Monthly Archives

April 2019

30 Apr 2019

মালয়েশিয়ার ফেডারেল সরকারের রাজধানী হিসেবে কুয়ালা লামপুরের জায়গায় পুত্রজায়াকে বেছে নেয়া হয় সেই দেশের অর্থনীতি দ্রুত চাঙ্গা হয়ে ওঠার পর। কুয়ালা লামপুরের ঠিক বাইরেই পুত্রজায়া অবস্থিত এবং এর নামকরণ হয়েছে মালয়েশিয়ার প্রথম প্রধানমন্ত্রী টুঙ্কু আবদুর রহমান পুত্রা এর নামানুসারে। পুত্রজায়াকে এখন প্রাথমিকভাবে মালয়েশিয়ার প্রথম ইন্টেলিজেন্ট গার্ডেন সিটি নামে অভিহিত করা হয় এর স্থাপত্য শিল্পের কারণে। মালয়েশিয়াতে হাজারও পর্যটক প্রতি বছর ঘুরতে যায় এবং পুত্রাজায়ার সৌন্দর্য তাদের মুগ্ধ করে। আজ পুত্রাজায়ার সব বিখ্যাত স্থান গুলোর গল্পই শুনাব।

পুত্রা মসজিদ:

মসজিদ পুত্রা হিসেবেই মসজিদটি অধিক পরিচিত। শহরের এই প্রধান মসজিদের নির্মাণ কাজ ১৯৯৯ সালে শেষ হয়। এটা পারদানা পুত্রা এবং পুত্রাজায়া হ্রদের পাশেই অবস্থিত। রাতে এখানে জ্বালান হয় অসাধারণ বাতি যা এই মসজিদটির সৌন্দর্য বহুগুণে বাড়িয়ে দেয়।

আলামান্ডা পুত্রজায়া:

কোন শহরই সম্পূর্ণ হতে পারে না যদি না সেখানে বিশ্ব মানের শপিং মল না থাকলে। আলামান্ডা পুত্রাজায়া শপিং কমপ্লেক্স শহরে নির্মিত প্রথম শপিং কমপ্লেক্স যেখানে আছে বিভিন্ন ধরনের দোকানপাট, রেস্তোরাঁ, বৌল খেলার পথ, মুভি থিয়েটার এবং একখানি ফুড কোর্ট।

“পুত্রাজায়া – আলামান্ডা”

মিলেনিয়াম মনুমেন্ট:

মালয়েশিয়ার পুত্রজায়ায় অবস্থিত মিলেনিয়াম মনুমেন্ট ঠিক ওয়াশিংটন ডিসির ওয়াশিংটন মনুমেন্টের আদলে তৈরি করা হয়েছে। পুত্রজায়ার জাতীয় মনুমেন্ট হিসেবে বিবেচিত এই মনুমেন্ট একটা ধাতুনির্মিত চতুষ্কোণ স্মৃতিস্তম্ভ। ধাতব প্লেটে চিত্রাঙ্কন করা শ্রীমণ্ডিত এই স্মৃতিস্তম্ভ মালয়েশিয়ার জাতীয় ইতিহাস ও মূহুর্তের ছবি শোভিত রয়েছে।

পুত্রা সেতু:
শহরের অন্যতম প্রধান পুত্রা সেতু ইরানের খাজু সেতুর অনুকরণে তৈরি করা হয়েছে। ৪৩৫ মিটার দীর্ঘ পুত্রা ব্রিজ সরকারের সাথে মিশ্র উন্নত শহর উপকণ্ঠকে যুক্ত করেছে সেইসাথে যুক্ত করেছে পুত্রা স্কোয়ার ও শহরের প্রধান সড়ককে। তিনটি স্তরে এই সেতু নির্মিত হয়েছে। একটিতে মনোরেল, একটিতে যানবাহন ও অন্যটিতে পথচারীরা চলাচল করে।

পুত্রাজায়া হ্রদ:

৬৫০ হেক্টরের জায়গা জুড়ে এই মনুষ্যনির্মিত হ্রদটি নগরীকে ঠাণ্ডা রাখার উদ্দেশ্যে নির্মিত হয়। এটা এখন বিভিন্ন জলক্রীড়ার অন্যতম প্রধান একটি জায়গায় পরিণত হয়েছে। এখানে বোট চ্যাম্পিয়নশিপ এবং এশিয়ান ডিঙি নৌকা বাইচ চ্যাম্পিয়নশিপ প্রতিযোগিতা আয়োজন করা হয়।

স্বাধীনতা স্কয়ার:

পুত্রাজায়া শহরে একটি ঐতিহাসিক নিদর্শন হল স্বাধীনতা স্কয়ার। এই শহর স্কোয়ার পারদানা পুত্রার পরেই অবস্থিত। বিভিন্ন ছুটির দিন গুলোতে এখানে আনন্দ উৎসব আয়োজনের সাথে সাথে বিভিন্ন দিবসে প্যারেডের আয়োজনও থাকে।

হিবিস্কাস গার্ডেন :

হিবিস্কাস গার্ডেন মালয়েশিয়া দেশটির জাতীয় ফুলের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে তৈরি করা হয়েছে। এখানে আপনি ২,০০০ বিভিন্ন জাতের হিবিস্কাস পুষ্পগাছ পাবেন। প্রকৃতির অসাধারণ বৈচিত্র্যে হারিয়ে যাবার জন্য এটি যেন এক আদর্শ জায়গা।

Source: https://travelbd.xyz/%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%B2%E0%A7%9F%E0%A7%87%E0%A6%B6%E0%A6%BF%E0%A7%9F%E0%A6%BE-%E0%A6%AD%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%AE%E0%A6%A3-%E0%A6%AA%E0%A7%81%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%9C%E0%A6%BE%E0%A7%9F/

30 Apr 2019

বৈশাখের ভিমরুলীঃ

ভিমরুলী বাজার ভাসমান পেয়ারা বাজারের জন্য বিখাত। অগাস্ট-সেপ্টম্বর মাসে পেয়ারা মৌসুমে এখানে প্রচুর পর্যটক ঘুরতে আসে।
সে সময়কার ভিমরুলীর রুপ আমরা মোটামোটি সবাই জানি। একটা কাজে বরিশাল যেতে হবে বিধায় ভাবলাম বৈশাখে কেমন অবস্থা থাকে তা দেখে আসি।

ঝালকাঠি নেমে অটোতে কীর্ত্তিপাশা বাজার। সেখান থেকে আরেক অটোতে করে ভিমরুলী বাজার। ভিমরুলীতে নেমে আমি অবাক। গ্রীষ্মের প্রতাপে ভিমরুলীকে চেনাই যাচ্ছে না।

খালে তেমন পানি নেই। তেমন কোন বাজারও নেই। দুপুর ১১টার সময় কেমন স্তব্ধ, নিরব চারিদিক। এক দোকানে গিয়ে জিজ্ঞাসা করলাম, এটাই কি ভিমরুলী বাজার? লোকটা আমার দিকে তাকিয়ে বললো, জ্বি।

কিছু সময় এদিক-ওদিক ঘুরে চলে গেলাম জমিদার বাড়ি।

কীর্ত্তিপাশা জমিদার বাড়িঃ

কীর্ত্তিপাশা জমিদার যেতে ভিমরুলী থেকে অটোতে উঠলাম। জমিদার বাড়ি এখন স্কুল হিসেবে ব্যবহৃত হয়। শুক্রবার হওয়ায় কোন মানুষ নেই। অজানা কোন কারনে বাড়ি প্রাঙ্গণে ঢুকেই গা ছমছম করছিলো। ভয়ে ভয়ে পুরো চারপাশ ঘুরে দেখলেও ভিতরে বা ছাদে যাওয়ার সাহস হলো না। বাইরে থেকেই কয়েকটা ছবি তুলে বাজারে চলে আসলাম।

কীর্ত্তিপাশা জমিদার বাড়ির ইতিহাস সম্পর্কে কিছুটা জানা যাক, (বাংলা উইকিপিডিয়া থেকে)

“কীর্ত্তিপাশা জমিদার বাড়ি প্রতিষ্ঠিত হয় প্রায় একশতক বছর আগে। বিক্রমপুর জমিদারের বংশধরের কিছু অংশ প্রায় ১৯ শতকের শেষ সময়ে ঝালকাঠি জেলার কীর্ত্তিপাশা জমিদার বাড়িটি প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯ শতকের প্রথম দিকে বিক্রমপুর জমিদার বংশের রাজা রাম সেনগুপ্ত এই কীর্ত্তিপাশা গ্রামে আসেন। এখানে তিনি তার দুই ছেলের জন্য দুইটি বাড়ি নির্মাণ করেন। বড় ছেলের জন্য পূর্ব বাড়ি যা ছিল ১০ আনা বড় হিস্যা জমিদার বাড়ি নামে পরিচিত। আর ছোট ছেলের জন্য পূর্ব বাড়ি যা ৬ আনা ছোট হিস্যা জমিদার বাড়ি নামে পরিচিত ছিল। ছোট ছেলের জমিদার বাড়ি অনেক আগেই ধ্বংস হয়ে গেছে। আর বড় ছেলের জমিদার বাড়ির কিছু অংশ টিকে আছে। এই জমিদার বাড়ির জমিদারপুত্রকে বিষ খাইয়ে হত্যা করা হয়। এবং তার স্ত্রীও তার সাথে মৃত্যুবরণ করেন। পরে তাদেরকে একসাথে সমাধি করা হয়। এখানে এখনো একটি নাট মন্দির, হল ঘর, ছোট ও বড় মন্দির আছে। এই জমিদার বংশের দুজন বিখ্যাত ব্যক্তি হচ্ছেন রোহিনী রায় চৌধুরী ও তপন রায় চৌধুরী।”

