Monthly Archives

March 2019

31 Mar 2019

শিলিগুড়ির জীপ গাড়ির চালকেরা প্যাকেজ নেবার জন্য অনেক বেশি চাপাচাপি করে, প্যাকেজ না নিলে প্রায় যাইতেই চায় না বা বেশি টাকা চায়। সেক্ষেত্রে বাসে যাওয়া খুবই ভাল অপশন। ভাড়া কম, বাস জীপের চাইতে বেশি আরামদায়ক এবং যাবার সময় চারদিকের ভিউটাও বাস থেকে বেশি উপভোগ করা যায়। এক্ষেত্রে শিলিগুড়ি এসএনটি থেকে পারমিশন ফর্ম পূরন করে নিতে হবে যেন র‍্যাংপোতে ১০ মিনিটেই পাসপোর্টে সীল দিয়ে নিতে পারেন। বাসের হেল্পারকে বলে রাখলেই র‍্যাংপোতে যথেষ্ট সময় দেয়, কোন অতিরিক্ত ভাড়া লাগে না। সরকারি বেসরকারি দুইরকম বাসই আছে, ভাড়া নন এসি ১৮০ টাকা, এসি ২৫০ টাকা। বাসে জীপের চাইতে খুব বেশি সময় লাগে না।

# এমজি মার্গে স্বাভাবিকভাবেই হোটেলের ভাড়া কিছুটা বেশি, তাই এমজি মার্গে না থেকে ফায়ার সার্ভিসের দিকে হোটেল নিতে পারেন। হেটে কয়েক মিনিটেই এমজি মার্গ আসা যায় ঐখান থেকে।

# নর্থ বা ইষ্ট কোনখানেই এখন ঠান্ডা খুব বেশি না, তাই নিজের যদি একটু ভাল জুতা আর জ্যাকেট থাকে তাহলে আর আলাদা করে জুতা বা জ্যাকেট ভাড়া নেবার দরকার নাই। জুতা যদি কাপড়ের হয়, সেক্ষেত্রে লম্বা স্নো বুট ভাড়া নিতে পারেন, তবে এগুলি শুধু প্ল্যাষ্টিকের বলে, অনেক মোটা মোজা না পড়লে ঠান্ডা লাগে, হাটাও কষ্ট।

# অনেকেই বলেন কাটাও মোটেও সুন্দর না! কিন্তু আমার মনে হয় সবারই কাটাও ঘুরে আসা উচিৎ। আমরা যেটা করেছি তা হল, প্রথমে কাটাও গিয়েছি, এরপর ইয়ামথাং ভ্যালি আর সবশেষে ছ্যাংগু লেক। এতে আমরা ক্রমান্বয়ে কম থেকে বেশি সুন্দর জায়গায় গিয়েছি, তাই কোনটা দেখেই মনে হয়নি সেখানে যাওয়াটা বৃথা ছিল।

# বরফে গড়াগড়ি করা ইচ্ছা থাকলে (না থাকলেও যাবার পরে হবেই!) অবশ্যই সাথে রেইন কোট নিয়ে যাবেন। সাধারণ কাপড় বরফে একবার স্লাইড করলেই ভিজে যাবে, তখন ভেজা কাপড়েই সারাদিন ঘুরতে হবে যেটা খুবই অস্বস্তিকর। রেইন কোটের ট্রাউজার আর কোট পড়া থাকলে আর সমস্যা হবে না।

# সানগ্লাস এবং সানস্ক্রিন অবশ্যই সাথে রাখবেন, বরফে রিফ্লেকশনের কারনে আমার ৫ মিনিটের মাঝে চোখ ব্যাথা শুরু হইছিল সানগ্লাস গাড়িতে ফেলে যাবার কারনে। আর আমার মত কাল চামড়ার মানুষেরও সান বার্ন হয় বাজে অবস্থা।

# ইয়ামথাং ভ্যালিতে গাড়ি হয়ত রাস্তা বন্ধের কথা বলে ভ্যালি শুরুর গেটেই নামিয়ে দিবে, তবে কয়েকজন একসাথে হয়ে রাস্তা দিয়ে হেটে যতটা পারেন যাবেন, এটা জীবনের অন্যতম একটা ওয়াকিং এক্সপিরিয়েন্স হবে। আমরা চারজন হেটে প্রায় ৭/৮ কিমি গিয়েছিলাম, যেখানে আসলেই রাস্তা বন্ধ ছিল এভালান্সের কারনে, ইন্ডিয়ান আর্মি ক্রেন দিয়ে রাস্তা পরিষ্কার করার কাজ করতেছিল। আমরা ভেবেছিলাম ঝাড়ি দিবে কিন্তু বাংলাদেশ থেকে গিয়েছি শুনে বেশ ভাল ওয়েলকামই করেছে!

# নর্থ সিকিমের ইকোনমি প্যাকেজে যেসব হোটেল থাকে এগুলি খুবই সাধারন মানের হোম স্টে এর মত। তাই অতিরিক্ত প্রত্যাশা করবেন না, আর পান থেকে চুন খসলেই অভিযোগ করে ওনাদের মাথা খারাপ করবেন না। বরং একটু আন্তরিক ব্যবহার করলে দেখবেন উনারা ১ দিনেই কেমন আপন হয়ে যায়। আমরা যেখানে ছিলাম সেখানে আগের দিনই অন্য কোন গ্রুপ উল্টাপাল্টা ব্যবহার করে আসছে, ওরা দুঃখ করে বলতেছিল। নিতান্তই ভাল হোটেল চাইলে ট্যুর অপারেটরকে বলে বেশি টাকার প্যাকেজ নিন, লাচুং এ অনেক ভাল হোটেল আছে, হয়ত প্রত্যাশিত সার্ভিস পেয়ে যাবেন।

# গ্যাংটকের এমজি মার্গে রসুই নামের পিওর ভেজিটেরিয়ান রেস্টুরেন্ট আছে, ঐখানের খিচুড়িটাই একমাত্র আমার দেশি খাবারের খুব কাছাকাছি মনে হইছে।

# গ্যাংটকে সব জিনিসের দাম বেশি, তাই নিতান্তই শপিং করার ইচ্ছা থাকলে শিলিগুড়িতে একদিন থেকে শপিং করতে পারেন। বিগ বাজার, বাজার কোলকাতা, এফবিবি, শ্রী লেদারস, বিধান মার্কেট, হংকং মার্কেট শপিং এর জন্য ভাল। শিলিগুড়িতে থাকলে ভজ হরি মান্নাতে অন্তত একবেলা খেয়ে দেখতে পারেন। কিছুটা এক্সপেন্সিভ কিন্তু দারুন বাংগালী রান্না।

খুবই কষ্ট হয় যখন দেখি ফ্রোজেন লেকের মাঝেও লোকে চীপস বা বিস্কিটের প্যাকেট ফেলে রাখে, ড্রিংকসের বোতল ফেলে আসে। ঘুরতে গিয়ে যেখানে সেখানে ময়লা না ফেলার ব্যাপারে নিজে সচেতন হোন আর নিজের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে এখন থেকেই সচেতন করুন। অন্যদের বদলে যাবার অপেক্ষা না করে নিজের পরিবার থেকে বদলে দেওয়া শুরু করুন।

source: Badhon Jain‎ <Travelers of Bangladesh (ToB)

31 Mar 2019

সিলেট বিভাগের অসাধারণ সুন্দর এই জেলায় ঘুরতে যাওয়ার এখন মৌসুম না।

একেতো হাওরে পানি কম। বেশিরভাগ অংশ শুকিয়ে দিগন্ত বিস্তৃত মাঠ হয়ে আছে। যেদিকে তাকাবেন ধান ক্ষেত আর খোলা মাঠ।

অন্যদিকে শিমুল বাগানে ফুল তুলা কিছুই নেই।

সুনামগঞ্জে বাস থেকে নেমে কমপক্ষে হলেও ১৫০-২০০ কি.মি. বাইকে রাউন্ড ট্রিপ দিতে হবে।বাইক ছাড়া এখন চলাচলের আর উপায় নেই।

প্রথম দিনে আমরা তাহেরপুরের শিমুল বাগানে চলে যাই। এই সিজনে ফুল না থাকলেও রাজকীয় গাছগুলো আপনার বিশেষ নজর কাড়বে।

বারিক্কা টিলা বা বারিক টিলাতে যাই। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এই অঞ্চলটির এতটাই চমৎকার যা টাইপ করে বোঝানোর ক্ষমতা হয়ত কারই নেই।

এর পর চলে যাই নিলাদ্রীতে। যদিও আলোর স্বল্পতার কারণে ছবি-ভিডিও নিতে পারিনি আমরা।

এর পর বাধাঘাট ইউনিয়নের একটি খালের সামনে ভেড়ানো নৌকায় বসে জোৎসনা বিলাশ করি সবাই।

দ্বিতীয় দিনে টাঙ্গুয়ার হাওরের দিকে চলে যাই। বাইকে বসে প্রায় দুই ঘণ্টার পথ পাড়ি দিতে হয়েছে। কম পানি থাকলেও দূর থেকে হাজারো বক উড়ে যেতে দেখিছি আমরা।

