Welcome to the Profile page for

ratonshahadat

About Author

(ratonshahadat)

  • Email: ratonshahadat@yahoo.com
  • Nice Name: ratonshahadat
  • Website:
  • Registered On :2016-06-09 13:28:04
  • Logged in at: ratonshahadat
  • Author ID: 1

Author Posts

নেপাল ল্যান্ডলক ছোট দেশ হলেও এর বৈদেশিক আয়ের অন্যতম মাধ্যম টুরিজম। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে হাজারো পর্যটক হিমালয় কন্যার টানে আর পাহাড়ে পাহাড়ে ঘুরে বেড়াতে আসে নেপাল। সুউচ্চ পাহাড়ে ট্রেকিং, বাঞ্জি জাম্প, খরস্রোতা নদিতে র‍্যাফটিং, পোখারার ফেউয়া লেক এগুলো পর্যটকদের আকর্ষন করে। কিন্তু যাদের সময় কম, বা বাঞ্জি জাম্প দেয়া ইত্যাদিতে আমার মতো অনাগ্রহ আছে তাদের জন্য বেস্ট হল, কাঠমুন্ডু, ধুলিখেল ও নাগরকোট এলাকা। আমি এগুলো নিয়ে বলবো।

আমি বাংলাদেশ বিমানে নেপালে গিয়েছিলাম। কাঠমুন্ডু এয়ারপোর্টে নেমে ইমিগ্রেশন শেষে বের হয়ে সিম কিনলাম। ছোট এয়ারপোর্ট, অন এরাইভাল ভিসা। কোন সমস্যা হয়নি।

আমি যখন গিয়েছিলাম তখন নেপালে ভারত থেকে ফুয়েল সাপ্লাই বন্ধ ছিল। তাই অনেক গাড়ি-ঘোড়া বন্ধ ছিল, গাড়ির ভাড়া অনেক বেড়ে গিয়েছিল। সব পাবলিক ট্রান্সপোর্ট এর ছাদেও মানুষ যাতায়াত করছিল। নেপালে কাঠমুন্ডু থেকে বিভিন্ন টুরিস্ট স্পটে যাবার জন্য সবচেয়ে ভাল উপায় গাড়ি ভাড়া করা। শহরের বাইরে বেশিরভাগ রাস্তা খারাপ আর পাহাড়ি।

নেপালে হিন্দুদের সংখ্যা বেশি, বাকিরা সব বৌদ্ধ ধর্মের। নেপালে উন্নত রাস্তা-ঘাট, উন্নত যোগাযোগ ব্যাবস্থা না থাকলেও সেখানকার মানুষগুলো ভালই মনে হয়েছে। ডিজিটালাইজেশন এর ছোঁয়া সম্পূর্ণভাবে ওদের ওখানে লাগেনি।

আমি ছিলাম কাঠমুন্ডুর থামেল এলাকায়। একটা হোটেলে যেয়ে ভাড়া জানলাম, একইসাথে অনলাইনে আগোডায়ও চেক করলাম। সেখানে রেট কম পাওয়ায় সেটা দেখিয়ে ভাড়া করলাম। হোটেলে ওয়াইফাই এর মান মোটামুটি ভাল। বেড উইথ ব্রেকফাস্ট।

সকালে ব্রেকফাস্ট করতে যেয়ে দেখি পর্কের বেকন দিয়েছে, আমি খাইনা জানাতে ‘সরি’ বলে প্লেট চেঞ্জ করে দিল। আমার পাশের টেবিলে এক ইসরাইলের দম্পতি ব্রেকফাস্ট করছিল। আমার বিভিন্ন দেশের কয়েন কালেক্ট করার শখ। আমি সেই লোকের কাছে কয়েন এক্সচেঞ্জ করতে চাইলাম। তাকে ১০ টাকার এক নোট দিলাম। সে আমাকে দিল ১০ আগরোট এর এক কয়েন। সেটা দেখে তার স্ত্রী তাকে বকা দিয়ে বলল, এতো ছোট কয়েন দিলা কেন। পরে সে আমাকে একটা হাফ নিউ সেকেল দিল (৫০ আগরোট)। ১ সেকেল = ২৪ টাকা প্রায়।

নেপালিস রুপির দাম আমাদের টাকার চেয়ে কম। তাই সেখানে যেয়ে রুপিতে কেনাকাটা করতে, ভালই লাগে, নিজেকে বড়লোক দেশের নাগরিক মনে হয়। ১০০ টাকা = ১৩০ রুপি প্রায়। পোখারার বাইরে থামেল আর নাগরকোট এলাকায় অনেক টুরিস্ট থাকে। থামেল এলাকায় খাবার জন্য অনেক রেস্টুরেন্ট হয়েছে, সবগুলোর স্বাদ আমাদের মতোই। ইন্ডিয়ান ফুডসহ খাবার অনেক ভ্যারাইটিও আছে।

নেপালে ভারতীয় সংস্কৃতি আমাদের মতোই জালের মতো বিছিয়ে গেছে। ওদের বিভিন্ন পিকনিক, পার্টিতে অহরহ হিন্দি গান সাথে নাচ দেখা যায়। নেপালি ভাষার পাশাপাশি ওরা হিন্দিও বুঝে ও অনেকে বলে।

নেপালের ওয়েদার অনেক ঠান্ডা। আমি গিয়েছিলাম জানুয়ারী মাসের শেষের দিকে। কাঠমুন্ডুতে তাপমাত্রা দিনের বেলা সুর্য উঠলে ১৭-১৮ হলেও সকাল আর সন্ধায় ৫-৬ ডিগ্রি সেঃ এ নেমে যায়। নাগরকোট এলাকায় ঠান্ডা আরো বেশি। আমি ২ দিন থামেল আর ২ দিন নাগরকোট ছিলাম।

* শয়ুম্ভুনাথ টেম্পল – প্রাচিন ধর্মীয় আর্কি-স্ট্রাকচার। কাঠমুন্ডু কাছেই, মাত্র ৩ কিমি দূরে পাহাড়ের উপর অবস্থিত। জায়গাটা বেশ বড়। এক জায়গায় বুদ্ধার গোল্ডেন মূর্তি আছে। টেম্পলের মাঝে মূল স্তম্ভ, এখানে বুদ্ধার চোখ আর ভ্রু আঁকা আছে। লম্বা উঁচু সিঁড়ি পাড় হয়ে টেম্পলের উপরে উঠতে হয়। একে মাংকি টেম্পলও বলা হয়। আশে পাশে কিছু দোকান-পাটও আছে। হিন্দু বৌদ্ধ উভয় ধর্মের মানুষরাই একে সেক্রেড স্থান মনে করে এখানে আসে। এখান থেকে নিচে খুব সুন্দর প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখা যায়।

* ওয়ার্ল্ড পিস পন্ড – শয়ুম্ভুনাথ টেম্পলের পাশে একটা ছোট চৌবাচ্চা আছে যার নাম, ওয়ার্ল্ড পিস পন্ড। লোকালরা বিশ্বাস করে যে কিছু মনোবাসনা নিয়ে কয়েন ছুঁড়ে মারলে স্ট্যাচুর পায়ের কাছে রাখা পাত্রের ভেতর পড়লে মনোবাসনা পূরুন হয়। ওই পন্ডের গায়ে লেখা আছে, “May Peace Prevail on Earth”. অনেকের মতো আমিও অনেকগুলো কয়েন ছুড়লাম।

* গার্ডেন অব ড্রিমস – থামেল এলাকায়। কোয়ালিটি সময় কাটানোর জন্য একটা সুন্দর জায়গা। এখানে একটা ছোট মিউজিয়াম আছে। এন্ট্রি ফি ২০০ রুপি।

* ধুলিখেল কালি টেম্পল এলাকা – ধুলিখেল এলাকা পাহাড়ের উপড় থেকে প্রকৃতি দেখাত জন্য একটা ভাল টুরিস্ট স্পট। এখানে একটা বুদ্ধার মুর্তি আর কালির মন্দির আছে। আমি ওখানে না যেয়ে চলে গেলাম ধুলিখেল টপ স্টোন এ। তেমন কিছুই না একটা লম্বা পাথর প্রাকৃতিকভাবে উঁচু হয়ে আছে, ছবি তোলার এংগেল ভাল হলে মনে হবে পাহাড়ের বাইরের দিকে বিপদজনকভাবে বেড়ে যাওয়া একটা স্টোন। এখানে অনেক পিকনিক পার্টি আসে; দলবদ্ধভাবে আড্ডা, পিকনিক, খাওয়া-দাওয়া এগুলোর জন্য আদর্শ জায়গা।

* ভক্তপুর দরবার স্কয়ার – এখানে ৩ টা দরবার স্কয়ার আছে, কাঠমুন্ডু, পাঠান আর ভক্তপুর। আমি গিয়েছিলাম ভক্তপুর। এটি ইউনেস্কোর একটি হেরিটেজ সাইট। কাঠমুন্ডু থেকে ১৩ কিমি দূরে ভক্তপুর এলাকায়। এটি একটি প্রাচীন রাজকীয় প্যালেস। বেশ বড় এই জায়গাটা। এই এলাকায় ৫৫ জানালা বিশিষ্ট প্রাসাদ, জাতীয় আর্ট মিউজিয়াম, গোল্ডেন গেইট, এলিফ্যান্ট গেইট, একটা বড় জলাধার, এবং অনেক টেম্পল আর স্টাচু আছে। বিভিন্ন কারুকার্য আর ঐতিহাসিক মুল্যের ভিত্তিতে এগুলোর গুরুত্ব অনেক।

* কৈলাশনাথ মহাদেব স্টাচু – কাঠমুন্ডু থেকে প্রায় ২০ কিমি দূরে ভক্তপুরে অবস্থিত। এখানে মাহাদেব শিব এর এত ১৪৩ ফুট উচ্চতাসম্পন্ন একটি মুর্তি আছে যা পৃথিবীর মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ এর নির্মানশৈলী প্রশংসনীয়। অনেকদূর থেকে এটা দেখা যায়।

