Yearly Archives

2019

30 Dec 2019

ভারতের মেঘালয় ঘুরতে যেতে চান কিন্তু অফিস থেকে বড় ছুটি পাচ্ছেন না অথবা আকাশে লক্ষ তারার মেলা, গৃহত্যাগী জোস্নাময় শীতের রাতে পাহাড়ি নদীর ধারে তাবুবাস করতে চান সাথে ক্যাম্প ফায়ার, অথবা স্বচ্ছ জলের বহমান পাথুরে নদীতে ঝাপাঝাপি অথবা স্নোরকেলিং/ কায়াকিং/বোটিং করতে চান তবে এই ট্যুরটি আপনার জন্য। মাত্র দুই দিন সময় হাতে নিয়েই ঘুরে আসতে পারেন মেঘালয়ের স্বচ্ছ জলের গ্রাম “সোনাংপেডেং”।

সোনাংপেডেং ভারতের মেঘালয় রাজ্যের জৈন্তা হিলস জেলার অন্তর্গত একটি পাহাড়ি অপরুপ গ্রাম। গ্রামটি বাংলাদেশের তামাবিল বর্ডার থেকে মাত্র ৫ কিলোমিটার এবং মেঘালয়ের রাজধানী শিলং থেকে ৯৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। সোনাংপেডেং এর সৌন্দর্যের প্রধান আকর্ষন এই গ্রামের ভিতর দিয়ে বয়ে চলা স্বচ্ছ, সবুজ জলের পাথুরে নদী “উমংগট”। এই নদীটিই জাফলং সীমান্ত দিয়ে গোয়াইন নদী নামে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। উল্লেখ্য এই নদীর বাংলাদেশে প্রবেশ মুখেই সিলেটের বিখ্যাত পর্যটন কেন্দ্র জাফলং অবস্থিত।সোনাংপেডেং যেতে হলে ভিসায় পোর্ট “বাই রোড ডাউকি” থাকতে হবে। তো চলুন ঘুরে আসি স্বচ্ছ জলের গ্রাম “সোনাংপেডেং”।

সকাল ৫ টা, সিলেটের কদমতলী বাসস্ট্যান্ড। ঢাকাতে শীত না থাকলেও সিলেটে যে শীত বিদ্যমান তা ভালো ভাবেই বুঝতে পারছিলাম। বাস থেকে নেমে নাস্তা সেরে সকাল ৯ টার মধ্যে চলে আসি তামাবিল স্থলবন্দরে। পোর্ট এ কোন ভীড় নেই। কিন্তু এখানেই ঘটলো বিপত্তি। পোর্ট এ এখন আর ট্রাভেল ট্যাক্স দেয়া যায় না। ট্রাভেল ট্যাক্স জমা দিতে হবে জৈন্তাপুর এ। কি আর করার আবার বেক করে জৈন্তাপুর এসে ট্রাভেল ট্যাক্স জমা দিয়ে আবার পোর্ট এ আসতে আসতে ঘড়িতে সময় ১০.৩০ মিনিট।

ভীড় নেই, খুব অল্প সময়ের মধ্যে বাংলাদেশ সাইডের ইমিগ্রেশন শেষ করে প্রবেশ করলাম ভারত ভূখন্ডে এবং ভারতীয় ইমিগ্রেশন শেষ করে ইমিগ্রেশন ভবনের সামনে জীপ স্ট্যান্ড হতে চার আসনের গাড়ি রিজার্ভ করে ফেলি। আমাদের প্রথম গন্তব্য ক্রাংসুরি ফলস। গাড়ি আমাদের ডাউকি বাজার হয়ে ক্রাংসুরি ফলস ঘুরিয়ে সন্ধায় সোনাংপেডেং এ নামিয়ে দেবে। ভাড়া ২০০০ রুপি। ডাউকি বাজার থেকে আমরা সিম ও রুপি সংগ্রহ করে নেই। আমাদের মূল লক্ষ্য সোনাংপেডেং এ ক্যাম্পেইন হলেও ক্রাংসুরি ফলস দেখাটা ট্যুরের বাড়তি পাওনা।

প্রতিবার সিলেট ঘুরতে এসে মেঘালয় পাহাড় গুলো দেখে দেখে ছুতে না-পারার মন খারাপের গল্পগুলোর আজ বিপরীত দিক, গাড়ি ছুটে চলছে মেঘালয় পাহারের উপর দিয়ে। মাঝে মাঝে গাড়ির জানালা দিয়ে পাহাড়ের নিচে চোখে পরছে আমার প্রিয় বাংলাদেশ। ডাউকি টু ক্রাংসুরি ফলস যাওয়ার রাস্তার সৌন্দর্য দেখে বিমোহিত হয়ে রাস্তার প্রতিটি বাঁকে বাঁকে গাড়ি দাঁড় করিয়ে ছবি তোলার ইচ্ছাটা অনেক কষ্টে দমন করতে হচ্ছিলো৷ ঘন্টাখানেকের মধ্যে আমরা চলে আসি ক্রাংসুরি। গাড়ি থেকে নেমে প্রথমেই ঢুকে পরি রেষ্টুরেন্টে কারন এখনো দুপুরের খাবার খাওয়া হয়নি। প্রচুর ক্ষুধার্ত, তাই আগে চাই পেট পুজো।

পেট পুজো শেষে পাহাড়ের বুকে বানানো সিড়ি দিয়ে নিচে নামতে শুরু করলাম৷ অল্প কিছু সময় নামার পর দূরে দৃশ্য মান হলো ক্রাংসুরি ফলস। ফলসের উপরিভাগটা দেখতে অনেকটা নদী মতো। যার সামনে একটি বাঁধ দেওয়া আছে। আর সেই বাঁধ থেকেই পানি উপচে ফলস এ পরছে। প্রায় দশ পনেরো মিনিট নিচে নামতেই পেয়ে গেলাম ক্রাংসুরি ফলসের টিকেট কাউন্টার। এখান থেকে জন প্রতি ৫০ রুপি করে টিকেট সংগ্রহ করে প্রবেশ করি নীলপানি’র ঝর্ণাকুন্ড ক্রাংসুরি ফলস।

বর্ষায় ঝর্ণার যে যৌবন ফুটে উঠে এখন তা নেই। পানির পরিমান খুবি কম কিন্তু এখন এক অদ্ভুত সৌন্দর্য নিয়ে বসে আছে ক্রাংসুরি। কাচের মতো স্বচ্ছ পানি, উপর থেকে মনে হচ্ছিলো গারো নীল।৷ ঝর্ণার এমন স্বচ্ছ ও নীল রং এর আগে কখনো দেখিনি। ঝর্ণার সৌন্দর্য দেখে স্বচ্ছ জলে ঝাপ দেয়ার চিন্তাটা মাথাথেকে ঝেরে ফেলতে হলো জলে পা দেয়ার সাথে সাথে। ভয়ংকর রকমের ঠান্ডা পানি। এই পড়ন্ত দুপুরে এক মাত্র আকিব ভাইই আমাদের মধ্যে পানিতে নামার সাহস দেখান। যদিও পানি থেকে উঠার পর যা ঘটেছিলো তা ইতিহাস। এই জলে নামতে হলে ৩০ রুপি দিয়ে লাইফ জ্যাকেট ভাড়া করে নামতে হবে। লাইফ জ্যাকেট ছাড়া কাউকে পানিতে নামতে দেওয়া হয় না। আপনি চাইলে ঝর্ণার উপরিভাগে বাঁধের ওপাশে নীল জলে লাল রঙের বোটে বোটিং করতে পারেন। আমরা ঝর্ণায় সৌন্দর্য দেখে এতটাই বিমোহিত হয়েছিলাম যে ঐ দিকে যাওয়ার ইচ্ছেই হয় নি।

হিম হিম ঠান্ডা বাতাস৷ সন্ধা গড়িয়ে রাতের আধার গ্রাস করে নিয়েছে প্রকৃতিকে। এমন সময় আমরা পৌছলাম সোনাংপেডেং এ। সোনাংপেডেং এ ঢোকার সময় “সোনাংপেডেং ডিফেন্স পার্টির” কাছথেকে ৩০ রুপি দিয়ে গাড়ি প্রতি প্রবেশ টিকেট নিতে হলো।

এবার আমাদের ট্যুরের মূল আকর্ষন সোনাংপেডেং এর উমংগট নদীর তীরে তাবু বাসের পালা। দ্রুত তাবু ভাড়া করে ফেলি। তাবু আমাদের ফেলতে হয়নি, যাদের কাছ থেকে ভাড়া নিয়েছি তারাই ফেলে দিয়েছে। দুই জনের সাইজের তাবু ভাড়া ৭০০ রুপি এবং ৩ জনের সাইজের তাবু ১০০০ রুপি। আপনারা চাইলে কটেজেও থাকতে পারেন। তবে সোনাংপেডেং এ ক্যাম্পেইন কারাটাই আমার মতে বেষ্ট। ক্যাম্প সাইটের হোটেলে রাতের খবারের অর্ডার দিয়ে দেই। খাবার তাবুতে পাঠিয়ে দেবে। আপনারা চাইলে হোটেলে এসে খেতে পারেন।

নদীর পাশে বালুর উপর আমাদের তাবু ফেলা হয়েছে। প্রচন্ড ঠান্ডা বাতাস, তাবুর সামনে পাথড়ের উপর বসলাম, আকাশে অদ্ভুত চাঁদটি নেই কিন্তু লক্ষ লক্ষ তারা জ্বল জ্বল করছিলো। আর সামনে নদীর ওপারে বিশালাকার সুউচ্চ পাহাড় টা আধারে মনে হচ্ছিলো বড় পর্দার মতো। আমাদের তাবুর আসেপাশে অনেক গুলো তাবু। বেশ কিছু তাবুর সামনে ক্যাম্প ফায়ার জ্বল ছিলো। রাতের আধার নদীর জলের স্বচ্ছতাকে গ্রাস করে নিলেও ক্যাম্প ফায়ারের আলো আর পাথুরে নদীর জল-পাথরের অপূর্ব সংগীত দুই মিলে তৈরি করছিলো এক অদ্ভুত মাদকতা, এরই মাঝে আকিব ভাই নিজের গলায় ধরে ফেললেন “বেধেছে এমনো ঘর শূন্যের উপর পোস্তা করে….. ধন্য ধন্য ও বলি তারে…..।

যখন ঘুম ভাঙ্গলো তখন সময় সকাল ৭ টা। বাহিরে প্রচন্ড ঠান্ডা বাতাস। অলসতা ঝেরে ফেলে তাবু থেকে বের হয়ে গেলাম কারণ দিনের আলোয় এখনো সোনাংপেডেং দেখা হয়নি। ক্যাম্পেইন জোনের পাশেই রয়েছে পর্যটকদের জন্য বাথরুম ও ফ্রেশ হওয়ার স্থান। ফ্রেশ হয়ে, নাস্তা করে প্রথমেই চলে যাই সাসপেন্স ব্রীজে। ব্রীজের উপর থেকে নিচে নদীর স্বচ্ছ জল দেখতে গাড়ো নীল। পানির নিচে প্রতিটি পাথর দেখা যাচ্ছিলো। ক্যামেরার প্রতিটি ক্লিকে পানির রং এর ভিন্নতা ধরা পড়ছিলো। নৌকা গুলো দেখে মনে হচ্ছিলো যেন স্বচ্ছ কাচের উপর ভাসছে। সাসপেন্স ব্রীজই সোনাংপেডেং এর সৌন্দর্য উপভোগ করার বেষ্ট স্থান।

ভয়ংকর ঠান্ডা পানি। কিন্তু এই জলে ঝাপাঝাপি করার লোভ সামলানো সম্ভব নয়। তাই সূর্যে তাপ একটু বাড়ার অপেক্ষায়। মধ্য গগনে সূর্য। ৫০ রুপি দিয়ে লাইফ জ্যাকেট ভাড়া করে নেমে পরলাম হাড় কাপানো ঠান্ডা জলে (লাইফ জ্যাকেট নেয়া বাধ্যতামূলক)। কখন যে চলে গেছে ২ ঘন্টা বুঝতেই পারিনি। যদিও আমাদের আজ দেশে ফিরতে হবে। অবশ্য এটা কোন সমস্যা না কারন পোর্ট খোলা থাকে বিকেল ৫ টা পর্যন্ত (ইন্ডিয়ান সময়)। তাই ঠান্ডা কে জয় করে আরামছে ঝাপাঝাপি চলতে থাক।

