Daily Archives

Monday, April 29, 2019

29 Apr 2019

একখণ্ড স্বর্গ হিসেবে পরিচিত চায়ের দেশ শ্রীমঙ্গলের অপার নিসর্গে মন্ত্রমুগ্ধ হন প্রায় সকল পর্যটকই। পাহাড়ের কোলে ঘুমিয়ে থাকা চা বাগান, বিস্তীর্ণ হাওড়ের জলরাশি, অবারিত সবুজ বনানী এখানে সৃষ্টি করেছে অপরূপ সৌন্দর্যের এক উপাখ্যান। তাই প্রকৃতি প্রেমী ও ভ্রমণ পিপাসুদের অন্যতম একটি প্রিয় গন্তব্য হয়ে উঠেছে শ্রীমঙ্গল। এখানে উপভোগ করার মত অনেকগুলো চমৎকার স্থান রয়েছে। শ্রীমঙ্গলের চা বাগান, বাইক্কা বিল, লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, মাধবপুর লেক হয়ত অনেকেই ঘুরে এসেছেন। এবার দেখে আসুন অপূর্ব সৌন্দর্যের স্বর্ণালী ছড়া। প্রাকৃতিক নিসর্গের এই ছড়াটি তার অপার সৌন্দর্যে মুগ্ধ করছে পর্যটকদের।

রাধানগর থেকে প্রায় আধা কিলোমিটার সামনে গেলেই ছোট্ট একটি ব্রিজের নিচে স্বর্ণালী ছড়ার অবস্থান। অত্যন্ত মনোমুগ্ধকর এই জায়গাটি যে কাউকেই বিমোহিত করবে। ব্রিজের নিচ দিয়ে প্রবাহিত হওয়া এই ছড়াটির পাথরের উপড়ে সোনালি আঁশ পড়ে উজ্জ্বল হয়ে অপূর্ব সৌন্দর্যের সৃষ্টি হয়েছে এখানে। এই সোনালী আবরণের কারণেই মূলত এই ছড়াটি স্থানীয় ভাবে “স্বর্নালী ছড়া” নামে পরিচিতি লাভ করেছে। ছড়ার মধ্য দিয়ে আবার একটি ছোট্ট নালা প্রবাহিত রয়েছে। একটু উঁচু থেকে নিচে স্বচ্ছ পানি পড়ার শব্দ আপনাকে দেবে অপার আনন্দ।

ছড়া দিয়ে সামান্য হেঁটে সামনের দিকে এগিয়ে গেলে দেখা মিলবে বাঁশ বাগানের। এর পাশে রয়েছে বিভিন্ন ধরণের গাছপালা। স্বচ্ছ সাদা পানির নিচে দেখা যাবে সোনালী সৌন্দর্য। পানির শোঁ শোঁ শব্দে মনে যেনো কোনো বিশাল সোনালী বর্ণের ঝর্ণার পাশে দাঁড়িয়ে আছেন আপনি। খণ্ড খণ্ড গর্তের উপর থেকে নিচে পানি পড়ছে অবিরাম ধারায় যা দেখে মুগ্ধ হবেনই। ছড়া দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে সামনের দিকে এগোতে থাকলে দেখতে পাবেন সোনালী আঁশযুক্ত পাথর। এসব পাথরের মাঝে উঁচু থেকে নিচুতে প্রবেশ করলে যে সৌন্দর্য দেখতে পাবেন তা সত্যিই অপরূপ।

ছড়ার দু পাশে রয়েছে হরেক রকমের নাম না জানা বিভিন্ন বন্য ফুলের ঝোপ। ছড়ার দু’পাশে বাঁশের ঝাড় থাকায় ঝিঁ ঝিঁ পোকার আওয়াজ শুনে মনে হবে প্রকৃতির অপার আদিরূপ আপনার একদম সান্নিধ্যে। আরও সামনে এগিয়ে গেলে চোখে পড়বে বাঁশের তৈরি সাঁকো। প্রাকৃতিক নিসর্গের মনোরম এই স্থানটি দেখতে অনেক দর্শনার্থীর আগমন ঘটে এখানে।

যেভাবে যাবেন:

