Archives

সাধারণ প্রশ্ন উত্তর (FAQ)

9 Apr 2019

কলমাকান্দা উপজেলার রংছাতি ইউনিয়নের পাহাড়ঘেষা গ্রামটিই পাতলাবন। নামেই বৈচিত্র্য নামেই ভিন্নতা। ভারতের মেঘালয় পাহাড়ের কোলঘেষে প্রাকৃতিক নিসর্গে গড়ে উঠা পাতলাবন নামের এই গ্রামটি।

পাহাড়, নদী, বালুচর মিলে এক প্রকৃতির নৈসর্গিক রূপের মিশ্রন পাতলাবন। যাতায়াত দূরাবস্থা আর সম্প্রচার মাধ্যমে দৃষ্টিগোচর হয়নি বলে এখনো অনাবিস্কৃত এ পাতলাবনে এই জায়গাটি।
প্রতিটি বিকেল এখানে সবুজ মাঠ অার বালুচরে ভ্রমণ পিপাসীরা ভিড় করে।

বিছানাকান্দির নাম শুনেছি, তার সৌন্দর্যে পাগল হয়ে ছুটে গিয়েছি কিন্তু জন্মভূমি কলমাকান্দার পাতলাবনের অাবেদন এখনো সকল জায়গার চেয়ে বেশি।

মেঘালয় পাহাড় থেকে বয়ে অাসা নদী মহাদেও এর কূলবর্তী যে অবারিত সবুজ মাঠ, বালুচর, সবুজ ধানক্ষেত মিলে পাতলাবন এই গ্রামটি। সীমান্তে বাংলাদেশ অংশের কিছু কিছু টিলা এতে ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে।

পাশেই আদিবাসী গারোদের বাস। সন্ধ্যা হলেই অাদিবাসীদের সংস্কৃতি, রীতি নীতি, ডোলের মাদল অাপনাকে ভিন্ন একটি জাতিসত্তার সাথে পরিচয় ঘটাবে। টিলার উপরে বিলুপ্ত প্রায় মাচাঙ ঘরে তাদের বাস। পাহাড় থেকে নদীতে বয়ে অাসা বড় বড় পাথর অার মাচাঙ ঘর এই তাদের ঐতিহ্য।

গারোদের অকৃত্রিম সরলতা, পাহাড়ের নিরবতা, নদীর বহতা, বালুচরের জোছনা আর দুই পাশের গ্রামীণ জনপদ অাপনাকে নিটোল চিত্রের সাথে আলাপ করিয়ে দিবে।

সময় অার ঋতুর সাথে পাতলাবনের রুপ বদলায়। বর্ষায় পাহাড়ি ঢল মহাদেও দুকূল ছাপিয়ে দেয় জলে। অার বৈশাখ মাসে সেখানে হাটু জলে নদী ছড়ায় পরিণত হয়। পাহাড়ি ঝর্নাধারা থেকে বয়ে অাসা সেই স্বচ্ছ জলে অবগাহনে অানন্দ মিলে। যেখানের স্বচ্ছ জলে ছোট ছোট মাছেরা খেলা করে। ছুটে চলা সে মাছ ধরার মজাই আলাদা। পড়ন্ত বিকেলে ছোট ডিঙায় করে ঘুরে বেড়ানোর সুযোগও রয়েছে।

আধুনিক নাগরিক সুবিধা তথা বিজলির আলো পর্যন্ত পৌঁছায়নি এলাকাটিতে। অজপাড়া গাঁ বলতে যা বুঝায়। কিন্তু অভাব নেই প্রাকৃতিক মুক্ত আলো বাতাস আর নৈসর্গিকতর। তবে আধুনিক শিক্ষার আলোয় আলোকিত পাতলাবন।

প্রায় ২০-৫০ জন মেধাবী সন্তান পাতলাবনের কোল থেকে উঠে এসে ঢাকা ইউনিভার্সিটি সহ বিভিন্ন ইউনিভার্সিটিতে পড়ালেখা করে দেশের উচ্চ পদে থেকে দেশের সেবায় নিয়োজিত।

এছাড়াও প্রতি বছর এখান থেকে ২-৫ জন শিক্ষার্থী বিভিন্ন ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হয়। বলা হয়ে থাকে প্রাকৃতিক অপার এ সৌন্দর্যই এখানকার সবচেয়ে বড় বিদ্যাপীঠ আলোর আধার।

আশেপাশে আরো কিছু দেখার মত জায়গা রয়েছে। যেগুলোর মধ্যে ভুবনের টিলা, জাইগিরপাড়া, চাঁদ সওদাগরের চন্দ্রডিঙা, পাহাড়ের পাশদিয়ে সীমান্ত সড়কে মোটর বাইক রাইড সব মিলিয়ে ভালো লাগার মন মাতানো পাতলাবন আপনার ভালো না লেগে পারেই না। তাই পাতলাবনের সৌন্দর্য উপভোগ করতে আর দেরী কেন, চলে আসুন যেকোন সময়।

যেভাবে যাবেনঃ
নেত্রকোনা জেলা শহর থেকে ৪০ কিমি উত্তরে ভারত সীমান্তবর্তী কলমাকান্দা উপজেলার রংছাতি ইউনিয়নের পাহাড়ঘেষা এই গ্রামটিই পাতলাবন।

ঢাকা থেকে বাসে বা ট্রেনে করে নেত্রকোনা এরপর সিএনজি বা বাসে করে কলমাকান্দা। এমনকি সরাসরি বরুয়াকোনা বাজার কিংবা সরাসরি পাতলাবন যাওয়া যায়।

যদিও স্থানীয়ভাবে পর্যটন ব্যবস্থা গড়ে উঠেনি বলে থাকতে হবে উপজেলা শহর কলমাকান্দায়। গড়ে উঠলে হয়ত মহাদেও নদীর চরে তাবু টানিয়ে জোছনা রাতে জোছনাবিলাস আর বার-বি-কিউ এর সাথে আদিবাসী নৃত্য ভিন্ন মাত্রা যোগ করবে নিঃসন্দেহে। তবে আমার গৃহে সবসময় আপনাকে সাদর নিমন্ত্রণ।

সতর্কতাঃ
সীমান্তবর্তী হওয়ায় বিজিবি এবং বিএসএফ এর কড়া পাহাড়া চলে সার্বক্ষণিক। তাই ভুলেও সীমানা অতিক্রম করবেন না। প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করুন আইন মেনে। আদিবাসী ছেলেমেয়েরা সাধারণত অপরিচিতদের প্রথমে সহজে আপন ভাবেনা তবে দূরের পর্যটক শুনলে আতিথেয়তায় মুগ্ধ হবেন। তাই একটু সামলে চলুন। আনন্দভ্রমণ আনন্দময় হোক।

Source: Bappy Faysal‎ <Travelers Of Bangladesh (TOB)

13 Mar 2019

যেকোনো দেশে যাওয়ার আগে ইন্টারনেট ঘেটে খুঁটিনাটি জানার চেষ্টা করি, আর এবারও থাইল্যান্ড যাওয়ার প্ল্যান করার আগে দর্শনীয় স্থানগুলো ইন্টারনেট ঘেটে দেখার চেষ্টা করি এবং দেখি অনেক সুন্দর সুন্দর স্পট রয়েছে এবং বুঝতে পারলাম তিন-চার দিনের জন্য গেলে তেমন কিছুই দেখতে পাবো না, তাই এবারও বালি ভ্রমণের মতো ৯-১০ দিনের জন্য প্ল্যান করি, আমরা তিনজন(আমি, আমার অর্ধাঙ্গী এবং আমাদের সাড়ে চার বছরের ছেলে)

হোটেল বুকিং:
আমি বাংলাদেশ থেকেই হোটেল বুক করে গিয়েছি,থেকে, বুকিং দিলে আপনার আগেই পেমেন্ট দিতে হয় না। হোটেল উঠার ২-৩ দিন আগে তারা চার্জ কেটে নিবে, তবে চার্জ কাটার নির্দিষ্ট তারিখের দিনে কার্ড এ ব্যালান্স থাকতে হবে। আমি আমার পেওনিয়ার মাস্টারকার্ড কার্ড দিয়ে হোটেল বুক দিয়েছিলাম। ২৫০০-৩০০০ টাকায় ভালো হোটেল পাওয়া যায় ব্রেকফাস্ট সহ। আমি টোটাল ৮ রাতের জন্য ৫ হোটেল বুক দেই। প্রথম দুই রাত ব্যাংকক প্রাতুনাম, দুই রাত ক্রাবি, একরাত ফি ফি আইল্যান্ড, একরাত ফুকেট আর বাকী দুই রাত ছিলাম পাতায়া।

থাইল্যান্ডের ভিসা পাওয়া একটু কঠিন, জানিনা কি কারনে তারা প্রায়ই ভিসা রিজেক্ট করে থাকে। আমিও প্রথমবার যখন ভিসার জন্য আবেদন করি তখন আমাকে রিজেক্ট করে ছিল, এইবার পুনরায় আবার আমি যখন আবেদন করলাম তখন আমাকে তিনবার ফোন করেছিল এবং ইন্টারভিউতে ডেকেছিল। আমার সাথে কথা বলে তারা সন্তুষ্ট এবং পরদিনই জানতে পেলাম যে আমার ভিসা হয়ে গেছে। থাইল্যান্ডের ভিসা পাওয়ার ক্ষেত্রে একটি বিষয় খুবই জরুরী, আপনার মোবাইল ফোন সব সময় চালো রাখতে হবে। তারা যে প্রশ্ন করবে তার উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করবেন এবং এর বাইরে আগ বাড়িয়ে কিছু না বলাটাই ভালো। আর যদি ইন্টারভিউতে ডাকে তাহলে নিজেকে সুন্দরভাবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করবেন তাদের কাছে।

প্লেনের টিকিট:
ভিসা কনফার্ম হয়ে যাওয়ার পর খুব শীঘ্রই এয়ার টিকেট কনফার্ম করে ফেলি এবং ইন্টারনেট ঘেটে দেখলাম থাইল্যান্ড যাওয়ার জন্য থাই এয়ারলাইনস আমার কাছে সবচেয়ে ভাল মনে হয়েছে তাই আর বেশি না ভেবে থাই এয়ারলাইনস এর টিকেট কনফার্ম করে ফেলি এবং থাইল্যান্ডে ডমেস্টিক ফ্লাইট এর জন্য এয়ার এশিয়ার টিকেট কনফার্ম করে ফেলি।

আমাদের ফ্লাইট ছিল দুপুর 1 টা 40 মিনিটে, সকালের নাস্তা খেয়ে দশটার মধ্যে বাসা থেকে বের হয়ে যায় এয়ারপোর্টের উদ্দেশ্যে এবং এক ঘণ্টার মধ্যেই এয়ারপোর্টে পৌঁছে যায়, কারণ সেদিন একুশে ফেব্রুয়ারি ছুটি ছিল তাই রাস্তাঘাট তেমন একটা যানজট ছিল না। পৌঁছেই বোডিং পাসের জন্য লাইনে দাঁড়ায়, সকাল ১১ টা বাজার কিছুক্ষণ পরে বোডিং পাস দেওয়া শুরু হয়। বোর্ডিং শেষে ইমিগ্র্যাশন ফর্ম নিয়ে তা পূরণ করে ইমিগ্র্যাশন লাইনে দাঁড়ায়। কোন ঝামেলা ছাড়াই একে একে আমাদের ইমিগ্রেশন শেষ হল। সবকিছু শেষ এইবার ফ্লাইটের জন্য রেডি কিন্তু এখনো প্রায় ২ ঘন্টার উপর সময় আছে, কি করা যাই ভেবে EBL স্কাই লাউঞ্জে গিয়ে বসি এবং সময়ও ভালো কাটলো। EBL লাউন্স থেকে বেরিয়ে এবার ফ্লাইট এর জন্য রেডি। একে একে বিমানে উঠে বসলাম। থাই এয়ারলাইন্স খুবই বিশালাকৃতির এবং ভিতরের পরিবেশটা খুবই খোলামেলা।

আমাদের ছেলে সিটে বসেই সিটবেল্ট বেঁধে সে রেডি অথচ গত বালি ভ্রমণে তাকে অনেক বুঝিয়ে সুঝিয়ে সিটবেল্ট বাঁধতে হয়েছিল। যাই হোক সিটে বসে আমরা গল্প করছিলাম, এই ফাঁকে একজন এয়ারহোস্টেজ এসে আমার ছেলের সাথে মজা করতে ছিল এবং তার নাম জিজ্ঞেস করছিলো এবং তাকে বলল তুমি যদি তোমার নাম বলো তাহলে আমি তোমাকে একটা জিনিস উপহার দিব। তো আমার ছেলে লজ্জা পেয়ে আর কোন কথা বলছে না। এয়ারহোস্টেজ আবার বললো যদি তুমি আমার সাথে কথা বল তাহলে আমি তোমাকে এই বইটি উপহার দিব। আর যদি কথা না বলো তাহলে এটা তুমি পাবে না, অন্য একজনকে দিয়ে দেবো। দেখি আমার ছেলের মন খারাপ, এয়ারহোস্টেজ আবার একটু ঘুরে আসলো এবং এইবার সে তার নাম বলছে আর এয়ারহোস্টেজ খুশি হয়ে তার হাতের স্টিকার বইটি আমার ছেলেকে দিলো। আমার ছেলে এবার খুশি হয়ে থাকে ধন্যবাদ জানালো এবং বইটি খুলে স্টিকার গুলো দেখতে লাগল।

যাই হোক অবশেষে বিমান উড্ডয়নের জন্য প্রস্তুত এবং এর কিছুক্ষণের মধ্যেই উড্ডয়ন করল আর কিছুক্ষণের মধ্যে আমাদের মাঝে খাবার দিলো, খাবারের মান খুবই ভালো ছিল। এরই ফাঁকে আমাদের মাঝে ইমিগ্রেশন ফরম দিয়ে গেল এবং তা পূরণ করে নিলাম। 2 ঘন্টা 40 মিনিট পর থাইল্যান্ডের সুবর্ণভূমি এয়ারপোর্ট এ আমাদের বিমানটি অবতরণ করলো এবং আমরা থাই ইমিগ্রেশন এর কাজ সম্পন্ন করার জন্য নির্দিষ্ট স্থানে খুব দ্রুতপৌঁছে গেলাম। সুবর্ণভূমি এয়ারপোর্ট এর অভ্যন্তরীণ সিস্টেমটা আমার কাছে খুব ভালো লেগেছে, আপনি যদি ডান বাম একটু তাকিয়ে দেখেন এবং চোখ কান খোলা রাখেন তাহলে কারো সাহায্য ছাড়াই আপনি আপনার গন্তব্যে খুব সহজেই যেতে পারবেন। ইমিগ্রেশন অফিসার এরাইভাল সিল মেরে আমাদের হাতে পাসপোর্ট দিয়ে দিল এবং ইমিগ্রেশন ফর্ম এর একটি অংশ আমাদের পাসপোর্টে রয়ে গেছে যা খুবই গুরুত্বপূর্ণ, যখন আপনি থাইল্যান্ড থেকে ফিরবেন সেই অংশটি আপনাকে আবার পরে এয়ারপোর্টে ইমিগ্রেশন এ জমা দিতে হবে। তাছাড়া এই অংশটি আপনার বুক করা প্রতিটি হোটেলে দেখাতে হবে। অতএব এটি যত্ন করে রাখবেন, হারাবেন না।

ইমিগ্রেশন শেষ করে এখন এয়ারপোর্ট থেকে বের হওয়ার পথে 299 বাদ দিয়ে একটি সিম কার্ড কিনে নিলাম যাতে ৮ দিনের ইন্টারনেট প্যাকেজ রয়েছে, ৭জিবি। আর থাইল্যান্ডে ইন্টারনেটের স্পিড সব জায়গায় মোটামুটি ভালই পেয়েছি।এয়ারপোর্ট থেকে বের হয়ে, এয়ারপোর্টের নির্দিষ্ট স্থান থেকে মিটারে ট্যাক্সি ঠিক করে নিলাম এবং হোটেলে পৌঁছে গেলাম। ব্যাংককে আমাদের হোটেলটি ছিল প্রাতুনামে, এই এলাকাটি শপিংয়ের জন্য খুবই পরিচিত। হোটেলে চেক ইন করে কিছুটা বিশ্রাম নিয়ে সন্ধ্যার দিকে বের হয়ে পরলাম টুকটাক শপিংয়ের জন্য এবং ব্যাংকক শহরটাও একটু ঘুরে দেখলাম। তার মধ্যে Indra Market ও তার আশেপাশের স্ট্রীটমার্কেট গুলো ভাল। টুকটাক কিছুটা শপিং করে রাতের খাবার খেয়ে হোটেলে ফিরে আসলাম এবং ঘুমিয়ে পড়লাম।