নোট

ঢাকা-সুনামগঞ্জ শ্যামলি নন এসি সাড়ে ৫০০ টাকা।

বাইক ভাড়া মৌসুমের উপর নির্ভর করে।

বর্ষায় হাওরের মজা নিতে পারবরন।

জানুয়ারি ফ্রেবুয়ারিতে শিমুল বাগানের আসল সময়টা উপভোগ করতে পারবেন।৷

#বিঃদ্রঃ এই দেশ ও পরিবেশ আমাদের, তাই এই অপরূপ স্থানগুলোর সৌন্দর্য্য ধরে রাখার দায়িত্ব আমাদেরই। তাই দয়া করে, পরিবেশ নষ্ট হয় এমন কোনো কাজ করবেন না।
তাই ঘুরতে গিয়ে যেখানে সেখানে পানির বোতল, পলিথিন ফেলবেন না। নিজে সচেতন হোন এবং প্রয়োজনে অন্যকে সচেতন করুন।

source:

30 Mar 2019

১৬ তারিখ রাতে ঢাকা থেকে বান্দরবানের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করি। সকালে বান্দরবান পৌঁছে প্রথমে নাস্তা সেরে রুমা বাজার বাসস্ট্যান্ড এ যায়। ৯টার বাসে চড়ি। এরপর শুরু হয় পাহাড়ের গা ঘেঁষে যাত্রা, উচু নিচু পাহাড়ি রাস্তা, একদিকে ভয়ংকর খাদ। কিন্তু পাহাড়ের যা রুপ দেখবেন তাতে সব ভয় ভুলে যাবেন। Yজাংশন পৌঁছানোর পর ১০-১৫ মিনিটের ব্রেক। এরপর রুমা আর্মি চেকপোস্টে নাম এন্ট্রি করতে হবে। খাবার ও পানি এখান থেকে নিতে পারেন কমে পাবেন। তিন ঘণ্টা পর রুমা বাজারে পৌছালাম। এখানে গিয়ে গাইড নিতে হবে। টিওবিতে অনেক গাইড এর নাম্বার আছে আগে থেকে যোগাযোগ করে যেতে পারেন। গাইডকে নিয়ে রুমা বাজার আর্মি ক্যাম্পে গেলাম।

ওখানে বললো আজকে গিয়ে আজকেই ফেরত আসতে হবে কাল ১২টার পর থেকে আর বাস চলবে না কারণ পরশু উপজেলা নির্বাচন। আমাদের মাথার উপর আকাশ ভেঙে পড়ল। এখানে একটা রাত না থেকে কিভাবে যাব। অনেক বার অনুরোধ করলাম কিন্তু কাজ হলো না। প্রায় একঘন্টা বসে চিন্তা করলাম কি করব। তারপর সিদ্ধান্ত নিলাম যাব। আমরা ২জন ছিলাম দুপুর ১টার সময় মোটরবাইকে বগালেকের দিকে রওনা দিলাম। ১ঘন্টা পর বগালেকে পৌছাই।চিন্তা করলাম আজকেই কেওক্রাডং এ উঠে যাব। গিয়েই আর্মি ক্যাম্পে যাই বলি কেওক্রাডং এ যাব। তারাও একই কথা বলল। আমরা বললাম আজকে কেওক্রাডং গিয়ে রাতটা থেকে কালকে ১২টার মধ্যে চলে আসব।

অনেক অনুরোধ করলাম। তারা বলল বগালেকে থাকতে কারণ ৬টার পর কেওক্রাডং এ এন্ট্রি হয় না। তখন ২:৩০ বাজে। আমরা বললাম সমস্যা নাই ৬টার আগেই পৌছাব। তারপর হয়ত আমাদের দেখে আর্মির মায়া হলো, বলল তাড়াতাড়ি রওনা দিতে। আমরা আসলে বিশ্বাস করতে পারছিলাম না অনুমতি পেয়েছি। ডিম ও কলা খেয়ে ৩:০০ রওনা দিলাম। ভারী খাবার খেলাম না তাহলে উঠতে সময় লাগত বেশি। পথ চলছি আর চিন্তা করছি পারবো তো?তারপর আবার কড়া রোদ। এদিকে সময় আছে ৩ঘন্টা।যত তাড়াতাড়ি পারি চললাম। মাঝে মাঝে রেস্ট নিলাম। প্রথম ১ঘন্টা বেশি উচুনিচু, কষ্টও হয় বেশি। এরপর ১/২ ঘন্টা পর দার্জিলিং পাড়ার বাড়ি দেখতে পেলাম। এখানে রেস্ট নিলাম ২০ মিনিট এবং তেতুলের জ্যুসটা অবশ্যই খাবেন পুরাই অমৃত। এরপর আবার যাত্রা শুরু।

সূর্য যখন দিগন্তে তখন কেওক্রাডং এর চূড়া দেখতে পেলাম। সব ক্লান্তি, কষ্ট দূর হয়ে গেল। আমরা যখন এন্ট্রি করতে যাই ঘড়িতে ৫:৩০ বাজে। আলহামদুলিল্লাহ আড়াই ঘন্টার মধ্যেই আমরা চূড়াই উঠতে পেরেছি। উঠেই আগে এক বালতি পানি কিনে গোসল করি ও সূর্যাস্ত দেখি। প্রচুর খুদা লাগছিল কিন্তু ৯টার আগে খাবার হবে না পর্যটক অনেক। কি আর করা চূড়াই উঠে চাদঁ খাইতে থাকলাম। দূরে দেখতে পাবেন সংসং পাড়ার আলো। পরদিন খুব সকালে আবার বগালেকের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করলাম। পথে চিংড়ি ঝর্ণায় একটু সময় কাটালাম। বগালেকে গোসল করে দুপুরের খাবার খেয়ে রুমা চলে আসি। এইখান থেকে বান্দরবান। তারপর বিকালে ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করি।

খরচপাতি(একজন)–
*ঢাকা >বান্দরবান – ১২৪০/=(যাওয়া ও আসা)
*বান্দরবান >রুমা বাসস্ট্যান্ড – ১৫*২=৩০/=(অটো)
*রুমা বাস ভাড়া – ১১০*২=২২০/=
*রুমা>বগালেক – ২০০*২=৪০০/=
*দুপুরে হালকা খাবার – ৬০/=
*কেওক্রাডং রুম-২০০/=
*রাতের খাবার – ২০০/=
*সকালের খাবার – ৪০/=
*দুপুরের খাবার – ১৫০/=

গাইডের_খরচ-
*প্রতিদিন – ৬০০/=
*থাকা,খাওয়া ও যাতায়াত খরচ আপনাকে বহন করতে হবে।
*এজন্য বেশি মানুষ হলে ভাল তবে ১জন গাইড ১৫জন ট্যুরিস্ট এর জন্যে।

কিছু_প্রয়োজনীয়_তথ্য-
১.বান্দরবান থেকে রুমার উদ্দেশ্যে সর্বশেষ বাস বিকাল ৪টা ও রুমা থেকে বান্দরবানের দিক সর্বশেষ বাস বিকাল ৩:৩০।
২. রুমা আর্মি চেকপোস্টে বিকাল ৪টা সর্বশেষ এন্ট্রি।
৩. জাতীয় পরিচয়পত্র এর ফটোকপি অবশ্যই নিয়ে যাবেন।
৪. বগালেকে সাঁতার কাটবেন না। গোসল করা যদিও নিষেধ তবে পাড়ে করলে কিছু বলে না।
৫. পর্যাপ্ত খাবার পানি ও স্যালাইন রাখুন পাহাড়ে উঠার সময়।
৬. বর্ষাকালে অবশ্যই ভালো গ্রীপের স্যান্ডেল নিয়ে যাবেন।
৭. পাহাড়িদের সাথে খারাপ ব্যবহার করবেন না। অনুমতি ছাড়া ছবি তুলবেন না।
৮. কেওক্রাডং এ সর্বশেষ এন্ট্রি বিকাল ৬টা তবে ঋতুভেদে পরিবর্তন হতে পারে।
৯. কেওক্রাডং এ ভালো ভিউ এ থাকতে প্রতিরাত ৩০০/=
১০. বগালেকে থাকা ২০০/=
১১. বাঙালি গাইড না নেওয়ার চেষ্টা করবেন।
১২.শীতকালে অথবা বর্ষাকালে যাবেন। গ্রীষ্মকালে প্রকৃতি রুক্ষ পাবেন।
১৩. কেওক্রাডং এ থাকার জন্য যোগাযোগ করুন-০১৮৬০৪৩৬৯৭৩(লালা বম)
১৪. কেওক্রাডং পর্যন্ত জীপে যাওয়া যাবে।

Source: Zahid Jony‎ <Travelers of Bangladesh (ToB)

