Daily Archives

Thursday, April 4, 2019

4 Apr 2019

বঙ্গ বাসীদের কেবল মাঠ দেখে অভ্যাস, তাই মৃত্তিকার সামান্য স্তুপ দেখিলেই তাহাদের আনন্দ হয়। সঞ্জীবচন্দ্র কথাটা ভুল বলেন নি। সমতলের বাসিন্দা বলে বরাবরই পাহাড়ের প্রতি আকর্ষণ রয়েছে। সে অনুযায়ী এবারের ট্যুরে পাহাড়ে যাব প্লান করলাম। এবারের ট্যুরে আমাদের গন্তব্য হলো চন্দ্রনাথ পাহাড়, সীতাকুন্ড ইকোপার্ক আর গুলিয়াখালি বিচ।

১৩ জনের টীম নিয়ে ২৬ তারিখ ভোর ৫ টায় লক্ষ্মীপুর থেকে রওনা হলাম । গন্তব্য সীতাকুন্ড। আগেই একটা মাইক্রোবাস ভাড়া করে ছিলাম, পুরো ট্যুরে আমাদের সাথে থাকবে ভাড়া ৬৫০০ টাকা। সীতাকুন্ড পৌঁছাতে পৌঁছাতে ৮ টা বেজে গেল। বাজারে নেমে নাস্তা সেরে রওনা হলাম চন্দ্রনাথের উদ্দেশ্যে। যেতে মেবি ১৫ মিনিট লাগবে। যাওয়ার পথে একটা রেল ক্রসিং পড়বে। জায়গাটা সুন্দর, সময় থাকলে নেমে কয়েকটা ছবি তুলে নিতে পারেন ভাল ছবি আসবে।

পাহাড়ের নিচে এসে পানি, স্যালাইন আর লাঠি কিনে উঠার প্রস্তুতি নিলাম। ভুলেও লাঠি ছাড়া উঠবেন না। আর দলের মধ্যে কেউ যদি নিজেকে পলোয়ান ভেবে লাঠি ছাড়া উঠতে চায় তাকে জোর করে হলেও লাঠি নেওয়াবেন। কারণ নাহলে পরে নিজেই কষ্ট পাবেন। আমাদের এরকম হয়েছিল, কয়েকজন লাঠি নেই নাই পরে তাদের সাথে লাঠি শেয়ার করতে গিয়ে নিজেরাই কষ্ট পাইছি। প্রতিটি লাঠি ২০ টাকা করে নিবে আর আপনি নিচে নেমে লাঠি ফিরিয়ে দিলে আবার ১০ টাকা ফেরত দেবে। আর সাথে করে পর্যাপ্ত পরিমান পানি নিয়ে উঠবেন। আমরা এই ভুলটা করেছিলাম।

১৩ জনের জন্য পানি নিয়েছিলাম মাত্র ৪ লিটার। ভাবছিলাম একটা ক্রিকেট ম্যাচের মতো, ম্যাচ খেলতে এর বেশি পানি আমাদের লাগে না। যা নিয়েছিলাম অর্ধেক পথ উঠতেই তা শেষ। যদি পারেন তবে সীতাকুন্ড বাজার থেকেই পানি নিয়ে আসবেন। পাহাড়ের কাছে সবকিছুর এ দাম বেশি। পাহাড়ের নিচে যদিওবা ৫-১০ টাকা করে বেশি নিবে আর ৫ মিনিট হেটে পাহাড়ে উঠলে সবকিছুর দাম দ্বিগুণ হয়ে যাবে। মন্দিরে উঠার দুইটা রাস্তা পাবেন। একটা মাটির রাস্তা অন্যটা সিঁড়ি। মাটির পথটা উঠার জন্যে আর সিঁড়ির পথ নামার জন্যে। ভুলেও সিঁড়ির পথ দিয়ে উঠতে যাবেন না গেলে পস্তাবেন।উঠা টা এমনিতেই কষ্টকর আর যদি সিঁড়ির পথে উঠতে যান তবে দ্বিগুন কষ্ট পাবেন।

নিজের ব্যবহৃত পানির বোতল, চিপসের প্যাকেট কোন কিছুই ফেলে আসবেন না। সঙ্গে করে নিয়ে আসবেন। পানির বোতল নিয়ে আসার একটা উপকারিতাও রয়েছে। নিচে নামার সময় একটা মন্দিরে পানির কল আছে, সেখানে পানি খেয়ে সঙ্গে করে পানি নিয়েও আসতে পারবেন। এক কাজে দুই কাজ হলো পরিবেশ ও নষ্ট হলো না আর আপনিও পানির কষ্ট থেকে মুক্তি পেলেন।এমনিতেই লক্ষ্য রাখবেন আপনার দ্বারা পরিবেশের যেন কোন ক্ষতি না হয়।

