Archives

সাধারণ প্রশ্ন উত্তর (FAQ)

14 Feb 2019

সি‌কিম ট্যুরটা আমার কা‌ছে অত্যা‌ধিক ভা‌লো লে‌গে‌ছে। বি‌শেষ ক‌রে কাছ থে‌কে বরফ ছু‌য়ে দেখার অনুভূ‌তিটা ব্যক্ত করা সম্ভব নয়। আ‌মার এক বন্ধুসহ দুজ‌নে বেনা‌পোল বর্ডার দি‌য়ে কোলকাতা হ‌তে শ্যামলী প‌রিবহন‌যো‌গে শি‌লিগু‌ড়ি আসি।

* ফুলবাড়ি/বাংলাবান্ধা পোর্ট হ‌তে শিলিগুরি জাংশনের দূরত্ব ১২ কিমি আর চ্যাংড়াবান্ধা/বু‌ড়িমারী থেকে শিলিগুরি জাংশনের দূরত্ব ৮৩ কিমি। তাই যা‌দের ভিসায় ফুলবাড়ী বর্ডার র‌য়ে‌ছে তা‌দের জন্য বেটার হ‌বে।

‌* পার‌মিশন সংক্রান্ত আ‌লোচনাঃ
—————————————–
শি‌লিগু‌ড়ি Sikkim Nationalized Transport( SNT) অ‌ফিস হ‌তে ইনার লাইন পার‌মিশন করাই। অ‌ফিস খো‌লে সকাল দশটায়। পাস‌পোর্ট,‌ভিসার ফ‌টোক‌পি ও ছ‌বি সহ নি‌র্দিষ্ট ফর্ম পূরন ক‌রে সাত‌ দি‌নের আ‌বেদন ক‌রেও এগার দি‌নের জন্য বিনা টাকায় সহ‌জে পার‌মিশন পে‌য়ে‌ছি। SNT থে‌কেই ১৫০ টাকা ভাড়ায় বা‌সের টি‌কিট কে‌টে গ্যাংট‌কের উ‌দ্দ্যেশে রওনা ক‌রি।

* রং‌পো চেক পোষ্ট এবং সিল সংক্রান্ত কিছু কথাঃ
——————————————————————
বাস/জীপ যেটাই হোক না কেন আ‌গে থে‌কেই ড্রাইভার‌কে চেক‌ পো‌ষ্টে থামা‌নোর কথা ব‌লে রাখ‌তে হ‌বে। অন্যথায় গাড়ী না থা‌মা‌নোর সম্ভাবনা থে‌কে যা‌বে। রং‌পো ফ‌রেনার রে‌জি‌ষ্ট্রেশন অ‌ফি‌সের দোতলা হ‌তে ইনার লাইন পার‌মিশনের পেপা‌রে এবং পাস‌পো‌র্টে সিল মে‌রে নি‌তে হ‌বে।

‌* ফেরার দিন পাস‌পো‌র্টে সিল মারা অং‌শে শুধু মাত্র তা‌রিখ দি‌য়ে ইনার লাইন পার‌মিশ‌নের মুল ক‌পি তারা রে‌খে দি‌বে। অর্থ্যাৎ পাস‌পো‌র্টে একটাই গোল সিল থাক‌বে কিন্তু তা‌রিখ হ‌বে দুইটা।

* যাদের ভারতীয় এম্বাসী/এসএন‌টি হ‌তে পার‌মিশন নেওয়া হই‌নি,তারা রং‌পো থে‌কেও সহ‌জে পার‌মিশন নি‌তে পার‌বেন। সকাল আটটা হ‌তে রাত আটটা পর্যন্ত অ‌ফিস খোলা থা‌কে।

* কোথায়‌ থাক‌বেনঃ
————————-
গ্যাংট‌কের MG Marg এ ভা‌লো মা‌নের অ‌নেক হো‌টেল র‌য়ে‌ছে। হো‌টেল ক‌য়েকটা দে‌খে দরাদাম ক‌রে নি‌তে হ‌বে। এম‌জি মা‌র্গের হো‌টেল গু‌লো ব্যয় বহুল।

* ট্যুর প্লান তৈরী সংক্রান্ত ধারনাঃ
——————————————
হো‌টে‌লে চেক ইন ক‌রে এম‌জি মার্গ বা তার আ‌শে পা‌শের কোন এ‌জে‌ন্সির সা‌থে কথা ব‌লে আগামী দি‌নের জন্য ভ্রম‌নের প্যা‌কেজ নি‌তে হ‌বে। নর্থ সি‌কিম অর্থ্যাৎ লাচুং,ইয়ামথাং ভ্যা‌লির পার‌মিশ‌নের জন্য পাস‌পোর্ট,‌ভিসা ক‌পি,ইনার লাই পার‌মিশ‌নের ক‌পি ও ছ‌বি এ‌জে‌ন্সির কা‌ছে জমা দি‌লে তারা প‌রের দিন সকাল আটটার ভেতর পার‌মিশন ক‌রি‌য়ে দি‌বে। সাঙ্গু লে‌কের জন্যও একই রকম প্র‌সেস।
‌নি‌জেরা পার‌মিশন করা‌তে চাই‌লে সেটা প্রায় অসম্ভব ব্যাপার। পার‌মিশনকৃত সকল স্প‌টে গাইড থাক‌বে যা প্যা‌কে‌জের অন্তর্ভূক্ত।

* এ‌জে‌ন্সির ব্যাপা‌রে ধারনাঃ
————————————
গ্যাংট‌কে এ‌জে‌ন্সি বাছাই করা একটা ফ্যাক্ট। এজন্য কোন দালা‌লের খপ্প‌রে না প‌ড়ে সরাস‌রি ক‌য়েকটা এ‌জে‌ন্সির সা‌থে কথা ব‌লে যাচাই বাছাই ক‌রে প্যা‌কেজ নি‌লে ভা‌লো হ‌বে। শি‌লিগু‌ড়ি‌তে অ‌নেক এ‌জে‌ন্সি এবং দালাল পা‌বেন যারা আপনা‌কে নানা রকম প্রলোভন দেখা‌বে। দয়া ক‌রে তা‌দের খপ্প‌রে পড়‌বেন না।

* ই‌তিপূ‌র্বে সোনম না‌মের যে ম্যা‌জিক ম্যানের কথা আমরা শুন‌ছি,‌অ‌ভিজ্ঞতায় বলব তার হ‌তে দূ‌রে থাকাই উত্তম। কেননা তার কথা কা‌জে য‌থেষ্ঠ অ‌মিল পে‌য়ে‌ছি। তার সা‌র্ভি‌সে গ্রু‌পের কেহ সন্তুষ্ট হয়‌নি। তাছাড়া তার কোন অ‌ফিসও নেই। আপনারা চাই‌লে তার সা‌থে আলাপ ক‌রে ধারনা নি‌তে পা‌রেন।

* কোথায় কোথায় ঘুর‌বেনঃ
———————————–
_ সাঙ্গু লে‌কের জন্য ১দি‌নের ট্যুর।
_ লাচুং,ইয়ামথাং ভ্যা‌লি,‌জি‌রো প‌য়েন্ট,কাটাও ২ দিনের ট্যুর।
_ গ্যাংটক লোকাল ১ দি‌নের ট্যুর।

নরমা‌লি ৪ দি‌নে বি‌শেষ গুরুত্বপূর্ন স্থান গু‌লো দেখা হ‌য়ে যা‌বে।
য‌দি লা‌চেন যে‌তে চান তাহ‌লে ১ দিন সময় বে‌শি লাগ‌বে,‌পে‌লিং গে‌লে ২ দিন,নাম‌চি গে‌লে ১ দিন সময় লাগ‌বে। তাছাড়া আবহ জ‌নিত কার‌নে সব স্প‌টের পার‌মিশন সবদিন দেয় না,‌সে‌ক্ষে‌ত্রে সময় আ‌রো বাড়া‌তে হ‌বে নতুবা ফেরত আস‌তে হ‌বে।

* বর‌ফের দেখা কোথায় পা‌বেনঃ
——————————————
অফ সিজ‌নে লাচুং‌য়ে পর্যাপ্ত বরফ দেখ‌তে পা‌বেন। আর এ সম‌য়ে ইয়ামথাং ভ্যা‌লি ও জি‌রো প‌য়েন্ট পর্যন্ত পৌছা‌নো প্রায় অসম্ভব। সে‌ক্ষে‌ত্রে বিকল্প হিসা‌বে কাটাও ঘু‌রে আস‌তে পা‌রেন। অসম্ভব সুন্দর একটা জায়গা যেখা‌নে অনায়া‌শে বর‌ফে গড়াগ‌ড়ি খে‌তে পার‌বেন। অফ সিজ‌নে সাঙ্গু লে‌কের দেখা পাওয়াটা খা‌নিকটা ভা‌গ্যেরও ব্যাপার। কেননা রো‌ডে অ‌তি‌রিক্ত বরফ জমা এবং‌ তাপমাত্রা (-)° থাকায় দি‌নের পর দিন পার‌মিশন না পে‌য়ে পর্যটকরা দুঃখ ভারাক্রান্ত ম‌নে ফি‌রে আস‌তে বাধ্য হন।

* বোনাস হিসা‌বে কি কি দেখ‌তে পার‌বেনঃ
——————————————————-
১: শি‌লিগু‌ড়ি টু গ্যাংটক রাস্তার পাশ দি‌য়ে ব‌য়ে চলা নীল র‌ঙ্গের পা‌নির দৃশ্যে আপনার চোখ‌ জু‌ড়ি‌য়ে যা‌বে।
২: রাস্তার পা‌শে অসংখ্য বানর দেখ‌তে পা‌বেন।
৩: গ্যাংট‌কে ৫ মি‌নি‌টের পথ হে‌ঁটে মাত্র ১১৭ রু‌পি‌তে রোপ ও‌য়ে‌তে চড়‌তে পার‌বেন।
৪: লাচুং যাওয়া আসার সময় কাঞ্চন জংখা এর দেখা পা‌বেন।
৫: তিস্তা ন‌দির উৎপ‌ত্তি স্থল দেখ‌তে পা‌বেন।

‌* কখন ভ্রমন কর‌বেনঃ
——————————
মার্চ,এপ্রিল,মে,সেপ্টেম্বর,অক্টোবর,নভেম্বর পিক সিজন।

* কয় জ‌নে ভ্রমন কর‌বেনঃ
———————————
বাংলা‌দে‌শি‌দের জন্য আলাদাভা‌বে ভ্রমন কর‌তে হয়। ‌কোন ই‌ন্ডিয়ান‌দের সা‌থে গ্রুপ শেয়ার গ্রহন‌যোগ্য না। এজন্য ৭ জ‌নের গ্রুপ হ‌লে গাড়ী‌তে সহ‌জে বসা যায়। আর খরচও কম হ‌বে। আর গ্রুপ ছোট হ‌লেও পুরা গাড়ীর ভাড়া গুন‌তে হবে। ভাগ্য ভা‌লো হ‌লে ওখা‌নে যে‌য়েও বাংলা‌দে‌শি কা‌রো সা‌থে এড হ‌তে পা‌রেন।

* খরচ পা‌তির সম্প‌র্কে ধারনাঃ
—————————————-
ট্যু‌রের সময়,ট্যুর মে‌টের সংখ্যা,‌সিজন বে‌সি‌সে খর‌চের তারতম্য হ‌বে। কেননা পিক সিজ‌নে হো‌টেল ভাড়া,গাড়ী ভাড়া অনেক বে‌শি থা‌কে।
_ সাঙ্গু লে‌কের জন্য ১দি‌নের ট্যুরের খরচ হ‌বে 3K-5.5K
_ লাচুং,ইয়ামথাং ভ্যা‌লির জন্য প্যা‌কেজ পড়‌বে 12K-20K
_ জি‌রো প‌য়েন্ট,কাটাও এর জন্য অ‌তি‌রিক্ত 3K ক‌রে দি‌তে হয়।
_ গ্যাংটক লোকাল ট্যুর এর খরচ স্পট ভি‌ত্তিক হয়।
১০টা প‌য়ে‌ন্টের জন্য ৪ সি‌টের গাড়ীর ভাড়া 2K
‌*হো‌টেল ভাড়াঃ আমরা ছিলাম MG MARG এ। অ‌নেক সুন্দর ছিল হো‌টেলটা। এক রু‌মে ৩ জন থাকা যায়। ভাড়া ছিল 1.2K

* পোষাক সংক্রান্ত বিষয়ঃ
——————————–
– শীত নিবারক জ্যাকেট,কানটুপি,হাতমোজা,উলের পামোজা।
-ঠান্ডা, কাশি, মাথা ব্যথা, বমির পর্যাপ্ত পরিমান ঔষুধ।
-পাওয়ার ব্যাংক,চার্জার,ক্যা‌মেরা।

* সিম কার্ড সংক্রান্ত বিষয়ঃ
————————————
-বর্ডার থেকে পাওয়ার দি‌য়ে ইন্ডিয়ান সিম কার্ড কিনে নেয়া উত্তম। গ্যাংট‌কের লো‌কেরা পাওয়ার দেওয়াটা জা‌নে না। সিম কেনাটাও টাফ ব্যাপার।