30 Mar 2019

এই অ্যালবামে আছে:-

১)সাউথ সিকিম নামচির চারধাম এবং গুরু পদ্মাসম্ভাবা ধাম

২)সাউথ সিকিম রাবাংলার বুদ্ধ পার্ক

৩)ওয়েস্ট সিকিম পেলিং এর সিংশোর ব্রিজ,খেচিপেরি লেক,স্কাই ওয়ার্ক,কাঞ্চনজঙ্ঘা জলপ্রপাত,সাঙ্গাচোলিং মোনাস্ট্রি ( সিকিমের সবচেয়ে পুরানো মনেস্ট্রি)

৪)নর্থ সিকিমের চুংথাং

৫)গ্যাংটক এমজি মার্গ মল রোড

## গ্যাংটক যাওয়ার ইনার লাইন পারমিট (ILP) কোথা থেকে নিবেন:-( ফরেনারদের জন্য)…

গ্যাংটক যাওয়ার ইনার লাইন পারমিট (ILP) আপনি ঢাকা যমুনা ফিউচার পার্কের (IVACBD) থেকে অথবা শিলিগুড়ি SNT-Sikkim Nationalised Transport থেকে অথবা সিকিম ঢোকার চেকপোস্ট Rangpo থেকে নিতে পারেন।Rango থেকে নেয়াটাই সবচেয়ে সুবিধাজনক।পাসপোর্ট-ভিসার ফটোকপি এবং এক কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি দিলেই ১০ মিনিটের মধ্যে পার্মিশন পেয়ে যাবেন।গ্যাংটক যাওয়ার পর হোটেল থেকে শুরু করে Protected Area Permission সব ক্ষেত্রে ইনার লাইন পার্মিট এর ফটোকপি লাগবে এবং আপনি যখন ট্যুর শেষ করে ফিরবেন তখন ইনার লাইন পার্মিট এর মূল কপি Rangpo Check Post এ জমা দিয়ে পাসপোর্টে গ্যাংটক ঢোকার সময় যে সিল দিয়েছিল সেই সিলের মধ্যে ডিপাচার ডেট এন্ট্রি করে আসতে হবে।আবার আপনি যদি গ্যাংটক থেকে পেলিং হয়ে শিলিগুড়ি আসতে চান তাহলে ডাবল রাস্তা ঘুরে Rango যাওয়ার দরকার নাই।পেলিং থেকে Rishikhola Check Post e ইনার লাইন পার্মিট এর মূল কপি জমা দিয়ে ডিপাচার ডেট এন্ট্রি করতে পারবেন।

## কি কি সাথে নিতে হবে:-

পাসপোর্টের ইনফরমেশন পেজ এবং ভিসা পেজের ১০ করি ফটোকপি বাংলাদেশ থেকে করে নিয়ে যাবেন ।আর ১০ কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি।ইনার লাইন পার্মিটসহ Protected Area Permission এর জন্য ফটোকপি এবং ছবি লাগবে।ইনার লাইন পার্মিট পাওয়ার পর Rangpo থেকে ইনার লাইন পার্মিট এরও ১০ কপি ফটোকপি করে ফেলবেন।

## কোন পোর্ট দিয়ে যাওয়া সুবিধাজনক:-

যে পোর্ট দিয়েই যান আপনাকে শিলিগুড়ি হয়েই গ্যাংটক যেতে হবে।শিলিগুড়ি থেক গ্যাংটক ১১৫.৭ কিমি।যদি চ্যাংড়াবান্ধা/বুড়িমারি পোর্ট দিয়ে যান তাহলে চ্যাংড়াবান্ধা/বুড়িমারি পোর্ট থেকে শিলিগুড়ি ৮৫.৫ কিমি।যদি বাংলাবান্ধা/ফুলবাড়ি পোর্ট দিয়ে যান তাহলে বাংলাবান্ধা/ফুলবাড়ি থেকে শিলিগুড়ি ১২ কিমি।এই জন্য বাংলাবান্ধা/ফুলবাড়ি পোর্ট দিয়ে যাওয়ার সুবিধাজনক।

## সিকিমের কোথায় কোন প্যাকেজে ঘুরবেন:-

গ্যাংটক যাওয়ার পর Protected Area Permission গুলো আপনাকে ট্রাভেল এজেন্টদের দিয়ে করাতে হবে।নিজে চাইলেও পার্মিশন ম্যানেজ করতে পারবেন না।এইটাই সিকিম ট্যুরিজমের নিয়ম।পার্মিশন এবং প্যাকেজের ক্ষেত্রে আপনি ২ রাত ৩ দিনের জন্য নর্থ সিকিম করতে পারেন।নর্থ সিকিমের লাচুং-ইয়ুমথাং-জিরো পয়েন্ট-চোপ্তা ভ্যালী প্যাকেজে থাকা-খাওয়া-গাড়ীসহ প্যাকেজ পড়তে পারে ১২০০০ থেকে ২২০০০ রুপি পর্যন্ত।নর্থ সিকিমের মাউন্ট কাটাও এর জন্য আলাদা ৩০০০ রুপি।ছাংগু লেকের জন্য ৩৫০০-৪০০০ রুপি।সাউথ সিকিমের নামচি,চার ধাম এবং রাবাংলার বুদ্ধ পার্কের জন্য ৫০০০ রুপি এবং ইস্ট সিকিমের জুলুকের জন্য ৭০০০ রুপি এবং ওয়েস্ট সিকিমের পেলিং এর জন্য ৪৫০০-৬০০০ রুপির প্যাকেজ নিতে পারেন।মল রোডে প্রচুর ট্রাভেল এজেন্ট এর দোকান আছে।দেখে শুনে দামাদামি করে নিজের সুবিধামত প্যাকেজ নিতে পারবেন।Protected Area Permission ট্রাভেল এজেন্ট করে দিবে।

## কোথায় থাকবেন:-

গ্যাংটক এম.জি মার্গ মল রোডে প্রচুর হোটেল আছে।মল রোডে ১০০০ থেকে ২৫০০ রুপির মধ্যে ভালো মানের হোটেল পাবেন।মল রোড থেকে একটু নিচের দিকে গেলে ৮০০-১২০০ রুপির হোটেল পেয়ে যাবেন।

## কোথায় কোথায় ঘুরবেন:-

নর্থ সিকিম:-

১)লাচুং
২)ইয়ুমথাং ভ্যালী
৩)জিরো পয়েন্ট
৪)চোপ্তা ভ্যালী
৫)গুরুডংমার লেক
৬)মাউন্ট কাটাও

সাউথ সিকিম:-

১)নামচি
২)চার ধাম
৩)রাবাংলা বুদ্ধ পার্ক

ইস্ট সিকিম:-

১)ছাংগু লেক
২)নাথুলা পাস
৩)বাবা মন্দির
৪)জুলুক

ওয়েস্ট সিকিম:-

১)পেলিং

## পেলিং এর দর্শনীয় স্থানগুলো:-

* সাঙ্গাচোলিং চেনরেজিগ ট্যুরিজম পার্ক এবং স্কাই ওয়ার্ক
* সাঙ্গাচোলিং মোনাস্ট্রি ( সিকিমের সবচেয়ে পুরানো মনেস্ট্রি)
* ছাঙ্গে জলপ্রপাত
* রিম্বিক জলপ্রপাত
* রক গার্ডেন
* কাঞ্চনজঙ্ঘা জলপ্রপাত
* খেচিপেরি পবিত্র লেক এবং মনাস্ট্রি
* সিংশোর ব্রিজ

## কোথায় কোথায় যেতে পারবেন নাঃ

বিদেশীদের জন্য নাথুলাপাস, বাবা মন্দির, গুরুদংমার, কালাপাথর যাবার পার্মিশন নাই। সীমান্তবর্তী জায়গা ব্যাতীত সব জায়গা ওপেন।এর মাঝে কিছু জায়গায় যেতে গ্যাংটক থেকে আলাদা করে প্রটেক্টেড এরিয়া পার্মিশন নিতে হয়।

## সিকিমের ইতিহাস:-

সিকিম রাজ্যটি ১৭ শতকের নামগিয়াল রাজবংশের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত। রাজ্যটি চোগিয়াল নামে পরিচিত একজন বৌদ্ধ পুরোহিত রাজা দ্বারা শাসিত ছিল। ১৮৯০ সালে এটি ব্রিটিশ ভারতের অধীনে একটি রাজ্য হয়ে ওঠে। ১৯৪৭ সালের পরে সিকিম ভারতীয় প্রজাতন্ত্রের অঙ্গরাজ্য হিসাবে ছিল। হিমালয় অঞ্চলের রাজ্যগুলির মধ্যে সিকিমে সাক্ষরতার হার এবং মাথাপিছু আয় সবচেয়ে বেশি। ১৯৭৩ সালে চোগিয়ালের প্রাসাদের সামনে রাজতন্ত্র বিরোধী দাঙ্গা শুরু হয়। ১৯৭৫ সালে জনগণ সিকিমীয় রাজতন্ত্রকে দমন করে। ১৯৭৫ সালে গণভোটের পরে সিকিম ভারতবর্ষের ২২ তম রাজ্য হিসেবে যুক্ত হয়।