দুপুর ৩ টা। সোনাংপেডেং কে বিদায় জানিয়ে গাড়ি রিজার্ভ করে চলে আসি ডাউকি বাজার (সোনাংপেডেং টু ডাউকি বাজার লোকাল গাড়িউ আছে)। আপনারা চাইলে সোনাংপেডেং থেকে সরাসরি পোর্ট এ চলে যেতে পারেন। আর যদি আমাদের মতো হাল্কা কেনাকাটা করতে চান তবে চলে আসুন ডাউকি বাজার। ডাউকি খুব ছোট একটি বাজার। খুব বেশি কিছু নেই। তাই টুকটাক কেনাকাটা করে মেঘালয় কে বিদায় জানিয়ে দেশের পথে।

নদী বা ঝর্নার পানিতে অপচনশীল কিছু ফেলবেন না। পরিবেশর ক্ষতি হয় এমন কার্যকলাপ থেকে বিরত থাকুন।

Source: Ariful Rajib‎<Travelers of Bangladesh (ToB)

29 Dec 2019

অনেকদিন ধরে ইচ্ছে ছিল এটায় যাওয়ার। যদিও অনেকের কাছে এটা দেখার মত কিছু না, পরিত্যক্ত বাড়ি হিসেবে চলে কিন্তু আমার কাছে জমিদার বাড়ি মানেই শ’খানেক বছর আগের জীবনকে অনুভব করা, বাড়ির প্রতিটি ইটের গাঁথুনিতে অন্য সময়ের গল্প লিখা। সেই গল্প সাধারণ চোখে দেখা যায় না।

♣️ তেওতা জমিদার বাড়ির ইতিহাসঃ
তেওতা জমিদার বাড়ি মানিকগঞ্জ জেলার শিবালয় উপজেলায় অবস্থিত বাংলাদেশের প্রাচীন একটি জমিদার বাড়ি ও প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনা। এটি উপজেলার তেওতা নামক গ্রামে অবস্থিত।
ইতিহাসবিদদের মতে, সতেরশ’ শতকে এই জমিদার বাড়িটি নির্মাণ করা হয়েছিল। এটি নির্মাণ করেছিলেন পঞ্চানন সেন নামক একজন জমিদার। জনশ্রুতি অনুসারে, পঞ্চানন সেন এক সময় খুবই দরিদ্র ছিলেন ও দিনাজপুর অঞ্চলে তিনি তামাক উৎপাদন করে প্রচুর ধনসম্পত্তির মালিক হওয়ার পর এই প্রাসাদটি নির্মাণ করেন। পরবর্তিতে এখানে জমিদারি প্রতিষ্ঠিত করে জয়শংকর ও হেমশংকর নাম দুজন ব্যক্তি। ভারত বিভক্তির পর তারা দুজনেই ভারত চলে গেলে বাড়িটি পরিত্যক্ত হয়ে যায়।

♣️ অবকাঠামোঃ
তেওতা জমিদার বাড়িটি মোট ৭.৩৮ একর জমি নিয়ে স্থাপিত। মূল প্রাসাদের চারপাশে রয়েছে আরও বিভিন্ন ধরনের স্থাপনা ও একটি বড় পুকুর। প্রাসাদের মূল ভবনটি লালদিঘী ভবন নামে পরিচিত। এখানে একটি নটমন্দিরও রয়েছে। এছাড়াও এখানে রয়েছে নবরত্ন মঠ ও আর বেশ কয়েকটি মঠ। সবগুলো ভবন মিলিয়ে এখানে মোট কক্ষ রয়েছে ৫৫টি।

♣️ যাতায়াত ব্যবস্থাঃ
গাবতলী থেকে পাটুরিয়াগামী বি আর টি সি / সেলফী পরিবহন বাসে মানিকগঞ্জের উথলী নেমে সেখান থেকে ১০ টাকা ভাড়ায় আরিচা ঘাট আসা যায়। আরিচা থেকে অটো বা রিকশায় সরাসরি এখানে আসা যাবে।

♣️ খাবারঃ দুপুরের খাবারের জন্য আরিচা ঘাটে বৈশাখী হোটেল বেশ ভালো মানের।
বিঃ দ্রঃ যেখানেই যান সেখানকার পরিবেশ যেন নষ্ট না হয় সেদিকে খেয়াল রাখবেন।। ময়লা নির্ধারিত স্থানে ফেলুন। এখানকার পরিবেশ রক্ষায় সচেতন থাকবেন সবাই।

28 Dec 2019

প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যের সাথে মানুষের প্রেম বহুযুগের। তাই প্রায় সবার মনেই ইচ্ছে থাকে অন্তত নিজ দেশটাকে ঘুরে দেখার। সময়, সুযোগ, সঙ্গী, অর্থ কিংবা যাতায়াত ব্যবস্থার কারনে অনেকেরই হয়তো যাওয়া হয়ে ওঠেনা। আবার অনেকেই শত বাঁধা উপেক্ষা করে বেড়িয়ে পরেন অজানা গন্তব্যের উদ্দেশ্য। ঘুরতে যেমন আমার ভাল লাগে তেমনি যারা ঘুরতে পছন্দ করে তাদেরকেও ভাল লাগে।

তুলনামূলক ছোট আয়তনের দেশ হলেও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যের আধার আমাদের অপরূপ বাংলাদেশ। সমুদ্র, নদী, পাহাড়, ঝর্ণা, ফসলের মাঠ, চা বাগান, সবুজ বন আর নানা ঐতিহাসিক স্থাপনায় সমৃদ্ধ এই দেশের সৌন্দর্য্যের কোন তুলনা নেই। প্রায়শই নতুন নতুন পর্যটন আকর্ষণ খুঁজে বের করছেন তরুণরা। ব্যক্তিগতভাবে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যের বিচারে আমার দেখা দেশের সেরা দশটি পর্যটন এলাকা তুলে ধরলাম। আপনার বিবেচনায় ভিন্ন হতেই পারে।

প্রতিটি জায়গার ও যাতায়াতের সংক্ষিপ্ত বিবরণ নিম্নক্রমানুসারে দেয়া হয়েছে।

১০. বিরিশিরি
জায়গাটা নেত্রকোনার দূর্গাপুরে অবস্থিত। শীতকালে গেলে পানির রঙটা ছবিতে যেমন দেখাচ্ছে তেমনই দেখতে পাবেন। আর ছোট ছোট টিলাগুলো সাদা বা চীনা মাটির।
ঢাকা থেকে বাসে দূর্গাপুর নেমে অটো বা মোটরসাইকেল ভাড়া নিয়ে যেতে পারবেন। তবে রাস্তার অবস্থা ব্যাপক রকমের খারাপ।

০৯. শহীদ সিরাজ লেক/নিলাদ্রী লেক
সুনামগঞ্জের তাহেরপুর থানার টেকেরঘাটে অপরূপ সুন্দর এই লেকটির অবস্থান। দূরের পাহাড়গুলো ইন্ডিয়ানদের। জাদুকাটা নদীর খেয়া পার হয়ে বারিক্কা/বারেক টিলা ক্রস করে ৭/৮ কিমি সামনে এগুলেই নিলাদ্রী লেক চোঁখে পড়বে। এই ৭/৮ কিমি রাস্তার সৌন্দর্য অসাধারন। এখান থেকে কাছেই রয়েছে নয়নাভিরাম শিমূল বাগান।
বাসে সুনামগঞ্জ এসে মোটরসাইকেল ভাড়া করে যাওয়াই সবচেয়ে উত্তম। নাহলে পথ ভুল করার সম্ভাবনা থাকবে।

০৮. রাতারগুল
সিলেট জেলার গোয়াইনঘাট উপজেলায় রাতারগুল অবস্থিত। রাতারগুল যাওয়ার ভাল সময় বর্ষাকাল। ছোট নৌকা ভাড়া করে পুরোটা জলাবন ঘুরে দেখা যায়। বনের মাঝে অবস্থিত ওয়াচ টাওয়ারে উঠলে পুরো বনের অসাধারন ভিউ পাওয়া যায়।
বাস, ট্রেন বা বিমানে সিলেটে নেমে ছোট গাড়ি বা সিএনজি নিয়ে একদম নৌকাঘাট পর্যন্ত যাওয়া যাবে।

০৭. বিছনাকান্দি
ছোট বড় পাথর, খাল আর পাহাড়বেষ্টিত এই অপরূপ বিছনাকান্দিও সিলেটের গোয়াইনঘাটে। দূর পাহার থেকে বেয়ে আসা ঝর্নার শীতল পানির স্রোত আপনাকে মোহনিয় করবেই। চাইলে রাতারগুল আর বিছনাকান্দি একই দিনে ঘুরে আসা যায়। তবে বিছনাকান্দির রাস্তার শেষদিকটা বেসম্ভব খারাপ।

০৬. নীলগিরি
প্রায় ২২০০ ফিট উচুতে অবস্থিত নীলগিরি রিসোর্টই দেশের সবচেয়ে উচু রিসোর্ট। খুব সকালে পৌছাতে পারলে মেঘের ছোয়া পাওয়া যাবে। বান্দরবান শহর থেকে প্রায় ৪৭ কিমি দূরে এর অবস্থান। তবে রিসোর্ট হলেও এখানে রাত কাটানোর চিন্তা না করাই ভাল।
ঢাকা থেকে বাসে বান্দরবান পৌছে চান্দের গাড়ি অথবা সিএনজি নিয়ে যাওয়া যাবে।

০৫. কূয়াকাটা
একই জায়গা থেকে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দেখার জন্য বিখ্যাত দক্ষিণবঙ্গের সাগরকন্যা কূয়াকাটা। আমার পছন্দের মূল কারন অবশ্য বড় ঢেউ আর প্রাকৃতিক পরিবেশ। ঢেউগুলো বীচের খুব কাছে আসায় এখানে সমুদ্রস্নানের মজাটা কক্সবাজার থেকে কয়েকগুণ বেশি।
ঢাকা থেকে সরাসরি বাসে অথবা লঞ্চে বরিশাল/পটুয়াখালী হয়ে যাওয়া যাবে কূয়াকাটায়।

০৪. সুন্দরবন
এই ছবিটি আমার তোলা না। নেট থেকে নেয়া। অনেক বছর আগে যখন গিয়েছি তখন মোবাইল ক্যামেরা ছিলোনা। এনালগ ক্যামেরায় দু-চারটে ছবি তুলেছিলাম হয়তো। নতুনভাবে আরেকবার যাওয়ার প্লান আছে।
বর্তমানে নিরাপত্তা ও যাতায়াতের কথা চিন্তা করে কোন ট্রাভেল এজেন্সির সাথে গেলেই ভাল হবে। এছাড়া বড় গ্রুপ অাকারে গেলে খরচ অনেকটা কম পড়বে আর নিরাপত্তা বেশি নিশ্চিত হবে।

০৩. কক্সবাজার
বৃহত্তম সমুদ্র সৈকত হিসেবে কক্সবাজার সারাবিশ্বেই কমবেশি পরিচিত। আমরাই এর মূল্যায়ন করলাম না। অপরিচ্ছন্ন বীচ আর অপরিকল্পিত, অনিয়ন্ত্রিত ব্যাবস্থাপনার কারনে অনেকেই এখন যেতে চায়না। যদিও এরপরেও ভ্রমনপিপাসুদের নিকট এখনও শীর্ষে কক্সবাজার।
কক্সবাজারের সাথে প্রায় সারাদেশের সাথেই রয়েছে সরাসরি বাস যোগাযোগব্যবস্থা।

০২. সাজেক
রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলায় অবস্থিত পাহাড়ঘেরা সাজেক আমার কাছে অসাধারন মনে হয়েছে। বিশেষত এখানে কাটানো রাতটা আপনার স্মৃতিতে অমলিন হয়ে থাকবেই। খাগড়াছড়ি থেকে সাজেক যাওয়ার আঁকাবাঁকা, উঁচুনিচু, খাড়া পুরোটা পথই রোমাঞ্চকর।
ঢাকা থেকে বাসে খাগড়াছড়ি এসে চান্দের গাড়িতে যাওয়া যাবে মেঘ ও পাহাড়ের মিলনক্ষেত্র সাজেকে।

