Welcome to the Profile page for

admin admin

About Author

admin admin (admin)

  • Registered On :2018-12-08 11:35:15
  • Logged in at: admin
  • Author ID: 6

Author Posts

যেকোনো দেশে যাওয়ার আগে ইন্টারনেট ঘেটে খুঁটিনাটি জানার চেষ্টা করি, আর এবারও থাইল্যান্ড যাওয়ার প্ল্যান করার আগে দর্শনীয় স্থানগুলো ইন্টারনেট ঘেটে দেখার চেষ্টা করি এবং দেখি অনেক সুন্দর সুন্দর স্পট রয়েছে এবং বুঝতে পারলাম তিন-চার দিনের জন্য গেলে তেমন কিছুই দেখতে পাবো না, তাই এবারও বালি ভ্রমণের মতো ৯-১০ দিনের জন্য প্ল্যান করি, আমরা তিনজন(আমি, আমার অর্ধাঙ্গী এবং আমাদের সাড়ে চার বছরের ছেলে)

হোটেল বুকিং:
আমি বাংলাদেশ থেকেই হোটেল বুক করে গিয়েছি,থেকে, বুকিং দিলে আপনার আগেই পেমেন্ট দিতে হয় না। হোটেল উঠার ২-৩ দিন আগে তারা চার্জ কেটে নিবে, তবে চার্জ কাটার নির্দিষ্ট তারিখের দিনে কার্ড এ ব্যালান্স থাকতে হবে। আমি আমার পেওনিয়ার মাস্টারকার্ড কার্ড দিয়ে হোটেল বুক দিয়েছিলাম। ২৫০০-৩০০০ টাকায় ভালো হোটেল পাওয়া যায় ব্রেকফাস্ট সহ। আমি টোটাল ৮ রাতের জন্য ৫ হোটেল বুক দেই। প্রথম দুই রাত ব্যাংকক প্রাতুনাম, দুই রাত ক্রাবি, একরাত ফি ফি আইল্যান্ড, একরাত ফুকেট আর বাকী দুই রাত ছিলাম পাতায়া।

থাইল্যান্ডের ভিসা পাওয়া একটু কঠিন, জানিনা কি কারনে তারা প্রায়ই ভিসা রিজেক্ট করে থাকে। আমিও প্রথমবার যখন ভিসার জন্য আবেদন করি তখন আমাকে রিজেক্ট করে ছিল, এইবার পুনরায় আবার আমি যখন আবেদন করলাম তখন আমাকে তিনবার ফোন করেছিল এবং ইন্টারভিউতে ডেকেছিল। আমার সাথে কথা বলে তারা সন্তুষ্ট এবং পরদিনই জানতে পেলাম যে আমার ভিসা হয়ে গেছে। থাইল্যান্ডের ভিসা পাওয়ার ক্ষেত্রে একটি বিষয় খুবই জরুরী, আপনার মোবাইল ফোন সব সময় চালো রাখতে হবে। তারা যে প্রশ্ন করবে তার উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করবেন এবং এর বাইরে আগ বাড়িয়ে কিছু না বলাটাই ভালো। আর যদি ইন্টারভিউতে ডাকে তাহলে নিজেকে সুন্দরভাবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করবেন তাদের কাছে।

প্লেনের টিকিট:
ভিসা কনফার্ম হয়ে যাওয়ার পর খুব শীঘ্রই এয়ার টিকেট কনফার্ম করে ফেলি এবং ইন্টারনেট ঘেটে দেখলাম থাইল্যান্ড যাওয়ার জন্য থাই এয়ারলাইনস আমার কাছে সবচেয়ে ভাল মনে হয়েছে তাই আর বেশি না ভেবে থাই এয়ারলাইনস এর টিকেট কনফার্ম করে ফেলি এবং থাইল্যান্ডে ডমেস্টিক ফ্লাইট এর জন্য এয়ার এশিয়ার টিকেট কনফার্ম করে ফেলি।

আমাদের ফ্লাইট ছিল দুপুর 1 টা 40 মিনিটে, সকালের নাস্তা খেয়ে দশটার মধ্যে বাসা থেকে বের হয়ে যায় এয়ারপোর্টের উদ্দেশ্যে এবং এক ঘণ্টার মধ্যেই এয়ারপোর্টে পৌঁছে যায়, কারণ সেদিন একুশে ফেব্রুয়ারি ছুটি ছিল তাই রাস্তাঘাট তেমন একটা যানজট ছিল না। পৌঁছেই বোডিং পাসের জন্য লাইনে দাঁড়ায়, সকাল ১১ টা বাজার কিছুক্ষণ পরে বোডিং পাস দেওয়া শুরু হয়। বোর্ডিং শেষে ইমিগ্র্যাশন ফর্ম নিয়ে তা পূরণ করে ইমিগ্র্যাশন লাইনে দাঁড়ায়। কোন ঝামেলা ছাড়াই একে একে আমাদের ইমিগ্রেশন শেষ হল। সবকিছু শেষ এইবার ফ্লাইটের জন্য রেডি কিন্তু এখনো প্রায় ২ ঘন্টার উপর সময় আছে, কি করা যাই ভেবে EBL স্কাই লাউঞ্জে গিয়ে বসি এবং সময়ও ভালো কাটলো। EBL লাউন্স থেকে বেরিয়ে এবার ফ্লাইট এর জন্য রেডি। একে একে বিমানে উঠে বসলাম। থাই এয়ারলাইন্স খুবই বিশালাকৃতির এবং ভিতরের পরিবেশটা খুবই খোলামেলা।

আমাদের ছেলে সিটে বসেই সিটবেল্ট বেঁধে সে রেডি অথচ গত বালি ভ্রমণে তাকে অনেক বুঝিয়ে সুঝিয়ে সিটবেল্ট বাঁধতে হয়েছিল। যাই হোক সিটে বসে আমরা গল্প করছিলাম, এই ফাঁকে একজন এয়ারহোস্টেজ এসে আমার ছেলের সাথে মজা করতে ছিল এবং তার নাম জিজ্ঞেস করছিলো এবং তাকে বলল তুমি যদি তোমার নাম বলো তাহলে আমি তোমাকে একটা জিনিস উপহার দিব। তো আমার ছেলে লজ্জা পেয়ে আর কোন কথা বলছে না। এয়ারহোস্টেজ আবার বললো যদি তুমি আমার সাথে কথা বল তাহলে আমি তোমাকে এই বইটি উপহার দিব। আর যদি কথা না বলো তাহলে এটা তুমি পাবে না, অন্য একজনকে দিয়ে দেবো। দেখি আমার ছেলের মন খারাপ, এয়ারহোস্টেজ আবার একটু ঘুরে আসলো এবং এইবার সে তার নাম বলছে আর এয়ারহোস্টেজ খুশি হয়ে তার হাতের স্টিকার বইটি আমার ছেলেকে দিলো। আমার ছেলে এবার খুশি হয়ে থাকে ধন্যবাদ জানালো এবং বইটি খুলে স্টিকার গুলো দেখতে লাগল।

যাই হোক অবশেষে বিমান উড্ডয়নের জন্য প্রস্তুত এবং এর কিছুক্ষণের মধ্যেই উড্ডয়ন করল আর কিছুক্ষণের মধ্যে আমাদের মাঝে খাবার দিলো, খাবারের মান খুবই ভালো ছিল। এরই ফাঁকে আমাদের মাঝে ইমিগ্রেশন ফরম দিয়ে গেল এবং তা পূরণ করে নিলাম। 2 ঘন্টা 40 মিনিট পর থাইল্যান্ডের সুবর্ণভূমি এয়ারপোর্ট এ আমাদের বিমানটি অবতরণ করলো এবং আমরা থাই ইমিগ্রেশন এর কাজ সম্পন্ন করার জন্য নির্দিষ্ট স্থানে খুব দ্রুতপৌঁছে গেলাম। সুবর্ণভূমি এয়ারপোর্ট এর অভ্যন্তরীণ সিস্টেমটা আমার কাছে খুব ভালো লেগেছে, আপনি যদি ডান বাম একটু তাকিয়ে দেখেন এবং চোখ কান খোলা রাখেন তাহলে কারো সাহায্য ছাড়াই আপনি আপনার গন্তব্যে খুব সহজেই যেতে পারবেন। ইমিগ্রেশন অফিসার এরাইভাল সিল মেরে আমাদের হাতে পাসপোর্ট দিয়ে দিল এবং ইমিগ্রেশন ফর্ম এর একটি অংশ আমাদের পাসপোর্টে রয়ে গেছে যা খুবই গুরুত্বপূর্ণ, যখন আপনি থাইল্যান্ড থেকে ফিরবেন সেই অংশটি আপনাকে আবার পরে এয়ারপোর্টে ইমিগ্রেশন এ জমা দিতে হবে। তাছাড়া এই অংশটি আপনার বুক করা প্রতিটি হোটেলে দেখাতে হবে। অতএব এটি যত্ন করে রাখবেন, হারাবেন না।

ইমিগ্রেশন শেষ করে এখন এয়ারপোর্ট থেকে বের হওয়ার পথে 299 বাদ দিয়ে একটি সিম কার্ড কিনে নিলাম যাতে ৮ দিনের ইন্টারনেট প্যাকেজ রয়েছে, ৭জিবি। আর থাইল্যান্ডে ইন্টারনেটের স্পিড সব জায়গায় মোটামুটি ভালই পেয়েছি।এয়ারপোর্ট থেকে বের হয়ে, এয়ারপোর্টের নির্দিষ্ট স্থান থেকে মিটারে ট্যাক্সি ঠিক করে নিলাম এবং হোটেলে পৌঁছে গেলাম। ব্যাংককে আমাদের হোটেলটি ছিল প্রাতুনামে, এই এলাকাটি শপিংয়ের জন্য খুবই পরিচিত। হোটেলে চেক ইন করে কিছুটা বিশ্রাম নিয়ে সন্ধ্যার দিকে বের হয়ে পরলাম টুকটাক শপিংয়ের জন্য এবং ব্যাংকক শহরটাও একটু ঘুরে দেখলাম। তার মধ্যে Indra Market ও তার আশেপাশের স্ট্রীটমার্কেট গুলো ভাল। টুকটাক কিছুটা শপিং করে রাতের খাবার খেয়ে হোটেলে ফিরে আসলাম এবং ঘুমিয়ে পড়লাম।

ব্যাংককে দ্বিতীয় দিন:
সকালে ব্রেকফাস্ট সেরে আমাদের প্ল্যান অনুযায়ী আজ গ্র্যান্ড প্যালেস, গোল্ডেন মাউন্টেন এবং ব্যাংকক শহরের আশেপাশে ঘুরে দেখব। হোটেল থেকে পাঁচ মিনিট হাঁটা দূরত্বে পৌঁছে গেলাম প্রাতুনাম বোট স্টেশনে, শহরের মধ্য দিয়ে একটি লেক আছে এবং এই লেক দিয়ে নৌকা চলাচল করে যা সহজে আপনি এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যেতে পারবেন। লেকের পানি কিছুটা ময়লা এবং গন্ধ যুক্ত হলেও আপনি আরামসে ব্যাংককের যানজটে এড়িয়ে খুব সহজে আপনার গন্তব্যে যেতে পারবেন। প্রাতুনাম বোট স্টেশন থেকে শেষ স্টেশনে এসে নামলাম এবং আমরা গোল্ডেন মাউন্টেন টেম্পলে ২ মিনিট হাঁটা দূরত্বে পৌঁছে গেলাম। টিকিটের প্রবেশ মূল্য ২00 বাথ, গোল্ডেন মাউন্টেন টেম্পল এর উপর থেকে ব্যাংকক শহরকে খুব ভালোভাবে দেখা যায় অনেকটা আমাদের ঢাকা শহরের গুলশান/বনানীর মতোই পার্থক্য বলতে বিল্ডিংগুলোর নকশা এবং তাদের নিয়োজন।

গোল্ডেন মাউন্টেন পরিদর্শন শেষে চলে গেলাম গ্র্যান্ড প্যালেস দেখতে, এটি থাইল্যান্ডের সবচেয়ে জনপ্রিয় পর্যটন গন্তব্যস্থানগুলোর মধ্যে একটি। এটির স্থাপত্য এবং মূল্যবান সংস্কৃতির জন্য ব্যাংককে সবচেয়ে জাঁকজমক কাঠামোর মধ্যে একটি। টিকিটের প্রবেশ মূল্য 500 বাথ। পরিদর্শন শেষে টুকটুক যোগে ব্যাংকক শহরটা দেখতে দেখতে চলে আসলাম আমাদের হোটেলের কাছাকাছি এবং দুপুরের লাঞ্চ সেরে হোটেলে গিয়ে কিছুটা বিশ্রাম নিলাম। সন্ধ্যার পর বের হয়ে গেলাম ব্যাংককের নাইট মার্কেট দেখার জন্য, যা খুবই জনপ্রিয়। নাইট মার্কেট বলতে এখানে শপিংমলে যে জিনিস গুলো বিক্রি করে সন্ধ্যার পরে সেই জিনিস গুলোই ব্যাংককের ফুটপাত থেকে আপনি সুলভ মূল্যে কিনতে পারবেন। আমরাও পছন্দমতো টুকটাক কিছু জিনিস কিনে নিলাম। শপিং শেষে ডিনারের জন্য চলে গেলাম এক ইন্ডিয়ান রেস্টুরেন্টে খাবার অর্ডার করে আমরা কথা বলছিলাম হঠাৎ আমার বউ বলল আরে আমি যে কাথ ব্যাগটা কিনেছিলাম সেটা কোথায়? যাইহোক সে ভুলে আনেনি, আমি দোকানে গিয়ে ঘটনাটি বললাম এবং দোকানদার আমায় চিনতে পেরে বললো হা নেয়নি আর ব্যাগটা আমায় দিলো। পরদিন খুব ভোরে আমাদের ক্রাবি যাওয়ার ফ্লাইট, তাই ডিনার সেরে হোটেলে গিয়ে ঘুমিয়ে পরলাম।

তৃতীয় দিন এবং ক্রাবি ভ্রমণ :
ভোর চারটায় ঘড়ির এলাম অনুযায়ী নিজে ঘুম থেকে উঠে পড়লাম এবং রেডি হয়ে হোটেল রিসিপশনে চলে আসলাম চেক আউটের জন্য। এসে দেখি আমাদের ট্যাক্সিও হাজির, যা আগেরদিনই ঠিক করে রেখেছিলাম। আমাদের হোটেল থেকে 30 মিনিটের দূরত্বে পৌঁছে গেলাম ডন মুয়াং এয়ারপোর্টে। ডন মুয়াং ব্যাংককের খেট ডন মুয়াং নামক জায়গায় অবস্থিত প্রধান আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর। দুটি টার্মিনাল নিয়ে বিমানবন্দরটি স্থাপিত। আমরা ডোমেস্টিক পোর্ট দিয়ে এয়ার এশিয়ার বোর্ডিং পাস এর জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে গেলাম। অল্প কিছুক্ষণের মধ্যেই বোডিং পাস পেয়ে ফ্লাইট এর জন্য রেডি, আমাদের ফ্লাইট এর সময় ছিল সকাল ছয়টা 40 মিনিট। নির্ধারিত গেটে এসে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করার পর বিমানে চেক ইনের জন্য রেডি। একে একে আমরা বিমানে উঠে বসলাম এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই প্লেনটি ফ্লাই করল স্বপ্নময় ক্রাবির উদ্দেশ্যে। এক ঘন্টা বিশ মিনিট পরে এয়ার এশিয়ার প্লেনটি অবতরণ করলো ক্রাবি ইন্টারন্যাশনাল বিমানবন্দরে। এরপর এয়ারপোর্ট থেকে বের হয়ে চলে আসলাম আমাদের পূর্ব নির্ধারিত বুক করা হোটেলে। এয়ারপোর্ট থেকে হোটেলের দূরত্ব ছিল ট্যাক্সি যোগে প্রায় ২5 মিনিটের মত।

ট্যাক্সি করে যাচ্ছি আর ক্রাবির পরিবেশ দেখে মনে হচ্ছে ব্যাংককের কোলাহলপূর্ণ পরিবেশ থেকে চলে আসলাম এক অপরূপ সৌন্দর্যের মায়াবী পরিবেশে। হোটেলে আগেই বলাছিল আমরা সকালে চেক ইন করব, যদি রুম খালি থাকে। প্রত্যাশামতো সকালের মধ্যেই রুম পেয়ে গেলাম। হোটেলটা আমার কাছে অনেকটা ডুপ্লেক্স বাড়ির মতোই মনে হলো, খুবই শান্ত পরিবেশ এবং এই হোটেল পরিচালনা করছে তিনজন নারী কর্মী। যাদের ব্যবহারে আমরা অত্যন্ত মুগ্ধ। মনে হল নিজের বাড়িতেই ছিলাম, আর রুমের ডেকোরেশনটাও ছিল খুবই নান্দনিক।

তাছাড়া আজ আট বছরে পদাপর্ণ করে আমাদের বিবাহ বার্ষিকী। দিনটি ছিল ২০১২’এর ২৩শে ফেব্রুয়ারি। তার এবং আমার জীবনের সবচেয়ে স্মরণীয় দিন। আজ থেকে সাত বছর আগে ঠিক এই দিনটিতে আমরা একে অন্যের হাত ধরেছিলাম। হোটেলটির নাম কিস হোমটেল আর এটি নপ্পরত থারা (Nopparattara Beach) থেকে ৫-৭ মিনিটের হাটা দুরুত্ব।

হোটেলে পৌঁছে চা কফি খেয়ে চলে আসলাম Nopparattara Beach। খুবই সুন্দর যতদূর চোখ যায় যেন সাগরের বুকে ছোট ছোট পাহাড়ি টিলা আর চারিদিকে সাগর খুবই নান্দনিক পরিবেশ, দিগন্ত বিস্তৃত নীল সাগরের সাথে যেন পাহাড় আর মেঘের মিতালি। আমার ছেলে খুবই আনন্দিত সে এখন সুইমিং করবে, এখানকার সাগরের বুকে বড় বড় ঢেউ নেই খুবই শান্ত। ছেলের জন্য আগেই লাইফ জ্যাকেট কিনে রেখেছিলাম এবং সেটা পরিধান করে সে খুবই পুলকিত, কখন সুইমিং করবে, সাগরের জলে নেমে আর উঠতে চায় না, আমরা তিনজনে মিলে প্রায় দুই ঘন্টার মতো জলে ছিলাম। ছেলে তাতেও তৃপ্ত নয়, সে আরো কিছুক্ষন থাকবে অনেকটা জোর করে উঠালাম, যার উল্টো ঘটনা ঘটেছিল আমাদের বালি ট্যুরে তাকে জোর করেও সমুদ্রে নামানো যায় নি, হা হা হা।

হোটেলে ফিরে লাঞ্চ সেরে নিলাম, লাঞ্চ সেরে কিছুটা ঘুমিয়ে নিলাম এবং সন্ধ্যার পূর্বে চলে আসলাম আও নাং বিচ। সূর্যাস্ত দেখে বিচ এরিয়া কিছুক্ষণ ঘুরলাম আর ছবি তুললাম খুবই শান্ত পরিবেশ, এটি এতটা কোলাহলপূর্ণ নয়। হঠাৎ দোলনা দেখতে পেয়ে আমার ছেলে বায়না ধরল দোলনাতে উঠবে এবং দোলনাতে গিয়ে বসলো, কিছুক্ষণ পর একটি ছোট বাচ্চা মেয়েও তার সাথে গিয়ে বসলো। পাশেই তার মা ছিল এবং তারা অস্ট্রেলিয়া থেকে এসেছে শুধু ক্রাবিতে পাঁচ দিন থাকার জন্য। যাইহোক বিচ এর উল্টো দিকে কিছু শপিং মল রয়েছে, আমার বউ ঘুরে ঘুরে দেখল এবং টুকটাক কিছু কিনতে চাইল কিন্তু দাম শুনে সে কিছুটা হতবাক হয়ে গেল, খুবই এক্সপেন্সিভ। কাজেই এখানে শপিং করা মোটেই বুদ্ধিমানের কাজ হবেনা। কিছুটা ক্ষুধা অনুভব করলাম, ছেলেকে বললাম কি খাবে, বলে বার্গার। আর কিছুক্ষণ সময় কাটিয়ে এবং বার্গার কিং থেকে বার্গার খেয়ে হোটেলে ফিরে আসলাম। হোটেলে ফিরে ফোর আইল্যান্ড টুরের টিকিট কেটে ফেললাম, যারা ক্র্যাবিতে যাবেন তারা অবশ্যই এই টুরটি নিতে ভুলবেন না। থাইল্যান্ড একটা জিনিস লক্ষ্য করলাম আপনি তাদের কাছ থেকে যে কোন প্যাকেজ নিতে চান না কেন সব জায়গায় একই দাম। আমার যেটা মনে হলো তাদের সবার মধ্যে একটা চুক্তি হয়েছে যার ফলে আপনি কোথাও এর কমে পাবেন না, এজন্য সব জায়গায় একই দাম।

চতুর্থ দিন:
পরদিন সকাল সাড়ে আটটার মধ্যে পিক আপ ভ্যান এসে হাজির এবং আমরাও ফোর আইল্যান্ড টুরের জন্য রেডি। আপনার হোটেল বা ভিলা থেকে একটি পিকআপ ভ্যান আপনাকে নিবে, আপনি যদি ক্রবি টাউন বা ক্লং মুয়াংতে থাকেন তবে ড্রাইভার এবং গাইড প্রায় সকাল ৮:00 টার মধ্যে হোটেলে আসবে। আপনার হোটেল যদি Ao Nang হয়, তাহলে ৮:৩০ এর কাছাকাছি পিকআপ ভ্যান আসবে। পিকআপ ভ্যান গুলি প্রায় ৩০ মিনিট সময় নেয়, এর পর আমরা নপ্পরত থারা পৌঁছালাম। এখানে আমরা ছোট নৌকায় প্রায় ৯.০০ টার দিকে যাত্রা করি এবং মোট চারটি দ্বীপে গেলাম আমরা। প্রথমে আমরা প্রাণাং আইল্যান্ড যাই, খুবই পরিষ্কার জল। এই দ্বীপে কিছুক্ষণ সময় কাটিয়ে তারপর আমাদেরকে কোহ ল্যাডিংয়ে নিয়ে যায়, যা আলস প্যারাডাইজ দ্বীপ নামেও পরিচিত। এখানে আপনি সাঁতার কাটুন বা ভাল snorkeling জন্য বিখ্যাত। যারা সাঁতার জানে তারা একে একে snorkeling এর জন্য জলে নেমে গেল তাদের সাথে আমিও নামলাম এবং খুবই এনজয় করলাম যা অনেকদিন মনে থাকবে।