আধুনিক সিকিম একটি বহুজাতিক এবং বহুভাষী ভারতীয় রাজ্য। সিকিমের ১১ টি সরকারি ভাষা রয়েছে:- নেপালি, সিকিমিজ, লেপচা, তামাং, লিম্বু, নেওয়ারি, রায়, গুরুং, মগার, সুনওয়ার এবং ইংরেজী।ইংরেজি ভাষা স্কুলে পড়ানো হয় এবং সরকারী নথিতে ব্যবহৃত হয়। হিন্দুধর্ম এবং বজ্রায়ণ বৌদ্ধ ধর্ম হল সিকিমের প্রধান ধর্ম। সিকিমের অর্থনীতি মূলত কৃষি ও পর্যটনের উপর নির্ভরশীল এবং ২০১৪ সালের হিসাবে ভারতীয় রাজ্যগুলির মধ্যে এই রাজ্যটির তৃতীয়-ক্ষুদ্রতম জিডিপি ছিল, যদিও এটি বর্তমানে দ্রুত বর্ধমান অবস্থার মধ্যে রয়েছে।

সিকিম ভারতের বৃহত্তম এলাচ উৎপাদক রাজ্য এবং গুয়াতেমালার পর এটি বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম এলাচ উৎপাদক। ২০০৩ সাল থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে সিকিম, তার কৃষিকে সম্পূর্ণভাবে জৈব পদ্ধতিতে রূপান্তরিত করে প্রথম ভারতীয় রাজ্য হিসাবে এই কৃতিত্ব অর্জন করেছে।এটি ভারতের সবচেয়ে পরিবেশগতভাবে সচেতন রাজ্য, যার ফলে প্লাস্টিকের জলের বোতল এবং স্টাইরোফোম ইত্যাদি পণ্য এখানে নিষিদ্ধ।

Source:  Dip Biswas

30 Mar 2019

ভ্রমণপিপাসুদের জন্য সুইজারল্যান্ডের জুরিখ নিঃস্বন্দেহে একখন্ড স্বর্গের মতো। কিন্তু এ কথা সত্য যে মধ্যবিত্ত শৌখিন পর্যটকদের জন্য ইউরোপের অন্যতম ব্যয়বহুল এ শহর জুরিখ ভ্রমণ অনেকটা স্বপ্নের মতো মনে হয়। তবে মজার তথ্য হলো যে শহরে বেরুলে নিমিষেই আপনার পকেট ফাঁকা হয়ে যাবার ভয় থাকে সেই জুরিখ কিন্তু আদতে এমনটি নয়। চাকচিক্যের বাইরেও জুরিখে রয়েছে এমন কিছু দারুন জায়গা যেখানে আপনি চাইলেই ঘুরে বেড়াতে পারেন কোনো পয়সা খরচ ছাড়াই! জুরিখ ভ্রমণের ইচ্ছাটা যদি আপনার থেকেই থাকে তবে জেনে নিন এমন জায়গাগুলো সম্পর্কে –

১) অফুরন্ত প্রাকৃতিক দৃশ্য

ব্যস্ততম শহর জুরিখে রয়েছে প্রাণজুড়ানো অফুরান প্রাকৃতিক সৌন্দর্য যা আকর্ষণ করে পৃথিবীর নানা প্রান্ত থেকে আসা পর্যটকদের। সাথে কেবল একটি ক্যামেরা নিয়ে বেরিয়ে পড়ুন, ব্যাস! প্রকৃতির এই অবারিত নৈসর্গিক সৌর্ন্দয যে কেউ উপভোগ করতে পারবেন একদম বিনা টিকেটে! এর মধ্যে রয়েছে ফেডারেল ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি এর বিস্তৃত চত্বর, শহরের একদম কাছেই দেখা যাবে ছোট বড় পাহাড়ের চূড়া অথবা ‘ওল্ড টাউন’ এর পাথর এর শ্লেটের চত্বর। অথবা চলে যেতে পারেন নদীর পাড়ে নিভৃতে সময় কাটাতে। জুরিখের ব্লু লেকের স্বচ্ছ নীল জলের সৌন্দর্য যে কাউকে মোহিত করতে বাধ্য। এছাড়া শহরের পশ্চিমে শিল্প এলাকাটি ও কিন্তু দেখার মতো জায়গা!

২) পার্ক ও গার্ডেন

প্রকৃতির সবুজের মাঝে একেবারে ডুব দেবার জন্য জুরিখ হতে পারে আদর্শ স্থান। বিশেষ করে এই শহরের অনিন্দ্য সুন্দর পার্ক ভাবতে গার্ডেনগুলোয় ঢোকা মাত্র কেউ একথা স্বীকার করতে বাধ্য হবে। আর দারুণ ব্যাপার হলো বেশিরভাগ পার্ক ও গার্ডেনগুলোর প্রবেশ একদম ফ্রি! বাগানগুলোর দীর্ঘ সুউচ্চু বৃক্ষ সারি, চারিদিকে সবুজ নরম ঘাসের চাদর – এমন পরিবেশ কার না মন ছুঁয়ে যায়। এছাড়াও পার্কগুলোর ভেতরে আছে ছোট ছোট বাঁধানো পুকুর সাথে বিস্তৃত চত্বর.
বৃষ্টি থাকলে চলে যেতে পারেন ইউনিভার্সিটি অব জুরিখ এর বোটানিক্যাল গার্ডেন এ. যা ফার্ন, অর্কিড সহ প্রায় 7000 এর বেশি প্রজাতির গাছের আবাসভূমি। এছাড়াও বেলভিওর পার্কের দৃষ্টিনন্দন ফুলেল বিছানা এবং এরকম আরো অনেক কিছু এ সবকিছুই পর্যটকদের দিতে পারে প্রকৃতির নিবিড় সৌন্দর্য উপভোগের অনুভূতি।

৩) এফ সি জুরিখ

আপনি যদি বিজ্ঞানের চেয়ে খেলাধুলা বিশেষত ফুটবল অনুরক্ত বেশি হয়ে থাকেন তাহলে জুরিখে গিয়ে এফ সি জুরিখ মিউজিয়ামটি দেখা মিস করা একদম ঠিক হবে না। কারণ সেখানে আছে ১৮৯৬ সাল থেকে এপর্যন্ত ফুটবল ইউরোপীয় ফুটবল ক্লাবগুলোর ইতিহাস, উন্নয়নের আদ্যোপান্ত যা ডিজিটাল স্ক্রিন ও ফটোগ্রাফে বর্ণনা করা। আর একজন ক্লাব ফুটবলপ্রেমী জুরিখে গিয়ে এমন অভিজ্ঞতা নিতে পারেন একদম বিনামূল্যে!

৪) ইউনিভার্সিটি অব জুরিখ এর মিউজিয়াম

জুরিখের সবচেয়ে সমৃদ্ধ দিকটি নিঃস্বন্দেহে এর মিউজিয়ামগুলো। জুওলজিকাল মিউজিয়ামে ডায়নোসরের কংকাল থেকে শুরু করে ম্যামথ সহ রয়েছে প্রায় ১৫০০ এর বেশি বিলুপ্তপ্রাণী এবং অগণিত প্রজাতির কীটপতঙ্গের ফসিল। যেখানে আরো রয়েছে তিমি মাছের গান শোনার ব্যবস্থা ও খালি চোখে দেখা যায় না এমন জীবাণুদের দেখার জন্য ম্যাগ্নিফায়িং গ্লাসের ব্যবস্থা। একই ইউনিভার্সিটির প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের সংগ্রহে রয়েছে পালেওনতোলজিকাল মিউজিয়াম, এবং মিউজিয়াম অব আর্থ সায়েন্স। আর মিউজিয়ামগুলোয় এতসব অভিজ্ঞতা নেবার সুযোগ রয়েছে তাও আবার কোনো প্রবেশ ফি ছাড়াই।

৫) জুরিখের শিল্পকলা

জুরিখের ভুবনবিখ্যাত শিল্পীদের হাতের শিল্পকলাগুলো একেবারে বিনেপয়সায় দেখা পাওয়া দুষ্কর বটে তবে একেবারে অসম্ভব নয়! কেননা শহরের প্রধান দুটি আর্ট গ্যালারিতে নিৰ্দিষ্ট দিনে থাকে ফ্রি প্রবেশের সুযোগ। প্রতি বুধবার ‘kunsthaus’ গ্যালারির প্রদর্শনী এবং প্রতি বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত ‘Migros Museum’ এ প্রবেশ থাকে সকলের জন্য উন্মুক্ত।

৬) পাখি দেখা

পাখিদের কলতান উপভোগ করে না এমন লোক হয়তো খুঁজে পাওয়া যাবে না। পাখিপ্রেমীদের জুরিখ একটি স্বর্গ স্থলের মতন। নাম না জানা অসংখ্য প্রজাতির অদ্ভুত সুন্দর সব পাখির দেখা মিলবে এ শহরে। আর সবচেয়ে দারুন ব্যাপার হলো এখানে পাখি দেখতে শহরের বাইরে জঙ্গলে যাবার দরকার হয় না। জুরিখ শহর প্রতিদিন ভরে ওঠে পাখিদের মধুর গুঞ্জনে।

