Monthly Archives

May 2019

30 May 2019

অনেকদিন ধরেই বন্ধুরা মিলে কোথাও বেড়াতে যাওয়ার পরিকল্পনা হচ্ছিল। আজ এর সমস্যা তো কাল ওর। ফলে কোনো পরিকল্পনাই সফল হচ্ছিল না। এর একটা বড় কারণ অবশ্য ছিল। আর তা হলো সবার ব্যস্ততা। কেউ ব্যস্ত চাকরি নিয়ে কেউবা আবার পারিবারিকভাবে।

গত রোজার ঈদের দিন অনেকদিন পর বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডায় হঠাৎ করেই আবার কথা শুরু হলো ঘুরতে যাওয়ার বিষয় নিয়ে। কেউ অনেক দূরে যেতে চায়, কেউবা আবার যেতে চায় আশপাশের কোনো দর্শনীয় স্থানে।

একটা কথা বলে রাখি, আমরা পরিকল্পনা করছিলাম সিলেটে আমার বাড়িতে বসে। কয়েকজন আবার সিলেটের বাইরে ঘুরতে যাওয়ার জন্য মরিয়া। ওদের যুক্তি হলো সিলেটের ঘুরতে যাওয়ার মতো সব জায়গাতেই তারা কয়েকবার করে গিয়েছে। আবার কয়েকজনের কথা হলো তিন দিনের ছুটি, একদিন হয়ত সারাদিন বন্ধুদের সঙ্গে কাটানো যাবে, কিন্তু একদিনের বেশি নয়।

শেষে আমিই দিলাম সমাধানটা। সবাইকে বললাম আমরা সিলেটের ভিতরেই থাকব কিন্তু এমন যায়গায় যাব যেখানে আমাদের কেউ আগে কখনো যায়নি। কথামতো সবাই রাজি হলো।

পরদিন সকালে (সকাল না বলে দুপুর বলাই ভালো হবে) সবাই মিলে আমরা আমাদের যাত্রা শুরু করলাম মাইক্রোবাসে করে। আমাদের গন্তব্যস্থল সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার লোভাছড়া চা বাগান।

সিলেট জাফলং রোডে যাত্রা শুরু করে মাইক্রো যাবে কানাইঘাট বাজার পর্যন্ত, আর কানাইঘাট বাজারঘাট থেকে যেতে হবে নৌকা করে। চা বাগান শুনে অনেকেই মনে করতে পারেন সিলেটে তো চা বাগানের অভাব নেই তাহলে লোভাছড়া কেন? এখানেই অন্যান্য চা বাগান আর লোভাছড়া চা বাগানের পার্থক্য।

নৌকায় যেতে যেতে যে দৃশ্য চোখে পড়ে তা দেখে চোখ ফেরানো প্রায় অসম্ভব। পাহাড়ের সবুজ আর স্বচ্ছ পানি যে কাউকেই মুহূর্তেই বানিয়ে দেবে প্রকৃতি প্রেমী। আর হাতে ক্যামেরা থাকাতে আমার খুশি আরেকটু বেশি। আমি ব্যস্ত হয়ে পরলাম ছবি তুলতে।

বন্ধুরা সবাই মন্ত্রমুগ্ধের মতো তাকিয়ে রইল। এই দৃশ্য দেখা যাবে প্রায় দেড় ঘণ্টার মতো। এরপর লোভাছড়া বাগানের ঘাটে নৌকা থামতেই চোখে পড়ে নৌকায় সবুজ চা পাতা তোলার দৃশ্য। বাগান থেকে চা পাতা এনে নৌকা করে নিয়ে যাওয়া হবে। একটু হাঁটলেই বাগান। বাগানে ঢোকার জন্য আমাদের আগে থেকেই আনুমতি নেওয়া ছিল। বাগানে ঢুকে একটু ভেতরে যেতেই সবাই একদম নিশ্চুপ। বাগানবাড়িটা দেখেই সবার এই অবস্থা। প্রকৃতি আর মানুষের এমন সহাবস্থান কমই দেখা যায়।

আমরা কিছুক্ষণ এখানে বসে আড্ডা দেওয়ার পর সবাই মিলে পুরনো দিনে ফিরে গেলাম। বাচ্চাদের মতো ছুটাছুটি করলাম অনেকক্ষণ। অনেকদিন পর অনেক মজা করার একটি উপলক্ষ কেউ ছাড়ল না।

সন্ধ্যা হয়ে গেলে আমরা আবার নৌকায় উঠলাম। লোভাছড়ার পাশ দিয়ে যে বয়ে গেছে একটি খাল যা লোভাছড়া নদী থেকেই উৎপন্ন। এ নদীরইপর বেশ পুরোনো একটি ব্রিজ আছে যা থেকে বাংলাদেশ- ভারত উত্তর সীমান্তের পাহাড় ঘেরা আবছা ছবি দেখা যায়। বাগানের সবচেয়ে উঁচু বাংলো থেকে দেখা যাবে স্বচ্ছ জলের লোবাছড়া নদী।

যেভাবে যাবেন লোভাছড়ায়: সিলেট শহর থেকে তিনটি সড়কে কানাইঘাট সদরে পৌঁছার সুযোগ আছে। বাস অথবা সিএনজি-অটোরিকশায় করে সরাসরি দরবস্ত-চতুল হয়ে কানাইঘাট সদরে যাওয়া যায়। অন্যদিকে, গোলাপগঞ্জ-চারখাই-শাহবাগ হয়ে জকিগঞ্জ সড়ক দিয়ে কানাইঘাট পৌঁছা যাবে। এছাড়া গাজী বুরহান উদ্দিন সড়ক দিয়ে সিলেট-গাছবাড়ি সড়ক হয়ে কানাইঘাট সদরে পৌঁছার সুযোগ রয়েছে।

সিলেট শহর থেকে কানাইঘাট সদরে বাসভাড়া সর্বোচ্চ ৬০ টাকা এবং সিএনজি-অটোরিঙা ভাড়া সর্বোচ্চ একশ’ টাকা। রিজার্ভ সিএনজি পাঁচশ’ থেকে সাতশ’ টাকা। তিন পথেই সিএনজি যোগে যাওয়া যাবে কানাইঘাটে।

তবে যারা ব্যক্তিগত গাড়ি নেয়ে যেতে চান তারাও যেতে পারেন। সেক্ষেত্রে আগে থেকেই সে জায়গা চেনে এমন কাউকে নিয়ে গেলে সুবিধা হবে।

এছাড়া সম্প্রতি কানাইঘাটে সুরমা নদীর ওপর ব্রিজ হওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও সহজ হয়েছে।

কানাইঘাটে পৌছার পর বাজার থেকে নৌকাযোগে যেতে হবে লোভাছড়ায়। জনপ্রতি ৩০ থেকে ৪০টাকা নৌকা ভাড়া লাগবে। এছাড়া রিজার্ভ নৌকা নিলে তিনশ’ টাকার বেশি হবে না। আর লোভাছড়া ঘুরতে সময় লাগবে প্রায় ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা।

সবুজে আচ্ছাদিত, অপরূপ বন, স্বচ্ছ পানির ঝর্ণা আর নদী, পাথর সমৃদ্ধ লোভাছড়া আপনাকে বিমোহিত করবে এটা বলতে পারি নির্দিধায়।

30 May 2019

রাবার গাছের সবুজ পাতাগুলো বাতাসের সঙ্গে দুলছে। ঘন এসব গাছের মাঝ দিয়ে হাঁটা দিলে সবুজের সমারোহে হারিয়ে যাবে মন। গাছের ছায়ায় বসলে জুড়িয়ে যাবে শরীর ও প্রাণ। বিস্তৃত সমতল জায়গার মধ্যে এ রাবার বাগানের চারপাশে তাকালেও দেখা মিলবে অপরুপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের। ঢাকার কাছে এমনই নয়নাভিরাম রাবার বাগান রয়েছে। অনন্য প্রাকৃতিক শিল্পসত্ত্বায় পরিপূর্ণ এ বাগানে অনায়াসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাটিয়ে দিতে পারেন দর্শনার্থীরা। বলছিলাম সন্তোষপুর রাবার বাগানের কথা।

ময়মনসিংহ জেলার ফুলবাড়ীয়া উপজেলার নাওগাঁও ইউনিয়নে গড়ে তোলা হয়েছে এই রাবার বাগান। তবে পরিচিতি না পাওয়ায় এ রাবার বাগান খুব বেশি দর্শনার্থী টানতে পারছে না।