তারপর আমরা গেলাম Poda Island, এখানে নেমে বুফে লাঞ্চ উপভোগ করি (নিরামিষ খাবার +চিকেন) এবং কিছুক্ষণের জন্য আবার সাগরে জলে নামি। ছেলে আমার মহা খুশি আবার জলে নেমে, তাকে আমি সাঁতার শিখাচ্ছি আর সে তার মাকে ডাক দিয়ে বলে মা এইদিকে আসো আমি তোমাকে সাঁতার শিখিয়ে দেয়, হা হা হা।

এরপর বোট আমাদের নিয়ে যায় চিকেন আইল্যান্ড, দ্বীপটি দেখতে অনেকটা চিকেনের মত হওয়ায় এর নাম চিকেন আইল্যান্ড। এখানে আমরা বোট থেকে নামিনি, তবে স্কুবা ডাইভিং এর ব্যবস্থা ছিল। সবশেষে যাই টাব আইল্যান্ডে, এক দ্বীপ থেকে সাগরের মাঝ দিয়ে আরেক দ্বীপে যাওয়ার অভিজ্ঞতাটা সত্যিই অসাধারন। টাব আইল্যান্ডে নেমে তার সৌন্দর্য দেখে যে তার বর্ণনা করবো এমন ভাষা আমার জানা নেই! সত্যিই তা কেবল নিজের চোখে দেখা ছাড়া বর্ণনা করা কঠিন।

টাব আইল্যান্ডে কিছুক্ষন সময় কাটিয়ে প্রায় বিকাল ৩ টার দিকে আমরা আও নাং সমুদ্র সৈকতে ফিরে আসার জন্য আবার নৌকাতে যাই। প্রায় 4 টার দিকে বোট এসে আও নাং বিচ থামল এবং কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে সেই ভ্যানযোগে আবার আমরা হোটেলে ফিরে আসলাম। সত্যি-ই অসাধারন এক অভিজ্ঞতা এবং এখানে এসে মনে হলো জীবন আসলেই উপভোগ্যময়! পরদিন সকাল ৯ টায় ফি ফির উদ্দেশ্যে যাত্রা আর এখানেই আমাদের ক্র্যাবি ভ্রমনের সমাপ্তি। এখানে ক্রাবি সম্পর্কে কিছু কথা না বললেই নয়। স্থানটি থাইল্যান্ড এর বর্ডার এলাকায়, মালয়েশিয়ার লাংকাওইর খুব কাছে বলেই এলাকাটি মুসলিম অধ্যুষিত এবং প্রায় ৫০ ভাগ মুসলিম।

পঞ্চম দিন এবং ফি ফি আইল্যান্ড ভ্রমণ:
ক্র্যাবিকে বিদায় জানিয়ে এবার আমাদের গন্তব্য ফি ফি আইল্যান্ড। ফেরি ঘাটে এসে তাদের ফেরিঘাট দেখে আমি কিছুটা অবাক এ যেন একটা মিনি এয়ারপোর্ট, খুবই ভালো সুযোগ-সুবিধা। 9 টা বাজার কিছুক্ষণের মধ্যেই ফেরি ছেড়ে দিল আর তরতর করে সামনে এগিয়ে যাচ্ছে, যেন নীল সাগরের বুক চিরে এগিয়ে চলল আমাদের ফেরি।

ফেরির ছাদ থেকে এই নয়নাভিরাম দৃশ্য অবলোকন সত্যিই কখনো ভুলার নয়, এ যেন কল্পনায় ছোটবেলায় টিভিতে দেখা সিন্দাবাদের সওদা করতে যাওয়ার দৃশ্য। দেখতে দেখতে প্রায় দুই ঘন্টা পর ফেরি এসে ভিড়ল ফি ফির ঘাটে। ফেরি থেকে নেমে সামনে এগিয়ে যাচ্ছি এবং দেখি সবাই যার যার হোটেলের ব্যানার নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। একটু সামনে যেতেই আমাদের বুক করা হোটেলের ব্যানার টি পেয়ে গেলাম, ফি ফিতে আমাদের হোটেলের নাম ছিল “The Cobble Beach Hotel” হোটেল কর্তৃপক্ষের লোক আমাদের ব্যাগ গুলো নিয়ে একটি নির্দিষ্ট জায়গায় কিছুক্ষণ অপেক্ষা করার জন্য বলে কারণ এই ফেরিতে তাদের হোটেলের আরো লোকজন ছিল। সবাই একসাথে জড়ো হওয়ার পর সে হাত চালিত একটি দুই চাকার ভ্যানে আমাদের সবার ব্যাগ গুলো নিয়ে তার পিছন পিছন যেতে বলল। সবাই এগিয়ে যাচ্ছে আর আমরা কিছুটা পিছিয়ে পড়ে গিয়েছিলাম আমাদের ছেলের কারণে, এই অবস্থা দেখে হোটেলের লোকটি আমার ছেলেকে ভ্যানের উপর বসিয়ে দিল এবং যেতে লাগলো। প্রায় 15 মিনিট হেঁটে অবশেষে হোটেলে চেক ইন করলাম। হোটেলে চেক ইন করে ক্রাবি থেকে নিয়ে আসা পাউরুটি, আম খেয়ে নিলাম আমরা তিনজন মিলে।

কিছুক্ষন বিশ্রাম নিয়ে নেমে পড়লাম সাগরের বুকে, এমন স্বচ্ছ জল আমি এর আগে কোথাও কোনো সৈকতে দেখিনি। কোমর সমান জলে দাঁড়িয়েও স্পষ্ট সাগরের তলদেশ দেখা যাচ্ছিলো। রুমে ফিরে ফ্রেশ হয়ে দুপুরের খাবার খেয়ে একটু ঘুমিয়ে নিলাম। সন্ধ্যায় বের হলাম দ্বীপ প্রদক্ষিনে, পাহাড়ে ঘেরা আর নয়নাভিরাম সৌন্দর্য্যে ঘেরা ছোট্ট একটি দ্বীপ ফি ফি। আপনি পায়ে হেঁটেই দ্বীপটি প্রদক্ষিণ করতে পারবেন, সর্বোচ্চ ত্রিশ থেকে চল্লিশ মিনিট লাগতে পারে । এখানে কোন যানবহন নেই, তাই আপনার পা দুটিই একমাত্র ভরসা। দুপুরে যে রেস্টুরেন্টে খেয়েছিলাম সেই রেস্টুরেন্টেই ডিনার সেরে হোটেল রুমে ফিরে আসলাম। পরদিন সকাল 9 টায় আমাদের ফুকেট যাত্রা কিন্তু ফি ফির সৌন্দর্য দেখে ঠিক করলাম সকাল এর পরিবর্তে দুপুরের ফেরিতে যাব। একই কোম্পানির ফেরি টিকিটে আপনি যেকোনো টাইমে যেতে পারবেন, আমি আমি যে ফেরির টিকেট কেটেছিলাম তাদের টাইম ছিল সকাল 9 টা, ১১ টা আর দুপুর 2 টা।

ষষ্ঠ দিন এবং ফুকেট ভ্রমণ:
সকালে ঘুম থেকে উঠে ফি ফির সৌন্দর্য উপভোগের জন্য সৈকতের বালুচরে হেঁটে বেড়ালাম আর অনেক ছবি তুললাম। আমাদের এই হোটেলের সুইমিং পুল এবং রেস্টুরেন্ট এর স্থানটি ছিল এক কথায় অসাধারণ। ব্রেকফাস্ট সময় বা সুইমিংপুল থেকে ফি ফির প্রকৃতির সৌন্দর্য অবলোকন করার মুহূর্তটি সারা জীবন মনে থাকবে। সত্যিই পুরো দ্বীপটি বিধাতা যেন ছবির মত করে সাজিয়েছে। কেউ যদি আমাকে কখনো জিজ্ঞেস করে আপনার থাইল্যান্ড ট্যুরের সবচেয়ে স্মরনীয় মুহুর্ত কোনটি, আমি বলব ফি ফিতে কাটানো একটি রাত, যা কখনো ভুলার নয়। দুপুর নাগাদ ফি ফি কে বিদায় জানিয়ে ফেরিতে উঠে বসলাম, এবার গন্তব্য ফুকেট। আবার প্রায় দুই ঘন্টা পর ফেরি ফুকেটের তীরে এসে পৌঁছলো। মনে হচ্ছে আবার যেন কোলাহলপূর্ন নগরীতে ফিরে এলাম। ফেরিতে থাকা অবস্থায়ই হোটেলে যাওয়ার টিকেট করে নিলাম। ফুকেটে আমাদের হোটেলটি পেতং বিচের কাছেই ছিল। বিকেলের মধ্যে হোটেলে ফিরে ফ্রেশ হয়ে গেছে চলে আসলাম পেতং বিচে সূর্যাস্ত দেখব বলে, সূর্যাস্ত দেখে কিছুটা সময় কাটিয়ে পেতং শহরটা একটু ঘুরে দেখলাম। আগেই প্ল্যান ছিল ফুকেটে একদিন থাকবো, পরদিন সকালে আবার ব্যাংককের ফ্লাইট। এই কয় দিনে সাগর, পাহা্ড়, দ্বীপ যথেষ্ট দেখেছি, তাই আবার আমার ছেলের জন্য ঘুরে বেড়াবো।

সপ্তম দিন এবং পাতায়া ভ্রমণ:
সকালে ঘুম থেকে উঠেই ট্যাক্সি যোগে চলে গেলাম ফুকেট এয়ারপোর্টে। সেখান থেকে এয়ার এশিয়ার ফ্লাইটে পৌঁছে গেলাম ডন মুয়াং। এরপর এয়ারপোর্ট থেকে আবার ট্যাক্সি যোগে সরাসরি আসলাম ব্যাংকক সাফারিপার্কে। ড্রাইভার ট্যাক্সি থেকে নামার পর জিজ্ঞেস করলো, আপনারা সাফারি পার্ক দেখার পরে কোথায় যাবেন, আমি বললাম এইখানে সাফারি পার্ক এবং সাফারি ওয়ার্ল্ড দেখতে যতক্ষণ লাগে তারপর এখান থেকে আমরা সরাসরি যাব পাতায়া। তার কথা বুঝতে কিছুটা সমস্যা হচ্ছিল তারপর সে একজন ইংরেজি জানা লোকের সাথে কথা বলিয়ে দিল। কথা বলে আমি বুঝতে পারলাম সে আমাদের পাতায়া নিয়ে যেতে রাজি কিন্তু সে দুই হাজার বাথ ভাড়া দাবি করে। অবশেষে দামাদামি করে ডন মুয়াং এয়ারপোর্ট থেকে সাফারি পার্ক আসা + পাতায়া পর্যন্ত সে পনেরশো বাথে রাজি হলো। উল্লেখ্য ব্যাংকক শহর থেকে পাতায়ার দূরত্ব ১৬০+ কিঃমিঃ।

অবশেষে সাফারি পার্কে প্রবেশ করি, এখানে এক শো শেষ হলে দর্শক পায়ে হেটে চলছে আরেকটি গেম শো দেখতে। এভাবে চলে সী লায়ন শো, ডলফিন শো, কাউবয় শো, এ্যালিফেন্ট শো, বার্ড শো,স্পাই ওয়ার শো। আমার ছেলেতো মহাখুশি আর সবচেয়ে সে মজা পায় জিরাফকে কলা খাহিয়ে এবং সাফারি ওয়ার্ল্ডে উন্মুক্ত অবস্থায় পশুপাখিদের বিচরণ দেখে। যেখানে দেখা যায় সি লায়ন ও ডলফিনগুলো দর্শকদের ফুলের মালা দিয়ে বরণ করে নিচ্ছে। দেখাচ্ছে নানা শারীরিক কসরত, ডিগবাজি। পুলের এক প্রান্ত থেকে পিঠে মানুষ নিয়ে ছুটে চলেছে অন্য প্রান্তে। সুরের তালে তালে চলছে কখনো একক আবার কখনোবা দলীয় নৃত্য।

ঘুরতে ঘুরতে কিছুটা ক্লান্ত, লাঞ্চ সেরে বিকাল ৩ টা নাগাদ ট্যাক্সিতে উঠে বসলাম, গন্তব্য এবার পাতায়া। পাতায়া যাওয়ার রাস্তা দেখে আমি কিছুটা অবাক বাম দিকে চার লেন ডানদিকেও চার লেন। পুরো থাইল্যান্ডের ট্রাফিক ব্যবস্থা উন্নতমানের, রাস্তায় কোনো গাড়ির হর্নের শব্দ নেই, সবাই সয়ংক্রিয় সিগন্যাল মেনে গাড়ি চালাচ্ছে। পাতায়ার পথে আমাদের ট্যাক্সি ১১০-১২০ কিঃমিঃ গতিতে চলছে অনবরত। আর আমার ছেলে ট্যাক্সিতে উঠার কিছুক্ষনের মধ্যেই ঘুমে, সারাবেলা সাফারি পার্ক ঘুরে ক্লান্ত। আর তার কথা ভেবেই প্রায় সময় ট্যাক্সি নিতাম এবং প্রায়সময় গাড়িতেই সে একটা ঘুম দিতো, তার জন্য গাড়িতে সবসময় খাবার রাখতাম, তবে এবার বালি ট্যুরের চেয়েও সে খুব মানিয়ে নিয়েছে। ওভারঅল খুব উপভোগ করেছে।
প্রায় দুই ঘন্টার মধ্যে আমরা পাতায়া পৌঁছে গেলাম এবং হোটেলে চেক ইন করলাম। দেখি ছেলের কিছুটা মন খারাপ তার হোটেল রুম দেখে পছন্দ হয়নি, ক্রাবি এবং ফুকেটের হোটেল রুমটি তার খুবই পছন্দ হয়েছিল। আমার বৌয়েরও কিছুটা পছন্দ হয় নি, তাই রিসিপশনে আসলাম বললাম অন্য কোন রুম দেয়া যায় কিনা এই রুমের পরিবর্তে। তারা বলল দেয়া যাবে তবে কিছুটা বাড়তি পেমেন্ট করতে হবে আমি বললাম কত? বলল আপনারা এখানে থাকবেন দুই রাত তার জন্য আরও ৬০০ বাথ দিতে হবে। মনে মনে ভাবলাম এটাই আমাদের শেষ হোটেল তাই আর কিছু চিন্তা না করে বললাম ঠিক আছে, আর তারাও ডিলাক্স রুমে শিফট করে দিলো। এই রুম পেয়ে ছেলে খুশি, ছেলের মাও খুশি আর সেই খুশিতে আমিও খুশি হাহাহা।

ফ্রেশ হয়ে কিছুটা বিশ্রাম নিলাম, সন্ধ্যার একটু পর বের হলাম আজ প্রায় সারাদিন সাফারি পার্কে হেঁটে পা দুটো ব্যথা করছে, তাই বউ জামাই মিলে চলে এলাম ম্যাসেজ পার্লারে ফুট ম্যাসাজ নিতে। কিছুক্ষণ পাতায়া সিটি ঘুরে রাতের ডিনার সেরে হোটেলে এসে ঘুমিয়ে পড়লাম।

অষ্টম দিন:
হোটেল থেকে ব্রেকফাস্ট সেরে রেডি হয়ে গেলাম প্ল্যান অনুযায়ী আজকে পাতায়া শহর ও তার আশেপাশের কিছু দর্শনীয় স্থানগুলো ঘুরে দেখব।প্রথমেই পাতায়া বিচে কিছুক্ষণ সময় কাটিয়ে কিছু ছবি তুললাম, সেখান থেকে ভ্যানে করে চলে গেলাম আর্ট গ্যালারিতে এবং অনেকক্ষণ সময় কাটালাম আর অনেক ছবি তুললাম, খুবই এনজয় করেছে আমার ছেলে। সেখান থেকে ট্যাক্সি নিলাম আর যাচ্ছি মিনি সিয়ামের পথে, লেডি ট্যাক্সি ড্রাইভার, ট্যাক্সি করে যাচ্ছি আর সে আমাদের ভাঙ্গা ভাঙ্গা ইংরেজিতে জিজ্ঞেস করল আমরা আর কোথায় কোথায় যাব কয়দিন পাতায়াতে থাকব ইত্যাদি। বললাম আমরা আগামীকালই চলে যাচ্ছি। সুবর্ণভূমি এয়ারপোর্ট হয়ে ডিরেক্ট আমাদের ফ্লাইট ব্যাংকক সময় রাত 11 টা, সে বললো তুমি রাজি থাকলে আমার ট্যাক্সি ভাড়া করতে পারো, আমি যাব না আমার এক ছেলে বন্ধু তোমাদের নামিয়ে দিবে। তো দরদামের একপর্যায়ে সে ১০০০ বাথ চাইলো, আমার আগে একটা আইডিয়া ছিলো দাম নিয়ে আমি বললাম ৮০০ বাথ, শেষ পর্যন্ত ৯০০ বাথে রাজি হলো। ১০০ বাথ অগ্রিম নিয়ে সে আমাকে একটা স্লিপ দিয়ে দিল এবং যে ড্রাইভার আসবে তার নাম্বার দিয়ে বলল উনার সাথে যোগাযোগ করতে, আমি বললাম ঠিক আছে আমরা সন্ধ্যা ৬ টায় রওনা দিবো।
তার থেকে বিদায় নিয়ে আমরা মিনি সিয়ামে প্রবেশ করলাম, মিনি সিয়ামের পরিবেশটা খুবই চমৎকার এখানে এখানে বিভিন্ন দেশের জনপ্রিয় স্থাপনাগুলো নিয়ে এক একটি ছোট্ট দেশ গড়ে তোলা হয়েছে বেশির ভাগই ইউরোপীয় মহাদেশের। একটি গাছের ছায়া থেকে ছেলেকে কিছু স্থাপনা দেখাচ্ছিলাম হঠাৎ দেখি আমার মাথার উপর কি যেন পরলো, উপরে তাকিয়ে দেখি জাম গাছ আর আমার মাথায় একটি পাকা জাম পড়েছে। নিচেও তাকিয়ে দেখি অনেক পাকা জাম পড়ে আছে, লোভ সামলাতে না পেরে কয়েকটি কুড়িয়ে খেলাম, খুবিই টেস্ট আর বুঝলাম থাইল্যান্ডে এখন ভরপুর গ্রীষ্মকাল তাই এত গরম হা হা হা।

দুপুর পর্যন্ত আমি মিনি সিয়ামে সময় কাটিয়ে চলে আসলাম পাতায়া শহরে, সেখান থেকে লাঞ্চ সেরে হোটেল রুমে এসে বিশ্রাম নিলাম। ঘুরাঘুরি তো অনেক হল এবার শেষ পর্যায়ে কিছু শপিং করার পালা, সন্ধ্যার পর চলে গেলাম পাতায়া নাইট মার্কেটে। ঘুরে ঘুরে দেখলাম এবং কিছু প্রয়োজনীয় জিনিস কিনে নিলাম। ডিনার সেরে হোটেলে ফিরলাম।

৯ম দিন এবং আমাদের রিটার্ন ফ্লাইট:
সকালে ঘুম থেকে উঠে ব্রেকফাস্ট করতে গেলাম আর আমার ভার্সিটি লাইফের এক বন্ধুর সাথে দেখা হয়ে গেল। প্রায় 10 বছর পর বন্ধুর সাথে দেখা প্রথমে চিনতে পারিনি তারপর দূর থেকে তার নাম বলে ডাকলাম দেখি সে আমার ডাকে সারা দিচ্ছে। ব্রেকফাস্ট করতে করতে অনেকক্ষণ গল্প করলাম আর সময়টাও ভালোই কাটলো। ধীরেসুস্থে দুপুর 12 টার মধ্যে হোটেল থেকে চেক আউট করলাম, হোটেল লবিতে আমাদের লাগেজ গুলো রেখে চলে আবারও চললাম টুকটাক শপিং করতে। শপিং শেষে লাঞ্চ করতে গেলাম, পাতায়াতে যে দুই দিন ছিলাম এক ইন্ডিয়ান রেস্টুরেন্টে খেয়েছিলাম, রেস্টুরেন্টের মালিকও এক ইন্ডিয়ান। সে প্রায় 18 বছর ধরে থাইল্যান্ডে থাকে তার বাসা এবং রেস্টুরেন্ট একই বিল্ডিংয়ে। খাবারের মান ও দাম খুবই ভালো আর তাদের সাথে খাতিরও খুব ভালো জমে গিয়েছিল। ওরাও জানে আজকে আমাদের থাইল্যান্ডে শেষ দিন তাই আমাদের খুবই ভালো আপ্যায়ন করলো।
লাঞ্চ সেরে আবার হোটেলে ফিরে আসলাম এবং শপিং করা জিনিস গুলো গুছিয়ে নিলাম। পাতায়া বিচে এসে চেয়ার ভাড়া করে নিভৃতে তিনজন মিলে সময় কাটালাম বিকাল পর্যন্ত। বিকাল সাড়ে পাঁচটা নাগাদ আগেই ভাড়া করা ট্যাক্সি এসে হাজির। আমরাও উঠে রওনা হলাম সুবর্ণভূমি এয়ারপোর্ট এর উদ্দেশ্যে। রাত সাড়ে আটটার দিকে সুবর্ণভূমি এসে পৌছালাম এবং বোর্ডিং পাস নিয়ে নিলাম। বোডিং শেষে হাঁটতে হাঁটতে চলে গেলাম ইমিগ্রেশনে। একে একে হয়ে গেলো ইমিগ্রেশন। সবকিছু শেষ এইবার ফ্লাইটের জন্য রেডি কিন্তু এখনো প্রায় ২ ঘন্টার উপর সময় আছে, কি করা যায় ভেবে আমার স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক এর প্রায়োরিটি পাস কাজে লাগালাম, প্রায়োরিটি পাস দেখিয়ে Miracle First Class Lounge সময় কাটাই ফ্লাইটের আগ পর্যন্ত।