৭) জেমস জয়েস এর সমাধি

প্রখ্যাত আইরিশ সাহিত্যিকের নাম তো অনেকেই কম বেশি শুনেছি। তার শেষ রচনা “Ulysses” লেখার পর পরই এই জুরিখে ১৯৪১ এ তার মৃত্যু হয় এবং এখানেই তাকে সমাহিত করা হয়। জগৎখ্যাত এই কবির সমাধি স্থলটি দেখতে প্রতিদিনই আসেন প্রচুর দর্শনার্থী। সমাধির পাশেই রয়েছে জেমস জয়েসের একটি মূর্তি, যেখানে দেখা যাচ্ছে তিনি এক হাতে পেন্সিল ও অন্য হাতে বই হাতে চিন্তারত অবস্থায় বসে আছেন। জেমস জয়েস ফাউন্ডেশন নিয়মিত আয়োজন করে বিভিন্ন কর্মশালা ও উৎসব উৎযাপন।

৮) ওয়াইল্ড লাইফ পার্ক

শহরের ব্যস্ততা থেকে বের হয়ে যদি একেবারেই নির্জনতায় ডুব দিতে চান তাহলে ওয়েস্ট লেক জুরিখের বোধহয় তুলনা হয় না। এখানকার ওয়াইল্ড লাইফ পার্ক হতে পারে আপনার জন্য শ্রেষ্ঠ স্থান। বাদামি বর্ণের ভালুক, নেকড়ে, হরিণ, এল্কদের দেখা মিলে যাবে এখানে। ২ কিলোমিটার বিস্তৃত এলাকা জুড়ে ঘন জঙ্গলে হারিয়ে যেতে পারেন একদম ভিন্ন পৃথিবীতে!

৯) পর্বত আরোহন

জুরিখে এসে কিন্তু পর্বত আরোহনের বিষয়টি ভুলে গেলে চলবে না! জুরিখের কোলঘেঁষা সুউচ্চ পর্বতটির নাম Uetliberg.
ঘন জঙ্গলে ঘেরা এ পর্বতের চূড়ার উচ্চতা সমুদ্র পৃষ্ঠ থেকে ৮৭০ ফিট। পর্বত আরোহীরা Uetliberg আরোহণের সুযোগ হাতছাড়া করতে চাইবেন না নিশ্চয়ই। তবে এ জায়গাটি শরতেই বেশি জনপ্রিয়, কেননা বছরের অন্য সময়গুলোতে পর্বত চূড়া কুয়াশায় ঢাকা পড়ে থাকে।

১০) ক্যাকটাস

আপনি যদি ক্যাকটাস সংগ্রহের নেশা থেকে থাকে তাহলেই অবশ্যই একবার ঘুরে আসবেন জুরিখের ‘Succulent Plant Collection” থেকে। যেখানকার সংগ্রহে রয়েছে ৬৫০০ প্রজাতি এবং ৭০ বর্গের ক্যাকটাসের বৈচিত্র্য, যা পৃথিবীর সর্ববৃহৎ।

১১) নির্জনতার খোঁজে

জুরিখ শহরের মাঝে একেবারেই কোলাহলের বাইরে নির্জন প্রশান্তিময় কিছুটা সময় কাটাতে চাইলে চলে যেতে পারেন ‘Grossmunster” চার্চে। যেটি বাইরের রাস্তা থেকে দেখার উপায় নেই এবং বেশ গোপনীয়তার চাদরে ঢাকা। চার্চটিতে রয়েছে একটিমাত্র সরু ঢোকার দরজা। এর অদ্ভুত সুন্দর পিলারের নকশা মুগ্ধ করবে যে কেউকে। চার্চটি ইউনিভার্সিটি অব জুরিখের ধর্মতত্ত্ব অনুষদের অধীনে রয়েছে। চার্চের শান্ত নৈঃশব্দ পরিবেশ প্রশান্তি দেবে যে কাউকে।

১২) সাঁতার কাঁটা

কোনোরকম খরচ ছাড়াই দর্শনার্থীগণ জুরিখের লেকগুলোতে সাঁতার কাটতে পারেন ইচ্ছেমতো। তবে সাঁতার কাটতে চাইলে শহরের নদীগুলো অতুলনীয়। তাই এডভেঞ্চারাস সাঁতারুগণ জুরিখে সাঁতারের আনন্দ উপভোগ করতে পারেন নির্বিগ্নে।

বিলাসবহুলতা ছাড়াও জুরিখের রয়েছে আরেকটি নৈসর্গিক প্রাকৃতিক রূপ। প্রকৃতি যে রূপ সম্ভার নিয়ে পর্যটকদের আমন্ত্রণ জানায় একেবারে বিনামূল্যে!

 

28 Mar 2019

আমাদের বেশীর ভাগ মানুষের প্ল্যান থাকে মেঘালয়ের চেরাপুঞ্জি, শিলং আর স্নোনেংপেডেং ঘুরা। তবে আমার মতে আর একটু কষ্ট করে তৃর্না ভিলেজের (Tyrna Elaka) নংরিয়াত গ্রামে (Nongriat) ডাবল ডেকার, কিছু দূর সামনে ন্যাচারাল সুমিংফুল এবং আরো কিছু দূরে রেইনবো ফলস থেকেও ঘুরে আসা যায়। এখন পর্যন্ত আমি এতো নীল এবং স্বচ্ছ পানি কোথাও দেখি নাই। যেমন নীল এবং স্বচ্ছ পানি ছিল রেইনবো ফলসে তেমন নীল এবং স্বচ পানি ছিল ন্যাচারাল সুইমিংফুলে। বর্ষা এখনো শুরু হয়নাই বলে পানি এতো নীল ছিল। তবে বর্ষায় গেলে পাবেন আর এক ভয়ংকর পানির দৃশ্য। রেইনবো ফলস দেখার জন্য আপনাকে কিছুটা কষ্ট করতেই হবে আর কোন উপায় নাই। কারন তৃর্না গ্রাম থেকে ডাবল ডেকার পর্যন্ত যেতে হলে আপনাকে প্রায় ৩০০০ সিঁড়ি বেয়ে নিচে নামতে হবে (কেউ বলে ৩৪০০ সিঁড়ি) তবেই পেয়ে যাবেন ডাবল ডেকার ব্রীজ যা নংরিয়াত গ্রামে অবস্তিত। সেখান থেকে আরও ২০০০/২২০০ সিঁড়ি পার হলেই রেইনবো ফলস।

আমরা আগের দিন চেরাপুঞ্জি ঘুরে সন্ধ্যা হয়ে যায় তৃর্না গ্রামে যেতে যেতে, আমাদের প্ল্যান ছিল নংরিয়াত গ্রামে থাকা কিন্তু আমাদের পৌঁছাতে ৬টা বেজে যায় তাই গ্রামের লোকজন সিঁড়ির কাছে টানানো সাইনবোর্ড দেখায় যেখানে লেখা আছে ৫.০০ টার পর থেকে ভিসিটর প্রবেশ নিষেধ। এবং নংরিয়াত গ্রামে কোন হোমস্টেতে বুকিং না থাকলে যাওয়া যাবে না তাই আমরা তৃনা গ্রামেই একটা হোমস্টেতে উঠে যাই। রাতে ঘুরাফিরা করে আড্ডা দিয়ে ঘুম থেকে উঠতে ৮টা বেজে যায়। আমরা ৮.৪৫ এর দিকে ট্রেকিং শুরু করি। ১২টার মধ্যে রেইনবো ফলস এ চলে যাই। রেইনবো ফলসে গিয়ে নীল পানি দেখে আর লোভ সামলাতে পাড়ি নাই। গোসলের জন্য নেমে গেলাম তবে পানি অনেক স্বচ্ছ এবং শীতল যা নিমিষেই ক্লান্ত দূর করে দেয়। আর ন্যাচারাল সুইমিংফুলে তো পানিতে নামার জন্য আগে থেকেই রেডি হয়ে গেছি। আমাদের ব্যাক করতে করতে ৫টা বেজে যায়। পরের দিন স্নোনেংপেডেং এ উমগট নদীর পাড়ে ক্যাম্পিং করে সকালে ক্রাংসুরি ঘুরে বিকালে বর্ডার ক্রস।
কিভাবে যাবেনঃ ঢাকা থেকে সিলেট তামাবিল-ডাউকি বর্ডার।
ডাউকি টু তৃর্না গ্রাম। (আমরা ডাউকি থেকে সরাসরি ট্যাক্সি করে চেরাপুঞ্জি ঘুরে তৃর্না গ্রামে চলে যাই)

source: Asaduzzaman Shimul‎ <Travelers of Bangladesh (ToB)

