সকালে চলে গেলাম পেহেলগাম ট্যাক্সি স্টান্ড,,, সেখানে বিভিন্নরকম গাড়ী আছে, আমরা একটা ইনোভা নিলাম সরকারি রেইট এর চেয়ে অল্প কিছু কম রাখলো বাংলাদেশী পরিচয় দেয়ার পর 😍

প্রথমেই গেলাম আরু ভ্যালী,, পাহাড় বেস্টিত সবুজ পাইন গাছের সারি আর মেঘের ভেলা, আহ মন জুড়ানো পরিবেশ,, সেখানে ঘুরে ফিরে,, এবার গেলাম পেহেলগাম মিনি চিড়িয়াখানায়, কিন্তু খুব হতাশ হলাম পশু পাখি খুব ই কম 🙄 তারপর ঘুরে দেখলাম রাফটিং পয়েন্ট, জনপ্রতি ৬০০ টাকায় খরোস্রতা লিডারনদীতে রাফটিং করা যায়, , আমরা করি নাই কারন সেদিন একটা প্রতিযোগিতা ছিলো,, তারপর আমরা চলে গেলাম বেতাব ভ্যালী 😘 মনমুগ্ধকর এক পরিবেশ, কিন্তু এমন বাতাস আর ঠান্ডা ছিলো যে দারানোই কষ্টকর, সেখানে সবাই ছবি তুলে চা খেয়ে রওনা দিলাম,, চন্দন ওয়ারীর পথে,,,আকা বাকা পাহাড়ি পথ ধরে আমরা পৌছে গেলাম চন্দন ওয়ারী বাজার এ,, এখানে তাপমাত্রা ছিলো খুব ই কম আর সাথে প্রচন্ড বাতাস,, চন্দন ওয়ারীতেই ও বরফ পেলাম,, সবাই বরফে ফটোসেশান নিয়ে ব্যাস্ত হয়ে গেলো, সেখানে প্রায় ঘন্টা খানেক কাটিয়ে রওনা দিলাম,, পেহেলগাম ভিউ পয়েন্ট এর দিকে,, কিন্তু এমন ব্রিস্টি শুরু হলো।যে কোথায় নামা ও মুশকিল 😔 এভাবেই প্রায় ৫ টা বেজে গেলো আমরা চলে গেলাম পেহেলগাম ট্যাক্সি স্টান্ড এ,,, সেখানে নেমে হাল্কা কিছু খেয়ে চলে গেলাম হোটেল এ,,, টিপ টিপ ব্রিস্টি হচ্ছে, উত্তাল লিডারনদীর শো শো আওয়াজ এর মাঝে বাংলাদেশ বনাম উইন্ডিজ এর খেলা উপভোগ করতে লাগলাম,,, কাশ্মীর এ যে কি পরিমান বাংলাদেশের ক্রিকেট ভক্ত আছে😍,, সেটা কাশ্মীর না গেলে বুঝা সম্ভব নাহ,, রাতে খাবার এর জন্য গেলাম আর কিছু কেনা কাটা করলাম,,,

সকাল ৮ টায় আমরা পেহেলগাম থেকে রওনা দিলাম জাম্মুর উদ্দেশ্যে,, মাঝে ড্রাইভারকে বলে আমরা বানিহাল স্টেশন এ ঢুকলাম,, আমার দেখা বেস্ট ট্রেন স্টেশন এটা,, চারিদিকে পাহাড় আর মাঝে ট্রেন লাইন,, খুবই চমৎকার লাগলো,, বিকাল প্রায় ৫ টা নাগাদ চলে এলাম জাম্মু স্টেশন,, রাত ৯.৪৫ এ আমাদের ট্রেন জাম্মু টু দিল্লীর,, ট্রেন ছারার সময় মনে হলো,, না জানি কত পরিচিত একটা যায়গা থেকে চলে যাচ্ছি 😥 সকাল ঠিক ১০ টায় আমরা দিল্লি স্টেশন এ নামলাম,, নেমে ব্যাগ গুলো লকার রুমে রেখে আমরা চলে গেলাম শপিং করতে,, চাদনী চকে শপিং করে ৪ টার মধ্যে চলে এলাম দিল্লি স্টেশন,, আমাদের কোলকাতা গামী রাজধানী এক্সপ্রেস এখানে থেকেই ছেরে যাবে,,, ঠিক ৪.৪৫ মিনিট এ রাজধানী এক্সপ্রেস কোলকাতার উদ্দেশ্য যাত্রা করলো,, রাজধানী এক্সপ্রেস এর এসি কামরা আর সুস্বাদু খাবার এ কখন যে রাত হয়ে গেলো বুঝতেই পারলাম নাহ😚

সকাল এ নাস্তা সারতে সারতেই ১০.৩০ এ ট্রেন হাওরা স্টেশন এ পৌছালো,, আমাদের এবারের গন্তব্য শিয়ালদহ স্টেশন, প্রিপেইড ট্যাক্সি নিয়ে পৌছে গেলাম শিয়ালদহ,, সেখান থেকে গেদের লোকাল টিকেট নিলাম ৩০ রুপিতে,, ৩ ঘন্টা জার্নি করে পৌছালাম গেদে স্টেশন,, ২ পার এ কাস্টমস চেকিং শেষ করতে ৩০ মিনিট এর মত লাগলো,, সন্ধায় দর্শনা বাজার থেকে ঢাকাগামী বাসের টিকেট কেটে, ঢুকলাম খাবার খেতে,, ১৬ দিন পর নিজ দেশে খাবার খেয়ে মনে হলো অমৃত খাচ্ছি,, খেয়ে দেয়ে বাসে উঠলাম,, বাস চুয়াডাঙ্গা শহর পার হবার পর এক শান্তির ঘুম দিলাম,, এক ঘুমে গাবতলি 😁,,, এবার ঘরে ফেরার পালা,, ১৬ দিনের এই ভ্রমন এ অনেক কিছু শিখেছি, যেমন অনেক পরোপকারী মানুষ পেয়েছি,, ঠিক তেমন বাটপার এর পাল্লায় ও পরেছি,, আমাদের খরচ গিয়েছিলো জন প্রতি = ২৫০০০ বাংলা টাকা

পরিশেষে একটা কথাই বলবো ঘর থেকে বের হন আল্লাহর দেয়া নেয়ামত দেখুন,, আর উনার প্রতি শুকরিয়া আদায় করুন,,
যেখানেই যান পরিবেশ নস্ট করবেন নাহ,, দেশের বদনাম হয় এমন কোন কাজ করবেন নাহ,,
ধন্যবাদ

Source:  Rumman Musaddik‎ <Travelers of Bangladesh (ToB)