ব্লগ

24 Aug 2019

অন্ধকারের ঘোর কাটিয়ে নাতিশীতোষ্ণ আবহাওয়ায় শিলং পৌঁছে আমাদের ভ্রামণিকদল পুলকিত। চারদিকের দৃশ্যে যেমন নয়ন জুড়ায়, তেমনি জলহাওয়ার শীতলতা অনুভূতিকে প্রশান্ত করে দেয়। কবি নজরুল বলেছেন ‘ আমার নয়নে নয়ন রাখিয়া প্রাণ করিতে চাও কোন অমিয়’…আমরা যেন প্রকৃতির এক অমিয়সুধা পান করছি। এ-ই পরিভ্রমণরত মেঘদলে ঢেঁকে যাচ্ছে অদূরের পাহাড়, তো পরক্ষণেই রোদের ঝিলিক। সৃষ্টির এই অবারিত বৈভব দেখে অজান্তে এর স্থপতির প্রতি মাথা নুয়ে আসে। সেই মাথাকে আরও নত করে দিতে আমাদের অন্যতম ভ্রমণগাইড খাসি ভাষার কবি ও কলেজশিক্ষক বাখিয়ামুন রিনজার এর গাইডেন্সে গাড়ি ছুটে চলে লাবান এলাকায়। সেখানে শিলংয়ের নতুন বিস্ময় গ্রান্ড মদীনা মসজিদ- বা গ্লাস মসজিদ। ভারতের একমাত্র গ্লাস এবং উত্তরপূর্ব ভারতের বৃহত্তম মসজিদ।

ব্লগ ও ভ্রমণ গাইডে শিলংয়ের প্রচুর দর্শনীয় স্থানের মধ্যে গ্লাস মসজিদের উল্লেখ পাওয়া যায় না বললেই চলে। আগ্রহ আকুল পর্যটকই কেবল পাহাড়ি সরু রাস্তা পেরিয়ে লাবানে ছূটে যায় মসজিদ পরিদর্শনে। আমাদের ভ্রমণলিস্টের ওপরের দিকেই রয়েছে গ্রান্ড মদীনা মসজিদ। সেই আগ্রহের কারণও বাখিয়ামুন। কারণ ‘ভ্রমণগদ্যশিলংট্রিপ’ গ্রুপে সে-ই একটা ভিডিও পোস্ট করেছিল, যা দেখার পর ভ্রমণসূচীতে সেটি না রেখে পারিনি। মনে হলো শিলং ভ্রমণটি নামাজের মধ্য দিয়ে শুরু হলে খুব খারাপ হবে না। ভ্রামণিক দলের সবাই উৎফুল্ল। খাসি গোস্টগণ আমাদের মসজিদ দেখাতে পেরে, আমরা দেখতে পেরে। তাঁরা খ্রীষ্ট ধর্মাবলম্বী হলেও অন্যধর্মের তুলনায় ইসলাম ও মুসলমিদের সঙ্গে সাজুয্য বোধ করে বলে আগেই জানিয়েছে। বাখিয়ামুন বললো, ‘আই থিঙ্ক দ্য মস্ক অফার টু প্রেয়ার সার্ভিসেস এভরি ডে, মর্নিং এ্যান্ড ইভেনিং টাইম। ইউ উইল গেট ইভেনিং প্রেয়ার’।

বললাম, ওহ নো, দেয়ার আর প্রেয়ারস ফর ফাইভ টাইমস এ্যা ডে’।

পাহাড়ি আঁকাবাঁকা পথ পেরিয়ে গাড়ি লাবান এলাকা পৌঁছল। একটি সরুগলি দিয়ে নিচে নামতেই ডানদিকে তিনতলা ভবন। ভবনের নিচ দিয়ে ভিতরে ঢোকার রাস্তা। সামনে ঘাসে ছাওয়া প্রশস্ত প্রাঙ্গণ। প্রাঙ্গণে ঢুকলে চোখ জুড়ানো বহুবর্ণিল ফোয়ারা আগন্তুককে স্বাগত জানায়। সামনে তাকিয়ে দেখি, অপূর্ব স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত বহুতলবিশিষ্ট গ্রান্ড মসজিদ চোখের সামনে চকচক করছে। মসজিদের একটি গম্বুজ, চারটি মিনার। পুরো মসজিদ সবুজাভ কাঁচে মোড়ানো বলে এর আরেক নাম গ্লাস মসজিদ। পূর্বপ্রান্তের চত্ত্বর দিয়ে ঢুকে মসজিদের ডানদিক বা উত্তরে মেয়েদের ওজু ঘর। ভেতরে ডানদিকে ঘেরা জায়গায় তাদের নামাজের ব্যবস্থা। মসজিদ ও সংলগ্ন ঈদগাহ মিলে আটহাজার মানুষ নামাজ পড়তে পারে। মসজিদের ধারণক্ষমতা দু্ই হাজার। উইকি তথ্য দিচ্ছে, শিলং শহরে মুসলমানের সংখ্যা প্রায় ৫ শতাংশ বা সাতহাজারের মতো।

বামদিকে পুরুষ ওজখানা। ভ্রমণদলের দু’দল দু’দিকে ওজুর জন্য ছুটলাম। ওজুখানায় বসার জায়গা থাকলেও বুঝতে পারলাম এ্রখানে সবাই দাঁড়িয়ে ওজু করে। আমি তুসু ও কবি কামরুল হাসান ওজু করে নিলাম। ওজুখানার প্রবেশপথের বামদিকে একটি ব্লাকবোর্ডে চক দিয়ে ৩১ মে জুম্মা কালেকশনের পরিমাণ লেখা। মনে হলো, গোটা মাসে জুম্মা নামাজের সময় মসজিদ তহবিলে যে অর্থ আদায় হয়, তার পরিমাণ লেখা হয় বোর্ডটিতে। ৩১ মে পর্যন্ত জুম্মা কালেকশনের পরিমাণ ১০হাজার ১১০ টাকা। ভাবলাম, গ্লাস মসজিদের স্থাপত্যশৈলীর স্বচ্ছতার মতোই স্বচ্ছ এর হিসাব-নিকাশও।

ওজুখানা থেকে দক্ষিণ দিকের দরজা দিয়ে মসজিদে প্রবেশ করে প্রাণ জুড়িয়ে গেল। দিনমানের ভ্রমণক্লান্তি নিমেষে উধাও। একটি পবিত্রতার আবেষ্টনীর মধ্যে ঢুকে গেলাম। ধর্মনিরপেক্ষ ভারতের মেঘালয় রাজ্য গারো ও খাসি প্রধান। এদের প্রাচীন ধর্ম অনেকটাই লুপ্ত। বেশিরভাগ এখন খ্রীষ্ট ধর্মদীক্ষিত। এমন একটি রাজ্যের রাজধানীর প্রধান মসজিদে নামাজ আদায় করতে পারায় ভিন্ন অনুভূতিতে তৃপ্ত হচ্ছে মন।

ঘড়িতে ছয়টার কিছু বেশি বাজে। আজান হয়ে গেছে। নামাজ শুরু হতে যাচ্ছে। দ্বন্দ্বে পড়ে গেলাম কোন নামাজের নিয়ত করবো? আকাশ তখনও পরিস্কার। ভারতের সময় আধাঘন্টা এগিয়ে। মাথার মধ্যে তখন মাগরিবের সময়টা আসেনি। মনে হলো, তাড়াতাড়ি মাগরিব? নামাজে দাঁড়ানোর পর দেখি, ইমাম সাহেব উচ্চস্বরে পড়া শুরু করেছেন-‘আলহামদু লিল্লাহি রাব্বিল আলামিন, আররাহমানির রাহিম’….

নিয়ত করলাম মাগরিবের। মাগরিবে উচ্চস্বরে সুরা পড়া হয়।

নামাজ শেষ করে দেখি, প্রশস্থ মসজিদের পেছনের একটি সারিতে কবি কামরুল হাসান নামাজে দাঁড়িয়েছেন। জামাতে ফরজ শেষ করে সুন্নত পড়ছেন। জানামতে, ব্যবস্থাপনার এই প্রফেসরকে ধর্মচর্চার ক্ষেত্রে আগ্রহাকুল দেখেছি বলে মনে পড়ে না। বরং ধর্ম-বিশ্বাস এসব নিয়ে আলাপচারিতায় তিনি বিজ্ঞানের প্রসঙ্গ তোলেন। সেই এখানকার ভাবগাম্ভীর্যময় পরিবেশ ও পবিত্রতার বেষ্টনি সেই মানুষকেও নামাজিদের কাতারে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। ব্যতিক্রমী মসজিদটি থেকে শুধু দেখার স্মৃতি নিয়েই তিনি ফিরতে চান না, নামাজের মধ্য দিয়ে নিজেকে সঙ্গে সংযুক্ত করার স্মৃতিটিও রেখে যেতে চান।

নামাজ শেষে বাইরে বেরিয়ে দেখি সামনের চত্ত্বরের ফোয়ারাটি ইতোমধ্যে বিদ্যুতের বহুবর্ণিল আলোয় ঝলমল করছে। গম্বুজ ও চারমিনার ও মুল মসজিদ থেকে সবুভ আলো ঠিকরে বের হচ্ছে। চত্ত্বরে দাঁড়িয়ে আমরা নানা কৌণিকে মসজিদকে পেছনের রেখে ছবি তুলে যাচ্ছি। নামাজে শামিল হওয়া ত্রিশ জনের মতো মুসল্লি তখন চত্ত্বর দিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছে। কবি কামরুল হাসান আলাপী মানুষ, নিরন্তর নেটওয়ার্কিংয়ের বিশ্বাসী, দেখি একজনের সঙ্গে পরিচিত হচ্ছেন। শিক্ষিত, মার্জিত শ্রুশ্মমন্ডিত যুবক। আমিও যোগ দিই। জানা গেল, তাঁর নাম ডা. জামাল সিদ্দিক। ডেন্টাল বিশেষজ্ঞ। মসজিদের নিয়মিত মুসল্লি। বললেন, বিভিন্ন ওয়াক্তের নামাজে মুসল্লি খুব বেশি হোক বা না হোক, শুক্রবার জুম্মার নামাজে পাঁচ শতাধিক মুসল্লির জমায়েত হয়। এই আলাপের সময় ইমাম সাহেব বের হয়ে যাচ্ছিলেন, ইতোমধ্যে যাঁর নামাজ পড়তে গিয়ে আমরা সুললিত কন্ঠে ক্বেরাত শুনে আমার প্রতীতি হয়েছে যে তিনি একজন ক্বারী-যারা ক্বোরআন শরীফ শুদ্ধ করে পড়তে পারেন। দেখি, ভদ্রলোক কমবয়স্ক মাওলানা। জিজ্ঞেস করে জানা গেল, তিনি বিহার থেকে এখানে এসেছেন। নাম সাদ্দাম হোসেন।

