Daily Archives

Wednesday, April 17, 2019

17 Apr 2019

হটাৎ একদিন সান্ধ্য আড্ডায় ঠিক হল সপ্তাহান্তে কাছাকাছি কোথাও বেরিয়ে এলে মন্দ হয় না। কাছাকাছি যাওয়ার মতো জায়গা কলকাতার আশেপাশে কোথায় আছে সে নিয়ে বিশেষ আলোচনা চললো । কেউ একজন বলে উঠলো নেতারহাটে যাওয়া যেতে পারে,বাকি সবাই বেশ আগ্রহ ও প্রকাশ করল। কিভাবে যাওয়া যেতে পারে দুদিন বেড়ানোর জন্য ঠিক জায়গা হবে কিনা। শেষমেশ ঠিক হলো এবার আমরা বাইক এ যাবো , দূরত্ব ও বেশী নয় মাত্র ৫৫০ কিলোমিটার, একদিনেই পৌঁছে যাওয়া যাবে। একদিন দু-রাত থেকে পরের দিন আবার কলকাতা ফেরত আসা যাবে। গুগলে সার্চ করে রাস্তার একটা ধারণা করে নিলাম কলকাতা থেকে কোলাঘাট হয়ে মেদিনীপুর ধরে সোজা জঙ্গলমহল, ওখান থেকে ঘাটশিলা হয়ে জামসেদপুর তারপর দলমা হয়ে সোজা রাঁচি বাইপাস, ওখান থেকে লোহারদাগা হয়ে একদম নেতারহাটে।

অনলাইনে হোটেল ও বুক করে ফেলা হলো । ঝাড়খণ্ড ট্যুরিজম এর ওয়েবসাইটে গিয়ে খুব সহজেই খুঁজে পেলাম হোটেল প্রভাত বিহার, রেটিং ও খুব ভালো দেখলাম আর খরচ ও আমাদের একদম বাজেটের মধ্যে। ৬ জনের জন্য দুটো রুম এর ভাড়া ৭২০০ ট্যাক্স সহ । আমাদের দুটো এক্স্ট্রা বেড নিতে হয়েছিল যেটা বেড প্রতি ৩০০ টাকা মতো এক্স্ট্রা চার্জ করেছিল।

এবারে ব্যাগ গোছানোর পালা। বাইক যেহেতু বাহন খুব জরুরী জিনিস পত্তর ই নেয়া হলো। তিনটে বাইক ছয় জন আরোহী।শনিবার ভোর ৪ টে নাগাদ কলকাতা থেকে বেরিয়ে পড়লাম নেতারহাট এর দিকে । হাইওয়েতে বড়ো বড়ো ট্রাক গুলো কে পাস কাটিয়ে ঠাণ্ডা হাওয়া খেতে খেতে এগিয়ে চললাম। কোলাঘাট এসে প্রথম থামা হলো , হাইওয়ের ধারের ধাবা গুলো বেশ ভালো চা বানায়। শের ই পাঞ্জাব তো খুব বিখ্যাত ধাবা। চা পান করে আবার এগিয়ে চললাম হাইওয়ে ধরে। সকালের আবছা আলো আর লম্বা হাইওয়ে চারপাশে শুধু সাঁ সাঁ গাড়ির আওয়াজ ।চারপাশে হালকা কুয়াশার চাদর এ মোড়া , আকাশ ফুটে লাল সূর্য আস্তে আস্তে উকি মারছে অসাধারণ অনুভূতি। যতটা সময় আমরা ভেবেছিলাম তার থেকে অনেকটা বেশি সময় লাগছিলো। জঙ্গলমহলে ঢুকলাম প্রায় সকাল ৯.৩০ এর দিকে। উঁচু নিচু ঢেউ খেলানো রাস্তা দুপাশে সবুজ বনানী কেটে এগিয়ে চলেছে। কিছু জায়গায় রাস্তা বাড়ানোর কাজ চলছে দেখলাম। আমরা বেশ খানিকক্ষণ একটু জিরিয়ে নিলাম গাছের ছায়া আর মৃদু শীতল বাতাসে। চার পাশে মহুয়ার গন্ধ মাতাল করা এক পরিবেশ। সন্ধ্যের একটু পর পর রামপুর পৌঁছে গেলাম। তারপর রাস্তা একদম ফাঁকা । ভেবে ছিলাম রাত ১১ টার দিকে হোটেল এ পৌঁছে যাবো। লোহারদাগা পৌঁছলাম প্রায় রাত ১.৩০। এর পর শুরু হলো পাহাড়ি পথ। দু একটা শিয়াল ছাড়া কেউ কোথাও নেই। হোটেল এ পৌঁছলাম রাত ২.৩০। ফোন করে বলাই ছিল তো ঢুকতে অসুবিধা হয়নি। সবাই বেশ ক্লান্ত ছিলাম ঘুম এ চোখ বুজে আসছিল।