ব্যাংককে দ্বিতীয় দিন:
সকালে ব্রেকফাস্ট সেরে আমাদের প্ল্যান অনুযায়ী আজ গ্র্যান্ড প্যালেস, গোল্ডেন মাউন্টেন এবং ব্যাংকক শহরের আশেপাশে ঘুরে দেখব। হোটেল থেকে পাঁচ মিনিট হাঁটা দূরত্বে পৌঁছে গেলাম প্রাতুনাম বোট স্টেশনে, শহরের মধ্য দিয়ে একটি লেক আছে এবং এই লেক দিয়ে নৌকা চলাচল করে যা সহজে আপনি এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যেতে পারবেন। লেকের পানি কিছুটা ময়লা এবং গন্ধ যুক্ত হলেও আপনি আরামসে ব্যাংককের যানজটে এড়িয়ে খুব সহজে আপনার গন্তব্যে যেতে পারবেন। প্রাতুনাম বোট স্টেশন থেকে শেষ স্টেশনে এসে নামলাম এবং আমরা গোল্ডেন মাউন্টেন টেম্পলে ২ মিনিট হাঁটা দূরত্বে পৌঁছে গেলাম। টিকিটের প্রবেশ মূল্য ২00 বাথ, গোল্ডেন মাউন্টেন টেম্পল এর উপর থেকে ব্যাংকক শহরকে খুব ভালোভাবে দেখা যায় অনেকটা আমাদের ঢাকা শহরের গুলশান/বনানীর মতোই পার্থক্য বলতে বিল্ডিংগুলোর নকশা এবং তাদের নিয়োজন।

গোল্ডেন মাউন্টেন পরিদর্শন শেষে চলে গেলাম গ্র্যান্ড প্যালেস দেখতে, এটি থাইল্যান্ডের সবচেয়ে জনপ্রিয় পর্যটন গন্তব্যস্থানগুলোর মধ্যে একটি। এটির স্থাপত্য এবং মূল্যবান সংস্কৃতির জন্য ব্যাংককে সবচেয়ে জাঁকজমক কাঠামোর মধ্যে একটি। টিকিটের প্রবেশ মূল্য 500 বাথ। পরিদর্শন শেষে টুকটুক যোগে ব্যাংকক শহরটা দেখতে দেখতে চলে আসলাম আমাদের হোটেলের কাছাকাছি এবং দুপুরের লাঞ্চ সেরে হোটেলে গিয়ে কিছুটা বিশ্রাম নিলাম। সন্ধ্যার পর বের হয়ে গেলাম ব্যাংককের নাইট মার্কেট দেখার জন্য, যা খুবই জনপ্রিয়। নাইট মার্কেট বলতে এখানে শপিংমলে যে জিনিস গুলো বিক্রি করে সন্ধ্যার পরে সেই জিনিস গুলোই ব্যাংককের ফুটপাত থেকে আপনি সুলভ মূল্যে কিনতে পারবেন। আমরাও পছন্দমতো টুকটাক কিছু জিনিস কিনে নিলাম। শপিং শেষে ডিনারের জন্য চলে গেলাম এক ইন্ডিয়ান রেস্টুরেন্টে খাবার অর্ডার করে আমরা কথা বলছিলাম হঠাৎ আমার বউ বলল আরে আমি যে কাথ ব্যাগটা কিনেছিলাম সেটা কোথায়? যাইহোক সে ভুলে আনেনি, আমি দোকানে গিয়ে ঘটনাটি বললাম এবং দোকানদার আমায় চিনতে পেরে বললো হা নেয়নি আর ব্যাগটা আমায় দিলো। পরদিন খুব ভোরে আমাদের ক্রাবি যাওয়ার ফ্লাইট, তাই ডিনার সেরে হোটেলে গিয়ে ঘুমিয়ে পরলাম।

তৃতীয় দিন এবং ক্রাবি ভ্রমণ :
ভোর চারটায় ঘড়ির এলাম অনুযায়ী নিজে ঘুম থেকে উঠে পড়লাম এবং রেডি হয়ে হোটেল রিসিপশনে চলে আসলাম চেক আউটের জন্য। এসে দেখি আমাদের ট্যাক্সিও হাজির, যা আগেরদিনই ঠিক করে রেখেছিলাম। আমাদের হোটেল থেকে 30 মিনিটের দূরত্বে পৌঁছে গেলাম ডন মুয়াং এয়ারপোর্টে। ডন মুয়াং ব্যাংককের খেট ডন মুয়াং নামক জায়গায় অবস্থিত প্রধান আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর। দুটি টার্মিনাল নিয়ে বিমানবন্দরটি স্থাপিত। আমরা ডোমেস্টিক পোর্ট দিয়ে এয়ার এশিয়ার বোর্ডিং পাস এর জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে গেলাম। অল্প কিছুক্ষণের মধ্যেই বোডিং পাস পেয়ে ফ্লাইট এর জন্য রেডি, আমাদের ফ্লাইট এর সময় ছিল সকাল ছয়টা 40 মিনিট। নির্ধারিত গেটে এসে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করার পর বিমানে চেক ইনের জন্য রেডি। একে একে আমরা বিমানে উঠে বসলাম এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই প্লেনটি ফ্লাই করল স্বপ্নময় ক্রাবির উদ্দেশ্যে। এক ঘন্টা বিশ মিনিট পরে এয়ার এশিয়ার প্লেনটি অবতরণ করলো ক্রাবি ইন্টারন্যাশনাল বিমানবন্দরে। এরপর এয়ারপোর্ট থেকে বের হয়ে চলে আসলাম আমাদের পূর্ব নির্ধারিত বুক করা হোটেলে। এয়ারপোর্ট থেকে হোটেলের দূরত্ব ছিল ট্যাক্সি যোগে প্রায় ২5 মিনিটের মত।

ট্যাক্সি করে যাচ্ছি আর ক্রাবির পরিবেশ দেখে মনে হচ্ছে ব্যাংককের কোলাহলপূর্ণ পরিবেশ থেকে চলে আসলাম এক অপরূপ সৌন্দর্যের মায়াবী পরিবেশে। হোটেলে আগেই বলাছিল আমরা সকালে চেক ইন করব, যদি রুম খালি থাকে। প্রত্যাশামতো সকালের মধ্যেই রুম পেয়ে গেলাম। হোটেলটা আমার কাছে অনেকটা ডুপ্লেক্স বাড়ির মতোই মনে হলো, খুবই শান্ত পরিবেশ এবং এই হোটেল পরিচালনা করছে তিনজন নারী কর্মী। যাদের ব্যবহারে আমরা অত্যন্ত মুগ্ধ। মনে হল নিজের বাড়িতেই ছিলাম, আর রুমের ডেকোরেশনটাও ছিল খুবই নান্দনিক।

তাছাড়া আজ আট বছরে পদাপর্ণ করে আমাদের বিবাহ বার্ষিকী। দিনটি ছিল ২০১২’এর ২৩শে ফেব্রুয়ারি। তার এবং আমার জীবনের সবচেয়ে স্মরণীয় দিন। আজ থেকে সাত বছর আগে ঠিক এই দিনটিতে আমরা একে অন্যের হাত ধরেছিলাম। হোটেলটির নাম কিস হোমটেল আর এটি নপ্পরত থারা (Nopparattara Beach) থেকে ৫-৭ মিনিটের হাটা দুরুত্ব।

হোটেলে পৌঁছে চা কফি খেয়ে চলে আসলাম Nopparattara Beach। খুবই সুন্দর যতদূর চোখ যায় যেন সাগরের বুকে ছোট ছোট পাহাড়ি টিলা আর চারিদিকে সাগর খুবই নান্দনিক পরিবেশ, দিগন্ত বিস্তৃত নীল সাগরের সাথে যেন পাহাড় আর মেঘের মিতালি। আমার ছেলে খুবই আনন্দিত সে এখন সুইমিং করবে, এখানকার সাগরের বুকে বড় বড় ঢেউ নেই খুবই শান্ত। ছেলের জন্য আগেই লাইফ জ্যাকেট কিনে রেখেছিলাম এবং সেটা পরিধান করে সে খুবই পুলকিত, কখন সুইমিং করবে, সাগরের জলে নেমে আর উঠতে চায় না, আমরা তিনজনে মিলে প্রায় দুই ঘন্টার মতো জলে ছিলাম। ছেলে তাতেও তৃপ্ত নয়, সে আরো কিছুক্ষন থাকবে অনেকটা জোর করে উঠালাম, যার উল্টো ঘটনা ঘটেছিল আমাদের বালি ট্যুরে তাকে জোর করেও সমুদ্রে নামানো যায় নি, হা হা হা।

হোটেলে ফিরে লাঞ্চ সেরে নিলাম, লাঞ্চ সেরে কিছুটা ঘুমিয়ে নিলাম এবং সন্ধ্যার পূর্বে চলে আসলাম আও নাং বিচ। সূর্যাস্ত দেখে বিচ এরিয়া কিছুক্ষণ ঘুরলাম আর ছবি তুললাম খুবই শান্ত পরিবেশ, এটি এতটা কোলাহলপূর্ণ নয়। হঠাৎ দোলনা দেখতে পেয়ে আমার ছেলে বায়না ধরল দোলনাতে উঠবে এবং দোলনাতে গিয়ে বসলো, কিছুক্ষণ পর একটি ছোট বাচ্চা মেয়েও তার সাথে গিয়ে বসলো। পাশেই তার মা ছিল এবং তারা অস্ট্রেলিয়া থেকে এসেছে শুধু ক্রাবিতে পাঁচ দিন থাকার জন্য। যাইহোক বিচ এর উল্টো দিকে কিছু শপিং মল রয়েছে, আমার বউ ঘুরে ঘুরে দেখল এবং টুকটাক কিছু কিনতে চাইল কিন্তু দাম শুনে সে কিছুটা হতবাক হয়ে গেল, খুবই এক্সপেন্সিভ। কাজেই এখানে শপিং করা মোটেই বুদ্ধিমানের কাজ হবেনা। কিছুটা ক্ষুধা অনুভব করলাম, ছেলেকে বললাম কি খাবে, বলে বার্গার। আর কিছুক্ষণ সময় কাটিয়ে এবং বার্গার কিং থেকে বার্গার খেয়ে হোটেলে ফিরে আসলাম। হোটেলে ফিরে ফোর আইল্যান্ড টুরের টিকিট কেটে ফেললাম, যারা ক্র্যাবিতে যাবেন তারা অবশ্যই এই টুরটি নিতে ভুলবেন না। থাইল্যান্ড একটা জিনিস লক্ষ্য করলাম আপনি তাদের কাছ থেকে যে কোন প্যাকেজ নিতে চান না কেন সব জায়গায় একই দাম। আমার যেটা মনে হলো তাদের সবার মধ্যে একটা চুক্তি হয়েছে যার ফলে আপনি কোথাও এর কমে পাবেন না, এজন্য সব জায়গায় একই দাম।

চতুর্থ দিন:
পরদিন সকাল সাড়ে আটটার মধ্যে পিক আপ ভ্যান এসে হাজির এবং আমরাও ফোর আইল্যান্ড টুরের জন্য রেডি। আপনার হোটেল বা ভিলা থেকে একটি পিকআপ ভ্যান আপনাকে নিবে, আপনি যদি ক্রবি টাউন বা ক্লং মুয়াংতে থাকেন তবে ড্রাইভার এবং গাইড প্রায় সকাল ৮:00 টার মধ্যে হোটেলে আসবে। আপনার হোটেল যদি Ao Nang হয়, তাহলে ৮:৩০ এর কাছাকাছি পিকআপ ভ্যান আসবে। পিকআপ ভ্যান গুলি প্রায় ৩০ মিনিট সময় নেয়, এর পর আমরা নপ্পরত থারা পৌঁছালাম। এখানে আমরা ছোট নৌকায় প্রায় ৯.০০ টার দিকে যাত্রা করি এবং মোট চারটি দ্বীপে গেলাম আমরা। প্রথমে আমরা প্রাণাং আইল্যান্ড যাই, খুবই পরিষ্কার জল। এই দ্বীপে কিছুক্ষণ সময় কাটিয়ে তারপর আমাদেরকে কোহ ল্যাডিংয়ে নিয়ে যায়, যা আলস প্যারাডাইজ দ্বীপ নামেও পরিচিত। এখানে আপনি সাঁতার কাটুন বা ভাল snorkeling জন্য বিখ্যাত। যারা সাঁতার জানে তারা একে একে snorkeling এর জন্য জলে নেমে গেল তাদের সাথে আমিও নামলাম এবং খুবই এনজয় করলাম যা অনেকদিন মনে থাকবে।

তারপর আমরা গেলাম Poda Island, এখানে নেমে বুফে লাঞ্চ উপভোগ করি (নিরামিষ খাবার +চিকেন) এবং কিছুক্ষণের জন্য আবার সাগরে জলে নামি। ছেলে আমার মহা খুশি আবার জলে নেমে, তাকে আমি সাঁতার শিখাচ্ছি আর সে তার মাকে ডাক দিয়ে বলে মা এইদিকে আসো আমি তোমাকে সাঁতার শিখিয়ে দেয়, হা হা হা।

এরপর বোট আমাদের নিয়ে যায় চিকেন আইল্যান্ড, দ্বীপটি দেখতে অনেকটা চিকেনের মত হওয়ায় এর নাম চিকেন আইল্যান্ড। এখানে আমরা বোট থেকে নামিনি, তবে স্কুবা ডাইভিং এর ব্যবস্থা ছিল। সবশেষে যাই টাব আইল্যান্ডে, এক দ্বীপ থেকে সাগরের মাঝ দিয়ে আরেক দ্বীপে যাওয়ার অভিজ্ঞতাটা সত্যিই অসাধারন। টাব আইল্যান্ডে নেমে তার সৌন্দর্য দেখে যে তার বর্ণনা করবো এমন ভাষা আমার জানা নেই! সত্যিই তা কেবল নিজের চোখে দেখা ছাড়া বর্ণনা করা কঠিন।

টাব আইল্যান্ডে কিছুক্ষন সময় কাটিয়ে প্রায় বিকাল ৩ টার দিকে আমরা আও নাং সমুদ্র সৈকতে ফিরে আসার জন্য আবার নৌকাতে যাই। প্রায় 4 টার দিকে বোট এসে আও নাং বিচ থামল এবং কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে সেই ভ্যানযোগে আবার আমরা হোটেলে ফিরে আসলাম। সত্যি-ই অসাধারন এক অভিজ্ঞতা এবং এখানে এসে মনে হলো জীবন আসলেই উপভোগ্যময়! পরদিন সকাল ৯ টায় ফি ফির উদ্দেশ্যে যাত্রা আর এখানেই আমাদের ক্র্যাবি ভ্রমনের সমাপ্তি। এখানে ক্রাবি সম্পর্কে কিছু কথা না বললেই নয়। স্থানটি থাইল্যান্ড এর বর্ডার এলাকায়, মালয়েশিয়ার লাংকাওইর খুব কাছে বলেই এলাকাটি মুসলিম অধ্যুষিত এবং প্রায় ৫০ ভাগ মুসলিম।

পঞ্চম দিন এবং ফি ফি আইল্যান্ড ভ্রমণ:
ক্র্যাবিকে বিদায় জানিয়ে এবার আমাদের গন্তব্য ফি ফি আইল্যান্ড। ফেরি ঘাটে এসে তাদের ফেরিঘাট দেখে আমি কিছুটা অবাক এ যেন একটা মিনি এয়ারপোর্ট, খুবই ভালো সুযোগ-সুবিধা। 9 টা বাজার কিছুক্ষণের মধ্যেই ফেরি ছেড়ে দিল আর তরতর করে সামনে এগিয়ে যাচ্ছে, যেন নীল সাগরের বুক চিরে এগিয়ে চলল আমাদের ফেরি।

ফেরির ছাদ থেকে এই নয়নাভিরাম দৃশ্য অবলোকন সত্যিই কখনো ভুলার নয়, এ যেন কল্পনায় ছোটবেলায় টিভিতে দেখা সিন্দাবাদের সওদা করতে যাওয়ার দৃশ্য। দেখতে দেখতে প্রায় দুই ঘন্টা পর ফেরি এসে ভিড়ল ফি ফির ঘাটে। ফেরি থেকে নেমে সামনে এগিয়ে যাচ্ছি এবং দেখি সবাই যার যার হোটেলের ব্যানার নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। একটু সামনে যেতেই আমাদের বুক করা হোটেলের ব্যানার টি পেয়ে গেলাম, ফি ফিতে আমাদের হোটেলের নাম ছিল “The Cobble Beach Hotel” হোটেল কর্তৃপক্ষের লোক আমাদের ব্যাগ গুলো নিয়ে একটি নির্দিষ্ট জায়গায় কিছুক্ষণ অপেক্ষা করার জন্য বলে কারণ এই ফেরিতে তাদের হোটেলের আরো লোকজন ছিল। সবাই একসাথে জড়ো হওয়ার পর সে হাত চালিত একটি দুই চাকার ভ্যানে আমাদের সবার ব্যাগ গুলো নিয়ে তার পিছন পিছন যেতে বলল। সবাই এগিয়ে যাচ্ছে আর আমরা কিছুটা পিছিয়ে পড়ে গিয়েছিলাম আমাদের ছেলের কারণে, এই অবস্থা দেখে হোটেলের লোকটি আমার ছেলেকে ভ্যানের উপর বসিয়ে দিল এবং যেতে লাগলো। প্রায় 15 মিনিট হেঁটে অবশেষে হোটেলে চেক ইন করলাম। হোটেলে চেক ইন করে ক্রাবি থেকে নিয়ে আসা পাউরুটি, আম খেয়ে নিলাম আমরা তিনজন মিলে।

