Daily Archives

Saturday, April 13, 2019

13 Apr 2019

অনেক দিন থেকেই আম্মুকে নিয়ে কোথাও যাবো চিন্তা করছিলাম। প্রায় ২ মাস চিন্তা ভাবনা করেছি, বিভিন্ন ব্লগ পরেছি, টিওবি তে সিমলা মানালি নিয়ে লিখা গুলো পরেছি। অনেক চিন্তা ভাবনার পর ঢাকা- দিল্লির প্লেন টিকেট করে ফেল্লাম। কোথাও যাওয়ার ১ মাস আগে টিকেট করে ফেললে দাম আসলেই অনেক কম পরে। যদিও ভিসা হবে নাকি এইটা নিয়ে ১ টা টেনশন থেকে যায়। যাই হোক, বেশি কথা না বারিয়ে আসল কথায় চলে আসি। যেহেতু ২১-২৩ তারিখ পর্যন্ত ইন্ডিয়া তে হলি উৎসব চলে, আমি সেই সময়টুকু এড়িয়ে যেতে চেয়েছিলাম, কারন ঐ সময় সব কিছু বন্ধ থাকে। কোনও যাত্রা শুরুর আগে আপনার কিছু জিনিষ দেশ থেকে শেষ করে যাওয়া উচিত।

১। প্লেন টিকেট, ভিসা।
২। যে হোটেল এ থাকবেন সেটা বুক করে নিবেন আগে থেকে, তাহলে ঝামেলা কম হবে। আমি যেহেতু আম্মু আর ভাই নিয়ে গিয়েছিলাম, এইসব আগে থেকেই করে নিয়েছি।
৩। এক প্রদেশ থেকে অন্য প্রদেশ এ গেলে বাস এর টিকেট পারলে বাংলাদেশ থেকে বুক করে যাবেন। (আমি ‘ঘুরে আসি” নামক ১ টি গ্রুপ থেকে টিকেট নেই)।
৪। ছোট ১ টা ব্যাগ রাখবেন ময়লা রাখার জন্য, আমি যেকোনো জায়গায় গেলেই সেটা কাছে রাখি। ব্যাগ এর ১ টা কর্নারে রেখে দিবেন। খুব কষ্টের কিছুনা। ময়লা গুলা সেখানে রেখে পরে কোন ডাস্টবিনে ফেলে দিবেন।

দিল্লি যাত্রা ঃ
দিল্লির উল্লেখযোগ্য জায়গা গুলো দেখার জন্য ২দিন হাতে রাখতে পারেন। আপনার ২দিন এইভাবে ভাগ করে নিতে পারেন, ১। পুরানো দিল্লি ২। নতুন দিল্লি।
আমি প্রথমদিন পুরানো দিল্লিতে ছিলাম। কোলকাতা থেকে ফ্লাইট এ দিল্লিতে পৌছাতে সময় লাগে ২ ঘণ্টা। দিল্লিতে পৌছাতে আমাদের রাত ১২ঃ৩০ বেজে যায়। আমরা হোটেল থেকে পিকআপ নিয়েছিলাম। কারন, এত রাত এ ঝামেলা করতে চাইনি। হোটেল এ পৌছাতে আমাদের ২ টার মত বেজে যায়। হোটেল এ পৌঁছে কিছু খেয়ে আমরা ঘুমিয়ে যাই। সকাল এ উঠে আমরা ৯টার মধ্যে বের হয়ে যাই। সকাল এ বের হয়ে থমকে যাই। মনে হল পুরান ঢাকা চলে আসছি। পাহারগঞ্জ এর রাস্তা গুলোতে অনেক কোলাহল। চিপা রাস্তা, দোকানপাট, রাস্তার দোকান, অটো, সব মিলিয়ে আজব অবস্থা। পুরান দিল্লিতেই আপনি অনেক বিদেশি দেখতে পারবেন। আমরা যেই দৃশ্য দেখে অভ্যস্ত, তারা সেটাই সময় নিয়ে দেখতে আসে পুরান দিল্লি তে। যাই হোক, আমার মা সকাল সকাল আঙ্গুর কিনে নেয় অনেক গুলা। সেই আঙ্গুর নিয়ে আমরা ১ টা অটো ভাড়া করলাম। ১ টা কথা বলে নেই, দিল্লি তে কখনই ১টা গাড়ি ভাড়া করে ঘুরবেন না, এইটা বোকামি। অনেক বেশি ভাড়া পরবে, আর অনেক কিছুই আপনি দেখতে পারবেন না। আর ফোন এ OLA, UBER অ্যাপ থাকলে ভাড়া টা চেক করে নিতে পারবেন।

