Daily Archives

Tuesday, July 16, 2019

16 Jul 2019

সকালে চলে গেলাম পেহেলগাম ট্যাক্সি স্টান্ড,,, সেখানে বিভিন্নরকম গাড়ী আছে, আমরা একটা ইনোভা নিলাম সরকারি রেইট এর চেয়ে অল্প কিছু কম রাখলো বাংলাদেশী পরিচয় দেয়ার পর 😍

প্রথমেই গেলাম আরু ভ্যালী,, পাহাড় বেস্টিত সবুজ পাইন গাছের সারি আর মেঘের ভেলা, আহ মন জুড়ানো পরিবেশ,, সেখানে ঘুরে ফিরে,, এবার গেলাম পেহেলগাম মিনি চিড়িয়াখানায়, কিন্তু খুব হতাশ হলাম পশু পাখি খুব ই কম 🙄 তারপর ঘুরে দেখলাম রাফটিং পয়েন্ট, জনপ্রতি ৬০০ টাকায় খরোস্রতা লিডারনদীতে রাফটিং করা যায়, , আমরা করি নাই কারন সেদিন একটা প্রতিযোগিতা ছিলো,, তারপর আমরা চলে গেলাম বেতাব ভ্যালী 😘 মনমুগ্ধকর এক পরিবেশ, কিন্তু এমন বাতাস আর ঠান্ডা ছিলো যে দারানোই কষ্টকর, সেখানে সবাই ছবি তুলে চা খেয়ে রওনা দিলাম,, চন্দন ওয়ারীর পথে,,,আকা বাকা পাহাড়ি পথ ধরে আমরা পৌছে গেলাম চন্দন ওয়ারী বাজার এ,, এখানে তাপমাত্রা ছিলো খুব ই কম আর সাথে প্রচন্ড বাতাস,, চন্দন ওয়ারীতেই ও বরফ পেলাম,, সবাই বরফে ফটোসেশান নিয়ে ব্যাস্ত হয়ে গেলো, সেখানে প্রায় ঘন্টা খানেক কাটিয়ে রওনা দিলাম,, পেহেলগাম ভিউ পয়েন্ট এর দিকে,, কিন্তু এমন ব্রিস্টি শুরু হলো।যে কোথায় নামা ও মুশকিল 😔 এভাবেই প্রায় ৫ টা বেজে গেলো আমরা চলে গেলাম পেহেলগাম ট্যাক্সি স্টান্ড এ,,, সেখানে নেমে হাল্কা কিছু খেয়ে চলে গেলাম হোটেল এ,,, টিপ টিপ ব্রিস্টি হচ্ছে, উত্তাল লিডারনদীর শো শো আওয়াজ এর মাঝে বাংলাদেশ বনাম উইন্ডিজ এর খেলা উপভোগ করতে লাগলাম,,, কাশ্মীর এ যে কি পরিমান বাংলাদেশের ক্রিকেট ভক্ত আছে😍,, সেটা কাশ্মীর না গেলে বুঝা সম্ভব নাহ,, রাতে খাবার এর জন্য গেলাম আর কিছু কেনা কাটা করলাম,,,

সকাল ৮ টায় আমরা পেহেলগাম থেকে রওনা দিলাম জাম্মুর উদ্দেশ্যে,, মাঝে ড্রাইভারকে বলে আমরা বানিহাল স্টেশন এ ঢুকলাম,, আমার দেখা বেস্ট ট্রেন স্টেশন এটা,, চারিদিকে পাহাড় আর মাঝে ট্রেন লাইন,, খুবই চমৎকার লাগলো,, বিকাল প্রায় ৫ টা নাগাদ চলে এলাম জাম্মু স্টেশন,, রাত ৯.৪৫ এ আমাদের ট্রেন জাম্মু টু দিল্লীর,, ট্রেন ছারার সময় মনে হলো,, না জানি কত পরিচিত একটা যায়গা থেকে চলে যাচ্ছি 😥 সকাল ঠিক ১০ টায় আমরা দিল্লি স্টেশন এ নামলাম,, নেমে ব্যাগ গুলো লকার রুমে রেখে আমরা চলে গেলাম শপিং করতে,, চাদনী চকে শপিং করে ৪ টার মধ্যে চলে এলাম দিল্লি স্টেশন,, আমাদের কোলকাতা গামী রাজধানী এক্সপ্রেস এখানে থেকেই ছেরে যাবে,,, ঠিক ৪.৪৫ মিনিট এ রাজধানী এক্সপ্রেস কোলকাতার উদ্দেশ্য যাত্রা করলো,, রাজধানী এক্সপ্রেস এর এসি কামরা আর সুস্বাদু খাবার এ কখন যে রাত হয়ে গেলো বুঝতেই পারলাম নাহ😚

