কোন জায়গায় ঘুরতে যাওয়া হচ্ছিল না। তাই বন্ধু যখন বলল চল আমরা রামগতি থেকে ঘুরে আসি। একবার চিন্তা করেই রাজি হয়ে গেলাম। ৭-৮ জন যাওয়ার কথা থাকলেও শেষমেশ আমরা হলাম ৬ জন। সকাল ৮.৩০ লক্ষ্মীপুর থেকে রওনা দিলাম লেগুনায় করে গন্তব্য আলেকজান্ডার মেঘনা বিচ। আপনি চাইলে বাসেও যেতে পারেন। বাস আর লেগুনার ভাড়া সেম ৫০ টাকা। বাসে যেতে সময় লাগে পৌনে ২ ঘন্টা আর লেগুনায় দেড় ঘন্টা এই যা। আলেকজান্ডার নেমে হালকা নাস্তা করে চলে গেলাম মেঘনার পাড়ে। আলেকজান্ডার এই অঞ্চলের মানুষের জন্য একটি জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র। বাঁধের উপরে উঠলেই প্রথমে আপনাকে স্বাগতম জানাবে দমকা হাওয়া তার সাথে গুড়িগুড়ি বৃষ্টি হলে তো আর কথাই নেই। ব্লকের উপর বসে নদীর সৌন্দর্য উপভোগ করে ঘন্টার পর ঘন্টা সময় কাটিয়ে দিতে পারবেন। সরকার এই স্থানের সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে কাজ করছে। বাঁধের পাড়ে ঝাউগাছ লাগানো হয়েছে, বসার জন্য তৈরি করা হয়েছে শেড আর সাথে আছে সোলার লাইট। আগে যেখানে সন্ধ্যার পর ছিনতাইকারীর ভয়ে থাকা যেত না এখন অনায়াসে বসে চাঁদের আলো উপভোগ করা যায়। এনেক বক বক করি ফালাইলাম..

এবার দুপুর ১২ টায় রওনা হলাম রামগতির জন্য, অটো ভাড়া জনপ্রতি ৪৫ টাকা, যদিও আসার সময় ৫০ টাকা দিতে হইছিল। আপনি সিএনজি বা লেগুনায় ও যেতে পারেন লেগুনা ভাড়া ৪০ টাকা। যেতে সময় লাগবে পৌনে এক ঘন্টার মত।

রামগতি গিয়ে আগে পেটপূজা সারলাম ইলিশ দিয়ে, প্রতি পিচ ৭০ টাকা সাথে ভাত দুই প্লেট ২০ টাকা। রামগতি বাজারে এখন গেলে দেখবেন শুধু ইলিশে বাজার সয়লাব আমি চিন্তায় পড়ে গেছিলাম এত মাছ যায় কোথায়। আর নদীর পাড়ে দেখবেন জেলেরা ট্রলার থেকে মাছ নামাচ্ছে। নদীর পাড়ে ব্লকের দিকে না গিয়ে চলে যাবেন জেলে গ্রামের দিকে নদীর পাড় ধরে। রামগতি আলেকজান্ডারের চেয়ে সুন্দর জায়গা, এখানে মানুষের আগমন ও কম। বেড়ি ধরে হাটতে হাটতে ডেড ইন্ডে একটা চায়ের দোকান পাবেন। চা খাবেন আর ফিল নিবেন… কিছু দিন পর দোকানটা আর নাও পেতে পারেন। কারন আস্তে আস্তে নদী এগিয়ে আসছে জনবসতির দিকে আর গ্রাস করছে সবকিছু। ও ওখানে নদীতে গোসল টা সেরে ফেলতে পারেন।

এরপর বেশি দেরি না করে আবার চলে আসবেন রামগতি বাজারে। ওখান থেকে অটো করে চলে যাবেন ট্যাংকির চর। জনপ্রতি ভাড়া ৩৫ টাকা। ঐ জায়গাটাও অনেক সুন্দর যদিও আমরা যেতে পারি নাই। সূর্যাস্তটা ওখনে উপভোগ করেই তাড়াতাড়ি রওনা হয়ে যাবেন। বেশি দেরি করলে পরে গাড়ি পাবেন না। ফিরতি পথে আবার একই ভাবে ফিরে আসবেন।

খরচ-

লক্ষ্মীপুর – আলেকজান্ডার ৫০+৫০= ১০০ টাকা

আলেকজান্ডার – রামগতি ৫০+৫০=১০০ টাকা

রামগতি – ট্যাংকির চর ৩৫+৩৫ =৭০টাকা

খাওয়া খরচ =১০০ টাকা

Source: Asiful Habib‎ <Travelers of Bangladesh (ToB)