** ‌লেখা সং‌ক্ষিপ্ত করার জন্য কোন তথ্য বাদ পড়‌লে সেটা এড করা হ‌বে।
ক‌মে‌ন্ট বক্স কিছু প্র‌য়োজনী পিক দেওয়া হ‌লো।

গ্যাংটক অ‌নেক প‌রিচ্ছন্ন শহর। রাস্তায় কোন ময়লা না ফে‌লে নি‌র্দিষ্ট স্থা‌নে ফেলবেন। লাচুং এ পলিথিন, পানির বোতল নিষিদ্ধ। প্রকা‌শ্যে সিগা‌রেট নি‌ষিদ্ধ।

source: Faruk Hosain <Travelers of Bangladesh (ToB)

26 Jan 2019

##আহসান মঞ্জিল ##
ঢাকার অন্যতম প্রাচীন নিদর্শন আহসান মঞ্জিল, যা পুরনো ঢাকার বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে বর্তমান ইসলামপুরের কুমারটুলিতে অবস্থিত। পুর্বে এটি ব্রিটিশ ভারতের উপাধিপ্রাপ্ত ঢাকার নবাব পরিবারের বাসভবন ও সদর কাচারি ছিল।অনবদ্য অলংকরণ সমৃদ্ধ, নবাব পরিবারের স্মৃতি বিজড়িত এ ভবনটি বর্তমানে জাদুঘর হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
সংক্ষেপে ইতিহাস
#১৭২০ সালে এখানে মোঘল সম্রাট এনায়েত উল্লাহ এর বাগান বাড়ি ছিল যা ১৭৪০ সালে ফরাসি বণিকগন এনায়েত উল্লাহ এর পুত্র শেখ মতিউল্লাহ এর কাছ থেকে ক্রয় করে বানিজ্য কুঠি তৈরি করে।
# ১৭৫৭ সালে পলাশী যুদ্ধের পর কুঠিটি ইংরেজদের নিয়ন্ত্রনে চলে যায়। পরবর্তিতে ইংরেজরা সেটি ফরাসিদের ফেরত দেয়।
#১৮৩০ সালে খাজা আলিমুল্লাহ ফরাসিদের কাছ থেকে কুঠিটি ক্রয় করে এবং সংস্কার করে নিজের বাসভবন উপযোগী করে।
#১৮৫৯ সালে তার পুত্র নওয়াব আব্দুল গনি ফরাসি কুঠির পূর্বপাশে নতুন প্রাসাদ নির্মান কাজ শুরু করেন যা ১৮৬৯ সালে শেষ হয় এবং তার পুত্র খাজা আহসান উল্লাহ এর নামানুসারে এর নামকরণ করেন “‘আহসান মঞ্জিল “‘।
#৭ এপ্রিল ১৮৮৮ সালে প্রবল টর্নেডো এবং ১২ জুন ভয়াবহ ভুমিকম্পে আহসান মঞ্জিলের বেশ ক্ষয়ক্ষতি হয় যা নবাব সংস্কার করেন।
# ১৯০৬ সালে এখানে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
#কালের সাক্ষী এই আহসান মঞ্জিলকে নবাব পরিবারের উত্তরাধিকারগন তাদের অন্তঃ কোন্দল ও আর্থিক অবস্থার অবক্ষয়ের কারনে সংরক্ষনে অপারগ হয়ে পড়লে ১৯৭৪ সালে নিলামে বিক্রির সিদ্ধান্ত নেয়।কিন্তু জাতির জনক বঙ্গবন্ধু এর স্থাপত্য গুরুত্ব উপলব্ধি করেনন এবং নিলাম প্রস্তাব বাতিল করেন ও সংস্কারপূর্বক এখানে যাদুঘর ও পর্যটন কেন্দ্র স্থাপনের নির্দেশ দেন।
দর্শনীয় জিনিস :
চারপাশে মনোমুগ্ধকর পরিবেশ সমৃদ্ধ আহসান মঞ্জিলের মূল প্রাসাদটি গ্যালারি আকারে রুপান্তর করা হয়েছে যাতে ৩১ টি কক্ষের ২৩ টিতে প্রদর্শনী উপস্থাপন করা হয়েছে।১৯০৪ সালের ফ্রিতজকাপের তোলা আলোকচিত্র অনুযায়ী বিভিন্ন কক্ষ ও গ্যালারিগুলো সাজানো হয়েছে।আহসান মঞ্জিলের যাদুঘরে এ যাবত সংগৃহীত নিদর্শন সংখ্যা মোট ৪০৭৭।
পরিদর্শনের সময়সূচী :
#গ্রীষ্মকালীন সময়সূচী :(এপ্রিল-সেপ্টেম্বর)(শনি-বুধ): সকাল ১০.৩০-বিকাল ৫.৩০।শুক্রবার দুপুর ৩.০০- সন্ধ্যা৭.৩০।
#শীতকালীন সময়সূচী :(অক্টোবর -মার্চ) শনি-বুধ: সকাল ৯.৩০- বিকাল ৪.৩০। শুক্রবার দুপুর ২.৩০ – সন্ধ্যা ৭.৩০।
#বৃহস্পতিবার সাপ্তাহিক ছুটিসহ অন্যান্য সরকারি ছুটির দিন জাদুঘর বন্ধ।
যেকোন অবসরে গিয়ে ঘুরে আসতে পারেন বন্ধুদের,প্রিয়জন বা পরিবারের সবাইকে নিয়ে কে নিয়ে।দেখে আসতে পারেন আমাদের ঐতিহ্যমন্ডিত ইতিহাসের আর এক সাক্ষীকে।

9 Jan 2019

ভ্রমণ সম্পর্কিত কিছু উপদেশ আর সর্তকতা ঃ

১) প্রথমেই বলে নেই যে কমন ছুটি তে বেড়াতে গেলে খরচ নরমালের তুলনায় ২গুন বা ৩ গুণ ও হতে পারে।
চাইলে ঢাকা থেকে ৫/৬ হাজারের মধ্যেও ঘুরে আসতে পারেন আবার ৯/১০ হাজারের মধ্যেও ঘুরে আসতে পারেন।

২)সেন্টমার্টিন যাওয়ার জন্য জাহাজের টিকেট আগেই কেটে রাখা ভালো না হলে স্ট্যান্ডিং টিকেটও তিনগুন বেশি দিয়ে নিতে হয়।

৩) অবশ্যই চেষ্টা করবেন পূর্ণিমাতে যাওয়ার, তাহলে দিনের সৌন্দর্যের সাথে রাতের স্নিগ্ধতাও খুব ভালভাবে উপভোগ করতে পারবেন।

পড়ন্ত বিকেলে দারুচিনি দ্বীপ থেকে সাইকেল চালিয়ে সূর্য ডুবা দেখতে দেখতে মেইন বীচে গিয়ে দেখবেন বিশাল একটা চাঁদ। অসম্ভব রকমের ভালো লাগবে।

৪) সাথে বাচ্চাকাচ্চা থাকলে কক্সবাজারের রেডিয়্যান্ট ফিস ওয়ার্ল্ডে ঘুরে আসতে পারেন। অার না থাকলে সেখানে না যাওয়াই ভালো,কারণ ৩০০ টাকার টিকেট কেটে ওখানে না গিয়ে সমুদ্রের পারে দাঁড়ালেও এর থেকে ভালো লাগবে।

৫) দিনের বেলায় সূর্যের প্রখরতা অনেক বেশি থাকে তাই চেষ্টা করবেন সাথে ছাতা আর সানব্লক ক্রিম রাখতে।

৬)কক্সবাজার এ আপনি একদিনে হিমছড়ি পাহাড়, ঝর্ণা,পাটওয়ারটেক ঘুরে আসতে পারেন আার এই রোডেই প্যারাসেইলিং এর সুযোগ পাবেন- ১৫০০ টাকা জনপ্রতি খরচ- সাহস আর বাজেট থাকলে মিস করবেন না- ভালো লাগবে – তবে বাতাস কম থাকলে প্যারাসেইলিং করায় না,এমনিতে বিকাল ৫ টা পর্যন্ত খোলা থাকে। আর সারাদিন যেখানেই থাকেন না কেন সন্ধ্যায় অবশ্যই লাবণী বা ইনানি বীচে থাকবেন- অতল সমুদ্রে সূর্যাস্ত দেখার জন্য।

৭) সেন্টমার্টিন গেলে অবশ্যই ছেঁড়া দ্বীপে যাবেন। টেকনাফ থেকে জাহাজ দিনে একবারই ছাড়ে সকাল ৯ টায় আর সেন্টমার্টিন থেকে দিনে একবারই জাহাজ ছাড়ে বিকাল ৩ টায়। ওখানে এক রাত না থাকলে যাওয়াই বৃথা।

ঘুরার জন্য আগে থেকে অনলাইনে বুকিং দিতে পারেন-বুকিং.কম থেকে। আপনার বাজেট অনুযায়ী সার্ভিস পছন্দ করে নিতে পারেন।

৮) আর হ্যা,পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় সমুদ্রে বা বীচে কেউ চিপসের প্যাকেট বা নোংরা ফেলবেন না ।

19 Dec 2018

কেন যাবেন নিঝুম দ্বীপঃ

নিঝুম দ্বীপ গেলে আপনি একসাথে দেখতে পারবেনঃ

  • সমুদ্র সৈকত
  • দ্বীপের অন্য এক পাশে সেন্টমারটিনের ফিল
  • সুন্দরবনের ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট
  • নিঝুম দ্বীপের জাতীয় উদ্যান
  • হরিণের পালের দেখা
  • আর সেই সাথে ভরপুর প্রাকৃতিক দৃশ্য তো আছেই।

কিভাবে যাবেন নিঝুম দ্বীপঃ
নিঝুম দ্বিপ যাওয়ার অনেক গুলা রুট আছে। তার মধ্যে উল্লেখ্যযোগ্যঃ

সড়ক পথে :
বাংলাদেশের যে প্রান্ত থেকে নিঝুম দ্বীপ ভ্রমন করতে হলে ঢাকা বা চট্টগ্রাম থেকে যাত্রা শুরু করলে প্রথমে তাকে সড়ক পথে নোয়াখালী হেড কোয়ার্টার মাইজদী সোনাপুর আসতে হবে। এখানে কিছু আবাসিক হোটেলও রয়েছে। সোনাপুর থেকে প্রতি আধা ঘন্টা পর পর বাস এবং বেবী টেক্সী পাওয়া যায়। সোনাপুর থেকে চরবাটা ৪নং স্টীমার ঘাট বয়ারচর চেয়ারম্যান ঘাট থেকে প্রতি দিন সী-ট্রাক/ইঞ্জিল চালিত ট্রলার নলচির ঘাট, অথবা তমরুদ্দি ঘাট বা চরচেঙ্গোর ঘাটে পর্যন্ত চলাচল করে। সী ট্রাকে নদীপথে সময় লাগে দেড় থেকে দুই ঘন্টা। সী ট্রাকের ভাড়া ৫০ টাকা ও ৬৫ টাকা লাগবে। নলচিরা ঘাট থেকে বাসে অথবা বেবী টেক্সীতে হাতিয়া হেড কোয়ার্টার ওছখালী বাজারে আসতে হবে। নলচিরা থেকে ওছখালীর দূরত্ব ১৩ কিঃ মিঃ। ভাড়া প্রদান করতে হয় বাস ২০ টাকা,বেবী টেক্সী জনপ্রতি ৩০ টাকা।

অপর দিকে যারা চরচেঙ্গার সী ট্রাকে রওয়ানা হবেন তাদেরকে তমরুদ্দি ঘাটে এসে নামতে হবে। তমরুদ্দি ঘাট থেকে হাতিয়ার হেড কোয়ার্টার ওছখালীর দুরত্ব ৮ কিঃ মিঃ। বেবী অথবা রিক্সাতে আসা যাওয়া ভাড়া প্রতি রিক্সা ২০ টাকা প্রদান করতে হয়। সময় লাগে আধা ঘন্টা।

হাতিয়া ওছখালী হেড কোয়ার্টার থাকার ব্যবস্থা স্থানীয় রেস্ট হাউজ অথবা উপজেলা ডাক বাংলো, রেডক্রিসেন্ট সড়ক ও জনপথ এবং দ্বীপ উন্নয়ন সংস্থা উন্নতমানের রেস্ট হাউজ রয়েছে। আর পর্যটক ভ্রমণার্থীরা উঠতে পারেন সিঙ্গাপুর রেস্ট হাউজ/ তালুক রেস্ট হাউজ , হোটেল প্রিন্স এবং সালমা রেস্ট হাউজ। রেস্ট হাউজে অবস্থান করে পরদিন ভ্রমণের পরিকল্পনা করতে হবে। ন্বপ্নের নিঝুম দ্বীপ যাওয়ার জন্য হাতিয়া হেড কোয়ার্টার হতে নদী পথে তমরুদ্দি ঘাট থেকে ইঞ্জিন চালিত ট্রলার যোগে নিঝুম দ্বীপ পর্যটন কেন্দ্র এবং বিনোদন স্পট যাওয়া যায়। পযর্টকগণ ইচ্ছা করলে তমরুদ্দি হতে বেবী টেক্সী ভাড়া করতে পারেন আসা যাওয়া ৪০০-৬০০ টাকা। বর্তমানে নিঝুম দ্বীপে সড়ক পথে নিরাপদে কম সময়ে কম টাকায় যাওয়া যায় বলে ভ্রমনার্থীরা এই পথেই বেশি চলাচল করছে।