গাবখান সেতু দর্শনঃ

গাবখান সেতু সম্পর্কে প্রথম জানতে পারি রকেট স্টীমার লঞ্চ জার্নি নিয়ে বিস্তারিত পড়ার সময়। পিরোজপুরের সন্ধ্যা ও ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীকে সংযোগ করেছে ১৮ কিলোমিটার দৈর্ঘের গাবখান চ্যানেল। বলা হয়ে থাকে, গাবখান চ্যানেল দেশের অন্যতম সুন্দর নৌরুট। সেই লোভ থেকেই সেতু দেখার শখ জাগে। সেতু নিয়ে তাই নেটে আরো ঘাটাঘাটি করে জানতে পারি, সেতুটি অনেক উঁচু এবং সেতুর উপর থেকে অনেক দূর পর্যন্ত দেখা যায়।

অটোতে করে সেতুতে উঠার সময়ই টের পেলাম আসলেই অনেক উঁচু। বেশ অনেক সময় ধরে উপরে উঠতে হলো। সেতুর পাশে থাকা বিশাল সব রেইন ট্রি (কড়ই গাছ) একসময় সেতুর উচ্চতার কাছে হার মানলো। সেতু ভালোভাবে দেখার জন্য সেতু পার হয়ে অটো থেকে নেমে পড়লাম, হাঁটা দিলাম সেতুর দিকে।

পায়ে হেঁটে চারপাশ দেখতে দেখতে উঠছিলাম আর অবাক হচ্ছিলাম। দেশের বিভিন্ন জায়গায় কত লুকানো সৌন্দর্য আছে অথচ আমরা তার কিছুই জানি না। ব্রিজে দাঁড়িয়ে জাহাজ ও নৌকার চলাচল দেখলাম। অত উঁচু থেকে দেখতেও বেশ লাগছিলো। ছবি তুলে, ভিডিও করে বাসে উঠতে ব্রিজের এইপাড়ে চলে আসলাম।

যানবাহন নিয়ে ব্রিজে উঠতে টোল দিতে হয়। কয়েকটি ছেলে রাস্তায় দাঁড়িয়ে যানবাহন থামিয়ে টোল আদায় করছে। অনেকেই টোল না দিয়ে চলে যাচ্ছে। টোল তোলার কাহিনী দেখতে দেখতে বরিশালগামী বিআরটিসি বাস চলে আসলো। ঝালকাঠি জেলা ঘোরার সমাপ্তি টেনে চললাম বরিশালে।

যাতায়াতের উপায়ঃ

দেশের যেকোন স্থান থেকে বরিশাল বা ঝালকাঠি। ঝালকাঠি বাসস্ট্যান্ড থেকে কীর্ত্তিপাশা জমিদার বাড়ি/ভিমরুলী বাজার/গাবখান সেতু যাওয়ার অটো পাওয়া যায়। না পেলে লোকাল অটোতে করে কলেজ মোড় চলে যাবেন। সেখান থেকে অটো পাবেন।

বি.দ্র.
১।স্থানীয়দের সাথে এমন কোন আচরন করবো না যেন তারা পরবর্তীতে কোন ট্যুরিস্ট/ট্রাভেলার দেখতে বিরক্ত হয়।
২।লঞ্চে যে ময়লা জমবে চেষ্টা করবেন নিজের কোন পলিথিন বা ব্যাগে জমা রাখতে। লঞ্চের ডাস্টবিনে ফেললে সেগুলো দিনের বেলা নদীতেই ফেলা হয়।

Source: Samiul Hasan Himel‎ <Travelers of Bangladesh (ToB)

30 Apr 2019

ভারত মানেই শত সহস্র বিস্ময়ে পরিপূর্ণ এক দেশ। অনেক ভ্রমণকারীর মত পুরো ভারত ভ্রমণ হয়ে গেলে গোটা বিশ্ব ভ্রমণের স্বাদ পাওয়া যায়। ভারত ভৌগলিক দিক থেকেই বিশাল এক দেশ। এটি আকারে যেমনি বিশাল তেমনি আচারে অনুষ্ঠানে এবং হাজারও বিভিন্নতার মিশেলও ঘটেছে দেশটিতে। পৃথিবীর অন্যতম সাংস্কৃতিক ভাবে সমৃদ্ধ এই দেশটিতে বহু সংস্কৃতির মিলন দেখতে পাওয়া যায়। এখানে প্রতিটি রাজ্যের মানুষের আচার ব্যবহার আলাদা। ভারতের এমনি সেরা সাত সাংস্কৃতিক জায়গা নিয়েই আজকের আয়োজন।

১.ভুবনেশ্বর এবং পুরী

আকর্ষণীয় সব মন্দিরের জন্য ভারতের অন্যতম বিখ্যাত জায়গা হল ভুবনেশ্বর। এখানে রয়েছে প্রায় ৭০০ এর অধিক মন্দির। একাদশ শতকের লিঙ্গরাজ মন্দির, দশম শতাব্দীর মুক্তেশ্বর মন্দির এখানকার সবচাইতে চমৎকার মন্দির, এবং কোন মন্দিরবিহীন অনবদ্য রাজারানি মন্দির। এছাড়াও পুরীর সমুদ্রের ধারে রয়েছে জগন্নাথ দেবের মন্দির। এখানে আয়োজিত রথযাত্রা পুরো ভারত জুড়ে বিখ্যাত। তবে সবচেয়ে নিখুঁতভাবে খোদাই করা মন্দিরটি হল কোণার্ক মন্দির। একটি বিশাল রথের আকারে তৈরি এই মন্দিরটি ইউনেস্কোর ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইটের অন্তর্ভুক্ত।

২. ভোপাল

ভোপাল ভারতের এক বিখ্যাত এলাকা। ব্যস্ত পুরোনো বাজার এবং সুন্দর মসজিদের পুরোনো ভোপাল শহর আপনাকে মুঘলদের সময়ে নিয়ে যাবে। মুঘলরা এখানে তৈরি করেছে অসাধারণ সব নিদর্শন। এখানকার গুরুত্বপূর্ণ একটু মসজিদ হল মোতি মসজিদ, যেটি স্থাপত্যের দিক দিয়ে দিল্লীর জামা মসজিদের অনুরূপ। যেটি মূল শহর থেকে ৪০ কিলোমিটার বাইরে ভীমবেটকা এলাকায় অবস্থিত। প্রাচীন রক শেলটার এবং পেণ্টিং এর জন্য বিখ্যাত এটি একটি বিখ্যাত প্রত্নতাত্ত্বিক সাইট।

৩. ফোর্ট কোচি

‘গড’স ওন কান্ট্রি অফ কেরালা।’ – প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে পরিপূর্ণ ভারতের এই শহরটি নিয়ে বিখ্যাত একটি লাইন এটি। শহরের ব্যাকওয়াটার থেকে শুরু করে পুরোনো বীচ সর্বত্র অসাধারণতা দেখতে পাওয়া যায়। তবে এখানকার সেরা জায়গাটি হল কোচি দুর্গ। পর্তুগীজ ধাঁচে গড়ে উঠা এই শহরটিতে আপনি সহজেই ঘুরে ঘুরে দেখে নিতে পারবেন সব কিছু। গতানুগতিক ধারার বাইরের শহর বলে এখানে সব কিছুই ভ্রমণ প্রেমীদের আনন্দ দেবে।

“সাংস্কৃতিক দিক থেকে সমৃদ্ধ ভারতের ৭ টি শহর”

৪. মাইশোর

প্রাসাদের শহর বলেই ভারত জুড়ে পরিচিতি রয়েছে মাইশোরের। মাইশোরের দুটি গর্বের বিষয় হল কারুকার্যখচিত মাইসোর প্যালেস, যেখানে রয়েছে একটি আকর্ষণীয় মিউজিয়াম। যেটু সন্ধেবেলা হাজার হাজার আলোর রশনীতে এক অদ্ভুত সৌন্দর্য উপস্থাপন করে। আর অন্যটি হল বিখ্যাত জগমোহন প্যালেস। যদিও এটিকে এখন একটি আর্ট গ্যালারি বানিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই শহরে আরও পাঁচটি অসাধারণ প্যালেস, অনেক গুলো লেক, গার্ডেন এবং মন্দির রয়েছে।