০১. সেন্ট মার্টিন
দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্ট মার্টিন। চারিদিকে সমুদ্রের নীল জলরাশি বেষ্টিত দ্বীপটির রূপ আপনাকে মুগ্ধ করবেই। আমার দৃষ্টিতে ০১ নম্বর তাই সেন্ট মার্টিনই।
কক্সবাজার থেকে ট্রাভেল এজেন্সিগুলোর সাথে নিরাপদে ঘুরে আসতে পারবেন হুমায়ূন আহমেদের স্মৃতি বিজড়িত দ্বীপটি থেকে। চাইলে রাতও কাটানো যাবে।

কোথাও ঘুরতে গিয়ে পরিবেশ নষ্ট বা নোংরা করা থেকে বিরত থাকলে নিশ্চয়ই প্রাকৃতিক সৌন্দর্য অক্ষুণ্ণ থাকবে। তাই সবারই এই বিষয়টা গুরুত্বের সাথে মানা উচিত।
Source:

প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যের সাথে মানুষের প্রেম বহুযুগের। তাই প্রায় সবার মনেই ইচ্ছে থাকে অন্তত নিজ দেশটাকে ঘুরে দেখার। সময়, সুযোগ, সঙ্গী, অর্থ কিংবা যাতায়াত ব্যবস্থার কারনে অনেকেরই হয়তো যাওয়া হয়ে ওঠেনা। আবার অনেকেই শত বাঁধা উপেক্ষা করে বেড়িয়ে পরেন অজানা গন্তব্যের উদ্দেশ্য। ঘুরতে যেমন আমার ভাল লাগে তেমনি যারা ঘুরতে পছন্দ করে তাদেরকেও ভাল লাগে।

তুলনামূলক ছোট আয়তনের দেশ হলেও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যের আধার আমাদের অপরূপ বাংলাদেশ। সমুদ্র, নদী, পাহাড়, ঝর্ণা, ফসলের মাঠ, চা বাগান, সবুজ বন আর নানা ঐতিহাসিক স্থাপনায় সমৃদ্ধ এই দেশের সৌন্দর্য্যের কোন তুলনা নেই। প্রায়শই নতুন নতুন পর্যটন আকর্ষণ খুঁজে বের করছেন তরুণরা। ব্যক্তিগতভাবে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যের বিচারে আমার দেখা দেশের সেরা দশটি পর্যটন এলাকা তুলে ধরলাম। আপনার বিবেচনায় ভিন্ন হতেই পারে।

প্রতিটি জায়গার ও যাতায়াতের সংক্ষিপ্ত বিবরণ নিম্নক্রমানুসারে দেয়া হয়েছে।

১০. বিরিশিরি
জায়গাটা নেত্রকোনার দূর্গাপুরে অবস্থিত। শীতকালে গেলে পানির রঙটা ছবিতে যেমন দেখাচ্ছে তেমনই দেখতে পাবেন। আর ছোট ছোট টিলাগুলো সাদা বা চীনা মাটির।
ঢাকা থেকে বাসে দূর্গাপুর নেমে অটো বা মোটরসাইকেল ভাড়া নিয়ে যেতে পারবেন। তবে রাস্তার অবস্থা ব্যাপক রকমের খারাপ।

০৯. শহীদ সিরাজ লেক/নিলাদ্রী লেক
সুনামগঞ্জের তাহেরপুর থানার টেকেরঘাটে অপরূপ সুন্দর এই লেকটির অবস্থান। দূরের পাহাড়গুলো ইন্ডিয়ানদের। জাদুকাটা নদীর খেয়া পার হয়ে বারিক্কা/বারেক টিলা ক্রস করে ৭/৮ কিমি সামনে এগুলেই নিলাদ্রী লেক চোঁখে পড়বে। এই ৭/৮ কিমি রাস্তার সৌন্দর্য অসাধারন। এখান থেকে কাছেই রয়েছে নয়নাভিরাম শিমূল বাগান।
বাসে সুনামগঞ্জ এসে মোটরসাইকেল ভাড়া করে যাওয়াই সবচেয়ে উত্তম। নাহলে পথ ভুল করার সম্ভাবনা থাকবে।

০৮. রাতারগুল
সিলেট জেলার গোয়াইনঘাট উপজেলায় রাতারগুল অবস্থিত। রাতারগুল যাওয়ার ভাল সময় বর্ষাকাল। ছোট নৌকা ভাড়া করে পুরোটা জলাবন ঘুরে দেখা যায়। বনের মাঝে অবস্থিত ওয়াচ টাওয়ারে উঠলে পুরো বনের অসাধারন ভিউ পাওয়া যায়।
বাস, ট্রেন বা বিমানে সিলেটে নেমে ছোট গাড়ি বা সিএনজি নিয়ে একদম নৌকাঘাট পর্যন্ত যাওয়া যাবে।

০৭. বিছনাকান্দি
ছোট বড় পাথর, খাল আর পাহাড়বেষ্টিত এই অপরূপ বিছনাকান্দিও সিলেটের গোয়াইনঘাটে। দূর পাহার থেকে বেয়ে আসা ঝর্নার শীতল পানির স্রোত আপনাকে মোহনিয় করবেই। চাইলে রাতারগুল আর বিছনাকান্দি একই দিনে ঘুরে আসা যায়। তবে বিছনাকান্দির রাস্তার শেষদিকটা বেসম্ভব খারাপ।

০৬. নীলগিরি
প্রায় ২২০০ ফিট উচুতে অবস্থিত নীলগিরি রিসোর্টই দেশের সবচেয়ে উচু রিসোর্ট। খুব সকালে পৌছাতে পারলে মেঘের ছোয়া পাওয়া যাবে। বান্দরবান শহর থেকে প্রায় ৪৭ কিমি দূরে এর অবস্থান। তবে রিসোর্ট হলেও এখানে রাত কাটানোর চিন্তা না করাই ভাল।
ঢাকা থেকে বাসে বান্দরবান পৌছে চান্দের গাড়ি অথবা সিএনজি নিয়ে যাওয়া যাবে।

০৫. কূয়াকাটা
একই জায়গা থেকে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দেখার জন্য বিখ্যাত দক্ষিণবঙ্গের সাগরকন্যা কূয়াকাটা। আমার পছন্দের মূল কারন অবশ্য বড় ঢেউ আর প্রাকৃতিক পরিবেশ। ঢেউগুলো বীচের খুব কাছে আসায় এখানে সমুদ্রস্নানের মজাটা কক্সবাজার থেকে কয়েকগুণ বেশি।
ঢাকা থেকে সরাসরি বাসে অথবা লঞ্চে বরিশাল/পটুয়াখালী হয়ে যাওয়া যাবে কূয়াকাটায়।

০৪. সুন্দরবন
এই ছবিটি আমার তোলা না। নেট থেকে নেয়া। অনেক বছর আগে যখন গিয়েছি তখন মোবাইল ক্যামেরা ছিলোনা। এনালগ ক্যামেরায় দু-চারটে ছবি তুলেছিলাম হয়তো। নতুনভাবে আরেকবার যাওয়ার প্লান আছে।
বর্তমানে নিরাপত্তা ও যাতায়াতের কথা চিন্তা করে কোন ট্রাভেল এজেন্সির সাথে গেলেই ভাল হবে। এছাড়া বড় গ্রুপ অাকারে গেলে খরচ অনেকটা কম পড়বে আর নিরাপত্তা বেশি নিশ্চিত হবে।

০৩. কক্সবাজার
বৃহত্তম সমুদ্র সৈকত হিসেবে কক্সবাজার সারাবিশ্বেই কমবেশি পরিচিত। আমরাই এর মূল্যায়ন করলাম না। অপরিচ্ছন্ন বীচ আর অপরিকল্পিত, অনিয়ন্ত্রিত ব্যাবস্থাপনার কারনে অনেকেই এখন যেতে চায়না। যদিও এরপরেও ভ্রমনপিপাসুদের নিকট এখনও শীর্ষে কক্সবাজার।
কক্সবাজারের সাথে প্রায় সারাদেশের সাথেই রয়েছে সরাসরি বাস যোগাযোগব্যবস্থা।

০২. সাজেক
রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলায় অবস্থিত পাহাড়ঘেরা সাজেক আমার কাছে অসাধারন মনে হয়েছে। বিশেষত এখানে কাটানো রাতটা আপনার স্মৃতিতে অমলিন হয়ে থাকবেই। খাগড়াছড়ি থেকে সাজেক যাওয়ার আঁকাবাঁকা, উঁচুনিচু, খাড়া পুরোটা পথই রোমাঞ্চকর।
ঢাকা থেকে বাসে খাগড়াছড়ি এসে চান্দের গাড়িতে যাওয়া যাবে মেঘ ও পাহাড়ের মিলনক্ষেত্র সাজেকে।

০১. সেন্ট মার্টিন
দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্ট মার্টিন। চারিদিকে সমুদ্রের নীল জলরাশি বেষ্টিত দ্বীপটির রূপ আপনাকে মুগ্ধ করবেই। আমার দৃষ্টিতে ০১ নম্বর তাই সেন্ট মার্টিনই।
কক্সবাজার থেকে ট্রাভেল এজেন্সিগুলোর সাথে নিরাপদে ঘুরে আসতে পারবেন হুমায়ূন আহমেদের স্মৃতি বিজড়িত দ্বীপটি থেকে। চাইলে রাতও কাটানো যাবে।

কোথাও ঘুরতে গিয়ে পরিবেশ নষ্ট বা নোংরা করা থেকে বিরত থাকলে নিশ্চয়ই প্রাকৃতিক সৌন্দর্য অক্ষুণ্ণ থাকবে। তাই সবারই এই বিষয়টা গুরুত্বের সাথে মানা উচিত।
Source: Escapist Antu‎<Travelers of Bangladesh (ToB)

24 Dec 2019

চলো সিলেট যাই! ২-৩ দিন থাকবো, সব জায়গায় ঘুরবো। ২৫শে আগস্টের ট্রেনের টিকিট কেটে ফেল্লাম; ফার্স্টক্লাস পাইনি- পেলাম শোভন চেয়ার। বিমানবন্দর থেকে উঠে পরলাম। উঠেই মনে হলো বাসে গেলেও পারতাম! মাথার উপরে ফ্যান নেই, পুরো বগির সব সুইচ কাজ করে, আমাদের মাথার উপরের বাতির সুইচ কাজ করেনা! তাই সারা রাস্তা বগির একমাত্র জলন্ত বাতির নিচে নির্ঘুম পার করলাম। বাসে গেলেও পারতাম…..