সবশেষে, সত্যি বলতে কি এই কয়দিনের ঘুরাফেরাই থাইল্যান্ডের প্রেমে পরে গিয়েছিলাম। থাইল্যান্ডের মানুষও আমাদের দেশের মতো অনেকটা অতিথি পরায়ন, থাইল্যান্ডে যত জায়গায় গিয়েছি এবং যত শপিংমলে গেলাম সবাই খুব ভালো ব্যবহার করেছে। মনে মনে ঠিক করলাম আবার যদি থাইল্যান্ড আসি তাহলে নেক্সট টাইম শুধু ফুকেট এবং ফি ফি আইল্যান্ড সময় কাটাবো, কারণ এবার ফুকেটে তেমন একটা ঘোরা হয়নি। আর ফি ফি আইল্যান্ড এর স্মৃতি আমার মনে চির অম্লান হয়ে থাকবে।

খরচাপাতি:
এই ৯ দিনে শপিংবাদে আমাদের তিনজনের প্রায় 2 লক্ষ ২0 হাজার টাকার মতো খরচ হয়েছে।
প্লেন ফেয়ার: ৬০ হাজার (ঢাকা-ব্যাংকক-ঢাকা, থাই এয়ারলাইন্স)
ইন্টারন্যাল প্লেন ফেয়ার: ২৫ হাজার টাকা, খাবার +ল্যাকেজ খরচসহ (ব্যাংকক-ক্রাবি এবং ফুকেট-ব্যাংকক, এয়ার এশিয়া)
হোটেল খরচ: প্রায় ৩৫ হাজার টাকা।
ফেরি ভাড়া: ৪ হাজার টাকা (ক্রাবি-ফি ফি-ফুকেট)
ইন্টারন্যাল রোড ট্রান্সপোর্ট: প্রায় ৩০ হাজার টাকা।
একটিভিটিস + টিকেট মূল্য: প্রায় ২৩ হাজার টাকা।
বাদবাকী খরচ: খাবার + অন্যান্য।

নোট:
দয়াকরে সব জায়গায় ভদ্রতা বজায় রাখুন আর প্লাস্টিক, পলিথিন ও অপচনশীল জিনিস এখানে সেখানে ফেলবেন না। প্রকৃতি পরিস্কার রাখার দায়িত্বও আপনার। মনে রাখবেন ধনী-গরীব যেই হোক না কেন প্রকৃতির কাছে সবাই সমান।
source:Suman Saha‎ <Travelers of Bangladesh (ToB)

সকল জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে অামাদের দীর্ঘ এক মাসের পরিকল্পনা বাস্তবে পরিণত হয়েছে।অনেক বার সাগর বা পাহাড়ে যাওয়া হইছে তাই এবার অামাদের ইচ্ছা ছিল সমতল ভূমি ভ্রমণ করা। সকলে মিলে সিদ্ধান্ত নিলাম রাজশাহী বিভাগ ঘুরতে যাব সাথে খুলনা বিভাগের দুইটা জেলা।

দশদিনে মেহেরপুর> কুষ্টিয়া> পাবনা> নাটোর> রাজশাহী> নওগাঁ> বগুড়া ভ্রমণের আদ্যোপ্রান্ত নিন্মরুপঃ

আমরা তিনবন্ধু রওনা হই চট্রগ্রাম থেকে।
২২-০২-২০১৯ তারিখ রাত দশটার বাসে চট্রগ্রাম হতে ঢাকা পৌছি ভোর ৪টায়। বাস থেকে নেমে নাস্তা করে চলে যাই বন্ধুর বাসায়, ক্লান্ত শরীরে কিছুক্ষন ঘুমিয়ে নিজেকে সতেজ করে নিই কারণ সামনে অপেক্ষা করছে দীর্ঘ যাত্রার গ্লানি।

দুপুরের চলে যাই একুশে বইমেলায়। ওখানে কয়েকে ঘন্টা ঘুরে সন্ধায় রুমে এসে বন্ধুদের সাথে অাড্ডা দিতে দিতে রাতের খাবার সেরে নিই।
রাত ৮ টায় উবারে করে চলে যাই ঢাকার কল্যাণপুর বাস স্ট্যান্ড। শ্যামলীর ৯টার মেহেরপুরগামী বাসের টিকেট কেটে নিলাম ভাড়া=৪৫০ (জনপ্রতি)।
মেহেরপুরে বঙ্গবন্ধু সেতু ও পদ্মা নদী পারাপার হয়ে দুইভাবেই যাওয়া যায়।যারা ফেরী পারাপার হয়ে যাবেন তারা বাস পাবেন গাবতলী থেকে।

২য় দিন-
ভোর ৫টায় পৌঁছে গেলাম মেহেরপুর।বাস কাউন্টারে কিছুক্ষন বসে সকাল হওয়ার পর সকালের নাস্তা সেরে নিলাম।তারপর অটো করে চলে গেলাম মুজিবনগর ভাড়া জনপ্রতি ৪০।

মুজিবনগর (পূর্বনাম: বৈদ্যনাথতলা)
বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী সরকারের রাজধানী ছিল এখানে। এখানেই তৎকালীন বৈদ্যনাথতলা বর্তমান মুজিবনগরের আম্রকাননে ১৭ এপ্রিল সরকারের মন্ত্রী পরিষদ শপথ নিয়েছিল। বাংলাদেশের প্রথম রাজধানীর ঐতিহ্য ধরে রাখতে সুন্দর ভাবে গড়ে তোলা হয়েছে।মুজিবনগর হতে ভ্যান করে চলে যাই হৃদয়পুর বর্ডার। ঐখানে দেখার মত কিছু নাই। মুজিবনগর থেকে বাহির হয়ে অটোরিকশা করে চলে যাই অামঝুপি নীলকুঠি। ভাড়া ৫০।
বৃটিশ আমলে নীল চাষের উদ্দেশে ইংরেজরা ৭৪ একর জমির ওপর কালের স্বাক্ষী মেহেরপুরের ঐতিহাসিক আমঝুপি নীলকুঠি গড়ে তোলে।
নীল চাষ অত্যধিক লাভজনক হওয়ায় ১৭৯৬ সালে এখানে নীল চাষ শুরু হয়। ১৮১৮ থেকে ১৮২০ সালের মধ্যবর্তী সময়ে মেহেরপুরর বেশ কয়েকটি স্থানে নীলকুঠি স্থাপিত হয়। তন্মধ্যে আমঝুপি, গাংনীর ভাটপাড়া, বামন্দি নীলকুঠি অন্যতম।অামঝুপি নীলকুঠির পাশেই রয়েছে অপরূপ কাজলা নদী। কথিত আছে রবাট ক্লাইভ প্রায়ই সময় কাটানোর জন্য আমঝুপি নীলকুঠিতে আসতেন ।১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের সময় ইংরেজরা চলে যাবার সময় পূর্ব পাকিস্থানের (বাংলাদেশ) সরকারের কাছে কাছে হস্তান্তর করে যায়।

নীলকুঠি ঘুরে অটো করে চলে যাই মেহেরপুর সদর। ভাড়া ২০। বাজারে নেমে দুপুরের খাবার খেয়ে কুষ্টিয়াগামী উঠে যাই। ভাড়া ৯০।
২ঘন্টার মত লাগে মেহেরপুর থেকে কুষ্টিয়া আসতে।
মজমপুর নেমে অটো করে চলে যাই ছেউড়িয়াতে। এখানেই লালনের আখড়া।সন্ধা পর্যন্ত সময় কাটিয়ে
অটো করে চলে অাসি চৌড়হাস মোড়, ভাড়া ১৫।এবার অামাদের গন্তব্য কুষ্টিয়া বিশ্ববিদ্যালয়।
৩০ টাকা দিয়ে বাসের টিকিট কেটে ৪০ মিনিটে পৌঁছে যাই বিশ্ববিদ্যালয়।
তারপর ফ্রেশ হয়ে পুরো ক্যাম্পাটা ঘুরে দেখি।ক্যাম্পাটা আমাদের কাছে অনেক ভালো লেগেছে সবকিছু সাজানো গোছানো। রাতের খাবার খেয়ে তারপর শান্তির ঘুম।

৩য় দিনঃ
সকালে ঘুম থেকে ওঠে নাস্তা করে ক্যাম্পাসে অারো কিছুক্ষন সময় কাটিয়ে বাসে করে চলে অাসি চৌড়হাস মোড়। এবার যাব শিলাইদহ কুঠিবাড়ী। শিলাইদহ যেতে হলে চৌড়হাস মোড় থেকে প্রথমে সিএনজি করে যেতে হবে অালাউদ্দীন মোড়, ভাড়া ১৫।
ঐখান নেমে অাবার সিএনজি করে যেতে শিলাইদহ কুঠিবাড়ী, ভাড়া২০।
কুঠিবাড়ী ঘুরা শেষ হলে বাড়ি থেকে বের হয়ে ভ্যান পাবেন তিন জায়গা পদ্মার পাড়, রবিঠাকুরের কাচারি ঘর,পাঁচতলা কাঠের বাড়ি। ভাড়া ৩০ টাকা জনপ্রতি।
যেখান থেকে ভ্যানে উঠবেন তিন জায়গা ঘুরিয়ে অাবার সেই যায়গায় নামিয়ে দিবে।
কুঠিবাড়ী থেকে অালাউদ্দীন মোড় চলে অাসুন।এখানে দুপুরের খাবার খেয়ে নেন।
তারপর ভ্যান করে চলে যান বিশ্বের অন্যতম ট্রাজেডি গ্রন্থ ‘বিষাদসিন্ধুর’ রচয়িতা মীর মশাররফের জন্মভিটা ও স্মৃতি জাদুঘর, ভাড়া ১৫।এখানে ঘুরা শেষে ভ্যানে করে চলে যান কুষ্টিয়া শহরে, ভাড়া ১০।
শহর থেকে রেনউক বাধ চলে যান এটা কুষ্টিয়া শহরের খুব কাছে হেটে যাওয়া যায় অটোতে ৫ টাকা।
অাসার সময় কুষ্টিয়া পৌরসভা ঘুরে আসুন।
তারপর হোটেলে ফ্রেশ হয়ে বেরিয়ে যান রাতের কুষ্টিয়া শহর দেখার জন্য।
অামরা সরকারি কলেজ,পার্ক,রেলস্টেশন,মেডিকেল অাশপাশে ঘুরছিলাম।
অাজ অার ঘুরাঘুরি না করে রাতের খাবার খেয়ে নিই। এরপর শান্তির ঘুম।

একদিনও হোটেলে ছিলাম না তাই হোটেল ভাড়া সম্পর্কে বলতে পারলাম না।
তবে ৫০০-১০০০ টাকায় ডাবল বেডের রুম পেয়ে যাবেন।
খরচ একটু কমবেশি হতে পারে,খাবার প্রতি বেলা ৭০-৮০ টাকায় খেতে পারবেন।
লেখারকিছু তথ্য উইকিপিডিয়া থেকে নেওয়া হয়েছে।
ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।

source: Jisan Ahmed‎ <Travelers of Bangladesh (ToB)

অনেকেই পাহাড়ে ঘুরতে যান – আর সুন্দর সুন্দর পাহাড় দেখে অভিভুত হন , কিন্তু ঠিক মত চিনতে পারেন না – কোনটা কোন পাহাড় । আবার অনেকে আশা করে কেওক্রাডং যান দুমলং পাহাড়ের ছবি উঠাবেন , যায়গায় গিয়ে আর চিনতে পারেন না – কোনটা দুম লং । আজকে পাহাড় চিনার সহজ কিছু টেকনিক নিয়ে আলাপ করব ।

১। প্রাথমিক ভাবে পাহাড় আইডেনটিফিকেশনের সহজতম টুলস বা হাতিয়ার গুগুল আর্থ ( গুগুল ম্যাপেও কাজ চলবে ) । আপনি যেই পাহাড়ে যাবেন ( মনে করেন কেওক্রাডং ) সেটা গুগুল আর্থ এ চিন্হিত করে ফেলেন । তারপর আসে পাশে যেই সব পাহাড়ের ছবি চান সেগুলো-ও গুগুল আর্থ এ চিন্হিত করে ফেলুন । সব বিখ্যাত পাহাড়ের নাম – লোকেশন ই গুগুল আর্থে পাবেন চিন্হিত অবস্হায় । সেটা নিজের মত করে একটা মার্ক ও করে রাখতে পারেন । এরপর কাজ হল গুগুল আর্থ এ একটা লাইন টানা – যেটা প্রোপারটিতে দেখাবে কত ডিগ্রী অভিমুখে আছে রেখাটি । এই ডিগ্রীটাই আসল সুত্র ।

এখন একটা বিষয় খেয়াল রাখতে হবে গুগুল আর্থে যেই দাগ টানা হয় – সেটার কৌনিক অবস্হান ‘এজিমুথ’ এ প্রকাশ করা হয় । এই এজিমুথ হচ্ছে কোন একটা কৌনিক অবস্হানকে একটা সংখা দিয়ে প্রকাশ করার উপায় । উত্তর দিক কে শুন্য ধরে ঘড়ির কাটার দিকে ৩৬০ ডিগ্রী পর্যন্ট এর পরিমাপ হয়ে থাকে । যেমন সোজ উত্তরের এজিমুথ ০ ডিগ্রী , সোজা পূব দিক ৯০ ডিগ্রী , সোজা দক্ষিণ দিক ১৮০ ডিগ্রী , ঠিক উত্তর পূব দিক মানে ৪৫ ডিগ্রী । এখন যদি বলা হয় কোন পাহাড়ের এজিমুথ ২৭০ ডিগ্রী তাহলে কি বুঝবেন ? বুঝা যাবে এটা ঠিক পশ্চিম দিকে । আবার যদি বলা হয় কঅন পাহারের এজিমুথ কেওক্রাডং থেকে ২০০ ডিগ্রীতে , তাহলে কি বুঝা যাবে ? যেহেতু ১৮০ ডিগ্রী মানে দক্ষিণ দিক , তাই ২০০ ডিগ্রী মানে দক্ষিণ থেকে আর ডানে ২০ ডিগ্রী ।

২। দ্বিতীয় পদ্ধতি হচ্ছে আপনি একটা পাহাড়কে চিনেন , কিন্তু তার পাশের একটা পাহাড়কে চিনতে পারছেন না । সেটা জানার জন্য আপনি জায়গায় দাড়িয়ে কৌনিক দুরত্ব মেপে নিতে পারেন । এলবামে একটা ছবি আছে হাতের আংগুল দিয়ে কৌনিক দুরত্ব মাপার। আপনি দুমলং চিনেন আর তিন মুখ পিলার দুম লং থেকে মনে করেন ৩০ ডিগ্রী দূরে , ডান পাশে । এখন হাত দিয়ে ৩০ ডিগ্রী মেপে আপনি খুজে পেতে পারেন তিন মুখ পিলারের পাহাড় । আর কৌনিন দুরত্ব কিভাবে পাবেন ? সেটা পাবেন দুই পাহাড়ের এজিমুথ বিয়োগ করে । মানে এক পাহাড়ের আজিমুথ ৬০ ডিগ্রী , আরেক পাহাড়ের ৮৫ ডিগ্রী । তাহলে এই দুই পাহাড়ের কৌনিক দুরত্ব ২৫ ডিগ্রী ।

Some azimuth and distance from Keokradong :

Sakahafong : Azimuth 151 Degree , Distance ( 20+ )
Jogi : Azimuth 162 Degree , Distance ( 32 km)
Jowtlong : Azimuth 164 Degree , Dstance ( 34 km)
Kopital : Azimuth 169 Degree , Distance 5.4 km
Tazingdong : Azimuth 173 Degree, Distance 15 km
Cirstong : Azimuth 187 Degree, Dstance 32 km
Rungrang : Azimuth 193 DEgree, Distance 32 –
Dim Pahar : Azimuth 205 Degree, Distance 24 km.
Chokki nala : 223 DEg , 21 km

আপানর পরিবেশকে পরিচ্ছন্ন রাখুন , বিশেষ ভাবে পাহাড়ে গেলে যেখানে সেখানে ময়লা আবর্জনা ফেলবেন না , বন্য প্রাণীর অসুবিধা করবেন না ।

source: Ratul Bd

কেরালা…

(এই অ্যালবাম আলেপ্পি ব্যাকওয়াটার-চেরাই বিচ-ভেম্বানাড় হ্রদ-ভাইপিন দ্বীপ-আলেপ্পি/আলাপুঝা বিচ এর ছবি দিয়ে সাজানো)

কোচি:-

আরব সাগর এবং ভারতে নোনা জলের দ্বিতীয় বৃহত্তম হ্রদ ভেম্বানাড়ের ওপর অসংখ্য দ্বীপ নিয়ে তৈরি কোচি।

কোচিতে কি কি দেখবেন:-

(১) আথিরাপাল্লি জলপ্রপাত (বাহুবালি-১ সিনেমার শুটিং স্পট) – কোচি থেকে ৭২ কিমি, গাড়ি বা বাসে আসুন। ভারতের নায়াগ্রা ফলস্‌ বলা হয়। ৮০ ফুট ওপর থেকে ঝাঁপিয়ে পড়ছে চলাকুডি নদীতে।আথিরাপাল্লি জলপ্রপাতে বলিউডের অনেক সিনেমার শুটিং হয়েছে।ঐশ্বর্য রাই বচ্চনের ‘গুরু’ সিনেমার ‘বারসো রে মেঘা মেঘা’ গানের শুটিং হয়েছে আথিরাপাল্লি জলপ্রপাতে।এছাড়াও ‘দিল সে’ সিনেমাসহ দক্ষিনী প্রচুর সিনেমার শুটিং এখানে হয়েছে।আথিরাপাল্লি মূলত বিখ্যাত হয়েছে ‘বাহুবালী-১’সিনেমার পর থেকে।

(২) মুকুন্দাপুরাম জলপ্রপাত:-আথিরাপাল্লি জলপ্রপাত এর রাস্তা থেকে ১০ কিমি সামনে গেলে মেইন রাস্তার সাথে বিশাল মুকুন্দাপুরাম জলপ্রপাত পাবেন।

(৩) ভজোছাল জলপ্রপাত:-মুকুন্দাপুরাম জলপ্রপাত থেকে ৩ কিমি সামনে গেলে ভজোছাল পার্কের মধ্যে পাবেন ভজোছাল জলপ্রপাত।

(৪) সেন্ট ফ্রান্সিস চার্চ – ১৫০৩ সালের এই গির্জাটি ইউরোপীয়দের তৈরি ভারতের সব থেকে পুরনো গির্জা। কোচিতে মৃত্যু হওয়ার পর ভাস্কো-দা-গামার দেহ কয়েক বছর এখানেই রাখা ছিল।

(৫) সিনাগগ – ১৫৬৭ সালের তৈরি। মাতাঞ্চেরি এলাকায়। স্টেশন থেকে ৯ কি.মি দূরে।

(৬) মাতাঞ্চেরি প্রাসাদ – ডাচ প্যালেস হিসেবে পরিচিত হলেও ১৫৫৫ সালে পর্তুগিজরা এই প্রাসাদটি তৈরি করে কোচির রাজাকে উপহার দেন। সিনাগগের পাশেই।

(৭) ভেম্বানাড়ে নৌকায় ভাইপিন দ্বীপ-ভেম্বানাড়ে আধঘণ্টার জলযাত্রায় এক বিকেলে ঘুরে আসতে পারেন ভাইপিন দ্বীপ থেকে।কোচির জেটি থেকে নিয়মিত স্টিমার ছাড়ে।অথবা আলেপ্পি থেকেও যেতে পারেন।আলেপ্পি ব্যাকওয়াটার হয়েও ভেম্বানাড় ঘুরে আসতে পারবেন।

(৮) কালাডি – আদি শঙ্করাচার্যের জন্মস্থান, কোচি থেকে গাড়ি বা বাসে আসুন। দূরত্ব ৪৪ কিমি। রয়েছে শঙ্করাচার্য মঠ। আরও বেশ কয়েকটি মন্দির। কাছেই রামকৃষ্ণ মিশন। পাশ দিয়ে বয়ে চলেছে পেরিয়ার নদী।

কীভাবে যাবেন:-
কলকাতার হাওড়া থেকে এর্নাকুলম যাওয়ার দ্রুতগামী ট্রেন অন্ত্যোদয় এক্সপ্রেস। প্রতি শনিবার বিকেল পাঁচটায় হাওড়া ছেড়ে এর্নাকুলম পৌঁছোয় সোমবার সকাল ছয়টায়। শালিমার থেকে সাপ্তাহিক গুরুদেব এক্সপ্রেস। প্রতি বুধবার রাত ১১:০৫-এ ছাড়ে, এর্নাকুলম পৌঁছোয় শুক্রবার বিকেল সোয়া তিনটায়। আছে দ্বিসাপ্তাহিক তিরুঅনন্তপুরম এক্সপ্রেস। ছাড়ে প্রতি মঙ্গল এবং রবিবার রাত ১১:০৫-এ। এর্নাকুলম পৌঁছায় বৃহস্পতিবার এবং মঙ্গলবার বিকেল চারটায়। তা ছাড়া হাওড়া থেকে করোমণ্ডল বা চেন্নাই মেলে চেন্নাই আসুন। চেন্নাই থেকে প্রতিদিন সন্ধ্যা ৭:৪৫-এ ছাড়ে তিরুঅনন্তপুরম মেল, এর্নাকুলম পৌঁছোয় পরের দিন সকাল ৬:৪৫-এ।এছাড়া আছে তিরুঅনন্তপুরম এক্সপ্রেসও, ছাড়ে বিকেল ৩.১৫-য়, পৌঁছায় ভোর ৩টেয়।এছাড়াও আছে আলেপ্পি এক্সপ্রেস। ২০:৪৫-এ ছেড়ে পরের দিন সকাল ৮:৪০ এ পৌঁছায়।

