You can add html or text here

Archives

ভ্রমণ পরিকল্পনা (Tour Plan)

26 Dec 2017

মেঘালয় টুর ৫ রাত ৪দিন।ভিসা প্রসেসিং আর ট্রাভেল ট্যাক্স সহ সকল খরচ।

মেঘালয় যাওয়ার কথা ভাবছেন?
ভালো কোন গ্রুপ বা কোন প্যাকেজ পাচ্ছেন না?
একা গেলে খরচ বেশি তাই ইচ্ছা থাকা সত্যও যেতে পারছেন না?
তাহলে আপনার জন্যই আমার এই লেখা।আপনার ভ্রমনে বিন্দু পরিমানে উপকারে আসলেও আমার কষ্ট করে লেখা সার্থক।

আমি গত ১৫অক্টোবর রাতের গাড়িতে মেঘালয় যাই এবং ২০তারিখ ফিরে আসি।আমার সকল প্রকার খরচের বিবরন দেয়া হলো।

ভিসা প্রসেসিংঃ ৬০০টাকা।
ট্রাভেল ট্যাক্সঃ৫০০টাকা।

১ম রাতঃ
বাসা থেকে সায়দাবাদঃ৩০টাকা।
ঢাকা টু তামাবিল(জাফলং ও একই ভাড়া)বাস ভাড়াঃ ৪০০টাকা।
রাতের খাবার(হোটেল উজানভাটা) ১০০টাকা।
সকালের নাস্তা(বর্ডার সংলগ্ন চায়ের দোকান) ৩০টাকা।
বাংলাদেশ বর্ডার ১০০টাকা।

১ম দিন-২য় রাতঃ
এখান থেকে রুপির হিসাব শুরু।
ডাওকি বর্ডার থেকে শিলংঃ১২০রুপি(লোকাল ট্যাক্সি)।
শিলং থেকে পুলিশবাজারঃ১০রুপি(লোকাল ট্যাক্সি)।
হোটেলঃহোটেল হ্যারিট্যাগ। ওয়াইফাই,এসি,খাবার হোটেলের ব্যবস্থা আছে।৮০০*৩=২৪০০ রুপি(৩রাত ৪দিন)।আরও কম দামে হোটেল পাওয়া যায়।আমার এখানে থাকার কারন না হয় আরেক সময় বলবো।
দুপুরের খাবারঃ৭০রুপি(ভাত/সবজি/ডিম আর ডাল)।
রাতের খাবারঃ১১০রুপি (চিকেন,রাইস,ফ্রাই চিকেন আর কোল্ড ড্রিংক) ।

২য় দিন-৩য় রাতঃ
সকালের নাস্তা: ৩৫রুপি(ডাবল ডিমের রোল)
শিলং টুর প্যাকেজঃ ৩০০+৫৫=৩৫৫রুপি(ওয়ার্ডস লেক ১০রুপি,গোল্ফ ফিল্ড,বিয়াঞ্চি মেমোরিয়াল হল,স্টেট মিউজিয়াম:৫রুপি, জু:১০রুপি,চা বাগান:১০রুপি,এলিফ্যান্ট ফলস:২০রুপি)।
দুপুরের খাবার:১২০রুপি (ভাত,ডাল,মুরগী কোল্ড ড্রিংক।
বিকালের নাস্তা:২৫রুপি (লোকাল খাবার)
রাতের খাবার:১৪০রুপি(খিচুড়ি, মুরগি,ডাবল ডিম অমলেট,ডাবল ডিম রোল)।

৩দিন-৪থ` রাতঃ
সকালের নাস্তা:৭০রুপি(ডিম রোল,চিকেন আর কোল্ড ড্রিংক)
চেরাপুঞ্জি টুর প্যাকেজ : ৩৫০+৬০=৪১০রুপি(মাওকডক ভিও ভ্যালি পয়েন্ট,ইকো পার্ক ১০রুপি,মৌসুমি ক্যাভ ১০রুপি,মট ট্রপ রক,রামকৃষ্ণ মিশন ১০রুপি,নো কালি কাই ফলস ২০রুপি,সেভেন সিস্টার ফলস,থ্রি সিস্টার ফলস ১০রুপি)
দুপুরের খাবার:৮০রুপি(ভাত,ডাল,মুরগী কোল্ড ড্রিংক)।
রাতের খাবার:৯০রুপি(খিচুড়ি,চপ,চিকেন ললী,চা)।

৪থ’ দিন – ৫ম রাতঃ
সকালে হোটেল থেকে চেক আউট করি।
সকালের নাস্তাঃ ৪০রুপি(ডাবল ডিম রোল,চা)
ডাওকি(মাওলিনং) টুর প্যাকেজঃ ৫০০+৭০=৫৭০রুপি(ক্যানিয়ন ভ্যালি পয়েন্ট ১০রুপি,ব্যাল্যান্সিং রক ১০ রুপি,লিভিং রুট ব্রিজ ২০রুপি,স্কাই ভিউ পয়েন্ট বাংলাদেশ১০রুপি,উমংট ২০রুপি <ক্লিয়ার ক্রিস্টাল রিভার>, ডাউকি বর্ডার)
৪:৩০এ ডাওকি বর্ডার থেকে যাই।তারপর ডাওকি বর্ডার ক্রস করে বাংলাদেশ প্রবেশ করি।

তামাবিল থেকে বাসে সিলেটঃ ৫০টাকা।
সিলেট থেকে বাসে ঢাকাঃ৪৭০টাকা।
রাতের খাবারঃ৭০টাকা(চিকেন পিজা,কফি)
রাতের ২টা বাজে সায়দাবাদ পৌছাই।
রিক্সা ভাড়াঃ৩০টাকা।

#ভিসা_আর_ট্রাভেল_ট্যাক্স_১১০০টাকা
#ঢাকা_টু_তামাবিল_বর্ডার_প্রযন্ত_খরচ_৬৩০টাকা
#ভারতে_মোট_খরচ_৪৬৪৫*১.২৫=৫৮০৭টাকা।
#তামাবিল_ঢাকা_খরচ_৬২০_টাকা
#মোট_খরচ_৮১৮৭_টাকা

কারো কিছু জানার বা প্রশ্ন থাকলে কমেন্ট বা ইনবক্সে জানাতে পারেন।

বাংলা বানানে ভুল থাকলে দয়া করে মাফ করবেন।ধন্যবাদান্তে অপু। 😊😂

#পাবলিক_ডিমান্ডঃ
আপনাদের অনেকের প্রায় একই প্রশ্ন আমি প্যাকেজ গুলো কোন যায়গা থেকে নিয়েছি? –আপনাদের জনা কমেন্ট বক্সে ঠীকানা ও
ছবি দিলাম দেখে নিবেন।

#পাবলিক_ডিমান্ড২ঃ
আমি ৪০০টাকায় তামাবিল কিভাবে গিয়েছি?
–আহাম্মেদ পরিবহন।সায়দাবাদ স্টান্ডে গিয়ে যে কোন লোক কে বললেই দেখিয়ে দিবে।

#পাবলিক_ডিমান্ড৩ঃ
আমি কোথায় ডলার/রুপি/টাকা করেছি?
–শিলং পুলিশ বাজারে মানি চেঙ্গ এর অনেক দোকান আছে।আমি আপনাদের জনয একটির নাম,ঠীকানা আর ছবি কমেন্টস বক্সে দিলাম।দেখে নিবেন

post Copied From:

Najmul Hossain Opu>Travelers of Bangladesh (ToB)

 

25 Dec 2017

যেভাবে যেতে পারেন…
সুন্দরবনে আপনি মেইনলি ২ ভাবে যেতে পারেন, নিজ উদ্যোগে বা কোন ট্রাভেল এজেন্সির সাথে। আমি একটি ট্রাভেল এজেন্সির সাথে গিয়েছিলাম।

ট্রাভেল এজেন্সিগুলো মেইনলি প্যাকেজ সিস্টেমে ট্যুরিস্টদের সুন্দরবন ঘুরিয়ে থাকে। আমার এই ট্যুরে ট্রাভেল এজেন্সি নিয়ে বেশ কিছু মিশ্র অভিজ্ঞতা আছে, সেগুলা অন্য একদিন শেয়ার করব।আজকে শুধু ঘোরার অংশটুকুই বলি।

— প্রথমে চিত্রা এক্সপ্রেসে করে ঢাকা থেকে খুলনা। – ভাড়া ১০০০/- (ভ্যাট সহ)। সুন্দরবন যাত্রা শুরুর একদিন আগেই আমি খুলনা পৌঁছেছিলাম খুব টাইট স্কেজিউল এড়ানোর জন্য।

— একদিন বিশ্রাম নিয়ে খুলনা শহর ঘুরে পরদিন সকালে এজেন্সির লঞ্চে উঠি সকাল ৬.৪৫ এ। ছাড়ার কথা ছিল ৭ টায়। কিন্তু লঞ্চ ছাড়ে ১০.৩০ এ। কারন ঢাকা থেকে চিত্রা আসতে অইদিন ৪ ঘণ্টা লেট করে।

— লঞ্চ মংলা পৌঁছানোর পর একজন গার্ড নেয়া হয়। তারপরই মেইনলি শুরু হয়ে যায় সুন্দরবন যাত্রা পশুর নদী ধরে।

— প্রথমদিন বিকালে আমরা পৌঁছাই হারবারিয়া। গাইড এর তথ্যমতে, আমরা যে কয়টা পয়েন্ট ঘুরব(এই পোস্টের পরবর্তী অংশে পয়েন্টগুলো নিয়ে বিস্তারিত বলা আছে) সেগুলার মধ্যে হারবারিয়াতেই বাঘের দেখা পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি। যদিও আমাদের শেষ পর্যন্ত বাঘের একটা অস্পষ্ট পায়ের ছাপ দেখেই খুশি থাকতে হয়েছে। হারবারিয়া তে প্রায় ১.৫ কি.মি. দীর্ঘ একটা ওয়াকওয়ে আছে বনের ভেতর দিয়ে।

— হারবারিয়া তেই প্রায় সন্ধ্যা হয়ে গেলে আমরা লঞ্চে ফিরে আসি আর এরপর রাতেই কটকা এর উদ্দেশ্যে রওনা হই। কটকা পৌঁছাই রাত ২ টার দিকে।

— পরদিন ভোর ৬ টায় আমরা কটকা বিচের উদ্দেশ্যে রওনা হই। ৩০ মিনিট হাঁটার পর বিচে পৌঁছাই। বিচে সূর্যোদয় দেখে আমরা এরপর যাই শরনখোলা রেঞ্জের বন বিভাগের অফিস এর দিকটায়। ওখানে কিছুক্ষন হাঁটার পর আমরা দেখা পাই এক পাল চিত্রা হরিণ এর। আমাদের লঞ্চের একজন কর্মচারী গিয়ে গাছে উঠে পাতা ছিঁড়ে দিলে হরিণগুলো খেতে আসে, তখন হরিণগুলোকে খুব কাছ থেকে দেখার সৌভাগ্য হয়।

— এরপর আমরা লঞ্চ এ ফিরে আসি আর হিরনপয়েন্ট এর জন্য রওনা দেই। ওখানে বনের ভিতরে আমরা প্রায় দেড় ঘণ্টা হাঁটি। হিরনপয়েন্টে নৌ বাহিনীর রেস্ট হাউস আছে একটা।

— হিরনপয়েন্ট থেকে আমরা যাই দুবলার চরে। ওখানে আমরা সূর্যাস্ত দেখি আর জেলেপাড়া থেকে শুঁটকি কিনে লঞ্চে ফিরে আসি।

— এরপর রাতে জোয়ার আসলে করমজল এর উদ্দেশ্যে রওনা হই। পৌঁছাই রাত ১ টার মধ্যে। ওখানেই সারারাত লঞ্চে ছিলাম। পরদিন সকালে করমজল ঘুরতে যাই, ওখানে কুমির প্রজনন কেন্দ্র আছে, আর হারবারিয়া এর মত একটা ওয়াকওয়ে আছে।

— এরপর খুলনার উদ্দেশ্যে ফিরতি যাত্রা। খুলনা পৌঁছাই বিকাল ৫ টায়। এরপর আবার চিত্রা এক্সপ্রেসে করে ঢাকা।

খাওয়া-দাওয়া সম্পূর্ণ প্যাকেজের ভিতরে ছিল।প্যাকেজে পার পারসন ৮৫০০/- নিয়েছে। আর যাওয়া আসায় ২০০০/- টাকা ট্রেন ভাড়া(স্নিগ্ধা চেয়ার কোচ)। টোটাল ১০৫০০/- খরচ হয়েছে আমাদের পার পারসন।

Post Copied From:Soumit Saha‎>Travelers of Bangladesh (ToB)

