##আহসান মঞ্জিল ##
ঢাকার অন্যতম প্রাচীন নিদর্শন আহসান মঞ্জিল, যা পুরনো ঢাকার বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে বর্তমান ইসলামপুরের কুমারটুলিতে অবস্থিত। পুর্বে এটি ব্রিটিশ ভারতের উপাধিপ্রাপ্ত ঢাকার নবাব পরিবারের বাসভবন ও সদর কাচারি ছিল।অনবদ্য অলংকরণ সমৃদ্ধ, নবাব পরিবারের স্মৃতি বিজড়িত এ ভবনটি বর্তমানে জাদুঘর হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
সংক্ষেপে ইতিহাস
#১৭২০ সালে এখানে মোঘল সম্রাট এনায়েত উল্লাহ এর বাগান বাড়ি ছিল যা ১৭৪০ সালে ফরাসি বণিকগন এনায়েত উল্লাহ এর পুত্র শেখ মতিউল্লাহ এর কাছ থেকে ক্রয় করে বানিজ্য কুঠি তৈরি করে।
# ১৭৫৭ সালে পলাশী যুদ্ধের পর কুঠিটি ইংরেজদের নিয়ন্ত্রনে চলে যায়। পরবর্তিতে ইংরেজরা সেটি ফরাসিদের ফেরত দেয়।
#১৮৩০ সালে খাজা আলিমুল্লাহ ফরাসিদের কাছ থেকে কুঠিটি ক্রয় করে এবং সংস্কার করে নিজের বাসভবন উপযোগী করে।
#১৮৫৯ সালে তার পুত্র নওয়াব আব্দুল গনি ফরাসি কুঠির পূর্বপাশে নতুন প্রাসাদ নির্মান কাজ শুরু করেন যা ১৮৬৯ সালে শেষ হয় এবং তার পুত্র খাজা আহসান উল্লাহ এর নামানুসারে এর নামকরণ করেন “‘আহসান মঞ্জিল “‘।
#৭ এপ্রিল ১৮৮৮ সালে প্রবল টর্নেডো এবং ১২ জুন ভয়াবহ ভুমিকম্পে আহসান মঞ্জিলের বেশ ক্ষয়ক্ষতি হয় যা নবাব সংস্কার করেন।
# ১৯০৬ সালে এখানে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
#কালের সাক্ষী এই আহসান মঞ্জিলকে নবাব পরিবারের উত্তরাধিকারগন তাদের অন্তঃ কোন্দল ও আর্থিক অবস্থার অবক্ষয়ের কারনে সংরক্ষনে অপারগ হয়ে পড়লে ১৯৭৪ সালে নিলামে বিক্রির সিদ্ধান্ত নেয়।কিন্তু জাতির জনক বঙ্গবন্ধু এর স্থাপত্য গুরুত্ব উপলব্ধি করেনন এবং নিলাম প্রস্তাব বাতিল করেন ও সংস্কারপূর্বক এখানে যাদুঘর ও পর্যটন কেন্দ্র স্থাপনের নির্দেশ দেন।
দর্শনীয় জিনিস :
চারপাশে মনোমুগ্ধকর পরিবেশ সমৃদ্ধ আহসান মঞ্জিলের মূল প্রাসাদটি গ্যালারি আকারে রুপান্তর করা হয়েছে যাতে ৩১ টি কক্ষের ২৩ টিতে প্রদর্শনী উপস্থাপন করা হয়েছে।১৯০৪ সালের ফ্রিতজকাপের তোলা আলোকচিত্র অনুযায়ী বিভিন্ন কক্ষ ও গ্যালারিগুলো সাজানো হয়েছে।আহসান মঞ্জিলের যাদুঘরে এ যাবত সংগৃহীত নিদর্শন সংখ্যা মোট ৪০৭৭।
পরিদর্শনের সময়সূচী :
#গ্রীষ্মকালীন সময়সূচী :(এপ্রিল-সেপ্টেম্বর)(শনি-বুধ): সকাল ১০.৩০-বিকাল ৫.৩০।শুক্রবার দুপুর ৩.০০- সন্ধ্যা৭.৩০।
#শীতকালীন সময়সূচী :(অক্টোবর -মার্চ) শনি-বুধ: সকাল ৯.৩০- বিকাল ৪.৩০। শুক্রবার দুপুর ২.৩০ – সন্ধ্যা ৭.৩০।
#বৃহস্পতিবার সাপ্তাহিক ছুটিসহ অন্যান্য সরকারি ছুটির দিন জাদুঘর বন্ধ।
যেকোন অবসরে গিয়ে ঘুরে আসতে পারেন বন্ধুদের,প্রিয়জন বা পরিবারের সবাইকে নিয়ে কে নিয়ে।দেখে আসতে পারেন আমাদের ঐতিহ্যমন্ডিত ইতিহাসের আর এক সাক্ষীকে।