নদী পথে :
ঢাকা থেকে :
ঢাকা সদরঘাট থেকে বিকাল ৫টার সময় আধুনিক সুযোগ সুবিধা সম্বলিত তিনতলা বিশিষ্ট লঞ্চ হাতিয়া তমরদ্দি ঘাটের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে পরের দিন সকাল সাড়ে ৮টায় পৌছে। ভাড়া নেয়া হয় সাধারণ যাত্রী ১৫০ টাকা, কেবিন যাত্রী ৪০০ টাকা থেকে ৮০০ টাকা বা তার চেয়ে কিছু কম বেশি হতে পারে। তমরদ্দি ঘাট থেকে একই ধরনের আর একটি লঞ্চ দুপুর সাড়ে বারোটায় ঢাকার সদর ঘাটের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে পরদিন ভোর পাচঁটায় পৌছে।

17 Dec 2018

সময়ঃ ৪ দিন ৫ রাত।
খরচঃ জনপ্রতি ৪৯০০ টাকা।
আগামী বছর থেকে সেন্ট মার্টিনে রাত থাকা যাবেনা এটা শোনার পর থেকে সেন্ট মার্টিন ট্যুরের প্লান করলাম। এবারের ট্যুর নিয়ে এতটাই এক্সাইটেড ছিলাম যে ট্যুরের আগে আমরা ককয়েকবার দারুচিনি দ্বীপ সিনেমা দেখে ফেলি 😁 প্লান ও করলাম ওইভাবে। সিনেমাতে ওরা যেভাবে সেন্ট মার্টিন যায়, আমরাও সেভাবে যাবো 😀।এভাবে গেলে খরচ ও কিছুটা কম হয়😜।ঢাকা থেকে ট্রেনে চিটাগং, চিটাগং থেকে বাই রোড টেকনাফ, টেকনাফ থেকে ট্রলারে সেন্ট মার্টিন। তবে প্যারা না নিয়ে ঢাকা থেকে সরাসরি বাসে টেকনাফ যাওয়া ভাল।আমাদের অবশ্য এভাবে যেতেই মজা লেগেছে।প্রথমে প্লান ছিল যে সরাসরি সেন্ট মার্টিন যাবো, সেন্ট মার্টিন শেষ করে কক্সবাজার এসে থাকবো।পরে ভেবে দেখলাম যে সেন্ট মার্টিন থেকে কক্সবাজার আসলে কক্সবাজার ভাল লাগবে না।এজন্য কক্সবাজার আগে থেকে তারপর সেন্ট মার্টিন যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলাম।

প্রথম রাতঃ আমরা ছিলাম ৪ জন। ট্রেনের টিকিট আগে থেকেই কাটা ছিল। ৩ তারিখ রাত ৯ টায় ‘মহানগর এক্সপ্রেসে’ করে আমরা চিটাগং এর উদ্দ্যেশ্যে যাত্রা শুরু করি। নামে এক্সপ্রেস হলেও ট্রেন চলছিল লোকাল বাসের মত 😞 অবশেষে ট্রেন ভোর ৪.২০ এর দিকে আমাদের চিটাগং নামিয়ে দেয়। স্টেশন থেকে নিউ মার্কেটের দিক কিছুক্ষণ হাটাহাটির পর দেখি হানিফ এর একটা বাস কক্সবাজার যাবে।এমন সময় ওইখান থেকে বাস পাবো ভাবতেও পারিনি,তো তাড়াতাড়ি ৪ টা টিকিট কেটে বাসে উঠে পড়লাম।৫.২০ এর দিকে বাস ছাড়ে এবং ৮.৩০ এর দিকেই আমরা কক্সবাজার পৌছে যাই।
খরচঃ ট্রেনের টিকিট =৩৪৫ (জনপ্রতি)
চিটাগং – কক্সবাজার(বাস)=২৫০
‎খাবার ও অন্যান্য =২২৫
‎মোট=৮২০ ( জনপ্রতি)
প্রথম দিনঃ ডলফিনের মোড়ের ওখানে বাস থেকে নেমেই আমরা হোটেল খোজা শুরু করি। লাবনি পয়েন্ট, সুগন্ধা পয়েন্ট থেকে এদিকে হোটেল ভাড়া কিছুটা কম।তো কিছুক্ষণ খোজার পর আমারা Dynamic SH Resort এ উঠি।ডাবল বেডের রুমের ভাড়া ১০০০,জনালা দিয়ে সমুদ্র দেখা যায় 😊 আশেপাশে অনেক হোটেল আছে,উঠার সময় অবশ্যই দামাদামি করে উঠবেন। হোটেল থেকে ফ্রেশ হয়ে ৯.৩০ এর দিকে রাধুনি রেস্টুরেন্ট এ নাশতা করে সি বিচে চলে যাই। সেখানে ৩ ঘন্টা মত ঝাপাঝাপি করে আবার হোটেলে ফিরে আসি।হোটেল থেকে ফ্রেশ হয়ে হালকা খাবার খেয়ে কলাতলির মোড়ের দিকে চলে যাই আমরা। কলাতলির মোড় থেকে একটা অটো ঠিক করি হিমছড়ি ও ইনানী যাওয়া-আসার জন্য।যেহেতু আমরা ৪ জন্য ছিলাম এজন্য অটোতে করে যাই।বেশি মানুষ হলে চান্দের গাড়িতে যাওয়া ভাল। যাওয়া আসার ভাড়া ঠিক করেছিলাম ৪০০,কিন্তু বিভিন্ন অজুহাতে উনি আরো ১০০ টাকা বেশি নিলেন।কক্সবাজারের ভেতর এই রাস্তাটা আমার অনেক ভাল লাগে,একপাশে সমুদ্র আরেকপাশে পাহাড়😊 আহা! এই দৃশ্য দেখতে দেখতে হিমছড়ি চলে আসলাম। হিমছড়ি পাহাড়ে উঠার জন্য ৩০ টাকা করে ৪ টা টিকিট কেটে সিড়ি বেয়ে উঠা শুরু করলাম।এখনে উঠার সময় অবশ্যই হাতে একটা পানির বোতল রাখবেন।হিমছড়ি ১ ঘন্টামতো ঘুরে আমরা ইনানী বিচের দিকে চলে গেলাম।পড়ন্ত বিকালে ইনানী বিচের মত সুন্দর দৃশ্য আর কোথাও নাই 😊ইনানী তে সূর্যাস্ত দেখে আমরা অটোতে করে হোটেলে চলে আসলাম।হোটেলে কিছুক্ষণ রেস্ট নিয়ে রাধুনি রেস্টুরেন্ট থেকে রাতের খাবার খেলাম। রাধুনি রেস্টুরেন্ট এর খাবার ভাল, প্যাকেজ ১১০ টাকা থেকে শুরু।রাতের খাবার খেয়ে চলে আসলাম বিচে।প্রায় ৩ ঘন্টা মত বিচ ধরে হেটেছি সমুদ্রের গর্জন শুনেছি,গান গেয়েছি সবাই মিলে,ফানুস উড়িয়েছি। বিচ থেকে সাড়ে এগারোটার দিকে হোটেলে এসে দিলাম ঘুম,যেহেতু পরদিন খুব সকালে টেকনাফ যেতে হবে।
খরচ =জনপ্রতি ৬৯০ টাকা

দ্বিতীয় দিনঃ সকাল ৫.৫০ এর দিকে হোটেল থেকে বের হয়ে,একটা অটো নিয়ে চলে আসি লালদীঘির মোড়ে।৬.৩০ এর বাস ধরবো বলে তাড়াতাড়ি চলে আসি।সেখান থেকে স্পেশাল সার্ভিস নামে একটা বাসে উঠি।এই বাস প্রতি আধাঘন্টা পরপর ছাড়ে,টিকিট ১৪০ টাকা করে।নাম স্পেশাল সার্ভিস হলেও এটা আসলে লোকাল বাস। ৯ টার দিকে চলে আসলাম টেকনাফ বাস টার্মিনাল এ।সেখান থেকে ১০ টাকা অটো ভাড়া দিয়ে চলে আসলাম ট্রলার ঘাটে। ওইখানে ঢাকা কস্তুরি নামে এক রেস্টুরেন্ট এ নাশতা করে যখন বের হবো তখন হল ঝামেলা।ঢাকা থেকে সেন্ট মার্টিন উড়াবো বলে যে ফানুসগুলা নিয়ে গিয়েছিলাম দেখি সেগুলা নাই।২ জন কে ট্রলারের টিকিট কাটতে পাঠিয়ে দিয়ে ২ জন চলে গেলাম টার্মিনাল,যেখানে বাস থামে।অনেকক্ষণ খোজার পর কপাল ভাল ছিল দেখে পেয়েও গিয়েছিলাম 😊।২৩০ টাকা করে(২০০ টাকা ট্রলার ভাড়া + ঘাট ভাড়া ৩০) ট্রলারের টিকিট কেটে ট্রলারে উঠে পড়লাম।ট্রলারে করে সেন্ট মার্টিন যাওয়া আসলে অন্যরকম মজা,যারা গিয়েছে শুধু তারাই জানে। ট্রলারে যেতে ২.৩০ ঘন্টা মত সময় লাগে। মালবাহী ট্রলার গুলা সেফ।একটাতে সর্বোচ্চ ৩৫-৪০ জন বসতে পারবেন,প্রতিটি ট্রলারেই লাইফ জ্যাকেট আছে। প্রথমে ১.৩০ ঘন্টা, ট্রলার যখন নাফ নদীতে থাকে তখন রোদে একটু কস্ট হয়।নাফ নদী থেকে যখন সমুদ্রে চলে আসে ট্রলার তখন শুরু হয় মজা। সমুদ্রের বাতাস সাথে বিশাল বড়বড় ঢেউ।ট্রলার শুধু দুলতে থাকে এদিকে ওদিকে,অন্যরকম অনুভূতি কাজ করে তখন। ৪০-৪৫ মিনিট এভাবেই চলতে চলতে অবশেষে চলে আসলাম স্বপ্নের সেন্ট মার্টিন😊

সেন্ট মার্টিন দ্বীপের আরেক নাম দারুচিনি দ্বীপ। একসময় পর্তুগিজরা এসেছিলো এখানে,তো তারা এটার নাম দিয়েছিল দারদিউসি।স্থানীয় লোকজন তো আর দারদিউসি বলতে পারতো না,তারা বলতো দারুচি।দারদিউসি থেকে দারুচি,দারুচি থেকে দারুচিনি, দারুচিনি থেকে আলটিমেটলি এখন দারুচিনি দ্বীপ।

কি দেখার আছে এখানে?
কি নাই এখানে! পুরা সেন্ট মার্টিন দ্বীপ টাই একটা রহস্য। সেন্ট মার্টিনের এত রুপ যে বলে শেষ করা যাবেনা। সকালে এক রুপ তো বিকালে আরেক। সন্ধ্যায় একরকম তো রাতে আরেকরকম। জোয়ারে এক রুপ তো ভাটায় অন্য রুপ।