* নমবুদ্ধা মনেস্ট্রি – কাঠমুন্ডু থেকে প্রায় ৪৫ কিমি দূরে। শত শত মংদের নিয়ে এটা বেশ বড় একটা মনেস্ট্রি। একটা উঁচু পাহাড়ের চুড়ায় অবস্থিত। পুরো এলাকা দেখতে অত্যন্ত সুন্দর এবং টুরিস্টদের জন্য আকর্শনীয় একটা স্পট। মনাস্ট্রির পাশের আরেক পাহাড় আছে যেখানে হাজার হাজার মানুষদের প্রার্থনা লেখা হরেক-রকমের রঙিন কাপড়ে লিখে রশিতে ঝুলানো আছে। আমি ওদের বিশেষ প্রার্থনার সময় টেম্পলে হাজির ছিলাম। বিভিন্ন ধরনের বাদ্যযন্ত্রের সাথে ওদের প্রার্থনার শব্দ একটা মাধকতাপূর্ন ধ্বনির সৃষ্টি করে।

* নাগরকোট – নাগরকোট কাঠমুন্ডু থেকে প্রায় ৩২ কিমি দূরে। বাসে আসলে ২.৫-৩ ঘন্টার জার্নি। কাঠমুন্ডুর ভক্তপুর বাস স্টেশন থেকে পাবলিক বাস আছে। ২১৭৫ মিটার উঁচু এই জায়গা।নেপালের পাহাড়ের সৌন্দর্য দেখা আর হাইকিং এর জন্য এই জায়গা খুবই জনপ্রিয়। এখানে হাইকিং এর জন্য ইকো ট্রেইল আছে। আমি ছিলাম হোটেল কান্ট্রি ভিলাতে। উঁচু পাহাড়ের উপর অবস্থিত। চারিদিকে অত্যন্ত সুন্দর ভিউ। আর রাতের বেলা ঘরের বাইরে অসম্ভব ঠান্ডা।

* নাগরকোট ভিউ টাওয়ার – হোটেল থেকে খুব ভোরে আমরা একদল বের হয়ে গেলাম নাগরকোট ভিউ টাওয়ারে। হোটেল থেকে একটু দূরে। সূর্যাস্ত দেখতে। এখানে দেখার সুবিধার জন্য একটা উঁচু টাওয়ার তৈরি করা আছে। এখান থেকে হিমালয় রেঞ্জসহ অন্নপূর্ণা পর্বতশৃঙ্গ দেখা যায়। এতো ঠান্ডা ছিল অনেক কস্টে হাত বের করে ছবি তুলতে হয়েছে। নাগরকোট এসেই মনে হয়েছে আমার নেপাল ভ্রমন স্বার্থক।

শপিং এর জন্য –

– সিটি সেন্টার – কাঠমুন্ডু শহরের সেন্টারে। বিভিন্ন গ্রোসারি দোকান ছাড়া ব্রান্ড আইটেমের দোকান আছে। শপিং এর সাথে ফুড কোর্ট, প্লে জোন আর মুভি থিয়েটার ও আছে।

– সিভিল মল – এটাও কাঠমুন্ডু শহরে। আমাদের বড় শপিং মলগুলোর মতোই বিভিন্ন ধরনের জিনিসপত্র সুলভে পাওয়া যায়। ফুডকোর্ট সহ এখানেও বেশ বড় মুভি থিয়েটার আছে।

– থামেল মার্কেট – স্ট্রিট শপ। অনেককিছুই কিনতে পাওয়া যায়। টুরিস্ট স্পট। কেনার মধ্যে নেপালের বিখ্যাত ডেকরেটেড নাইফ, ছোট, মাঝারি, বড় বিভিন্ন ধরনের আছে। এছাড়া কিনতে পারেন শাল আর পশমিনা। দামাদামি করে কয়েক দোকান ঘুরে কিনতে হবে।
Source:Shafiqur Rahman‎< Travelers of Bangladesh (ToB)

 

যদি কেউ জিজ্ঞেস করে বাংলাদেশের কোন অঞ্চলের মানুষগুলো খুব আপন করে নিয়েছিলো তবে নিঃসন্দেহে চলে আসবে শ্রীমঙ্গলের নাম…এখানের মানুষগুলো প্রচন্ড ভালোবাসতে পারে…প্রতিবার এদের কাছে ছুটে যেতে বাধ্য করে…

আপনি যদি পাহাড়প্রেমী হন…তবে শ্রীমঙ্গল কিছুটা হলেও সেই তৃষ্ণা মেটাবে…ছোটো-ছোটো পাহাড় আর উঁচুনিচু টিলায় সাজানো গোছানো চা বাগান আপনাকে এনে দেবে এক বিচিত্র প্রশান্তি..আর চা বাগানের বৃষ্টি যদি দেখার সৌভাগ্য হয় ব্যাস! তবে তো হয়েই গেলো…পুরোটাই পাওয়া…

প্রায় শ খানেক বিশাল চা বাগান নিয়ে শ্রীমঙ্গলের বেশিরভাগ জায়গা বিস্তৃত… দুপাশে চা বাগান আর মধ্যে দিয়ে সরু রাস্তা এঁকেবেঁকে বয়ে চলেছে.. চোখ যেনো প্রচন্ড চঞ্চল হয়ে যায় চারপাশে প্রকৃতির এতো রূপ দেখে…সবুজে ঘেরা চা বাগান গুলো স্বস্তি এনে দেয়…

শ্রীমঙ্গলে যেখানেই যান চা বাগানের দেখা মিলবেই…

এক বা দুদিনে ট্যুরে ঘুরে আসতে পারেন শ্রীমঙ্গলের কিছু অসাধারণ স্পটে..

মাধবপুর লেক – অস্বাভাবিক সুন্দর এই লেকের বৈশিষ্ট্য হলো এর চারপাশে রয়েছে উচু টিলা ও ছোটো পাহাড় যার পুরো অংশ জুড়েই চাষ হয় চায়ের…লেকের স্বচ্ছ পানিতে পা ডুবিয়ে বসে থাকতে রয়েছে ছোট্ট একটি ঘাট…আর ফুটে থাকা অসংখ্য শাপলা এই লেকের সৌন্দর্য শতগুণে বাড়িয়ে দিয়েছে…তবে দুপুরের রোদে না গিয়ে সকাল কিংবা বিকেলে যাওয়ার পরামর্শ রইলো…

নীলকন্ঠ কেবিন – ভানুগাছ থেকে কয়েক কিলোমিটার কাছেই রামনগরে রমেশের নীলকন্ঠ কেবিনের অবস্থান…সন্ধায় এই স্পেশাল সাতরঙা চায়ের সাথে আড্ডায় হারিয়ে যাওয়া যায় নির্দ্বিধায়…আর সামনে চা বাগানের অপরূপ দৃশ্য তো আছেই…

লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান – সবুজে ঘেরা এই গাছের রাজ্যে প্রবেশ করলেই প্রচন্ড গরমেও শীতল হয়ে আসবে আপনার মন ও প্রাণ…পাখির কিচিরমিচির ডাক আর একগাদা ভিন্ন প্রজাতির গাছের সঙ্গে পরিচিত হয়ে যাবেন মুহুর্তেই…এই উদ্যানে গেলেই বিভিন্ন বন্যপ্রাণী চোখে পরবে…বিলুপ্তপ্রায় উল্লুক যার মধ্যে বিশেষ… রেইন ফরেস্ট এই উদ্যানে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়ে এর সৌন্দর্য শতগুণে বাড়িয়ে দেয়…যদিও ইদানিং এর সৌন্দর্য অনেকাংশেই কমে এসেছে বলে অনেকের ধারণা…তবে শ্রীমঙ্গল গেলে কেউ লাউয়াছড়া মিস করতে চায় না সহজে…

এছাড়াও মনিপুরী পল্লী, খাসিয়া পল্লী, টি মিউজিয়াম, সিতেশ দেবের মিনি চিড়িয়াখানা সহ আরো অনেক জায়গা আছে…

যেভাবে যাবেন – কমলাপুর থেকে বিকেল ৪.০০ টা কালনী এক্সপ্রেস বা সকাল ৬.৪০ এ পারাবত এক্সপ্রেসে সিলেট গামী ট্রেনে করে চলে যেতে পারেন শ্রীমঙ্গল..এছাড়াও সায়েদাবাদ, আরামবাগ থেকে শ্যামলি, হানিফের বাস সারাদিনই পাওয়া যায়…

যেখানে থাকবেন – শ্রীমঙ্গলে থাকার জন্য রয়েছে অসংখ্য রিসোর্ট…এছাড়াও কম বাজেটে যারা থাকরে চান তাদের জন্য রয়েছে বেশ কিছু স্টুডেন্ট ডরমিটরি…

যেখানে খাবেন – শ্রীমঙ্গল শহরে অনেক বেশি রেস্টুরেন্ট না থাকলেও কিছু হোটেল বেশ ভালো অবস্থানে আছে…যেমন পানসী রেস্টুরেন্টের প্রতিটি খাবারই ভালো লেগেছে….স্পেশালি ওদের ভর্তা আইটেম গুলো টেস্ট করতে ভুলবেন না…এছাড়াও যেতে পারেন কুটুমবাড়ি রেস্টুরেন্টে…

নোংরা আবর্জনা ফেলে পরিবেশ নষ্ট করবেন না প্লিজ.