বেরিয়ে আসার সময় মনে হলো, এ অঞ্চলের ঝর্ণা, জাদুঘর, মন্দির, রামকৃষ্ণ মিশনসহ বহু দর্শণীয় স্থানের কথা ভ্রামণিকদের লেখালেখিতে এন্তার পাওয়া যাচ্ছে। নয়ানাভিরাম মসজিদটি রয়েছে এখনও অনাবিস্কৃত। এ রচনার ভ্রমণপিপাসুদের দৃষ্টিতে পড়লে গ্রান্ড মদীনা মসজিদ হয়ে উঠতে পারে ধর্মীয় পর্যটনের অন্যতম আকর্ষণীয় কেন্দ্র।

ভ্রমণের সময় অবশ্যই পরিবেশ সম্পর্কে সচেতন থাকতে হবে। মনে রাখবো, ফেলে আসবো স্মৃতিময় পদচিহ্ন, নিয়ে আসবো ব্যবহার্য আবর্জনা।

Source: Mahmud Hafiz‎<Travelers of Bangladesh (ToB)

24 Aug 2019

বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত ঘেঁষে বৃক্ষ আচ্ছাদিত সুন্দর একটি প্রাকৃতিক পরিবেশে অবস্থিত এই আলতাদীঘি। বাংলাদেশের অনেকেরই এই স্পট সম্পর্কে জানা নেই। গত মাসের মাঝামাঝি সময়ে সেখানে গিয়েছিলাম।

চারিদিকে শালবনের মাঝে বিশাল এক দীঘি। সেখানে নানা প্রজাতির পাখি ও হাঁসের ঝাঁক দেখে মন ভরে যাবে। দীঘির চারপাশে পাকা সরু পথ ধরে হেঁটে হেঁটে ঘুরে দেখতে পারেন। প্রায় ৪ কিমি এর মতো সেই পথ। জঙ্গলের মাঝে অনেক পুরোনো উঁচু উইপোকার ঢিবি রয়েছে, যা হয়ত আপনি কখনোই দেখেননি।

আলতাদীঘির পাশেই রয়েছে ভারতের সীমান্ত। এছাড়া বোনাস হিসেবে আরো যা দেখতে পাবেন, তা হলো স্পটের পাশেই আদিবাসীদের ছোট গ্রাম। ইচ্ছে হলে ওদের জীবনযাত্রা দেখতে ঢুঁ মারতে পারেন সেখানেও। তবে জঙ্গলময় পরিবেশ হওয়ায় সন্ধ্যার আগেই সেখান থেকে ফিরে আসা ভালো।

যেভাবে যাবেন :
বাংলাদেশের যে কোন জায়গা থেকে আপনাকে বাসে যেতে হবে নওগাঁ অথবা জয়পুরহাট। সেখান থেকে স্থানীয় পরিবহণে ধামুইরহাট। অথবা ট্রেনে রাজশাহী গিয়ে সেখানের রেলগেট মোড় থেকে নওগাঁর ধামুইরহাটের বাস ধরতে পারবেন। তারপর সেখান থেকে অটোতে করে আলতাদীঘিতে পৌঁছে যাবেন। ধামুইরহাট থেকে আলতাদীঘির পথ সরু হলেও পাকা রাস্তা থাকায় যেতে অসুবিধা হয় না। বনের ভেতর দিয়ে ৪ কিমি এর মতো অল্প সেই পথ দিয়ে যাওয়াটা একটা এডভেঞ্চারের মতো লাগবে। মাইক্রোবাস বা প্রাইভেট কার নিয়েও সরাসরি যেতে পারবেন আলতাদীঘি জাতীয় উদ্যানে ।

বি দ্র : অনেকেই চিপসের প্যাকেট বা পানির খালি বোতল ফেলে আসেন বনের ভেতর বা দীঘির পানিতে, যা কোনভাবেই কাম্য নয়। বন ও দীঘির পানিতে আবর্জনা ফেলে পরিবেশ নষ্ট করবেন না।

Source: Sarifur Rahman Hilton <Travelers of Bangladesh (ToB)

24 Aug 2019

এবারের ঈদের ছুটিতে কোথাও যাওয়া হয়নি। গতবার গিয়েছিলাম নেপাল।ভেবে দেখলাম যে, একদিনে ঢাকার আশেপাশে কোথায় ঘুরে দেখা যায়? পরে মনে হল যে,কুমিল্লাতো কাছেই আর যেহেতু ঈদের ছুটি কাজেই জ্যাম পাবো কম। কয়েকটা গ্রুপে বেশ আগে কুমিল্লাতে ডে ট্যুরের পোস্ট পড়েছিলাম। যেমন চিন্তা তেমন কাজ।

ঈদের চতুর্থদিন রওনা দিলাম কুমিল্লার উদ্দেশ্যে আমার দুই কাজিনকে নিয়ে। একটু চিন্তিত ছিলাম সেফটি নিয়ে কিন্ত তেমন কোনো সমস্যা হয়নি আলহামদুলিল্লাহ। কমলাপুর বাসস্ট্যান্ড যেয়ে রয়াল কোচ এসি বাসের টিকিট নিলাম ২৫০ টাকা দিয়ে। পাশেই ছিল এশিয়া এয়ারকন নামের আরেকটি এসি বাসের বুথ। টিকেট প্রাইস সেইম। এরপর মনোরম সুন্দর দৃশ্য দেখতে দেখতে চলে গেলাম কুমিল্লা। সময় লেগেছিল মাত্র ১ঘন্টা ২০ মিনিটের মতো। আমি নেমেছিলাম কোটবাড়ি কারন কোটবাড়ি থেকে শালবনবিহার, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়, ময়নামতি জাদুঘর সব কাছাকাছি।

এবার কোটবাড়ি থেকে রিসার্ভ সিএনজি নিয়ে গিয়েছিলাম নব শালবন বিহার।এখানে এন্ট্রির জন্য টিকেট নিয়েছিলাম ২০ টাকা দিয়ে । এটি একটি বৌদ্ধ আশ্রম এবং উপাসনালয়।দেশের বাইরে অনেক মোনাস্ট্রি দেখেছি আমি। সেই মোনাস্ট্রিগুলোর সাথে তুলনা করবোনা।কিন্তু বেশ শান্ত নিরিবিলি জায়গা।

কুমিল্লার নব শালবন বিহার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম বিহার বা শান্তি প্যাগোডা। নব শালবন বিহারের প্রবেশ দ্বার হতেই বা দিকে রয়েছে সোনালী রঙ এর ৬ টন ওজনের ৩০ ফুট উচ্চতার বিশাল প্রার্থনারত বৌদ্ধের মূর্তি। মূর্তির পাশে রাজকীয় ভাবে নিরাপত্তা দেয়ার ভঙ্গিতে স্থাপিত আছে গর্জন রত একই রঙের দুটি সিংহ। এছাড়া চারপাশে দাড়িয়ে আছে ৩ টি বড় ও ১ টি ছোট্ট সোনালী মোটক। পুরো মন্দিরটাই নানা রকম শৈল্পিক কারুকার্যখচিত।
ধাতব পদার্থের এই মূর্তিটি থাইল্যান্ডের একটি বৌদ্ধ ধর্মীয় ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে নব শালবন বিহারকে উপহার হিসেবে দেয়া হয়। ২০১৪ সালের ১৫ আগস্ট স্থাপন করা চমৎকার এই মূর্তিটি যা অনেক দূর থেকেই পরিলক্ষিত হয়।

কিছু সময় এখানে থেকে আমরা চলে গিয়েছি শালবন বিহারে। নব্ শালবন বিহার থেকে হেঁটে যেতে সময় লাগে ৫ মিনিট। আমার কাছে এই জায়গায়টি খুবই ভালো লেগেছে কিন্তু ভিড় একটু বেশি ছিল। পাশেই ছিল ময়নামতি জাদুঘর আর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়। ওখানে যাওয়া হয়নি সময় সল্পতার কারনে।

এরপর চলে গেলাম বার্ড এ। কুমিল্লা আসবেন অথচ বার্ড দেখবেন না তা কি করে হয়! তাই কুমিল্লা বেড়াতে আসলে অবশ্যই ঘুরে যাবেন বার্ড থেকে।ভিতরে আছে হরেকরকমের গাছপালা,বোটানিকাল গার্ডেন আর কি সুন্দর নিরিবিলি পরিবেশ। বেশ খানিকটা ঘুরে এবার বার্ড থেকে বের হয়ে অটোরিকশা নিয়ে গেলাম কোটবাড়ি মেইন রোড আর ক্যান্টনমেন্ট যাওয়ার জন্য মাইক্রোবাসে গেলাম প্রতিজন ২০ টাকা করে।
ক্যান্টনমেন্ট এ বেশকিছু হোটেল রিসোর্ট আছে। সুবিধামত জায়গায় খেয়ে নেয়া বেটার। সবচেয়ে ভালো অপশন হচ্ছে ভাত, ডাল, মাংস। আমরা খেয়েছিলাম মনিহার নামের একটি হোটেলে। দেশি মুরগী,ভাত আর ডাল নিলে ম্যাক্সিমাম ১৫০ টাকা বিল আসবে।তবে দাম আগেই জেনে নিবেন নয়তো বিল চাইবে উল্টাপাল্টা।