পাঁচভাইতে নাস্তা করলাম; দারুন। আম্বুরখানার কাছাকাছি কোন হোটেলে থাকবো। গেলাম। ভাবলাম হোটেল ভাড়া করে ব্যাগ রেখে সাদাপাথর যাব। হোটেল আর পেলাম না। ভিড় তেমন ছিলনা, তারপরও তাহারা আমাদেরকে গার্লফ্রেন্ড-বয়ফ্রেন্ড ভেবে রুম নাই বলে ভাগিয়ে দিয়েছে। সুতরাং যত বুড়াই হউন না কেন হাসব্যান্ড-ওয়াইফ অবশ্যই কাবিননামা নিয়ে যাবেন; সিলেট সুবিধার না! যাইহোক ২-৩ দিনের ট্যুর ১দিনে পরিণত হলো 😝।

সিস্টার ইন ল এর হোস্টেল কাছে হওয়ায়, ম্যাডামকে ওর ওখানে পাঠিয়ে দিলাম ফ্রেস হবার জন্য। আর আমি ওদেরই বন্ধুবান্ধবদের একটা বয়েজ মেস এ গেলাম। এই হেল্পটুকু পাবো দেখেই হোটেলের জন্য ডেস্পারেট হইনি।

লক্ষ্য ভোলাগন্জের সাদাপাথর। চৌহাট্টা থেকে সিএনজি নিলাম রিজার্ভ। আমরা ২জন, ৪-৫ জন হলে খরচ কম পরে জনপ্রতি, ১৪০০+১০০ নিয়েছিলো। ৩৬ কিমি রাস্তা, ভালো ছিল রাস্তা (২-২.৫ কিমি বাদে, কয়েক জায়গায় কাজ চলছিল)। অনেক জায়গায় সিএনজি থামিয়ে থামিয়ে অনেক ছবি তুলি। পুরো জার্নিটাই দারুণ। ঘাটে পৌছে নৌকা ভাড়া করি।

নৌকা ভাড়া ৮০০; সর্বোচ্চ ৮ জন যেতে পারে। ২জন বিধায় ঝামেলা হয়ে গেল। গ্রুপ খুজছিলাম; আমার ইউনিভার্সিটির ২ ছোটভাই পেয়ে গেলাম (পরিচয় পরে হয়েছে)। ভাড়ার আগে বলে নিয়েছিলাম কমপক্ষে ২ ঘন্টা থাকবো (জরুরী)।

প্রচুর ছবি তুললাম আর পানিতে ভিজলাম। ৭-৮দিন আগে কেনা ND filter টার প্রথম ফিল্ডটেস্ট করার উদ্দেশ্যে বেশ কিছু লং-এক্সপোজার তোলার চেষ্টা করলাম। একটা বড়সড় আছার ও খেলাম। কখন ২ঘন্টা চলে গেছে জানিও না। ফিরে আসলাম ঘাটে।

আসার সময় চা বাগানে দাড়ালাম ছবি তোলার জন্য। চৌহাট্টায় নেমে গেলাম। অবেলায় দুপুরের খাবার খেলাম ভোজনবাড়ি তে (পানসির পাশে)। তারপর SUST এ ঘুরাঘুরি করে আর সুরমা নদীর ব্রীজ থেকে সূর্যাস্ত দেখে চোখের ক্ষুধা মিটালাম। রাতে আবারো ভোজনবাড়ি তে মহাসুস্বাদু গ্রীল-নান খেয়ে ইউনিক বাসে চড়ে বসলাম! আগের ২৪ ঘন্টার নির্ঘুম ভ্রমনের পর দুজনেই এত বেশি টায়ার্ড ছিলাম যে বাসের সিটে পিঠ লাগানোর পর আর কিছু মনে নেই। সুপারভাইজার ডেকে তুলছে ভোরে। জীবনের অন্যতম স্মরনীয় সর্ট ট্যুরটি শেষ করলাম।

অপ্রাসঙ্গিক ডিটেইলস: খরচ ৪১৮০ + খাওয়া দাওয়া+ রিক্সাভাড়া+ হাবিজাবি আলাদা। ৪-৫ জনের গুনিতক আকারে গেলে জনপ্রতি খরচ কমবে।

24 Dec 2019

এই ট্যুর প্ল্যান কেবল বাজেট ট্রাভেলারদের জন্য।

আমরা তিন বন্ধু-ছোট ভাই মিলে ৯ ডিসেম্বর রাতে পঞ্চগড়ের ট্রেনে উঠি।( ট্রেনের টিকিট৫৫০টাকা)। ট্রেন ছাড়ে রাত ৮টায়।
১০ তারিখ সকালে পঞ্চগড় পৌছাতে আমাদের অনেক দেরি হয়ে যায়।পঞ্চগড় থেকে বাংলাবান্ধা যাই ৭০ টাকা বাস ভাড়া দিয়ে। বাসস্ট্যান্ড থেকে অটোতে ১০ টাকা দিয়ে বর্ডারে যাই। বাংলাদেশ বর্ডারের কাজ শেষ করে ডুকে যাই দাদাদের ফুলবাড়ী বর্ডারে। ফুলবাড়ী বর্ডারে কিছু হাদিয়া দিয়ে কাজ শেষ করি😄।
পাশে থেকেই টাকা রুপি করে নেই। সেখান থেকে ১০ টাকা অটোতে করে ফুলবাড়ী বাজার যাই।সেখান থেকে অটোতে ২৫ রুপি দিয়ে শিলিগুড়ি জংশন যাই।

আপনি জংশন থেকে শেয়ার্ড জীপে করে মানেভঞ্জন যেতে পারবেন কিন্তু সকাল ১২/১১ টার পর আর পাবেন না।তবে রিজার্ভ জীপ সব সময় পাবেন আমাদের বিকেল হয়ে যাওয়ায় আমরা শেয়ারিংয়ে ১৫০ রুপি দিয়ে দার্জিলিং চলে যাই। দার্জিলিংয়ে আমরা ৮০০ রুপি দিয়ে হোটেলে ১০ তারিখ রাত কাটাই।রাতে দার্জিলিং শহর ঘুরে দেখি।

১১ তারিখ সকাল ৬টায় উঠে শেয়ার্ড জীপে ৭০ রুপি মানেভঞ্জন চলে যাই।চেকপোস্টে এন্ট্রি করে গাইড এজেন্সি থেকে ৪হাজার রুপি দিয়ে ৪ দিনের জন্য গাইড ঠিক করে ট্রেকিং শুরু করে দেই।
(৪ দিনের গাইডের টাকা আপনাকে আগেই দিতে হবে। পরে অতিরিক্ত ১/২ দিন বেশি লাগলে সে দিনের টাকা গাইডের হাতে দিতে হবে। শুধু সান্দাকফু আর ফালুটে গাইডের ডিনার খরচ আপনাদের দিতে হবে।)
ট্রেকিং করার মজাটা উপভোগ করা শুরু করে দেই। আহা কি এক শান্তিতে মিশে যেতে থাকি আস্তে আস্তে।

কুয়াশার ভিতর দিয়ে আমরা চারজন(গাইডসহ) ট্রেকিং করে ১৬ কিমি শেষ করি ১ম দিনে। সকাল থেকে আমরা চারজন মিলে শুধু ৩ পেকেট বিস্কুট খেয়েছি। খাওয়ার কথা আসলে মনেই থাকে না এমন জায়গায় গেলে।
ঝাউবাড়ী নামে একটা নেপালি গ্রামে পৌঁছে রাতে ১৪০ রুপি দিয়ে ভাত- সবজি -ডাল খেয়ে নেই। ২০০রুপি দিয়ে ১১ তারিখ রাত সেখানেই কাটাই।সেদিনও কোন স্নোফল হয়নি।তবে প্রচুর শীত ছিল।

পরদিন ১২ তারিখ সকাল ৭ টায় ঘুম হতে উঠে ট্রেকিং শুরু করি। আজকে সামিট করার টার্গেট করি। এই ২য় দিনে আমাদের ১৫ কিমি যেতে হবে।
আজকের ট্রেকিংটা আরো বেশি ভাল লাগে। কি আকাবাকা পথ! কিছুক্ষণ ইন্ডিয়ায় হাটছি তো কিছুক্ষণ নেপালে। আহা কিভাবে বুঝাবো সেই অনুভূতি!

সকাল ১০টায় নেপালের আরেকটা পাড়ায় গিয়ে আমরা ৫০ রুপি করে ন্যুডলস খেয়ে আবার ট্রেকিং শুরু করে দেই। অতপর দুপুর ১ঃ৪৬ মিনিটে আমরা ১৫ কিমি শেষ করে স্বপ্নের সান্দাকফুর চূড়ায় পা রাখি। আহা কি আনন্দের হাসি সবার মুখে!
৩৬৬৫ মিটার উপরে চলে আসলাম দুদিন ট্রেক করে! কি এক উল্লাস ভিতরে!
নেপালের ইলাম জেলা এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সর্বোচ্চ চূড়ায় আমরা! তবে কুয়াশার জন্য তখনো এভারেস্টের ভিউ পাইনি।
কিছুক্ষণ উল্লাস করে ২০০রুপি দিয়ে কটেজ ঠিক করে ১ঘন্টা বিশ্রাম নেই। ১ঘন্টা পর বাহিরে গিয়েই অবাক হই। যেটা আশাও করি নাই তাই দেখতে পেলাম। স্নোফল হচ্ছে। সেদিন সন্ধ্যায় এই বছরের প্রথম স্নোফল শুরু হয়।
স্নোতে কিছুক্ষণ লাফালাফি করে ফিড়ে যাই কটেজে। ১৭০ রুপি দিয়ে খিচুড়ি খেয়ে ঘুমিয়ে পরি।
১২ তারিখ রাত আমরা সান্দাকফু থাকি।

১৩ তারিখ সকালে উঠে বাহিরে গিয়ে তো হতভম্ব! এতো স্নো! চারো দিক শুধু সাদা আর সাদা! অর্ধ পা অবধি স্নো জমে আছে। কিছুক্ষণ উল্লাস করে কটেজে চলে আসি।
আমাদের গাইড বলল আজ আর ফালুট যাওয়া সম্ভব না তাই আমাদের একই রুট দিয়ে ব্যাক করা উচিৎ। তার কথা শুনেই আমরা একই রুটে নামতে শুরু করি। তিশেরিং ছিল অনেক ভাল একটা গাইড। তার চেয়ে ভাল গাইড খুব কমই হয়।
আমরা তুমলিং পর্যন্ত যাওয়ার ইচ্ছা করি আজ। নিচে নামতে থাকি আর পাহাড়ের সৌন্দর্য দেখে অবাক হতে থাকি। বিকালের মধ্যে তুমলিং পৌঁছে যাই। তুমলিংয়ের পথে এভারেস্ট, কাঞ্চনজঞ্জাকে পাশে নিয়ে হাটতে যে কি আনন্দ তা বলার ভাষা নেই। কি সুন্দর ভিউ পেয়েছিলাম এই দিনে আমি লিখে বুজাতে পারবো না।এই ১৩/১২/১৯ তারিখটা আমার জীবনের সবচেয়ে সুন্দর দিনগুলোর একটি।তুমলিংয়ে ১৬০রুপি দিয়ে খেয়ে ২০০ রুপি দিয়ে পারপার্সন কটেজে থেকে যাই।

–১৪ তারিখ সকালে আমরা তুমলিং থেকে বের হয়ে যাই। ১১ টার মধ্যে আমরা পৌঁছে যাই মানেভঞ্জন। মানেভঞ্জন থেকে শেয়ারিং জীপে ৩০০ রুপি দিয়ে চলে আসি শিলিগুড়ি জংশন। জংশন থেকে ২০ রুপি অটোতে করে চলে আসি ফুলবাড়ি বাজার। বাজার থেকে ১০ রুপি অটোতে করে বর্ডার। বর্ডারে রুপিকে টাকায় কনভার্ট করে নেই। ইন্ডিয়া বর্ডারে ২০০ টাকা হাদিয়া নেন তারা। অতপর বাংলাদেশে প্রবেশ করি। বাংলাবান্ধা থেকে ৫০ টাকা দিয়ে বাসে করে পঞ্চগড় রেলস্টেশনে আসি। ৫৫০ টাকায় টিকিট কেটে ১৫ ডিসেম্বর সকালে যাদুর শহর ঢাকায় চলে আসি আলহামদুলিল্লাহ

সম্পূর্ণ ট্রিপের পারপার্সন খরচঃ

(৯ তারিখ রাত)ঃ
ঢাকা টু পঞ্চগড় টু বাংলাবান্ধা=৬২০টাকা

(১০তারিখ) ঃ
উভয় বর্ডার খরচ =৩০০ টাকা।
অটো+শিলিগুড়ি টু দার্জিলিং=১৭৫রুপি।
দার্জিলিংয়ে থাকা+খাওয়া=৩৫০ রুপি।

(১১ তারিখ) ঃ
দার্জিলিং টু মানেভঞ্জন= ৭০ রুপি।
গাইড খরচ(বকশিশও সান্দাকফুতে ডিনারসহ)= ১৫০০রুপি
হালকা নাস্তা+রাতের খাবার+কটেজ =৩৮০রুপি।

(১২ তারিখ) ঃ
সকালে হালকা নাস্তা+দুপুরে খাবার+ রাতে খাবার+ কটেজ ভাড়া= ৪৮০ রুপি।

(১৩ তারিখ) ঃ
সকালের নাস্তা+দুপুরে হালকা খাবার +রাতে ডিনার +কটেজ ভাড়া=৬২০রুপি।

(১৪ তারিখ) ঃ
সকালের নাস্তা+ রাতের ডিনার=১৮০রুপি।
মানেভঞ্জন টু শিলিগুড়ি টু ফুলবাড়ি বর্ডার=৩৩৫ রুপি।
বর্ডার খরচ = ২৫০ রুপি।
বাংলাবান্ধা টু ঢাকা =৬০০ রুপি।