বাংলাদেশ বন শিল্প উন্নয়ন কর্পোরেশনের তত্ত্বাবধানে সন্তোষপুর রাবার বাগান থেকে প্রাকৃতিক উপায়ে গাছের কষ সংগ্রহ করে রাবার তৈরি করা হয়, যা বিদেশেও রফতানি করা হয়। অপূর্ব সন্তোষপুর বনাঞ্চল ১০৬ একর পাহাড়ি জায়গা জুড়ে বিস্তৃত। এছাড়া বনে শাল ও গজারিসহ নানা জাতের বৃক্ষ এবং বিরল প্রজাতির প্রায় পাঁচশতাধিক বানর রয়েছে। প্রায় ২৬ একর জায়গা জুড়ে স্থাপিত এই অর্কিড বাগান সারাবছর পাখির কলতানে মুখর থাকে। আরেকটু সময় থাকলে পায়ে হাঁটার দূরত্বে টাঙ্গাইল জেলার ঘাটাইল উপজেলার গুপ্তবৃন্দাবন গ্রামে দেখে আসতে পারেন শতবর্ষী তমাল গাছ।

নির্দেশনা

নিজস্ব পরিবহনে কিংবা রেন্ট-এ কার নিয়ে গেলেই সবচেয়ে সুবিধা হবে। এছাড়া যদি বাসে যেতে চান তবে ঢাকার মহাখালী বাস স্ট্যান্ড থেকে ময়মনসিংহগামী বাসে চড়ে ফুলবাড়ীয়া বাসস্ট্যান্ড নামতে হবে। সেখান থেকে অটো বা সিএনজি করে অর্কিড বাগান দেখতে যেতে পারেন কিংবা যদি সরাসরি সন্তোষপুর রাবার বাগান যেতে চান তবে ফুলবাড়ীয়া উপজেলা পরিষদের সামনে থেকে সিএনজি যোগে যেতে পারবেন।

সাধারণত সন্তোষপুর রাবার বাগান দেখে দিনে গিয়ে দিনেই ঢাকা ফিরে আসা যায়। তবু প্রয়োজনে রাত্রি যাপন করতে চলে আসতে পারেন ময়মনসিংহ শহরে।

30 May 2019

মুসলিম শরিফ তীর্থ আজমের শহরটি আজকের নয়। পাহাড় বেষ্টিত আনা সাগরের তীরে ৪৮৬ ফুট উচ্চে রমনীয় পরিবেশে সবুজ মরুদ্যানের মতোই রূপ পেয়েছে শহর। ধর্ম, ইতিহাস আর স্থাপত্যের সমন্বয় ঘটেছে এখানে। তেমনই সর্বধর্ম সমন্বয়ে  মিলনক্ষেত্র ও পূণ্যভূমি এই আজমের। কথিত আছে ৭ বার আজমের দর্শনে ১ বার মক্কা দর্শণের পূণ্য মেলে।

সপ্তম শতকে অজয় পাল চৌহানের হাতে গড়ে ওঠে আজমের শহর। কারো মতে আজমের নামেই শহরের নামকরণ করা হয়েছে। আবার কেউ কেউ বলেন অজয় মেরু পর্বত থেকেই আজমের নাম হয়েছে। পূর্বের অজয়মেরুর দূর্গটিরনাম এখন তারাগড় দূর্গ। ১১৯৩ খ্রিষ্টাব্দে পৃথ্বিরাজ চৌহাননকে হারিয়ে গজনীর মোহাম্মদ ঘোরী আজমের দখল করেন। সেই থেকে শুরু হয় ক্ষমতা দখলের লড়াই।

১৩৯৮ খ্রিষ্টাব্দে তৈমুর লঙ ভারত আক্রমন করে অবাধে লুটতরাজ, খুন-জখমের বন্যা বইয়ে দিয়ে অত্যাচারের রোলার চালিয়ে চলে যাবার পর রানা কুম্ভ কিছুদিন আজমীরের রাজা হন। কিন্তু ১৪৭০ থেকে ১৫৩১ পর্যন্ত আজমের মলোয়ার সুলতানদের দখলে থাকে। ১৫৫৬ সালে আজমের একটি দূর্গও গড়ে তোলেন। তবে তিনি স্বয়ং এখানে আসেন  ১৫৬১ তে এবং এখানে তার কীর্তি তুলে ধরেন নানা দূর্গ, মসজিদ ও স্থাপত্য শিল্পকলার মাধ্যমে। তার সেই সব স্থাপত্যের নিদর্শন আজও পর্যটকদের আকর্ষণ করে।

আকবরের ধর্মগগুরু খাজা মৈনুদ্দিন চিস্তি ১১৯২ খ্রিষ্টাব্দে মহম্মদ ঘোরীর সঙ্গে ভারতে আসেন। তিনি মক্কা হয়ে মদীনায় যাওয়ার পথে আল্লাহর নির্দেশ পান যে, তাকে ভারতবর্ষে ইসলাম ধর্মের মহাত্ত প্রচার করতে হবে। তিনি তখন ভারতে আসেন। এই আজমীরেই আস্তানা করে বিভিন্ন স্থানে ইসলাম ধর্মের প্রচার করতে  থাকেন। ১২৩৬ খ্রিষ্টাব্দে ৯৪ বছর বয়সে এই আজমীরেতেই তার জীবনাবসান হয়। এখানেই তাকে সমমাধিস্থ করা হয়। এটাই আজমীর শরিফ।

নির্দেশনা
আজমীর যেতে প্রথমে যেতে হবে কলকাতা। শহরটির শিয়ালদহ স্টেশন থেকে সরাসরি আজমীরের ট্রেন পাওয়া যায়। এর মধ্যে অনন্যা এক্সপ্রেস উল্লেখযোগ্য। এই ট্রেনে যেতে সময় লাগবে প্রায় ৩৪ ঘণ্টা। এছাড়াও শিয়ালদহ স্টেশন থেকে আজমীর সুপার ফাস্ট এক্সপ্রেসে যেতে পারেন, সময় লাগবে ২৭ ঘন্টা ৪০ মিনিট। ভাড়া এসি থ্রী-টায়ার ২৮০০ রুপি, রাত ১১টা ০৫ মিনিটে ছেড়ে যায়।। ক্ষেত্রবিশেষে সময় বেশিও লাগতে পারে। ট্রেনটি আজমীরের রেল স্টেশনে নামিয়ে দেয়ার পর মাজার সড়কে যেতে অটো রিকশায় ৩০ রুপি, রিকশায় ২০ রুপি লাগবে। এছাড়াও জয়পুর থেকে প্রাইভেট গাড়ী ভাড়া করে যেতে পারেন। সময় লাগবে ২ ঘণ্টা।

হোটেলে থাকতে হলে কিছুটা সমস্যা পড়তে হতে পারে। কারণ বিদেশি হলেই সরকারের গোয়েন্দা সংস্থার নির্দেশনা মতো একটি অনলাইন ফরম পূরণ করতে হয়। এই পদ্ধতি যদি কোনো হোটেলে না থাকে তাহলে বিদেশিদের এসব হোটেল কর্তৃপক্ষ রাখতে চাইবে না। মাজার রোড থেকে সোজা বের হয়ে একদম শেষ প্রান্তে বাম দিকে কয়েক পা ফেললেই চোখে পড়বে রিগালসহ বহু হোটেল। বাংলাদেশিরা কেউ আজমীরে এলে সাশ্রয়ী ও বেশি দামে দু’ধরনের কক্ষই পাবেন। ১৫০০ রুপি থেকে শুরু করে ৪৫০০ রুপিতে এসি স্যুইট রুমও মিলবে।

30 May 2019

সুন্দরবন:
বন জঙ্গল কখনোই আমার পছন্দের তালিকায় ছিলো না।যখন প্যান শুনলাম যে সুন্দরবন যাওয়া হবে তখন মনটা অনেক খারাপ হয়েছিলো।কারণ সমুদ্রটাই বরাবর ভালোলাগার ছিলো।
আর এখন সুন্দরবন নামটা শুনলেই শুধু একটা কথাই মনে হয়, তুমি এতো সুন্দর কেনো?!