জেটি ঘাটে উঠার পর অনেকে ২০ টাকা ঘাটভাড়া চাইতে পারে, কাউকে কোন টাকা দিবেন না।এখন শুরু হল হোটেল ঠিক করার পালা।এটার জন্য অবশ্য আমাদের তেমন বেশি বেগ পেতে হয়নি।ট্রলার থেকে নামার পর একটা লোক বললো যে হোটেল কি আগে থেকে বুক দেওয়া আছে।আমাদের যেহেতু আগেথেকে বুকিং দেওয়া ছিল না এজন্য আমরা তার সাথে গিয়েছিলাম হোটেল দেখতে।ছুটির দিন ব্যাতিত অন্যান্য দিনে হোটেল বুকিং দেওয়ার কোন দরকারই নাই।যে লোকটা আমাদের হোটেল দেখাতে নিয়ে গিয়েছিল ওইটাতেই আমরা উঠি,ওই হোটেলের মালিক উনি নিজেই।নাম ‘হোটেল সী হার্ট’ একদম বাজারের উপর। তারচেয়ে বড় কথা হল ওইখানে আমরা ডাবল বেডের রুমে ২ দিন ছিলাম মাত্র ১৩০০ টাকায়।লোকটার নাম মুজিব ভাই,অনেক হেল্পফুল লোক।কারো লাগলে আমার কাছথেকে নাম্বার নিতে পারেন।তবে সী ভিউ পাওয়ার জন্য পশ্চিম বিচে থাকতে হবে,ওইদিকে অনেক ভাল ভাল রিসোর্ট আছে।তো ওইখান থেকে সময় নষ্ট না করে তাড়াতাড়ি চলে গেলাম বিচে,সমুদ্রের স্বচ্ছ নীল পানিতে ঝাপাঝাপি করতে। প্রায় ২ ঘন্টা সমুদ্রে গোসল করার পর হোটেলে এসে ফ্রেশ হয়ে দুপুরের খাবার খেতে গেলাম।খাবার সময় অবশ্য দামাদামি করে খাবেন,প্যাকেজ হিসাবে। এখানে সবকিছুর দাম একটু বেশি বেশি।তো দুপুরের খাবার খেতে খেতে প্রায় বিকাল হয়ে গিয়েছিল 😜 খাবার শেষ করার পর ভেবেছিলাম সাইকেল নিয়ে বের হবো কিন্তু বিকালের টাইমে সাইকেলের চাহিদা বেশি থাকায় ওইদিন আর সাইকেল পায়নি 😞বিচ থেকে সূর্যাস্ত দেখে হাটতে হাটতে পশ্চিম বিচের দিকে গেলাম।ততক্ষণে জোয়ারের পানি বেড়েই চলেছে।রাতের বেলা পশ্চিম দিকটা অনেক জমজমাট থাকে।নিচে সমুদ্রের গর্জন আর উপরের আকাশে লক্ষ লক্ষ তারা,এ সময়ে সমুদ্রের পাশদিয়ে হাটা! এক কথায় অসাধারন ফিলিংস 😊 এদিক থেকে রুপচাদা ফ্রাই ও কাকড়া ফ্রাই খেয়ে আবার পূর্বদিকে হাটা শুরু করলাম।যখন আসছিলাম তখন এদিকে পানি কম ছিল,আশেপাশে লোকজন ও ছিল।কিন্তু এখন জোয়ারের পানি বেড়ে অনেক উপরে উঠে গেছে,আশেপাশে লোকজন ও নাই।অনেক কষ্টে গেলাম,হালকা হালকা ভয় ও পেয়েছিলাম। তো ওখান থেকে এসে মেইন বিচের কাছে ফানুস উড়িয়ে আরো ২ ঘন্টা হাটাহাটি করে ওইদিনের মতো হোটেলে চলে গেলাম।পরদিনের প্লান ছিল হেটে ছেড়াদ্বীপ যাবো এজন্য ১১.৩০ এর দিকেই ঘুমিয়ে পড়লাম।
খরচ =জনপ্রতি ৯৫৫ টাকা

তৃতীয় দিনঃ যেহেতু হেটে ছেড়াদ্বীপ যাবো, এজন্য সকাল ৫.৩০ এর দিকে হোটেল থেকে বের হয়ে জেটির ঘাট থেকে পূর্বদিক থেকে হাটা শুরু করলাম।এখান থেকে সূর্যোদয় দেখে হালকা খাবার খেয়ে ছেড়াদ্বীপ এর দিকে হাটা শুরু করলাম।হেটে গেলে সাধারণ ২-২.৩০ ঘন্টা সময় লাগে।ভাটার সময় সাইকেলে করে ও ছেড়াদ্বীপ যাওয়া যাবে।বেশিরভাগ মানুষ ট্রলারে করে ছেড়াদ্বীপ যায়,ট্রলার ভাড়া ১৫০ টাকা।তবে ভাল হয়ে হেটে যেতে পারলে।হেটে গেলে অবশ্যই স্থানীয়দের থেকে জোয়ার ভাটার সময় জেনে যাবেন। প্রায় ৮ টার দিকে আমারা ছেড়াদ্বীপ এর কাছাকাছি পৌছে যাই।জোয়ারের পানি তখনো কিছুটা ছিল এজন্য আমরা ৩০ টাকা করে নৌকাতে পার হই।এখানকার পানিটা অনেকবেশি নীল আর স্বচ্ছ। সেন্ট মার্টিনের সবচেয়ে সুন্দর জায়গা বোধহয় ছেড়াদ্বীপ।এখানকার প্রবাল গুলা অনেকবেশি প্রানবন্ত। প্রায় ২ ঘন্টা মত ছেড়দ্বীপে ঘোরাঘুরির পর একটা করে ডাব খেয়ে পশ্চিমের দিক হাটা শুরু করলাম।হেটে সেন্ট মার্টিন দ্বীপ ঘুরতে হলে(ছেড়াদ্বীপ সহ) আপনাকে ১৫/১৭ কি মি হাটতে হবে।পুরাটা দ্বীপ হেটে না ঘুরলে এর আসল সৌন্দর্য উপভোগ করা যাবেনা। পশ্চিমের দিক যতই হেটেছি ততই বিস্মিত হয়েছি।পশ্চিমের দিকে আসলেই বোঝা যায় কেন এ দ্বীপকে ন্যাচারাল কোরাল দ্বীপ বলে।বিশালাকার, ক্ষুদ্রাকার, অদ্ভুতাকার সব কোরাল। এগুলা দেখে হাটতে হাটতে চলে আসলাম হুমায়ুন আহমেদ স্যারের বাসার সামনে।একটা করে ডাব খেয়ে আবার হাটা শুরু করলাম।পশ্চিমদিক থেকে উত্তরের দিকে গেলেই বোঝা যাবে কেন এই দ্বীপের আরেক নাম নারিকেল জিঞ্জিরা। অবশেষে দীর্ঘ ৭ ঘন্টা(সকাল ৬ টা থেকে দুপুর ১ টা) হেটে আবার পূর্বের জায়গাতে চলে আসলাম।ততক্ষণে সবাই অনেক ক্লান্ত,তো এই ক্লান্তি দূর করার জন্য সমুদ্রে নেমে পড়লাম।সমুদ্র থেকে উঠে দুপুরের খাবার খেয়ে ৪০ টাকা ঘন্টায় সাইকেল নিয়ে বের হয়ে পড়লাম।আজ আর লেইট করিনি 😁 সাইকেল নিয়ে চলে গেলাম আবার পশ্চিমের দিকে,ওখান থেকে ডাব খেয়ে আবার এদিকে চলে এসেছি।রাতের বেলা বিচের পাশে বসে থেকেছি অনেক্ষন,গান গেয়েছি।সন্ধ্যায় কোরাল বার-বি-কিউ করতে দিয়েছিলাম রেস্টুরেন্ট এ,৯.৩০ এ ওইটা খেয়ে আবার বিচে চলে আসি।কিছুক্ষণ হাটাহাটি করে,ফানুস উড়িয়ে ওইদিনের মত হোটেলে এসে ঘুম দেই।
খরচ=জনপ্রতি ৬৬০ টাকা
চতুর্থ দিনঃ আজ যেহেতু চলে জেতে হবে এজন্য খুব তাড়াতাড়ি ঘুমথেকে উঠি।সকাল সকাল সাইকেল ভাড়া করে ২ ঘন্টা মত সাইকেল চালিয়ে, একটা করে ডাব খেয়ে হোটেলে চলে আসি।ব্যাগ গুছিয়ে সকালের নাশতা করে ট্রলারের টিকিট কেটে ১০ টার দিকে ট্রলারে উঠে পড়ি।আসার দিনের তুলনায় আজ সমুদ্রে ঢেউ একটু বেশি ছিল।ট্রলারে উঠার পর শুনলাম যে ট্রলার শাহ পরীর দ্বীপে থামবে। শাহ পরীর দ্বীপ থেকে সিএনজি তে করে টেকনাফ যাওয়া যায়, ভাড়া ১০০ টাকা করে।শাহ পরীর দ্বীপে নেমে পড়লাম,ওখানে একটু ঘুরে সিএনজি নিয়ে চলে গেলাম টেকনাফ বার্মিজ মার্কেটে।এখানে দুপুরের খাবার খেয়ে বার্জিম মার্কেটে ঢুকলাম।কক্সবাজারের বার্মিজ মার্কেটের তুলনায় এখানকার বার্মিজ মার্কেটের জিনিসপত্রের দাম কম।কেনাকাটা শেষ করে অটোতে করে চলে আসলাম বাস টার্মিনাল। বাস টার্মিনাল থেকে সিএনজিতে উঠলাম মেরিন ড্রাইভ হয়ে কক্সবাজার যাবো, ভাড়া জনপ্রতি ২৫০ টাকা।সেন্ট মার্টিন আসলে এই অংশটুকু কেউ মিস করবেন না।বিকাল বেলা অসম্ভব রকম ভাল লাগে মেরিন ড্রাইভ দিয়ে গেলে।একদিকে সমুদ্র, আরেকদিকে পাহাড়। আহা! সন্ধ্যা ৭ টার দিকে চলে আসলাম কক্সবাজার।ঢাকা ফেরার টিকিট কেটে আবার চলে গেলাম রাধুনি রেস্টুরেন্ট এ রাতের খাবার খেতে।রাতের খাবার খেয়ে বিচের ধারে একটু হেটে চলে গেলাম বাস কাউন্টারে।১০.১৫ তে বাস ছিল,মজার বিষয় হল নরমাল বাসের টিকিট কেটে এসি বাসে এসেছি 😁ঢাকা থেকে রিজার্ভ বাস এসেছিল তো এজন্য 😁নির্ধারিত সময় বাস ছেড়ে দেয়,বাসে উঠে এক ঘুম দিয়ে উঠে দেখি সকাল ৮ টা বাজে বাস ঢাকায় চলে এসেছে😞 সময় থাকলে আরো একদিন থাকতাম সেন্ট মার্টিন।
খরচ= জনপ্রতি ১৭৭০

মোট খরচঃ ৮২০+৬৯০+৯৫৫+৬৬০+১৭৭০=৪৯০০(প্রায়)

**** সেন্ট মার্টিন থেকে কেউ সাথে করে প্রবাল আনবেন না। পানির বোতল,চিপস/খাবারের প্যাকেট সহ অপচনশীল জিনিসপত্র যেখানে সেখানে ফেলবেন না,নির্ধারিত স্থানে ফেলুন।একটা প্লাস্টিকের বোতল মাটিকে প্রায় ৪৫০ বছর দূষিত করে রাখে।সেন্ট মার্টিন আমাদের সম্পদ সুতরাং একে রক্ষা করা আমাদের সকলের দায়িত্ব।

Source: Tanvir Fuyad‎ <Travelers of Bangladesh (ToB)

 

11 Dec 2018

বিশ্বের সবচাইতে বড় সমুদ্রসৈকত এটি। সড়কপথে ঢাকা থেকে প্রায় সাড়ে চারশ কিলোমিটার এবং চট্টগ্রাম থেকে প্রায় দেড়শ কিলোমিটার দূরে রয়েছে নয়নাভিরাম এ সমুদ্র সৈকত। এখানকার সমুদ্রের পানিতে বড় বড় ঢেউয়ের মাঝে গোসল, সূর্যাস্তের মনোহারা দৃশ্য সকল পযটকের মূল আকর্ষণ। কক্সবাজার সৈকত ভ্রমণের শুরুটা হতে পারে লাবনী পয়েন্ট থেকে। সকাল বেলা বের হলে এ সৌন্দর্যের সাথে বাড়তি পাওনা হবে নানান বয়সী জেলেদের মাছ ধরার দৃশ্য। শুধু সমুদ্র সৈকতই নয়, কক্সবাজার শহরের বৌদ্ধ মন্দির, বার্মিজ মার্কেট, হিলটপ রেস্টহাউস ইত্যাদি কক্সবাজার ভ্রমণের অন্যতম দ্রষ্টব্য স্থান। কক্সবাজারে থাকার জন্য এখন অনেক আধুনিক হোটেল মোটেল রয়েছে। ৪ স্টার হোটেল থেকে শুরু করে কম দামি বিভিন্ন মোটেলও রয়েছে। ২০,০০০টাকার হোটেল যেমন রয়েছে, তেমনি একটু পিছন দিকে মাত্র ৫০০টাকার হোটেলে থাকার ব্যবস্থা রয়েছে।
সৈকতের মেরিনড্রাইভ একটি অসাধারণ রাস্তা। এই রাস্তা ধরে যত দূরে যাবেন পুরো জায়গাই আপনাকে মুগ্ধ করবে। একপাশে পাহাড় আর একপাশে সমুদ্র দেখে হবেন বিমোহিত।

হিমছড়িঃ

কক্সবাজার-Cox’s Bazar

কক্সবাজার শহর থেকে মাত্র ১২ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই হিমছড়ি। কক্সবাজার থেকে সেখানে ৩ ভাবে যাওয়া যায়। খোলা জীপ, রিকশা কিংবা ব্যাটারী চালিত রিকশাতে করে সেখানে যাওয়া যাবে। খোলা জীপে গেলে জনপ্রতি ভাড়া ৫০-৭০ টাকা পড়বে। রিজার্ভ নিলে এটি পড়বে ১২০০ -১৫০০টাকা।রিকশা করে যেতে হলে ভাড়া লাগবে ১৫০-২৫০ টাকা। আর ব্যাটারি চালিত রিকশায় গেলে আসা যাওয়ার ভাড়া পড়বে ৪০০-৬০০টাকা। এখানে যাওয়ার পথে উপভোগ করতে পারবেন সৈকত লাগোয়া আকাশ ছোঁয়া পাহাড় । হিমছড়ি রয়েছে পাহাড়ের হিম শীতল ঝরণা।