Source: Mehjabin Antu<Travelers of Bangladesh (ToB)

হলুদ ট্যাক্সির শহরে (কলকাতা ): কলকাতা নামটি শুনলেই মনে পড়ে অনেক স্মৃতিবিজরিত জিনিস। কোন এক সময় এই কলকাতাই ছিল আমাদের রাজধানী এবং ভারতবর্ষের রাজধানী আমাদের সবকিছু বাণিজ্য,শিক্ষা,রাজনী­তি কলকাতা কেন্দ্রীক থাক ইতিহাসে ফিরে না যাই আজ বরং আমার ভ্রমনকথা বলি।

-১ম দিনঃ বিকালে সৌদিয়া বাসটি নামিয়ে দিল কলকাতার মারকুইস স্ট্রিটে আগে থেকেই booking.com এ হোটেল বুক করা ছিল বাট মারকুইস স্ট্রিট থেকে কিছুটা দূরে বলে দীর্ঘ ভ্রমনে আর সেখানে যাওয়ার ইচ্ছা হলনা তার উপর আগের দুইরাত ঘুম হয়নাই ফোনে নাই চার্জ চাইছিলাম এখানেই হোটেল নিতে। প্রথমেই গেলাম মারকুইস স্ট্রিটের “Hotel 21” মাঝারি মানের হোটেল আর ঘোরাঘুরি করতে ইচ্ছা করছিল না নিয়ে নিলাম সিংগেল রুম উল্লেখ্য ঢাকা থেকে আমি একাই এসেছিলাম তবে এখানে আমার কয়েকজন বন্ধু কয়েকদিন আগেই এসেছিল। হোটেল রুমে যেয়ে গোসল করে ফ্রেশ হয়ে বের হলাম গন্তব্য নিউ মার্কেট মারকুইস স্ট্রিট থেকে পায়ে হাটা রাস্তা। সিম কিনলাম একটা ভোডাফোনের বাসায় কথা বলে তাদেরকে টেনশন মুক্ত করলাম। সম্পূর্ণ নতুন শহর প্রথম বিদেশ ভ্রমণ কিছুটা থ্রিল কাজ করছিল। মির্জা গালিব স্ট্রিট, পার্ক স্ট্রিটে হাটতে হাটতে রাত হয়ে গেল এর মধ্যে এত ভাল লাগছিল সব যে সারাদিন যে না খাওয়া সেটাই ভুলে গেলাম এক বন্ধুকে কানেক্ট করলাম যে কিনা আজ রাতেই “গোয়া” যাবে পিওর সোলো ট্রাভেলার আমিও এখন সোলো কারণ আমার যে কজন বন্ধু এসেছিল ওরা দিল্লি যাবে আজ রাতে আমার ও সিন্ধান্ত ছিল দিল্লি যাওয়ার তবে সিন্ধান্ত পরিবর্তন করায় ওরা চলে গেল। দুইজন মিলে সিদ্ধান্ত নিলাম জাকারিয়া স্ট্রিটে রাতের খাবার খেতে যাবো “ইসপ্লানেড মোড়” থেকে বাসে করে এলাম জাকারিয়া স্ট্রিটে এখান থেকে খাবার খেয়ে দুইজন রাতের কলকাতা উপভোগ করলাম। তাকে বিদায় জানিয়ে সদর স্ট্রিটে আসলাম সেখান থেকে কিছু খাবার কিনে ফিরলাম রুমে দেন ঘুমিয়ে পড়লাম।

২য় দিনঃ সকালে ঘুম থেকে উঠেই গোসল করে বেরিয়ে পড়লাম রাস্তা থেকে চা খেয়ে চলে গেলাম হাওড়া ব্রিজ দেখতে সেখান থেকে এলাম বড় বাজার কিছু কেনাকাটা করতে করতে দুপুর হয়ে গেল বড় বাজারের পাশ থেকে মুসলিম হোটেল থেকে দুপুরের খাবার খেয়ে নিলাম। চলে এলাম পার্ক স্ট্রিট সেখান থেকে কলকাতা মেট্রো রেলে চলে এলাম কালিঘাটে কলকাতায় সবচেয়ে ভাল লেগেছে এই মেট্রোরেল আহা! এত্ত গোছানো ব্যালেন্সড অত্যাধুনিকপ্রযুক্তি একটা ময়লা নেই ভিতরে মাটির নিচ দিয়ে যায়। ঢাকার মেট্রোর সার্ভিস কেমন হবে তা জানিনা তবে আমরা কলকাতাবাসীর মত ব্যবহার করতে পারব কিনা? কালিঘাট মন্দির দেখে নিলাম ধারণা করা হয় কলকাতা নামই হয়েছে এই কালিঘাট মন্দির থেকে। কালিঘাট থেকে মেট্রো দিয়ে আবার চলে এলাম “ইসপ্লানেড মোড়” সেখান থেকে নিউ মার্কেটে টুকটাক কিছু কেনাকাটা করলাম সন্ধ্যা হয়ে এল এর পর গেলাম “বিগ বাজারে” সেখান থেকে কিনলাম কিছু ওরে বাবা বিল দেওয়ার এত্ত বড় লাইন আমি জীবনেও দেখিনাই ৩০-৪০ মিনিট লাইনে দাঁড়িয়ে বিল দিলাম। সদর স্ট্রিটে এলাম সেখান থেকে কিছু খাবার কিনে রুম এসে গোসল করলাম রেস্ট নিলাম। দেন রাতে বের হলাম ডিনার করতে মাইকুইস স্ট্রিটের এক মুসলিম হোটেলে খেলাম। কোক খাওয়ার জন্য বরফ পাইকারি বেচে সেখান থেকে কিছু বরফ নিলাম মারকুইস স্ট্রিটের পাশেই সেখানেই ওয়াজ মাহফিল হচ্ছিল কিছুটা সময় সেখানে থেকে রুমে এসে বরফ দিয়ে কোক খেয়ে ঘুমিয়ে পড়লাম।

৩য় দিনঃ সকালে উঠেই খাবার খেয়ে নিলাম কাল রাতে যেখান থেকে খেয়েছি সেখানে এলাম। ইন্ডিয়ান মিউজিয়াম ঘুরলাম এরপর এলাম ময়দানে সেখানে খানিকটা সময় কাটিয়ে দেখতে গেলাম সিম্বল অব ক্যালকাট্টা

” ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালে ” সত্যিই অমর এক ভবন দেখলেই চোখ জুড়ায়। সেখান থেকে এলাম “শহীদ মিনারে” এর পর “ইডেন গার্ডেনে” গেলাম সাথে বোনাস হিসাবে দেখাম কলকাতা মোহামেডান ও ইস্ট বেংগল ফুটবল ক্লাব। সেখান থেকে বাসে করে পার্ক স্ট্রিট নেমে হেটে রুমে আসলাম ফ্রেশ ও রেস্ট নিয়ে চলে গেলাম পার্ক স্ট্রিট কেএফসি তে সেখান থেকে লাঞ্চ করে আবার গেলাম নিউ মার্কেটে কিছু কেনাকাটা করলাম সন্ধ্যা হয়ে গেল গেলাম বিগ বাজারে কপাল খারাপ থাকলে যা হয় আজ ১ ঘন্টার উপরে লাইনে দাড়ালাম বিল দিতে। সদর স্ট্রিটে আসলাম কিছু খাবার কিনে রুমে রেস্ট নিয়ে ও ফ্রেশ হয়ে গেলাম ডিনার করতে ডিনার করে এসে দেন ঘুমালাম।

৪র্থ দিনঃ আজ ঢাকায় ফিরে যাব এই কয়েকটা দিন খুবই বিজি গেলেও এক মূহুর্তের জন্য বোর হইনি সকালে উঠে খাবার খেয়ে নিলাম এরপর রাস্তা দিয়ে ঘুরলাম বর্ডার থেকে টাকা দিয়ে রুপি একচেঞ্জ করেছিলাম সব রুপি শেষ হয়ে গেল তাই সদর স্ট্রিট থেকে মানি এক্সচেঞ্জ করে নিলাম। এর পর গেলাম ম্যাকডোনাল্ড’স এ খেতে বাংলাদেশে ম্যাকডোনাল্ড’স নেই তাই খুবই ইচ্ছা ছিল এখানে খাওয়ার আহামরি কিছুই মনে হলনা। হোটেলে এসে ব্যাগেজ নিয়ে চেক আউট করলাম সকাল ১২ টার পর আর কোন বাস যায়না পেট্রাপোল তাই কোন বাস পেলাম না অন্যদিকে বর্ডার বন্ধ হয়ে যায় ৫ টায় কি আর করা তাড়াতাড়ি ট্যাক্সি নিলাম শিয়ালদাহ স্টেশনের বনগাঁ লোকালে উঠলাম এত্ত ভীড় খোদা এর মধ্যে বনগাঁ পৌছাতে ২৪টা স্টেশনে থামল কি ব্যাপার স্যাপার তবে ট্রেনের স্পিড ছিল বাংলাদেশের আন্তঃনগর ট্রেন থেকেও বেশি ফাস্ট। ২ ঘন্টার মধ্যে পৌছে গেল বনগাঁ জংশনে সেখান থেকে অটোতে করে বর্ডারে এলাম সেখান থেকে বর্ডার পার হয়ে বেনাপোল থেকে বাসে চলে এলাম ঢাকায়।

#কিছু টিপস।

-জামা কাপড় বেশি নেওয়ার কোন প্রয়োজনই নেই আমি ব্যাগ ভর্তি ড্রেস নিয়ে কিছুই পরতে পারি নাই সো ২ সেটের বেশি ড্রেস না নেওয়াটাই উত্তম।

– OYO কিংবা booking.com এ আগে থেকেই হোটেল বুক করে যাওয়ার চেষ্টা করবেন।

– সামারে শর্টস পরার চেষ্টা করাই ভাল।

-সাথে একটা ব্যাকপ্যাক রাখবেন সমসময় যেটাতে পাসপোর্টসহ প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস রাখবেন।

-ফোনে ইন্টারনেট রাখবেন কিংবা গুগল ম্যাপ থেকে সিটির ম্যাপ ডাউনলোড করে নিবেন।

-ছাতা রাখবেন সাথে।

-সোলো হলে আসার আগে চেষ্টা করবেন এই শহর বিষয়ক অনেক ব্লগ পড়ার গুগল করলেই পেয়ে যাবেন তখন মনে হবে এই শহর আপনি আগে থেকেই চিনেন।

-খাবার হালাল হারামের তেমন কোন ঝামেলা নেই তাও নিজের মধ্যে সন্দেহ থাকলে অনেক মুসলিম হোটেল আছে নিউমার্কেট ও বড় বাজারের আশে পাশে বিফ লাভার হলে আপনার জন্য হ্যাভেন কলকাতা।

– এখানে ঢাকার মত কোন রিক্সা নেই শুধু ট্যাক্সি অল্প দূরত্বে যেতে হলেও ট্যাক্সিই ভরসা তাই পর্যাপ্ত হাটার মানুষিকতা থাকতে হবে এবং খরচ বাচাতে হলে বাস ও মেট্রোরেল ব্যবহার করতে হবে।

এই কয়েকদিনেই আমি এখানকার প্রেমে পড়ে গিয়েছি খাবার, ট্রাফিক সিস্টেম, মেট্রো কিংবা সদর স্ট্রিটের মোহ আবার যেতে চাই সেখানে।