সকাল এ নাস্তা সারতে সারতেই ১০.৩০ এ ট্রেন হাওরা স্টেশন এ পৌছালো,, আমাদের এবারের গন্তব্য শিয়ালদহ স্টেশন, প্রিপেইড ট্যাক্সি নিয়ে পৌছে গেলাম শিয়ালদহ,, সেখান থেকে গেদের লোকাল টিকেট নিলাম ৩০ রুপিতে,, ৩ ঘন্টা জার্নি করে পৌছালাম গেদে স্টেশন,, ২ পার এ কাস্টমস চেকিং শেষ করতে ৩০ মিনিট এর মত লাগলো,, সন্ধায় দর্শনা বাজার থেকে ঢাকাগামী বাসের টিকেট কেটে, ঢুকলাম খাবার খেতে,, ১৬ দিন পর নিজ দেশে খাবার খেয়ে মনে হলো অমৃত খাচ্ছি,, খেয়ে দেয়ে বাসে উঠলাম,, বাস চুয়াডাঙ্গা শহর পার হবার পর এক শান্তির ঘুম দিলাম,, এক ঘুমে গাবতলি 😁,,, এবার ঘরে ফেরার পালা,, ১৬ দিনের এই ভ্রমন এ অনেক কিছু শিখেছি, যেমন অনেক পরোপকারী মানুষ পেয়েছি,, ঠিক তেমন বাটপার এর পাল্লায় ও পরেছি,, আমাদের খরচ গিয়েছিলো জন প্রতি = ২৫০০০ বাংলা টাকা

পরিশেষে একটা কথাই বলবো ঘর থেকে বের হন আল্লাহর দেয়া নেয়ামত দেখুন,, আর উনার প্রতি শুকরিয়া আদায় করুন,,
যেখানেই যান পরিবেশ নস্ট করবেন নাহ,, দেশের বদনাম হয় এমন কোন কাজ করবেন নাহ,,
ধন্যবাদ

Source:  Rumman Musaddik‎ <Travelers of Bangladesh (ToB)

16 Jul 2019

জয়পুরের মত যোধপুর হচ্ছে রাজস্থানের আরেকটি ঐতিহ্যবাহী শহর।যোধপুর খুব ই প্রাচীন জনপদ।জয়পুর থেকে যোধপুর এর দূরত্ব প্রায় ৩৩৩ কিলোমিটার। ট্রেনে যেতে প্রায় ৬ ঘন্টা লাগে।ভাড়া ১২০ রুপি।আমরা দিল্লি থেকে জয়পুর গিয়েছিলাম।সেখানে একদিন ঘুরে ভোরের ট্রেনে যোধপুর যেয়ে পৌছাই সকাল ১১ টায়।দিল্লি ফেরার অগ্রীম টিকিট কেটে এরপর যোধপুর শহর ঘুরতে বের হই।

রাজস্থানে মরু অঞ্চলে প্রবেশদ্বার যোধপুর। গোলকধাঁধাতুল্য সংকীর্ণ গলিপথ, পথপার্শ্বে ভাস্কর্যমণ্ডিত বাড়িঘর, হাভেলি আর কারুকার্যময় মন্দিররাজি নিয়েই যোধপুরের আকর্ষণ। দিনে দিনে অটো বা গাড়ি নিয়ে দেখে নেওয়া যায় যোধপুরের দর্শনীয় স্থানগুলি। প্রধান আকর্ষণ অবশ্যই ৫ কিমি দীর্ঘ মেহেরানগড় দুর্গ। দুর্গের চারটি প্রবেশ পথ রয়েছে-জয়পোল, ফতেপোল, লোহাপোল। পাহাড় ঘুরে রাস্তা গিয়েছে দুর্গের মধ্যে। দুর্গের মধ্যে দেখে নিন মোতিমহল, শিশমহল, ফুলমহলা, শিলেখানা, দৌলতখানা প্রভৃতি প্রাসাদগুলি। ভিতরে রয়েছে রাজপরিবারের সংগ্রহশালা। সকাল ৯ টা থেকে বিকাল ৫ টা পর্যন্ত দুর্গ খোলা থাকে। দুর্গের পাদদেশে সরোবরের ধারে মহারাজা যশোবন্ত সিং এর স্মারক সৌধ যশোবন্ত থাডা। এটিও সকাল ৯ টা থকে বিকাল ৫ টা পর্যন্ত খোলা থাকে। যোধপুরের আর এক আকর্ষণ শহরান্তে চাত্তার হিলে ইতালীয় শৈলীতে তৈরি গোলাপী মর্মরের উমেদভবন প্যালেস। প্রাসাদে এখনও রাজপরিবারের বাস রয়েছে। আর একাংশে রয়েছে প্যালেস মিউজিয়াম।

১.মেহেরানগড় দুর্গঃ
1400 শতকের মাঝামাঝি রাও যোধা এই দূর্গটি নির্মাণ করেন। এই দূর্গ থেকে আপনি গোটা যোধপুর দেখতে পাবেন। রাজপুর ঘরানার নকশা করা আকর্ষণীয় আঙ্গিনা, কাঁচের জানলা বিভিন্ন মহল আপনাকে এক লহমায় নিয়ে যাবে সেই রাজপুর যুগে। আভিজাত্য আর শৌর্যের অসাধারণ মেলবন্ধন খুঁজে পেতে মেহেরানগড় আপনাকে যেতে হবেই। ভেতরে রয়েছে একটি মিউজিয়ামও। যেখানে আপনি রাজকীয় পালকি, অস্ত্র ও পোশাকের সম্ভার দেখতে পাবেন। রোমান্টিক ডিনারের জন্য যেতে পারেন দূর্গের মধ্যেকার চকেলাও মহল নামের একটি অত্যাধুনিক রেস্তোরাঁতেও।