এরপর আবার অটোরিক্সা নিয়ে চলে গেলাম ময়নামতি ওয়ার সিমেট্রি, লোকাল মানুষজন যদিও বলে বিদেশিদের বা খ্রিস্টানদের কবরস্থান।এটি একটি কমনওয়েলথ যুদ্ধ সমাধি।বার্মায় সংঘটিত দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে যে ৪৫০০০ কমনওয়েলথ সৈনিক নিহত হন, তাদের স্মৃতি রক্ষার্থে বার্মা, আসাম এবং বাংলাদেশের ৯টি রণ সমাধিক্ষেত্র তৈরি করা হয়েছে।
এখানে বেশ খানিকটা সময় কাটিয়ে আবার ক্যান্টনমেন্ট যেয়ে এশিয়া ট্রান্সপোর্ট নামের নন এসি বাসের টিকিট নিলাম ২৫০টাকা দিয়ে কারন কোনো এসিবাসের টিকিট ছিলো না। সব থেকে ভালো হতো যদি কুমিল্লা যেয়েই আগে ঢাকায় আসার টিকেট নিয়ে নিতাম অথবা কুমিল্লার শাসনগাছা যেয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দিতাম। কিন্ত নন এসি বাস খারাপ ছিলো না শুধু সমস্যা একটাই ছিলো, ড্রাইভারের কাছে জীবনের থেকে সময়ের মূল্য বেশি। তাই পাগলের মত ওভারটেক করছিল। সকালে রওনা দিয়েছিলাম ৮ টায় আর বাসায় ফিরেছি রাত ৮ টায়। সময় না থাকায় রানীর কুঠি আর ধর্মসাগর দিঘি যাওয়া হয়নি। ওখানে ক্যান্টনমেন্ট থেকে যেতে সিএনজি ভাড়া লাগবে ৩০০ টাকার মত যেহেতু এই জায়গাগুলো শহরের দিকে।
আরো যেই জায়গাগুলো ঘুরে দেখতে পারেন তা হলো:
ইটাখোলা মূড়া
রূপবান মূড়া
চারপত্র মূড়া
কোটিলা মূড়া
আনন্দ বিহার
ভোজ বিহার

ঘুরতে গেলে সাথে অবশ্যই সানক্রিম,ছাতা,পানি আর স্ন্যাক্স জাতীয় খাবার নিবেন। আর যেকোনো জায়গার পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা আমাদের সকলের কর্তব্য তাইনা??
সামনে আছে পূজার ছুটি। কাজেই ঘুরে আসুন কুমিল্লা থেকে। একদিনের ঘুরাঘুরির জন্য বেশ ভালো জায়গা।
হ্যাপি ট্রাভেলিং

Source: Sonia Zarin <Travelers of Bangladesh (ToB)

 

22 Aug 2019

কোন জায়গায় ঘুরতে যাওয়া হচ্ছিল না। তাই বন্ধু যখন বলল চল আমরা রামগতি থেকে ঘুরে আসি। একবার চিন্তা করেই রাজি হয়ে গেলাম। ৭-৮ জন যাওয়ার কথা থাকলেও শেষমেশ আমরা হলাম ৬ জন। সকাল ৮.৩০ লক্ষ্মীপুর থেকে রওনা দিলাম লেগুনায় করে গন্তব্য আলেকজান্ডার মেঘনা বিচ। আপনি চাইলে বাসেও যেতে পারেন। বাস আর লেগুনার ভাড়া সেম ৫০ টাকা। বাসে যেতে সময় লাগে পৌনে ২ ঘন্টা আর লেগুনায় দেড় ঘন্টা এই যা। আলেকজান্ডার নেমে হালকা নাস্তা করে চলে গেলাম মেঘনার পাড়ে। আলেকজান্ডার এই অঞ্চলের মানুষের জন্য একটি জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র। বাঁধের উপরে উঠলেই প্রথমে আপনাকে স্বাগতম জানাবে দমকা হাওয়া তার সাথে গুড়িগুড়ি বৃষ্টি হলে তো আর কথাই নেই। ব্লকের উপর বসে নদীর সৌন্দর্য উপভোগ করে ঘন্টার পর ঘন্টা সময় কাটিয়ে দিতে পারবেন। সরকার এই স্থানের সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে কাজ করছে। বাঁধের পাড়ে ঝাউগাছ লাগানো হয়েছে, বসার জন্য তৈরি করা হয়েছে শেড আর সাথে আছে সোলার লাইট। আগে যেখানে সন্ধ্যার পর ছিনতাইকারীর ভয়ে থাকা যেত না এখন অনায়াসে বসে চাঁদের আলো উপভোগ করা যায়। এনেক বক বক করি ফালাইলাম..

এবার দুপুর ১২ টায় রওনা হলাম রামগতির জন্য, অটো ভাড়া জনপ্রতি ৪৫ টাকা, যদিও আসার সময় ৫০ টাকা দিতে হইছিল। আপনি সিএনজি বা লেগুনায় ও যেতে পারেন লেগুনা ভাড়া ৪০ টাকা। যেতে সময় লাগবে পৌনে এক ঘন্টার মত।

রামগতি গিয়ে আগে পেটপূজা সারলাম ইলিশ দিয়ে, প্রতি পিচ ৭০ টাকা সাথে ভাত দুই প্লেট ২০ টাকা। রামগতি বাজারে এখন গেলে দেখবেন শুধু ইলিশে বাজার সয়লাব আমি চিন্তায় পড়ে গেছিলাম এত মাছ যায় কোথায়। আর নদীর পাড়ে দেখবেন জেলেরা ট্রলার থেকে মাছ নামাচ্ছে। নদীর পাড়ে ব্লকের দিকে না গিয়ে চলে যাবেন জেলে গ্রামের দিকে নদীর পাড় ধরে। রামগতি আলেকজান্ডারের চেয়ে সুন্দর জায়গা, এখানে মানুষের আগমন ও কম। বেড়ি ধরে হাটতে হাটতে ডেড ইন্ডে একটা চায়ের দোকান পাবেন। চা খাবেন আর ফিল নিবেন… কিছু দিন পর দোকানটা আর নাও পেতে পারেন। কারন আস্তে আস্তে নদী এগিয়ে আসছে জনবসতির দিকে আর গ্রাস করছে সবকিছু। ও ওখানে নদীতে গোসল টা সেরে ফেলতে পারেন।

এরপর বেশি দেরি না করে আবার চলে আসবেন রামগতি বাজারে। ওখান থেকে অটো করে চলে যাবেন ট্যাংকির চর। জনপ্রতি ভাড়া ৩৫ টাকা। ঐ জায়গাটাও অনেক সুন্দর যদিও আমরা যেতে পারি নাই। সূর্যাস্তটা ওখনে উপভোগ করেই তাড়াতাড়ি রওনা হয়ে যাবেন। বেশি দেরি করলে পরে গাড়ি পাবেন না। ফিরতি পথে আবার একই ভাবে ফিরে আসবেন।

খরচ-

লক্ষ্মীপুর – আলেকজান্ডার ৫০+৫০= ১০০ টাকা

আলেকজান্ডার – রামগতি ৫০+৫০=১০০ টাকা

রামগতি – ট্যাংকির চর ৩৫+৩৫ =৭০টাকা

খাওয়া খরচ =১০০ টাকা

Source: Asiful Habib‎ <Travelers of Bangladesh (ToB)

22 Aug 2019

রুটঃ
ঢাকা(সায়েদাবাদ)>সুনামগঞ্জ>তাহিরপুর>সুনামগঞ্জ>ঢাকা(সায়েদাবাদ)

👉ট্যুরমেটঃ ৯ জন।

👉সময়কালঃ ২ রাত ২ দিন।

👉খরচাপাতিঃ
ঢাকা ( সায়েদাবাদ) থেকে সুনামগঞ্জগামী সেমিলোকাল চেয়ারকোচ = ৩০০ টাকা/হেড

সুনামগঞ্জ টু তাহিরপুর রিজার্ভ সিএনজি ( সিএনজি প্রতি ৫ জন) = ১০০ টাকা/হেড

নৌকা ভাড়া( রিজার্ভ) সকাল থেকে পরদিন সকাল পর্যন্ত ৩২০০ টাকা = ৩৫০/হেড

এখানে কিছু কথা বলা দরকার,নৌকায় চুক্তি হয়েছিল হাওরে সারাদিন ঘুরে রাতে নৌকায়ই স্টে করবো এবং সকালে ৭ টার মধ্যে আবার তাহিরপুর পৌঁছে দিবে।কারন ১০ টায় সুনামগঞ্জ থেকে ঢাকাগামী গাড়ির টিকেট কাটা ছিল।আমাদের নৌকাটি মোটামুটি মানের ছিল,এই নৌকায় ১৫ জন অনায়াসে থাকা যায়।যদিও আমরা সারারাত নৌকার ছাদেই কাটিয়ে দিয়েছিলাম, চাঁদনি রাত আমাদের জন্য ছিল বারতি পাওনা।

খাবার-দাবারঃ
দুপুর+রাত নৌকায় রান্না হয়েছিল,বাজার আমরাই করে নৌকায় উঠেছিলাম।নৌকার মামারাই রান্না করে দেয়।টোটাল খাবার খরচ ৩২০০ টাকা,(সকাল+দুপুর+রাত+পরদিন সকাল) = ৩৫০/হেড।

বাইক রিজার্ভঃ
(নীলাদ্রি লেক+বারিকটিলা+জাদুকাটা নদী+শিমুলবাগান+লাকমাছড়া) ২০০ টাকা/বাইক,২ জন করে। =১০০ টাকা/হেড।

আনুষঙ্গিক খরচঃ
লাইফ জ্যাকেট ৩০ টাকা/হেড।

সুনামগঞ্জ টু তাহিরপুর রিজার্ভ সিএনজি ( সিএনজি প্রতি ৫ জন) = ১০০ টাকা/হেড

হাসনরাজার আস্তানা দর্শনঃ (আসা-যাওয়া + এন্ট্রি ফি)= ৫০ টাকা/হেড

সুনামগঞ্জ টু ঢাকাঃ হানিফ পরিবহন = ৫৫০ টাকা/হেড

টোটাল খরচ = ২০০০ টাকা/হেড

পাহাড় আর হাওর মিলে এক নৈসর্গিক প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের আধার টাংগুয়ার হাওর,বছরের ৬ মাস এখানে পানিতে ডুবে থাকে বাকি সময় চাষাবাদ হয়।
সময় পেলে পরিবারসহ ঘুরে আসুন,দারুন সময় কাটবে আশা করি।

ডাঙা হোক কিংবা হাওর,সবটাই আমাদের পরিবেশের অংশ। পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখি,এটা আমাদের দায়িত্ব।