৫. কোলকাতা

ভারতে এমন কোন শহর যদি থেকে থাকে যাকে এক কথায় গ্র্যান্ড ডেম বলা যায় তাহলে সেটি হল কোলকাতা। কোলকাতার অতীত জানতে হলে ঘুরতে হবে ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল, সেন্ট. পল’স ক্যাথ্রিডাল এবং গ্রীক ও রোমান স্থাপত্যের মেলবন্ধনের নিদর্শন রাইটার’স বিল্ডিং। কলকাতার চন্দন নগরের প্রাচীন ফরাসী কলোনিতে রয়েছে প্রচুর সুন্দর সুন্দর বাড়ি, মনুমেন্ট এবং নদীতীরবর্তী স্ট্যান্ড।

৬. জয়পুর

গোলাপী শহর বলে খ্যাত জয়পুর অসাধারণ সমস্ত প্যালেস এবং মনুমেন্টে ভরপুর। শহরের বাইরে প্রাত ১১ কিলোমিটার দূরে বিশালাকার আম্বর ফোর্ট এখানকার একটি মূল আকর্ষণ। বিশেষ করে এর সুসজ্জিত প্রবেশ-তোরণ, জটিল জাফরির কাজ এবং বিশাল শীষ মহলের জন্য এটি প্রশংসিত। এছাড়াও হাওয়া মহল, সিটি প্যালেস, নানান বাজার পায়ে হেঁটে ঘুরে দেখতে পারবেন। এই শহরটি ব্লক প্রিন্টিং ইন্ডাস্ট্রি এবং রঙ-বেরঙের বন্ধনীর কাজের জন্য বিখ্যাত।

৭. উদয়পুর

রোমান্টিক লেকের শহর উদয়পুর সবচেয়ে ভালভাবে দেখা যায় লেক পিচোলাতে নৌকায় চড়ে। এই সৌন্দর্যের ওপর আরও সংযোজন হল সিটি প্যালেস কমপ্লেক্স এবং লেকের মাঝে অবস্থিত অসাধারণ জগ মন্দির। লেকের পাশে গঙ্গার ঘাটের বগোড়ী প্যালেসও অসাধারণ। সন্ধ্যাবেলা এখানে লোকনৃত্য পরিবেশিত হয়। উদয়পুর থেকে হিল স্টেশন মাউন্ট আবু একদিনে ঘুরে আসতে পারবেন, এখানে দেখতে পাবেন দিলওয়ারা টেম্পলের মার্বেল পাথরের অদ্ভুত সূক্ষ্ম খোদাইকার্য।
source: https://travelbd.xyz/বিশ্ব-ভ্রমণ-ভারতের-সাংস্/

29 Apr 2019

একখণ্ড স্বর্গ হিসেবে পরিচিত চায়ের দেশ শ্রীমঙ্গলের অপার নিসর্গে মন্ত্রমুগ্ধ হন প্রায় সকল পর্যটকই। পাহাড়ের কোলে ঘুমিয়ে থাকা চা বাগান, বিস্তীর্ণ হাওড়ের জলরাশি, অবারিত সবুজ বনানী এখানে সৃষ্টি করেছে অপরূপ সৌন্দর্যের এক উপাখ্যান। তাই প্রকৃতি প্রেমী ও ভ্রমণ পিপাসুদের অন্যতম একটি প্রিয় গন্তব্য হয়ে উঠেছে শ্রীমঙ্গল। এখানে উপভোগ করার মত অনেকগুলো চমৎকার স্থান রয়েছে। শ্রীমঙ্গলের চা বাগান, বাইক্কা বিল, লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, মাধবপুর লেক হয়ত অনেকেই ঘুরে এসেছেন। এবার দেখে আসুন অপূর্ব সৌন্দর্যের স্বর্ণালী ছড়া। প্রাকৃতিক নিসর্গের এই ছড়াটি তার অপার সৌন্দর্যে মুগ্ধ করছে পর্যটকদের।

রাধানগর থেকে প্রায় আধা কিলোমিটার সামনে গেলেই ছোট্ট একটি ব্রিজের নিচে স্বর্ণালী ছড়ার অবস্থান। অত্যন্ত মনোমুগ্ধকর এই জায়গাটি যে কাউকেই বিমোহিত করবে। ব্রিজের নিচ দিয়ে প্রবাহিত হওয়া এই ছড়াটির পাথরের উপড়ে সোনালি আঁশ পড়ে উজ্জ্বল হয়ে অপূর্ব সৌন্দর্যের সৃষ্টি হয়েছে এখানে। এই সোনালী আবরণের কারণেই মূলত এই ছড়াটি স্থানীয় ভাবে “স্বর্নালী ছড়া” নামে পরিচিতি লাভ করেছে। ছড়ার মধ্য দিয়ে আবার একটি ছোট্ট নালা প্রবাহিত রয়েছে। একটু উঁচু থেকে নিচে স্বচ্ছ পানি পড়ার শব্দ আপনাকে দেবে অপার আনন্দ।

ছড়া দিয়ে সামান্য হেঁটে সামনের দিকে এগিয়ে গেলে দেখা মিলবে বাঁশ বাগানের। এর পাশে রয়েছে বিভিন্ন ধরণের গাছপালা। স্বচ্ছ সাদা পানির নিচে দেখা যাবে সোনালী সৌন্দর্য। পানির শোঁ শোঁ শব্দে মনে যেনো কোনো বিশাল সোনালী বর্ণের ঝর্ণার পাশে দাঁড়িয়ে আছেন আপনি। খণ্ড খণ্ড গর্তের উপর থেকে নিচে পানি পড়ছে অবিরাম ধারায় যা দেখে মুগ্ধ হবেনই। ছড়া দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে সামনের দিকে এগোতে থাকলে দেখতে পাবেন সোনালী আঁশযুক্ত পাথর। এসব পাথরের মাঝে উঁচু থেকে নিচুতে প্রবেশ করলে যে সৌন্দর্য দেখতে পাবেন তা সত্যিই অপরূপ।

ছড়ার দু পাশে রয়েছে হরেক রকমের নাম না জানা বিভিন্ন বন্য ফুলের ঝোপ। ছড়ার দু’পাশে বাঁশের ঝাড় থাকায় ঝিঁ ঝিঁ পোকার আওয়াজ শুনে মনে হবে প্রকৃতির অপার আদিরূপ আপনার একদম সান্নিধ্যে। আরও সামনে এগিয়ে গেলে চোখে পড়বে বাঁশের তৈরি সাঁকো। প্রাকৃতিক নিসর্গের মনোরম এই স্থানটি দেখতে অনেক দর্শনার্থীর আগমন ঘটে এখানে।

যেভাবে যাবেন:

ঢাকা থেকে সড়ক ও রেল পথে সরাসরি শ্রীমঙ্গল যাওয়া যায়। ঢাকার ফকিরাপুল ও সায়দাবাদ থেকে হানিফ এন্টারপ্রাইজ, শ্যামলী পরিবহন, এনা পরিবহন, সিলেট পরিবহন ইত্যাদি পরিবহনের নন এসি বাস ছাড়ে শ্রীমঙ্গলের উদ্দেশে। ভাড়া পড়বে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা। এছাড়া কমলাপুর স্টেশন থেকে আন্তঃনগর ট্রেন পারাবত এক্সপ্রেস, জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস, ও উপবন এক্সপ্রেস এ চড়েও যেতে পারেন শ্রীমঙ্গল।
শ্রীমঙ্গল শহর থেকে অটোরিকশা কিংবা সিএনজিতে চড়ে পৌঁছাতে পারবেন রাধানগরে।

কোথায় থাকবেন:

শ্রীমঙ্গলে থাকার জন্য সবচেয়ে ভাল মানের জায়গা ভানুগাছ সড়কে টি-রিসোর্ট। এছাড়াও রয়েছে হোটেল গ্র্যান্ড সুলতান (পাঁচ তারকা), রেইন ফরেস্ট রিসোর্ট, টি টাউন রেস্ট হাউজ, হোটেল প্লাজা ইত্যাদি। এসব হোটেল ও রিসোর্টের ভাড়া পড়বে ৫’শ টাকা থেকে ৫ হাজার ৫’শ টাকা।
এছাড়া রাধানগরে চমৎকার দুটি রিসোর্ট হল নিসর্গ নীরব ইকো রিসোর্ট ও নিসর্গ লিচিবাড়ি ইকো রিসোর্ট।

এছাড়াও সাধারণ মানের কিছু হোটেল রয়েছে, চাইলে সেগুলোতেও থাকতে পারেন। খরচ পড়বে ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা।