25 Dec 2017

দৈনন্দিন জীবনের ব্যস্ত সময় থেকে একটু সময় বের করে ঘুরে আসুন কাপ্তাই। গ্রুপে এটা আমার প্রথম পোস্ট,তাই যেকোনো ভুল ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন আশা করছি। ট্যুরের আরো কিছু ছবির লিংক প্রথম কমেন্টে দিচ্ছি।
আমাদের ট্যুর প্ল্যান ছিলো রাতে রওনা দিয়ে সারাদিন কাপ্তাই ঘুরে,রাতে কাপ্তাই এ থেকে পরদিন সকালে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেয়া। তো প্ল্যান মোতাবেক রাত সাড়ে দশটার মধ্যে আমরা সবাই কমলাপুর রেলস্টেশনে হাজির হই, ট্যুরমেট ছিলাম পাঁচজন। ট্রেন সাড়ে এগারোটায় কমলাপুর থেকে ছেড়ে যায়- তূর্ণা নিশীতা ট্রেনের শোভন চেয়ারে করে একটি আরামদায়ক জার্নি শেষে সকাল ৭টায় আমরা পৌঁছে যাই চট্টগ্রাম রেলস্টেশনে। নেমেই ব্রেকফাস্ট করার পালা। একটা দিক মাথায় রাখতে হবে, খুব সকালে রেলস্টেশনের অপর পাশের খাবার দোকানগুলো আমরা খোলা পাইনি,স্টেশন থেকে বের হয়ে নিউমার্কেট মোড়ের দিকে একটু এগিয়ে গেলেই হাতের বাম পাশে পাবেন খাবার হোটেল, পরোটা-ডাল-ডিমভাজি-চা দিয়ে ব্রেকফাস্ট সেরে আমরা রওনা দেই বহদ্দারহাটের উদ্দেশ্যে।খাবার হোটেল থেকে বের হয়ে হাতের বামে দশ পনেরো কদম আগালেই নিউ মার্কেট মোড়, ওখান থেকে ১নং বাস ছেড়ে যায় বহদ্দারহাটের উদ্দেশ্যে,সময় লাগবে সর্বোচ্চ বিশ-পঁচিশ মিনিট। বাসের হেল্পারকে বলবেন আপনাকে বহদ্দারহাট টার্মিনাল নামাতে, বহদ্দারহাটের পরের স্টপেজ হচ্ছে বহদ্দারহাট টার্মিনাল,ভাড়া নিবে ১০/-
টার্মিনালে বাস থেকে নেমে রাস্তা পার হলেই দেখবেন হাপ্তাই( কাপ্তাই) আর লেচুবাগান বলে বাস ডাকছে। কিছু বাস আছে সরাসরি কাপ্তাই যায় আর কিছু আছে লিচুবাগান পর্যন্ত। আমরা সরাসরি কাপ্তাই এর বাসে উঠেছিলাম যা আমাদের নামিয়ে দিয়েছিলো জুম রেস্তোরার একদম সামনে।আপনি লিচুবাগানের বাসে উঠলে,সেখান থেকে নেমে আবার জুম রেস্তোরা পর্যন্ত সিএনজি নিতে পারবেন।
কিংবা আপনি প্রথমে যে ১ নাম্বার বাসে উঠলেন সেটা দিয়ে টার্মিনালে না নেমে আরো একটু সামনে গিয়ে কাপ্তাই রাস্তার মাথায় নামতে পারেন,সেখান থেকে পুরো রাস্তাই সিএনজিতে যেতে পারবেন। তবে যেহেতু লিচুবাগান পর্যন্ত রাস্তা খারাপ,তাই আমার পারসোনাল সাজেশন থাকবে বাসেই যাওয়ার।বাসে জুম রেস্তোরায় পৌঁছাতে সময় লেগেছে ২ঘন্টা ১০ মিনিটের মত।
টার্মিনাল থেকে কাপ্তাই জুম রেস্তোরার বাস ভাড়া ৬০/-
টার্মিনাল থেকে লিচুবাগানের বাস ভাড়া ৪৫/-
জুম রেস্তোরায় আমাদের আগে থেকেই কটেজ বুক করা ছিলো,ওদের তিনটা কটেজ রয়েছে-হেলেন,ভেনাস এবং কর্ণফুলি- কটেজগুলোয় থাকতে আপনাকে দিনপ্রতি যথাক্রমে গুণতে হবে ১০০০,১৫০০ এবং ২০০০ টাকা।
জুম রেস্তোরা সম্পূর্ণ বিজিবির তত্ত্বাবধানে পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত, কটেজে ফ্যামিলি নিয়ে থাকলে কোনো রেস্ট্রিকশন নেই কিন্ত ফ্রেন্ডরা মিলে ঘুরতে গেলে ছেলেদের এবং মেয়েদের আলাদা কটেজ নিতে হবে এবং অবশ্যই আগে থেকেই যথাযথ পারমিশন নিতে হবে ডিফেন্স কোনো পারসনের রেফারেন্স সহ। মেয়েদের কটেজের সামনে একজন এবং পুরো জুম রেস্তোরা এলাকায় সর্বমোট পাঁচজন আর্মড বিজিবি প্রহরায় থাকে ২৪ ঘন্টা,তাই সেফটি নিয়ে কিছু ভাবতে হয়নি। কটেজে চেক ইন করে ফ্রেশ হয়ে আমরা বের হয়ে যাই কাপ্তাই কায়াক ক্লাবে যাওয়ার জন্য,জুম রেস্তোরায় কায়াকিং এবং বোটিং এর ব্যবস্থা থাকলেও আমাদের পারসোনাল পছন্দ ছিলো কাপ্তাই কায়াক ক্লাব- যা জুম রেস্তোরা থেকে জাস্ট ১০০ গজ সামনেই।
কায়াকিং পার বোট ২৫০ টাকা, স্টুডেন্ট আইডি সাথে থাকলে ২০০টাকা করে। অর্থাৎ, প্রতিজন মাত্র ১০০টাকা খরচ করে এক ঘন্টা কায়াকিং এর স্বাদ নিতে পারবেন। কায়াকিং অন্যরকম একটা এক্সপেরিয়েন্স, পাহাড়ের মাঝ দিয়ে কাপ্তাই লেকে আপনি ভাসছেন সরু একটা বোটে চেয়ারের উপর বসে,চাইলেই হাত দিয়ে ছুঁতে পারছেন সবুজ পানি-চোখ বন্ধ করে সিনারিও টা চিন্তা করুন শুধু। যত যাই হোক, কায়াকিং এর থ্রিল আপনি কখনো ট্রাভেল এক্সপেরিয়েন্স পড়ে বুঝতে পারবেন না,এজন্য আপনাকে কায়াকিং করতেই হবে 😉
আমরা এক ঘন্টার বিশ মিনিটের মতো কায়াকিং করলেও আমাদের থেকে এক্সট্রা কোনো চার্জ রাখা হয়নি 😀
কায়াকিং শেষে প্রচন্ড ক্ষুধায় আমরা কায়াক ক্লাব থেকে চলে যাই ঠিক দেড়শ হাত সামনেই ফ্লোটিং প্যারাডাইস রেস্টুরেন্টে এবং এই লাঞ্চের স্বাদ আমি জীবনেও ভুলবো না। সিম্পলি দা বেস্ট। একে তো প্রচন্ড ক্ষুধা,তার উপর অনেক বেশি পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন ও ফ্রেশ খাবার। আর ডানে তাকালেই দেখবেন কাপ্তাই লেকের মাথা নষ্ট করা ভিউ,যদিও খাবার এত বেশিই মজা ছিলো যে খাওয়ার সময় তাকানো হয়নি আমার,বরং খাওয়াদাওয়া শেষে সামনে বারান্দায় চেয়ার নিয়ে বসে কাপ্তাই এর অপরূপ সৌন্দর্য দেখেছি। ফ্লোটিং প্যারাডাইসের মালিক আর খাবার পরিবেশনকারী ভাইটার আতিথেয়তা ছিলো এক কথায় অস্বাধারণ, আমরা চারজন মুরগির মাংস এবং একজন নিয়েছিলো পাবদা মাছ।সাথে ছিলো ডাল, আলুভর্তা, সালাদ, তিনটা কোল্ড ড্রিংকস, এবং দুই লিটার পানি।সবাই পেট ভরে খেয়ে একদম নড়তে পারছিলো না এমন অবস্থা। সবমিলে পাঁচজনের খাবার বিল এসেছিলো ১০৯০ টাকা,৫০ টাকা ডিসকাউন্ট পেয়ে হয়েছে ১০৪০/- :p
লাঞ্চ শেষে আমরা আবার জুম রেস্তোরার সামনে চলে আসি সিএনজি নেয়ার জন্য। ওখান থেকে কাপ্তাই জেটিঘাট পর্যন্ত সিএনজি নেই জনপ্রতি ২৫টাকা ভাড়া। সিএনজি দিয়ে এই রাস্তাটা যাওয়া হচ্ছে স্বপ্নের মতো, একপাশে পাহাড় আর অন্যপাশে কাপ্তাই লেক,তার মাঝে রাস্তা দিয়ে চলছে আপনার সিএনজি। পথে দেখবেন কার্গো পারাপার প্রণালী, পারমিশন থাকলে যেতে পারবেন কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রেও। আমরা জেটিঘাট নামি, জেটিঘাট থেকে আমরা মাঝারি সাইজের নৌকা নেই মাত্র ৭৫/- তে আমাদের নেভি লেকভিউ আইল্যান্ডে নামাবে,কিন্ত নেভি ভিউ আইল্যান্ডের পাশে গিয়ে আমরা ঠিক করি ওখানে যাবো না কারণ দেখে আমাদের ততটা ভালো লাগেনি,তাই আমরা মাঝি ছেলেটাকে বলি আইল্যান্ডের চারপাশে আমাদের ঘুরে দেখাতে, আইল্যান্ড থেকে কাপ্তাই বাঁধ দেখা যায়,চাইলে যেতে পারেন কাছাকাছি। সন্ধ্যা হয়ে যাওয়ায় আমরা আর ওদিকে যাইনি। আইল্যান্ডের আশেপাশে ঘুরে আমরা আবার চলে আসি জেটিঘাটে,কাপ্তাই লেকের উপর পিচ্চি একটা নৌকায় বসে আমরা সূর্যাস্ত দেখি,ভাবুন অনুভূতিটা :’) অনেকদিন মনে থাকবে ওই সময়টা। যাওয়া আসায় নৌকা খরচ ৭৫+৭৫= ১৫০টাকা। জেটিঘাট থেকেই জুম পর্যন্ত সিএনজি পাবেন। সিএনজিতে ওঠার পর একটু সামনেই কাপ্তাই বাজারে নামি পরদিন সকালের ঢাকাগামী বাসের টিকেট করার জন্য, শ্যামলী এবং সৌদিয়ার বাস কাউন্টার আছে ওখানে, ভাড়া ৫৫০/- করে প্রতিজন। জুম রেস্তোরার সামনে দিয়েই বাস যাবে,আমাদেরকে ওখান থেকেই তুলে নিবে সকালে এমন কথা হলো। টিকেট করা শেষে সিএনজিতে জুম রেস্তোরায় ব্যাক করি,ততক্ষণে সন্ধ্যা হয়ে গিয়েছে। জুম রেস্তোরায় রাতের খাবার সাতটা থেকে সাড়ে সাতটার মধ্যেই বানিয়ে ফেলে কিন্ত আমরা চাচ্ছিলাম একটু লেইট করে গরম খাবার খেতে এবং জুমে বারবিকিউ এর ও কোনো ব্যবস্থা ছিলো না। তাই জুম থেকে বের হয়ে আবার হেটে চলে আসি ফ্লোটিং প্যারাডাইসে, ওদের চুলায় তখন একটু সমস্যা হচ্ছিলো প্রথমে বলেছিলো সেদিন বারবিকিউ কিংবা গ্রিল কোনোটাই পসিবল হবে না হয়তো, রেগুলার ডিনার থাকবে.. কিন্ত ওই যে বললাম এই রেস্টুরেন্টের সাথে রিলেটেড মানুষগুলা বেশি ভালো,নিজেরাই পরে বললো সমস্যা নাই ভাই,আইসেন, ব্যবস্থা করে দিবো। খুশিমনে চিকেন সমুচা আর চা খেয়ে বিল দিতে গেলে বলা হলো, রাতের খাবারের সময় একবারেই বিল দিতে :’) রাত সোয়া নয়টার দিকে ডিনার করতে আসবো বলে চলে আসলাম জুমে। ফ্রেশ হয়ে জুম রেস্তোরার মধ্যেই আড্ডা দেয়ার অনেকগুলো সুন্দর জায়গা আছে, দোলনার পাশে এমন একটা জায়গায় বসে আমরা UNO খেললাম কিছুক্ষণ, তারপর একটা ক্লাসিকাল রেডিওর গানের সাথে লুডো খেলা হলো। এভাবেই আড্ডার সাথে সাথে চলে আসলো ডিনারের সময়। গিয়ে বসলাম, ফ্লোটিং রেস্টুরেন্টের বারান্দায়, সারাটা আকাশ ভর্তি তারার দিকে অনেকক্ষণ চুপচাপ তাকিয়ে ছিলাম আমরা। এরপর গ্রিল আসলো, সাথে পরোটা আর সস! বারান্দায় বসেই গ্রিল খাওয়া শেষে আসলো ফানুশ ওড়ানোর পালা। ঢাকা থেকেই ফানুশ নিয়ে গিয়েছিলাম আমরা, অনেক উঁচু থেকে ফ্লোটিং রেস্টুরেন্টের বারান্দা থেকে ফানুশ ওড়াচ্ছেন ঠিক কাপ্তাই লেকের উপর আর দেখছেন আকাশ ভরা তারা, কেমন লাগবে কিছুক্ষণ ভাবুন আর ডিসিশন নিন কাপ্তাই যাবেন কিনা।সুন্দর একটা দিনশেষে কটেজে গিয়ে শুতেই রাজ্যের ঘুম চলে আসবে আপনার চোখে,ভোরবেলা ঘুম ভাঙলে দেখবেন ঘন কুয়াশায় চারপাশ ঢাকা,একটু একটু করে কুয়াশা কমবে আর আপনি দেখবেন কাপ্তাই এই অন্যরকম একট রূপ। এইসব দেখতে দেখতে রেডি হয়ে সকালে ৮:৪৫ এ জুম রেস্তোরার সামনে থেকে উঠে পড়ুন ঢাকার বাসে।
সর্বমোট খরচ(জনপ্রতি)
ঢাকা- চট্টগ্রাম (ট্রেন) : ৩৪৫/-
ব্রেকফাস্ট: ৬০/-
রেলস্টেশন- টার্মিনাল( ১নং বাস) : ১০/-
টার্মিনাল-জুম রেস্তোরা: ৬০/-
কটেজ : দুইটা (হেলেন ও রজনীগন্ধা) : ১০০০+২০০০=৩০০০/-, প্রতিজন ৬০০/-
কায়াক ক্লাবে কায়াকিং: ১০০/-
লাঞ্চ: ২১০/-
জুম- কাপ্তাই জেটিঘাট (সিএনজি): ২৫/-
সাম্পানে ঘোরা: ১৫০/- (জনপ্রতি ৩০/-) বিভিন্ন সাইজের নৌকা আছে,আপনার উপর নির্ভর করে
জেটিঘাট- জুম: ২৫/-
নাস্তা: ২০/-
ডিনার: ১২০/- (গ্রিল এবং একটা পরোটা ১০০/-, আমরা দুটো করে পরোটা এক্সট্রা নিয়েছিলাম)
কাপ্তাই-ঢাকা: ৫৫০/-
সর্বমোট: ২১৫০/-