আমরা গিয়েছিলাম খুলনা হয়ে।রুট ছিলো
ঢাকা-খুলনা-করমজল-সুন্দরবন।
আমাদের ট্যুর ছিলো ৩দিন ৩রাতের।
গত বছর ডিসেম্বরের ১৮ তারিখ রাতে আমরা যাত্রা শলশুরু করি।আমাদের ট্রেন ছিলো চিত্রা এক্সপ্রেস। তখন ঐ সময়টাতে আবহাওয়া খুবই খারাপ ছিলো।সমুদ্র উত্তাল।তারপরও আল্লাহ্‌রর নাম নিয়ে রওনা হলাম।
খুলনা স্টেশনে পৌছালাম ১৯তারিখ ভোর ৫টায়।স্টেশন থেকে খুলনা লঞ্চ ঘাটের দূরত্ব পায়ে হেঁটে ৭-৮মিনিট।
লঞ্চে যেয়ে রুমের চাবি নিলাম।আমাদের রুম ছিলো দোতালায়।ফ্রেশ হয়ে দিলাম এক ঘুম।ঘুম থেকে উঠে দেখি সকাল ৮টা বাজে।অনেক দূর চলে এসেছি।রূপসা ব্রিজটা মিস হয়ে গিয়েছে।কিন্তু তখনো রূপসা নদীতেই ছিলাম।
মংলা পার হলাম।বিশাল বিশাল জাহাজ, মংলা সিমেন্ট কারখানা,আর একটু দূরে দেখা যায় রামপাল বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র।এরপর পশুর নদী।নদীতে কিছুক্ষণ পর পরই শুশুক ডলফিন ভেসে উঠছিলো।

১ম দিন:

প্রথম স্পট:করমজল
এখানে হরিণ ও কুমির প্রজনন কেন্দ্র রয়েছে।কিন্তু সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য যে বিষয় সেটা হচ্ছে করমজলের বানরগুলো খুবই বান্দর।যার কাছে যে খাবার দেখছে সেটাই কেড়ে নিচ্ছিলো।
এছাড়া এখানে রয়েছে বনের ভিতর দিয়ে সরু কাঠের রাস্তা।রাস্তার দুপাশে সবুজ গাছপালা, শ্বাসমূল,আর মাটিতে প্রচুর হরিণ আর শুকরের পায়ের ছাপ।

দ্বিতীয় স্পট:হাড়বাড়িয়া
হাড়বাড়িয়া গিয়ে প্রথমে যেটা চোখে পড়ল সেট হচ্ছে গোলপাতা গাছ আর গোলফল।প্রচুর গোল ফল গাছগুলোতে।স্থানীয় লোকদের মতে এই গোলগাছের আড়ালেই রয়েল বেঙ্গল রাইগার লুকিয়ে থাকে।এছাড়া এখানে রয়েছে লাল পদ্মে ভরপুর এক পুকুর।করমজলের মত এখানেও কাঠের রাস্তা রয়েছে বনের ভিতর দিয়ে।যা ঘিরে রয়েছে অসংখ্য গোলপাতা গাছ।এখানেই আমরা প্রথম একটা মা বাঘিনী আর দুটো বাচ্চা বাঘের পায়ের ছাপ দেখতে পাই।
হাড়বাড়িয়ার মধু অনেক ভালো।মধু কিনলে এখান থেকেই কেনা ভালো।

দ্বিতীয় দিন:জামতলা বিচ:
ভয়ঙ্কর সুন্দর যাকে বলে এই বিচ সেটাই।এখানে যেতে হলে যাওয়া আসায় মোট প্রায় ৬মাইল পায়ে হাটতে হবে।এখানে যেতে হয় জঙ্গলের ভিতর দিয়ে।খুব সুন্দর ছোট একটি পুকুরও আছে এখানে।প্রচুর অবাধে ছুটাছুটি করা হরিণের দেখা মিলবে এখানে।
এই বিচের পাশে বিভিন্ন প্রাকৃতিক দূর্যোগে বিধ্বস্ত বিশাল বিশাল গাছের গুড়ি পড়ে থাকতে দেখা যায়।এখানকার পানির রং একটু কালচে ধরণের।
আর ভাগ্য যদি ভালো হয় তাহলে দেখা মিলে যেতে পারে ইরাবতী ডলফিনের।আমরা যতক্ষণ ছিলাম সেই পুরোটা সময় জুড়েই একটি ডলফিল পানিতে লাফাচ্ছিলো।আসলেই অসম্ভব সুন্দর একটা জায়গা।

২য় স্পট:কটকা অফিস পাড়
এখানে সবচেয়ে বেশি হরিণ দেখে ছিলাম আর সাথে ছিলো বন্য শুকর।ভোর বেলা যখন আমাদের লঞ্চ পাড়ে থেমে ছিলো তখন আমাদের গ্রুপের একজন এখানে একজোড়া বাঘ দেখেছিলো এই কটকাতেই।কটকা বিচের পাড়ে অসংখ্য ঝিনুক পড়ে থাকে।
আর বিচের পাশে একটি পরিত্যক্ত বিল্ডিং এ দেখা মেলে বিশাল এক তিমির কঙ্কালের।স্থানীয়রা জানায় সিডরের সময় এই তিমি এখানে আটকে পড়েছিলো।

৩য় দিন:হিরণ পয়েন্ট
এটি নীলকমল নামেও পরিচিত।এখানে আসারসার পথে দেখলাম বিশাল একক কুমির পাড়ে শুয়ে রোদ পোহাচ্ছে। তার কিছু দূরেই জঙ্গলের পাড় ঘেষে মোয়ালরা নৌকায় রান্না করছে।যেকোনো মুহূর্ততে বাঘ বা কুমির তাদের আক্রমণ করতে পারে।কি অদ্ভুত অনিশ্চিত জীবন।
প্রচুর গাছপালায় পরিপূর্ণ হিরণপয়েন্ট।সরু কাঠের রাস্তা,গরান,গেওয়া,সুন্দরী, তারপর একটু বসার জায়গা,সব মিলিয়ে সবুজে ঘেরা এক মনোরম পরিবেশ।

কচিখালী:

ন্যাশনাল জিওগ্রাফিতে যেমনটা দেখায় সুন্দরবন সরু নদী চারপাশে ঘন জঙ্গল সেটাই কচিখালী।এটা মূলত একটি খাল যেখানে নৌকায় করে চারপাশ ঘুরা যায়।এখানে ঘুরার সময়ই দেখা মিলতে পারে সাপ,গিরগিটি আরও বিরল কিছু প্রানি।আমরা বন মোরগ আর গুইসাপ দেখেছিলাম।

দুবলার চর:

আমাদের এই ট্যুরের সবচেয়ে সুন্দর আর শেষ স্পট ছিলো দুবলার চর,মূলত এর কারণেই সুন্দরবনের প্রেমে পড়ে যাই।
অসম্ভব সুন্দর একটি দ্বীপ,মাছ ধরার জন্য বিখ্যাত।আমরা নৌকা থেকে দ্বীপে নেমেই দেখলাম অসংখ্য হাঙরের বাচ্চা তীরে পড়ে আছে।আর জীবন্ত সাপ।এছাড়া অামরা একটা মৃত অক্টোপাসও দেখেছিলাম।
যারা শুটকি মাছ পছন্দ করেন তারা নিশ্চিতে এখান থেকে কিনতে পারেন।এখানে চারিদিকে শুধু শুটকি আর শুটকি আর দাম তুলনামূলক কম,একদম ফ্রেস,আর মেডিসিন ফ্রি।

এই দ্বীপের পূর্বাংশে পশুর নদী,পশ্চিমাংশে শিবসা নদী আর অন্য পাশে বঙ্গোপসাগরের অপরূপ সৌন্দর্য।
এখানে সাগরের পানিতে অনেক জেলীফিস।পানিতে হাত দিলেই ছোঁয়া যায়।
এতো নির্জন,পরিপাটি, সুন্দর দ্বীপ আর দেখিনি।
এখানে স্থানীয় কোনো লোক নেই।যারা আছে তারা চার মাস এখানে থাকে,ব্যবসা করে চলে যায়।

লঞ্চের খাবার খুবই সুস্বাদ।একবারে ১০/১০।আর তাদের স্টাফরাও খুবই আন্তরিক।

১ম দিন:
★সকালের নাস্তা-
পরোটা+সবজি+ডিম+☕চা/কফি
★১১টায় হালকা নাস্তা-
কেক+কলা+☕চা/কফি
★দুপুরের খাবার-
ভাত+সবজি+মুরগি+ভেটকি মাছ+ছালাদ
★বিকেলের নাস্তা –
নুডুলস+☕চা/কফি
★রাতের খাবার-
ভাত+সবজি+মুরগি+রুই মাছ+ছালাদ