পরদিন উঠতে একটু বেলাই হয়ে গেলো। ব্রেকফাস্ট সেরে বেরিযে পড়লাম আসে পাশের পরিবেশ দেখতে। আমাদের হোটেল টা পাহাড়ের একদম ঢালে। বেশ কয়েক ধাপ উঠে তবে রাস্তায় উঠতে হয় । হোটেল থেকে বেড়িয়ে সামনে একটা পুলিশ ক্যাম্প । আইজিআই গেমে র মতো একটা উঁচু টাওয়ার ও রয়েছে। পিছনে বেশ খানিকটা জায়গা জুড়ে অনেক গরু চড়ে বেড়াচ্ছে। লোকজন খুব একটা নেই। পাখির আওয়াজ শুনতে শুনতে বেশ খানিকটা পথ নীচে নেমে আবার উপরে উঠে বাঁক ঘুরেই নেতারহাট বাসস্ট্যান্ড। আমরা বাসস্ট্যান্ড ছাড়িয়ে পাহাড়ি পথ বেয়ে অনেকটা এগিয়ে একটা টিলা র উপর উঠে বসলাম চার পাশের মাটি শুকনো পাতার আস্তরনে ঢেকে আছে । লম্বা গাছ গুলোর ফাঁক দিয়ে সূর্যের আলো পড়ে জায়গাটা অসম্ভব সুন্দর করে দিয়েছিল। উঠতে ইচ্ছে করছিল না। হোটেল থেকে ফোন করে খাবার খেতে না ডাকলে আরো বেশ খানিকটা সময় থাকতাম আমরা।
হোটেলের সামনের খাবার জায়গাতে বসে চারপাশের পাহাড় দেখতে দেখতে খাওয়া আর বিকেল এ কোথায় যাবো সেটা নিয়েও ভেবে নেয়া হলো। এবার যাবো সানসেট পয়েন্ট এ।

খেয়ে উঠে একটু জিরিয়ে বাইক নিয়ে বেরিয়ে পড়লাম সানসেট পয়েন্ট এর দিকে। কিছুটা বনের পথ পেরিয়ে খোলা মাঠের মধ্যে দিয়ে এগিয়ে চললাম আসে পাশে কিছু কিছু চা বাগান চোখে পড়লো । আমাদের দার্জিলিংয়ের চা গাছের মতো বেঁটে নয় একটু লম্বা। সামনে বেশ ভিড় পাশে এক বিশাল জলাভূমি, ভিড়ের কারণ এ আমরা আর দাঁড়ালাম না। দেখে লাগলো কোনো কিছুর শুটিং চলছে, নয়তো জায়গাটা বেশ সুন্দর ছিল।
সানসেট পয়েন্ট এ পৌঁছে দেখলাম সামনে পাহাড়ের সারি র নীচে গভীর বন। পালামো টাইগার রিজার্ভ এর বোর্ড ঝোলানো রয়েছে কয়েক জায়গায়। আমরা বেশ খানিকটা এগিয়ে একটা জায়গায় গিয়ে বসলাম সামনে ছবির মতো একটা একটা পাহাড় গায়ে লেগে লেগে দাঁড়িয়ে আছে। আস্তে আস্তে সারা আকাশ লাল হয়ে এলো, এই সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। সূর্য এবার অস্ত যাবে। নিস্তব্ধ পরিবেশ চার পাশে শুধু পাখির আওয়াজ। আমরা নির্বাক হয়ে দৃশ্য টা উপভোগ করতে করতে একটা ঘোরের মধ্যে চলে গেছিলাম । ঝুপ করে সন্ধ্যা নেমে আসলো বুঝতেই পারিনি। এবার হোটেল এ ফেরার পালা ।

Source: Arghadeep Sikdar‎ <Travelers of Bangladesh (ToB)

17 Apr 2019

অনেকের ভ্রমণ গল্প পড়েই গ্যাংটক গিয়েছিলাম, হটাৎ করে নতুন একটা জাইগা বাংলাদেশীদের জন্য খুলে দেয়াই ট্রাভেল গ্রুপ গুলতেও যেন রাশি রাশি পোস্ট আসছিলো গ্যাংটক, লাচুং, লাচেন, চাঙ্গু লেক।