ঢাকা থেকে সড়ক ও রেল পথে সরাসরি শ্রীমঙ্গল যাওয়া যায়। ঢাকার ফকিরাপুল ও সায়দাবাদ থেকে হানিফ এন্টারপ্রাইজ, শ্যামলী পরিবহন, এনা পরিবহন, সিলেট পরিবহন ইত্যাদি পরিবহনের নন এসি বাস ছাড়ে শ্রীমঙ্গলের উদ্দেশে। ভাড়া পড়বে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা। এছাড়া কমলাপুর স্টেশন থেকে আন্তঃনগর ট্রেন পারাবত এক্সপ্রেস, জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস, ও উপবন এক্সপ্রেস এ চড়েও যেতে পারেন শ্রীমঙ্গল।
শ্রীমঙ্গল শহর থেকে অটোরিকশা কিংবা সিএনজিতে চড়ে পৌঁছাতে পারবেন রাধানগরে।

কোথায় থাকবেন:

শ্রীমঙ্গলে থাকার জন্য সবচেয়ে ভাল মানের জায়গা ভানুগাছ সড়কে টি-রিসোর্ট। এছাড়াও রয়েছে হোটেল গ্র্যান্ড সুলতান (পাঁচ তারকা), রেইন ফরেস্ট রিসোর্ট, টি টাউন রেস্ট হাউজ, হোটেল প্লাজা ইত্যাদি। এসব হোটেল ও রিসোর্টের ভাড়া পড়বে ৫’শ টাকা থেকে ৫ হাজার ৫’শ টাকা।
এছাড়া রাধানগরে চমৎকার দুটি রিসোর্ট হল নিসর্গ নীরব ইকো রিসোর্ট ও নিসর্গ লিচিবাড়ি ইকো রিসোর্ট।

এছাড়াও সাধারণ মানের কিছু হোটেল রয়েছে, চাইলে সেগুলোতেও থাকতে পারেন। খরচ পড়বে ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা।

29 Apr 2019

আমাদের দেশের অনাবিল গ্রাম-বাংলার সৌন্দর্যে দিগন্তজোড়া দীঘি এক অন্যতম অনুষঙ্গ। চিরায়ত বাংলার রূপে সৌন্দর্যের ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে সুবিশাল দিঘিগুলো। এই বাংলায় যেমন রয়েছে অনবদ্য প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের ভাণ্ডার আর প্রাচীন স্থাপনা তেমনি সেগুলোকে ঘিরে রয়েছে অসংখ্য উপকথা, লোককথা ও কল্পকাহিনী। তেমনি বিভিন্ন জেলার দিঘিগুলোকেও ঘিরে প্রচলিত আছে নানান লোককথা ও কল্পকাহিনী। আর দিঘিগুলোর সৌন্দর্যও দারুণ নজরকাড়া। অপরূপ সৌন্দর্যের এই দিঘিগুলোর শীতল জলে মন-প্রাণ জুড়াতে কার না ভাল লাগে। তেমনি একটি ঐতিহাসিক দিঘী নওগাঁর দিবর দিঘী। অপার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আর পুরাকীর্তির নিদর্শনে ঘেরা এই দিঘীটি দেখে আসতে ভুলবেন না।