২য় দিন:
★সকালের নাস্তা
ভুনা খিচুরি+ডিম ভুনা+আচার+ছালাদ
★১১টায় হালকা নাস্তা
ফল+পুরি+☕চা/কফি
★দুপুরের খাবার
ভাত+সবজি+ফাইশ্যা মাছ+মুরগি+ডাল+ছালাদ
★বিকেলের নাস্তা
নুডুলস+☕চা/কফি
★রাতের খাবার
নান রুটি+ফ্রাইড রাইস+চিকেন বারবিকিউ+ফিস বারবিকিউ+ভুনা ডাল+রাশিয়ান ছালাদ+কোলড্রিংক্স

৩য় দিন:
★সকাল:
পরোটা+ডিম+সবজি+☕চা/কফি
★হালকা নাস্তা:
পুরি +বিস্কুট+চা
★দুপুর:
বিরিয়ানি+ডিম+দই+সালাদ+ড্রিংক্স
★বিকেল
ছোলা+মুড়ি+চা +বিস্কুট
★রাত
ভাত+সবজি+মুরগি+মাছ+সালাদ

সুন্দরবন ভ্রমণের উপযুক্ত সময় নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারী।কারণ এসময় আবহাওয়া এখানার জন্য অন্য সময় থেকে ভালো।জনকোলাহল বিহীন ট্যুরর একে বলা যেতেই পারে।
আমাদের ট্যুরটা ছিলো একদম রিল্যাক্স ট্যুর। যান্ত্রিক জীবন থেকে দূরে নিরিবিলি এর মত আর কি হতে পারে।লঞ্চে সবচেয়ে সুন্দর প্রশান্তির সময়টা সন্ধ্যা হওয়ার ঠিক আগ মুহূর্ত থেকে সারা রাত।এক কাপ রং চা আর সাথে সমুদ্রের বিশালতায় হারিয়ে যাওয়া।
কেউ যদি সস্তায় টাইটানিকের ফিল নিতে চান then this is definitely the exact place.♥
আমার রুম ছিলো দোতালায়।বেডে শুয়ে শুয়ে সাগর উপভোগ করা আর রুমের পাশে বিশাল বারান্দার মত লঞ্চের সামনের জায়গা টুকু সন্ধ্যায় যেখানে দাঁড়ালে একবার হলেও টাইটানিকের কথা মনে পড়বে।সাথে চা বা কফিও নিতে পারেন।প্রচন্ড ঠান্ডা বাতাস থাকে প্রায় সবসময়।শীতের কাপড় পড়েও মনে হচ্ছিও বাতাস হাড়ে লাগছে,তাই শীতের কাপড় নিতে হবে অবশ্যই।
সুন্দরবনে শুধু টেলিটকের নেটওয়ার্ক পাওয়া যায়।কিন্তু কটকার পর সেটাও পাওয়া যায় না।প্রয়োজনীয় যোগাযোগ তাই আগেই শেষ করে নেওয়া ভালো।

আমরা ছিলাম মোট ৭৬জন।লঞ্চে তাই বাইরের অপরিচিত কেউ ছিলোনা।
তিন দিন তিন রাত লঞ্চে থাকা+খাওয়াসহ মোট লেগেছিলো ৩২০০০০ টাকা।এটা একেক এজেন্সির একেক রকম।কিন্তু লোক যত বেশি হবে খরচ তত কমে আসবে।

সুন্দরবন আমাদের অতি মূল্যবান প্রাকৃতিক সম্পদ।সুন্দরবনে যেয়ে যেখানে সেখানে ময়লা আবর্জনা বা অপ্রয়োজনীয় জিনিস ফেলবেন না।বনের ভিতর যেয়ে কোনো প্রাণি দেখে জোড়ে চিৎকার বা কথা বলবেন না।এতে বন্য প্রাণীরা ভয় পায়।আর হরিণকে খাওয়ানোর জন্য বা অযথা গাছের পাতা বা ফলমূল ছিড়বেন না।
সুন্দরভাবে বেঁচে থাক আমাদের সুন্দরবন।

Source: Anika Tasnim‎ <Travelers of Bangladesh (ToB)

29 May 2019

কী অদ্ভুত সুন্দর দৃশ্য! একপাশে সন্ধ্যা নদীর সকালের স্নিগ্ধ রূপ, অন্যপাশে অভ্যর্থনা জানাচ্ছে লাল শাপলা। দূর থেকেই মনে হচ্ছে, আমাদের অপেক্ষাতেই স্বচ্ছ পানির উপরে লাল শাপলা ফুলের বড় এক প্রাকৃতিক স্বর্গ সৃষ্টি করে দাঁড়িয়ে আছে! ফুটন্ত শাপলা ফুলের রাজ্যের মধ্যে বেশ কয়েকজন ছেলে-মেয়ে ভেসে বেড়াচ্ছেন নৌকায়। এপার থেকে ওপারে যাচ্ছেন, শাপলা তুলছেন তারা।

শাপলার এমন লাল দুনিয়ার দেখা মিলবে বরিশালের উজিরপুরের চার বিলে। উপজেলার সাতলা ও হারতা লাগোয়া দুটি ইউনিয়ন। এই দুটি ইউনিয়নের সাতলা, নয়াকান্দি, পটিবাড়ি পাশাপাশি তিনটি বিল। একটু দূরেই হারতা ইউনিয়নে আরেকটি বিল। নাম কালবিরা। এই চারটি বিলজুড়ে রঙিন শাপলার বর্ণাঢ্য উৎসব চলে বছরের আট মাস। বিশাল আয়তনের বিলগুলোতে ফুটে থাকা লাল শাপলা প্রকৃতির রূপকে আরো মোহনীয় করে তুলেছে।

গত তিন-চার বছরে লাল শাপলার এই অভয়ারণ্য ভ্রমণপিপাসুদের কাছে একটি আকর্ষণীয় দর্শনীয় স্থান হয়ে উঠেছে। কারণ এখানে এলে দেশে মিলে এক নিটল বাংলার মনোমুগ্ধকর প্রাকৃতিক দৃশ্যের। সবুজ বিলে লাল শাপলাগুলো দেখে মনে হবে এই বিলের পরতে পরতে হাজার হাজার বাংলাদেশের পতাকা ছড়িয়ে আছে। এমন দৃশ্য দেখে চোখ জুড়িয়ে যাবে যেকোনো বাঙালির। সকালের সূর্যের সোনালি রোদ আর শেষ বিকেলের গোধূলিলগ্নের আভা শাপলার বিলে যেন নতুন একটি মাত্রা যোগ করে। খুব সকালে যেতে পারলে ফুটন্ত শাপলা দেখা যায়, সকাল ১০ টার পর অর্থাৎ রোদের তীব্রতা বাড়লে শাপলা তার পাপড়ি গুটিয়ে নেয়। সন্ধ্যার পরে আবার ফুলগুলো ফুটতে শুরু করে।

স্থানীয়রা জানান, বিলগুলোতে গ্রামের প্রায় ১০০ জনের মালিকানাধীন জমি রয়েছে। আনুমানিক ৬০০ একর জমিজুড়ে সাতলা বিলের অবস্থান। প্রাকৃতিকভাবেই এ গ্রামের বড় এই বিলে যুগ যুগ ধরে অতিথি পাখির মতো ফিরে আসে শাপলা। এখানে এলেই বোঝা যায়, প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোর ছেলেমেয়েরা ব্যতীত অন্যরা বই-পুস্তকের মাধ্যমে শাপলা ফুলকে চিনলেও বাস্তবে শাপলার সৌন্দর্য উপভোগ ও বিল-ঝিল থেকে নিজহাতে শাপলা তোলার যে আনন্দ তা থেকে পুরোপুরিই বঞ্চিত।

জানা যায়, প্রতি বছর জৈষ্ঠ্য থেকে কার্তিক মাস পর্যন্ত মোট ছয় মাস এই সাতলা বিলে পানি জমে থাকে। বছরের ছয় মাস বিলে পানি জমে থাকার কারণে বিলটি এক ফসলা জমিতে পরিণত হয়েছে। প্রতি বছর ধানের মৌসুমে জমিতে চাষ দেয়া হলেও মাটির সঙ্গে মিশে থাকছে শাপলা-শালুকের বীজগুলো। ফলে পরের বছরে বিলে পানি আগমনের সঙ্গে সঙ্গে এই বীজ থেকেই আবার শাপলার জন্ম হচ্ছে। এ সকল এলাকার হাট-বাজারগুলোতে ছোট ছোট শিশু থেকে বড়দেরও জীবিকা নির্বাহের জন্য সকাল হলেই সবজি হিসেবে শাপলাকে বিক্রি করতে দেখা যায়। শুধু শাপলাই নয়, শাপলার মূলের অংশ অর্থাৎ শালুক গ্রামাঞ্চলে সিদ্ধ করে খাওয়া হয়।

