Daily Archives

Tuesday, April 23, 2019

23 Apr 2019

অনেক দিন কোথাও ঘুরে যাওয়া হয় নাই। একটু রিফ্রেশ এর জন্য জায়গা খুজছিলাম। (tob) এর কল্যাণে পেয়ে গেলাম কাপ্তাই এর ভ্রমণ অভিজ্ঞতা । ফ্রেন্ড সার্কেলের সবাই কে জানাই দিলাম। এর মধ্যে ৫ জন সদস্য পাইলাম যাওয়ার জন্য।

আমাদের প্ল্যান ছিল কায়াকিং + নৌকা ভ্রমণ করব। ২০ এপ্রিল,শনিবারে ভ্রমণ এর ডেট ঠিক করি।আমার সবাই চট্টগ্রামের ছিলাম।চট্টগ্রাম শহর থেকে কাপ্তাই যেতে হলে বহদ্দারহাট বাস স্টেশন থেকে যাওয়া যায়। বাস স্টেশন থেকে ১৫মি পর পর কাপ্তাই এর বাস ছাড়ে ভাড়া ৬৫ টাকা।আমাদের প্ল্যান ছিল সকাল ৮ টা বাজে গাড়িতে উঠবো ১০ টা করে কাপ্তাই নামবো ।তা আর হইলো না সবাই ৮ টায় বাস স্টেশনে চলে আসলেও ১ জন এর কোন খবরই নাই। সবাই মন খারাপ হয়ে যায় এমনিতে সদস্য কম এর মধ্যে আরো একজন কম। সবাই কল করে ও তার সারা পাই না। আমারা গাড়ির উঠার একটু আগে তার কল আসে, কল দেখে অনেক খুশি ও রাগ দু ই ছিল।অই পার থেকে বেশে আসতেছে “দুস্ত সরি” মাথা ১০০ তে ১০০ গরম, রাগটা কন্ট্রোল করে তাড়াতাড়ি করে যে আসতে বললাম।আমার ৪ জন বাস স্টেশন কাউন্টার এর পাশে নাস্তা করলাম।পরতা আর চা খেলাম বিল আসছিল ৪ জনের ৬১ টাকা। যারা সকাল সকাল বের হবেন নাস্তা করে না আসলে তারা স্টেশন এ নাস্তা করতে পারেন।বাস স্টেশনের কাউকে বাশঁখালী কাউন্টার কোথায় জিজ্ঞেস করলে দেখিয়ে দিবে,এর সামনে হোটেলটা। নাস্তা করে নিলে ভালো ২/৩ ঘন্টার যাত্রাপথ কাপ্তাই যেতে। আমাদের সেই মহান বন্ধু আসলো। কাপ্তাই এর গাড়ি ছিল কিন্তু যাত্রী ছিল না। লিচুবাগানের গাড়ী ছিলো পাশে। কাপ্তাই যাওয়ার আগে লিচুবাগান পরে ভাড়া ছিল ৪৫ টাকা।কাপ্তাই যাইতে হলে লিচুবাগান এর গাড়ি গুলোতে করে যাওয়া ভালো, গাড়ি কাপ্তাই এর বাস গুলো থেকে অনেক ভালো। ৯:২০ এ গাড়ীতে উঠি সৌভাগ্যর দোষে আমাদের পেছেনের সিট মিলে।কিন্তু রাস্তা ভালো থাকায় সমস্যা হয়নাই।৯:৩০ এ গাড়ী ছাড়ে গাড়ীতে খাওয়ার জন্য মহান লেট বন্ধু ২ টা ৫০০মি কোক আর সমুচা নিল সবার জন্য খরচ ১০০ টাকা। রাস্তার দুইপাশে সবুজ গ্রাম দেখতে দেখতে ১১ টার মধ্যে লিচুবাগান স্টেশন এ পৌছে যায়।

