Archives

খবর (News)

2 Feb 2019

বাংলাদেশ ইমিগ্রেশন শেষ করে উত্তরে তাকাতে ভারতে প্রবেশের বিশাল গেট নজরে পড়ল। আমার শরীর জুড়ে তখন শিহরণ। শিহরণের কারণ অবশ্য বিদেশ ভ্রমণ নয়, শিহরণের কারণ বর্ডার পার হলেই যে জেলাটায় পা রাখব তার নাম দার্জিলিং। সত্যজিৎ রায়ের দার্জিলিং। অবশ্য দার্জিলিং জমজমাট গল্পের প্রেক্ষাপট যে দার্জিলিং শহরকে ঘিরে সে শহর এখান থেকে বেশ দূরে।

ভারতের ইমিগ্রেশন শেষ করতে খুব বেশী সময় লাগল না। সকাল সকাল চলে এসেছি বলে ভীড় বেশ কম। বাংলাবান্ধা পেছনে ফেলে ততোক্ষনে আমরা ফুলবাড়িতে। শুধু জায়গা নয়, সাথে পরিবর্তন এসেছে সময়েও। বাংলাদেশ ইমিগ্রেশন অফিসে ঘড়িতে দেখেছিলাম সাড়ে নয়টা বাজে। এখন সাড়ে নয়টা বাজতে আরও আড়াই মিনিট বাকি। বিদেশ ভ্রমণের সাথে টাইম ট্রাভেলও হয়ে যাচ্ছে।

ফুলবাড়ি থেকে শিলিগুড়ি যেতে সময় লাগে বিশ মিনিটের মতো, আর শিলিগুড়ি থেকে গ্যাংটক চার ঘন্টার পথ। পুরো পথে সঙ্গী হিসেবে থাকে তিস্তার সবুজ পানি। টাটা সুমো জিপের নেপালি ড্রাইভার তখন হিন্দী ক্লাসিক গান বাজাচ্ছে। আমি মুগ্ধ চোখে তিস্তার দিকে চেয়ে আছি। কতোক্ষণ সেভাবে পেরিয়ে গিয়েছে জানি না, হঠাৎ করেই তিস্তার বুকে বিশাল এক কনক্রিটের স্থাপনা আমার ফুড়ফুড়ে মনটাকে বিষন্ব করে তুলল।

হায় তিস্তা ব্যারেজ! ড্রাইভার হিন্দিতে জিজ্ঞেস করল, ‘বাবু, কী হয়েছে? হঠাৎ করে বিষিয়ে গেলেন যে?’ জবাব দিলাম বাংলায়, ‘তোমার দেশে তিস্তার পানি মাতলামো করে আর আমার দেশে তিস্তা ধূ ধূ করে।’

সিকিম রাজ্যে প্রবেশের জন্য বিদেশীদের আলাদা পারমিশন নিতে হয়। সেটা দেশ থেকেই নেয়া যায় কিন্তু সময় বেশী লাগে। ঝামেলা করতে চাইনি, সিকিম বর্ডারে ভারতীয় সেনাবাহিনীর একটা চেকপোস্ট আছে, নাম রংপো চেকপোস্ট। সেখানকার ফরেন রেজিস্টার অফিসে যাওয়ার মিনিট পাঁচেকের মধ্যে একজন অফিসার নিজেই ফর্ম পূরণ করে পাসপোর্টে সিকিমের অ্যারাইভাল সিল লাগিয়ে দিল।

সিকিমের রাজধানী গ্যাংটকে যখন পা রাখলাম তখন শেষ বিকেল পেরিয়ে গিয়েছে। শিলিগুড়িতে দেরী না করলে আরও অনেক আগেই চলে আসতে পারতাম অবশ্য। ভারতে পা রাখার সময় যে শিহরণটা শরীরে বয়ে গিয়েছিল সেটা আরও একবার বয়ে গেল পুরো শরীর জুড়ে।

এই গ্যাংটকেই তো ফেলুবাবু গন্ডোগলের সমাধান করে গিয়েছিলেন। সত্যজিত রায়ের লেখা গ্যাংটকে গন্ডগোল গল্পটা চোখের সামনে ভেসে উঠল। আমাদের হোটেল এমজি মার্গে, স্থানীয়রা বলে ম্যাল রোড। গুগল ম্যাপ বের করে সেদিকে হাঁটতে শুরু করে দিলাম, ইচ্ছে করেই টেক্সি নিইনি। পুরো শহরটা পাহাড়ের ওপর, কাঠের বাড়ি বেশীরভাগ কিন্তু পাঁচছয়তলা বিল্ডিংয়ের সংখ্যাও নেহাত কম নয়। রাস্তাগুলো হয় উপরে উঠেছে নয়তো সোজা নিচে নেমে গিয়েছে, সবগুলো দোকানের সাইনবোর্ড ইংরেজিতে। যাবার পথে বেশ কয়েকটা রেস্তোরাঁ চোখে পড়ল। সবগুলোই রেস্টুরেন্ট এন্ড বার। আমাদের দেশী ভাইরা কেন এদেশে এসে অ্যালকোহলের প্রতি এতো ভালবাসা দেখান সেটাও বেশ বুঝতে পারলাম বেশ ভালোমতোই, সহজলভ্যতা।

গ্যাংটকে তাপমাত্রা তখন ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। একজন বাংলাদেশীর জন্য সেটা একদম হাড় কাঁপানো। সেই হাড় কাঁপানো শীতের মাঝেই ভোর পাঁচটায় ঘুম থেকে উঠেছি। উদ্দেশ্য একটাই, কাঞ্চনজঙ্গা।

কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখার জন্য অবশ্য বেশীদূর যাবার প্রয়োজন নেই। হোটেলের বারান্দায় দাঁড়ালেই চোখের সামনে ধরা দেয় সোনালী দেবতা, কাঞ্চনজঙ্ঘা। কাঞ্চনজঙ্ঘা কেন কাঞ্চনজঙ্ঘা সেটা একদম প্রথম দেখাতেই বুঝে গেলাম, ভোরের আলো পুরো পর্বতটাকে যেন সোনা দিয়ে মুড়িয়ে দিয়েছে। কাঞ্চন শব্দের অর্থ সোনা। দার্জিলিং আর গ্যাংটকের আদিবাসিরা তো সাধে এই কাঞ্চনদেবের পূজো করতো না আগে, ভোরের আলোয় যখন পুরো পর্বত সোনায় মুড়িয়ে যায় তখন যে কেউ তাকে দেবতা ভেবে ভুল করবে। এই সৌন্দর্য স্বর্গীয়।

সেই সৌন্দর্য দেখে মনের অজান্তেই আবৃত্তি করতে শুরু করে দিয়েছি,

অভিহিতকরণের সঠিক ভাষা, সঙ্গা
আজও অজ্ঞেয়; তুমি একমেবঅদ্বিতীয়ম,
কেবল কাঞ্চনজঙ্ঘা।

সিকিম রাজ্যে মোট জেলা চারটি। নর্থ সিকিম, সাউথ সিকিম, ইস্ট সিকিম, ওয়েস্ট সিকিম। আমি যাব নর্থ সিকিমের লাচুংয়ে। এখানে যাবার জন্য আবার আলাদা করে পারমিশন নিতে হয় গ্যাংটক থেকে।

গত সন্ধ্যায় হোটেলে এসে রিসিপশনে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দিয়েছিলাম, ওরাই পারমিশনের ব্যবস্থা করে দিয়েছে। সকালে তখনো কাঞ্চনজঙ্ঘার রেশ কাটিয়ে উঠতে পারিনি, এরমাঝেই জিপ নিয়ে গেদে হাজির হলো। গেদে আমাদের গাইড। শরীরে গোর্খা আর তিব্বতীদের মিশ্র রক্ত বইছে। হ্যাংলা পাতলা শরীরের সাথে দিলখোশ হাসিটায় বেশ লাগে লোকটাকে।

গ্যাংটক থেকে লাচুং একশো ষোল কিলোমিটার দূরে। পাহাড়ি রাস্তায় যেতে হয় বলে সময় লাগে প্রায় আটঘন্টা। লাচুং কোন শহর নয়, একটা গ্রাম। আমাদের গন্তব্য লাচুং থেকে আরও দূরে, ইয়ামথাং ভ্যালিতে। সেখানে যাবার জন্য লাচুংয়ে একরাত কাটানো আবশ্যক।