Source: Md NazRul Islam‎ <Travellers Of Bangladesh

21 Aug 2019

৪ তারিখ ফকিরাপুল থেকে রাত ১১.৩০ টার হানিফ বাসে জনপ্রতি ৮৫০ টাকা ভাড়ায় রওনা হই আলিকদম এর উদ্দেশ্যে। সকাল ৮ টায় পৌছাই আলিকদম। বাস স্ট্যান্ড এ নেমেই সকালের নাস্তা সেরে জনপ্রতি ২০ টাকা ভাড়ায় অটো নিয়ে রওনা হই আলিরগুহার উদ্দেশ্যে। অটো নামাবে আলিরগুহার সামনে নদীর এপারে। টমটম এ ব্যাগ রেখে প্রয়োজনীয় জিনিস এবং টর্চ লাইট নিয়ে নদী পার হতে জনপ্রতি ২০ টাকায় যাওয়া আসার জন্য নৌকা ঠিক করি। তারপর ৩-৪ মিনিট পাহাড় এর দিকে উঠে সোজা হেটে গেলেই পরবে প্রথম গুহা আর বাম দিকে গেলে পরবে আরেকটি গুহা। আমরা কোন গাইড নেইনি। আমাদের সাথে থাকা ২ অটো মামার একজন আমাদের সাথে এসেছিল নিজ থেকে। আর একজন ব্যাগ দেখার জন্য ছিল। আলিরগুহায় ঢুকতেই প্রথমে যা খেয়াল করবেন তা হল আবহাওয়া। মনে হবে ৯-১০ ডিগ্রি টেম্পারেচার কমে গেছে। ১০-১৫ মিনিট হাটার পর শুরু হয় মেইন এডভেঞ্চার। সিড়ি বেয়ে উঠেই টর্চ এর আলোয় চলতে হবে। ২ টা গুহা দেখা শেষ করে টমটম নিয়ে যাই আবাসিক। গুহা থেকে আবাসিক নিবে ৩০-৪০ টাকা। আবাসিক গিয়ে পুকুরে গোসল করে নেই। দুপুরের খাবার খেয়ে বিশ্রাম নিয়ে রাতের এর বাজার করে রওনা হই মারায়নতং এর উদ্দেশ্যে। মারায়নতং এর নিচে রাস্তার সামনে নেমে তারপর হাটা শুরু। আমরা এখানেও কোন গাইড নেইনি। মারায়নতং কে সহজ ভাবে নিলেও আমরা কেওই জানতামনা মারায়নতং আমাদের দিকে কত বড় চেলেঞ্জ ছুরে দিতে যাচ্ছে। সব পাহাড় এ উচু নিচু সমতল রাস্তা থাকলেও মারায়নতং শুধু খাড়া উপরের দিকে উঠতে হয়। ১০-১৫ মিনিট হাটার পরই শুরু হলো ঝুম বৃষ্টি। কোনভাবে এক গাছের নিচে ব্যাগ গুলো রেখে ভিজতে থাকি আমরা। হাল্কা বৃষ্টি থাকতেই উঠা শুরু করি আবার। বৃষ্টি থাকায় কিছুটা স্লো হাটি আমরা। প্রায় ১.৩০ ঘন্টা পর মুরং পাড়া পার করে একটা বড় গাছ এর নিচে এসে বসি। তারপর আবার হাটতে থাকি। একটু উপরে উঠতেই মেঘ এর খেলা দেখতে পাই। বৃষ্টির কারনে মেঘ এর খেলা যেন আরো ভালভাবে শুরু হয়েছিল। কিছুক্ষন পরই পৌছে যাই আমাদের গন্তব্য মারায়নতং চূড়ায়। চূরায় উঠেই আমরা মেঘে ঢেকে গেলাম। সবার মুখ দিয়ে একটাই কথা বের হচ্ছিল “সুবানআল্লাহ”।

তাবু পিচ করতে করতেই আবার শুরু হয় ঝুম বৃষ্টি। কিন্তু এবার বৃষ্টি চলে প্রায় ২ ঘন্টা। এর মধ্যেই চারদিকে ঘুটঘুটে অন্ধকার নেমে যায়। এদিকে তাবুতে পানি ভরে গেছে সাথে ২ টা তাবু পিচ করার আগেই পানিতে একাকার।

এদিকে স্থানীয় ছোট্ট ছেলে ইকবাল এসেছে আমাদের সাথে থাকবে বলে। পরে তখনই ঠিক করি। চূরায় থাকা যাবেনা। প্রয়জনীয় জিনিস খাবার নিয়ে টর্চ এর আলোয় রাতের আধারে নামতে শুরু করি মাঠ এর নিচের ঝুম ঘরের দিকে। ব্যাপার টা রিস্কি হলেও এছাড়া আর উপায় ছিলনা। ঝুম এই রাতের খাবার তৈরী করে খেয়ে ঘুম দেয় কয়েকজন। ঠিক করি ভোর ৪ টার দিকে উঠে চূরায় উঠে যাবো। তাবু গুলো প্যাক করা লাগবে আবার। ৪ টায় উঠিয়ে দিলাম সবাইকে। ঝুম ঠিক যেমন ছিল আমারা আসার আগে ঠিক ঐভাবে পরিষ্কার করে ঠান্ডায় অন্ধকারে টর্চ এর আলোয় চূড়ায় উঠলাম। চূড়ায় উঠে সব প্যাক করে ভোর দেখেই নামা শুরু করলাম ৬ টার দিকে। চূড়া থেকে নামতে খুব বেশি সময় লাগেনি। নেমেই বাস স্ট্যান্ড এ গিয়ে নাস্তা সেরে ঢাকার বাস এর টিকেট কেটে বাস এই ব্যাগ রেখে যাওয়া আসা ৮০০ টাকায় বাইক নিয়ে রওনা হই ১৭ কিলোর উদ্দেশ্যে। প্রতিটি বাইক এ ২ জন করে বসতে পারবেন। আলিকদম থেকে ১৭ কিলোর এই রাস্তাকে বাংলাদেশ এর সর্বচ্চ রাস্তা বলে। ১০ কিলো আর্মি ক্যাম্প এ জাতীয় নিবন্ধন এর ফটোকপি জমা দিয়ে চলে গেলাম ১৭ কিলো। ছোট্ট একটা দোকান পাবেন দোকান থেকে চা খেয়ে ১০০০ টাকায় গাইড ঠিক করে রওনা হলাম দামতুয়ার উদ্দেশ্যে। প্রথমে পরবে আদু পাড়া তারপর মেম্বার পাড়া- তামতই পাড়া- নামসাক পাড়া – কাখইপাড়া হয়ে দামতুয়া ঝর্না। এ পথে আরো ২ টি ঝর্না আছে। ওয়াংপা ও তংপ্রা। যাওয়া আসা সব মিলিয়ে সময় লেগেছে ৬ ঘন্টার মত। জামা কাপড় চেঞ্জ করে খাবার খেয়ে ৭.৩০ টার বাস এ ঢাকার উদ্দেশ্যে উঠে পরি।

খরচ সমূহঃ
ঢাকা – আলিকদম বাসঃ ৮৫০
বাস স্ট্যান্ড -আলিরগুহাঃ ২০
নৌকাঃ ২০
আলিরগুহা – আবাসিকঃ ৪০
আবাসিক -মারায়নতংঃ(২৫+২৫)=৫০
বাইক(যাওয়া আসা)=৪০০
দামতুয়া গাইডঃ(১০০০÷৯)=১১১
আলিকদম – ঢাকাঃ ৮৫০
( খাবার খরচ আপনাদের মত )
আমাদের জনপ্রতি ৩০০০/- করে খরচ হয়েছে। ট্যুরমেট বেশি হলে আরো কমে ট্যুর দেয়া সম্ভব।
Source: Rbh Shornab‎ <Travelers of Bangladesh (ToB)

21 Aug 2019

টাঙ্গুয়ার হাওর-
বাংলাদেশের বৃহত্তর সিলেটের সুনামগঞ্জ জেলায় অবস্থিত একটি হাওর। এ হাওর বাংলাদেশর দ্বিতীয় বৃহত্তম মিঠা পানির জলাভূমি ।স্থানীয় লোকজনের কাছে হাওরটি নয়কুড়ি কান্দার ছয়কুড়ি বিল নামেও পরিচিত। হাওরের সৌন্দর্য উপভোগের সবচেয়ে উপযুক্ত সময় বর্ষাকাল, হাওরের রাতের আকাশে পূর্ণিমার আলো আর তারার মেলায় আপনি হারিয়ে যাবেন কোনো এক অজানায়, আর এই পূর্ণিমা রাতটি হবে আপনার জীবনের সবচেয়ে সুন্দর রাতগুলির মধ্যে একটি…..

শহিদ সিরাজী লেক-
সবুজ ঘাসের পাটি বিছানো ছোট ছোট টিলায় বসে উপভোগ করতে পারেন এই লেক। তাছাড়া লেকের ধারে বেঞ্চ বসানো রয়েছে। সেখানে বসে পাহাড়ের সাথে লেকের সৌন্দর্য দেখে বিমোহিত হতে পারেন।

বারিক্কা টিলা-
পাহাড়ের উপর মেঘেদের দল বেধে ছুটে বেড়ানো দেখতে হলে অবশ্যই বারিক্কা টিলায় আপনাকে গমন করতে হবে। তাছাড়া পাহাড়ের গাঁ বেয়ে নেমে আসা ঝর্নাও দেখবেন দূর থেকে। দুঃখজনক হলেও বলছি, ঝর্না এরিয়া ভারতে হওয়াতে আমাদের সেখানে যাওয়া নিষেধ।

যাদুকাটা নদী-
বারিক্কা টিলা থেকেই নদীর সৌন্দয্য উপভোগ করা যায়। এখানেও ট্রলারে করে নদী পার হতে পারবেন ও ঘুরাঘুরি করতে পারবেন।

লাকমাছড়া-
পাহাড়ের বুক চিরে নেমে আসা পানিতে জেলেদের মাছ ধরার অভিনব পন্থা দেখতে পাবেন সেখানে।

রাজাই ঝর্ণা
সাময়িক সমস্যার কারনে রাজাই ঝর্নার খুব নিকট থেকে শুধু ঝর্নার কলকল ধ্বনি শুনে চলে আসতে হল আমাদের।ঝর্না দেখার সৌভাগ্য হয়ে উঠনি।

পাহাড়, হাওর, বন, ঝর্ণা, টিলা, বাগান এবং নদী সব যে জায়গায় মিশে একাকার তার নাম সুনামগঞ্জ, সুনামগঞ্জ হচ্ছে সিলেট বিভাগ এর সবচেয়ে আকর্ষণীয় জায়গা।দিন দিন সেখানে পর্যটকের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

যেভাবে যাবেন:
ঢাকা থেকে বাস-এ করে সুনামগঞ্জ ।
সকালে সিনজি রিজার্ভ করে তাহিরপুর, চাইলে লেগুনা বা মোটর সাইকেলে করেও আসা যায়, তাহিরপুর যাওয়ার মাঝপথে শাপলা বিল আছে, চাইলে কিছু ক্লিক করে নিতে পারেন একদম ফ্রিতে, তাহিরপুর এসে ট্রলার ভাড়া করে নিতে হবে (অবশ্যই দামাদামি করে নিবেন), ছুটির দিনগুলোতে ভাড়া একটু বেশি থাকে, এরপর পুলিশ স্টেশন গিয়ে নাম ঠিকানা এন্ট্রি করে নিবেন আর অবশ্যই ইনচার্জ এর মোবাইল নম্বর নিয়ে আসবেন, বিপদে কাজে লাগতে পারে।

ট্রলারে উঠে এক ঘন্টা হাওর এর সৌন্দর্য উপভোগ করতে করতে পৌঁছে যাবেন ওয়াচটাওয়ার। ওয়াচটাওয়ার থেকে ছোট ছোট বাচ্চাদের নৌকায় চারপাশ ঘুরে দেখবেন আর অবাক হবেন সাথে গান শুনবেন ফ্রি, সাঁতার জানলে নীলাভ এই পানিতে গোসল করার লোভ সামলাতে পারবেন না, সাঁতার না জানলে ৫০ টাকা ভাড়ায় লাইফ জ্যাকেট নিয়ে পানিতে নেমে পড়ুন ….