গাড়ী থেকে নেমে ৩ টা চিপস নিলাম ৪৫ টাকা দিয়ে।লিচুবাগান মোড়ে অনেক CNG আছে কাপ্তাই যাওয়ার। লিচুবাগান থেকে কাপ্তাই এর ভাড়া ৩০ টাকা করে CNG প্রতি জন।যারা কায়াকিং করবেন তারা জুম রেস্তোরাঁয় জন্য CNG নিবেন ১০০/১৫০ টাকা দিয়ে, আমরা ১৫০ টাকা দিয়ে ঠিক করি।৩০ মিনিট মত লাগে পৌঁছাতে, যাওয়া সময় রাস্তার ২ পাশে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য দেখে মন ফ্রেশ হয়ে যায়, উঁচু নীচু রাস্তা যা পাহাড়ের পাশ কেটে চলে যাচ্ছে দূরদূরান্তের। জুম রেস্তোরাঁর সামনে কাপ্তাই কায়াকিং ক্লাব CNG চালকরে বললে সে নামায় দিবে।নামার সাথে সাথে পিক, সেল্ফি। একপাশে কাপ্তাই লেক আর এক পাশে পাহাড় ২ টায় দেখার সৌভাগ্য হয়েছে আমাদের।কায়াক ক্লাব এর নিচে নেমে ও পিক তুলা শেষ হয় না।আমার ৫ জন এর মধ্যে ২ জন মেয়ে ও ছিল তারা সাতার জানে না ভয়ে করতে চাইতেছে না কায়াকিং। আবার লোভ ও সামলাতে না পেরে রাজি হয়ে যায় ।৩ টা কায়াক বোট নিলাম। ২০০ করে রাখলো স্টুডেন্ট বলে। এমনি তে ২৫০,যাওয়ার সময় স্টুডেন্ট আইডি কাড নিয়ে যাবে ৫০ টাকা ডিস্কাউন্ট পাবেন।আমরা নিয়ে গেছিলাম ৬০০ দিয়ে ৩ টা বোট নিলাম এক বোট এ ২ জন করে বসা যাবে।আমাদের মধ্যে একজন আগে করেছিল কায়াকিং সেই ১ টা নিয়ে চলে গেলো আর বাকী ২ টা ২ জন করে বসে পরলাম । সবাই কে লাইফ জেকেট পরতে হবে আর ওরা যা নিয়ম বলবে সেই নিয়মে করবেন।কায়কে দাড়ানো যাবে না কায়াক করার অবস্থায় নামা যাবে না বোট থেকে, নাইলে ১০০০ টাকা জরিমানা করবে।১ ঘন্টা কায়াকিং টা ছিল অনেক অনেক অসাধারণ মুহূর্ত পাহাড়ের মাঝে কায়াকিং করা।পুরো ১ ঘণ্টা কায়াকিং করলাম ১ মিনিট ও ছাড় নাই।কায়াকিং করে অনেক খিদে লাগছে সবার, কায়াক ক্লাব এর ২ পাশে ২ টা রেস্তোরাঁ আছে।আমরা ডান পাশে ফ্লোডিং প্যরাডাইস রেস্তোরাঁতে যায়।ভাত, ডাল ৪০ টাকা, আর দেশী মুরগী ১৩০ টাকা এক পিছ। ৫ জনের খাবার এবং সাথে ১ লিটার সেভেন আফ ৯৪৫ টাকা বিল আসলো হোটেল আংকেল ৯০০ টাকা রাখছে।রেস্তোরাঁ থেকে কাপ্তাই লেক ভিউ অনেকে সুন্দর ছিলো। কিছুক্ষণ রেস্তোরাঁয় সময় কাটালাম লেক দেখে।এর পর জেটিঘাট যেতে হবে জুম রেস্তোরাঁ সামনে হেটে চলে যাবেন ওইখানে CNG রয়েছে ১ জন ২০/২৫ টাকা করে জেটিঘাট।CNG চালক ২৫০ বলেছিল ১০০ দিয়ে রিজার্ভ করি।

কাপ্তাই এ যতই বিতরে যাবেন তত সৌন্দর্য দেখতে পাবেন ।রাস্তার পাশে অনেক পার্ক, জাতীয় উদ্যান,ঘুরার স্পট আছে যারা সময় নিয়ে যাবেন ওই গুলো ঘুরে দেখবেন।যারা রাত কাটাবেন তারা প্রশান্তি পার্কে থাকতে পারবেন। আমারা জেটিঘাট গিয়ে একটা নৌকা ঠিক করি ঘন্টায় ১৫০ টাকা, সদস্য বেশি হলে ইঞ্জিন চালিত সাম্পান নিবেন ১০০০ টাকা করে ১ ঘন্টায়।ওরা আপনাকে কাপ্তাই বিদুৎ কেন্দ্র,কাপ্তাই বাধ, লেক ভিউ ও দেখাবে চাইলে লেক ভিউতে নামতে পারেন ১০০ টা এন্টি ফি।আমাদের ইচ্ছা ছিল না তাই যায় নাই। লেক এর পানি খুব পরিষ্কার আর সবুজ রঙের ছিল।লেকে নৌকা রাইড দিয়ে অনেক ভালো লাগলো।যে পরিমাণ আনন্দ পেলাম সে হিসেবে টাকাটা অনেক কম মনে হয়েছে। যারা লেক এর পানিতে গোসল করতে চান করতে পারবেন। আমাদের ১ জন এক্সট্রা কাপড় আনছিল বাকিরা আনে নাই তাই করা হলো না। নৌকা ভ্রমণ শেষ এই বার ফেরার পালা।শনিবারে ওইখানে হাট বসে চাইলে কিছু কিনতে পারেন, দাম কম তুলনামূলক। জেটিঘাট থেকে লিচুবাগান ১৭৫ টাকা CNG তে।লিচুবাগান নেমে একটা দোকানে ঢুকে নাস্তা করলাম। কেক, ঠান্ডা 7up ৪ জন, চা খেলো ১ জন ১১০ টাকা।লিচুবাগান থেকে বহদ্দারহাট বাস স্টেশন ৪৫ টাকা ভাড়া। আসার সময় ঘুমায়ছি গাড়িতে।শহরে নামায় দেয় আমাদের ৫:৪০।