আমরা রউনা দিয়েছিলাম কলকাতা থেকে।

১। কলকাতা থেকে রউনা দিলে বিমানে অথবা ট্রেনে অথবা বাসে আগে শিলিগুড়ি যেতে হবে, এর পড়ে সেখানে থেকে গ্যাংটক এর জিপ পাওয়া যাই

২। কলকাতা থেকে শিলিগুড়ি বিমানের টিকেট ২৫০০-৩২০০ টাকা পড়ে যাবার সময় কিন্তু ফেরত আসার সময় টিকেট এর দাম ৫০০০ হাজার এর মতো পড়ে যাই।

৩। সম্ভব হলে ট্রেনের টিকেট আগে কেটে নিতে পারেন, ফেরত আসার দিনের । কারণ যেদিন যাবেন সে দিনের যে ট্রেন ভাড়া সেটা দিয়ে আপনি বিমানেই যেতে পারবেন। তবে বিমানের টাইম মিলিয়ে নিবেন আপনার ট্যুর প্ল্যান এর সাথে কারণ বিকেলের দিকের বিমান হলে আপনাকে শিলিগুড়ি ১ রাত থাকা লাগতে পারে। এইখানে হোটেল খরচ বেশি না

৪। ভুল করেও কেউ গ্যাংটক এর প্যাকেজ শিলিগুড়ি থেকে নিবেন না। ট্রাভেল করলে অভিজ্ঞতা বাড়ে আর এই বার অভিজ্ঞতার ঝুড়ি নিয়ে আসছি, পুরোটাই খারাপ অভিজ্ঞতা।

প্যাকেজ ছাড়া আপনারা ঘুরতে পারবেন না, গ্যাংটক থেকে অনেক গুলো এজেন্সির সাথে কথা বলে সব বুঝে শুনে এর পড়ে প্যাকেজ নিবেন

৫। বাংলাদেশিদের জন্য গ্যাংটক এ যাবার যে পারমিশন লাগে এইটা চাইলে শিলিগুড়ি SNT থেকে নিতে পারেন অথবা Rangpo চেক পোস্ট থেকে নিতে পারেন। Rangpo থেকে নেয়াই ভালো, ৫-১৫ মিনিটের মধ্যেই কাজ শেষ হয়ে যাই

৬। গ্রুপ ভাবে গ্যাংটক গিয়ে যদি একেক জন একেক দিনে ব্যাক করেন তবে অবশ্যই সেই পারমিশন এর কপি সবার কাছে রাখবেন

৭। কেউ যদি মনে করেন গ্যাংটক থেকে দারজেলিং আসবেন তাইলে আসতে পারেন- ২৫০ টাকা শেয়ার জিপ এর ভাড়া, ১০ সিটের গাড়ী থেকে, বেশ চাপাচাপি করে বসা লাগে। ঠিক শেয়ারে শিলিগুড়িও যাবে ভাড়া ২৫০ টাকাই

৮। দারজেলিং যেতে চাইলে আগে ভাগেই দারজেলিং যাবেন কারণ গ্যাংটক সিকিম ঘুরে গিয়ে, দারজেলিং তেমন ভালো লাগে নি আমাদের

৯। গ্যাংটক এ MG Marg এ অনেক ট্রাভেল এজেন্সি আছে যাদের থেকে প্যাকেজ নিতে পারবেন। ১০-১৫ কপি ছবি + পাসপোর্ট + ভিসার ফটোকপি নিবেন

১০। হালাল খারাপ পাওয়া একটু কষ্ট, চেষ্টা করবেন খুঁজে দেখার। যখন গ্যাংটক থেকে লাচুং এর জন্য যাবেন ভালো ভাবে বুঝে প্যাকেজ এ কথা বলে নিবেন যে আপনারা হোটেল এ রুম হিটার নিবেন কারণ তাপমাত্রা মাইনাস এ থাকে এইখানে

১১। লাচুং এর সব স্পটে আবার হোটেল এ শীতের পোশাক ভাড়া পাওয়া যাই- ১৫০ রুপি প্রতি পিস এর মনে হয়

১২। প্লাস্টিকের পানির বোতেল সাথে নিতে দিবে না লাচুং এ

১৩। চেষ্টা করবেন গাড়ির ড্রাইভার যেন ভালো হয় নাইলে ট্যুর মাটি হবার জন্য আর কাউকে লাগবে না