সেখান থেকে চলে আসুন ট্যাকেরহাট। সেখানেই ট্রলারে রাত্রি যাপন করবেন আর রাতে হাওরের নযনাভিরাম দৃশ্য দেখবেন। ট্যাকেরঘাট থেকে মোটরসাইকেল অথবা অটোরিক্সা (অবশ্যই দামাদামি করে নিবেন) করে ঘুরে আসবেন নীলাদ্রি লেক, বারিক্কা টিলা, যাদুকাটা নদী,রাজাই ঝর্ণা, লাকমা ছড়া এবং শিমুল বাগান (বাগানে এখন ফুল নাই)। একেকটা জায়গার সোন্দর্য একেকরকম যা কোনো ভাবেই ভাষায় প্রকাশ করার মতো না।

খরচ: (জনপ্রতি)
ঢাকা-সুনামগঞ্জ -৫৫০/-
সুনামগঞ্জ থেকে তাহিরপুর সিএনজি – ১০০ ট্রলার ভাড়া -১০,০০০/- (ঈদের সময় বলে একটু বেশি নিছে)
মোটরসাইকেল – ২০০ টাকা
তাহিরপুর থেকে সুনামগঞ্জ-১০০/-
সুনামগঞ্জ থেকে ঢাকা – ৫৫০/-
[[খাওয়াদাওয়া যার যেমন]]
আমাদের ১০ জনের টীম এ জনপ্রতি খরচ হয়েছে ২৭০০ টাকার মতো ।

বি: দ্র: এ দেশটা আমার আপনার সবার, এই দেশের সৌন্দর্য রক্ষা করার দায়িত্বও আমাদের। দয়া করে পানির বোতল, বিস্কুট, কেক এর প্যাকেট এবং অন্যান্য আবর্জনা দিয়ে হাওরের পানি নষ্ট করবেন না ।

Source:  BM Shakil <Travelers of Bangladesh (ToB)

 

21 Aug 2019

নীল সমুদ্রের বুকে মাথা উঁচু করে আছে বেশ কিছু সবুজ দ্বীপ। প্লেনের জানালা দিয়ে শুধু আকাশ আর মেঘ দেখতে দেখতে যখন একঘেঁয়ে লাগছিলো, তখনই দৃষ্টিসীমা ফুঁড়ে হঠাৎ উদয় হলো সমুদ্রের বুকে ছোট ছোট সবুজাভ নীল কয়েকটা বিন্দু। বেশ লাগছিলো দেখতে। সমুদ্র প্রায় ছুঁয়েই ল্যান্ড করলো প্লেন। এয়ারপোর্টে নেমেই প্রথম চোখে পড়লো দুদিকে সবুজ পাহাড়। ছোট্ট একটা এয়ারপোর্ট। বের হয়েই গরমের প্রথম ধাক্কাটা টের পেলাম। গাঁ জ্বালা করা প্রচন্ড গরম। প্রত্যেকবার কেমন করে জানি গরমের দেশেই আসা হয় আমাদের। এবার এসেছি সেইন্ট থমাস… ইউ এস ভার্জিন আইল্যান্ডসের অন্যতম প্রবেশদ্বার। ক্যারিবীয়ান সাগরগামী ক্রুইজগুলোর অন্যতম গন্তব্য। ইনফ্যাক্ট ক্যারিবীয়ানের ব্যস্ততম ক্রুইজ পোর্ট। পুয়ের্টোরিকোর ঠিক পাশেই।

নিরক্ষীয় অঞ্চলের অপূর্ব সুন্দর সব দ্বীপগুলোর অন্যতম ভার্জিন আইল্যান্ডস। ভার্জিন আইল্যান্ডস কোন একক দ্বীপ না, গ্ৰুপ অব আইল্যান্ডস। ক্যারিবীয়ান সাগরের মধ্যবর্তী তিনটি প্রধান দ্বীপ ও ছোট ছোট আরো কিছু দ্বীপ নিয়ে ইউ এস ভার্জিন আইল্যান্ডস, যুক্তরাষ্ট্রের দূর সমুদ্র মধ্যবর্তী শাসন অঞ্চল।

এই তিনটি দ্বীপেরই একটি হলো, সেইন্ট থমাস। বাকি দু’টি সেইন্ট জন ও সেইন্ট ক্রোয়িক্স। আমাদের বাৎসরিক অবকাশের জন্য এবার বেছে নিয়েছি এই ভার্জিন আইল্যান্ডস। এখানে আমাদের ইমিগ্রেশন হবেনা। টেকনিক্যালি আমেরিকার ভিতরেই আমরা আছি। তবে এখান থেকে ফেরত যাবার সময় ইমিগ্রেশন হবে। কারণ সেন্ট থমাস এর পোর্ট হলো ফ্রি পোর্ট। আশেপাশের ক্যারিবীয়ান দ্বীপগুলো থেকে সহজেই এখানে আসা যায়। যাই হোক, আমরা এয়ারপোর্ট থেকে বের হয়ে শাটলের জন্য অপেক্ষা করতে লাগলাম। আমীরার গাল এর মাঝেই লাল হয়ে গিয়েছে। হিট র‍্যাশ। বুঝলাম, মেয়েটা আগামী কয়টা দিন একটু কষ্ট পোহাবে। আমীরা হল আমার দেড় বছর বয়সী অসম্ভব রকমের চঞ্চল আর দুরন্ত কন্যা।

শাটল এলে কার রেন্টালে গিয়ে আমরা আমাদের গাড়ি বুঝে নিলাম। লাল রঙের ছোট্ট একটা সেডান। প্রত্যাশার চেয়ে বেশ ছোট গাড়িটা। তবু সাতপাঁচ ভেবে আপগ্রেড না করার সিদ্ধান্ত বহাল রাখলাম আমরা। গাড়ি নিয়ে বের হয়ে রওনা হলাম আমাদের আগামী কয়েকদিনের নিবাসের উদ্দেশ্যে। আগে থেকেই জানতাম, এখানে গাড়ির ড্রাইভিং সিট বামদিকে হলেও ড্রাইভ করতে হয় রাস্তার বামদিক দিয়ে। সাধারণত যে কোন দেশে ড্রাইভিং সিট যে পাশে থাকে, ড্রাইভ করতে হয় রাস্তার অপর পাশ দিয়ে। যাই হোক, এটা নিয়ে একটু চিন্তিত ছিলাম, পাভেলো পারবে কিনা। আল্লাহর রহমতে ও ভালোভাবেই উৎরে গেলো। নাহ, ড্রাইভার হিসেবে আমার জন খুব একটা মন্দ না। মোটামুটি পক্ক ও অভিজ্ঞ। কোথাও গেলে বেচারা সবসময় ড্রাইভ করে, আর আমাকে আশেপাশের সৌন্দর্য পুরোমাত্রায় উপভোগের সুযোগ করে দেয়। আমি আবার সিরিয়াস ড্রাইভার। ড্রাইভ করতে বসলে কিছুই দেখতে পারিনা। ডানে বামে ঘাড় ফিরাতেও কষ্ট হয়ে যায়।

ছোট্ট ডাউনটাউনের মাঝ দিয়ে মেরিনার পাশ ঘেঁষে চলে গেছে ওয়াটারপার্ক ফ্রি ওয়ে। যেদিকেই তাকাই চোখে পড়ছে ছোট বড়ো পাহাড়। দেখতে দেখতে হঠাৎ আমরাও পাহাড়ের উপর উঠতে শুরু করলাম। বুঝলাম এই পুরো দ্বীপটাই আসলে পাহাড়ি। এর সব স্থাপনাও পাহাড়ের কোলে কোলে। যেখানেই যাই না কেন, এক দুইটা পাহাড় ডিঙিয়েই যেতে হবে। তেমনি এক পাহাড়ের উপরই আমাদের রিসোর্ট। রিসোর্টে আমাদের ভিলাতে ঢোকার মুখেই একটা কৃষ্ণচূড়া গাছ লালে লালে রক্তিম হয়ে চেয়ে আছে আমাদের দিকে, ছেয়ে আছে ফুলে ফুলে। অপূর্ব লাগছিলো দেখতে। এক ফ্লোর নিচে মেরিনা ভিউ ছোট্ট একটা স্যুট আমাদের। বেলকনি থেকে পাওয়া যাচ্ছে অপূর্ব মেরিনা ভিউ। রোদে গরমে এর মাঝেই অনেক ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলাম। তাই না খেয়েই শুয়ে পড়লাম। উঠতে উঠতে প্রায় বিকেল। এরপর ফ্রেশ হয়ে বের হলাম ডাউন টাউন ভ্রমণে। আজকের পরিকল্পনা হলো এখানকার ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো দেখা। কয়েকশো বছর দীর্ঘ ডেনিশ ঔপনিবেশিক ইতিহাস রয়েছে এই দ্বীপের। ইউ এস ভার্জিন আইল্যান্ডসের দ্বীপগুলো ১৯১৭ সালে আমেরিকা ডেনমার্কের কাছ থেকে কিনে নেয়। এই বছর এই তিনটি দ্বীপের আমেরিকা অন্তর্ভুক্তির শত বছর পূর্তি হলো। পাহাড় থেকে নেমেই প্রথমে পেট পূজার ব্যবস্থা করা জরুরি হয়ে পড়লো। স্থানীয় একটা চাইনিজ ক্যারিবিয়ান ফিউশন রেস্টুরেন্টে গেলাম। কোথাও গেলে হারাম হালালের চক্করে আমাদের খাওয়াটা কখনোই খুব বেশি উপভোগ্য হয়না। সবসময় ভেগান কিংবা সি ফুড নিতে হয়। সি ফুডই অর্ডার করলাম। খেয়ে বের হয়ে দেখি প্রায় অন্ধকার। তখন বাজে সাতটা। পরে চেক করে বুঝলাম, এখানে সন্ধ্যা তাড়াতাড়ি হয়। অথচ আটলান্টায় তখন সূর্যাস্ত হয় রাত নয়টায়। এই ব্যাপারটা খেয়াল করিনি আগে। ধরেই নিয়েছিলাম লোকাল টাইম যেহেতু এক, সূর্যাস্তের সময়ও কাছাকাছিই হবে। আমাদের আর ইতিহাস খোঁজ করতে যাওয়া হলোনা সেদিন। মেয়ের খাবার দাবার সহ কিছু প্রয়োজনীয় শপিং সেরে নিলাম। রিসোর্টে ফিরে আসার পথে পাহাড়ের উপর একটা লুক আউট পয়েন্ট ড্রেকস সিটে গেলাম। ততক্ষণে গাঢ় অন্ধকার ওখানে। সূর্যাস্তের পর পাহাড়ে খুব তাড়াতাড়ি অন্ধকার নেমে আসে। ওখান থেকে ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডসের আলোকিত রাতের রূপ দেখা যায় দূর থেকে। মনে হয় যেন, দূর পাহাড়ের বুকে ধিকি ধিকি জ্বলছে অসংখ্য প্রদীপ। সিম্পলি অসাধারণ!