কিছুক্ষন বিশ্রাম নিয়ে নেমে পড়লাম সাগরের বুকে, এমন স্বচ্ছ জল আমি এর আগে কোথাও কোনো সৈকতে দেখিনি। কোমর সমান জলে দাঁড়িয়েও স্পষ্ট সাগরের তলদেশ দেখা যাচ্ছিলো। রুমে ফিরে ফ্রেশ হয়ে দুপুরের খাবার খেয়ে একটু ঘুমিয়ে নিলাম। সন্ধ্যায় বের হলাম দ্বীপ প্রদক্ষিনে, পাহাড়ে ঘেরা আর নয়নাভিরাম সৌন্দর্য্যে ঘেরা ছোট্ট একটি দ্বীপ ফি ফি। আপনি পায়ে হেঁটেই দ্বীপটি প্রদক্ষিণ করতে পারবেন, সর্বোচ্চ ত্রিশ থেকে চল্লিশ মিনিট লাগতে পারে । এখানে কোন যানবহন নেই, তাই আপনার পা দুটিই একমাত্র ভরসা। দুপুরে যে রেস্টুরেন্টে খেয়েছিলাম সেই রেস্টুরেন্টেই ডিনার সেরে হোটেল রুমে ফিরে আসলাম। পরদিন সকাল 9 টায় আমাদের ফুকেট যাত্রা কিন্তু ফি ফির সৌন্দর্য দেখে ঠিক করলাম সকাল এর পরিবর্তে দুপুরের ফেরিতে যাব। একই কোম্পানির ফেরি টিকিটে আপনি যেকোনো টাইমে যেতে পারবেন, আমি আমি যে ফেরির টিকেট কেটেছিলাম তাদের টাইম ছিল সকাল 9 টা, ১১ টা আর দুপুর 2 টা।

ষষ্ঠ দিন এবং ফুকেট ভ্রমণ:
সকালে ঘুম থেকে উঠে ফি ফির সৌন্দর্য উপভোগের জন্য সৈকতের বালুচরে হেঁটে বেড়ালাম আর অনেক ছবি তুললাম। আমাদের এই হোটেলের সুইমিং পুল এবং রেস্টুরেন্ট এর স্থানটি ছিল এক কথায় অসাধারণ। ব্রেকফাস্ট সময় বা সুইমিংপুল থেকে ফি ফির প্রকৃতির সৌন্দর্য অবলোকন করার মুহূর্তটি সারা জীবন মনে থাকবে। সত্যিই পুরো দ্বীপটি বিধাতা যেন ছবির মত করে সাজিয়েছে। কেউ যদি আমাকে কখনো জিজ্ঞেস করে আপনার থাইল্যান্ড ট্যুরের সবচেয়ে স্মরনীয় মুহুর্ত কোনটি, আমি বলব ফি ফিতে কাটানো একটি রাত, যা কখনো ভুলার নয়। দুপুর নাগাদ ফি ফি কে বিদায় জানিয়ে ফেরিতে উঠে বসলাম, এবার গন্তব্য ফুকেট। আবার প্রায় দুই ঘন্টা পর ফেরি ফুকেটের তীরে এসে পৌঁছলো। মনে হচ্ছে আবার যেন কোলাহলপূর্ন নগরীতে ফিরে এলাম। ফেরিতে থাকা অবস্থায়ই হোটেলে যাওয়ার টিকেট করে নিলাম। ফুকেটে আমাদের হোটেলটি পেতং বিচের কাছেই ছিল। বিকেলের মধ্যে হোটেলে ফিরে ফ্রেশ হয়ে গেছে চলে আসলাম পেতং বিচে সূর্যাস্ত দেখব বলে, সূর্যাস্ত দেখে কিছুটা সময় কাটিয়ে পেতং শহরটা একটু ঘুরে দেখলাম। আগেই প্ল্যান ছিল ফুকেটে একদিন থাকবো, পরদিন সকালে আবার ব্যাংককের ফ্লাইট। এই কয় দিনে সাগর, পাহা্ড়, দ্বীপ যথেষ্ট দেখেছি, তাই আবার আমার ছেলের জন্য ঘুরে বেড়াবো।

সপ্তম দিন এবং পাতায়া ভ্রমণ:
সকালে ঘুম থেকে উঠেই ট্যাক্সি যোগে চলে গেলাম ফুকেট এয়ারপোর্টে। সেখান থেকে এয়ার এশিয়ার ফ্লাইটে পৌঁছে গেলাম ডন মুয়াং। এরপর এয়ারপোর্ট থেকে আবার ট্যাক্সি যোগে সরাসরি আসলাম ব্যাংকক সাফারিপার্কে। ড্রাইভার ট্যাক্সি থেকে নামার পর জিজ্ঞেস করলো, আপনারা সাফারি পার্ক দেখার পরে কোথায় যাবেন, আমি বললাম এইখানে সাফারি পার্ক এবং সাফারি ওয়ার্ল্ড দেখতে যতক্ষণ লাগে তারপর এখান থেকে আমরা সরাসরি যাব পাতায়া। তার কথা বুঝতে কিছুটা সমস্যা হচ্ছিল তারপর সে একজন ইংরেজি জানা লোকের সাথে কথা বলিয়ে দিল। কথা বলে আমি বুঝতে পারলাম সে আমাদের পাতায়া নিয়ে যেতে রাজি কিন্তু সে দুই হাজার বাথ ভাড়া দাবি করে। অবশেষে দামাদামি করে ডন মুয়াং এয়ারপোর্ট থেকে সাফারি পার্ক আসা + পাতায়া পর্যন্ত সে পনেরশো বাথে রাজি হলো। উল্লেখ্য ব্যাংকক শহর থেকে পাতায়ার দূরত্ব ১৬০+ কিঃমিঃ।

অবশেষে সাফারি পার্কে প্রবেশ করি, এখানে এক শো শেষ হলে দর্শক পায়ে হেটে চলছে আরেকটি গেম শো দেখতে। এভাবে চলে সী লায়ন শো, ডলফিন শো, কাউবয় শো, এ্যালিফেন্ট শো, বার্ড শো,স্পাই ওয়ার শো। আমার ছেলেতো মহাখুশি আর সবচেয়ে সে মজা পায় জিরাফকে কলা খাহিয়ে এবং সাফারি ওয়ার্ল্ডে উন্মুক্ত অবস্থায় পশুপাখিদের বিচরণ দেখে। যেখানে দেখা যায় সি লায়ন ও ডলফিনগুলো দর্শকদের ফুলের মালা দিয়ে বরণ করে নিচ্ছে। দেখাচ্ছে নানা শারীরিক কসরত, ডিগবাজি। পুলের এক প্রান্ত থেকে পিঠে মানুষ নিয়ে ছুটে চলেছে অন্য প্রান্তে। সুরের তালে তালে চলছে কখনো একক আবার কখনোবা দলীয় নৃত্য।

ঘুরতে ঘুরতে কিছুটা ক্লান্ত, লাঞ্চ সেরে বিকাল ৩ টা নাগাদ ট্যাক্সিতে উঠে বসলাম, গন্তব্য এবার পাতায়া। পাতায়া যাওয়ার রাস্তা দেখে আমি কিছুটা অবাক বাম দিকে চার লেন ডানদিকেও চার লেন। পুরো থাইল্যান্ডের ট্রাফিক ব্যবস্থা উন্নতমানের, রাস্তায় কোনো গাড়ির হর্নের শব্দ নেই, সবাই সয়ংক্রিয় সিগন্যাল মেনে গাড়ি চালাচ্ছে। পাতায়ার পথে আমাদের ট্যাক্সি ১১০-১২০ কিঃমিঃ গতিতে চলছে অনবরত। আর আমার ছেলে ট্যাক্সিতে উঠার কিছুক্ষনের মধ্যেই ঘুমে, সারাবেলা সাফারি পার্ক ঘুরে ক্লান্ত। আর তার কথা ভেবেই প্রায় সময় ট্যাক্সি নিতাম এবং প্রায়সময় গাড়িতেই সে একটা ঘুম দিতো, তার জন্য গাড়িতে সবসময় খাবার রাখতাম, তবে এবার বালি ট্যুরের চেয়েও সে খুব মানিয়ে নিয়েছে। ওভারঅল খুব উপভোগ করেছে।
প্রায় দুই ঘন্টার মধ্যে আমরা পাতায়া পৌঁছে গেলাম এবং হোটেলে চেক ইন করলাম। দেখি ছেলের কিছুটা মন খারাপ তার হোটেল রুম দেখে পছন্দ হয়নি, ক্রাবি এবং ফুকেটের হোটেল রুমটি তার খুবই পছন্দ হয়েছিল। আমার বৌয়েরও কিছুটা পছন্দ হয় নি, তাই রিসিপশনে আসলাম বললাম অন্য কোন রুম দেয়া যায় কিনা এই রুমের পরিবর্তে। তারা বলল দেয়া যাবে তবে কিছুটা বাড়তি পেমেন্ট করতে হবে আমি বললাম কত? বলল আপনারা এখানে থাকবেন দুই রাত তার জন্য আরও ৬০০ বাথ দিতে হবে। মনে মনে ভাবলাম এটাই আমাদের শেষ হোটেল তাই আর কিছু চিন্তা না করে বললাম ঠিক আছে, আর তারাও ডিলাক্স রুমে শিফট করে দিলো। এই রুম পেয়ে ছেলে খুশি, ছেলের মাও খুশি আর সেই খুশিতে আমিও খুশি হাহাহা।

ফ্রেশ হয়ে কিছুটা বিশ্রাম নিলাম, সন্ধ্যার একটু পর বের হলাম আজ প্রায় সারাদিন সাফারি পার্কে হেঁটে পা দুটো ব্যথা করছে, তাই বউ জামাই মিলে চলে এলাম ম্যাসেজ পার্লারে ফুট ম্যাসাজ নিতে। কিছুক্ষণ পাতায়া সিটি ঘুরে রাতের ডিনার সেরে হোটেলে এসে ঘুমিয়ে পড়লাম।

অষ্টম দিন:
হোটেল থেকে ব্রেকফাস্ট সেরে রেডি হয়ে গেলাম প্ল্যান অনুযায়ী আজকে পাতায়া শহর ও তার আশেপাশের কিছু দর্শনীয় স্থানগুলো ঘুরে দেখব।প্রথমেই পাতায়া বিচে কিছুক্ষণ সময় কাটিয়ে কিছু ছবি তুললাম, সেখান থেকে ভ্যানে করে চলে গেলাম আর্ট গ্যালারিতে এবং অনেকক্ষণ সময় কাটালাম আর অনেক ছবি তুললাম, খুবই এনজয় করেছে আমার ছেলে। সেখান থেকে ট্যাক্সি নিলাম আর যাচ্ছি মিনি সিয়ামের পথে, লেডি ট্যাক্সি ড্রাইভার, ট্যাক্সি করে যাচ্ছি আর সে আমাদের ভাঙ্গা ভাঙ্গা ইংরেজিতে জিজ্ঞেস করল আমরা আর কোথায় কোথায় যাব কয়দিন পাতায়াতে থাকব ইত্যাদি। বললাম আমরা আগামীকালই চলে যাচ্ছি। সুবর্ণভূমি এয়ারপোর্ট হয়ে ডিরেক্ট আমাদের ফ্লাইট ব্যাংকক সময় রাত 11 টা, সে বললো তুমি রাজি থাকলে আমার ট্যাক্সি ভাড়া করতে পারো, আমি যাব না আমার এক ছেলে বন্ধু তোমাদের নামিয়ে দিবে। তো দরদামের একপর্যায়ে সে ১০০০ বাথ চাইলো, আমার আগে একটা আইডিয়া ছিলো দাম নিয়ে আমি বললাম ৮০০ বাথ, শেষ পর্যন্ত ৯০০ বাথে রাজি হলো। ১০০ বাথ অগ্রিম নিয়ে সে আমাকে একটা স্লিপ দিয়ে দিল এবং যে ড্রাইভার আসবে তার নাম্বার দিয়ে বলল উনার সাথে যোগাযোগ করতে, আমি বললাম ঠিক আছে আমরা সন্ধ্যা ৬ টায় রওনা দিবো।
তার থেকে বিদায় নিয়ে আমরা মিনি সিয়ামে প্রবেশ করলাম, মিনি সিয়ামের পরিবেশটা খুবই চমৎকার এখানে এখানে বিভিন্ন দেশের জনপ্রিয় স্থাপনাগুলো নিয়ে এক একটি ছোট্ট দেশ গড়ে তোলা হয়েছে বেশির ভাগই ইউরোপীয় মহাদেশের। একটি গাছের ছায়া থেকে ছেলেকে কিছু স্থাপনা দেখাচ্ছিলাম হঠাৎ দেখি আমার মাথার উপর কি যেন পরলো, উপরে তাকিয়ে দেখি জাম গাছ আর আমার মাথায় একটি পাকা জাম পড়েছে। নিচেও তাকিয়ে দেখি অনেক পাকা জাম পড়ে আছে, লোভ সামলাতে না পেরে কয়েকটি কুড়িয়ে খেলাম, খুবিই টেস্ট আর বুঝলাম থাইল্যান্ডে এখন ভরপুর গ্রীষ্মকাল তাই এত গরম হা হা হা।

দুপুর পর্যন্ত আমি মিনি সিয়ামে সময় কাটিয়ে চলে আসলাম পাতায়া শহরে, সেখান থেকে লাঞ্চ সেরে হোটেল রুমে এসে বিশ্রাম নিলাম। ঘুরাঘুরি তো অনেক হল এবার শেষ পর্যায়ে কিছু শপিং করার পালা, সন্ধ্যার পর চলে গেলাম পাতায়া নাইট মার্কেটে। ঘুরে ঘুরে দেখলাম এবং কিছু প্রয়োজনীয় জিনিস কিনে নিলাম। ডিনার সেরে হোটেলে ফিরলাম।

৯ম দিন এবং আমাদের রিটার্ন ফ্লাইট:
সকালে ঘুম থেকে উঠে ব্রেকফাস্ট করতে গেলাম আর আমার ভার্সিটি লাইফের এক বন্ধুর সাথে দেখা হয়ে গেল। প্রায় 10 বছর পর বন্ধুর সাথে দেখা প্রথমে চিনতে পারিনি তারপর দূর থেকে তার নাম বলে ডাকলাম দেখি সে আমার ডাকে সারা দিচ্ছে। ব্রেকফাস্ট করতে করতে অনেকক্ষণ গল্প করলাম আর সময়টাও ভালোই কাটলো। ধীরেসুস্থে দুপুর 12 টার মধ্যে হোটেল থেকে চেক আউট করলাম, হোটেল লবিতে আমাদের লাগেজ গুলো রেখে চলে আবারও চললাম টুকটাক শপিং করতে। শপিং শেষে লাঞ্চ করতে গেলাম, পাতায়াতে যে দুই দিন ছিলাম এক ইন্ডিয়ান রেস্টুরেন্টে খেয়েছিলাম, রেস্টুরেন্টের মালিকও এক ইন্ডিয়ান। সে প্রায় 18 বছর ধরে থাইল্যান্ডে থাকে তার বাসা এবং রেস্টুরেন্ট একই বিল্ডিংয়ে। খাবারের মান ও দাম খুবই ভালো আর তাদের সাথে খাতিরও খুব ভালো জমে গিয়েছিল। ওরাও জানে আজকে আমাদের থাইল্যান্ডে শেষ দিন তাই আমাদের খুবই ভালো আপ্যায়ন করলো।
লাঞ্চ সেরে আবার হোটেলে ফিরে আসলাম এবং শপিং করা জিনিস গুলো গুছিয়ে নিলাম। পাতায়া বিচে এসে চেয়ার ভাড়া করে নিভৃতে তিনজন মিলে সময় কাটালাম বিকাল পর্যন্ত। বিকাল সাড়ে পাঁচটা নাগাদ আগেই ভাড়া করা ট্যাক্সি এসে হাজির। আমরাও উঠে রওনা হলাম সুবর্ণভূমি এয়ারপোর্ট এর উদ্দেশ্যে। রাত সাড়ে আটটার দিকে সুবর্ণভূমি এসে পৌছালাম এবং বোর্ডিং পাস নিয়ে নিলাম। বোডিং শেষে হাঁটতে হাঁটতে চলে গেলাম ইমিগ্রেশনে। একে একে হয়ে গেলো ইমিগ্রেশন। সবকিছু শেষ এইবার ফ্লাইটের জন্য রেডি কিন্তু এখনো প্রায় ২ ঘন্টার উপর সময় আছে, কি করা যায় ভেবে আমার স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক এর প্রায়োরিটি পাস কাজে লাগালাম, প্রায়োরিটি পাস দেখিয়ে Miracle First Class Lounge সময় কাটাই ফ্লাইটের আগ পর্যন্ত।