এছাড়া প্লেনেও যেতে পারেন।কলকাতা থেকে ব্যাঙ্গালুরু হয়ে কোচি।স্পাইস জেট,ইন্ডিগোর ফ্লাইট আছে।ভাড়া ৫৫০০-৬৫০০ রুপি জনপ্রতি।

কোথায় থাকবেন
কোচি এয়ারপোর্ট এর পাশে এবং কোচি শহরে প্রচুর হোটেল আছে।১২০০-১৫০০ রুপির মধ্যে ভালো মানের হোটেল পেয়ে যাবেন।

মুন্নার:-

ভারতের অন্যতম সেরা হিলস্টেশন। উচ্চতা পাঁচ হাজার ফুটের কিছু বেশি। চা-বাগানের জন্য বিখ্যাত। পাহাড়ি পথ এঁকেবেঁকে উঠে গিয়েছে চা-বাগানের মধ্যে দিয়ে। গরমের মধ্যে বাকি কেরালা ঘোরার ফাঁকে এখানে এক রাত থেকে ঠান্ডা উপভোগ করতে পারেন।মুন্নার যখনই যাবেন শীতের কাপড় নিয়ে যাবেন।

মুন্নারে কি কি দেখবেন:-

(১) এরাভিকুলাম জাতীয় উদ্যান:-

মুন্নার থেকে সাত কিমি। নীলগিরি থরের জন্য বিখ্যাত। ওরা ভেড়া আর ছাগলের মিশ্রণ। রাজামালা এন্ট্রি পয়েন্টে টিকিট কেটে উদ্যানে প্রবেশ করতে হবে। গাড়ি কিছুটা এগোবে, তার পর হাঁটা। অভয়ারণ্যের মধ্যে দিয়ে পাহাড়ি পথ পেরিয়ে প্রায় কিলোমিটার দুয়েক হাঁটা যাবে। এই পথে নীলগিরি থর আপনাকে ঘিরে ধরবে। হাঁটাপথের মধ্যেই পেয়ে যাবেন একটি সুন্দর ঝরনা।

(২) পল্লিভাসাল জলপ্রপাত :-

মুন্নার থেকে ২৩ কিমি। এমনিতে মুন্নারের আশেপাশে অনেক জলপ্রপাত। সারা বছর ভালো বৃষ্টি হয় বলে সবাই বেশ হৃষ্টপুষ্ট। কোচির দিকে কয়েক কিলোমিটার এলে বাঁ দিকে একটা রাস্তা পল্লিভাসালের দিকে নেমে গেছে। পথ শেষে পড়বে জলপ্রপাত।

(৩) ইকো পয়েন্ট :-

মুন্নার থেকে টপ স্টেশনের পথে ১৮ কিমি দূরে। প্রাকৃতিক কারণে এখানে ইকো হয়। মাট্টুপেট্টি ড্যামের জলে তৈরি হয়েছে একটা হ্রদ। হ্রদের এপার থেকে চিৎকার করলে, ওপারের পাহাড়ে ধাক্কা লেগে তা ইকো হয়। হ্রদে বোটিং এর ব্যবস্থা রয়েছে।

(৫) কুন্ডলা ড্যাম:-

ইকো পয়েন্ট থেকে সাত কিমি।

(৬) টপ স্টেশন ভিউ পয়েন্ট :-

কুন্ডলা ড্যাম থেকে দশ কিমি, ইকো পয়েন্ট থেকে ১৭ এবং মুন্নার শহর থেকে ৩৫ কিমি। তামিলনাড়ু-কেরালা বর্ডারে ৬,১০০ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত এই ভিউ পয়েন্ট। এখান থেকে এক দিকে যেমন পশ্চিমঘাট পর্বতশ্রেণি উপভোগ করা যায়, তেমনই অন্য দিকে দেখা যায় তামিলনাড়ুর থেনি জেলার উপত্যকা।

(৭) কথাকলি নৃত্য:-

মুন্নারে উপভোগ করতে পারেন কথাকলি নৃত্য।প্রতিদিন বিকেল ৫ টা থেকে ৬ টা কথাকলি নৃত্যের শো হয়।টিকিট জনপ্রতি ৩০০ রুপি।

(৮) বডি ম্যাসেজ:-

মুন্নার গেলে অবশ্যই ফুল বডি ম্যাসেজ করাবেন।

কীভাবে যাবেন:-
কোচি থেকে মুন্নারের দূরত্ব ১৩০ কিমি।কোচি এয়ার পোর্টের পাশে ট্যাক্সি স্ট্যান্ড থেকে গাড়ি ভাড়া করে নিতে পারেন। কোচি থেকে মুন্নার যাওয়ার বাসও পাওয়া যাবে।

কোথায় থাকবেন:-
মুন্নারে থাকার অনেক হোটেল আছে।১২০০-২০০০ রুপির মধ্যে ভালো মানের হোটেল পেয়ে যাবেন।

পেরিয়ার:-

অভয়ারণ্যের জন্য বিখ্যাত। সমুদ্রতল থেকে হাজার তিনেক ফুট উচ্চতায় অবস্থিত এই অভয়ারণ্যের প্রধান বাসিন্দা হাতি। রয়েছে রয়েল বেঙ্গল টাইগার, সাদা বাঘ সহ আরও অনেক প্রজাতির প্রাণী।

কীভাবে যাবেন:-
পেরিয়ারের নিকটবর্তী স্টেশন কোট্টায়াম। দূরত্ব ৯৭ কিমি। গুরুদেব এক্সপ্রেস কোট্টায়াম পৌঁছোয় বিকেল ৪:৪৫-এ। গুয়াহাটি-তিরুঅনন্তপুরম এক্সপ্রেস হাওড়া ছাড়ে প্রতি বৃহস্পতিবার ও শনিবার রাত ১.০৫-এ কোট্টায়াম পৌঁছোয় রবিবার সন্ধে ৬.৪৫-এ।কোচি বা মুন্নার থেকে গাড়ি বা বাসে পেরিয়ার পৌঁছতে পারেন। কোচি থেকে ১৪৬ কিমি, মুন্নার থেকে ১২৭ কিমি।

আলেপ্পি ব্যাকওয়াটার:-

আলেপ্পি বা আলাপুঝা, প্রাচ্যের ভেনিস হিসেবে পরিচিত।রাতে হাউস বোটে থাকতে পারেন।আবার বোট ভাড়া করে দিনেও ঘুরতে পারেন।৩ ঘন্টার জন্য ভাড়া করলে ১৮০০ রুপির মতো লাগবে।আলেপ্পি ব্যাক ওয়াটার ঘুরে ভেন্বানাড় হ্রদ দেখে আলেপ্পি ঘোরা শেষ করবেন।

আলেপ্পিতে কি কি দেখবেন:-

(১) আলেপ্পি সৈকত – আলেপ্পি শহরের প্রধান সৈকত। স্টেশন থেকে মাত্র ১ কিমি দূরে। এখানে রয়েছে লাইট হাউস, ১৮৬২ সালের তৈরি। প্রতি সোম থেকে শুক্রবার বিকেল তিনটা থেকে সাড়ে চারটা পর্যন্ত পর্যটকরা লাইটহাউসের ভেতরে যেতে পারেন। প্রবেশমূল্য দশ রুপি।

(৩) বিকাশনম সৈকত – আলেপ্পি স্টেশন থেকে সাড়ে চার কিমি।

(৪) থুম্পলি সৈকত – বিকাশনম সৈকতের পাশে।

(৫) কুট্টানাড় – আলেপ্পি থেকে ২১ কিমি। ভারতের একমাত্র অঞ্চল যেটা সমুদ্রতল থেকে নীচে অবস্থিত। আলেপ্পি থেকে ট্রলারে ঘোরা যায় কুট্টানাড়।

কোল্লম:-

ভারতের প্রাচীনতম সমুদ্রবন্দর। অষ্টমুড়ি লেক এবং সৈকতের জন্য বিখ্যাত।

কোল্লামে কি কি দেখবেন:-

(১) মহাত্মা গান্ধী সৈকত – শহরের প্রধান সৈকত। আন্তর্জাতিক মানের পার্ক রয়েছে এই সৈকতে।

(২) অষ্টমুড়ি লেক – শহরের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ এই খাঁড়ি হ্রদ। লেকের ধারেই কেরালা পর্যটনের হোটেল।

(৩) ভারকালা সৈকত – কোল্লম থেকে ২৫ কিমি। অসংখ্য অনুচ্চ পাহাড়ে ঘেরা সৈকত। এখান থেকে সূর্যাস্ত দেখুন। রয়েছে জনার্দনস্বামী মন্দির।

কীভাবে যাবেন
গুরুদেব এক্সপ্রেস এবং শালিমার-তিরুঅনন্তপুরম এক্সপ্রেস কোল্লম পৌঁছোয় যথাক্রমে সন্ধ্যা ৬:৫৫ এবং ৭:২২-এ।বাসে বা গাড়িতে কোচি অথবা তিরুঅনন্তপুরম থেকেও কোল্লম যাওয়া যায়। কোচি থেকে কোল্লম ১৩৮ কিমি। তিরুঅনন্তপুরম থেকে ৬৪ কিমি।

তিরুঅনন্তপুরম:-
আপনি আপনার ভ্রমণ শেষ করতে পারেন কেরালার রাজধানী তিরুঅনন্তপুরমে।

তিরুঅনন্তপুরমে কি কি দেখবেন:-

(১) কোভালম সৈকত – কেরালা তথা ভারতের অন্যতম সেরা সৈকত। তিরুঅনন্তপুরম থেকে ১৬ কিমি। তিনটে সৈকত নিয়ে কোভালম। লাইটহাউস সৈকত, সমুদ্র সৈকত এবং হাওয়া সৈকত। বিকেলে এলে সূর্যাস্তের সৌন্দর্য উপভোগ করা যাবে।

(২) সম্মুঘম সৈকত – তিরুঅনন্তপুরমের সব থেকে কাছের সৈকত। স্টেশন থেকে ৯ কিমি।

(৩) নেয়ার ড্যাম এবং অভয়ারণ্য – তিরুঅনন্তপুরম থেকে পোনমুড়ির পথে ২৮ কিমি দূরে। পশ্চিমঘাট পর্বতমালা ড্যামটাকে চারিদিক দিয়ে ঘিরে রেখেছে। রয়েছে একটি অভয়ারণ্য। বাঘ, চিতাবাঘ, হাতির পাশাপাশি, কুমিরের বিভিন্ন রকম প্রজাতির দেখা মেলে।

(৫) পোনমুড়ি – তিরুঅনন্তপুরমের নিকটবর্তী হিলস্টেশন। দূরত্ব ৫৭ কিমি। উচ্চতা ১১০০ মিটার, অর্থাৎ ৩৬০০ ফুট। বাইশটি হেয়ারপিন বেন্ড পেরিয়ে রাস্তা উঠে গিয়েছে পাহাড়ের গা বেয়ে। পোনমুড়ির রাস্তায় দুটো জলপ্রপাত। কাল্লার ও মিনমুট্টি।

সবচেয়ে ভালো হয় কোচি থেকে ৬-৭ দিনের জন্য একটি গাড়ি ভাড়া পুরো কেরালা ঘুরে দেখা।তাহলে ঝামেলা কম হয়।কেরালা ছবির মতো সুন্দর।আর কেরালার মানুষগুলো খুব বেশী ভদ্র এবং হেল্পফুল।

source: Dip Biswas

সিংগাপুরের ভিসা জন্য যে কেউ ইচ্ছে করলেই সিংগাপুর কনসুলেট অফ বাংলাদেশ এ আবেদন জমা দিতে পারবে না।ভিসার আবেদন জমা দেয়ার জন্য সিংগাপুর কনসুলেট অফ বাংলাদেশ থেকে ১৫ ট্রাভেল এজেন্সি কে এনলিস্ট করেছে। এদের মাধ্যমেই ভিসার জন্য আবেদন জমা দিতে হবে।এই ১৫ টি ছাড়া অন্য কোন এজেন্সির কাছে ভিসা করতে দিলেও তারা মুলত এদের কাছেই আসে।তাই ভিসার আবেদন করার জন্য আমি ১৫ টির একটি victory Travels Ltd, বেছে নিলাম।

সিংগাপুরের ভিসার জন্য আবেদন করতে চাইলে লেটার অব ইন্ট্রোডাকশন (LOI) লাগবে, এটার উপরেই ভিসা হবে কি হবে না তা অনেকটা নির্ভর করে।আমার জন্য LOI টা আমার রিলেটিভ দিয়েছিল,যার সিংগাপুরের নাগরিকত্ব আছে । তাছাড়া সিংগাপুর এয়ারলাইন্স এর কনফার্ম টিকেট থাকলে আলাদা করে আর LOI এর দরকার হয় না।

ভিসার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজ পত্র :
১।বৈধ পাসপোর্ট (মেয়াদ ৬মাসের অধিক থাকতে হবে)
২।২কপি ল্যাবপ্রিন্ট ছবি ( রিসেন্ট ছবি পাসপোর্ট সাইজ ম্যাট পেপার )
৩।ব্যাংক সলভেন্সি এবং স্টেটম্যান্ট (এইগুলো না দিলেও হয় আমার এজেন্সি চাইছিল তাই দিয়ে দিছি )
৪।অফিসের NOC এবং ভিজিটিং কার্ড
৫।২৬০০টাকা নিজে LOI এনে দিলে বা সিংগাপুর এয়ারলাইন্স এর কনফার্ম টিকেট দিলে। (এজেন্ট দিয়ে LOI আনালে ৪০০০/৫০০০ টাকা)

অন লাইনে ভিসা এপ্লিকেশন স্টেটাস চেক করার এই লিংকে গিয়ে এপ্লিকেশন রেফারেন্স নাম্বার আর পাসপোর্ট নাম্বার দিয়ে দেখে নিতে পারবেন।

এছাড়া যা কিছু লাগবে সব কিছুই আমার এজেন্সি ম্যানেজ করে নিবে। তাই আমাকে আর কোন টেনশন নিতে হয় নি।২১/০১/২০১৯ তারিখে এজেন্সির কাছে জমা দিয়ে ৩০/০১/২০১৯ তারিখে ৯দিন পর ৩৫ দিনের ডাবল এন্টি ভিসা সহ পাসপোর্ট ফেরত নিয়ে আসলাম।

ইমিগ্রেশন :আমার ফ্লাইট ছিল রাতে তাই ভোর হওয়ার আগেই আমি সিংগাপুর এয়ারপোর্ট পৌছে যাই। আমার ইমিগ্রেশন শেষ করতে ২/৩ মিনিট লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছিল ইমিগ্রেশন অফিসার কে পাসপোর্ট হাতে দিতেই আমার চশমা খোলার জন্য বললেন, তারপর আমার পাসপোর্টে সিল দিতে নিল আমি তখন তাকে থামিয়ে দিয়ে বললাম এই পেজে সিল দেন। তখন তিনি আমাকে জিজ্ঞেস করলেন কেন এই পেজে নয়।আমার উত্তর ছিল একটা পেজ বাচাতে পারলে আমার একটা দেশ বেশি ট্রাভেল করতে পারব এই পাসপোর্ট দিয়ে।তারপর আর কিছু না বলেই আমার দেখানো পেজেই সিল দিলেন।

ইমিগ্রেশন শেষ করে দেখি সিংগাপুরের লোকাল টাইম রাত ৩:২২ মিনিট তাই কোন কিছু চিন্তা না করে মোবাইল চার্জ দিয়ে সোফাতে শুয়ে রইলাম কিছু ক্ষনিকের জন্য।এরপর ফ্রেস হয়ে চলে গেলাম সরাসরি MRT স্টেশন।

টুরিস্ট পাশ: MRT স্টেশনে গিয়ে টুরিস্ট পাশ প্যাকেজ দেখলাম ১, ২,৩ দিনের পাশ দেয় যেহেতু আমি ৩দিন থাকব তাই ৩দিনের প্যাকেজ নিব ২০ ডলার দিয়ে কিন্তু ১০ ডলার ডিপজিট দিতে হবে,তা ফেরার সময় পাশ জমা দিয়ে দিলে ১০ ডলার ফিরত দিয়ে দেয়।পাশ নিতে পারবেন সকাল ৮টা থেকে রাত ১০টা প্রর্যন্ত ক্যাশ টাকা দিয়ে,তাছাড়া ডুয়েল কারেন্সি কার্ড দিয়ে যে কোন সময়ই নেয়া যায়।আমার কার্ড থাকায় ভোর ৫টায় ৩ দিনের পাশ নিয়ে চলে গেলাম Changi Airport MRT station থেকে Expo MRT station সেখান থেকে MRT চেঞ্জ করে চলে গেলাম মেরিনা বে।

মেরিনা বে এর সম্পূর্ন এলাকাটি ঘুরে দেখে এখানেই 7Eleven থেকে ৪ ডলার দিয়ে চিকেন ফ্রাইড রাইস খেয়ে নিলাম।এর পর আবার কিছু সময় ঘুরে দেখলাম তারপর MRT করে চলে গেলাম লিটল ইন্ডিয়া। এর পর ১২ ডলার দিয়ে একটা সিম নিয়ে নেই ৭দিনের জন্য ১০০ জিবি ডাটা সহ।

কোথায় থাকবেন আর কি খাবেন: বাংলাদেশীদের জন্য থাকা ও খাবারের সবচেয়ে ভাল স্থান হচ্ছে লিটল ইন্ডিয়া। মোস্তফা সেন্টারের আশেপাশে অনেক গুলি বাংলাদেশি রেস্টুরেন্ট রয়েছে। এর যে কোন টিতেই ইচ্ছে করলে ই খেতে পারেন, এখানে থাকলে আপনি সিংগাপুর আছেন, নাকি বাংলাদেশে আছেন।খাবাবের জন্য প্রতি বেলায় ৪/৫ সিং ডলার যথেষ্ট। হোটেল ভাড়া অন্যান্য দেশ অনুযায়ী সিংগাপুর একটু বেশি হোটেলে থাকতে গেলে ৮০/১৫০ ডলার গুনতে হতে পারে।আমি হোটেল থেকে হোস্টেলেই বেশি কমর্ফোটেবল তাই আমি প্রতিবারের মত এবারো হোস্টেল নেই লিটল ইন্ডিয়ার Cambeel line এ।

ঘুরে দেখার স্থান : সিংগাপুর খুবই ছোটো এবং গুছানো একটা দেশ তাই খুব সহজেই পুরো সিংগাপুর ঘুরে দেখা যায়।তবে এর মধ্যে যে সকল স্থানে গুলি না দেখলেই নয়
Changi Airport-Marina Bay Helix Bridge-Merlion Park-Singapore River-Gardens By the Bay-Little India-Casino-Little India- Sentosa (Vivo city,Harbour pont)- Sentosa Beaches-singapore Botanic Garden -Pulau Ubin-Chaina Town-Kampong Glam.