সর্বশেষ এ যেখানেই থাকবেন সেখানের মানুষদের সম্মান করবেন, আর পরিবেশ নষ্ট হয় এমন কিছু করবেন না।

source:

17 Apr 2019

কিছু প্রেম থাকে, যাকে কখনো ভোলা যায়না, মন থেকে দূরে সরিয়ে রাখা যায়না। সে প্রেম হতে পারে কৈশোরের, যৌবনের, পরিপক্ক বয়সের, এমনকি সে প্রেম জীবনের শেষ বেলাতে এসেও ধরা দিতে পারে। প্রেম ব্যাপারটাই আসলে এমন। কখন, কোথায়, কিভাবে আর কেন যে কারো জীবনে এসে পরবে ভাবতেই পারবেনা কেউ। প্রেম ব্যাপারটাই এমন, বলে কয়ে বা আগে থেকে জানান দিয়ে কখনো আসেনা। যদি কখনো এমন এসেও থাকে তবে সেটা ঠিক প্রেম নয়, প্রেমের মতই অন্যকিছু।

আমার কাছে প্রেম হল অবাধ্য, অশান্ত, অসহ্য, অপার্থিব সুখের একটা অনুভূতি, যেটা কোন বয়স, সময় আর অবস্থান দেখে হয়না। প্রেম হুট করে আর নিজের অজান্তেই হয়ে যায়। প্রেম তো কখনো কখনো এমনও হয় যে, সে যে প্রেমে পড়েছে সেটা সে নিজেও জানেনা, বুঝতে পারেনা। শুধু বিশেষ কিছুর জন্য মন কেমন করে, বুকের মধ্যে একটা হাহাকার ওঠে, একবার দেখার জন্য চোখ তৃষ্ণার্ত হয়ে ওঠে, একটু ছুঁয়ে দেয়ার জন্য প্রান আনচান করে। আর শত চেষ্টা করে যদি চোখের সামনে বা স্পর্শের অনুভূতিতে আসে তবে তখন অনুভূতিরা ভোতা হয়ে যায়, বোধ লুপ্ত হয়ে থাকে, স্বাভাবিক ভাবনা চিন্তা কোথায় যেন হারিয়ে গিয়ে প্রেমে যে পড়েছে তাকে বোবা করে দেয়।

কোন অনুভূতিই তখন প্রকাশ করা হয়ে ওঠেনা। অনন্ত, অবাধ্য আর অপার প্রেম গুলো এমনই বোধয় হয়ে থাকে। অন্তত আমার তো তেমনই মনে হয়। ক্ষণে ক্ষণে যে প্রেম তার উপস্থিতি জানান দিয়ে যায়, মনকে উদাস করে দেয়, প্রানে পাগলা হাওয়া বইয়ে দেয়, হৃদয়কে উত্তাল স্রোতে ভাসিয়ে নিয়ে যায়, বাস্তবতাকে বরফের মত গলিয়ে দিয়ে ঝরে ঝরে পরে যায়। হ্যাঁ কাশ্মীর, আরও বিশেষ ভাবে বললে কাশ্মীরের পেহেলগাম আমার কাছে তেমনই এক প্রেমের নাম। অবাধ্য, অশান্ত, অপার্থিব এক প্রেম।

পেহেলগামের কোন যায়গা রেখে কোন যায়গার কথা বলব ঠিক বুঝে উঠতে পারিনা আমি। আমাদের যাদের একটু সাধ্য আছে, এমন অপার্থিব প্রেমে বিলীন হবার মত অল্প বিলাসিতা আছে, যারা শুধু ঘুরে বেড়াতে আর জীবনটাকে একটু উপভোগ করতেই শুধুমাত্র পেহেলগামে যাই, তাদের কাছে পেহেলগামের সবকিছু, সবটুকুই যেন সুখের এক ভূমি, স্বর্গের হাতছানি যার সবকিছু জুড়ে, অপার্থিব তার প্রতিটি কোনের যে কোন কিছুই। পাইনের অরণ্য, ঝর্ণাধারা, লিডার নদী, স্রোতধারার মাঝে মাঝে নানা রকম পাথর, কত রঙের পাহাড়, প্রতিটি কোনই যার সুখের পসরা সাজিয়ে বসে থাকে সবসময়।