ইনানী সমুদ্র সৈকতঃ

কক্সবাজার থেকে হিমছড়ি পাড় হয়ে আরও ৮কি.মি পূবে রয়েছে আরেক আকর্ষণ সৈকত ইনানী, যাকে বলা হয়, মিনি সেন্টমার্টিন। এখানে রয়েছে বিস্তীর্ণ পাথুরে সৈকত। সমুদ্র থেকে ভেসে এসে এখানকার ভেলাভূমিতে জমা হয়েছে প্রচুর প্রবাল। কক্সবাজার থেকে এখানে পৌছতে রিজার্ভ জীপ নিলে লাগবে ১৮০০-২৫০০ টাকা। ব্যাটারি চালিত রিকশা নিয়েও সারাদিনের জন্য ঘুরলে ভাড়া পড়বে ৮০০-১০০০টাকা।

মহেশখালী দ্বীপঃ

বাংলাদেশের একমাত্র পাহাড়ি দ্বীপ মহেশখালী। এখানে দেখার মূল আকর্ষণ বিখ্যাত আদিনাথ মন্দির । এছাড়াও এখানে রয়েছে খুবই মনোরম একটি বৌদ্ধ মন্দির। আঁকাবাঁকা সিঁড়ি ভেঙ্গে আদিনাথ পাহাড়ের চূড়ায় উঠলেই পাওয়া যাবে বিখ্যাত আদিনাথ মন্দির। এ দ্বীপের দক্ষিণে রয়েছে বিস্তীর্ণ সাগর আর পশ্চিমে বিশাল বিশাল পাহাড়। এখানে থাকার ব্যবস্থা নাই। কক্সবাজার থেকে সকালে গিয়ে এ দ্বীপটি ভালো করে দেখে আবার বিকেলের মধ্যেই ফেরা সম্ভব। কক্সবাজার ট্রলার ঘাট থেকে মহেশখালী যেতে পারেন স্পিড বোটে, সময় লাগবে মাত্র ১৫ মিনিট, সেক্ষেত্রে ভাড়া পড়বে ১৫০ টাকা অথবা ইঞ্জিন বোটে, যেতে লাগবে ১ ঘন্টা, এ ক্ষেত্রে ভাড়া লাগবে ৩০টাকা।

সোনাদিয়া দ্বীপঃ

কক্সবাজারে আরেকটি আকর্ষণীয় দ্বীপের নাম সোনাদিয়া। শীতে প্রচুর অতিথি পাখির দেখা মেলে এখানে। প্রায় ৪৬৩ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের এ দ্বীপটিতে কক্সবাজার থেকে ইঞ্জিন বোটে গিয়ে আবার সন্ধ্যার আগেই ফিরে আসা সম্ভব।

কুতুবদিয়াঃ

কক্সবাজার জেলার আরেকটি দর্শনীয় স্থান কুতুবদিয়া দ্বীপ, যার আয়তন প্রায় ২১৬ বর্গ কিলোমিটার। এ দ্বীপের দর্শনীয় স্থান হলো বিখ্যাত প্রাচীন বাতিঘর, কালারমা মসজিদ এবং কুতুব আউলিয়ার মাজার। কক্সবাজারের কস্তুরী ঘাট থেকে কুতুবদিয়া স্পিডবোটে মাত্র ৪৫ মিনিটে যাওয়া যায়, যার ভাড়া ১৫০-২০০টাকা কিংবা খরচ বাচাতে যেতে পারেন ইঞ্জিন বোটে। এক্ষেত্রে সময় লাগে ২ ঘন্টার মতো আর ভাড়া ৫০-৭০ টাকা।

টেকনাফঃ

বাংলাদেশের সর্বদক্ষিণের ভূমি টেকনাফ, কক্সবাজার থেকে যার দূরত্ব প্রায় ৮৫ কি.মি.। টেকনাফ হচ্ছে পাহাড়, নদী আর সমুদ্রের অনণ্য এক মিলনস্থল। চারিদিকে পাহাড় তার পাশদিয়ে বয়ে যাওয়া নাফ নদী। যেকারও ভাল লাগতে বাধ্য। এখানকার সৈকতকে বলা হয়, বাংলাদেশের সবচেয়ে পরিচ্ছন্ন সৈকত। এখানকার দর্শণীয় স্থানের মধ্যে রয়েছে, ঐতিহাসিক মাথিনের কূপ,শাহ পরীর দ্বীপ, কুদুম গুহা, টেকনাফ নেচার পার্ক । কক্সবাজার থেকে বাসে করে টেকনাফে যেতে ভাড়া লাগে ৮০-১২০টাকা অথবা মাইক্রোবাসে করে যেতে ভাড়া লাগে ১০০-১৫০ টাকা।

সেন্টমার্টিন দ্বীপঃ

সেন্ট মার্টিন দ্বীপ বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরের উত্তর-পূর্বাংশে অবস্থিত একটি প্রবাল দ্বীপ। এটি কক্সবাজার জেলার টেকনাফ থেকে প্রায় ৯ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং মিয়ানমারের উপকূল হতে ৮ কিলোমিটার পশ্চিমে নাফ নদীর মোহনায় অবস্থিত। প্রচুর নারিকেল পাওয়া যায়। বলে স্থানীয়ভাবে একে নারিকেল জিঞ্জিরাও বলা হয়ে থাকে। এ দ্বীপের আয়তন প্রায় ৮ বর্গকিলোমিটার। দ্বীপে প্রায় ৬৬ প্রজাতির প্রবাল ১৮৭ প্রজাতির শামুক-ঝিনুক, ১৫৩ প্রজাতির সামুদ্রিক শৈবাল, ১৫৭ প্রজাতির গুপ্তজীবী উদ্ভিদ ২৪০ প্রজাতির সামুদ্রিক মাছ, চার প্রজাতির উভচর ও ১২০ প্রজাতির পাখি পাওয়া যায়। মাছের মধ্যে রয়েছে পরী মাছ, প্রজাপতি মাছ, বোল কোরাল, রাঙ্গা কই, সুঁই মাছ, লাল মাছ, উড়ক্কু মাছ ইত্যাদি। কোনো কোনো পর্যটক ধারণা করেন,সেন্ট মার্টিন বিশ্বের সেরা দ্বীপের একটি। টেকনাফ থেকে জাহাজে করে ২.৫০ ঘন্টা ভ্রমন করে যেতে হয় সেন্টমার্টিনে। জাহাজের আসা-যাওয়ার ভাড়া পড়বে ৯০০-১৫০০টাকা। সেন্টমার্টিনে হোটেল ভাড়া পড়বে ৫০০ – ২০০০টাকা। এখানে গেলে রাত্রিযাপন না করলে আসল মজা পাওয়া যাবেনা। এখানে গিয়ে পযটকরা প্রচুর মাছ এবং ডাব খেয়ে থাকে।

কক্সবাজারে থাকার ব্যবস্থাঃ

বর্তমানে কক্সবাজারে থাকার জন্য ফাইভস্টার ক্যাটাগরির অনেক হোটেল হয়েছে। ফোরস্টার ও থ্রিস্টার বা সমমানের হোটেল ও রিসোর্টের সংখ্যাও কম নয়। সৈকতের নিকটের বেশিরভাগ হোটেলই ভাল মানের। হোটেল ও রিসোর্ট কলাতলী ও লাবনী পয়েন্টে অবস্থিত। ইনানির নিকটবর্তী এলাকাতেও থাকার জন্য বেশকিছু হোটেল গড়ে উঠেছে। এ ছাড়া এর বাইরে আছে ইকো রিসোর্ট। মৌসুম ভেদে অর্থাৎ পিক ও অফ-পিক অনুযায়ি রুমের ভাড়ার মধ্যে তারতম্য হয়। বছরের সেপ্টেম্বর থেকে এপ্রিল পিক এবং মে থেকে আগস্ট অফ-পিক টাইম হিসাবে গণ্য হয়ে থাকে। অফ-পিক টাইমে হোটেল ও ক্লাস ভেদে রুম ভাড়া ২৫-৫০% পর্যন্ত ডিসকাউন্ট পাওয়া যায়। সৈকত থেকে একটু দূরত্বে সাধারণ মানের অনেক হোটেল রয়েছে।

সীগাল হোটেল লিমিটেড (০১৭৬৬৬৬৬৫৩০, ০৩৪১-৬২৪৮০-৯০),

হোটেল দ্য কক্স টুডে (০১৭৫৫৫৯৮৪৫০, ০৩৪১-৫২৪১০-২২),

হোয়াইট অর্কিড (০১৮২৫৯২৩৯৮৯),

হোটেল সী ওয়ার্ল্ড (০৩৪১-৫২২২৬, ০৩৪১-৫১৬২৫),

সায়মন বিচ রিসোর্ট ( ০৩৪১-৫১৩৫০, ০১৭৫৫৬৯১৯১৭),

ওশান প্যারাডাইস হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট (০১৯৩৮৮৪৬৭৬৩-৭, ০৩৪১-৫২৩৭০-৯),

লং বিচ হোটেল (০১৭৫৫৬৬০০৫১, ০৩৪১-৫১৮৪৩-৬),

হোটেল সী ক্রাউন (০১৮১৭০৮৯৪২০, ০৩৪১-৬৪৭৯৫),

এ্যালবাট্রস রিসোর্ট (০১৮১৮৫৪০১৭৭, ০১৮১৬০৩৩৪৪৫, ০১৮১৮৫৯৬১৭৩, ০৩৪১-৬৪৬৮৪),

হোটেল রয়াল রিগ্যাল পেলেস (০১৯৭৭৯৩৬৬২৩),

হোটেল প্রাইম পার্ক (০১৭৭৫৬০৯৯১৫, ০১৮৪২৬০৯৯১৫, ০৩৪১-৬২৩১১),

হোটেল ইউনি রিসোর্ট (০১৭১৩১৬০১৬৭),

হোটেল মিডিয়া ইন্টারন্যাশনাল (০১৭১১৩৪১১৬৪)।

পর্যটনের রয়েছে হোটেল শৈবাল (০৩৪১-৬৩২৭৪),

মোটেল প্রবাল (০৩৪১-৬৩২১১),

হোটেল লাবনী (০১৯১৩৯৩২০৮২)।

ইনানির আশেপাশের উল্লেখযোগ্য হল,

লা বেলা রিসোর্ট (০১৮২৫৯২৩৯৮৯)।

রয়াল টিউলিপ সী পার্ল বিচ রিসোর্ট (৮০০৩৫৮০৮৪৬, ০৩৪১-৫২৬৬৬-৮০),

ইনানি রয়াল রিসোর্ট (০১৭৭৭৭৯০১৭০)।

আর ইকো রিসোর্ট এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য- মারমেইড ইকো রিসোর্ট (প্যাচার দ্বীপ, ০১৮৪১৪৬৪৬৪-৯,) সাম্পান ইকো রিসোর্ট (০১৯৭৪৭২৬৭২৬)।

এখানে এক রাত্রি যাপনের জন্য রয়েছে এক হাজার থেকে সর্বোচ্চ ৬০ হাজার টাকা দামের কক্ষ।

যারা থাকার জন্য এত খরচ করতে চাচ্ছেননা, তাদের জন্য কমমূল্যে থাকার হোটেলও রয়েছে। হোটের সীগালের পিছনে রোডে অর্থাৎ কলাতলি রোডের হোটেলগুলোতে মাত্র ৫০০ টাকাতেও থাকা যায়।

কক্সবাজারে যাতায়াত সম্পর্কিত তথ্য:

আমরা যারা ঢাকা থেকে কক্সবাজার যাওয়ার পরিকল্পনা করব তাদের জন্য বাসের পাশাপাশি রয়েছে বিমানের সুবিধা। তা ছাড়া ট্রেনে করে চট্টগ্রাম গিয়ে সেখান থেকে বাসে করে কক্সবাজার যাওয়া যায়। ঢাকা থেকে কক্সবাজার বাসে যেতে সময় লাগে প্রায় দশ থেকে বার ঘণ্টা, বিমানে ৫০ মিনিট। এসি/ননএসি দুই ধরনের বাস আছে। বাস ভেদে এসি/ননএসি ভাড়া ৮০০-১৫০০ টাকা। ঢাকা থেকে প্রতিদিনই অনেক বাস পাওয়া যায়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, সেন্টমার্টিন পরিবহন (০১৭১১৩২১১৪৩, ০১৭১১৬৬৬১০৯),