কারণ সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে গ্যাংটক প্রায় ৫৫০০ ফুট, আর ইয়ামথাং ভ্যালি ১৬৮০০ ফুট। সেখানে সুস্থভাবে পৌঁছাতে হলে আগে শরীরকে উচ্চতার সাথে মানিয়ে নেবার সময় তো দিতে হবে। গ্যাংটক ছাড়ানোর একটু পর থেকেই কানে তালা লাগতে শুরু করে দিয়েছে। গেদে আমাকে অস্বস্তিতে দেখে বলল, “সাহাব, ঢোক গিলেন, ঠিক হয়ে যাবে।“ আমার চট করে আরও একবার গ্যাংটকে গন্ডগোলের কথা মনে পড়ে গেল। এভাবেই তো ফেলুদা তোপসেকে কানে তালা লাগার সমাধান দিয়েছিলেন।

ওয়েদার রিপোর্টে আগেরদিন দেখেছিলাম আজ আকাশ মেঘলা থাকবে। দুপুরের দিকে মেঘলা আকাশ তার আসল রূপ দেখাল, বর্ষা। পানির সাথে পড়ছে কুচি কুচি বরফ, শুভ্র বৃষ্টি। আমার প্রথম তুষারপাত দর্শন। গেদে বৃষ্টির কারণে বেশ বিরক্ত, বরফকুচি মেশা পানিতে গাড়ির উইন্ডশিল্ড ঝাপসা হয়ে যাচ্ছে বারবার। আমি গেদের দিকে তাকিয়ে হাসলাম। গেদেকে বাংলাদেশের বৃষ্টির গল্প শোনালাম। বললাম, আমার দেশে বৃষ্টি মানে প্রেম, বৃষ্টি মানে স্মৃতিবিলাস।

ছোটবেলায় কীভাবে বৃষ্টিতে গোসল করতাম সে গল্প শোনালাম ওকে। গোসলের কথা শুনে গেদে শিউরে উঠল। এখন তাপমাত্রা শূণ্যের চেয়েও দশ ডিগ্রি নিচে। এদেশের মানুষ বৃষ্টিতে গোসল করার কথা শুনে শিউরে না উঠলে কে শিউরে উঠবে? ওর শিউরে ওঠা মুখের দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসি দিয়ে গান ধরলাম,

ভিজে হাওয়ায় থেকে থেকে
কোন সাথী মোর যায় যে ডেকে
একলা দিনের বুকের ভেতর
ব্যাথার তুফান তোলে, তোলে . . .

বিকেল নাগাদ কালো মেঘ সরে গেল। রোদ আর উঠেনি অবশ্য। এরমাঝে ল্যান্ড রোভারের জানালা দিয়ে থেকে থেকে দূরে ইয়ামথাং ভ্যালির সাদা পর্বতচূড়োগুলো দেখা যাচ্ছে। লাচুং পৌঁছতে আর বেশী সময় বাকি নেই। সারাদিনের জার্নিতে শরীর একদম ক্লান্ত, চোখ বুজলেই ঘুম চলে আসবে এমন অবস্থা কিন্তু চোখ বুজতে পারছি না। গেদে হেসে বলল, “ঘুমানোর চেষ্টা করে লাভ নেই, বাবু। সিকিমের সৌন্দর্য আপনাকে ঘুমুতে দেবে না একদম।” জবাবে আমি একটা আত্মতৃপ্তির হাসি হাসলাম। আহা এ বসুন্ধরা!

2 Feb 2019

নতুন বছর সবার জন্যই নতুনের শুরু। বছরের শুরুতেই সারা বছরের কাজকর্মের হিসাব মিলিয়ে নেন প্রায় সবাই। আবার পুরাতন সব হতাশাও ফেলে আসা হয় পেছনে। পুরনো বছরের ক্লান্তি কাটাতে আর বছরকে নতুনভাবে স্বাগত জানাতে আমরা আয়োজন করি নানা অনুষ্ঠান বা পার্টির। আর সেসবে খাওয়া-দাওয়া তো আছেই। এসব আয়োজনে সহজে রান্না করার মতো কিছু বিদেশি রেসিপি নিয়ে লিখছি ৩টি পর্বে।

নতুন বছরের বিদেশি কিছু রেসিপি নিয়ে আগের ২টি পর্বের ধারা মোতাবেক এটি তৃতীয় এবং শেষ পর্ব। আগের ২টি পর্বে ৬টি সহজ রেসিপি বর্ণনা করেছিলাম। এই পর্বটিতে থাকছে আরো ৩টি সহজ বিদেশি রেসিপি। আর কথা বাড়াবো না। এবার সরাসরি চলে যাচ্ছি রেসিপিতে।

পিগস ইন আ ব্ল্যাঙ্কেট:
নামটাই বেশ চমৎকার না? এই শীতের সময়ে কম্বলের মতোই এ্যাপেটাইজার হিসেবে আপনার প্রিয় রেসিপি হতে চলছে এটি নিঃসন্দেহে। পিগস ইন আ ব্ল্যাঙ্কেট তৈরি করতে সর্বোচ্চ সময় লাগবে ঘণ্টাখানেক। চলুন, জেনে নিই রেসিপিটি।

প্রয়োজনীয় উপকরণ:

  • ১ আউন্স টিউব ক্রিসেন্ট রোল
  • ১২টি মিনি সসেজ
  • ৪ টেবিল চামচ বাটার
  • বিট লবণ (পরিমাণমতো)

প্রস্তুত প্রণালী:
১. ওভেন ৩৭৫° সেলসিয়াস তাপমাত্রায় প্রি-হিট দিন। এদিকে ক্রিসেন্ট রোল শিটগুলোকে ছাড়িয়ে নিন। একেকটি শিটকে ৩টি করে ত্রিভুজ করে কেটে নিন।

২. ত্রিভুজাকৃতি শিটগুলোর মধ্যে একটি করে সসেজ রেখে মুড়িয়ে নিন। এভাবে সসেজ মুড়ানোর জন্যই এর নাম পিগস ইন আ ব্ল্যাঙ্কেট।

৩. ১টি বেকিং শিটে সব রোল সাজিয়ে নিন। এরপর ১টি ব্রাশ দিয়ে গলানো বাটার সবগুলোর উপর ব্রাশ করে নিয়ে বিটলবণ ছড়িয়ে দিন।

৪. বাদামি রং ধারণ করা পর্যন্ত ওভেনে বেক করতে থাকুন। ১২-১৫ মিনিট বেক করলেই হয়ে যাবে।

৫. এবার ১টি ট্রেতে সাজিয়ে গরম গরম পরিবেশন করুন।

ফ্রেঞ্চ ডিপ পাইনহুয়িল:
ফ্রেঞ্চ ডিপ রেসিপির মধ্যে ফ্রেঞ্চ ডিপ পাইনহুয়িল সহজ ও মজাদার ১টি রেসিপি। এটি আপনাকে প্রকৃত ফ্রেঞ্চ ডিপের স্বাদ যোগাবে। ফ্রেঞ্চ ডিপ পাইনহুয়িল তৈরি করতে সর্বোচ্চ সময় লাগবে ১ ঘণ্টা ১৫ মিনিট। এর জন্য তৈরি করতে হবে একটি সার্ভিং সসও। এবার চলুন, জেনে নিই রেসিপিটি।

প্রয়োজনীয় উপকরণ:
পাইনহুয়িলের জন্য:

  • ২ টেবিল চামচ বাটার
  • ২টি বড় পেঁয়াজ, পাতলা স্লাইস করা
  • ২ টেবিল চামচ চাইনিজ পাতা, কুচি করা
  • লবণ (পরিমাণমতো)
  • কালোমরিচ গুঁড়ো (পরিমাণমতো)
  • ময়দা
  • ৮টি রোল শিট
  • ৮ স্লাইস চিজ
  • ২৫০ গ্রাম রোস্টেড গরুর মাংস
  • কুকিং স্প্রে

সসের জন্য:

  • ১ টেবিল চামচ বাটার
  • ১ টেবিল চামচ রসুন বাটা
  • ২ টেবিল চামচ বিফ স্টক (ফ্রোজেন/ঘরে তৈরি)
  • ১ টেবিল চামচ ওয়েস্টার সস

প্রস্তুত প্রণালী:
১. ওভেন ৩৫০° সেলসিয়াস তাপমাত্রায় প্রি-হিট দিন। ৯×১৩ সাইজের ১টি বেকিং ট্রে কুকিং স্প্রে দিয়ে পরিষ্কার করে নিন। এবার একটি প্যানে চুলায় মধ্যম আঁচে বাটার, পেঁয়াজ এবং চাইনিজ পাতা মিনিট চারেক ভেজে নিন। পেঁয়াজ হালকা বাদামি আর নরম হয়েছে কিনা দেখুন। এরপর এতে মরিচ ও লবণ দিয়ে দিন। চুলার আঁচ কমিয়ে দিন। আরো ১০-১৫ মিনিট রান্না করুন। এ পুরোটা সময়েই নাড়ানি দিয়ে নাড়তে থাকুন, যাতে পেঁয়াজের ম্যাশ তৈরি হয় বাকিসব উপাদানের সাথে।