টোটাল জনপ্রতি খরচ=৫৮৬০ রুপি।

কিছু বিষয় মনে রাখলে ভাল হয়ঃ

* ভাল শীতের কাপড় আর ভাল জুতা নিয়ে যাবেন। তবে ব্যাগ বেশি ভারী যাতে না হয় সেদিকেও লক্ষ রাখবেন।

* টাকা কিছু বেশি নিয়ে যাবেন অবশ্যই। সবার খরচ আপনার খরচ এক না।

*সবাই এক সাথে ট্রেক করার ট্রাই করবেন। কেউ যেনো খুব পিছে থেকে না যায়।

* আমরা দুদিনে সামিট করেছি বলে আপনাকেও তাই করতে হবে এমন না ভাই। আপনার দক্ষতা অনুযায়ী আপনি ট্রেক করবেন। এখন যে কয়দিন লাগে। অনেকে ১ম রাত টুমলিং থাকে ২য় রাত কালাপোখড়ি থাকে ৩য় রাত সান্দাকফু। এভাবেও প্ল্যান করতে পারেন।

* পাহাড়ে কখনো মধ্যপান করবেন না। এক্সিডেন্টের কথা কেউ বলতে পারবে না।

*১০০% সতর্ক থাকতে হবে। কারো আগে যাবার জন্য তাড়াহুড়ো করবেন না। এতে বিপদ ঘটতে পারে। মনে রাখতে হবে ফ্যামিলী আমার জন্য বাসায় অপেক্ষা করছে।

যা মনে রাখা আবশ্যক ঃ

সেই ট্রেকে কেউ ময়লা ফেলে না। মানুষ ময়লা ফেলার জায়গায় ময়লা ফেলে। মনে রাখবেন আপনিও মানুষ। প্রকৃতির সাথে আমরা বেইমানী করবো না।

অনেকে দেশের বাইরে গিয়ে ময়লা ঠিক জাগায় ফেলে বাট বাংলাদেশে এসে যেখানে সেখানে ময়লা ফেলে। ভাই নিজের দেশটাকেও পরিস্কার রাখুন প্লিজ।

(কিছু ভুল হয়ে গেলে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন দয়া করে। হ্যাপি ট্রাভেলিং)
Source: Adnan Sharif ‎< Travelers of Bangladesh (ToB)

22 Dec 2019

মনে মনে সিদ্ধান্ত নিয়েছি, আর কিছু না হোক,
অন্তত বাংলাদেশের সবগুলো জেলা ঘুরে দেখব।
দেখার পাশাপাশি অইসব এলাকার ঐতিহ্য গুলো তুলে ধরব।
সেই ইচ্ছা অনুযায়ী এবারের ভ্রমণ,, মানিকগঞ্জ দর্শন।
তেওতা জমিদার বাড়ি,বালিয়াটি জমিদার বাড়ি,সরিষার ক্ষেত এসব ছিলো লক্ষ্য।

চারজনের যাত্রা চারদিক থেকে।
তাই যে যার মতো সর্বপ্রথম গাবতলী থেকে একত্রিত হবার মনস্থির করলাম।
খুব সকালে ৬.৩০ এ গাবতলী থেকে আরিচাঘাট এর উদ্দ্যেশ্যে হাইওয়ে রুটের (খুলনাগামী) বাসে উঠে রওনা দিলাম।ভাড়া ছিল জনপ্রতি ১২০/ করে।
আরিচার মোড়ে নেমে অটোতে করে তেওতা গেলাম ৩০ টাকা জনপ্রতি।

যাবার পথে যমুনা মেঘনা আর পদ্মার মিলনস্থান,বিশাল এক মোহনা নদীর বুক চীরে ওঠা চর,জেলেদের মাছ ধরা ট্রলার নদীতীরের মানুষের জনবসতি,শত বর্ষী বট বৃক্ষ যাকে এই এলাকার মানুষ মানত গাছ বলে জানে এসব দেখতে দেখতে তেওতা ইউনিয়ন পরিষদ এর সামনে গিয়ে নামলাম।
ঠিক বিপরীতে জমিদার বাড়ি।
আগে নাস্তা আর চা পর্ব এখানে সেরে নিলাম।২০/৩০/৪০ টাকা করে,যা যেমন খাবার রুচি।

এরপর শুরু হলো তেওতা জমিদার বাড়ি দর্শন।
বাড়ির সামনে বিশাল এক দিঘি
দিঘীতে দুটো সান বাধানো ঘাট, গোলাপী শাপলায় মুখরিত দিঘি।
এক পাশে এক মন্দির রয়েছে, আবার একটা মসজিদ ও রয়েছে এখানে।
যদিও জমিদার বাড়ি পুরোই ধ্বংসস্তুপে পরিনত হয়েছে তবু তার বিশালতা নিখুঁত কারুকাজ সব মিলিয়ে এক অস্থির ভাললাগা কাজ করছিল ভেতরে।
প্রায় এক ঘন্টার মত কাটিয়েছি এখানে।
এরপর এখান থেকে বের হয়ে নদীতীর ঘুরে এলাম।
চরের ওপারে কিছু জনবসতি আছে যারা ট্রলারে করে তাদের বাড়ি যাওয়া আসা করে।
এখানে পাওয়া যাবে ১০০% বিশুদ্ধ প্রাকৃতিক বাতাস।
সতেজ মাছ, শাকসবজি,ফলমুল,কচি নারিকেল।

এবার সেখান থেকে ফেরার পালা।
আবার সেই অটোতে করে আরিচা মেইন রোডে ফেরা।
আবার বাস ধরে যাত্রা শুরু।

উদ্দেশ্য কালামপুর।
কালামপুর পর্যন্ত ভাড়া জনপ্রতি ৫০/ করে।
এখানে নেমে অটোতে সাটুরিয়া ভাড়া জনপ্রতি ৪০/ করে।

যাবার পথে যা কিছু দেখেছি,, ইটভাটা ইটভাটা আর ইটভাটা 😑।
এছাড়াও ফসলের বিস্তীর্ন মাঠ,ভুট্টা,নানা ধরনের শীতকালীন সবজি, মাঝেমধ্যে আখ আর হ্যা অবশ্যই সরিষার ক্ষেত।

লোভ সামলাতে না পেরে নেমে গেলাম ছবি তুলার জন্য। যতদুর যায় হলুদ আর সবুজের ছড়াছড়ি।
বারবার মনে বাজতে ছিল
“তুঝে দেখা তো এ জানা সানাম,
পেয়ার হো তা হ্যায় দিওয়ানা সানাম,
আব এহা সে কাহা যায়ে হাম,
তেরে বাহোমে মার যায়ে হাম 😍”
সুন্দর এতটাই যা আসলে প্রকাশের মতো নয় 🥰
মনে হয়েছি হ্যা,আমার ট্যুর সফল।
সাটুরিয়া পৌছে সবার ই পেটের মধ্যে ক্ষুধা চো চো করছে। দুপুরের লাঞ্চ এখানেই সেরে নিলাম ১২০/ টাকার মত লেগেছে একেক জনের, ও হ্যা ঘিওর এর মিস্টি না খেলেই নয় তাই এখানে জিজ্ঞেস করে মিস্টি চেখে নিলাম।

এখান থেকে অটোতে গেলাম বালিয়াটি জমিদার বাড়ি।
ভাড়া নিয়েছে ১০ টাকা করে জনপ্রতি।

সিংহ খচিত ৩ টা গেটের সুবিশাল জমিদার বাড়ি।
এই জমিদার বাড়ি প্রত্নতত্ব মন্ত্রণালয় দেখাশোনা করে বিধায় অনেকটা আধুনিকতার ছোয়া আছে।
হ্যা বালিয়াটি জমিদার বাড়ি রবিবার বন্ধ থাকে এবং সোমবার দুপুর ২ টার পরে খুলে এবং প্রতিদিন ই ৫ টায় বন্ধ হয়ে যায়।
জমিদার বাড়ি প্রবেশ মুল্য ২০/ করে।
প্রবেশ পথেই আয়না মহল।
এখানে ছবি তোলা এবং ২য় তলার বারান্দায় যাওয়া নিষেধ।
এবং এই বিল্ডিং টা ছাড়া অন্যান্য কোনো বিল্ডিং এ প্রবেশ অধিকার নাই কারো।
সো বাইরে থেকেই সকল সৌন্দর্য্য অবলোকন করতে হয়েছে আমাদের।
প্রতিটা দেয়ালে যেন এক একটা উপন্যাস,কত টা উন্নত এদের শিল্পচর্চা ছিল,ভেবেই ভালো লেগেছে।

কতগুলো পানি খাবার কুপ এখানে,
এবং আমরা বাঙাল শৈল্পিক জাতি হিসেবে কুপের মধ্যে আবর্জনার যেন ডাস্টবিন ভাসিয়েছি
সকল বিল্ডিং এর শেষে পিছনে একটা বিশাল আবার সেই গোলাপী রঙের শাপলার দিঘী,এর চারদিকে চারটা সানবাধানো ঘাটলা।
এই জমিদার বাড়ি নিয়ে অনেক মিথ আছে,
আয়নামহলের এক কুপের মধ্যে থেকে নাকি মাঝেমধ্যে অনেক জোরে মেয়েলি কান্নার আওয়াজ পাওয়া যায় বৃষ্টির রাতে রাতে।
আগেকার জমিদার রা তাদের মনোরঞ্জন এর জন্যে বাড়ির গৃহ পরিচারিকাদের কে নির্যাতন এর পর হাত পা বেধে অনেক গভীর কুপের মধ্যে নিক্ষেপ করত।
এবং বৃষ্টির সিজনে ডুবুরি দের মাধ্যমে মরে কঙ্কাল হয়ে যাওয়া হাড্ডি-গুড্ডি উঠিয়ে মাটিতে পুতে দিতো।
এসব কাহিনী শোনার পর গায়ে কাটা দিয়ে উঠেছিল আমার।

যাই হোক সব মিলিয়ে একটা কোয়ালিটি টাইম এখানে কাটিয়েছি।
সাটুয়িয়া থেকে যেভাবে গিয়েছি,ঠিক সেভাবেই ফিরেছি।
সাটুরিয়া থেকেই গাবতলী গামী বাসে ফিরে যে যার মতো বাসায় ফিরেছি।
সাটুরিয়া থেকে গাবতলী ভাড়া ৭০ টাকা করে নিয়েছে।

ইচ্ছা ছিল জাতীয় স্মৃতিসৌধ হয়ে আসা, বাট সময়ে আর কুলোতে পারিনি।
সব মিলিয়ে ৬০০+ টাকায় ঘুরে এলাম অতীব সুন্দর ঢাকার কাছেই মানিকগঞ্জ।
চাইলে আপনিও ঘুরে আসতে পারেন ডে ট্যুর হিসেবে।

মনে রাখবেন, আপনার আবর্জনা সাফ করার জন্য অন্য কেও নেই, তাই দয়া করে যেখানে সেখানে নোংরা করে আসবেন না।
প্রকৃতি নস্ট করার কোনো অধিকার আপনাকে প্রকৃতি দেয়নি।
হ্যাপী ট্রাভেলিং।
Source: Mafiza Mafi‎<Travelers of Bangladesh (ToB)