গ্রীন লাইন পরিবহন (০১৭৩০০৬০০০৪, ০১৭৩০০৬০০৭১),

সোহাগ পরিবহন (০২-৯৩১১১৭৭),

শ্যামলী (০২-৯০০৩৩১, ০২-৮০৩৪২৭৫, ০১৭১৬-৯৪২১৫৪),

এস আলম (০১৮১৩-৩২৯৩৯৪, ০২-৯৩৩১৮৬৮),

হানিফ (০১৭১৩৪০২৬৭১, ০১৭১৩৪০২৬৭০),

সৌদিয়া (০১৯১৯৬৫৪৯৩৫, ০১৯১৯৬৫৪৮৫৮),

টিআর ট্রাভেলস (০১৯১১৮৬৩৬৭৩, ০১৯১০-৭৬০০০৪।

ঢকা কমলাপুর থেকে চিটাগাং মেইল, তুর্ণানিশিথা, সুবর্ণ এক্সপ্রেস, মহানগর গোধূলীসহ একাধিক ট্রেন চট্টগ্রামের উদ্দেশে ছেড়ে যায়।

বিমান সংস্থাগুলোর যোগাযোগ হলো বাংলাদেশ বিমান (০২-৮৯০১৬০০, ০২-৮৯০১৭৩০-৪৪),

নভোএয়ার (১৩৬০৩, ০২-৯৮৭১৮৯১-২, ০১৭৫৫৬৫৬৬৬০-১),

ইউএস বাংলা (০১৭৭৭৭৭৭৭৮৮, ০১৭৭৭৭৭৭৮৯৯, ০১৭৭৭৭৭৭৯০০),

রিজেন্ট এয়ার ওয়েজ (০২-৮৯৫৩০০৩),

ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ (০৯৬০৬৪৪৫৫৬৬, এক্সট-৫৪২-৪৮, ০২-৮৯৩২৩৩৮, ০২-৮৯৩১৭১২)।

ক্লাস ভেদে ঢাক-কক্সবাজার-ঢাক রিটার্ন টিকিট দশ থেকে সাড়ে এগার হাজার টাকা তবে ইদানীং বিভিন্ন বিমান সংস্থার প্রায় সারা বছরই ডিসকাউন্ট অফার থেকে থাকে। সেক্ষেত্রে ভাড়া অনেক কম হয়ে থাকে।

খাওয়া-দাওয়া ঃ

আমরা জানি প্রতিটি হোটেলেই নিজস্ব রেস্টুরেন্ট থাকে, যেখানে বরাবরই খাবারের দাম তুলনামূলক বেশি। অধিকাংশ হোটেলে সকালের নাস্তা রুমের ভাড়ার সাথে যুক্ত অর্থাৎ কমপ্লিমেন্টারি হিসেবে থাকে। সেক্ষেত্রে লাঞ্চ ও ডিনার বাইরে কোথাও করতে চাইলে কোনো চিন্তা নেই কারণ এখানে রয়েছে পর্যাপ্ত সংখ্যক রেস্টুরেন্টে। কলাতলী রোডে অবস্থিত রেস্টরেন্টের সংখ্যা বেশি। ঝাউবন, লাইভ ফিস, কয়লা, পৌশী, স্টোন ফরেস্ট, তারাঙ্গা, কাঁশবন, পানকৌড়ী, নিরিবিলি অর্কিড ক্লাব অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট, মারমেইড ক্যাফে এবং ডিভাইন সি স্টোন ক্যাফে অন্যতম। উল্লেখিত খাবার জায়গাগুলিতে ভাতের সাথে বিভিন্ন সামুদ্রিক মাছ, মাংস, ভর্তা-ভাজি, শুটকি মাছ থেকে শুরু করে সব ধরনের খাবার পাওয়া যায়। খাবার অর্ডার দেওয়ার আগে দাম জেনে নেওয়া জরুরি। খাবার পাশাপাশি সমুদ্রের সৌন্দর্য ও বিকেলের সূর্যাস্ত উপভোগ করতে কলাতলী বিচে সমুদ্রের একেবারে সাথে বেশকিছু রেস্তোরাঁ আছে।

বিশেষ দ্রষ্টব্য ঃ

=প্রথমত কক্সবাজার যাওয়ার আগে আবহাওয়ার পূর্বাভাস জেনে যাওয়া।

=দ্বিতীয়ত, প্রতি বছর সমুদ্রের পানিতে গোসল করতে গিয়ে প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে। এসব ঘটে মূলত সতর্কতা ও সচেতনতার অভাবে।

=লাবনী পয়েন্ট থেকে কলাতলী সৈকত পর্যন্ত বেশকিছু গুপ্ত খাল রয়েছে। অসাবধানতার কারণে বেশীর ভাগ পর্যটক ভাটার সময় নেমে এই খালে পরে প্রাণ হারায়।

=সুতরাং, ভাটার সময় সৈকতে গোসল করা থেকে বিরত থাকা উচিৎ। সেক্ষেত্রে নিরাপত্তা চৌকির সংকেত অনুসরণ করে সৈকতে গোসলে নামলে বিপদ থেকে দূরে থাকা যায়। চৌকি থেকে ভাটা ও জোয়ারের সময় অনুযায়ি লাল ও সবুজ পতাকা উত্তোলন করা হয়। সবুজ পতাকার সময় গোসল করা নিরাপদ। প্রয়োজনে সাথে লাইফ জ্যাকেট রাখা যেতে পারে।

=প্রবাল সাধারণত ধারাল হয়ে থাকে। সুতরাং, ইনানি ও সেন্টমার্টিনের সৈকতে প্রবালের ওপর হাঁটার সময় সাবধানে হাটতে হবে। সৈকতের পরিবেশ পরিষ্কার রাখতে এবং জীববৈচিত্র্যকে নিরাপদ রাখার খাতিরে কোনো প্রকার আবর্জনা এবং অপচনশীল দ্রব্য যেমন, পলিথিন, প্লাস্টিকের বোতল ইত্যাদি ফেলা থেকে বিরত থাকা প্রত্যেকের দায়িত্ব।

26 Dec 2017

মরা আটজন গিয়েছিলাম এই মনোরম স্বর্গীয় সুন্দর উপভোগ করতে।ভাবছেন কোথায় এটি?
বন্দরনগরী চট্টগ্রাম এর নগরের শেষপ্রান্তে কর্নফুলী নদীর কোল ঘেষে ‘চিটাগাং বোটক্লাব’,যা বাংলাদেশ নেভি দ্বারা পরিচালিত ও বেশ এলিট জায়গা।এই বোটক্লাব ই আয়োজন করে থাকে এই অনিন্দ্যসুন্দর সি ক্রুস!!!😍😍😍
কর্নফুলি নদী দিয়ে শুরু করে যাত্রা শুরু করে Bay of Bengal এ নিয়ে যাবে।ঘুরে আসতে পারবেন তেলবাহী, মাছবাহী জাহাজগুলির পাশ দিয়ে।কিছু অংশ কর্নফুলি তে ঘুরে তার পর ঢোকে সাগরে।
সাগরের ঢেউএর দোল খেতে খেতে শিপ হতেই দেখতে পারবেন একদিকের দুরের পতেংগা বিচ,ওয়েস্টপয়েন্ট নেভাল বিচ, আরেকদিকের কমলা সূর্য সাগরে ডুবে যাচ্ছে!সাগরের বাতাস,মিউজিক, ম্যাজিক শো আপনাকে ভুলিয়ে দিবে কোন দেশে আছেন,অবশেষে ফুরফুরে মেজাজ নিয়ে যাত্রা শেষ হবে….
ফেরার সময় বেশ খারাপ লাগবে যে আরেকটু থাকি ইশ!….
যাবেন কিভাবে-
যেখানেই থাকেন আগে চিটাগাং শহরে যেতে হবে।চিটাগাং শহরে পতেংগার কাছে বোটক্লাব এ যাবেন।সেখানে নেভি অফিস এ এই ক্রুস টিকেট পাওয়া যায়।১০০০ টাকা প্রতিজন।তবে টিকেট পেতে একটু নেভাল অথবা ভি আই পি কাওকে বলে রাখলে ভালো।সিট সংখা লিমিটেড হওয়াতে গেলেই টিকেট পাবেন এ আশা করা ভুল😂.টিকেট কালেক্ট করতে হয় ৩.৩০ এর পর থেকে।যতই বুক থাকুক।
সময়-২. ৩০ঘন্টা।প্রতিদিন একটা শিপ যায়।বিকেল ৪ টা-৬টা. নিয়ে যাবে আবার বোট ক্লাবেই নামাবে।
কিছু হাল্কাপাতলা স্ন্যাক্স ওরাই দিবে।তাছাড়াও কফি ও অনেক কিছু কিনতে পাওয়া যায়।
খেয়াল রাখবেন সেল্ফি তুলতে গিয়ে সাগরে যাতে না পড়েন!!😲
খাদ্যদ্রব্য যা খাবেন তার প্যাকেট খোসা বোতল সাগরে বা শিপ এ ফেলবেন না!! প্রচুর বাস্কেট আছে,সেখানে ফেলবেন।
নাবিকরা বেশ কো অপারেটিভ! দেখে ঘুরে ছবি তুলতে পারেন কন্ট্রোল রুম থেকে।প্রশ্ন থাকলে করতেও পারেন!
শীতকাল বেস্ট সময়!আশা করি ঘুরে আসবেন

Post Copied From:Sirajum Munera Anindita>Travelers of Bangladesh (ToB)

26 Dec 2017

ঊনবিংশ শতাব্দীর শুরুতে ইংরেজদের কাছ থেকে ক্রয় সূত্রে মালিক হয়ে রামকৃষ্ণ সাহা মন্ডল পাকুটিয়ায় জমিদারী শুরু করেন। তাঁর ছিল দুই ছেলে বৃন্দাবন ও রাধা গোবিন্দ। রাধা গোবিন্দ ছিলেন নিঃসন্তান এবং বৃন্দাবন চন্দ্রের ছিল তিন ছেলে। এরা হলেন- ব্রজেন্দ্র মোহন, উপেন্দ্র মোহন ও যোগেন্দ্র মোহন। বৃন্দাবনের মেজছেলে উপেন্দ্রকে তাঁর কাকা নিঃসন্তান রাধা গোবিন্দ দত্তক নেন। ফলে উপেন্দ্র মোহন দত্তক সন্তান হিসাবে কাকার জমিদারীর পুরো সম্পদের অংশটুকু লাভ করেন। ১৯১৫ সালের ১৫ই এপ্রিল প্রায় ১৫ একর এলাকা জুড়ে তিন ভাইয়ের নামে উদ্ভোদন করা হয় একই নকশার পর পর তিনটি প্যালেস বা অট্টালিকা। পাকুটিয়া জমিদার বাড়িটি তিন মহলা বা তিন তরফ নামে পরিচিত ছিল। প্রতিটি মহলের রয়েছে নিজস্ব সৌন্দর্য, লতাপাতার চমৎকার কারুকাজ গুলো মুগ্ধ করার মতো। প্রতিটি জমিদার বাড়ীর মাঝ বরাবর মুকুট হিসাবে লতা ও ফুলের অলংকরণে কারুকার্য মন্ডিত পূর্ণাঙ্গ দুই সুন্দরী নারী মূর্ত্তি এবং সাথে এক মূয়ূর সম্ভাষণ জানাচ্ছে অথিতিকে। এছাড়া দ্বিতীয় তলার রেলিং টপ বা কার্নিশের উপর রয়েছে পাঁচ ফুট পর পর বিভিন্ন ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে থাকা অসংখ্য সুন্দর সুন্দর ছোট আকৃতির নারী মূর্ত্তি।

এই তিনটি স্থাপনাই অপূর্ব শিল্প সুষমামণ্ডিত। পাশ্চত্তীয় শিল্প সংস্কৃতি সমৃদ্ধ মনের মাধুরী মিশিয়ে স্থাপত্য মূল্যের এক অনন্য সৃষ্টি তাদের এই অট্টালিকা গুলো। তিনটি বাড়ীর সামনেই রয়েছে তিনটি নাট মন্দির। বড় তরফের পূজা মন্ডপের শিল্পিত কারুকাজ শতবছর পর এখনও পর্যটককে মুগ্ধ করে। জমিদার বাড়ির সামনে বিশাল মাঠ আর মাঠের মাঝখানে রয়েছে দ্বিতল নাচঘর। প্রতিটি জমিদার বাড়ির রয়েছে নিজস্ব পাতকূয়া। জমিদার বাড়ির কাছাকাছি পশ্চিমে আছে উপেন্দ্র সরোবর নামে বিশাল একটি আট ঘাটলা পুকুর। এই তিন মহলার জমিদাররা প্রত্যেকেই ছিলেন প্রজানন্দিত। তাঁদের নিজেদের প্যালেস তৈরীর পর ১৯১৬ খ্রিঃ তাঁরা তাঁদের পিতা বৃন্দাবন এবং কাকা রাধা গোবিন্দের যৌথ নামে বৃন্দবন চন্দ্র রাধা গোবিন্দ উচ্চ বিদ্যালয় (বিসিআরজি) প্রতিষ্ঠা করেন। এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কৃতি ছাত্রদের মধ্যে রয়েছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্টাতা উপচার্য এবং সাবেক মন্ত্রী ডঃ এ,আর মল্লিক, সাবেক প্রধান মন্ত্রী আতাউর রহমান খান এবং ভবা পাগলার মতো বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ । দেশ বিভাগের পরে তৎকালীন সরকার কর্তৃক পুরো সম্পদ অধিগ্রহণের পর জমিদারদের প্রতি আনুগত্য প্রকাশের নিদর্শন স্বরূপ ১৯৬৭ সালে এই সম্পদের উপর গড়ে তোলা হয় বিসিআরজি ডিগ্রী কলেজ।