জুম রেস্তোরা: 01811460460
ফ্লোটিং প্যারাডাইস রেস্টুরেন্ট: 01823-930265

আমাদের আরো বিভিন্নভাবে এক্সট্রা খরচ গিয়েছে,যেমন আমরা ফানুশ নিয়ে গিয়েছিলাম, ট্রেনে বাসে যাওয়ার পথে টুকটাক খাবার দাবারে খরচ হয়েছে কিছু।আমরা টার্মিনালে না নেমে ভুলে বহদ্দারহাট নেমে গিয়েছিলাম ওখান থেকে রিকশায় যেতে হয়েছে আবার। যাই হোক,সব মিলে ২৩০০ টাকা নিয়ে কাপ্তাই যান, সারাজীবন মনে রাখার মতো ট্যুর হবে কথা দিলাম।

Post Copied From:Rakib Ahmed Akash‎>Travelers of Bangladesh (ToB)

24 Dec 2017

এই সিজনে অনেকেই কুয়াকাটা ভ্রমণে আগ্রহ দেখাচ্ছেন । আগ্রহ জাগানোর মতোই জায়গা । সাগরকন্যা বলে কথা ।
তাই গত বছরের এইদিনে আমরা ৬ বন্ধু বেরিয়ে পরেছিলাম কুয়াকাটা ভ্রমণের উদ্দেশ্যে । এক বন্ধুর বাড়ি ঐ এলাকায় হওয়ায় অনেক সুবিধা হয়েছিলো ।
লঞ্চ বা বাস দুভাবেই যাওয়া যায় ।
আমরা গিয়েছিলাম লঞ্চে ।
সদরঘাট থেকে প্রতিদিন সন্ধ্যা ৬ টায় ছেড়ে যাওয়া লঞ্চে উঠলে খুব ভোরে আমতলী লঞ্চঘাটে পৌছানো যায় ।
সেখান থেকে বাসে সরাসরি কুয়াকাটা ।
লঞ্চের ভাড়া আমার মনে নেই,নামও মনে নেই 🙁
বাসের ভাড়া ১২০ টাকা ছিলো । ১ ঘন্টার মতো লাগে ।
আর সরাসরি ঢাকা থেকে বাসে যেতে চাইলে উঠতে পারেন সাকুরা,সুরভি বা গোল্ডেন লাইনে । ভাড়া বাস ভেদে কমবেশী ৬৫০ টাকা ।
আমতলী বা ঢাকা , সব বাসই একেবারে সৈকত পর্যন্ত যায় , এবং সন্ধ্যায় ওখান থেকেই ছাড়ে ।
.
ঘোরার প্লেস হিসেবে কুয়াকাটা সৈকত , সূর্যোদয় পয়েন্ট , সূর্যাস্ত পয়েন্ট(লেবুরচর),রাখাইন মার্কেট,বৌদ্ধ মন্দির গুলো আশেপাশেই ।
এছাড়া কিছুটা দূরের লাল কাঁকড়ার সৈকত সহ ১২ টা স্পটে ঘুরে আসার জন্যে ভ্যান বা বাইক রয়েছে ।
এগুলোতে গেলে আলাদা ১ টা দিন বরাদ্দ রাখা ভালো ।
.
তবে আমার একটা আফসোস , এখানে সমুদ্র নীল নয় !
শীতের মৌসুমে দিগন্ত প্রায় সারাদিনই কুয়াশা মোড়া থাকে ।
আর সমুদ্রের নিচে বেশ অনেকটা দূরত্বে সমুদ্রতট অগভীর থাকায় পানি কিছুটা ঘোলাটে ।
তাই হয়তো এই অবস্থা ।
.
সূর্যোদয় দেখতে চাইলে অবশ্যই খুব ভোরে উঠতে হবে । যাওয়ার জন্যে বাইক রয়েছে । ১ বাইকে ২ জন যাওয়া যায় ।
ভাড়া লাগামছাড়া না হলেও নির্দিষ্ট না । জনপ্রতি ৫০ টাকা লাগতে পারে ।
আর সূর্যাস্ত দেখতে চাইলে যেতে হবে লেবুরচর নামের জায়গায় ।
আমি শুনেছিলাম কুয়াকাটায় নাকি এক জায়গায় দাঁড়িয়ে সমুদ্রের বুকে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দেখা যায় ।
তবে বাস্তবতা ভিন্ন ।
সূর্যোদয় আর সূর্যাস্তের স্পট বলে খ্যাত জায়গা দুটি কুয়াকাটা সৈকতের একদম দুই বিপরীত দিকে ।
সূর্যোদয় দেখতে যেতে হবে সৈকত বরাবর বাম দিকে , সূর্যাস্ত দেখতে যেতে হয় ডান দিকে ।
দু দিকেই ৪০-৫০ মিনিটের মতো লাগে ।
.
সবচেয়ে ভালো লেগেছে সূর্যাস্তের জায়গাটা ।
প্রায় জনমানবহীন এলাকা ।এইদিকে আরো সামনে গেলে সুন্দরবনের একটা অংশ পাওয়া যায় ।
তাই এখানেও এক ধরণের শ্বাসমূলসহ গাছ দেখেছি ।
সন্ধ্যায় এখানে ছোট্ট একটা বাজার বসে ।এটাকে ঠিক বাজার বলা যায়না । এতোটা জনাকীর্ণ নয় ।
আসলে সারাদিনে সমুদ্র থেকে ধরে আনা ফ্রেশ টুনা , ইলিশ সহ বিভিন্ন সামুদ্রিক মাছ ও কাঁকড়া পাওয়া যায় সন্ধ্যাবেলায়।
যেগুলা কিনে দিলে ওনারাই সাথে সাথে ফ্রাই করে এনে দেন ।
বসার জন্যে সৈকতে চেয়ার টেবিল পাতা । সূর্যাস্ত দেখার পরে সন্ধ্যায় সৈকতে বসে খেতে পারেন টুনা কিংবা কাঁকড়া ।
অতি মনোরম মুহূর্ত !
আমরা পর পর দুদিন গিয়েছিলাম এখানে ।
কাঁকড়া প্রকরণভেদে ৫০-১৫০ টাকা , টুনা ২৫০ টাকার মতোন ।
কেউ গেলে এই মজা মিস করবেন না ।
.
এরকম দূরের কোনো জায়গায় গেলে বাইক বা ভ্যানের সাথে আপডাউন চুক্তি করে নিন ।
আপনাকে নামিয়ে দিবে ,আপনার মতো ঘুরে ফিরে দেখবেন । সন্ধ্যার পরে আবার নিয়ে কুয়াকাটা ব্যাক করবে ।
আসলে এখানে ভ্যান বা বাইক এমন আপডাউন চুক্তিতেই চলে ।
কাজেই আপনি যদি শুধু যাওয়ার কথা বলে যান , তাহলে ফেরার সময় আপনিও এক্সট্রা কিছু পাবেন না , ওনারাও যাত্রী পাবেন না ।
তখন আপনাকে নামিয়ে দিয়ে ওনারা হয়তো চলে আসবে । আপনাকে ফিরতে হবে হেটে ।
আমাদের এভাবে একসন্ধ্যায় হেটে ফিরতে হয়েছিলো ।
ফেরার সময় রিকশা-ভ্যান-বাইক কিছুই না পাওয়ায় বাধ্য হয়ে হাটা ধরেছিলাম ।
কিন্তু এই বাধ্য হওয়াটাই খুব দ্রুত আমাদের কাছে রোমাঞ্চ হয়ে উঠেছিলো ।
.
মাইলের পর মাইল অন্ধকার বালিয়াড়ি সৈকত । ডানে সমুদ্র গর্জাচ্ছে । বামে উঁচু রাস্তা ।
যতদূর চোখ যায় জনমনিষ্যিহীন ধু ধু প্রান্তর ।
মাঝে মাঝে চোখে পড়ছে বালিতে নিথর পরে থাকা জেলে নৌকা ।
.
আমরা রাস্তা থেকে নেমে পরেছি। সাগরের পার ধরে ভেজা বালি পেরিয়ে হেটে চলেছি ৬ টা মানুষ ।
ডানে সমুদ্র ,বায়ে নিঃসীম প্রান্তর, আর পায়ের তলায় সাদাটে বালি ।
যা পায়ের তলায় মাঝে মাঝে রহস্যময় সাদা আলো ছড়াচ্ছে !
কি এক রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা ! *_*
.
তবে সবার তো ৪/৫ কিমি হাটতে ভালো লাগবেনা ।
কাজেই , কেউ যদি এমন দূর্ভোগে পরেই যান , তাহলে অন্য ভ্যান ওয়ালাদের সাথে কথা বলুন । তারা তাদের পরিচিত কাউকে ফোন দিয়ে এনে দিবে ।
এক্ষেত্রে আপনাকে অপেক্ষা করতে হবে , আর টাকা নামেমাত্র কিছু বেশি লাগতে পারে ।
তবে আমি উপদেশ দিবো , হাটতে ভালোবাসলে ৬/৭ জনের গ্রুপ মিলে রোমাঞ্চের নেশায় হলেও ট্রাই করে দেখতে পারেন ।
আদিম রাত আর সমুদ্রের স্বাদ পাবেন ।
.
এছাড়াও কুয়াকাটায় রয়েছে বিশাল শুটকির বাজার ।
ভালো মানের শুটকি হলেও , দামে খুব একটা হেরফের নেই ।
আমরা বাসার জন্যে চ্যাপা,নোনাইলিশ,লইট্যা সহ অনেক শুটকি এনেছিলাম ।
এছাড়া রাখাইন মার্কেট থেকে বিভিন্ন পদের আঁচার , প্রসাধনী বা জামা কাপড় কিনতে পারেন ।
.
এবার ভালো করে অবশ্য মনে রাখার মতোন কিছু পয়েন্ট-
৪.রাখাইনরা সংখ্যায় অনেক হলেও তারা নিজেদের মধ্যে গুটিয়ে থাকে । তাই তাদের বেশি না ঘাটানোই ভালো । তবে তাদের সাথে ভালো ব্যবহার করুন ।