যাই হোক, চলে গেলাম “ দিল্লি জামা মসজিদ “ এ। অসাধারণ ১টা জায়গা। যত সকাল এ যাবেন, মানুষ তত কম থাকবে। আমার আম্মু জামা মসজিদ এ নামাজ পরে নিল, কারন আম্মুর অনেক ইচ্ছা ছিল আগে থেকেই। জামে মসজিদ এ আপনি ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাটাতে পারবেন, কারণ জায়গাটা এতই শান্তিপূর্ণ। ৫০ রুপী দিয়ে আপনি ছাদে উঠতে পারবেন, আর আরও ১০ রূপি দিয়ে মিনারএ। উঠতে কিছুটা সময় লাগে, কিন্তু মিনার এ উঠলে আপনি পুরো দিল্লির ১টা সুন্দর ভিউ পেয়ে যাবেন। আমাদের জামে মসজিদ এই অনেক সময় কেটে যায়, কারন আমরা তারাহুরা করতে চাইনি।মিনার থেকেই দেখলাম যে নিচে অনেক ভিড় হয়ে আছে, সুনলাম সেটাই “মিনা বাজার”। তাই বের হয়েই গেলাম বিখ্যাত “ মিনা বাজার/ চোর বাজার” দেখতে।এটাকে “Sunday market” বলে। রবিবার এ মিনা বাজার এ আলাদা রকম ভিড় দেখা যায়। যদিও আহামরি কিছুই নাই। সব ই সেকেন্ড হ্যান্ড জিনিষ। আমরা মিনা বাজার দেখে “লাল কিলা” দেখতে গেলাম। কিন্তু বাইরে লাইন দেখে বের হয়ে এলাম। এসব জায়গায় আসলে সকাল সকাল যেতে হয়। বের হয়ে এসে কিছুক্ষণ ঘুরলাম “চাঁদনি চক” এ।

মার্কেটটি মূলত বিয়ের শপিং এর জন্য বেস্ট। অনেক কম দাম এ অনেক ভাল কিছু পারবেন। চাঁদনি চক দেখে আমাদের অনেক দেরি হয়ে গেল, লাল কিলা পাশে থাকায় আমরা লাল কিলা দেখতে গেলাম, কিন্তু বিশাল লাইন দেখে বের হয়ে আসলাম। লাল কিলা এবং মিনা বাজার এর আশে পাশে অনেক খাবার দোকান আছে, ছোট ছোট ভ্যান আছে যারা ফল (আনারস,পেপে, পেয়ারা) নিয়ে দাড়িয়ে থাকে। সেগুলো খেয়ে দেখতে পারেন। এরপর অটো ভাড়া করলাম কুতুব মিনার এর জন্য। কুতুব মিনার এ যেয়ে দেখি একই অবস্থা। বিশাল লাইন… তাই আর না দাড়িয়ে থেকে চলে গেলাম বিখ্যাত সারোজিনি মার্কেট এ । মার্কেট টা দেখার মত। মেয়েদের জন্য আমি বলবো বেস্ট। অনেক কম দাম এ অনেক কিছু কিনা যায় (জুতা, জিন্‌স, টপ, কানের দুল, গলার মালা, ব্যাগ আরও হাবিজাবি)। যাই হোক, রাত এ আমাদের সিমলার জন্য বাস থাকায় আমরা তাড়াতাড়ি হোটেল এ চলে যাই।

