Daily Archives

Sunday, April 7, 2019

7 Apr 2019

সিরাজগঞ্জ জেলায় প্রায় পাঁচশ বছরের পুরানো প্রত্নতাত্বিক নিদর্শন হাটিকুমরুল নবরত্ন মন্দির।

জেলার উল্লাপাড়া উপজেলার হাটিকুমরুল ইউনিয়নে এই মন্দিরের অবস্থান। হাটিকুমরুল নবরত্ন মন্দির তিনতলা বিশিষ্ট। মূল মন্দির আয়তনে ১৫ বর্গমিটারেরও বেশি।

মন্দিরের নির্মাণ সময় সম্পর্কিত কোনও শিলালিপি পাওয়া যায়নি। আনুমানিক ১৭০৪-১৭২৮ সালের মধ্যে নবাব মুর্শিদকুলি খানের শাসনামলে রামনাথ ভাদুরী নামে জনৈক তহসিলদার নির্মাণ করেন বলে জানা যায়। অনেকের মতে রামনরাথ জামিদার ছিলেন।

দুইপাশের ধানক্ষেতের বুক চিড়ে সেখান থেকে ছোট্ট একটি মেঠো পথ আঁকাবাঁকা চলে গেছে উত্তর পূর্ব দিকে। এই পথে প্রায় এক কিলোমিটার গেলেই দেখা মিলবে পোড়ামাটির কাব্যে গাঁথা অনন্য এক প্রত্নতাত্বিক নির্দশন।

বাংলাদেশে প্রাচীন যেসব হিন্দু মন্দির দেখতে পাওয়া যায় সেগুলোর অন্যতম একটি এই হাটিকুমরুল নবরত্ন মন্দির। নির্মাণশৈলীর দিক থেকে উঁচু একটি বেদীর উপর নবরত্ন মন্দিরটি। মন্দিরের প্রতিটি বাহুর দৈর্ঘ্যে ১৫.৪ মিটার এবং প্রস্থে ১৩.২৫ মিটার। তিনতলা বিশিষ্ট এই স্থাপনার উপরের রত্ন বা চূড়াগুলো প্রায় ধ্বংস হয়ে গেছে।

হাটিকুমরুল নবরত্ন মন্দির তিনতলা বিশিষ্ট। মূল মন্দিরের বারান্দায় সাতটি এবং ভেতরের দিকে পাঁচটি প্রবেশপথ আছে। দ্বিতীয় তলায় কোনও বারান্দা নেই।

মূল মন্দিরের আয়তনে ১৫ বর্গমিটারেরও বেশি। একসময়ে মন্দিরে নয়টি চূড়া ছিলো বলে নবরত্ন মন্দির হিসেবে পরিচিতি পায়। পুরো মন্দিরের বাইরের দিক পোড়া মাটির অলঙ্করণে ঢাকা। এসব অলঙ্করণে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে নানান দেবদেবীর মূর্তি, লতা-পাতা ইত্যাদি।

প্রচলিত গল্প

এ মন্দিরের নির্মাণ নিয়ে নানান গল্প প্রচলিত আছে এ অঞ্চলে। কথিত আছে, দিনাজপুরের রাজা প্রাণনাথের কাছের মানুষ ছিলেন জমিদার রামনাথ ভাদুরী।

প্রাণনাথ দিনাজপুরে ঐতিহাসিক কান্তজি মন্দির নির্মাণে প্রচুর অর্থ ব্যয় করে সংকটে পড়েন। ফলে বছরের রাজস্ব পরিশোধ করতে ব্যর্থ হয়ে পড়েন। সে সময় তাকে সাহায্যে এগিয়ে আসেন বন্ধু রামনাথ ভাদুরী।