21 Nov 2019

সুনির্দিষ্ট প্লান এবং গুগল ম্যাপের সঠিক ব্যবহার জানলে সময় এবং খরচ দুটোই সেভ করা সম্ভব।
পতেঙ্গা সী বিচ আগেই ঘুরেছি তাই আমি পুরাতন মন্দির,মসজিদ,নগরে দাঁড়িয়ে থাকা পাহাড়,শহীদ মিনার এসব স্থানে গিয়েছিলাম।
১।কৈবল্যধাম রাম ঠাকুর আশ্রম:
এটি পাহাড়তলিতে অবস্থিত অনেক পুরাতন একটি আশ্রম।পাহাড়ের উপরে অবস্থিত এই আশ্রমের সৌন্দর্য যে কাউকে অবাক করবে।
এ.কে খান মোড় থেকে জিইসির দিকে ৮০০ মিটার গেলে হাতের বামে একটি রাস্তা।প্রায় দশ মিনিট হাঁটলে একটি রেলক্রসিং।রেলক্রসিং পার হলেই কৈবল্যধাম আশ্রম।
২।ওয়ার সিমেট্রি:আশ্রম থেকে বেড়িয়ে প্রধান সড়কে এসে লেগুনায় করে জিইসি আসি।তারপর হেঁটে হেঁটে লালখান বাজার হয়ে চট্টগ্রাম শিল্পকলা একাডেমীর রাস্তায়।এই রাস্তা ধরে সামনে গেলেই বাদশা মিয়া রোড,রোডের মাথা হতে ভেতরে ৫০ মিটার গেলেই ওয়ার সিমেট্রি।
জিইসি থেকে প্রায় ১৫/২০ মিনিট হাঁটা পথ।
রিকশায় ২৫/৩০ টাকা নিবে ওয়ার সিমেট্রি।
২য় বিশ্ব যুদ্ধে নিহত বেশ কিছু সৈন্যদের সমাধি রয়েছে এখানে।
___[খোলা থাকে: সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা এবং দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত]
৩।ফাইন আর্ট ইন্সটিটিউট,চট্টগ্রাম­­ বিশ্ববিদ্যালয়:
ওয়ার সিমেট্রি থেকে বেড় হয়ে সামনের দিকে ১ মিনিট হাঁটলেই “ফাইন আর্ট ইন্সটিটিউট”।অবশ্যই ইন্সটিটিউটের ভেতর হৈচৈ করা হতে বিরত থাকবেন এবং অনুমতি ক্রমে সব ডিপার্টমেন্ট ঘুরে দেখুন।___[আমি ক্লাস রুমে থাকা ভাইয়া আপুদের কাছ থেকে অনুমিত ক্রমে সব ঘুরেছিলাম।Sculpture Department এ সব থেকে বেশি সময় দিয়েছিলাম।জোস]
৪।বিমান এয়ারলাইন্স:
ফাইন আর্ট থেকে বেড়িয়ে রিকশায় ৩০ টাকা।আমি অবশ্য এখানে এসেছিলাম ‘আড়ং’ থেকে শপিং এর জন্য।
___[আপনারা এই সময়ে হযরত বাইজিদ বোস্তামি রহঃ এর মাজারে যেতে পারেন]
৫।চকবাজার:
বিমান এয়ারলাইন্স থেকে বেড়িয়ে একটু সামনে আসলে টেম্পো স্ট্যান্ড।পাঁচ টাকা থেকে দশ টাকা নিবে চকবাজার।
__যেখানে নামিয়ে দিবে তার পাশেই অলি খা মসজিদ।৬ গম্বুজ বিশিষ্ট একটি পুরাতন মসজিদ।
৬।মসজিদে সিরাজউদ্দৌলা:
অনেকে এই মসজিদ কে চন্দনপুরা মসজিদ বলে থাকলেও এর নাম মসজিদে সিরাজউদ্দৌলা।তবে রিকশাচালক কে চন্দনপুরা বললে সহজে চিনবে।অলি খা মসজিদ থেকে রিকশায় ২৫ থেকে ৩০ টাকা নিবে এই মসজিদ পর্যন্ত।এটি সিরাজউদ্দৌলার শাসনকালে তৈরী মসজিদ,যার সৌন্দর্য এবং কারুকাজ কারিগরদের নৈপুন্যতার কথা মনে করিয়ে দিবে।
৭।চেরাগি পাহাড়:
মসজিদে সিরাজউদ্দৌলা থেকে চেরাগি পাহাড় রিকশায় ২৫ টাকা।পাহাড়ে ঢোকার পূর্ব রাস্তায় সুন্দর একটি টাওয়ার দেখতে পাবেন।আর সেই সাথে অনেক ফুলের দোকান।
পাহাড়ের উপরে আড্ডা দেওয়ার মত প্লেস,বসে বিশ্রাম নিতে পারেন।চা,ফুচকা পাবেন এখানে।
___[মসজিদে সিরাজউদ্দৌলা থেকে বেড় হবার সময় ঘরিতে সময় ছিলো দুপুর ২টা।তাই সেখানেই দুপুরের খাবার সেরে ফেলেছিলাম।মসজিদ থেকে একটু সামনে ABC Restaurant।খাবার ভালো ছিলো]
৮।বৌদ্ধ বিহার:
চেরাগি পাহাড়ের সাথেই রাস্তার পাশে বৌদ্ধ বিহার।বৌদ্ধ ধর্মীয় অনেক কিছুই রয়েছে দেখা ও জানার জন্য।
৯।চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার:
বৌদ্ধ মন্দির থেকে বামে প্রায় দশ মিনিট হাঁটলে চট্টগ্রাম শহীদ মিনার।অনেক সুন্দর একটি স্থান।আর ভালো বিষয় হলো শহীদ মিনারটি পাহাড়ের উপরে[যদিও শহীদ মিনারটিকে স্মৃতি স্তম্ভ বলাই ভালো]
১০।বাটালি পাহাড়:
শহীদ মিনার থেকে রিকশায় দশ টাকা পথ নিউমার্কেট।নিউমার্কে­­ট থেকে লেগুনায় করে সরাসরি বাটালি পাহাড়ের মুখে যেতে পারবেন।বাসে গেলে আপনাকে টাইগারপাস নামতে হবে এবং একটি রিকশায় দশ টাকা দিয়ে বাটালি পাহাড়।
ভাড়া:নিউ মার্কেট থেকে লেগুনায় দশ টাকা/বাসে পাঁচ টাকা।
___[এই পাহাড় থেকে আপনি চট্টগ্রাম শহরের একাংশ দেখতে পাবেন।অনেক সিড়ি বেয়ে পাহাড়ে উঠতে হয় তাই অবশ্যই সাবধানতা অবলম্বন করুন।পাহাড়ের উপরে বসার মত দৃষ্টিনন্দন জায়গা রয়েছে।পাশেই চট্টগ্রাম ডিআইজির বাংলো।]
নিচে নামার সময় সিড়ির বদলে রাস্তা ব্যবহার করুন।রাস্তা খুবই প্যাঁচানো,পুরোপুরি দার্জিলিং স্টাইল।
মোট খরচ-
খাবার:২১০ টাকা
বাস-রিকশা-লেগুনা:২০০­(প্রায়)
যেখানে সেখানে ময়লা আবর্জনা ফেলবেন না।
ধর্মীয় স্থানে আপত্তিকর আচারণ হতে বিরতি থাকি।ধর্মীয় স্থান ও শহীদ মিনারে জুতা পায়ে উঠার বিষয়ে সতর্ক থাকি(অর্থাৎ যেখানে নিষেধ সেখানে জুতা পায়ে উঠবো না)

source: Jabir Ibn Haiyan>Travelers of Bangladesh (ToB)

21 Nov 2019

আমাদের যাত্রা ছিল বান্দরবান জেলার থানচি উপজেলার রেমাক্রি ইউনিয়নের নাফাখুম এবং দুর্গম নাক্ষিয়ং এর দেবতাপাহাড় >আমিয়াখুম>ভেলাখুম>সাতভাইখুম।
১ম দিন- কুমিল্লা থেকে রাত ১২.৪৫ টায় সৌদিয়া বাসে (টিকিট ৬২০) যাত্রা শুরু করে সকাল ৬.০০ টায় বান্দরবান শহরে পৌছয়ে যাই। বাস থেকে নেমে নাস্তা শেষ করে চান্দের গাড়ি রির্জাভ (৫৫০০৳) করে থানচির উদ্দেশ্য রওনা দেয়। যেতে যেতে পথে চঁাদ উঠেছিল না মেঘের সমুদ্র দেখা মিলছিল.এই সমুদ্রের বর্ননা হয়ত লিখে বা ক্যামেরা বন্দী করে বুঝানো যাবে না স্বয়ং নিজ চোখে না দেখিলে।

বেলা ১১ টার দিকে আমরা থানচি পৌছে যাই, থানচি থেকে ১০-১২কি.মি আগে বিজিবি চেকপোস্ট পরে, সেখানে আমাদের সবার আইডি কার্ডের ফটোকপি জমা দিয়ে নাম ঠিকানা লিখে এন্ট্রি করতে হয় NID, Varsity ID, Birth certificate যেকোন একটা দিলেই হয়। বিজিবি এর একটা ক্যাফে আছে ওখানে স্থানীয় বাগানের একদম ফ্রেস পেপে, কমলার জ্যুস পাওয়া যায়, চায়লে ট্রাই করে দেখতে পারেন।কয়েকদিন আগে থেকেই ১৩০০০টাকা দিয়ে লোকাল গাইড + নৌকা(আপ ডাউন) ৩ দিনের জন্য গাইড ঠিক করে রেখেছিলাম। আমাদের গাইড ছিলেন রাফায়েল দাদা। আমিয়াখুম,ভেলাখুম,সাতভাইখুম,দেবতা পাহাড় যাওয়ার ২ টা পথ আছে, একটা হল পদ্দঝিরি হয়ে ৭-৮ ঘন্টা ট্রেকিং করে থুইশাপাড়া দিয়ে, আর একটা হল রেমাক্রি হয়ে নাফাখুম দিয়ে জিন্নাপাড়া-থুইশা পাড়া হয়ে, দুই পথের মজা নেওয়ার জন্য আমরা রেমাক্রি হয়ে যায় ফেরার সময় পদ্মঝিরি হয়ে ব্যাক করি , তো গাইড ওইভাবেই সব ঠিক করে রেখেছিল। থানচি পৌছানোর পর রাফায়েল দাদার মাধ্যমে থানা,বিজিবি থেকে সব ধরনের ফর্মালিটিস পূরন করে আগামী ৩/৪ দিনের জন্য বাসায় শেষ বারে মত কথা বলি।কারন সাঙু নদীতে একটু এগিয়ে গিলে আপনি নেটওয়ার্কে বাইরে চলে যাবেন, বেলা ১ টার দিকে লাইফ জ্যাকেট, পানি, স্যালাইন,গ্লুকোজ, শুকনো খাবার কিনে নৌকায় উঠে পরলাম সাংঙু নদী দিয়ে রেমাক্রি যাওয়ার জন্য। কেননা পরে আর তেমন কোন খাবার কিনতে পাওয়া যাবে না।।সাংগু নদী আর বড় পাথরের অপরূপ দৃশ্য দেখতে দেখতে ২/৩ ঘন্টা অতিক্রম করার পরেই আমরা পৌঁছে গেলাম রেমাক্রি, গাইড আমাদের থাকার জন্য রেমাক্রিতে একটা কটেজ ঠিক করে রেখেছিল, খাওয়ার ব্যবস্থাও ওখানেই। রেমাক্রি পৌছে সাঙু নদীতে রেমাক্রি ঝিরিতে কিছুক্ষণ ঝাপাঝাপি করে সেদিনের মত বিশ্রাম। রাতে রেমাক্রি বাজারে কিছুক্ষন ঘুরে কটেজে আসলাম, এরপর আকাশের তারা গুনতে গুনতে আর দূর থেকে আসা রেমাক্রি ঝিরির মৃদু গর্জন শুনতে শুনতে ঘুমিয়ে পরলাম। মনে হলো জীবন এত সুন্দর কেন!