Marina Bay: মেরিনা বে তে গেলেই আপনি মেরিনা বে, হেলিক্স ব্রিজ,মারলায়ন পার্ক,।সিংগাপুর রিভার, গার্ডেন বাই দা বে,মেরিনা কেসিনো দেখতে পাবেন।তবে কেসিনোতে ঢুক্তে চাইলে পাসপোর্ট সাথে নিয়ে যেতে হবে।কেসিনোতে ঢুকলেই পাবেন কমপ্লিমেন্টরি ড্রিংন্স। এখানে বিকেল বেলা গিয়ে দিনের এবং রাতে অসাধারণ লাইটিং দেখতে পাবেন।প্রতিদিন রাত ৮:১৫ তে লেজার লাইটিং শো দেখায় যা সত্যি অসাধারণ।

Sentosa: সিংগাপুরের সবচেয়ে আর্কশনীয় স্থান হচ্ছে Sentosa. এখানে ঘুরাঘুরি করার জন্য কমপক্ষে একদিন লাগে তবে সত্যি কথা বলতে ভালভাবে সেন্তসা কে দেখতে চাইলে একদিনে সম্ভব নয়।সেন্তসা যেতে হলে লিটল ইন্ডিয়ার MRT স্টেশন থেকে Vivo City MRT স্টেশন যেতে হবে এর পর vivo city থেকে LRT তে ৪ ডলার আর ক্যাবল কারে করে ১৯ ডলার খরচ করে যেতে পারেন। এর জন্য আপনাকে Vivo city এর টপ ফ্লোরে যেতে হবে।তবে vivo city MRT স্টেশন থেকে বের হয়েই পায়ে হেটে সম্পুর্ন ফ্রিতে sentosa যেতে পারেন এবং আশার সময় LRT তে ফ্রিতে vivo city তে চলে আসতে পারবেন।সেন্তসা ঘুরে দেখতে কোন টিকেট নেই কিন্ত সেন্তসার ভিতরে বিভিন্ন রকমের রাইডস, বিভিন্ন রকমের এক্সাইটিং সব প্লেস ঘুরে দেখতে টিকেট কেটে দেখতে হবে।Vivo city টিকেট কাউন্টার থেকে Fun pass প্যাকেজ করে টিকেট কেটে নিতে পারেন।তাছাড়া সেন্তসার প্রতিটি fun pass এর সামনের টিকেট কাউন্টার থেকে টিকেট কেটে নিতে পারবেন।

সেন্তসার ঠিক পিছনেই রয়েছে তিনটি অসাধারণ সিবিচ Siloso, Palawan, Tanjong Beach সেখানে যাওয়ার জন্যে আপনাকে Sentosa Marlaion এর ঠিক পিছনের রাস্তা দিয়ে Beach Station যেতে হবে, সেখান থেকে আপনি হেটেই বিচ তিনটি দেখতে পারবেন।তাছাড়া আপনি Beach station থেকে ফ্রি ট্রেনে করে বিচ তিনটি ঘুরে দেখতে পারবেন।ছোট ছোট সিবিচ হলেও একেকটি বিচ একেক রকমের সুন্দর। যেখানে আপনি ঘন্টার পর ঘন্টা বসে থাকলেও ফিরে আসতে মন চাইবে না।

শপিং এবং GST ক্লেইম : শপিং এর জন্য মোটামুটি মোস্তফা সেন্টার ভাল। মোস্তফা সেন্টারে সব কছুই পাওয়া যায়। তবে গোল্ড কেনার জন্য মোস্তফা সেন্টার কে চোখবুঝে বিশ্বাস করা যায়।শপিং করার সময় অবশ্বই পাসপোর্ট সাথে করে নিয়ে যাবেন। মোস্তফা সেন্টারে গ্লোসরি আইটেম বাদে সকল কেনা কাটার জন্য GST পাসপোর্ট দেখায়ে ক্লেম করে নিতে পারবেন। তবে সেই জন্য একই ডেট এ সর্বনিন্ম ১০০ ডলারের শপিং করতে হবে।একজন ট্রুরিস্ট সিংগাপুর থেকে আশার সময় ১০০ গ্রাম গোল্ড,৩টা স্মার্ট ফোন নিয়ে আসতে পারবেন। শপিংমল থেকে ক্লেইম করা GST স্লিপ দেখিয়ে এয়ারপোর্ট থেকে GST অর্থ ফিরিয়ে নিয়ে আসবেন।

জরুরী এলার্ন: সিংগাপুর এয়ারপোর্ট কিছু বাংলাদেশি আছে যারা আপনাকে ১০০ গ্রাম গোল্ড দিতে চাইবে আর বলবে আমার লোক এয়ারপোর্ট থেকে নিয়ে নিবে এর জন্য আপনাকে ৬/৭ হাজার টাকা অফার করবে, তাছাড়া বুকিং কম থাকলে ২৫/৩০ কেজি বুকিং দিতে চাইবে তার বিনিময়ে প্রতি কেজি ৫/৬ ডলার দিতে চাইবে।আমাকেও অফার করেছিলো। আমি নিজেকে তাদের কাছ থেকে দূরে রেখেছি।

source: Kazi Niaz Morshed‎ <Travelers of Bangladesh (ToB)

আমরা সবাই কম-বেশি ঘুরতে পছন্দ করি। কিন্তু অনেকে ইচ্ছা থাকলেও নিজের জেলার দর্শনীয় স্থানেই যাওয়ার সুযোগ পান না,  এমনকি নামও জানেন না। তাদের জন্য খুব সংক্ষিপ্ত করে বাংলাদেশের প্রত্যেকটি জেলার দর্শনীয় স্থানের তালিকা দেওয়া হলো। ঘুরতে যাওয়া যদি সম্ভব না-ও হয়, নামগুলো তো জানা হলো।

রাজশাহী

হজরত শাহ মখদুম রূপোষের (রহ.) দরগা, পুঠিয়া রাজবাড়ি, পুঠিয়া বড় আহ্নিক মন্দির, পুঠিয়া বড় শিবমন্দির, পুঠিয়া দোলমন্দির, পুঠিয়া গোবিন্দ মন্দির, বাঘা মসজিদ, দুই গম্বুজবিশিষ্ট কিসমত মাড়িয়া মসজিদ, এক গম্বুজবিশিষ্ট রুইপাড়া (দুর্গাপুর) জামে মসজিদ, বাগধানী মসজিদ (পবা), তিন গম্বুজবিশিষ্ট ভাগনা (তানোর) জামে মসজিদ, হজরত শাহ্ সুলতান (র.)-এর মাজার, চতুর্দশ শতাব্দী), দেওপাড়া প্রশস্তি, বড়কুঠি (অষ্টাদশ শতাব্দী), তালোন্দ শিব মন্দির, রাজশাহী বড়কুঠি, বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘর, রাজশাহী কলেজ, বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমী, রাজশাহী।

সিরাজগঞ্জ

বঙ্গবন্ধু যমুনা বহুমুখী সেতু, মখদুম শাহের মাজার, রবীন্দ্র কাচারিবাড়ি, চলনবিল, যাদব চক্রবর্তী নিবাস, ইলিয়ট ব্রিজ, শাহজাদপুর মসজিদ, জয়সাগর দীঘি, নবরত্ন মন্দির, ছয়আনি পাড়া দুই গম্বুজ মসজিদ, ভিক্টোরিয়া স্কুল, হার্ড পয়েন্ট, ইকো পার্ক, মিল্কভিটা, রাউতারা বাঁধ ও স্লুইসগেট, বাঘাবাড়ি নদীবন্দর।

দিনাজপুর

দিনাজপুর রাজবাড়ি, চেহেলগাজি মসজিদ ও মাজার, কান্তজিউর মন্দির, ঘোডাঘাট দুর্গ, সীতাকোট বিহার, সুরা মসজিদ, নয়াবাদ মসজিদ, রামসাগর, স্বপ্নপুরী, স্টেশন ক্লাব, কালেক্টরেট ভবন, সার্কিট হাউস ও জুলুমসাগর, দিনাজপুর ভবন, সিংড়া ফরেস্ট, হিলি স্থলবন্দর, বিরল স্থলবন্দর।

গাইবান্ধা

বর্ধনকুঠি, নলডাঙ্গার জমিদারবাড়ি, বামনডাঙ্গার জমিদারবাড়ি, ভতরখালীর কাষ্ঠ কালী, রাজা বিরাট, ভবানীগঞ্জ পোস্ট অফিস ও বাগুড়িয়া তহশিল অফিস।

বগুড়া

মহাস্থানগড়, ভাসু-বিহার, গোকুল মেধ, শাহ্ সুলতান বলখি মাহী সাওয়ারের মাজার, ভবানীপুর শিবমন্দির, ভবানী মন্দির, খেড়ুয়া মসজিদ, মোহাম্মদ আলী প্যালেস মিউজিয়াম, গ্রায়েন বাঁধ, ওয়ান্ডারল্যান্ড, মহাস্থান প্রত্নতাত্ত্বিক জাদুঘর।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ

ছোট সোনা মসজিদ, বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীরের সমাধি, দারসবাড়ী মসজিদ ও মাদ্রাসা, দারসবাড়ী মসজিদের প্রস্তরলিপি, খঞ্জনদীঘির মসজিদ, ধনাইচকের মসজিদ, চামচিকা মসজিদ, তিন গম্বুজ মসজিদ ও তাহখানা, তাহখানা কমপ্লেক্স, শাহ্ নেয়ামতউল্লাহ (রহ.) মাজার, শাহ নেয়ামতউল্লাহর সমাধি, কোতোয়ালি দরওয়াজা, দাফেউল বালা, বালিয়াদীঘি, খঞ্জনদীঘি, কানসাটের জমিদারবাড়ি, তরতীপুর, চাঁপাই জামে মসজিদ, মহারাজপুর জামে মসজিদ, মাঝপাড়া জামে মসজিদ, হজরত বুলন শাহর (রহ.) মাজার, সর্ববৃহৎ দুর্গাপূজা, মহারাজপুর মঞ্চ, বারঘরিয়া মঞ্চ, জোড়া মঠ।

জয়পুরহাট

আছরাঙ্গা দীঘি, নান্দাইল দীঘি, লকমা রাজবাড়ি, পাথরঘাটা নিমাই পীরের মাজার, গোপীনাথপুর মন্দির, দুওয়ানী ঘাট, বারশিবালয় মন্দির, হিন্দা-কসবা শাহী জামে মসজিদ, পাগলা দেওয়ান বধ্যভূমি, কড়ই কাদিপুর বধ্যভূমি, সেভেনথ ডে অ্যাডভেন্টিস মারানাথা সেমিনার খনজনপুর খ্রিস্টান মিশনারি স্মৃতিস্তম্ভ-৭১, শিশু উদ্যান।

পাবনা

ভাঁড়ারা শাহী মসজিদ, জোড়বাংলার মন্দির, তাড়াশ বিল্ডিং, পাবনা ক্যাডেট কলেজ, প্রশান্তি ভুবন বিনোদন পার্ক, অনুকূল ঠাকুর টেম্পল, পাবনা মানসিক হাসপাতাল, সমন্বিত লাগসই কৃষি প্রযুক্তি জাদুঘর, চাটমোহর শাহী মসজিদ, সমাজ শাহী মসজিদ, হান্ডিয়াল জগন্নাথ মন্দির, হরিপুর জমিদারবাড়ি পুকুর, মথুরাপুর মিশন, চলনবিলের সূর্যাস্ত, বড়াল ব্রিজ রেলসেতু, বৃদ্ধমরিচ শাহী মসজিদ, জমিদার রানীর পুকুরঘাট, শেখ শাহ্? ফরিদ (রহ.) মসজিদ, লর্ড হার্ডিঞ্জ রেল সেতু, লালন শাহ সেতু, ঈশ্বরদী রেলজংশন, ঈশ্বরদী ইপিজেড, ঈশ্বরদী বিমানবন্দর, কৃষি গবেষণা ইন্সটিটিউট, শহীদনগর স্মৃতিস্তম্ভ, বেঙ্গল মিট, সুজানগর আজিম চৌধুরীর জমিদারবাড়ি, গাজনার বিল, হজরত মাহতাব উদ্দিন শাহ আউলিয়ার মাজার, তাঁতীবন্দ জমিদারবাড়ি, নাজিরগঞ্জ ফেরিঘাট, কৈটোলা নিষ্কাশন পাম্প হাউস, বেড়া পাম্প হাউস ও স্লুইসগেট, হুরাসাগর নদীর তীরে বেড়া পোর্ট।

নওগাঁ

কুশুম্বা মসজিদ, পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার, পতিসর রবীন্দ্র কাচারিবাড়ি, দিব্যক জয়সত্মম্ভ, মাহি সমেত্মাষ, বলিহার রাজবাড়ি, আলতাদীঘি, জগদলবাড়ি, হলুদবিহার, দুবলহাটি জমিদারবাড়ি।

নাটোর

উত্তরা গণভবন, রানী ভবানী রাজবাড়ি, লুর্দের রানী ধর্মপল্লী, বোর্নি মারিয়াবাদ ধর্মপল্লী।

কুড়িগ্রাম

চান্দামারী মসজিদ, শাহী মসজিদ, চন্ডীমন্দির, দোলমঞ্চ মন্দির, ভেতরবন্দ জমিদারবাড়ি, পাঙ্গা জমিদারবাড়ি ধ্বংসাবশেষ, সিন্দুরমতি দীঘি, চিলমারী বন্দর, শহীদ মিনার, স্বাধীনতার বিজয়স্তম্ভ, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিফলক, পাঙ্গা জমিদারবাড়ির কামান, বঙ্গ সোনাহাট ব্রিজ, মুন্সিবাড়ি।

লালমনিরহাট

তিন বিঘা করিডোর ও দহগ্রাম-আঙ্গরপোতা ছিটমহল, তিস্তা ব্যারাজ ও অবসর রেস্ট হাউস, বুড়িমারী স্থলবন্দর, শেখ ফজলল করিমের বাড়ি ও কবর, তুষভান্ডার জমিদারবাড়ি, কাকিনা জমিদারবাড়ি, নিদাড়িয়া মসজিদ, হারানো মসজিদ, সিন্দুরমতি দীঘি, কালীবাড়ি মন্দির ও মসজিদ, বিমানঘাঁটি, তিস্তা রেলসেতু, হালা বটের তল, লালমনিরহাট জেলা জাদুঘর, দালাইলামা ছড়া সমন্বিত খামার প্রকল্প।

নীলফামারী

ধর্মপালের রাজবাড়ি, ময়নামতি দুর্গ, ভীমের মায়ের চুলা, হরিশচন্দ্রের পাঠ, সৈয়দপুরের চিনি মসজিদ, তিস্তা ব্যারাজ প্রকল্প, নীলফামারী জাদুঘর, কুন্দুপুকুর মাজার, দুন্দিবাড়ী স্লুইসগেট, বাসার গেট, স্মৃতি অম্লান।

পঞ্চগড়

ভিতরগড়, মহারাজার দীঘি, বদেশ্বরী মহাপীঠ মন্দির, সমতলভূমিতে সম্প্রতি প্রতিষ্ঠিত চা-বাগান, মির্জাপুর শাহী মসজিদ, বার আউলিয়ার মাজার, গোলকধাম মন্দির, তেঁতুলিয়া ডাকবাংলো, তেঁতুলিয়া পিকনিক কর্নার, বাংলাবান্ধা জিরো পয়েন্ট ও বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর, রকস্ মিউজিয়াম।

রংপুর

পায়রাবন্দ, তাজহাট জমিদারবাড়ি, কেরামতিয়া মসজিদ ও মাজার, ভিন্ন জগৎ, ঝাড়বিশলা।

ঠাকুরগাঁও

জামালপুর জমিদারবাড়ি জামে মসজিদ, বালিয়াডাঙ্গী সূর্যপুরী আমগাছ, ফান সিটি অ্যামিউজমেন্ট পার্ক অ্যান্ড ট্যুরিজম লি., রাজভিটা, রাজা টংকনাথের রাজবাড়ি, হরিপুর রাজবাড়ি, জগদল রাজবাড়ি, প্রাচীন রাজধানীর চিহ্ন নেকমরদ, পীর শাহ নেকমরদের মাজার, মহালবাড়ি মসজিদ, শালবাড়ি মসজিদ ও ইমামবাড়া, সনগাঁ শাহী মসজিদ, ফতেহপুর মসজিদ, মেদিনীসাগর জামে মসজিদ, গেদুড়া মসজিদ, গোরক্ষনাথ মন্দির, কূপ ও শিলালিপি, হরিণমারী শিবমন্দির, হরিপুর রাজবাড়ি শিবমন্দির, গোবিন্দনগর মন্দির, ঢোলরহাট মন্দির, ভেমটিয়া শিবমন্দির, মালদুয়ার দুর্গ, গড়গ্রাম দুর্গ, বাংলা গড়, গড় ভবানীপুর, গড়খাঁড়ি, কোরমখান গড়, সাপটি বুরুজ, দীঘি।

হবিগঞ্জ

বিথঙ্গল আখড়া, বানিয়াচং প্রাচী রাজবাড়ির ধংসাবশেষ, বানিয়াচং পুরানবাগ মসজিদ, সাগরদীঘি, হব্যা গোমার দারা গুটি, নাগুড়া ফার্ম, সাতছড়ি রিজার্ভ ফরেস্ট, কালেঙ্গা রিজার্ভ ফরেস্ট, রাবারবাগান, ফরুটসভ্যালি, সিপাহসালার হজরত শাহ সৈয়দ নাসির উদ্দিনের (রহ.) মাজার, লালচান্দ চা-বাগান, দেউন্দি চা-বাগান, লস্করপুর চা-বাগান, চন্ডীছড়া চা-বাগান, চাকলাপুঞ্জি চা-বাগান, চান্দপুর চা-বাগান, নালুয়া চা-বাগান, আমু চা-বাগান, রেমা চা-বাগান, দারাগাঁও চা-বাগান, শ্রীবাড়ী চা-বাগান, পারকুল চা-বাগান, সাতছড়ি চা-বাগান।

মৌলভীবাজার

চা-বাগান, মাধবকুন্ড, মাধবকুন্ড ইকো পার্ক, বর্ষিজোড়া ইকো পার্ক, হজরত শাহ মোস্তফার (রহ.) মাজার, বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহি হামিদুর রহমান স্মৃতিসৌধ।

সুনামগঞ্জ

টাঙ্গুগুয়ার হাওর, হাছনরাজা মিউজিয়াম, লাউড়ের গড়, ডলুরা শহীদদের সমাধিসৌধ, টেকেরঘাট চুনাপাথর খনি প্রকল্প। বাগবাড়ি টিলা , সেলবরষ জামে মসজিদ, সুখাইড় কালীবাড়ি মন্দির, কাহালা কালীবাড়ি, মহেষখলা কালীবাড়ি, তাহিরপুর উপজেলার উত্তর বড়দল ইউনিয়নে হলহলিয়া গ্রামে রাজা বিজয় সিংহের বাসস্থানের ধ্বংসাশেষ।

সিলেট

জাফলং, ভোলাগঞ্জ, লালাখাল, তামাবিল, হাকালুকি হাওর, ক্বীন ব্রিজ, হজরত শাহজালাল (রহ.) ও শাহ পরানের (রহ.) মাজার, মহাপ্রভু শ্রী চৈতন্যদেবের বাড়ি, হাছনরাজার মিউজিয়াম, মালনীছড়া চা-বাগান, এমএজি ওসমানী বিমানবন্দর, পর্যটন মোটেল, জাকারিয়া সিটি, ড্রিমল্যান্ড পার্ক, আলী আমজাদের ঘড়ি, জিতু মিয়ার বাড়ি, মণিপুরী রাজবাড়ি, মণিপুরী মিউজিয়াম, শাহী ঈদগাহ, ওসমানী শিশুপার্ক।

বরগুনা

বিবিচিনি শাহী মসজিদ, সোনারচর, লালদিয়ার বন ও সমুদ্র সৈকত, হরিণঘাটা, রাখাইন এলাকা, বৌদ্ধ মন্দির ও বৌদ্ধ একাডেমি।

বরিশাল

দুর্গাসাগর, কালেক্টরেট ভবন, চাখার প্রত্নতাত্ত্বিক জাদুঘর, রামমোহনের সমাধি মন্দির, সুজাবাদের কেল্লা, সংগ্রাম কেল্লা, শারকলের দুর্গ, গির্জামহল্লা, বেলস পার্ক, এবাদুল্লা মসজিদ, কসাই মসজিদ, অক্সফোর্ড গির্জা, শংকর মঠ, মুকুন্দ দাসের কালীবাড়ি, ভাটিখানার জোড়া মসজিদ, অশ্বিনী কুমার টাউন হল, চরকিল্লা, এক গম্বুজ মসজিদ, সাড়ে তিন মণ ওজনের পিতলের মনসা।

ভোলা

চরকুকরিমুকরি, বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামাল স্মৃতি জাদুঘর, ওয়ান্ডার কিংডম, মনপুরা দ্বীপ।

ঝালকাঠি

সুজাবাদের কেল্লা, ঘোষাল রাজ বাড়ির ধ্বংসাবশেষ, নুরুল্লাপুর মঠ, সিভিল কোর্ট ভবন, সাতুরিয়া জমিদারবাড়ি, জীবনানন্দ দাশের মামাবাড়ি, কীর্তিপাশা জমিদারবাড়ি, গাবখান সেতু, ধানসিঁড়ি নদী, রূপসা খাল, নেছারাবাদ কমপ্লেক্স, পোনাবালিয়া মন্দির, সিদ্ধকাঠি জমিদারবাড়ি, নলছিটি পৌরভবন, মার্চেন্টস্ স্কুল, চায়না কবর, কামিনী রায়ের বাড়ি, কুলকাঠি মসজিদ, সুরিচোড়া জামে মসজিদ, শিবমন্দির, নাদোরের মসজিদ।

পটুয়াখালী

কুয়াকাটা বৌদ্ধবিহার, শ্রীরামপুর মিয়াবাড়ি মসজিদ, মিঠাপুকুর, কানাইবালাই দীঘি, কমলা রানীর দীঘি, সুলতান ফকিরের মাজার, নুরাইনপুর রাজবাড়ি, শাহী মসজিদ।

পিরোজপুর

রায়েরকাঠি জমিদারবাড়ি, মঠবাড়িয়ার সাপলেজা কুঠিবাড়ি, প্রাচীন মসজিদ, মঠবাড়িয়ার মমিন মসজিদ, শ্রীরামকাঠি প্রণব মঠ সেবাশ্রম, গোপালকৃষ্ণ টাউন ক্লাব, শেরেবাংলা পাবলিক লাইব্রেরি, মাঝের চর মঠবাড়িয়া, পাড়েরহাট জমিদারবাড়ি, বলেশ্বরঘাট শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ।

বান্দরবান

মেঘলা পর্যটন কেন্দ্র, নীলাচল পর্যটন কমপ্লেক্স, চিম্বুক, শৈলপ্রপাত, বগালেক, স্বর্ণমন্দির, কেওক্রাডং, নীলগিরি, প্রান্তিক লেক, ঋজুক জলপ্রপাত, মিরিঞ্জা কমপ্লেক্স।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া

কালভৈরব, সৌধ হীরণ্ময়, হাতিরপুল, কেল্লা শহীদ মাজার, গঙ্গাসাগর দীঘি, উলচাপাড়া মসজিদ, কাজী মাহমুদ শাহ (রহ.) মাজার, ছতুরা শরীফ, নাটঘর মন্দির, বিদ্যাকুট সতীদাহ মন্দির।

চাঁদপুর

শ্রী শ্রী জগন্নাথ মন্দির, মনসামুড়া, দোয়াটি, সাহারপাড়ের দীঘি, উজানীতে বেহুলার পাটা, তুলাতলি মঠ, সাহেবগঞ্জ নীলকুঠি, লোহাগড় মঠ, রূপসা জমিদারবাড়ি, হাজীগঞ্জ ঐতিহাসিক বড় মসজিদ, হজরত মাদ্দা খাঁ (রহ.) মসজিদ, বলাখাল জমিদারবাড়ি, নাসিরকোর্ট শহীদ মুক্তিযোদ্ধা সমাধিস্থল, নাগরাজাদের বাড়ি, মঠ ও দীঘি, মঠ, নাওড়া, শাহরাস্তির (রহ.) মাজার, তিন গম্বুজ মসজিদ ও প্রাচীন কবর।