দেশের বাইরে গেলে আপনি আপনার নিজ দেশের প্রতিনিধিত্ব করেন তাই এমন কিছু করবেননা যেন দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট হয় প্লাস্টিক বা ময়লা নিদিষ্ট স্থানে ফেলুন।
Source:Shefan AL Emon‎<Travelers of Bangladesh (ToB)

কায়াকিং করতে মহামায়া লেক, কাপ্তাই লেক- কতো জায়গায় ঘুরেছি। অবশেষে ঢাকার ভিতরেই একটা জায়গা পাওয়া গেলো কায়াকিং করার। ঘুরে আসলাম বসুন্ধরা রিভারভিউ লেকে অবস্থিত “ঢাকা সারিঘাট কায়াকিং পয়েন্ট” থেকে। কায়াকিং করার জন্য এখানে দুই জনের এবং তিন জনের বসার উপযোগী কায়াক আছে। পাশেই কাশবন, শাপলা ফুটে আছে, হাঁসের দল সাঁতার কেটে বেড়াচ্ছে। সবমিলিয়ে অসাধারণ একটা পরিবেশ। তাই চাইলেই কায়াকিং ছাড়াও কাশবনে হারিয়ে যাওয়া যায়, অথবা পাশের কোন টং দোকানে বসে চা খেতে খেতে লেকের সৌন্দর্য উপভোগ করা যায় কিংবা স্থানীয়দের মাছ ধরা দেখা যায়। কায়াকিং শেষে নীল চাঁন ভাইয়ের তেঁতুল চা খেতে ভুলবেন না। খুবই মজার আর রিফ্রেশিং।সব মিলিয়ে অসাধারণ একটা বেলা কাটিয়ে আসতে পারেন।

যেভাবে যাবেনঃ ঢাকার যেকোন জায়গা থেকে পোস্তগোলা এসে, সেখান থেকে সিএনজিতে ১০ টাকা দিয়ে ব্রিজ পার হয়ে হাসনাবাদ আসতে হবে। হাসনাবাদ থেকে অটোরিক্সা বা সিএনজি তে সরাসরি সারিঘাট কায়াকিং পয়েন্ট। অটোরিক্সা তে ভাড়া ৩০ টাকা। সিএনজি তে জন প্রতি ভাড়া ১০ টাকা।

খরচাপাতিঃ কায়াকিং এর জন্য খরচ ৩০ মিনিট এর জন্য জনপ্রতি ৭৫ টাকা। সকাল ৯ টা থেকে বিকাল ৫ টা পর্যন্ত কায়াকিং করা যায়।

আর একটা কথা, পরিবেশের প্রতি খেয়াল রাখুন, ময়লা-আবর্জনা নির্ধারিত স্থানে ফেলুন।

Source: Shoaib Mahmood‎<Travelers of Bangladesh (ToB)

Last winter I wanted to visit lots and lots of snowy places! Despite going to Norway and Sweden, I ended up finding my winter wonderland in Helsinki. Helsinki is a perfect destination for a snowy city break as it has to offer a combination of nature, history and art in a metropolitan city. Because it is such a small city you can definitely see it within 24-48 hours (I’m going to admit I spent a lot of time in Cafés drinking hot chocolate and Finnish Coffee). Here’s a list of some of the places we visited:

– Helsinki Cathedral
– Uspenski Cathedral
– Old Market Hall
– National Museum
– Parliament House
– Walk around the waterfront (you’ll get some pretty views of the Ferris Wheel!)
– Take a vintage tram ride
– Go to Café Regatta

Suomenlinna sea fortress

Ok so this place was special.

Suomenlinna Sea Fortress is an UNESCO world heritage site, a giant maritime fortress spread across seven islands. and a very popular place to visit in Helsinki. Board the ferry from Kauppatori – the journey is only 15 mins (3 euros per person) but you get some excellent views during the ride. Check out the videos, I actually felt like I was flying over ice.
Helsinki is surrounded by beautiful little islands that you can reach by ferry (you can get there with a regular Helsinki travel card). It’s so easy to get to the islands, making a fun little escape from the city.

Finland is a country I definitely plan to visit again possibly to see the Northern Lights from Lapland (though my dream is to see the Northern Lights from Iceland!). Helsinki is a beautiful city with very friendly people.

As always, please look after the environment while travelling. Happy travels!

Source: Rehnumah Insan

বান্দরবান কে যতটুকু দেখার সুযোগ আমি পেয়েছি তাতে দৃঢ়ভাবেই বিশ্বাস করেছি যে, একমাত্র সৃষ্টিকর্তাই সঠিকভাবে জানেন যে বান্দরবানে ঠিক কতগুলো পর্যটন স্পট আছে। এটা খুবই সরল বিশ্বাস আর খুবই স্বাভাবিক ব্যাপার।

বান্দরবান, বাংলাদেশের পাহাড়ি কন্যা অথবা প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি। যে বিশেষণেই বিশেষায়িত করি না কেনো সেটা কখনোই যথার্থ হবে না। আমার চোখে, প্রকৃতিগত ভাবে বান্দরবান ই চিরসবুজ বাংলার সবচেয়ে সুন্দর ভূমি। সবমিলিয়ে, তিন বার বান্দরবানে যাওয়ার সুযোগ হয়েছে আমার। প্রথমবার শীতকালে, পরের বার ভরা বর্ষার মরসুমে এবং শেষবার বর্ষার আগে।

শীতের বান্দরবান যেনো কুয়াশার চাদরে জড়িয়ে থাকা লজ্জাবতী নারীর আবরণ অথবা তার চেয়েও অনেক বেশি সুন্দর। ভরা বর্ষার বান্দরবান অনন্তযৌবনা যেটা কখনো বার্ধক্যে ক্ষয়ে যায় না, এতটাই অপূর্ব। তবে শেষ কথা একটাই, বান্দরবান অপূর্ব সুন্দর আর সেটা সম্ভবত পুরো বছরজুড়েই।

গন্তব্যহীনভাবে ছুটে চলা মেঘমাল্লার দলের বিশাল বিশাল পাহাড়ের গায়ে ধাক্কা খেয়ে বৃষ্টি হয়ে ঝরে পড়া, ঘন বর্ষার অঝর ধারায় প্রাণ পেয়ে নব উদ্যমে ছুটে চলা ঝর্ণা ধারা, পাহাড়ের পাদদেশ ধরে পাহাড়ি খরস্রোতা নদী সাঙ্গুর বয়ে চলা এবং মেঘমাল্লার দলকে আলতো স্পর্শে ছুঁয়ে দেখার অনুভূতি নিয়ে ফিরতে চাইলে আপনাকে ঠিক বান্দরবানেই যেতে হবে।

পাহাড়ি জনপদে পাহাড়ের আনাচে-কানাচে সবুজের উপস্থিতি, সাথে ভিন্ন ভাষার ১১ টি ক্ষুদ্র গোষ্ঠীর বৈচিত্র্যময় জীবনধারা এবং সংস্কৃতি – নিঃসন্দেহে বান্দরবানকে পূর্ণতা দিয়েছে। বিশাল পাহাড়ের সম্রাজ্যে অসাধারণ সব ঝর্ণাধারা, অপূর্ব পাহাড়ি খরস্রোতা নদী, মেঘমাল্লার দলের অলস ওড়াউড়ি এবং উপজাতিদের বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি – আমার সাদা চোখে এটাই বান্দরবানের সবচেয়ে সুন্দর বিজ্ঞাপন।

বান্দরবানের পর্যটন কেন্দ্র সমূহ :
যেগুলো দেখেছি :
● নীলাচল
● মেঘলা পর্যটন কেন্দ্র
● স্বর্ণ মন্দির
● মিলনছড়ি
● শৈলপ্রপাত
● চিম্বুক
● নীলগিরি
● বড় পাথর
● নাফাখূম জলপ্রপাত

যেগুলো দেখা হয়নি (কিন্তু ইচ্ছে আছে) :
● প্রান্তিক লেক
● বগা লেক
● কিওক্রাডং
● তিনাপ সাঁতার
● আমিয়াখূম

■ যেখানেই ঘুরতে যাই কেনো সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ নিজের জীবনের নিরাপত্তা। কাজেই, আমাদের সামান্য অবজ্ঞা আর অসচেতনতায় কোনো প্রাণ যেনো ঝরে না পড়ে। জীবন একটাই, বেঁচে থাকলে হাজারো জায়গা হাজারো বার ভ্রমণ করা যাবে। কিন্তু একবার চলে গেলে ফিরে আসার কোনো সুযোগ নাই। তাই অনুরোধ, অতি উত্সাহী হয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কোনো ঘোরাঘুরি নয়।
■ পর্যটন শিল্পের বিকাশের স্বার্থে প্রকৃতি কে রক্ষা করা আমাদের সকলের নৈতিক দায়িত্ব। তাই অনুরোধ, কোনো ধরনের পথিলিন, প্লাস্টিক অথবা যে কোনো বর্জ্য যথাস্থানে ফেলুন। যথাস্থান না থাকলে সাথে ছোট্ট ব্যাগ রাখুন। তবুও প্রকৃতি এবং পরিবেশ কে রক্ষা করা উচিত।

Source: Muhammad Saikat Hossain < Travelers of Bangladesh (ToB)

অফ সিজনে সেন্ট মার্টিনে যাওয়ার মূল উদ্দেশ্য ছিল ট্রলারে করে টেকনাফ থেকে সমুদ্র পাড়ি দেয়া!