২. পাইনহুয়িল তৈরি: একটি ট্রেতে ময়দা ছড়িয়ে দিন। এরপর এতে রোলের শিটগুলো বিছিয়ে দিন। এবার এর ওপর রোস্টেড গরুর মাংস এবং পেঁয়াজের ম্যাশটি একটি ছুড়ি দিয়ে সমানভাবে ছড়িয়ে নিন। অনেকটাই পাউরুটির ওপর বাটার মাখানোর মতো করে।

৩. এবার রোলের শিটটিকে গোল করে ভাজ করে নিন। ভাজ করা হয়ে গেলে প্রত্যেকটি শিটকে ৪টি করে টুকরো করে নিন। টুকরোগুলো এবার ১টি বেকিং শিটে নিয়ে নিন। এগুলোর ওপর আবার কুচি করা চাইনিজ পাতা ছড়িয়ে দিন।

৪. বেকিং ট্রেটি ওভেনে দিয়ে সর্বোচ্চ ৩৫ মিনিট ধরে বেক করুন। রোলগুলোর রং বাদামি হয়ে গেলে ট্রে ওভেন থেকে নামিয়ে নিন।

৫. চুলায় ছোট ১টি সসপ্যান মাঝারি আঁচে বসিয়ে দিন। এরপর এতে বাটার এবং পেঁয়াজ কুচি দিয়ে ঘ্রাণ ছড়ানো পর্যন্ত রান্না করুন। সর্বোচ্চ ১ মিনিট লাগবে। এরপর এতে ওয়েস্টার সস, লবণ এবং মরিচ মিশিয়ে নিন। সবশেষে, ফ্রেঞ্চ ডিপগুলোর উপর সস ছড়িয়ে দিন।

৬. এবার সুন্দর একটি ডিশে নিয়ে গরম গরম পরিবেশন করুন।

কনফ্যাটি কুকি ডাফ বল:
অনেক খাবারের রেসিপিই তো হলো। এবার দরকার ডেজার্ট। এখন লিখবো চমৎকার এক ডেজার্ট কনফ্যাটি কুকি ডাফ বলের রেসিপি। এটি তৈরি করতে সর্বোচ্চ সময় লাগবে ৩ ঘণ্টা ১৫ মিনিট। একটু সময়সাপেক্ষ হলেও খুবই সহজ এটি তৈরি করা। চলুন, জেনে নিই রেসিপিটি।

প্রয়োজনীয় উপকরণ:

  • ২৫০ গ্রাম ময়দা
  • ১ আউন্স ক্রিম চিজ
  • ৪ টেবিল চামচ বাটার
  • ১/২ কাপ চিনি
  • ১/৪ কাপ বাদামি চিনি (ব্রাউন সুগার)
  • ১/২ টেবিল চামচ ভ্যানিলা এসেন্স
  • ১ কাপ মিনি চকলেট চিপস
  • ১ প্যাকেট সুইট বল (রেইনবো কালার)

প্রস্তুত প্রণালী:
১. বড় ১টি পাত্রে ক্রিম চিজ আর বাটার নিয়ে নিন। এবার ১টি হ্যান্ড বিটার দিয়ে উপাদান ২টি একসাথে ফেটাতে থাকুন যতোক্ষণ পর্যন্ত পাতলা আর ফ্লাফি না হয়। এরপর এতে চিনি, বাদামি চিনি আর ভ্যানিলা এসেন্স দিয়ে আবার মিনিট পাঁচেক ফেটিয়ে নিন।

২. আরেকটি পাত্রে ময়দা মেখে নিন। ময়দা মাখা হয়ে গেলে এতে ১নং ধাপে তৈরি করা মিশ্রণটি দিয়ে আরো ভালোভাবে মেখে নিন। এবার ১টি পাত্রে ময়দার মিশ্রণটি রেখে এটি একটি ফয়েল পেপার দিয়ে মুড়িয়ে নিন। এ অবস্থায় পাত্রটিকে ২ ঘণ্টা ফ্রিজে রেখে দিন।

৩. ফ্রিজ থেকে বের করে গোল কোনো বাটি বা কেকের ছাঁচে নিয়ে ২৫০° সেলসিয়াস তাপমাত্রায় বেক করুন।

৪. বেক করা হয়ে গেলে ওভেন থেকে নামিয়েই উপরে সুইট বলগুলো ছড়িয়ে দিন। ঠাণ্ডা হতে হতে সুইট বলগুলো লেগে যাবে।

৫. এবার মজাদার কোনো কুকির সাথে পরিবেশন করুন।

যেখানে পাবেন রান্নার উপকরণগুলো:
রান্নার উপাদানগুলো প্রাত্যহিক কেনাকাটার জায়গাতেই পাবেন। আর না পেলে যেকোনো সুপারশপ বা গ্রোসারি শপে ঢুঁ মেরে খোঁজে নিন।

31 Jan 2019

একদম শেষ বিকেল গড়িয়ে প্রায় সন্ধ্যা নামার মুখে আমরা আমাদের অভিজাত হোটেলের আরামের বিছানা থেকে নেমে লেকের পাড়ের রাস্তায় নামলাম। সূর্য তখন লেকের শেষ প্রান্তে দুই পাহাড়ের ঠিক মাঝখানে তার রক্তিম আভা ছড়িয়ে সেদিনের মতো বিদায়ের ক্ষণ গুনছিল। আমাদের সবার পেটে দারুণ ক্ষুধা থাকা সত্ত্বেও, সেই আলো-আধারি আর গোধূলি বেলার অপার্থিব আলো দেখে কিছু সময় থমকে দাঁড়িয়েছিলাম লেকের পাড় ঘেঁষে থাকা রেলিং ধরে। কেউ কেউ ক্যামেরায় ধারণ করে রাখছিলাম সেই সময়ের স্মৃতি আর ছবি।

সূর্যের শেষ আলো লেকের জলে পড়ে একটা সোনালী-রূপালী ঝিলিক দিয়ে যাচ্ছিল ক্ষণে ক্ষণে। লেকের পাড়ে রাস্তার উপরের পর্যটকে গমগম করতে থাকা দোকানগুলো তাদের ঝলমলে আলো ছড়াতে শুরু করেছিল এক এক করে। মল রোড তখন শুধুই পায়ে হাঁটা পর্যটকদের দখলে। এই সময়, মানে বিকেল থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত এই পথে কোনো রকম যানবাহন চলাচল একদম নিষিদ্ধ। এবং সবাই সেটা মেনেই চলছে। তাই পর্যটকদের আনন্দ আর হেঁটে হেঁটে নৈনিতাল লেক, লেকের পাড়ের পাহাড়, আলো ঝলমলে দোকান উপভোগ্য হয়ে উঠেছিল দারুণ আর ছন্দময়, নির্ভাবনার আর নিশ্চিন্তের।

এক জায়গায় দাঁড়িয়ে থেকে চারপাশের ঝলমলে পরিবেশ, ঝিলিক দিয়ে যাওয়া লেকের জল আর পাহাড়ি ঠাণ্ডা বাতাস গায়ে মেখেই দিনের আলোর শেষ রেশটুকুও নিভে গিয়ে চারদিকে জ্বলে উঠেছিল শত রঙের আলোর ঝলকানি। তখন আবারো নতুন করে মনে হলো, ওরে আমাদের যে দারুণ ক্ষিদে পেয়েছে সে কথা সবাই বেমালুম ভুলেই গিয়েছিলাম। ঝটপট সেখান থেকে উঠে সামনের দিকে পা বাড়ালাম। এখনই খাবার না খেলেই নয়। খাবার দাবার খেয়ে তারপর না হয় আয়েশ করে উপভোগ করা যাবে, এই নৈনিতাল, এই অভিজাত পাহাড়ি শহরের রঙ, রূপ, রস আর গন্ধ।

সামনের দিকে এগোতে এগোতেই, পথ চলতি দুই একজনের কাছে জিজ্ঞাসা করে জেনে নিলাম, এই বাঙালি বাবুদের অন্যতম আকর্ষণ কাবাব, বিরিয়ানি বা মাছ ভাত কোথায় পাওয়া যায় বা যাবে। জানালো একটু এগিয়ে রাস্তার মোড়ে গিয়ে বামের পথে গেলেই চোখে পড়বে একটি কাবাব বিরিয়ানির দোকান। ব্যস ঝটপট চল তবে। হ্যাঁ সত্যিই তিন বা চার মিনিট হেঁটে সামনের মোড়ে গিয়ে বামের পথে কিছুদূর এগিয়েই পেয়ে গেলাম কাঙ্ক্ষিত বিরিয়ানির দোকান। কাবাব আর বিরিয়ানি দেখেই সবাই দারুণ খুশি, চোখে মুখে খুশির ঝিলিক দিয়ে গেল। ঝটপট বসে পড়লাম আলোকিত দোকানের একটি টেবিল দখল করে।