29 Apr 2019

আমাদের দেশের অনাবিল গ্রাম-বাংলার সৌন্দর্যে দিগন্তজোড়া দীঘি এক অন্যতম অনুষঙ্গ। চিরায়ত বাংলার রূপে সৌন্দর্যের ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে সুবিশাল দিঘিগুলো। এই বাংলায় যেমন রয়েছে অনবদ্য প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের ভাণ্ডার আর প্রাচীন স্থাপনা তেমনি সেগুলোকে ঘিরে রয়েছে অসংখ্য উপকথা, লোককথা ও কল্পকাহিনী। তেমনি বিভিন্ন জেলার দিঘিগুলোকেও ঘিরে প্রচলিত আছে নানান লোককথা ও কল্পকাহিনী। আর দিঘিগুলোর সৌন্দর্যও দারুণ নজরকাড়া। অপরূপ সৌন্দর্যের এই দিঘিগুলোর শীতল জলে মন-প্রাণ জুড়াতে কার না ভাল লাগে। তেমনি একটি ঐতিহাসিক দিঘী নওগাঁর দিবর দিঘী। অপার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আর পুরাকীর্তির নিদর্শনে ঘেরা এই দিঘীটি দেখে আসতে ভুলবেন না।

নওগাঁ জেলার পত্নীতলা উপজেলা থেকে ১৬ কি.মি. পশ্চিমে সাপাহার-নওগাঁ সড়কের পাশেই ঐতিহাসিক দিবর দীঘি অবস্থিত। দিবর দীঘির ঐতিহাসিক পটভূমি ছাড়াও রয়েছে অপার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। দীঘির মূল ঘাটে প্রবেশ করার সময় দু’পাশে উইপিং দেবদারু গাছ দিয়ে ঘেরা রাস্তা আপনাকে স্বাগত জানাবে। দীঘির পাড়ে কয়েকশ’ একর জায়গা জুড়ে রয়েছে দেশী-বিদেশী বিভিন্ন গাছের সমন্বয়ে সামাজিক বনায়ন প্রকল্প এবং দীঘির পশ্চিম পাড়ে বিশাল আম-কাঁঠালের বাগান। দীঘিটিকে ঘিরে লোকমুখে অনেক গল্প কাহিনী, কাল্পনিক গল্প-কথা প্রচলিত। এই দিঘীর মাঝখানে রয়েছে আশ্চর্যজনক ভাবে স্থাপিত অখণ্ড গ্রানাইট পাথরের স্তম্ভ। সুদূর অতীতের বাঙ্গালীর শৌর্যবীর্যের সাক্ষ্য বহন করছে আজও। অর্ধ বর্গ বিঘা দীঘির মধ্যখানে অবস্থিত আট কোণাবিশিষ্ট গ্রানাইট পাথরে নির্মিত এতবড় স্তম্ভ বাংলাদেশে বিরল। এটিকে জয়স্তম্ভ নামে ডাকা হয়। সকলের কাছেই ওই দীঘিটি কর্মকারের জলাশয় নামে পরিচিত। স্তম্ভটির সর্বমোট উচ্চতা ৩১ ফুট ৮ ইঞ্চি। পানির নিচের অংশ ৬ ফুট ৩ ইঞ্চি এবং পানির উপরের অংশ ২৫ ফুট ৫ ইঞ্চি। স্তম্ভটির ব্যাস ১০ ফুট ৪ ইঞ্চি। প্রতিটি কোণের পরিধি ১ ফুট সাড়ে ৩ ইঞ্চি। স্তম্ভের উপরিভাগ খাঁজকাটা অলঙ্করণ দ্বারা সুশোভিত। বৃটিশ প্রত্নতাত্ত্বিক স্যার আলেকজান্ডার ক্যানিং হামের মতে, একাংশ শতাব্দীর কৈর্বত্য রাজা দিব্যকের ভ্রাতা রুদ্রকের পুত্র প্রখ্যাত নৃপতি ভীমের কীর্তি এটি। ধারণা করা হয়, তার শাসনামলে পাল বংশকে পরাজিত করে বিজয় অর্জনের স্মৃতি চিহ্ন হিসাবে দীঘির মাঝখানে এই জয়স্তম্ভ স্থাপন করা হয়। এটি একটি অখণ্ড পাথর কেটে তৈরি করা হয়েছে। স্তম্ভের চারটি কোন থাকার পাশাপাশি এই বিরাট স্তম্ভের উপরিভাগে পরপর তিনটি রেখা রয়েছে যা স্তম্ভটির সৌন্দর্য বৃদ্ধি করেছে। স্তম্ভটির শীর্ষে রয়েছে নান্দনিক কারু-কার্য যা রাজার স্মৃতিকে আজও ধারণ করে রেখেছে।

দীঘির পশ্চিম দিক থেকে দক্ষিণ দিকে রয়েছে দীর্ঘ খাঁড়ি। বর্ষার সময় বনের ভেতর দিয়ে খাঁড়ির প্রবাহ আপনাকে সুন্দরবনের কথা মনে করিয়ে দেবে। এই খাঁড়ি বিভিন্ন এলাকা ঘুরে আত্রাই নদীতে মিশেছে। এখানকার প্রধান আকর্ষণ হচ্ছে বরেন্দ্র অঞ্চলের বিশেষ ভূমিরূপ। যা দেখতে হলে আপনাকে বরেন্দ্র এলাকা ঘুরতেই হবে। দীঘির জলাশয় থেকে উপরের দিকে গ্যালারির মতো হয়ে ওঠে যাওয়া ভূমি সত্যিই অপরূপ। বর্ষাকালে দিবর দীঘি এলাকা এক ভিন্ন রূপ ধারণ করে। সে সময় এলাকাজুড়ে ধান চাষ করা হয়। উঁচু-নিচু ঢেউ খেলানো ধানক্ষেতে সবুজের সমারোহ দেখে আপনার প্রাণ ও চোখ দুটোই জুড়াবে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও ঐতিহাসিক নিদর্শন দুটোই মন ভরিয়ে তুলবে আপনার।

যেভাবে যাবেন:

ঢাকা থেকে হানিফ এন্টারপ্রাইজ, আল নাফি ইত্যাদি বাস নওগাঁর উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। এসব বাসে করে সাপাহার এসে ভ্যান বা রিকশাযোগে দিবর দীঘি যেতে পারেন। ভাড়া নিবে ১০ টাকা। এছাড়া বাস টার্মিনাল থেকে সাপাহারের বাসে করে দিবর দীঘি নামতে পারেন। বাসে সময় লাগবে দেড় থেকে দুই ঘণ্টা।

যেখানে থাকবেন:

সাপাহারে থাকার জন্য কিছু আবাসিক হোটেল আছে। তাছাড়া চাইলে নওগাঁ সদরেও থাকতে পারেন। এখানে ভালো মানের আবাসিক হোটেল পেয়ে যাবেন। এখানে ১৫০ থেকে ১৫০০ টাকার মধ্যে রুম পাবেন। এসিও রুমও পাবেন। সেক্ষেত্রে খরচ আরো কিছুটা বেশী পড়বে।

 

29 Apr 2019

হাতিমূড়া/হাতিমাথা পাহাড় যা ত্রিপুরা ভাষায় মায়ুংকপাল ও চাকমা ভাষায় এদো সিরে মোন। এই পাহাড়ের কোল ঘেষে ত্রিপুরা পাড়ায় যাওয়ার জন্য সিঁড়িটি ১৩ জুন ২০১৫ সালে নির্মান করা হয়। পাহাড়টির মোট উচ্চতা প্রায় ১২০৮ ফিট যার মধ্যে ২৬৭ ধাপ বিশিষ্ট সিঁড়িটির মোট উচ্চতা প্রায় ৪০০ ফিট, গ্রামবাসীর সুবিধার্থে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড এটি বাস্তবায়ন করে। মূলত পাহাড়টি হাতির মাথার ন্যয় আকৃতি হওয়ায় এর এই নামকরণ করা হয়।

স্বর্গের সিঁড়িটা মর্ত্যভূমি থেকে উঠে গেছে সোজা উপরের দিকে। পাহাড় আর বনের ফাঁকে ফাঁকে চলা সেই সিঁড়ির শেষ দেখা যায় না। উপরে যেন স্বর্গেই শেষ হয়েছে সিঁড়িটা।আনুমানিক ১২০-১১০° এ্যাঙ্গেলের খাড়া প্রায় ৩০০ সিঁড়ি বেয়ে হাতিমাথায় উঠতে হয়।হিমশীতল হওয়া সিঁড়ি বেয়ে যখন পাহাড়ের চূড়াতে উঠা হয় তখন নৈসর্গিক সৌন্দর্যে চোখ ধাধিয়ে যাবে।চারিদিকে শুধু সবুজ আর সবুজ।

