You can add html or text here

Archives

খবর (News)

11 Dec 2018

বিশ্বের সবচাইতে বড় সমুদ্রসৈকত এটি। সড়কপথে ঢাকা থেকে প্রায় সাড়ে চারশ কিলোমিটার এবং চট্টগ্রাম থেকে প্রায় দেড়শ কিলোমিটার দূরে রয়েছে নয়নাভিরাম এ সমুদ্র সৈকত। এখানকার সমুদ্রের পানিতে বড় বড় ঢেউয়ের মাঝে গোসল, সূর্যাস্তের মনোহারা দৃশ্য সকল পযটকের মূল আকর্ষণ। কক্সবাজার সৈকত ভ্রমণের শুরুটা হতে পারে লাবনী পয়েন্ট থেকে। সকাল বেলা বের হলে এ সৌন্দর্যের সাথে বাড়তি পাওনা হবে নানান বয়সী জেলেদের মাছ ধরার দৃশ্য। শুধু সমুদ্র সৈকতই নয়, কক্সবাজার শহরের বৌদ্ধ মন্দির, বার্মিজ মার্কেট, হিলটপ রেস্টহাউস ইত্যাদি কক্সবাজার ভ্রমণের অন্যতম দ্রষ্টব্য স্থান। কক্সবাজারে থাকার জন্য এখন অনেক আধুনিক হোটেল মোটেল রয়েছে। ৪ স্টার হোটেল থেকে শুরু করে কম দামি বিভিন্ন মোটেলও রয়েছে। ২০,০০০টাকার হোটেল যেমন রয়েছে, তেমনি একটু পিছন দিকে মাত্র ৫০০টাকার হোটেলে থাকার ব্যবস্থা রয়েছে।
সৈকতের মেরিনড্রাইভ একটি অসাধারণ রাস্তা। এই রাস্তা ধরে যত দূরে যাবেন পুরো জায়গাই আপনাকে মুগ্ধ করবে। একপাশে পাহাড় আর একপাশে সমুদ্র দেখে হবেন বিমোহিত।

হিমছড়িঃ

কক্সবাজার-Cox’s Bazar

কক্সবাজার শহর থেকে মাত্র ১২ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই হিমছড়ি। কক্সবাজার থেকে সেখানে ৩ ভাবে যাওয়া যায়। খোলা জীপ, রিকশা কিংবা ব্যাটারী চালিত রিকশাতে করে সেখানে যাওয়া যাবে। খোলা জীপে গেলে জনপ্রতি ভাড়া ৫০-৭০ টাকা পড়বে। রিজার্ভ নিলে এটি পড়বে ১২০০ -১৫০০টাকা।রিকশা করে যেতে হলে ভাড়া লাগবে ১৫০-২৫০ টাকা। আর ব্যাটারি চালিত রিকশায় গেলে আসা যাওয়ার ভাড়া পড়বে ৪০০-৬০০টাকা। এখানে যাওয়ার পথে উপভোগ করতে পারবেন সৈকত লাগোয়া আকাশ ছোঁয়া পাহাড় । হিমছড়ি রয়েছে পাহাড়ের হিম শীতল ঝরণা।

ইনানী সমুদ্র সৈকতঃ

কক্সবাজার থেকে হিমছড়ি পাড় হয়ে আরও ৮কি.মি পূবে রয়েছে আরেক আকর্ষণ সৈকত ইনানী, যাকে বলা হয়, মিনি সেন্টমার্টিন। এখানে রয়েছে বিস্তীর্ণ পাথুরে সৈকত। সমুদ্র থেকে ভেসে এসে এখানকার ভেলাভূমিতে জমা হয়েছে প্রচুর প্রবাল। কক্সবাজার থেকে এখানে পৌছতে রিজার্ভ জীপ নিলে লাগবে ১৮০০-২৫০০ টাকা। ব্যাটারি চালিত রিকশা নিয়েও সারাদিনের জন্য ঘুরলে ভাড়া পড়বে ৮০০-১০০০টাকা।

মহেশখালী দ্বীপঃ

বাংলাদেশের একমাত্র পাহাড়ি দ্বীপ মহেশখালী। এখানে দেখার মূল আকর্ষণ বিখ্যাত আদিনাথ মন্দির । এছাড়াও এখানে রয়েছে খুবই মনোরম একটি বৌদ্ধ মন্দির। আঁকাবাঁকা সিঁড়ি ভেঙ্গে আদিনাথ পাহাড়ের চূড়ায় উঠলেই পাওয়া যাবে বিখ্যাত আদিনাথ মন্দির। এ দ্বীপের দক্ষিণে রয়েছে বিস্তীর্ণ সাগর আর পশ্চিমে বিশাল বিশাল পাহাড়। এখানে থাকার ব্যবস্থা নাই। কক্সবাজার থেকে সকালে গিয়ে এ দ্বীপটি ভালো করে দেখে আবার বিকেলের মধ্যেই ফেরা সম্ভব। কক্সবাজার ট্রলার ঘাট থেকে মহেশখালী যেতে পারেন স্পিড বোটে, সময় লাগবে মাত্র ১৫ মিনিট, সেক্ষেত্রে ভাড়া পড়বে ১৫০ টাকা অথবা ইঞ্জিন বোটে, যেতে লাগবে ১ ঘন্টা, এ ক্ষেত্রে ভাড়া লাগবে ৩০টাকা।

সোনাদিয়া দ্বীপঃ

কক্সবাজারে আরেকটি আকর্ষণীয় দ্বীপের নাম সোনাদিয়া। শীতে প্রচুর অতিথি পাখির দেখা মেলে এখানে। প্রায় ৪৬৩ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের এ দ্বীপটিতে কক্সবাজার থেকে ইঞ্জিন বোটে গিয়ে আবার সন্ধ্যার আগেই ফিরে আসা সম্ভব।

কুতুবদিয়াঃ

কক্সবাজার জেলার আরেকটি দর্শনীয় স্থান কুতুবদিয়া দ্বীপ, যার আয়তন প্রায় ২১৬ বর্গ কিলোমিটার। এ দ্বীপের দর্শনীয় স্থান হলো বিখ্যাত প্রাচীন বাতিঘর, কালারমা মসজিদ এবং কুতুব আউলিয়ার মাজার। কক্সবাজারের কস্তুরী ঘাট থেকে কুতুবদিয়া স্পিডবোটে মাত্র ৪৫ মিনিটে যাওয়া যায়, যার ভাড়া ১৫০-২০০টাকা কিংবা খরচ বাচাতে যেতে পারেন ইঞ্জিন বোটে। এক্ষেত্রে সময় লাগে ২ ঘন্টার মতো আর ভাড়া ৫০-৭০ টাকা।

টেকনাফঃ

বাংলাদেশের সর্বদক্ষিণের ভূমি টেকনাফ, কক্সবাজার থেকে যার দূরত্ব প্রায় ৮৫ কি.মি.। টেকনাফ হচ্ছে পাহাড়, নদী আর সমুদ্রের অনণ্য এক মিলনস্থল। চারিদিকে পাহাড় তার পাশদিয়ে বয়ে যাওয়া নাফ নদী। যেকারও ভাল লাগতে বাধ্য। এখানকার সৈকতকে বলা হয়, বাংলাদেশের সবচেয়ে পরিচ্ছন্ন সৈকত। এখানকার দর্শণীয় স্থানের মধ্যে রয়েছে, ঐতিহাসিক মাথিনের কূপ,শাহ পরীর দ্বীপ, কুদুম গুহা, টেকনাফ নেচার পার্ক । কক্সবাজার থেকে বাসে করে টেকনাফে যেতে ভাড়া লাগে ৮০-১২০টাকা অথবা মাইক্রোবাসে করে যেতে ভাড়া লাগে ১০০-১৫০ টাকা।