গত ৩ অক্টোবর২০১৯ আমরা যাত্রা শুরু করি বাংলাদেশের একমাত্র প্রবালদ্বীপ সেন্ট মার্টিনের উদ্দেশ্যে। নন-এসি বাসে ঢাকা টু টেকনাফের জনপ্রতি ভাড়া ছিলো৯০০ টাকা। আমাদের যাত্রা শুরু হয় রাত৮ টায় এবং ভোর৭ টায় আমরা টেকনাফ পৌঁছাই। সেখানে পৌঁছে আমরা সকালের নাস্তা সেরে নেই। তারপর আমরা যাই ট্রলারের খোঁজে। ট্রলারে টেকনাফ টু সেন্ট মার্টিন জনপ্রতি ভাড়া ছিলো২২০ টাকা। এখানে আমাদের জোয়ারের জন্য বেশ কিছুটা সময় অপেক্ষা করতে হয়েছিলো। কেননা পর্যাপ্ত পানি না থাকলে ট্রলার মূল নদীতে যেতে পারে না পানির স্বল্পতার কারনে। আমাদের ট্রলার চলা শুরু করে বেলা১১ টা থেকে। ট্রলারে করে টেকনাফ টু সেন্ট মার্টিন যেতে আমাদের প্রায়৩ থেকে৩.৫ ঘণ্টা সময় লেগেছিলো। ট্রলার থেকে নেমে আমরা বের হয় হোটেল খোঁজ করতে।

একটা কথা বলে রাখা ভালো যে, অফ-সিজনে সেন্ট মার্টিনের অধিকাংশ হোটেল এবং রেস্টুরেন্ট বন্ধ থাকে। কাজেই এই সময়টাতে থাকা-খাওয়ায় কিছুটা সমস্যা হতে পারে। আমরা যে হোটেলে ছিলাম সেখানে একরাতের জন্য ডাবল বেডের একটি রুমের ভাড়া ছিলো৭০০ টাকা। সময়ের সল্পতার জন্য আমাদের পক্ষে ছেড়া দ্বীপে যাওয়া সম্ভব হয় নি।

৪ তারিখ রাতেই আমরা স্পিডবোট ঠিক করে ফেলি। আমাদের৫ জনের জন্য স্পিডবোটে সেন্ট মার্টিন টু শাহ পরির দ্বীপে যেতে মোট খরচ পড়েছিলো৫০০০ টাকা এবং সময় লেগেছিলো প্রায়৩০ মিনিটের মতো। সিজনে টেকনাফ থেকে সেন্ট মার্টিনে স্পিড বোটে জন প্রতি খরচ পরবে ৭৫০ টাকা। মোট ৮ টা সিট থাকে।

সেখান থেকে সিএনজিতে করে টেকনাফ যেতে খরচ পড়েছিলো৫০০ টাকা। শাহ পরির দ্বীপ থেকে টেকনাফে যাওয়ার রাস্তা ভালো ছিলো না তাই এই রাস্তা টুকু পার হতে আমাদের কিছুটা কষ্ট হয়েছিলো।
টেকনাফ থেকে আবারও সিএনজি করে মেরিন ড্রাইউভ হয়ে আমরা কক্সবাজার পৌঁছাই। টেকনাফ টু কক্সবাজার সিএনজি ভাড়া ছিলো ১১০০ টাকা।

সেখান থেকে দুপুরের খাবার সেরে আমরা চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করি। নন-এসি বাসে করে কক্সবাজার টু চট্টগ্রামের বহদ্দারহাট আসতে জন প্রতি খরচ পড়েছিলো২৫০ টাকা। বহদ্দারহাট থেকে১৫০ টাকা সিএনজি ভাড়া করে আমরা যাই দামপাড়া বাস স্ট্যান্ড। এখানে অনেক বাস কাউন্টার আছে। আমরা জন প্রতি১০০০ টাকা ভাড়ায় এসিবাসে করে ঢাকা পৌঁছাই।
সাথে অবশ্যই পরিচয়পত্রের কপি রাখবেন। আসা ও যাওয়ার সময় বেশ কিছু জায়গার চেকপয়েন্টে আপনার থেকে পরিচয় পত্রের কপি দেখতে চাইবে।

Source: Azad Abul Kalam‎ < Travelers of Bangladesh (ToB)

আমরা অনেকেই দিনে যেয়ে দিনের আসার মত অনেক জায়গা খুজি ঘুরে বেড়ানোর জন্য। নারায়ণগঞ্জ ঢাকার কাছে এবং বেশ পরিচিত একটি যায়গা। একসাথে অনেক কিছু দেখার আছে।
জায়গা গুলো হল,
১। সোনারগাও লোক শিল্প জাদুঘর ,
২। পানাম সিটি,
৩। বাংলার তাজমহল,
৪। পিরামিড।
বাংলার তাজমহল ঃ
বিশ্বের প্রাচীন সপ্তাশ্চর্য আগ্রার তাজমহলের আদলে নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁও উপজেলার পেরাব গ্রামে নির্মিত হয়েছে অনুপমশৈলীর স্থাপত্যে বিশ্বের ২য় বাংলার তাজমহল। বাংলার তাজমহল (Banglar Tajmahal) আগ্রার তাজমহলের মডেলেই গড়া হয়েছে। ঢাকা থেকে এর দূরত্ব মাত্র ৩৩ কিলোমিটার। তাজমহলের মূল ভবন স্বচ্ছ ও দামি পাথরে মোড়ানো। এর অভ্যন্তরে চলচ্চিত্র পরিচালক ও প্রযোজক আহসানউল্লা মনি ও তার স্ত্রী রাজিয়া দু’জনের কবরের স্থান সংরক্ষিত আছে। চার কোণে চারটি বড় মিনার, মাঝখানে মূল ভবন, সম্পূর্ণ টাইলস করা। সামনে পানির ফোয়ারা, চারদিকে ফুলের বাগান, দুই পাশে দর্শনার্থীদের বসার স্থান। এখানে রয়েছে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত রাজমনি ফিল্ম সিটি রেস্তোরাঁ, উন্নতমানের খাবার-দাবারের ব্যবস্থা। রয়েছে রাজমনি ফিল্ম সিটি স্টুডিও।

তাজমহলের কাছাকাছি পৃথিবীর সপ্তাশ্চর্যের অন্যতম মিসরের পিরামিডের আদলে গড়ে তোলা হয়েছে পিরামিড।
খোলার সময়সূচী ঃ
তাজমহল প্রতিদিন খোলা থাকে সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত।

পানাম নগর ঃ

পানাম নগর বা পানাম সিটি (Panam City) বাংলাদেশীদের কাছে “হারানো নগরী” হিসাবে সুপরিচিত। ঢাকার পার্শবর্তী নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁও থানায় ঐতিহাসিক পানাম নগর অবস্থিত। ১৫ শতকে ঈশা খাঁ সোনারগাঁয়ে বাংলার প্রথম রাজধানী স্থাপন করেন। সোনারগাঁয়ের প্রায় ২০ বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে গড়ে উঠে এই নগরী।২০০৬ সালে ওয়ার্ল্ড মনুমেন্ট ফান্ডের তৈরি বিশ্বের ধ্বংসপ্রায় ১০০ টি ঐতিহাসিক স্থাপনার তালিকায় পানাম নগর স্থান পায়।

লোক ও কারুশিল্প জাদুঘর:

পানাম নগরী থেকে মাত্র এক কিলোমিটার দুরত্বে রয়েছে লোক ও কারুশিল্প জাদুঘর। লোক ও কারুশিল্প জাদুঘরের প্রবেশ পথে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের একটি ভাস্কর্য রয়েছে। জাদুঘরে মোট ১১ টি গ্যালারিতে দুর্লভ ঐতিহ্যের নিদর্শন সংরক্ষিত রয়েছে। গ্যালারিগুলোতে নিপুণ কাঠ খোদাই করা জিনিস, মুখোশ, নৌকার মডেল, লোকজ বাদ্যযন্ত ও পোড়া মাটির নিদর্শন, জামদানি ও নকশিকাঁথা ইত্যাদি স্থান পেয়েছে।

কিভাবে যাবেন ঃ
গুলিস্তান থেকে সোনারগাঁও বাস যায়। নামতে হবে মোগরা পাড়া। আরো আগে নামা যায়। তবে আমি বলবো যে যারা যেতে যান তারা মদনপুর নামবেন। সেখান থেকে তাজমহল আর পিরামিড দেখে পরে চলে যান সোনারগাঁও আর পানামসিটি দেখতে।

টিকেট মূল্যঃ
তাজমহল আর পিরামিড এক সাথে ১৫০ টাকা। অনেক বেশী নিল। আগে এটা ১০০ টাকা ছিল।
তাজমহল দেখে একটু হেঁটেই সামনে গেলে বাংলার পিরামিড।
সোনারগাঁও লোক শিল্প জাদুঘর ৩০ টাকা। পানাম নগর ১৫ টাকা।

খরচ ঃ
খাওয়া খরচ যে যেমন খাবেন। আমরা পানাম নগর এর বাইরে একটা ভাতের হোটেলে খেয়েছিলাম। এখন যদি আমি খরচের হিসাব বলি তাহলে গাড়িভাড়া আর সব মিলিয়ে মনে হয়না ৭০০ টাকার বেশী যাবে।

[প্রতিটি ঘুরে বেড়ানোর যায়গা নিজের স্থানের মতই। তাই যতটা সম্ভব অপরিস্কার করা থেকে নিজেকে বিরত রাখবেন]

Source:

আড়িয়াল বিল (Arial Beel) ঢাকার দক্ষিণে পদ্মা ও ধলেশ্বরী নদীর মাঝখানে অবস্থিত প্রায় ১৩৬ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের একটি অবভূমি। এটি মুনশিগঞ্জের স্রীনগরে অবস্থিত। মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর বাজার থেকে একটি সড়ক এঁকেবেঁকে সোজা চলে গেছে আড়িয়াল বিলের দিকে। এ পথে শ্যামসিদ্ধি গ্রাম পেড়িয়ে আরও সামনে গেলে গাদিঘাট। আড়িয়াল বিলের শুরু মূলত গাদিঘাট থেকেই। বর্ষায় পানিতে টই টই, শীতে শুকিয়ে বিস্তীর্ণ শস্যক্ষেত। ঢাকার আশে পাশে হওয়ার কারনে খুব সকালে গিয়ে সন্ধ্যার মধ্যেই ঢাকা ফিরে আসা যায়।
কিভাবে যাবেনঃ
ঢাকা থেকে আড়িয়াল বিলে এক দিনেই ঘুরে আসা যায়। ঢাকার গুলিস্তান থেকে মাওয়াগামী যে কোনো বাসে চড়ে নামতে হবে শ্রীনগরের ভেজবাজার। ভাড়া ৫০ থেকে ৭০ টাকা। এ পথের ভালো বাস ‘ইলিশ’ পরিবহন ও বিআরটিসি। সেখান থেকে ব্যাটারি চালিত রিকশা নিয়ে সোজা যেতে হবে গাদিঘাট। ভাড়া ২৫০ থেকে ৩৫০ টাকা। সেখান থেকে ভালো একটা ট্রলার এ কয়েক ঘণ্টার জন্য ভাড়া নিয়ে ঘুরে আসুন আড়িয়াল বিল। আড়িয়াল বিলে বেড়িয়ে আবার গাদিঘাটে এসে ফেরার রিকশা পাবেন।
আমি আমার কলেজের কিছু সিনিয়র ভাই সহ এক মাস আগে ঘুরে আসি আড়িয়াল বিল থেকে। বিলে যাওয়ার আগে আমারা মাওয়া ফেরিঘাটে ইলিশ দিয়ে লাঞ্চ করে নেই। তারপর শ্রীনগর আসি। দুই ঘণ্টা নৌকায় ঘুরে সূর্যাস্ত দেখে ঢাকার পথে রওনা দেই। জন প্রতি খরছ পরেছিল আনুমানিক ৭০০-৮০০ টাকা। এটি প্রয়োজন ও লোক-সংখ্যা ভেদে বেশকম কতে পারে।