চট্টগ্রাম

ফয়স লেক, চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানা, চট্টগ্রাম শিশুপার্ক, জাতিতাত্ত্বিক জাদুঘর, আগ্রাবাদ, বাটালি হিল, ডিসি অফিস (পরীর পাহাড়), কোর্ট বিল্ডিং, ওয়ার সিমেট্রি (কমনওয়েলথ যুদ্ধসমাধি), ডিসি হিল, কদম মোবারক মসজিদ, শাহ্ আমানতের (রহ.) দরগা, বদর আউলিয়ার (রহ.) দরগা, বায়েজিদ বোস্তামির (রহ.) মাজার, শেখ ফরিদের চশমা, ওলি খাঁর মসজিদ, আন্দরকিল্লা শাহী জামে মসজিদ, হামজার মসজিদ, হামজারবাগ, পাথরঘাটা রোমান ক্যাথলিক গির্জা, চট্টগ্রাম বৌদ্ধবিহার, নন্দনকানন, কৈবল্যধাম, চন্দ্রনাথ পাহাড় ও মন্দির, সীতাকুন্ড, বাঁশখালী ইকোপার্ক, সীতাকুন্ড ইকোপার্ক।

কুমিল্লা

শালবন বিহার ও প্রত্নতাত্ত্বিক জাদুঘর, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নিহত সৈনিকদের সমাধিক্ষেত্র ময়নামতি ওয়ার সিমেট্রি, বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (বার্ড) শাহ সুজা মসজিদ, জগন্নাথ মন্দির, ধর্মসাগর, বৌদ্ধবিহারের ধ্বংসাবশেষ, রূপবানমুড়া ও কুটিলামুড়া, বার্ডসংলগ্ন জোড়কানন দীঘি, জগন্নাথ দীঘি, বীরচন্দ্র গণপাঠাগার ও নগর মিলনায়তন, শ্রী শ্রী রামঠাকুরের আশ্রম, রামমালা পাঠাগার ও নাটমন্দির, লাকসাম রোড, নবাব ফয়জুন্নেছার বাড়ি, সঙ্গীতজ্ঞ শচীনদেব বর্মণের বাড়ি, রাজেশপুর বন বিভাগের পিকনিক স্পট, গোমতি নদী, পুরাতন অভয়াশ্রম (কেটিসিসিএ লি.), বাখরাবাদ গ্যাস ফিল্ড, কবি কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম স্ত্রী বেগম নার্গিসের বাড়ি, নবাব ফয়জুন্নেছার পৈতৃক বাড়ি।

কক্সবাজার

সমুদ্র সৈকত, হিমছড়ি, অগে্গ্মধা ক্যাং, আদিনাথ মন্দির, সোনাদিয়া দ্বীপ, রামকোর্ট, লামারপাড়া ক্যাং, ইনানী, প্রবালদ্বীপ সেন্টমার্টিন, মাথিনের কূপ, বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক।

ফেনী

সোনাগাজী মুহুরি সেচ প্রকল্প, পাগলা মিয়ার মাজার, শিলুয়ার শীল পাথর, রাজাঝির দীঘি, মোহাম্মদ আলী চৌধুরী মসজিদ ও বাসভবন, চাঁদগাজী মসজিদ, ফেনী সরকারি কলেজ ভবন, মহিপালের বিজয় সিংহ দীঘি, শশদি পরির দীঘি।

খাগড়াছড়ি

আলুটিলা, আলুটিলার সুড়ঙ্গ বা রহস্যময় গুহা, দেবতার পুকুর, ভগবানটিলা, দুই টিলা ও তিন টিলা, আলুটিলার ঝরনা, পর্যটন মোটেল, খাগড়াছড়ি, পাহাড়ি কৃষি গবেষণা কেন্দ্র, মহালছড়ি হ্রদ, শতায়ু বটগাছ।

লক্ষ্মীপুর

দালালবাজার জমিদারবাড়ি, কামানখোলা জমিদারবাড়ি, তিতা খাঁ জামে মসজিদ, জিনের মসজিদ, খোয়া সাগর দীঘি, মটকা মসজিদ।

নোয়াখালী

পাবলিক লাইব্রেরি, গান্ধী আশ্রম, বজরা শাহী জামে মসজিদ, বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ মোঃ রুহুল আমিন গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘর, নিঝুম দ্বীপ।

রাঙ্গামাটি

কর্ণফুলী হ্রদ, পর্যটন মোটেল ও ঝুলন্ত সেতু, সুবলং ঝরনা, উপজাতীয় জাদুঘর, কাপ্তাই জাতীয় উদ্যান, জেলা প্রশাসক বাংলো, জেলা প্রশাসক এলএইচ নিবলেটের সমাধি।

ঢাকা

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্মৃতি জাদুঘর, আহছান মঞ্জিল, বায়তুল মোকাররম মসজিদ, রাস্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মা/মেঘনা, ঢাকেশ্বরী মন্দির, কাজী নজরুল ইসলামের মাজার, বিমানবন্দর, সোনারগাঁও, বিজয় সরণি ফোয়ারা, বসুন্ধরা সিটি, বাকল্যান্ড বাঁধ, বলধা গার্ডেন, অপরাজেয় বাংলা ভাস্কর্য, জাতীয় ঈদগাহ ময়দান, শাহআলী বোগদাদির মাজার, ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তন, জাতীয় জাদুঘর, ক্রিসেন্ট লেক, শিশুপার্ক, বাংলাদেশ-জাপান মৈত্রী সেতু-১, বাংলাদেশ-জাপান মৈত্রী সেতু-২, বাংলাদেশ-জাপান সেতু, বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতু, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম, হোটেল সোনারগাঁও, কবিভবন, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, শাহী মসজিদ, জয়কালী মন্দির, আসাদ গেট, বড় কাটারা, শাপলা চত্বর ফোয়ারা, ঢাকা শহররক্ষা বাঁধ, স্বোপার্জিত স্বাধীনতা ভাস্কর্য, পল্টন ময়দান, অস্ত্র তৈরির কারখানা, শিল্পকলা একাডেমী মিলনায়তন, লোকশিল্প জাদুঘর, গুলশান লেক, ওসমানী উদ্যান, গণভবন, জাতীয় সংসদ ভবন, জাতীয় স্মৃতিসৌধ, বাংলাদেশ আর্মি স্টেডিয়াম, হোটেল শেরাটন, বাংলাদেশ টেলিভিশন ভবন, ধানমন্ডি ঈদগাহ, কমলাপুর বৌদ্ধবিহার- কমলাপুর, সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল, ঢাকা তোরণ, বাংলা একাডেমী গ্রন্থাগার, ছোট কাটারা-চকবাজারের দক্ষিণে, কদম ফোয়ারা, বিমাবন্দর রক্ষাবাঁধ, জাগ্রত মুক্তিযোদ্ধা ভাস্কর্য, স্বাধীনতা জাতীয় স্কোয়ার, মেশিন টুলস ফ্যাক্টরি, বাংলাদেশ বিজ্ঞান জাদুঘর, রমনা লেক-রমনা পার্ক, যমুনা ভবন, তিন নেতার স্মৃতিসৌধ, মিরপুর স্টেডিয়াম, হোটেল পূর্বাণী-মতিঝিল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, গুলিস্তান পার্ক, বিনত বিবির মসজিদ, শাক্যমুনি বৌদ্ধবিহার, খ্রিস্টান কবরস্থান, বিমানবাহিনীর সদর দফতর গেট, আওরঙ্গবাদ দুর্গ-লালবাগ, সার্ক ফোয়ারা, দুরন্ত ভাস্কর্য-শিশু একাডেমী, বিশ্ব ইজতেমা ময়দান-টঙ্গী, ধানমন্ডি লেক-ধানমন্ডি, বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধ, প্রকৌশলী বিশ্ববিদ্যালয়, চক মসজিদ, গুরুদুয়ারা নানক শাহী, হোসনি দালান, বলাকা ভাস্কর্য, মহানগর নাট্যমঞ্চ, সামরিক জাদুঘর, রাজারবাগ শহীদ স্মৃতিসৌধ, শিখা অনির্বাণ, সাত গম্বুজ মসজিদ, কাকরাইল চার্চ, দোয়েলচত্বর ভাস্কর্য, মহিলা সমিতি মঞ্চ, হাইকোর্ট ভবন, মহাকাশবিজ্ঞান ভবন, নভোথিয়েটার, তারা মসজিদ, লালবাগ দুর্গ, বাহাদুর শাহ পার্ক, পুলিশ মিউজিয়াম, বোটানিক্যাল গার্ডেন, জাতীয় আর্কাইভস, রাজউক, ফ্যান্টাসি কিংডম, নন্দন পার্ক, ওয়ান্ডারল্যান্ড, শিশুপার্ক, শ্যামলী শিশুমেলা।

ফরিদপুর

গেরদা মসজিদ, পাতরাইল মসজিদ ও দীঘি, বাসদেব মন্দির, পল্লীকবি জসীমউদ্দীনের বাড়ি ও কবরস্থান, নদী গবেষণা ইনস্টিটিউট, জগদ্বন্ধু সুন্দরের আশ্রম, সাতৈর মসজিদ , ফাতেহাবাদ টাকশাল মথুরাপুর দেউল, বাইশ রশি জমিদার বাড়ি, জেলা জজ কোর্ট ভবন , ভাঙা মুন্সেফ কোর্ট ভবন, বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আবদুর রউফ জাদুঘর।

গাজীপুর

জাগ্রত চৌরঙ্গী, ছয়দানা দীঘি ও যুদ্ধক্ষেত্র, উনিশে স্মারক ভাস্কর্য, আনসার-ভিডিপি একাডেমী স্মারক ভাস্কর্য, মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি কর্নার, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, রাজবাড়ি শ্মশান, শৈলাট , ইন্দ্রাকপুর, কপালেশ্বর, রাজা শিশুপালের রাজধানী, একডালা দুর্গ (প্রাচীন ও ধ্বংসপ্রাপ্ত), মীর জুমলার সেতু, সাকাশ্বর স্তম্ভ, বঙ্গতাজ তাজউদ্দিনের বাড়ি, বিজ্ঞানী মেঘনাথ সাহার বাড়ি, রবীন্দ্র স্মৃতিবিজড়িত কাওরাইদ বাংলো, ভাওয়াল রাজবাড়ি, বলধার জমিদারবাড়ি, পূবাইল জমিদারবাড়ি, বলিয়াদী জমিদারবাড়ি, কাশিমপুর জমিদারবাড়ি, দত্তপাড়া জমিদারবাড়ি, হায়দ্রাবাদ দীঘি, ভাওয়াল কলেজ দীঘি, রাহাপাড়া দীঘি, টেংরা দীঘি, তেলিহাটী দীঘি, সিঙ্গার দীঘি (পালরাজাদের রাজধানী নগরী), সিঙ্গার দীঘি, কাউছি টিহর, কর্ণপুর দীঘি, চৌড়াদীঘি, মাওনা দীঘি, ঢোলসমুদ্র দীঘি ও পুরাকীর্তি, রাজবিলাসী দীঘি, কোটামুনির ডিবি ও পুকুর, মনই বিবি-রওশন বিবির দীঘি (চান্দরা), মকেশ্বর বিল, বিল বেলাই, উষ্ণোৎস, গঙ্গা (সরোবর) তীর্থক্ষেত্র, ভাওয়াল রাজশ্মশানেশ্বরী, টোক বাদশাহী মসজিদ, সমাধিক্ষেত্র (কবরস্থান), চৌড়া, কালীগঞ্জ সাকেশ্বর আশোকামলের বৌদ্ধস্তম্ভ (ধর্মরাজিকা), পানজোড়া গির্জা, ব্রাহ্মমন্দির, সমাধিক্ষেত্র, গুপ্ত পরিবার, সেন্ট নিকোলাস (চার্চ), বক্তারপুর, ঈশা খাঁর মাজার, তিমুলিয়া গির্জা।

গোপালগঞ্জ

বঙ্গবন্ধুর সমাধিসৌধ, চন্দ্রভর্ম ফোর্ট ( কোটাল দুর্গ), মুকসুদপুরের ঐতিহাসিক নিদর্শন, বহলতলী মসজিদ, ধর্মরায়ের বাড়ি, থানাপাড়া জামে মসজিদ, খাগাইল গায়েবি মসজিদ, কোর্ট মসজিদ, সেন্ট মথুরানাথ এজি চার্চ, সর্বজনীন কালীমন্দির, বিলরুট ক্যানেল, আড়পাড়া মুন্সীবাড়ি, শুকদেবের আশ্রম, খানার পাড় দীঘি, উলপুর জমিদারবাড়ি, ’৭১-এর বধ্যভূমি স্মৃতিসৌধ (স্মৃতিস্তম্ভ)।

জামালপুর

হজরত শাহ জামালের (রহ.) মাজার, হজরত শাহ কামালের (রহ.) মাজার, পাঁচ গম্বুজবিশিষ্ট রসপাল জামে মসজিদ (উনবিংশ শতাব্দী), নরপাড়া দুর্গ (ষোড়শ শতাব্দী), গান্ধী আশ্রম, দয়াময়ী মন্দির, দেওয়ানগঞ্জের সুগার মিলস, লাউচাপড়া পিকনিক স্পট।

কিশোরগঞ্জ

ঈশা খাঁর জঙ্গলবাড়ি, এগারসিন্ধুর দুর্গ, কবি চন্দ্রাবতীর শিবমন্দির, দিল্লির আখড়া, শোলাকিয়া ঈদগাহ, পাগলা মসজিদ, ভৈরব সেতু, হাওরাঞ্চল, সুকুমার রায়ের বাড়ি, জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ, দুর্জয় স্মৃতিভাস্কর্য।

মাদারীপুর

হজরত শাহ মাদারের দরগাহ, আলগী কাজিবাড়ি মসজিদ, রাজা রামমন্দির ঝাউদিগিরি, আউলিয়াপুর নীলকুঠি, মিঠাপুর জমিদারবাড়ি, প্রণব মঠ, বাজিতপুর, মঠের বাজার মঠ, খোয়াজপুর, খালিয়া শান্তি কেন্দ্র, পর্বতের বাগান, শকুনী লেক, সেনাপতির দীঘি।

মানিকগঞ্জ

বালিয়াটি প্রাসাদ, তেওতা জমিদারবাড়ি, তেওতা নবরত্ন মঠ, মানিকগঞ্জের মত্তের মঠ, রামকৃষ্ণ মিশন সেবাশ্রম, শিব সিদ্ধেশ্বরী মন্দির, শ্রী শ্রী আনন্দময়ী কালীবাড়ি, গৌরাঙ্গ মঠ, নারায়ণ সাধুর আশ্রম, মাচাইন গ্রামের ঐতিহাসিক মাজার ও পুরনো মসজিদ, বাঠইমুড়ি মাজার।

মুন্সীগঞ্জ

বল্লাল সেনের দীঘি, হরিশ্চন্দ্র রাজার দীঘি, রাজা শ্রীনাথের বাড়ি, রামপাল দীঘি, কোদাল ধোয়া দীঘি, শ্রীনগরের শ্যামসিদ্ধির মঠ, সোনারংয়ের জোড়া মঠ, হাসারার দরগাহ, ভাগ্যকূল রাজবাড়ি, রাঢ়ীখালে জগদীশচন্দ্র বসুর বাড়ি, কুসুমপুরে তালুকদার বাড়ি মসজিদ, তাজপুর মসজিদ, পাথরঘাটা মসজিদ, কাজীশাহ মসজিদ, পোলঘাটার ব্রিজ, পাঁচ পীরের দরগাহ, সুখবাসপুর দীঘি, শিকদার সাহেবের মাজার, বার আউলিয়ার মাজার, শহীদ বাবা আদমের মসজিদ, ইদ্রাকপুর কেল্লা, অতীশ দীপঙ্করের পন্ডিতভিটা, হরগঙ্গা কলেজ গ্রন্থাগারে কলেজের প্রতিষ্ঠাতা আশুতোষ গাঙ্গুলীর আবক্ষ মার্বেল মূর্তি।

ময়মনসিংহ

শশী লজ, গৌরীপুর লজ, আলেকজান্ডার ক্যাসেল, শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন সংগ্রহশালা, স্বাধীনতাস্তম্ভ, ব্রহ্মপুত্র নদের তীরবর্তী পার্ক, ময়মনসিংহ জাদুঘর, বোটানিক্যাল গার্ডেন, নজরুল স্মৃতি কেন্দ্র, মুক্তাগাছা জমিদারবাড়ি, মহারাজ সূর্যকান্তের বাড়ি, গৌরীপুর রাজবাড়ি, বীরাঙ্গনা সখিনার মাজার, রামগোপাল জমিদারবাড়ি, ফুলবাড়িয়া অর্কিড বাগান, চীনা মাটির টিলা, আবদুল জববার স্মৃতি জাদুঘর, কুমিরের খামার, তেপান্তর ফিল্ম সিটি।

নারায়ণগঞ্জ

লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন, হাজীগঞ্জে ঈশা খাঁর কেল্লা, কদমরসুল দরগাহ, পাঁচ পীরের দরগাহ, ইপিজেড আদমজী, মেরিন একাডেমী, লাঙ্গলবন্দ, সুলতান গিয়াসউদ্দিন আজম শাহের সমাধি, সোনাকান্দা দুর্গ, সালেহ বাবার মাজার, গোয়ালদী মসজিদ, সুলতান জালাল উদ্দিন ফতেহ শাহের এক গম্বুজবিশিষ্ট মসজিদ, পাগলা ব্রিজ, বন্দর শাহী মসজিদ, মেরী এন্ডারসন (ভাসমান রেস্তোরাঁ), বিবি মরিয়মের মাজার, রাসেল পার্ক, জিন্দাপার্ক।

নরসিংদী

উয়ারী বটেশ্বর, বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান জাদুঘর, সোনাইমুড়ি টেক, আশ্রাবপুর মসজিদ, ইরানি মাজার, দেওয়ান শরীফ মসজিদ, গিরিশ চন্দ্র সেনের বাস্ত্তভিটা।

নেত্রকোনা

উপজাতীয় কালচারাল একাডেমী, বিজয়পুর পাহাড়ে চিনামাটির নৈসর্গিক দৃশ্য, রানীখং মিশন, টংক শহীদ স্মৃতিসৌধ, রানীমাতা রাশমণি স্মৃতিসৌধ, কমলা রানী দীঘির ইতিহাস, নইদ্যা ঠাকুরের (নদের চাঁদ) লোক-কাহিনী, সাত শহীদের মাজার, হজরত শাহ সুলতান কমরউদ্দিন রুমির (রহ.) মাজার, রোয়াইলবাড়ি কেন্দুয়া।

রাজবাড়ী

চাঁদ সওদাগরের ঢিবি (মনসামঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্র চাঁদ সওদাগরের স্মৃতিচিহ্ন), মথুরাপুর প্রাচীন দেউল, শাহ পাহলোয়ানের মাজার, দাদ্শী মাজার, জামাই পাগলের মাজার, নলিয়া জোডা বাংলা মন্দির, সমাধিনগর মঠ (অনাদি আশ্রম), রথখোলা সানমঞ্চ, নীলকুঠি, মীর মশাররফ হোসেন স্মৃতি কেন্দ্র, দৌলতদিয়া ঘাট।

শরীয়তপুর

মগর, মহিষারের দীঘি, রাজনগর, কুরাশি, বুড়ির হাটের মসজিদ, হাটুরিয়া জমিদারবাড়ি, রুদ্রকর মঠ, রাম সাধুর আশ্রম, জমিদারবাড়ি, মানসিংহের বাড়ি, শিবলিঙ্গ, সুরেশ্বর দরবার, পন্ডিতসার, ধানুকার মনসাবাড়ি।

শেরপুর

গড় জরিপার দুর্গ , দরবেশ জরিপ শাহের মাজার, বারদুয়ারী মসজিদ, হযরত শাহ কামালের মাজার, শের আলী গাজীর মাজার, কসবার মুগল মসজিদ, ঘাঘরা লস্কর বাড়ী মসজিদ, মাইসাহেবা মসজিদ, নয়আনী জমিদারের নাট মন্দির, আড়াই আনী জমিদার বাড়ি, পৌনে তিন আনী জমিদার বাড়ি, গজনী অবকাশ কেন্দ্র।

টাঙ্গাইল

আতিয়া মসজিদ, শাহ্ আদম কাশ্মিরির মাজার, পরীর দালান, খামারপাড়া মসজিদ ও মাজার, ঝরোকা, সাগরদীঘি, গুপ্তবৃন্দাবন, পাকুটিয়া আশ্রম, ভারতেশ্বরী হোমস, মহেড়া জমিদারবাড়ি/পুলিশ ট্রেনিং সেন্টার, মির্জাপুর ক্যাডেট কলেজ, পাকুল্লা মসজিদ, কুমুদিনী নার্সিং স্কুল/কলেজ, নাগরপুর জমিদারবাড়ি, পুন্ডরীকাক্ষ হাসপাতাল, উপেন্দ্র সরোব, গয়হাটার মঠ, তেবাড়িয়া জামে মসজিদ, পাকুটিয়া জমিদারবাড়ি, বঙ্গবন্ধু সেতু, এলেঙ্গা রিসোর্ট, যমুনা রিসোর্ট, কাদিমহামজানি মসজিদ, ঐতিহ্যবাহী পোড়াবাড়ি, সন্তোষ, করটিয়া সা’দত কলেজ, কুমুদিনী সরকারি কলেজ, বিন্দুবাসিনী বিদ্যালয়, মধুপুর জাতীয় উদ্যান, দোখলা ভিআইপ রেস্ট হাউস, পীরগাছা রাবারবাগান, ভূঞাপুরের নীলকুঠি, শিয়ালকোল বন্দর, ধনবাড়ি মসজিদ ও নবাব প্যালেস, নথখোলা স্মৃতিসৌধ, বাসুলিয়া, রায়বাড়ী, কোকিলা পাবর স্মৃতিসৌধ, মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিস্তম্ভ।