নিজ কোষাগারের টাকা দিয়ে রাজা প্রাণনাথের বকেয়া শোধ করে দেন তিনি। তবে এই অর্থ ফেরতের শর্ত হিসেবে দিনাজপুরের কান্তজি মন্দিরের রূপে হাটিকুমরুলে একটি মন্দির নির্মাণের অনুরোধ জানান।

রামনাথ ভাদুরীর শর্তানুসারেই রাজা প্রাণনাথ কান্তজি’র আদলে হাটিকুমরুলে এ নবরত্ন মন্দিরের নির্মাণ করে দেন। আবার অনেকের মতে রাখাল জমিদার হিসেবে পরিচিত রামনাথ ভাদুরী তার জমিদারীর সঞ্চিত অর্থ দিয়েই এ মন্দির নির্মাণ করেছিলেন।

হাটিকুমরুল নবরত্ন মন্দিরের আশপাশে আরও তিনটি ছোট মন্দির রয়েছে। নবরত্ন মন্দিরের উত্তর পাশে আছে শিব-পার্বতী মন্দির।

পাশে দোচালা আকৃতির চন্ডি মন্দির এবং দক্ষিণ পাশের পুকুরের পশ্চিম পাড়ে আছে শিব মন্দির। সবগুলো মন্দিরেরই বর্তমানে দেখভাল করছে সরকারের প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর।

কালের বিবর্তনে ভারত উপমহাদেশে জমিদারী প্রথা বিলুপ্ত, দেশ বিভাগ ও রাজনৈতিক পট পরিবর্তনে হারিয়ে যায় জমিদারের পূর্বপুরুষেরা। যুগযুগ ধরে কালের সাক্ষী হয়ে ঝোঁপঝাড় বুকে নিয়ে লুকিয়ে ছিল এই নবরত্ন মন্দির।

অরক্ষিত এই নবরত্ন এর অনেক মূল্যবান প্রাচীন সামগ্রী লুট করে নিয়ে গেছে দেশী-বিদেশী দুর্বৃত্তরা। পরে স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে দেশের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ ঐতিহ্যের এই নিদর্শন খুঁজে বের করেন। কীভাবে যাবেন, কেমন খরচ?

ঢাকা থেকে এক দিনে বেড়িয়ে আসতে পারেন হাটিকুমরুল নবরত্ন মন্দির থেকে। বগুড়াগামী যে কোনও বাসে উঠে নেমে পড়তে পারবেন হাটিকুমরুল। ঢাকার কল্যাণপুর ও গাবতলী থেকে টিআর ট্রাভেলস ও এসআর ট্রাভেলসের এসি বাস যায় ভাড়া ৫শ’থেকে সাড়ে পাঁচশ টাকা। এছাড়া একই জায়গা থেকে টিআর ট্রাভেলস, এসআর ট্রাভেলস, শ্যামলী পরিবহন, হানিফ এন্টার প্রাইজ, শাহ সুলতান পরিবহন, বিআরটিসির বাস চলে বগুড়ার পথে। ভাড়া ৩শ’থেকে সাড়ে তিনশত সত্তর টাকা।

কোথায় থাকবেন

হাটিকুমরুলে রাত যাপনের জন্য রয়েছে বেশ কিছু আবাসিক হোটেল। এ ছাড়াও সারাদিন ঘুরে ফিরে রাতে এসে থাকতে পারেন সিরাজগঞ্জ শহরের কুটুমবাড়ী, সনি আবাসিক ও আলিশানসহ যে কোন হোটেলে।

কি খাবেন

সিরাজগঞ্জের বিখ্যাত এবং খুব জনপ্রিয় খাবার ধানসিড়িঁর, তমিজ ও সম্পার দই খেতে ভুলবেন না এবং রয়েছে নানা ধরণের দেশীয় খাবার। রয়েছে অসংখ্য রেষ্টুরেন্ট আপনার ইচ্ছেমত খেতে পারবেন।