Source: Asiful Habib‎ <Travellers Of Bangladesh

4 Apr 2019

ঝকঝকে নীল আকাশ। কর্ণফুলি নদীর পানি আর সবুজ পাহাড়ের ফাঁকে ফাঁকে নৈসর্গিক সৌন্দর্যের অনুভূতি পেতে চাইলে চলে যান রাঙ্গামাটির শুভলং ঝরনায়। নীল আকাশ, ফাঁকে ফাঁকে দুধ সাদা মেঘ। সবুজ পাহাড় আর নীল জলরাশি দেখলে হারিয়ে যেতে চাইবে মন।
ঝরনাটির অবস্থান রাঙ্গামাটি সদর হতে মাত্র ২৫ কিলোমিটার দূরত্বে। বর্ষা মৌসুমে প্রায় ১৪০ ফুট উঁচু পাহাড় থেকে বিপুল জলধারা কাপ্তাই লেকে আছড়ে পড়ে। এছাড়া শুভলং ঝরনা দেখতে যাওয়ার পথের সৌন্দর্য আপনাকে আবেগময় করে তুলতে পারে। দুই পাহাড়ের মধ্য দিয়ে বয়ে যাওয়া লেক দেখে থাইল্যান্ড বলে ভ্রম হতে পারে!

শুভলং ঝরনা
রাঙ্গামাটি জেলার বরকল উপজেলার শিলার পাড়া এলাকায় সবচাইতে বড় ঝরনাটিই হচ্ছে শুভলং ঝরনা।

নির্দেশনা

শুভলং ঝরনা যেতে চাইলে প্রথমেই যেতে হবে রাঙামাটি। ঢাকার ফকিরাপুল মোড় ও সায়দাবাদে রাঙ্গামাটিগামী অসংখ্য বাস কাউন্টার রয়েছে। এছাড়া চট্টগ্রাম শহরের অক্সিজেন মোড় থেকে রাঙ্গামাটিগামী বিভিন্ন পরিবহণের লোকাল ও গেইটলক/ডাইরেক্ট বাস পাওয়া যায়। এরপর রাঙামাটি পৌঁছে চলে যান রিজার্ভ বাজার। সেখান থেকে শুভলং যাবার নৌকা সারাদিনের জন্য ভাড়া করুন। সারাদিনের জন্যে ভাড়া করলে শুভলং ঝরনা ছাড়াও অন্যান্য দর্শনীয় স্থান ঘুরে দেখতে পারবেন। মাঝারি সাইজের একটা নৌকা ১৫০০-২০০০ টাকার মধ্যে ভাড়া করা যায়। ১০-১৫ জন যাওয়া যায় এক নৌকাতে।

শুভলং এলাকায় থাকা ও খাওয়ার জন্য কোনো ভালো ব্যবস্থা নেই। তাই আপনাকে দিনে গিয়ে দিনেই রাঙ্গামাটি ফিরে আসতে হবে। প্রয়োজনে হালকা খাবার সাথে নিয়ে ভ্রমণ করুন। বোট নিয়ে যদি পেডা টিং টিং এ যান তাহলে সেখানে খেতে পারবেন। তবে দাম একটু বেশি!

4 Apr 2019

রঙিন মাস এপ্রিল। এ মাসে বাঙালীর ঘরে ঘরে জেগে ওঠে নতুন ‌‘সূর্য’! ভ্রমণপিপাসুদের কাছেও দিনগুলো বেশ প্রিয়। কারণ এই সময় গন্তব্য অনুযায়ী তুলনামূলক কম খরচে ছুটি কাটানো যায়। সিএনএন সম্প্রতি জানিয়েছে এপ্রিলে ঘুরে বেড়ানোর সেরা চারটি জায়গার কিছু তথ্য, চলুন জেনে নিই-

এপ্রিলে পুরো শহর রঙিন করে দেয় ফুলগুলো

আইফেল টাওয়ার, ফ্রান্স:
ফ্রান্সের সুদৃশ্য নিদর্শন আইফেল টাওয়ার এর কথা তো আমরা সবাই অনেক শুনেছি। বিভিন্ন ফটোগ্রাফে কিংবা সিনেমায় এই অপূর্ব ইমারত বা টাওয়ারটির চোখ ধাঁধানো কারুকাজও দেখেছি। চাইলে এ মাসেই ঘুরে আসতে পারেন জায়গাটি থেকে। কারণ টাওয়ারের আশেপাশে মন রঙিন করে দেওয়া ফুল ফোটে এ মাসে। এপ্রিলের মাঝামাঝি শহরটিতে বৃষ্টির পরিমাণ কমে আবহাওয়া কিছুটা উষ্ণ হতে শুরু করে। তাই শীত-গ্রীষ্ম-বর্ষা তিন ধরনের আবহাওয়ার উপযোগী প্যাকিং করাই উত্তম।