৩.যাতায়াত ব্যবস্থা বা ফোনের নেটওয়ার্ক ভালো হলেও কুয়াকাটা তার বিশালত্বের তুলনায় কিছুটা পশ্চাদপদ ।
তাই ভালো মানের হোটেল পেতে সমস্যা হতে পারে ।
আর কক্সবাজারের স্বাদ আশা না করাই ভালো ।
এখানে কক্সবাজারের মতোন বানিজ্যিকভাবে ট্যুরিজম এখনো বিস্তার লাভ করেনি , তবে ধীরে ধীরে করছে ।
সরকারী বা বেসরকারী উদ্যোগে কিছু মানসম্পন্ন হোটেল নির্মাণ হচ্ছে ।
তখন হয়তো কক্সবাজারের মতো এখানেও মানুষ গিজগিজ করবে !
২.নিরাপত্তার সমস্যা না থাকলেও আমি এখানে ট্যুরিস্ট পুলিশ তেমন একটা দেখিনি । তাই সন্ধ্যার পরে ২/১ জনে দূরে কোথাও যাওয়া বা বেশি রাত অবধি দল বেঁধেও বেশি দূরে না যাওয়াই ভালো ।
কারণ সৈকতের আশে পাশে ছাড়া এলাকাটা পুরো সুনসান । তাই সতর্ক থাকা ভালো ।
***১. সূর্যাস্ত পয়েন্ট,সূর্যোদয় পয়েন্ট বা দূরের কোথাও যাওয়ার সময় বাইকে যথাসম্ভব দরদাম করে উঠুন ।
আর এই সব প্লেসে যাওয়া ছাড়া শখ করে ঘন্টা বা কিমি চুক্তিতে বাইকে উঠবেন না । আই রিপিট , ভুলেও না ।
কুয়াকাটায় যে কদিন থাকবেন অজস্র বার অজস্র প্লাটিনা হোন্ডাবাহক আপনাকে মধুর সূরে ডাকবে , ‘ মামা উঠেন । কিলো মাত্র ২০ টাকা । ‘
তাদের কথায় ভুলেছেন তো মানিব্যাগ ফাঁকা করে ছেড়ে দিবে ।
আধাঘন্টায় ৪/৫ শ টাকা খসিয়ে নিবে ।
এরা সম্ভবত শুরুতে মিটার ডাউন করে নেয়না , আপনি দেখতে চাইলে সহজে দেখাবেও না ।
আমরা একবার উঠেছিলাম , আধঘন্টায় আমাদের একেকজনের ১৫-২৭ কিলোমিটারের হিসেব দিয়ে ফেলেছিলো !
অথচ পরের দিন এরচাইতে প্রায় দ্বিগুণ দূরত্ব আমরা হেটে এসেছিলাম (লেবু্রচর থেকে , যেটা সর্বোচ্চ ৭ কিলোমিটারের বেশি কোনোমতেই হবে না )
আপনি তর্ক করে কিছু করতেও পারবেন না কারণ এরা সংখ্যায় অনেক , এবং একতাবদ্ধ । এবং বোঝা যায় এটা ট্যুরিস্টদের উপর এদের কমন ট্রিক ।
এমন অবস্থায় পরলে অন্য চালকদের সাহায্যের আশা বৃথা । তারা এসে হয়তো এভাবে মধ্যস্থতা করবে , ‘৫৮০ টাকা হয়েছে,আপনি ৫০০ টাকা দিয়েন । এই তুই ওনারে আর কিছু বলিস না ।”
তখন না জেনে ২৫০ টাকার ভাড়া ৫০০ টাকা দিতে পেরে যাকে আপনি বিপদের সময়ের এঞ্জেল ভাবছেন , সে হয়তো এইমাত্র কারো কাছে নিজের ডেভিল রূপটা প্রকাশ করে এসেছে ।
এগুলা আমার কাছে বিরক্তিকর ধাপ্পাবাজি মনে হয় । কর্তৃপক্ষের এদিকে দৃষ্টি দেয়া উচিত ।
অবশ্য সব ট্যুরিস্ট স্পটেই এমন কিছু অবস্থা আছেই । সেটা বেশিরভাগ সময়ই যানবাহনের বেলায়,মাঝে মাঝে ভ্রাম্যমাণ ক্যামেরাম্যানদের বেলায় ।
যার মধুর কথায় ভুলে আপনি শখের বশে তার বাইকে উঠবেন , যার মিষ্টি কথায় আপনি আরো সামনে যেতে উৎসাহ পাবেন , কিছুক্ষণ পরে তার কথার টোন আর ভাবভঙ্গি আপনার সাবেক gf/bf এর চাইতে বেশি দ্রুত চেঞ্জ হবে 😛
০.১২ স্পটের ওদিকে গেলে বাইকে আপনাকে ডাকতে পারে , “মামা চলেন রাখাইন পল্লী, ‘যা চাইবেন সব পাবেন ‘ ”
এহেন ‘লোভনীয় ‘ ও নিষিদ্ধ আনন্দের দিকে পা না বাড়ানোই ভালো ! কে জানে , হয়তো জীবনসংশয়ও ঘটে যেতে পারে কোনো চক্রের হাতে !
-১.সমুদ্রে নামার আগে অবশ্যই অবশ্যই সতর্ক থাকুন ।
আর গলা পানি বা তারচেয়ে বেশি দূরে না যাওয়াই উত্তম । কারণ অগভীর সমুদ্রের টান এখানে বেশ প্রবল । আর ভাটার সময় একদমই নামবেন না । আমরা আপনার ভেসে যাওয়ার খবর পত্রিকায় পড়তে চাই নাহ ।
আপনি ভেসে গেলে হয়তো কেউ খেয়ালই করতে পারবেনা সমুদ্রস্নানের উচ্ছাসে ।
আফটার অল , ভীড়ের মধ্যেই মানুষ সবচেয়ে একা থাকে !
.
.
বন্ধুরা মিলে বন্ধুর সাথে যাওয়ায় আমার খরচের সাথে কারোটা মিলবে না ।
তাই ‘ট্যু দ্য পয়েন্ট’ হিসেব দিলাম না ।
তবে ৩৫০০-৪০০০ টাকায় ভালোভাবেই সম্ভব বলে মনে করি ।

Post Copied From:Al Xayeed‎>Travelers of Bangladesh (ToB)

24 Dec 2017

সমুদ্রের প্রতি অন্যরকম একটা টান কেন জানি খুব কাজ করে… আর সেক্ষেত্রে সেন্টমার্টিনের প্রতি টান টা একটু বেশিই…. তাইতো একই বছরে ৩য় বারের মত ছুটে গিয়েছিলাম এই প্রবাল স্বর্গরাজ্যে… হ্যাঁ, উদ্দেশ্য একটাই স্বচ্ছ প্রকৃতি আর নীল দিগন্তের কাছাকাছি আরও একটিবার নিজেকে সমর্পণ করা……
গত ৫.১২.২০১৭ গিয়েছিলাম এই বছরের জন্য সর্বশেষ ট্যুর দিতে…
মজার ব্যাপার ছিল… বছর টা শুরু হয়েছিল এই সেন্টমার্টিন দিয়ে আবার শেষ ও হল এই সেন্টমার্টিনকে দিয়েই……

প্রথমেই বলে রাখি… সেন্টমার্টিন বা কক্সবাজার ভ্রমনের এটিই সব থেকে ভালো সময়… সেন্টমার্টিন যেতে হলে প্রথমে আপনাকে যেতে হবে টেকনাফ লঞ্চঘাটে… ঢাকার শ্যামলী, কল্যাণপুর, গাবতলী, কলাবাগান, ফকিরাপুল, কমলাপুর, সায়দাবাদ সহ বিভিন্ন যায়গা থেকে প্রতিদিনই বিভিন্ন পরিবহনের এসি/ননএসি বাস টেকনাফের উদ্দেশ্যে সন্ধ্যা ৬ থেকে রাত ৮ টার মধ্যেই ছেড়ে যায়.. ননএসি বাসের ভাড়া সিট প্রতি ৯০০ টাকা…এসি বাসে গেলে আপনাকে গুনতে হবে সিট প্রতি ১৫০০-১৭৫০ টাকা। ঢাকা থেকে টেকনাফের দূরত্ব কম বেশি ৪৭০ কিলোমিটার…. পরদিন সকাল ৮ টা নাগাদ পৌছে যাবেন টেকনাফ লঞ্চ ঘাটে…

বাস থেকে নেমেই জাহাজের টিকিট কেটে নেয়াই হবে বুদ্ধিমানের কাজ… টেকনাফ থেকে প্রতিদিনই ৪-৫টি জাহাজ সেন্টমার্টিনের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়… তবে আবহাওার অবস্থা অনুযায়ী তারতম্য ঘটে… তাই সেন্টমার্টিন ভ্রমণের প্ল্যান করার আগে অবশ্যই আবহাওার পূর্বাভাস দেখে তবেই সিদ্ধান্ত নিবেন… টেকনাফ থেকে প্রতিদিনই এল.সি.টি. কুতুবদিয়া, কেয়ারি সিন্দবাদ, এম ভি গ্রীনলাইন সহ বেশ কিছু জাহাজ সেন্ট মার্টিন যাওয়া আসা করে… তবে ভুল করেও কেউ টাকা বাঁচানোর জন্য ট্রলারে করে সেন্ট মার্টিন যাওয়ার কথা ভাববেন না। জাহাজে বেশ কয়েকটি শ্রেণীর টিকিট রয়েছে… শ্রেণী ভেদে টিকিটের দাম ৫৫০-১৫০০ টাকা পর্যন্ত। তবে ওপেন ডেকে গেলেই আপনি নাফ নদী ও বঙ্গোপসাগরের আসল সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারবেন… জাহাজের টিকিট কাটার সময় চেষ্টা করবেন কাউন্টারের লোকদের যত সম্ভব বুঝিয়ে দাম কমানোর… তবে সেটা অবশ্যই জন সম্মুখে নয়… নিজের ব্যাক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে বলছি কাউন্টারের ভেতর দরদাম করে ওপেন ডেকের ৭০০ টাকার টিকিট ৫৫০ পর্যন্ত নামিয়ে আনতে পেরেছিলাম… তবে যারা প্রথমবার সেন্টমার্টিন যাবেন তাদের জন্য বলছি… টিকিট কাটার সময় কেউ যেন বুঝতে না পারে যে এটিই আপনার প্রথম ভ্রমণ… দেখবেন অনেক কিছুই সহজ হয়ে যাচ্ছে…

সবকটি জাহাজ ই সকাল ৯ঃ৩০ এ ঘাট থেকে রওনা হয়ে যাবে… জাহাজ যত সামনে আগাবে নাফ নদী ততই আপনার সামনে তার সৌন্দর্য তুলে ধরবে… আর জাহাজের দুপাশ দিয়ে অজস্র গাংচিল আপনাকে পথ দেখিয়ে নিয়ে যাবে আপনার গন্তব্য পর্যন্ত… জাহাজে অবশ্যই এমন কোন কিছু করা থেকে নিজেকে বিরত রাখবেন যা আপনার জন্য কোন অনাকাঙ্ক্ষিত অভিজ্ঞতার কারন হয়ে দাড়ায়… আপনার জন্য যাবতীয় নির্দেশনা জাহাজেই মাইকিং করে আপনাকে জানিয়ে দেয়া হবে… দুপুর ১২ টার মধ্যেই পৌঁছে যাবেন সেন্টমার্টিন জেটিতে… জাহাজ থেকে নামার সময় অবশই সাবধানতা অবলম্বন করবেন… এরপর চলে যাবেন ব্রিজ ধরে সেন্টমার্টিন বাজারে… মান ও সুযোগ সুবিধা ভেদে অনেক রকম রিসোর্ট গড়ে উঠেছে এখানে… নিজের রুচি ও সামর্থ্য যাচাই করেই বেছে নিবেন… ভাড়া রুম প্রতি ১০০০-৩৫০০ পর্যন্ত… তবে অবশ্যই দরদাম করে নিবেন…

ফ্রেশ হয়ে বেরিয়ে পড়ুন দুপুরের খাবারের জন্য… আগেই বলে রাখি… সেন্টমার্টিন এর খাবারের স্বাদের প্রতি আগে থেকেই অনেক বেশি প্রত্যাশা নিয়ে না আসাই ভালো… নিজের পছন্দ মত বুঝে শুনে খাবার নির্বাচন করবেন… তবে এখানে প্রায় সব খাবারের হোটেলে একটা ব্যাপার দেখা যায়… ভাত মাথা পিছু ৪০ টাকা আনলিমিটেড… তবে সামুদ্রিক মাছের স্বাদ না নিয়ে সেন্টমার্টিন থেকে আসবেননা…

সমুদ্রে নামার আগে অবশ্যই জোয়ার ভাটার সময় জেনে নামবেন… আর অবশ্যই লাল পতাকা যুক্ত যায়গা গুলোয় পানিতে নামা থেকে বিরত থাকবেন… সাঁতার জানা না থাকলে খুব বেশি দূর না যাওয়াই ভাল… চাইলে বীচের উপর রাখা চেয়ার ভাড়া নিয়ে বুক ভরে নিঃশ্বাস নিয়ে কিছুক্ষন হারিয়ে যেতে পারেন সুবিশাল সমুদ্রের মাঝে… বিকালে চাইলে সাইকেল ভাড়া করে বেরিয়ে পরতে পারেন পুরো দ্বীপটি ঘুরে দেখতে… কারণ পায়ে হেঁটে পুরোটা ঘুরে দেখা বেশ কষ্টকর… আর অবশ্যই সূর্যাস্ত মিস করবেননা… হয়তো এটি ই হতে পারে আপনার জীবনের শ্রেষ্ঠ সূর্যাস্ত… রাতের আকাশে কোটি কোটি তারার মেলা বসে সেন্টমার্টিনের আকাশে… জীবনে মনে রাখার মত কিছু সময় যদি আলাদা রাখতে চান… তাহলে বেরিয়ে পড়ুন রাতের আকাশ টা একবার দেখে আসার জন্য… চেষ্টা করবেন পরদিন খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠতে… সেন্ট মার্টিনের সূর্যোদয় যেন সৃষ্টিকর্তার আরেকটি উপহার… জেটি থেকে খুব সুন্দর দেখা যায় সূর্যোদয়…

