Yearly Archives

2019

16 Jul 2019

সকালে চলে গেলাম পেহেলগাম ট্যাক্সি স্টান্ড,,, সেখানে বিভিন্নরকম গাড়ী আছে, আমরা একটা ইনোভা নিলাম সরকারি রেইট এর চেয়ে অল্প কিছু কম রাখলো বাংলাদেশী পরিচয় দেয়ার পর 😍

প্রথমেই গেলাম আরু ভ্যালী,, পাহাড় বেস্টিত সবুজ পাইন গাছের সারি আর মেঘের ভেলা, আহ মন জুড়ানো পরিবেশ,, সেখানে ঘুরে ফিরে,, এবার গেলাম পেহেলগাম মিনি চিড়িয়াখানায়, কিন্তু খুব হতাশ হলাম পশু পাখি খুব ই কম 🙄 তারপর ঘুরে দেখলাম রাফটিং পয়েন্ট, জনপ্রতি ৬০০ টাকায় খরোস্রতা লিডারনদীতে রাফটিং করা যায়, , আমরা করি নাই কারন সেদিন একটা প্রতিযোগিতা ছিলো,, তারপর আমরা চলে গেলাম বেতাব ভ্যালী 😘 মনমুগ্ধকর এক পরিবেশ, কিন্তু এমন বাতাস আর ঠান্ডা ছিলো যে দারানোই কষ্টকর, সেখানে সবাই ছবি তুলে চা খেয়ে রওনা দিলাম,, চন্দন ওয়ারীর পথে,,,আকা বাকা পাহাড়ি পথ ধরে আমরা পৌছে গেলাম চন্দন ওয়ারী বাজার এ,, এখানে তাপমাত্রা ছিলো খুব ই কম আর সাথে প্রচন্ড বাতাস,, চন্দন ওয়ারীতেই ও বরফ পেলাম,, সবাই বরফে ফটোসেশান নিয়ে ব্যাস্ত হয়ে গেলো, সেখানে প্রায় ঘন্টা খানেক কাটিয়ে রওনা দিলাম,, পেহেলগাম ভিউ পয়েন্ট এর দিকে,, কিন্তু এমন ব্রিস্টি শুরু হলো।যে কোথায় নামা ও মুশকিল 😔 এভাবেই প্রায় ৫ টা বেজে গেলো আমরা চলে গেলাম পেহেলগাম ট্যাক্সি স্টান্ড এ,,, সেখানে নেমে হাল্কা কিছু খেয়ে চলে গেলাম হোটেল এ,,, টিপ টিপ ব্রিস্টি হচ্ছে, উত্তাল লিডারনদীর শো শো আওয়াজ এর মাঝে বাংলাদেশ বনাম উইন্ডিজ এর খেলা উপভোগ করতে লাগলাম,,, কাশ্মীর এ যে কি পরিমান বাংলাদেশের ক্রিকেট ভক্ত আছে😍,, সেটা কাশ্মীর না গেলে বুঝা সম্ভব নাহ,, রাতে খাবার এর জন্য গেলাম আর কিছু কেনা কাটা করলাম,,,

সকাল ৮ টায় আমরা পেহেলগাম থেকে রওনা দিলাম জাম্মুর উদ্দেশ্যে,, মাঝে ড্রাইভারকে বলে আমরা বানিহাল স্টেশন এ ঢুকলাম,, আমার দেখা বেস্ট ট্রেন স্টেশন এটা,, চারিদিকে পাহাড় আর মাঝে ট্রেন লাইন,, খুবই চমৎকার লাগলো,, বিকাল প্রায় ৫ টা নাগাদ চলে এলাম জাম্মু স্টেশন,, রাত ৯.৪৫ এ আমাদের ট্রেন জাম্মু টু দিল্লীর,, ট্রেন ছারার সময় মনে হলো,, না জানি কত পরিচিত একটা যায়গা থেকে চলে যাচ্ছি 😥 সকাল ঠিক ১০ টায় আমরা দিল্লি স্টেশন এ নামলাম,, নেমে ব্যাগ গুলো লকার রুমে রেখে আমরা চলে গেলাম শপিং করতে,, চাদনী চকে শপিং করে ৪ টার মধ্যে চলে এলাম দিল্লি স্টেশন,, আমাদের কোলকাতা গামী রাজধানী এক্সপ্রেস এখানে থেকেই ছেরে যাবে,,, ঠিক ৪.৪৫ মিনিট এ রাজধানী এক্সপ্রেস কোলকাতার উদ্দেশ্য যাত্রা করলো,, রাজধানী এক্সপ্রেস এর এসি কামরা আর সুস্বাদু খাবার এ কখন যে রাত হয়ে গেলো বুঝতেই পারলাম নাহ😚

সকাল এ নাস্তা সারতে সারতেই ১০.৩০ এ ট্রেন হাওরা স্টেশন এ পৌছালো,, আমাদের এবারের গন্তব্য শিয়ালদহ স্টেশন, প্রিপেইড ট্যাক্সি নিয়ে পৌছে গেলাম শিয়ালদহ,, সেখান থেকে গেদের লোকাল টিকেট নিলাম ৩০ রুপিতে,, ৩ ঘন্টা জার্নি করে পৌছালাম গেদে স্টেশন,, ২ পার এ কাস্টমস চেকিং শেষ করতে ৩০ মিনিট এর মত লাগলো,, সন্ধায় দর্শনা বাজার থেকে ঢাকাগামী বাসের টিকেট কেটে, ঢুকলাম খাবার খেতে,, ১৬ দিন পর নিজ দেশে খাবার খেয়ে মনে হলো অমৃত খাচ্ছি,, খেয়ে দেয়ে বাসে উঠলাম,, বাস চুয়াডাঙ্গা শহর পার হবার পর এক শান্তির ঘুম দিলাম,, এক ঘুমে গাবতলি 😁,,, এবার ঘরে ফেরার পালা,, ১৬ দিনের এই ভ্রমন এ অনেক কিছু শিখেছি, যেমন অনেক পরোপকারী মানুষ পেয়েছি,, ঠিক তেমন বাটপার এর পাল্লায় ও পরেছি,, আমাদের খরচ গিয়েছিলো জন প্রতি = ২৫০০০ বাংলা টাকা

পরিশেষে একটা কথাই বলবো ঘর থেকে বের হন আল্লাহর দেয়া নেয়ামত দেখুন,, আর উনার প্রতি শুকরিয়া আদায় করুন,,
যেখানেই যান পরিবেশ নস্ট করবেন নাহ,, দেশের বদনাম হয় এমন কোন কাজ করবেন নাহ,,
ধন্যবাদ

Source:  Rumman Musaddik‎ <Travelers of Bangladesh (ToB)

16 Jul 2019

জয়পুরের মত যোধপুর হচ্ছে রাজস্থানের আরেকটি ঐতিহ্যবাহী শহর।যোধপুর খুব ই প্রাচীন জনপদ।জয়পুর থেকে যোধপুর এর দূরত্ব প্রায় ৩৩৩ কিলোমিটার। ট্রেনে যেতে প্রায় ৬ ঘন্টা লাগে।ভাড়া ১২০ রুপি।আমরা দিল্লি থেকে জয়পুর গিয়েছিলাম।সেখানে একদিন ঘুরে ভোরের ট্রেনে যোধপুর যেয়ে পৌছাই সকাল ১১ টায়।দিল্লি ফেরার অগ্রীম টিকিট কেটে এরপর যোধপুর শহর ঘুরতে বের হই।

রাজস্থানে মরু অঞ্চলে প্রবেশদ্বার যোধপুর। গোলকধাঁধাতুল্য সংকীর্ণ গলিপথ, পথপার্শ্বে ভাস্কর্যমণ্ডিত বাড়িঘর, হাভেলি আর কারুকার্যময় মন্দিররাজি নিয়েই যোধপুরের আকর্ষণ। দিনে দিনে অটো বা গাড়ি নিয়ে দেখে নেওয়া যায় যোধপুরের দর্শনীয় স্থানগুলি। প্রধান আকর্ষণ অবশ্যই ৫ কিমি দীর্ঘ মেহেরানগড় দুর্গ। দুর্গের চারটি প্রবেশ পথ রয়েছে-জয়পোল, ফতেপোল, লোহাপোল। পাহাড় ঘুরে রাস্তা গিয়েছে দুর্গের মধ্যে। দুর্গের মধ্যে দেখে নিন মোতিমহল, শিশমহল, ফুলমহলা, শিলেখানা, দৌলতখানা প্রভৃতি প্রাসাদগুলি। ভিতরে রয়েছে রাজপরিবারের সংগ্রহশালা। সকাল ৯ টা থেকে বিকাল ৫ টা পর্যন্ত দুর্গ খোলা থাকে। দুর্গের পাদদেশে সরোবরের ধারে মহারাজা যশোবন্ত সিং এর স্মারক সৌধ যশোবন্ত থাডা। এটিও সকাল ৯ টা থকে বিকাল ৫ টা পর্যন্ত খোলা থাকে। যোধপুরের আর এক আকর্ষণ শহরান্তে চাত্তার হিলে ইতালীয় শৈলীতে তৈরি গোলাপী মর্মরের উমেদভবন প্যালেস। প্রাসাদে এখনও রাজপরিবারের বাস রয়েছে। আর একাংশে রয়েছে প্যালেস মিউজিয়াম।