কিয়োটোতে চেরি ফুলের প্রাচুর্য

কিয়োটো, জাপান”:

এপ্রিলে ঘোরার সেরা গন্তব্যের তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে এই শহরটি। কারণ এই ঐতিহাসিক শহরে এপ্রিলের শুরু থেকে মাঝামাঝি পর্যন্ত চেরি ফুলের প্রাচুর্যে হারিয়ে যাওয়া যায়। সুদৃশ্য স্থাপত্যশিল্প, সুস্বাদু জাপানি খাবার ও গেইশা সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত হতে বছরের যেকোনো সময়ে কিয়োটোতে ভ্রমণের জুড়ি নেই। তাই আপনিও কোনো চিন্তা না করেই ঘুরে আসুন।

অস্টিনে এক পর্যটক

অস্টিন ও সান অ্যান্টোনিও, যুক্তরাষ্ট্র:

জায়গা দুটো আমেরিকার টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে অবস্থিত। এখানে গ্রীষ্মকালের আভাস সবার আগে দেখা যায়। এপ্রিলে সেখানে থাকে নাতিশীতোষ্ণ আবহাওয়া। গান-বাজনার জন্য শিল্প-সংস্কৃতিতে সমৃদ্ধ শহর অস্টিন। অন্যদিকে সান অ্যান্টোনিও এলাকায় আমেরিকান ও মেক্সিকান সংস্কৃতির চমৎকার মেলবন্ধন চোখে পড়ে। এ শহরে বেশকিছু মিশনের পাশাপাশি দর্শনীয় স্থানের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ঐতিহাসিক দুর্গ অ্যালামো।

ইম্পেরিয়াল সিটি, মরক্কো

মরক্কো:

এপ্রিলে বেশ উষ্ণ হতে শুরু করে মরক্কো। পাহাড়-পর্বত আর মরুভূমির অসাধারণ সংমিশ্রণে রৌদ্রজ্জ্বল আবহাওয়া প্রত্যাশা করা ভালো সেখানে। এর মধ্যে বৃষ্টি বিরল। তবে রাত থাকে শীতল। দারুণ এই আবহাওয়া উপভোগ করতে হলে আপনাকে যেতে হবে দেশটিতে। ঘুরে বেড়ানোর জন্য দেশটির মারাকেশ শহর পর্যটকদের পছন্দের তালিকায় রয়েছে শীর্ষে। এর প্রাণকেন্দ্রে রয়েছে মূল মার্কেট জেমা এল-ফনা। সেখানে এদিক-ওদিক স্থানীয়দের পথনাটক দেখা যায়। এছাড়া ক্যাসাব্ল্যাঙ্কার ওল্ড মদিনায় যেতে এপ্রিল চমৎকার সময়। শৌখিন ক্রেতাদের কাছে জায়গাটি কার্পেট, স্লিপার আর সিরামিক সামগ্রীর যেন স্বর্গরাজ্য!

Source: https://m.daily-bangladesh.com/

4 Apr 2019

দার্জিলিং থেকে আপনি চাইলেই মাত্র ১০-১২ হাজার টাকায় ঘুরে আসতে পারেন। কি অবাক হচ্ছেন? চলুন তাহলে দেখে নেওয়া যাক খরচের পরিমানটা।

ঢাকা থেকে চ্যাংড়াবান্ধা সীমান্তে এসি বাসে ভাড়া সর্বোচ্চ ১০০০ টাকা নিবে। আর যদি সরাসরি শিলিগুড়ি যেতে চান তাহলে ১৮০০ টাকা নিবে। তবে শিলিগুড়ি সরাসরি না যাওয়াই ভাল। কারন চ্যাংড়াবান্ধা পোর্ট থেকে শিলিগুড়ি যেতে বাসে মূলত লাগে মাত্র ৭০-৮০ টাকা। রিজার্ভ গাড়িতে গেলে ৩০০ টাকার মত লাগে। তাই অহেতুক ৫০০-৬০০ টাকা বাড়তি খরচের কোন মানেই হয় না। আর হ্যা বর্ডারে ট্যাক>্সবাবদ বাড়তি ১৭০০ টাকার মত নেয়। এটাই সবাইকে দিতে হয়। শিলিগুড়ি পর্যন্ত খরচ পরবে সর্বোচ্চ ৩৫০০ টাকা।