হোটেলে দুপুরে খেয়ে ব্যাগ হোটেল এর লবিতে রেখে আবার বের হলাম। হটাত মনে হল, এই অল্প সময়ে কোথায় কোথায় জাউয়া যায়। তারপর মাথায় আসলো “নিজামুদ্দিন দারগাহ”, অটো ভাড়া করে চলে গেলাম দরগাহর রাস্তার সামনে। রাস্তাটাতে অনেক বেশি ভিড়। রাস্তার আসে পাশে দোকানে ভরা, সবাই বার বার বলছে জুতা খুলে হেটে জেতে। সামনে নাকি আর জুতা রাখার জায়গা নেই। আর বলল ফুল অথবা চাদর (যেটা মাজার এর উপর দেয়) কিনে নিতে। যাই হোক, আমি বলে দিয়েছি কিছুই কিনব না।মানুষ গুলা খুবই বিরক্তিকর। আমরা জুতা রেখে হাটা শুরু করি (এইটা রাখাতে টাকা নেয় নি)। তারপর প্রায় আধা ঘণ্টা এই খালি পায়ে হাটতে হয়েছে, খুব বেশি বিরক্ত লাগছিল যখন দেখি মাজার এর একদম সামনে ই জুতা রাখার জায়গা আছে। যাই হোক, মাজারে ঢুকে আমার চোখের সামনে আমির খান এর মুভি “PK” র সিন গুলা ভেসে আসছিল। যেই ফুল আর চাদর গুলা মানুষ ওইখানে দিচ্ছে, সেগুলা নিয়ে আবার দোকানে বিক্রি করছে। মানুষ টাকার জন্য এইদিকে ওইদিকে চেয়ে বেড়াচ্ছে। যাই হোক, বেশি সময় ওইখানে থাকি নাই। বের হয়ে আবার অটো নিয়ে “ ইন্ডিয়া গেট” দেখতে গেলাম। ছুটির দিন হউয়াতে অনেক মানুষ ছিল। কিন্তু খারাপ লাগবে না। পাশে ১ টা মিউজিয়াম আছে, ওইটাও দেখতে পারেন। তারপর আবার হোটেলে চলে আসলাম। সন্ধ্যায় পাহারগঞ্জ এর রাস্তায় ১ টা কাবাব খাই। এখন ও আমার মুখে স্বাদ লেগে আছে (নাম ভুলে গিয়েছি)। তারপর অপেক্ষার পালা বাস এর জন্য… রাত ১০ টায় মঞ্জু কি টিলা থেকে আমাদের বাস ছাড়ে…
*** মানালি থেকে ফিরে ও আমরা দিল্লি তে ২দিন থাকি, সেটার বর্ণনা একদম শেষে আবার দিব।।।।
প্লেন ফেয়ারঃ ঢাকা-কলকাতা- দিল্লি ( ১৬০০০ টাকা- রিটার্ন টিকেট)
দিল্লি এয়ারপোর্ট – পাহারগঞ্জঃ ৬০০ রূপী।
হোটেলঃ ১ রাত ১৫০০ রুপী।
বাস (দিল্লি-সিমলা)ঃ ৩৭৫০ টাকা (৩জন)

Source: Al Fariha Arpa <Travelers of Bangladesh (ToB)