ভার্জিন আইল্যান্ডসের এই দ্বীপগুলো আসলে না আমেরিকা, না ইউ কে। কিন্তু তাদের দ্বারা শাসিত। এগুলোকে ইন্সুলার এরিয়া বলে। এরকম আরো অনেক দ্বীপ বা দ্বীপপুঞ্জ আছে আটলান্টিক মহাসাগরীয় এলাকায় যেগুলো ফ্রান্স, নেদারল্যান্ড, ইউকে সহ আরো অনেক দেশ দ্বারা দূর দূরান্ত থেকে শাসিত। মূলতঃ এই অঞ্চলে আধিপত্য বিস্তার তথা আধিপত্য ধরে রাখার জন্যই পশ্চিমা ক্ষমতাশালী দেশগুলো এই দ্বীপগুলোর শাসনের অধিকার ধরে রেখেছে। এই দ্বীপগুলোর অধিবাসীরা নাগরিকত্ব, পাসপোর্ট পেলেও ভোটাধিকার পায়না। এদেরকে সিটিজেন না বলে ন্যাশনাল বলে। শর্তসাপেক্ষে এরাও পূর্ণ নাগরিকত্ব পেতে পারে। তবে সেজন্য যুক্তরাষ্ট্রের মেইনল্যান্ডের অধিবাসী হতে হবে। মানে মাইগ্রেট করতে হবে। সত্যি বলতে কি ব্যাপারটা আমার নিজের কাছেও পরিস্কার না।

পরদিন সকাল ৭টায় ঘুম ভাঙলো আমার। অনেক স্নিগ্ধ একটা সকাল। সকালের মেরিনা ভিউ অনেক বেশি অপূর্ব, আরো অনেক রিফ্রেশিং। বেলকনির চেয়ারে গা এলিয়ে দিয়ে অনেক আয়েশ করে সকালের কফি খেলাম। এরপর টুকটাক ব্রেকফাস্ট রেডি করলাম। কিচেন থাকার এই এক সুবিধা। বাইরের খাবার মুখে না রুচলে অন্তত কিছু একটা করে খাওয়া যায়। ব্রেকফাস্ট করে রেডি হয়ে বের হয়ে পড়লাম আগের দিনের অসম্পূর্ণ ঐতিহাসিক ভ্রমণ সম্পূর্ণ করতে। খুব বেশি চমকপ্রদ কোন স্থাপত্য নয়। তবে অনেক পুরোনো কিছু স্থাপনা। হয়তো ঐ যুগে এরকম সমুদ্র মধ্যবর্তী কোন দ্বীপে এই অনেক বেশি ছিল। তবে বেশি ভাগই পাহাড়ের উপর। একটা লাল দূর্গ আছে। আর ৯৯টা সিঁড়ি পার হয়ে একটা স্থাপনা আছে ব্ল্যাকবিয়ার্ড ক্যাসল। আমরা যেদিন গিয়েছিলাম, সেদিন বন্ধ ছিল ব্ল্যাকবিয়ার্ড ক্যাসল। মিঃ ব্ল্যাকবিয়ার্ড ছিলেন একজন নামকরা স্প্যানিশ জলদস্যু। বিখ্যাত না কুখ্যাত সেটা বুঝতে পারলাম না। তিনি এটা তৈরী করেন নি। তার স্মরণে ডেনিশ উপনিবেশ যুগে নির্মিত হয় এটা। ডেনিশ উপনিবেশ পূর্ববর্তী যুগে এই দ্বীপগুলো ছিল স্প্যানিশ জলদস্যুদের রমরমা আখড়া। কল্পকাহিনীর জলদস্যু না, একবারে সত্যিকারের দুধর্ষ জলদস্যু! অবশ্য অনেক কল্পকাহিনীও প্রচলিত আছে এদের নিয়ে। ব্লু বিয়ার্ডের কাহিনী তার মাঝে অন্যতম। সে কাহিনী আপাতত এখানে আর পাড়লাম না।

ইতিহাস খুঁজতে খুঁজতে দুপুর হয়ে গেলো। সেইন্ট থমাসের সব বড় বড় অফিসিয়াল ও প্রশাসনিক লোকজনের বাস এখানেই। বেশির ভাগ ঐতিহাসিক ভবনগুলোকে সংরক্ষণ করে তাদের বাসস্থান বানানো হয়েছে। যেহেতু স্থাপনাগুলো সব পাহাড়ের গাঁয়ে, তাই সেখান থেকে অপূর্ব সব মেরিনাভিউ পাওয়া যায়। অনেকক্ষণ সময় নিয়ে শহর আর পাহাড়ে হেঁটে হেঁটে, বাচ্চার স্ট্রলার ঠেলে ঠেলে সব ঘুরে ফিরে দেখলাম। এরপর খাঁড়ির পাশ ঘেঁষে চলে যাওয়া একটা পায়ে হাঁটা পাকা রাস্তা দিয়ে কিছুক্ষণ হাঁটলাম। খাঁড়ির পাশ ঘেঁষেই খোলা মতন একটা জায়গায় এসে খাওয়া দাওয়া সেরে নিলাম। এরপর রিসোর্টে ফিরে বিশ্রাম করে আবার বের হলাম। পাহাড়ের উপর বারবার উঠতে নামতে গিয়ে খেয়াল করলাম এই দ্বীপে কৃষ্ণচূড়ার আধিক্য। যেদিকেই যাও, পাহাড়ের বাঁকে বাঁকে যেখানে সেখানে এই কৃষ্ণচূড়া। আমি তো ঘোষণাই করে দিলাম, সেন্ট থমাসের জাতীয় ফুল কৃষ্ণচূড়া! দ্বিতীয় হল বাগানবিলাস। এরপর নাম না জানা আরো অসংখ্য ফুল। অযত্নে অবহেলায় বেড়ে ওঠা। প্রথম গেলাম একটা ছোট্ট পাহাড়ি বোটানিক্যাল গার্ডেনে। খুব বেশি মুগ্ধকর কিছু নয়। তবে পাহাড়ি বন জঙ্গলে একা কিছুটা সময় কাটানোর জন্য উপযুক্ত স্থান। গার্ডেনে একটা ইকো সিস্টেম মেনটেইন করা হয়েছে। তাই ওখানে প্রচুর গিরগিটি ও ব্যাঙ আছে। এদের কারণে এখানে কোন মশা নেই। আসলেই তাই। আটলান্টায় আমাদের বাগানেও কয়েকটা ব্যাঙ আর গিরগিটি পোষার চিন্তা এলো তৎক্ষণাৎ। মশার যন্ত্রণায় আমাদের বাগানে নামা কষ্ট হয়ে যায় মাঝেমাঝে।

এরপর গেলাম মাউন্টেন টপে। মাউন্টেন টপ এখানকার টপরেটেড ট্যুরিস্ট স্পট। সেন্ট থমাসের সবচেয়ে উঁচু পাহাড় এই মাউন্টেন টপ। আর এখান থেকে দেখা দৃশ্য নাকি ক্যারিবীয়ান অঞ্চলের অন্যতম সুন্দর দৃশ্য! আসলেই তাই। প্রথম যখন দেখলাম, মনে হলো এই দৃশ্য কি সত্যি নাকি সিনেমাতে দেখছি! প্রায় ১৫০০ ফুট উপর থেকে দেখা যায় ইউ আকৃতির অপূর্ব নীল এক সমুদ্র সৈকত। দূরে হালকা নীল আকাশ আর ধূসর মেঘের আড়াল থেকে উঁকি দিচ্ছে নীলচে সবুজাভ কিছু দ্বীপ। সবমিলিয়ে কি এক অদ্ভুত সুন্দর দৃশ্য! আমি শব্দের কারিগর নই। তাই ভাষায় সেই সৌন্দর্যের কিছুই প্রকাশ করতে পারছিনা। উত্তর দিকের সব পাহাড়ের চূড়া থেকে এই সৈকতের খুব অসাধারণ কিছু ভিউ পাওয়া যায়। শুধু তাকিয়েই থাকতে ইচ্ছা হয়। দূরের দ্বীপগুলো ছিল ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডস ও অন্যান্য ইউএস ভার্জিন আইল্যান্ডস।

বানানা ডাইকুরি নামের একটা বার কাম স্যুভেনির শপ এই স্পটের হোস্ট। বানানা ডাইকুরি হলো কলা মিশ্রিত এক প্রকার রাম যা এখানকার খুব জনপ্রিয় আইটেম। স্যুভেনির শপটা বেশ বড়। টুকটাক কেনাকাটা করে একরাশ মুগ্ধতা নিয়ে সেখান থেকে বের হয়ে আসলাম। এরপরের গন্তব্য ছিল উপর থেকে দেখা সেই অপূর্ব নীল সৈকত মেগান্স বে!