এরপর শিলিগুড়ি প্রধান বাস স্টপেজ তেনজিং নোরগে বাস টার্মিনালে থেকে অনেক জিপ গাড়ি দেখবেন দার্জিলিং যাবার জন্য ডাকাডাকি করছে। সেখান থেকে জনপ্রতি ১৫০ টাকা ভাড়া দিয়ে ৩ ঘন্টা যেতে লাগবে দার্জিলিং এ।

এরপর দার্জিলিং এ গিয়ে আপনি ১০০০-১২০০ টাকার মধ্যে অনেক হাইফাই হোটেলই পাবেন। যেখানে একেক রুমে ৩ জন অনায়াসে থাকতে পারবেন। দার্জিলিং পুরো ঘুড়তে আপনার সর্বোচ্চ ৩ রাত ৪ দিনের মতো লাগবে।

এবার আসেন ঘুরতে যাওয়া। যদি একা বা ২-১ জন যান তাহলে আমি অবশ্যই বলবো শেয়ারে দর্শনীয় স্থান গুলিতে যান। দার্জিলিং এ ৩ টি প্রধান স্পট আছ, একটা হলো টাইগারহিল+বাতাসিলুপ, ২য় টা সেভেন পয়েন্ট(যেখানে ৭ টা দর্শনীয় স্থান আছে) বাকিটা হচ্ছে রক গার্ডেন। যদি শেয়ারে যান তাহলে প্রত্যেক স্থানে গেলে ২০০ টাকা করে পড়বে জনপ্রতি। অর্থ্যাৎ ৩ টা স্থান সহ পুরো দার্জিলিং মাত্র ৬০০ টাকা দিয়েই আপনি ঘুরে আসতে পারবেন। শেয়ারে গাড়ি যদি খুজে না পান তাহলে একটা হোটেলের নাম বলছি, সেটা ‘সোনার বাংলা’ নামের একটা হোটেল আছে দার্জিলিং বড় মসজিদের সামনে। বড় মসজিদের ওখানে গিয়ে যে কারো কাছে জিজ্ঞাস করলে দেখিয়ে দিবে। পরে হোটেলের লোকজন আপনাকে সময় বলে দিবে কখন কয়টার সময় গাড়ি যাবে। আপনি শুধু কনফার্ম করে আসবেন। আর গ্রুপভিত্তিক রিজার্ভ গাড়ি নিয়ে গেলে অন্য হিসাব। কয়জন যাবেন তার উপর নির্ভর করবে কার কত ভাড়া পড়লো। রিজার্ভে প্রত্যেক স্থানে গেলে গড়ে ১৫০০ টাকার মত লাগবে। ৬-৭ জন গেলে মাথাপিছু প্রত্যেক স্থানে ২০০-২৫০ মতই লাগে।

এবার আসি খাওয়ার খরচের কথা। খাবার দাবারের দাম এখানে খুব সস্তা। আপনি দার্জিলিং বড় মসজিদের ওইখানে কয়েকটা হালাল/ মুসলিম হোটেল আছে (ওই সোনার বাংলা হোটেলের পাশেই) ওখান থেকে খেতে পারবেন বা অন্য কোথা থেকেও খাওয়া দাওয়া করতে পারবেন। ৪ দিন থাকলে আপনার খাবার খরচ সর্বোচ্চ ২০০০ টাকার মত পড়বে।

৩ রাত ৪ দিন থাকার পর আপনি বাংলাদেশের উদ্দেশ্য রওনা দিবেন দার্জিলিং বাসস্ট্যান্ড থেকে জিপ গাড়িতে ১৫০ টাকা করে শিলিগুড়ি আসবেন। সেখান থেকে আবার ৭০-৮০ দিয়ে চ্যাংড়াবান্ধা বর্ডারে চলে আসলেন। এখন আর বর্ডারে বাড়তি কোন খরচ দিতে হবে না। ১০০০ টাকা র টিকেট করে রাতের ট্রিপে সকালে ঢাকা চলে আসলেন।

হিসাব করে দেখুন ১০ হাজার টাকার ১ টাকাও বেশি পড়বে না। তবুও আমি বাড়িতি ২০০০ টাকা বেশি নিতে বলেছি। তবে ৫-৭ জনের গ্রুপে গেলে আরও খরচ কম।
আর বাড়তি কেও যদি কেনাকাটা, শপিং বা পরিবারের জন্য কিছু নিতে চান তাহলে সেটার হিসেব আলাদা।

উপরে যা বলেছিলো আমি ব্যাক্তিগত ভাবে গত বছরের সেপ্টেম্বরে যখন দার্জিলিং গিয়েছিলাম ঠিক এমনটাই করেছিলাম।

Source: Shahriar Alam Pias < Travelers Of Bangladesh (TOB)