13 Apr 2019
রাত ৮ টায় আসতে বলছে। সারে ৮ টা বাজে বাসের খবর নাই। পৌনে নয়টায় বাস আসলো। কল্যাণপুর থেকে মিনি বাসে সায়দাবাদ যেতে হবে তারপর রাত ১১ টার শ্যামলির বাসে করে সরাসরি কাপ্তাই। ছোটো বেলায় কাপ্তাইকে চিনতাম জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র হিসাবে। কর্নফুলি নদীতে বাধ দিয়ে এই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রটি নির্মান করা হয়েছে। সকাল ৮ টা যখন বাজে তখন বড়ইছরি পার হচ্ছি। বড়ইছরি মোর থেকেই মুলত বাস গুলো দুই দিকে যায়। একদিকে কাপ্তাই অন্যদিকে রাঙ্গামাটি। কাপ্তাই এর দিকে ১ কিলোমিটার এগুলেই জুম রেস্তোরাঁ। তার পাশেই কাপ্তাই কায়াক ক্লাব। জুম যতটা আড়ম্বরপূর্ণ, কায়াক ক্লাব ততটাই সাধারন। আমার মত সাধারন মানুষের ভালো লাগবে। একটা ওয়াসরুম আছে, পরিষ্কার। কাপ্তাই পৌছানোর আগেই কায়াক ক্লাবের সামনে নেমে যাওয়া যায়। তবে আমি নামি কাপ্তাইতে। অইখানেই নাস্তা করে সিএনজি তে চলে আসি কায়াক ক্লাবে। কাপ্তাইতে সিএনজি ছাড়া কিছুই পাবেন না। এসে দেখি আমরাই প্রথম। লাল রঙের সুন্দর একটা কায়াক বেছে নিলাম।দুজই সাতার জানি তবুও লাইফ জ্যাকেট বাধ্যতামূলক। কমলা রঙের জ্যাকেট পরে উঠে পরলাম বৈঠা হাতে। আমার সহধর্মিণী সামনে আমি পিছনে। ইন্সট্রাক্টর শিখিয়ে দিল চালানোর সময় সিনক্রোনাইজেসন করে চালাতে হবে। যাইহোক যাত্রা শুরু হলো। এক ঘন্টা কর্নফুলির সচ্ছ পানিতে কায়াক চালিয়ে ফিরে এলাম ঘাটে। জায়গা এবং পরিবেশ অসাধারণ। কায়াক ভাড়া প্রতি ঘন্টা ২৫০ টাকা কিন্তু ছাত্র/ছাত্রী হলে ২০০ টাকা। কায়াক শেষ করে যখন রাস্তায় ফিরে আসলাম তখন সারে ১০ টা বাজে। দিনের অনেকটা সময় বাকি, কি করবো ভাবতেছিলাম। রাঙ্গামাটি যাব প্ল্যানে ছিল না। হাতে যথেষ্ট সময় থাকার কারনে সুযোগটা মিস করতে চাইলাম না। সিএনজি ড্রাইভারকে জিজ্ঞাস করলাম রাঙ্গামাটি কিভাবে যাওয়া যায়। বলল দুই ভাবে।
এক বরইছরি দিয়ে, দুই নুতুন একটা রাস্তা হইসে লেকের পাশ দিয়ে আসামবস্তি পর্যন্ত ঐটা দিয়ে। ১৯ কিলোমিটার, ভাড়া ৪০০ টাকা সিএঞ্জিতে। তবে রাস্তার দৃশ্য দেখলে ভাড়া উসুল হয়ে যাবে। পাহাড়ের উপর দিয়ে একেবেকে চলে গেছে, পুরো রাস্তায় কাপ্তাই লেক আপনাকে সঙ্গ দিবে। আসামবস্তি পৌছাই ১১:৩০ এর দিকে। ঐখান থেকে আরেকটা সিএনজি নিয়ে চলে গেলাম ঐতিহ্যবাহী ঝুলন্ত সেতু দেখতে। ছোটবেলায় বাংলা ছিনেমায় গানের দৃশে অনেক দেখেছি, এবার বাস্তবে দেখলাম। দেখে স্বাদ মিটে গেছে চিরতরে। মানুষ আর মানুষ। কাপ্তাই যতটা ফাকা ঠিক ততটাই ভর্তি রাঙ্গামাটি। ছিনেমাতেই ভাল লাগছে বাস্তবে লাগে নাই। বেশি মানুষ তার কারন হতে পারে। তাড়াতাড়ি ঐখান থেকে বের হয়ে চলে যাই রাঙ্গামাটি শহরে। নামাজ পড়ে দুপুরের খাবার খেয়ে আবার কাপ্তাইতে আসার জন্য যাত্রা শুরু করি। বাসের টিকেট কাপ্তাইতে করা ছিল তাই যাইতে হইসে। যাইহোক এইবার চিন্তা করলাম অন্য রাস্তা দিয়ে যাব। রাঙ্গামাটি থেকে লোকাল বাস যায় চট্টগ্রাম ও খাগড়াছড়ির উদ্দেশে। আমারা বরইছরি নামব। ১২০ টাকা প্রতিজন ভাড়া দিয়ে উঠে পরলাম বাসে। এত খারাপ বাস আমি জীবনে দেখি নাই। ঢাকার ৮ নাম্বার বাস ঐটা থেকে অনেক ভাল। দুই ঘণ্টার জার্নি ছিল ভয়াবহ। বাস থেকে নেমে জুম রেস্টুরেন্টে যাই। দেখার তেমন কিছু নাই, সময় কাটানোর জন্য গিয়েছিলাম। সাড়ে চারটার দিকে আবার সিএনজি নিয়ে যাই কাপ্তাই নৌকা ঘাটে। ছোট একটা নৌকা নিয়ে ঘুরে বেড়াই কাপ্তাই লেকে। সন্ধ্যার পরপরই নৌকা থেকে নেমে চলে আসি বাস কাউন্টারে। সাড়ে আটায় বাস।
13 Apr 2019

কল্যানপুর পাবনা জেলার অন্তর্ভুক্ত ৫০ বছরের আগে জেগে ওঠা চরের একটি গ্রাম। যেই গ্রামে কিছুটা হলেও আপনি পূর্বের বাংলাদেশ এর একটা আচ পাবেন। মানুষের জীবনযাত্রা আচরণ সবকিছুই।

প্রথমেই এ গ্রামে যেতে ঢাকার উত্তরা থেকে সকাল ৭ টায় জনপ্রতি ২৫ টাকা ভাড়ায় যাই নবিনগর। নবিনগর বাস স্টান্ড থেকে জনপ্রতি ৫০ টাকা ভাড়ায় যাই আরিচাঘাট। সময় লাগবে ১.৫ থেকে ২ ঘন্টা। মনে রাখবেন ১২ টার মধ্যেই আড়িচাঘাট পৌছাতে হবে। কারন ঘাট থেকে কল্যানপুর এর উদ্দেশ্যে একটি নৌকাই ছেড়ে যায় ১২ টায়। আরিচাঘাট থেকে কল্যানপুর নদী পথে সময় লাগবে ২ ঘন্টা। গুনতে হবে জনপ্রতি ৫০ টাকা করে। আমরা প্রায় ২.৩০ টার মধ্যেই কল্যানপুর পৌছে যাই। সবাই মিলে গান গাইতে গাইতে আর নদীর মাঝের দৃশ্য দেখতে দেখতে যে কখন পৌছে যাই খেয়াল করিনি।