যেভাবে যাবেন- গাবতুলী থেকে বাসে এস বি লিংক/জনসেবা – পাকুটিয়া। ভাড়া ৫০-৬০ টাকা

Post Copied From:Likhon Ahmed‎>Travelers of Bangladesh (ToB)

26 Dec 2017

অমৃতসর যেতে হলে আপনাকে কলকাতা থেকে রাজধানী এক্সপ্রেস ট্রেনে দিল্লি যেতে হবে।ভাড়া জনপ্রতি ৩০০০ রুপি এসি থ্রী-টায়ার।কলকাতা থেকে দিল্লি ১৬ ঘন্টায় পৌঁছে যাবেন।দিল্লি থেকে অমৃতসর মেইল ট্রেনে অমৃতসর আসতে হবে।দিল্লি থেকে অমৃতসর পৌঁছাতে সময় লাগবে কমপক্ষে ৮ ঘন্টা। ভাড়া জনপ্রতি ১৩৫০ রুপি এসি থ্রী-টায়ার।এছাড়াও দিল্লি থেকে ভলভো বাসে অমৃতসর যাওয়া যায়।

আমার মতে জীবনে একবার হলেও পাঞ্জাব যাওয়া উচিত।পাঞ্জাবের খাবার আর পাঞ্জাবের মানুষের অমায়িক ব্যবহারের জন্য।যারা খেতে ভালোবাসেন তাদের জন্য পাঞ্জাব ভ্রমন অতি আবশ্যক।পাঞ্জাবের লাচ্ছি একবার খেলে আপনার অন্য কোন লাচ্ছি আর ভালো লাগবে না।শুধু পাঞ্জাবের খাবার খাওয়ার জন্য হলেও সবার একবার পাঞ্জাব যাওয়া উচিত।

ব্রাদারস অমৃতসরী ধাবা নামে একটা রেস্টুরেন্ট আছে গোল্ডেন টেম্পল এর পাশে।খুবই ভালো মানের রেস্টুরেন্ট আর দামও কম। ওখানে খেতে পারেন।সব মজাদার আইটেম পেয়ে যাবেন।

পাঞ্জাবে জিনিষপত্রের দাম অপেক্ষাকৃত কম। এখান থেকে শপিং করতে পারেন। গোল্ডেন টেম্পল এর চারপাশে ছোট ছোট অসংখ্য দোকান। অনেকটা ঢাকার চকবাজারের মতো। এই মার্কেটটার নাম গুরু বাজার। অমৃতসর থেকে এমব্রয়ডারী, কাঠের উপর সুক্ষ কাজ, উলেন পোশাক ও গহনা কিনতে পারেন।ঢাকার চেয়ে অনেক কম দামে কিনতে পারবেন।

অমৃতসরে যা যা দেখবেন:-

১) গোল্ডেন টেম্পল।

২) জালিয়ানওয়ালা বাগ।

৩) ওয়াগা বর্ডার।

৪) ইন্ডিয়া গেট/ ওয়ার মেমোরিয়াল।

৫) হাতি গেট।

৬) দুরজিয়ানা টেম্পল।

৭) গোবিন্দগড় ফোর্ট ।

৮) মহারাজা রনজিত সিং প্যানারোমা।

৯) মহারাজা রনজিত সিং মিউজিয়াম।

১০) রামবাগ গার্ডেন।

১১) ভাটিন্ডা ফোর্ট।

গোল্ডেন টেম্পল:-

অমৃতসরের প্রধান আকর্ষণ স্বর্ণমন্দির। ১৫০২ খ্রিস্টাব্দে লাহোর থেকে মাত্র ২৫ কিলোমিটার দূরে জি টি রোডের ধারে এক প্রকাণ্ড জলাশয়ের ধারে, শিখ ধর্মের প্রতিষ্ঠাতা গুরুনানক একটি মন্দির গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখেন। এই সময় তিনি এই জলাশয়ের নাম রাখেন অমৃত সায়র। তার থেকেই শহরের নাম হয় অমৃতসর। গুরু নানক জীবদ্দশায় তাঁর এই স্বপ্ন বাস্তবায়িত হয়নি। ১৫৮৮ খ্রিস্টাব্দে শিখ গুরু অর্জুন সিং অমৃত সায়র-এর ধারে স্বর্ণ মন্দিরের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন। ষষ্ঠ গুরু হরগোবিন্দ সিং-এর সময় ৪০০ কেজি সোনার পাতে মুড়ে ফেলা হয় মন্দিরের উপরিভাগ।

১৬০৪ খ্রিস্টাব্দে এই মন্দিরের শিখদের ধর্মগ্রন্থ গ্রন্থসাহেব স্থাপন করা হয়। মন্দিরের এই অংশের নাম হরবিন্দ সাহিব। হরমন্দির সাহিবে ঢোকার দরজা চারদিকে চারটি। জাতিধর্মবর্ণ নির্বিশেষে সকলের অবারিত দ্বার বোঝাবার জন্যেই নাকি এই চার দুয়ারের নির্মাণ। বর্তমান স্বর্ণমন্দিরটি মোট সাড়ে চার বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে। শিখধর্মাবলম্বী ছাড়াও সারা পৃথিবী থেকে পর্যটক এই স্বর্ণমন্দিরটি দেখতে আসেন। প্রতিদিন এখানে প্রায় ৯০ হাজার মানুষের খাবারের আয়োজন করা হয়। এই মন্দিরটি ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকে।

কথিত আছে এই মন্দিরে প্রণামী সংগ্রহ হয় প্রতি মাসে প্রায় ৮০ কোটি রুপি। শিখধর্মাবলম্বীর প্রত্যেক যুবককে রণবিদ্যা, আত্মরক্ষা কৌশলবিদ্যা ও যুদ্ধবিদ্যা রপ্ত করতে হয় প্রথা হিসেবে। আদি যুদ্ধের এই কলাকৌশল শিক্ষা দেয়ার জন্য রয়েছে একটি বিশাল মাঠ আছে। মূলত এখান থেকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত রণকৌশলীরা এই মন্দিরের নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত। এখনো নিরাপত্তা রক্ষীরা তীর, ধনু, কাতরা, বল্লম, খাজা, খঞ্জনী জাতীয় অস্ত্র ব্যবহার করে।

এই মন্দিরে প্রবেশের আগে নারী পুরুষ নির্বিশেষে মাথা আবৃত করতে হয়। ঢুকেই একটু গিয়ে অমৃত সরোবর, যার চারদিকে মার্বেলে মোড়া রাস্তা। অনেকেই সরোবরের জল পবিত্র মনে করে মাথায় স্পর্শ করান, অনেকে স্নানও করেন। প্রবেশপথ সরোবরের যেদিকে হরমন্দির সাহিব তার বিপরীতে। কাজেই একদিক থেকে যাত্রা শুরু করে হরমন্দির সাহিব দর্শন করে অপর দিক দিয়ে বেরোলে অমৃত সরোবরকে পরিক্রমা করা হয়ে যায়। সরোবরটি যথেষ্ট বড়ো এবং চত্বরটি বিশাল। হরমন্দির সাহিবের আশেপাশে সরোবরের ধার দিয়ে আরো গুরদ্বোয়ারা আছে, সেখানেও সব সময় গুরু গ্রন্থসাহিব পাঠ হয়।

অষ্টাদশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে আফগান আক্রমণের পর মন্দিরের কিছু অংশ ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়, যা ১৭৬৪ সালে পুর্নস্থাপিত হয়। ঊনবিংশ শতকের গোড়ার দিকে, মহারাজা রঞ্জিত সিং স্বর্ণের দ্বারা মন্দিরটিকে সজ্জিত এবং আবৃত করেছিলেন, যার থেকে মন্দিরটি “স্বর্ণ মন্দির” ডাক নামে পরিচিত।

সরোবরটিতে একটি দুঃখ ভঞ্জনি বেড়ি নামে অলৌকিক স্থান রয়েছে। পট্টি শহরের এক ধনী জমিদার দূনি চাঁদ খত্রী এই কিংবদন্তী বেড়ীর সঙ্গে সংযুক্ত ছিলেন, এঁনার পাঁচটি কন্যা ছিল। একদিন তিনি তাদেরকে জিজ্ঞাসা করলেন যে, তাদেরকে খাবার কে দেয়। তাদের মধ্যে বড় চার কন্যা উত্তর দিল, তাদের পিতাই তাদের অনুগ্রহকারী বা পৃষ্ঠপোষক এবং তাদের খাবার তিনিই দেন। কিন্তু রজনী নামের কনিষ্ঠতম কন্যাটি বলল ঈশ্বরই সমস্ত জীবকে বাঁচিয়ে রাখেন। দূনী চাঁদ এই কথা শুনে ক্রুদ্ধ হয়ে, সেই কন্যাকে একজন কুষ্ঠরোগীর সঙ্গে বিবাহ দেন। তিনি তাঁর স্বামীকে ভালোবাসতেন এবং তার যত্নও করতেন। সেই সময় গুরু রাম দাস জী অমৃতসরে একটি নতুন শহর নির্মাণ করছিলেন। রজনী তাঁর স্বামীকে অমৃতসরে নিয়ে আসেন। তিনি গুরুর ভক্তদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন, তাঁরা রজনীর অবস্থার প্রতি করুণা করে থাকার জন্য একটি কক্ষ প্রদান করেন। তাঁকে সর্বসাধারণ রান্নাঘরের মধ্যে খাবার রান্নার দায়িত্ব দেওয়া হয়। তিনি যখন তার কর্মে যোগ দিতে আসতেন তখন সঙ্গে করে তাঁর স্বামীকে নিয়ে আসতেন। স্বামীকে একটি গাছের ছায়ার নীচে বসিয়ে রান্নাঘরে ঢুকতেন। একদিন সে তার স্বামীকে একটি বেড় গাছের নীচে ছেড়ে যান। তাঁর স্বামী, লক্ষ্য করেন যে সেখানকর কিছু কাক পুকুরের জলে ডুব দিচ্ছে এবং তারা কালো থেকে সাদায় রূপান্তরিত হয়ে যাচ্ছে। তিনি তখন বুঝতে পারলেন যে এটি কোনও সাধারণ জল নয়। তিনি পুকুরটির সামনে গেলেন এবং জলের মধ্যে ডুব দিলেন। তিনি সুস্থ হয়ে উঠলেন এবং তিনি আর কুষ্ঠরোগী রইলেন না। তিনি পুনরায় সেই গাছের তলায় এসে বসে রইলেন। রজনী তাকে সনাক্ত করতে সক্ষম হচ্ছিলেন না। সেই যুবক তাঁকে বিশ্বস্ত করালেন এবং এই দম্পতি পুকুরটি সম্পর্কে গুরু রাম দাস জীকে বলে গেলেন। এটি শ্রবণের পর গুরু রাম দাস জী এই কথা মন্দিরের প্রধান পুরোহিত বাবা বুদ্ধ জী-কে বলেন। তিনি বলেন যে এই পুকুরটি এমন একটি স্থান যেটি গুরু অমর দাস জী-র পূর্ব প্রতীক্ষায় ছিল। বৃক্ষটি কষ্ট এবং যন্ত্রণার উপশম হিসাবে, এটি দুঃখ ভঞ্জনি বেড়ী হিসাবে পরিচিত ছিল।

মন্দিরটির সরলতার প্রতীকস্বরূপ, মন্দিরটিতে চারটি প্রবেশপথ আছে; যা জীবনের সমস্ত দিক ও পথ থেকে আসা মানুষকে স্বাগত জানায়। গোল্ডেন টেম্পল বা স্বর্ণ মন্দিরটি শিখদের জন্য একটি পবিত্র স্থান ও উপাসনার একটি জায়গা।

শিখ ধর্মে বিশ্বাস করা হয় যে দুনিয়ার সবাই সমান। ধনী, গরিব, শিক্ষিত, অশিক্ষিত, ধর্ম-কর্ম করা না করা লোক, সবাই-ই সমান। এইটাই মূলনীতি।

টেম্পলে একটা লংগরখানা আছে, যেখানে দিন রাত ২৪ ঘন্টা সবাইকে ফ্রী খাওয়ানো হয়। যে কেউ, যখন তখন গিয়ে সেখানে খেতে পারবে। “রাব নে বানা দে জোড়ি” মুভির একটা গানের শ্যুটিং এখানে হয়েছিল।হারমিন্দার সাহিব/ গোল্ডেন টেম্পেল এরিয়ার ভিতরেই রয়েছে আকাল তাকত এবং তারা তারান সাহিব।