সেন্টমার্টিন দ্বীপঃ

সেন্ট মার্টিন দ্বীপ বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরের উত্তর-পূর্বাংশে অবস্থিত একটি প্রবাল দ্বীপ। এটি কক্সবাজার জেলার টেকনাফ থেকে প্রায় ৯ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং মিয়ানমারের উপকূল হতে ৮ কিলোমিটার পশ্চিমে নাফ নদীর মোহনায় অবস্থিত। প্রচুর নারিকেল পাওয়া যায়। বলে স্থানীয়ভাবে একে নারিকেল জিঞ্জিরাও বলা হয়ে থাকে। এ দ্বীপের আয়তন প্রায় ৮ বর্গকিলোমিটার। দ্বীপে প্রায় ৬৬ প্রজাতির প্রবাল ১৮৭ প্রজাতির শামুক-ঝিনুক, ১৫৩ প্রজাতির সামুদ্রিক শৈবাল, ১৫৭ প্রজাতির গুপ্তজীবী উদ্ভিদ ২৪০ প্রজাতির সামুদ্রিক মাছ, চার প্রজাতির উভচর ও ১২০ প্রজাতির পাখি পাওয়া যায়। মাছের মধ্যে রয়েছে পরী মাছ, প্রজাপতি মাছ, বোল কোরাল, রাঙ্গা কই, সুঁই মাছ, লাল মাছ, উড়ক্কু মাছ ইত্যাদি। কোনো কোনো পর্যটক ধারণা করেন,সেন্ট মার্টিন বিশ্বের সেরা দ্বীপের একটি। টেকনাফ থেকে জাহাজে করে ২.৫০ ঘন্টা ভ্রমন করে যেতে হয় সেন্টমার্টিনে। জাহাজের আসা-যাওয়ার ভাড়া পড়বে ৯০০-১৫০০টাকা। সেন্টমার্টিনে হোটেল ভাড়া পড়বে ৫০০ – ২০০০টাকা। এখানে গেলে রাত্রিযাপন না করলে আসল মজা পাওয়া যাবেনা। এখানে গিয়ে পযটকরা প্রচুর মাছ এবং ডাব খেয়ে থাকে।

কক্সবাজারে থাকার ব্যবস্থাঃ

বর্তমানে কক্সবাজারে থাকার জন্য ফাইভস্টার ক্যাটাগরির অনেক হোটেল হয়েছে। ফোরস্টার ও থ্রিস্টার বা সমমানের হোটেল ও রিসোর্টের সংখ্যাও কম নয়। সৈকতের নিকটের বেশিরভাগ হোটেলই ভাল মানের। হোটেল ও রিসোর্ট কলাতলী ও লাবনী পয়েন্টে অবস্থিত। ইনানির নিকটবর্তী এলাকাতেও থাকার জন্য বেশকিছু হোটেল গড়ে উঠেছে। এ ছাড়া এর বাইরে আছে ইকো রিসোর্ট। মৌসুম ভেদে অর্থাৎ পিক ও অফ-পিক অনুযায়ি রুমের ভাড়ার মধ্যে তারতম্য হয়। বছরের সেপ্টেম্বর থেকে এপ্রিল পিক এবং মে থেকে আগস্ট অফ-পিক টাইম হিসাবে গণ্য হয়ে থাকে। অফ-পিক টাইমে হোটেল ও ক্লাস ভেদে রুম ভাড়া ২৫-৫০% পর্যন্ত ডিসকাউন্ট পাওয়া যায়। সৈকত থেকে একটু দূরত্বে সাধারণ মানের অনেক হোটেল রয়েছে।

সীগাল হোটেল লিমিটেড (০১৭৬৬৬৬৬৫৩০, ০৩৪১-৬২৪৮০-৯০),

হোটেল দ্য কক্স টুডে (০১৭৫৫৫৯৮৪৫০, ০৩৪১-৫২৪১০-২২),

হোয়াইট অর্কিড (০১৮২৫৯২৩৯৮৯),

হোটেল সী ওয়ার্ল্ড (০৩৪১-৫২২২৬, ০৩৪১-৫১৬২৫),

সায়মন বিচ রিসোর্ট ( ০৩৪১-৫১৩৫০, ০১৭৫৫৬৯১৯১৭),

ওশান প্যারাডাইস হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট (০১৯৩৮৮৪৬৭৬৩-৭, ০৩৪১-৫২৩৭০-৯),

লং বিচ হোটেল (০১৭৫৫৬৬০০৫১, ০৩৪১-৫১৮৪৩-৬),

হোটেল সী ক্রাউন (০১৮১৭০৮৯৪২০, ০৩৪১-৬৪৭৯৫),

এ্যালবাট্রস রিসোর্ট (০১৮১৮৫৪০১৭৭, ০১৮১৬০৩৩৪৪৫, ০১৮১৮৫৯৬১৭৩, ০৩৪১-৬৪৬৮৪),

হোটেল রয়াল রিগ্যাল পেলেস (০১৯৭৭৯৩৬৬২৩),

হোটেল প্রাইম পার্ক (০১৭৭৫৬০৯৯১৫, ০১৮৪২৬০৯৯১৫, ০৩৪১-৬২৩১১),

হোটেল ইউনি রিসোর্ট (০১৭১৩১৬০১৬৭),

হোটেল মিডিয়া ইন্টারন্যাশনাল (০১৭১১৩৪১১৬৪)।

পর্যটনের রয়েছে হোটেল শৈবাল (০৩৪১-৬৩২৭৪),

মোটেল প্রবাল (০৩৪১-৬৩২১১),

হোটেল লাবনী (০১৯১৩৯৩২০৮২)।

ইনানির আশেপাশের উল্লেখযোগ্য হল,

লা বেলা রিসোর্ট (০১৮২৫৯২৩৯৮৯)।

রয়াল টিউলিপ সী পার্ল বিচ রিসোর্ট (৮০০৩৫৮০৮৪৬, ০৩৪১-৫২৬৬৬-৮০),

ইনানি রয়াল রিসোর্ট (০১৭৭৭৭৯০১৭০)।

আর ইকো রিসোর্ট এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য- মারমেইড ইকো রিসোর্ট (প্যাচার দ্বীপ, ০১৮৪১৪৬৪৬৪-৯,) সাম্পান ইকো রিসোর্ট (০১৯৭৪৭২৬৭২৬)।

এখানে এক রাত্রি যাপনের জন্য রয়েছে এক হাজার থেকে সর্বোচ্চ ৬০ হাজার টাকা দামের কক্ষ।

যারা থাকার জন্য এত খরচ করতে চাচ্ছেননা, তাদের জন্য কমমূল্যে থাকার হোটেলও রয়েছে। হোটের সীগালের পিছনে রোডে অর্থাৎ কলাতলি রোডের হোটেলগুলোতে মাত্র ৫০০ টাকাতেও থাকা যায়।

কক্সবাজারে যাতায়াত সম্পর্কিত তথ্য:

আমরা যারা ঢাকা থেকে কক্সবাজার যাওয়ার পরিকল্পনা করব তাদের জন্য বাসের পাশাপাশি রয়েছে বিমানের সুবিধা। তা ছাড়া ট্রেনে করে চট্টগ্রাম গিয়ে সেখান থেকে বাসে করে কক্সবাজার যাওয়া যায়। ঢাকা থেকে কক্সবাজার বাসে যেতে সময় লাগে প্রায় দশ থেকে বার ঘণ্টা, বিমানে ৫০ মিনিট। এসি/ননএসি দুই ধরনের বাস আছে। বাস ভেদে এসি/ননএসি ভাড়া ৮০০-১৫০০ টাকা। ঢাকা থেকে প্রতিদিনই অনেক বাস পাওয়া যায়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, সেন্টমার্টিন পরিবহন (০১৭১১৩২১১৪৩, ০১৭১১৬৬৬১০৯),

গ্রীন লাইন পরিবহন (০১৭৩০০৬০০০৪, ০১৭৩০০৬০০৭১),

সোহাগ পরিবহন (০২-৯৩১১১৭৭),

শ্যামলী (০২-৯০০৩৩১, ০২-৮০৩৪২৭৫, ০১৭১৬-৯৪২১৫৪),

এস আলম (০১৮১৩-৩২৯৩৯৪, ০২-৯৩৩১৮৬৮),

হানিফ (০১৭১৩৪০২৬৭১, ০১৭১৩৪০২৬৭০),

সৌদিয়া (০১৯১৯৬৫৪৯৩৫, ০১৯১৯৬৫৪৮৫৮),

টিআর ট্রাভেলস (০১৯১১৮৬৩৬৭৩, ০১৯১০-৭৬০০০৪।

ঢকা কমলাপুর থেকে চিটাগাং মেইল, তুর্ণানিশিথা, সুবর্ণ এক্সপ্রেস, মহানগর গোধূলীসহ একাধিক ট্রেন চট্টগ্রামের উদ্দেশে ছেড়ে যায়।