কল্যানপুর নামতেই প্রথমে যা নজর কারবে তা হলো ঘোড়ার গাড়ি। এই চরে যান বলতে আছে শুধু ঘোড়ার গাড়ি আর নৌকা। চরে নেমেই দেখা হয় ঢাকা থেকেই কথা বলে যাওয়া সাইফুল ভাইয়ের সাথে। ভাই আমাদের তার বাসায় নিয়ে যায়। তার আপ্যায়ন করা খাবার খেয়ে যাই বাজারের দিকে। বাজারে ঢুকতেই মানুষ আমাদের ঘিরে ধরে। কারন এর আগে এই চরে কোন টুরিষ্ট আসেনি। গ্রামের প্রধানও আমাদের সাথে কথা বলে যায় এবং আপ্যায়ন করে। আমাদের হাল্কা গ্রামে ঘুরানোর পর চলে যাই বাজার করতে। কারন চরে কোন ভাত খাবার হোটেল নেই।

বাজার করেই সাইফুল ভাইয়ের জোরাজোরি তে ঠিক হয় উনার বাসায় রান্না হবে। বাজার থেকে একদল চলে যাই রান্নার কাটাকাটির জন্য আর একদল চলে আসি ক্যাম্প সাইড ঠিক করে তাবু পিচ করতে। সব শেষ করে শেষ বিকালে সবাই মিলে নদীতে গোসল করে রান্না না পারা দল থেকে যাই ক্যাম্প সাইডে আর বাকিরা চলে যায় রান্না করতে। প্রায় রাত ৯ টায় সবাই খেতে চলে যাই। টর্চ এর হাল্কা আলোয় উঠানে বসে রাতের খাবার খাই। কারন ওই গ্রামে এখনো বিদ্যুৎ এর ছোয়া পরেনি। অনুভূতি ছিল অসাধারন। তারপর শুরু হয় রাতের আড্ডা গান।

গ্রামবাসি আমাদের খুব ভালো ভাবেই আপ্যায়ন করেছিল। কিছুক্ষন পর পরই কেও না কেও এসে দেখে যাচ্ছিলো। এছাড়াও ঝড় আসতে পারে এই ভয়ে গ্রামের প্রতিটি বাড়ি ছিলো আমাদের জন্য খোলা। রাতে নিয়ন আলোয় নদীতে মাছ ধরাও যে আপনার মন কারবে তা বলে দিতে পারি। ঘুমাতে ঘুমাতে প্রায় ২.৩০ টা বেজে যায়। পরের দিন সকালে ঘুম ভাঙে প্রচুর ঠান্ডায়। ৩ টা থেকেই ঠান্ডা অনুভব করতে পারছিলাম। ভোরে তাবু থেকে বের হয়েই দেখি চারদিক কুয়াশায় ভরা। এপ্রিলে এই দৃশ্য যে কাওকেই অবাক করবে। একটু হাটাহাটি করেই ক্যাম্প সাইডে এসে সব গুছিয়ে নেই। কারন কল্যানপুর থেকে আরিচাঘাট এর নৌকা ছাড়ে ৯.৩০ টায়। আমরাও বিদায় দিয়ে দেই চর টাকে। বাকি অনুভূতি গিয়েই না হয় বুঝলেন।

আমাদের ঢাকা টু ঢাকা জনপ্রতি খরচ হয়েছে ৬৪৪ করে।

খরচ:
উত্তরা – নবীনগর- ২৫+২৫= ৫০
নবীনগর- আরিচাঘাট- ৫০+৫০= ১০০
আরিচাঘাট – কল্যানপুর- ৫০+৫০=১০০
খাবার খরচ আপনার উপর।

সতর্কতা:
*চরে বিদ্যুৎ নেই তাই অবশ্যই পাওয়ার ব্যাংক এবং লাইট নিয়ে যাবেন।
*চরের প্রধান এর সাথে কথা বলে নিবেন।
* নদী থেকে নিরাপদ দূরত্তে তাবু পিচ করবেন।
* খুব বেশি হইচই করবেন না।
*অপরিচিত চর তাই পারলে চরের কাওকে সাথে থাকার জন্য রাজি করবেন।
* টয়লেটের জন্য চর এর মানুষের সাহায্য নিন। আগেই বলে রাখি সবার টয়লেটই কাচা।

