময়কর রূলপ। আহা কি ভাবে যে এর বর্ণনা দিই।

টিলাকে স্থানীয়রা গরছা টিলা নামে ডাকেন। টিলা জুড়ে সবুজ গাসের ইরানি গালিচা। পূর্বে সেগুন বাগান, তারপর গহিন বন। শুধুই হারি রং -সবুজ সুন্দর। পশ্চিমে, উত্তরে ধানি জমি,।তারপর দুরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে টিলা বাড়ি। দক্ষিণে শিলুয়া চা-বাগান, তাও ঘন সবুজ। উপরে নীল আকাশ। সীমাহীন অপার মুগ্ধতায় আমরা তব্দা মেরে বসে পড়ি। সবুজ ঘাসে শুয়ে শুয়ে গড়াগড়ি খাই। তার পর খুশিতে দুই হাত, দুই পা তুলে আকাশ পানে ফাল দিই। অনেকক্ষণ পাথারিয়া পাহাড়ের- মাহামায়া টিলায় আনন্দ সময় কাটিয়ে রওয়ানা দিই কচুরগুলের উদ্দেশে।

এখানে প্রচুর কমলার আবাদ হয়। তার পর লাঠি টিলা, যেখানে এখন ও দেখা যায় বন মোরগ, কিং কোবরা সাপ আরো অনেক ওয়াইল্ড লাইফ। সন্ধ্যা হয়ে এসেছে, আকাশ থেকে নেমেছে ঝুম বৃষ্টি। আমরা বৃষ্টি স্নানে জুড়িতে আসি। এখানে আছে সুভাষ বাবুর মিষ্টির দোকান। রসগোল্লা বুন্দিয়া গরম পরটা খেয়ে কামিনি গঞ্জ বাজারে যাই সিরাজের দোকানের বিখ্যাত চা খেতে। তার পর বড়লেখার উদ্দেশে ফেরা।

##যে ভাবে যাবেন:
সিলেট ঢাকা চট্রগ্রাম যে কোন জায়গা থেকে বড়লেখা আসুন। ঢাকা থেকে শ্যামলি এবং এনা বাস পাবেন। ভাড়া পাচঁশত টাকা। ট্রেন ও পাবেন উপবন, জয়ন্তিকা, পারাবত। বড়লেখা এসে সিএনজি রিজার্ভ করে সোজা চলে আসুন নাসিরাবাদ বাজার, যে কাউকে বললে দেখিয়ে দিবে শুকনা ছড়ার রাস্তা।

Source: Shahin Ahmed‎ <Travelers of Bangladesh (ToB)

19 Jun 2019

আমাদের উড়িষ্যা ভ্রমণের সবশেষ গন্তব্য ছিলো কটক। কটক ভুবনেশ্বর কিংবা পুরীর মতন তেমন পপুলার কোন ট্র্যাভেল ডেস্টিনেশন না কিন্তু উড়িষ্যার প্রাচীন রাজধানী কটকের নাম এত বেশি বার শুনেছি যে যাবার লোভ সামলাতে পারি নি। পুরী থেকে ১৮০০ রুপিতে ট্যাক্সি ভাড়া করে কটকের পথে রওনা দেই সকাল থাকতেই। পুরী থেকে কটক ৮২ কিমি। দুই ঘন্টার মত সময়েই পৌঁছে যাই।

কটকে আগে থেকে হোটেল বুক করা ছিলো না। গাড়ির ড্রাইভারই হোটেল অশোক নামে একটা হোটেলে নিয়ে যায়। তিনজনের জন্য ব্রেকফাস্টসহ এসি রুম ১৮০০ রুপিতে ঠিক করি। রুম বেশ বড় এবং ভালো ছিলো।

ব্রেকফাস্ট করে সকাল এগারোটার দিকে কটক ঘুরতে বের হই। একটা ট্যাক্সি হোটেল থেকেই ভাড়া করি। ১৫০০ টাকায় সারাদিন কটকের সব প্লেস ঘুরিয়ে আনবে। আগেও বলেছি, কটকে সেরকম কিছু দেখার নেই, তারপরেও নতুন একটা শহর এক্সপ্লোর করতে কারই না ভালো লাগে!

প্রথম গন্তব্য ছিলো ধবলেশ্বর। মহানদী নামক নদীর তীর ঘেঁষে ধবলেশ্বরের পথে ট্যাক্সি ছুটে চললো। শহর থেকে প্রায় ২০ কিমি দূরে অবস্থিত এই মন্দির একটি দ্বীপের ভেতর অবস্থিত। ঝুলন্ত একটি সেতু পার করে ধবলেশ্বর মন্দিরে যেতে হয়। যাবার রাস্তার ভিউ সত্যিই অসাধারণ ছিলো। একদম নদীর মাঝখান দিয়ে বিশাল এক সেতু পার হয়ে যাওয়া। তার দুইপাশে পাহাড়। ধবলেশ্বর শিবমন্দির ঘুরতে ঘুরতে দুপুর পার হয়ে গেলো। তারপরে কটক শহরে ফিরে আসা।