Source: Nrr Orvil‎<Travelers of Bangladesh (ToB)

বালি, ইন্দোনেশিয়ার একটা দ্বীপ। অত্যন্ত সুন্দর সেখানকার বিচ আর পানিগুলো। অন এরাইভাল ভিসা, কম খরচ আর সুন্দর প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখার জন্য ইদানিংকালে বালিতে টুরিস্টদের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। ইন্দোনেশিয়া মুসলিম দেশ হলেও একমাত্র বালিতে মুসলমান নেই বললেই চলে।

যাত্রাঃ
আমরা এয়ার এশিয়া তে সিঙ্গাপুর থেকে বালি গিয়েছিলাম। এয়ার এশিয়া সরাসরি বালি যায়, তাই আর কুয়ালালামপুরে অযথা দীর্ঘসময় এয়ারপোর্টে ট্রাঞ্জিটে বসে থাকতে হয়নি। ঢাকা থেকে মালিন্দ এয়ারলাইনস এ তুলনামূলকভাবে কম ভাড়ায় কুয়ালালামপুর হয়ে বালি যাওয়া যায়। আমরা ফেরত এসেছি মালিন্দ এয়ারে।

ইমিগ্রেশনঃ
ইমিগ্রেশন তেমন কিছুই না, পাসপোর্ট দিয়ে, রিটার্ন টিকেট দেখালেই সীল দিয়ে দেয়। অনেকসময় হোটেল রিজার্ভেশন দেখতে চায়। কোন ভিসা ফি লাগেনা।

এয়ারপোর্ট হতে হোটেল যাত্রাঃ
অনলাইনে আগোডাসহ অনেক সাইট আছে যাদের মাধ্যমে গাড়ী আগে থেকে বুক করা যায়। হোটেল কে বলা যায় গাড়ি পাঠাতে বা এয়ারপোর্ট হতে লোকাল টেক্সি নেয়া যায়। একা থাকলে বা লাগেজ কম থাকলে সবচেয়ে ভাল হবে মেইন এয়ারপোর্ট হতে বাইরে পার্কিং এ যেয়ে গ্রাব নেয়া, সবচেয়ে কম খরচ। এয়ারপোর্ট থেকে কুটা এর ভাড়া গ্রাবে প্রায় ৪০,০০০ থেকে ৫০,০০০ ইন্দো. রুপি, আর লোকাল টেক্সিতে প্রায় ১.৫-২ লাখ নিবে, হোটেল থেকে গাড়ি পাঠাতে বললে ২.৫ লাখ নিবে।

সীম কিনাঃ
টেলকমসেল সীম সাধারণত টুরিস্টরা ব্যাবহার করে। সিমের দাম এক এক যায়গায় এক একরকম। কোন ব্যালেন্স ছাড়া আসল দাম মাত্র ১০,০০০ ইন্দো. রুপি। কিন্তু সিম কিনে আপনি ঠকবেনই, ৬ জিবি ইন্টারনেট সহ এর দাম নিবে অবস্তাভেবে ১ থেকে ২.৫ লাখ রুপি।

হোটেলঃ
ছিলাম কুটা এলাকায়, আগোডা থেকে বুকিং, নন রিফান্ডেবল উইথ ব্রেকফাস্ট, প্রায় ২ মাস আগে। এতে অনেক কম পরেছে। যাওয়ার তারিখ নিশ্চিত না হলে ফ্রি ক্যান্সেলেশন অপশনে যাওয়ায় ভাল। থাকার জন্য কুটা এলাকা বালির সেন্টারে পরে। অনেকে নুসা দুয়া, সেমিনায়ক বা উবুদ এলাকায় থাকে। অনেকে ২/৩ দিন পর পর শিফট করে। ভাড়া ডিপেন্ড করে। দিনে ২৫ ইউ এস ডলারে কুটা এলাকায় মানসম্পন্ন ডাবল রুম পাওয়া সম্ভব। প্রায় প্রত্যেক হোটেল বা রিসোর্টে সুইমিং পুল আছে, অনেক রিসোর্টে আবার প্রাইভেট সি বিচও আছে।

যাতায়াতঃ
একমাত্র মাধ্যম টেক্সি অথবা বাইক। গ্রাব, গোজেক, ব্লু বার্ড অথবা লোকাল টাক্সি। ভাল হবে গ্রাব এবং গোজেক এর এপস ডাউনলোড করে নিয়ে যাওয়া। ২ টাই লাগবে কারন অনেকস্থানে গ্রাব পাবেন না। কমন যায়গাগুলোতে গ্রাব আর গোজেক এর ভাড়া তুলনা করে কমটাতে যাওয়া যায়। ঘন্টাচুক্তি হিসেবে টেক্সি ফিক্সড করে নেয়া যায়, দিনে ৮-১০ ঘন্টা, ৪-৬ লাখ ই. রুপি নিবে। দিনে ১/২ টা স্পটে গেলে গ্রাব/গোজেক সাশ্রয়ী, আর ৪/৫ টা স্থানে গেলে ঘন্টা চুক্তি সাশ্রয়ী। পরিবার ছাড়া গেলে বাইক ভাড়া নিলে সবচেয়ে সাশ্রয়ী।

মানি এক্সচেঞ্জঃ
বিভিন্ন মানি এক্সচেঞ্জ এ অনেক পার্থক্য হয়। আমি ১ ইউ এস ডলারে ১৩ হাজার থেকে ১৪ হাজার ৯০০ পর্যন্ত দেখেছি। লোভে পরা যাবেনা। শুধুমাত্র অথরাইজড মানি এক্সচেঞ্জ থেকে ভাংগাবেন। রেট কম পেলেও। ১ ডলার = ১৩,৮৭৫ ইন্দো. রুপি পেলে তা ভাল রেট ও সেইফ। ফ্রডের পাল্লায় পরলে আম-ছালা সবই যাবে। ১ ইন্দো. রুপি = ০.০০৬১ টাকা।

খাওয়া-দাওয়াঃ
আমরা দিনে একবেলা বার্গার কিং এ, আরেকবেলা ইন্ডিয়ান ফুড খেয়েছি। সি ফুড অনেক খেয়েছি। খাবারের জন্য ভাল পরিমান বাজেট রাখতে হবে।লোকাল খাবার মশল্লার গন্ধের জন্য খাওয়া কস্ট। তবে নাসি গোরেং (রাইস), মী গোরেং (নূডুলস) মোটামুটি ভালই লেগেছে।

ঘুরা-ঘুরিঃ
আমি বালিতে ৭ দিন ছিলাম। এখানে ঘুরার জন্য মোটা দাগে যে জায়গাগুলো আছে তা হল-
* বালির বিচসমূহ
* উবুদ মার্কেট ও উবুদ এলাকা
* নুসা পেনিদা আইল্যান্ড
* নুসা ল্যাম্বুগান আইল্যান্ড
* গিলি গিলি আইল্যান্ড
* বিভিন্ন শপিং এলাকা

★ কুটা বিচ – আমরা প্রধানত সি বিচের জন্যই বালিতে গিয়েছি। তাই বালির সবগুলা বিচে গিয়েছি। কুটা বিচ আমাদের কক্সবাজারের মতো অনেক লম্বা। বিচের পাড়ে কিছু বিচ রেস্টুরেন্ট আছে, এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল, Oceans 27 Beach Club & Grill. বিচে প্রচুর প্রবাল এর টুকরো আছে। পানি বালুমিশ্রিত হলেও মোটামুটি ভাল। এখানে এক বিকেল বিচ ও সুর্যাস্ত দেখার জন্য প্ল্যান করা যায়।

★ নুসা দুয়া বিচ – কুটা থেকে বাইক বা টেক্সিতে যাওয়া যায়। অনেক লম্বা বিচ, নুসা দুয়া থেকে অয়োদ্ধা পর্যন্ত। এখানকার বিচের পানি ময়লা ও ঘাস মিশ্রিত। বিচ প্রবাল আর ভাংগা শামুক- ঝিনুকে ভর্তি। সাগরের কাছে বালি বেশ মোটা ও ধারাল। একটু সমস্যা হলেও এই বিচ আমাদের অনেক ভাল লেগেছে। আমরা গ্রাবে গিয়েছি কুটা থেকে নুসা দুয়া বিচ গ্রিল ক্লাব। সেখানে ৫,০০০ রুপি এন্ট্রি ফি এই বিচে ঢুকি। বিচে সময় কাটিয়ে রিসোর্টের সুইমিং পুলে দাপাদাপি করলাম। পরে নুসা দুয়া বিচ গ্রিল ক্লাবে লাঞ্চ করলাম। খাবার খুবই সুস্বাদু। তারপর বিচ দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে চলে গেলাম অয়োদ্ধা বিচে, এটা পাবলিক বিচ। সেখান থেকে আবার গোজেক টেক্সিতে সামান্য দুরেই ওয়াটার ব্লো।