কীভাবে ঘুরবেন:

লাল শাপলার রাজ্যে ঘুরতে চাইলে অবশ্যই নৌকার প্রয়োজন হবে। এ জন্য সাতলার মাঝিদের শরণাপন্ন হতে হবে। সামান্য পারিশ্রমিকের বিনিময়ে ঘোরার জন্য আপনাকে নৌকার ব্যবস্থা করে দেবে তারা। নৌকা ও লোকজনের পরিমাণভেদে নৌকায় ভ্রমণের জন্য এ খরচের পরিমাণ ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা হতে পারে। আর ঘুরতে বেরোনোর সময় অবশ্যই সঙ্গে ক্যামেরা নিতে ভুলবেন না। কারণ, এই মনোমুগ্ধকর পরিবেশকে দ্বিতীয়বার স্মরণ করতে চাইলে ক্যামেরায় তোলা ছবির বিকল্প নেই। ঘুরতে ঘুরতে শাপলার পাতার ওপর দেখা মিলতে পারে ছোট-বড় সাপের। ভয়ের কারণ নেই, এগুলো কোনো ক্ষতি করবে না। তবে সাবধানে দূরত্ব বজায় রাখাই শ্রেয়।

কোথায় থাকবেন:

সাতলায় থাকার জন্য ভালো কোনো ব্যবস্থা নেই। তবে স্থানীয় লোকজনের সাহায্য নিয়ে রাতযাপন করতে পারেন। এটাই সবচেয়ে ভালো বুদ্ধি। কারণ শাপলা দেখতে আপনাকে সকালেই যেতে হবে বিলে, ওই গ্রামে রাত কাটালে আপনার জন্য সহজতর হবে। এমনকি খাওয়া-দাওয়াও সারতে হবে এখানে। অবশ্যই আপনি তাদের অতিথিপরায়ণতায় মুগ্ধ হবেন। এছাড়া খানিক দূরত্বের হারতা বাজারে রাতে থাকার জন্য স্বল্পখরচের দুটি হোটেল আছে, তবে সেটা শহুরে লোকজনের জন্য খুব একটা আরামদায়ক হবে না। আরামদায়ক রাতযাপনের জন্য অবশ্যই উজিরপুর বা বরিশালের শরণাপন্ন হতে হবে।

কখন যাবেন:

বিলে শাপলা জুন মাস থেকে ফোটা শুরু করে। তবে জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহ থেকে অক্টোবর পর্যন্ত শাপলায় ভরপুর থাকে। বছরের এই মাসগুলোতে শাপলা গ্রাম সাতলা গেলে হাজারো শাপলা দেখতে পাবেন। আর অবশ্যই খুব সকালে যেতে হবে, কারণ বেলা গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে শাপলা ফুল বুজে যায়। আবার শাপলা ফুল ব্যবসায়িরা ফুল বাজারে বিক্রি করতে নিয়ে যায়।

কীভাবে যাবেন:

ঢাকার সদরঘাট থেকে রাত ৮ টা থেকে রাত ৯ টার মধ্যে সুন্দরবন ৭/৮, সুরভী ৮, পারাবত ১১, কীর্তনখোলা ১/২ লঞ্চগুলো বরিশালের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। আর সকালে যেতে চাইলে গ্রিনলাইন লঞ্চে যেতে পারেন। রাতে যাত্রা করা লঞ্চগুলো ভোর ৫ টার দিকে বরিশাল পৌঁছায়। এসব লঞ্চের ডেকের ভাড়া ১৫০ টাকা, ডাবল কেবিনের ভাড়া ১৬০০ টাকা এবং ভিআইপি কেবিন ভাড়া ৪৫০০ টাকা।

সড়ক পথেও যেতে পারেন। তবে সেটা সুবিধার হবে না। ঢাকা থেকে বরিশাল যেতে প্রায় ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা সময় লাগে। ঢাকার গাবতলি বাস টার্মিনাল থেকে ভোর ৬ টা থেকে রাত ১০ টা পর্যন্ত নিয়মিত ভাবে বাস বরিশালের পথে যাত্রা করে। বাসগুলো সাধারণত পাটুরিয়া ঘাট দিয়ে বরিশাল যায়, তবে কিছু বাস মাওয়া ঘাট পাড় হয়ে বরিশালের দিকে যায়। বাসগুলো বরিশাল শহরের নতুল্লাবাদ বাস স্ট্যান্ডে এসে থামে।

বরিশাল থেকে বাসে শিকারপুর এসে অটো ভাড়া করে উত্তর সাতলা যেতে পারবেন। এছাড়া ঢাকা থেকে বাসে বরিশাল যাওয়ার সময় উজিরপুরের নুতনহাট বাস থেকে নেমে সেখান থেকেও সরাসরি অটো করে সাতলা শাপলা বিল দেখতে যেতে পারবেন। কিংবা বরিশালের নথুল্লাবাদ বাসস্ট্যান্ড থেকে সাতলা ও বাগধা গ্রামে যাওয়ার সরাসরি বাস সার্ভিসে ২ ঘণ্টায় পৌঁছে যেতে পারবেন আপনার গন্তব্যে। এছাড়াও বরিশাল থেকে মহেন্দ্র গাড়িতে চড়েও ঘুরে আসতে পারবেন শাপলা গ্রাম থেকে।

29 May 2019

কৌশানি পৌঁছে, গাড়ির জানালা দিয়ে ডান দিকে তাকিয়েই মনে হল যেন হিমালয়ের বেলকোনিতে চলে এসেছি আমরা! একদম সে রকমই অনুভূতি হয়েছিল সেই শেষ বিকেলের রক্তিম হয়ে ওঠা হিমালয়ের রেঞ্জ দেখে। একদম চোখের সামনে, হাত ছোঁয়া দুরত্তে যেন দাড়িয়ে আছে আমাদের দিকে তাকিয়ে। আমাদের বাসার জানালা দিয়ে আমরা যেমন বেলকোনির গাছ দেখি, ফুল দেখি, ঠিক তেমনই যেন হিমালয় তার বেলকোনি থেকে আমাদেরকে দেখছে। আমরা তার বেলকোনিতে দাড়িয়ে আছি, তার দিকে চেয়ে থেকে!

নৈনিতাল থেকে কৌশানির দুরত্ত ১০০ কিলোমিটারের একটু বেশী। ড্রাইভার বলেছিল মোটামুটি তিন ঘণ্টার মধ্যেই আমরা কৌশানি পৌঁছে যেতে পারবো। আর পথের বিশ্রাম, এখানে সেখানে থামা, খাওয়াসহ ধরলে ৫ ঘণ্টা লাগবে। যেহেতু নিজেদের ফুল টাইম রিজার্ভ করা গাড়ি, তাই নৈনিতাল থেকে বেশ একটু হেলেদুলেই বেরিয়েছিলাম সেদিন সকালে। ইচ্ছে করেই একটু দেরি করেছিলাম সবাই। কারন এই আভিজাত্যে ভরপুর পাহাড়ি লেকের পাড়ে আর তো ফেরা হবেনা এবারের মত। মাত্র দুই দিনেই নৈনিতাল আমাদেরকে মায়ার বাঁধনে বেঁধে ফেলেছে। তাই আর একটু যদি থেকে যাওয়া যায়।

শেষ পর্যন্ত সকাল ৯ টার পরে রওনা হলাম কৌশানির দিকে। পথের মাঝের নাশতা, সবুজ নদীর তীরে অলস দুপুর, পাহাড়ি নদীর টানে সেখানে কিছুটা সময়, আলমোরাতে একঝলক, আলমোরা থেকে কৌশানির পথের অপূর্ব সবুজ পাহাড়ি ঢালে কিছু অলস সময় কাটিয়ে, নিজেদের ইচ্ছামত ধীরে ধীরে যখন কৌশানি পৌছালাম তখন শেষ বিকেল।