* খুবই সুন্দর আর পরিষ্কার এই চর। যেখানে সেখানে ময়লা ফেলবেন না। আমরা একটা পলিথিনো ফেলে আসিনি। সব নিয়ে এসেছি।
Source: Rbh Shornab‎ <Travelers of Bangladesh (ToB)

13 Apr 2019

গত মাসে ঘুরে এলাম Land of Smiles খ্যাত থাইল্যান্ড থেকে। অবভিয়াসলি থাইল্যান্ড ভ্রমণের সবচেয়ে আকর্ষণীয় পার্ট ছিল ফি ফি আইল্যান্ড ভ্রমণ। দ্বীপটা থাইল্যান্ডের দক্ষিণাঞ্চলে ক্রাবি প্রভিন্সে পড়েছে (থাইল্যান্ডের মোট প্রভিন্সের সংখ্যা ৭৭)। আন্দামান সাগরের উপর অবস্থিত ফি ফি এর আশেপাশে আরও কিছু ছোট ছোট আকর্ষণীয় দ্বীপ আছে। ফি ফি এবং এর আশেপাশের দ্বীপগুলো ভ্রমণের অভিজ্ঞতা শেয়ার করার জন্যই আজকের এই পোস্ট।

ফি ফি তে প্রধানত দুইটা জায়গা থেকে যাওয়া যায়। ফুকেট থেকে এবং মেইনল্যান্ড ক্রাবি থেকে। বেশিরভাগ পর্যটক ফুকেট হয়েই যায়, যদিও আমি এবং আমার গ্রুপমেটরা গিয়েছিলাম ক্রাবি হয়ে। দুই ক্ষেত্রেই আপনাকে প্রথমে ব্যাংকক থেকে ডোমেস্টিক এয়ারে ফুকেট/ক্রাবি যেতে হবে। এখানে উল্লেখ্য যে, ব্যাংককে দুইটা এয়ারপোর্ট আছে। সুবর্ণভূমি এয়ারপোর্ট এবং ডন মুয়াং এয়ারপোর্ট। বাংলাদেশ থেকে বাংলাদেশ বিমান বা থাই এয়ারওয়েজে গেলে আপনি সুবর্ণভূমিতে ল্যান্ড করবেন। আর ডোমেস্টিক বাজেট এয়ারলাইন্সগুলো ছাড়ে ডন মুয়াং থেকে। দুই এয়ারপোর্টের মধ্যবর্তী দূরত্ব প্রায় ৪০ কিলোমিটারের মত। তাই হাতে যথেষ্ট সময় নিয়ে প্ল্যান করতে হবে। সুবর্ণভূমি থেকেও ফুকেট/ক্রাবির প্লেন আছে, তবে সেগুলো কিছুটা এক্সপেনসিভ।

ক্রাবি থেকে ফি ফি আইল্যান্ডে গিয়ে যদি দিনে দিনে ফিরে আসতে চান তবে আপনার হাতে তিনটা অপশন আছে।

অপশন-১:

ফেরিতে (বড় বোট) করে যাওয়া এবং আসা। ফেরি সকাল ৯:৩০ এ ক্রাবি থেকে ছাড়ে, ১১:৩০ এ ফি ফি দ্বীপে পৌঁছায়। দুপুর ৩:৩০ এ ফি ফি থেকে ছেড়ে বিকাল ৫:৩০ এ ক্রাবিতে ব্যাক করে। ভাড়া যাওয়া আসা ৭৫০ থেকে ৯০০ বাথের মধ্যে (বার্গেইনিং করার সুযোগ আছে)। যাওয়া এবং আসার টিকেট আলাদাভাবে নিতে পারবেন।

সুবিধাঃ
ফেরি বেশ স্লো যায়, ফলে যাত্রাপথের দৃশ্য খুব ভালোভাবে উপভোগ করতে পারবেন। ছবিও উঠাতে পারবেন। ফেরির ছাদে দাঁড়িয়ে যাত্রা বেশ উপভোগ্য হওয়ার কথা।

অসুবিধাঃ
১। ফি ফি এর আশেপাশে আরও বেশ কিছু আকর্ষণীয় স্পট আছে, যেগুলো মিস করবেন। মাঝ সমুদ্রে সুইমিং, স্নোরকেলিং ইত্যাদি অ্যাক্টিভিটির সুযোগও পাবেন না। আর এই প্যাকেজে লাঞ্চ ইনক্লুডেড না। (ফুকেট থেকে গেলে সম্ভবত ফেরির ভাড়ার সাথে লাঞ্চ ইনক্লুডেড)।