28 Mar 2019

অনেক দিন থেকেই সোনাদিয়া ভ্রমনের চিন্তা করছিলাম। কিন্তু কেন যেন ব্যাটে বলে হচ্ছিলনা। কারন ট্যুর প্লান করতে গেলে কেন যেন পাহাড়ই চোখে ভাসে, সেটা দেশেই হোক কিংবা দেশের বাহিরে। অনেক প্রতিক্ষার পর এবার হঠাৎ করেই বান্দরবনের আমিয়াখুম, সাতভাইখুম ভ্রমনের সাথে সোনাদিয়াকে ট্যাগ করে ফেললাম। যেই ভাবা, সেই কাজ। সঙ্গে সঙ্গে সোনাদিয়ার গিয়াসকে ফোন দিলাম। গিয়াসের এই নাম্বার সংগ্রহ করেছি তাও প্রায় বছর চারেক আগে। তাই একটু ভয়ও হচ্ছিল নাম্বারটা এখনও সচল আছে কিনা? তবে সব সংশয় দূর করে রিং হলো এবং ফোনটা গিয়াসই ধরলো।

অনেকটা হাফ ছেড়ে বাঁচলাম। গিয়াসের সাথে প্রয়োজনীয় কথা সেরে প্লান করতে বসলাম। আর সিদ্ধান্ত নিলাম সোনাদিয়াতে এবার ক্যাম্পিং করবো। জীবনে অনেক ট্যুর করলেও কখনও ক্যাম্পিং করা হয় নাই। যদিও ভারতের থর মরুভুমিতে তাঁবুতে একরাত ছিলাম। তবে সেটা ক্যাম্পিং এর পর্যায়ে পড়েনা। যা হোক অনেক কথা হল, এবার একটু সোনাদিয়া সম্পর্কে ছোট্ট করে জেনে নেই। সোনাদিয়া কক্সবাজার জেলার মহেশখালী উপজেলার অন্তর্গত ৯ বঃকিঃ আয়তনের ছোট্ট একটি দ্বীপ। এর তিন দিকে সাগর এবং অন্যদিকটা একটা চ্যানেল দ্বারা মহেশখালী থেকে পৃথক হয়েছে। দ্বীপটি সৌন্দর্যের পাশাপাশি জীব বৈচিত্র্যের জন্য খুব পরিচিত।

এখানকার সমুদ্র সৈকতে স্বচ্ছ নীল পানি, লাল কাঁকড়া, অতিথি পাখি, সামদ্রিক কচ্ছপের ডিমপাড়ার স্থান হিসাবে বিখ্যাত। এছাড়া অাছে প্যারাবন, ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট। যাহোক পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী থানচি থেকে ডিমপাহাড়ের সেই চোখ জুড়ানো রাস্তা দিয়ে আলীকদম ও চকোরিয়া হয়ে চলে আসলাম কক্সবাজার। যদিও চকোরিয়া দিয়ে সরাসরি সোনাদিয়া যাওয়া যায়। কিন্তু কক্সবাজার দিয়ে যাওয়াটায় অনেক সহজ মনে হল। আর পৃথিবীর সর্ববৃহৎ সমুদ্র সৈকত দেখার হাতছানিতো আছেই। সেই রাতটা কক্সবাজার কাটিয়ে দিয়ে পরদিন সকাল বেলা রওনা দিলাম ৬নং জেটির উদ্দেশ্যে। ওখানে সোনাদিয়ার গিয়াস ভাই ট্রলার নিয়ে অপেক্ষা করছে। এরপর ট্রলারে করে যাচ্ছি আর গিয়াসের কাছ থেকে সোনাদিয়ার গল্প গিলছি। সকাল সাড়ে দশটায় রওনা দিয়ে সোনাদিয়ায় পৌঁছালাম দুপুরের কিছু আগে।

প্রথমে গিয়াসের বাসায় গিয়ে লাগেজপত্র রেখে এবং সোনাদিয়ার কচি ডাবের পানি খেয়ে গেলাম সাগড়পাড়ে গোসল করতে। গোসল সেরে এবং লাল কাঁকড়ার সাথে ছুটোছুটি করে দুপুরের খাবার সাগরের মাছ দিয়ে একেবারে চেটেপুটে খেলাম। এরপর ট্রলারে করে ছুটলাম পার্শ্ববর্তী একটা চরে, উদ্দেশ্য অতিথি পাখী দর্শন। এই নৌপথটাও অসাধারণ। দুই দিকে প্যারাবন। মাঝদিয়ে ছুটে চলেছি আমরা। মাছ ধরা নৌকাগুলো আপন গতিতে ছুটে চলেছে। তখন জোয়ার চলছিল। পাখীগুলো গাছে অপেক্ষা করছে ভাটার অপেক্ষায়। কারন ভাটার সময় পানি নেমে গেলে কাদায় পোকা ও ছোট ছোট মাছ আটকে গেলে ওগুলো ওরা খাবে। চরে যখন পৌঁছালাম তখন ভাটা শুরু হয়েছে এবং যথারীতি হাজার হাজার পাখি চরে আশ্রয় নিলে চরের রং ই পরিবর্তন হয়ে গেল। সে এক অদ্ভূত দৃশ্য।

চারিদিকে সাগর মাঝখানে আমরা। সাগরের ঢেউ বালির মধ্যে যেন আল্পনা আঁকিয়ে দিয়েছে। অার এখানে লালকাঁকড়া এত বেশী যে সাদা বালি লাল হয়ে গেছে, মনে হচ্ছে সাগরের মাঝ এক টুকরো লাল গালিচা। আমি কয়েকটা কাঁকড়ার সংগে দৌড় প্রাকটিচ করলাম। আর সুমন তো ধুমধাম কাঁকড়া ধরছে আর ছেড়ে দিচ্ছে। এখানকার দৃশ্য যতই দেখছি, ততই অবাক হচ্ছি। আর ভাবছি এত সুন্দর একটা দ্বীপে আগে আসিনি কেন? সোনাদিয়া ভ্রমনের সবচেয়ে বড় সুবিধা হল একের ভিতর তিন দর্শন, অর্থাৎ এখানে এক সংগে তিনটি পৃথক স্বাদ পাওয়া যায়। যেমন সমুদ্র সৈকত, ম্যানগ্রোভ বন ও মরুভুমি। এখানকার সৈকতে বালিয়াড়ী অসাধারণ। কোন কোনটির উচ্চতা ৭০ ফুট পর্যন্ত।

এই বালিয়াড়ীগুলো সোনাদিয়াকে প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে রক্ষা করে। এখানে একটা বিষয় খুব ভাল লাগলো। আর সেটা হলো সেন্টমার্টিনের মত এখানে কোনো কোলাহল নেই। একেবারে নীরব নিস্তব্ধ। আর তাই সোনাদিয়া এখন পর্যন্ত আপন বৈশিষ্টে অটুট আছে। যাহোক পাখি দেখে, কাঁকড়ার সাথে দৌড় প্রতিযোগিতা করে এবং সর্বশেষে সুয্যিমামার সাথে ছবি তুলে যখন ফিরছি, তখন পানি অনেক নেমে গেছে। পড়লাম মহা সমস্যায়। পনি এত কমে গেছে যে নৌকা চলবে কি না সন্দেহ? কিছুদূর যাওয়ার পর সন্দেহটা সত্যি হলো। আর রাতের বেলা নৌকা থেকে নেমে মোবাইলেের আলো দিয়ে কাঁদার মধ্যে ট্রেকিং শুরু হল।

এখানে কাদার মধ্যে প্রচুর শামুক ও ঝিনুক থাকার কারনে খুব সাবধানে ও ভয়ে ভয়ে পা ফেলতে হচ্ছে। এর মধ্যে আবার একটা সাপের সাথে দেখাও হয়ে গেল। যাহোক শেষ পর্যন্ত কোনো ঝামেলা ছাড়ায় গিয়াসের বাসায় পৌঁছে গেলাম। রাতের খাবার খেয়েই রওনা দিলাম বীচে। তাঁবু খাটানো হলো। সাগরের গর্জন এবং রায়হানের গান দুটোই চলছে একই সাথে। খুব সুন্দর একটা রাত কাটালাম। আর এর সাথে সাথে ক্যাম্পিংয়ের অভিজ্ঞতাও অর্জন করলাম। তখনও কচ্ছপ ডিমপাড়া শুরু করে নাই। তাই এত ভাল লাগার মাঝেও একটা অতৃপ্তি থেকেই গেল।