কেউ ৮০ টাকা করে চিকেন, কেউ ফ্রাইড রাইস ১১০ টাকার আর কেউ কাবাব আর চাপাতির অর্ডার দিয়ে গল্পে আর আড্ডায় মেতে উঠলাম। ১০ মিনিটের মধ্যেই গরম গরম ধোঁয়া ওঠা বিরিয়ানি, কাবাব আর ফ্রাইড রাইস চলে এলো। সেই সাথে পিঁয়াজের সাথে চাটনি কয়েক রকমের। দেখেই জিভে জল টসটস করতে লাগলো। সবাই মুহূর্তেই ঝাঁপিয়ে পড়লাম যার যার প্লেটের খাবার খেয়ে সারা দিনের ক্ষুধা দূর করতে। এবং দারুণভাবেই সবাই সেই খাবার উপভোগ করে তৃপ্তি পেয়েছিলাম, দাম, মান আর স্বাদের সমন্বয়ে। এরপর আবার বেরিয়ে পড়লাম, অভিজাত নৈনিতালের ঝলমলে পাহাড়ের বর্ণীল আলোর ঝলকানি উপভোগ করতে।

আমাদের খাবার হোটেলের পাশেই সিনেমা হল, একদম লেকের পাড় ঘেঁষে। ভাবলাম সিনেমা দেখবো কিনা। দারুণ ঠাণ্ডায় অনেকটা জমে যাওয়ার মতো অবস্থা সবার। কিন্তু লম্বা সময়ের সিনেমা সবাই ঠিক উপভোগ করতে পারবো কিনা সেই ভাবনা থেকেই সিনেমার চিন্তা বাদ দেয়া হলো সেদিনের মতো। এরচেয়ে বরং ঘুরে ঘুরে, হেঁটে বসে ধীরে ধীরে লেকের পাড়ের মল রোডের আভিজাত্য উপভোগ করাটাই ভালো হবে। তাই সেদিকেই পা বাড়ালাম। ততক্ষণে পুরো মল রোড তার সবটুকু জৌলুস ছড়িয়ে দিয়েছে লেক, পাহাড়, আকাশ আর উন্মুক্ত পথজুড়ে।

নানা রকম ব্র্যান্ডের শোরুম, চকলেট, কেক, কফি শপ, ছোট ছোট খাবার দোকান, পানীয়র বাহারি রূপ, দেশী বিদেশী পর্যটকে পুরো লেকের পাড় গমগম করছে। এমন পরিবেশে সিনেমা দেখে সময় নষ্ট করাটা সত্যি বোকামি হতো সেটা বুঝতে পারলাম। পুরো মল রোড জুড়ে তখন বড় দিনের উৎসবের প্রস্তুতি চলছে। মানুষে মানুষে প্রায় গিজগিজ করছিল শত রঙের, বর্ণের আর ঢঙের মুখগুলো। আমরা কিছুটা হেঁটে, ক্লান্ত হয়ে আমাদের হোটেলর ঠিক সামনের কাঠের বেঞ্চিতে বসেছিলাম আরাম করে। সামনেই আমাদের হোটেল রুমের বেলকোনি, রাস্তার ওপাশে হাজার আলোর ঝলকানি আর অন্যপাশে লেকের জলে শত রঙের ঝিলমিলে আয়োজন।

গরম কফির মগ হাতে, প্রিয়জনের সাথে এমন রাজকীয় পরিবেশে, পাহাড়ি আভিজাত্য উপভোগ করতে পারাটা একটা বিশেষ সৌভাগ্যই বলতে হবে। আমি, আমরা সবাই দারুণ একটি বিকেল, অপূর্ব একটা সন্ধ্যা আর মনে রাখার মতো একটি রাত উপভোগ করছিলাম লেকের পাড়ের বেঞ্চিতে বসে থেকে, অলস সময় কাটিয়ে, কখনো হাতে হাত ধরে, কখনো ধীরে লয়ে হেঁটে হেঁটে আর কখনো ঝলমলে সাজানো, গোছানো ব্র্যান্ডের শোরুমগুলোতে উঁকিঝুঁকি মেরে।

অবশেষে রাত প্রায় অনেকটা হয়ে যাওয়াতে আর শীতের প্রকোপ বেড়ে যাওয়াতে, মল রোড ফাঁকা হতে শুরু করলো। সেই সাথে দোকানগুলোও যখন তাদের আলো নিভিয়ে ঝাঁপ ফেলে দিতে শুরু করলো, তখন উঠতেই হলো। তবুও নেশাতুর হয়ে বসেছিলাম পথ প্রায় শুন্য হয়ে যাবার পূর্ব পর্যন্ত। কারণ এমন দিন, এমন সন্ধ্যা আর এমন অপূর্ব রাত আবার কবে পাবো কে জানে? আর আমাদেরও যেহেতু কোনো তাড়া নেই তাই।

প্রাণ ভরে উপভোগ করেছিলাম, অভিজাত পাহাড়ি শহর নৈনিতালের সবটুকু রঙ, রূপ আর গন্ধ। যে রাত, যে শহর, যে পাহাড় আর যে লেকের টলটলে জল স্মরণীয় হয়ে থাকবে অনন্তকাল।

30 Jan 2019

আপনি যদি সিঙ্গাপুরের আরো গভীর অঞ্চলগুলোতে ভ্রমণের পরিকল্পনা করেন এবং ইতোমধ্যে যদি আপনি দক্ষিণের দ্বীপপুঞ্জগুলো ঘুরে থাকেন তবে এবার আপনার জন্য রয়েছে একটু আলাদা চমক। ছোট একটি দেশ হিসেবে সিঙ্গাপুরে শুধু উন্নত শহর দেখেই পুরো সিঙ্গাপুর ঘোরার আনন্দ পাওয়া যায় না। এর জন্য সিঙ্গাপুরের উপকূলীয় অঞ্চলগুলো ঘোরা খুবই জরুরী। এজন্য থাকতে হবে পর্যাপ্ত টাকা পয়সা এবং পর্যাপ্ত পরিকল্পনা।

পরিকল্পনা ছাড়া এ দ্বীপপুঞ্জগুলো ঘোরা একদম অনর্থক বলেই মনে হয় আমার। শুধুমাত্র সিঙ্গাপুরের জীবনযাপনই কখনো থেমে থাকে না। কোথাও কোথাও খুবই উন্নত আর দ্বীপগুলো সাধারণত একটু অনুন্নত। কিন্তু এই অনুন্নত অঞ্চলেও রয়েছে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপরূপ আধার। তাই সিঙ্গাপুর ভ্রমণ শেষে কেউ যদি মনে করেন সবকিছু ঘোরা শেষ হয়ে গেছে তবে তার ধারণা ভুল হবে।

শহরের অন্যদিকে রয়েছে এক্সপ্লোর করার মতো আরো বেশ কয়েকটি দ্বীপ। যেগুলো অনুসন্ধানের জন্য আপনি জমিয়ে কটা দিন কাটিয়ে দিতে পারেন। আপনি যখন সিঙ্গাপুরে আসবেন তখন থেমে থাকবেন না। সিঙ্গাপুরের এক একটি অঞ্চল আপনাকে উপহার দেবে এক এক রকম অভিজ্ঞতা। আর এতে আপনার ভ্রমণ হয়ে উঠবে অত্যন্ত স্মৃতিময়। সিঙ্গাপুরের দ্বীপগুলো সিঙ্গাপুর থেকে খুব বেশি দূরে না হলেও এগুলো মূলত ইন্দোনেশিয়ার অধীনে আছে। কিন্তু ভ্রমণের ক্ষেত্রে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই সে সিঙ্গাপুর থেকেই হোক আর ইন্দোনেশিয়া থেকে হোক।
তবে ভ্রমণের সময় সব সময় সচেতন এবং সতর্ক থাকাই ভালো। যদি কোনো কোনো দ্বীপে যেতে পারমিশনের প্রয়োজন হয় তবে অবশ্যই সেই পারমিশন যথাযথ জায়গা থেকে সংগ্রহ করার চেষ্টা করতে হবে। এটি না হলে হয়তো আপনার সারাদিনের পরিকল্পনাটি একটি পারমিশনের জন্য ভেস্তে যেতে পারে। আসুন এবার দ্বীপগুলো সম্পর্কে কিছু জানি।