১.মেহেরানগড় দুর্গঃ
1400 শতকের মাঝামাঝি রাও যোধা এই দূর্গটি নির্মাণ করেন। এই দূর্গ থেকে আপনি গোটা যোধপুর দেখতে পাবেন। রাজপুর ঘরানার নকশা করা আকর্ষণীয় আঙ্গিনা, কাঁচের জানলা বিভিন্ন মহল আপনাকে এক লহমায় নিয়ে যাবে সেই রাজপুর যুগে। আভিজাত্য আর শৌর্যের অসাধারণ মেলবন্ধন খুঁজে পেতে মেহেরানগড় আপনাকে যেতে হবেই। ভেতরে রয়েছে একটি মিউজিয়ামও। যেখানে আপনি রাজকীয় পালকি, অস্ত্র ও পোশাকের সম্ভার দেখতে পাবেন। রোমান্টিক ডিনারের জন্য যেতে পারেন দূর্গের মধ্যেকার চকেলাও মহল নামের একটি অত্যাধুনিক রেস্তোরাঁতেও।

2. উমেইদ ভবন প্যালেসঃ
ডেস্টিনেশন ওয়েডিং এর ভারতের অন্যতম সেরা ঠিকানা হল এই উমেইদ ভবন প্যালেস। তাজ হোটেল রয়েছে এই দায়িত্বে। মহারাজা উমেদ সিং-এর নামে পরিচিত এই রাজকীয় প্রাসাদের একটি অংশ জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত, যা প্রকৃতপক্ষে একটি বিশাল জাদুঘর।

৩.জাসওয়ান্ত থাডাঃ
মেহেরানগড় দুর্গর কাছেই রয়েছে জাসওয়ান্ত থাডা। মহারাজা দ্বিতীয় জসওয়ান্ত সিংহের নামেই এই স্মৃতিসৌধ নির্মিত হয়েছিল। বাগান এবং একটি হ্রদের সৌন্দর্য আপনাকে বিভোর করবেই। মার্বেলের তৈরি কেল্লা, উজ্জ্বল রংয়ের অভিজাত দরজা আপনার ফটোশুটের অসাধারণ জায়গা হতেই পারে।

৪.রাজস্থানী থালি, কচুরি এবং মিষ্টিঃ
যোধপুর বহু মানুষেরই পছন্দের ফুড ডেস্টিনেশন। জিপসিতে 29 টি পদ দিয়ে রাজকীয় রাজস্থানী থালি একবার খেয়ে আপনাকে দেখতেই হবে।জনতা স্যুট হোমের পেঁয়াজ কচুরি, আর জিলিপি, শানদার স্যুইট হোমের গুলাব জামুন কি সবজি, বা হানওয়ান্ত মহলের লাল মাস আর বাটের স্বাদ না নিয়ে যোধপুর ছেড়ে আপনি যেতেই পারবেন না।

৫.স্থানীয় বাজার ও কেনাকাটাঃ
রূপোর গয়না আর জাঙ্ক জুয়েলারির জন্য যোধপুর বিখ্যাত।কম্বল এবং কার্পেট, রাজস্থানী জুতো, হ্যান্ডলুম কাপড় ইত্যাদি সংগ্রহ করার জন্য যোধপুরের বাজার ঘুরে দেখতে হবে আপনাকে। এখানকার কয়েকটা বিখ্যাত বাজার হল সারাফা বাজার, ত্রিপোলিয়া বাজার, ক্লক টাওয়ার মার্কেট, নয়া সড়ক ইত্যাদি।

Source: Shopnil Sagir‎ <Travelers Of Bangladesh (TOB)

16 Jul 2019

এই ইটপাথরের শহরের বাহিরে গিয়ে কে না চাই মনের প্রশান্তি নিতে? কেউ চাই পাহাড়,কেউ আবার সমুদ্র সৈকত। আর যদি পাহাড় সাগর দুটোই উপভোগ করা যায় আর তো কথাই নেই।

কথা বলছিলাম,চট্টগ্রাম জেলার বাঁশখালী থানার।যার প্রবেশ পথেই পুকুরিয়া চা বাগান, প্রধান সড়কপথ পাহাড় ঘেঁষে যা প্রকৃতি প্রেমিদের মনোমুগ্ধকর।

শুধু চা বাগান দেখেই কি মন ভরে? তার কিছু পথ পাড়ি দিলেই বাংলাদেশের ৩য় সমুদ্র সৈকত বাঁশখালী সমুদ্র সৈকত।

যারা চাকরি, ব্যবসা করে পরিবার, বন্ধুদের নিয়ে কক্সবাজার, রাঙ্গামাটি,বান্দরবন যাওয়ার সময় হাতে নিতে পারছেন না অথবা স্টুডেন্টস বন্ধুরা যারা একদিনের ভ্রমণের পিপাসু তাদের জন্য অল্প সময়ে স্বল্প খরচে দারুণ এক উপভোগ্য ভ্রমণের জায়গা বাঁশখালী।

খরচেরখাতা : চট্টগ্রাম শহর,শাহ আমানত ব্রীজ থেকে,
বাঁশখালী সমুদ্র সৈকতে আসা-যাওয়া গাড়িভাড়া জনপ্রতি,
সিএনজি -২৫০৳
বাস – ২০০৳

চট্টগ্রাম শহর থেকে মাত্র দুই ঘন্টার পথে ঘুরে আসুন আপনজনের সাথে বাঁশখালী সমুদ্র সৈকতে।

Source: Ashraf Uz Zaman‎ <Travelers Of Bangladesh (TOB)

15 Jul 2019

আমার তুরস্ক আসাটা অনেকটা লটারী পাওয়ার মত। ইউরোপীয় ইউনিয়নের একটা স্কলারশীপে তুরস্কের রাজধানী আংকারায় আসলাম পিএইচডি কোর্সের একটা সেমিস্টার পড়াশুনা করার জন্য। আর সেই সুবাদে তুরস্কের তথা ইউরোপের বৃহত্তম শহর অনন্য অসাধারন ইস্তানবুল দেখার সৌভাগ্য হল। ইতিহাস ও ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ ইস্তানবুল পৃথিবীর বুকে একটি অনন্য শহর। ইস্তানবুলকে কত নামেই না ডাকা যায়! ইউরোপের প্রবেশদ্বার, আন্তঃ মহাদেশীয় শহর, ইউরোপের বৃহত্তম শহর, রোমান, বাইজেন্টাইন ও অটোম্যান সম্রাজের রাজধানী। ইস্তানবুলকে প্রথমে চিনতাম বা জানতাম মসজিদের শহর হিসাবে। তখনও তুরস্কের নাম শুনিনি। আমার মত এখনও অনেকে আছে তুরস্ক থেকে ইস্তানবুলকে বেশী চেনে। আবার অনেকেই জানে ইস্তানবুল তুরস্কের রাজধানী। সংক্ষেপে ইস্তানবুলের ইতিহাস এমন- রাজা বাইজাস খ্রীস্টপূর্ব ছয়শত শতাব্দীতে এই শহরটি তৈরি করেন। তাই রাজার নাম থেকেই শহরের নাম হয় বাইজান্টিয়ান। এরপর পারস্য ও গ্রিসের হাত ঘুরে রোম সাম্রাজ্যের অধীনস্ত হলে সম্রাট কনস্টান্টিন এটিকে পূর্ব রোমান সাম্রাজ্য বলে ঘোষণা করেন এবং কনস্ট্যান্টিনের নামানুসারে এই শহরের নাম হয় কনস্ট্যান্টিপল। রোম সাম্রাজ্যের পতনের পরও এই পূর্ব রোম সাম্রাজ্য প্রায় এক হাজার বছর টিকে ছিল।

সম্রাট কনস্ট্যান্ট খ্রিস্ট ধর্মে দীক্ষিত হয়ে হাজিয়া সোফিয়া বা আয়া সোফিয়ার মতো এক অপূর্ব সুন্দর চার্চ নির্মাণ করেন। চতুর্দশ খ্রিস্টাব্দে অটোমন সুলতান দ্বিতীয় মেহমুদ রোমানদের পরাজিত করে কনস্টান্টিনোপলের নাম পরিবর্তন করে ইস্তানবুল নাম দেয় এবং ইসলামী খেলাফত বা অটোম্যান সম্রাজের রাজধানী বুরসা থেকে ইস্তানবুলে স্থানান্তর করে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর আধুনিক তুরস্কের জনক মোস্তফা কামাল আতার্তুক ইস্তানবুল থেকে রাজধানী আংকারায় স্থানান্তর করলেও এর গুরুত্ব বিন্দু পরিমান কমেনি। এখনও তুরস্কের অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের কেন্দ্রবিন্দু প্রায় ১.৫ কোটি লোকের আবাসস্থল এই ইস্তানবুল। তুরস্কের অর্থনীতিতে যার অবদান চারভাগের একভাগ। কৃষ্ণ সাগর ও মারামারা সাগরের মধ্যবর্তী এবং বসফরাস প্রনালীর দুই কোল ঘেঁষে গড়ে ওঠা এই শহরের প্রতিটি ইট, কাঠই এক একটি ইতিহাস। আর ইতিহাসকে জানতে, নিজের চোখ দিয়ে ইতিহাসকে পরখ করতে এবং নিজেও ইতিহাসের অংশ হতে প্রতি বছর সারা পৃথিবী থেকে কোটির উপরে পর্যটক আসে এই ইস্তানবুলে। মুসলিম নিদর্শনে ভরপুর এই শহর পর্যটক আগমনের দিক দিয়ে পৃথিবীতে ৪র্থ।