আমি কার কথা বলবো, কতটুকু বলবো, কিভাবে বলবো? তার সবকিছু জুড়েই তো শুধু গোপন সুখের অসহ্য অনুভূতি জড়ানো। পাইনের অরণ্য? সে তো ছায়ায় ছায়ায় ঘেরা এক স্বর্গের বনভূমি যেন, সুখের আচ্ছাদনে ঘেরা পুরো অরণ্যের সবটুকু জুড়ে। পাহাড়ি মাটির গভীর থেকে ঝর্ণা ধারার বয়ে চলার স্রোতের তোড়ে বেরিয়ে পরা পাইনের শেকড়, সেও যেন সুখের নতুন কোন উপমায় নিজেকে তুলে ধরতে চাইছে এখানে সেখানে। আর সেই সুখের আচ্ছাদনে আচ্ছাদিত পাইনের অরণ্যে ঘোড়ায় চড়ে অচেনা পাহাড়ের অজানা বাঁকে বাঁকে নিরুদ্দেশ ঘুরে বেড়ানোর মত আনন্দ, তার কি হিসেব আছে? কোন উপমায় কি সেই সুখকে, রোমাঞ্চকে বাঁধা যাবে? আমার তো মনে হয়না।

অথবা যদি লিডারের তীরে বসে থাকা কোন নরম কোমল সবুজ ঘাসের উপরে, যার চারপাশে নানা রকমের ফুলের হাসি, ঘ্রাণ, আদুরের কাটার খোঁচা, বয়ে চলা উচ্ছ্বসিত নদীর জলের ছিটা এসে ছুঁয়ে দেয় আপনাকে? শিহরিত না হয়ে কি পারা যাবে? আমার তো মনে হয়না। উচ্ছ্বসিত নদীর সেই ফুলেল তীরে বসে কাটিয়ে দেয়া যাবে অনন্ত অবসর অনায়াসে, সে আমি নির্দ্বিধায় বলতে পারি। ঘুম, ক্ষুধা, ক্লান্তি কোন কিছুই তখন আপনাকে স্পর্শ করতে পারবেনা। অপার্থিব সুখ যে কাউকে করে তুলবে অনুভূতিহীন।

অথবা যদি একটু সাহস করে, একটা লাফ দিয়ে গিয়ে বসতে পারেন লিডারের উত্তাল স্রোতের মাঝেই আপন মহিমায় নিজের আভিজাত্য জানান দিয়ে যাওয়া কোন পাথরের উপরে, যে পাথরের চারপাশ দিয়ে অনন্ত যৌবনা লিডারের অবিরত স্রোত শুধু বয়ে যায় আর বয়েই চলে যায়, মাঝে মাঝে ভিজিয়ে দিয়ে যাবে আপনাকে, সেই পাথরের উপরে গিয়ে বসতে যদি পারে কেউ, তখন কেমন লাগবে বা লাগতে পারে কোন ধারনা কি কেউ করতে পারবে? কোন বাখ্যা কি কেউ দিতে পারবে সেই অপার্থিব অনুভূতির? কোন উপমায়, কোন ব্যাখ্যায় সেই অনুভূতিকে প্রকাশ করলে হৃদয়ের সবটুকু সুখের অনুভূতি বোঝানো যাবে আমার জানা নেই।

আপাতত আর থাক, এই অবাধ্য প্রেমের, অসহ্য সুখের, অপার্থিবতার বর্ণনা। পাছে হৃদয়, মন-প্রান অশান্ত হয়ে ছুটে চলে যায় তার কাছে, তাকে দেখতে, তার স্পর্শ পেতে। শেষে বাস্তবতা থেকে নিজেকে নির্বাসিত করতে হতে পারে। তাই আপাতত থাক, আমার অসহ্য সুখের আরুভ্যালী আর অলস অবসরের বেতাব ভ্যালীর কথা নাহয় অন্য কোন একদিন, আবেগ অবাধ্য হয়ে উঠলে পরে বলা যাবে।

যাকে যায়না ভোলা, কখনোই আর কিছুতেই। ক্ষণে ক্ষণে যে প্রেমের মাতাল হাওয়া মনপ্রান আনচান করে তোলে, সময়ে বা অসময়ে।

Source: Sajol Zahid‎ <Travelers of Bangladesh (ToB)

17 Apr 2019

পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. সুলতান আহমদ বলেছেন, দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনে যেতে পারবেন প্রতিদিন মাত্র ১ হাজার ২৫০ জন পর্যটক। তিনি বলেন, ‘অনলাইনে নিবন্ধন করে সেন্টমার্টিন যেতে হবে। সেন্টমার্টিনের অস্তিত্ব রক্ষায় পরিবেশ সংরক্ষণে রাত্রিযাপনের ওপরও বিধি নিষেধ আরোপ করা হতে পারে। এছাড়া আরও নতুন নতুন অ্যাকশন প্ল্যান নেয়া হচ্ছে।’