সবশেষে, সত্যি বলতে কি এই কয়দিনের ঘুরাফেরাই থাইল্যান্ডের প্রেমে পরে গিয়েছিলাম। থাইল্যান্ডের মানুষও আমাদের দেশের মতো অনেকটা অতিথি পরায়ন, থাইল্যান্ডে যত জায়গায় গিয়েছি এবং যত শপিংমলে গেলাম সবাই খুব ভালো ব্যবহার করেছে। মনে মনে ঠিক করলাম আবার যদি থাইল্যান্ড আসি তাহলে নেক্সট টাইম শুধু ফুকেট এবং ফি ফি আইল্যান্ড সময় কাটাবো, কারণ এবার ফুকেটে তেমন একটা ঘোরা হয়নি। আর ফি ফি আইল্যান্ড এর স্মৃতি আমার মনে চির অম্লান হয়ে থাকবে।

খরচাপাতি:
এই ৯ দিনে শপিংবাদে আমাদের তিনজনের প্রায় 2 লক্ষ ২0 হাজার টাকার মতো খরচ হয়েছে।
প্লেন ফেয়ার: ৬০ হাজার (ঢাকা-ব্যাংকক-ঢাকা, থাই এয়ারলাইন্স)
ইন্টারন্যাল প্লেন ফেয়ার: ২৫ হাজার টাকা, খাবার +ল্যাকেজ খরচসহ (ব্যাংকক-ক্রাবি এবং ফুকেট-ব্যাংকক, এয়ার এশিয়া)
হোটেল খরচ: প্রায় ৩৫ হাজার টাকা।
ফেরি ভাড়া: ৪ হাজার টাকা (ক্রাবি-ফি ফি-ফুকেট)
ইন্টারন্যাল রোড ট্রান্সপোর্ট: প্রায় ৩০ হাজার টাকা।
একটিভিটিস + টিকেট মূল্য: প্রায় ২৩ হাজার টাকা।
বাদবাকী খরচ: খাবার + অন্যান্য।

নোট:
দয়াকরে সব জায়গায় ভদ্রতা বজায় রাখুন আর প্লাস্টিক, পলিথিন ও অপচনশীল জিনিস এখানে সেখানে ফেলবেন না। প্রকৃতি পরিস্কার রাখার দায়িত্বও আপনার। মনে রাখবেন ধনী-গরীব যেই হোক না কেন প্রকৃতির কাছে সবাই সমান।
source:Suman Saha‎ <Travelers of Bangladesh (ToB)

13 Mar 2019

সকল জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে অামাদের দীর্ঘ এক মাসের পরিকল্পনা বাস্তবে পরিণত হয়েছে।অনেক বার সাগর বা পাহাড়ে যাওয়া হইছে তাই এবার অামাদের ইচ্ছা ছিল সমতল ভূমি ভ্রমণ করা। সকলে মিলে সিদ্ধান্ত নিলাম রাজশাহী বিভাগ ঘুরতে যাব সাথে খুলনা বিভাগের দুইটা জেলা।

দশদিনে মেহেরপুর> কুষ্টিয়া> পাবনা> নাটোর> রাজশাহী> নওগাঁ> বগুড়া ভ্রমণের আদ্যোপ্রান্ত নিন্মরুপঃ

আমরা তিনবন্ধু রওনা হই চট্রগ্রাম থেকে।
২২-০২-২০১৯ তারিখ রাত দশটার বাসে চট্রগ্রাম হতে ঢাকা পৌছি ভোর ৪টায়। বাস থেকে নেমে নাস্তা করে চলে যাই বন্ধুর বাসায়, ক্লান্ত শরীরে কিছুক্ষন ঘুমিয়ে নিজেকে সতেজ করে নিই কারণ সামনে অপেক্ষা করছে দীর্ঘ যাত্রার গ্লানি।

দুপুরের চলে যাই একুশে বইমেলায়। ওখানে কয়েকে ঘন্টা ঘুরে সন্ধায় রুমে এসে বন্ধুদের সাথে অাড্ডা দিতে দিতে রাতের খাবার সেরে নিই।
রাত ৮ টায় উবারে করে চলে যাই ঢাকার কল্যাণপুর বাস স্ট্যান্ড। শ্যামলীর ৯টার মেহেরপুরগামী বাসের টিকেট কেটে নিলাম ভাড়া=৪৫০ (জনপ্রতি)।
মেহেরপুরে বঙ্গবন্ধু সেতু ও পদ্মা নদী পারাপার হয়ে দুইভাবেই যাওয়া যায়।যারা ফেরী পারাপার হয়ে যাবেন তারা বাস পাবেন গাবতলী থেকে।

২য় দিন-
ভোর ৫টায় পৌঁছে গেলাম মেহেরপুর।বাস কাউন্টারে কিছুক্ষন বসে সকাল হওয়ার পর সকালের নাস্তা সেরে নিলাম।তারপর অটো করে চলে গেলাম মুজিবনগর ভাড়া জনপ্রতি ৪০।

মুজিবনগর (পূর্বনাম: বৈদ্যনাথতলা)
বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী সরকারের রাজধানী ছিল এখানে। এখানেই তৎকালীন বৈদ্যনাথতলা বর্তমান মুজিবনগরের আম্রকাননে ১৭ এপ্রিল সরকারের মন্ত্রী পরিষদ শপথ নিয়েছিল। বাংলাদেশের প্রথম রাজধানীর ঐতিহ্য ধরে রাখতে সুন্দর ভাবে গড়ে তোলা হয়েছে।মুজিবনগর হতে ভ্যান করে চলে যাই হৃদয়পুর বর্ডার। ঐখানে দেখার মত কিছু নাই। মুজিবনগর থেকে বাহির হয়ে অটোরিকশা করে চলে যাই অামঝুপি নীলকুঠি। ভাড়া ৫০।
বৃটিশ আমলে নীল চাষের উদ্দেশে ইংরেজরা ৭৪ একর জমির ওপর কালের স্বাক্ষী মেহেরপুরের ঐতিহাসিক আমঝুপি নীলকুঠি গড়ে তোলে।
নীল চাষ অত্যধিক লাভজনক হওয়ায় ১৭৯৬ সালে এখানে নীল চাষ শুরু হয়। ১৮১৮ থেকে ১৮২০ সালের মধ্যবর্তী সময়ে মেহেরপুরর বেশ কয়েকটি স্থানে নীলকুঠি স্থাপিত হয়। তন্মধ্যে আমঝুপি, গাংনীর ভাটপাড়া, বামন্দি নীলকুঠি অন্যতম।অামঝুপি নীলকুঠির পাশেই রয়েছে অপরূপ কাজলা নদী। কথিত আছে রবাট ক্লাইভ প্রায়ই সময় কাটানোর জন্য আমঝুপি নীলকুঠিতে আসতেন ।১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের সময় ইংরেজরা চলে যাবার সময় পূর্ব পাকিস্থানের (বাংলাদেশ) সরকারের কাছে কাছে হস্তান্তর করে যায়।

নীলকুঠি ঘুরে অটো করে চলে যাই মেহেরপুর সদর। ভাড়া ২০। বাজারে নেমে দুপুরের খাবার খেয়ে কুষ্টিয়াগামী উঠে যাই। ভাড়া ৯০।
২ঘন্টার মত লাগে মেহেরপুর থেকে কুষ্টিয়া আসতে।
মজমপুর নেমে অটো করে চলে যাই ছেউড়িয়াতে। এখানেই লালনের আখড়া।সন্ধা পর্যন্ত সময় কাটিয়ে
অটো করে চলে অাসি চৌড়হাস মোড়, ভাড়া ১৫।এবার অামাদের গন্তব্য কুষ্টিয়া বিশ্ববিদ্যালয়।
৩০ টাকা দিয়ে বাসের টিকিট কেটে ৪০ মিনিটে পৌঁছে যাই বিশ্ববিদ্যালয়।
তারপর ফ্রেশ হয়ে পুরো ক্যাম্পাটা ঘুরে দেখি।ক্যাম্পাটা আমাদের কাছে অনেক ভালো লেগেছে সবকিছু সাজানো গোছানো। রাতের খাবার খেয়ে তারপর শান্তির ঘুম।

৩য় দিনঃ
সকালে ঘুম থেকে ওঠে নাস্তা করে ক্যাম্পাসে অারো কিছুক্ষন সময় কাটিয়ে বাসে করে চলে অাসি চৌড়হাস মোড়। এবার যাব শিলাইদহ কুঠিবাড়ী। শিলাইদহ যেতে হলে চৌড়হাস মোড় থেকে প্রথমে সিএনজি করে যেতে হবে অালাউদ্দীন মোড়, ভাড়া ১৫।
ঐখান নেমে অাবার সিএনজি করে যেতে শিলাইদহ কুঠিবাড়ী, ভাড়া২০।
কুঠিবাড়ী ঘুরা শেষ হলে বাড়ি থেকে বের হয়ে ভ্যান পাবেন তিন জায়গা পদ্মার পাড়, রবিঠাকুরের কাচারি ঘর,পাঁচতলা কাঠের বাড়ি। ভাড়া ৩০ টাকা জনপ্রতি।
যেখান থেকে ভ্যানে উঠবেন তিন জায়গা ঘুরিয়ে অাবার সেই যায়গায় নামিয়ে দিবে।
কুঠিবাড়ী থেকে অালাউদ্দীন মোড় চলে অাসুন।এখানে দুপুরের খাবার খেয়ে নেন।
তারপর ভ্যান করে চলে যান বিশ্বের অন্যতম ট্রাজেডি গ্রন্থ ‘বিষাদসিন্ধুর’ রচয়িতা মীর মশাররফের জন্মভিটা ও স্মৃতি জাদুঘর, ভাড়া ১৫।এখানে ঘুরা শেষে ভ্যানে করে চলে যান কুষ্টিয়া শহরে, ভাড়া ১০।
শহর থেকে রেনউক বাধ চলে যান এটা কুষ্টিয়া শহরের খুব কাছে হেটে যাওয়া যায় অটোতে ৫ টাকা।
অাসার সময় কুষ্টিয়া পৌরসভা ঘুরে আসুন।
তারপর হোটেলে ফ্রেশ হয়ে বেরিয়ে যান রাতের কুষ্টিয়া শহর দেখার জন্য।
অামরা সরকারি কলেজ,পার্ক,রেলস্টেশন,মেডিকেল অাশপাশে ঘুরছিলাম।
অাজ অার ঘুরাঘুরি না করে রাতের খাবার খেয়ে নিই। এরপর শান্তির ঘুম।

একদিনও হোটেলে ছিলাম না তাই হোটেল ভাড়া সম্পর্কে বলতে পারলাম না।
তবে ৫০০-১০০০ টাকায় ডাবল বেডের রুম পেয়ে যাবেন।
খরচ একটু কমবেশি হতে পারে,খাবার প্রতি বেলা ৭০-৮০ টাকায় খেতে পারবেন।
লেখারকিছু তথ্য উইকিপিডিয়া থেকে নেওয়া হয়েছে।
ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।

source: Jisan Ahmed‎ <Travelers of Bangladesh (ToB)

14 Feb 2019

সি‌কিম ট্যুরটা আমার কা‌ছে অত্যা‌ধিক ভা‌লো লে‌গে‌ছে। বি‌শেষ ক‌রে কাছ থে‌কে বরফ ছু‌য়ে দেখার অনুভূ‌তিটা ব্যক্ত করা সম্ভব নয়। আ‌মার এক বন্ধুসহ দুজ‌নে বেনা‌পোল বর্ডার দি‌য়ে কোলকাতা হ‌তে শ্যামলী প‌রিবহন‌যো‌গে শি‌লিগু‌ড়ি আসি।

* ফুলবাড়ি/বাংলাবান্ধা পোর্ট হ‌তে শিলিগুরি জাংশনের দূরত্ব ১২ কিমি আর চ্যাংড়াবান্ধা/বু‌ড়িমারী থেকে শিলিগুরি জাংশনের দূরত্ব ৮৩ কিমি। তাই যা‌দের ভিসায় ফুলবাড়ী বর্ডার র‌য়ে‌ছে তা‌দের জন্য বেটার হ‌বে।

‌* পার‌মিশন সংক্রান্ত আ‌লোচনাঃ
—————————————–
শি‌লিগু‌ড়ি Sikkim Nationalized Transport( SNT) অ‌ফিস হ‌তে ইনার লাইন পার‌মিশন করাই। অ‌ফিস খো‌লে সকাল দশটায়। পাস‌পোর্ট,‌ভিসার ফ‌টোক‌পি ও ছ‌বি সহ নি‌র্দিষ্ট ফর্ম পূরন ক‌রে সাত‌ দি‌নের আ‌বেদন ক‌রেও এগার দি‌নের জন্য বিনা টাকায় সহ‌জে পার‌মিশন পে‌য়ে‌ছি। SNT থে‌কেই ১৫০ টাকা ভাড়ায় বা‌সের টি‌কিট কে‌টে গ্যাংট‌কের উ‌দ্দ্যেশে রওনা ক‌রি।

* রং‌পো চেক পোষ্ট এবং সিল সংক্রান্ত কিছু কথাঃ
——————————————————————
বাস/জীপ যেটাই হোক না কেন আ‌গে থে‌কেই ড্রাইভার‌কে চেক‌ পো‌ষ্টে থামা‌নোর কথা ব‌লে রাখ‌তে হ‌বে। অন্যথায় গাড়ী না থা‌মা‌নোর সম্ভাবনা থে‌কে যা‌বে। রং‌পো ফ‌রেনার রে‌জি‌ষ্ট্রেশন অ‌ফি‌সের দোতলা হ‌তে ইনার লাইন পার‌মিশনের পেপা‌রে এবং পাস‌পো‌র্টে সিল মে‌রে নি‌তে হ‌বে।

‌* ফেরার দিন পাস‌পো‌র্টে সিল মারা অং‌শে শুধু মাত্র তা‌রিখ দি‌য়ে ইনার লাইন পার‌মিশ‌নের মুল ক‌পি তারা রে‌খে দি‌বে। অর্থ্যাৎ পাস‌পো‌র্টে একটাই গোল সিল থাক‌বে কিন্তু তা‌রিখ হ‌বে দুইটা।

* যাদের ভারতীয় এম্বাসী/এসএন‌টি হ‌তে পার‌মিশন নেওয়া হই‌নি,তারা রং‌পো থে‌কেও সহ‌জে পার‌মিশন নি‌তে পার‌বেন। সকাল আটটা হ‌তে রাত আটটা পর্যন্ত অ‌ফিস খোলা থা‌কে।

* কোথায়‌ থাক‌বেনঃ
————————-
গ্যাংট‌কের MG Marg এ ভা‌লো মা‌নের অ‌নেক হো‌টেল র‌য়ে‌ছে। হো‌টেল ক‌য়েকটা দে‌খে দরাদাম ক‌রে নি‌তে হ‌বে। এম‌জি মা‌র্গের হো‌টেল গু‌লো ব্যয় বহুল।

* ট্যুর প্লান তৈরী সংক্রান্ত ধারনাঃ
——————————————
হো‌টে‌লে চেক ইন ক‌রে এম‌জি মার্গ বা তার আ‌শে পা‌শের কোন এ‌জে‌ন্সির সা‌থে কথা ব‌লে আগামী দি‌নের জন্য ভ্রম‌নের প্যা‌কেজ নি‌তে হ‌বে। নর্থ সি‌কিম অর্থ্যাৎ লাচুং,ইয়ামথাং ভ্যা‌লির পার‌মিশ‌নের জন্য পাস‌পোর্ট,‌ভিসা ক‌পি,ইনার লাই পার‌মিশ‌নের ক‌পি ও ছ‌বি এ‌জে‌ন্সির কা‌ছে জমা দি‌লে তারা প‌রের দিন সকাল আটটার ভেতর পার‌মিশন ক‌রি‌য়ে দি‌বে। সাঙ্গু লে‌কের জন্যও একই রকম প্র‌সেস।
‌নি‌জেরা পার‌মিশন করা‌তে চাই‌লে সেটা প্রায় অসম্ভব ব্যাপার। পার‌মিশনকৃত সকল স্প‌টে গাইড থাক‌বে যা প্যা‌কে‌জের অন্তর্ভূক্ত।

* এ‌জে‌ন্সির ব্যাপা‌রে ধারনাঃ
————————————
গ্যাংট‌কে এ‌জে‌ন্সি বাছাই করা একটা ফ্যাক্ট। এজন্য কোন দালা‌লের খপ্প‌রে না প‌ড়ে সরাস‌রি ক‌য়েকটা এ‌জে‌ন্সির সা‌থে কথা ব‌লে যাচাই বাছাই ক‌রে প্যা‌কেজ নি‌লে ভা‌লো হ‌বে। শি‌লিগু‌ড়ি‌তে অ‌নেক এ‌জে‌ন্সি এবং দালাল পা‌বেন যারা আপনা‌কে নানা রকম প্রলোভন দেখা‌বে। দয়া ক‌রে তা‌দের খপ্প‌রে পড়‌বেন না।

