প্রথমেই বলে নেই আমি কোন পেশাদার ট্রাভেলার নই কিংবা কোন ভ্রমন কাহিনী লেখকও নই। ভাল লাগে নতুন নতুন জায়গা ঘুরতে। ভাল লাগে প্রকৃতির ছবি তুলতে। ভাল লাগে পাহাড় পর্বত, সবুজ। সত্যি বলতে আমার কাছে পাহাড় একটা নেশা। টানতেই থাকে আমায়। আর সেইই টানটা যখন অতিমাত্রায় বেড়ে যায়, ছুটির দিনগুলোতে ঘর ছাড়তে বাধ্য হই। ছুটে বেড়াই কোন না কোন পাহাড়ে, বনে জঙ্গলে। তারই সূত্র ধরে কিছুদিন আগে সলো ট্রিপ দিয়ে আসলাম প্রকৃতির লীলাভূমি মেঘালয়। অনেকেই প্রশ্ন করে সলোট্রিপ আবার কেমন? একা ঘুরতে বোরিং লাগেনা? ভাই, একবার ট্রাই করে দেখন। এমন বন্ধনহীন টেনশেন ছাড়া ঘোরার ভেতর একটা ভিন্নমাত্রা আছে। অনেকটা যেখানেই রাত সেখানেই কাত টাইপ। তবে ঘোরার মানসিকতা থাকতে হবে। নইলে সলো ট্রিপটা সময় আর অর্থের অপচয়ই হবে শুধু। আর একবার সাহস করে নেশা জাগাতে পারলে তো কথাই নেই। যখন ছুটি তখনই ছুট। দুচোখ যেদিকে যায়…স্বাধীনতা। শুধু সাথে রাখবেন একটা প্ল্যান। আই মিন সলো ট্যুরে যাবার আগে কোথায় যাবেন এটা খুব ভাল করে ভেবে চিন্তে ঠিক করবেন। কারন এমন অনেক জায়গা আছে যেখানে একা যাওয়াটা মোটেই ঠিক না। ওগুলো এভয়েড করবেন। সবার আগে সেফটি। জায়গা চয়েজ করার টাইম নিজের সামর্থটাও জানতে হবে। সামর্থ্য বলতে শারীরিক সামর্থ্যের কথা বলছি। ট্র্যাকিং করতে গেলে এটা আবশ্যিক। মাথায় রাখতেই হবে আপনি একা যাচ্ছেন। পাহাড়ের কতটা নীচে নামবেন তার চাইতে জানা জরুরী ঠিক ততটাই উঠতে হবে আপনাকে। সো নিজের ফিজিক্যাল ফিটনেস সম্বন্ধে পুরোটা জানাটা জরুরী। অন্যথায় বিপদ হতে পারে। আর কখন কোথায় যাচ্ছেন এটা যাওয়ার আগে প্রিয়জনকে অবশ্যই জানিয়ে যাবেন। আবার ক্ষমা চেয়ে নিলাম। কেন? এই উপদেশ দেওয়ার জন্য। আমি যেহেতু কোন প্রফেশনাল ট্র্যাকার নই তাই উপদেশ দেওয়া আমার সাজে না। কিন্তু আমার মতো সৌখিন ভ্রমন পিপাসুদের এগুলো জানা জরুরী। তাই শেয়ার করলাম।

এবার আসি আমার মেঘালয় ভ্রমন অভিজ্ঞতায়। অফিসে কাজ করতে করতে একদিন হঠাৎ ঈদের দীর্ঘ ছুটিটা চোখে পড়ে। মাঝে একটা দিন ছুটি ম্যানেজ করে নয় দিনের ছুটি পেয়ে গেলাম। আর আমায় পায় কে!! ভিসা লাগানই ছিল আগরতলা বর্ডার দিয়ে। সবার প্রথমেইই আগরতলা – গুয়াহাটি – আগরতলা টিকেট কনফার্ম করে নিলাম। তারপর ৩১/০৫/২০১৯ এর ভোরবেলা বর্ডার ক্রস করে আগরতলা পৌছলাম। সকালটা আগরতলার বটতলার সুস্বাদু খাওয়া খেয়ে দূপুরে পৌছলাম এয়ারপোর্ট। ফ্লাইট ছিল ২:৩৫ এ। ঠিক ৩:৩০ মিনিটেইই ইন্ডিগো ফ্লাইটটি আমায় গুয়াহাটি নামিয়ে দিল।