পুলু লায়ং-লেয়াং:
ডাইভারদের কাছে জনপ্রিয় অন্যতম একটি দ্বীপ এটি। বিরল প্রজাতির সামুদ্রিক জীবন অনুসন্ধান করা যায় এই দ্বীপে খুব কম সময়েই। দক্ষিণ চীন সাগরে অবস্থিত মালয়েশিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে এই উপনিবেশে চলে এসেছে এই দ্বীপটি। কিন্তু এই অঞ্চলের স্বর্গ বলা হয় এই দ্বীপটিকে। এখানে এসে ডিপ সি ডাইভিংয়ের সাথে উপভোগ করতে পারবেন গভীর সমুদ্রের প্রাচীন প্রবাল আর জলের গভীরের জীবন। সিঙ্গাপুরের কিনাবলু থেকে ফ্লাইটে করে আসতে হয় এখানে। তবে আসার সময় ফেরার ফ্লাইটের টিকেট নিশ্চিত করেই আসা উত্তম।

পুলু লিংগা:
জনসাধারণের ধরাছোঁয়ার বাইরের এই দ্বীপের অন্যতম আকর্ষণ হচ্ছে পাহাড়ের উপর থেকে নেমে আসা বিশাল ঝর্ণা। উঁচু পাহাড় থেকে নেমে এসেছে দ্বীপের নিচের দিকে এবং এই সুন্দর চকচকে জল অনেক দূর থেকে প্রতিফলিত হয়ে দর্শকের চোখে এক অন্যরকম শোভার সৃষ্টি করে। এই জল মূলত প্রবাহিত হয় শীতকাল আসা পর্যন্ত। নভেম্বরের শেষ পর্যন্ত আপনি ঝর্ণার উৎসব দেখতে পাবেন। এই উৎসবটি মূলত কোনো মানুষের উৎসব নয় বরং এই ঝর্ণাকে সাজিয়ে এমন একটি রূপ দেওয়া হয়েছে যেটাকে দেখলে মনে হবে যেন একটি উৎসব ঘনিয়ে আসছে।

এই স্বচ্ছ পানির ঝর্ণার আশেপাশে আপনি হয়তো কোথাও তাবু গেড়ে অথবা কোনো রিসোর্টে থাকতে পারবেন অনায়াসে। তাই সিঙ্গাপুর ভ্রমণের সময় এই দ্বীপটি ভ্রমণ আপনার জন্য হতে পারে জীবনের অন্যতম একটি অধ্যায়। এখানে যেতে পারবেন তানজুং পিংয়ের মাথা থেকে সরাসরি যেকোনো ফেরীতে করে।

পুলু নিকই:
আপনি যদি স্থল ভাগে একটি সুন্দর রিসোর্টের সাথে সমুদ্রের নিচে আন্ডার ওয়াটার অ্যাডভেঞ্চারগুলো করতে চান, তাহলে এই দ্বীপটি আপনার জন্য একেবারে উপযুক্ত। এই দ্বীপে রয়েছে সোলার প্যানেল যুক্ত বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা এবং বেশ কিছু থাকার জায়গা। যেখানে আপনি সকল ধরনের বৈদ্যুতিক সুবিধার পাশাপাশি অসুস্থ হয়ে গেলে চিকিৎসা সেবা পর্যন্ত পেতে পারেন।

সুন্দর দ্বীপটিতে এছাড়া রয়েছে বেশ কিছু বার, ক্লাব এবং রিসোর্ট। যেগুলোতে আপনি একা অথবা আপনার সঙ্গীদেরকে নিয়ে ঘুরে আসতে পারেন যেকোনো সময়। এখানে আসলে সমুদ্র এবং দ্বীপের বন ও পরিবেশ আপনাকে একটু সময়ের জন্য হলেও মুগ্ধ করে রাখবে। বিন্টন থেকে ফেরীতে বিশ মিনিট সময়ের মধ্যে এই দ্বীপে চলে আসা যায়।

পুলু বাওয়াহ:
ক্রান্তীয় অঞ্চলের স্বর্গের মতো পোস্ট কার্ডগুলোতে আপনি প্রায়শই হয়তো দেখে থাকবেন কিছু আশ্চর্য দ্বীপ। এটি অন্য কোনো দ্বীপ নয় ইন্দোনেশিয়ান উপকূলে পুলু বাওয়াহ নামে দ্বীপের দৃশ্য এটি। জলের উজ্জ্বলতা এবং স্বচ্ছতা এতটাই বেশি যে নিচের প্রবাল সহ সামুদ্রিক বন্যপ্রাণী দেখার জন্য পানির নিচে ডুব দেওয়ার প্রয়োজন পড়ে না। শুধুমাত্র সাঁতার কেটেই স্কুবা ডাইভিং উপভোগ করা যায়। এই স্কুবা ডাইভ করতে শারীরিক কসরতের দরকার পড়ে না।

উপকূলের ধার দিয়ে হাঁটলেই শুধুমাত্র দেখেই আপনি অবাক হয়ে যাবেন। সারা পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভ্রমনার্থীরা এখানে আসেন স্কুবা ডাইভিং করতে। এই সমুদ্রের স্বচ্ছ জলে স্কুবা ডাইভিং করে সমুদ্রের তলদেশে যে অন্যরকম একটা পৃথিবী রয়েছে সেই পৃথিবী দেখতে কার-ই বা ইচ্ছা না হয়! তাই আপনিও চলে আসুন এবং উপভোগ করুন ক্রান্তীয় মহাসমুদ্রের তলদেশের এই সৌন্দর্য। বিনতেনের তনজুং পিং থেকে একটি ফেরি করে আপনি সরাসরি এই দ্বীপে চলে আসতে পারেন।

পুলু বেনান:
এই দ্বীপটি মূলত আইডিলিক উপদ্বীপ অঞ্চলে অবস্থিত। এই দ্বীপের জনসংখ্যা ঐতিহ্যের সাথে সামঞ্জস্য রেখে কমে এবং বাড়ে। সাধারণত এই দ্বীপের স্থানীয়দের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি এবং তাদের পারফরম্যান্স দেখার জন্য সকলে এসে থাকেন। বছরের বিভিন্ন সময়ে এখানে আয়োজন করা হয় নাচ, গান এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের। যে অনুষ্ঠানগুলো সাধারণত রঙে রঙে বর্নিল হয়ে থাকে। আর সেই বর্ণিল রঙে আপনার মন কখন রঙিন হয়ে যাবে সেটি আপনি বুঝতে পারবেন এই দ্বীপে আসলেই।

এছাড়া এখানে রয়েছে সামুদ্রিক পরিবেশ বেঁচে থাকার মতো বেশ কিছু সুযোগ সুবিধা। উপভোগ করতে পারবেন এখানকার স্থানীয় মানুষরা কীভাবে জীবন যাপন করে। ইচ্ছে করলে সে জীবনের স্বাদ নিতে পারেন। এছাড়া সামুদ্রিক মাছ শিকার থেকে শুরু করে বারবিকিউ পর্যন্ত সবকিছুই আপনি এখানে করতে পারবেন অনায়াসে। নৌকায় করে দ্বীপের চারপাশটা ভালোভাবে ঘুরে দেখা যায় খুব অল্প সময়েই। কিন্তু এখানকার নিয়ম অনুযায়ী সমুদ্র সৈকতে আপনাকে কখনোই দীর্ঘ সময়ের জন্য অবস্থান করতে দেওয়া হবে না। তাই অল্প সময় নিয়ে হলেও এখান থেকে ঘুরে ফিরে আসতে পারেন।

30 Jan 2019

ফুল প্রতিটি মানুষের কাছেই পছন্দের এক বস্তু। ফুলের রং এবং সুগন্ধ মুগ্ধ করে তোলে সবাইকে। এজন্যই উপহারের অন্যতম প্রধান বস্তু হল ফুল। একটি ফুল যেখানে সবার মন জয় করে নেয় সেখানে যশোর জেলায় রয়েছে অসাধারণ এক ফুলের রাজ্য। যশোরের গদখালী এলাকায় এই ফুলের রাজ্য অবস্থিত।

যশোর শহর থেকে ২৫-৩০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে দুটি থানা ঝিকরগাছা ও শার্শা। যেখানে প্রায় ৪ হাজার বিঘা জমিতে ফুল চাষ করে স্থানীয় কৃষকরা। এসব ক্ষেত থেকে প্রতিবছর প্রায় কয়েক কোটি টাকা মূল্যের ফুল উৎপন্ন হয়। প্রতি বছর দেশের ফুলের বড় একটি চাহিদা পূরণ করে থাকে এই অঞ্চলের উৎপাদিত ফুল। পুরো এলাকা জুড়ে পথের দু’পাশে লাল, নীল, হলুদ, বেগুনি আর সাদা রঙের এক বিস্তীর্ণ চাঁদর যেন বিছিয়ে রেখেছে এই এলাকার চাষিরা। বেশির ভাগ জমিতেই ফুল চাষ করে এখানকার চাষিরা।