* ই‌তিপূ‌র্বে সোনম না‌মের যে ম্যা‌জিক ম্যানের কথা আমরা শুন‌ছি,‌অ‌ভিজ্ঞতায় বলব তার হ‌তে দূ‌রে থাকাই উত্তম। কেননা তার কথা কা‌জে য‌থেষ্ঠ অ‌মিল পে‌য়ে‌ছি। তার সা‌র্ভি‌সে গ্রু‌পের কেহ সন্তুষ্ট হয়‌নি। তাছাড়া তার কোন অ‌ফিসও নেই। আপনারা চাই‌লে তার সা‌থে আলাপ ক‌রে ধারনা নি‌তে পা‌রেন।

* কোথায় কোথায় ঘুর‌বেনঃ
———————————–
_ সাঙ্গু লে‌কের জন্য ১দি‌নের ট্যুর।
_ লাচুং,ইয়ামথাং ভ্যা‌লি,‌জি‌রো প‌য়েন্ট,কাটাও ২ দিনের ট্যুর।
_ গ্যাংটক লোকাল ১ দি‌নের ট্যুর।

নরমা‌লি ৪ দি‌নে বি‌শেষ গুরুত্বপূর্ন স্থান গু‌লো দেখা হ‌য়ে যা‌বে।
য‌দি লা‌চেন যে‌তে চান তাহ‌লে ১ দিন সময় বে‌শি লাগ‌বে,‌পে‌লিং গে‌লে ২ দিন,নাম‌চি গে‌লে ১ দিন সময় লাগ‌বে। তাছাড়া আবহ জ‌নিত কার‌নে সব স্প‌টের পার‌মিশন সবদিন দেয় না,‌সে‌ক্ষে‌ত্রে সময় আ‌রো বাড়া‌তে হ‌বে নতুবা ফেরত আস‌তে হ‌বে।

* বর‌ফের দেখা কোথায় পা‌বেনঃ
——————————————
অফ সিজ‌নে লাচুং‌য়ে পর্যাপ্ত বরফ দেখ‌তে পা‌বেন। আর এ সম‌য়ে ইয়ামথাং ভ্যা‌লি ও জি‌রো প‌য়েন্ট পর্যন্ত পৌছা‌নো প্রায় অসম্ভব। সে‌ক্ষে‌ত্রে বিকল্প হিসা‌বে কাটাও ঘু‌রে আস‌তে পা‌রেন। অসম্ভব সুন্দর একটা জায়গা যেখা‌নে অনায়া‌শে বর‌ফে গড়াগ‌ড়ি খে‌তে পার‌বেন। অফ সিজ‌নে সাঙ্গু লে‌কের দেখা পাওয়াটা খা‌নিকটা ভা‌গ্যেরও ব্যাপার। কেননা রো‌ডে অ‌তি‌রিক্ত বরফ জমা এবং‌ তাপমাত্রা (-)° থাকায় দি‌নের পর দিন পার‌মিশন না পে‌য়ে পর্যটকরা দুঃখ ভারাক্রান্ত ম‌নে ফি‌রে আস‌তে বাধ্য হন।

* বোনাস হিসা‌বে কি কি দেখ‌তে পার‌বেনঃ
——————————————————-
১: শি‌লিগু‌ড়ি টু গ্যাংটক রাস্তার পাশ দি‌য়ে ব‌য়ে চলা নীল র‌ঙ্গের পা‌নির দৃশ্যে আপনার চোখ‌ জু‌ড়ি‌য়ে যা‌বে।
২: রাস্তার পা‌শে অসংখ্য বানর দেখ‌তে পা‌বেন।
৩: গ্যাংট‌কে ৫ মি‌নি‌টের পথ হে‌ঁটে মাত্র ১১৭ রু‌পি‌তে রোপ ও‌য়ে‌তে চড়‌তে পার‌বেন।
৪: লাচুং যাওয়া আসার সময় কাঞ্চন জংখা এর দেখা পা‌বেন।
৫: তিস্তা ন‌দির উৎপ‌ত্তি স্থল দেখ‌তে পা‌বেন।

‌* কখন ভ্রমন কর‌বেনঃ
——————————
মার্চ,এপ্রিল,মে,সেপ্টেম্বর,অক্টোবর,নভেম্বর পিক সিজন।

* কয় জ‌নে ভ্রমন কর‌বেনঃ
———————————
বাংলা‌দে‌শি‌দের জন্য আলাদাভা‌বে ভ্রমন কর‌তে হয়। ‌কোন ই‌ন্ডিয়ান‌দের সা‌থে গ্রুপ শেয়ার গ্রহন‌যোগ্য না। এজন্য ৭ জ‌নের গ্রুপ হ‌লে গাড়ী‌তে সহ‌জে বসা যায়। আর খরচও কম হ‌বে। আর গ্রুপ ছোট হ‌লেও পুরা গাড়ীর ভাড়া গুন‌তে হবে। ভাগ্য ভা‌লো হ‌লে ওখা‌নে যে‌য়েও বাংলা‌দে‌শি কা‌রো সা‌থে এড হ‌তে পা‌রেন।

* খরচ পা‌তির সম্প‌র্কে ধারনাঃ
—————————————-
ট্যু‌রের সময়,ট্যুর মে‌টের সংখ্যা,‌সিজন বে‌সি‌সে খর‌চের তারতম্য হ‌বে। কেননা পিক সিজ‌নে হো‌টেল ভাড়া,গাড়ী ভাড়া অনেক বে‌শি থা‌কে।
_ সাঙ্গু লে‌কের জন্য ১দি‌নের ট্যুরের খরচ হ‌বে 3K-5.5K
_ লাচুং,ইয়ামথাং ভ্যা‌লির জন্য প্যা‌কেজ পড়‌বে 12K-20K
_ জি‌রো প‌য়েন্ট,কাটাও এর জন্য অ‌তি‌রিক্ত 3K ক‌রে দি‌তে হয়।
_ গ্যাংটক লোকাল ট্যুর এর খরচ স্পট ভি‌ত্তিক হয়।
১০টা প‌য়ে‌ন্টের জন্য ৪ সি‌টের গাড়ীর ভাড়া 2K
‌*হো‌টেল ভাড়াঃ আমরা ছিলাম MG MARG এ। অ‌নেক সুন্দর ছিল হো‌টেলটা। এক রু‌মে ৩ জন থাকা যায়। ভাড়া ছিল 1.2K

* পোষাক সংক্রান্ত বিষয়ঃ
——————————–
– শীত নিবারক জ্যাকেট,কানটুপি,হাতমোজা,উলের পামোজা।
-ঠান্ডা, কাশি, মাথা ব্যথা, বমির পর্যাপ্ত পরিমান ঔষুধ।
-পাওয়ার ব্যাংক,চার্জার,ক্যা‌মেরা।

* সিম কার্ড সংক্রান্ত বিষয়ঃ
————————————
-বর্ডার থেকে পাওয়ার দি‌য়ে ইন্ডিয়ান সিম কার্ড কিনে নেয়া উত্তম। গ্যাংট‌কের লো‌কেরা পাওয়ার দেওয়াটা জা‌নে না। সিম কেনাটাও টাফ ব্যাপার।

** ‌লেখা সং‌ক্ষিপ্ত করার জন্য কোন তথ্য বাদ পড়‌লে সেটা এড করা হ‌বে।
ক‌মে‌ন্ট বক্স কিছু প্র‌য়োজনী পিক দেওয়া হ‌লো।

গ্যাংটক অ‌নেক প‌রিচ্ছন্ন শহর। রাস্তায় কোন ময়লা না ফে‌লে নি‌র্দিষ্ট স্থা‌নে ফেলবেন। লাচুং এ পলিথিন, পানির বোতল নিষিদ্ধ। প্রকা‌শ্যে সিগা‌রেট নি‌ষিদ্ধ।

source: Faruk Hosain <Travelers of Bangladesh (ToB)

26 Jan 2019

##আহসান মঞ্জিল ##
ঢাকার অন্যতম প্রাচীন নিদর্শন আহসান মঞ্জিল, যা পুরনো ঢাকার বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে বর্তমান ইসলামপুরের কুমারটুলিতে অবস্থিত। পুর্বে এটি ব্রিটিশ ভারতের উপাধিপ্রাপ্ত ঢাকার নবাব পরিবারের বাসভবন ও সদর কাচারি ছিল।অনবদ্য অলংকরণ সমৃদ্ধ, নবাব পরিবারের স্মৃতি বিজড়িত এ ভবনটি বর্তমানে জাদুঘর হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
সংক্ষেপে ইতিহাস
#১৭২০ সালে এখানে মোঘল সম্রাট এনায়েত উল্লাহ এর বাগান বাড়ি ছিল যা ১৭৪০ সালে ফরাসি বণিকগন এনায়েত উল্লাহ এর পুত্র শেখ মতিউল্লাহ এর কাছ থেকে ক্রয় করে বানিজ্য কুঠি তৈরি করে।
# ১৭৫৭ সালে পলাশী যুদ্ধের পর কুঠিটি ইংরেজদের নিয়ন্ত্রনে চলে যায়। পরবর্তিতে ইংরেজরা সেটি ফরাসিদের ফেরত দেয়।
#১৮৩০ সালে খাজা আলিমুল্লাহ ফরাসিদের কাছ থেকে কুঠিটি ক্রয় করে এবং সংস্কার করে নিজের বাসভবন উপযোগী করে।
#১৮৫৯ সালে তার পুত্র নওয়াব আব্দুল গনি ফরাসি কুঠির পূর্বপাশে নতুন প্রাসাদ নির্মান কাজ শুরু করেন যা ১৮৬৯ সালে শেষ হয় এবং তার পুত্র খাজা আহসান উল্লাহ এর নামানুসারে এর নামকরণ করেন “‘আহসান মঞ্জিল “‘।
#৭ এপ্রিল ১৮৮৮ সালে প্রবল টর্নেডো এবং ১২ জুন ভয়াবহ ভুমিকম্পে আহসান মঞ্জিলের বেশ ক্ষয়ক্ষতি হয় যা নবাব সংস্কার করেন।
# ১৯০৬ সালে এখানে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
#কালের সাক্ষী এই আহসান মঞ্জিলকে নবাব পরিবারের উত্তরাধিকারগন তাদের অন্তঃ কোন্দল ও আর্থিক অবস্থার অবক্ষয়ের কারনে সংরক্ষনে অপারগ হয়ে পড়লে ১৯৭৪ সালে নিলামে বিক্রির সিদ্ধান্ত নেয়।কিন্তু জাতির জনক বঙ্গবন্ধু এর স্থাপত্য গুরুত্ব উপলব্ধি করেনন এবং নিলাম প্রস্তাব বাতিল করেন ও সংস্কারপূর্বক এখানে যাদুঘর ও পর্যটন কেন্দ্র স্থাপনের নির্দেশ দেন।
দর্শনীয় জিনিস :
চারপাশে মনোমুগ্ধকর পরিবেশ সমৃদ্ধ আহসান মঞ্জিলের মূল প্রাসাদটি গ্যালারি আকারে রুপান্তর করা হয়েছে যাতে ৩১ টি কক্ষের ২৩ টিতে প্রদর্শনী উপস্থাপন করা হয়েছে।১৯০৪ সালের ফ্রিতজকাপের তোলা আলোকচিত্র অনুযায়ী বিভিন্ন কক্ষ ও গ্যালারিগুলো সাজানো হয়েছে।আহসান মঞ্জিলের যাদুঘরে এ যাবত সংগৃহীত নিদর্শন সংখ্যা মোট ৪০৭৭।
পরিদর্শনের সময়সূচী :
#গ্রীষ্মকালীন সময়সূচী :(এপ্রিল-সেপ্টেম্বর)(শনি-বুধ): সকাল ১০.৩০-বিকাল ৫.৩০।শুক্রবার দুপুর ৩.০০- সন্ধ্যা৭.৩০।
#শীতকালীন সময়সূচী :(অক্টোবর -মার্চ) শনি-বুধ: সকাল ৯.৩০- বিকাল ৪.৩০। শুক্রবার দুপুর ২.৩০ – সন্ধ্যা ৭.৩০।
#বৃহস্পতিবার সাপ্তাহিক ছুটিসহ অন্যান্য সরকারি ছুটির দিন জাদুঘর বন্ধ।
যেকোন অবসরে গিয়ে ঘুরে আসতে পারেন বন্ধুদের,প্রিয়জন বা পরিবারের সবাইকে নিয়ে কে নিয়ে।দেখে আসতে পারেন আমাদের ঐতিহ্যমন্ডিত ইতিহাসের আর এক সাক্ষীকে।

9 Jan 2019

ভ্রমণ সম্পর্কিত কিছু উপদেশ আর সর্তকতা ঃ

১) প্রথমেই বলে নেই যে কমন ছুটি তে বেড়াতে গেলে খরচ নরমালের তুলনায় ২গুন বা ৩ গুণ ও হতে পারে।
চাইলে ঢাকা থেকে ৫/৬ হাজারের মধ্যেও ঘুরে আসতে পারেন আবার ৯/১০ হাজারের মধ্যেও ঘুরে আসতে পারেন।

২)সেন্টমার্টিন যাওয়ার জন্য জাহাজের টিকেট আগেই কেটে রাখা ভালো না হলে স্ট্যান্ডিং টিকেটও তিনগুন বেশি দিয়ে নিতে হয়।

৩) অবশ্যই চেষ্টা করবেন পূর্ণিমাতে যাওয়ার, তাহলে দিনের সৌন্দর্যের সাথে রাতের স্নিগ্ধতাও খুব ভালভাবে উপভোগ করতে পারবেন।

পড়ন্ত বিকেলে দারুচিনি দ্বীপ থেকে সাইকেল চালিয়ে সূর্য ডুবা দেখতে দেখতে মেইন বীচে গিয়ে দেখবেন বিশাল একটা চাঁদ। অসম্ভব রকমের ভালো লাগবে।

৪) সাথে বাচ্চাকাচ্চা থাকলে কক্সবাজারের রেডিয়্যান্ট ফিস ওয়ার্ল্ডে ঘুরে আসতে পারেন। অার না থাকলে সেখানে না যাওয়াই ভালো,কারণ ৩০০ টাকার টিকেট কেটে ওখানে না গিয়ে সমুদ্রের পারে দাঁড়ালেও এর থেকে ভালো লাগবে।

৫) দিনের বেলায় সূর্যের প্রখরতা অনেক বেশি থাকে তাই চেষ্টা করবেন সাথে ছাতা আর সানব্লক ক্রিম রাখতে।

৬)কক্সবাজার এ আপনি একদিনে হিমছড়ি পাহাড়, ঝর্ণা,পাটওয়ারটেক ঘুরে আসতে পারেন আার এই রোডেই প্যারাসেইলিং এর সুযোগ পাবেন- ১৫০০ টাকা জনপ্রতি খরচ- সাহস আর বাজেট থাকলে মিস করবেন না- ভালো লাগবে – তবে বাতাস কম থাকলে প্যারাসেইলিং করায় না,এমনিতে বিকাল ৫ টা পর্যন্ত খোলা থাকে। আর সারাদিন যেখানেই থাকেন না কেন সন্ধ্যায় অবশ্যই লাবণী বা ইনানি বীচে থাকবেন- অতল সমুদ্রে সূর্যাস্ত দেখার জন্য।

৭) সেন্টমার্টিন গেলে অবশ্যই ছেঁড়া দ্বীপে যাবেন। টেকনাফ থেকে জাহাজ দিনে একবারই ছাড়ে সকাল ৯ টায় আর সেন্টমার্টিন থেকে দিনে একবারই জাহাজ ছাড়ে বিকাল ৩ টায়। ওখানে এক রাত না থাকলে যাওয়াই বৃথা।

ঘুরার জন্য আগে থেকে অনলাইনে বুকিং দিতে পারেন-বুকিং.কম থেকে। আপনার বাজেট অনুযায়ী সার্ভিস পছন্দ করে নিতে পারেন।

৮) আর হ্যা,পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় সমুদ্রে বা বীচে কেউ চিপসের প্যাকেট বা নোংরা ফেলবেন না ।

19 Dec 2018

কেন যাবেন নিঝুম দ্বীপঃ

নিঝুম দ্বীপ গেলে আপনি একসাথে দেখতে পারবেনঃ

  • সমুদ্র সৈকত
  • দ্বীপের অন্য এক পাশে সেন্টমারটিনের ফিল
  • সুন্দরবনের ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট
  • নিঝুম দ্বীপের জাতীয় উদ্যান
  • হরিণের পালের দেখা
  • আর সেই সাথে ভরপুর প্রাকৃতিক দৃশ্য তো আছেই।

কিভাবে যাবেন নিঝুম দ্বীপঃ
নিঝুম দ্বিপ যাওয়ার অনেক গুলা রুট আছে। তার মধ্যে উল্লেখ্যযোগ্যঃ