২য় দিন- আমরা রেমাক্রি থেকে নাফাখুমের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করব। যাই হোক সকালে রেমাক্রি বাজার থেকে পরোটা ডিম ভাজি দিয়ে নাস্তা করলাম। এরপর কটেজের আনুষঙ্গিক খরচ শেষ করে ব্যাগসহ সকাল ৮ টাই নাফাখুমের উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম। পাহাড়ের পাদদেশ ঘেষে বড় ছোট ঝিরিপথ দিয়ে হাটতে হাটতে হঠাৎ দেখামিল আরাকান আর্মির। দৃষ্টির অগচোরে আরাকান আর্মির নাম শুধু বইয়ের পাতা বা খবরে কাগজেই শুধু পড়সিলাম কিন্তু হঠাৎ সামনে আসাতেই অস্ত্রধারী বাহিনী দেখে যেমন আনন্দে আত্মাহারা হয়লাম তেমনই অনিশ্চিত ঝুকিতে বুকের ভিতর দুরুদুরু করে কাপছিল।হয়ত তখনই থেমে যেতে জীবন প্রদ্বীপটা কিন্তু সৌভাগ্য আমাদের তারা যথেষ্ট শান্তকামী এবং তাদের বিষয় ধারনাটা ভূল তার হিংস্র নয়। প্রায় আড়াই ঘন্টা পর নাফাখুমের অপার সৌন্দর্য দেখে কোথায় যেন সব ক্লান্তি উড়ে গেল। বাংলার নায়াগ্রার ঠান্ডা হিমশীতল পানিতে গোসল করে রোদ পোহানো হল কিছুক্ষন এরপর শুকনো কিছু খাবার খেয়ে রওনা দিলাম জিনাপাড়ার উদ্দেশ্যে। সূর্য ততক্ষণে মধ্যগগনে ঘড়িতে বাজে ১.৪৫, এমনিতেই টানা হাটার পর গোসল তারপর আবার হাটা, শরীর যেন চলতেই চায় না কষ্ট হলেও হেলেদুলে হাটতে হাটতে বিকাল ৫ টায় জিনাপাড়াতে পৌছালাম। চারদিকে পাহাড় আর নেটওয়ার্ক এর চিহ্ন মাত্র নেই শুধু এরপর সন্ধ্যায় চায়ের দোকানে বসে সারাদিনের ক্লান্তি ভুলে গান, আড্ডা আর রাতে ঝিঝি পোকার আওয়াজ কি যে অসম্ভব সুন্দর অনুভূতি যা লিখতে গেলে হাজার রাত পার হয়ে যাবে।

৩য় দিন- ভোর ৬ টায় নাস্তা করে কটেজ বিল মিটিয়ে থুইসাপড়ার উদ্দেশ্য রওনা, ৩০ মিনিট পর থুইসাপাড়া পৌছায় কটেজে ব্যাগ রেখে আমাদের মূল সফর শুরু (গাইড আগে থেকে কটেজ ঠিক করে রেখেসিল থুইসা পাড়ায়) গাইড আগের রাতে জানিয়ে দিয়েছিলেন আজকে তিনটি পাহাড় পার হতে হবে এর মধ্যে একটি দেবতা পাহাড় যার নাম শুনলেই মেরুদন্ড দিয়ে ছোটখাট শীতল স্রোত বয়ে যায়। জেনে রাখা ভালো আমরা যেগুলোকে পাহাড় বলি স্থানীয়রা সেটাকে টিলা বলে। থুইসাপাড়া থেকে সকাল ৮.০৪ টাই আমরা আমিয়াখুমের উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম। আগেরদিন টানা হাটার কারণে দেবতা পাহাড় পৌছানোর পূর্বেই আমাদের দলের একজন প্রকৃতির কাছে হার মেনে ফেরত চলে গেল। বাকি সদস্য নিয়ে দেবতা পাহাড় যখন পৌছালাম তখন আমাদের আনন্দ দেখে কে! এরপর শুরু হল প্রতি পদে পদে বিপদ আর রোমাঞ্চ, একবার পা হড়কে গেলে কি হবে তা আর ভাবতে চাই না। দেবতা পাহাড় থেকে আমিয়াখুম এর সেই গর্জন নতুন করে উদ্দীপনা তৈরি করল আমাদের মাঝে তারপর সম্পূর্ণ খাড়া একটি পাহাড়ের খাজে খাজে মাটির রাস্তা ধরে নামতে আমাদের মোটামুটি ১.৩০ ঘন্টার মত সময় লাগলো। এরপর হাতের ডান দিকে কিছুক্ষন হেটে ভেলাখুমের দিকে যাওয়া শুরু করলাম। উচু নিচু পাথরের মাঝ দিয়ে পাথুরে রাস্তা দিয়ে সতর্কতার সাথে হেটে সবুজ স্বচ্ছ শান্ত জলধারার এক পাড়ে এসে দাড়ালাম এখান থেকে আমাদের ভেলায় করে যাত্রা শুরু হবে। রাফায়েল দাদা আগেই ভেলা ঠিক করে রেখেছিলেন। ভেলাখুমের জলরাশি আর দুপুরের কড়া রোদ মিলেমিশে এক অন্যরকম অনুভূতি। ভেলাখুম দেখা শেষে যে পথে এসেছি ওই পথেই ১৫ মিনিট হাটলেই দেখা মিলবে আমিয়াখুম, আমিয়াখুম এর সামনে প্রবল জলরাশির কাছে গিয়ে সব কষ্ট সার্থক মনে হলো। একটু আগালেই দেখা মিলবে সাতভাইখুম, এরপর কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিয়ে এরপর বেশ বড় কিছু পাথরের উপর দিয়ে হক্ষ্যংমুখে গোসল করে আমরা দেবতা পাহাড়ের দিকে যাত্রা শুরু করলাম,এখন উঠার শরীরে বিন্দুমাত্র শক্তি নেই কিভাবে উঠেছি নিজেও জানি না, সময় লাগলো প্রায় ৪০ মিনিট। বিকালে পরিশ্রান্ত অবস্থায় থুইসাপাড়া আসার পথে পাহাড়ের মাঝে সূর্যাস্ত দেখতে দেখতে আসার যে অনুভুতি বেঁচে থাকলে আবার আসার সংকল্প করলাম

৪র্থ দিন- অফিসিয়ালি ট্যুর শেষ, কিন্তু পদ্মঝিরি আমাদের ডাকছে। দীর্ঘসময় থুইসাপাড়া থাকায় হঠাৎ কেমন যেন মায়া পড়ে গেছে, স্মার্টফোন আর ইন্টারনেট এর যুগে নেটওয়ার্কবিহীন এলাকায় নিয়ম করে সন্ধ্যায় সবাই চা খেতে খেতে আড্ডা দেয়া আর হবে না। কিন্তু সকল মায়া ত্যাগ করে আমাদের রওনা দিতে হবে। থুইসাপাড়া থেকে পদ্মমুখ পর্যন্ত হাটার গতির তারতম্যের বিচারে আসতে সময় লাগে ৬-৮ ঘন্টা। সকাল ৭টাই থুইসাপাড়া থেকে বিদায় নিয়ে পদ্মঝিরির দিকে হাটা শুরু হলো আমাদের। পাঁচটা পাহাড় আর দুই-তিনটা টিলা পার হয়ে হরিশ্চন্দ্রপাড়া পৌছাতে বেলা ১ টা বেজে গেলো। এর মাঝে আমাদের গাইড রাফায়েল দাদা দূর থেকে আমাদের তাজিংডং আর সাকা হাফং পাহাড় দেখিয়ে দিলেন। অফিসিয়ালি তাজিংডং বাংলাদেশের সবচেয়ে উচু পাহাড় কিন্তু পাহাড়িদের মতে তাজিংডং সাকা হাফং এর অর্ধেকও না।হরিশ্চন্দ্র পাড়ার জুমঘরে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিয়ে এখান থেকেই পদ্মঝিরিতে নেমে গেলাম আমরা। আলোআধারি পরিবেশ আর দুইপাহাড়ের মাঝ দিয়ে বয়ে চলা ছোট বড় ঝিরি দিয়ে তৈরি চমৎকার এক পথের নাম পদ্মঝিরি সেই ঝিরির উপর দিয়ে হাটতে হাটতে বিকাল ৫ টায় আমরা পদ্মমুখে পৌছে বোটে উঠে থানচিতে চলে আসলাম। অতঃপর চান্দেরগাড়ি রির্জাভ করে আলীকদম হয়ে চকরিয়া এসে উদ্দেশ্যবিহীন ভাবে শহরের এখানে সেখানে ঘুরে রাতের বাসে কুমিল্লা চলে আসলাম।

পুরো ট্যুরে আমাদের জনপ্রতি খরচ ৪৬০০টাকা।আমরা ছিলা ১২ জন
খরচ সমূহ
কুমিল্লা-বান্দরবান ৬২০(সৌদিয়া)
বান্দরবান-থানচি চান্দের গাড়ি ৫৫০০
রেমাক্রি এবং থুইসাপাড়া থাকা জনপ্রতি ১৫০টাকা আর খাওয়া ১২০-১৫০ টাকা
থানচি থেকে চকরিয়া চান্দের গাড়ি ২৫০০ টাকা
গাইড নৌকা খরচ ১৩০০০ টাকা

ট্যুর উপযোগী যে জিনিস গুলি নিতে হবেঃ
NID,Varsity Id Or B.Certificate ৫ কপি photocopy
ব্যান্ডেজ
প্রচুর স্যালাইন
এংলেট
ট্রেকিং শু(থানচি বাজারে পাওয়া যায়, দাম ১৫০টাকা)
প্যারাসিটামল এবং গ্যাস্ট্রিক জাতীয় ঔষধ
খেজুর,বাদাম,চকলেট,নুডুলস
বিঃদ্র- আপনার দ্বারা পরিবেশের যেন ক্ষতি না হয় সেটা অবশ্যই খেয়াল রাখবেন।প্লাস্টিকের বোতল চিপস এর প্যাকেট এগুলো ফেলে আসবেন না। যেকোন একটি পলিথিনে আপনাদের অব্যবহার্য প্লাস্টিক এবং পলিথিন রেখে থানচিতে নিয়ে এসে ফেলবেন।

Source: MehEdy HasSn NoyOn‎<Travelers of Bangladesh (ToB)

19 Nov 2019

ভোলাগঞ্জ মুগ্ধ করেছে আমাকে, আমি শিওর মুগ্ধ করবে আপনাকে ও। কোলাহল মুক্ত নিরিবিলি পরিবেশে যদি প্রকৃতি উপভোগ করতে চান, তাহলে ভোলাগঞ্জ সাদাপাথর এর তুলনা কেবল এটি নিজেই। হাওরের পরিস্কার স্বচ্ছ পানি আপনার মন ভুলাতে বাধ্য করবে। আর মেঘলয় এর বিশাল বিশাল পাহাড়ের সাথে মেঘের ছন্দপতন খেলা উপভোগ করতে গিয়ে কখন যে সময় পেরিয়ে যাবে আপনি টের পাবেন না আমি নিশ্চিত। বাকিটা নিজের চোখে গিয়ে দেখে আসাই ভালো।

#ভ্রমন_বৃত্তান্ত: বহুদিনের শখ ছিলো সিলেট যাব। কিন্তু দিনটি যে এভাবে হুট করে চলে আসবে সেটি ভাবিনি। যাবার আগের দিন রাতে সিদ্ধান্ত নিলাম, দ্যান সকালে অনলাইনে ট্রেনের টিকেট কাটতে গিয়ে দেখি টিকেট শেষ। স্টেশন এর কাছাকাছি থাকে এক বন্ধুকে কল দিয়ে বললাম টিকেট আছে কিনা গিয়ে দেখার জন্য। ভাগ্য ভালো, টিকেট পেলাম।

বন্ধুর কাছ থেকে টিকেট বুঝে নিয়ে আমরা দুজন আল্লাহর নাম নিয়ে উঠে পরলাম ৯.৫০ এর ট্রেনে। ভাগ্য টা এত ভালো, আল্লাহর অশেষ কৃপায় এ যাত্রায় রক্ষা পেয়ে গিয়েছিলাম কারন আমাদের পরের রাত ১২.০০ এর ট্রেন টাই এক্সিডেন্ট করে :'(

যাহোক, সকাল সকাল স্টেশন এ নেমে হাত মুখ ধুয়ে নাস্তা সেরে রিক্সা নিয়ে চলে গেলাম আম্বখানা পয়েন্টে। সকালের নীরব শহর মুদ্ধ করবে আপনাকে। এবার BRTC এর জন্য ওয়েট করার পালা। সাড়ে সাতটায় ও আসার নাম নেই। ততক্ষনে দেখি কিছু গ্রুপ হাজির হয়ে গেছে। তারপরে হুট করে এক লোক এসে বলল টিকেট কাটুন, প্রথম বাস ছাড়বে সাড়ে আট্টায়। হুড়মুড় করে টিকেট কেটে উঠে পরলাম দোতলায়।