এইবার আসি খরচ এর কথায় :
*সকালের নাস্তা ৬১+১০০ = ১৬১ টাকা
*বহদ্দারহাট টু লিচুবাগান ভাড়া ৪৫*৫ = ২২৫ টাকা
*চিপস ৪৫ টাকা
*লিচুবাগান টু কায়াক ক্লাব রিজার্ভ ১৫০ টাকা
*কায়াকিং ৩ বোট ৬০০ টাকা
*দুপুরের খাবার ৯০০ টাকা
*কায়াক ক্লাব টু জেটিঘাট রিজার্ভ ১০০ টাকা
*নৌকা ভ্রমণ ১৫০ টাকা
*জেটিঘাট টু লিচুবাগান রিজার্ভ ১৭৫ টাকা
*বিকালের নাস্তা ১১০ টাকা
*লিচুবাগান টু চট্টগ্রাম শহর ৪৫*৫= ২২৫ টাকা
মোট ৫ জনের খরচ (১৬১+২২৫+৪৫+১৫০+৬০০+৯০০+১০০+১৫০+১৭৫+১১০+২২৫=২৮৪১ টাকা)
প্রতি জনের খরচ হবে (২৮৪১/৫= ৫৬৯) টাকা
★★ ৬০০ টাকায় ১ দিনের ট্যুর হিসাবে আমাদের অনেক ভালো লেগেছে।

বি দ্রঃ কাপ্তাই এলাকা খুব পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন।আমাদের সবার দরকার আমাদের দেশকে পরিচ্ছন্ন রাখা।যেখানে ঘুরতে যাবেন ময়লা যেখানে সেখানে ফেলবেন না।dustbin এ ফেলবেন।dustbin আশে পাশে না থাকলে একটা পলিথিন এ রেখে ব্যাগ এর একপাশে রাখুন।dustbin দেখলে অইকানে ফেলবেন।

Source: Akibul Islam‎ Travelers of Bangladesh (ToB)

23 Apr 2019

সিলেট ঘুরতে গিয়েছেন কিন্তু জাফলং যাননি তাহলে আপনার ঘুরতে যাওয়াটাই বিফল হয়ে যাবে। সিলেট থেকে জাফলং যেতে দুই ঘণ্টার একটু বেশি সময় লাগে।কিছুটা রাস্তা বেশ খারাপ কিন্তু বিছানাকান্দির মতো অত খারাপ না। সিলেট থেকে জাফলং, লালাখাল এবং শাহ পরানের মাজার সহ সারাদিনের জন্য সিএনজি ঠিক করলাম। লোকাল সিএনজি চালকরা একটু দুষ্টু প্রকৃতির। আপনার কাছ থেকে কত টাকা হাতিয়ে নেওয়া যায় এই ধান্দায় থাকে। তিন, চারটা সিএনজি সাথে কথা বলার পরে ১৫০০ টাকায় একজনকে রাজি করালাম। লোকটা বেশ ভালোই ছিলো, বেশ ভালো ভাবে সিএনজিটা চালাচ্ছিল। হোটেলে সকালের কম্প্লিমেন্টারি নাস্তাটা সেরে ঠিক ৮ সময় সিএনজি নিয়ে যাত্রা শুরু করলাম। পথে কিছু কলা কেনার ইচ্ছা ছিল কিন্তু কোন দোকানেই কলা পাচ্ছিলাম না। অবশেষে একটি দোকানে অল্প কিছু কলা পেলাম। আনুমানিক 2 ঘণ্টা 20 মিনিট পরে জাফলং পৌছালাম। 3 থেকে 4 কিলোমিটার রাস্তা একটু খারাপ ছিল। যতই জাফলং এর কাছে যাচ্ছি ততই দূর থেকে মেঘালয়ের পাহাড় গুলো দেখে মনে হচ্ছিল জীবন্ত কোনো স্বর্গ। পাহাড়ের এক পাস হচ্ছে বাংলাদেশ অন্য পাস ইন্ডিয়া। সিএনজি স্ট্যান্ডে এসে দাঁড়ালো। একটু হেঁটে সামনে যেতেই দেখি ছবির মত সুন্দর প্রকৃতির দৃশ্য। দুই পাশে পাহাড় তার মাঝখান থেকে বয়ে চলা নদী। উপর থেকে সৌন্দর্য উপভোগ করতে করতে কখনো ভাবিনি আরো বড় চমক অপেক্ষা করছে আমাদের জন্য।