অপশন-২:

কোন ট্যুরগ্রুপের সাথে অ্যাড হয়ে বড়/মাঝারি স্পিডবোটে ভ্রমণ। আমরা এভাবেই গিয়েছিলাম। ভাড়া পড়েছিল জনপ্রতি ১৩০০ বাথ। সকাল ৯:৩০ এর দিকে ক্রাবি থেকে রওনা হয়ে বেশকিছু স্পট কভার করে বিকাল ৫:০০ টার দিকে আবার ক্রাবিতে ব্যাক করে।

সুবিধাঃ
১। ফি ফি আইল্যান্ড ছাড়াও ব্যাম্বু আইল্যান্ড, মাংকি বীচ, মায়া বে, ভাইকিং কেভ সহ আরও বেশকিছু স্পটে নিয়ে যায়।
২। সমুদ্রের মধ্যে সুইমিং এবং স্নোরকেলিং এর সুযোগ আছে। এর জন্য প্রয়োজনীয় ইকুইপমেন্ট যেমন লাইফ জ্যাকেট, গগলস, পাইপ ওরাই সরবরাহ করে। এই দুইটা অভিজ্ঞতাই অনেক ইন্টারেস্টিং। বিশেষ করে স্নোরকেলিং করে সমুদ্রের পানির নিচের প্রবাল, রঙ্গিন মাছের ছোটাছুটি দেখতে বেশ ভাল লাগবে।
৩। প্যাকেজের সাথে ব্যুফে লাঞ্চ ইনক্লুডেড (ফি ফি আইল্যান্ডে)। লাঞ্চের কোয়ালিটি অনেক ভাল।

অসুবিধাঃ
১। প্রতিটা জায়গায় কাটানোর জন্য আপনাকে নির্দিষ্ট সময় ধরে দিবে। কোন জায়গা খুব বেশি ভাল লেগে গেলেও নির্ধারিত সময়ের বেশি অবস্থান করতে পারবেন না।
২। স্পিডবোট খুব দ্রুত চলে এবং প্রচুর ঝাঁকি খায়। চলন্ত অবস্থায় দুপাশের দৃশ্য উপভোগ করা কিংবা ছবি উঠানো একটু মুশকিল!

অপশন-৩:
যদি আপনারা গ্রুপের সদস্য সংখ্যা ৮/১০ জন বা তার বেশি হন তবে নিজেরাই একটা ছোট স্পিডবোট রিজার্ভ করে চলে যেতে পারেন। ভাড়া পড়বে ১১,০০০/১২,০০০ বাথের মত।

সুবিধাঃ
নিজেদের ইচ্ছামত যেখানে যতক্ষণ খুশি সময় কাটাতে পারবেন।

অসুবিধাঃ
১। থাইল্যান্ড ভ্রমণ সম্পর্কে খুব ভাল ধারনা না থাকলে কোথায় কোথায় যেতে হবে তা বুঝতে পারাটাই মুশকিল হয়ে যাবে।
২। বুঝতে পারলেও স্পিডবোটের চালকের সাথে কম্যুনিকেট করা যথেষ্ট কঠিন হবে, কারন ওরা ইংরেজি খুবই কম বুঝে।
৩। লাঞ্চ ইনক্লুডেড না।

ফাইন্যালি, হাতে যদি যথেষ্ট সময় থাকে তবে আমি সাজেস্ট করব আপনি ফেরিতে করে ফি ফি যান, গিয়ে ফি ফি আইল্যান্ডে কমপক্ষে একরাত থাকুন, এরপর আবার ফি ফি থেকে ফেরিতে ব্যাক করুন। যেদিন যাবেন সেদিন বিকালে কিংবা পরদিন সকালে ফি ফি থেকে লং টেইল্ড কাঠের বোটে করে আশেপাশের স্পটগুলো ঘুরে দেখুন। সুইমিং, স্নোরকেলিং, স্কুবা ডাইভিং, কায়াকিং করারও সুযোগ পাবেন। আর যাদের সময়ের স্বপ্লতা আছে তারা অপশন-২ বেছে নিতে পারেন।

যারা ফি ফি আইল্যন্ডে রাত কাটাবেন তাদের জন্য আরেকটা ভাল সাজেশন হতে পারে আপনি যদি ফুকেট হয়ে যান, তবে ক্রাবি হয়ে ব্যাক করুন। আর ক্রাবি হয়ে গেলে ফুকেট হয়ে ব্যাক করুন।