নওগাঁ জেলার পত্নীতলা উপজেলা থেকে ১৬ কি.মি. পশ্চিমে সাপাহার-নওগাঁ সড়কের পাশেই ঐতিহাসিক দিবর দীঘি অবস্থিত। দিবর দীঘির ঐতিহাসিক পটভূমি ছাড়াও রয়েছে অপার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। দীঘির মূল ঘাটে প্রবেশ করার সময় দু’পাশে উইপিং দেবদারু গাছ দিয়ে ঘেরা রাস্তা আপনাকে স্বাগত জানাবে। দীঘির পাড়ে কয়েকশ’ একর জায়গা জুড়ে রয়েছে দেশী-বিদেশী বিভিন্ন গাছের সমন্বয়ে সামাজিক বনায়ন প্রকল্প এবং দীঘির পশ্চিম পাড়ে বিশাল আম-কাঁঠালের বাগান। দীঘিটিকে ঘিরে লোকমুখে অনেক গল্প কাহিনী, কাল্পনিক গল্প-কথা প্রচলিত। এই দিঘীর মাঝখানে রয়েছে আশ্চর্যজনক ভাবে স্থাপিত অখণ্ড গ্রানাইট পাথরের স্তম্ভ। সুদূর অতীতের বাঙ্গালীর শৌর্যবীর্যের সাক্ষ্য বহন করছে আজও। অর্ধ বর্গ বিঘা দীঘির মধ্যখানে অবস্থিত আট কোণাবিশিষ্ট গ্রানাইট পাথরে নির্মিত এতবড় স্তম্ভ বাংলাদেশে বিরল। এটিকে জয়স্তম্ভ নামে ডাকা হয়। সকলের কাছেই ওই দীঘিটি কর্মকারের জলাশয় নামে পরিচিত। স্তম্ভটির সর্বমোট উচ্চতা ৩১ ফুট ৮ ইঞ্চি। পানির নিচের অংশ ৬ ফুট ৩ ইঞ্চি এবং পানির উপরের অংশ ২৫ ফুট ৫ ইঞ্চি। স্তম্ভটির ব্যাস ১০ ফুট ৪ ইঞ্চি। প্রতিটি কোণের পরিধি ১ ফুট সাড়ে ৩ ইঞ্চি। স্তম্ভের উপরিভাগ খাঁজকাটা অলঙ্করণ দ্বারা সুশোভিত। বৃটিশ প্রত্নতাত্ত্বিক স্যার আলেকজান্ডার ক্যানিং হামের মতে, একাংশ শতাব্দীর কৈর্বত্য রাজা দিব্যকের ভ্রাতা রুদ্রকের পুত্র প্রখ্যাত নৃপতি ভীমের কীর্তি এটি। ধারণা করা হয়, তার শাসনামলে পাল বংশকে পরাজিত করে বিজয় অর্জনের স্মৃতি চিহ্ন হিসাবে দীঘির মাঝখানে এই জয়স্তম্ভ স্থাপন করা হয়। এটি একটি অখণ্ড পাথর কেটে তৈরি করা হয়েছে। স্তম্ভের চারটি কোন থাকার পাশাপাশি এই বিরাট স্তম্ভের উপরিভাগে পরপর তিনটি রেখা রয়েছে যা স্তম্ভটির সৌন্দর্য বৃদ্ধি করেছে। স্তম্ভটির শীর্ষে রয়েছে নান্দনিক কারু-কার্য যা রাজার স্মৃতিকে আজও ধারণ করে রেখেছে।

দীঘির পশ্চিম দিক থেকে দক্ষিণ দিকে রয়েছে দীর্ঘ খাঁড়ি। বর্ষার সময় বনের ভেতর দিয়ে খাঁড়ির প্রবাহ আপনাকে সুন্দরবনের কথা মনে করিয়ে দেবে। এই খাঁড়ি বিভিন্ন এলাকা ঘুরে আত্রাই নদীতে মিশেছে। এখানকার প্রধান আকর্ষণ হচ্ছে বরেন্দ্র অঞ্চলের বিশেষ ভূমিরূপ। যা দেখতে হলে আপনাকে বরেন্দ্র এলাকা ঘুরতেই হবে। দীঘির জলাশয় থেকে উপরের দিকে গ্যালারির মতো হয়ে ওঠে যাওয়া ভূমি সত্যিই অপরূপ। বর্ষাকালে দিবর দীঘি এলাকা এক ভিন্ন রূপ ধারণ করে। সে সময় এলাকাজুড়ে ধান চাষ করা হয়। উঁচু-নিচু ঢেউ খেলানো ধানক্ষেতে সবুজের সমারোহ দেখে আপনার প্রাণ ও চোখ দুটোই জুড়াবে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও ঐতিহাসিক নিদর্শন দুটোই মন ভরিয়ে তুলবে আপনার।

যেভাবে যাবেন:

ঢাকা থেকে হানিফ এন্টারপ্রাইজ, আল নাফি ইত্যাদি বাস নওগাঁর উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। এসব বাসে করে সাপাহার এসে ভ্যান বা রিকশাযোগে দিবর দীঘি যেতে পারেন। ভাড়া নিবে ১০ টাকা। এছাড়া বাস টার্মিনাল থেকে সাপাহারের বাসে করে দিবর দীঘি নামতে পারেন। বাসে সময় লাগবে দেড় থেকে দুই ঘণ্টা।

যেখানে থাকবেন:

সাপাহারে থাকার জন্য কিছু আবাসিক হোটেল আছে। তাছাড়া চাইলে নওগাঁ সদরেও থাকতে পারেন। এখানে ভালো মানের আবাসিক হোটেল পেয়ে যাবেন। এখানে ১৫০ থেকে ১৫০০ টাকার মধ্যে রুম পাবেন। এসিও রুমও পাবেন। সেক্ষেত্রে খরচ আরো কিছুটা বেশী পড়বে।