বিমান সংস্থাগুলোর যোগাযোগ হলো বাংলাদেশ বিমান (০২-৮৯০১৬০০, ০২-৮৯০১৭৩০-৪৪),

নভোএয়ার (১৩৬০৩, ০২-৯৮৭১৮৯১-২, ০১৭৫৫৬৫৬৬৬০-১),

ইউএস বাংলা (০১৭৭৭৭৭৭৭৮৮, ০১৭৭৭৭৭৭৮৯৯, ০১৭৭৭৭৭৭৯০০),

রিজেন্ট এয়ার ওয়েজ (০২-৮৯৫৩০০৩),

ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ (০৯৬০৬৪৪৫৫৬৬, এক্সট-৫৪২-৪৮, ০২-৮৯৩২৩৩৮, ০২-৮৯৩১৭১২)।

ক্লাস ভেদে ঢাক-কক্সবাজার-ঢাক রিটার্ন টিকিট দশ থেকে সাড়ে এগার হাজার টাকা তবে ইদানীং বিভিন্ন বিমান সংস্থার প্রায় সারা বছরই ডিসকাউন্ট অফার থেকে থাকে। সেক্ষেত্রে ভাড়া অনেক কম হয়ে থাকে।

খাওয়া-দাওয়া ঃ

আমরা জানি প্রতিটি হোটেলেই নিজস্ব রেস্টুরেন্ট থাকে, যেখানে বরাবরই খাবারের দাম তুলনামূলক বেশি। অধিকাংশ হোটেলে সকালের নাস্তা রুমের ভাড়ার সাথে যুক্ত অর্থাৎ কমপ্লিমেন্টারি হিসেবে থাকে। সেক্ষেত্রে লাঞ্চ ও ডিনার বাইরে কোথাও করতে চাইলে কোনো চিন্তা নেই কারণ এখানে রয়েছে পর্যাপ্ত সংখ্যক রেস্টুরেন্টে। কলাতলী রোডে অবস্থিত রেস্টরেন্টের সংখ্যা বেশি। ঝাউবন, লাইভ ফিস, কয়লা, পৌশী, স্টোন ফরেস্ট, তারাঙ্গা, কাঁশবন, পানকৌড়ী, নিরিবিলি অর্কিড ক্লাব অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট, মারমেইড ক্যাফে এবং ডিভাইন সি স্টোন ক্যাফে অন্যতম। উল্লেখিত খাবার জায়গাগুলিতে ভাতের সাথে বিভিন্ন সামুদ্রিক মাছ, মাংস, ভর্তা-ভাজি, শুটকি মাছ থেকে শুরু করে সব ধরনের খাবার পাওয়া যায়। খাবার অর্ডার দেওয়ার আগে দাম জেনে নেওয়া জরুরি। খাবার পাশাপাশি সমুদ্রের সৌন্দর্য ও বিকেলের সূর্যাস্ত উপভোগ করতে কলাতলী বিচে সমুদ্রের একেবারে সাথে বেশকিছু রেস্তোরাঁ আছে।

বিশেষ দ্রষ্টব্য ঃ

=প্রথমত কক্সবাজার যাওয়ার আগে আবহাওয়ার পূর্বাভাস জেনে যাওয়া।

=দ্বিতীয়ত, প্রতি বছর সমুদ্রের পানিতে গোসল করতে গিয়ে প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে। এসব ঘটে মূলত সতর্কতা ও সচেতনতার অভাবে।

=লাবনী পয়েন্ট থেকে কলাতলী সৈকত পর্যন্ত বেশকিছু গুপ্ত খাল রয়েছে। অসাবধানতার কারণে বেশীর ভাগ পর্যটক ভাটার সময় নেমে এই খালে পরে প্রাণ হারায়।

=সুতরাং, ভাটার সময় সৈকতে গোসল করা থেকে বিরত থাকা উচিৎ। সেক্ষেত্রে নিরাপত্তা চৌকির সংকেত অনুসরণ করে সৈকতে গোসলে নামলে বিপদ থেকে দূরে থাকা যায়। চৌকি থেকে ভাটা ও জোয়ারের সময় অনুযায়ি লাল ও সবুজ পতাকা উত্তোলন করা হয়। সবুজ পতাকার সময় গোসল করা নিরাপদ। প্রয়োজনে সাথে লাইফ জ্যাকেট রাখা যেতে পারে।

=প্রবাল সাধারণত ধারাল হয়ে থাকে। সুতরাং, ইনানি ও সেন্টমার্টিনের সৈকতে প্রবালের ওপর হাঁটার সময় সাবধানে হাটতে হবে। সৈকতের পরিবেশ পরিষ্কার রাখতে এবং জীববৈচিত্র্যকে নিরাপদ রাখার খাতিরে কোনো প্রকার আবর্জনা এবং অপচনশীল দ্রব্য যেমন, পলিথিন, প্লাস্টিকের বোতল ইত্যাদি ফেলা থেকে বিরত থাকা প্রত্যেকের দায়িত্ব।

10 Dec 2018

অক্টোবরে প্রশাসন নির্দেশ জারি করলো ১ লা মার্চ ২০১৯ থেকে রাত্রি যাপন বন্ধ হচ্ছে সেইন্টমারটিনে সাথে ছেরাদ্বীপ ভ্রমন সম্পুর্ন বন্ধ হবে।
দিনে গিয়ে দিনেই ফিরে আসতে হবে এই দ্বীপ থেকে।
এর পরে থেকেই শুরু হলো ঝড়েরবেগে এই দ্বীপে মানুষের ঢল।…
১০০০ টাকার হোটেল ৫০০০/৭০০০ টাকা,
শিপের টিকেট নিয়ে শুরু হলো কালোবাজারি।
১৫০ টাকার খাবের ৩২০ টাকা,
এর পরেও হোটেল/গাড়ীর সিট/শিপের টিকেট এভেইলেবল না,
কিন্তু কি হলো?

যেই লাউ সেই কদু…..
মন্ত্রণালয় থেকে আজ জানানো হলো এই দ্বীপ বন্ধ করলে অনেক ব্যাবসায়ী ক্ষতিগ্রস্ত হবে,তাই শিথিলতার সাথে আগের মতই সারাবছর থাকব এই দ্বীপে ভ্রমন করার সুযোগ।
সুত্র -ঃ এটি এন বাংলা

তাই যারা পাগলের মত ছুটাছুটি শুরু করেছিলেন তারা অফ যান।

Source:Rozen Rezaul‎>Travelers of Bangladesh (ToB) – ভ্রমন গাইড বাংলাদেশ

9 Dec 2018

মানুষের জীবনে বন্ধুত্ব একটি পরম পাওয়া। সে সব আমরা প্রতিনিয়তই উপলব্ধি করি। তবে যখন আপনি দেশের বাহিরে কিংবা অচেনা কোথাও ভ্রমণে যাবেন সেখানে বন্ধুহীন হয়ে পড়াটা স্বাভাবিক। তাছাড়া সবাই খুব সহজেই অন্যের সাথে মিশতেও পারে না। একা ভ্রমণে গেলে বিষয়টি আরো বেশি প্রকট হয়ে পড়ে। তাই বিদেশ ভ্রমণে গিয়ে কিভাবে সহজেই বন্ধুত্ব করবেন সে বিষয় নিয়েই আজকের আলোচনা-

ফ্রেন্ডস অফ ফ্রেন্ডস:

কোথাও ভ্রমণের পূর্বে বন্ধু বান্ধব কিংবা আত্মীয় স্বজনের সাথে বিষয়টা শেয়ার করুন এবং সেখানে তাদের কোন পরিচিত আছে কিনা জেনে নিন। তাহলে আপনার ওখানে গিয়ে নিঃসঙ্গতা কিংবা নিরাপত্তা হীনতায় ভুগতে হবে না কিংবা খুব সহজেই বন্ধু হতে পারেন।

ইভেন্টস:

আপনি যদি সঙ্গীত, শিল্প, সাহিত্য কিংবা চিত্রকলা পছন্দ করে থাকেন তাহলে আপনার জন্য বিদেশে বন্ধু বানানো খুবই সহজ। স্থানীয় ইভেন্টস সমূহ যেমন কনসার্ট, চিত্র প্রদর্শনী কিংবা ফেস্টিভাল সমূহে অংশগ্রহণ করুন। এইসব স্থানে আপনি সম মন মানুষিকতার ব্যক্তির সাথে পরিচিতি এবং বন্ধুত্ব করতে পারেন।

ডেটিং সাইট:

আমাদের দেশে না হলেও বিদেশে এই ধরণের ডেটিং সাইট গুলো খুবই জনপ্রিয়। যেখানে ঘুরতে যাবেন সেখানকার স্থানীয় জনপ্রিয় সাইট গুলো জেনে নিন এবং সহজেই বন্ধু বানিয়ে নিন। তবে এক্ষেত্রে কার সাথে বন্ধুত্ব করছেন সেটাও খেয়াল রাখবেন৷ কেনোনা এখানে নিরাপত্তার বিষয়টিও চলে আসে অবধারিতভাবে।

স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে যুক্ত হন:

বিভিন্ন সোশাল ভলান্টিয়ারিং প্রোগ্রামে যদি সম্ভব হয় জড়িয়ে পড়ুন। এটি আপনাকে স্থানীয় মানুষ এবং তাদের আচার আচরণ বুঝতে এবং বন্ধু বানাতে সহায়তা করবে।

একা ভ্রমণে বন্ধুত্ব গড়ে তুলবেন যেভাবে

ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানসমূহে যাতায়াত:

সর্বশেষ এবং সবচেয়ে কার্যকরী একটি মাধ্যম হলো ধর্মীয় উপাসনালয় সমূহ। চার্চ, মসজিদ, মন্দির কিংবা আপনার নিজের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান গুলোয় প্রার্থনা করতে যেতে পারেন। এটি আপনাকে খুব সহজেই বন্ধু বানাতে সহায়তা করবে৷

স্থানীয় ভাষা আয়ত্ত করতে চেষ্টা করুন:

ঘুরতে গেলে সেখানকার স্থানীয় ভাষা জানা থাকলে আপনার জন্য ভ্রমণে বন্ধু বানানো একদমই সহজ ব্যাপার। ভ্রমণের পূর্বে সব সময় স্থানীয় ভাষা সম্পর্কে জেনে নিন এবং যতটুকু সম্ভব তা আয়ত্ত করতে চেষ্টা করুন।

স্থানীয় কমিউনিটি গ্রুপে যুক্ত হন:

ভ্রমণে যাবার পূর্বে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে স্থানীয় কমিউনিটি গ্রুপ গুলো খুঁজে নিন। এইসব কমিউনিটি আপনাকে স্থানীয়দের সম্পর্কে যথেষ্ট তথ্য প্রদান করবে এবং আপনি অনেক বন্ধু খুঁজে পাবেন এখানে।

টুরিস্ট হোটেল গুলোয় অবস্থান করুন:

যেসব হোটেলে টুরিস্টদের আধিক্য বেশি সেই সব হোটেল গুলোয় অবস্থান করতে চেষ্টা করুন। এতে বিভিন্ন স্থান হতে আসা টুরিস্টদের সাথে বন্ধুত্ব করা এবং ভ্রমণ অভিজ্ঞতা শেয়ার করা অনেক সহজ হয়ে পড়ে।

4 Dec 2018

আমরা সবাই জানি বাংলাদেশ এর দার্জিলিং নামে পরিচিত সাজেক ভ্যালি। এর সৌন্দর্য অসধারন যার বর্ণনা আসলে লিখে পোস্ট এ সম্ভব না। কিছু ছবিতে হয়ত সামান্য বুঝা যাবে। আমরা অনেক সময় ঘুরার জন্য গ্রুপ খুজে পাই না বা নিজের মন খারাপ থাকা অবস্থায় ঘুরতে মন চাইলে পারি না ঘুরতে । আমাদের ধারনা, ট্যুর মানেই গ্রুপ। আসলে ব্যাপার টা এমন না। যদি আপনি নিজে ঘুরতে আনন্দ পান তাহলে নিজে নিজেই ঘুরে আসতে পারেন অনেক জায়গা। কিভাবে অনেক অল্প খরচে সাজেক ঘুরা যায় তা নিয়েই আজকের লিখা।

কোন রকম প্লান ছিলো না ঘুরতে যাওয়ার । হটাত মানশিক অবস্থার অবনতির কারনে ভাবলাম যাই একটু ঘুরে আসি। এটা ভাবা রাত ৮ টায় । ১৫ মিনিটে ঘুছিয়ে বেরিয়ে পরি একা। কারন অনেক ঘুরার অভিজ্ঞতায় জানি খরচ বেশি না করে কিভাবে ঘুরা যায়।

যারা সুধুমাত্র সাজেক ঘুরবেন অন্য কোথাও জাবেন না এবং যাদের বাজেট ২ হাজার টাকা তাদের জন্য আমার এই পোস্ট। তবে হ্যা মনে সাহস থাকলেই কেবল এই ট্যুর এর সিধান্ত নিবেন। বাকিটা বিস্তারিত পরলেই বুঝবেন।

আমি এর আগে ও ২ বার সাজেক,খাগড়াছরি গিয়েছি। যার ফলে আমার এই রোড সম্পর্কে ভালো ধারনা আগে থেকেই ছিল এবং আমার খাগড়াছড়ি ঘুরার কোন ইচ্ছে ছিলো না। সায়দাবাদ থেকে টিকেট নিলাম শান্তি পরিবহন এর ঢাকা টু বাঘাইহাট । বাঘাইহাট থেকে লোকাল জিপ এ করে সরাসরি সাজেক। মনের সাহস বলার কারন হচ্ছে বাঘাইহাট থেকে সাজেক লোকাল জিপে অনেক সময় ৪০/৫০ জন ও যাত্রী যাওয়া আসা করে থাকে। যেখানে আমরা সাধারন টুরিস্ট ৭-১৩ জন যেয়ে থাকি রাউন্ড ট্রিপ।অনেকে ৪০/৫০ জন লোক ভেবেই অজ্ঞান হয়ে যাবে কিন্তু আসলে লোকাল জিপ এর ড্রাইভাররা অনেক বেশি অভিজ্ঞ এই রোডে।কারন তাদের বছরের ৩৬৫ দিন এমন যাত্রী নিয়ে রেগুলার আশা যাওয়া করতে হয় এই রোডে। তবে হ্যা সব সময় যে এত যাত্রী হয় তা ঠিক না যেমন আমি আসার সময় মাত্র ১০/১২ জন নিয়ে পুরো রাস্তা এসেছে। বাঘাইহাট থেকে আরো সামনে মাচালং এর স্থানীয় হাট বৃহস্পতিবার এবং শুক্রবার এই ২ দিন এত বেশি লোক হয় ,যে সে গাড়ি দেখলেই অনেকে হয়ত ভয় পেয়ে যাবেন । আর একটু পর পর ই যাত্রী উঠবে/নামবে সেটা সজ্য করার ক্ষমতা নিয়েই আপনাকে এ যাত্রার সিধান্ত নিতে হবে তবে এর চিত্র ঢাকার তুরাগ থেকে ভালো 😛 । খুব কম সময় নিবে যাত্রী উঠাতে বা নামাতে। বাঘায়হাট থেকে সাজেক যেতে সাধারণত ২ ঘণ্টা সময় লাগে। সাজেক গিয়েই একটা গ্রুপ পেয়ে গেলাম শেয়ার করে থাকলাম ৭ জন ডাবল বেড এর ২ রুমে। রাতে নিজের মত করে পাহাড়ের চুড়ায় লক্ষ তারার অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করে ঘুমিয়ে পরলাম । ভোর ৫ টায় উঠে চলে গেলাম হ্যালিপেড এর আগের পাহাড়ে। সেখান থেকে ভালো ভিউ দেখা যায় । এই সিজনে মেঘ টা খুব ভালো দেখা যায়। কারন গত বছর আমরা এসেছিলাম কিন্তু মেঘ দেখতে পাই নি। আর যারা সলো ট্যুর দিবেন তাঁরা চেষ্টা করবেন টিওবি হেল্প থেকে থাকার ব্যাপারে আগে থেকে পোস্ট দিয়ে টিম ম্যানেজ করে নিতে । আর যদি অল্প টাকা বেশি খরচ করতে পারেন তাহলে টিম দরকার হবে না । সকাল টা কাটিয়ে আবার মনটানার সামনে থেকে লোকাল জিপে করে চলে আসুন বাঘাইহাট (লোকাল জিপ এর সময়সূচী নিচে দেয়া হলো) । শান্তি পরিবহনের শেস বাস ছেরে যায় বিকেল ৫ঃ২০ মিনিটে বাঘাইহাট থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে । এই বাস টি আসে সায়দাবাদ হয়ে রামপুরা হয়ে কুরিল হয়ে গাজীপুর ।