সূর্যোদয় দেখে নাস্তা সেরে বেড়িয়ে পড়ুন ছেড়া দ্বীপের উদ্দেশ্যে। সেন্টমার্টিনে এসে ছেড়া দ্বীপ দেখে না গেলে বলবো এই জীবণে অনেক কিছু দেখা থেকে বঞ্চিত হবেন তাও আবার এত কাছে এসেও….। আর যারা যেদিন আসবেন সেদিনই টেকনাফ ফিরে যাবেন তাদের জন্য ১ মিনিট নিরবতা ছাড়া আর কিছু বলতে পারছিনা….. উপরে যা কিছু বলা হল সব কিছু থেকেই তারা বঞ্চিত হবেন…।

যাই হোক, জেটি থেকে ছেড়া দ্বীপ যাওয়ার ৪টি উপায় আছে…. ট্রলার, গাম বোট, স্পীড বোট এবং পায়ে হেটে…. ট্রলারে যেতে হলে লাগবে কম বেশি ৩০ মিনিট… জন প্রতি লাগবে ১৫০ টাকা…. গাম বোটে যেতে সময় লাগবে ২০ মিনিট আর জন প্রতি লাগবে ২০০ টাকা…..স্পীড বোটে যেতে সময় লাগবে ১০ মিনিট… আর জনপ্রতি ৩০০ টাকা…. যেভাবেই যাননা কেন ছেড়া দ্বীপ ঘুরতে সময় পাবেন ১ ঘণ্টা….আর পায়ে হেঁটে গেলে অবশ্যই ভাটার সময় রওনা হবেন… যদিও সময় বেশি লাগবে…তাও অন্যরকম এক অভিজ্ঞতা নিতে পারেন… অবশ্যই সেখানকার ডাব খেয়ে আসতে ভুলবেননা… এক কথায় অমৃত….৩০-৪০ টাকার ডাবের পানি খেয়ে লাখ টাকার তৃপ্তি পাবেন এটুকু বলতে পারি।… ছেড়া দ্বীপের কাছাকাছি গেলেই দেখবেন স্বচ্ছ পানির তলদেশে নানা রঙের প্রবাল আর ছোট ছোট মাছ……

দুপুরের খাবার শেষে ২ঃ৩০ এর মধ্যে জেটিতে উপস্থিত থাকবেন…। কারন জাহাজ গুলো ২ঃ৪৫ এ একে একে টেকনাফের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাবে… যারা শুধুমাত্র সেন্টমার্টিন ভ্রমণের জন্য আসবেন তারা চাইলে সেন্ট মার্টিন থেকেই ঢাকার টিকিট কেটে নিতে পারেন। জাহাজ বিকাল ৫ঃ৩০ এর মধ্যেই টেকনাফ লঞ্চঘাটে পৌঁছে যাবে…। যারা কক্সবাজার যাবেন তারা ঘাট থেকেই রাস্তা পার হয়ে কক্সবাজারের বাসে উঠে যাবেন… টেকনাফ থেকে কক্সবাজারের ভাড়া ১৫০ টাকা…।

একটা কথা সব সময়ই মনে রাখবেন…। প্রকৃতির এই অপার সৌন্দর্য উপভোগ করতে যেয়ে প্রকৃতির কোন প্রকার ক্ষতি হয় এমন যে কোন প্রকার কাজ থেকে বিরত থাকবেন…। কারন আপনার বা আমার ছোটখাটো অবহেলাও প্রাকৃতিক সম্পদের ক্ষতির কারণ হয়ে দাড়াতে পারে… আর আমাদের সম্পদের ক্ষতি মানে আমাদের নিজেদের ই ক্ষতি…। আর দেশকে যত কাছ থেকে দেখবেন দেশের প্রতি ভালবাসা ততই বাড়বে…।

Post Copied From:

Tariqul Islam Chowdhury Rafi > Travelers of Bangladesh (ToB)
21 Dec 2017

আসলেই তাদের বেপার-সেপার রয়াল সাথে তাদের মন ও। তাদের দালান শিল্প ও কারূকার্য এর কোন তুলনা হয়না। পরিছন্নতার দিক দিয়ে দেশটি অনেক শতর্ক। সপ্তাহে একবার তো তারা ভলান্টিয়ার করে পথে নামবেই। আর্মি, পুলিশ, ড্রাইভার ও সাধারণ মানুষ সকলেই এই কাজটি র্নিদিধায় করে। ইভেন আপনি কোথাও গাইড নিয়ে যাচ্ছেন, সেও দেখবেন রাস্তায় পরে থাকা কোন প্যাকেট/বোতল হাতে তুলে নিচ্ছে।
আমাকে পুরোপুরি ব্ষ্মিয় করার মত একটা দিক হচ্ছে মডার্ণ মেয়দের ড্রেসআপ সেন্স। আপনি যদি ইন্সটাগ্রাম ইউজার হন তবে খেয়াল করবেন অখানে মেয়েরা অনেক ভিন্টেজ, ফ্লোরাল ড্রেস, জ্যাকেট, এডিডাস, নাইকি, ছোট ব্যাকপ্যাক, গুগলস আরও কতো কি পরে ডোপ ডোপ ষ্টাইল করে। ঠীক সেরকম টাই দেখতে পারবেন। ঐ দেশে বিয়ে করে নাগরিক হতে হলে ছেলেদের থাকতে হবে ২৫ বছর এবং মেয়েদের ১৫। ☹️
এতটা কম খরচ এ পুরো ট্যুর টা শেষ করতে পারব ভাবতে পারিনি। না গেলে আপনিও বিশ্বাস করবেন না। যদিও বা কম খরচ শুধু বাজেট ট্রাভেলার দের জন্য প্রযোজ্য। ভিসার সময় সল্পতার করণে পুনাখা টা শুধু যেতে পারিনি। তবে ইচ্ছা আছে আবার যাবো। অন্য মানুষদের হয়ত এই দেশটি ন্যাচারাল বিউটির জন্য বারবার যেতে উদ্বুদ্ধ করতে পারে তবে এটার সাথে আমার যেই ব্যাপার টা খুব বেশি টানে সেটা হচ্ছে ধূমপান নিষিদ্ধতা। কারণ আমি ধূমপান করিনা এবং এটার ধোয়া তেও আমার দম বন্ধ হয়ে আসে। জানি অনেকেই আমাকে অলরেডি হেইট করা শুরু করে দিসেন। 😛 বাট ঘুরতে হলে বাঁচতে হবে মশাই। মশাই কথাটা ওখানে ঘুরতে আসা এক কলকাতার দাদার মুখে শুনেছি।
আমার বাসা রংপুর। ঢাকা থেকে এয়ার এ আসছি। ২ দিন রেষ্ট করছি এবং ভরপুর খাইছি। মডার্ণ মোড় পাম্প থেকে রাত ৪ টায় মানিক এক্সপ্রেস এ চড়ে গেছি বুড়িমারি বর্ডার। যদিওবা আগে বাস ধরতে পারতাম বাট মানিক এ আমার বন্ধুরা আসছে তাই। শ্যামলি এর থেকে মানিক এর সিট এবং ব্যাবহার দুটোই ভালো। আমার বন্ধুরা দালাল এর দাড়ায় করাইছে ৭০০ টাকা করে দিছি ট্রাভেল ট্রাক্স (৫০০) সহ। আমি ট্রাভেল ট্রাক্স রংপুর সোনালী ব্যাংক থেকে দিয়ে গেছি। একজন পরিচিত ছিল তাই বাংলাদেশ সাইডে ৫০ টাকা লাগছে এবং আমাকে বাইকে করে একদম শেষ মাথায় নামায় দিয়ে আসছে। আমার বন্ধুদের দালাল ধরেও অনেক দেরি হইছে আসতে।
যাইহোক, ইন্ডিয়ার সাইডে আবারো প্রচুর দালাল ঘিরে ধরবে। আপনার বাস এর নাম এমনভাবে বলবে যেনো সেই বাসের সাথে অফিসিয়ালী রিলেটেড। আমি নিজেই কাজ করছি বাট আমার বন্ধুরা দালাল দিয়ে করাইছে। আমি আগে দিলেও আমার বন্ধুদের পরে আমার নাম ডাকছে সিগ্নেচার এবং ছবির জন্য এবং ৫০ টাকা চেয়ে নিছে। ১০০ এর নোট দিছি, ৪০ রূপি ব্যাক দিসে বাংলা টাকা না থাকায়। পরে আবার বলতেছে, পাইলে ২/১ টাকা বেশি ই পাবেন চিন্তা নাই 😄এখানে নিজে করেও আমার ১০০ টাকা লাগছে। আমার ঢাকা থেকই রূপি করা ছিল। ব্যাগ চেকিং ও হইছিল। বন্ধুদের টাকা চালাকি করে ১০ পয়সা বেশি নিয়ে ভাঙ্গিয়ে দিলাম। ০৮/১২/১৭ তারিখে রেট পাইছি ৭৮.৬০ রূপি করে।
তারপর টমটম নিয়ে বাসষ্টান্ড, বাসষ্টান্ডে একজনের জন্য অপেক্ষা করতে যেয়ে ২টা বাস ও ৪৫ মিনিট লস। পরে সেখানে আর বাস না পেয়ে টমটম করে বাইপাস চলে গেলাম। সেই কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতেই হইছে, তারপর বাইপাস থেকে ময়নাগুরি। ময়নাগুরি তে বাস কন্টাকটর বেটা ছিল বদমাইশ। আমাদের বলছে ফালাকাটা দিয়ে কাছে হবে, পরে দেখি বীরপাড়া দিয়ে কাছে। ফালাকাটা পর্যন্ত রাস্তা টা একদম খারাপ এবং বালু-ধুলা দিয়ে ভরতি।ফালাকাটা নেমে পাশেই জয়গাঁও এর বাস, সেখান থেকে ১.৫/২ ঘন্টা লাগে। টোটাল ৪/৫ ঘন্টা লাগছে। এই পর্যন্ত ১০০ রূপি খরচ হবে। একটা মজার বেপার লক্ষ করছি যে, এই পর্যন্ত বেশির ভাগ মানুষের মুখে রংপুরের ভাষা শুনছি। তারপর মোটড় গাড়িতে (৭ রূপি) চড়ে জয়গাঁও ইমিগ্রেশন অফিস (সুপার মার্কেট/বাডা বাজাড়) থেকে এক্সিট সিল নিয়ে ভূটান গেট হেটে যাওয়া যায়। বাট মেইন গেট দিয়ে ঢুকার ট্রাই করাতে আমাকে জেইলে দিয়ে দিত 😆 পরে একটু ভিতর দিয়ে মানুষের গেট দিয়ে ঢুকতে হইছে। আর মেইন টা হচ্ছে গাড়ী-ঘোড়ার গেট।
অইদিন ছিল শুক্রবার, আর আমরা পৌছাইছি ৪:৩০ এ। শনি-রবি ইমিগ্রেশন অফ। টেনশনে ঘুরাঘুরি করতে বাজাইছি ৫ টা। কারণ অফিস সামনে দিয়ে বন্ধ এবং ইন্ডিয়ান রা অনেক কনফিউজ্ড করছে যে আজ আর পারমিট পাওয়া যাবেনা। কারণ ইন্ডিয়ান দের ৪ টার পরে আর পারমিট দেয়না। ভিতরে যেয়ে বাংলাদেশি বলতেই সাথে সাথেই ফর্ম দিয়ে দিল এবং পুরোন করার পরে পাসপোর্টে অনেক খুজে বলে যে ইন্ডিয়ান এক্সিট সিল তো নাই। ৬ টায় বন্ধ হবে জয়গাঁও ইমিগ্রেশন অফিস তাড়াতাড়ি নিয়ে আসেন আমি আছি। পরে অনেক হ্যাসেল এর পর নিয়ে এসে ভূটান পারমিট নেই এবং ফুন্টসোলিং এ থাকি। সন্ধার পর হোটেল থেকে বের হয়ে মার্কেট ঘুরি এবং রাতে খাবার পরে পার্কে বসে অনেক সময় কাটাই।
পরদিন ভোরে উঠে বাস কাউন্টারে যাই এবং থিম্পু এর টিকি ট কাটি ৮:৩০ এর ২৪৫ রূপি করে। নাস্তা করে ব্যাগ নিয়ে রওনা হই। আরামছে ৬ ঘন্টা কেটে যায়। পুরো রাস্তা টা উপরে উঠতে থাকার কারণে হালকা মাথা ধরছিল তাই একটু ঘুমায় ও নিছলাম। রাস্তা এবং বাস এতটাই ভালো যে আমি চাকার উপরে সিটে বসেও কিছু ফিল করিনি। মাঝে ১ বার পারমিট চেক ও নাস্তা ব্রেক দেয়। কোন জ্যাম দেখতে পারবেন না এবং মজার ব্যাপার হচ্ছে কোন হর্ণ শুনবেন না। ☺️এপাশে এক্সিডেন্ট হয়ে যাবে তাও হর্ণ দিবেনা। ভূটান এ থাকার আরেকটা ভালো কারণ। নো ইনভায়র্ণনেন্ট পলিউশন।
পৌছে হোটেল খুঁজে ঘুরতে বের হইছি, সিম কিনছি (২৫০ রূপি+২০০ রূপি ইন্টারনেট), ট্রাক্সি ঠীক করছি, খাওয়া-দাওয়া করছি। পরের দিন ট্রাক্সি করে থিম্পু মোটামুটি সব ঘুরে ঐ ট্রাক্সিতেই পারো চলে গেছি কারণ আগে থেকেই ঠীক করে নিসলাম ৩০০০ রূপি তে।
পারো তে হোটেল খুঁজে উঠে পরলাম এবং রাতে অল্প ঘুরাঘুরি করে হোটেল ব্যাক করতে হয়ছে কারণ তাদের খাবার শেষ সময় রাত ৮:৩০ (পুরো ভূটান এ) এবং অর্ডার আগে থেকেই করে রাখতে হয়। রাতে বের হয়ে হাটাহাটির পর, পরের দিনের ট্রাক্সি ঠি ক করলাম টাইগার নেষ্ট, কিচু ও মিউজিয়াম (১৪০০ রূপি) এবং তার পরের দিন সকাল সকালে চেলেলা পাস এর জন্য (১৭০০ রূপি)। তারপর পারো টু ফুন্টসোলিং এর বাস টিকে ট (২৪৫ রূপি) ও করে নিলাম কারণ ভদ্রমহিলা আগেই বলেছেন ষ্টুডেন্ট দের অনেক চাপ সো পরে টিকি ট নাও পেতে পারো। এই হোটেলে পরের দিনের সব রূম বুকড ছিল তাই আমরা তাদের লবি তে ব্যাগ দিয়ে টাইগার নেষ্ট পাড়ি দিলাম এবং পরের দিন সকালে চেলেলা পাস ঘুরে, এয়ারপোর্ট ভিউপয়েন্টে কিছুক্ষণ থেমে ফুন্টসোলিং চলে আসলাম। ঐ দিন রাতে থেকে পরদিন বর্ডার ক্রস করে সেই প্রথম এর মতো করেই বাড়ি।
হোটেল বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন দাম, আমার শেয়ারে ৩০০/৪০০/৫০০ রূপি করে পরছে। হোটেল সব দামাদামি করে নিছি তাই কম। খাবার বেশির ভাগ দিনই খাইছি ফ্রাইড রাইছ এবং রেষ্টুরেন্ট ভেদে আলাদা দাম ১২০/১৩০/১৫০ রূপি। ১০০ রূপি তে ভালো ব্রেকফাষ্ট করতে পারবেন ডেইলি। তারা খাবারে লবণ দেয়না বল্লেই চলে, তাদের ডাক্তার নাকি মানা করছে। পেট ভরে কিন্তু মন ভরেনা। 😣 ৫ হাজার রূপির মতো শপিং করছি, বেশির ভাগ সেরে ফেলছি পারো তে আর বাকি টুকটাক ফুন্টসোলিং এ। অহ, আমরা যেমন ক্রিকেট প্রেমী তেমনি তারা আবার খুব ফুটবল প্রেমী। তাদের ফুটবল গ্রাউন্ড গুলোও দেখার মতো। খেলাও দেখছি একটা। ☺️
অনেক বড় লিখে ফেললাম। আসলে আইফোন (ভাব) এ বাংলা লিখতে খুবই কষ্ট। সো আশা করি হাহা রিএক্ট দিয়ে ভালবাসা জানায় পাশে থাকবেন। তাছাড়াও ঘুরার কয়দিন অনেক কষ্ট গেছে, কিন্তু আমরা রংপুর বাসিরা কিছুটা এরকম “আছে বেলা, হইবে এলা”। সো সব কিছু লেট লেট তাই পোষ্টও কিছুদিন লেট হলো। ফটো আমার নিজের তোলা।
হ্যাসট্যাগ ফর কূইক সার্চ: #bhutan #thimphu #paro #pheuntsholing #tigernest#chelelapass #traveldiary