পড়াশুনার সুবাদে আমি থাকি তুরস্কের রাজধানী আংকারার মিডল ইস্ট টেকনিক্যাল ইউনিভার্সিটিতে। যার অবস্থান তুরস্কে প্রথম এবং বিশ্বে ৮৫ তম। পড়াশুনার যথেষ্ট চাপ থাকা সত্ত্বেও প্রতি সপ্তাহের ছুটির দিনগুলোতে কোথাও না কোথাও ঘুরতে যাই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভ্রমন গ্রুপের সাথে। ইস্তানবুলের পালা আসতেই চোখের ঘুম উধাও। সময় যেন আর কাটেনা। প্রথমবারের মত ইউরোপে যাবার হাতছানি। আংকারায় থাকলেও মন পড়ে আছে স্বপ্নের শহর ইস্তানবুলে। মনে হচ্ছে সপ্তাশ্চর্য হাজিয়া সোফিয়া, সুলতান সুলেমানের প্রাসাদ তপকেপি প্যালেস, ব্লু মস্ক ও বসফরাস প্রনালী যেন আমায় প্রতিনিয়ত ডাকছে। অবশেষে আসলো সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। রাত ৩ টায় রিজার্ভ বাসে রওনা দিয়ে সকালে মারমারা সাগরের সৌন্দর্য দেখতে দেখতে বসফরাস প্রনালী পার হয়ে ইস্তানবুলের ইউরোপিয়ান অংশের সুলতান আহমেদ স্কয়ারের পাশে একটি হোটেল উঠে ব্যাগ রেখে গেলাম ইস্তানবুলের সবচেয়ে দর্শনীয় স্থান হাজিয়া সোফিয়া, বসফরাস প্রনালীর পাশে সুলতান সুলেমান তথা অটোম্যান সম্রাটদের প্রাসাদ তপকেপি প্যালেস এবং তুরস্কের অন্যতম আকর্ষন ও ইসলামী ইতিহ্যের নিদর্শন সুলতান আহমেদ মসজিদ বা ব্লু মস্ক দেখতে। পরেরদিন সকালে গেলাম বসফরাস প্রনালীতে ক্রুজ ট্যুরে। সে এক অসাধারন দৃশ্য। গোল্ডেন হর্ন থেকে আমাদের জাহাজ ছুটে চলেছে বসফরাসেরর নীল পানির বুক চিরে। উপরে নীল আকাশে সাদা গাংচিলের খেলা, সাথে দুপাশের মনরোম দৃশ্য। একদিকে ইউরোপ, অন্যদিকে এশিয়া। এক সংগে দুটো মহাদেশ দেখার বিরল অভিজ্ঞতা শুধু এখানেই সম্ভব। বসফরাস ভ্রমন শেষে মাছ দিয়ে পাউরুটি খেয়ে কিছু কেনাকাটা করে শেষ করলাম সেদিনের মত ইস্তানবুল দর্শন। শহর বা নগর আমাকে টানে না, যেভাবে টানে পাহাড় ও প্রকৃতি। কিন্তু ইস্তানবুলের ক্ষেত্রে পুরাই উল্টো। দুটি পাতা একটি কুঁড়ির মত দুটি মহাদেশ একটি নগর খ্যাত ইস্তানবুল ইতিহাস ও ঐতিহ্যে অনন্য। ইস্তানবুলের তুলনা শুধু ইস্তানবুলই হতে পারে। ইতিহাস ও ঐতিহ্যের পাশাপাশি সৌন্দর্যের দিক দিয়েও অসাধারন। এখানকার মানুষগুলো যেমন দেখতে সুন্দর, তেমন সুন্দর রাস্তাঘাট ও তাদের ঘরবাড়ী। তুরস্কের সবকিছুই গোছানো ও পরিকল্পিত। অসংখ্য ও বিশাল বিশাল চওড়া রাস্তাগুলির দুইধারের সুন্দর সুন্দর ইমারত গুলো দেখে চোখ জুড়ায়ে যায়। এছাড়া ট্রাম, মেট্রোতো আছেই। তাই এত জনবহুল শহর হওয়া সত্ত্বেও যানজট নাই বললেই চলে। তুর্কীরা জাতিগত ভাবে যোদ্ধা হলেও আচার আচরনে অনেক বিনয়ী। পুরো তুরস্ক ঘুরেও আমার কখনো নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তা হয় নাই। বাংলাদেশকে সবাই চেনে না। তবে রোহিংগা সমস্যার কারনে এখন অনেকেই বাংলাদেশ সম্পর্কে জানে। প্রায় শতভাগ মুসলমানের এই দেশে যারা চেনে তারা বাংলাদেশকে বেশ ভালবাসে। এমনও হয়েছে দোকানে চা খাওয়ার পরে মুসলিম জানার পরে বিলতো নেই নাই। উপরন্তু টিব্যাগ উপহার দিয়েছে। ভারতের কাশ্মীরেও বাংলাদেশী ও মুসলিম হওয়ার কারনে ভাল আতিথেয়তা পেয়েছিলাম। তুরস্কের সবকিছু ভাল লাগলেও দুটি ব্যাপার আমাকে খুব পীড়া দিয়েছে। এক, এখান লোকের ইংরেজী জ্ঞান। ইয়েস নো ভেরীগুড টাইপের ইংরেজী জানে না। আর দুই, ভাত পাওয়া যায় না। আমার মতো ভেতো বাংগালীর তাই অনেক কস্টও হয়েছে। তুর্কীরা ভাতের পরিবর্তে পাউরুটি খায়। আবার সেগুলো লোহার মত শক্ত। তবে এখানে গমের ভাত খাওয়ার এক বিরল অভিজ্ঞতা হয়েছে। যাহোক এরপর একে একে ডলমাবেচ প্যালেস, গালাটা টাওয়ার, ঐতিহাসিক তাকসিম স্কয়ার ও তাকসিন স্কয়ারে অবস্হিত মাদাম তুসোর মিউজিয়াম, ক্যাবল কার, বেয়ারলীবে প্যালেস, মিসরীয় মসলার বাজার, গ্রান্ড বাজার, আ্যাকুরিয়ামে ডলফিন ও শীল মাছের অসাধারন কলা কৌশল দেখে শেষ করলাম স্বপ্নের ইস্তানবুল দর্শন।

#কি_কি_দেখবেনঃ
ইস্তানবুল মোটামুটি দেখতে হলে কমপক্ষে এক সপ্তাহ হাতে রাখতে হবে। কারন এখানে ২ টা সাগরে রয়েছে অনেকগুলো সমুদ্র সৈকত, একটি প্রনালী, মিউজিয়াম,অসংখ্য প্রাসাদ ও মসজিদ সহ অসংখ্য দর্শনীয় স্থান। যাহোক মোটামুটি যে জায়গাগুলো না ঘুরলেই নয়ঃ
১। #হাজিয়া_সোফিয়াঃ মধ্যযুগের সপ্তাশ্চার্য হাজিয়া সোফিয়া অর্থ পবিত্র জ্ঞান। এটি প্রথমে অর্থোডক্স গির্জা হিসাবে প্রতিষ্ঠিত হলেও পরবর্তীতে ক্যাথলিক গির্জায় রুপান্তর করা হয় এবং পঞ্চদশ শতাব্দীর মাঝামাঝি তুরস্ক মুসলিম সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত হলে এটি “ইম্পিরিয়াল মসজিদ” নামে তুরস্কের প্রধান মসজিদ হিসাবে স্বীকৃতি লাভ করে। আধুনিক তুরস্কের স্থপতি ও স্বাধীন তুরস্কের প্রথম রাষ্ট্রপতি “মুস্তফা কামাল আতার্তুক” ১৯৩৫ সালে এটিকে যাদুঘরে রূপান্তর করেন। বর্তমানে এটি মুসলমান ও খ্রীস্টান উভয় ধর্মের নিদর্শন বহন করছে। যাদুঘরে রূপান্তরের পর যীশু খ্রিস্টের ছবি এবং আল্লাহু ও মুহাম্মদ (সঃ) ” এর নাম আরবিতে অঙ্কিত মার্বেল পাথরে সংরক্ষিত আছে।
২। #তপকেপি_প্যালেসঃ দ্বিতীয় মুহাম্মদ পঞ্চদশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে এই প্রাসাদের নির্মাণকাজ শুরু করান। এই প্রাসাদ প্রায় ৪০০ বছর ধরে উসমানীয় সুলতানদের বাসস্থান হিসেবে বিদ্যমান ছিল। পরবর্তীতে ১৭ শতকে সুলতানগনের আবাস স্থল ও রাজকীয় কাজকর্ম ডোলমাবাঞ্চ প্রাসাদে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে এটি মিউজিয়াম হিসাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এখানে মুসা (আঃ) লাঠি, হজরত মোহাম্মদ( সাঃ) পদ চিহ্ন, দাঁড়ি, তরবারী, দাউদ (আঃ) সহ অনেক নবী ও রাসুলের ব্যবহৃত সরঞ্জাম এবং খালিদ বিন ওয়ালিদ, হজরত আল হযরত ওমর, হযরত ওসমান সহ অনেক সাহাবীর তরবারী সংরক্ষিত আছে।