★ ওয়াটার ব্লো – এখানে সাগরের পাড়ে পানির ঢেউ আছড়ে মারে, এতো জোরে যে পানি ছিটকে অনেক দুর আসে। পানিতে রঙধনুর সৃষ্টি হয়। উল্লেখযোগ্য একটি টুরিস্ট স্পট। এন্ট্রি ফি নেই। এ মাস্ট ভিজিট প্লেস। নুসা দুয়া এবং ওয়াটার ব্লো একদিনে প্লান করা যায়।

★ সুলুবান বিচ – সুলুবান বিচ এবং উলুউটু টেম্পল কাছাকাছি আর এক দিনে প্লান করা যায়। একে হিডেন বিচও বলা যায়। এখানে যেতে আসতে পায়ের জোড় থাকা প্রয়োজন। অনেক নিচ পর্যন্ত সিঁড়ি ভেঙে নামতে হয়। একেবারে নিচে নামলে দেখা যাবে দুই দিকে পাহাড় আর মাঝে বালি। সামান্য হাঁটলেই খাঁজ কাটা পাহাড়ের মাঝেই এই বিচ দেখা যাবে। এখানে সাগরের পানি বেশ পরিষ্কার। বিচ ছোট আর প্রচুর প্রবাল আর শামুক-ঝিনুক ভাঙা টুকরো আছে তাই এখানে হাঁটতে একটু সমস্যা হতে পারে। কিন্তু এই হিডেন বিচের সোন্দর্যের কাছে সেটা কিছুই না। এই বিচের পানিতে নামা মাস্ট। এই বিচে অনেকে সার্ফিং করে থাকে। এই বিচের কাছেই সুইমিংপুলসহ আছে ডেলপি ক্যাফে। খাবারের দাম কস্টলি। অবশ্য বেশিরভাগ টুরিস্টরাই উপরে না যেয়ে নিচে দিয়েই সরাসরি বিচে চলে যায়।

★ প্যাডাং প্যাডাং বিচ – সুলুবান বিচ থেকে এ ২০-২৫ মিনিটের যাত্রা। এখানে এন্ট্রি ফি আছে, আডাল্ট ১৫ আর কিড ১০ হাজার রুপি। এদের ভাল ওয়াশরুম আছে, সাগরের পানিতে নামার পর এর প্রয়োজন হবে। এটাও খুব সুন্দর ছোট একটা বিচ। এখানেও সিঁড়ি দিয়ে কিছুটা নামতে হয় মূল বিচে যেতে। পানি পরিস্কার, ঢেউ কম, অনেকদুর পর্যন্ত হেঁটেই যাওয়া যায়। এখানকার পাড়েও প্রবাল আর শামুকের ভাঙা টুকরো আছে ফলে সাগরের কাছের বালিতে হাঁটতে একটু কস্ট হতে পারে। কিন্তু সৌন্দর্য বিবেচনায় এই সামান্য কস্ট কিছুই না। এখানে সারি সারি বিচ আমব্রেলা আর সান বেড আছে, ভাড়া ২-২.৫ লাখ। এই বিচও ওয়ান অব দি বেস্ট বিচ।

★ ড্রিমল্যান্ড বিচ – এখানকার বিচের আলাদা পার্কিং আছে। সেখানেই গাড়ি রাখতে হয়। ভাড়া ২০,০০০ রুপি। পার্কিং থেকে ওদের আলাদা টুরিস্ট বাস সার্ভিস আছে বিচ পর্যন্ত যাবার জন্য। বাস থেকে নামলে এক সারিতে কিছু রেস্টুরেন্ট আর অন্যান্য দোকান। আমরা ড্রিম কর্নার রেস্তোরাঁয় লাঞ্চ করলাম। খাবার ভাল। এই বিচটা ও বেশি বড় না। সারি সারি বিচ ছাতা। এখানকাত পানি খুবই পরিস্কার এবং ফ্রেশ। কোন ময়লা নেই। ঢেউ অনেক বড় থাকায় এই বিচ ও সার্ফিং এর জন্য বেশ উপযুক্ত। এখানেও পানিতে নামা মাস্ট। এই বিচের সৌন্দর্যও অত্যন্ত দৃষ্টি নন্দন। ফেরত আসতে ইচ্ছা করবেনা।

★ জিম্বারান বিচ – অনেক লম্বা একটা বিচ। এই বিচে সারি সারি বিচ ছাতাসহ চেয়ার। পাড়ে সি ফুডের অনেক রেস্টুরেন্ট। বিচে অনেক চেয়ার টেবিল আছে খাবার জন্য। এখানে পানি কিছুটা বালি মিশ্রিত। এই বিচ সুর্যাস্ত দেখা আর সি ফুডের জন্য বিখ্যাত। এখানে আমরা সুর্যাস্তের আগেই গিয়ে একটা টেবিল দখল করলাম। অপরুপ সুর্যাস্ত দেখে কিছু সি ফুডের অর্ডার দিলাম। দাম আইটেম ভেদে প্রায় ৫-১০ লাখ ইন্দো. রুপি। প্রতি টেবিলে একটা করে কাঁচঘেরা ক্যান্ডেল জ্বালানো। সাগরের অপার্থিব গর্জন আর বাতাসে বসে আলো-আঁধারি অপূর্ব পরিবেশে সি ফুড। এরই মাঝে একদল মিউজিসিয়ান এসে চমৎকার লাইভ লোকাল গান আর বাজনা পরিবেশন করল। সব মিলিয়ে অভূতপূর্ব এক পরিবেশ, কখন সময় কেটে যাবে টেরই পাওয়া যায় না।

★ পটেটো হেড বিচ – এই বিচটা পটেটো এর মতো। আমরা ঠিক এই বিচে যাওয়ার উদ্দেশ্য যাই নি। আমরা গিয়েছিলাম পটেটো হেড বিচ ক্লাবে। এই জায়গাটা এক কথায় মাস্তি করার যায়গা। পটেটো হেড বিচের পাশেই এই ক্লাব। এই বিচে ঢোকার আলাদা সিকিউরড গেইট আছে, যেখানে চেকিং করে ধুকতে হয়। এন্ট্রি ফি নেই। আমরা তো ঢুকেই থ। ইউ টাইপের ক্লাব ও রেস্টুরেন্ট, মাঝে গ্রিন আর ইনফিনিটি সুইমিং পুল। হাজারো টুরিস্ট সান বেডে বসে রিলাক্স করছে। আমরা ১১ টার দিকে গিয়েছিলাম, সকল সানবেড ফুল। এগুলার ভাড়া ১ মিলিয়ন ইন্দো. রুপি (প্রায় ৬,০০০ টাকা)। দুইটা ডাব খেলাম ১.২৫ লাখ রুপি (৭৫০ টাকা)। কোন বসার যায়গা নেই। শেষদিকে রেলিং এ বসলাম ডাব নিয়ে। নিচে নেমে বিচে গেলাম। এখানে বিচের পানি খুবই ময়লা। বিচ ভাঙা প্রবাল আর শামুকে ভর্তি। তবে কারো যদি ঝিনুক কুড়াতে ভাললাগে, এখানে অনেক কুড়াতে পারবেন। বিচ থেকে এসে নেমে গেলাম ইনফিনিটি সুইমিংপুলে। অনেকক্ষন দাপাদাপি করলাম। এখান থেকে সমূদ্রের খুবই সুন্দর ভিউ পাওয়া যায়। একটা জিনিস লক্ষ করলাম, আমরা বাংগালীরা শরীরের উপড় অনেক প্রেশার দিয়ে অল্প সময়ে সব ঘুরে দেখতে চাই, যাকে বলে ‘১৬ আনা উসুল’। আর বিদেশীরা যায় রিলাক্স করতে, তারা কোন বিচে গেল হয়তো ৫-৭ ঘন্টা সেখানেই কাটিয়ে দেয়। তো আমরাও এইদিন অনেকটা সময় এখানেই কাটিয়ে দিলাম। এখানে খাবার কস্টলি হলেও স্বাদ ভাল। ওভালঅল হাইলি রেকোমেন্ডেড।

★ সানুর বিচ – পরিস্কার ও টুরিস্ট ফ্রেন্ডলী এবং ভীড় ছাড়া এক বিচ। এখানের সূর্যাস্তের দৃশ্য সুন্দর। কিন্তু সূর্যোদয়ের দৃশ্য আরো বেশি সুন্দর। আশে-পাশে অনেক বার ও রেস্টুরেন্ট আছে। এখানেই হল সানুর পোর্ট আছে যেখান থেকে নুসা পেনিদা বা গিলি গিলি আইল্যান্ডে যাওয়া যায়।

★ উবুদ এলাকা – উবুদ কুটা থেকে বেশ দূরে। সবচেয়ে ভাল হয় একদিন থাকার প্লান করলে, তা না করলে অনেক সকালে যেতে হবে কারন রাস্তায় প্রায়ই জ্যাম থাকে। টেক্সিতে প্রায় ১.৫ – ২ ঘন্টা লাগে। এখানে চাইলে র‍্যাফটিং ও করতে পারবেন। এন্ট্রি ফি সহ টুরিস্ট স্পটগুলো হল –

– তেগেনুনগান ফলস – ১৫,০০০ রুপি।
– মাংকি ফরেস্ট – ৮০,০০০ রুপি।
– টেগালাল্যাং রাইস ট্যারিস।
– কিন্তামানি গ্রাম আর লোয়াক কফি প্লান্টেশন।

লোয়াক কফি বিদেশীদের কাছে অনেক জনপ্রিয়। অনেকে খেয়ে স্বাদের প্রশংসাও করেছেন। কিন্তু খাওয়া বা কিনার আগে এই কফি বানানোর প্রসেসটা অবশ্যই জেনে নিবেন। বানর শুধু বাদরামী দেখানোর জন্য না, প্রডাকটিভ অনেক কাজেও লাগে। 😉