কক্সবাজারে যেমন রাস্তার মোড়ে মোড়ে সেন্টমার্টিন ভ্রমণের শিপের টিকেট বিক্রির বুথ আছে, ক্রাবিতেও ঠিক তাই। সেগুলোর যেকোন একটা থেকে আপনার পছন্দসই প্যাকেজটা বেছে নিন। সম্ভব হলে ৩/৪টা বুথ ঘুরে দাম যাচাই করে নিন। সবগুলোর সার্ভিস একই, কিন্তু দাম কিছুটা এদিক সেদিক হয়! দামাদামি করার সুযোগ আছে। তবে একটা ব্যাপারে নিশ্চিন্ত থাকতে পারেন, দাম যাই রাখুক, সার্ভিস যেটা দেওয়ার কথা বলবে সেটাই দেবে। মিথ্যা কথা বলে কিংবা বাটপারি করে আপনার সাথে লেনদেন করবে না।

আর ফি ফি এর সৌন্দর্যের ব্যাপারে কিছুই বললাম না। সেটা আপনারা গেলে স্বচক্ষেই দেখবেন!

সতর্কতাঃ
১। খোলা সমুদ্রে রোদের তেজ অনেক বেশি। প্রয়োজনে সানগ্লাস এবং সানস্ক্রিন ব্যবহার করতে পারেন।
২। পুরো থাইল্যান্ড দেশটাই অনেক পরিচ্ছন্ন, অনুগ্রহপূর্বক একে নোংরা করবেন না।

Source:  Tanvir AhmedTravelers of Bangladesh (ToB)

13 Apr 2019

আগরতলা থেকে প্রায় ৮০ কিলোমিটার পর অমরপুর শহর। এ শহর থেকে প্রায় চার কিলোমিটার পরই রাজখাং এলাকার গোমতী নদীতে ‘ছবিমুড়া’ নৌকা ঘাট। সেখান থেকে নৌকায় যেতে হয় ছবিমুড়া এলাকায়। নদীর দু’দিকে ঘন জঙ্গলের ভেতর দিয়ে কিছুক্ষণ নৌকায় ভেসে গেলে নদীর গায়ে দেখা মিলবে প্রতীমার।

কথিত আছে, প্রাচীনকাল থেকে জমাতিয়া উপজাতি সম্প্রদায়ের বসবাস এখানে। জমাতিয়া লোককথা অনুসারে ছবিমুড়া হলো রুদ্রভৈরবী দেবীর স্থান। রাজা চিচিংফার প্রপিতামহ’র রাজত্বকালে তৈরি হয় দেবতামুড়া পাহাড়ের পাশ দিয়ে বয়ে চলা গোমতী নদীর তীরের গায়ে খোদাই করা শিল্পকর্ম।এছাড়া ছবিমুড়াতে পাবেন চিচিংফার গুহা।

স্হানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, ১৫-১৬শো শতাব্দীর সময়কালেই নির্মাণ হয়েছিল এই সব শিল্পকর্ম। এখানকার বিশেষত্ব হল গোমতী নদীর জলে নৌকা বা মোটরবোটে ভেসেই দেখতে হবে এই সব অনুপম সৃষ্টি। ব্রহ্মা, বিষ্ণু, মহেশ্বর, গণেশ, কার্তিক, বিশ্বকর্মা-সহ আরও অজস্র দেবদেবী ও পশুপাখির মূর্তি খোদাই করা রয়েছে পাহাড়ের উঁচু প্রাচীরে।

তবে এই জলযাত্রায় সব চেয়ে বেশি যেটা নজর কাড়বে তা হল দশভুজা দুর্গার মহিষাসুরমর্দিনী মূর্তিটি। প্রায় ২০ ফুট উঁচু বিশাল এই দেবীমূর্তিকে স্থানীয় উপজাতিরা অবশ্য ‘চক্রাকমা’ নামেই মানে। দেবীমূর্তির চুলের জায়গায় জড়ানো আছে অসংখ্য সাপ, আর পদতলে মহিষাসুরের পাশে রয়েছেন রুদ্রভৈরব।

যেভাবে যাবেন:-
ঢাকা-আগরতলা-আগরতলা থেকে ৮০ কিমি দূরে অমরপুর শহর-অমরপুর শহর থেকে প্রায় চার কিলোমিটার পরই রাজখাং এলাকার গোমতী নদীতে ‘ছবিমুড়া’ নৌকা ঘাট।

আসুন ভ্রমনে গিয়ে যেখানে সেখানে ময়লা আবর্জনা ফেলা থেকে বিরত থাকি।ভ্রমনে গিয়ে ময়লা আবর্জনা যেখানে সেখানে না ফেলে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।

source: Dip Biswas