১) এটি প্রতিদিন প্রায় ১,০০,০০০ জন ব্যক্তি দ্বারা পরিদর্শিত হয়।

২) স্বর্ণ মন্দিরের চূড়াটি শুদ্ধ সোনা দ্বারা নির্মিত।

৩) মন্দিরটির যৌথ রন্ধনশালায় প্রায় ৭৫,০০০ জন উপাসক প্রতিদিন লঙ্গর (খাবার) গ্রহণ করে।

জালিয়ানওয়ালা বাগঃ-

১৯১৯ সালে বৈশাখী উৎসবের আগের দিন অনেক মানুষ সেখানে জড়ো হয়। তারা জানত না যে তখন মার্শাল ল চলছিল। সেখানে ব্রিটিশ সেনারা টানা দশ মিনিট এলোপাথারি গুলিবর্ষন করে। পরে একটা কুয়োর ভিতরে হাজারখানেক লাশ পাওয়া যায়। এরিয়াটা অনেক বড় এবং খুবই সুন্দর করে গুছিয়ে রেখেছে। এর পরে গেলাম লাঞ্চ করতে, খেলাম পাঞ্জাবী আর সাউথ ইন্ডিয়ান থালি। ফেরার পথে কুলফি আর লাচ্ছি খেলাম। কুলফিটা মনে হল পুরাই দুধের ক্ষীর! মাত্র ৩০টাকা দাম। আর লাচ্ছিটা ছিল ২৫টাকা কিন্তু একদম অরিজিনাল টক দই। আমার সুগার থাকা সত্বেও পরপর দুবার খেলাম! এখনো স্বাদ মুখে লেগে আছে।

ওয়াগা বর্ডারঃ

সাড়ে তিনটার মধ্যে ওয়াগা বর্ডারের উদ্দেশ্যে রওনা হতে হবে,তা না’হলে ভারতীয় ও পাকিস্তানী সীমান্তপ্রহরীদের যৌথভাবে পতাকা নামানো ও গার্ড বদলের জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠান মিস হয়ে যাবে।
ওয়াগা বর্ডার থেকে লাহোর মাত্র ২৩ কিমি দূর। আর অমৃতসর শহর থেকে ওয়াগা বর্ডার ২৫ কি.মি.।সেখানে প্রতিদিন বিকেলে ভারতীয় এবং পাকিস্তানি কিছু সেনা মিলে কুচকাওয়াজ করে। এটাকে ওরা ফ্রেন্ডলি এক্টিভিটি বলে। বছরের ৩৬৫ দিনই এটা চলে। এই বর্ডার দিয়েই লাহোর দিল্লী বাস যাতায়াত করে। কুচকাওয়াজ ঠিক ৪.৩০ মিনিটে শুরু হয়।৩০ মিনিট হয়।৫ টায় শেষ হয়।প্রচুর লোকের সমাগম হয়।ইন্ডিয়া এবং পাকিস্তান দুই দেশের লোকের মধ্যেই চরম উত্তেজনা বিরাজ করে।দুই দিক থেকেই স্লোগান চলে।

গোবিন্দগড় ফোর্ট (Gobindgarh Fort):-

The foundation of the Gobindgarh Fort was laid in the mid 18th century by the leader of the Bhangi misl (clan). The imposing brick and lime structure, though locally known as the Bhangian Da Kila, derives its formal name from Guru Gobind Singh. Historically, possession of the fort was considered akin to possessing power over Punjab’s religious and political centres. It fell into Maharaja Ranjit Singh’s hands in the early 19th century during his expansionist missions. He further strengthened the walls of the fort and built a moat around it, adding several strong bastions to the structure.

It is said to have housed the Maharaja’s treasury, including the famed Kohinoor diamond within its walls. Legend has it that Ranjit Singh was coveting the legendary cannon Zamzama (which finds mention in Rudyard Kipling’s Kim), reportedly fashioned for Ahmad Shah Abdali out of metal utensils looted from Lahore. It was appropriated by the Bhangis and housed within Gobindgarh fort. Following his annexation of Amritsar, the cannon was transported to Lahore by Maharaja Ranjit Singh for use in subsequent expeditions and today, it stands sentinel outside the Lahore Museum.

One of the most striking and historic edifices of Amritsar, this is the only surviving fort from the times of Maharaja Ranjit Singh. It has had a continuous historical narrative including events from the struggle for independence. This historical layering is also visible in the fort’s distinct military architectural style and layout. It comprises two concentric layers of fortified walls with bastions and is entered through two successive gateways. The inner enclosure includes numerous buildings which have an obvious colonial look and feel about them. Currently under renovation, it will soon be thrown open to public visits.

দুরজিয়ানা টেম্পেল (Durgiana Temple):-

দুরজিয়ানা টেম্পেল গোবিন্দগড় ফোর্ট থেকে হাটা দূরত্বে অবস্থিত। দুরজিয়ানা টেম্পেল ও গোবিন্দগড় ফোর্ট থেকে হাতি গেট কাছেই।

The 16th century Durgiana Temple draws Hindu sages and scholars from all over the country as it is a well known repository of Hindu scriptures. Dedicated to goddess Durga, the temple is modelled on the Golden Temple with its main shrine rising from the midst of a tank, its central dome covered with gold, and the rest of the structure clad in marble. Also known as the Lakshmi Narayan Temple, as a large section of it is dedicated to the Hindu deities Laxmi and Narayan, the intricate carvings of goddess Durga in her various incarnations, are particularly remarkable. The Durgiana temple was rebuilt in the 20th century, and its foundation stone was laid by the freedom fighter Pandit Madan Mohan Malviya, who was also an educationist and founded the Benaras Hindu University.

অমৃতসরে থাকার জায়গাঃ

গোল্ডেন টেম্পল এর আশেপাশে প্রচুর হোটেল আছে।ভাড়াও খুব কম।৫০০ থেকে ৮০০ রুপির মধ্যে ভালো হোটেল পেয়ে যাবেন।গোল্ডেন টেম্পল থেকে অমৃতসর রেলওয়ে জংশন এর দুরত্ব মাত্র ২০-৩০ মিনিটের (গাড়ীতে)।

অমৃতসরে খাওয়াঃ-

১) জালিয়ানওয়ালা বাগে কুলফি আর লাচ্ছি। কুলফিটা মনে হবে পুরাই দুধের ক্ষীর।

২) অমৃতসরি খুলচা (Amritsari Kulcha)

৩) লাচ্ছি chilled Punjabi Lassi (sweetened yogurt)

৪) আলু পরোটা।পান্জাবের আলু পরোটা অসাধারন খেতে।

৫) ফিন্নি।

৬) ভেজিটেবল বিরিয়ানী।অসাধারন খেতে।

৭) চানা মাশালা।

৮) সর্ষে কি শাক।

৯) মাখ্খি দি রুটি।

১০) মাশালা ডোসা।

১১) মেথি মালাই পনির।

১২) ডাল মাখানি।

১৩) কাজু কারি।

১৪) মালাই কোপ্তা।

১৫) রাজমা।

Post Copied FromDip Biswas>Travelers of Bangladesh (ToB)

26 Dec 2017

যেভাবে যাবেনঃ

আপনি মহাখালী/বনানী এরিয়া থেকে নরসিংদী আসতে চাইলে এসে পিপিএল বাসের টিকিট কেটে সরাসরি নরসিংদী চলে আসবেন। নতুন বাসস্টেন্ড থেকে রিক্সায় যাবেন সাটিরপাড়া রজনীগন্ধা চত্বর।ওখান থেকে অটোতে সুইচগেট। আর তার একটু সামনে আগালেই চাঁন্দের পাড়া গ্রাম।

আর যারা গুলিস্থান থেকে যারা আসবেন তারা সার্জেন্ট আহাদ পুলিশ বক্স সংলগ্ন মেঘালয় লাক্সারী বাসে সরাসরি নরসিংদী নতুন বাসস্টেন্ড ওখান থেকে অটোতে সুইচ গেইট। সুইচ গেইট বাজারে নেমে একটু আগালেই চাঁন্দের পাড়া গ্রাম।

যদি চাঁন্দের পাড়া সরিষা ফুলের সৌন্দর্য দেখে দিনের অর্ধেক সময় বেঁচে যায় তাহলে আপনি দুপুরের খাবারটা নরসিংদী শহরে খেতে পারেন। খাওয়া শেষে নরসিংদীর পুরান লঞ্চঘাট থেকে ট্রলার নিয়ে ঘুরে বেড়াতে পারেন মেঘনায়।

আর যদি হেরিটেজ ভালবাসেন তাহলে সুইচগেইট বাজার থেকে চাইলে রিজার্ভ চার্জের অটোরিক্সা নিয়ে শর্টকাট ওয়েতে ভিতরের রাস্তা দিয়ে আবদুল্লাহপুর হয়ে মাধবদীর বালাপুর নবীন শাহার জমিদার বাড়িতে যেতে পারেন। তবে অটোর ড্রাইভারকে বলে মাধবদী শহরে খেয়ে তারপর বালাপুর জমিদার বাড়িতে যাবেন। জমিদার বাড়ি দেখা শেষ হলে এক থেকে দেড় কিলো সামনেই মেঘনা বাজার। এই বাজারের ভিতর দিয়েই চলে গেছে রাস্তা। বাজার থেকে পাঁচ মিনিট হাটলেই পেয়ে যাবেন মেঘনা নদী। চাইলে ওখান থেকে নৌকা নিয়ে ঘুরতে পারবেন মেঘনা নদীতে। তারপর মেঘনা বাজার থেকে সিএনজিতে চলে আসতে পারেন মাধবদী। ওখান থেকে ১০ টাকা রিক্সা ভাড়া দিয়ে মাধবদী বাসস্টেন্ড। তারপর মেঘালয় লাক্সারী বাসে চলে আসতে পারেন গুলিস্থান নয়তো মনোহরদী/রয়েল পরিবহনে সায়েদাবাদ চলে আসতে পারেন।

অথবা রাস্তার অপজিট থেকে অটো/লোকাল বাসে চলে আসতে পারেন পাঁচদোনা মোড়। ওখানে পিপিএল, বাদশা, উত্তরা পরিবহনসহ আরও কিছু কাউন্টার সার্ভিস পাবেন যা উত্তরা, বনানী হয়ে মহাখালী আসে।

আর যারা ট্রেনে যাবেন তারা কমলাপুর থেকে প্রতিদিন সকাল ৭:১০ টায় (বুধবার সারাদিন বন্ধ) এগারসিন্ধুরে এবং মহানগর গোধুলি (রবিবার সারাদিন বন্ধ) দিয়ে সকাল ৯:০০ টার ট্রেনে নরসিংদী আসতে পারবেন।আর সারদিন ঘুরাঘুরি করে আবার ট্রেনে ঢাকায় ফিরতে চাইলে বিকাল ৫ টায় এগারসিন্ধুরে (শুক্রবার বিকালে বন্ধ) অথবা ৫:৩০ মিনিটে মহানগর ট্রেনে ফিরতে পারবেন।

আর যদি কেউ নিজস্ব গাড়ি/বাইক নিয়ে আসতে চান তাহলে কুড়িল বিশ্বরোড থেকে পূর্বাচল ৩০০ ফিট দিয়ে কাঞ্চন ব্রিজ পার হয়ে এক কিলোমিটার আসলেই চাঁন টেক্সটাইল মোড়। মোড়ে হাতের বামের রাস্তা ধরে সরাসরি চলে আসবেন ছনপাড়া বাসস্টেন্ড (ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক)। ছনপাড়া হাইওয়েতে হাতের বামে চলে যাবেন সরাসরি মাধবদী। মাধবদী বাসস্টেন্ড থেকে কাউকে জিগ্যেস করে মাধবদী ফায়ার সার্ভিসের রাস্তাটা জেনে নিবেন। ঐ রাস্তা ধরে আবদুল্লাপুর বাজার। কাউকে জিগ্যেস করলেই দেখিয়ে দিবে সুইচগেট যাওয়ার রাস্তাটা। সুইচগেট এর সাথেই চাঁন্দের পাড়া সরিষা ফুলের এরিয়া (এইটা লোকাল রাস্তা তবে সময় বাঁচবে)।

যাতায়াত ভাড়া: মহাখালী থেকে নরসিংদী পিপিএল বাসের ভাড়া জনপ্রতি ৯৫ টাকা অথবা গুলিস্থান থেকে নরসিংদী মেঘালয় বাসের ভাড়া জনপ্রতি ১০০ টাকা। শালিধা (নতুন বাসস্টেন্ড) থেকে অটোতে সাটিরপাড়া রজনীগন্ধা চত্বরের লোকাল ভাড়া ৫ টাকা আর রিক্সায় ২০-৩০ টাকা নিবে। রজনীগন্ধা চত্বর থেকে চাঁন্দের পাড়া অটোভাড়া জনপ্রতি ১৫ টাকা।

Post Copied From:Farhad Miah>Travelers of Bangladesh (ToB)