বাস স্ট্যান্ডের উপর থেকে খুব আস্তে আস্তে সিঁড়ি বেয়ে নিচের দিকে নামতে হবে। নামা খুবই সহজ কিন্তু ওঠাটা খুবই কঠিন। একটু এদিক সেদিক হলে বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। নিচে নামার পরে আবিষ্কার করলাম সেখানে একটা বড় সিন্ডিকেট আছে। আমি নিচে নেমে চুপচাপ বোঝার চেষ্টা করলাম কি হচ্ছে এখানে।জাফলং টা ঘুরে দেখার জন্য আপনাকে নৌকা অথবা ট্রলারে যেতে হবে। ট্রলারের থেকে নৌকায় ঘুরতে যাওয়াটাই বুদ্ধিমানের কাজ। নৌকায় করে ঘুরতে যে উপভোগ আপনি করতে পারবেন ট্রলারে সেটা পারবেন না। মূল ঘাটে সবাই সিন্ডিকেট হয়ে জড়ো হয়ে বসে আছে। ঘুরতে হলে ওখানে ওরা জিজ্ঞেস করবে আপনি কি প্যাকেজে যাবেন নাকি প্যাকেজ ছাড়া। প্যাকেজে যাওয়াটা অত্যন্ত বোকামি। প্যাকেজে অতিরিক্ত হিসেবে অন্তর্ভুক্ত চা বাগান এবং সুপারি বাগান। আমি মনে করি সিলেটের চা বাগান এবং সুপারি বাগান দেখতে চাওয়াটাই বোকামি। চা বাগানের সৌন্দর্য শ্রীমঙ্গল ছাড়া আর কোথাও খুব একটা পাওয়া যায় না। জাফলং যদি ওই দুইটা স্পোর্ট দেখতে চান তাহলে ওরা ১৮০০ থেকে ২৫০০ টাকা দাবি করবে।

আমি 600 টাকায় নৌকা ঠিক করলাম পুরো জাফলং ঘুরিয়ে দেখার জন্য সাথে অতিরিক্ত হিসেবে পায়ে হেঁটে নতুন খাসিয়া পল্লী নিয়ে যাবে। নৌকায় 10 মিনিট যাওয়ার পর নৌকা থেকে নামলাম, 10 মিনিট পায়ে হেঁটে নতুন খাসিয়া পল্লী পৌছালাম। খাসিয়া পল্লী জীবন ধারাটা বেশ গোছালো এবং পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন। পল্লীর ভিতরে তাদের রাজার একটি বাড়ি আছে বাড়ির সামনে যেতেই বিদেশী প্রজাতির একটি কুকুর ডাক দিয়ে আমাদের অভ্যর্থনা জানালো। ভয় পেয়ে সামনের দিকে এগিয়ে গেলাম। খাসিয়া পল্লীর সব থেকে মজার হচ্ছে প্রতিটি বাড়িতে অসংখ্য পাহাড়ি টিয়া পাখি আছে। পাখিগুলো উন্মুক্ত থাকে সম্ভবত পোষ মানানো, উড়ে যায় না। 10 মিনিট ঘোরাঘুরি করে আবার নৌকায় ফিরে আসলাম। নদীটা পার হয়ে বালির মরুভূমির উপর দিয়ে পায়ে হেঁটে পাথরে ঝর্ণার কাছে গেলাম। বৃষ্টির সময় এটি একটি পরিপূর্ণ ঝর্ণায় পরিণত হয়।আমরা পাথর বেয়ে অনেক উপরে উঠলাম অল্প কিছু পানি বেয়ে পড়তে ছিল। বুঝতে বাকি রইল না বর্ষা সময় ঝর্নাটা কতটা চমৎকার হয়।

