ঢাকার আসেপাশে ঘুরতে চাইলে টাঙ্গাইল থেকে ঘুরে আসতে পারেন।
এটা কাছে হওয়ায় আর রাস্তা ভালো হওয়ায় এখন একদিনেই ঘুরে আসা যায়।

ঢাকা কল্যাণপুর থেকে টাঙ্গাইল যাবার এসি বাস আছে, সোনিয়া/বিনিময়।
আর মহাখালী বাসস্টান্ড থেকেও কয়েকটা বাসই টাঙ্গাইলে যায়, নিরালা হচ্ছে সবচেয়ে ভালো। জ্যাম না থাকলে ঘণ্টা দুয়েকের মধ্যে পৌছে যাবেন, পুলিশ লাইন রোডে।সেখান থেকে সিএনজি যায় মহেড়া জমিদার বাড়ীতে, লোকাল বা রিজার্ভ দুইভাবেই যাওয়া সম্ভব।জমিদার বাড়ীটি এখন পুরোটাই ব্যবহার হচ্ছে পুলিশ ট্রেনিং সেন্টার হিসেবে। তবে দর্শনার্থীদের জন্যে ৮০টাকা টিকিটের বিনিময়ে ঢুকে ঘুরে দেখার ব্যবস্থা রয়েছে। জমিদার বাড়ী সংস্কার করে কিছুটা কৃত্রিম করা হয়েছে। বাংলাদেশে এই একটা সমস্যা নকশা অবিকল রেখে সংস্কার করতে পারেনা। পেছনে একটা পিকনিক স্পট তৈরী করা হয়েছে, যেখানে পুকুর আর শিশুপার্কের মতো করা। গ্রাম্য লোকের জন্যে আধুনিক পার্কই বলতে হবে। পাশে ছিলো রাণীর পুকুর, কিন্তু সেখানে যাওয়া মানা। পুকুরের অবশ্য হতশ্রী অবস্থা, পানি নেই, শুধু ঘাটটা সুন্দর। আমরা যেদিন গিয়েছিলাম সেদিন পুলিশের হাই অফিশিয়াল আসায়, বেশ বাধ্যবাধকতা ছিলো, তাই ভালোমতো ঘুরতে পারিনি!

সেখান থেকে তারপর গেলাম দেলদুয়ার জমিদার বাড়ী। এই জমিদার বাড়ির বিশাল উঠান বা মাঠটা খুবই সুন্দর। যদিও উঁচু পাচিলে ঘেরা, আমরা বন্ধ কপাটের মাঝ দিয়ে দেখলাম। পুরা মাঠে সবুজ ঘাসের গালিচা বিছানো। আর বিশাল একটা গাছ ছিলো, যে গাছে অনেক পাখি। বাইরে থেকে দেখতেও বেশ ভালো লাগছিলো। পুকুরপাড়ে মসজিদ আছে, জমিদার বাড়ির সেই মসজিদে এখনো গ্রামের লোকজন নামাজ পড়ে, আমরা জুম্মার নামাজ পড়েছিলাম সেখানেই।
তারপরের গন্তব্য আতিয়া জামে মসজিদ। প্রায় ৪০০ বছরের পুরোনো এই মসজিদের কারুকাজ দেখলে সত্যিই মুগ্ধ হতে হবে। মসজিদের পেছন দিকে বেশ খানিকটা খোলা যায়গা, সেখানে একটা কুয়া ছিলো (এখন পরিত্যক্ত)। আর মসজিদের সামনে একটা পুকুর। পুকুরের টলটলে জলে মসজিদের ছায়া পড়ে, সেটাও বেশ ভাল্লাগে দেখতে। মসজিদের পাশে হযরত শাহান শাহ বাবা আদম কাশ্মিরী (রাঃ)এর মাজার ছিলো, যদিও আমি সেখানে দেখার মতো কিছু পেলাম না!
সবশেষে রওনা দিলাম করটিয়ার উদ্দ্যেশ্যে। করটিয়া জমিদারবাড়ী ব্যক্তিমালিকানাধীন থাকায় কেয়ার টেকার দেখাশুনা করে। সেখানে ঢোকা নিষেধ, তারপর অনেক রেস্ট্রিকশন ছবি তোলা যাবে না। বেশীক্ষণ থাকাও যাবে না। অবশ্য মুলবাড়ি পেরিয়ে পেছনে আরেকটা জমিদার বাড়ী আছে, সেখানে এখন স্কুল করা হয়েছে, এটা বেশ সুন্দর। দুই বাড়ীর মাঝে প্রচুর গাছপালা ঘন হয়ে আছে, আর একটা চার ঘাটের পুকুর। পুকুরটাই হয়তো সীমানা আলাদা করেছে। যদিও এখন পানি নেই, শীর্ণ দশা!