৩। #ব্লু_মস্কঃ সুলতান আহমেদ মসজিদ ইস্তানবুলের একটি ঐতিহাসিক মসজিদ। মসজিদের অভ্যন্তরের দেওয়াল নীল রঙের টাইলস দিয়ে সুসজ্জিত বলে এই মসজিদটি ব্লু মস্ক বা নীলমসজিদ নামে পরিচিত। এটি ১৬০৯ থেকে ১৬১৬ সালের মধ্যে উসমানীয় সম্রাজ্যের সুলতান আহমেদ বখতি নির্মাণ করেন।এটি ইস্তানবুলের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন আকর্ষণ।

৪। #ডলমাবেচ_প্যালেসঃ ইউরোপীয় আদলে তৈরী ইস্তানবুলের প্রথম প্রাসাদ। বসফরাসেরর পাশে ১৭ শতকে সুলতান আব্দুল মজিদ এর শাসন আমলে নির্মিত হয।

৫। #মাদাম_তুসোর_মিউজিয়ামঃ পৃথিবীর বিখ্যাত ব্যক্তিদের মোমের তৈরী মূর্তি আছে।
৬। #গালাটা_টাওয়ারঃ এটি ইস্তানবুল শহরের একটি অন্যতম ল্যান্ড মার্ক। অতীতেএখান থেকে মারমারা সাগরে নজরদারী করা হত।
৭। #গোল্ডেন_হর্নঃ গোল্ডেন হর্ন বসফরাস প্রণালীর একটি মোহনা। এটি অতীতে ইস্তানবুলের পুরোনো অংশকে আক্রমণের হাত থেকে রক্ষা করতে দুর্গপরিখা হিসেবে কাজ করতো। এছাড়া এখানে উসমানীয় সাম্রাজ্যের নৌবাহিনীর জলযান
নোঙ্গর বাঁধার স্থান হিসেবে ব্যবহৃত হত।
৮। #বসফরাস_প্রনালীঃ একটি জলপ্রণালী যা এশিয়া ও ইউরোপের সীমানা নির্দেশ করে। এটিকে অনেক সময় ইস্তানবুল প্রণালীও বলা হয়। বসফরাস, মারমারা
উপসাগর এবং দক্ষিণ পশ্চিমের দার্দেনেলাস প্রণালী মিলেতুর্কি প্রণালী গঠিত। বসফরাস প্রণালী বিশ্বের নৌ চলাচলে ব্যবহৃত সবচেয়ে সরু জলপথ।
৯। #গ্রান্ড_বাজারঃ ইউরোপের সবচেয়ে বড় বাজার।
১০। #আকুয়ারিয়ামঃ ডলফিন ও শীল মাছের কলা কৌশল ৮০ লিরা টিকেটে ৪০ মিনিটের এই শোটা সত্যিই অসাধারন।

এছাড়া আরো দেখতে পারেন তাকসিম স্কয়ার, বেয়ারলীবে প্যালেস, মারামারা ও কৃষ্ণ সাগর, সুলেমানী ও রস্তমপাশা মসজিদ, ব্যাসিলিকা সিস্টার্ন, হিপ্পোড্রোম, ইস্তানবুল আর্কেওলজিক্যাল মিউজিয়াম, মিউজিয়াম অফ টার্কিশ এন্ড ইসলামিক আর্ট, মিশরীয় মসলার বাজার।

#বিঃদ্রঃ
১। ইস্তানবুল ও তুরস্কে অসংখ্য মিউজিয়াম আছে। প্রতিটি জায়গায় টিকেট কাটার থেকে একটা মিউজিয়াম কার্ড, যার মেয়াদ ১ বছর কিনে নিলে সাশ্রয় হবে।
২। ইস্তানবুলে ঘোরার জন্য ইস্তানবুল কার্ড নিলে ঘোরাঘুরি সহজ ও সাশ্রয় হবে।
৩। সুলতান আহমেত স্কয়ার থেকে Big bus নামে সিটি ট্যুরের গাড়ী করে ইস্তানবুলের দর্শনীয় স্থানসমূহ ঘোরা সুবিধাজনক হবে।
৪। একটা কথা বলে শেষ করছি, সেটা হলো আমরা দেশে বিদেশে, পাহাড়ে সাগরে যেখানেই যাইনা কেন? পরিবেশের দিকে সব সময় খেয়াল রাখবো। আমরা নিজের ক্ষতি করলেও পরিবেশের জন্য ক্ষতিকারক এমন কোনো কাজ করবো না। এই হোক আমাদের প্রতিজ্ঞা।

Source: ডাঃ মোঃ মিজানুর রহমান <Travelers of Bangladesh (ToB)

15 Jul 2019

বাংলার প্রত্নতাত্ত্বিক ঐতিহ্যের মধ্যে রাজশাহীর পুঠিয়া রাজবাড়ী অন্যতম। ১৮৯৫ সালে মহারানী হেমন্তকুমারী দেবী আকর্ষনীয় ইন্দো ইউরোপীয় স্থাপত্যরীতিতে আয়তাকার দ্বিতল বর্তমান রাজবাড়ীটি নির্মাণ করেন।রাজশাহী জেলা সদর হতে ৩২ কিঃমিঃ উত্তর- পূর্বে নাটোর মহাসড়ক অভিমুখে পুঠিয়া অবস্থিত। বাসে করে দেশের যে কোন স্থান হতে পুঠিয়া আসা যায় এবং ট্রেনে করে নাটোর অথবা রাজশাহী নেমেও সড়কপথে সহজে আসা যায়।

সপ্তদশ শতকে মোগল আমলে তৎকালীন বাংলার বিভিন্ন রাজ্যের মধ্যে পুঠিয়া জমিদারি ছিল প্রাচীনতম। কথিত যে জনৈক নীলাম্বর মোগল সম্রাট জাহাঙ্গীরের (১৬০৫—২৭ খ্রি.) কাছ থেকে ‘রাজা’ উপাধি লাভ করার পর সেটি পুঠিয়া রাজবাড়ীরূপে পরিচিতি লাভ করে। ১৭৪৪ সালে জমিদারি ভাগ হয়। সেই ভাগাভাগিতে জমিদারের বড় ছেলে পান সম্পত্তির সাড়ে পাঁচ আনা এবং অন্য তিন ছেলে পান সাড়ে তিন আনা। ১৯৫০ সাল পর্যন্ত জমিদারি প্রথা ছিল। প্রথা বিলুপ্ত হলে পুঠিয়া রাজবাড়ীর জমিদারিও বিলুপ্ত হয়। কিন্তু জমিদারি বিলুপ্ত হলেও সে আমলে নির্মিত তাঁদের প্রাসাদ, মন্দির ও অন্যান্য স্থাপনা ঠিকই এখনো টিকে রয়েছে। অপরূপ এ প্রাসাদটি ১৮৯৫ সালে মহারানী হেমন্ত কুমারী দেবী তাঁর শাশুড়ি মহারানী শরৎ সুন্দরী দেবীর সম্মানে নির্মাণ করান।

পুঠিয়া রাজবাড়ীর আশে পাশে ছয়টি রাজদিঘী আছে। প্রত্যেকটা দিঘীর আয়তন ছয় একর করে। মন্দিরও আছে ছয়টি। সবচেয়ে বড় শিব মন্দির। এ ছাড়া আছে রাধাগোবিন্দ মন্দির, গোপাল মন্দির, গোবিন্দ মন্দির, দোলমঞ্চ ইত্যাদি। প্রতিটি মন্দিরের দেয়ালেই অপূর্ব সব পোড়ামাটির ফলকের কারুকাজ। জোড়বাংলা মন্দির, বাংলো মন্দির, পঞ্চরত্ন অর্থাৎ চূড়াবিশিষ্ট মন্দির অর্থাৎ বাংলার বিভিন্ন গড়নরীতির মন্দিরগুলোর প্রতিটিই আকর্ষণীয়। এ ছাড়া রানির স্নানের ঘাট, অন্দর মহল মিলিয়ে বিশাল রাজবাড়ী প্রাঙ্গণ।

*যেভাবে যাবেনঃ ঢাকা হতে রাজশাহী গামী যেকোন বাস যোগে পুঠিয়া রাজবাড়ী যাওয়া যায়। পুঠিয়া বাজারে নেমে ৫ টাকা ভ্যান ভাড়া দিয়ে পুঠিয়া যাওয়া যায়।

আর রাজশাহী হতে ভাড়া ২৫ টাকা।
***ঘুরতে গিয়ে কোথাও অপচনশীল কিছু রেখে আসবেন না। এই প্রাচীণ সৌন্দর্যমন্ডিত জায়গাগুলো আমাদের সম্পদ। এগুলোতে ময়লা-আবর্জনা ফেলে নষ্ট করবেন না।

Source: Rakib Riyad‎ <Travelers of Bangladesh (ToB)

15 Jul 2019

সকাল ৬ টা বেজে ৩০ মিনিট, পারাবত এক্সপ্রেসসের জন্য অপেক্ষা। যথাসময় তাঁহার উপস্থিথি। ভিড় সামলে আমার আমাদের আসনে বসলাম । সকাল ১১ টায় আমারা শ্রীমঙ্গল নামলাম।