 

29 Apr 2019

হাতিমূড়া/হাতিমাথা পাহাড় যা ত্রিপুরা ভাষায় মায়ুংকপাল ও চাকমা ভাষায় এদো সিরে মোন। এই পাহাড়ের কোল ঘেষে ত্রিপুরা পাড়ায় যাওয়ার জন্য সিঁড়িটি ১৩ জুন ২০১৫ সালে নির্মান করা হয়। পাহাড়টির মোট উচ্চতা প্রায় ১২০৮ ফিট যার মধ্যে ২৬৭ ধাপ বিশিষ্ট সিঁড়িটির মোট উচ্চতা প্রায় ৪০০ ফিট, গ্রামবাসীর সুবিধার্থে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড এটি বাস্তবায়ন করে। মূলত পাহাড়টি হাতির মাথার ন্যয় আকৃতি হওয়ায় এর এই নামকরণ করা হয়।

স্বর্গের সিঁড়িটা মর্ত্যভূমি থেকে উঠে গেছে সোজা উপরের দিকে। পাহাড় আর বনের ফাঁকে ফাঁকে চলা সেই সিঁড়ির শেষ দেখা যায় না। উপরে যেন স্বর্গেই শেষ হয়েছে সিঁড়িটা।আনুমানিক ১২০-১১০° এ্যাঙ্গেলের খাড়া প্রায় ৩০০ সিঁড়ি বেয়ে হাতিমাথায় উঠতে হয়।হিমশীতল হওয়া সিঁড়ি বেয়ে যখন পাহাড়ের চূড়াতে উঠা হয় তখন নৈসর্গিক সৌন্দর্যে চোখ ধাধিয়ে যাবে।চারিদিকে শুধু সবুজ আর সবুজ।

কিভাবে যাবেনঃ মায়ুং কপাল/হাতিমুড়া খাগড়াছড়ি সদর থেকে পানছড়ি যাওয়ার পথে জামতলীস্থ যাত্রী ছাউনির সামনে নামতে হবে। খাগড়াছড়ি সদর থেকে জামতলী পর্যন্ত গাড়ী ভাড়া জন প্রতি ১৫ টাকা।এরপর জামতলীস্থ যাত্রী ছাউনি (পানছড়ি_২২কিঃমি_ঠিক_এই_স্পটে_নামবেন) এর
বামদিকের রাস্তা ধরে সোজা গিয়ে চেঙ্গী নদী পার হয়ে ডান দিকে স্কুলের রাস্তার দিকে যেতে হবে। স্কুলের নাম পল্টনজয় সঃ প্রাঃ বিদ্যালয়। ওখানে গিয়ে একটি দোকান পাবেন। দোকানের সামনে দিয়ে ডানের রাস্তা ধরে যেতে হবে। দুটি বাঁশের সাঁকো পার হতে হবে। এরপর ডানদিকে ছড়ার পাশ দিয়ে যে ছোট্ট রাস্তা গেছে, সেটি দিয়ে অারেকটি বাঁশ-গাছের সাঁকো পার হয়ে এবার সোজা পথ ধরে এগিয়ে যেতে হবে। এখানে বগড়া পাড়া নামে একটি পাড়া পড়বে। এরপর সামনে এগুলে বিস্তৃত ছড়া পড়বে। এরপর একটি বড় টিলা পার হতে হবে। এটি পার হলে একটি লোকালয় পাওয়া যাবে, যে এলাকার নাম কাপতলা। এরপর হাতের ডান দিকে নিচু পথ ধরে এগিয়ে যেতে হবে, যেতে যেতে সামনে দুইটি রাস্তা পাওয়া যাবে এবং ডান দিকের রাস্তা ধরে এগুতে হবে। এরপর দেখা মিলবে অসাধারণ মায়ুং কপাল/হাতি মুড়া। সব মিলিয়ে পৌঁছাতে সময় লাগবে ঘন্টা দেড়েক।

যেখানে সেখানে ময়লা ফেলা ও পরিবেশ নোংরা করা মহাপাপ। কোন ভাবেই এই মহাপাপ করা যাবে না, সেটা ঘুরতে গিয়েই হোক কিংবা আপনি যেখানে থাকেন তার চারপাশেই হোক।

Source: Sawon <Travelers of Bangladesh (ToB)