মেগান্স বে, ক্যারিবীয়ান অঞ্চলের টপ রেটেড ও জনপ্রিয় সৈকতগুলোর মধ্যে অন্যতম। সেইন্ট থমাসের উত্তর উপকূলে দুইটা পাহাড়ের মাঝে এক মাইল দীর্ঘ ছোট্ট একটা সৈকত। ক্রুইজ শিপ যেদিন আসে, সেদিন লোকে লোকারণ্য হয়ে যায় এই সৈকত। ভাগ্যিস আমরা যেদিন গিয়েছিলাম, সেদিন কোন ক্রুইজ শিপ আসেনি। তাই খুব আয়েশ করে উপভোগ করতে পেরেছি এর নির্মল সৌন্দর্য। কোন উত্তাল ঢেউ নেই। কোন ভীড় নেই। শান্ত ঢেউ আর অগভীর পরিষ্কার নীল জল। পা ভিজিয়ে হেঁটেছি বেশ কিছুক্ষণ। বালুকাবেলায় বসে নিরিবিলি কাটিয়েছি আরো কিছুটা সময়।

এর মধ্যেই আমার ছোট্ট মেয়েটা একটু অসুস্থ হয়ে পড়ে প্রচন্ড গরমে। এতো ভালোলাগার মধ্যে সমস্যা শুধু এটাই। তা হলো এই গরম। তাই সেদিনের পাততাড়ি গুটিয়ে আমরা রিসোর্টে ফিরে গেলাম। এমনিতেই আজ তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পড়তে হবে। পরের দিন পার্শ্ববর্তী দ্বীপ সেইন্ট জনে যাবো আমরা ডে ট্রিপে। সকাল সকাল এই দ্বীপের অপর প্রান্তে গিয়ে ধরতে হবে ফেরি।

চলবে…

বিঃদ্রঃ ভ্রমণ সংক্রান্ত খরচাপাতি আমি সেভাবে হিসাব করিনা। আর বাজেট ট্রিপ না বলে তেমন স্বস্তিও বোধ করিনা পাইপাই হিসাব দিতে। নিছক আমার দেখা ও অভিজ্ঞতা শেয়ারের জন্যই এই লেখা। তাও প্রায় দুই বছর আগে লিখেছিলাম। এখানে যা কিছু লেখা, সব দুই বছর আগের ঘটনা।

চাহিদা ও বাজেট মতো ফ্লাইট, হোটেল, রিজোর্ট সব আজকাল অনলাইনেই বুক করা সম্ভব। কারো তবু কিছু জানার থাকলে আমাকে ইনবক্স করতে পারেন। শুধু এটুকু বলবো, ভার্জিন আইল্যান্ডস ভ্রমণের জন্য বেশ ব্যয়বহুল একটা গন্তব্য। আমার ভ্রমণ রুট ছিল Atlanta, USA থেকে Saint Thomas, USVI (United States Virgin Islands)। আশেপাশের ক্যারিবীয়ান দ্বীপগুলো থেকেও সহজে আসা যায় এখানে। আরো রুট থাকতে পারে আপনার অবস্থানের উপর ভিত্তি করে। তবে US ভিসা লাগবে।

শুধু ঘুরতে গিয়েই নয়, আশা করি যে যেখানে আছেন, তার আশেপাশের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করবেন। অন্তত নিজে কোনোভাবেই নোংরা করবেননা। হোক তা জল কিংবা স্থল।

Source:  Sofia Nishi‎ <Travelers of Bangladesh (ToB)

21 Aug 2019

আমাদের মত ছোটখাটো চাকরিজীবীদের জন্য আসলে দুই ঈদের ছুটি ছাড়া বড় কোন ছুটি আমারা আশা করতে পারি না। রোজার ঈদে ইচ্ছা ছিলো কিন্তু কিছু সমস্যার কারনে হয়ে উঠে নাই। তাই কোরবানীর ঈদটাকেই বেঁছে নিয়েছিলাম আন্দামান ভ্রমনের জন্য। যদিও এই সময়টা আন্দামান ভ্রমনের জন্য সঠিক সময় না অনেকেই বলেছিলো, তবুও দিলাম। এই সময় গুলোতে আসলে বৃষ্টি-পাত হতে থাকে কোন কারন ছাড়া। মুভ করা একটু কষ্টকর হয় অনেক সময়। যেহেতু সিঙ্গেল মানুষ তাই খুব একটা গায়ে মাখি নাই কয়েকটা জিনিষ মাথায় রেখে আসলে অফ সিজনে এই ট্রিপটা লাগালাম।
১। ট্যুরিস্ট কম হবে।
২। কম খরচায় এদিক ওদিক ঘুরাঘুরি করা যাবে।
৩। ডিস্কাউন্টে মন মত হোটেল পাওয়া যাবে।
যেহেতু এটা একটা সোলো ট্যুর ছিলো তাই হয়ত মনে হতে পারে খরচ মনে হয় একটু বেশী। কিন্তু হেডস বেশী হলে অনেক কিছুই কমে যাবে শুধু এয়ার টিকেট ছাড়া।
আমার সর্বসাকুল্যে খরচ হয়েছিলো ৪ দিন/ ৪ রাতের জন্য ১৪,০০০ হাজার টাকার মত (এয়ার খরচ ও শপিং ছাড়া)
এয়ারে টিকেট কেটেছিলাম ১৮,৫০০ টাকায় (ঢাকা টু কোলকাতা টু পোর্ট ব্লেয়ার আসা-যাওয়া। আরো কমেও সম্ভব)
যে জায়গা গুলোতে আমি গিয়েছিলাম~
~চিরিয়াটাপু বিচ
~ওয়ান্দুর বিচ
~কর্বিন কোভ বিচ
~সেলুলার জেল
~ভাইপার আইল্যান্ড
~নর্থ বে আইল্যান্ড
~রস আইল্যান্ড

প্রথম দিনঃ
ঢাকা থেকে কোলকাতা পৌছালাম রাত ৮.৩০ এর দিকে। খুব একটা ঝামেলা হয় না ইমিগ্রেশনে। একপর ৯ ঘন্টার এর বিরতি। একটা টেক্সি নিয়ে একটু কোলকাতা শহর চক্কর দিলাম। খাওয়া দাওয়া করলাম সিটি সেন্টারে জাস্ট সময় পার করার জন্য।

দ্বিতীয় দিনঃ
সকাল ৭.৩৫ এর ফ্লাইট কোলকাতা থেকে পোর্ট ব্লেয়ারে। ৯.৩৫ এর পৌছে গেলাম। বলা বাহুল্য ইন্ডিগো এয়ারে কিন্তু ফ্রি খাবার দেয় না। খাবারের দাম একটু বেশী। তাও বেটার আপনি খেয়ে নিয়ে অথবা নামার পরও খেয়ে নিতে পারেন। নেমেই টেক্সি নিয়ে গেলাম পরের দিনের হ্যাভলক আর নীল আইল্যান্ডের টিকেট কাটার জন্য। কিন্তু দুঃখজনক গিয়ে টিকেট পেলাম না। গিয়ে দেখি জাহাজ অনেক গুলা বন্ধ যেহেতু অফ সিজন। তাই টিকেট স্বল্পতা ছিলো। যাওয়ার টিকেট পেলেও ফিরে আসার টিকেট ম্যানেজ করতে পারিনি। তাই রিস্ক আর নেই নাই, যেহেতু আমার ফেরার টিকেট কাটা ছিলো। মিস হয়ে গেলে সর্বনাস। সাধারনত এসব আইল্যান্ড গুলাতে যাওয়ার টিকেট ৩-১০ দিন আগে কেটে নেয়া ভালো যদি পিক সিজন হয়। অফ পিকে অবশ্য এরকম হাওয়ার কথা ছিলো না। কিন্তু জাহাজের মেইন্টেনেন্সের কাজের কারনে অলমোস্ট সব গুলা জাহাজই বন্ধ। তাই জাহাজে যাত্রীদের চাপ বেশী ছিলো। যাই হোক কিছু করার নাই। কয়েকটা হোটেল দেখে আবেরদিন বাজারে মোটামুটি খুব ভালো একটা হোটেল পেয়ে গেলাম মাত্র ২২৫০ রুপিতে। বলা বাহুল্য পোর্ট ব্লেয়ারে সবাই কম বেশি এই বাজারেই উঠে। এইখানে আসলে সব কিছুই একটু হাতের নাগালে। তাই সুবিধা। চেক-ইন করে দুপুরের খাবার ওর্ডার করে দিলাম। খেয়ে হাল্কা ভাত ঘুম দিলাম। সন্ধায় আর তেমন কোথাও যাই নাই। পাসেই একটা বিচ আছে নাম করবিন কোভ বিচ। সেখানে গেলাম, তারপর একটা ভিউ পয়েন্ট আছে। তারপর হাল্কা সিটি টা দেখে ডিনার সেরে ঘুমিয়ে পরলাম। ৮.৩০-৯.০০টার পর আসলে এখানে করার মত কিছু থাকে না।

তৃতীয় দিনঃ
খুব সকালে ঘুম থেকে উঠেই চলে গেলাম জংলিঘাটে। সেখান থেকে দুইটা আইল্যান্ডে যাব আজকে। একটা ভাইপার আইল্যান্ড এবং আরেকটা নর্থ বে। ৭৫০ রুপি নিল যাওয়া আসার জন্য। সময় লাগলো সব মিলিয়ে ৪.৩০ ঘন্টার মত। নর্থ বে ১.৫০ এর মত স্টে করেছিলো। এখানে যারা সি-ওয়াকিং(৩৫০০ রুপি) কিংবা স্নোরক্লিং(৭০০ রুপি) করতে চায় করতে পারে। আমি এগুলা আগে করেছিলাম তাই ইচ্ছা ছিলো না। ১.৩০ এর দিকে চলে এসেছিলাম। আসার সময় প্রচন্ড বৃষ্টি ছিলো। কিছুটা বিলম্ব হয়েছিলো আমাদের। তারপর একটা অটো ধরে আবার হোটেল। এসে খাওয়া দাওয়া করলাম। সন্ধ্যায় একটু বের হয়ে ঘুরাঘুরি করে অইদিনের এক্টিভিটিস শেষ করলাম।