গতকাল মঙ্গলবার পরিবেশ অধিদপ্তরের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত ‘কক্সবাজারের পরিবেশ ব্যবস্থাপনা’ বিষয়ক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন সুলতান।

সুলতান আহমদ বলেন, ‘এখন থেকে ইচ্ছা করলে যখন তখন সেন্টমার্টিন যাওয়া যাবে না। সেন্টমার্টিন ভ্রমণে ইচ্ছুকদের আগে থেকে অনলাইনে নিবন্ধন করতে হবে। দৈনিক ১ হাজার ২৫০ জন পর্যটক ভ্রমণে যেতে পারবেন। সেন্টমার্টিন সুরক্ষায় এ্যাকশন প্ল্যান নেয়া হচ্ছে। এই প্ল্যানে সেন্টমার্টিনে রাত্রিযাপনের ওপর বিধি নিষেধের সিদ্ধান্ত হতে পারে।’

তিনি আরও বলেন, সেন্টমার্টিন দেশের বড় সম্পদ। প্রকৃতি পরিবেশ সুরক্ষা করা সম্ভব না হলে অচিরেই সেন্টমার্টিনের পরিবেশ হবে ভয়াবহ।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (মানব সম্পদ উন্নয়ন) এসএম সরওয়ার কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনারে আলোচনায় অংশ নেন কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধি লে. কর্নেল আনোয়ারুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবেদিল ইসলাম,  পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক ও রিও প্রকল্পের পরিচালক মোহাম্মদ জিয়াউল হক, যুগ্ম পরিচালক মো. ফেরদৌস হোসেন খান, কক্সবাজার প্রেসক্লাবের সভাপতি মাহবুবুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক আবু তাহের ও কক্সবাজার বন পরিবেশ সংরক্ষণ পরিষদের সভাপতি সাংবাদিক দীপক শর্মা দীপু।

সেমিনারে বলা হয়, ইসিএ এলাকা হিসেবে বর্তমানে সেন্টমার্টিন, সোনাদিয়া ও সমুদ্র সৈকত এখন পরিবেশগত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এ জন্য মাস্টার প্ল্যানের মাধ্যমে উন্নয়ন কাজ করতে হবে। ফিরিয়ে আনতে হবে আগের পরিবেশ। পরিকল্পনা ছাড়া স্থাপনা গড়ে ওঠায় দূষণের কবলে পড়েছে হোটেল মোটেল জোন।

৩২৫টি হোটেলের মধ্যে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নিয়েছে মাত্র ৪৮টি। স্যুয়েজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান (এসটিপি) বাস্তবায়ন করেছে মাত্র ছয়টি হোটেল। কক্সবাজারে প্রতিদিন কঠিন ও তরল বর্জ্য সৃষ্টি হয় ৫০ থেকে ৭০ টন। ১২ টন বর্জ্য শোধানাগারের ব্যবস্থা রয়েছে। কিন্তু শোধানাগারে বর্জ্য আসে মাত্র দুই টন। এই তথ্য থেকে বুঝা যায়, কক্সবাজার পর্যটন শহরের পরিবেশ দূষণের ভয়াবহ অবস্থা।

সেমিনারে আরেক তথ্যে বলা হয়, পানি ব্যবহারের চেয়ে অপচয় হয় বেশি। পাহাড় কাটার মাটি, হ্যাচারির বর্জ্য ও হোটেল মোটেলের বর্জ্য সরাসরি যাচ্ছে সাগর ও নদীতে। বাঁকখালী নদী ভরাট, দখল হওয়ার কারণে শহরের লবনাক্ত পানি বেড়ে গেছে।

সেমিনারে বলা হয়, এসব নানা দূষণের কারণে কক্সবাজারে পর্যটক আসা হ্রাস পাবে এবং স্থানীয়দের জন্যও বসবাস অনুপযোগী হবে। কক্সবাজারের পরিবেশ সুরক্ষার এ সময় এখনো ফুরিয়ে যায়নি। তবে দেরি করা যাবে না। দ্রুত উদ্যোগ নেয়া দরকার। এজন্য সমন্বিত উদ্যোগে কাজ করতে হবে।