মেঘলা আকাশ , গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি। এর মাজে গরম ধুয়া তোলা, করা লিগার এর এক কাপ চা।

হোটেলে চেক–ইন করেই আমরা বের হয়ে পড়ি। লাউয়াছড়া রেইন ফরেস্ট, মাদবপুর লেক ঘুরে আমরা সন্ধ্যায় হোটেলে এ চলে আসি । চাচির হোটেল এর চা মিস না করাই ভালো। After freshen up আমার শহরে ঘুরাঘুরি করি। তারপর আদি নীলকণ্ঠ চা কেবিনে আট রঙের চা ,এর সঙ্গে সঙ্গে একখানা জম্পেস আড্ডাও হয়ে যায়। পানসি তে রাতের খাবার খেয়ে আমরা হোটেল এ চলে যাই।

সকাল সকাল ঘুম থেকে ওঠে আমারা বেড় হয়ে পড়ি। হেঁটে হেঁটে রাবার বাগান, বিটিআরআই, চা-বাগান, বাগানি-পল্লী , মনিপুরি পাড়া গুড়ে দশ টার দিকে নাস্তা করে হোটেলে চলে আসি। এগার টার দিকে বেড় হয়ে যাই খাসিয়া পুঞ্জি উদ্দেশ্য । এক টার মাজেই আমারা চলে আসি খাসিয়া পুঞ্জি। বেলা তিন টা পর্যন্ত ছিলাম খাসিয়া পুঞ্জিতে। পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন, সাজানো গুছানো, ছবির মত একটি জায়গা। পুঞ্জিতেই আমারা দুপুরের খাওয়া দাওয়া করি। পুঞ্জি থেকে সরাসরি হোটেল, ফ্রেশ হয়ে হোটেল থেকে স্টেশান। বিকাল ০৫:৩০ পারাবত এক্সপ্রেস হাজির । রাত ১০ টা আমারা ঢাকা।

চকচকে রোদ, এই বৃষ্টি, কালো মেঘ, সবুজের ছিমছাম, শীতল বাতাস , অতিথিপরায়ণ লোকজন সব কিছুর মিশেলে অদ্ভুত সুন্দর এক শহর। পুরাটা সময় বৃষ্টি আমাদের সঙ্গী ছিল। বৃষ্টির আর চা এর সঙ্গ বেশ উপভোগ করেছি।

ট্রেন ভ্রমন বেশ সুখকর ছিল।

শ্রীমঙ্গল আর বৃষ্টির কি যেন একটা নাম নাজানা সম্পর্ক রয়েছে। এক জনকে ছাড়া আর একজন শ্রীহীন। আর এই দুই জন একত্র হলেই, প্রকৃতি তার সবটা ওঝার করে দেয়।

আদিবাসি পুঞ্জিতে খাসিয়া শিখে গেছে কিভাবে পরিষ্কার থাকতে হয়, কিভাবে পরিবেশ পরিষ্কার রাখতে হয়। কাজে কাজেই আমাদের এই বিষয়ে সচেতন হওয়া দরকার।

Source: Ashrafuzzaman Khan‎ <Travelers of Bangladesh (ToB)

15 Jul 2019

ITINERARY LA PANDORA CRUISES 2 DAYS 1 NIGHT
(Ha Long Bay – Lan Ha Bay)

Day 01: Hanoi – Ha Long Bay – Lan Ha Bay (L/D)

08:30Hotel or private address pick up with our shuttle bus. Short break half way.
12:00Arrive Got Ferry Terminal, transfer by tender to La Pandora Cruise, and enjoy welcome drinks, receive cruise briefing, safety instructions then check in to your cabin and set sail through Ha Long Bay while having time to admire the magical landscape go by. The Cruise Pass Da Chong Islet, where you can see a lighthouse built by the French over 100 Years Ago.
13:00A special lunch in Vietnamese cuisine of fresh seafood and an assortment of appetizing favorites are served while sailing through Islets ofCon Vit.
15:30The Cruise sails through Lan Ha Bay. The area is surrounding of extraordinary limestone karsts landscapes. We progress to Ong Cam Area Of Lan Ha Bay- a separate part of Ha Long Bay. This is a quiet tourist paradise in Vietnam, enjoy Kayaking and/or enjoy Swimming in the crystal clear waters of the Bay.
17:30Back to La Pandora Cruise, drop anchor for staying overnight. Enjoy the complimentary Sunset Party on the sundeck with local wine and fresh fruits.
19:00Dinner is served in the restaurant. Enjoy delicious local food prepared and served for you by our wonderful onboard catering staff.
21:00Retire to your cabin or join the fishing excursion, watch a movie, have a drink at the bar, wifi access or play exciting games. Overnight on board.

Day 02: Dark & Bright Cave – Ha Long Bay – Hanoi (light breakfast/ brunch)
06:00Enjoy sunrise and admire the never ending miraculous scenery of the Bay. Practice an invigorating Tai Chi session on the sundeck.
07:00Light breakfast, coffee and tea served.
07:45Visit Dark & Bright Cave and islets by local rowing boats which is a wild and mysterious beauty in the middle of the World Heritage.
09:15Back to our La Pandora Cruise, relax before checking out.
10:15Join cooking demonstration(teaching you how to make our speciality, Spring rolls) on the cruise.
11:00Lunch is served on board.
12:00Disembark at the Got Ferry Terminal by tender. Take our shuttle bus to return to Hanoi
15:00Arrival back at your hotel or home.

Source: Viet Nam Vacation Travel & Tour

15 Jul 2019

জলদাপাড়া অভয়ারণ্যে প্রবেশপথে চোখে পড়লো ‘দ্যা রাইনোল্যান্ড’ খ্যাত পাথরের সাইনবোর্ড খোদাই করা ফটক। ২০১২ সালে জলদাপাড়া বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নামকরণ হয় জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যান। পূর্ব হিমালয়ের ভূটান পাহাড়ের গা ঘেসে পশ্চিমবঙ্গের আলিপুরদুয়ার জেলায় অবস্থিত এজাতীয় উদ্যানটি। ২১৬ বর্গ কি:মি: বিস্তৃত জলদাপাড়ার খ্যাতি লুপ্ত প্রায় এক শৃঙ্গী গন্ডারের জন্য। মালঙ্গী, হলং, বুড়িবসরা, কালিঝোড়া সহ পূর্ণেন্দ্র পত্রীর কবিতায় যুবতী তোর্সা নদী এই অরণ্যের মধ্য দিয়ে বয়ে গিয়েছে।

অনেক বছর আগের কথা, ২০০৩ সালে রোদ্র খরতাপে তপ্ত মে মাসের একদিন – নেপাল সীমান্তবর্তী মিরিকের পাহাড়ী লেকে ঘুরে প্রায় মধ্যবেলায় শিলিগুড়িতে পৌঁছাই। ব্রীজের পাশে হোটেল ‘স্নোভিউ’তে ফ্রেস হয়ে দুপুরের খাবারের খোঁজে পেয়ে যাই বাসস্ট্যান্ডের পাশের একটি ভোজনশালা। গরম গরম আলু পরাটা, সয়াবিন আর গরম চা খেয়ে তেনজিং নোরগে বাসস্ট্যান্ডের পশ্চিমবাংলার রাজ্য পরিবহনের একটি বাসে চড়ে বসি। বাসস্ট্যান্ডের যাওয়ার পথে মাঝ বয়সী রিক্স্রাচালকের কাছে জানতে পারি নকশাল বাড়ীর কিংবদন্তী সিপিএম নেতা চারু মজুমদারের বাড়ী আশে পাশেই। শিলিগুড়ির তেনজিং নোরগে বাসস্ট্যনড থেকে জয়গাঁর বাসে মাদারীহাটের জলদাপাড়া অরণ্যে যেতে সময় লাগবে প্রায় সাড়ে তিন ঘন্টা থেকে চার ঘন্টা।

জলদাপাড়া অভয়ারণ্যের সামনে বাস যখন থামলো তখন বিকেল গড়িয়ে প্রায় সন্ধ্যা। দীর্ঘ পথ কুচবিহার, জলপাইগুড়ির ডুয়ার্সের চা বাগান পেরিয়ে এসেছি। তোর্সা নদীর তীরে অবস্থিত এই অভয়ারণ্যের সামগ্রিক আয়তন ১৪১ বর্গ কিলোমিটার। । জলদাপাড়া মূলত নদীকেন্দ্রিক বনাঞ্চলময় একটি সুবিস্তৃত তৃণভূমি। জীব ও উদ্ভিদের বৈচিত্রময় সমাবেশ এ অভয়ারণ্যে। এগুলির মধ্যে অবলুপ্তপ্রায় একশৃঙ্গ গণ্ডার বিশেষভাবে উল্লেখ্য। এইসব প্রাণী ও উদ্ভিদ সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে ১৯৪১ সালে জলদাপাড়া একটি অভয়ারণ্য ঘোষণা করা হয়।