বিঃদ্রঃ সোনাদিয়া আমাদের একটি অমূল্য সম্পদ। সোনাদিয়াকে আই,বি,এ বা ইম্পোর্টান্ট বার্ড এরিয়া হিসাবে ঘোষনা করা হয়েছে। এখানে প্রতিবছর অসংখ্য পরিযায়ী পাখি আসে। এদের মধ্যে বিরল প্রজাতির চামুচ ঠুটো বাটন অন্যতম। এছাড়া সামদ্রিক কচ্ছপের ডিম পাড়ার আদর্শ জায়গা এই সোনাদিয়া। আরও আছে জীবন্ত জীবাশ্ম অশ্বখুরাকুতির কাছিম। রয়েছে নানা প্রজাতির উদ্ভিদ। আমাদের মনে রাখতে হবে। আমাদের হাজার হাজার সোনাদিয়া নেই। তাই এই সোনাদিয়াকে রক্ষার দায়িত্ব আমাদেরই।

source:  ডাঃ মোঃ মিজানুর রহমান

27 Mar 2019

একদিনের ভ্রমণের জন্য কাপ্তাই জায়গা টা খারাপ না।

আর পাশেই রয়েছে রাঙ্গামাটি সেখান থেকেও ঘুরে আসতে পারেন।কাপ্তাই থেকে মাত্র ২০ কি:মি:। বর্তমানে কাপ্তাইকে সাজানো হয়েছে অনেক সুন্দর করে।সব কিছু গোছালো মনে হয়েছে আমার কাছে।এর আগেও গিয়েছিলাম অনেক বড় তবে তখন এরকম ছিলোনা।এখন পিকনিক স্পটে সংজন করা হয়েছে ট্রলার, বোড, কায়াক ইত্যাদি।

যেভাবে যাবেন – চট্টগ্রাম থেকে সরাসরি কাপ্তাই এর বাস রয়েছে যেটা বদ্দারহাট বাস টারমিনাল থেকে ছারে। ভাড়া নিবে জন প্রতি ৬৫ টাকা।নামিয়ে দিবে কাপ্তাই মেইন বাজারে,সেখান থেকে ৫জন বসার মত রিজার্ভ সিএনজি পওয়া যায় কাপ্তাই নেভি ক্যাম্প পিকনিক স্পট এর, ভাড়া নিবে ১০০ টাকা।এর পর ২০ টাকা দিয়ে টিকেট কেটে ভিতরে গেলেই চোখ জুড়িয়ে যাবে।((কাপ্তাই থেকে যদি রাঙ্গামাটি যেতে চান তবে আপনাকে রিজাভ সিএনজি নিয়ে যেতে হবে ভাড়া নিবে সাড়ে 300 থেকে 400 টাকা সাথে আছে আসাম বস্তির আঁকাবাঁকা রোড একপাশে পাহাড় আরেক পাশে বিশাল লেক))

আর কাপ্তাই থেকে পিকনিক স্পট এর রোড টা খুব খুব সুন্দরআর হ্যাঁ পিকনিক স্পটে ফ্রী WiFi জোন রয়েছে – ইচ্ছে মত ছবি আপলোড দেওয়ার জন্য বলে রাখা ভালো এই জায়গা সম্পূর্ণ পাহাড়ি এলাকা সেখানে আদিবাসীদের বসবাস সো এমন কোন আচরণ করবেন যেটা অন্য কারো ক্ষ্তি হয়,এবং এই পিকনিক স্পট টি সম্পূর্ণ নৌবাহিনীর তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়ে থাকে তো সেখানে এমন কোন কর্মকান্ড করবেন না যার কারনে আপনাকে আইনের আওতায় নেওয়া হয়।
ময়লা ফেলা নোর জন্য নির্দিষ্ট কিছু জায়গা রয়েছে সে সকল জায়গায় ময়লা ফেলবেন।

source: Anamul Hoque Rasel‎ <Travelers of Bangladesh (ToB)

27 Mar 2019

চোখ দুটো বন্ধ করে একবার ভাবুন তো, কোন এক পাহাড়ের কোলে, এক অচেনা অরণ্যের মাঝে হেলান দিয়ে বসে আছেন কোন এক গাছের সাথে পিঠ ঠেকিয়ে। ঠিক কোন এক পাহাড়ের মাঝখানে। সবুজ পাহাড়ের নরম কোমল ঘাস মাড়িয়ে উপরের দিকে উঠে গেলেই পাথুরে পাহাড় আর তার পরেই বরফে জড়ানো পর্বত চুড়ার সারি। অথবা নিচের দিকে নেমে গেলেন বা তাকালেন দেখলেন পাহাড়ি লাল সবুজ বনভূমি নেমে গেছে অজস্র জলধারার উপরে হাজারো পাথরের উপরে। যে খরস্রোতা নদী পার হতে পারলেই আবারো সবুজ পাহাড়ের সিঁড়ি বেয়ে বরফের চূড়া থেকে উঠে যেতে পারবেন মেঘেদের সাথে, ভেসে বেড়াতে পারবেন ঝকঝকে নীল আকাশে।

এরপর চোখ মেলে তাকালেন ধীরে ধীরে। অবাক বিস্ময়ে দেখলেন যেখানে বসে ছিলেন তার চারপাশে ডানে-বামে যতদূর চোখ যায় শুধু রঙ বেরঙের আপেলের ছড়াছড়ি। গাছের তলায় ঝরে পরে থাকা অগনিত আপেলের ঝাঁক, গাছে গাছে ঝুলে থাকা লাল, খয়েরি, গোলাপি, আর সবুজ রঙের আপেল। যেন এক আপেলের অরণ্যে বসে আছেন আপনি। যার চারপাশটা কুয়াসায় ঘিরে থাকা পাহাড়, বরফে মোড়ানো পর্বত চূড়া, আর অনন্তকাল ধরে বয়ে চলা এক স্রোতধারা। গঙ্গার উম্মত্ত বয়ে চলা। আবার কোথাও এই একই গঙ্গার একদম ভিন্ন রূপে বয়ে চলা।

পাহাড় থেকে সমতলে নেমে গেছে নদী। একদম পথের সাথে মিশে গেছে কোথাও কোথাও। এতোটাই সমতল আর এতোটাই মসৃণ সেই নদীর বয়ে চলা যে অনেক যায়গায় চরের মত বিস্তীর্ণ বালুকা বেলা পর্যন্ত চোখে পরেছে। যে নুড়ি, পাথর আর বালুচর ধরে চলে যাওয়া যায় একদম নদীর বুকের মাঝে নিমিষেই। এমনকি কোথাও কোথাও তো নদী পেরিয়ে পাহাড়ি ঝর্নাধারায় পর্যন্ত চলে যাওয়া যায়।

যে নদীটি শুধু আঁকাবাঁকা সর্পিল পথ ছুটে গেছে, পাহাড় থেকে পাহাড় পেরিয়ে, পাহাড়ের পায়ের পাতা জড়িয়ে অবিরাম ছুটে চলেছে প্রমত্তা, চির যৌবনা, অবিরত কুলকুল করে তার সরে বয়ে যাওয়া উম্মত্ত কোন বরফ গলা নদী, শত শত পাহাড়ের বাঁক আর বাঁধা পেরিয়ে যে ছুটে চলেছে, গ্রাম, শহর হয়ে দেশ থেকে দেশান্তরে।

প্রমত্তা পাহাড়ি নদীর সুর ছোঁয়া ওপারে আবারো পাহাড়ের হাতছানি। ঘন অরণ্যে আচ্ছাদিত পাহাড়ের সারি। স্তরে স্তরে উঠে গেছে ওপরে। এতটাই ওপরে যেন আকাশ ছুতে চায়, কোন কোন পাহাড়ের চূড়া! অরণ্যে ঘেরা সেই পাহাড়ের মাঝে মাঝে আলতো মেঘেদের ওড়াউড়ি আর লুকোচুরি। সবুজ অরণ্যে ঘেরা পাহাড়ের সিঁড়ি শেষ হতেই, রুক্ষ, গাছ বা ঘাসহীন পাথুরে পাহাড়ের ভিন্ন রকম আকর্ষণ। আর সেই পাথুরে পাহাড়ের সিঁড়ি পেরিয়েই পৌঁছে যাওয়া যাবে বরফে ঢাকা, তুষারে জড়ানো শুভ্র কোন পাহাড় চূড়ায়। ঠিক যেন আকাশের সাথে মিশে গেছে বরফ জড়ানো তুষার শুভ্র পাহাড় চূড়া!