একদম শতভাগ নতুন একটা যায়গা কৌশানি। তেমন কোন পড়াশোনাও করা হয়নি এই যায়গা নিয়ে। এমনকি ড্রাইভারও নাকি আগে আসেনি এদিকে! (যদিও আমি বিশ্বাস করিনি সে কথা)। মূল শহরের বাস স্টপের সাথের তিনদিকে দিনটি রাস্তা চলে গেছে দেখতে পেলাম ট্র্যাফিক মোড় থেকেই। একটি উপরের দিকে আর দুটি পথ একটু ঘুরে দুইদিকে।

মুহূর্তের মধ্যেই সিদ্ধান্ত নিলাম উপরে নয়, একটু ঘুরে নিচের দিকে যে দুটি পথ গেছে সেদিকে যাবো। যেহেতু আমাদের কোন হোটেল ঠিক করা নেই সেহেতু যে কোন দিকেই আমরা যেতে পারি। ড্রাইভার একটু নিমরাজি হয়েই আমার দেখানো পথে গাড়ি ঘোরালেন। সেই পথে ঢুকতেই একই সাথে দুটি পথে আবারো। একটি একটু নিচের দিকে গিয়েছে অরণ্যর মাঝে আর একটি বেশ উঁচু পাহাড়ি পথে। এবার ড্রাইভারকে উঁচু পাহাড়ি পথে যেতে বললাম। কেমন যেন একটা হিমালয় হিমালয় গন্ধ পাচ্ছিলাম অবচেতন মনেই। যদিও আমি এর আগে কোনদিন এদিকে আসিনি, তবুও মনে হল যেন হিমালয় খুব খুব কাছে! এক অবাক অনুভূতিতে আচ্ছন্ন হলাম এই ভাবনা পেয়ে বসায়।

আর বিধাতার কি অসীম উপহার আমাদের জন্য, গাড়ি মাত্র ১০ বা ২০ সেকেন্ড উঠতেই হাতের ডানে পুরো আকাশ জুড়ে রঙ বেরঙের হিমালয়ের চূড়া গুলো আমাদেরকে স্বাগত জানাতে লাগলো তার অপরূপ রূপের মাধুরী দিয়ে। এই রকম সময়ে নিজেকে দুই একবার বাহবা না দিলে সেটা নিজের সাথে নিজেরই প্রতারণা করা হবে। এই জন্য আমি সবসময় আমার মনের কথা শুনি, মন যা চায় তাই করি, মন যা বলে সেই অনুযায়ী চলি! হ্যাঁ অবশ্যই মনের এই কথা শুনতে কেউ যেন কোন রকম ক্ষতির সম্মুখীন না হয় বা কারো কোন সমস্যা যেন না হয় সেটাও সবসময় মাথায় রাখি।

আমাদের গাড়ি গিয়ে থামল একদম পাহাড়ের শেষ বিন্দুতে। যে পাহাড়ের শেষ থেকেই উপরের দিকে উঠে গেছে পাথুরে সিঁড়ি বা পথ। যে পথের উপরেই একটি ধবধবে সাদা রঙের দুইতলা হোটেল দাড়িয়ে আছে আর একটি পাহাড়ের ঠিক মাঝখানে। আহ কি অপূর্ব, প্রশান্তিতে মনটা ভরে গেল মুহূর্তেই। সারাদিনের বেশ ক্লান্তিকর জার্নির অবসন্নতা দূর হয়ে গেল নিমিষেই।

যে হোটেলের সামনের বিশাল খোলা লন থেকে শুধু হিমালয় দেখা যায়, শুধুই হিমালয়, আর কিছু নয়। যখন যে রকম আর যে রঙের হিমালয় আপনার দেখতে মন চাইবে, তখন সেই রকম হিমালয়ের রূপ আপনি দেখতে পারবেন, সেই উন্মুক্ত লন থেকে, হোটেলের যে কোন রুমের বেলকোনি থেকে বা রুমের কাঁচের জানালার পর্দা সরালেই।

আমরা অনেকক্ষণ সেখানে বসে থাকলাম। হোটেল ম্যানেজারকে বলে রুমের খোঁজ নিতে লাগলাম। সব রুমই প্রায় বুকড। তবে দুটি রুমের বোর্ডার তখনো এসে পৌছায়নি বলে ম্যানেজার খোঁজ নিতে লাগলেন, তারা আদৌ আসবে কিনা? মনে মনে খুব করে চাইছিলাম, যেন যারা বুকড করেছে সেই রুম দুটি, তারা যেন জানায়, যে আসতে পারছেনা।

কিন্তু না আমাদেরকে এবার আর অতটা ভাগ্য প্রসন্ন না করে উল্টো হতাশ করে জানালো নাহ রুম যারা নিয়েছিল তারা পথেই আছে, আসছে। মনটা একটু খারাপই হল, হিমালয়ের বেলকোনিতে থাকা হলনা দেখে। যদিও হোটেল ম্যানেজার অন্য হোটেলে কথা বলে তার সাথেই আমাদের অন্য হোটেলের শর্টকার্ট পথে পাহাড় চড়িয়ে নিয়ে গেলেণ। অন্য আর এক পাহাড়ের চুড়ার আভিজাত্যপূর্ণ সাগর হোটেলে।

ইস কি অপূর্ব ছিল সেই হোটেল, তার রুম, তার জানালা, তার বড় উন্মুক্ত চত্তর আর বিশাল ছাদ। যে ছাদ থেকে বসে বসে সারাদিন-রাত, সকাল-দুপুর-সন্ধ্যা যখন আর যেভাবে খুশি দেখা যায় হিমালয়ের সকল রূপ, সবসময়। রাতের মেঘ মুক্ত আকাশে দেখামেলে লক্ষ্য-কোটি আলোকবর্তিকার অপার, অপূর্ব আর অপার্থিব কতশত মুহূর্তের। বলে বা লিখে শেষ করা যাবেনা কিছুতেই।

তবে দুঃখের কথা হল সেই হোটেলেও আমাদের থাকা হয়নি সেদিন, ভিন্ন কারনে। যদিও পরে হিমালয়ের বেলকোনিতেই থেকে ছিলাম শেষ পর্যন্ত। সেই গল্প পরে পরে বলব।

ঢাকা থেকে কলকাতা। কলকাতা থেকে ট্রেনে বা প্লেনে কাঠগোদাম হয়ে কৌশানি যেতে হয়।

যেখানে যান কেন, দয়াকরে পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখুন।

Source:  Sajol ZahidTravelers of Bangladesh (ToB)

29 May 2019

তিয়ানজিন শহর চীনের ৫ টি বড় শহরের একটি। সমুদ্র উপকূল হতে সন্নিকটে এ শহরে সবসময় শীতল বাতাস বয়ে চলে। অনেকদিন ধরে যাব যাব করলেও যাওয়া হয়ে উঠেনি। অবশেষে পরীক্ষা শেষ হলো, বউ বাচ্চারা দেশ হতে এসেছে। এবার বন্ধুরা ও পরিবারের সবাই পরিকল্পনা করলাম তিয়ানজিন দেখতে যাব। আমরা বুলেট ট্রেন এ উঠলাম বেইজিং হতে। শব্দহীন, ঝাঁকিহীন জলের উপর জলার অনুভূতিতে বুলেট গতিতে ছুটে চললাম।

ঢাকা-চট্রগ্রাম এর মত দূরত্ব হলেও ৩০ মিনিটে পৌঁছে গেলাম। নেমেই অভিভূত, কি বিশাল বিশাল অাধুনিক অট্রালিকা আর পুরাতন ঐতিহাসিক স্থাপনার মেলবন্ধন। তিয়ানজিন শহরের মাঝ বরাবর হাইহি নদী। আমাদের বুড়িগঙ্গার চেয়ে কম প্রশস্থ হবে। দুকূল বাঁধানো, কী মমতায় আর যত্নে নদীটাকে শতাব্দীর পর শতাব্দী সংরক্ষণ করা হচ্ছে। এই শহরটিতে আগে বিভিন্ন পরাশক্তি ছোট ছোট অধিক্ষেত্রের (এরা বলে কনসেসন) মত ভাগ করে দখলদারিত্ব চালিয়েছে। সেখানে নিজ নিজ স্কুল, হাসপাতাল, প্রশাসনিক ভবন, পানশালা, আর্মি ব্যারাক ইত্যাদি তৈরী করেছিল।