বিশাল আয়তনের সে বিখ্যাত ডুয়ার্স চা-বাগান পেরিয়ে জলদাপাড়া। বাংলা সাহিত্যের অনেক কথা সাহিত্যিকের লেখার পটভূমি নকশালবাড়ী, আঙরাভাসা নদী, ডুয়ার্সের চা বাগানে জীবনচিত্র। বিশেষত সমরেশ মজুমদার, সুনীল গাঙ্গোপাধ্যায়ের লেখা পড়ে এসব জায়গা ভ্রমণে মনে হয় চারপাশ অনেক চেনাশুনা আর দেখা।

জলদাপাড়া অভয়ারণ্যে নদীর নামে নাম বনবাংলো হলং অতিথিশালায় আমাদের থাকার ব্যবস্থা হলো। তথ্যকেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত রমেন্দ্র দের সঙ্গে আলাপচারিতা হলো। বাংলাদেশের বন বিভাগে সুন্দরবনে কাজ করেছি তাই কিছুটা বাড়তি আপ্যায়ন। চারপাশে জঙ্গলের মাঝখানে অনেকটা জায়গা জুড়ে ছোট ছোট কয়েকটা কটেজ। হলং বাংলো কাঠের মাচার উপর। দশ বারোটা সিড়ি ভেঙে কটেজে উঠতে হয়। প্রথমে কয়েকটা ছোট বারান্দা। পরিপাটি বাথরুম, সুন্দর পরিচ্ছন্ন বিছানা, অরণ্যের ভেতরেও নাগরিক সুবিধা। রাতের আলো অন্ধকারে মনে মনে সত্যাজিৎ রায়ের অরণ্যের দিনরাত্রিতে যেন বসবাস। তবে খাবার খেয়ে বিছানায় গা লাগানোর সাথে সাথেই লম্বা বাস জার্নির ক্লান্তি বুঝতে না বুঝতেই ঘুমের রাজ্যে হারিয়ে গেলাম। ঘুম ভাঙলো খুব সকালে চেনা অচেনা নানা পাখির ডাকে। যেন পাখির স্বর্গরাজ্য – টিয়া, ময়ূর, চিল, বাজ, বক, ধনেশ সহ আরও কতো নাম না জানা পাখি। এখন থেকে ৫৬ বছর আগে ১৯৫৪ সলে জলদাপাড়া বন কে সংরক্ষিত বনাঞ্চল ঘোষনা করা হয়। আর এখন ও তো অভয়ারণ্য- বিভিন্ন জীবজন্তু আর পশুপাখির। একটা ছোট চিড়িয়াখানা রয়েছে অফিসের সাথেই। সেখানে এ অরণ্যে প্রাপ্ত বিভিন্ন প্রজাতির পরিসংখ্যান পাওয়া গেলো।

আসামের কাজিরাঙা জাতীয় উদ্যানের পর ভারতে এই অভয়ারণ্যেই সর্বাধিক সংখ্যক গন্ডারের দেখা মেলে। এই অভয়ারণ্যে বসবাসকারী অন্যান্য বন্যপ্রাণীগুলি হল বেঙ্গল টাইগার, হাতি, সম্বর হরিণ, মায়া হরিণ, চিতল হরিণ, হগ ডিয়ার, বুনো শুয়োর ও গৌর। জলদাপাড়া পক্ষীদর্শকদের কাছে স্বর্গরাজ্য। ভারতের যে অল্প কয়েকটি অঞ্চলে বেঙ্গল ফ্লোরিক্যান দেখা যায়, তার মধ্যে জলদাপাড়া অন্যতম। এখানে দেখা যায় এমন অন্যান্য পাখিগুলি হল ক্রেস্টেড ইগল, পালাস’স ফিশিং ইগল ও শিরকা। এছাড়া দেখা যায় বনমোরগ, ময়ুর, তোতা, বেঙ্গল ফ্লোরিক্যান, লেসার পেইড হর্নবিল প্রভৃতি।

এখানে সরীসৃপের ভেতরে আছে অজগর, গিরগিটি, ক্রেট, কোবরা, গুই সাপ, গিকোস ও মিষ্টি জলে বসবাসকারী কচ্ছপের আটটি প্রজাতি।

১৫ জুন থেকে ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়কাল বাদে বছরের অন্যান্য সময় জলদাপাড়া অভয়ারণ্য পর্যটকদের জন্য খোলা থাকে। অক্টোবর-মে মাসে, বিশেষত মার্চ-এপ্রিল মাসে বনে নতুন ঘাস গজায়।

জলদাপাড়া অরণ্যে এলিফ্যান্ট সাফারির ব্যবস্থা আছে। জঙ্গলে সাফারী হয় দুটো ট্রিপে। সকালে আর বিকালে। প্রতি হাতিতে চারজন পর্যটক বক্সারে সাফারী করতে পারে। যেন ধীর গতির গজগামিনীতে অরণ্য দর্শন। হাতির পিঠে চড়ে জঙ্গলের গভীরে যাওয়া যায় এবং বন ও তৃণভূমিতে গন্ডার, হাতির পাল ও অন্যান্য জীবজন্তুর বন্যজীবন প্রত্যক্ষ করা যায়। এলিফ্যান্ট সাফারি ছাড়াও বনে কার সাফারিও করা যায়।

একটু আতংক কাজ করে চিতাবাঘের কথা মনে হলেই। কাজীরাঙা বন থেকে কেবল ভ্রমন শেষ করে আসা এক বৃদ্ধ অরণ্যচারী দম্পতির সাথে দেখা হয়ে যায়। এ বনে হরিণ, হাতির দেখা মেলে সহজেই। পরিদর্শন টাওয়ারে উঠে দূরের দৃষ্টিতে আবছা ভাবে নজরে এলো বিখ্যাত একশিঙা ভয়ংকর রাইনো । আমাদের ট্যুর গাইড বীনা, সবকিছুই যেন তার চোখে আগে ধরা পড়ে। চলাচলের পথে গন্ডারের জন্য মাটিতে ছোট গর্তে লবন রাখা, পাশেই ছোট একটা নদী। পাহাড়ী নদীর স্বচ্ছ কাঁচের মত টলটলে পানি। নীচে পাথরের নুড়ি, খুঁদে রঙ – বেরঙের মাছের মেলা।

রোদ পড়তেই এই অভয়ারণ্যের পোষা হাতিরা সারাদিন মুক্ত জঙ্গলে ঘাস-লতা-পাতা খেয়ে ফিরে আসছে। পাশের নদীতে কয়েকটা হাতি স্নান করছে আমাদের উপেক্ষা করেই।

সাফারী শেষে এবার কটেজে। শুধু খাবারের জন্য নিচে নামতে হয়; চাইলে উপরেও খাবার মেলে। নিরব নিস্তব্ধ রহস্য ঘেরা অরণ্যে এক রাত্রি দুই দিন পাড় করে এবার জয়গাঁ যাওয়ার পালা। প্রকৃতির নিরব নিস্তব্ধতায় আর বনের বন্য মায়ায় মনে হলো ট্যুরের পরিকল্পনাটা বুঝি ভুলই ছিলো। অন্য কোথাও না যেয়ে শুধু পশু-পাখির কাকলীতে নিঃসর্গে কয়েকদিন প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের সবুজে হারিয়ে গেলে মন্দ হতো না। আর কিছু না হোক তাতে অন্ততপক্ষে নিজেকে খুঁজে পাওয়া যেতো।

অবশেষে মনে মনে ভাবি, আবারও ফিরবো অরণ্যে, নিজেকে সঁপে দিবো অরণ্যের দিনরাত্রিতে।

কিভাবে যাবেন

শিলিগুড়ির তেনজিং নোরগে বাসষ্ট্যান্ড থেকে জয়গাঁর বাসে মাদারিহাট । মাদারিহাট বাসষ্টপের সামনেই জলদাপাড়া অরণ্যের প্রবেশদ্বার ।

কোথায় থাকবেন

জলদাপাড়া অরণ্যের মধ্যে বিলাসবহুল হলং বাংলো অথবা ভুটানের প্রবেশদ্বার জয়গাঁয় রয়েছে নানা মানের হোটেল।

সতর্কতা:

ছবির মতো সুন্দর আরন্য- জলদাপাড়া অভয়ারণ্য । অনেক প্রানীর বিচরণক্ষেত্র এ অরণ্য। দায়িত্বশীল পর্যটক হয়ে বনের উদ্ভিদ-প্রাণী আর প্রাকৃতিক নিসর্গের সৌন্দর্য উপভোপ করতে হবে ।পরিচ্ছন্ন বনটি কোনোভাবে অপরিচ্ছন্ন করা উচিত হবে না।

Source: Marzia Lipi ‎<Travelers of Bangladesh (ToB)

14 Jul 2019

কামলা মানুষ হাতে সময় বড্ডো কম। ছুটির বিষয়ে এতটাই গরীর যে সপ্তাহে এক দিনের বেশি ভাগ্যে জোটে না এমন মানুষ যদি হন আপনি তবে, আপনার জন্যেই একদিনের মাঝেই অনেক কিছু ঘুরে আসার জন্য যদি ঘোরার স্থান খুঁজে ফেরেন তবে আছে ঢাকার দুই উপজেলা দোহার ও নবাবগঞ্জ। সকালে শুরু করে সন্ধ্যাতেই যদি শেষ করতে পারেন ঘুরাঘুরি তবে আর যাইহোক কৈফত দেবার বাধ্যবাধকতা হতে যে অনেকেই মুক্তি পাবেন সেটা মোটামুটি নিশ্চিত। যাইহোক শুরু করতে পারেন যেকোন দিন সকালে, ঢাকার গুলিস্তান এর গোলাপ শাহ এর মাজার হতে। সেখান থেকেই ছাড়ে নবাবগঞ্জ গামী এন.মল্লিক, যমুনা ও দ্রুত পরিবহনের বাস। সেই বাসে চেপেই শুরু করে দিতে পারেন দিনের শুরু।