★ নুসা পেনিদা – কোন এজেন্সি থেকে নুসা পেনিদা যাওয়া, লাঞ্চ, স্নরকলিং, ঘুরা, হোটেল থেকে পিক আপ, ড্রপ সব সহ প্যাকেজ আছে। কুটা বা যেকোন এলাকায় অনেক এজেন্সি আছে। নিজে সব করতে চাইলে সানুর চলে যাবেন অনেক সকালে, সেখান থেকে ফার্স্ট বোট ভাড়ার জন্য বিচে অনেক কোম্পানি আছে, একই রেট। স্যান্ডেল নিয়ে যেতে হবে কারন পানিতে নেমে তারপর বোটে উঠতে হয়। সানুর থেকে ফার্স্ট বোটে যেতে ৩০-৪০ মিনিটের মতো লাগে, ভাড়া ৪ লাখ রুপি (প্রায় ২,৫০০ টাকা) যাওয়া ও ফেরত। বোট এর সময় সকাল ৮ টা, ১১ টা, ১৫.৩০ আর ১৭.৪৫ ঘটিকা আর পেনিদা থেকে ফেরত এর সময় সকাল ৭টা, ৯ টা, ১৪.৩০ আর ১৭.০০ ঘটিকা। নামতে হবে নুসা পেনিদার ওয়েস্টার্ন সাইডে। সেখানে যেয়ে গাড়ি বা বাইক ভাড়া করে টুরিস্ট স্পটে যাওয়া যায়। গাড়ি ভাড়া সারাদিন প্রায় ৫-৭ লাখ রুপি (৩,০০০-৪,০০০ টাকা)। নিজে বাইক চালানো খুবই রিস্কি কারন যাবার রাস্তা ভয়াবহ খারাপ। টুরিস্ট স্পটগুলো হলঃ

– কেলিংকিং বিচ
– ব্রোকেন বিচ
– এঞ্জেল বিলাবং
– ক্রিস্টাল বে

সবগুলো জায়গাই অসম্ভব সুন্দর এবং কোনটাই মিস করার মতো না। এখানকার পানি অত্যন্ত মনোমুগ্ধকর রকম নীল। প্রাকৃতিক দৃশ্যগুলো খুবই ভাল লাগবে। একদিনেই সব স্থান কাভার করা সম্ভব।

★ নুসা লেম্বুগান – নুসা লেম্বুগান আর নুসা পেনিদা খুবই কাছাকাছি। এই দুইটা একই দিনে দেখা যাবে কিন্তু শরীরের উপড় অনেক প্রেশার পরবে। একই সাথে প্লান করলে নুসা পেনিদায় একদিন থাকা উচিত। এটাও অত্যন্ত সুন্দর একটি জায়গা। টুরিস্ট স্পটগুলো হলঃ

– ডেভিলস টিয়ার
– ড্রিম বিচ
– ইয়োলো ব্রিজ
– মাশরুম বে ইত্যাদি।

এখারকার পানিও অসম্ভব সুন্দর ও নীল। সম্ভব হলে পেনিদা আর লেম্বুগান দুইটাতেই যাওয়া উচিত।

★ গিলি গিলি আইল্যান্ড – এই জায়গা বালি থেকে বেশ দূরে। সময় থাকলে সেখানেও যাওয়া যায়। এখানে কাছাকাছি তিনটা দ্বীপ আছে, Gili Trawangan, Gili Meno Gili Air Island. সময়, খরচ, দুরত্ব, কস্ট ইত্যাদি বিবেচনা করে গিলির চেয়ে নুসা পেনিদা/লেম্বুগান অথবা নুসা পেনিদা ও নুসা লেম্বুগান একত্রে যাওয়া রেকমেন্ডেড।

শপিংঃ
★ উবুদ মার্কেট – মাংকি ফরেস্ট পার হয়ে একটু সামনেই উবুদ মার্কেট। এই মার্কেটে অনেক ধরনের শো পিস, কাপড়, বেতের ব্যাগ, হোম ডেকরেশনের জিনিসপত্র ইত্যাদি পাওয়া যায়। কিন্তু নির্লজ্জভাবে দামাদামি করতে হবে। যেমন, ২ লাখ রুপির জিনিস ফাইনালি আমরা ৫০,০০০ এ কিনেছি।

★ বিচওয়াক শপিং মল – কুটা এলাকায়। ব্রান্ড আইটেমের শপিং মল। অনেক বড় এবং অনেক কস্টলি। ঘুরার জন্য যাওয়া যেতে পারে।

★ ডিসকভারী শপিং মল – সুলভ মুল্যের শপিং মল। এখানে ছেলে-মেয়ে উভয়ের কাপড়, জিন্স, সুন্দর টি শার্ট, বাচ্চাদের কাপড়, জুয়েলারি ইত্যাদি কেনা যেতে পারে। আমার জিন্স একটা পছন্দ হয়েছিল, কিন্তু সেখানে কোমড় পেলাম হাইয়েস্ট ২৭। বালির মানুষদের কোমড় এতো ছোট, ধারনা ছিলনা।

★ বিনতাং সুপার মার্কেট – সেমিনায়ক এলাকায়। ভাড়া ২৫-৩০ হাজার রুপি। সব ধরনের জিনিস পাওয়া যায়। বিভিন্ন ধরনের টয়লেট্রিজ, কসমেটিকস, চকলেট, ইস্ট বালির বিখ্যাত কাজুবাদাম, খেলনা হাজারও রকমের জিনিস এখানে পাবেন। এটা একটা মাস্ট গোয়িং প্লেস।

★ কৃশ্না শপিং মল – কুটার কাছে। বালিনিজ লোকাল প্রোডাক্ট পাওয়া যায়। মেইনলি ব্যাগ, সুভেনির আইটেম ইত্যাদি সুলভ মূল্যে পাওয়া যায়।
ফিরে আসাঃ
আসার সময় এয়ারপোর্ট পর্যন্ত গ্রাবে মাত্র ৪৫ হাজার রুপি ভাড়া। বালির এরাইভাল খুব ছোট হলেও ডিপার্চার অনেক বড়। চেকিং এ যেয়ে দেখি অনেক ভীড়। এখানে সবকিছু ম্যানুয়াল। আমার সিরিয়াল আসার পর ব্যাগ দিতে যেয়ে পাওয়া গেল, এক ব্যাগ অতিরিক্ত ভারী, তা খুলে কিছু জিনিস অন্য বাগে ভরতে হল। এদিকে ফ্লাইটের সময়ও হয়ে যাচ্ছে, আমি শুনেছি বোর্ডিং ব্রিজ বন্ধ হয়ে গেলে ওই প্লেনে আর যাওয়া যায় না। আমরা আক্ষরিক অর্থেই দৌড়ানো শুরু করলাম। কিন্তু বিধি বাম। ইমিগ্রেশনেও লম্বা লাইন। এক বুথে লেখা দেখলাম, অফিসিয়াল পাসপোর্ট/ডিজেবল পারসন, লাইন ফাঁকা, শেষে ঐ বুথ দিয়েই চলে গেলাম। তারপর আবার দৌড়। পরিশেষে ঠিকমতোই প্লেনে উঠতে পেরেছি। আলহামদুলিল্লাহ, যে পরের প্লেনে আসতে হয়নি।

ট্রাঞ্জিটঃ
আমাদের কুয়ালালামপুর এয়ারপোর্টে ট্রাঞ্জিট ছিল ৬ ঘন্টা ২৫ মিনিট। মেইন বিল্ডিং এ বোর্ডিং গেট ছাড়া আর কিছু নেই। ঘুরার জন্য এবং খাবার জন্য এয়ারোট্রেন (ফ্রি) ধরে মেইন টার্মিনাল বিল্ডিং থেকে স্যাটেলাইট টার্মিনাল বিল্ডিং এ যেতে হবে। সেখানে বার্গার কিং, ম্যাকডোনাল্ডস, স্টারবাকস সহ অনেক খাবার রেস্টুরেন্ট আছে। আমরা খেয়েছিলাম “গ্রান্ডমাস কিচেন” এ, ‘হাক্কা ফ্রায়েড রাইস’ আর ‘ফ্রায়েড মি মামা’, বিল পেমেন্ট ক্রেডিট কার্ডে। খাবার অত্যান্ত সুস্বাদু। ফ্রি ওয়াইফাই সহ সময় কাটানোর জন্য এখানে আরও আছে ‘জাংগল ব্রডওয়াক’। জংগলের মধ্য দিয়ে হাঁটা আর ওয়াটার ফল দেখার অত্যন্ত মনোমুগ্ধকর একটা জায়গা। এছাড়াও সময় কাটানোর জন্য এখানে ফ্রি মুভি লাউঞ্জও আছে।

খরচা-পাতিঃ
আমি পরিবারসহ গিয়েছিলাম। খরচা-পাতি যদিও ডিপেন্ড করে, তবে আমার অভিজ্ঞতায় একটা সাধারন ধারনা দিচ্ছি –

* এয়ার টিকেট – মালিন্দ ৩৫-৪০,০০০ টাকা প্রতিজন। ব্যাগপ্যাক (৭ কেজি) নিলে ভাড়া অনেক কমে আসবে কিন্তু টিকেট অনেক আগে কাটতে হবে।
* হোটেল – প্রতিরাত ২-৩,০০০ টাকা।
* খাবার – প্রতিদিন জনপ্রতি ১,০০০ টাকা।
* বাইক ভাড়া – দিনে প্রায় ৬০,০০০ রুপি আর গাড়ি ভাড়া দিনে প্রায় ৫ লাখ রুপি।
* এছাড়া বিচের এন্ট্রি ফি / পার্কিং ফি – ৫,০০০ – ২০,০০০ রুপি।
* বিভিন্ন এট্রাকশনে এন্ট্রি ফি – জনপ্রতি ৫০,০০০ – ৮০,০০০ রুপি।

৫-৭ দিনের একটা সম্ভ্যাব্য টূর প্লানঃ

* নুসা দুয়া বিচ, ওয়াটার ব্লো এলাকা, কৃশ্না শপিং মল, বিচওয়াক শপিং মল।
* উবুদ এলাকা ও উবুদ মার্কেট – ১/২ দিন।
* সাউথ বালির বিচসমূহ (উলুউটু, সুলুবান, প্যাডাং প্যাডাং, ড্রিমল্যান্ড, জিম্বারান)।
* নুসা পেনিদা এবং/অথবা নুসা লেম্বুগান – ১/২ দিন।
* কুটা বিচ, সেমিনায়াক, পটেট হেড, তানাহ লট টেম্পল, বিংতান সুপার মার্কেট, ডিসকভারী শপিং মল।

Source: Shafiqur Rahman‎<Travelers of Bangladesh (ToB)