ফিরে পাওয়ার পর চীন এগুলোর একটিও গুড়িয়ে দেয়নি। রেখে দিয়েছে পরম যত্নে। যেসব দেশের কনসেসন আছে সেগুলো হলো রাশিয়া, বৃটেন, জাপান, ফ্রান্স, জার্মানি, অস্ট্রিয়া-হাঙগেরী, ইতালি ও আমেরিকা। আমরা শহরে প্রথমে হেঁটে হেঁটে ঘুরলেও ব্যাটারী শেষ হওয়ার মত হলে (রাহিন বলে এটা- ক্লান্তিতে ঘুম আসার মত হলে) ট্যাক্সি নিচ্ছিলাম। এই কনসেসনগুলো এত মজার দেখতে যে, আপনি যদি ইতালি কনসেসন এ যান, মনে হবে সত্যিকার ইতালিতে এসেছেন। ফোয়ারা, স্থাপত্য, শিল্পকর্ম দেখে মনে হতে পারে, আপনি মাইকেল এন্জেলা বা ভিঞ্চির সাহচর্য পাচ্ছেন।

দুপুরে একটা বিখ্যাত চায়নিজ রেস্তোরাঁয় ডুকলো সবাই। আমি ও আমার পত্নী- আমরা রোজা। জুরি রাহিন খেতে পারবে। রেস্তোরাঁয় দেয়ালে দেয়ালে চায়নার কৃষ্টি কালচার ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। মনিটরে দেখাচ্ছে, চায়না ভ্রমনে এসে পুতিন ও শি জিন পেন এখানে এসেছিলেন ও খেয়েছিলেন। শহরের বিপনী বিতানগুলো যে এলাকায়, সেখানে গাড়ী চলে না। পর্যটকেরা সবাই হেঁটে হেঁটে কেনা-কাটা করছে। বিকেলে আমরা হাইহি নদীতে ১ ঘন্টা ঘুরলাম। দুপাশে ঐতিহ্য আর ইতিহাস নিয়ে দাড়িয়ে আছে নানা স্থাপত্য। জাহাজে ৩০/৪০ জনের আসন।

বেশিরভাগ ইউরোপিয় পর্যটক। একজন উপস্থাপক চায়না ভাষায় বিভিন্ন স্থাপনার বর্ণনা করছে। একটুও বুঝিনি বলে দৃশ্য দেখায় মন দিলাম। স্বচ্ছ গ্লাসের মধ্য দিয়ে দেখলাম নান্দনিক তিয়ানজিন। সন্ধ্যায় আলো জ্বলে উঠার পর দেখতে আরও সুন্দর লাগে। বাচ্চারা ক্লান্ত, শ্রান্ত হয়ে পরেছে, আমরা দুজনও। আমাদের অন্য ৬ জন বন্ধু ৬ দেশের, ক্লান্তি ওদের স্পর্শও করতে পারেনি। চায়নাতে রাতের খাবার বিকেল ৫/৬ টায় খায়। আমাদের বন্ধুরা রাতের খাবার আমাদের সাথে খাবে, আমাদের জন্য ইফতারের সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করলো। তারপর রাতের খাবার শেষে আসলাম ট্রেন স্টেসনে। এখন আলো জ্বলে উঠেছে। আলো ঝলমল তিয়ানজিন অপ্সরার মত। ৯ টায় ট্রেন ছাড়লো, ৯.৩০ এ বেইজিং! একটা নদী একটা শহরকে যে কী পরিমান সৌন্দর্য্য উপহার দিতে পারে, তা দেখতে এই শহরটা দেখা দরকার।

Source: Z R ZiaTravelers of Bangladesh (ToB)

28 May 2019

এবার দৃষ্টিনন্দন পার্ক ও ঝরনা দেখতে পাবেন একটি বিমানবন্দরে। সিঙ্গাপুরের চেঙ্গি বিমানবন্দরের ভেতরেই গড়ে তোলা হয়েছে বিশাল পার্ক ও ঝরনা। যাত্রীদের সময় কাটানো ও বিনোদনের জন্য অভাবনীয় এ কাজটি করেছে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ।

সূত্র জানায়, বিশ্বের সপ্তম ব্যস্ত বিমানবন্দর এটি। এখানে পাঁচতলা উচ্চতার চোখধাঁধানো কাচের ডোম, বিশ্বের সবচেয়ে দীর্ঘ ইনডোর ঝরনা আর হাজারখানেক গাছের দৃষ্টিনন্দন পার্ক তৈরি করা হয়েছে বিমানবন্দরের ভেতরেই। সব প্রতীক্ষা শেষে গত ১৭ এপ্রিল দৃষ্টিনন্দন বিমানবন্দরটি সবার জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে।

কর্তৃপক্ষ জানায়, বিমানবন্দরের ভেতরে ৪০ মিটার উচ্চতার ঝরনাটির নাম দি রেইন ভরটেক্স। চার দেয়ালের ভেতরে নির্মিত বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু ঝরনা এটি। উপরে কাঁচ আর ইস্পাতের বিশাল গম্বুজ। ঝরনাটি ঘিরে রয়েছে ৫ স্তরের প্রাকৃতিক পার্ক। হাজারখানের সবুজ গাছ ও ফুলের বাগান রয়েছে পার্কে।

দর্শনার্থীরা জানান, জুয়েল নামের এ অংশটির আকার ১ লাখ ৩৭ হাজার বর্গমিটার। পার্ক ও ঝরনা তৈরি করায় বিমানবন্দরটির খ্যাতি আরও বেড়ে গিয়েছে। এখানে যাত্রীদের জন্য রয়েছে ২৮০টি দোকান। আছে হোটেল আর সিনেমা হলও।

গত ১৭ এপ্রিল পার্কটি খুলে দেওয়ার পর দর্শনার্থীদের উপচেপড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। পার্কটি নির্মিত হওয়ায় যাত্রীরা সন্তোষ প্রকাশ করেছে।

28 May 2019

‘পানতুমাই’ বাংলাদেশের সবচেয়ে সুন্দর গ্রাম। পানতুমাই সিলেট জেলার পশ্চিম জাফলং ইউনিয়নের একটি গ্রাম যা ভারত সীমান্তের মেঘালয় পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত। পানতুমাই গ্রামের স্থানীয় নাম “পাংথুমাই” কিন্তু সঠিক উচ্চারণ “পানতুমাই”। এটিই বাংলাদেশের সবচেয়ে সুন্দর গ্রাম বলার যথেষ্ঠ কারন রয়েছে।

নয়নাভিরাম, অপূর্ব, অসাধারন, নান্দনিক, হৃদয়স্পর্শী, এই সবগুলো শব্দও যদি এই নামের সঙ্গে লাগানো হয় তারপরও “পানতুমাই” সৌন্দর্যের বিশ্লেষণ করা শেষ হবে না। অবশ্য বাংলাদেশেই যে এত চমৎকার, নৈর্সগিক একটি গ্রাম আছে তা অনেকেরই অজানা! দেশ বিদেশের বিভিন্ন অঞ্চল, শহর, নগরীর সৌন্দর্যের খেতাব থাকলেও বাংলাদেশের ছোট্ট অথচ অনিন্দ্য সুন্দর এই গ্রামের কোন খেতাব নেই।

আমাদের প্রতিবেশী ভারতের মেঘালয়ের গহীন অরণ্যের কোল ঘেঁসে বাংলাদেশের বুকে নেমে এসেছে অপরূপ সুন্দর এক ঝর্ণাধারা। যার কুল কুল ধ্বনিতে মন নাচিয়ে আপনাকে নিয়ে যাবে প্রকৃতির পানে। ঝর্ণাটির স্থানীয় নাম ফাটাছড়ির ঝর্ণা, কেউ কেউ একে ডাকেন বড়হিল ঝর্ণা বলে।

ঝর্ণাটি প্রতিবেশী দেশ ভারতের মধ্যে পড়লেও পিয়াইন নদীর পাড়ে দাঁড়িয়ে খুব কাছ থেকে উপভোগ করা যায় ঝর্ণাটির অপূর্ব রূপ সুধা। পাশেই বিএসএফ ক্যাম্প, আর বরইগাছের সারি দিয়ে দুই দেশের সীমানা ভাগ করা। অবশ্য বিজিবির কোনো চৌকি নেই এখানে, তাই সীমানার কাছাকাছি যাওয়া চিন্তা না করাই মঙ্গলজনক। সীমান্তের কাছাকাছি না গিয়েও ঝর্ণাটির মোহনীয় সৌন্দর্য্য রস উপভোগ করতে পারবেন প্রাণভরে বাধাহীন।