একেবারে ঠিক সাড়ে আট্টায় বাস ছেড়ে দিলো। কিছুদূর না যেতেই দুইপাশে চলে আসলো উঁচুনিচু পাহাড়ি চা বাগান। রাতের জার্নির ক্লান্তি নিমিষে দূর হয়ে গেলো। বাগান পেরি দু ধারে বিস্তৃর্ন খোলা মাঠ। মাঠ পেরিয়ে এবার মেঘালয় এর উচু পাহার দূর থেকে একটু একটু উকি দিতে শুরু করল। বাস যতই সামনে এগুচ্ছে মনে হচ্ছে এইতো পাহাড় ছুয়ে ফেললাম।

বাস নামিয়ে দিলো একদম সাড়ে নয়টায় জিরো পয়েন্ট নৌকাঘাট। কড়া রোদ পরবে সেটা জেনেই ছাতা নিয়ে এসেছিলাম বলে রক্ষা। যাহোক, ওখানে যেতেই একটা গ্রুপ আমাদের বলল সাদাপাথর যাব কিনা। তখন তাদেএ সাথে মিল হয়ে উঠে পরলাম নৌকায়। পরিস্কার পানি দেখছি, ওরা গান ধরছে, সামনে বিশাল বিশাল পাহাড়। মনে হচ্ছিলো সারাটা জীবন যদি এভাবে পার করতে পারতাম। যাহোক, ২০ মিনিটেই পৌছেগেলাম সাদাপাথরে। নেমে পানি দেখে আর আনন্দ ধরে রাখা যাচ্ছিলোনা। এ যেনো সাজানো গোছানো সুইমিং পুল। আর রোদ ও ছিলো কড়া। গোছল সেরে নিলাম।

পাহাড়ের সাথে মেঘের বন্ধুত্ব দেখছি আনমনে। কি একটা যোগসূত্র যেনো আছে তাদের। 😌 দেখতে দেখে সময় পেরিয়ে গেলো। পুরো যায়গাটা ঘুরে দেখলাম। অসাধারণ সুন্দর। ছোট একটা মাচায় দেখলাম আবার ভাত রান্না করছে। রুই মাছ দিয়ে খেয়ে নিলাম ওখানেই। এবারে ফেরার পালা।

ফিরার পথে চা বাগান নেমে যেতাম। কিন্তু পাশের জনের আপত্তি তে আর নামা হলোনা। আম্বখানা গিয়ে রিক্সা নিয়ে চলে গেলাম মাজারে। ওখানে কিছুক্ষন কাটিয়ে চলে সিএনজি করে চলে গেলাম শাহ পরানের মাজারে। মাজার ঘুরে সাতরঙ এর চা খেয়ে লোকাল সিএনজি করে সোজা বাসস্টপ। এক্সিডেন্ট এর পরে ট্রেনে যাবার সাহস হয়নি আর। ওখানে খেয়ে দেয়ে উঠে পরলাম রাতের বাসে। দুই রাত একদিন কিভাবে গেলো কিছুই টের পেলাম না। 😌

যাতায়াত :
1) → ট্রেন/বাস নামাই দিবে সিলেটের কদমতলী(এনা/হানিফ/ইউনিক: ভাড়া ৪৮০) ট্রেনে ভাড়া:(শোভন চেয়ার ৩২০, শোভন: ২৬০)।
টিপস: ট্রেনে আসুন। খরচ কম এবং আরামদায়ক। দুইদিন আগেই টিকেট করে রাখুন। রাত সাড়ে দশটার ট্রেনে চলে আসুন কদমতলী।

২) → কদমতলী থেকে রিক্সা/লোকাল সিএনজি/রিজার্ভ সিএনজি সব কিছু পাবেন। রিক্সা নিয়ে চলে আসুন আম্বরখানা সিএনজি স্টেশন। (ভাড়া ৫০ টাকা)

৩) → সিএনজি পাবেন ভোলোগঞ্জ এর। জনপ্রতি ১৫০ করে। নামবেন ভোলাগঞ্জ জিরো পয়েন্ট/সাদাপাথর নৌকাঘাট।

টিপস: সিএনজি তে উঠার কোনো দরকার নাই। স্টেশন থেকে ৩০ সেকেন্ড সামনে হাটলে BRTC কাউন্টার পাবেন। ৬০ টাকা জন প্রতি টিকেট কেটে দোতলায় উঠে পরুন। চা বাগান দেখতে দেখতে আপনাকে মাত্র ১ ঘন্টার ভিতরেই ভোলাগঞ্জ নৌকাঘাট নামায়া দিবে। BRTC সকাল ৭ টায় ছাড়ার কথা থাকলে ও আমাদের সময় ছেড়েছিলো সকাল ৮.৩০ এ। তারপরে আর থামাথামি নাই 😌

৪) → ঘাট থেকে নৌকা পাবেন। ভাড়া ফিক্সড। সাদাপাথর আসা যাওয়া ৮০০ টাকা। সময় দিবে দুইঘন্টা। এক নৌকায় আটজন বসা যাবে।

টিপস: আমরা গিয়েছিলাম দুইজন। পরে আরো সাত জনের একটা গ্রুপের সাথে কানেক্ট হয়ে তারপর নৌকা ঠিক করি।।

৫) → যেভাবে গেছেন, ফিরবেন ও সেভাবে। অবশ্যই ফিরার টাইমে বিমানবন্দর রোড চা বাগানে নেমে যাবেন। চা বাগান দেখে আম্বরখানা চলে আসবেন। শাহজালাল মাজার কাছেই। টু মেরে আসতে পারেন। শাহজালাল মাজার থেকে ৩০ টাকা করে লোকাল সিএনজি যায় শাহপরান মাজারে। মাজারের সাথেই পাবেন সাতরং এ চা। মাঝার ঘুরে লোকাল সিএনজি পাবেন বাসস্ট্যান্ড/ট্রেন স্টপেজ এর। ভাড়া জনপ্রতি ৪০ টাকা।

খরচ: আমরা দুইজন গিয়েছিলাম। জনপ্রতি হিসেব দিচ্ছি এখানে।
ঢাকা-সিলেট ট্রেন: ৩২০
সকালের নাস্তা: ৫০
রিক্সাভাড়া: ৫০
BRTC: 60+60(আসা যাওয়া)
নৌকাভাড়া: ১০০
দুপুরের খাবার: ১০০
আম্বখানা-শাহজালাল: ২৫
শাহজাল-শাহপরান: ৩০
শাহপরান – বাসস্ট্যান্ড: ৪০
রাতের খাবার: ১৫০
বাসের টিকেট: ৪৮০
চা,পানির বোতল, অন্যান্য: ১৫০
টুটাল: 1620 টাকা(per person)

বিঃদ্রঃ পরিচ্ছন্ন একটা যায়গা ভোলাগঞ্জ সাদাপাথর। দয়া করে এখানে সেখানে ময়লা চিপস এর প্যাকেট ফেলে পরিবেশ নোংরা করবেন না। দেশ আমার, পরিচ্ছন্ন রাখার দ্বায়িত্ব ও আমার। ধন্যবাদ সবাইকে। হ্যাপি ট্রাভেলিং..!

Source: Abdullah Imran<Travelers of Bangladesh (ToB)

19 Nov 2019

যাওয়া:ঢাকা থেকে রাত ১০:৩০ মিনিটে চট্টগ্রাম মেইল ট্রেন ছেড়ে যায়(ভাড়া ১২০টাকা)তবে লোকান ট্রেনের মতই আগে ট্রেনে উঠে সিট নিতে হবে তা নাহলে দাঁড়িয়ে যেতে হবে।উঠার আগে রাতের খাবার খেয়ে নিন ৫০টাকার মধ্যে আর সাথে ২০ টাকার মত হাল্কা খাবার নিয়ে নিন।ট্রেন পৌছাবে সকাল ৬:৩০ মিনিটে সীতাকুণ্ড। নেমে ভাই ভাই হোটেল থেকে ২৫টাকায় সকালের নাস্তা খেয়ে নিন।তারপর ১০টাকা জনপ্রতি ভারায় অটোরিক্সা বা সিএনজি করে চলে যান চন্দ্রনাথ পাহাড়ে।পাহাড়ে উঠার আগে সাথে কিছু খাবার আর অবশ্যই খাবার স্যালাইন নিয়ে নিন প্রায় দের লিটারের মত।তারপর হাতে ১০টাকা ভাড়ায় ছোট বাঁশ নিয়ে নিন আর উঠে পড়ুন।

সামনে গিয়ে দুইটা রাস্তা পাবেন।সবাই বলে ডান দিক দিয়ে উঠতে তবে আমি বলবো বাম দিকের রাস্তা দিয়ে উঠার।ডান দিকের রাস্তা দিয়ে উঠলে আপনি সহজে উপরে যাবেন সিঁড়ি বেয়ে আর তেমন কিছু দেখতে পাবেন না।কিন্তু বাপ দিকের রাস্তা দিয়ে উঠলে সারা রাস্তা #ব্যয়ার_গ্রীলস এর মত মজা নিতে নিতে উঠতে পারবেন আর সাথে অনেক ভিউ পাবেন।একটু ভয়ংকর তবেন অনেক রোমাঞ্চকর। উঠতে গিয়ে মাঝ পথে আরো ২টা রাস্তা পাবেন।একটা ছোট মন্দিরে গেছে আর একটা অন্য রাস্তা।

সেখান থেকে আপনারা অন্য রাস্তাটাই ব্যবহার করবেন।২০-২৫ মিনিট উঠার পর বিশ্রাম এর জায়গা পাবেন।সেখানে একটু রেস্ট নিয়ে নিন।তারপর আর একটু উঠলেই আপনি পাহাড়ের উপরে।নামার সময় দ্বিতীয় রাস্তা তথা সিঁড়ি বেয়ে নেমে পড়ুন।নামার সময় বুঝবেন যে আমি কেন এই রাস্তা দিয়ে উঠতে নিষেধ করেছিলাম।তারপর আবার একই ভাড়ায় চলে আসুন সীতাকুণ্ড বাজার।সেখান থেকে ৮ নাম্বার বাস ছাড়ে ১৫ টাকা জনপ্রতি ভাড়ায় উঠে পড়ুন বাশবাড়িয়ার উদ্দেশ্যে।বাস আপনাকে বাশবাড়িয়া হাইওয়েতে নামিয়ে দিবা।

এবার রাস্তা পার হয়ে সিএনজি নিয়ে চলে যান বিচে(২০টাকা জনপ্রতি)।সেখানে দুপুর কাটান চিল করেন।এবার ৪০টাকায় দুপুরের লাঞ্চ করে নিন।লাঞ্চ করে আবার চলে আসুন হাইওয়েতে। আবার রাস্তা পার হয়ে ৮নাম্বার বাসে উঠে চলে যান অলংকার (২৫ টাকা ভাড়া)।সেখানে নেমে ১১ বা ১২ নাম্বার বাসে উঠে ফ্রি পোর নেমে যান(১৫টাকা ভাড়া)।সেখান থেকে অটোরিক্সায় করে পতেঙ্গা চলে যান(২০ টাকায়)।

সেখান থেকে ঘুড়ে চলে।আসুন নেভাল।বা আগে নেভাল এসে পরে পতেঙ্গা যান।নেভাল যাওয়ার ভারা পতেঙ্গা থেকে ১০ টাকা।তারপর সন্ধার মধ্যে ৬ নম্বর বাসে চলে আসেন চট্টগ্রাম স্টেশন(ভাড়া ৩০টাকা)।সেখান থেকে আগে রাত্রের খাবার খেয়ে নিন ৩০ থেকে ৪০ টাকায়।তারপর ২০টাকার কিছু হালকা খাবার কিনে নিন।তারপর ১২৫টাকায় ঢাকা মেইল ট্রেন এরর টিকেট কিনে ফেলুন।চেষ্টা করবেন ৯টার মধ্যে প্লাটফর্মে থাকার।এখন ট্রেনে উঠে চলে আসুন।

সবাই গুলিয়া খালি যাওয়ার কথা বলে তবে আমাদের কাছে জায়গাটা ভালো লাগে নি।সে জন্য আমরা সেখানে সময় নষ্ট না করে বেড়িবাঁধ ধরেই পায়ে হেঁটে বাশবাড়িয়া চলে আসছি।

Source: TJ Ahmed Rohan‎<Travelers of Bangladesh (ToB)