ঢাকা শহরের কোলাহল থেকে নিজেকে একদিনের জন্য মুক্ত রাখতে ঢাকার আশেপাশেই প্রায় অনেকে ঘুরতে যান। ঢাকার আশেপাশে ঘুরতে যাওয়ার আগে সবারই নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে ভাবতে হয়। তবে রুপগঞ্জ জিন্দাপার্কে গেলে আপনাকে এসব ব্যাপারে খুব একটা ভাবতে হবে না। রুপগঞ্জের জিন্দাপার্ক যথেষ্ট নিরাপদ, সেই সাথে কোনো হকার আপনাকে এসে ডিস্টার্ব করবে না। বলা যায় পার্কে অন্য পার্ক গুলোর মতো হকার খুব বেশি নাই কয়েকজন আছে তারাও বেশ ভালো। ছেলে, মেয়ে/মহিলা, পরিবার বা প্রেমিক যুগল কারোর জন্যই অনিরাপদ নয় পার্ক। চারিদিকে সুন্দর সবুজের সমারোহ, বিভিন্ন ধরনের গাছপালা, ছোট ছোট লেক, পুকুর, লাইব্রেরী, মসজিদ সব রয়েছে পার্কে। লাইব্রেরীর নিচ তালায় দৈনিকের অনেক পত্রিকা রয়েছে আপনি সেগুলো পড়তে পারবেন। তবে লাইব্রেরীর ২য়/৩য় তলায় যেতে হলে আপনাকে জুতা, ব্যাগ রেখে ২০ টাকা দিয়ে টিকেট কেটে উঠতে হবে। লাইব্রেরীর পরিবেশ বেশ সুন্দর এবং গুছানো। পুরো পার্ক জুড়েই অনেক ধরনের সাজানো বসার জায়গা রয়েছে। চাইলে আপনি বসে রেস্ট নিতে পারবেন। সবমিলিয়ে অর্ধেক দিন ঘুরার জন্য বেস্ট জায়গা বলা যায় এটাকে। অর্ধেক দিন বলেছি কারন পুরো পার্ক আপনি কয়েক ঘন্টার মধ্যে ঘুরে দেখে শেষ করতে পারবেন।

যেভাবে যাবেনঃ
ঢাকা শহরের যেকোনো জায়গা থেকে আপনাকে কুড়িল বিশ্বরোড আসতে হবে। সেখান থেকে বিআরটিসি বাসে কাঞ্চন ব্রীজ যাবেন ভাড়া নিবে ২৫ টাকা। ব্রীজের কাছে নামলেই দেখতে পাবেন অটো রয়েছে। সেসব অটো জিন্দা পার্কে যায়, আপনি চাইলে লোকালে যেতে পারবেন আবার অটো রিজার্ভ করেও যেতে পারবেন। লোকালে গেলে ভাড়া নিবে জনপ্রতি ৩০ টাকা আর যদি রিজার্ভ নেন তাহলে ১৫০/২০০ টাকা চাইতে পারে কিন্তু ১০০ টাকার বেশি দেওয়া ঠিক হবে না। পার্কে প্রবেশ মূল্য ১০০ টাকা।

সবকিছু পাওয়া গেলেও ফ্রিজের ঠান্ডা পানি পার্কের বাহিরে বা কাঞ্চন ব্রীজের আশেপাশে কোথাও পাওয়া যায় না। আমাদের পানির জন্য পুরো বেহাল দশা হয়ে গিয়েছিলো। যদি কেউ বাহিরের টং দোকানের পানি খাওয়ার অভ্যাস না থাকে তাহলে অবশ্যই পানি নিয়ে যাবেন সাথে করে।

বিঃদ্রঃ পার্কে ময়লা করবেন না। যেখানে সেখানে ময়লা ফেলবেন না, ময়লা ফেলানোর জন্য নির্দষ্ট ডাস্টবিন রয়েছে।

Source: বোরহান উদ্দীন <Travelers of Bangladesh (ToB)