Post Copied From:MD Shyam Islam‎>Travelers of Bangladesh (ToB)

21 Dec 2017

সাজেক ভ্যালি , পার্বত্য খাগড়াছড়ি জেলা থেকে ৬৫ কিলোমিটার উত্তর পূর্ব দিকে অবস্থিত সমুদ্র সমতল থেকে প্রায় ২০০০ ফুট উঁচু একটি পর্বত চূড়া। সাজেক নামকরণটি করা হয়েছে মূলত রাঙ্গামাটি জেলার বাগাইছড়ি উপজেলার একটি ইউনিয়নের নামে। তবে খাগড়াছড়ি থেকে এর যাতায়ত ব্যবস্থা সহজ। সাজেকের মূল পাহাড়ের আশেপাশের পাহাড় গুলোর গড় উচ্চতা এটি হতে প্রায় ৫০০ হতে ৭০০ ফুট কম, যেটি সাজেককে দিয়েছে অনন্যতা।

শুক্রবার সকালে যখন চাঁন্দের গাড়িতে( যদি ও আমাদেরটা ইন্ডিয়ান বলেরো ছিল) করে খাগড়াছড়ি থেকে সাজেকের উদ্দেশ্যে রওনা দিই, তখন সাজেকের একটি ছবি মনে মধ্যে এঁকে রেখেছিলাম, যার সাথে অনেকটা মিল পেয়েছি। খাগড়াছড়ি থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার যাওয়ার পর বাঘাইহাট নামক জায়গায় সাজেকমুখী সকল গাড়িকে থামতে হয়, যেখান থেকে সেনা বাহিনী সকল গাড়িকে escort দিয়ে নিয়ে যায়। বাঘাইহাট ও সাজেক উভয় দিক থেকে সকাল১০.৩০ টা ও বিকাল ০৩.৩০ টার সময় দুইটি escort ছাড়ে।

বাঘাইহাট থেকে যখন আমাদের গাড়ি সাজেকের দিকে যাচ্ছিল, তখন ছোট বড় অনেক পাহাড় ডিঙিয়ে আঁকা বাঁকা পাহাড়ি রাস্তা দিয়ে ভ্রমণ সত্যি রোমাঞ্চকর ছিল। সাজেকের খুব কাছে- যেখান থেকে সাজেক দেখা যাচ্ছিল, আমাদের গাড়ির এক চাকায় সমস্যা দেখা দেয়, যেটি আমাদের একটি পাহাড়ি পরিবারের সাথে এক ঘন্টা থাকার সুযোগ করে দেয়। পাহাড়ি পরিবারটি ঘর জসিম উদ্দিনের আসমানী বা শরৎচন্দ্রের গফুরের ঘরকে ও হার মানায়। ১০০ স্কয়ার ফুটের একটি ঘরে কমপক্ষে ১২ জনের বসবাস। তার মধ্যে বাচ্চা আছে ৬ জন, যাদের প্রত্যেকের বয়সের ব্যবধান সর্বোচ্চ ১ বছর। বন্ধু আমজাদ কে জিজ্ঞেস করলাম-কাহিনী কি? তার বুদ্ধি দৃপ্ত উত্তর, এন্টারটেইনমেন্টের জায়গা তো ঐ একটায়।

পার্বত্য এই মানুষ গুলো সত্যি যুগে যুগে বঞ্চিত। আশির দশকের শুরুতে যখন স্বৈরশাসকেরা নদী সিকিস্তি, নদী পয়স্তি মানুষেদের এক প্রকার জোর করে ধরে নিয়ে গিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামে সেটেলমেন্ট করেছিল, তখন কি তারা ক্ষীণকায় ভেবেছিল সীদ্ধান্ত কতটা আত্নঘাতী হবে? এখনো পর্যন্ত সেই সিদ্ধান্তের জের টান তে হচ্ছে পাহাড়ি বাঙ্গালী উভয়কে। পাহাড়ে শান্তি আজ সুদূর পরাহত। ৯৭ এর শান্তি চুক্তি তখনকার প্রেক্ষিত সময়ের দাবী মনে হলে, পাহাড়ে দীর্ঘ মেয়াদে শান্তি স্থাপনে এটি যে একমাত্র অনুসঙ্গ নয় তা আজ দিবালোকের মত বাস্তব।

পুরো সাজেক ভ্রমনে সেনাবাহিনীর আচরণ দেখে সত্যি বিস্মিত হয়েছি। এ যেন ক্ষেপা বাঘের দাবড়ানি খাওয়া হরিনের আচরণের মত। হরিণ যেমন বাঘের সাথে না পেরে এমন জায়গায় লুকায় যেখানে তার মাথাটা ডাকা থাকে, বাকি শরির বাহিরে। সে ভাবে সে যেহেতু কাউকে দেখছে না, বাঘ মামা তাকে দেখছে না। যেটি তাকে বাঘের প্রাতরাশ হতে আরো বেশি সুযোগ করে দেয়। পার্বত্য চট্টগ্রামে পৌর এলাকা, পর্যটন কেন্দ্র ও সেনাদের ক্যাম্প গুলো সুরক্ষিত। বাকি এলাকা ইউপিডিএফ ও জেএসএস যুদ্ধাদের হাতে। গেরিলা নীতিতে যুদ্ধ করা একটি শক্তির সাথে জেতা যে খুবেই কঠিন বা আধো সম্ভব নয়, তা তো ৭১ এ প্রমাণিত।

একটি প্রতিক্রিয়াশীল শক্তিকে কখনো বন্দুকের কার্তুজে দমন করা যায় না। পাহাড়িদের বঞ্চনা যত দিন শেষ হবে না তত দিন এই যুদ্ধ চলতে থাকবে। যে পাহাড়ি মা টি প্রতিদিন দেখছে সিল্কি চুল উড়িয়ে, বুকে DSLR ক্যামরা ঝুলিয়ে একদল তরুণ তরুণীর সুখে গা ভাসানোর দৃশ্য, সে মায়ের মনে একবার হলো ও প্রশ্ন জাগবে না-আমাদের কি দোষ? আধরা সুখের অন্বেষনে সে যখন লিপ্সু হবে, তখনি তার কাছে বঞ্চনার জায়গাটা স্পষ্ট হবে। যখনি দেখবে এর জন্য এ সমাজ, রাষ্ট্র দায়ী, তখন সে তার সন্তানকে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে দাড় করাতে কুণ্ঠিত হবে না।

সাজেকেই ফিরে আসি। যখন পৌঁছায়, তখন দিনের দুটা। যাওয়ার পর দেখি রুমের বন্দবস্ত হয়েছে ০৬ জনের অথচ আমরা মানুষ ১১ জন। এদিকে হোটেল মালিক বেঁকে বসছে-০৬ জনের রুমে ১১ জন থাকা যাবে না। অনেক কষ্টে তাকে ম্যানেজ করা গেল। ক্ষুদার্ত পেটে দুপুরের খাবারটা ভাল হয়েছিল সে দিন। বিশ্রামের সুযোগ নেই, বের হয়ে পড়লাম সাজেক দেখতে। মূল পাহাড়ের উত্তর প্রান্তে কংলাক পাহাড় নামে আরো একটি পাহাড়, যার উচ্চতা সাজেক থেকে ৩০০ ফুট বেশি। যখন আমরা কংলাকের চূড়ায় তখন মৃদু শ্বাস কষ্ট অনুভব করলাম।

দুই দিনের বন্ধ থাকায় সে দিন প্রচুর পর্যটক ভীড় করেছিল সাজেকে। কিন্তু এক জন ও বিদেশী পর্যটক দেখলাম না। তবে মোট পর্যটকের ৩০% মেয়ে ছিল। এটি প্রমান দেয়- ইন্টানেটের কল্যানে পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রতি বঙ্গদেশীদের আকর্ষণ বাড়লে ও বিদেশীরা একে এখনো নিরাপদ মনে করে না। অনেকে তো মানে করে এখানে সিভিল ওয়ার চলছে।

যখন ফিরছিলাম তখন সাজেকের জন্য সত্যি খারাপ লাগছিল। ফিরার পথে সাজেক মুখী যাদের দেখছিলাম তাদের সাথে আবার চলে যেতে ইচ্ছে করছিল। ফিরতি পথে একটি পাহাড়ি বাচ্চাকে জাতীয় পতাকা উড়াতে দেখলাম যদি ও সেদিন বিজয় দিবস ছিল। হয়ত ছেলেটি অবচেতন মনে এটি করেছে। তবু ও এতটুকু বয়সে সে চিনেছে- এটি আমাদের জাতীয় পতাকা। ব্যাপারটা সত্যি ভাল লেগেছিল।