মাত্র ৭০-৭৫ টাকা জন প্রতি ভাড়ায় ২ ঘন্টায় পৌছে যাবেন নবাবগঞ্জ। ঘোরাঘুরির শুরু করতে পারেন কলাকোপা হতেই। বাসের হেলপার-সুপার ভাইজার কে বললেই নামিয়ে দেবে কলাকোপা কোকিল প্যারি হাই স্কুলের সামনেই। এর পর রাস্তা পার হয়ে স্কুলের অপজিটের ডান দিকের পথ ধরে হাটা শুরু করলেই পাবেন ছোট্ট মন্দিরের মত তার মাঝে মাথা বিহীন এক মূর্তি। না ভাই আবেগ আপ্লুত হবার দরকার নেই সেই সাথে ভয় পাবারো কিছু নেই। সেই মূর্তির মাথা টি কেটে পদ্মা সেতু তৈরীতে দেওয়াও হয় নি সেই সাথে সেটি হিন্দু বা বৌদ্ধ কোন দেব দেবীরও মূর্তি নয়, যদি এই মূর্তির মাথাটি মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী উড়িয়ে দিয়েছিল। এই মূর্তিটি মূলত কোকিল প্যারি জমিদারের বাবার মূর্তি। যাই হোক মূর্তি কে পাশ কাটিয়ে পথ ধরে যদি এগিয়ে যান তবে কিছু দূর যাবার পরেই অনেক গাছ ঘেরা একটি পুরনো প্রাসাদ দেখতে পাবেন। জি, এটাই কোকিল প্যারি জমিদার বাড়ি। বাসাটি যদিও বা জরাজীর্ণ অবস্থা তারপরেও।ঘুরে দেখতে পারেন পুরো বাড়ি টি।

বাসাটি যদিও ঝুঁকি পূর্ন তার পরেও সেটি এখন ব্যবহার হয় কোকিল প্যারি স্কুলের শিক্ষকদের আবাস স্থল হিসেবে। প্রাসাদ ঘুরেই বের হয়েই মেঠো পথ ধরে পা বাড়ালেই, কিছু দূর সামনেই আনসার ক্যাম্প ইছামতী নদী তীরে, এখানে যে বাড়িতে ২৯ আনসার ব্যাটালিয়নের বাস, তা তেলিবাড়ি নামে খ্যাত ছিল, অনেকের কাছে মঠবাড়ি। শোনা কথা, বাড়ির একদা মালিক বাবু লোকনাথ তেল বিক্রি করে ধনী হয়েছিলেন। সে জন্য বাড়িটির এমন নামকরণ। এখানে তিন-চারটি বাড়ি নিয়ে তেলিবাড়ির বিস্তৃতি। যে বাড়িগুলো হেরিটেজ হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার অধিকার রাখতো, সেসব বাড়ি এখন দখল হয়ে যাচ্ছে। নবাবগঞ্জ যে এক কালে নবাবদের আখড়া ছিল তা পথ ধরে হাটতে হাটতে চারপাশের প্রাচীন সব জমিদার বাড়ি আর তাদের ধ্বংসাবশেষ দেখলেই বুঝতে পাবেন।

ইছামতী নদীর ধারে চলে আসলে নদীর ধার ধরে ডান পাশের পথে পথ চলা শুরু করলে ৫-৭ মিনিট হাটার পরেই পেয়ে যাবেন অত্যাধুনিক নানান রাইড সহ এক জমকালো রাজবাড়ি। আপনাকে অভিনন্দন কারন আপনি চলে এসেছেন আদনান প্যালেসে। পুরনো সেই রাধানাথ সাহার বাড়িটিই এখনো দাঁড়িয়ে আছে আদনান প্যালেস হয়ে। সুন্দর সাজানো গোছানো থিম পার্ক করার চেস্টা এই আদনান প্যালেস ঘিরেই। আদনান প্যালেসে চাইলে হালকা পেট পূজো করে বেরিয়ে পরতে পারেন। তবে যে পথে এসেছিলেন সেই পথে না ফিরে, অন্য পথে এবার পা বাড়ান কারন সামনেই রয়েছে খেলারাম দাতার মন্দির। আদনান প্যালেস হয়ে মাত্র ৬০০-৭০০ গজ দুরেই এই সুন্দর খেলারাম দাতার মন্দির। কিংবদন্তী অনুসারে, খেলারাম দাতা ছিলেন তৎকালীন সময়ের উক্ত অঞ্চলের বিখ্যাত ডাকাত সর্দার। তিনি ইছামতি নদীতে ডাকাতি পরিচালনা করতেন।

জনশ্রুতি অনুসারে, ডাকাতির ধনসম্পদ তিনি ইছামতি নদী থেকে সুড়ঙ্গপথে তার বাড়িতে নিয়ে রাখতেন ও পরবর্তীতে সেগুলো গরীবদের মাঝে দান করতেন। তিনি পূজা-অর্চনার জন্য একটি মন্দিরও নির্মাণ করেছিলেন। সেই মন্দিরটি খোলারাম দাতার বিগ্রহ মন্দির নামে পরিচিত, এই মন্দিরেই এখনো আছে তার সেই সুড়ঙ্গপথ। যা মন্দির হতে ইছামতী নদী পর্যন্ত বিস্তৃত ধারনা করা হয়, যদিও নিরাপত্তা জনিত কারনে তা এখন বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। মন্দির দেখে মূল রাস্তায় এসে একটু সামনেই পাবেন বিখ্যাত জজ বাড়ি নামক আরেক জমিদার বাড়ি। নবাবগঞ্জে গিয়ে আপনি যদি জজ বাড়ি এবং উকিল বাড়ি (ব্রজ কুটির নামে পূর্বে পরিচিত) না দেখতে যান তবে আপনার ভ্রমন অপূর্ণই থেকে যাবে।

প্রায় শতবছর পূর্বে এটি জমিদারদের বাসস্থান হিসেবে নির্মাণ করা হয়। ১৯৮৪ সালে একজন বিচারক ব্রজ নিকেতন অধিগ্রহন করলে এই ভবনটির নাম হয়ে যায় জজ বাড়ি। জজ বাড়ির ঠিক সামনেই বিশাল খেলার মাঠের কোণায় রয়েছে ১৯৪০ সালে মহাত্মা গান্ধীর আগমনের ফলে জনপ্রিয় আরেকটি জমিদারবাড়ি যেটির নতুন নাম একজন আইনজীবি অধিগ্রহন করার ফলে হয়ে যায় উকিল বাড়ি। এই সব ঘুরাঘুরি শেষে চড়ে বসতে পারেন যমুনা বা দ্রুত পরিবহন বাসে। চলে যেতে পারেন পদ্মার নদীর তীরে মৈনট ঘাটে। যা কিনা মিনি কক্সবাজার নামে পরিচিত। খুব বেশি প্রত্যাশা করা উচিত নয় এখানে তবে পদ্মার ইলিশ দিয়ে দুপুরের ভরপেট খাবার জন্য অন্যতম অসাধারণ জায়গা এটি।

যদি চান তবে নৌকা বা স্প্রিড বোটে চেপে চলে যেতে পারেন পদ্মার চড়ে ঘুরে আসতে পারেন সেখান হতেও। বিকালে ফেরার পথে ঘাট হতেই পাবেন ঢাকার গুলিস্তান পর্যন্ত সরাসরি বাস যমুনা ও দ্রুত পরিবহন। আর হাতে যদি খানিক টা সময় বেঁচে থাকে তবে সেখান হতে গাড়িতে না চড়ে ১০ টাকা ভাড়া দিয়ে এগিয়ে আসতে পারেন কার্তিকপুর বাজারে। এই বাজারের মুসলিম সুইটসের মিস্টি খুবি বিখ্যাত। তাদের জল শিরা নামক সাধারণ মিস্টিও অসাধারণ সুস্বাদু। এর পর ধরতে পারেন ফিরতি পথ। বাসে কিংবা সিএনজিতে। ২-২.৫ ঘন্টা জার্নি করে ফিরে আসবেন আবার এই ইট কাঠের জঙ্গলে। ওহ ভাল কথা, দেশ বিদেশ যান, ট্যুরে ট্র‍্যাকিং এ যান, যেখানে মন চায় যান কিন্তু প্রকৃতির ক্ষতি হয় এমন কিছুই করবেন না। প্লিজ লাগে।

Source: ইসতিয়াক আহমেদ <Travelers of Bangladesh (ToB)

14 Jul 2019

বড় বেশী বিপজ্জনক সৌন্দর্য। পাহাড় থেকে ঢাল বেয়ে পশ্চিমে নেমে গেলেই ইসরায়েল, আর উত্তরের মাত্র একশ মিটার ঢালেই পৃথিবীর সবচেয়ে সংঘাতময় ভূখন্ড, গোলান হাইটস, বাংলায় গোলান মালভূমি। একটু পেছনে গেলেই প্যালেস্টাইন ভূখন্ড, ইসরাইল অধিকৃত পশ্চিম তীর। উম কাইস (Umm Qais)। জর্ডানের উত্তর পশ্চিমের শেষ সীমান্ত। গ্রীকদের তৈরী পরিত্যক্ত শহর গাদারা (Gadara), বর্তমান নাম উম কাইস।