তবে স্থানীয়রা জানান, মন্দিরের চারপাশে জায়গাগুলো দখলমুক্ত করে পর্যটকদের উপযোগী পরিবেশ সৃষ্টি করতে পারলে এই মন্দিরটি আরো হতে পারে দেশের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্রের মধ্যে অন্যতম।

source: https://www.bd-journal.com/life-style/travel/

7 Apr 2019

অনেকেই বিশ্বাস করতে চান না পঞ্চগড় থেকে হিমালয় দেখা যায়, আসলে আপনি নিজ চোখে না দেখলে কখনোই বিশ্বাস করবেন না।

আমার আগের পোস্টে ছবি গুলো নিয়ে অনেকে বলেছেন ওগুলো এডিট করা, আর দেখা গেলেও ক্যামেরার ছবির মত এত ভালো দেখা যায়না।
তাদের বলব, ভাইয়েরা ক্যামেরার চেয়েও ভালো দেখা যায়, কারণ পৃথিবীর সেরা ক্যামেরা আপনার চোখ।

আমার ছবিগুলো মোবাইলে তোলা ছবি ছিল, তাই তেমন ভালো হয়নি।
এবার যে ছবি গুলো দিলাম এগুলো ক্যামেরাবন্দি করেছেন আমাদের বড়ভাই আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ফটোগ্রাফার যাকে সবাই ছবিপাগল বলে জানে, যার ছবি ন্যাশনাল জিওগ্রাফিকেও স্থান পেয়েছে সেই ভাই, যিনি নিজেও পঞ্চগড় জেলার কৃতিসন্তান।
যারা উনাকে চিনেন তাদেরকে নতুন করে বলার কিছু নেই। আর আমার ছবিগুলো বিশ্বাস না হলে #Firoz_Al_Sabah ভাইয়ের প্রোফাইলে গিয়ে দেখতে পারেন।
এখানে ফিজোর ভাইয়ের ছবির সাথে আমার নিজের মোবাইলে তোলা কয়েকটি ছবি দিলাম।

বাংলাদেশের পঞ্চগড় থেকে হিমালয় দেখতে পাওয়া যায় , তবে তা নির্ভর করবে আবহাওয়ার ভাগ্যের উপর। এটা যেহেতু মেঘের অনেক উপরে অবস্থিত তাই এটা দেখার জন্য সবচেয়ে যেটা প্রয়োজন মেঘমুক্ত আকাশ এবং পরিষ্কার আবহাওয়া।
আবহাওয়া খারাপ আপনি নেপাল গিয়েও হিমালয় দেখতে নাও পারেন।

কাঞ্চনজঙ্ঘার চূড়া দেখতে সারাবিশ্ব থেকে প্রতিদিন হাজার হাজার পর্যটক ভারতের টাইগার হিলে ছুটে যান। ভোরে উষার সময় কাঞ্চনজঙ্ঘার ওপর রোদ পড়ে সেই রোদ যেন ঠিকরে পড়ে পর্যটকের চোখে।
দার্জিলিং-এর টাইগার হিলই কাঞ্চনজঙ্ঘার চূড়া দেখার সবচেয়ে আদর্শ জায়গা। কিন্তু যদি পাসপোর্ট ভিসা ছাড়াই সেই দৃশ্য দেখতে পারেন তবে কেমন হয়? হ্যাঁ এমন সুযোগই রয়েছে।

বাংলাদেশের উত্তরের সর্বশেষ উপজেলা তেঁতুলিয়া থেকেই দেখা যাচ্ছে কাঞ্চনজঙ্ঘা। অক্টোবরের মাঝামাঝি থেকে বেশ ভালোভাবে দেখা যায়।
আবহাওয়ার কারণে শীতকালে হিমালয়ের পাদদেশে অবস্থিত পঞ্চগড় জেলার তেঁতুলিয়া থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা যায়। আবহাওয়া ভালো হলে খুব পরিষ্কার ভাবে দেখা যায়।

