বন্ধুরা মিলে অনেকদিন ধরেই প্ল্যান করতেছিলাম কোলাহলমুক্ত কোন জায়গায় যাওয়ার।অনেক খুঁজে আর মানুষের রিভিও দেখে সোনাদিয়া দ্বীপটাকেই বেছে নিলাম।আমরা চট্টগ্রাম থেকে গিয়েছিলাম এবং সংখ্যায় ছিলাম ৬জন।পরে অবশ্য ওখানে ৬ জনের অন্য একটা গ্রুপ এর সাথে দেখা হয়েছিলো।।ওরা ময়মনসিংহ থেকে এসেছে।।ওদের সাথে পেয়ে ট্যুর টা আরো জমে গেছে।।

যাই হোক এবার ট্যুরের বর্ননা শুরু করি,
আমরা চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও এনিম্যাল সাইন্সেস বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যাত্রা শুরু করি।আমাদের এখান থেকে দামপাড়া বাস স্টেশন খুব কাছেই।জনপ্রতি ৫টাকা ভাড়া লাগে।তবে আমাদের বাস ছিলো রাত ২ টায়। তাই আমরা সিএনজি রিসার্ভ করে নিয়েছিলাম।। ভাড়া লেগেছে ১০০ টাকা।তারপর ওখান থেকে বাসে কক্সবাজার কলাতলী বীচ পয়েন্টে (ভাড়া জনপ্রতি ২৫০টাকা)।আমরা কলাতলী থেকে সুগন্ধা বীচ পর্যন্ত হেটে যাই(তবে অটোতে গেলে জনপ্রতি ১০ টাকা লাগে)।ওখানে সকালের নাস্তা শেষ করি(খরচ জনপ্রতি ৪০টাকা পড়েছিলো)।তারপর সুগন্ধা বীচ থেকে অটোরিকশা নিয়ে চলে গেলাম ৬নং ঘাটে(অটো রিজার্ভ নিয়েছিলাম,ভাড়া পড়েছে১০০ টাকা)।৬ নং ঘাট থেকে স্পীডবোটে করে গেলাম মহেশখালী ঘাটে(ভাড়া জনপ্রতি ৭৫ টাকা।তবে ট্রলারে গেলে ৩০ টাকা পড়ে)।যেহেতু সমুদ্র দিয়ে যেতে হয় সেহেতু সবাই লাইফ জ্যাকেট পরে নিবেন আর সমুদ্রের ঢেউ উপভোগ করতে করতে ঘাটে চলে যাবেন।ঘাটের জায়গার নাম ঘোরকাটা।।এখান থেকে অটোরিকশা নিয়ে চলে যাবেন ঘোটাডাঙ্গা(ভাড়া জনপ্রতি ৪০টাকা)।ঘোটাডাঙ্গা ঘাট থেকে সোনাদিয়া পশ্চিম পাড়ার উদ্দেশ্যে প্রায় ১১ টার দিকে একটা ট্রলার ছেড়ে যায়(ভাড়া জনপ্রতি ৩০টাকা)।বলে রাখা ভাল সোনাদিয়া ২ টি পাড়ায় বিভক্ত। একটি পশ্চিম পাড়া আর আরেকটি হচ্ছে পূর্বপাড়া।।সবাই পশ্চিম পাড়াতেই যায়।যাক ১১টার দিকে ট্রলারে উঠে পড়লাম।সমুদ্রের বুক ছিঁড়ে আমাদের ট্রলার ছুটে চললো সোনাদিয়ার উদ্দেশ্যে।চারদিকে ম্যানগ্রোভ বন আর মাঝখানে আমাদের ট্রলার।না গেলে এর সৌন্দর্য টা বোঝানে যাবেনা।।যাই হোক,ঘন্টাখানে ট্রলারে চড়ার পর প্রায় ১২ টার দিকে আমারা আমাদের গন্তব্যস্থান সোনাদিয়া পৌঁছাই।ওখানে যাওয়ার আগেই ওখানকার একজনের সাথে যোগাযোগ করে যাই।উনার নাম গিয়াস।যদিও উনি ঢাকায় চাকরী করেন।উনাকে বললে উনি সব ম্যানেজ করে দেন।সোনাদিয়ায় উনার বাসায়ই আমরা খাওয়াদাওয়া করি।এরকম ভাল আপ্যায়ন আমরা কোথাও পাইনি।।ফ্যামিলির প্রত্যেকটা মানুষ খুব ভাল।।