2. উমেইদ ভবন প্যালেসঃ
ডেস্টিনেশন ওয়েডিং এর ভারতের অন্যতম সেরা ঠিকানা হল এই উমেইদ ভবন প্যালেস। তাজ হোটেল রয়েছে এই দায়িত্বে। মহারাজা উমেদ সিং-এর নামে পরিচিত এই রাজকীয় প্রাসাদের একটি অংশ জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত, যা প্রকৃতপক্ষে একটি বিশাল জাদুঘর।

৩.জাসওয়ান্ত থাডাঃ
মেহেরানগড় দুর্গর কাছেই রয়েছে জাসওয়ান্ত থাডা। মহারাজা দ্বিতীয় জসওয়ান্ত সিংহের নামেই এই স্মৃতিসৌধ নির্মিত হয়েছিল। বাগান এবং একটি হ্রদের সৌন্দর্য আপনাকে বিভোর করবেই। মার্বেলের তৈরি কেল্লা, উজ্জ্বল রংয়ের অভিজাত দরজা আপনার ফটোশুটের অসাধারণ জায়গা হতেই পারে।

৪.রাজস্থানী থালি, কচুরি এবং মিষ্টিঃ
যোধপুর বহু মানুষেরই পছন্দের ফুড ডেস্টিনেশন। জিপসিতে 29 টি পদ দিয়ে রাজকীয় রাজস্থানী থালি একবার খেয়ে আপনাকে দেখতেই হবে।জনতা স্যুট হোমের পেঁয়াজ কচুরি, আর জিলিপি, শানদার স্যুইট হোমের গুলাব জামুন কি সবজি, বা হানওয়ান্ত মহলের লাল মাস আর বাটের স্বাদ না নিয়ে যোধপুর ছেড়ে আপনি যেতেই পারবেন না।

৫.স্থানীয় বাজার ও কেনাকাটাঃ
রূপোর গয়না আর জাঙ্ক জুয়েলারির জন্য যোধপুর বিখ্যাত।কম্বল এবং কার্পেট, রাজস্থানী জুতো, হ্যান্ডলুম কাপড় ইত্যাদি সংগ্রহ করার জন্য যোধপুরের বাজার ঘুরে দেখতে হবে আপনাকে। এখানকার কয়েকটা বিখ্যাত বাজার হল সারাফা বাজার, ত্রিপোলিয়া বাজার, ক্লক টাওয়ার মার্কেট, নয়া সড়ক ইত্যাদি।

Source: Shopnil Sagir‎ <Travelers Of Bangladesh (TOB)

16 Jul 2019

এই ইটপাথরের শহরের বাহিরে গিয়ে কে না চাই মনের প্রশান্তি নিতে? কেউ চাই পাহাড়,কেউ আবার সমুদ্র সৈকত। আর যদি পাহাড় সাগর দুটোই উপভোগ করা যায় আর তো কথাই নেই।

কথা বলছিলাম,চট্টগ্রাম জেলার বাঁশখালী থানার।যার প্রবেশ পথেই পুকুরিয়া চা বাগান, প্রধান সড়কপথ পাহাড় ঘেঁষে যা প্রকৃতি প্রেমিদের মনোমুগ্ধকর।

শুধু চা বাগান দেখেই কি মন ভরে? তার কিছু পথ পাড়ি দিলেই বাংলাদেশের ৩য় সমুদ্র সৈকত বাঁশখালী সমুদ্র সৈকত।

যারা চাকরি, ব্যবসা করে পরিবার, বন্ধুদের নিয়ে কক্সবাজার, রাঙ্গামাটি,বান্দরবন যাওয়ার সময় হাতে নিতে পারছেন না অথবা স্টুডেন্টস বন্ধুরা যারা একদিনের ভ্রমণের পিপাসু তাদের জন্য অল্প সময়ে স্বল্প খরচে দারুণ এক উপভোগ্য ভ্রমণের জায়গা বাঁশখালী।

খরচেরখাতা : চট্টগ্রাম শহর,শাহ আমানত ব্রীজ থেকে,
বাঁশখালী সমুদ্র সৈকতে আসা-যাওয়া গাড়িভাড়া জনপ্রতি,
সিএনজি -২৫০৳
বাস – ২০০৳

চট্টগ্রাম শহর থেকে মাত্র দুই ঘন্টার পথে ঘুরে আসুন আপনজনের সাথে বাঁশখালী সমুদ্র সৈকতে।

Source: Ashraf Uz Zaman‎ <Travelers Of Bangladesh (TOB)