চতুর্থ দিনঃ
অনেক বৃষ্টি থাকার কারনে সকালে বের হতে পারি নাই। দুপুরের দিকে সেলুলার জেল টা ঘুরে এসেছিলাম। ভালোই লেগেছে। ইন্ডিয়ানদের জন্য ৩০ রুপি আর ফরেইনারদের জন্য ১০০ রুপি। বিকালে লাইট শো আছে। আমার খুব একটা ইচ্ছা জাগে নাই। তাই আর দেখি নাই। সেলুলার জেলের বিস্তারিত ইতিহাস জানতে ~ https://cutt.ly/qwdkH8P

পঞ্চম দিনঃ
খুব সকালে উঠে চলে গেলাম মেরিনা বে তে। ওইখান থেকে বোটে ৩৫০ রুপিতে (আসাযাওয়া) চলে গেলাম রস আইল্যান্ডে। যদিও এর নাম পরিবর্তন হয়ে এখন হয়েছে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু দ্বীপ। দ্বীপের ভিতরে প্রবেশ করতে আরো লাগবে ৩০ রুপি। চমৎকার একটা দ্বিপ। অনেক ইতিহাস ধারন করে এই দ্বিপ। বিস্তারিত ~ https://cutt.ly/0wdkVqH দুপুরের দিকে ফিরে হাল্কা রেস্ট নিয়ে ৩৫ কিলোমিটার দূরে দুইটা বিচ আছে। একটার নাম চিরিয়াটাপু আর আরেকটা ওয়ান্দুর বিচ। ২০০০ রুপির বিনিময়ে ঘুরে এলাম। ভালোই কাটলো সন্ধ্যাটা। হোটেলে ফিরে ব্যাগ গুছালাম কারন পরেরদিন সকাল ১০.৩০ এ ফ্লাইট।

ষষ্ঠ দিনঃ
কাছেই এয়ারপোর্ট। ১০.৩০ এর ফ্লাইট ধরে কোলকাতা। ৪ ঘন্টার ট্রানজিটে হাল্কা পাতলা কেনাকাটা করলাম পাসের বিগবাজার আর সিটি সেন্টার থেকে। তারপর বিকাল ৪.৫০ এর ফ্লাইট ধরে বাংলাদেশ।
পুরো ট্রিপে আমার সাথে ছিলো একজন ট্যাক্সি ড্রাইভার আর একজন অটো ড্রাইভার। এরাই মূলত আমাকে সব জায়গায় নিয়ে গিয়েছিলো। সিটির কাছাকাছি জেগুলা সেইগুলার জন্য অটো বেটার। দূর পাল্লার জন্য টেক্সি। ভবিষ্যতে কোন ধরনের বুকিং টুকিং এর জন্য এদের সহযোগিতা নেয়া যেতে পারে যদি কেও চান ~
টেক্সি ড্রাইভার এরান্না- +৯১৯৯৩৩২৯৭৭০৮
অটো ড্রাইভার পিন্টু- +৯১৯৯৩৩২২৭৩৯১
লাঞ্চ-ডিনারে আমার এভারেজ ২৫০-৪০০ টাকা খরচ হয়েছিলো।
হোটেল- গুরু ইন্টারন্যাশনাল +৯১৯৯৩৩২০৮৪৮৯

আরো বিস্তারিত জানার থাকলে জিজ্ঞাসা করে জেনে নিতে পারেন।

বি:দ্রঃ
~ যেখানে সেখানে ময়লা ফেলা টাইপ এর মানুষ হলে এই জায়গাগুলো এভয়েড করুন।
~ জন সম্মুখে থুথু ফেলা থেকে বিরত থাকুন।
~ খোলা জায়গায় ধূমপান করা থেকে বিরত থাকুন।

Source: Duke Anam <Travelers of Bangladesh (ToB)

18 Aug 2019

* ‌ভিসাঃ অনু‌মো‌দিত এ‌জে‌ন্সি মারফত ৪ হাজার টাকায় ৭ কর্ম দিব‌সে প্র‌য়োজনীয় সব ডকু‌মেন্ট দি‌য়ে ভিসা করাই।

‌* টি‌কিটঃ টিও‌বি‌তে পুর্ব প‌রি‌চিত এক ভাই‌য়ের মারফত ভ্রম‌নের ৩ দিন আ‌গে ১৫,৫০০ টাকায় এয়ার টি‌কিট কা‌টি।

* ই‌মি‌গেশনঃ সিঙ্গাপুর ই‌মি‌গেশ‌নের লাই‌নে দাড়া‌লে ই‌মি‌গেশ‌নের এক অ‌ফিসার আমা‌কে ডে‌কে নেয়। আ‌মি পাস‌পোর্ট তার কা‌ছে দি‌লে আমা‌কে জিঞ্জাসা কর‌লেন দে‌শে কি ক‌রি,তখন আমার এনও‌সি দেখালাম,‌হো‌টেল বু‌কিংও দেখালাম। তারপর বল‌লেন কত‌দিন থাকব তখন রিটার্ন টি‌কিটটা তার হা‌তে দিলাম। উ‌নি দে‌খে বল‌লেন মালয়‌শিয়া কি বা‌সে যা‌বেন? আ‌মি বললাম হ্যা। আর আপ‌নি কি একা এ‌সে‌ছেন? এটা কি আপনার ফাষ্ট টাইম সিঙ্গাপু‌রে আসা? ততক্ষ‌নে পাস‌পো‌র্টে সিল মে‌রে ফিঙ্গার প্রিন্ট নি‌য়ে পাস‌পোর্ট হা‌তে ধ‌রি‌য়ে দি‌লেন। কোন রকম ঝা‌মেলাই মনে হই‌নি। সব প্রশ্ন গু‌লো ছিল অত্যন্ত মা‌র্জিত।

‌* হো‌টেল চেক ইনঃ আ‌মি এয়ার পোর্ট হ‌তে বের হ‌য়ে টে‌ক্সির ভাড়া আনুমা‌নিক ২৫ ডলার হ‌তে পা‌রে বিধায় T1 হ‌তে ফ্রি বা‌সে T2 তে চ‌লে গেলাম। MRT ডি‌রেকশন দে‌খে ক‌ম্পিউটা‌রে টি‌কিট কে‌টে Bugis ষ্টেশ‌নে নে‌মে বা‌কিটা পা‌য়ে হে‌টে হো‌টে‌লে চ‌লে গেলাম। আমার হো‌টেল ছিল শাহী সুলতান মস‌জি‌দের পা‌শে। পৌছা‌য়ে ওখা‌নে হালাল খাবা‌রের দোকান হ‌তে নাস্তা করলাম। হো‌টে‌লের নাম ছিল Breeze in. ভাড়া‌ ছিল ৩ রা‌তের জন্য ১০১ ডলার।

* যাতায়াতঃ আ‌মি সব জায়গায় MRT ক‌রে গি‌য়ে‌ছি। MRT এর এপস ডাউন লোড করে নি‌য়ে‌ছিলাম। ১২ ডলার দি‌য়ে কার্ড ক‌রে নেই এবং প‌রে ১০ ডলার রিচার্জ ক‌রি। মোট ২২ ডলার রিচার্জ ক‌রি। অর্থ্যাৎ ১,৩১৭ টাকায় পু‌রো সিঙ্গাপুর ভ্রমন কম‌প্লিট।

* খাওয়া দাওয়াঃ আ‌মি বে‌শির ভাগ সম‌য়ে মোস্তফা সেন্টা‌রের পা‌শে বাঙ্গালী হো‌টেল হ‌তে খে‌য়ে‌ছি। প্র‌তি বেলায় ১০ ডলা‌রে খাওয়া সম্ভব।

‌* ঘোরা‌ফেরাঃ ১ম দিন Marina bay,Marlion Park,Marina Garden,Flayer এগু‌লো হে‌টে হে‌টে সব দে‌খি। সা‌থে রা‌তের সৌন্দর্য্যও উপ‌ভোগ ক‌রি। এগু‌লোই মুলত সিঙ্গাপু‌রের মুল আকর্ষন। বর্ননা ক‌রে ভাষায় বোঝা‌নো সম্ভব না।
২য় দিন Santosa যাই। সান‌তোসার সব জায়গা ঘু‌রে বি‌চে গোসল ক‌রি। ৩য় দিন লিটল ই‌ন্ডিয়া,চায়না টাউন,‌মোস্তফা সেন্টার এবং Changi এয়ার‌পো‌র্টের নতুন যে টা‌র্মিনাল হ‌য়ে‌ছে T5 সেটা দেখার জন্য যাই। বিকাল থেকে রাত অব‌ধি ওখা‌নেই ছিলাম। প্র‌তি‌দিন হাজার হাজার মানুষ এটা দেখার জন্য আ‌সে। এটার সৌন্দর্য্য ব‌লে বোঝা‌নোর মত নয়। গত মার্চ মাস হ‌তে এটা উ‌দ্বোধন করা হ‌য়ে‌ছে। যারা সিঙ্গাপুর যা‌বেন এটা মিস না করার অনু‌রোধ রইল। এ রকম সৌন্দর্য্য পুর্ন এয়ার‌পোর্ট বি‌শ্বে আ‌ছে ব‌লে আমার জানা নেই।
‌সিঙ্গাপুর ভ্রমন শেষ ক‌রে মালয়‌শিয়া চ‌লে যাই।

* খরচাপা‌তিঃ সিঙ্গাপুর ভ্রম‌নে টি‌কিট ও ভিসা বা‌দে হো‌টেল ভাড়াসহ মোট ১৩ হাজা‌রের মত খরচ হ‌য়ে‌ছিল।

‌সিঙ্গাপুর নি‌য়ে আরেকটা প‌র্বে প্র‌তিটা স্প‌টে কম খর‌চে সহ‌জে কিভা‌বে যাওয়া যা‌বে সেটা নি‌য়ে লিখব। আর প্র‌য়োজনীয় অন্য যে‌কোন তথ্যও জানা‌নোর চেষ্টা করব।

* ‌বিঃদ্রঃ সিঙ্গাপুর বি‌শ্বের ম‌ধ্যে এক নম্বর প‌রিচ্ছন্ন শহর। এখা‌নে নিয়ম কানুন অত্যন্ত কড়া। যেখা‌নে সেখা‌নে ময়লা ফেলা বা সিগা‌রেট খাওয়া দন্ডনীয় অপরাধ। সুতরাং আমরা ময়লা ফেল‌তে ডাষ্ট‌বিন ব্যবহার করব।

Source: SM Faruqe Hosain <Travelers of Bangladesh (ToB)