শহরে আসার পথে ডিয়ার পার্ক, জোবরা ব্যারেজ ও উড়িষ্যা স্টেট ম্যারিটাইম মিউজিয়াম দেখার পালা। ডিয়ার পার্ক তেমন আকর্ষণীয় না, তবে বাকি দুটো জায়গা বেশ সুন্দর।

এরপরে শহরের প্রাণকেন্দ্র বারাবতী ফোর্ট এলাকায় যাওয়া। সবচেয়ে বড় ধোকা বোধহয় এই জায়গাটাতেই খেয়েছি। ফোর্টের সুন্দর গেট পার হয়ে যতই ভেতরে যাচ্ছি, কিন্তু ফোর্ট আর দেখা যায় না! একের পর এক মানুষের বাড়ি, কটক ক্লাব, রাস্তাঘাট সবই আছে কিন্তু ফোর্ট আর নাই! পরে জানলাম, কালের গর্ভে সবই হারিয়ে গিয়েছে। খুবই হতাশ হয়ে গেটের সামনে ছবি তুলেই ফেরত আসি।

ফোর্টের পাশেই ছিলো কটক স্টেডিয়াম। বেশ কিছু ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট ম্যাচও হয়েছে এই স্টেডিয়ামে। তারপর ঢাকায় যেমন ঢাকেশ্বরী, ঠিক তেমনি কটকের অধিষ্ঠাত্রী দেবী কটকচন্ডী মন্দির ঘুরতে গেলাম। মন্দির থেকে শেষ গন্তব্য নেতাজী পার্ক। নেতাজী সুভাষচন্দ্রবসুর জন্মস্থান এই কটকেই। বর্তমানে বাড়িটিকে একটি মিউজিয়ামে রূপ দেয়া হয়েছে। কটকের সবচেয়ে বিখ্যাত বোধহয় এই স্থানটিই। নেতাজীর স্মৃতিসংবলিত এই বাড়ি তথা মিউজিয়াম ঘুরতে ঘুরতে বিকেল পেরিয়ে গেলো।

সবশেষে শপিং আর খাওয়া। মিলেনিয়াম সিটি এবং সিলভার সিটি খ্যাত কটক ব্যবসায়িক দিক দিয়ে বেশ সমৃদ্ধ। তাই শপিং মল আর বড় বড় ব্র্যান্ডের দোকানের অভাব নেই। আর কটকের বিখ্যাত আরেকটি জিনিস আছে। সেটি হলো সিল্ক, কটকের বিখ্যাত কটকী সিল্ক।

রাতে কটকের রাস্তাঘাট, রেলওয়ে স্টেশন, পুরো শহর একবার চক্কর দিয়ে আসি। আমাদের হোটেলের ঠিক পাশেই সুন্দর কিছু বুকশপ ছিলো, পিজ্জাহাট ও ডমিনোসের আউটলেট ছিলো। রাতে সেখানথেকেই খাওয়া-দাওয়া করি।

শেষ দিনঃ

পরবর্তী দিন সকালে ভুবনেশ্বরে ফেরা। কটক থেকে ভুবনেশ্বরের দূরত্ব মাত্র ২৮ কিমি। সরাসরি এয়ারপোর্টে গিয়ে ১২:৫৫ মিনিটে এয়ার এশিয়ার ফ্লাইটে কোলকাতা চলে আসি এবং সেই সাথে উড়িষ্যা ট্যুরেরও সমাপ্তি ঘটে।

টিপস-
১. উড়িষ্যাতে মন্দির বা প্রাচীন স্থাপত্য বেশি হলেও উড়িষ্যায় বন-জঙ্গল, জলপ্রপাতেরও অভাব নেই। সাতকোশিয়া ওয়াইল্ডলাইফ স্যাংচুয়ারি কিংবা ভারতের দ্বিতীয় কাশ্মির খ্যাত দাড়িংবাড়ি উড়িষ্যাতেই অবস্থিত। সময় সুযোগ হলে আমি নিজেও সেসব জায়গায় যাবার ইচ্ছা রাখি।

২. উড়িষ্যার হস্তশিল্প অসম্ভব সুন্দর। স্যান্ড আর্ট, স্টোনআর্ট, অ্যাপ্লিক, পটচিত্র সবরকমের আর্ট-ক্রাফটসের জিনিস উড়িষ্যায় পাবেন।

৩. উড়িষ্যার ভেজ কুইজিন খুবই টেস্টি। উড়িষ্যা ভ্রমণে আপনাদের বিশেষ পাওয়া হবে উড়িষ্যার খাবার।

৪. ১০০০০ রুপি বাজেটেই কোলকাতা থেকে ট্রেনে সুন্দরমতন ৫দিন ভুবনেশ্বর, পুরী এবং কটক ঘুরে আসতে পারবেন।

Source: Sushanto Saha‎ <Travelers of Bangladesh (ToB)