ফুলের রাজ্য যশোরের গদখালি

বাড়ির চারপাশে সৌখিন ফুলের বাগান নয় এগুলো। মাঠের পর মাঠ জুড়ে ফুলের বিশাল এক একটি ক্ষেত। ফুলই এখানে প্রধান ফসল। বাতাসে ফুলের মিষ্টি সৌরভ, মৌমাছির গুঞ্জন, প্রজাপতির ডানার জৌলুশ আর রঙের অফুরান সৌরভের সমাহার। এক কথায় মাতিয়ে তোলার মতো পরিবেশ। এই দৃশ্য দেখতে হলে আপনাকে যশোর-বেনাপোল রোড ছেড়ে ডানে, ফুলের গ্রাম গদখালীতে নেমে যেতে হবে। গদখালী বাজারে নেমে ভ্যানে করে পানিসারা যেতে যেতে এমন দৃশ্য চোখে পড়বে সবার। ইচ্ছে হলেই যেকোনো বাগানে নেমে যেতে পারেন আপনিও ছুঁয়ে দেখতে পারেন ফুলের সৌন্দর্য। এখানে চাষ করা হয় রজনীগন্ধা, গোলাপ, গাঁদা, গ্লাডিওলাস, জারবেরা, জিপসি, ডালিয়া, চন্দ্রমল্লিকাসহ নানা জাতের হাজারও ফুল।

যেভাবে যাবেন :

ঢাকা থেকে যশোরের বেনাপোল গামী যেকোনো বাসে উঠেই গদখালী নামতে পারবেন। গদখালী বাজারে সকাল থেকেই ফুলের কেনাবেচা শুরু হয়। আর ফুলের গ্রাম ঘুরে দেখতে চাইলে ভ্যান তো আছেই। সকালে ঘুরতে গেলে একই সাথে বিশাল বাজারও ফুলের মেলা উভয়ের স্বাদই আপনি পেয়ে যাবেন। বাসে আপনার সমস্যা হলে আপনি চাইলেও ট্রেনে করে যশোর গিয়েও ঘুরে দেখতে পারেন ফুলের রাজ্য বলে সুপরিচিত এই এলাকা।

30 Jan 2019

ব্যস্ত নগরজীবনে কাজকর্মের চাপে যখন পিষ্ট হতে হচ্ছে প্রতিনিয়ত। প্রতিদিনের একঘেয়েমি কাজ থেকে মুক্তির জন্য ছুটির দিনটি কাজে লাগিয়ে ঘুরে আসতে পারেন ঢাকার আশেপাশেরই কোন দর্শনীয় স্থান। যেখান থেকে অফুরন্ত প্রাণশক্তির পাশাপাশি ইতিহাস-ঐতিহ্যের সান্নিধ্য ও পাওয়া যাবে খুব কাছ থেকে। ঢাকার কাছাকাছি পরিবার-পরিজন নিয়ে ঘুরতে যাওয়ার মত এসব জায়গাগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলায় অবস্থিত বালিয়াটি জমিদারবাড়ী, ঠিক একই রাস্তায় টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলায় অবস্থিত পাকুটিয়া জমিদারবাড়ী এবং একই জেলার দেলদুয়ার উপজেলার বারোভূঁইয়াদের ইতিহাস গাঁথা নর্থ হাউস। এটা অনেকটা এক ঢিলে তিন পাখি শিকারের ন্যায়। একই সাথে আপনাকে দেবে আনন্দ ও ইতিহাস ও ঐতিহ্য চর্চার এক দারুণ সুযোগ।

বালিয়াটি জমিদারবাড়ী:
আঠারো শতকের মধ্যভাগে জমিদার গোবিন্দরাম শাহ বালিয়াটি জমিদারবাড়ীটি নির্মাণ করেন। বালিয়াটি জমিদারবাড়ীটি প্রায় পাঁচ একর জমির ওপর অবস্থিত। জমিদারবাড়ীর সমস্ত চত্বর বেশ উঁচু প্রাচীর দিয়ে ঘেরা। এতে রয়েছে মোট সাতটি প্রাসাদসম ইমারত, যাতে মোটকক্ষ রয়েছে ২০০টির মত। এখানে আর ও রয়েছে পূর্ব বাড়ি, পশ্চিম, উত্তর, মধ্য ও গোলাবাড়ি নামে বিশাল আকারের পাঁচটি ভবন। মূল ভবনগুলোর সামনের দেয়ালগুলো জুড়ে নানা রকম কারুকাজ আর মূর্তি চোখে পড়ে। ভবনগুলোর সামনে প্রাচীরের দেয়ালে রয়েছে চারটি প্রবেশপথ। চারটি প্রবেশপথের চূড়ায় রয়েছে পাথরের তৈরি বড় বড় চারটি সিংহমূর্তি। ভবনগুলোর পেছনের দিকে আছে ছয়টি ঘাট যুক্ত বড় একটি শানবাঁধানো পুকুর। বালিয়াটি জমিদার বাড়ির বিশালে ঘেরা সৌন্দর্য আপনাকে বিমোহিত করবেই।

পাকুটিয়া জমিদারবাড়ি:
টাঙ্গাইলের বহু ইতিহাস ও ঐতিহ্যে ঘেরা নাগরপুর উপজেলা প্রাচীন লৌহজং নদীর তীরে অবস্থিত। ঊনবিংশ শতকে দিকে যমুনা নদীর মাধ্যমে নাগরপুর এলাকার সঙ্গে ভারতের কলকাতার সাথে সরাসরি ব্যবসায়িক যোগাযোগ ঘটে। ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষ দিকে মুঘল আমলের শুরুর দিকে নাগরপুরের সুবিদ্ধা খাঁর হাত ধরেই নাগরপুরের বিখ্যাত ‘চৌধুরী’ বংশের আবির্ভাব ঘটে। সুবিদ্ধা খাঁর পথ অনুসরণ করে কলকাতা থেকে আর ও আসেন রামকৃষ্ণ সাহা মণ্ডল। ১৯১৫ সালের ১৫ এপ্রিল তিন একর জমির ওপর একই নকশায় তৈরি করা হয় বিশাল তিনটি মহল। পাকুটিয়া জমিদারবাড়ীটি তিন মহলা বা তিন তরফ নামে পরিচিত। এই এলাকায় আর ও বেশ কিছু ছোট বড় জমিদার বাড়ি রয়েছে।

নর্থ হাউস:
টাঙ্গাইলের অদুরেই দেলদুয়ার উপজেলায় নর্থ হাউস বাড়ির অবস্থান। এখনো বারোভূঁইয়াদের এক ভূঁইয়া উত্তরসূরি হিসেবে এখন ও আছেন এই নর্থ হাউসের মালিক। অপরূপ সৌন্দর্যের ঘেরা এক রাজবাড়ী হলো দেলদুয়ার উপজেলার এই নর্থ হাউস। নর্থ হাউসের সামনের দিকে আছে বিশাল একটি শানবাঁধানো পুকুরঘাট। প্রাসাদের সামনেই চোখে পড়বে বারোভূঁইয়াদের হাতে তৈরি সাত গম্বুজবিশিষ্ট জামে মসজিদ। আপনি চাইলেই এখানে নামাজ আদায় করে ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে থাকতে পারেন। নর্থ হাউসের ভেতরে প্রবেশ করলে আপনার মনে হবে আপনি প্রাচীন ইংল্যান্ডের কোথাও ঘরতে বেড়িয়েছেন। সামনের দিকে চোখে পড়বে প্রায় ২০০ বছরের বেশি পুরনো কড়ই গাছ, আছে প্রাচীন পোড়ামাটির অসাধারণ কারুকাজের ফলক, পানির ফোয়ারা। বাড়ীর পেছনের অংশে আছে বিভিন্ন জাতের আমগাছের বাগান। সাজানো-গোছানো অসাধারণ এর সৌন্দর্য আপনার মন কেড়ে নেবে।

যেভাবে যাবেন:
পুরো তিনটি জমিদার বাড়ি ঘুরে দেখতে চাইলে নিজেদের গাড়ি অথবা গাড়ি ভাড়া করে নিয়ে যাওয়াই সবচেয়ে উত্তম। তবে চাইলে ঢাকা থেকে বাসে মানিকগঞ্জ নেমে সেখান থেকে সিএনজি করে ঘুরে আসতে পারেন সবগুলো জমিদার বাড়ি।

29 Jan 2019

ভ্রমণে বিভিন্ন দেশের জরুরী নাম্বার গুলো জানেন তো? আজকে আমি আপনার সাথে এশিয়া মহাদেশে থাকা দেশগুলোর জরুরী/ ইমারজেন্সি নাম্বার গুলো শেয়ার করব।

এটা আপনার ভ্রমণের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ভ্রমণে বিপদে কাজে লাগবে আপনার।

যে নাম্বার গুলো শেয়ার করব, সবগুলো নাম্বার টোল ফ্রি (মানে ঐ দেশের যে কোন লোকাল নাম্বার থেকে ফ্রি কল দিতে পারবেন)।

তাই আপনি যদি ভ্রমণ প্রিয় হয়ে থাকেন তাহলে এই পোস্টটি আপনার জন্য অনেক জরুরী।

পোস্টি পরা শেষে, হয় আপনার প্রয়োজনীয় জরুরী নাম্বার গুলো কোথাও লিখে রাখুন অথবা এই পোস্টি আপনার সোশ্যাল মিডিয়া (ফেসবুক, টুইটার) ইত্যাদি তে শেয়ার করে রাখুন। পড়ে যখন আপনার প্রয়োজন হবে সেখান থেকে প্রয়োজনীয় নাম্বারটি সংগ্রহ করে নিবেন।

তো চলুন শুরু করা যাক…

ভ্রমণে বিভিন্ন দেশের জরুরী নাম্বার গুলো জানেন তো?