কোন নুতন জায়গায় একা গেলে প্রথম যে অনিশ্চয়তা কাজ করে তা হল- এবার আমি কি করব!! বেশ কিছু সলো ট্রিপ দেওয়ার কারনে আমি এই ভয়টা একটু হলেও কাটিয়ে উঠেছি। আর এখনতো এসবব ট্রাভেল গ্রুপে বা ইউটিউবে মোটামুটি সব জায়গাই কিভাবে ভ্রমন করতে হয় তা বিষদ জানাই যায়। যাইহোক ঠিক করেছিলাম রাতের ভেতর যেভাবেই হোক শিলং পৌছাবই। আবার শিলং এ রাত ৯ টার ভেতর সব বন্ধ হয়ে যায় এটাও সমস্যা। আবার পিক সিজন থাকায় হোটেল পাওয়াটাও একটা বিষয়। যাইহোক আগেই ঠিক করে রেখেছিলাম এয়ারপোর্ট থেকে ML লেখা নাম্বারপ্লেটের গাড়ী নিব। ML মেনে মেঘালয়া। যেহেতু ওগুলো শিলং এর গাড়ী, তাই গুয়াহাটি থেকে শিলং যেতে ওরা ভাড়াও কম নিবে আর ড্রাইভারকে দিয়ে অন্য কিছু কাজও করানো যাবে। অন্য কাজ কি? গাড়ীতে উঠেই ড্রাইভারের সাথে এতটু গল্প জমালাম। তবে একটা কথা, ইন্ডিয়া সহ যত দেশের টুরিস্ট প্লেসেই গেছি সবাইকেই অনেন কোয়াপরেটিভ পেয়েছি। কিজানি কপালও বলতে পারেন।

যাইহোক ড্রইভারকে এককাপ চা খইয়ে বন্ধু বানিয়ে ফেললাম। সে বলেই বসল বাংলাদেশীরা অনেক ভাল। গর্ব হল। এবার আসল কথায় আসলাম। শিলংএ আমার তিন রাত আর চেরাপুন্জিতে দুই রাতের জন্য হোটেল চাই আমার। সাথে আমার লিস্ট করা প্লেসগুলো ঘোরার জন্য গাড়ী। তাকে বাজেট টাও বললাম। আমার লিস্ট দেখে প্রথমে তার মাথায় হাত। পরে বাজেট শুনে বলেই বসল – “অসম্ভব”। কিন্তু তার তো আইডিয়া নেই অামি অনন্ত জলিলের দেশের লোক। অসম্ভবকে সম্ভব করাই…এনিওয়েজ দুপক্ষের কিছু ছাড়ের মাধ্যমেই সব ওই গাড়ীতে বসেই কনফার্ম করে একটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললাম। রাত ৯ টার আগেই শিলং পৌছলাম।

আসলে এভাবে লিখলে লেখা শেষ হবেনা। শুধুই এতটুকু বলব, পাহাড়, বৃষ্টি, মেঘ, খাওয়াদাওয়া, সবুজ পরিবেশ, এডভেঞ্চার সব মিলিয়ে এই ৬ রাত ৭ দিনের একটা রোমাঞ্চকর সলো ট্রিপ ছিল। এককথায় AMAZING. আমি এখন আপনাদের জন্য দিন তারিখ সহ একটা লিস্ট দিব কোথায় কোথায় আমি গেছি। আর সাথে কিছু ছবি দিব। সাথে রেটিংও দিব আামার কোন জায়গা কেমন লাগল। যদি কারও কিছু (খরচা বা অন্যান্য) জানার থাকে, কমেন্টে জানাবেন। যতটুকু পারি হেল্প করব। শুধু এতটুকু বলে দেই…যান ঘুরে আসেন।

Source: Kuldeep Dutta <Travelers of Bangladesh (ToB)