সড়ক পথে :
বাংলাদেশের যে প্রান্ত থেকে নিঝুম দ্বীপ ভ্রমন করতে হলে ঢাকা বা চট্টগ্রাম থেকে যাত্রা শুরু করলে প্রথমে তাকে সড়ক পথে নোয়াখালী হেড কোয়ার্টার মাইজদী সোনাপুর আসতে হবে। এখানে কিছু আবাসিক হোটেলও রয়েছে। সোনাপুর থেকে প্রতি আধা ঘন্টা পর পর বাস এবং বেবী টেক্সী পাওয়া যায়। সোনাপুর থেকে চরবাটা ৪নং স্টীমার ঘাট বয়ারচর চেয়ারম্যান ঘাট থেকে প্রতি দিন সী-ট্রাক/ইঞ্জিল চালিত ট্রলার নলচির ঘাট, অথবা তমরুদ্দি ঘাট বা চরচেঙ্গোর ঘাটে পর্যন্ত চলাচল করে। সী ট্রাকে নদীপথে সময় লাগে দেড় থেকে দুই ঘন্টা। সী ট্রাকের ভাড়া ৫০ টাকা ও ৬৫ টাকা লাগবে। নলচিরা ঘাট থেকে বাসে অথবা বেবী টেক্সীতে হাতিয়া হেড কোয়ার্টার ওছখালী বাজারে আসতে হবে। নলচিরা থেকে ওছখালীর দূরত্ব ১৩ কিঃ মিঃ। ভাড়া প্রদান করতে হয় বাস ২০ টাকা,বেবী টেক্সী জনপ্রতি ৩০ টাকা।

অপর দিকে যারা চরচেঙ্গার সী ট্রাকে রওয়ানা হবেন তাদেরকে তমরুদ্দি ঘাটে এসে নামতে হবে। তমরুদ্দি ঘাট থেকে হাতিয়ার হেড কোয়ার্টার ওছখালীর দুরত্ব ৮ কিঃ মিঃ। বেবী অথবা রিক্সাতে আসা যাওয়া ভাড়া প্রতি রিক্সা ২০ টাকা প্রদান করতে হয়। সময় লাগে আধা ঘন্টা।

হাতিয়া ওছখালী হেড কোয়ার্টার থাকার ব্যবস্থা স্থানীয় রেস্ট হাউজ অথবা উপজেলা ডাক বাংলো, রেডক্রিসেন্ট সড়ক ও জনপথ এবং দ্বীপ উন্নয়ন সংস্থা উন্নতমানের রেস্ট হাউজ রয়েছে। আর পর্যটক ভ্রমণার্থীরা উঠতে পারেন সিঙ্গাপুর রেস্ট হাউজ/ তালুক রেস্ট হাউজ , হোটেল প্রিন্স এবং সালমা রেস্ট হাউজ। রেস্ট হাউজে অবস্থান করে পরদিন ভ্রমণের পরিকল্পনা করতে হবে। ন্বপ্নের নিঝুম দ্বীপ যাওয়ার জন্য হাতিয়া হেড কোয়ার্টার হতে নদী পথে তমরুদ্দি ঘাট থেকে ইঞ্জিন চালিত ট্রলার যোগে নিঝুম দ্বীপ পর্যটন কেন্দ্র এবং বিনোদন স্পট যাওয়া যায়। পযর্টকগণ ইচ্ছা করলে তমরুদ্দি হতে বেবী টেক্সী ভাড়া করতে পারেন আসা যাওয়া ৪০০-৬০০ টাকা। বর্তমানে নিঝুম দ্বীপে সড়ক পথে নিরাপদে কম সময়ে কম টাকায় যাওয়া যায় বলে ভ্রমনার্থীরা এই পথেই বেশি চলাচল করছে।

নদী পথে :
ঢাকা থেকে :
ঢাকা সদরঘাট থেকে বিকাল ৫টার সময় আধুনিক সুযোগ সুবিধা সম্বলিত তিনতলা বিশিষ্ট লঞ্চ হাতিয়া তমরদ্দি ঘাটের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে পরের দিন সকাল সাড়ে ৮টায় পৌছে। ভাড়া নেয়া হয় সাধারণ যাত্রী ১৫০ টাকা, কেবিন যাত্রী ৪০০ টাকা থেকে ৮০০ টাকা বা তার চেয়ে কিছু কম বেশি হতে পারে। তমরদ্দি ঘাট থেকে একই ধরনের আর একটি লঞ্চ দুপুর সাড়ে বারোটায় ঢাকার সদর ঘাটের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে পরদিন ভোর পাচঁটায় পৌছে।

17 Dec 2018

সময়ঃ ৪ দিন ৫ রাত।
খরচঃ জনপ্রতি ৪৯০০ টাকা।
আগামী বছর থেকে সেন্ট মার্টিনে রাত থাকা যাবেনা এটা শোনার পর থেকে সেন্ট মার্টিন ট্যুরের প্লান করলাম। এবারের ট্যুর নিয়ে এতটাই এক্সাইটেড ছিলাম যে ট্যুরের আগে আমরা ককয়েকবার দারুচিনি দ্বীপ সিনেমা দেখে ফেলি 😁 প্লান ও করলাম ওইভাবে। সিনেমাতে ওরা যেভাবে সেন্ট মার্টিন যায়, আমরাও সেভাবে যাবো 😀।এভাবে গেলে খরচ ও কিছুটা কম হয়😜।ঢাকা থেকে ট্রেনে চিটাগং, চিটাগং থেকে বাই রোড টেকনাফ, টেকনাফ থেকে ট্রলারে সেন্ট মার্টিন। তবে প্যারা না নিয়ে ঢাকা থেকে সরাসরি বাসে টেকনাফ যাওয়া ভাল।আমাদের অবশ্য এভাবে যেতেই মজা লেগেছে।প্রথমে প্লান ছিল যে সরাসরি সেন্ট মার্টিন যাবো, সেন্ট মার্টিন শেষ করে কক্সবাজার এসে থাকবো।পরে ভেবে দেখলাম যে সেন্ট মার্টিন থেকে কক্সবাজার আসলে কক্সবাজার ভাল লাগবে না।এজন্য কক্সবাজার আগে থেকে তারপর সেন্ট মার্টিন যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলাম।

প্রথম রাতঃ আমরা ছিলাম ৪ জন। ট্রেনের টিকিট আগে থেকেই কাটা ছিল। ৩ তারিখ রাত ৯ টায় ‘মহানগর এক্সপ্রেসে’ করে আমরা চিটাগং এর উদ্দ্যেশ্যে যাত্রা শুরু করি। নামে এক্সপ্রেস হলেও ট্রেন চলছিল লোকাল বাসের মত 😞 অবশেষে ট্রেন ভোর ৪.২০ এর দিকে আমাদের চিটাগং নামিয়ে দেয়। স্টেশন থেকে নিউ মার্কেটের দিক কিছুক্ষণ হাটাহাটির পর দেখি হানিফ এর একটা বাস কক্সবাজার যাবে।এমন সময় ওইখান থেকে বাস পাবো ভাবতেও পারিনি,তো তাড়াতাড়ি ৪ টা টিকিট কেটে বাসে উঠে পড়লাম।৫.২০ এর দিকে বাস ছাড়ে এবং ৮.৩০ এর দিকেই আমরা কক্সবাজার পৌছে যাই।
খরচঃ ট্রেনের টিকিট =৩৪৫ (জনপ্রতি)
চিটাগং – কক্সবাজার(বাস)=২৫০
‎খাবার ও অন্যান্য =২২৫
‎মোট=৮২০ ( জনপ্রতি)
প্রথম দিনঃ ডলফিনের মোড়ের ওখানে বাস থেকে নেমেই আমরা হোটেল খোজা শুরু করি। লাবনি পয়েন্ট, সুগন্ধা পয়েন্ট থেকে এদিকে হোটেল ভাড়া কিছুটা কম।তো কিছুক্ষণ খোজার পর আমারা Dynamic SH Resort এ উঠি।ডাবল বেডের রুমের ভাড়া ১০০০,জনালা দিয়ে সমুদ্র দেখা যায় 😊 আশেপাশে অনেক হোটেল আছে,উঠার সময় অবশ্যই দামাদামি করে উঠবেন। হোটেল থেকে ফ্রেশ হয়ে ৯.৩০ এর দিকে রাধুনি রেস্টুরেন্ট এ নাশতা করে সি বিচে চলে যাই। সেখানে ৩ ঘন্টা মত ঝাপাঝাপি করে আবার হোটেলে ফিরে আসি।হোটেল থেকে ফ্রেশ হয়ে হালকা খাবার খেয়ে কলাতলির মোড়ের দিকে চলে যাই আমরা। কলাতলির মোড় থেকে একটা অটো ঠিক করি হিমছড়ি ও ইনানী যাওয়া-আসার জন্য।যেহেতু আমরা ৪ জন্য ছিলাম এজন্য অটোতে করে যাই।বেশি মানুষ হলে চান্দের গাড়িতে যাওয়া ভাল। যাওয়া আসার ভাড়া ঠিক করেছিলাম ৪০০,কিন্তু বিভিন্ন অজুহাতে উনি আরো ১০০ টাকা বেশি নিলেন।কক্সবাজারের ভেতর এই রাস্তাটা আমার অনেক ভাল লাগে,একপাশে সমুদ্র আরেকপাশে পাহাড়😊 আহা! এই দৃশ্য দেখতে দেখতে হিমছড়ি চলে আসলাম। হিমছড়ি পাহাড়ে উঠার জন্য ৩০ টাকা করে ৪ টা টিকিট কেটে সিড়ি বেয়ে উঠা শুরু করলাম।এখনে উঠার সময় অবশ্যই হাতে একটা পানির বোতল রাখবেন।হিমছড়ি ১ ঘন্টামতো ঘুরে আমরা ইনানী বিচের দিকে চলে গেলাম।পড়ন্ত বিকালে ইনানী বিচের মত সুন্দর দৃশ্য আর কোথাও নাই 😊ইনানী তে সূর্যাস্ত দেখে আমরা অটোতে করে হোটেলে চলে আসলাম।হোটেলে কিছুক্ষণ রেস্ট নিয়ে রাধুনি রেস্টুরেন্ট থেকে রাতের খাবার খেলাম। রাধুনি রেস্টুরেন্ট এর খাবার ভাল, প্যাকেজ ১১০ টাকা থেকে শুরু।রাতের খাবার খেয়ে চলে আসলাম বিচে।প্রায় ৩ ঘন্টা মত বিচ ধরে হেটেছি সমুদ্রের গর্জন শুনেছি,গান গেয়েছি সবাই মিলে,ফানুস উড়িয়েছি। বিচ থেকে সাড়ে এগারোটার দিকে হোটেলে এসে দিলাম ঘুম,যেহেতু পরদিন খুব সকালে টেকনাফ যেতে হবে।
খরচ =জনপ্রতি ৬৯০ টাকা

দ্বিতীয় দিনঃ সকাল ৫.৫০ এর দিকে হোটেল থেকে বের হয়ে,একটা অটো নিয়ে চলে আসি লালদীঘির মোড়ে।৬.৩০ এর বাস ধরবো বলে তাড়াতাড়ি চলে আসি।সেখান থেকে স্পেশাল সার্ভিস নামে একটা বাসে উঠি।এই বাস প্রতি আধাঘন্টা পরপর ছাড়ে,টিকিট ১৪০ টাকা করে।নাম স্পেশাল সার্ভিস হলেও এটা আসলে লোকাল বাস। ৯ টার দিকে চলে আসলাম টেকনাফ বাস টার্মিনাল এ।সেখান থেকে ১০ টাকা অটো ভাড়া দিয়ে চলে আসলাম ট্রলার ঘাটে। ওইখানে ঢাকা কস্তুরি নামে এক রেস্টুরেন্ট এ নাশতা করে যখন বের হবো তখন হল ঝামেলা।ঢাকা থেকে সেন্ট মার্টিন উড়াবো বলে যে ফানুসগুলা নিয়ে গিয়েছিলাম দেখি সেগুলা নাই।২ জন কে ট্রলারের টিকিট কাটতে পাঠিয়ে দিয়ে ২ জন চলে গেলাম টার্মিনাল,যেখানে বাস থামে।অনেকক্ষণ খোজার পর কপাল ভাল ছিল দেখে পেয়েও গিয়েছিলাম 😊।২৩০ টাকা করে(২০০ টাকা ট্রলার ভাড়া + ঘাট ভাড়া ৩০) ট্রলারের টিকিট কেটে ট্রলারে উঠে পড়লাম।ট্রলারে করে সেন্ট মার্টিন যাওয়া আসলে অন্যরকম মজা,যারা গিয়েছে শুধু তারাই জানে। ট্রলারে যেতে ২.৩০ ঘন্টা মত সময় লাগে। মালবাহী ট্রলার গুলা সেফ।একটাতে সর্বোচ্চ ৩৫-৪০ জন বসতে পারবেন,প্রতিটি ট্রলারেই লাইফ জ্যাকেট আছে। প্রথমে ১.৩০ ঘন্টা, ট্রলার যখন নাফ নদীতে থাকে তখন রোদে একটু কস্ট হয়।নাফ নদী থেকে যখন সমুদ্রে চলে আসে ট্রলার তখন শুরু হয় মজা। সমুদ্রের বাতাস সাথে বিশাল বড়বড় ঢেউ।ট্রলার শুধু দুলতে থাকে এদিকে ওদিকে,অন্যরকম অনুভূতি কাজ করে তখন। ৪০-৪৫ মিনিট এভাবেই চলতে চলতে অবশেষে চলে আসলাম স্বপ্নের সেন্ট মার্টিন😊

সেন্ট মার্টিন দ্বীপের আরেক নাম দারুচিনি দ্বীপ। একসময় পর্তুগিজরা এসেছিলো এখানে,তো তারা এটার নাম দিয়েছিল দারদিউসি।স্থানীয় লোকজন তো আর দারদিউসি বলতে পারতো না,তারা বলতো দারুচি।দারদিউসি থেকে দারুচি,দারুচি থেকে দারুচিনি, দারুচিনি থেকে আলটিমেটলি এখন দারুচিনি দ্বীপ।

কি দেখার আছে এখানে?
কি নাই এখানে! পুরা সেন্ট মার্টিন দ্বীপ টাই একটা রহস্য। সেন্ট মার্টিনের এত রুপ যে বলে শেষ করা যাবেনা। সকালে এক রুপ তো বিকালে আরেক। সন্ধ্যায় একরকম তো রাতে আরেকরকম। জোয়ারে এক রুপ তো ভাটায় অন্য রুপ।

জেটি ঘাটে উঠার পর অনেকে ২০ টাকা ঘাটভাড়া চাইতে পারে, কাউকে কোন টাকা দিবেন না।এখন শুরু হল হোটেল ঠিক করার পালা।এটার জন্য অবশ্য আমাদের তেমন বেশি বেগ পেতে হয়নি।ট্রলার থেকে নামার পর একটা লোক বললো যে হোটেল কি আগে থেকে বুক দেওয়া আছে।আমাদের যেহেতু আগেথেকে বুকিং দেওয়া ছিল না এজন্য আমরা তার সাথে গিয়েছিলাম হোটেল দেখতে।ছুটির দিন ব্যাতিত অন্যান্য দিনে হোটেল বুকিং দেওয়ার কোন দরকারই নাই।যে লোকটা আমাদের হোটেল দেখাতে নিয়ে গিয়েছিল ওইটাতেই আমরা উঠি,ওই হোটেলের মালিক উনি নিজেই।নাম ‘হোটেল সী হার্ট’ একদম বাজারের উপর। তারচেয়ে বড় কথা হল ওইখানে আমরা ডাবল বেডের রুমে ২ দিন ছিলাম মাত্র ১৩০০ টাকায়।লোকটার নাম মুজিব ভাই,অনেক হেল্পফুল লোক।কারো লাগলে আমার কাছথেকে নাম্বার নিতে পারেন।তবে সী ভিউ পাওয়ার জন্য পশ্চিম বিচে থাকতে হবে,ওইদিকে অনেক ভাল ভাল রিসোর্ট আছে।তো ওইখান থেকে সময় নষ্ট না করে তাড়াতাড়ি চলে গেলাম বিচে,সমুদ্রের স্বচ্ছ নীল পানিতে ঝাপাঝাপি করতে। প্রায় ২ ঘন্টা সমুদ্রে গোসল করার পর হোটেলে এসে ফ্রেশ হয়ে দুপুরের খাবার খেতে গেলাম।খাবার সময় অবশ্য দামাদামি করে খাবেন,প্যাকেজ হিসাবে। এখানে সবকিছুর দাম একটু বেশি বেশি।তো দুপুরের খাবার খেতে খেতে প্রায় বিকাল হয়ে গিয়েছিল 😜 খাবার শেষ করার পর ভেবেছিলাম সাইকেল নিয়ে বের হবো কিন্তু বিকালের টাইমে সাইকেলের চাহিদা বেশি থাকায় ওইদিন আর সাইকেল পায়নি 😞বিচ থেকে সূর্যাস্ত দেখে হাটতে হাটতে পশ্চিম বিচের দিকে গেলাম।ততক্ষণে জোয়ারের পানি বেড়েই চলেছে।রাতের বেলা পশ্চিম দিকটা অনেক জমজমাট থাকে।নিচে সমুদ্রের গর্জন আর উপরের আকাশে লক্ষ লক্ষ তারা,এ সময়ে সমুদ্রের পাশদিয়ে হাটা! এক কথায় অসাধারন ফিলিংস 😊 এদিক থেকে রুপচাদা ফ্রাই ও কাকড়া ফ্রাই খেয়ে আবার পূর্বদিকে হাটা শুরু করলাম।যখন আসছিলাম তখন এদিকে পানি কম ছিল,আশেপাশে লোকজন ও ছিল।কিন্তু এখন জোয়ারের পানি বেড়ে অনেক উপরে উঠে গেছে,আশেপাশে লোকজন ও নাই।অনেক কষ্টে গেলাম,হালকা হালকা ভয় ও পেয়েছিলাম। তো ওখান থেকে এসে মেইন বিচের কাছে ফানুস উড়িয়ে আরো ২ ঘন্টা হাটাহাটি করে ওইদিনের মতো হোটেলে চলে গেলাম।পরদিনের প্লান ছিল হেটে ছেড়াদ্বীপ যাবো এজন্য ১১.৩০ এর দিকেই ঘুমিয়ে পড়লাম।
খরচ =জনপ্রতি ৯৫৫ টাকা