গ্রামের শেষে, পাহাড়ি গুহা বেয়ে উচ্ছল ভঙ্গিমায় ছুটে চলছে হরিণীর মতোই লীলায়িত নাম না জানা ঝর্ণার জলরাশি। ছিটকে পড়ে মেলে ধরেছে নিজের রূপের মাধুরী।

তবে সাবধান, ঝর্ণার কাছাকাছি যাওয়া নিষেধ। অনেক আগে ঝর্ণার কাছে যদিও যাওয়াও যেত, ঝর্ণার পানিতে নেমে গোসলও করা যেত, কিন্তু সেই সময় বিএসএফ এর ক্যাম্প ছিল না। তবে ভ্রমন পিপাসুরা নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে এর অপরূপ নৈর্সগিক সৌন্দর্য্য অবলোকন করতে পারবেন।

সিলেটের আম্বরখানা পয়েন্ট থেকে সিএনজি নিয়ে যাবেন গোয়াইনঘাট থানা সংলগ্ন বাজারে। ভাড়া পড়বে ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা। সেখান থেকে আরেকটি সিএনজিতে পশ্চিম জাফলং ইউনিয়নের পাংথুমাই বা পানতুমাই যেতে ভাড়া লাগে মাত্র ১৫০ থেকে ২০০ টাকা। পানতুমাইয়ে কোনো খাবার হোটেল বা থাকার ব্যবস্থা না থাকায় শুকনা খাবার অবশ্যই সাথে রাখতে হবে। রাতে থাকতে চাইলে স্থানীয়দের সহায়তা নিয়ে থাকাই উত্তম। তবে এক্ষেত্রে আপনার ২০০-৩০০ টাকা ব্যয় হতে পারে।

28 May 2019

কিছু তথ্যঃ
রাজশাহী থেকে বাঘার দূরত্ব প্রায় চল্লিশ কিলোমিটার।
বাঘার সবজয়গাতেই আছে আমের বাগান।
আম বাগান দেখতে চলে যেতে পারেন ঐতিহাসিক বাঘা মসজিদ।
প্রাচীন এ মসজিদ ইট দিয়ে তৈরি।
মূল মসজিদের চারপাশে চারটি ও মাঝখানে দুই সারিতে পাঁচটি করে মোট দশটি গম্বুজ আছে। মসজিদের পূর্বপাশে পাঁচটি দরজা আছে।
উত্তর ও দক্ষিণ দেয়ালের চারটি দরজাই বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
প্রায় ২৩.১৬ মি দৈর্ঘ্য এবং ১২.৮০ মিটার প্রস্থের এই মসজিদ ১৮৯৭ সালের ভূমিকম্পে ছাদ ধ্বংস হয়ে যায়। প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ পরে গম্বুজসহ ছাদটি পুনঃনির্মাণ করেন।

যা দেখবেন=
মসজিদের ভেতরে ও বাইরে রয়েছে প্রচুর পোড়া মাটিরফলক।
মসজিদের ভেতরে উত্তর-পশ্চিম কোণে একটু উঁচুতে নির্মিত একটি বিশেষ নামাজ কক্ষ আছে।
এটি নিয়ে মতবিরোধ আছে।
অনেকে মনে করেন এটি মহিলাদের নামাজের জায়গা ছিল।
আবার অনেকের মতে কক্ষটি শুধু সুলতানের প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত গভর্নরের জন্যই সংরক্ষিত ছিল।
বাঘা মসজিদের পূর্ব পাশে আছে বিশাল আকৃতির একটি দীঘি।
মসজিদের পাশেই আছে একটি কবরস্থান।
বেশ কয়েকজন বুজুর্গ ব্যক্তি শায়িত আছেন এখানে।
জনশ্রুতি আছে হযরত শাহ দৌলা দানেশ মন্দ (র.) পাঁচজন সঙ্গীসহ ইসলাম প্রচারের উদ্দেশ্যে বাগদাদ থেকে বাঘায় আসেন খ্রিস্টীয় ১৫০৫ সালে।
সুলতান নসরত শাহও তার ভক্ত ছিলেন বলে যানা যায়।
শাহ দৌলা এ অঞ্চলে বাঘের পিঠে চড়ে বেড়াতেন বলে জায়গাটির নাম বাঘা, এ কথা প্রচলিত আছে লোকমুখে।
বাঘা মসজিদ যাওয়ার পাথে বানেশ্বর আম হাট দেখে যেতে পারেন।
রাজশাহীর সবচেয়ে বড় আমের হাট বসে বানেশ্বরে।

কিভাবে যাবেন=
ঢাকা থেকে সড়ক, রেল ও আকাশ পথে রাজশাহী যাওয়া যায়।
ঢাকার কল্যাণপুর ও গাবতলী থেকে দেশ ট্রাভেলস ও গ্রীন লাইন পরিবহনের এসি বাস যায় রাজশাহী। ভাড়া ৮শ’ থেকে ১ হাজার টাকা।
এছাড়া ঢাকার গাবতলী ও কল্যাণপুর থেকে শ্যমলি পরিবহন, হানিফ এন্টারপ্রাইজ, ন্যাশনাল ট্রাভেলস, বাবলু এন্টারপ্রাইজ প্রভৃতি পরিবহন প্রতিষ্ঠানের বাস যায় রাজশাহী।
ভাড়া ৪শ’ থেকে সাড়ে ৪শ’ টাকা।
ঢাকার কমলাপুর থেকে রোববার ছাড়া সপ্তাহের প্রতিদিন দুপুর ২টা ৪০ মিনিটে রাজশাহীর উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায় আন্তঃনগর ট্রেন সিল্কসিটি এক্সপ্রেস এবং মঙ্গলবার ছাড়া প্রতিদিন রাত ১১টা ১০ মিনিটে ছেড়ে যায় আন্তঃনগর ট্রেন পদ্মা এক্সপ্রেস।
ভাড়া শোভন চেয়ার সাড়ে ৩শ’ টাকা, স্নিগ্ধা ৬০৪ টাকা, এসি সিট ৭২৫ টাকা, এসি বার্থ ১০৮১ টাকা।
ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিমান বাংলাদেশ (সর্বনিম্ন ভাড়া ৩ হাজার ৩শ’ টাকা), ইউনাইটেড এয়ারের (সর্বনিম্ন ভাড়া ৪ হাজার ২৫০ টাকা) বিমান চলাচল করে রাজশাহীতে।
রাজশাহী থেকে বাঘা যাওয়ার সহজ উপায় হল বাস।
রাজশাহী সদর বাস টার্মিনাল থেকে বাঘার বাস ছাড়ে। ভাড়া ৩৫ থেকে ৪০ টাকা।

কোথায় থাকবেন=
রাজশাহী শহরে বিভিন্ন মানের হোটেল আছে। রাজশাহী চিড়িয়াখানার পাশে আছে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের মোটেল।
ঢাকার পর্যটন করপোরেশনের প্রধান কার্যালয় থেকেও এ হোটেলের বুকিং দেওয়া যায়।
এ হোটেলের এসি একক কক্ষ ১ হাজার ৯শ’ টাকা, এসি দ্বৈত কক্ষ ২ হাজার ৬শ’ টাকা, সুইট ৪ হাজার ৬শ’ টাকা।
রাজশাহী শহরের অন্যান্য হোটেল হলো গণকপাড়ায় হোটেল নাইস ইন্টারন্যাশনাল, শিরোইলে হোটেল হকস্ ইন্, সাহেব বাজারে হোটেল মুক্তা ইন্টারন্যাশনাল, বিন্দুর মোড়ে হোটেল ডালাস ইন্টারন্যাশনাল, মালোপাড়ায় হোটেল শুকরান ইত্যাদি। এসব হোটেলে ৫শ’ থেকে ৩ হাজার ৫শ’ টাকায় কক্ষ আছে।

খাওয়া-দাওয়া=
এখানে খাবার তেমন ভাল হোটেল নাই।
 তবে কিছু খাবার দোকান আছে।
এখানে বেশির ভাগ লোক রান্না করে খাই।
রান্না করার জন্য খুব সুন্দর পরিবেশ তৈরি করা আছে।
খাবারের জন্য এখানে খুব কমে দামে বেশ কিছু খাবার পাবেন।
আর ফলের সময় একদম টাটকা ফল পাবেন।

ধন্যবাদ