ঘুরাঘুরির মাঝেই দুপুরের খাওয়া দাওয়া করে নিতে হবে। নিরালা মোড়ে নিরালা হোটেল/ চাইনিজ হোটেল আছে। আমরা করটিয়া বাজারে ফনিন্দ্র হোটেলে খেয়েছিলাম, মোটামুটি মানের, আসলে সেখানে ভালো হোটেল তেমন নাই। চাইলে দেলদুয়ার বাজারেও খেয়ে নিতে পারেন। টাঙ্গাইল গেলে চমচম খেতে ভুলবেন না। টাঙ্গাইল বিখ্যাত হচ্ছে এই চমচমের জন্য।
ঘুরাঘুরির জন্যে আমি সাজেস্ট করবো ঢাকা থেকে গাড়ি রিজার্ভ নিয়ে আসার জন্যে, তাহলে এক স্পট থেকে আরেক স্পট সহজে কাভার করা যাবে। এটা না পারলে টাঙ্গাইল এসে সিএনজি রিজার্ভ করে নেয়া ভালো হবে। কারণ এক যায়গা থেকে আরেকটা জায়গা বেশ দূরে, তাছাড়া সবখানে সুবিধামতো গাড়িও পাওয়া যাবেনা। রিজার্ভ গাড়ি নিলে আর হাতে সময় থাকলে ফেরার পথে পাকুটিয়া আর বালিয়াটি জমিদার বাড়ী দেখতে পারবেন। সেগুলো যদিও মানিকগঞ্জে পড়েছে, টাঙ্গাইল থেকেও খুব কাছে।

আর যারা বাসে করে ফিরতে চান, টিম ছোট হলে করটিয়া বা এরকম কোনো বাসস্ট্যান্ড থেকে উঠতে পারেন, উত্তর বংগ থেকে ঢাকাগামী বাস গুলো এ পথেই যায়, আর ডাইরেক্ট বাসে সীট নিয়ে ফিরতে চাইলে টাংগাইল বাস স্ট্যান্ড যেতে হবে। সেখান থেকে মহাখালী/ কল্যানপুরের বাস পাবেন। বাসে এলে তাড়াতাড়ি রওনা দেয়া ভালো, নয়তো জ্যামে পড়ার সম্ভাবনা বেশী।
টাঙ্গাইল গিয়ে আমার যেটা মনে হয়েছে, দৃস্টিনন্দন জমিদার বাড়ী ছাড়াও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর জায়গা এই টাঙ্গাইল। মির্জাপুর / করটিয়াতে যদি ভালো থাকার হোটেল থাকতো, আরো বেশী মানুষ ঘুরতে যেতে পারতো। সাধারণ ট্রাভেলাররা চায় পরিচ্ছন্ন হোটেল। বেসিক কিছু সুযোগ সুবিধা দিয়ে ১০০০-২০০০ এর মধ্যে রুম ভাড়ার হোটেল থাকলে ভালো হতো। আমাদের পাশের দেশ ভারত ট্যুরিজমে এতো আয় করছে কিভাবে? তাদের সব কিছু গোছানো, থাকার হোটেল, খাবার হোটেল, ভাড়ার গাড়ি, চাইলেই সহজে সব পেয়ে যাচ্ছে ট্যুরিস্টরা। হোটেলের পাশাপাশি হোমস্টে গুলোও বেশ ভালো। আমাদের এখানে এই চর্চাটা শুরু হলে, আমি মনে করি, ট্যুরিজম অনেকটা সহজ হবে।

অনুরোধঃ
বেড়াতে গিয়ে হইচই পরিহার করুন। নিরিবিলি তে সৌন্দর্য উপভোগ করুন। স্থানীয় লোকজনের যেনো ভ্রমণকারী দের প্রতি বিরূপ ধারনা না হয়। তাদের সাথে ভালো ব্যবহার করুন। তারা আপনাকে অনেক তথ্য দিয়ে সহায়তা করতে পারবে।
অবশ্যই খাবার প্যাকেট বা বর্জ্য দ্রব্য যেখানে সেখানে ফেলবেন না।
ছবি তোলার সময় স্থাপনা ঘেঁষে ছবি তুলবেন না।

Source: Muntasir Huqe‎ <Travelers of Bangladesh (ToB)