কিভাবে যাবেনঃ মায়ুং কপাল/হাতিমুড়া খাগড়াছড়ি সদর থেকে পানছড়ি যাওয়ার পথে জামতলীস্থ যাত্রী ছাউনির সামনে নামতে হবে। খাগড়াছড়ি সদর থেকে জামতলী পর্যন্ত গাড়ী ভাড়া জন প্রতি ১৫ টাকা।এরপর জামতলীস্থ যাত্রী ছাউনি (পানছড়ি_২২কিঃমি_ঠিক_এই_স্পটে_নামবেন) এর
বামদিকের রাস্তা ধরে সোজা গিয়ে চেঙ্গী নদী পার হয়ে ডান দিকে স্কুলের রাস্তার দিকে যেতে হবে। স্কুলের নাম পল্টনজয় সঃ প্রাঃ বিদ্যালয়। ওখানে গিয়ে একটি দোকান পাবেন। দোকানের সামনে দিয়ে ডানের রাস্তা ধরে যেতে হবে। দুটি বাঁশের সাঁকো পার হতে হবে। এরপর ডানদিকে ছড়ার পাশ দিয়ে যে ছোট্ট রাস্তা গেছে, সেটি দিয়ে অারেকটি বাঁশ-গাছের সাঁকো পার হয়ে এবার সোজা পথ ধরে এগিয়ে যেতে হবে। এখানে বগড়া পাড়া নামে একটি পাড়া পড়বে। এরপর সামনে এগুলে বিস্তৃত ছড়া পড়বে। এরপর একটি বড় টিলা পার হতে হবে। এটি পার হলে একটি লোকালয় পাওয়া যাবে, যে এলাকার নাম কাপতলা। এরপর হাতের ডান দিকে নিচু পথ ধরে এগিয়ে যেতে হবে, যেতে যেতে সামনে দুইটি রাস্তা পাওয়া যাবে এবং ডান দিকের রাস্তা ধরে এগুতে হবে। এরপর দেখা মিলবে অসাধারণ মায়ুং কপাল/হাতি মুড়া। সব মিলিয়ে পৌঁছাতে সময় লাগবে ঘন্টা দেড়েক।

যেখানে সেখানে ময়লা ফেলা ও পরিবেশ নোংরা করা মহাপাপ। কোন ভাবেই এই মহাপাপ করা যাবে না, সেটা ঘুরতে গিয়েই হোক কিংবা আপনি যেখানে থাকেন তার চারপাশেই হোক।

Source: Sawon <Travelers of Bangladesh (ToB)

28 Apr 2019

কম্বোডিয়ার সিহানুকভিল রাজ‌্যের একটি দ্বীপ। এই দ্বীপটিতে খুব বেশি মানুষের ভীড় নেই। দ্বীপটির কিছু অংশ একেবারেই নির্জন। যারা নির্জনে প্রিয় মানুষের সঙ্গে নিরীবিলি সময় কাটাতে চান তাদের জন্য তো আদর্শ জায়গা। সমুদ্রের গাঢ় নীল জল, পাড়ে ধবধবে সাদা বালি, স্বচ্ছ পানি, পাহাড়, জঙ্গল, সব মিলিয়ে নিজেকে হারানোর মতো একটি জায়গা!

পাশেই এম পাই বে, কোহ রং আইল্যান্ড। বোট বা স্পিড ফেরিতে করে সেখানে যেতে পারবেন। ওয়ান ওয়ে ৫ ডলার ভাড়া। এম পাই বে বা কোহ রং এগুলো একেকটা প্যারাডাউজ অন আর্থ। এখানে বিভিন্ন ওয়াটার অ্যাক্টিভিটি করতে পারবেন। স্নোরকেলিং, বোটিং, সার্ফিং, ফিশিংসহ নানা কিছুর ব্যবস্থা আছে।

যাওয়া আসা ও খরচ: ঢাকা থেকে বিমানে কম্বোডিয়ার রাজধানী পেনম পেন। রিটার্ন টিকেট ৩০-৩৫ হাজার টাকা। সেখান থেকে ট‌্যুরিস্ট ভ্যানে সিহানুকভিল। ভাড়া ওয়ান ওয়ে ১০-১৫ ডলার। সময় লাগে ৪-৫ ঘন্টা। রাস্তা খুবই ভাল। বাসে গেলে ৫-৭ ডলারের মধ্যে যাওয়া যাবে। বিমানে গেলে পেনম পেন থেকে সিহানুকভিল রিটার্ন টিকেট 120 ডলারের মতো পড়বে। সিহানুকভিল থেকে স্পিড ফেরিতে করে কোহ রং সামলেম আইল্যান্ড। ভাড়া রিটার্ন টিকেট ২০-২২ ডলার। সিহানুকভিল থেকে কোহ রং আইল্যান্ডও একই ভাড়া। কোহ রং সামলেম আইল্যান্ড এর সারাসান বে এলাকাটা বেশ জমজমাট। এখানে অনেকগুলো পাব, রেস্টুরেন্ট এমনকি একটি চাইনিজ ক্যাসিনোও রয়েছে। এই এলাকার রিসোর্টগুলোতে ২০-১০০ ডলারের মধ্যে রুম পাওয়া যায়। ডরমেটরিতে থাকলে ৫-১২ ডলার।

খাবার খরচ একটু বেশি। অন্তত প্রতি বেলার জন্য ৬-৮ ডলার খরচ করতে হবে। একটু আয়েশ করে খেতে গেলে ১০ ডলারের উপরে খরচ হবে।
×কম্বোডিয়াতে সেখানকার স্থানীয় মুদ্রার পাশাপাশি ডলারও চলে। সব লেনদেন ডলারেই করতে পারবেন।
× ঘোরাঘুরির সময়ে পরিবেশ যেন নষ্ট না করেন সেদিকে খেয়াল রাখবেন। যেখানে সেখানে ময়লা ফেলবেন না।

Source: Taimur Faruk Tusher‎ <Travelers of Bangladesh (ToB)

24 Apr 2019

শান্তি ও নির্মলতার জন্য নাগাল্যান্ড ভ্রমণ পর্যটন প্রেমীদের জন্য একটি চমৎকার বিকল্প হতে পারে। হিমালয়ের পাদদেশের অভ্যন্তরে প্রতিপালিত নাগাল্যান্ড ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত এক সবচেয়ে সুন্দর রাজ্য। নাগাল্যান্ড পর্যটন বিভিন্ন পর্যটন গন্তব্যস্থল জুড়ে পর্যটকদের একটি বিস্ময়কর সফরের জন্য আহ্বান জানায়।

নাগাল্যান্ডের সংস্কৃতি কিংবদন্তী এবং ইতিহাসের একটি সংমিশ্রন। নাগাল্যান্ডে পর্যটকরা ভারতীয় নাগা সম্প্রদায়ের জাতিগত সংস্কৃতির একটি ঝলক পেতে পারেন। নাগাল্যান্ড ২৫ ডিগ্রী ০৬ মিনিট থেকে ২৭ ডিগ্রী ০৪ মিনিট উত্তর অক্ষাংশ এবং ৯৩ ডিগ্রী ২০ মিনিট থেকে ৯৫ ডিগ্রী ১৫ মিনিট পূর্ব দ্রাঘিমাংশের মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত। ১৬.৫২৭ বর্গ কিলোমিটার এলাকা দ্বারা আচ্ছাদিত নাগাল্যান্ড একটি স্বাস্থ্যপ্রদ জলবায়ুর আশীর্বাদপ্রাপ্ত। নাগাল্যাণ্ড পর্যটনের ক্ষেত্রে নাগাল্যাণ্ডের মনোরম জলবায়ুর ব্যাপক অবদান রয়েছে।

এই প্রসঙ্গে কিছু গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্যস্থলের একটি বিশেষ উল্লেখ দেওয়া হল :–

1.শংগন্যু গ্রাম।
2.কোহিমা গ্রাম।
3.বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ সমাধিক্ষেত্র।
4.জাপফু চূড়া।

এছাড়াও নাগাল্যাণ্ড একটি উন্নত সড়ক ব্যবস্থা দ্বারা ভারতের গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলির সাথে সুসংযুক্ত। সড়ক যোগাযোগ ছাড়াও নাগাল্যাণ্ডে বিমানপথ ও রেলপথের একটি চমৎকার সংযোগ রয়েছে। নাগাল্যাণ্ডের নিজস্ব বিমানবন্দর রয়েছে ডিমাপুরে যা ভারত তথা বিশ্বের বিভিন্ন অংশের বিভিন্ন গন্তব্যের সাথে নিয়মিত বিমান দ্বারা সংযুক্ত। এছাড়াও নাগাল্যান্ডের রেল স্টেশন ডিমাপুরে অবস্থিত। ডিমাপুরের মধ্যে রেলপথ গুয়াহাটির সঙ্গে সংযুক্ত যা ভারতের সকল প্রধান শহরের সাথে সংযুক্ত।

নাগাল্যান্ড পৌঁছানোর উপায়:
গাল্যাণ্ড আসতে ইচ্ছুক পর্যটকরা কিভাবে এখানে পৌঁছবেন সেটা নিয়ে অত্যন্ত উদ্বিগ্ন থাকেন। তবে, এটা উল্লিখিত যে নাগাল্যাণ্ড পরিবহনের একটি চমৎকার মাধ্যম দ্বারা সংযুক্ত। যদিও নাগাল্যাণ্ড হিমালয়ের পাদদেশে অবস্থিত, তবে নাগাল্যান্ডে ভ্রমণ সমতলভূমিতে ভ্রমণ করার মতই সহজ।