এশিয়া মহাদেশ

দেশের নামজরুরী নাম্বার
বাংলাদেশ৯৯৯
আবখাজিয়া১০২
আফগানিস্তান১১৯
আক্রোরিরি ও
ধেকেলিয়া
১১২, ৯৯৯
বাহরাইন৯৯৯
ভুটান১১৩, ১১২, ১১০
ব্রিটিশ ভারত অঞ্চল১১২, ৯৯৯
ব্রুনাই৯৯৩, ৯৯১, ৯৯৫
মিয়ানমার৯৯৯
কম্বোডিয়া১১৭, ১১৯, ১১৮
চীন১১০, ১২০, ১১৯
ক্রিস্টমাস দ্বীপ০০০
কোকোস দ্বীপপুঞ্জ০০০
পূর্ব তিমুর১১২
হংকং৯৯৯
ভারত১০০, ১০২, ১০১
ইন্দোনেশিয়া১১০, ১১৮, ১১৩
ইরান১১০, ১১৫, ১২৫
ইরাক১১২, ৯১১
ইস্রায়েল১০০, ১০১, ১০২
জাপান১১০, ১১৯
জর্ডন৯১১
কাজাকস্থান১১২
কিরগিজস্তান১০২, ১০৩, ১০১
কোরিয়া১১০, ১১৯
দক্ষিণ কোরিয়া১১২, ১১৯
কুয়েত১১২
লাত্তস১৯১, ১৯৫, ১৯০
লেবানন৯৯৯, ১৪০, ১৭৫
মালদ্বীপ১১৯, ১০২, ১১৮
মাল্যাশিয়া৯৯৯
মঙ্গোলিআ১০৫
নেপাল১০০, ১০২, ১০১
ওমান৯৯৯৯
পাকিস্তান১৫, ১১৫, ১৬
ফিলিপাইন৯১১
কাতার৯৯৯
সৌদি আরব৯১১
সিঙ্গাপুর৯৯৯, ৯৯৫
শ্রীলংকা১১৯, ১১০
সিরিয়া১১২, ১১০, ১১৩
তাইওয়ান১১০, ১১৯
তাজিকস্থান১১২
থাইল্যান্ড১৯১, ৯১১
তুর্কমেনিয়া১১২
দুবাই১১২
উজ্বেকিস্থান১১২
ভিয়েতনাম১১৩, ১১৫, ১১৪
ইমেন১৯৪, ১৯১
28 Jan 2019

বিশ্বের সবচেয়ে বড় জলপ্রপাত নায়াগ্রা জলপ্রপাত। এর সৌন্দর্য যে কারও মন কেড়ে নেবে সহজেই। অবশ্য এবার শীতে জলপ্রপাতটির কিছুটা পরিবর্তন এসেছে।

স্বাভাবিক অবস্থায় নায়াগ্রা জলপ্রপাত:
তীব্র শীতে নায়াগ্রার কিছু কিছু জায়গায় পানি জমে গেছে। ফলে ওই স্থানগুলোতে স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে পানি প্রবাহ অনেকটা কমেছে। নায়াগ্রার এই নতুন রূপ জন্ম দিয়েছে অন্যরকম সৌন্দর্যের যা দেখে অভিভূত হচ্ছেন পর্যটকরা।

নায়াগ্রা যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে কানাডা সীমান্তে অবস্থিত। মার্কিন গণমাধ্যম সিএনএন বলছে, এই অঞ্চলে চলতি সপ্তাহজুড়ে হাড় কাঁপানো শীত থাকবে। এ সময় সেখানে মাইনাস ৫ থেকে ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা অনুভূত হতে পারে।

প্রসঙ্গত, ১৮৪৮ সালে ২৯ মার্চ তীব্র ঠাণ্ডায় নায়াগ্রা জলপ্রপাতের পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে যায়। তখন প্রায় ৪০ ঘণ্টার মতো এই প্রবাহ বন্ধ ছিল।

27 Jan 2019

আগের তুলনায় অনেক সহজ করা হয়েছে কানাডায় স্থায়ীভাবে বসবাসের প্রক্রিয়া। ২০২০ সাল পর্যন্ত ৩ বছরে ১০ লাখ দক্ষ শ্রমিক নেবে দেশটি। এতে সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাস, কাজ করার অনুমতি ও নাগরিকত্ব  পাবেন তারা। সম্প্রতি কানাডার ইমিগ্রেশন মন্ত্রী আহমেদ হুসেন এসব তথ্য জানিয়েছেন।

হাই স্কিল্ড, ফ্যামিলি মাইগ্রেশন, ট্রেড স্কিল্ডসহ অন্যান্য ক্যাটাগরিতে ৬০ ধরণের প্রোগ্রামের আওতায় এই সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। সিআরএস (Comprehensive Ranking System) পয়েন্টের নিম্নমুখী স্কোরের প্রবণতা দেখে ধারণা করা হচ্ছে, চলতি বছর সবচেয়ে কম পয়েন্ট দিয়েও কানাডায় আবেদনের সুযোগ পাওয়া যাবে।

২০১৮, ২০১৯ ও ২০২০ সালে অর্থাৎ তিন বছরে কানাডার বিভিন্ন প্রদেশে পর্যায়ক্রমে ১০ লাখের বেশি পেশাজীবী বিভিন্ন খাতে নেয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে দেশটির সরকার। ২০১৭ সালে ২ লাখ ৮৬ হাজার অভিবাসীকে স্থায়ীভাবে স্বীকৃতি দিয়েছে তারা।

এজন্য পৃথিবীর অন্য দেশের মতো বাংলাদেশের অভিজ্ঞ পেশাজীবীরাও ১০ পদের যেকোনও এক পদে  আবেদন করতে পারবেন। সাধারণত এক্সপ্রেস এন্ট্রি ও পিএনপি এই দুই ধরনের প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে বেশি আবেদন করা হয়।

যে ১০ পদে আবেদনের মাধ্যমে দ্রুত যাওয়া যাবে সেগুলো হলো- সেলস রিপ্রেজেন্টেটিভ, অ্যাকাউন্ট্যান্ট, ইঞ্জিনিয়ারিং প্রজেক্ট ম্যানেজার, বিজনেস এনালিস্ট, কাস্টমার সার্ভিস রিপ্রেজেন্টেটিভ, আইটি প্রজেক্ট ম্যানেজার, সিনিয়র অ্যাকাউন্ট ম্যানেজার, সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার ও ম্যানুফ্যাকচারিংয়ে দক্ষ। এছাড়া অন্যান্য দক্ষ পেশাজীবীরাও আবেদন করতে পারবেন।

এ ব্যাপারে কানাডায় নাগরিকত্ব পাবার প্রয়োজনীয় যোগ্যতা নিজের আছে কীনা তা জানতে বিজ্ঞ আইনজীবীদের পরামর্শ নেয়া যেতে পারে।

উল্লেখ্য, কানাডা সবসময়ই ‘আগে আসলে আগে পাবেন’ ভিত্তিতে অভিবাসন কার্যক্রম পরিচালনা করে। বিল সি-৬ (Bill C-6) অনুযায়ী কানাডার সিটিজেনশিপের আবেদন করতে ৫ বছরের মধ্যে অন্তত ৩ বছর বসবাস করতে হবে। এর আগে ছিল ৬ বছরের মধ্যে ৪ বছর। এছাড়া কানাডায় যারা অস্থায়ী মর্যাদায় তথা ওয়ার্ক অথবা স্টাডি পারমিটে ছিলেন, তারাও তাদের কানাডায় বসবাসের সময়টুকু ৩ বছর মেয়াদের একটি অংশ হিসেবে গণনা করতে সক্ষম হবেন।

কানাডায় অভিবাসনের আবেদন করতে সাধারণত একটি পূর্ণাঙ্গ বায়োডাটা, পরিবারের তথ্য, শিক্ষাগত যোগ্যতা কমপক্ষে ডিপ্লোমা বা ডিগ্রি পাস , আইইএলটিএস, ইসিএ সার্টিফিকেট, কমপক্ষে দুই বছরের  চাকুরীর  অভিজ্ঞতার প্রমাণপত্র, ব্যাংক স্টেটমেন্ট, মেডিকেল রিপোর্ট, পুলিশ ক্লিয়ারেন্স ইত্যাদি লাগে।