আমিও এমন করেই আচ্ছন্ন ছিলাম, ঠিক কতক্ষণ জানিনা। হঠাৎ একটা পাহাড়ের বাঁকে এসে বেশ জোরে গাড়ি ব্রেক করতেই চেতনা ফিরে পেলাম। তবে হ্যাঁ কাঁচের জানালা দিয়ে পাহাড়ের দিকে তাকিয়ে দেখি হ্যাঁ আমি সত্যি, সত্যি-ই আপেলের অরণ্যের মধ্যেই আছি! আমাদের গাড়ি ছুটে চলেছে পাহাড়ে পাহাড়ে আচ্ছাদিত বাদামি রঙের গাছে ঝুলে থাকা রঙ বেরঙের আপেলের অরণ্যের মাঝ দিয়ে।

চারপাশেই পাহাড়ের বাঁকে বাঁকে আর পুরো পাহাড় জড়িয়ে আছে আপেলের বাগান। লাল, সবুজ, গোলাপি আর খয়েরি রঙের কতশত আপেল। আর গাছের তলায়, সবুজ ঘাসে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে অজস্র আপেল। সবকিছু মিলে এক অপার্থিব সকালের অপূর্ব স্বর্গীয় এক সকালের সবটুকু সুখ যেন ঘিরে ধরেছিল আমাদের চলার পথ, বাস আর তার চারপাশ।

কি ছিলোনা সেখানে? পাহাড়, পাহাড়ের নানা রকম রঙ রূপ আর ধরন। পাহাড়ে পাহাড়ে মেঘ, মেঘে মেঘে কতশত রঙের আয়োজন, পাহাড়ি নদী, কুয়াসা, সকালের ধোঁয়া ধোঁয়া জলের স্রোত, আঁকাবাঁকা সর্পিল পথ, হাজার পাহাড়ের হাতছানি, আপেলের স্বর্গীয় সুখ, পাহাড়ের গায়ে গায়ে সবুজে গড়িয়ে থাকা শত শত লাল গোলাপি আপেলের বিস্ময়।

ইচ্ছে হচ্ছিল বাস থেকে ওখানেই নেমে যাই। পুরো একটি দিন মনের সাধ মিটিয়ে ওই পাহাড়ে বসে থাকি, সবুজে গড়াই, মেঘেতে ভাসি, কুয়াসায় জড়িয়ে থাকি, ইচ্ছে মত আপেল কুড়াই, কিছু খাই, কিছু দিয়ে খেলি, নদীর স্রোতের সাথে পাহাড়ের তলদেশে মিলিয়ে যাই না হয় কোন এক বরফের চূড়ায় উঠে স্বর্গীয় সুখ উপভোগ করি। কিন্তু আগে থেকেই ঠিক করে রাখা কিছু যায়গা আর ভালো করে দেরাদুন শহর ঘুরে ঘুরে দেখবো বলে আর নামা হলনা। কিছুতা আক্ষেপ, কিছুটা কষ্ট আর একটুখানি মন খারাপ নিয়েই ফিরে আসতে বাধ্য হয়েছিলাম।

বাসে সেই আক্ষেপ নিয়ে যেতে যেতে শুনছিলাম হারশিলকে নাকি উত্তরখণ্ডের কাশ্মীর বলা হয়ে থাকে। এখানে শীতে খুব বরফ পড়ে নদী, পাহাড়, অরণ্য সবকিছু শুধু শুভ্রতায় ঘিরে থাকে। চারদিকে শুধু বরফে আচ্ছাদিত এক অন্যরকম হারশিলের দেখা মেলে তখন। যে কারনেই নাকি হারশিলকে উত্তরখণ্ডের কাশ্মীর বলা হয়ে থাকে।

আর তাই মনে মনে ঠিক, ঠিক করে রেখেছি। একবার, একটা ভ্রমণ বা এরপর ওইদিকে গেলে একদিন, পুরো একটি দিন শুধু হারশিলে থাকবো, পাহাড়ে গড়াবো, নদীতে ডুববো, আপেল কুড়াবো, কুয়াসার জড়াবো, যেখানে খুশি আর যা খুশি তাই করবো। এই আপেলের অরণ্য হারশিলে। হয় কোন আপেলের সময়ে নয়তো কোন বরফে জড়ানো হিম শীতল কোন এক সময়ে। হারশিলকে এতো এতো আর এতোই ভালো লেগেছে।

এই আপেলের অরণ্য হারশিল যাবার উপায়ঃ ঢাকা থেকে বাস বা ট্রেনে কলকাতা। কলকাতা থেকে প্লেন বা ট্রেনে দেরাদুন। দেরাদুন থেকে মুশৌরি হয়ে উত্তরকাশী হয়ে হারশিল। বেশ অল্প খরচেই ঘুরে আসা যাবে হারশিলে।
তবে, এমন আপেলের অরণ্য পেতে হলে যেতে হবে অগাস্ট বা সেপ্টেম্বর মাসে।

পরিবেশের দয়াকরে কোন রকম ক্ষতি যেন না হয় সেদিকে খেয়াল রাখবেন।

ছবি গুলো সংগৃহীত, চলন্ত বাস থেকে ছবি তোলা সম্ভব হয়নি, শুধু দুচোখ ভরে দেখেছি আর প্রান ভরে উপভোগ করেছি। সুখের বুক পকেটে ছবি জমিয়ে রেখেছি।

source: Sajol Zahid‎ <Travelers of Bangladesh (ToB)

27 Mar 2019

আম আর আম। গাছে গাছে ঝুলছে কাঁচা-পাকা আম। রাস্তার দুই ধারে যত দূর চোখ যায়, কেবলই আমের বাগান। ইচ্ছা করলেই মাটিতে দাঁড়িয়ে, এমনকি শুয়ে-বসেও ছোঁয়া যায়। চাইলে দু-একটা পেড়ে খেতেও পারবেন। যাঁরা এই অভিজ্ঞতা নিতে চান, তাঁরা এখনই চলে যেতে পারেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ আমের বাগানে। প্রখর এই রোদেও ছায়াঘেরা বাগানগুলোতে পাবেন স্নিগ্ধ, শান্তিময় এক পরিবেশ। দেখবেন বিস্তৃত বাগানে একের পর এক গাছ থেকে পাড়া হচ্ছে আম। ঝুড়িতে করে নিয়ে সেই আম তোলা হচ্ছে ভ্যানে। এরপর সেই ভ্যান যাচ্ছে হাটে। সেখানে সারি সারি মানুষ মণকে মণ আম বিক্রি করছেন। তবে ৪০ কেজিতে নয়, এখানে ৪৫ বা ৪৮ কেজিতে মণ ধরা হয়। কারণ, কিছু আম নষ্ট হয়ে যেতে পারে। এখানকার শিবগঞ্জ উপজেলাকে বলা হয় আমের রাজধানী। রাজশাহী শহর থেকে ৫০ কিলোমিটার দূরত্বে চাঁপাইনবাবগঞ্জ। সড়কপথে ঘণ্টা দেড়েক লাগবে। একসময় চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার পুরোটাই নাকি ছিল আমের বাগান। এখনো শহরের আদালতপাড়া, পুলিশ সুপারের কার্যালয়, জেলা প্রশাসকের কার্যালয় এবং কলেজের পুরো অংশই আমবাগান। শহরটা ঘুরলে মনে হবে, আমবাগানের মধ্যেই যেন মানুষের বসতি। সদর উপজেলা ছাড়াও শিবগঞ্জ, ভোলাহাট ও গোমস্তাপুর- এই উপজেলাগুলোও আমবাগানের মধ্যে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহর থেকে বের হয়ে মহানন্দা সেতু পেরিয়ে শিবগঞ্জের দিকে রওনা দিলে রাস্তার দুই পাশে চোখে পড়বে হাজার হাজার আমের বাগান। শহর থেকে শিবগঞ্জের দূরত্ব মাত্র ১৭ কিলোমিটার। সঙ্গে গাড়ি থাকলে আধা ঘণ্টারও কম সময়ে পৌঁছে যেতে পারবেন। রাস্তায় যেতে যেতে চোখে পড়বে আমের ভ্যান, আমের গাড়ি, মানুষের হাতে আম, মাথায় আম।

শিবগঞ্জের সেনের বাগান, মোজাফফর মিয়াদের বাগান, কানসাটের রাজার বাগান, কানসাটের পাগলা নদীর পশ্চিম পারের চৌধুরীদের বাগানসহ আরও অনেক নামকরা আমের বাগান রয়েছে। চাইলে রাস্তার পাশের যেকোনো আমবাগানে ঢুকে যেতে পারবেন।

সারা বছর আমবাগানগুলোতে ব্যস্ততা থাকলেও এপ্রিল, মে, জুন, জুলাই—এই সময়টা আমবাগানে ঘোরার জন্য ভালো সময়। কারণ, চাইলে এই সময়ে আম খেতেও পারবেন। শিবগঞ্জে এসে আপনি যেকোনো বাগানে ঘুরতে পারবেন। বিশ্রাম নিতে পারবেন আমবাগানের মধ্যে থাকা ছোট্ট ঘরে।

আমবাগান তো ঘুরলেন, আমের হাটে যাবেন না? শিবগঞ্জ ঘুরতে এসে কানসাট না যাওয়াটা বিশাল বোকামি। কানসাটেই সম্ভবত বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় আমের হাট। এখানে যত দূর চোখ যায়, দেখবেন আমের বেচাকেনা। ফজলি, ক্ষীরসাপাত, ল্যাংড়া, গোপালভোগ, বোম্বাই, লক্ষ্মণভোগ, ফনিয়া, হিমসাগরসহ শত শত প্রজাতির আম। কিছুক্ষণ দাঁড়ালেই দেখবেন হাটে গাড়ি ঢুকছে, বের হচ্ছে, লোকজন আসছে-যাচ্ছে, মনে হবে এ যেন আমের স্বর্গ। দেখতে দেখতে ক্লান্ত হয়ে গেলে হাটের পাশের ছোট দোকানগুলোতে বসে খেতে পারবেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের বিখ্যাত কালাই রুটি। এই হাট থেকে যত খুশি আম কিনতে পারবেন। শিবগঞ্জ থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরেই সোনামসজিদ স্থলবন্দর। চাইলে সেখানেও একবার ঘুরে আসতে পারেন।

source: Dip Biswas