তৃতীয় দিনঃ যেহেতু হেটে ছেড়াদ্বীপ যাবো, এজন্য সকাল ৫.৩০ এর দিকে হোটেল থেকে বের হয়ে জেটির ঘাট থেকে পূর্বদিক থেকে হাটা শুরু করলাম।এখান থেকে সূর্যোদয় দেখে হালকা খাবার খেয়ে ছেড়াদ্বীপ এর দিকে হাটা শুরু করলাম।হেটে গেলে সাধারণ ২-২.৩০ ঘন্টা সময় লাগে।ভাটার সময় সাইকেলে করে ও ছেড়াদ্বীপ যাওয়া যাবে।বেশিরভাগ মানুষ ট্রলারে করে ছেড়াদ্বীপ যায়,ট্রলার ভাড়া ১৫০ টাকা।তবে ভাল হয়ে হেটে যেতে পারলে।হেটে গেলে অবশ্যই স্থানীয়দের থেকে জোয়ার ভাটার সময় জেনে যাবেন। প্রায় ৮ টার দিকে আমারা ছেড়াদ্বীপ এর কাছাকাছি পৌছে যাই।জোয়ারের পানি তখনো কিছুটা ছিল এজন্য আমরা ৩০ টাকা করে নৌকাতে পার হই।এখানকার পানিটা অনেকবেশি নীল আর স্বচ্ছ। সেন্ট মার্টিনের সবচেয়ে সুন্দর জায়গা বোধহয় ছেড়াদ্বীপ।এখানকার প্রবাল গুলা অনেকবেশি প্রানবন্ত। প্রায় ২ ঘন্টা মত ছেড়দ্বীপে ঘোরাঘুরির পর একটা করে ডাব খেয়ে পশ্চিমের দিক হাটা শুরু করলাম।হেটে সেন্ট মার্টিন দ্বীপ ঘুরতে হলে(ছেড়াদ্বীপ সহ) আপনাকে ১৫/১৭ কি মি হাটতে হবে।পুরাটা দ্বীপ হেটে না ঘুরলে এর আসল সৌন্দর্য উপভোগ করা যাবেনা। পশ্চিমের দিক যতই হেটেছি ততই বিস্মিত হয়েছি।পশ্চিমের দিকে আসলেই বোঝা যায় কেন এ দ্বীপকে ন্যাচারাল কোরাল দ্বীপ বলে।বিশালাকার, ক্ষুদ্রাকার, অদ্ভুতাকার সব কোরাল। এগুলা দেখে হাটতে হাটতে চলে আসলাম হুমায়ুন আহমেদ স্যারের বাসার সামনে।একটা করে ডাব খেয়ে আবার হাটা শুরু করলাম।পশ্চিমদিক থেকে উত্তরের দিকে গেলেই বোঝা যাবে কেন এই দ্বীপের আরেক নাম নারিকেল জিঞ্জিরা। অবশেষে দীর্ঘ ৭ ঘন্টা(সকাল ৬ টা থেকে দুপুর ১ টা) হেটে আবার পূর্বের জায়গাতে চলে আসলাম।ততক্ষণে সবাই অনেক ক্লান্ত,তো এই ক্লান্তি দূর করার জন্য সমুদ্রে নেমে পড়লাম।সমুদ্র থেকে উঠে দুপুরের খাবার খেয়ে ৪০ টাকা ঘন্টায় সাইকেল নিয়ে বের হয়ে পড়লাম।আজ আর লেইট করিনি 😁 সাইকেল নিয়ে চলে গেলাম আবার পশ্চিমের দিকে,ওখান থেকে ডাব খেয়ে আবার এদিকে চলে এসেছি।রাতের বেলা বিচের পাশে বসে থেকেছি অনেক্ষন,গান গেয়েছি।সন্ধ্যায় কোরাল বার-বি-কিউ করতে দিয়েছিলাম রেস্টুরেন্ট এ,৯.৩০ এ ওইটা খেয়ে আবার বিচে চলে আসি।কিছুক্ষণ হাটাহাটি করে,ফানুস উড়িয়ে ওইদিনের মত হোটেলে এসে ঘুম দেই।
খরচ=জনপ্রতি ৬৬০ টাকা
চতুর্থ দিনঃ আজ যেহেতু চলে জেতে হবে এজন্য খুব তাড়াতাড়ি ঘুমথেকে উঠি।সকাল সকাল সাইকেল ভাড়া করে ২ ঘন্টা মত সাইকেল চালিয়ে, একটা করে ডাব খেয়ে হোটেলে চলে আসি।ব্যাগ গুছিয়ে সকালের নাশতা করে ট্রলারের টিকিট কেটে ১০ টার দিকে ট্রলারে উঠে পড়ি।আসার দিনের তুলনায় আজ সমুদ্রে ঢেউ একটু বেশি ছিল।ট্রলারে উঠার পর শুনলাম যে ট্রলার শাহ পরীর দ্বীপে থামবে। শাহ পরীর দ্বীপ থেকে সিএনজি তে করে টেকনাফ যাওয়া যায়, ভাড়া ১০০ টাকা করে।শাহ পরীর দ্বীপে নেমে পড়লাম,ওখানে একটু ঘুরে সিএনজি নিয়ে চলে গেলাম টেকনাফ বার্মিজ মার্কেটে।এখানে দুপুরের খাবার খেয়ে বার্জিম মার্কেটে ঢুকলাম।কক্সবাজারের বার্মিজ মার্কেটের তুলনায় এখানকার বার্মিজ মার্কেটের জিনিসপত্রের দাম কম।কেনাকাটা শেষ করে অটোতে করে চলে আসলাম বাস টার্মিনাল। বাস টার্মিনাল থেকে সিএনজিতে উঠলাম মেরিন ড্রাইভ হয়ে কক্সবাজার যাবো, ভাড়া জনপ্রতি ২৫০ টাকা।সেন্ট মার্টিন আসলে এই অংশটুকু কেউ মিস করবেন না।বিকাল বেলা অসম্ভব রকম ভাল লাগে মেরিন ড্রাইভ দিয়ে গেলে।একদিকে সমুদ্র, আরেকদিকে পাহাড়। আহা! সন্ধ্যা ৭ টার দিকে চলে আসলাম কক্সবাজার।ঢাকা ফেরার টিকিট কেটে আবার চলে গেলাম রাধুনি রেস্টুরেন্ট এ রাতের খাবার খেতে।রাতের খাবার খেয়ে বিচের ধারে একটু হেটে চলে গেলাম বাস কাউন্টারে।১০.১৫ তে বাস ছিল,মজার বিষয় হল নরমাল বাসের টিকিট কেটে এসি বাসে এসেছি 😁ঢাকা থেকে রিজার্ভ বাস এসেছিল তো এজন্য 😁নির্ধারিত সময় বাস ছেড়ে দেয়,বাসে উঠে এক ঘুম দিয়ে উঠে দেখি সকাল ৮ টা বাজে বাস ঢাকায় চলে এসেছে😞 সময় থাকলে আরো একদিন থাকতাম সেন্ট মার্টিন।
খরচ= জনপ্রতি ১৭৭০

মোট খরচঃ ৮২০+৬৯০+৯৫৫+৬৬০+১৭৭০=৪৯০০(প্রায়)

**** সেন্ট মার্টিন থেকে কেউ সাথে করে প্রবাল আনবেন না। পানির বোতল,চিপস/খাবারের প্যাকেট সহ অপচনশীল জিনিসপত্র যেখানে সেখানে ফেলবেন না,নির্ধারিত স্থানে ফেলুন।একটা প্লাস্টিকের বোতল মাটিকে প্রায় ৪৫০ বছর দূষিত করে রাখে।সেন্ট মার্টিন আমাদের সম্পদ সুতরাং একে রক্ষা করা আমাদের সকলের দায়িত্ব।

Source: Tanvir Fuyad‎ <Travelers of Bangladesh (ToB)

 

11 Dec 2018

বিশ্বের সবচাইতে বড় সমুদ্রসৈকত এটি। সড়কপথে ঢাকা থেকে প্রায় সাড়ে চারশ কিলোমিটার এবং চট্টগ্রাম থেকে প্রায় দেড়শ কিলোমিটার দূরে রয়েছে নয়নাভিরাম এ সমুদ্র সৈকত। এখানকার সমুদ্রের পানিতে বড় বড় ঢেউয়ের মাঝে গোসল, সূর্যাস্তের মনোহারা দৃশ্য সকল পযটকের মূল আকর্ষণ। কক্সবাজার সৈকত ভ্রমণের শুরুটা হতে পারে লাবনী পয়েন্ট থেকে। সকাল বেলা বের হলে এ সৌন্দর্যের সাথে বাড়তি পাওনা হবে নানান বয়সী জেলেদের মাছ ধরার দৃশ্য। শুধু সমুদ্র সৈকতই নয়, কক্সবাজার শহরের বৌদ্ধ মন্দির, বার্মিজ মার্কেট, হিলটপ রেস্টহাউস ইত্যাদি কক্সবাজার ভ্রমণের অন্যতম দ্রষ্টব্য স্থান। কক্সবাজারে থাকার জন্য এখন অনেক আধুনিক হোটেল মোটেল রয়েছে। ৪ স্টার হোটেল থেকে শুরু করে কম দামি বিভিন্ন মোটেলও রয়েছে। ২০,০০০টাকার হোটেল যেমন রয়েছে, তেমনি একটু পিছন দিকে মাত্র ৫০০টাকার হোটেলে থাকার ব্যবস্থা রয়েছে।
সৈকতের মেরিনড্রাইভ একটি অসাধারণ রাস্তা। এই রাস্তা ধরে যত দূরে যাবেন পুরো জায়গাই আপনাকে মুগ্ধ করবে। একপাশে পাহাড় আর একপাশে সমুদ্র দেখে হবেন বিমোহিত।

হিমছড়িঃ

কক্সবাজার-Cox’s Bazar

কক্সবাজার শহর থেকে মাত্র ১২ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই হিমছড়ি। কক্সবাজার থেকে সেখানে ৩ ভাবে যাওয়া যায়। খোলা জীপ, রিকশা কিংবা ব্যাটারী চালিত রিকশাতে করে সেখানে যাওয়া যাবে। খোলা জীপে গেলে জনপ্রতি ভাড়া ৫০-৭০ টাকা পড়বে। রিজার্ভ নিলে এটি পড়বে ১২০০ -১৫০০টাকা।রিকশা করে যেতে হলে ভাড়া লাগবে ১৫০-২৫০ টাকা। আর ব্যাটারি চালিত রিকশায় গেলে আসা যাওয়ার ভাড়া পড়বে ৪০০-৬০০টাকা। এখানে যাওয়ার পথে উপভোগ করতে পারবেন সৈকত লাগোয়া আকাশ ছোঁয়া পাহাড় । হিমছড়ি রয়েছে পাহাড়ের হিম শীতল ঝরণা।

ইনানী সমুদ্র সৈকতঃ

কক্সবাজার থেকে হিমছড়ি পাড় হয়ে আরও ৮কি.মি পূবে রয়েছে আরেক আকর্ষণ সৈকত ইনানী, যাকে বলা হয়, মিনি সেন্টমার্টিন। এখানে রয়েছে বিস্তীর্ণ পাথুরে সৈকত। সমুদ্র থেকে ভেসে এসে এখানকার ভেলাভূমিতে জমা হয়েছে প্রচুর প্রবাল। কক্সবাজার থেকে এখানে পৌছতে রিজার্ভ জীপ নিলে লাগবে ১৮০০-২৫০০ টাকা। ব্যাটারি চালিত রিকশা নিয়েও সারাদিনের জন্য ঘুরলে ভাড়া পড়বে ৮০০-১০০০টাকা।

মহেশখালী দ্বীপঃ

বাংলাদেশের একমাত্র পাহাড়ি দ্বীপ মহেশখালী। এখানে দেখার মূল আকর্ষণ বিখ্যাত আদিনাথ মন্দির । এছাড়াও এখানে রয়েছে খুবই মনোরম একটি বৌদ্ধ মন্দির। আঁকাবাঁকা সিঁড়ি ভেঙ্গে আদিনাথ পাহাড়ের চূড়ায় উঠলেই পাওয়া যাবে বিখ্যাত আদিনাথ মন্দির। এ দ্বীপের দক্ষিণে রয়েছে বিস্তীর্ণ সাগর আর পশ্চিমে বিশাল বিশাল পাহাড়। এখানে থাকার ব্যবস্থা নাই। কক্সবাজার থেকে সকালে গিয়ে এ দ্বীপটি ভালো করে দেখে আবার বিকেলের মধ্যেই ফেরা সম্ভব। কক্সবাজার ট্রলার ঘাট থেকে মহেশখালী যেতে পারেন স্পিড বোটে, সময় লাগবে মাত্র ১৫ মিনিট, সেক্ষেত্রে ভাড়া পড়বে ১৫০ টাকা অথবা ইঞ্জিন বোটে, যেতে লাগবে ১ ঘন্টা, এ ক্ষেত্রে ভাড়া লাগবে ৩০টাকা।

সোনাদিয়া দ্বীপঃ

কক্সবাজারে আরেকটি আকর্ষণীয় দ্বীপের নাম সোনাদিয়া। শীতে প্রচুর অতিথি পাখির দেখা মেলে এখানে। প্রায় ৪৬৩ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের এ দ্বীপটিতে কক্সবাজার থেকে ইঞ্জিন বোটে গিয়ে আবার সন্ধ্যার আগেই ফিরে আসা সম্ভব।

কুতুবদিয়াঃ

কক্সবাজার জেলার আরেকটি দর্শনীয় স্থান কুতুবদিয়া দ্বীপ, যার আয়তন প্রায় ২১৬ বর্গ কিলোমিটার। এ দ্বীপের দর্শনীয় স্থান হলো বিখ্যাত প্রাচীন বাতিঘর, কালারমা মসজিদ এবং কুতুব আউলিয়ার মাজার। কক্সবাজারের কস্তুরী ঘাট থেকে কুতুবদিয়া স্পিডবোটে মাত্র ৪৫ মিনিটে যাওয়া যায়, যার ভাড়া ১৫০-২০০টাকা কিংবা খরচ বাচাতে যেতে পারেন ইঞ্জিন বোটে। এক্ষেত্রে সময় লাগে ২ ঘন্টার মতো আর ভাড়া ৫০-৭০ টাকা।

টেকনাফঃ

বাংলাদেশের সর্বদক্ষিণের ভূমি টেকনাফ, কক্সবাজার থেকে যার দূরত্ব প্রায় ৮৫ কি.মি.। টেকনাফ হচ্ছে পাহাড়, নদী আর সমুদ্রের অনণ্য এক মিলনস্থল। চারিদিকে পাহাড় তার পাশদিয়ে বয়ে যাওয়া নাফ নদী। যেকারও ভাল লাগতে বাধ্য। এখানকার সৈকতকে বলা হয়, বাংলাদেশের সবচেয়ে পরিচ্ছন্ন সৈকত। এখানকার দর্শণীয় স্থানের মধ্যে রয়েছে, ঐতিহাসিক মাথিনের কূপ,শাহ পরীর দ্বীপ, কুদুম গুহা, টেকনাফ নেচার পার্ক । কক্সবাজার থেকে বাসে করে টেকনাফে যেতে ভাড়া লাগে ৮০-১২০টাকা অথবা মাইক্রোবাসে করে যেতে ভাড়া লাগে ১০০-১৫০ টাকা।