আমার নিচে দেয়া ছবিতে তেঁতুলিয়ার ধানক্ষেত আর কাঞ্চনজঙ্ঘার মাঝখানে যে কালচে পাহাড়টা দেখা যাচ্ছে…ওই পাহাড়ের এপারের ঢালে শিলিগুড়ি শহর। রাতে তেঁতুলিয়া থেকে শিলিগুড়ির আলো দেখা যায় স্পষ্ট। ছবি যে লাইটের আলোলো দেখছেন ওগুলো শিলিগুড়ি শহরের লাইটের আলো, একেবারে কাছেই।
ওই পাহাড়েরই অপর ঢালে দার্জিলিং। দার্জিলিং-এ যারা বেড়াতে যান…তাঁদের কাছে প্রধান আকর্ষণ বরফে ঢাকা কাঞ্চনজঙ্ঘার ওপর সূর্যোদয়ের সময় দিনের প্রথম সূর্যকিরণের ঝিকিমিকি!

সম্প্রতি তেঁতুলিয়া ঘুরে আসা সাদাব মোস্তফা জানাচ্ছেন, ‘ভোর সাড়ে ৫টায় উঠলাম! উঠেই দেখি কেবল হালকা আলো দেখা যাচ্ছে! কিন্তু আকাশে মেঘ আছে। ভাবলাম আর মনে হয় পাহাড় দেখা যাবে না! কিন্তু সকাল ৬টা ১০ মিনিটে কাঞ্চনজঙ্ঘা আবার উকি দিচ্ছে! কিছুক্ষণ পর মেঘ ঠেলে সূর্য একটু বের হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই কাঞ্চনজঙ্ঘা আবার লাল হয়ে গেল! এবার শান্তি মতো ছবি তুললাম। নিজেকে ভাগ্যবান মনে হলো যে দুই দিন এ কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখতে পারলাম। ‘

টাইগার হিলে উষার সময় ভোরে দেখা গেলেও তেঁতুলিয়া থেকে এত ভোরে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা যায় না। সকাল ৮টা থেকে সূর্যকিরণ যখন তেজ হতে থাকে তখন স্পষ্ট হয়ে ধরা দেয় কাঞ্চনজঙ্ঘা। সকাল ১০টা পর্যন্ত বেশ ভালো দেখা যায়। তারপর আস্তে আস্তে ঝাপসা হতে থাকে কাঞ্চনজঙ্ঘা। শেষ বিকেলে সূর্যকিরণ আবার যখন তির্যক হয়ে পড়ে বরফের পাহাড়ে তখন অনিন্দ্য সুন্দর হয়ে ধরা দেয় কাঞ্চনজঙ্ঘা।

হিমালয়ের আশাপাশের এলাকা অতিরিক্ত জলীয়বাষ্প সম্পন্ন হওয়ায় এবং দার্জিলিং এর পাহাড়ি এলাকা প্রায় সময় কুয়াশাচ্ছন্ন থাকায় বেশীরভাগ সময়ই কাঞ্চনজঙ্ঘার চূড়া দেখা যায়না।

ঢাকা থেকে সরাসরি বাস রয়েছে তেঁতুলিয়াগামী। কিংবা পঞ্চগড় পর্যন্তও যাওয়া যায়। তেঁতুলিয়ায় বিভিন্ন চা বাগান রয়েছে। সেখানে তেমন টুরিস্ট প্লেস নেই, তবে রয়েছে অসাধারণ সৌন্দর্য সম্পন্ন গ্রাম্য এলাকা এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, যা আপনাকে মনোমুগ্ধ করবেই। পর্যটন এলাকা না হওয়ায় সেখানে হোটেল মোটেল নেই তবে রয়েছে সরকারি বেসরকারি ডাকবাংলো। আগে থেকে যোগাযোগ করে যাওয়াই ভালো।

source:  Prince Rasel Mahmud Chowdhury‎ <Travellers Of Bangladesh