বাগেরহাট

ষাট গম্বুজ মসজিদ, খানজাহান আলীর (রহ.) মাজার, সিঙ্গাইর মসজিদ, বিবি বেগনী মসজিদ, চুনখোলা মসজিদ, পীর আলী মুহাম্মদ তাহেরের সমাধি, এক গম্বুজ মসজিদ, নয় গম্বুজ মসজিদ, সাবেক ডাঙ্গা পুরাকীর্তি, রণবিজয়পুর মসজিদ, জিন্দাপীর মসজিদ, রেজা খোদা মসজিদ, খানজাহানের বসতভিটা, ঢিবি, কোদলা মঠ, ইংরেজ শাসনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহী শহীদ কৃষক রহিমুল্লাহর বাড়ি, মোরেলের স্মৃতিসৌধ, ১৮৬৩ সালে তৎকালীন এসডিও মংলা পোর্ট, চিলা চার্চ, কবি রুদ্র মোহাম্মদ শহীদুল্লাহর সমাধি, প্রফুল্ল ঘোষের বসতবাড়ি, নীলসরোবর, জমিদার ক্ষিতিষ চন্দ্রের বসতবাড়ির ধ্বংসাবশেষ, শাহ আউলিয়াবাগ মাজার, হজরত খানজাহান আলীর (রহ.) সহচর পীর শাহ আউলিয়ার মাজার, নাটমন্দির, রামজয় দত্তের কাছারিবাড়ি। ব্রিটিশ সেনাদের পর্যবেক্ষণ টাওয়ার। কৃষ্ণমূর্তি, গোপাল জিউর মন্দির, লাউপালা, যাত্রাপুর, দুবলার চর, কটকা, কচিখালি, সুন্দরবন।

চুয়াডাঙ্গা

ঘোলদাড়ি জামে মসজিদ, তিয়রবিলা বাদশাহী মসজিদ, আলমডাঙ্গা রেলস্টেশন, হজরত খাজা মালিক উল গাউসের (রহ.) মাজার (গড়াইটুপি অমরাবতী মেলা), দর্শনা কেরু অ্যান্ড কোং লি., দর্শনা রেলস্টেশন, দর্শনা শুল্ক স্টেশন, দর্শনা ইমিগ্রেশন ও কাস্টমস চেকপোস্ট, নাটুদহ আটকবর, নাটুদহ, মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিস্তম্ভ, চারুলিয়া, কার্পাসডাঙ্গা, তালসারি, দত্তনগর কৃষি খামার, ধোপাখালী মুক্তিযোদ্ধা কবরস্থান, কাশিপুর জমিদারবাড়ি, ধোপাখালী শাহী মসজিদ।

যশোর

হাজী মুহাম্মদ মহসিনের ইমামবাড়ী, মীর্জানগর হাম্মামখানা, ভরত ভায়না মাইকেল মধুসূদন দত্তের বাড়ি, ভাতভিটা, সীতারাম রায়ের দোলমঞ্চ, গাজী-কালু-চম্পাবতীর কবর, বাঘানায়ে খোদা মসজিদ, পাঠাগার মসজিদ, মনোহর মসজিদ, শেখপুরা জামে মসজিদ, শুভরাঢ়া মসজিদ, মীর্জানগর মসজিদ, ঘোপের মসজিদ, শুক্কুর মল্লিকের মসজিদ, নুনগোলা মসজিদ, কায়েমকোলা মসজিদ, বালিয়াডাঙ্গা সর্বজনীন পূজামন্দির, দশ মহাবিদ্যামন্দির, অভয়নগর মন্দির, পঞ্চরত্ন মন্দির, ভুবনেশ্বরী দেবীর মন্দির, রায়গ্রাম জোড়বাংলা মন্দির, লক্ষ্মীনারায়ণের মন্দির, মুড়লি শিবমন্দির, জোড়বাংলার দশভুজার মন্দির, চড়ো শিবমন্দির।

ঝিনাইদহ

নলডাঙ্গা মন্দির, মিয়ার দালান, কেপি বসুর বাড়ি, গোড়ার মসজিদ, মিয়ার দালান, গলাকাটা মসজিদ, জোড়বাংলা মসজিদ, সাতগাছিয়া মসজিদ, জাহাজঘাটা হাসিলবাগ গাজী-কালু-চম্পাবতীর মাজার, বলু দেওয়ানের বাজার, দত্তনগর কৃষি খামার, শৈলকুপা শাহী মসজিদ ও মাজার, শৈলকুপা রামগোপাল মন্দির, মরমি কবি পাঞ্জু শাহের মাজার, শৈলকুপা শাহী মসজিদ, কামান্না ২৭ শহীদের মাজার, সিরাজ সাঁইয়ের মাজার, ঢোলসমুদ্র দীঘি, মল্লিকপুরের এশিয়ার বৃহত্তম বটগাছ।

খুলনা

সুন্দরবন, রেলস্টেশনের কাছে মিস্টার চার্লির কুঠিবাড়ি, দক্ষিণডিহি, পিঠাভোগ, রাড়ুলী, সেনহাটি, বকুলতলা, শিরোমণি, বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিনের সমাধি সৌধ, চুকনগর, গল্লামারী, খানজাহান আলী কর্তৃক খননকৃত বড় দীঘি, মহিম দাশের বাড়ি, খলিশপুর সত্য আশ্রম।

কুষ্টিয়া

শিলাইদহ কুঠিবাড়ী, লালন শাহের মাজার, মীর মশাররফ হোসেনের বাস্ত্তভিটা, ঝাউদিয়ার শাহী মসজিদ, আড়-য়া পাড়ার নফর শাহের মাজার, কুমারখালী বাজারে দরবেশ সোনা বন্ধুর মাজার এবং সাফিয়ট গ্রামের জঙ্গলী শাহের মাজার, জর্জবাড়ী, মুহিষকুন্ডি নীলকুঠি, কালীদেবী মন্দির, মুক্তিযুদ্ধের স্মারক ভাস্কর্য ‘মুক্তবাংলা’।

মাগুরা

রাজা সীতারাম রায়ের রাজধানীর ধ্বংসাবশেষ, সুলতানী আমলে প্রতিষ্ঠিত মাগুরা আঠারখাদা মঠবাড়ি, সিদ্ধেশ্বরী মঠ, ভাতের ভিটা পুরাকীর্তি, শ্রীপুর জমিদারবাড়ি, মোকাররম আলী (রহ.) দরগাহ, শত্রুজিৎপুর মদনমোহন মন্দির।

মেহেরপুর

মুজিবনগর স্মৃতিসৌধ ও ঐতিহাসিক আম্রকানন, মুজিবনগর মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি কমপ্লেক্স, পৌর ঈদগাহ, মেহেরপুর পৌর কবরস্থান, মেহেরপুর পৌর হল, মেহেরপুর শহীদ স্মৃতিসৌধ, আমদহ গ্রামের স্থাপত্য নিদর্শন, সিদ্ধেশ্বরী কালীমন্দির, আমঝুপি নীলকুঠি, ভাটপাড়ার নীলকুঠি, সাহারবাটি, ভবানন্দপুর মন্দির।

নড়াইল

সুলতান কমপ্লেক্স, বাধাঘাট, নিরিবিলি পিকনিক স্পট, অরুনিমা ইকো পার্ক, চিত্রা রিসোর্ট, বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ নূর মোহাম্মদ শেখ কমপ্লেক্স।

সাতক্ষীরা

সুন্দরবন, মান্দারবাড়িয়া সমুদ্রসৈকত, যশোরেশ্বরী মন্দির, হরিচরণ রায়চৌধুরীর জমিদারবাড়ি ও জোড়া শিবমন্দির, যিশুর গির্জা, মোজাফফর গার্ডেন অ্যান্ড রিসোর্ট, মায়ের মন্দির, মায়ি চম্পার দরগা, জোড়া শিবমন্দির, শ্যামসুন্দর মন্দির, চেড়াঘাট কায়েম মসজিদ, তেঁতুলিয়া জামে মসজিদ, গুনাকরকাটি মাজার, বুধহাটার দ্বাদশ শিবকালী মন্দির, টাউন শ্রীপুর, দেবহাটা থানা, প্রবাজপুর মসজিদ, নলতা শরীফ।

দার্জিলিং ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে অবস্হিত।দার্জিলিং নিম্ন হিমালয়ের মহাভারত শৈলশ্রেণীতে ভূপৃষ্ঠ থেকে ৭,১০০ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত। পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের প্রশাসনিক ব্যবস্থাধীনে থাকলেও দার্জিলিং জেলার প্রধান শহর দার্জিলিংয়ের স্থানীয় প্রশাসনে আংশিক স্বায়ত্তশাসনের ক্ষমতা রয়েছে।কাঞ্চনজঙ্ঘার অনুপম সৌন্দর্য এবং টাইগার হিলের চিত্তাকর্ষক সূর্যোদয়ের জন্য দার্জিলিং বিখ্যাত।

যেভাবে যাবেন:-

ঢাকা থেকে বুড়িমারী/ফুলবাড়ী পোর্ট দিয়ে শিলিগুড়ি হয়ে দার্জিলিং যেতে পারেন।বুড়িমারী পোর্ট থেকে শিলিগুড়ি ৮২.৯ কিমি।আর ফুলবাড়ী পোর্ট থেকে শিলিগুড়ি ১২ কিমি।আবার কলকাতা থেকে শিলিগুড়ি হয়েও দার্জিলিং যেতে পারেন।কলকাতা থেকে শিলিগুড়ির দূরত্ব ৫৫৮.৭ কিমি।কলকাতা থেকে বাস/ট্রেনে শিলিগুড়ি যেতে পারেন।শিলিগুড়ি থেকে দার্জিলিং ৬৩ কিমি।

দার্জিলিং এ যা যা দেখবেন:-

১)টাইগার হিল
২)রক গার্ডেন
৩)বাতাসিয়া লুপ
৪)ঘুম মনেস্ট্রি
৫)ঘুম স্টেশন
৬)তেনজিং রক
৭)নাইদু জু
৮)হিমালয়ান মাউন্টেনিয়ারিং ইন্সটিটিউট
৯)দার্জিলিং এর চা বাগান
১০)কেবল কার রাইড
১১)মল রোড

টাইগার হিল:-

টাইগার হিল (২,৫৯০ মিটার) পশ্চিমবঙ্গের দার্জিলিং জেলায় অবস্থিত।টাইগার হিল ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্য দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ের উচ্চতম স্টেশন ঘুম শহরের সর্বোচ্চ বিন্দু। এখান থেকে মাউন্ট এভারেস্ট ও কাঞ্চনজঙ্ঘা পর্বত-এর বিস্তারিত দৃশ্যপট দেখা যায়।

টাইগার হিল দার্জিলিং শহর থেকে ১১ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। দার্জিলিং থেকে এখানে জিপে করেও যাওয়া যায়। আবার চৌরাস্তা, আলুবাড়ি বা জোড়বাংলা হয়ে পায়ে হেঁটে গিয়ে, তারপর পাহাড়ি পথ বেয়ে উঠেও পৌঁছানো যায়।

সূর্যোদয়ের সময় নিচু উচ্চতায় সূর্যকে দেখতে পাওয়ার আগেই কাঞ্চনজঙ্ঘার শিখরগুলি আলোকিত হয়ে ওঠে। পৃথিবীপৃষ্ঠের বক্রতার জন্য টাইগার হিল থেকে মাকালু পর্বতকে (৮৪৮১ মিটার) মাউন্ট এভারেস্টের (৮৮৪৮ মিটার) থেকে উঁচু মনে হয়। টাইগার হিল থেকে সরলরেখায় মাউন্ট এভারেস্টের দূরত্ব ১৭২ কিমি।

আকাশ পরিষ্কার থাকলে দক্ষিণে কার্শিয়াং শহর এবং কিছু দূরে দক্ষিণেই তিস্তা নদী, মহানন্দা নদ, বালাসোন নদ ও মেচি নদীকে সর্পিল পথে এঁকে বেঁকে চলতে দেখা যায়।চোলা পর্বতমালার পিছনে অবস্থিত তিব্বতের চুমল রি পর্বতটিকেও টাইগার হিল থেকে দেখা যায়। এই পর্বতটি টাইগার হিল থেকে ১৩৫ কিমি দূরে অবস্থিত।সেঞ্চল বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য টাইগার হিলের কাছে অবস্থিত।

ঘুম স্টেশন:-

দার্জিলিংয়ের পাহাড়ি পথ বেয়ে এই রেল লাইন শিলিগুড়ি পর্যন্ত বিস্তৃত। এই ট্রেন পরিচালনা করে যে সংস্থা তার নাম দার্জিলিং হিমালয়ান রেল কর্তৃপক্ষ। ১৮৭৯ থেকে ১৮৮১ সালে এই পথ নির্মাণ করা হয়েছিলো। এর দৈর্ঘ্য ৮৬ কিলোমিটার। পথের উচ্চতা শিলিগুড়িতে ৩২৮ ফুট। আর দার্জিলিংয়ে ৭৪০৫ ফুট। ভারতের সর্বোচ্চ রেলপথ এটি। দ্বিতীয় স্থানে আছে শিমলা। এখানে দু ধরনের ট্রেন চলে। একটি বাষ্পচালিত। আরেকটা ডিজেল চালিত।

ফ্রাঙ্কলিন প্রিস্টেজ নামে এক লোক শিলিগুড়ি এবং দার্জিলিংয়ের মধ্যে বাষ্পচালিত ট্রেন লাইনের প্রস্তাব করেন। ব্রিটিশ আমলের কথা। তখন বাংলার গর্ভনর ছিলেন স্যার এ্যাশলে ইডেন। সম্ভবত তার নামেই ঢাকার ইডেন কলেজ। তিনি প্রস্তাবে সায় দিয়েছিলেন। ১৮৭৮ সালে কোলকাতা- শিলিগুড়ি স্ট্যান্ডার্ড লাইনের মাধ্যমে এই দুটি শহর রেল সেবায় যুক্ত হয়েছিলো। ঠিক এর পরের বছরই ফ্রাঙ্কলিনের প্রস্তাবের পরপরই শিলিগুড়ি- দার্জিলিং ন্যারো গেজের কাজ শুরু হয়েছিলো। নির্মাণ কাজ করেছিলো গিলান্ডারস আরবার্থনট এ্যান্ড কোম্পানি। ১৮৮০ সালের ২৩ আগস্ট শিলিগুড়ি-কার্শিয়াং অংশ চালু হয়েছিলো।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় দার্জিলিং ও ঘুমের একাধিক সেনা ক্যাম্পে রসদ সরবরাহ করা হয়েছিলো এই রেলপথ ব্যবহার করে।

১৯৮৮-৮৯ সালে গোর্খাল্যান্ড আন্দোলনের কারণে এই পথ ১৮ মাস বন্ধ ছিলো। ১৯৯৯ সালে ইউনেস্কো এটিকে বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে ঘোষণা করে। এর আগে একমাত্র অস্ট্রিয়ার সেমারিং রেলওয়ে ১৯৯৮ সালে বিশ্ব ঐতিহ্যের মর্যাদা পেয়েছিলো। সেদিক থেকে দার্জিলিং বা ঘুম দ্বিতীয়।

বাতাসিয়া লুপ:-

এই লুপের বিশেষত্ব হলো এটি একটি পাহাড়ের মাথায় অবস্থিত। অনেকটা মালভূমির মতো। উপর থেকে নিচে ক্রমশ সুষম ঢালু। এখান থেকেও কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা যায়। অবশ্যই আকাশ পরিষ্কার থাকা সাপেক্ষে।

মাঝখানের মিনার বা স্তম্ভকে ঘিরে রয়েছে শ্বেতপাথরে বাঁধানো চত্বর। বৃষ্টি থেকে রক্ষা কিংবা বিশ্রাম নেয়ার জন্য কিছু ছাউনিও রয়েছে। দূর থেকে দেখলে মনে হবে পুরো চত্বরটি কাত হয়ে আছে। একদিকে হেলে পড়ে যেতে পারে।ট্রয় ট্রেনে ওঠার প্রধান আকর্ষণ হচ্ছে এর মধ্যে চেপে বাতাসিয়া লুপ পার হওয়া।

বাতাসিয়া লুপ এবং ঘুম রেল স্টেশন এখন ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজের অংশ।

তেনজিং রক:-

তেনজিং নোরগে এভারেস্ট জয় করেন ১৯৫৩ সালে।আর তেনজিং রক প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৫৪ সালে। এটি একটি প্রাকৃতিক পাথরখণ্ড। জানা যায়, তেনজিং নোরগে এভারেস্ট জয়ের আগে এতে অনুশীলন করেন। পরের বছর পর্বতারোহণে সবাইকে উদ্বুদ্ধ করতে এটি প্রতিষ্ঠা করেন।

জওহর লাল নেহেরু সেসময় দার্জিলিং ভ্রমণে এলে কোনো নিরাপত্তা সরঞ্জাম ছাড়াই এই পাথরখণ্ডে ওঠেন তেনজিং। দার্জিলিংয়ে প্রতিষ্ঠিত হিমালয়ান মাউন্টেইনিং ইনস্টিটিউটের প্রথম ডিরেক্টরও হন তানজিং নোরগে।এই রকটি এখনও পর্বতারোহী ও ভারতীয় সেনাদের মহড়ার জন্য ব্যবহৃত হয়।হিমালয় আরোহনের আগে এই ছোট্ট এই রকে আরোহন এখনও মানা হয় আশীর্বাদ হিসেবে।

দার্জিলিংয়ের ইতিহাস:-

দার্জিলিংয়ের ইতিহাস সিকিম,নেপাল,ভূটান ও ব্রিটিশ ভারতের ইতিহাসের সঙ্গে বিশেষভাবে জড়িত। ঊনবিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধ পর্যন্ত সিকিম রাজ্য দ্বারা দার্জিলিং সংলগ্ন পাহাড়ী অঞ্চল এবং নেপাল রাজ্য দ্বারা শিলিগুড়ি সংলগ্ন তরাই সমতল অঞ্চল শাসিত হত।১৭৮০ খ্রিস্টাব্দ থেকে নেপালের গুর্খারা সমগ্র পাহাড়ী অঞ্চল অধিকারের চেষ্টা শুরু করলে সিকিম রাজ্যের ছোস-র্গ্যাল তাঁদের সঙ্গে যুদ্ধে জড়িত হয়ে পড়েন। ঊনবিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকে নেপালীরা তিস্তা নদীর তীর পর্যন্ত সিকিম সেনাবাহিনীকে হঠিয়ে দিতে সক্ষম হয়। এই সময় সমগ্র উত্তর সীমান্তে নেপালীদের বিজয়যাত্রা রুখতে ব্রিটিশরা তাঁদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়। ১৮১৪ খ্রিস্টাব্দে সংগঠিত ইঙ্গ-গুর্খা যুদ্ধের ফলে গুর্খারা পরাজিত হয়ে পরের বছর সগৌলি চুক্তি স্বাক্ষর করে। এই চুক্তির ফলে সিক্কিম রাজ্য থেকে অধিকৃত মেচী নদী থেকে তিস্তা নদী পর্যন্ত সমস্ত অঞ্চল নেপালীরা ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিকে সমর্পণ করতে বাধ্য হয়। ১৮১৭ খ্রিস্টাব্দে তিতালিয়া চুক্তি স্বাক্ষরের মাধ্যমে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি এই অঞ্চল ছোস-র্গ্যালকে ফিরিয়ে দিয়ে সিকিম রাজ্যের সার্বভৌমত্ব সুনিশ্চিত করে।

১৮৩৫ খ্রিস্টাব্দে লেপচা ও হিন্দুস্থানী ভাষায় রচিত এই চুক্তির ফলে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিকে দার্জিলিং অঞ্চলের লীজ প্রদান করা হয়।

১৮২৮ খ্রিস্টাব্দে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির এক প্রতিনিধিদল নেপাল-সিকিম অঞ্চলের সীমান্তে তাদের যাত্রাকালে দার্জিলিং অঞ্চলে অবস্থান করার সময় এই স্থানে ব্রিটিশ সৈন্যবাহিনীর স্বাস্থ্য উদ্ধারকেন্দ্র নির্মাণ করার সিদ্ধান্ত নেন।১৮৩৫ খ্রিস্টাব্দে কোম্পানি ছোস-র্গ্যালের নিকট হতে মহানন্দা নদীর পশ্চিমাঞ্চল লীজ নেন।১৮৪৯ খ্রিস্টাব্দে সিকিম রাজ্য আর্থার ক্যাম্পবেল নামক কোম্পানির একজন আধিকারিক এবং জোসেফ ডাল্টন হুকার নামক একজন উদ্ভিদবিদ ও অভিযাত্রীকে গ্রেপ্তার করলে কোম্পানি তাঁদের মুক্ত করার জন্য সেনাবাহিনী পাঠায়, যার ফলে ১৮৫০ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে কোম্পানি ৬৪০ বর্গমাইল এলাকা অধিকার করে নেয়। ১৮৬৪ খ্রিস্টাব্দে ভূ্টান ও ব্রিটিশরা সিঞ্চুলা চুক্তি স্বাক্ষর করলে কালিম্পং ও পাহাড়ের গিরিপথগুলির ওপর ব্রিটিশ রাজের অধিকার হয়।ব্রিটিশ ও সিকিমের মধ্যে ক্রমবর্ধমান বিবাদের ফলে ১৮৬৫ খ্রিস্টাব্দে তিস্তা নদীর পূর্ব তীরের অঞ্চলগুলি ব্রিটিশদের হস্তগত হয়। ১৮৬৬ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে ১,২৩৪ বর্গমাইল ক্ষেত্রফল এলাকা নিয়ে দার্জিলিং জেলা গঠিত হয়, যা বর্তমানে একই আকারের রয়ে গেছে।