সেন্টমার্টিন দ্বীপঃ

সেন্ট মার্টিন দ্বীপ বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরের উত্তর-পূর্বাংশে অবস্থিত একটি প্রবাল দ্বীপ। এটি কক্সবাজার জেলার টেকনাফ থেকে প্রায় ৯ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং মিয়ানমারের উপকূল হতে ৮ কিলোমিটার পশ্চিমে নাফ নদীর মোহনায় অবস্থিত। প্রচুর নারিকেল পাওয়া যায়। বলে স্থানীয়ভাবে একে নারিকেল জিঞ্জিরাও বলা হয়ে থাকে। এ দ্বীপের আয়তন প্রায় ৮ বর্গকিলোমিটার। দ্বীপে প্রায় ৬৬ প্রজাতির প্রবাল ১৮৭ প্রজাতির শামুক-ঝিনুক, ১৫৩ প্রজাতির সামুদ্রিক শৈবাল, ১৫৭ প্রজাতির গুপ্তজীবী উদ্ভিদ ২৪০ প্রজাতির সামুদ্রিক মাছ, চার প্রজাতির উভচর ও ১২০ প্রজাতির পাখি পাওয়া যায়। মাছের মধ্যে রয়েছে পরী মাছ, প্রজাপতি মাছ, বোল কোরাল, রাঙ্গা কই, সুঁই মাছ, লাল মাছ, উড়ক্কু মাছ ইত্যাদি। কোনো কোনো পর্যটক ধারণা করেন,সেন্ট মার্টিন বিশ্বের সেরা দ্বীপের একটি। টেকনাফ থেকে জাহাজে করে ২.৫০ ঘন্টা ভ্রমন করে যেতে হয় সেন্টমার্টিনে। জাহাজের আসা-যাওয়ার ভাড়া পড়বে ৯০০-১৫০০টাকা। সেন্টমার্টিনে হোটেল ভাড়া পড়বে ৫০০ – ২০০০টাকা। এখানে গেলে রাত্রিযাপন না করলে আসল মজা পাওয়া যাবেনা। এখানে গিয়ে পযটকরা প্রচুর মাছ এবং ডাব খেয়ে থাকে।

কক্সবাজারে থাকার ব্যবস্থাঃ

বর্তমানে কক্সবাজারে থাকার জন্য ফাইভস্টার ক্যাটাগরির অনেক হোটেল হয়েছে। ফোরস্টার ও থ্রিস্টার বা সমমানের হোটেল ও রিসোর্টের সংখ্যাও কম নয়। সৈকতের নিকটের বেশিরভাগ হোটেলই ভাল মানের। হোটেল ও রিসোর্ট কলাতলী ও লাবনী পয়েন্টে অবস্থিত। ইনানির নিকটবর্তী এলাকাতেও থাকার জন্য বেশকিছু হোটেল গড়ে উঠেছে। এ ছাড়া এর বাইরে আছে ইকো রিসোর্ট। মৌসুম ভেদে অর্থাৎ পিক ও অফ-পিক অনুযায়ি রুমের ভাড়ার মধ্যে তারতম্য হয়। বছরের সেপ্টেম্বর থেকে এপ্রিল পিক এবং মে থেকে আগস্ট অফ-পিক টাইম হিসাবে গণ্য হয়ে থাকে। অফ-পিক টাইমে হোটেল ও ক্লাস ভেদে রুম ভাড়া ২৫-৫০% পর্যন্ত ডিসকাউন্ট পাওয়া যায়। সৈকত থেকে একটু দূরত্বে সাধারণ মানের অনেক হোটেল রয়েছে।

সীগাল হোটেল লিমিটেড (০১৭৬৬৬৬৬৫৩০, ০৩৪১-৬২৪৮০-৯০),

হোটেল দ্য কক্স টুডে (০১৭৫৫৫৯৮৪৫০, ০৩৪১-৫২৪১০-২২),

হোয়াইট অর্কিড (০১৮২৫৯২৩৯৮৯),

হোটেল সী ওয়ার্ল্ড (০৩৪১-৫২২২৬, ০৩৪১-৫১৬২৫),

সায়মন বিচ রিসোর্ট ( ০৩৪১-৫১৩৫০, ০১৭৫৫৬৯১৯১৭),

ওশান প্যারাডাইস হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট (০১৯৩৮৮৪৬৭৬৩-৭, ০৩৪১-৫২৩৭০-৯),

লং বিচ হোটেল (০১৭৫৫৬৬০০৫১, ০৩৪১-৫১৮৪৩-৬),

হোটেল সী ক্রাউন (০১৮১৭০৮৯৪২০, ০৩৪১-৬৪৭৯৫),

এ্যালবাট্রস রিসোর্ট (০১৮১৮৫৪০১৭৭, ০১৮১৬০৩৩৪৪৫, ০১৮১৮৫৯৬১৭৩, ০৩৪১-৬৪৬৮৪),

হোটেল রয়াল রিগ্যাল পেলেস (০১৯৭৭৯৩৬৬২৩),

হোটেল প্রাইম পার্ক (০১৭৭৫৬০৯৯১৫, ০১৮৪২৬০৯৯১৫, ০৩৪১-৬২৩১১),

হোটেল ইউনি রিসোর্ট (০১৭১৩১৬০১৬৭),

হোটেল মিডিয়া ইন্টারন্যাশনাল (০১৭১১৩৪১১৬৪)।

পর্যটনের রয়েছে হোটেল শৈবাল (০৩৪১-৬৩২৭৪),

মোটেল প্রবাল (০৩৪১-৬৩২১১),

হোটেল লাবনী (০১৯১৩৯৩২০৮২)।

ইনানির আশেপাশের উল্লেখযোগ্য হল,

লা বেলা রিসোর্ট (০১৮২৫৯২৩৯৮৯)।

রয়াল টিউলিপ সী পার্ল বিচ রিসোর্ট (৮০০৩৫৮০৮৪৬, ০৩৪১-৫২৬৬৬-৮০),

ইনানি রয়াল রিসোর্ট (০১৭৭৭৭৯০১৭০)।

আর ইকো রিসোর্ট এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য- মারমেইড ইকো রিসোর্ট (প্যাচার দ্বীপ, ০১৮৪১৪৬৪৬৪-৯,) সাম্পান ইকো রিসোর্ট (০১৯৭৪৭২৬৭২৬)।

এখানে এক রাত্রি যাপনের জন্য রয়েছে এক হাজার থেকে সর্বোচ্চ ৬০ হাজার টাকা দামের কক্ষ।

যারা থাকার জন্য এত খরচ করতে চাচ্ছেননা, তাদের জন্য কমমূল্যে থাকার হোটেলও রয়েছে। হোটের সীগালের পিছনে রোডে অর্থাৎ কলাতলি রোডের হোটেলগুলোতে মাত্র ৫০০ টাকাতেও থাকা যায়।

কক্সবাজারে যাতায়াত সম্পর্কিত তথ্য:

আমরা যারা ঢাকা থেকে কক্সবাজার যাওয়ার পরিকল্পনা করব তাদের জন্য বাসের পাশাপাশি রয়েছে বিমানের সুবিধা। তা ছাড়া ট্রেনে করে চট্টগ্রাম গিয়ে সেখান থেকে বাসে করে কক্সবাজার যাওয়া যায়। ঢাকা থেকে কক্সবাজার বাসে যেতে সময় লাগে প্রায় দশ থেকে বার ঘণ্টা, বিমানে ৫০ মিনিট। এসি/ননএসি দুই ধরনের বাস আছে। বাস ভেদে এসি/ননএসি ভাড়া ৮০০-১৫০০ টাকা। ঢাকা থেকে প্রতিদিনই অনেক বাস পাওয়া যায়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, সেন্টমার্টিন পরিবহন (০১৭১১৩২১১৪৩, ০১৭১১৬৬৬১০৯),

গ্রীন লাইন পরিবহন (০১৭৩০০৬০০০৪, ০১৭৩০০৬০০৭১),

সোহাগ পরিবহন (০২-৯৩১১১৭৭),

শ্যামলী (০২-৯০০৩৩১, ০২-৮০৩৪২৭৫, ০১৭১৬-৯৪২১৫৪),

এস আলম (০১৮১৩-৩২৯৩৯৪, ০২-৯৩৩১৮৬৮),

হানিফ (০১৭১৩৪০২৬৭১, ০১৭১৩৪০২৬৭০),

সৌদিয়া (০১৯১৯৬৫৪৯৩৫, ০১৯১৯৬৫৪৮৫৮),

টিআর ট্রাভেলস (০১৯১১৮৬৩৬৭৩, ০১৯১০-৭৬০০০৪।

ঢকা কমলাপুর থেকে চিটাগাং মেইল, তুর্ণানিশিথা, সুবর্ণ এক্সপ্রেস, মহানগর গোধূলীসহ একাধিক ট্রেন চট্টগ্রামের উদ্দেশে ছেড়ে যায়।

বিমান সংস্থাগুলোর যোগাযোগ হলো বাংলাদেশ বিমান (০২-৮৯০১৬০০, ০২-৮৯০১৭৩০-৪৪),

নভোএয়ার (১৩৬০৩, ০২-৯৮৭১৮৯১-২, ০১৭৫৫৬৫৬৬৬০-১),

ইউএস বাংলা (০১৭৭৭৭৭৭৭৮৮, ০১৭৭৭৭৭৭৮৯৯, ০১৭৭৭৭৭৭৯০০),

রিজেন্ট এয়ার ওয়েজ (০২-৮৯৫৩০০৩),

ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ (০৯৬০৬৪৪৫৫৬৬, এক্সট-৫৪২-৪৮, ০২-৮৯৩২৩৩৮, ০২-৮৯৩১৭১২)।

ক্লাস ভেদে ঢাক-কক্সবাজার-ঢাক রিটার্ন টিকিট দশ থেকে সাড়ে এগার হাজার টাকা তবে ইদানীং বিভিন্ন বিমান সংস্থার প্রায় সারা বছরই ডিসকাউন্ট অফার থেকে থাকে। সেক্ষেত্রে ভাড়া অনেক কম হয়ে থাকে।

খাওয়া-দাওয়া ঃ

আমরা জানি প্রতিটি হোটেলেই নিজস্ব রেস্টুরেন্ট থাকে, যেখানে বরাবরই খাবারের দাম তুলনামূলক বেশি। অধিকাংশ হোটেলে সকালের নাস্তা রুমের ভাড়ার সাথে যুক্ত অর্থাৎ কমপ্লিমেন্টারি হিসেবে থাকে। সেক্ষেত্রে লাঞ্চ ও ডিনার বাইরে কোথাও করতে চাইলে কোনো চিন্তা নেই কারণ এখানে রয়েছে পর্যাপ্ত সংখ্যক রেস্টুরেন্টে। কলাতলী রোডে অবস্থিত রেস্টরেন্টের সংখ্যা বেশি। ঝাউবন, লাইভ ফিস, কয়লা, পৌশী, স্টোন ফরেস্ট, তারাঙ্গা, কাঁশবন, পানকৌড়ী, নিরিবিলি অর্কিড ক্লাব অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট, মারমেইড ক্যাফে এবং ডিভাইন সি স্টোন ক্যাফে অন্যতম। উল্লেখিত খাবার জায়গাগুলিতে ভাতের সাথে বিভিন্ন সামুদ্রিক মাছ, মাংস, ভর্তা-ভাজি, শুটকি মাছ থেকে শুরু করে সব ধরনের খাবার পাওয়া যায়। খাবার অর্ডার দেওয়ার আগে দাম জেনে নেওয়া জরুরি। খাবার পাশাপাশি সমুদ্রের সৌন্দর্য ও বিকেলের সূর্যাস্ত উপভোগ করতে কলাতলী বিচে সমুদ্রের একেবারে সাথে বেশকিছু রেস্তোরাঁ আছে।

বিশেষ দ্রষ্টব্য ঃ

=প্রথমত কক্সবাজার যাওয়ার আগে আবহাওয়ার পূর্বাভাস জেনে যাওয়া।

=দ্বিতীয়ত, প্রতি বছর সমুদ্রের পানিতে গোসল করতে গিয়ে প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে। এসব ঘটে মূলত সতর্কতা ও সচেতনতার অভাবে।

=লাবনী পয়েন্ট থেকে কলাতলী সৈকত পর্যন্ত বেশকিছু গুপ্ত খাল রয়েছে। অসাবধানতার কারণে বেশীর ভাগ পর্যটক ভাটার সময় নেমে এই খালে পরে প্রাণ হারায়।

=সুতরাং, ভাটার সময় সৈকতে গোসল করা থেকে বিরত থাকা উচিৎ। সেক্ষেত্রে নিরাপত্তা চৌকির সংকেত অনুসরণ করে সৈকতে গোসলে নামলে বিপদ থেকে দূরে থাকা যায়। চৌকি থেকে ভাটা ও জোয়ারের সময় অনুযায়ি লাল ও সবুজ পতাকা উত্তোলন করা হয়। সবুজ পতাকার সময় গোসল করা নিরাপদ। প্রয়োজনে সাথে লাইফ জ্যাকেট রাখা যেতে পারে।

=প্রবাল সাধারণত ধারাল হয়ে থাকে। সুতরাং, ইনানি ও সেন্টমার্টিনের সৈকতে প্রবালের ওপর হাঁটার সময় সাবধানে হাটতে হবে। সৈকতের পরিবেশ পরিষ্কার রাখতে এবং জীববৈচিত্র্যকে নিরাপদ রাখার খাতিরে কোনো প্রকার আবর্জনা এবং অপচনশীল দ্রব্য যেমন, পলিথিন, প্লাস্টিকের বোতল ইত্যাদি ফেলা থেকে বিরত থাকা প্রত্যেকের দায়িত্ব।

26 Dec 2017

মরা আটজন গিয়েছিলাম এই মনোরম স্বর্গীয় সুন্দর উপভোগ করতে।ভাবছেন কোথায় এটি?
বন্দরনগরী চট্টগ্রাম এর নগরের শেষপ্রান্তে কর্নফুলী নদীর কোল ঘেষে ‘চিটাগাং বোটক্লাব’,যা বাংলাদেশ নেভি দ্বারা পরিচালিত ও বেশ এলিট জায়গা।এই বোটক্লাব ই আয়োজন করে থাকে এই অনিন্দ্যসুন্দর সি ক্রুস!!!😍😍😍
কর্নফুলি নদী দিয়ে শুরু করে যাত্রা শুরু করে Bay of Bengal এ নিয়ে যাবে।ঘুরে আসতে পারবেন তেলবাহী, মাছবাহী জাহাজগুলির পাশ দিয়ে।কিছু অংশ কর্নফুলি তে ঘুরে তার পর ঢোকে সাগরে।
সাগরের ঢেউএর দোল খেতে খেতে শিপ হতেই দেখতে পারবেন একদিকের দুরের পতেংগা বিচ,ওয়েস্টপয়েন্ট নেভাল বিচ, আরেকদিকের কমলা সূর্য সাগরে ডুবে যাচ্ছে!সাগরের বাতাস,মিউজিক, ম্যাজিক শো আপনাকে ভুলিয়ে দিবে কোন দেশে আছেন,অবশেষে ফুরফুরে মেজাজ নিয়ে যাত্রা শেষ হবে….
ফেরার সময় বেশ খারাপ লাগবে যে আরেকটু থাকি ইশ!….
যাবেন কিভাবে-
যেখানেই থাকেন আগে চিটাগাং শহরে যেতে হবে।চিটাগাং শহরে পতেংগার কাছে বোটক্লাব এ যাবেন।সেখানে নেভি অফিস এ এই ক্রুস টিকেট পাওয়া যায়।১০০০ টাকা প্রতিজন।তবে টিকেট পেতে একটু নেভাল অথবা ভি আই পি কাওকে বলে রাখলে ভালো।সিট সংখা লিমিটেড হওয়াতে গেলেই টিকেট পাবেন এ আশা করা ভুল😂.টিকেট কালেক্ট করতে হয় ৩.৩০ এর পর থেকে।যতই বুক থাকুক।
সময়-২. ৩০ঘন্টা।প্রতিদিন একটা শিপ যায়।বিকেল ৪ টা-৬টা. নিয়ে যাবে আবার বোট ক্লাবেই নামাবে।
কিছু হাল্কাপাতলা স্ন্যাক্স ওরাই দিবে।তাছাড়াও কফি ও অনেক কিছু কিনতে পাওয়া যায়।
খেয়াল রাখবেন সেল্ফি তুলতে গিয়ে সাগরে যাতে না পড়েন!!😲
খাদ্যদ্রব্য যা খাবেন তার প্যাকেট খোসা বোতল সাগরে বা শিপ এ ফেলবেন না!! প্রচুর বাস্কেট আছে,সেখানে ফেলবেন।
নাবিকরা বেশ কো অপারেটিভ! দেখে ঘুরে ছবি তুলতে পারেন কন্ট্রোল রুম থেকে।প্রশ্ন থাকলে করতেও পারেন!
শীতকাল বেস্ট সময়!আশা করি ঘুরে আসবেন

Post Copied From:Sirajum Munera Anindita>Travelers of Bangladesh (ToB)