সলো ট্যুর এর খরচাপাতি ঃ
ঢাকা – বাঘাইহাট (খাগড়াছড়ি) ঃ ৬২০ টাকা (শান্তি পরিবহন নন এসি)
বাঘাইহাট (খাগড়াছড়ি)- ঢাকা ঃ ৬২০ টাকা (শান্তি পরিবহন নন এসি)
বাঘাইহাট- সাজেক ঃ ১১০ টাকা (লোকাল জিপ)
সাজেক-বাঘাইহাট ঃ ১১০ টাকা (লোকাল জিপ)
শেয়ারে থাকা ঃ ২০০ টাকা
বাকি ঃ ৩৪০ টাকা খাওয়া
মোট ঃ ২০০০ হাজার

বাঘাইহাট থেকে সাজেক/সাজেক থেকে বাঘাইহাট লোকাল জিপ এর সময়সূচী ঃ
সকাল ৮.৫০, ১১.৩০ দুপুর ১.৩০, ৩.৩০
প্রয়জনবোধে ড্রাইবার এর সাথে আসার সময় সুচি নিয়ে কথা বলে নিন।

জরুরী বার্তা ঃ
আমরা কোন ভাবেই যেখানে সেখানে ময়ালা ফেলে পরিবেশ নষ্ট করবো না পাহাড়ের। কংলাক পাড়ায় অনেক প্লাস্টিক দেখা যায় যা আসলেই দুঃখজনক । ময়লা ময়লার ঝুরিতে ফেলবো । দরকার হয় ময়লা এক সাথে জমিয়ে ময়লার ঝুরি খুজে বের করে ঝুরিতে ময়লা ফেলবো।

বিঃদ্রঃ এ ট্যুর দিয়ে অনুপ্রেরনা দেয়া হচ্ছে সবাইকে এমন না বিষয় টা। নিজের অভিজ্ঞিতা শেয়ার করা । ট্যুর দিবেন নিজের সিধান্তে । লেখায় বানান ভুল এই টাইপ কমেন্ট না করলে খুসি হবো। ভুল বানানটুকু আশাকরি বুঝে নিবেন।
Source:Robiul Islam Parvez>‎Travelers of Bangladesh (ToB)

26 Dec 2017

ট্রাভেল এজেন্সি নিয়ে আমার কিছু মিশ্র অভিজ্ঞতা হল এই ট্যুর এ।
আমি প্রথমে ঢাকায় একটা ট্রাভেল এজেন্সির সাথে কথা বলি প্রথমে। সেখানে প্যাকেজ এর দাম বলা হয় ৮৫০০ টাকা পার পারসন। আমরা ছিলাম ৩ জন। মা, বাবা আর আমি। আমাদের কে প্রথমে বলা হয় ডিসকোভার লঞ্চে ৪ জন এর রুম দেয়া হবে এটাচড বাথ সহ। এখানেই কথা শেষ, পেমেন্টও ক্লিয়ার করে দেয়া হয়। এখান থেকে আমাদেরকে খুলনার একজনের নাম আর ফোন নাম্বার দেয়া হয়। বলা হয় খুলনায় গেলে উনিই সব ম্যানেজ করে দিবে।

খুলনায় পৌঁছে আমরা ওই লোকের সাথে যোগাযোগ করি। উনি বলেন আমাদেরকে ডিসকোভার লঞ্চে না দিয়ে বনবিলাস লঞ্চে দেয়া হয়েছে ৩ জনের রুমে। কারন হিসেবে বলা হয় ডিসকোভারে ব্যাচেলর বেশি আর বনবিলাসে ফ্যামিলি। আর আমরা যেহেতু ফ্যামিলি, তাই আমাদেরকে বনবিলাসে দেয়া হয়। ভালো, আমরা আর কোন আপত্তি জানাই নি। আমরা তখন রুম সম্পর্কে জানতে চাইলে বলা হয় একটা কাপল বেড, মাঝে স্পেস তারপর একটা সিঙ্গেল বেড। তবে এটাচড বাথ নেই, কমন বাথ ব্যাবহার করতে হবে, এবার আমরা আপত্তি জানাই, তারা বলে যে ডিসকোভার লঞ্চে বেড ট্রেন এর কেবিন এর মত বাথ সিস্টেম এর। কিন্তু বনবিলাসে হোটেল এর মত। ট্রেন এর মত উপর নিচে না। তাই আমাদের একটু কনসিডার করতে হবে। আমরা এটাও কনসিডার করলাম ( আসলে আমার বাবা আর কোন ঝামেলায় যেতে চান নাই, তাই আমিও আর কিছু বলি নাই)।

লঞ্চে উঠার পর আরেক কাহিনী। গিয়ে দেখি ওই লঞ্চে আমাদেরকে যে ধরনের রুমের কথা এতক্ষন বলা হল এমন কোন রুম এর অস্তিত্বই নাই। রুমগুলো সেই ট্রেন এর কেবিন এর মত বাথ সিস্টেম এরই। তার উপর রুমটা প্রচণ্ড ন্যারো। এবার তো মেজাজ আরও খারাপ। এবার লঞ্চ এর ক্যাপ্টেন আর লঞ্চ মালিক এসে আমাদের ভুগিচুগি বুঝ দিতে লাগলেন, আমরা নাকি বুঝতে ভুল করেছি, আমরা যে লোকের সাথে কথা বলেছি তার নাকি শর্ট টাইম মেমরি লস হয়, সে নাকি ভুল বলেছে, এটাচড বাথ সহ রুম এর মূল্য নাকি ১২০০০ টাকা, তাদের অন্য সব রুম নাকি বিক্রি হয়ে গেছে, আমরা অন্য আরেকটা রুম চাইলে বলা হয় ৩ জনের আর কোন রুম নাই, সব ২ জনের, এরপর আমরা ২ জনের একটা রুম চাইলে বলা হয় আমরা নাকি লাখ টাকা দিলেও তারা রুম দিতে পারবে না, তারা নাকি এক কথার মানুষ, যাকে যে রুম এর কথা বলে তাই নাকি দেয়া হয়, তাই অন্য রুম দেয়া যাবে না। এরকম আরও অনেক কিছু। মেজাজ তো এই সময় যে কারোরই খারাপ হবার কথা। এর মধ্যে আবার লঞ্চ মালিক লঞ্চ থেকে চলে যায়, আমরা কিছু বললে লঞ্চের ক্যাপ্টেন বলে লঞ্চ মালিক জানে সব। এবভাবেই আমাদের সব কথা এড়িয়ে যাওয়া হয়।

এরপর আমাদের লঞ্চের গাইড যিনি উনি আসেন, উনিই একমাত্র ভদ্র অথরিটি ততক্ষন পর্যন্ত। উনি এসে আমাদের কাছে আন্তরিকভাবে ক্ষমা চান। আর আশ্বস্ত করেন যে উনাদের সার্ভিসে আমরা অসন্তুষ্ট হব না। উনার আশ্বাসে ক্ষোভ থাকা সত্ত্বেও আমরা পরে ওই রুমেই উঠি।

এখানে আমার কিছু উপলব্ধি আপনাদের সাথে শেয়ার করি,
লঞ্চ মালিক আর ট্রাভেল এজেন্সি গুলা আসলে ট্যুর পরিচালনা করে না, এরা হল মধ্যস্ততাকারী। এরাই যত রকম ফন্দি ফিকির করা যায়, করে। এদের মুখের কথার কোন দাম নাই, ২ মিনিট এর মধ্যেই এরা বলা কথা ঘুরায় ফেলতে সক্ষম। তাই এদের সাথে আপনারা কথা বললে সব কিছু লিখিত নিয়ে আসবেন। হ্যাঁ, সব ট্রাভেল এজেন্সিই যে এরকম তা হয়তো নয়, তবে আপনার টাকা, আপনার ট্যুর তো, তাই সাবধান হওয়া ভালো, নাহলে পরে একমোডেশন নিয়ে আমাদের মত ঝামেলায় পরতে পারেন। এজন্য আমার মতে, আপনারা এইসব ট্রাভেল এজেন্সিগুলার কাছ থেকে একমোডেশন সংক্রান্ত সব তথ্য লিখিত নিয়ে আসবেন। এটাই সেফ।