বস্তুত, নাগাল্যান্ডের বিমানপথ, রেলপথ এবং সড়কপথ এই অঞ্চলে একটি অতুলনীয় পরিষেবা প্রদানের জন্য সুপরিচিত। নাগাল্যাণ্ড পর্যটন একটি উত্তম ও উন্নত সড়ক যোগাযোগের সুবিধাযুক্ত। নাগাল্যাণ্ডের নিজস্ব বিমানবন্দর ডিমাপুরে রয়েছে যা কোহিমা থেকে প্রায় ৭৪ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। ডিমাপুর বিমানবন্দর ভারত তথা বিশ্বের বিভিন্ন অংশের বিভিন্ন গন্তব্যের সাথে নিয়মিত বিমান দ্বারা সংযুক্ত। ভারতীয় বিমানসংস্থা (ইন্ডিয়ান এয়ারলাইন্স) এই অঞ্চলে পরিষেবা প্রদান করে। ইন্ডিয়ান এয়ারলাইন্স কলকাতা থেকে কোহিমা পর্যন্ত দৈনিক বিমান পরিচালনা করে। এছাড়াও নাগাল্যান্ডের রেল স্টেশন ডিমাপুরে অবস্থিত। নাগাল্যাণ্ড ভারতীয় রেলওয়ের উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলপথের আওতায় পড়ে।গুয়াহাটি পরিভ্রমণে ইচ্ছুক পর্যটকরা ডিমাপুর থেকে দৈনিক ট্রেন সুবিধা পেতে পারেন। নাগাল্যাণ্ড রাষ্ট্রীয় সীমানার মধ্যে পরিচালিত সবচেয়ে জনপ্রিয় ট্রেন পরিষেবা প্রদান করে শতাব্দী এক্সপ্রেস যা নাগাল্যাণ্ড পৌঁছানোর সমস্যার সমাধান করে।

নাগাল্যাণ্ড এছাড়াও একটি ব্যাপক সড়ক সংযোগের অধিকারী। ডিমাপুর থেকে চলাচলকারী নাগাল্যাণ্ড রাজ্য পরিবহন নাগাল্যাণ্ডের এক সবচেয়ে জনপ্রিয় বাস পরিষেবা। ব্লু হিলস ও ভলভো বাস নাগাল্যান্ডে চলমান কিছু প্রধান বাস পরিষেবা। এই বাসগুলি ছাড়াও সড়ক পরিবহনের অন্যান্য মাধ্যমগুলি হল – মিনি কোচ ও ট্যাক্সি, যা ভ্রমণকারীদের নাগাল্যান্ডের বিভিন্ন গন্তব্যস্থলে পৌঁছাতে সাহায্য করে।

নাগাল্যান্ডের পরিদর্শনমূলক স্থান:
নাগাল্যান্ডের আকর্ষণ তার প্রাকৃতিক অসাধারণ সৌন্দর্যের জন্য সুপরিচিত। নাগাল্যান্ডের বেশীরভাগ পর্যটক আকর্ষণগুলি সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের ধ্বংসাবশেষ এবং সেই স্থানের ঐতিহ্যগত উত্তরাধিকার বহন করে। উত্তর পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য নাগাল্যান্ড পরিভ্রমণের আদর্শ সময় হল অক্টোবর থেকে মে মাস। নাগাল্যান্ডের খোনোমা দ্বার এই গ্রামের স্থানীয় আদিবাসী বাসিন্দাদের নির্ভীক প্রকৃতিকে প্রতিফলিত করে, যারা ব্রিটিশ অনুপ্রবেশকারীদের থেকে নিজেদের রক্ষা করার জন্য এই বিপুল দ্বার নির্মাণ করেছিলেন। প্রাকৃতিক ঐশ্বর্যের সাথে অন্বিত খোনোমা দ্বার দূরদূরান্ত থেকে বিভিন্ন পর্যটকদের আকর্ষণ করে।

জুকৌ উপত্যকা প্রকৃতির অনুগ্রহ অনুভব করতে পর্যটকদের একটি চমৎকার সুযোগ প্রদান করে। ২৪৩৮,৪ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত জুকৌ উপত্যকা নাগাল্যান্ডের চিত্রানুগ দৃশ্যপটের একটি অসাধারণ দৃশ্য প্রদান করে।

জাপফু চূড়া এই অঞ্চলের উচ্চ পাহাড়ের খাড়া ঢাল স্কেলিং এবং ট্রেকিং-এর জন্য এক আদর্শ গন্তব্য। নাগাল্যান্ডের তুলি শহর তার অনন্য প্রাকৃতিক ঐশ্বর্যের জন্য সুপরিচিত। ভারতের উত্তর পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যের মোককচং জেলায় অবস্থিত,তুলি শহরের নির্মল পারিপার্শ্বিক তার শান্তি ও সতেজতার সাথে দর্শকদের মনকে পুনরুজ্জীবিত করে তোলে।

নাগানিমোরা এই অঞ্চলের বিভিন্ন রোমাঞ্চকর ক্রীড়ার মাধ্যমে পর্যটকদের তাদের সহজাত ক্রীড়া উদ্দীপনা এবং ক্রীড়াবিদ মনোভাব অন্বেষণের একটি সুযোগ প্রদান করে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের আশীর্বাদপ্রাপ্ত নাগানিমোরা বিভিন্ন পর্যটকদের আকর্ষণ করে যারা এখানকার মনোরম দৃশ্য দ্বারা শিহরিত হয়।

চাংতংগ্যা এবং মেলুরি নাগাল্যান্ডের বিশিষ্ট পর্যটন গন্তব্য যা সমৃদ্ধ প্রাকৃতিক ঐশ্বর্য দ্বারা অন্বিত। সুনির্মিত সড়ক দ্বারা রাজ্যের সকল প্রান্ত থেকে নাগাল্যান্ডের পর্যটন স্থানগুলি সহজে প্রবেশযোগ্য।

Source: Rashed Khan‎ View Bangladesh The Travelers

24 Apr 2019

এই সময়ে কাশ্মীর যাইয়েন না ভাই, অবস্থা গরম! যাদেরকেই জিজ্ঞেস করেছিলাম এখন কাশ্মীরের অবস্থা কেমন, ভ্রমনে যাওয়া যাবে কিনা, তাদের সবারই ছিলো এই রকম ভাষ্য। মানুষের নিষিদ্ধ বস্তুতে আকর্ষন বেশি! কাশ্মীরে টুরিস্টদের নিরাপত্তা নিয়ে নেটে ঘাঁটাঘাঁটি শুরু করলাম। যতটুকু বুঝলাম কাশ্মীর ভ্রমণকারীদের জন্য নিরাপদ, অনাখাংখিত ঘটনা ছাড়া। সিদ্ধান্ত নিলাম কাশ্মীরেই যাবো। ওঠ ছুড়ি তোর বিয়ে টাইপ সিধান্ত! ধর তক্তা মার পেরেক, কি আছে জীবনে!

বাক্স-পেটরা গুছিয়ে বিমানে উঠলাম। ঢাকা থেকে কলকাতা, কলকাতা থেকে শ্রীনগর। ঢাকার ৩৩ ডিগ্রী থেকে শ্রীনগরের ১২ ডিগ্রী! বিমান থেকেই নেমে গায়ে ঠান্ডা কাঁপুনি দিলো। তার উপর আবার ঝিরিঝিরি বৃষ্টি। বিমান বন্দরের বাইরেই আমাদের গাইড জাভিদ অপেক্ষা করছিলো। গাড়ীতে যেতে যেতেই চারপাশের বাড়িঘরগুলো দেখছিলাম। একটি বাড়ি থেকে অন্য বাড়িটি নির্দিস্ট দুরত্তে বানানো। প্রত্যকটা বাড়ির ছাঁদে টালি বসানো। বিমানবন্দর থেকে আমাদের প্রথমদিন থাকার যায়গা প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে। প্রথমদিন থাকার ব্যাবস্থা শ্রীনগরের বিখ্যাত ডাল লেকের মাঝে নৌকায়! নামেই নৌকা, ছোটখাটো একটা জাহাজ বলা চলে। নৌকায় কাঠের সৌখিন কারুকাজ। থাকার জন্য সব রকমের আধুনিক ব্যাবস্থা। পানির ঢেওয়ে মাঝে মাঝে নৌকাও দুলছে। একটু ফ্রেস হয়েই যাত্রা শুরু করলাম মোঘল গার্ডেনের দিকে। উচু পাহাড়ের উপরে বাগানটি। চারিদিকে মেঘের আড়ালে পাহাড়গুলোর লুকোচুরি। চারিদিকে নানা রঙিন ফুলের সমাহার। উপর থেকে নিচের ডাল লেক আর চারপাশের উচু পাহাড়।