খালি পায়ে বালির উপর দিয়ে হেঁটে যাওয়া খুবই কষ্টকর, মনে হয় পায়ের তলায় কেউ আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। আমরা আবার নৌকায় ফিরে আসলাম। অদ্ভুত একটা বিষয় খেয়াল করলাম প্রচন্ড গরম এবং রোদের তাপ কিন্তু পানিতে হাত দেওয়ার সাথে সাথে জমে গেলাম। সৃষ্টিকর্তা কি এক অপূর্ব লীলা খেলা। এবারে আমাদের গন্তব্য জিরো পয়েন্ট। 15 মিনিটের মতো নৌকা চলার পরে আমরা জিরো পয়েন্টে এসে পৌছালাম। গোসল করার জন্য আদর্শ জায়গা এটা। কিন্তু সাবধান পানি খুব ঠান্ডা তাই বেশিক্ষণ গোসল করাটা কঠিন। কিছুক্ষণ অতিবাহিত করে নৌকা নিয়ে আরেকটু সামনে গেলাম। যেখানে ইন্ডিয়া ও বাংলাদেশের সীমানা পিলার দেওয়া আছে। একটু দূর থেকেই খুঁজে পেলাম দুই পাহাড়ের মাঝখানে ঝুলে থাকা অপূর্ব ঝুলন্ত ব্রিজ। ঝুলন্ত ব্রিজের কাছে যাওয়া যায় না। ওই অংশটি ইন্ডিয়ার ভিতরে পড়েছে। অনেক ইন্ডিয়ার পর্যটক তারা ওখানে ঘুরতে আসে। মজার ব্যাপার হল কেউই বর্ডার লাইন ক্রস করেনা। জাফলং এর সৌন্দর্য প্রতিটি মুহূর্ত আপনাকে মুগ্ধ করবে এ ব্যাপারে আমি 100% গ্যারান্টি দিতে পারি।

বর্ষার সিজেন হলে কথাই নাই আপনি সহজেই জাফলং এর প্রেমে পড়ে যাবেন। এবার ফেরার পালা। সিঁড়ি বেয়ে উপরে ওঠা টা যুদ্ধ জয়ের মতন। উপরে বেশ কিছু টয়লেট আছে ফ্রেশ হওয়ার জন্য। যদি কেউ ফ্রেশ হতে চান খুব সাবধানে যাবেন। স্লিপ কাটার সম্ভাবনা বেশি আমার অর্ধাঙ্গিনী সামান্য পড়ে গিয়ে হাত ভেঙ্গে ফেললো। তাই যারা যাবেন তারা চেষ্টা করবেন একটু সাবধানে যেতে। ঐ অবস্থায় সিএনজি নিয়ে সিলেটে ফিরে আসছিলাম পথে লালা খালের ঘাট। কিছু সময় ওখানে দাঁড়িয়ে খাল দেখার চেষ্টা করলাম। খালের পানি পুরোটাই নীল কালারের। এখানে ঘণ্টা প্রতি 300 টাকায় ট্রলার ভাড়া পাওয়া যায়। লালাখাল ঘোড়ার সবচেয়ে ভালো সময় বিকেল বেলা। নদীর মাঝখান থেকে ট্রলার ছুটে চলা নীল পানির উপর দিয়ে আর দু’পাশে গ্রামের পরিবেশ এবং জীবনধারা উপভোগ করার মজাই আলাদা। তাই চাইলে কিছু সময় এখানে কাটাতে পারেন। আমাদের সর্ব শেষ গন্তব্য ছিল শাহ পরানের মাজার। সিলেট শহর থেকে 7 কিলোমিটার আগে শাহ পরানের মাজার। চাইলে পুরো মাজারটা ঘুরে দেখতে পারেন। আমরা অবশ্যই দূর থেকে দেখেই চলে এসেছি।

সিলেট ভ্রমণটা বলতে গেলে অসাধারণ ছিলো। শুধু অ্যাক্সিডেন্ট না হলে হয়তো ভ্রমণটা আরো ভালো হতো। যারা সিলেটের ভ্রমণ করবেন অবশ্যই জাফলং এবং রাতারগুল ঘুরতে যাবেন তা না হলে সিলেট ভ্রমণ বৃথা হয়ে যাবে।
***প্রতিটি পর্যটনকেন্দ্র আমাদের জাতীয় সম্পদ, এগুলো রক্ষণাবেক্ষণ এবং পরিষ্কার করা আমাদের সকলের দায়িত্ব। তাই সবাইকে অনুরোধ করছি ভ্রমণ করতে যেয়ে এখানে সেখানে ময়লা আবর্জনা ফেলবেন না। পরিবেশ সুন্দর রাখুন এবং অন্যকেও সুন্দর ভাবে ঘুরতে যাবার সুযোগ করে দিন।

Source:Faysal Khan‎ Travelers Of Bangladesh (TOB)