এতটুকু পর্যন্তই আসলে ক্ষোভ। এরপরে আসলে ট্যুর গাইড, লঞ্চ এর সার্ভিস বয় দের ব্যাবহার আমাদের হতাশ করে নি। আমাদের গাইড যিনি ছিলেন তার কথাবার্তা অনেক মার্জিত ছিল, উনি অনেক হেল্পফুলও ছিলেন, কারো কোন কোশ্চেনে আমি উনাকে বিরক্ত হতে দেখি নি, বরং উনি খুব ই উৎসাহ নিয়ে আমাদের অনেক হেল্প করেছেন। উনাকে ধন্যবাদ দিতেই হয়। বত্ব, উনার নাম ছিল আলম সাহেব। এছাড়া আমাদের গার্ড যিনি ছিলেন উনিও অনেক রসিক মানুষ, আর খুবই মিশুক। আবুল কালাম নাম উনার। উনাকেও ধন্যবাদ। আর লঞ্চের সার্ভিস বয় রাও ভীষণ হেল্পফুল ছিল। তাই, উনাদের এরকম আন্তরিক ব্যাবহারে, পছন্দসই রুম না পাওয়ার পরেও বলতে পারি যে, ওভারঅল ট্যুর টা ভালোই হয়েছে।

খাওয়া দাওয়া সম্পর্কে একটু বলি,
খাওয়া দাওয়া নিয়ে কোনোরকম সমস্যাই হয় নাই। সকালে নাস্তা ৯ টা থেকে ৯.৩০ এর মধ্যে, এরপর ১১ টায় হালকা স্নাক্স, ১.৩০ থেকে ২ টা এর মধ্যে লাঞ্চ, এরপর সন্ধ্যায় নাস্তা ৫.৩০ থেকে ৬.০০ এর মধ্যে, এরপর ডিনার ৯.৩০ থেকে ১০.০০ এর মধ্যে। সেলফ সার্ভিস ছিল খাওয়া দাওয়া। বুফে ছিল না, তবে কেউ মেইন কোর্স এক্সট্রা চাইলে সাথে সাথেই দেয়া হয়েছে, তাই খাওয়াটা শেষ পর্যন্ত বুফের মতই হয়েছে।

আপনার সাথে যদি কোন শুকনা খাবার নাও থাকে তাও কোন অসুবিধা হবে না আপনার। তবুও জলপথ তো, আমার মতে নিজের সাথে কিছু খাবার রাখা ভাল।

এবার আসি কিছু সিরিয়াস সচেতনতামূলক কথাবার্তায়।
ভাই, সুন্দরবন টা আমাদেরই, তাই না ??
কেন প্লাস্টিকের বোতল, নুডুলস, চিপসের প্যাকেট, জুতা, ব্যাগ, নেট এর ব্যাগ ফেলে নোংরা করছেন জায়গাটা ??
আমাদের সাথেই ২ জন ফরেনার ছিল, একজন জার্মানির, অন্যজন কোরিয়ার। এরা যখন ফিরে গিয়ে বলবে বাংলাদেশ নোংরা, মানুষজন সুন্দরবন এর মত জায়গাকেও নোংরা বানিয়ে ফেলেছে, তখন সেটা কি আমাদের জন্য খুব গর্বের ব্যাপার হবে ??
যারা যেখানে সেখানে ড্রিংকস এর বোতল, চিপস এর প্যাকেট ফেলেন তারা একটু ভাববেন দয়া করে।

Post Copied From:Soumit Saha‎>Travelers of Bangladesh (ToB)

26 Dec 2017

রকেট এক্সপ্রেস নাম শুনলেই মনে হয় রকেটের গতিতে ট্রেন চলবে। বাস্তব তার উলটা। দর্শনার কেরু এন্ড কোং দেখে যখন আশে পাশে কি আছে খুজতেছি তখন এক হোটেলয়ালা মামা বয়ান করেন দর্শনা হল্ট নিয়ে। যে কোন জেলা উপজেলা শহরে গেলে আমার সে এলাকার রেল স্টেশন দেখতে খুব ভাল লাগে। এইটা বলতে গেলে পুরান অভ্যাস। কোন কিছু না ভেবেই চলে আসলাম দর্শনা হল্ট। খুলনা থেকে ঢাকাসহ উত্তরবঙ্গ থেকে দক্ষিণ বঙ্গে চলাচলকারী ট্রেনগুলোর প্রবেশমুখ এই দর্শনা হল্ট ষ্টেশন। জরাজীর্ণ এই স্টেশনে ঢুকে দেখলাম ব্যাপক মানুষের চাপ। স্বভাব বশত আগে চায়ের দোকান খুজে বের করলাম। গ্রাম্য এই রকম রেল স্টেশনে বসে এক কাপ কড়া লিকারের চা এক অন্য রকম আমেজ এনে দেয়। নিজেকে তখন দার্শনিক বা উপন্যাসের পাতা থেকে উঠে আসা কোন চরিত্র মনে হয়। আমার ভ্রমণ সংগী ইমরান ভাইয়ের আবার স্ট্যাম্প এর বাতিক। আমাদের মধ্যে কথা হচ্ছিলো এই স্টেশন থেকে চুয়াডাঙ্গার যে ট্রেনই পাব উঠে যাব। কারন আলো থাকতে থাকতে ডাকঘরে ঢুকতে হবে। না হলে বিরাট বড় কবিরা গুনাহ হয়ে যাবে। ট্রেনের সময়সূচি চেক করতে গিয়ে দেখলাম খুলনা থেকে রকেট এক্সপ্রেস মেইল ট্রেন ছেড়েছে। টাইম টেবিল ঠিক থাকলে ১.৪৫ এর মধ্যে দর্শনা হল্ট পৌছে যাবে। এর শেষ গন্তব্য পার্বতীপুর তবে মাঝে অনেক ঘাটের পানি খেয়ে যাবে। আমাদের চুয়াডাঙ্গা নামতে পারলেই হল। টিকেট মাস্টারের কাছ থেকে ১৫ টাকা দিয়ে টিকেট কেটে নিলাম। এখন অপেক্ষার পালা রকেট এক্সপ্রেস কখন আসবে। বাংলাদেশ রেলওয়ে আমাকে কখনও হতাশ করে না। যথারীতি ১০ মিনিট লেট করে ট্রেন আসলো। ট্রেন থামার সাথে সাথেই ক্ষুর্ধাত শিয়াল যেমন খাবারের উপর ঝাপিয়ে পড়ে, যাত্রীরাও সে ভাবে ট্রেনের উপর ঝাপিয়ে পড়লো। ব্যাপক সংগ্রামের পর ট্রেনের ভিতর ঢুকে যখন সিট পেলাম তখন চোখে মুখে এক বিশ্বজয়ী হাসি। ট্রেনে উঠে নানা রকম লোকের সন্ধান পেলাম। সবই গ্রামের আলা ভোলা মানুষ। কেউ চালের বস্তা কেউবা মুরগী কেউবা বাজার করে ট্রেনে উঠেছে। বলতে গেলে ট্রেনটাই আমার কাছে চলন্ত বাজার মনে হল। কিছুক্ষন পরপর ফেরিয়ালা নানা রকমের পসরা সাজিয়ে দোকান নিয়ে এই বগি থেকে ওই বগি ছুটছে। ট্রেন চলা শুরু করলো কিন্তু আমার মনটা খারাপ। জানলার সাইডে সিট পেলাম না। ট্রেন চলছে হেলেদুলে। সারাদিন ক্লান্তির পর মনে হচ্ছে আমাকে যেন কেউ মায়ের মমতায় ঘুম পাড়িয়ে দিচ্ছে। আহ কি ঝিমুনির ফিলিংস। জানলা দিয়ে বাহিরে তাকলাম। মনে হল পুরা চুয়াডাঙ্গাই সবুজের মত সুন্দর। সবুজের প্রকৃতির আলো ছায়ার খেলা দেখতে হলে আসতে হবে চুয়াডাঙ্গা। সকালে করিমন নামে অদ্ভুতুড়ে যানের কল্যানে কার্পাসডাংগা টু দর্শনা আসতে রোড সাইড ভিউ দেখে আমার মন ভরে গেছে। মনে হয় কোন শিল্পী তুলির সুনিপুন আচড়ে ছবি একে রেখেছে। আল্লাহ’র কি কুদরত। কল্পনার জগৎ থেকে ফিরে আসলাম বাস্তবে আমাদের ট্রেন ছুটে চলছে গন্তব্যের উদ্দ্যেশে। তখনও আমি জানি না আমি ৫০ বছর বয়সী এক বৃদ্ধ ট্রেনে জার্নি করছি। এক চাচা মিয়ার মুখে যখন শুনলান উনি এই ট্রেনে পাকিস্তান আমলে চড়ছেন তখন একটু খটকা লাগলো। ততক্ষনে এসে পড়েছি আমাদের কাংক্ষিত গন্তব্যে। চুয়াডাঙ্গা নেমে রকেট এক্সপ্রেসের সব কথা গেলাম ভুলে। ঢাকা এসে গুগল মামার কল্যানে জানতে পারলাম এইটা বাংলাদেশ রেলওয়ের ওয়ান অফ দ্যা ওল্ডেস্ট ট্রেন। যার প্রোডাকশন ইয়ার ১৯৬৫। মাঝে মাঝে শর্ট ডেস্টিনেশন গুলা মনের ভিতর গেথে যায়। দর্শনা টু চুয়াডাঙ্গা আমাকে পরিচয় করিয়ে দিয়েছে রকেট এক্সপ্রেসের সাথে। সময় সুযোগ হলে রকেটে চড়ে হয়তো কোন একদিন খুলনা টু পার্বতিপুর চলে যাব। ততদিন মনের ভিতর গেথে থাকুক রকেট এক্সপ্রেস।