তারপরের যাত্রা কাশ্মীরের বিখ্যাত টিউলিপ বাগানে। এখন বসন্ত ওখানে। যেদিকে তাকাই শুধু লাল, হলুদ, সাদা আরো নানা রঙের টিউলিপ। পাহাড়ের পাদদেশে টিউলিপ বাগানটি আপনার চোখকে আটকে রাখবে। সুবিশাল এই বাগানে এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে টিউলিপ ফেস্টিভ্যাল হয়।

একইদিনে ডাল লেকে শিখারা ভ্রমন মানে নৌকায় করে অপুর্ব ডাল লেকে ভাসমান জীবন দর্শন। নৌকাটা পাংশীর মত। ভিতরে বসার আরামদায়ক সোফা। আশেপাশে ভাসমান বাজারে দোকানীরা পশরা সাজিয়ে বসে আছে। সুন্দর, শুধুই সুন্দর! কয়েক লাইনে লিখে কোন কিছুই বোঝানো যাবেনা।

শেষ বিকেলে, সুর্য যখন গোলাপী আভা ছড়িয়ে পাহাড়ের পিছে চলে যাচ্ছে তখন নৌকা ঘরের বারান্দাতে বসে জীবন্ত ডাল লেক দেখা আর সাথে এক কাপ গরম কফি, বাকিটুকু কল্পনা করে নিন। প্রথম দিন এভাবে স্বপ্নের ঘোরেই শেষ হলো।

দ্বিতীয় দিন সোনমার্গ যাত্রা। আবহাওয়া আবেদনময়ী! যাত্রা পথে রাস্তার পাশ দিয়ে বয়ে চলেছে বরফ গলা নদী। রাস্তার দু ধারে বরফের উচু পাহাড়। আহা! কি সুন্দর! মাঝে নাস্তা করার জন্য থামলাম। বরফগলা নদীর পাশে হোটেল, বসার যায়গা পাথুরে নদীর পাশে। কুল কুল করে পানি বয়ে যাচ্ছে পাথরের বুক দিয়ে। নাস্তা কি খাবো, সৌন্দর্জ্য খেয়েই কুল পাচ্ছিলাম না! সোনমার্গে গিয়ে দেখলাম বৃষ্টি। জাভিদ বলল, দিল্লীর ফ্যাশন আর কাশ্মীরের মৌসম, মিনিটে মিনিটে বদলায়! সোনমার্গে বেশি ভিতরে গাড়ি যায়না তাই ঘোড়া ঠিক করতে হলো। জীবনে প্রথম ঘোড়ায় চড়ে নিজেকে বেদের মেয়ে জ্যোৎস্না ছবির ইলিয়াস কাঞ্চন মনে হলো। রাস্তার দুপাশে সাদা বরফের পাহাড় আর পাহাড়ের নিচে দিয়ে বলছে কুল কুল স্রোতে নদী সাথে গুড়িগুড়ি বৃষ্টি। ঘোড়া থামিয়ে বরফ মাঝ দিয়ে হেটে চললাম কিছুক্ষণ। তাপমাত্রা তখন -১৫। হাত পা জমে আইসক্রিম!

তৃতীয় দিন যাত্রা শুরু করলাম পেহেলগামের দিকে। ভাবলাম যা সুন্দর তাতো শ্রীনগর আর সোনমার্গেই দেখে ফেলেছি, নতুন আর কি দেখার আছে! ভুল, একদম ভুল। যাত্রা পথে চারপাশে আপেল, সরিষা আর আখরোট বাগান। পেহেলগামে পৌঁছে ঘোড়া ঠিক করতে হলো। ঘোড়ায় চড়ে পাহাড়ে যাত্রা। এবার বরফের পাহাড় নয়, সবুজ আর সবুজ। যেখানে দেখি সেখানেই মনে হয় আরে এই জায়গাতেতো অমুক ছবির শুটিং হয়েছিলো। মাঝে যাত্রা বিরতি পাহাড়ের মাঝে ঝর্নার পাশে। ঝর্নার পাথরে একবার বসলে মনে হয় বসেই থাকি, উঠার কি দরকার! রাতে থাকার ব্যাবস্থা পাহাড়ি লেকের পাশে একটি রিসোর্টে। পাশের পাথুরে লেকে পার করে দিলাম সারাটা বিকেল, সন্ধ্যা হলো, মনে চায়না উঠি। পরের দিন পেহেলগামেই থাকলাম।

পঞ্চম দিনে যাত্রা গুলমার্গে, বরফের রাজ্যে। সাদা আর সাদা। স্লেজ ঠিক করলাম। বরফের ভিতর দিয়ে স্লেজ দিয়ে যাওয়ার সময়ে ছোটবেলার সুপারির খোলে চড়ার কথা মনে পড়লো। আমাদের থাকার ব্যাবস্থা এমন জায়গাতে ছিলো যেখান থেকে জানালা খুললেই চারিদিকে শুধু বরফ আর বরফ।

ষষ্ঠ দিনে আবার শ্রীনগরে দিকে চললাম। জাভিদ কাশ্মীরি শালের দোকানে নিয়ে গেলো। কিছু কেনাকাটা করলাম। পরের দিন সকালে বিদায় দিলাম কাশ্মীরকে।

আমরা যা দেখেছি তার সিকিভাগও এই লেখায় তুলে ধরতে পারিনি। এই সৌন্দর্জ্য ক্যমেরায় ছবির থেকেও সুন্দর। একেকটা স্পট নিয়ে আলাদা করে কয়েক পর্ব লেখা যায়। কাশ্মীরি খাবার, পোশাক, রীতিনীতি নিয়ে তো কিছুই লিখতে পারিনি।

পরিবেশ সচেতনতাঃ কাশ্মীর খুব নিরিবিলি যায়গা। ওখানে পলিথিন নিষিদ্ধ। রাস্তায় কোথাও চিপস বা সিগারেটের প্যাকেট চোখে পড়েনি। প্রতিটি জায়গায় লেখা ছিলো পরিবেশ আপনার, আপনি এর দেখভাল করবেন।

Source: Masud Rana Travelers of Bangladesh (ToB)

23 Apr 2019

অনেক দিন কোথাও ঘুরে যাওয়া হয় নাই। একটু রিফ্রেশ এর জন্য জায়গা খুজছিলাম। (tob) এর কল্যাণে পেয়ে গেলাম কাপ্তাই এর ভ্রমণ অভিজ্ঞতা । ফ্রেন্ড সার্কেলের সবাই কে জানাই দিলাম। এর মধ্যে ৫ জন সদস্য পাইলাম যাওয়ার জন্য।

আমাদের প্ল্যান ছিল কায়াকিং + নৌকা ভ্রমণ করব। ২০ এপ্রিল,শনিবারে ভ্রমণ এর ডেট ঠিক করি।আমার সবাই চট্টগ্রামের ছিলাম।চট্টগ্রাম শহর থেকে কাপ্তাই যেতে হলে বহদ্দারহাট বাস স্টেশন থেকে যাওয়া যায়। বাস স্টেশন থেকে ১৫মি পর পর কাপ্তাই এর বাস ছাড়ে ভাড়া ৬৫ টাকা।আমাদের প্ল্যান ছিল সকাল ৮ টা বাজে গাড়িতে উঠবো ১০ টা করে কাপ্তাই নামবো ।তা আর হইলো না সবাই ৮ টায় বাস স্টেশনে চলে আসলেও ১ জন এর কোন খবরই নাই। সবাই মন খারাপ হয়ে যায় এমনিতে সদস্য কম এর মধ্যে আরো একজন কম। সবাই কল করে ও তার সারা পাই না। আমারা গাড়ির উঠার একটু আগে তার কল আসে, কল দেখে অনেক খুশি ও রাগ দু ই ছিল।অই পার থেকে বেশে আসতেছে “দুস্ত সরি” মাথা ১০০ তে ১০০ গরম, রাগটা কন্ট্রোল করে তাড়াতাড়ি করে যে আসতে বললাম।আমার ৪ জন বাস স্টেশন কাউন্টার এর পাশে নাস্তা করলাম।পরতা আর চা খেলাম বিল আসছিল ৪ জনের ৬১ টাকা। যারা সকাল সকাল বের হবেন নাস্তা করে না আসলে তারা স্টেশন এ নাস্তা করতে পারেন।বাস স্টেশনের কাউকে বাশঁখালী কাউন্টার কোথায় জিজ্ঞেস করলে দেখিয়ে দিবে,এর সামনে হোটেলটা। নাস্তা করে নিলে ভালো ২/৩ ঘন্টার যাত্রাপথ কাপ্তাই যেতে। আমাদের সেই মহান বন্ধু আসলো। কাপ্তাই এর গাড়ি ছিল কিন্তু যাত্রী ছিল না। লিচুবাগানের গাড়ী ছিলো পাশে। কাপ্তাই যাওয়ার আগে লিচুবাগান পরে ভাড়া ছিল ৪৫ টাকা।কাপ্তাই যাইতে হলে লিচুবাগান এর গাড়ি গুলোতে করে যাওয়া ভালো, গাড়ি কাপ্তাই এর বাস গুলো থেকে অনেক ভালো। ৯:২০ এ গাড়ীতে উঠি সৌভাগ্যর দোষে আমাদের পেছেনের সিট মিলে।কিন্তু রাস্তা ভালো থাকায় সমস্যা হয়নাই।৯:৩০ এ গাড়ী ছাড়ে গাড়ীতে খাওয়ার জন্য মহান লেট বন্ধু ২ টা ৫০০মি কোক আর সমুচা নিল সবার জন্য খরচ ১০০ টাকা। রাস্তার দুইপাশে সবুজ গ্রাম দেখতে দেখতে ১১ টার মধ্যে লিচুবাগান স্টেশন এ পৌছে যায়।