খাগড়াছড়ি এসে রোচাং ঝর্ণা, আলুটিলা, জেলা পরিষদ ঝুলন্ত ব্রিজ ও লেক দেখার সু্যোগ হয়। আশ্চর্যের বিষয় হলো এই তিনটি স্পটে সাজেকের সেই পরিচিত মুখ গুলোর সাথে বার বার দেখা হয়েছে। অর্থাৎ খাগড়াছড়ি ট্যুর টা সবাই পুরো প্যাকেজ আকারে নিয়েছে।

পরিশেষে যাদের পরিশ্রমে পুরো ট্যুরের ব্যবস্থাপনা সঠিক ছিল-বিশেষ করে বন্ধু আমজাদ, রানা ভাই, রায়হান প্রতি অনেক অনেক ভালবাসা। অপেক্ষায় আছি, আবার হারিয়ে যাব, কোন এক লোকালয়ে।

Post Copied From:Mohammed Sohel‎>Travelers of Bangladesh (ToB)

21 Dec 2017

জীবনের প্রথম গেলাম ইন্ডিয়া। এটাই আমার প্রথম দেশের বাহিরে যাওয়া তাও আবার একা একা। সর্বমোট ১০ দিন ছিলাম ইন্ডিয়া তার মধ্যে ঘুরেছি হিমাচল প্রদেশ, উত্তর প্রদেশ,মদ্ধ প্রদেশ,দিল্লী এবং ওয়েস্ট বেঙ্গল।

@@যাই হোক এখন আসি কখন ,কোথায় এবং কিভাবে ঘুরলাম তা বর্ণনা করা যাক@@

প্ল্যান করেছিলাম এক মাস আগেই। প্ল্যান মতোই ইন্ডিয়ান ভিসার জন্য এপ্লাই করি এবং কোন ঝামেলা ছাড়া প্রথম বারেই পেয়ে যাই। যেহেতু একা ছিলাম তাই একটু ভয় তো থাকাটাই স্বাভাবিক। কিন্তু পরিশেষে ভয় কে জয় করেছি।

যাত্রা বর্ণনা ঃ
——————-
ঢাকা টু কোলকাতা ট্রেনে মৈত্রী এক্সপ্রেসে ২৫০০ টাকা। ঢাকা কেন্টনমেন্ট থেকে ওঠতে হয়েছে। ৩০ দিন আগে টিকিট কেটেছিলাম। রিটার্ন টিকিট করা ভালো নইলে আসার সময় টিকিট পাওয়া যায়না।
কোলকাতায় নেমে সেখান থেকে টেক্সি নিয়ে সোজা নিউ মার্কেট এরিয়া ( মারকুইস স্ট্রিট) এ নেমে টাকা /ডলার চেঞ্জ করেছি একটা হোটেল নিয়েছিলাম ১২০০ রুপী দিয়ে(বিমান লজ) সেখানে একদিন থেকে পরের দিন টেক্সি করে সোজা কোলকাতা এয়ারপোর্ট। টেক্সি ভাড়া ২০০-২৫০ টাকা নিয়েছে। কোলকাতা থেকে প্লেনে করে সোজা দিল্লী। প্লেনের টিকিট করেছিলাম ঢাকা থেকে ৫৫০০ টাকা তে ওয়ানওয়ে টিকিট। দিল্লী নেমে সেখান থেকে উবার করে পাহারগঞ্জ । ভাড়া এসেছিল ৫২৩ রুপী। সেখানে একদিন হোটেল এ থেকে ( রাজ মহল ইন) পরের দিন রুম চেক আউট দিয়ে সোজা চলে যাই উবার করে মজনুকা টিলা ভাড়া আসে ২০০ টাকার মতো।হোটেল ভাড়া ছিল ১০০০ রুপী। অস্থির একটা হোটেল আমার কাছে ভালো লেগেছে। যাই হোক মজনুকা টিলা পৌঁছে সেখান থেকে হেটে গেলাম তানিস্ক হলিডেস ট্রাভেলস । চাইলে অটো করে যাওয়া জায় ভাড়া পার হেড ১০ রুপী।এ ঐখান থেকে মানালির জন্য সন্ধ্যা ৭.৩০ টার
বাসের একটা টিকিট নিলাম। টিকিটের দাম ৯০০-১০০০ রুপী একটু মুলামুলী করলে এর কমেও আসা যায়,কারণ আমি গিয়েছিলাম ৭৫০ রুপী দিয়ে কিন্তু আসার সময় তা পারা একটু কস্টের। দিল্লীতে কিছুক্ষণ ঘুরাঘুরি করে ৭ টার সময় হাজির হলাম বাসের সামনে। লাগেজে ব্যাগ রাখতে ২০ রুপী করে নিবে প্রতিটা ব্যাগের জন্য। বাস ছাড়লো ঠিক একজেক্ট সময়ে। যাত্রা পথে দুইবার বিরতি পরবে প্রথম বার হয়তো হারিয়ানা দ্বিতীয় বার চান্ডীগর আমার একজেন্ট মনে নেই । বাস ছাড়ার ঠিক ১৪ ঘণ্টা পর বাসের সবাইকে মানালি নামিয়ে দেয়। নেমে আমি থান্ডারড হয়ে গেছিলাম। এতো ঠাণ্ডা আগে কখনো পাই নাই। সেখান থেকে একটা টেক্সি নিয়ে চলে গেলাম মাল রোড ভাড়া ৫০ রুপী আবার চাইলে হেটেও যাওয়া যায়। সেখানে গিয়ে উঠলাম হোটেলে( হোটেল মানালি কমর্ফোট) আগেই বুক করা ছিল। ভাড়া ৬০০ রুপী ডবোল বেড। এক্সটা হিটার নিলে ৩০০ রুপী বেশী পে করতে হবে পার ডে। হোটেল থেকেই জানালা খুল্লেই দেখতে পাবেন বিশাল বরফের পাহার পাশেই একটি বাঙালি খাবারের হোটেল পাবেন ( শ্রী শান্তি নিকেতন)।সেই হোটেল এর অমলেট টা আমার কাছে ভালো লেগেছিল। এর পর থাকার হোটেল এর সাথে ১০০০ রুপী কন্টাক্ট করে টেক্সি করে বেড়িয়ে পরলাম স্নো পয়েন্ট এর উদ্দেশ্য করে তখন রাথাং পাস বন্ধ ছিল। যাবার পথে বরফে থাকার জন্য ড্রেস ভাড়া পাওয়া যায় ২৫০-৩০০ রুপীর ভিতরে। সেগুলে ভাড়ায় পরে চলেগেলাম বরফে অনেক ক্ষণ থাকলাম বরফের মাঝে হাল্কা স্নোফল হচ্ছিল সেখানে । সেখানে থেকে অনেক ক্ষণ সময় দিয়ে পুরোটা ঘুরে চলে গেলাম ওল্ড মানালি যাবার পথে ড্রেস গুলো ব্যাক করলাম। ওল্নাড মানালি গিয়ে টেক্সি ছেড়ে দিলাম। তখন ভাবলাম টেক্সি না নিয়ে হেটে আসলে আমাদের ১০০০ রুপী বেচে যেতো সামান্য এতটুকু রাস্তা তাই নাকি ১০০০ রুপী? অল্ড মানালির ব্রিজের নিচে নেমে ছবি তুলে সিরি বেয়ে চলে গেলাম পাহারের উপর হেটে হেটে চলে গেলাম হাদিম্বা টেম্পল সেখান থেকে আসে পাসের স্পট গুলো দেখলাম। পরের দিন কিছু সপিং করলাম আর আশে পাশে ঘুরা ঘুরি করলাম। সেখানে কাশ্মেরী ভালো শাল পাওয়া যায় যদি একটু সময় দিয়ে কেনা যায় আর রয়েছে অনেক সুন্দর সুন্দর শো-পিছ। দু দিন থেকে আবার দিল্লীর উদ্দেশ্য করে রউনা দিলাম টিকিট কাটলাম আগের বাসেই এটার কাউন্টার মানালির একেবারে মেন রাস্তায় মোড়ে গিয়ে ঠিক হাতের ডান পাশেই। ৪.৩০ এর বাস। আসার সময় আর তেমন কমাতে পারিনি ৮৫০ রুপীতে আসতে হয়েছে। বাস ছাড়লো ঠিক ৪.৩০ এ। বাস আমাদের কাশ্মিরী গেট নামিয়ে দিল ভোর ৬ টায়। সেখান থেকে আবার পাহারগঞ্জ। হোটেলে (হারে কৃস্ন) উঠলাম। বাজে একটা হোটেল।ঐখানে যে রুম ছারভেন্ট সে বলে -“হাম হিন্দুস্তানিকো ভাই মান্তেহে ওর বাকি ছাভিকো কাস্টমার মান্তাহে”। হোটেল ভাড়া ৭০০ রুপী কিন্তু আগে জানলে ৩০০ দিয়েও থাকতাম না। অনলাইন এ একরকম আর সামনা সামনি এক রকম। এর পর সেখানে হোটেল থেকে দিল্লী ঘোরার জন্য টেক্সি বুক করলাম ১৪০০ রুপী সন্ধ্যা ৬:৩০ পর্যন্ত। আগে জানলে নিজেরাই টেক্সি করে নিতাম। তাহলে আরো রুপী বাচাতে পারতাম। টেক্সি করে বেড়িয়ে পরলাম প্রথমে দিল্লী গেট আবার অনেকে বলে ইন্ডিয়ান গেট এর পর দিল্লী জামে মসজিদ সেখান থেকে জুম্মার নামাজ পরলাম
এতো মানুষ একসাথে নামাজ মনে হয় প্রথম পরলাম। এর পর চলে গেলাম দিল্লী লাল কেল্লা,এর পর লোটাস টেম্পল এবং সব শেষএ নিজাম উদ্দিন আউলিয়ার মাঝার। সেখান থেকে সোজা হোটেল এর পর রাতের খাবার খেয়ে আগ্রার জন্য হোটেলে থেকে বাস বুক করলাম এক একজনের সিট এর দাম পরলো ৭০০ রুপী। আগে জানলে বাসে না গিয়ে শেয়ার করে গারি দিয়ে যেতাম খরচ পরতো ১২০০ রুপী তাই প্রতারিত হতাম না। রাতে ঘুমিয়ে সকাল ৬ টার দিকে একজন হুন্ডা দিয়ে নিয়ে গেলো বাসের সামনে সেখানে বাসে উঠে প্রথমে নিয়ে গেলো আগ্রা লাল কেল্লা যেটা কিনা সম্রাট আকবর বানিয়েছিলেন তার শাসন আমলে । সেখান থেকে চলে গেলাম আগ্রা তাজমহল তাজমহল সেখান থেকে তাজমহল যাবার পথে অনেক দোকানে থামিয়েছিল যাদের সাথে ট্র্যাভেল কোম্পানি গুলোর চুক্তি থাকে কাস্টমার এনে দেবার জন্য। যাই হোক আমাদের শাহজাহান এর তাজমহ্ল ঘোরার সময় খুব কম পেলাম। সব জায়গার টিকিট যেমন আগ্রা আকবরের লাল কেল্লা এবং তাজমহল এর প্রবেশ টিকিট নিজেরাই কাটা ভালো বাস ওয়ালাদের কাছে দিলে তারা রুপী বেশী নেয় আর ভয় দেখায় এই হবে সেই হবে । অনেক চিটারি করে।যাই হোক তাদের নির্দিষ্ট সময়ে বাস ছেড়ে দেয় দিল্লী উদ্দেশ্য করে। বাস আমাদের আবার সেখান থেকে দিল্লী নামিয়ে দিয়ে যায়। পরের দিন ফ্লাইট কোলকাতার। দিল্লী থেকে টিকিট কেটেছিলাম। দিল্লী টু কোলকাতা প্রাইজ পরেছিল ৭৮০০ রুপী। সকালে অটো নিয়ে চলে গেলাম দিল্লী এয়ারপোর্ট। ভাড়া এসেছিল ৪০০ রুপী। কোলকাতায় পৌছে সেখান থেকে ৪০০ টাকা দিয়ে ভাড়া করলাম মারকুইস্ট স্ট্রিট । সেখানে অনেক খোজা খোজি করার পর একটা হোটেল( রাজ গেস্ট হাউজ) পেলাম .। হোটেল টা আসলেই অনেক সুন্দর কিন্তু বাহির থেকে তা মনে হয় না। সুন্দর ৩ তলা থেকে। রুম ভাড়া ১৪০০ রুপী। কোলকাতার হোটেল ভাড়া অনেক বেশী এবং খাওয়া দাওয়ার খরচো। পরের দিন সেখান থেকে চলে গেলাম ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল । টেক্সি ভাড়া ১০০ রুপী। গিয়ে টিকিট কাউন্টারে শুধু বলেছি দাদা দুটো টিকিট দিন সে আমার কাছ থেকে ২০ রুপী রেখে বাকী ৮০ রুপী ফেরত দিল ।টিকিট নিয়ে পাশের তাকিয়ে দেখলাম ২০ রুপী শুধু ইন্ডীয়ান দের জন্য আর নন ইন্ডীয়ান ২০০ রুপী। যাই হোক টিকিট নিয়ে সুন্দর মতো ঢুকে যাই ভিতরে । কিছুক্ষণ ঘুরা ঘুরি করে ছবি চুলে বিপরীত গেট দিয়ে বেড়িয়ে যাই। বেচে গেলো ১৮০ রুপী হা হা হা। আবার ১০০ রুপী দিয়ে চলে আসলাম নিউ মার্কেট সাখান থেকে কিছু কেনা কাটা করলাম এর পর বাসার জন্য কিছু কেনার জন্য একটা টেক্সি নিয়ে চলে গেলাম কলেজ স্ট্রীট সেখান সব বড় বড় কাপড়ের শো-রুম। সব ফিক্সড দোকান । কেও আপনাকে ঠকাতে পারবে না । মোহীনি মোহন, আদী ঢাকেশ্বরী আরোও অনেক । সেখান থেকে কেনা কাটা করে আবার চলে আসি হোটেল এ । দু দিন কোলকাতা থেকে পরের দিন শ্যামলী ডাইরেক্ট বাসে ঢাকার রউনা দিলাম ভাড়া পরেছিল ১৪০০ রুপী। আসার সময় ইন্ডিয়া আর বাংলাদেশী কাস্টমস কে কিছু দিতে হয়েছিল। এটাকে আমি চাঁদাবাজি ছাড়া অন্য কিছু বলবো না । ইউনিফরম পরে কিভাবে টাকার জন্য হাত পাতছে ইন্ডীয়া আর বাংলাদেশের পুলিশ ।টাকা না দিলে হয়রানী করছে।যাই হোক সব ঝামেলা শেষে এই পারে আবার ঠিক সেই বাসেই উঠে বসলাম। ফেরী পেতে আমাদের তেমন কোন সমস্যা হয় নাই। কিন্তু ফেরী পার হয়ে ড্রাইভার চোখে আর কিছু দেখে নি । চারিদিক কুয়াশায় ঢেকে গেছে হেড লাইট দিয়েও তেমন কোন কাজ করছে না । আল্লাহ আল্লাহ করে হর্ন বাজাতে বাজাতে বাজাতে এগুতে থাকে আর এই ফাকে আমিও কখন ঘুমিয়ে যাই বুঝতে পারি নি । চোখ খুলে দেখি অনেকেই নামছে আর বাস থামিয়ে রেখেছে আমি মনে করলাম হয়তো এসে পরেছে পরে জানতে পারি এটি কল্যাণপুর । সেখান থেকে বেশী সময় লাগে নি কমলাপুর আসতে। ঠিক রাত ৩ টার দিকে বাস আমাকে কোমলাপুর নামালো। সেখান থেকে আল্লাহর অশেষ রহমতে একটি রিকশা পেয়ে গেলাম । রিকশা ৫০ টাকা ভাড়া দিয়ে চলে আসলাম বাসার সামনে। বাসায় উঠতে উঠতে ৪ টার কাছা কাছি।