অনলাইনেই আবেদন করা যায়। তবে জব অফার ছাড়া আবেদন করে লাভ নেই। আবেদনের জন্য যোগ্য কীনা-তা নিরূপণ করার পরই প্রোফাইল তৈরি করে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দাখিল করে লটারি ড্র-এর জন্য অপেক্ষা করতে হয়। তবে সবকিছুর আগে চাকরির অফারের প্রয়োজন হয়। অর্থাৎ কানাডায় পদার্পণের পরই যোগ্যতা অনুযায়ী চাকরি পাবেন-এমন নিশ্চয়তা থাকতে হবে।

মূলত যেকোনও ডিপ্লোমাধারী অথবা ডিগ্রি পাসধারী দক্ষ ও অভিজ্ঞ পেশাজীবীরা সুযোগটা কাজে লাগাতে পারেন। বাংলাদেশিরা যদি প্রথম থেকেই দ্রুত ও দক্ষতার সাথে ফাইল প্রসেস করে, তবে স্বল্প সময়ে এই ভিসা পাওয়া নিশ্চিত। প্রকৃতপক্ষে যারা যোগ্যতা রাখেন, তাদের আর দেরি করা ঠিক হবে না।

27 Jan 2019

এক গুচ্ছ পদ্মফুল হাতে এনে দিলে কার না মন প্রফুল্ল হয়ে উঠবে! বিলে ফুটে থাকা অজস্র পদ্মের সৌন্দর্য আসলেই অপার্থিব। আমাদের চিরায়ত গ্রাম বাংলার অন্যতম মনভোলানো দৃশ্য এটি । গানে, কবিতায় অসংখ্য বার নীলপদ্মের কথা বলেছেন কবিরা। নীলপদ্ম হয়ত চাইলেই পাওয়া যাবেনা, তবে গোলাপি পদ্মের সৌন্দর্যে আপনি চাইলেই মুগ্ধ হতে পারেন। হ্যাঁ, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ঘাগুটিয়ার পদ্মবিলে আপনি দেখতে পাবেন অগণিত পদ্মের মেলা। ইচ্ছেমত মনভরে তুলতে পারবেন পদ্মের গুচ্ছ। এ যেনো ঠিক পদ্মফুলের গালিচা। প্রকৃতির সান্নিধ্যে সময় কাটাতে পরিবার-পরিজন বা বন্ধুদের নিয়ে ঘুরে আসতে পারবেন এই পদ্মবিল থেকে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার মনিয়ন্দ ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী গ্রাম ঘাগুটিয়া। আর ওপারেই ভারতের পশ্চিম ত্রিপুরার আমতলী থানার মাধবপুর গ্রাম। বাংলাদেশ-ভারতের এই দুটি গ্রামের মাঝখানেই এই বিশাল পদ্ম বিলের অবস্থান। প্রতিবছর আষাঢ় থেকে কার্তিক মাস পর্যন্ত ১২০ একর বিস্তীর্ণ এ বিলে পদ্ম ফুল ফোটে। আষাঢ় মাসে থেকে পদ্ম ফোটা শুরু হয় একটানা কার্তিক মাস পর্যন্ত পুরো পাঁচ মাস পদ্ম ফুলে রঙিন থাকে এই পুরো পদ্ম বিল। বিল থেকে পানি নেমে গেলে ধীরে ধীরে পদ্মও এই বিল থেকে উধাও হয়ে যায়। বাকি সময়টুকুতে এখানে বোরো ধানের চাষ হয়।

ঘাগুটিয়ার পদ্মবিল

এই বিলে লাখো লাখো পদ্ম ফুলের সমাহার দেখা যায়। সাধারণত সকাল বেলা পদ্ম ফুলের সংখ্যা থাকে সবচেয়ে বেশি। গ্রামবাসীরা প্রচুর পদ্মফুল সংগ্রহ করে তাই আপনি চারপাশে পদ্ম ফুলের ভাঙ্গা ডাল ছড়িয়ে থাকতে দেখবেন। বিলে নৌকা ভ্রমণের সময় আপনি পদ্ম ফুল এবং পদ্ম ফল সংগ্রহ করতে পারবেন। হাত ভর্তি পদ্মফুল পেয়ে আনন্দে আটখানা হতে কার না ভালো লাগবে। পুরো বিল শুধু পদ্ম ফুলই নয় ,বিভিন্ন ধরনের জলজ ফুল যেমন শালুক ফুল, চাঁদমালা ফুলে ছেয়ে থাকে। বর্ষায় যেনো বিলে আসন পাতে শত শত পদ্ম ফুল। শত একর বিলজুড়ে জলে ভাসতে থাকে পদ্মের দলেরা। দর্শনার্থীদের কেউ কেউ সৌন্দর্য উপভোগ করতে আসে, কেউ বা আসে ছবি তুলতে। কেউ আবার ডিঙি নৌকায় চড়ে গিয়ে তুলে আনে গোছা গোছা পদ্ম। এ যেন প্রকৃতি প্রেমীর এক অন্য রকম স্বর্গ। সাদ-গোলাপী এই পদ্মার গালিচায় ভাসতে ভাসতে কখন যে বেলা ফুরিয়ে আসে টেরই পাওয়াই মুশকিল। এত বড় পদ্মের বিলের দেখা মেলা আসলেই ভার।

এই বিলের পাশে অবস্থিত ভারতীয় সীমান্ত খুব সহজেই দেখা যায়। এই বিলের প্রায় ৮০ শতাংশ বাংলাদেশে থাকলেও বাকি অংশ পড়েছে ভারতের অংশে। শুষ্ক মৌসুমে বিলের পানি পুরোপুরি শুকিয়ে যায়। আবারো বর্ষাকাল আসলে এই বিলটি পদ্ম এবং অন্যান্য জলজ ফুলে ভরে উঠে।

ঘাগুটিয়ার পদ্মবিল

এ বিলের অপরূপ দৃশ্য দেখার জন্য দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসে বিনোদন-প্রিয় হাজারো মানুষ। পদ্মবিলে ঘুরার জন্য নৌকাগুলো ঘণ্টা হিসেবে ভাড়া দেয়া হয়। নৌকা ভাড়া দিয়ে বাড়তি কিছু টাকা আয় করে স্থানীয়রা। দর্শনার্থীরা বিলের পাড়ে বসে পদ্মের সৌন্দর্য উপভোগ করতে এখানে প্রতিনিয়ত ভিড় জমান।

হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের দুর্গা দেবীর পূজায় কাজে লাগে এই পদ্ম ফুল। সে জন্য আশ্বিন মাসে এ বিল থেকে বাংলাদেশ-ভারতের মানুষ প্রচুরসংখ্যক পদ্ম ফুল সংগ্রহ করে থাকে। ভারতের স্থানীয় বাজারে এসব পদ্ম বিক্রিও হয়। শিশু-কিশোরেরা ডিঙি নৌকায় করে ফুল তুলে আনে এই বিল থেকে। এছাড়া ফুটন্ত ফুলের ভেতর থাকা ফল খায় শিশুরা। আবার এই ফুল চার থেকে পাঁচ টাকায় বিক্রিও করে তারা। প্রতিদিন প্রায় ৪০০-৫০০ ফুল তোলে শিশুরা।

যেভাবে যাবেন:

ঢাকা থেকে ট্রেনে আখাউড়া রেলওয়ে স্টেশন। ভাড়া ট্রেন ও শ্রেণিভেদে ৬৫ থেকে ২৫০ টাকা পর্যন্ত। স্টেশনে নেমেই সিএনজিচালিত অটোরিকশা রিজার্ভ নিলে ২৫০ থেকে ৩০০ টাকায় পৌঁছা যাবে বিল ঘাগুটিয়ায়। অটোরিক্সা রিজার্ভ নিয়ে নিলেই ভালো। কেননা ঘাগুটিয়া এলাকায় অটোরিক্সা নিয়মিত পাওয়া যায় না।

যেখানে থাকবেন:

আখাউড়াতে থাকার জন্য বেশকিছু হোটেল রয়েছে। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল নাইন স্টার আবাসিক হোটেল এন্ড রেস্টুরেন্ট, রংধনু আবাসিক হোটেল, হোটেল দীপ্তি রেস্ট হাউজ (আবাসিক), হোটেল সবুজ রেস্ট হাউজ,হোটেল ভাই ভাই রেস্ট হাউজ, হোটেল বনানী রেস্ট হাউজ, হোটেল টাওয়ার প্লাজা ইত্যাদি।