পড়ন্ত বিকেল, গোধূলি লগ্ন, দূরের উপত্যকা, অনুচ্চ গিরিশৃঙ্গ, বিস্তীর্ণ গোলান মালভূমিতে ধূসর সবুজের অবগাহন, পাহাড়ের আড়ালে অন্ধকারের নিমজ্জন, আর অস্পষ্ট দৃশ্যমান টাইবেরিয়াস হ্রদ। শুধু এই বিকেলটা দেখতেই এখানে আসা। খৃষ্টের জন্মের প্রায় তিন শত বছর পূর্বে গ্রীকরা এমন একটা নিরাপদ জায়গা বেছে নিয়েছিল নগর পত্তনের জন্য। তিন দিকে খাড়া পাহাড়ের কিনারা। শুধু পূর্ব দিক থেকে সরু পাহাড়ী পথ যার দুদিকে গভীর খাঁজ, সেটা পেরিয়ে এখানে আসতে হয়। গ্রীকদের মন্দিরের ধ্বংসাবশেষ কিংবা পরবর্তীতে রোমানদের তৈরী ভগ্নপ্রায় নগর দেখতে এখানে আসা নয়। এই বিকেলের সৌন্দর্য উপভোগ করতেই আসা।

গোলান হাইটস ইসরাইল অধিকৃত সিরিয়ান ভূখন্ড। ১৯৬৭ সালের ছয় দিনের যুদ্ধে ইসরায়েল এটা দখল করে নেয়। এটা খুব বড় কোন মালভূমি নয়, আয়তনে প্রায় বাংলাদেশের গাজীপুর জেলার সমান, আঠার’শ স্কয়ার কিলোমিটারের ভূখন্ড, খুব চওড়া যেখানে সেখানে ৪৩ কিলোমিটার, আর লম্বা সর্বোচ্চ লম্বা ৭১ কিলোমিটার। তবে এর অর্থনৈতিক এবং রাজনৈতিক গুরুত্ব অপরিসীম। উত্তর প্রান্তে হেরমন পর্বত, যেটা সিরিয়া, ইসরায়েল, লেবানন আর জর্ডানের অন্যতম পানির উৎস। জর্ডান নদী এখান থেকে পানি নিয়ে কিয়দংশ টাইবেরিয়াস হ্রদে ঢেলে দেয়, বাকীটা বয়ে নিয়ে যায় সুদূর ডেড সী পর্যন্ত। এখানকার সর্বোচ্চ চূড়ায় বসে অনায়াসে সিরিয়ার দামেস্ক আর ইসরায়েলের হাইফা শহরের উপর নজর রাখা যায়। এখানকার উর্বর মাটিতে প্রচুর আঙুর আপেল আর সবজির ফলন হয়, মাটির নীচে প্রচুর গ্যাস আর তেল মজুত আছে। আর আছে হাজার বিশেক সাহসী দ্রুজ সিরিয়ান।

এই রোদমাখা বিকেলে, সোনাঝরা রোদে, গোলান মালভূমির পর্বতমালা, পিছনের নীল আকাশ, নিঃশব্দ নীরবতা, ইসরাইলি সৈন্যদের স্নাইপার আক্রমনের ভয়, অবারিত ডানামেলা চিল, আর সব কিছু দেখতে চাওয়ার উদ্দীপিত কৌতুহল, এসব নিয়েই বসে আছি। পেছনের যা কিছু, যা কিছু যজ্ঞ, তা ঐ পাহাড়ের আড়ালে, আমার দৃষ্টির সীমার বাইরে, প্রকৃতির শোভা আর পাহাড়রাজীর ব্যাপকতা, বিশালতায় ঢেকে দেওয়া সব নির্মমতা আর নৃশংসতা।

পেছনে বামে, কিছুটা পশ্চিমে, পাহাড়ের কোল ঘেঁষে দূরে, নীল টাইবেরীয়াস হ্রদ, সি এব গ্যালিলি নামে পরিচিত। মনে হয় একটু ঘাড় উঁচিয়ে দেখি, নয়তোবা ঐ চিলের পাখায় ভর করে, হ্রদের পাড়ে, যেখানে গোলান পাহাড়ের শুরু, খাড়া গিরিশৃঙ্গ, অগভীর বনাঞ্চল, জেলেদের ডাঙায় তোলা নৌকার বহর, উন্মিলিত সৌন্দর্যের আহ্বান, সেখানটায় ঘুরে আসি। এ এক অন্যরকম অনুভূতি, সব কিছু দেখবার উদগ্র বাসনা, আকাঙ্খা, মনে হয় হাজার বছরের না দেখা সব সৌন্দর্য, আড়াল করা সভ্যতা।

টাইবেরীয়াস হ্রদ নিয়ে অনেক গল্প আছে। এটা সম্ভবত সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে সবচেয়ে নীচু হ্রদ, ছোটখাট একটা মিঠা পানির সাগর, প্রায় সর্বোচ্চ ২১ কিলোমিটার লম্বা আর ১৩ কিলোমিটার চওড়া। যীশুখৃষ্ট এই হ্রদের পাড় থেকেই প্রথম চার জন জেলেকে শিষ্য হিসেবে গ্রহন করেছিলেন, দজ্জালের আবির্ভাব নাকি এখান থেকেই হবে। এই হ্রদ থেকেই ইসরায়েল তার মিঠা পানির চাহিদা বহুলাংশে পূরণ করে।

আগের দিন আকাবা গিয়েছিলাম, আম্মান থেকে দক্ষিণে, একেবারে দক্ষিণ পশ্চিমের শেষ প্রান্তে। উত্তাল আকাবা উপসাগরের তীরে, বৃক্ষ পল্লবহীন ধূসর পাথুরে পাহাড় ঘেরা আকাবা বন্দর। এক দিকে সৌদি আরব, সামনে মিশরের সিনাই উপদ্বীপ, তার ডানে ইসরায়েল। বিবাদমান প্রান্তরে শান্তির বেলাভূমি, অত্যাধুনিক আবাসিক রিসোর্ট কমপ্লেক্স, অবকাশ কেন্দ্র, হাজার ট্যুরিস্টের সমাবেশ।

সাহাবী ট্রি যা ইংরেজীতে Blessing Tree, তা দেখতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত কিছুটা সাহসী পদক্ষেপ ছিলো। বিস্তীর্ণ ছড়ানো ছিটানো কালো কালো পাথরের মরু প্রান্তর। দুবাই সৌদি আরবের মত বালিয়াড়ি মনে হয়নি। বড়বেশী রুক্ষ, পাহাড়ী। শত মাইলের মধ্যে কোন বসতি, গাছপালা নেই মনে হয়। জর্ডানের উত্তর পূর্ব প্রান্তে, এক পাশে সিরিয়া, অপর পাশে ইরাক আর পিছনে সৌদি আরব। কিছুটা ভয় করছিলো। তবে বেশী ভয় করছিলো মিশরী পাগলা ড্রাইভার হাসানের গাড়ীতে চড়ে, ১৮০ কিলোমিটার গতিতে গাড়ী চালায়, কমাতে অনুরোধ করলে ১৬০ কিলোমিটার গতি। মুখে হাসি নেই, কথা বলেনা, অবশ্য ইংরেজী বলতে পারেনা, শুধু রাস্তার দিকেই চেয়ে থাকে।

আম্মান থেকে কমপক্ষে ১৭০ কিলোমিটার দূরে। টুকু ভাইয়ের জর্ডানী ড্রাইভার আমজাদ অসুস্থ থাকায় ড্রাইভার হাসানের সাথেই যেতে হলো। পথটা ওর ভালোই চেনা, মনে হলো অনেকবার এসেছে। এখানে খুব একটা ট্যুরিস্ট আসেনা জানলাম। একেবারে বিরাণ মরুপ্রান্তর। সাহাবী গাছের আশে পাশে কোন বড় গাছ নেই এটা সত্যি, তবে জায়গাটা অত বেশী শুষ্ক মনে হয়নি, ছোট ছোট অনেক আগাছার বন দেখেছি।

প্রাক ইসলামিক যুগে দামেস্ক অনেক উন্নত শহর ছিলো। সেই সময় আরবের বিভিন্ন প্রান্তর থেকে, উটের কাফেলার সাথে, ব্যবসা বানিজ্যের প্রয়োজনে সবাই দামেস্ক যেতো। সৌদি আরব থেকে উটের কাফেলা যে পথে দামেস্ক যেতো, সেটা এই সাহাবী গাছের কাছের কোন পথ, পথ যাত্রীরা এখানেই বিশ্রাম নিতেন। কথিত আছে যে, মহানবী তার নয় বছর বয়সে, চাচা আবু তালিবের সাথে এই পথে একবার দামেস্ক গিয়েছিলেন এবং এই গাছের নীচে বিশ্রাম নিয়েছিলেন।

Source: Zafirul Hussain‎ <Travelers of Bangladesh (ToB)