থাকা খাওয়া:
গিয়াস ভাইকে বলে আমরা ৩ টা তাবু ভাড়া করেছিলাম।প্রত্যেকটার ভাড়া ৩৫০টাকা এবং প্রতিটায় ২ জন থাকা যায়।আর ওখানকার জায়গা ঘুরে দেখানো আর রাতে পাহারা দেয়ার জন্য উনি গাইড ঠিক করে দেন যাকে ৫০০টাকা দিতে হয়।।তবে উনার আচার আচরনে আমরা খুশি হয়ে উনাকে ৬০০টাকা দেই।।আর খাওয়ার ব্যবস্থা গিয়াস ভাইয়ের ঘরেই হয়েছিলো।আমরা ৩ বেলা খাওয়ার জন্য জনপ্রতি ৫০০টাকা করে দিয়েছিলাম।খাবার আনলিমিটেড দিয়েছে আমাদের।আর ভাবীর রান্না মাশাল্লাহ অনেক ভাল।।উনাদের পাড়ায় ৪ টা দোকান পেয়েছি।।ওখানে নাস্তা করা যায়।তবে যাওয়ার সময় রুটি কলা বা বিস্কুট নিয়ে যাওয়াই ভাল।।দ্বীপে খাওয়ার পানির জন্য টিউবয়েলের ব্যবস্থা আছে।

ঘুরাঘুরি :
গিয়ে খাওয়াদাওয়া করে আমরা দ্বীপ ঘুরতে বের হয়ে গেলাম।সাইক্লোন সেন্টারের কাছেই ঝাউবন।।ওখানে গিয়ে বালির উপর শুকনা পাতা বিছিয়ে কতক্ষণ শুয়ে ছিলাম।বাইরে তখন প্রচন্ড রোদ ছিল।অনেকবেশী টায়ার্ড থাকার কারনে ঝাউবনেই ঘুমিয়ে পড়েছিলাম।ঘুম থেকে উঠেই গেলাম বীচের দিকে।ওখানে দেখি লাল কাকড়া ছড়াছড়ি।। সংখ্যায় এরা অনেক আর বেশি সুন্দর।বীচ আর সমুদ্রের পানিগুলা এত পরিষ্কার দেখে লোভ সামলাইতে পারিনি।।বীচে অনেক্ষন ঝাপাঝাপি করে সন্ধ্যার আগে উনাদের বাসায় ফিরে এলাম।।গোসল আরর নাস্তা করে তাবু টানানোর জন্য চলে গেলাম।।রাতে খাওয়াদাওয়া করে তাবুতে গেলাম।।এখন আমরা ১২ জন(ওই গ্রুপটা সহ)।রাতে আগুন জ্বালালাম,সবাই মিলে আড্ডা আর গানে মেতে উঠেছিলো।।পাশে সমুদ্রের আওয়াজ আর এদিকে ১২ জন মানুষ গল্পগুজব করছে।।ব্যাপারটা ওখানে না থাকলে অনুভব করতে পারবেননা।

ফেরার পালা:
পরদিন সকালে নাস্তা সেরে একই ট্রলারে ঘোটাডাঙ্গা র উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিলাম।।বাকী পথ আগের মতই ফিরলাম।।

খরচাপাতি :আসা+যাওয়া(জনপ্রতি)
হল থেলে বাসস্ট্যান্ড:২২
বাস ভাড়া:২৫০+২৫০=৫০০
সুগন্ধা থেকে ৬ নং ঘাট:৩৫
স্পীডবোট:১৫০
অটোরিকশা :৮০
ট্রলার:৬০
তাবু:১৭৫
গাইড:১০০
খাওয়া:৫০০

Source: Zahirul Islam Sajeeb‎ <Travellers Of Bangladesh