গাড়ী থেকে নেমে ৩ টা চিপস নিলাম ৪৫ টাকা দিয়ে।লিচুবাগান মোড়ে অনেক CNG আছে কাপ্তাই যাওয়ার। লিচুবাগান থেকে কাপ্তাই এর ভাড়া ৩০ টাকা করে CNG প্রতি জন।যারা কায়াকিং করবেন তারা জুম রেস্তোরাঁয় জন্য CNG নিবেন ১০০/১৫০ টাকা দিয়ে, আমরা ১৫০ টাকা দিয়ে ঠিক করি।৩০ মিনিট মত লাগে পৌঁছাতে, যাওয়া সময় রাস্তার ২ পাশে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য দেখে মন ফ্রেশ হয়ে যায়, উঁচু নীচু রাস্তা যা পাহাড়ের পাশ কেটে চলে যাচ্ছে দূরদূরান্তের। জুম রেস্তোরাঁর সামনে কাপ্তাই কায়াকিং ক্লাব CNG চালকরে বললে সে নামায় দিবে।নামার সাথে সাথে পিক, সেল্ফি। একপাশে কাপ্তাই লেক আর এক পাশে পাহাড় ২ টায় দেখার সৌভাগ্য হয়েছে আমাদের।কায়াক ক্লাব এর নিচে নেমে ও পিক তুলা শেষ হয় না।আমার ৫ জন এর মধ্যে ২ জন মেয়ে ও ছিল তারা সাতার জানে না ভয়ে করতে চাইতেছে না কায়াকিং। আবার লোভ ও সামলাতে না পেরে রাজি হয়ে যায় ।৩ টা কায়াক বোট নিলাম। ২০০ করে রাখলো স্টুডেন্ট বলে। এমনি তে ২৫০,যাওয়ার সময় স্টুডেন্ট আইডি কাড নিয়ে যাবে ৫০ টাকা ডিস্কাউন্ট পাবেন।আমরা নিয়ে গেছিলাম ৬০০ দিয়ে ৩ টা বোট নিলাম এক বোট এ ২ জন করে বসা যাবে।আমাদের মধ্যে একজন আগে করেছিল কায়াকিং সেই ১ টা নিয়ে চলে গেলো আর বাকী ২ টা ২ জন করে বসে পরলাম । সবাই কে লাইফ জেকেট পরতে হবে আর ওরা যা নিয়ম বলবে সেই নিয়মে করবেন।কায়কে দাড়ানো যাবে না কায়াক করার অবস্থায় নামা যাবে না বোট থেকে, নাইলে ১০০০ টাকা জরিমানা করবে।১ ঘন্টা কায়াকিং টা ছিল অনেক অনেক অসাধারণ মুহূর্ত পাহাড়ের মাঝে কায়াকিং করা।পুরো ১ ঘণ্টা কায়াকিং করলাম ১ মিনিট ও ছাড় নাই।কায়াকিং করে অনেক খিদে লাগছে সবার, কায়াক ক্লাব এর ২ পাশে ২ টা রেস্তোরাঁ আছে।আমরা ডান পাশে ফ্লোডিং প্যরাডাইস রেস্তোরাঁতে যায়।ভাত, ডাল ৪০ টাকা, আর দেশী মুরগী ১৩০ টাকা এক পিছ। ৫ জনের খাবার এবং সাথে ১ লিটার সেভেন আফ ৯৪৫ টাকা বিল আসলো হোটেল আংকেল ৯০০ টাকা রাখছে।রেস্তোরাঁ থেকে কাপ্তাই লেক ভিউ অনেকে সুন্দর ছিলো। কিছুক্ষণ রেস্তোরাঁয় সময় কাটালাম লেক দেখে।এর পর জেটিঘাট যেতে হবে জুম রেস্তোরাঁ সামনে হেটে চলে যাবেন ওইখানে CNG রয়েছে ১ জন ২০/২৫ টাকা করে জেটিঘাট।CNG চালক ২৫০ বলেছিল ১০০ দিয়ে রিজার্ভ করি।

কাপ্তাই এ যতই বিতরে যাবেন তত সৌন্দর্য দেখতে পাবেন ।রাস্তার পাশে অনেক পার্ক, জাতীয় উদ্যান,ঘুরার স্পট আছে যারা সময় নিয়ে যাবেন ওই গুলো ঘুরে দেখবেন।যারা রাত কাটাবেন তারা প্রশান্তি পার্কে থাকতে পারবেন। আমারা জেটিঘাট গিয়ে একটা নৌকা ঠিক করি ঘন্টায় ১৫০ টাকা, সদস্য বেশি হলে ইঞ্জিন চালিত সাম্পান নিবেন ১০০০ টাকা করে ১ ঘন্টায়।ওরা আপনাকে কাপ্তাই বিদুৎ কেন্দ্র,কাপ্তাই বাধ, লেক ভিউ ও দেখাবে চাইলে লেক ভিউতে নামতে পারেন ১০০ টা এন্টি ফি।আমাদের ইচ্ছা ছিল না তাই যায় নাই। লেক এর পানি খুব পরিষ্কার আর সবুজ রঙের ছিল।লেকে নৌকা রাইড দিয়ে অনেক ভালো লাগলো।যে পরিমাণ আনন্দ পেলাম সে হিসেবে টাকাটা অনেক কম মনে হয়েছে। যারা লেক এর পানিতে গোসল করতে চান করতে পারবেন। আমাদের ১ জন এক্সট্রা কাপড় আনছিল বাকিরা আনে নাই তাই করা হলো না। নৌকা ভ্রমণ শেষ এই বার ফেরার পালা।শনিবারে ওইখানে হাট বসে চাইলে কিছু কিনতে পারেন, দাম কম তুলনামূলক। জেটিঘাট থেকে লিচুবাগান ১৭৫ টাকা CNG তে।লিচুবাগান নেমে একটা দোকানে ঢুকে নাস্তা করলাম। কেক, ঠান্ডা 7up ৪ জন, চা খেলো ১ জন ১১০ টাকা।লিচুবাগান থেকে বহদ্দারহাট বাস স্টেশন ৪৫ টাকা ভাড়া। আসার সময় ঘুমায়ছি গাড়িতে।শহরে নামায় দেয় আমাদের ৫:৪০।

এইবার আসি খরচ এর কথায় :
*সকালের নাস্তা ৬১+১০০ = ১৬১ টাকা
*বহদ্দারহাট টু লিচুবাগান ভাড়া ৪৫*৫ = ২২৫ টাকা
*চিপস ৪৫ টাকা
*লিচুবাগান টু কায়াক ক্লাব রিজার্ভ ১৫০ টাকা
*কায়াকিং ৩ বোট ৬০০ টাকা
*দুপুরের খাবার ৯০০ টাকা
*কায়াক ক্লাব টু জেটিঘাট রিজার্ভ ১০০ টাকা
*নৌকা ভ্রমণ ১৫০ টাকা
*জেটিঘাট টু লিচুবাগান রিজার্ভ ১৭৫ টাকা
*বিকালের নাস্তা ১১০ টাকা
*লিচুবাগান টু চট্টগ্রাম শহর ৪৫*৫= ২২৫ টাকা
মোট ৫ জনের খরচ (১৬১+২২৫+৪৫+১৫০+৬০০+৯০০+১০০+১৫০+১৭৫+১১০+২২৫=২৮৪১ টাকা)
প্রতি জনের খরচ হবে (২৮৪১/৫= ৫৬৯) টাকা
★★ ৬০০ টাকায় ১ দিনের ট্যুর হিসাবে আমাদের অনেক ভালো লেগেছে।

বি দ্রঃ কাপ্তাই এলাকা খুব পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন।আমাদের সবার দরকার আমাদের দেশকে পরিচ্ছন্ন রাখা।যেখানে ঘুরতে যাবেন ময়লা যেখানে সেখানে ফেলবেন না।dustbin এ ফেলবেন।dustbin আশে পাশে না থাকলে একটা পলিথিন এ রেখে ব্যাগ এর একপাশে রাখুন।dustbin দেখলে অইকানে ফেলবেন।

Source: Akibul Islam‎ Travelers of Bangladesh (ToB)