Post Copied From:Ashik Sarwar>Travelers of Bangladesh (ToB)

21 Dec 2017

রামিড দেখতে প্রথমবার মিশরে গিয়েছিলাম ২০০৮ সালে। নয় বৎসর পর আবার গেলাম। অনেক পরিবর্তন হয়ে গেছে। আমাদের দেশের মতই অবস্থা! সময়ের সাথে সাথে উন্নতি না হয়ে অবনতিই হইছে!!
পতেঙ্গা আর কক্সবাজার সি-বিচের মত চিপস, চকোলেট আর প্লাস্টিকের বোতলের ছড়াছড়ি পুরা এলাকা জুড়ে।
হকার, ফটোগ্রাফার আর উটওয়ালাদের উপদ্রুপ বেশ বিরক্তিকর :/

যারা নিজেরা ঘুরতে যাবেন তাদের জন্য কিছু পরামর্শঃ
১) কায়রো হোটেল থেকে ট্যাক্সি/লিমুজিন সার্ভিস নিলে ধরা খাবেন নির্ঘাত! তারচেয়ে হোটেল থেকে বেড় হয়ে uber কল করবেন; কায়রোতে ঘুরার জন্য uber is best in terms of service and cost.

২) গিজায় পিরামিড দেখতে ট্যুরগাইড ম্যান্ডাটরি না; কিন্তু হোটেল থেকে আপনাকে বলবে ট্যুর গাইড নেয়ার জন্য। গাইডেড ট্যুরের জন্য আপানার কাছে ২০০-৩০০ USD চেয়ে বসবে Taxi Fare ছাড়াই, ইজিপ্সিয়ানরা টুরিস্টদের পকেট ফাকা করতে উস্তাদ!

৩) মানি এক্সচেঞ্জের জন্য ব্যাংক এ যাবেন অথবা ATM থেকে লোকাল কারেন্সি তুলতে পারবেন; মানি চেঞ্জারের দোকানে রেট বেশ কম।

৪) গিজা এলাকাটা খুব বড় না, হেটে হেটে ১.৫ ঘণ্টায় পুরা এলাকা দেখতে পাবেন। ঘোড়ার গাড়ী আর উট পাওয়া যায়; ঊটের পিঠে বেশীক্ষণ বসে থাকা যায় না, কোমর ব্যাথা হয়ে যায়। ঘোড়ার গাড়ী বেটার কিন্তু ভাড়া চাইবে অনেক বেশি, দামাদামি করলে ২০ ডলারে পেয়ে যাবেন (এরা ডলার এক্সেপ্ট করে :p)

৫) উটওয়ালা আর ফটোগ্রাফারদের থেকে সাবধান! আপনাকে ভুলায় ভালায় একবার উটের উপরে তুলতে পাড়লে টাকা না দেয়া পর্যন্ত আর নামাবে না 😉

৬) গিজায় খাবারের দাম অনেক বেশি; ওখানে না খেয়ে কায়রোতে এসে কমদামে শাহী ভোজ দিতে পারবেন (এখানে কাবাব বিখ্যাত)

ব্যাক্তিগতভাবে আমি ইজিপ্সিয়ানদের লাইক করি না। গুগুল মামার হেল্প নিয়ে আমি নিজে নিজেই কায়রোতে ঘুরেছি। রাজনৈতিক কিছু ঝামেলা যদিও আছে সিকিউরিটি রিলেটেড কোন ঝামেলায় পড়তে হয় নাই।

হ্যাপি ট্রাভেলিং!

Post Copied From:Fakhrul Islam Hemon>Travelers of Bangladesh (ToB)

20 Dec 2017

আমরা বিভিন্ন প্রয়োজনে এখন ভারতবর্ষ প্রতিনিয়ত ভ্রমণ করে থাকি।স্বল্প খরচে আরামদায়ক ভাবে ভারতবর্ষ ভ্রমণ করার জন্য রেল সবচাইতে জনপ্রিয় বাহন।

#সম্প্রতি ভারতীয় রেল অথরিটি বিদেশি পর্যটক কোঠায় টিকেট প্রাপ্তিতে কিছু নতুন শর্তারোপ করেছে।সে শর্তসমুহ না জানা থাকার ফলে আমার মতো বাজেট ট্রাভেলারদের কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে।

#পরিবর্তিত_নিয়ম_সমুহ
১.সকল ক্লাসের টিকেটের ভাড়া মুল ভাড়া থেকে ১.৫/ দেড়গুণ বৃদ্ধি করা হয়েছে।😞
অর্থাৎ ১ হাজার টাকার ভাড়া ১৫০০ টাকা করা হয়েছে।এভাবে গাণিতিক হারে ভাড়া বৃদ্ধি হতে থাকবে।
২.১.৫ গুণ ভাড়া বৃদ্ধির ফলে রাজধানী, দুরন্ত এবংশতাব্দী ট্রেনে ডায়নামিক ফেয়ার যোগ হবেনা।
৩.যেকোনো ট্রেনের ইস্যুকৃত টিকেট রিটার্ন /রিফান্ড হবেনা।(মানে ততকাল টিকেটের মতো)
৪.অবশ্যই মুল পাসপোর্ট প্রদর্শন করতে হবে।
৫.মুল পাসপোর্ট এর পাশাপাশি যতজন যাত্রীর টিকেট করবেন সবার ভিসা+এন্ট্রি সিলের পেইজ এবং মুল পেইজ আলাদাভাবে ফটোকপি দিতে হবে এটা বাধ্যতামূলক।
৫.উক্ত নিয়ম সমুহ #মৈত্রী এবং #বন্ধন এক্সপ্রেসের জন্য প্রযোজ্য নয়( ৪ নং ব্যতীত) ।
বিঃদ্রঃদেশের সম্মান বজায় রাখবেন তারা কিছুটা স্লো কাজ করে তাই ধর্য হারাবেন না এবং দ্রুত টিকেট ইস্যুর জন্য ঘুষের অফার হতে বিরত থাকবেন।

#হ্যাপি_ট্রাভেলিং

Post Copied From:Prince Zubo‎>Travelers of Bangladesh (ToB)

20 Dec 2017

অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহনের অভিযোগে টেকনাফ-সেন্ট মার্টিন নৌপথে চলাচলকারী এলসিটি কুতুবদিয়া জাহাজ কর্তৃপক্ষকে আজ মঙ্গলবার এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অতিরিক্ত যাত্রী বহনের অভিযোগে তাৎক্ষণিক ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে জাহাজ কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে এক লাখ টাকা জরিমানা আদায় করেন জেলা প্রশাসনের ম্যাজিস্ট্রেট ফারজানা প্রিয়াংকা।

বেলা একটার দিকে চলন্ত অবস্থায় ওই জাহাজ থেকে আরিত্র মো. মজিদ নামের একজন পর্যটক সাগরে পড়ে যান। পরে তাঁকে সাগর থেকে উদ্ধার করা হয়।আজ সেন্টমার্টিন গামী জাহাজ এলসিটি কুতুবদিয়া থেকে সাগরে পড়ে যাওয়া পর্যটক জনাব অরিত্র মোঃ মুজিব, পিতাঃ মোঃ গিয়াস উদ্দিন,ধৌদ্ধা, বোদা, পঞ্চগড়,মোবাইল-০১৭৮৩৬৮২৭৮৪ কে ট্যুরিস্ট পুলিশের এএসআই/৫৯ মোঃ জুমায়েত হোসেন উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎ

ছবিতে পর্যটকের লিখিত বক্তব্য।

সা দিয়ে সুস্থ করে তোলেন।

পর্যটকদের অভিযোগ, জাহাজটিতে ধারণক্ষমতার বেশি যাত্রী ওঠানোর কারণে জাহাজে উঠে চেয়ারে বসা তো দূরের কথা, ঠাসাঠাসি করে দাঁড়ানোরও জায়গা না পেয়ে অবাক হন অনেক পর্যটক। এর ওপর ধারণক্ষমতার বেশি টিকিট বিক্রয় করায় নির্ধারিত সময়ের দুই ঘণ্টা দেরিতে জাহাজটি সেন্ট মার্টিনের উদ্দেশে দমদমিয়া ঘাট থেকে রওনা দেয়। এর মধ্যে জাহাজের এক পাশের বারান্দায় দাঁড়াতে গিয়ে একজন পর্যটক সাগরে পড়ে যান।

উপজেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে নয়টার দিকে টেকনাফের দমদমিয়া জেটিঘাট দিয়ে এলসিটি কুতুবদিয়া জাহাজটি ছেড়ে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ওই জাহাজটির ধারণক্ষমতা ৩০০ জনের স্থলে ৮১৭ জন পর্যটক তোলা হয়। টিকিট আছে, কিন্তু বসার জায়গা না পেয়ে পর্যটকদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। কিছু পর্যটক টিকিটের টাকা ফেরতের দাবি জানাতে থাকেন। এ নিয়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় প্রশাসনের লোকজন এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। প্রশাসনের বাধার মুখে প্রায় দুই ঘণ্টা দেরিতে সেন্ট মার্টিনের উদ্দেশে রওনা দেয় জাহাজটি। প্রায় দেড় ঘণ্টা চলার পর এলসিটি কুতুবদিয়া জাহাজটি সাগরের মাঝপথে শাহপরীর দ্বীপের উল্টো পাশে গেলে জাহাজ থেকে আরিত্র মো. মজিদ নামের এক পর্যটক সাগরে পড়ে যান।

 

 

 

19 Dec 2017

যারা বিছানাকান্দি যাবেন বা যাওয়ার প্ল্যান করছেন তারা কোনভাবেই সন্ধ্যার পর থাকবেন না, দিনের আলো থাকতে থাকতে শহরে ফিরে আসার চেষ্টা করবেন।

আসল ঘটনা : ২ সপ্তাহ আগে আমরা আমাদের university এর বন্ধুরা মিলে বিছানাকান্দি ভ্রমনে যাই । আমরা ২ জন মেয়ে এবং ১০ জন ছেলে ছিলাম । সেখানে নেমে গোসল করে , কিছুক্ষন অপরুপ প্রকৃতি দেখার পর আবার গোয়াইনঘাট ফেরত আসতে আসতেই প্রায় সন্ধ্যা হয়ে যায় , সেখানে আমাদের রিসার্ভ করা মাইক্রোবাস ছিল , যখন আমরা মাইক্রোবাস এ উঠতে যাব তখন আমাদের ড্রাইভার দেখলাম অন্য আর একজন মাইক্রোবাস ড্রাইভার ভাই এর সাথে কথা বলছেন এবং আমাদের কাছে এসে বললেন একটু অপেক্ষা করুন আমরা ২ গাড়ি একসাথে যাব, এদিকে ডাকাতের ভয় আছে । তখন ও আমরা ব্যাপার টা কেও আমলে নেই নাই, কিন্তু তখন ও আমাদের ধারনা তেও আসে নাই সামনে কি অপেক্ষা করছে আমাদের জন্য । তো আমরা ২ গাড়ি একসাথে বের হলাম শহরের উদ্দেশে। যেতে যেতে সবাই অনেক ক্লান্ত থাকায় বেশিরভাগ মানুষ ই ঘুম এ । আমিও আধো আধো ঘুম ভাব এ বসে আছি গাড়িতে । হটাত গাড়ি ব্রেক করাতে ঘুম ভাব দূর হয়ে দেখি বিপরীত দিক থেকে আসা ১ জন ট্রাক ড্রাইভার ভাই আমাদের মাইক্রোবাস ড্রাইভার ভাই এর সাথে কথা বলছেন । তার কথাটুকু ছিল এরকম : সামনে ডাকোইত আছে , গাড়ি থামাইবা না, ১ টানি চলি যাবা , রাস্তা বন্ধ করি রাখসে , পাশ কাটি চলি যাবা । ব্যাস আমার সহ আর কয়েকজনের ঘুম গায়েব । ২ জন মেয়ে সহ আরও কয়েকজন ছেলে তখন ও ঘুম এ । ড্রাইভার ও বেশ চিন্তায় পড়ে গেলেন । তবুও ঐ ভাঙ্গা রাস্তা তেই উনি সেই রকম জোরে চালাতে লাগ্লেন । সামনে যেতে দেখি আর কয়েকটা গাড়ি দাঁড়ায় আছে একটু দূরে দূরে । তখন সব গাড়ি একসাথে হয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হল । আমাদের গাড়ি ছিল সবার সামনে আর আমাদের যে ২ জন মেয়ে ঘুমিয়ে ছিল তারা ছিল জানালার পাশে তাই তাদের ঘুম থেকে তুলে মাঝখানে বসালাম, তারা কারন জিজ্ঞেস করলে কিছু বলি নাই কারন আবার ভয় পেয়ে যায়। তো সামনে যেতে যেতে ১ টা ছোট ব্রিজ পড়ল, ব্রিজ থেকে নামতেই দেখি রাস্তার মাঝখানে ২ টা বড় বড় পাথর , ড্রাইভার ভাই তার বুদ্ধিতে গাড়ি ডান দিক দিয়ে বের করে নিয়ে গেলেন না থেমেই এবং কিছুদুর সামনে যেতেই দেখি আর ১ টা ব্রিজ এবং এই ব্রিজ থেকে নামার পথেও একি অবস্থা । এবার ও উনি গাড়ি না থামিয়েই ডান দিক দিয়ে গাড়ি কেটে নিয়ে বের হয়ে গেলেন এবং পিছনের গাড়ি গুলো ও একি ভাবে বের হয়ে আসলো । সামনে আর কিছুদুর যাওয়ার পর তখন ও যারা ঘুম এ ছিল তাদের আসল ঘটনা বলা হল , তার কিছু দূর পরেই দেখি বাজার । মনে সাহস পেলাম। আমার জীবনে এই অভিজ্ঞতা এর আগে কখনই হয় নাই, আর হোক সেটাও চাই না । আল্লাহ্‌র অশেষ রহমতে আমরা সেদিন সহিহ সালামত এ বেঁচে ফিরে আসতে পেরেছি । কিন্তু আমরা যখন ফিরে আসছিলাম তখন ও অনেক মানুষ ঘাট এই ছিলেন এবং তারা আমাদের পড়ে শহরের উদ্দেশে রউনা দিয়েছেন, জানিনা তাদের ভাগ্যে কি ঘটেছিল।

আপনারা যারা যাবেন অবশ্যই ১ টা জিনিস মাথায় রাখবেন ড্রাইভার কে অবশ্যই বলবেন গাড়ি যেন ভুলেও না থামায় এবং জানালার গ্লাস যেন বন্ধ করে রাখে । আমার যতদূর মনে হয় ডাকাতরা ব্রিজের ঠিক নিচেই অবস্থান করছিলো কারন আমি লক্ষ্য করছিলাম আশে পাশে , সেখানকার ধান খেত সব ফাকা, মাঠ ও শুকনো এবং সেখানে কেও ছিল না ।

পরিশেষে অনেক অনেক ধন্যবাদ সেই অপরিচিত ড্রাইভার ভাই কে যিনি আমাদের এই তথ্য দিয়ে সাবধান করেছিলেন । ভাই আল্লাহ্‌ আপনার মঙ্গল করুক । আর আপনাদের যাত্রা ও যেন শুভ হয় এই দোয়া রইল 🙂

Post Copied From:

Hasan Rahat>Travelers Of Bangladesh (TOB)