গ্রীষ্মকালে সমতলভূমির প্রচণ্ড দাবদাহ থেকে রক্ষা পাওয়ার উদ্দেশ্যে ব্রিটিশ আধিকারিকেরা দার্জিলিংয়ের মনোরম আবহাওয়ায় বসবাস শুরু করলে দার্জিলিং একটি শৈলশহর ও স্বাস্থ্য উদ্ধারকেন্দ্র হিসেবে গড়ে ওঠে।আর্থার ক্যাম্পবেল ও রবার্ট নেপিয়ার এই শৈলশহর গঠনে অগ্রণী ভূমিকা নেন। তাঁদের এই প্রচেষ্টার ফলে ১৮৩৫ থেকে ১৮৪৯ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে পাহাড়ের ঢালে চাষাবাদ ও ব্যবসা বাণিজ্য শুরু হলে দার্জিলিংয়ের জনসংখ্যা শতগুণ বৃদ্ধি পায়।১৮৩৯ থেকে ১৮৪২ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে সমতলের সঙ্গে সংযোগকারী প্রথম সড়কপথ নির্মিত হয়।১৮৪৮ খ্রিস্টাব্দে ব্রিটিশ সৈন্যদের জন্য অস্ত্রাগার নির্মিত হয় এবং ১৮৫০ খ্রিস্টাব্দে এই শহরকে পুরসভায় পরিণত করা হয়।১৮৫৬ খ্রিস্টাব্দ থেকে বাণিজ্যিক ভাবে চা চাষ শুরু হলে বেশ কিছু ব্রিটিশ চা প্রস্তুতকারক এই স্থানে বসবাস শুরু করেন।১৮৬৪ খ্রিস্টাব্দে দার্জিলিং শহরকে বেঙ্গল প্রেসিডেন্সের গ্রীষ্মকালীন রাজধানী রূপে আনুষ্ঠানিক ভাবে ঘোষনা করা হয়।স্কটিশ ধর্মপ্রচারকরা ব্রিটিশ আধিবাসীদের জন্য বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা শুরু করেন। ১৮৮১ খ্রিস্টাব্দে দার্জিলিং হিমালয়ান রেল চালু হলে শহরের উন্নয়ন আরো দ্রুত হারে বৃদ্ধি পায়।

ব্রিটিশ শাসনকালের শুরুতে দার্জিলিংকে অর্থনৈতিক ভাবে অনুন্নত জেলা হিসেবে গণ্য করা হত, যার ফলে ব্রিটিশ ভারতের অন্যান্য জেলাতে প্রযোজ্য আইন এই অঞ্চলে বলবত হত না। ১৯১৯ খ্রিস্টাব্দে এই অঞ্চলকে একটি পিছিয়ে পড়া অঞ্চল হিসেবে ঘোষণা করা হয়।ভারতীয় স্বাধীনতা আন্দোলনের সময় দার্জিলিং অঞ্চলের চা বাগানগুলিতে অসহযোগ আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে।১৯৩৪ খ্রিস্টাব্দে সশস্ত্র বিপ্লবীরা বাংলার গভর্নর স্যার জন অ্যান্ডারসনকে হত্যার চেষ্টাও করেন।১৯৪০-এর দশকে এই জেলার চা শ্রমিকদেরকে সংগঠিত করে কমিউনিস্টরা ব্রিটিশ রাজের বিরুদ্ধে জাতীয়তাবাদী আন্দোলন শুরু করেন।

১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দে ভারতের স্বাধীনতার পর দার্জিলিং, কার্শিয়াং, কালিম্পং ও তরাই অঞ্চলের কিয়দংশ নিয়ে নির্মিত দার্জিলিং জেলাকে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের সঙ্গে যুক্ত করা হয়। পাহাড়ে নেপালীরা প্রধান জনগোষ্ঠী হিসেবে বসবাস করলেও তরাই সমতলে ভারত ভাগের ফলে পূর্ব পাকিস্তান থেকে আগত বিশাল সংখ্যক বাঙালি উদ্বাস্তুরা বসবাস শুরু করতে শুরু করে। নেপালীদের দাবীগুলির প্রত্যুত্তরে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের নিস্পৃহ মনোভাবে বিংশ শতাব্দীর পঞ্চাশ ও ষাটের দশকে দার্জিলিংয়ের স্বায়ত্তশাসন ও নেপালী ভাষার স্বীকৃতির দাবী ওঠে।

১৯৭৫ খ্রিস্টাব্দে সিকিম নামক একটি নতুন রাজ্যের উদ্ভব হলে এবং ভারত সরকার দ্বারা নেপালী ভাষাকে ভারতীয় সংবিধান অনুসারে প্রাতিষ্ঠানিক ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি প্রদানের নিস্পৃহতা লক্ষ্য করে এই অঞ্চলে গোর্খাল্যান্ড নামক একটি নতুন রাজ্য তৈরীর জন্য বিংশ শতাব্দীর আশির দশক জুড়ে ব্যাপক ও হিংসাত্মক আন্দোলন শুরু হয়।১৯৮৮ খ্রিস্টাব্দে গোর্খা ন্যাশনাল লিবারেশন ফ্রন্ট ও সরকারের মধ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষরের ফলে দার্জিলিং গোর্খা পার্বত্য পরিষদ নামক একটি নির্বাচিত প্রতিনিধিদলের সৃষ্টি করা হয়, যাদের ওপর এই জেলার প্রশাসনিক স্বায়ত্তশাসনের অধিকার দেওয়া হয়। ২০০৮-০৯ সাল নাগাদ ভারত সরকার ও পশ্চিমবঙ্গ সরকার গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার পৃথক রাজ্যের দাবী মেনে নিতে অস্বীকৃত হলে পুনরায় ধর্মঘট আন্দোলন শুরু হয়।২০১১ খ্রিষ্টাব্দের জুলাই মাসে ভারত সরকার, পশ্চিমবঙ্গ সরকার ও গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার মধ্যে একটি চুক্তির ফলে গোর্খাল্যান্ড টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন নামক একটি নতুন স্বায়ত্তশাসিত পার্বত্য পরিষদ গঠন করে এই জেলার প্রশাসনিক দায়িত্ব প্রদান করা হয়।

Source: Dip Biswas

জলজ ফুলের রানী বলা হয় পদ্মকে। প্রাকৃতিকভাবে জন্ম নেওয়া পদ্মফুল সৌন্দর্য বাড়িয়ে দিয়েছে গোপালগঞ্জের বিলের চিত্র। দূর থেকে মনে হবে যেন ফুলের বিছানা পেতে রেখেছে কেউ। প্রতিদিনই এ সৌন্দর্য উপভোগ করতে আসছে দর্শনার্থীরা!

গোপালগঞ্জ জেলার চার পাশে রয়েছে অসংখ্য বিল। তার মধ্যে অন্যতম সদর উপজেলার বলাকইড় বিল। গোপালগঞ্জ জেলা সদর থেকে মাত্র ১২ কিলোমিটার দূরে। ১৯৮৮ সালের পর থেকে বর্ষাকালে এ বিলের অধিকাংশ জমিতেই প্রাকৃতিকভাবে পদ্মফুল জন্মে। আর এ কারণে এখন এ বিলটি পদ্মবিল নামেই পরিচিত হয়ে উঠেছে।

বর্ষা মৌসুমে চারিদিকে শুধু পদ্ম আর পদ্ম। বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে গোলাপি রং এর পদ্ম দেখলে মন ও জুড়িয়ে যায়। চোখ যত দূর যায় শুধু পদ্ম আর পদ্ম। এমন অপরূপ দৃশ্য ভ্রমণপিপাসুদের হাতছানি দিচ্ছে। এ বিলের সৌন্দর্য ও পদ্ম দেখার জন্য দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রতিদিনই আসছে শতশত মানুষ।

যেভাবে যাবেন:-ঢাকা গুলিস্তান বাস টার্মিনাল থেকে মধুমতি অথবা টুঙ্গিপাড়া এক্সপ্রেসে গোপালগন্জ শহর!সেখান থেকে সিএনজি করে করপাড়া বাজার!করপাড়া বাজার থেকে ইটের রাস্তা ধরে ৫ মিনিট হাঁটলেই পদ্ম বিল…

source: Dip Biswas

কাপ্তাই – অাসামবস্তি,রাঙ্গামাটি সংযোগ রোড বাংলাদেশের অপার্থিব সুন্দর একটি সড়ক।এই সংযোগ সড়ক প্রায় ১৯.৫ কিলোমিটার দীর্ঘ।
কাপ্তাই রাঙ্গামাটি লিংক রোড ধরে চলতে থাকলে অনেক সুন্দর সুন্দর প্রাকৃতিক নৈসর্গিক দৃশ্য চোখে পড়বে অাপনার। রাস্তার একপাশে লেক, অন্যপাশে সবুজ পাহাড় পর সবুজ পাহাড়।অসাধারন সব প্রাকৃতিক দৃশ্য উপভোগ করতে পারবেন অাপনি এই রাস্তা দিয়ে গেলে। সবুজে ভরা বন বনানী ও কাপ্তাই লেকের দৃশ্যে আপনার চোখ জুড়িয়ে দিবে।বড়গাঙ ও আসামবস্তি সড়কসেতু, যা সম্ভবত প্রাকৃতিক পরিবেশের জন্য শ্রেষ্ঠ মেলবন্ধন হিসেবে কাজ করে প্রাকৃতিক নৈসর্গিক সৌন্দর্য অসাধারণ করে রেখেছে।এই সড়কের বড়গাঙ নামক জায়গাতে একটি রিসোর্ট রয়েছে।এছাড়া এখানের অল্প অদূরে কায়াকিং ঘাট থেকে কায়াক ভাড়া করে কাপ্তাই লেকে ভ্রমণ করতে পারবেন।বড়গাঙ,স্মৃতি মন্দির ছাড়াও সড়কের পাশে অারও অনেক সুন্দর সুন্দর স্পট রয়েছে।

যেভাবে যাবেনঃ
ঢাকা বা চট্রগ্রাম শহর হতে বাসে করে কাপ্তাইয়ের নতুন বাজারে নেমে সিএনজি (ভাড়া জনপ্রতি ৯০ টাকা) যোগে অাসামবস্তি পর্যন্ত যেতে পারবেন।অাপনি চাইলে সিএনজি রিজার্ভ নিয়েও অাসামবস্তি যেতে পারবেন।
ঢাকা থেকে কাপ্তাই বাস ভাড়া ৫৫০ টাকা।অাপনি চাইলে রাতে ঢাকা শহর হতে কাপ্তাই এসে কাপ্তাই – অাসমবস্তি সংযোগ সড়ক বেড়িয়ে অাবার রাতে ঢাকা শহরে ফিরে যেতে পারবেন।এক্ষেত্রে একজনের খরচ পড়বে প্রায় ১৭০০ টাকা মাত্র।

পরিবেশে সুন্দর রাখতে অবশ্যই সচেতন হবেন।যেখানে সেখানে ময়লা ফেলবেন না।অার যদি পারেন,অন্যদেরও পরিবেশ সুন্দর রাখার ব্যাপারে সচেতন করবেন।

source: Rakibul Islam Rakib <Travelers of Bangladesh (ToB)

আজ আকাশের মন খারাপ। শিলিগুড়ি জংশন মোড়ের স্বস্তিক রিজেন্সী’র ১০৪ নম্বর কক্ষের জানালায় বাতাসের ডানা ঝাপটানি শব্দ। অসময়ের শিলা বৃষ্টিতে শীত জেকে বসেছে তীব্র। আমি মুসাফির, হোটেলে অবরুদ্ধ। টেলিভিশন দেখতেও ইচ্ছে করে না। বাক্স খুললেই ইমরান-মোদী’র যুদ্ধ যুদ্ধ খেলা। ঘন্টাখানেক বাদে বৃষ্টি কিছুটা কমতেই আকাশে সূর্যের হাসি। গুটিগুটি পায়ে হোটেল থেকে বেড়িয়ে পরলাম। কিন্ত গন্তব্য অজানা।

মহানন্দা ব্রীজের উপর দাঁড়িয়ে ডান/বাম দেখছি। বাম দিকটা বস্তির মত। মহিষের খামারের অসহ্য গোমূত্রের গন্ধ। ডান দিকে শবদেহ বারনিং পয়েন্ট। ব্রীজের নীচে চোখ পরতেই গা গুলিয়ে গেলো। এযে পঁচা/নোংরা পানির মহানন্দা। পঁচা/নোংরা পানিতেই চলছে কিছু মানুষের গোসলসহ প্রত্যাহিক কাজ। শিলিগুড়ি শহরের সাথে আমার প্রিয় ঢাকা’র আছে অদ্ভুত কিছু সাদৃশ্য। এখানে ম্যানহোলে ঢাকনা নেই, ড্রেন উপচানো ময়লা পানি, তীব্র যানজট, আর গাড়ির হর্ণ। শিলিগুড়ি, তুমি ঢাকা’র মাসতুতো ভাই….। আমার সামনে দিয়ে সিকিম ও দার্জিলিংয়ের জীপগুলো চলে যাচ্ছে। যদিও এবারে হালের ক্রেজ সিকিমে যাবার প্লান ছিলো। কিন্ত ব্লু- পাসপোর্টের বেড়াজালে সিকিম যাওয়া আর হলোনা।


এই সেবক… সেবক মোড়…..শব্দ কানে এলো।
টোটো ড্রাইভার যাত্রী তুলছে। সেবক এর কথা এক দিদির মুখে শুনেছিলাম। জায়গাটি নাকি অনেক সুন্দর। কিছু না ভেবেই টোটোতে উঠলাম। ১০ রুপি ভাড়ায় পানির ট্যাংকি পেড়িয়ে সেবক মোড় হয়ে পি.সি.মিত্তাল। এখান থেকে কালিম্পংগামী লোকাল বাসে চেপে বসলাম। আমার গন্তব্য সেবক ব্রীজ। যা শিলিগুড়ি থেকে ২২ কিলোমিটার দূরে।
মিনিট পাঁচেকের মধ্যে বাস ছেড়ে দিল। সামনের বেশ কয়েকটি আসনে দিদিদের উচ্চস্বরে কথাবার্তার বিষয়বস্ততে ওনারা কোনো স্কুল/কলেজের শিক্ষিকা বলেই মনে হলো। ভাটা মাছের ঝোল দিয়ে শুরু করে পাকিস্তানে ৩০০ জঙ্গি নিহতের ঘটনা কোনো কিছুই বাদ ছিলো না দিদিদের আলাপনে। আমি নাদান বান্দা, ২৫ রুপি ভাড়ার বিনিময়ে পাহাড়ি সৌন্দর্য আর আঁকাবাঁকা পথ দেখতে দেখতে ৪০/৪৫ মিনিটে পৌঁছে গেলাম কালীমন্দির। 


বাস থেকে নামতেই ঠান্ডা হাওয়ার ঝাপটা চোখমুখে। পাহাড়ের উপরে কালীমন্দিরে যাওয়ার ইচ্ছে হলো না। অগত্যা পাহাড়ি রাস্তার এক বাঁক পেড়িয়ে মিনিট দুই হেঁটেই পেলাম সুন্দর একটা ব্রীজ। পাহাড়ি তিস্তা নদীর উপর নির্মিত এ ব্রীজটি সেবক ব্রীজ নামে ব্যাপক পরিচিত। এখানের সোজা রাস্তাটি চলে গেছে গ্যাংটকের দিকে। দিক নির্দেশনায় দেখলাম গ্যাংটক এখান থেকে ৯২ কিলোমিটার দূরে। ব্রীজ পেড়িয়ে ডান দিকের রাস্তাটি চলে গেছে কালিম্পংয়ের দিকে। এখান থেকে কালিম্পংয়ের দূরত্ব ৪৫ কিলোমিটার।
ব্রীজ এবং রাস্তা দেখে আমার চেনাচেনা মনে হলো। ২০১৭ সালের ডিসেম্বরের শেষের দিকে এ পথ দিয়েই প্যারাগ্লাইডিং এবং রাফটিং করার জন্য কালিম্পং গিয়েছিলাম।
ব্রীজে দাঁড়িয়ে ডান ও বাম দিকের দৃশ্যে আমি অভিভূত। সৃষ্টা নিজ হাতে সৃষ্টি না করলে তার সৌন্দর্য বুঝি এমন হয়না!!! অসাধারণ…. অবর্ননীয় সে অনুভূতি। নীচে তিস্তার সবুজাভ জল আর পাহাড়ের গা বেয়ে মেঘের লুকোচুরি খেলা। আহা!……..। 


এবার পাহাড়ি সৌন্দর্যে ভিজতে ভিজতে মনের গহীনকোনে আবার এপথে আসার আকুতি নিয়ে গ্যাংটক থেকে আসা লোকাল বাসে ৩০ রুপিতে জংশন মোড়ে নেমে পরলাম।
বি.দ্র. যেখানেই যাই পরিবেশ সুন্দর রাখি।
আজ আকাশের মন খারাপ। শিলিগুড়ি জংশন মোড়ের স্বস্তিক রিজেন্সী’র ১০৪ নম্বর কক্ষের জানালায় বাতাসের ডানা ঝাপটানি শব্দ। অসময়ের শিলা বৃষ্টিতে শীত জেকে বসেছে তীব্র। আমি মুসাফির, হোটেলে অবরুদ্ধ। টেলিভিশন দেখতেও ইচ্ছে করে না। বাক্স খুললেই ইমরান-মোদী’র যুদ্ধ যুদ্ধ খেলা। ঘন্টাখানেক বাদে বৃষ্টি কিছুটা কমতেই আকাশে সূর্যের হাসি। গুটিগুটি পায়ে হোটেল থেকে বেড়িয়ে পরলাম। কিন্ত গন্তব্য অজানা।

মহানন্দা ব্রীজের উপর দাঁড়িয়ে ডান/বাম দেখছি। বাম দিকটা বস্তির মত। মহিষের খামারের অসহ্য গোমূত্রের গন্ধ। ডান দিকে শবদেহ বারনিং পয়েন্ট। ব্রীজের নীচে চোখ পরতেই গা গুলিয়ে গেলো। এযে পঁচা/নোংরা পানির মহানন্দা। পঁচা/নোংরা পানিতেই চলছে কিছু মানুষের গোসলসহ প্রত্যাহিক কাজ। শিলিগুড়ি শহরের সাথে আমার প্রিয় ঢাকা’র আছে অদ্ভুত কিছু সাদৃশ্য। এখানে ম্যানহোলে ঢাকনা নেই, ড্রেন উপচানো ময়লা পানি, তীব্র যানজট, আর গাড়ির হর্ণ। শিলিগুড়ি, তুমি ঢাকা’র মাসতুতো ভাই….। আমার সামনে দিয়ে সিকিম ও দার্জিলিংয়ের জীপগুলো চলে যাচ্ছে। যদিও এবারে হালের ক্রেজ সিকিমে যাবার প্লান ছিলো। কিন্ত ব্লু- পাসপোর্টের বেড়াজালে সিকিম যাওয়া আর হলোনা।
এই সেবক… সেবক মোড়…..শব্দ কানে এলো।
টোটো ড্রাইভার যাত্রী তুলছে। সেবক এর কথা এক দিদির মুখে শুনেছিলাম। জায়গাটি নাকি অনেক সুন্দর। কিছু না ভেবেই টোটোতে উঠলাম। ১০ রুপি ভাড়ায় পানির ট্যাংকি পেড়িয়ে সেবক মোড় হয়ে পি.সি.মিত্তাল। এখান থেকে কালিম্পংগামী লোকাল বাসে চেপে বসলাম। আমার গন্তব্য সেবক ব্রীজ। যা শিলিগুড়ি থেকে ২২ কিলোমিটার দূরে।
মিনিট পাঁচেকের মধ্যে বাস ছেড়ে দিল। সামনের বেশ কয়েকটি আসনে দিদিদের উচ্চস্বরে কথাবার্তার বিষয়বস্ততে ওনারা কোনো স্কুল/কলেজের শিক্ষিকা বলেই মনে হলো। ভাটা মাছের ঝোল দিয়ে শুরু করে পাকিস্তানে ৩০০ জঙ্গি নিহতের ঘটনা কোনো কিছুই বাদ ছিলো না দিদিদের আলাপনে। আমি নাদান বান্দা, ২৫ রুপি ভাড়ার বিনিময়ে পাহাড়ি সৌন্দর্য আর আঁকাবাঁকা পথ দেখতে দেখতে ৪০/৪৫ মিনিটে পৌঁছে গেলাম কালীমন্দির। 


বাস থেকে নামতেই ঠান্ডা হাওয়ার ঝাপটা চোখমুখে। পাহাড়ের উপরে কালীমন্দিরে যাওয়ার ইচ্ছে হলো না। অগত্যা পাহাড়ি রাস্তার এক বাঁক পেড়িয়ে মিনিট দুই হেঁটেই পেলাম সুন্দর একটা ব্রীজ। পাহাড়ি তিস্তা নদীর উপর নির্মিত এ ব্রীজটি সেবক ব্রীজ নামে ব্যাপক পরিচিত। এখানের সোজা রাস্তাটি চলে গেছে গ্যাংটকের দিকে। দিক নির্দেশনায় দেখলাম গ্যাংটক এখান থেকে ৯২ কিলোমিটার দূরে। ব্রীজ পেড়িয়ে ডান দিকের রাস্তাটি চলে গেছে কালিম্পংয়ের দিকে। এখান থেকে কালিম্পংয়ের দূরত্ব ৪৫ কিলোমিটার।
ব্রীজ এবং রাস্তা দেখে আমার চেনাচেনা মনে হলো। ২০১৭ সালের ডিসেম্বরের শেষের দিকে এ পথ দিয়েই প্যারাগ্লাইডিং এবং রাফটিং করার জন্য কালিম্পং গিয়েছিলাম।
ব্রীজে দাঁড়িয়ে ডান ও বাম দিকের দৃশ্যে আমি অভিভূত। সৃষ্টা নিজ হাতে সৃষ্টি না করলে তার সৌন্দর্য বুঝি এমন হয়না!!! অসাধারণ…. অবর্ননীয় সে অনুভূতি। নীচে তিস্তার সবুজাভ জল আর পাহাড়ের গা বেয়ে মেঘের লুকোচুরি খেলা। আহা!……..।
এবার পাহাড়ি সৌন্দর্যে ভিজতে ভিজতে মনের গহীনকোনে আবার এপথে আসার আকুতি নিয়ে গ্যাংটক থেকে আসা লোকাল বাসে ৩০ রুপিতে জংশন মোড়ে নেমে পরলাম।
বি.দ্র. যেখানেই যাই পরিবেশ সুন্দর রাখি।

source: AL Mamunur Rashid <Travelers of Bangladesh (ToB)