এর সাথেই শেষ হলো আমার ইন্ডিয়া মিশন তাও আবার একা বুকে অনেক সাহস নিয়ে।

Post Copied From:ftakhairul Alam Tomal‎>Travelers of Bangladesh (ToB)

20 Dec 2017

উদ্দেশ্য ছিল এবারের বিজয় দিবস পালন করব চন্দ্রনাথের চূড়ায়। যেই কথা সেই কাজ। ৬ জন মিলে প্ল্যান ফিক্সড করলাম। সাগর সৈকত আমাকে বেশি টানে তাই আমার উদ্দেশ্য পড়ন্ত বিকেলে বিচগুলো ঘুরে দেখা। গ্রুপে পাহাড় বা ঝর্ণা লাভার আছে তাই সব মিলিয়ে প্ল্যান।

#চন্দ্রনাথ পাহাড়
#গুলিয়াখালি বিচ
#সীতাকুণ্ড ইকো পার্ক
#সুপ্তধারা ও সহস্রাধারা ঝর্ণা
#বাশাবাড়িয়া বিচ
#নেভাল ভেন্যু
#পতেঙ্গা বিচ
#পারকি বিচ

সীতাকুণ্ড এবং চট্টগ্রাম শহরে ঘুরে দেখব। ১ রাত থাকা এবং দুই দিন ঘুরাঘুরির জন্য বাজেট ধরলাম ২০০০ টাকা। মোট ১২০০০ টাকা কালেক্ট করে যাত্রা শুরু করলাম ১৫ তারিখ রাতে।

ট্রেনে যাওয়ার ইচ্ছা ছিল কিন্তু আন্ত:নগর ট্রেন গুলো সীতাকুণ্ড স্টেশনে থামে না তাই শ্যামলী পরিবহনে ৪৮০ টাকায় টিকেট কেটে আব্দুল্লাহপুর থেকে উঠলাম। আর পরের দিন বিজয় দিবস হওয়াতে টিকেট আগের দিনই কেটে রাখলাম।
সীতাকুণ্ড পৌছালাম ভোর ৫.৪৫ এ। ওখান থেকে ফ্রেশ হয়ে নাস্তা করে পায়ে হেটেই রওনা দিলাম চন্দ্রনাথের উদ্দেশ্যে। ২ ঘন্টায় পাহাড়ে ওঠে স্বস্তির নি:শ্বাস ছাড়লাম। উঠতে আপনার যতটা কষ্ট হবে পাহাড়ের চূড়ায় বসে ৫ মিনিটের মধ্যেই আপনার মনে প্রশান্তি ফিরে আসবে।
১০ টার মধ্যে চন্দ্রনাথ পাহাড় দেখা শেষ করে গুলিয়াখালির দিকে রওনা দিলাম। ইকো পার্ক কাছে হত, খরচও কম হত কিন্তু সবাই টায়ার্ড থাকায় বিচ ঘুরে আসলাম আগে।
গুলিয়াখালি বিচ নিয়ে এর আগেও পোস্ট হইছে। সত্যিই অসাধারণ। গোসল করার জন্য আদর্শ জায়গা না তবুও আমারা নেমে ছিলাম।

১২ টায় গুলিয়াখালি ত্যাগ করে ইকো পার্ক ঢুকলাম। গেইট থেকে সুপ্তধারা হেটেই গেলাম। দূরত্ব:১.১ কিমি।
সিএনজি দিয়েও কিছুদূর গিয়ে আবার পাহাড়ের পাদদেশে নামতে হবে। পানি কম ছিল ঝর্ণায় কিন্তু একেবারে ছিল না এরকম না।
সহস্রাধারায় নাকি আরো পানি কম এবং একটু দূর হওয়ায় যাওয়া হয়নি।

ইকো পার্ক থেকে বের হয়ে বাশবাড়িয়ার বিচে পৌছালাম বিকাল ৪ টায়। বিচে বসে সুর্যাস্ত দেখার মত অতুলনীয় সৌন্দর্য আমার কাছে আর কোথাও নেই।
বিজয় দিবস হওয়ায় এখানে এসে বেশ ভোগান্তিতে পড়তে হয়। সরু রাস্তায় প্রাইভেট কারের ঢল নামে আর তাই প্রচুর হাটতে হয়েছে।

প্রথম দিন শেষ। রাতে ফিরলাম চিটাগাং রেইলওয়ে স্টেশন এ। ভাবলাম ফিরতি টিকেট কেটে হোটেল চেক ইন দিব কিন্তু টিকেট পেলাম না। বের হয়ে সৌদিয়া বাসের টিকেট কাটলাম। হোটেল এ দুই রুম নিলাম। ভাড়া ১০০০ টাকা টোটাল। যথেষ্ট আরামদায়ক ছিল রুমগুলা।

২য় দিন
হোটেল লিভ করে ১০ টার দিকে নেভাল ভেন্যু। দেখার মত কিছুই নাই ভর দুপুরে। এরপর পতেঙ্গা বিচ। জোয়ার ছিল যখন আমরা গেলাম। ওখানে লাঞ্চ সেরে পারকির চর।

পারকি নিয়ে দুইটা কথা না বললেই নয়। আন্ডার রেটেড বিচ বলা যায়। বিচের সকল সৌন্দর্যই এটাতে আছে শুধু উত্তাল ঢেঊ ছাড়া।
ওখান থেকেই সুর্যাস্ত দেখে ফেরার পথে পায়ে হেটে কর্ণফুলী ব্রিজ পার হয়ে ছিলাম। রাতের আলোতে ব্রিজ অসম্ভব সুন্দর লাগছিল।
ফিরতি বাস রাত ১০.১০ এ। রেইলওয়ে স্টেশন থেকে।

এবার আসি খরচে। ৬০০০ টাকা আসা যাওয়া বাস ভাড়া ৬ জনের। ১০০০ টাকা হোটেল ভাড়া।
বাকি থাকল ৫০০০ টাকা। এর মধ্য দুই দিনের সকল খাওয়া দাওয়া, সিএনজি, লেগুনা,মিনি বাস ভাড়া, পার্ক এন্ট্রি ফি। উল্লেখ্য আমরা রাতের খাবার একটু হালকা খেয়ে ছিলাম।
সময় টাকে সুন্দর ডিস্ট্রিবিউট করে যে কেউ ঘুরে আসতে পারেন এভাবে। ইন্টারনাল ভাড়া গুলা লিখলাম না। কারো জানার ইচ্ছা থাকলে জিজ্ঞেস কর‍তে পারেন।

Post Copied From:

19 Dec 2017

হিমালয়ের ব্যাকগ্রাউন্ডে অনিন্দ্য সুন্দর নেপালের রুপ। তুষারশুভ্র বরফ আচ্ছাদিত পর্বতমালা, গভীর নীল হ্রদ, খরস্রোতা পাহাড়ি নদী আর সবুজের মায়ায় ঘিরে থাকা অদ্ভুত সুন্দর এ দেশটি।

নেপালের সবচেয়ে আকর্ষণীয় নগরী পোখারা, যা রাজধানী কাঠমান্ডু থেকে ২০০ কিমি. দূরে অবস্থিত। পোখারায় যখন পৌছালাম তখন প্রায় মধ্যরাত। ভোর হতেই আমরা গেলাম শ্বেতী নদী দেখতে, শ্বেতী নাম কারন পানি দুধের মত সাদা। এরপর মাহেন্দ্র কেভ এবং ব্যাট কেভ দেখতে গেলাম। স্যাঁতসেঁতে গুহা, স্ট্যালাগাইট বেয়ে চুইয়ে চুইয়ে পানি পড়ছে। তারপর ফিউয়া লেকে ঘন্টায় ৩০০ রুপি দিয়ে নৌকা ভ্রমণ। লেকটি অসম্ভব সুন্দর যেনো শিল্পীর তুলিতে আঁকা ছবির মতো। রাস্তার ধারের দোকানগুলোয় পশমিনার বিশাল কালেকশন। কিছু কেনাকাটা শেষে হোটেলে ফিরলাম।

পরদিন ভোর ৪ টায় রওনা দিলাম সারাংকোটের উদ্দেশ্যে অন্নপূর্ণা চূড়ায় সুর্যোদয় দেখার জন্য। চারদিকে তখন ঘুটঘুটে অন্ধকার, তাপমাত্রা প্রায় ৪ ডিগ্রী সেলসিয়াস। কনকনে ঠান্ডায় আমরা ঠকঠক করে কাঁপছি। ফেরিওয়ালার কাছ থেকে কফি খেয়ে প্রথমে ভিউ পয়েন্টে গেলাম। সুর্যোদয়ের সময় সোনালি আলো তুষারশুভ্র পর্বত চূড়ায় পড়ে যে মায়াচ্ছন্ন দৃশ্য তৈরি করে তা সেলুলয়েডের পর্দায় ধারন করা প্রায় অসম্ভব। অপূর্ব সেই দৃশ্য মোহগ্রস্ত করে রাখলো সবাই কে। নেপালের একটি বিখ্যাত মজার খাবার ‘মোমো’। হাড়কাঁপানো ঠান্ডায় চুলা থেকে নামানো ধোঁয়া ওঠা গরম গরম মোমো কাঁচামরিচ আর পুদিনার সংমিশ্রণে তৈরি ভীষন ঝাল চাটনি দিয়ে খাওয়ার স্বাদ অতুলনীয়।

এরপর আমরা গেলাম ডেভিস ফলসে।ফলসের পানি বেশ স্বচ্ছ আর গভীর খাদ। রাতে সবাই মিলে বারবিকিউ করা হলো। খোলা আকাশের নিচে কনকনে ঠান্ডা, মেঘেদের ছোটাছুটি, গিটারের টুংটাং আওয়াজ, আর বারবিকিউ…….. অপূর্ব। জীবন সত্যি ই সুন্দর।

পাহাড়ি আঁকাবাঁকা রাস্তা, নিচে খরস্রোতা নদী, পাশে ঘন সবুজ পেছনে ফেলে কাঠমান্ডুর উদ্দেশ্যে যাত্রা। সেখানে দুই দিন কাটিয়ে দেশে ফেরা। হিমালয় কন্যা নেপালের স্মৃতি আজ ও অমলিন। মনে হয় বারবার সেখানে ছুটে যাই।

Post Copied From:Shamsun Nahar Lepe‎>Travelers of Bangladesh (ToB)